মুসলমান এবং কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মাঝে ২০টি পার্থক্য ও প্রামাণ্য স্ক্যানকপি নিম্নরূপ










মুসলমান এবং কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মাঝে ২০টি পার্থক্য ও প্রামাণ্য স্ক্যানকপি নিম্নরূপ










বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আহমদীয়া মুসলিম (?) জামাত তথা কাদিয়ানী সম্প্রদায় অমুসলিম হওয়ার কারণ
আল্লাহ তায়ালার নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামের সর্বপ্রথম শিক্ষাই হলো ঈমান ও আকীদা। নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তায়ালা যে দ্বীন ও শরীয়ত এবং কুরআন ও সুন্নাহ দিয়েছেন, এককথায় তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু পেশ করেছেন সব কিছু মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা এবং নিঃসংকোচে মেনে নেওয়া, এর নামই ঈমান এবং এর নামই হল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা। যে ব্যক্তি দ্বীনে ইসলামের কোনো স্বতঃসিদ্ধ, সর্বজনবিদিত ও যুগ পরম্পরায় প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয়কে অস্বীকার করবে বা তার স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত অর্থের বিপরীত কোনো অর্থ করবে সে কাফের ও বেঈমান।
মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ও তার অনুসারী কাদিয়ানী সম্প্রদায় দ্বীনের অনেক স্বতঃসিদ্ধ ও সর্বজনবিদি বিষয় অস্বীকার করে নিজেরাই মুসলিম উম্মাহ থেকে আলাদা হয়ে গেছে। ইসলামের সাথে যে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই তা তাদের গুরুরা (পাদ্রীরা) স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর একটি বক্তব্য তার বড় ছেলে (কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় খলিফা) মির্যা বশীর উদ্দিন মাহমুদ এভাবে উদ্ধৃত করেছে যে,
“হযরত মাসীহে মাওউদ (মির্যা কাদিয়ানী) তো সত্য বলেছেন, তাদের ইসলাম ভিন্ন আর আমাদের ইসলাম ভিন্ন। তাদের খোদা ভিন্ন আর আমাদের খোদা ভিন্ন। আমাদের হজ্জ ভিন্ন আর তাদের হজ্জ ভিন্ন। এমনিভাবে প্রতিটি বিষয়ে তাদের (তথা অ-আহমদীদের) সাথে আমাদের পার্থক্য রয়েছে।” – কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মুখপত্র দৈনিক আল ফযল তারিখ ২১ আগস্ট ১৯১৭ ইং, পৃ.৮ কলাম নং ১।
কাদিয়ানী সম্প্রদায় কাফের হওয়ার মৌলিক কিছু কারণ
এক. খতমে নবুওয়াতের আকীদা অস্বীকার ও মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কর্তৃক নবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করা :
দ্বীনে ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকীদা হলো, খতমে নবুওয়াতের আকীদা। অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্ত ও স্বাধীন শেষনবী। তাঁর পরে কাউকে নবুওয়াত দান করা হবে না। আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নবুওয়াতের ধারার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন।
মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ‘খতমে নবুওয়াতে’র এই মৌলিক আকীদাকে অস্বীকার করে ১৯০১ সালে সরাসরি নবুওয়াত দাবি করে। নিচে তার নবুওয়াত দাবির দু’টি উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হলো-
“আমি ওই খোদার কসম করে বলছি, যার হাতে আমার জীবন, তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন এবং তিনিই আমার নাম নবী রেখেছেন।” – তাতিম্মায়ে হাকীকাতুল ওহী, রূহানী খায়ায়েন ২২/৫০৩ (মির্যা কাদিয়ানীর রচনাসমগ্র)।
