মরহুম প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান :

মরহুম জিল্লুর রহমান (জন্ম: ৯ মার্চ, ১৯২৯ – মৃত্যু: ২০ মার্চ, ২০১৩) বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এ যাবৎ দেশের সবকয়টি আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি এম এম রহুল আমিন তাঁকে বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ বাক্য পাঠ করান। তিনি একজন সাধারণ শিক্ষিত হয়েও ফতুয়াবাজীর বিরুদ্ধে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একখানা উক্তি করে গেছেন। তিনি হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “যে নিজের মুখে মুসলমান হবার দাবী করে তাকে আমার জন্য মুসলমানদের তালিকাভুক্ত কর”। হাদীস শরীফে আছে, “যে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে কালেমা তৈয়বা পাঠ করেন এবং তার উপর সার্বিক অর্থে বিশ্বাস স্থাপন করে তিনি মুসলমান।” (দৈনিক সংগ্রাম, মঙ্গলবার, ১৯শে কার্তিক, ১৩৯৯ বাংলা, ৩রা নবেম্বর, ১৯৯২ ইং)।

  • মুসলমান এবং কাদিয়ানীদের মধ্যকার পার্থক্য (লিফলেট), ডাউনলোড লিংক
দৈনিক সংগ্রাম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা :

মাননীয় শেখ হাসিনা ওয়াজেদ (জন্ম: ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭) বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী। তিনিও সমসাময়িক একখানা মহামূল্যবান উক্তি করেছেন। তার এই উক্তি সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় ফতুয়াবাজ মৌলভি আর ভণ্ডনবী মির্যা কাদিয়ানীর লাগামহীন ‘কাফের ফতুয়াবাজি’-এর বিরুদ্ধে সমুচিত শিক্ষা। তিনি (ক্ষমতার বাহিরে থাকাকালীন ২০০৪ সালের দিকে) বলেছিলেন, “কে মুসলমান আর কে নয় তার বিচার করবেন আল্লাহ।” (দৈনিক প্রথম আলো, সোমবার ১২ জানুয়ারী ২০০৪, ২৯ পৌষ ১৪১০ বাংলা)।

উল্লেখ্য, তিনি আহমদীয়া (কাদিয়ানী) সম্প্রদায়ের প্রকাশনা নিষিদ্ধের নিন্দা জানিয়ে ও তৎকালীন কাদিয়ানীদের ‘ইসলামে নবুওয়ত‘ নামীয় একটি বিভ্রান্তিকর বইয়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রায়ের প্রতিবাদে ঐ বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তখনও জানতেন না যে, কাদিয়ানীদের চেপে রাখা কুফুরী বিশ্বাসগুলো কী কী? তাদের ধর্মবিশ্বাস মতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও যে কাফের, তখন হয়ত তাঁর নিজেরও জানা ছিলনা। (কাদিয়ানীদের ধর্মবিশ্বাস তাদেরই বইয়ের স্ক্রিনশট সহ দেখুন)।

প্রথম আলো, সম্পাদক- মতিউর রহমান (সিপিবি নেতা)

কাদিয়ানীদের বিভিন্ন রচনায় অ-কাদিয়ানীদের কাফের ফতুয়াবাজী :

(১) আহমদীয়া জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী লিখেছেন, ‘খোদাতালা আমার উপর প্রকাশ করে দিয়েছেন যে, যাদের নিকট আমার দাওয়াত পৌঁছেছে আর তারা তা কবুল করেনি এমন ব্যক্তি মুসলমান নয় এবং এরা (পরকালে) পাকড়াও হবে।’ (মির্যা কাদিয়ানীর কথিত ওহী-সমগ্র গ্রন্থ তাযকিরাহ পৃষ্ঠা নং ৫১৯; ইলহাম, মার্চ ১৯০৬ ইং, চতুর্থ এডিশন)।

(২) কাদিয়ানী জামাতের তথাকথিত দ্বিতীয় খলীফা মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ লিখেছেন, ‘যে সমস্ত মুসলমান মির্যা কাদিয়ানীর নিকট বাইয়েত নেয়নি, তারা যদি তার নামও না শুনে থাকে তবুও তারা কাফের এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বাহিরে।’ (আয়নায়ে সাদাকাত, আনওয়ারুল উলূম খণ্ড নং ৬ পৃষ্ঠা নং ১১০; মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ)।

স্ক্রিনশট সহ দেখতে ক্লিক করুন এখানে। পরিশেষে আমরা প্রমাণ পেলাম যে, কাদিয়ানীদের অথেনটিক সিদ্ধান্ত মতে যে বা যারা তাদের দলভুক্ত নয়, অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানীকে নবী রাসূল ইত্যাদি বিশ্বাস করেনা; তারা কাফের এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বাহিরে। সুতরাং বলা যায় যে, বর্তমানে মুসলমানরা তাদেরকে কাফের ও অমুসলিম মাইনরিটি বলে রাষ্ট্রীয়ভাবে রায় ঘোষণার দাবী জানানোরও শত বছর আগ থেকে তারাই বরং অন্যদের “কাফের” এবং “জাহান্নামী” বলে লিখে গেছে। এখানে তাদের একটি বাংলা রচনা (মূল লিখক, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী) থেকে শুধুমাত্র একখানা প্রামাণ্য স্ক্যানকপি উল্লেখ করছি।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here