মির্যা কাদিয়ানীর বইতে আরও কিছু জঘন্য স্ববিরোধী কথাবার্তা

  • প্রশ্ন : মির্যা কাদিয়ানীর বইতে লিখা আছে, মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)। এতে তো বুঝা যায় যে, মির্যা কাদিয়ানী সাহেব স্ববিরোধ কথাবার্তা থেকে পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন! আসলে কি তাই?

উত্তর : অপ্রিয় হলেও সত্য, মির্যা সাহেবের বইগুলো স্ববিরোধ কথাবার্তায় ভর্তি। ফলে তিনি নিজেই নিজের কথায় অনায়াসে একজন মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়ে যান! নিচে অতিব সামান্য কয়েকটি পাঠকবৃন্দের খেদমতে তুলে ধরছি :

১। সমস্ত হাদীস পড়ে দেখো কোনো সহীহ হাদীসে [ঈসা’র নাযিল সম্পর্কে] ‘আসমান’ শব্দ পাবেনা। (রূহানী খাযায়েন: ২৩/২২৯; রচনাকাল ১৯০৭ইং)। স্ববিরোধী কথা : ‘এই জন্যই তাঁর সম্পর্কে নিষ্পাপ নবীর ভবিষ্যৎবাণীতে এসেছে যে, তিনি [ঈসা] ‘আসমান’ থেকে নাযিল হবেন। (রূহানী খাযায়েন: ৫/২৬৮; রচনাকাল ১৮৯২ইং)।

  • ২। কেউ প্রমাণ করতে পারবেনা যে, আমি কোনো মানুষ থেকে কুরআন হাদীস অথবা তাফসীরের একটি পাঠও পড়েছি। (রূহানী খাযায়েন: ১৪/৩৯৪; রচনাকাল ১৮৯৭ইং)। স্ববিরোধী কথা : আমি যখন ছয় বছর বয়সী তখন একজন ফারসী ভাষী শিক্ষককে আমার জন্য চাকর নিযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি কুরআন শরীফ এবং ফারসীর কিছু বই আমাকে পড়িয়েছেন। ঐ বুযূর্গ লোকটির নাম ছিল ফজলে ইলাহী। (রূহানী খাযায়েন: ১৩/১৮০; রচনাকাল ১৮৯২ইং)।

৩। সুতরাং আমি ব্যতীত দ্বিতীয় আর কোনো মসীহ এর জন্য আমার যুগের পর [দুনিয়ায়] কদম রাখার [আগমন করার] জায়গা নেই। (রূহানী খাযায়েন: ১৬/২৪৩; রচনাকাল ১৯০০ইং)। স্ববিরোধী কথা : এই অধমের (মির্যা) পক্ষ হতেও এমনটি দাবী করা হয় না যে, মাসীহিয়ত [কথিত রূপক মসীহ্’র আগমনীধারা] আমার সত্তাতেই সমাপ্ত হয়ে গেছে এবং আগামীতে আর কোনো মসীহ্ আগমন করবেনা! বরং আমি তো মানি এবং বারবার বলিও যে, একজন কেন; দশ-হাজারের চেয়েও অধিক মসীহ্ আগমন করতে পারে এমনকি সম্ভব যে, প্রকাশ্য সম্মান ও সমৃদ্ধি সহকারে আগমন করবে। আরও সম্ভব যে, তিনি সর্বপ্রথম [সিরিয়ার] দামেস্ক নগরীতে অবতরণ করবেন। (রূহানী খাযায়েন: ৩/২৫১; রচনাকাল ১৮৯৭ইং)।

  • ৪। এবং নবুওয়তী প্রাসাদের সর্বশেষ ইট হলেন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। (রূহানী খাযায়েন: ২/২৪৬; রচনাকাল ১৮৮৬ইং)। স্ববিরোধী কথা : সুতরাং খোদাতালা ইচ্ছা করলেন যে, এই ভবিষ্যৎবাণী পূর্ণ করবেন এবং সর্বশেষ ইট দ্বারা [নবুওয়তের] ভিত্তিকে পরিপূর্ণতা পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেবেন। অতএব আমিই হলাম সেই [সর্বশেষ] ইট। (রূহানী খাযায়েন: ১৬/১৭৭-৭৮; রচনাকাল ১৯০০ইং)।

৫। সত্য তো এটাই যে, মসীহ [ঈসা] আপনা মাতৃভুমি গ্যালীলে [সিরিয়া] গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু তাঁর ঐ দেহ যেটি [সেখানে] দাফন হয়েছিল তা আবার জীবিত হয়ে যাওয়া একদমই সত্য নয়। (রূহানী খাযায়েন: ৩/৩৫৩; রচনাকাল ১৮৯১ইং)। স্ববিরোধী কথা : হযরত মসীহ এর কবর কাশ্মীরে অথবা তার আশপাশে [তিব্বতে] রয়েছে। (রূহানী খাযায়েন: ১০/৩০২; রচনাকাল ১৮৯৫ইং)।