“আল্লাহর আদেশ মোতাবেক আমি একজন নবী। আমি এই দাবী অস্বীকার করলে আমার পাপ হবে। যেহেতু আল্লাহ আমাকে নবী নাম দিয়েছেন আমি তা কিভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারি। আমি মরণ পর্যন্ত এই বিশ্বাস আঁকাড়ে থাকব।” – নবুয়ত ও খিলাফত (বাংলা) পৃষ্ঠা নং ৭৬ ; বাংলাদেশের কাদিয়ানীদের মূলকেন্দ্র বকশী বাজার, ঢাকা থেকে প্রকাশিত; আরও দেখুন, মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ২/৭২৫।
দুই. মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কর্তৃক নিজেকে স্বয়ং মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহ দাবি করা :
মির্যা কাদিয়ানীর দাবি, সে স্বয়ং মুহাম্মাদূর বাসুলুল্লাহ। তার মাঝে স্বয়ং মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহর সত্তা বিরাজমান। গোটা কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের আকীদা ও বিশ্বাস হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে দুইবার আবির্ভূত হয়েছেন। প্রথমবার মক্কায়, দ্বিতীয়বার কাদিয়ানে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর স্বরূপে।। (নাউযুবিল্লাহ)
মির্যা কাদিয়ানী লিখেছে,
“এর মধ্যে আমার নিজস্ব সত্তা নেই, পরন্তু মুহাম্মদ (সঃ) বিরাজমান। এ কারণে আমার নাম মুহাম্মদ (সঃ) এবং আহমদ (সঃ) হয়েছে। সুতরাং নবুওয়াত এবং রেসালাত অপর কারও নিকট গেল না, মুহাম্মদ (সঃ)-এর বস্তু মুহাম্মাদ (সঃ)-এর নিকট রইল।” – একটি ভুল সংশোধন (বাংলা) পৃষ্ঠা নং ১৫ (বাংলাদেশে কাদিয়ানীদের মূলকেন্দ্র বকশী বাজার, ঢাকা হতে অনূদিত)।
মির্যা কাদিয়ানীর মেজো ছেলে মির্যা বশীর আহমদ এম. এ লিখেছে,
“সুতরাং মাসীহে মাওউদ (মির্যা কাদিয়ানী) স্বয়ং মুহাম্মাদূর রাসুলুল্লাহ। ইসলাম প্রচারের জন্য তিনি দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আগমন করেছেন।” – কালিমাতুল ফসল পৃষ্ঠা নং ৬৬, মির্যাপুত্র বশীর আহমদ এম.এ রচিত।
তিন. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা করা :
কাদিয়ানী সম্প্রদায় কাফের হওয়ার বড় একটি কারণ হলো রাসূল (সা.) এর অবমাননা করা। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী অত্যন্ত জঘন্য পন্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে বেয়াদবী করেছে। এ বিষয়ে অনেক প্রমাণ রয়েছে। মির্যা কাদিয়ানী তার বইপত্রের বিভিন্ন স্থানে দাবি করেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য তার মাঝে বিদ্যমান। (নাউযুবিল্লাহ) মির্যা কাদিয়ানী এক জায়গায় বলেছে-
“বিচ্ছিন্নভাবে সকল নবীর মাঝে যে গুণ-বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল তার সমষ্টি আরও অধিকহারে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে বিদ্যমান ছিল। এখন ঐ সকল গুণ-বৈশিষ্ট্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিচ্ছায়ারূপে আমাকে দেওয়া হয়েছে।” – মালফুযাত (মির্যা কাদিয়ানীর বাণী সংকলন) খন্ড ২ পৃষ্ঠা ২০১ নতুন সংস্করণ।
এ কারণে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মির্যা কাদিয়ানীর মর্যাদা একেবারে বরাবর। বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে তারা তাদের মুখপত্র ‘দৈনিক আল ফযল’ পত্রিকায় এভাবে লিখেছে –
“আল্লাহ তায়ালার নিকট হযরত মসীহে মওউদের (তথা মির্যা কাদিয়ানীর) সত্তাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই সত্তা। অর্থাৎ আল্লাহর খাতায় হযরত মাসীহে মাওউদ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে কোনো বৈপরীত নেই, বরং উভয়ের একই অবস্থান, একই মর্তবা, একই মর্যাদা ও একই নাম। শাব্দিকভাবে দুইজন মনে হলেও বাস্তবে একজন।” – কাদিয়ানীদের মুখপত্র দৈনিক আল ফযল, আরিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯১৫ ইং, পৃষ্ঠা ৭ কলাম ২।
