গত রাত্রে হঠাৎ এক লোক ফোন দিলো। রিসিভ করার পর সে বলল, আপনি কি মুফতী শফী কাসেমী? আমি বললাম আপনার পরিচয়টা? সে পরিচয় দিতে রাজি হলো না। বারবার জিজ্ঞাসা করার পরে বলল, আমি লালমনিরহাট থেকে বলছি। কী করেন? জিজ্ঞাসা করলে বলল, তিনি নাকি কোথা থেকে কামিল পাস করেছেন।

আমি বললাম, ঠিক আছে ভাই! কোনো কথা থাকলে বলতে পারেন। সে কোনো ভুমিকা ছাড়াই সরাসরি বলে উঠলো, আপনারা যে ২০ রাকআত তারাবীহ পড়েন এটা ভুল। আমি বললাম কেন? সে বলল, বুখারী শরীফে আছে, মা আয়েশা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৮ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। আমি বললাম, ভাই ! হাদীসটির মূল এবারত পড়ে, তারপরে অনুবাদ করুন। আপনার ভুলটা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। হাদীসের আরবী ইবারত বলতে পারবেনা বলে জানালো সে। কিন্তু তার দাবি, বাংলাতে তিনি যা বলেছেন হাদিসটা এমনই। বারবার বলতে লাগলো, বাংলায় বললে কি হবে না? আমি বললাম, ভাই আপনি এখানে হাদিসের কিছু অংশ ছেড়ে দিয়ে দিয়ে বলছেন। তাই আমি আপনাকে মূল আরবী ইবারত বলে, এরপর তরজমা করতে বলেছিলাম। এবার মূল হাদীসটি শুনুন, বলে আমি তাকে মূল ইবারত ও তার অনুবাদ শোনালাম।

روى البخاري (3569) ، ومسلم (738) عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا : كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ ؟ قَالَتْ : " مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً ، يُصَلِّي أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ ، فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا ، فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ تَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ؟ قَالَ : ( تَنَامُ عَيْنِي وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي )

তারপর বললাম, এখানে আমার তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিন।

১) রাবীয়ে হাদীস হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সালামের যে নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য গিয়েছিলেন, সেটা যদি তারাবিহ হতো, তাহলে হযরত আয়েশা সিদ্দিকাকে জিজ্ঞাসা করতে যাওয়ার কী প্রয়োজন ছিল? তারাবীহ তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল সাহাবীদের সামনে মসজিদেই পড়েছেন। যে কোনো পুরুষ সাহাবীকে জিজ্ঞাসা করলেই উত্তর পেয়ে যেতেন। এতে তো বোঝা যায়, হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহাকে ওই নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্যই গিয়েছিলেন, যেটা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়িতে নীরবে নিভৃতে একাকী পড়তেন অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামায সম্পর্কে।

২) হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বলেছেন, এটা ঐ নামায যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান এবং রমজান ছাড়া বাকি এগারো মাস অর্থাৎ সারাবছরই পড়তেন। বলুনতো তারাবির নামাজ কি সারা বছর পড়ে? এতে কি স্পষ্ট হয়ে যায় না যে এ নামাযটি তারাবীহ নয়, বরং তাহাজ্জুদের নামায?

৩) আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইন্তেকালের পর চৌদ্দ হিজরীতে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু সকল সাহাবীদের সামনেই মসজিদে নববীতে সকলকে একত্রে এক জামাতে এক ইমামের পিছনে ২০ রাকাত তারাবীহর নামাযের উপরে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তখন তো হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহাও জীবিত ছিলেন। কারণ তিনি ইন্তেকাল করেছেন আটান্ন হিজরীতে। এই দীর্ঘ চুয়াল্লিশ বছর হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহা তাঁর হুজরা শরীফের পাশে ২০ রাকাত তারাবিহ হতে দেখলেন। এই হাদীসটি যদি ৮ রাকাত তারাবির দলিলই হতো, তাহলে মা আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা কেন এই সুদীর্ঘ ৪৪ বছর সময়কালের মধ্যে একবারও মনে করলেন না যে, এ হাদিস দিয়ে ৮ রাকাত তারাবি প্রমাণ হতে পারে? তিনি তো কোনদিনই বলেননি, ওগো নবীর সাহাবীরা! আপনারা আমার হুজুর শরীফের পাশে রসুলের জায়নামাজে কেন ২০ রাকাত তারাবিহ আদায় করছেন? অথচ আমার কাছে একটি হাদিস আছে যা দ্বারা ৮ রাকাত তারাবীহ প্রমাণ হয়। বরং হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহাও সকল সাহাবীদের সঙ্গে ২০ রাকাত তারাবিই মেনে নিয়েছেন। তারাবির নামায ৮ রাকাত হয়, এটা তিনি কখনো মনে করেননি। তিনি এও মনে করেন নি যে, তার বর্ণিত হাদীস শরীফটি দিয়ে ৮ রাকাত তারাবিহ প্রমাণ হতে পারে। দয়া করে এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিন।

আমার প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর না দিয়েই সে বললো, আমি আপনার সাথে বাহাস করবো। আপনি কি হাদীস জানেন?

আমি বললাম, ভাই বাহাস‌ তো করবেন কিন্তু দয়া করে হাদীসের সংজ্ঞাটা একটু বলুন! হাদীস কাকে বলে? এটা বাংলায় বললেও হবে। তিনি হাদীসের তারীফ জানেন না বলে জানালেন। আমি বললাম, দাবী করলেন আপনি আহলে হাদীস, আপনি হাদীস নিয়ে বাহাস করবেন। অথচ হাদীস কাকে বলে তাই জানেন না? তিনি আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে গালি দিতে দিতে ফোন রেখে দিলেন।এরপর আর কোনো দলিল নয়, বারবার এসএমএস পাঠিয়ে শুধু গালিই দিয়ে যাচ্ছেন।কী আর করবেন? দলীল যখন নেই, গালিই তো তখন পুঁজি…..।

  • মুফতি মুহাম্মদ শফী কাসেমী সাহেবের টাইমলাইন থেকে
              

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here