  • ৬। আগমনকারী ইবনে মরিয়ম (মসীহ) নবী হবেন না। (রূহানী খাযায়েন: ৩/২৪৯; রচনাকাল ১৮৯১ইং)। স্ববিরোধী কথা : আগমনকারী মসীহ মওউদ সম্পর্কে হাদীস সমূহ দ্বারা বুঝা যায় ও পরিচয় পাওয়া যে, তিনি নবীও হবেন এবং উম্মতিও হবেন। (রূহানী খাযায়েন: ২২/৩১; রচনাকাল ১৯০৭ ইং)।

৭। এবং আমি নবুওয়তের দাবীদার নই, বরং এমন দাবীদারকে আমি ইসলামের গন্ডি থেকে বহিষ্কৃত মনে করি। (আসমানী ফয়সালা, রূহানী খাযায়েন ৪/৩৩৭; রচনাকাল ১৮৯১ইং)। স্ববিরোধী কথা : আমার দাবী হল, আমি নবী এবং রাসূল। (মালফুযাত [উর্দূ] খন্ড ৫ পৃষ্ঠা ৪৪৭ নতুন এডিশন, রচনাকাল ১৯০৬-০৮ইং)।

  • ৮। দাব্বাতুল আরদ্ হচ্ছে ধর্মতত্ত্ব আর ফালসাফী তথা দর্শনশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জনকারী উলামায়ে কেরাম যারা ইসলামের সাহায্যে সমস্ত বাতিল মতবাদের উপর হামলা করতে দাঁড়িয়ে যাবে। (রূহানী খাযায়েন: ৩/৩৭০; রচনাকাল ১৮৯১ইং)। স্ববিরোধী কথা : দাব্বাতুল আরদ্ হল বিভিন্ন আকৃতির সেসব জন্তু জানোয়ার যারা কাশ্ফে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং অন্তরে উদয় হয়েছে যে, এরা প্লেগের পোকা-মাকড়। (রূহানী খাযায়েন: ১৮/৪১৬; রচনাকাল ১৮৯২ইং)।

৯। নবী’র ইজতিহাদী (গবেষণালব্ধ মত) ভুল মূলত ওহীরই ভুল। কেননা নবী কখনো ওহী থেকে কোনো অবস্থাতেই বিরত থাকেন না। (রূহানী খাযায়েন: ৫/৩৫৩; রচনাকাল ১৮৯২ইং)। স্ববিরোধী কথা : নবী(ও) নিজ ইজতিহাদে ভুল করে থাকেন কিন্তু খোদার ওহীতে ভুল হয় না। (রূহানী খাযায়েন: ২২/৫৭৩; রচনাকাল ১৯০৭ইং)।

  • ১০। মির্যা কাদিয়ানী আর তার ছেলে বশীর আহমদ এবং অনুসারীদের মধ্যকার স্ববিরোধী কথাবার্তা : মির্যার ছেলে লিখেছেন : ‘এমন একজন কামেল মানুষের পূর্ণ আনুগত্য দ্বারা মির্যা সাহেবের নবুওয়ত অর্জিত হয়েছে যাঁর পূর্ণ অনুসরণ নবুওয়তের স্তরে পৌঁছে দিয়ে থাকে। সুস্পষ্ট আছে যে, এমন নবুওয়ত নবী করীম (সা:) এর পূর্বে সম্ভব ছিলনা। কেননা উনার (সা:) পূর্বে এমন কেউই গত হননি যার কামেল আনুগত্য দ্বারা আল্লাহর কাছ থেকে নবুওয়ত পেতে পারে।’ (কালিমাতুল ফছল ২২, হার্ডকপি, প্রথমপ্রকাশ ১লা মে ১৯১৫ ইং)। এ একই কথা এদেশীয় কাদিয়ানীদের বইগুলোতেও রয়েছে। উম্মতিনবী পৃষ্ঠা নং ৯ দ্রষ্টব্য। স্ববিরোধী কথা : ‘মির্যা কাদিয়ানীর বইতে লিখা আছে : ‘মূসা নবী জ্বলন্ত প্রদীপ, তাঁকে অনুসরণ করে শত শত লোক পয়গম্বর হয়েছেন। ঈসা মসীহ তাঁকেই অনুসরণ করে তওরাত কিতাবের আদেশ মেনে মূসার শরীয়তের জোয়াল কাঁধে বয়ে নবুওয়তের পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন।’ (চশমায়ে মসীহ [বাংলা] পৃষ্ঠা নং ৫২, চতুর্থ বাংলা সংস্করণ জুলাই, ২০১৮ ইং, অনুবাদক মৌলবী মোহাম্মদ মুতিউর রহমান, মূল লিখক মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী, রচনাকাল মার্চ, ১৯০৬ইং)।

১১। মির্যা সাহেব ‘মওলবী সানাউল্লাহ চে আখেরী ফয়সালা’ শীর্ষক শিরোনামে যা লিখে গেছেন সে সম্পর্কে লিখা আছে, “ইয়ে কেসি ইলহাম ইয়া ওহী কি বেনা ফর ফেশগোঈ নিহি, মহছ দু’আ কি তূর ফর  মাই নে খোদা চে ফয়সালা ছাহা”। অর্থ : এটি কোনো ইলহাম বা ওহীর ভিত্তিতে ভবিষ্যৎবাণী নহে, শুধুই দোয়ার মাধ্যমে আমি খোদার পক্ষ হতে ফয়সালা চাচ্ছি। (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/৫৭৮; নতুন এডিশন)। স্ববিরোধী কথা: “সানাউল্লাহ কে মুতা’আল্লক জু কুচ লিখহা গিয়া ইয়ে দর-আছল হামারে তরফ চে নেহি, বলকেহ খোদা হী কে তরফ চে উসকি বুনিয়াদ রাখহি গী হে।” অর্থ : সানাউল্লাহ সম্পর্কে আমি যা কিছু লিখেছি তা প্রকৃতপক্ষে আমার পক্ষ হতে নহে, বরং খোদারই পক্ষ হতে সেটির ভিত্তি রাখা হয়েছে। (মির্যায়ী রচনা মালফুজাত ৫/২০৬ নতুন এডিশন)।

  • ১২। পিতা-পুত্রের মাঝে স্ববিরোধ বক্তব্য : কাদিয়ানীদের উর্দূ ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা ‘আল-ফজল’ ২০-আগস্ট-১৯২৪ এর ০৫ নং পাতায় ‘মুহাম্মদী বেগম ওয়ালি পেশগোঈ’ শীর্ষক শিরোনামে কাদিয়ানীদের দ্বিতীয় খলিফা ও কথিত মুসলেহ মওউদ মির্যা বশির উদ্দীন মাহমূদের উদ্ধৃতিতে লিখা আছে ‘উনার (মির্যা কাদিয়ানীর) সাথে ওই মেয়েটি (অর্থাৎ মুহাম্মদী বেগমের) বিবাহ হওয়া মর্মে আল্লাহতালার কোনোই ওয়াদা ছিলনা।’ স্ববিরোধ কথা : মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী লিখেছেন ‘খোদাতালা বলেছেন, আমি এ মহিলাকে তার বিবাহের পর তার (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানীর) নিকট ফিরিয়ে আনব।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ২/৪৩ নতুন এডিশন)।

১৩। মির্যা সাহেব লিখেছেন : “কোনো জড়দেহ আকাশে যাওয়া সম্ভব নয়।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন ৩/১২৬)। স্ববিরোধ কথা : “অতপর মে’রাজ প্রসঙ্গে এসো! এটি কখনো আমাদের মতামত নয় যে, সেটি একটি স্বপ্ন ছিল বা শুধুমাত্র রূহই গিয়েছিল, বরং আমরা তো বলে থাকি যে, রাসূল (সা:)-এর প্রকৃত ও জাগ্রতাবস্থাতেই মেরাজ হয়েছিল এবং একখানা সূক্ষ্মতর শরীরও সাথে ছিল।” (মালফূযাত ৫/১৩৪ চতুর্থ এডিশন)। আরেকটি রচনায় উল্লেখ আছে “বাকী রইল আমাদের রসূল (সা:)-এর মে’রাজের প্রসঙ্গটি। এটি ছিল জাগ্রত অবস্থায় একটি পরিপূর্ণ, অতীব সূ² আধ্যাত্মিক এবং অলৌকিক অভিজ্ঞতা। এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই, রসূলুল্লাহ (সা:)-এর জাগ্রত অবস্থায় দেহসহ উর্ধ্বলোকে গিয়েছেন।” (হামামাতুল বুশরা [বাংলা] পৃষ্ঠা নং ৬০)। মির্যা সাহেব আগে বললেন, জড়দেহ আকাশে যাওয়া অসম্ভব। তিনি নিজেই আবার বিপরীত করে এও বলছেন, রাসূল (সা:)-এর জাগ্রত অবস্থায় দেহসহ উর্ধ্বলোকে গিয়েছেন! কি আজব ব্যাপার!!

শেষকথা : আহমদীবন্ধুরা! এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখুন! মনে রাখবেন, একদিন অবশ্যই সবাইকে মরতে হবে। তখন কিন্তু শত আফসোস করেও কোনো লাভ হবেনা।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

শিক্ষাবিদ ও গবেষক

Previous articleকাদিয়ানীদের আসল চেহারা
Next articleকাদিয়ানীরা যে প্রশ্নটি করে নিজেরাই ফেঁসে যায়
প্রিয় পাঠকবৃন্দ! এটি সম্পূর্ণ দ্বীনি ও অলাভজনক একটি ওয়েবসাইট। প্রতি বছর এটির ডোমেইন ও হোস্টিং ফি হিসেবে আমাকে এর ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। যদি উক্ত ব্যয় বহন করতে অপারগ হই তাহলে এই সাইটটি নিশ্চিত বন্ধ হয়ে যাবে। সেহেতু আপনাদের সবার নিকট আবেদন থাকবে যে, আপনারা সাইটটির উক্ত ব্যয় বহনে এতে বিজ্ঞাপন দিতে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করবেন এবং নিজেরাও সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন। বিনীত এডমিন! বিকাশ : ০১৬২৯-৯৪১৭৭৩ (পার্সোনাল)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here