চার, নবীগণের শানে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করা :
মির্যা কাদিয়ানী হযরত ঈসা (আ.) সম্পর্কে লিখেছে,
“ইউরোপের লোকদের মদ যত অনিষ্ট করিয়াছে, তাহার কারণ এই যে, ঈসা (আ.) মদ্যপান করিয়াছেন।” – কিশতিয়ে নূহ (বাংলা অনূদিত) পৃষ্ঠা নং ৮৭ সপ্তম সংস্করণ।
“হযরত ঈসা আলাইহিসরালাম নিজে নৈতিক শিক্ষার ওপর আমল করেননি। আঞ্জির (ডুমুর) গাছ ফলবিহীন দেখে তার ওপর বদ-দোয়া করেছেন। অথচ অন্যদেরকে দোয়া করতে শিখিয়েছেন। অন্যদেরকে এ আদেশও করেছেন যে, তোমরা কাউকে আহমক (বোকা) বলবেনা। অথচ নিজে মুখ-খারাপে এতটাই লাগামহীন হয়ে পড়েছেন যে, ইহুদীদের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে হারামজাদা পর্যন্ত বলে ছেড়েছেন। তিনি প্রতিটি ওয়াজে ইহুদী উলামাদেরকে কঠিন কঠিন গালি দিয়েছেন এবং তাদের বিভিন্ন খারাপ নাম রেখেছেন। নৈতিক শিক্ষকের জন্য ফরজ প্রথমে নিজে উত্তম চরিত্র দেখানো।” – চশমায়ে মাসীহী, রূহানী খাযায়েন ২০/৩৪৬; (মির্যা কাদিয়ানীর রচনাসমগ্র)।
পাঁচ, কাদিয়ানী সম্প্রদায় কর্তৃক কালিমায়ে তায়্যিবাকে অস্বীকার করা :
কাদিয়ানী সম্প্রদায় কালিমা তায়্যিবা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” এর শব্দ-বাক্য ঠিক রেখে তার অর্থ ও মর্মের মাঝে চরম বিকৃতি ঘটিয়ে তারা মূলত কালিমা তায়্যিবাকেই অস্বীকার করেছে। যেহেতু মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকে স্বয়ং মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ দাবি করেছে, তাই কাদিয়ানীরা কালিমার মাঝে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে উদ্দেশ্য নেয়। কাদিয়ানীরা মির্যা কাদিয়ানীকে নবী মানা সত্ত্বেও তার কালিমা না গড়ে মুসলমানদের মতোই কালিমা কেন পড়ে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মির্যা কাদিয়ানীর মেঝো ছেলে মির্যা বশীর আহমদ এম.এ লিখেছে,
“সুতরাং মাসীহে মওউদ (তথা মির্যা কাদিয়ানী) স্বয়ং মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহ। ইসলাম প্রচারের জন্য তিনি দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আগমন করেছেন। অতএব আমাদের নতুন কোনো কালিমার প্রয়োজন নেই। তবে মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহর পরিবর্তে অন্য কারও আগমন ঘটলে নতুন কালিমার প্রয়োজন হত।” – কালিমাতুল ফসল পৃষ্ঠা ৬৮।
ছয়. বিশ্বের সকল মুসলমানকে কাফের আখ্যা দেওয়া :
কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের আকীদা ও বিশ্বাস হলো, যারা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর উপর ঈমান আনবে না তারা সকলেই কাফের ও বেঈমান। তাদের পেছনে নামায পড়া জায়েয নেই, তাদের কাছে মেয়ে বিবাহ দেয়া জায়েয নেই। তাদের জানাযা পড়াও জায়েয নেই। (নাউযুবিল্লাহ)। মির্যা কাদিয়ানীর একটি বক্তব্য লক্ষ্য করুন,
“আল্লাহ তায়ালা আমাকে জানিয়েছেন, যে ব্যক্তির নিকট আমার দাওয়াত পৌঁছলো কিন্তু সে আমাকে গ্রহণ করল না সে মুসলমান না।” – তাযকিরাহ পৃষ্ঠা ৫১৯ (চতুর্থ এডিশন), হাকীকাতুল ওহী (বাংলা) পৃষ্ঠা ১৩০।
মির্যা বশীর আহমদ এম.এ (মির্যা কাদিয়ানীর মেজো ছেলে) লিখেছে,
“প্রত্যেক ওই ব্যক্তি যে মুসাকে মানে কিন্তু ঈসাকে মানে না, অথবা ঈসাকে মানে কিন্তু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানে না, অথবা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানে কিন্তু মাসীহে মাওউদকে (তথা মির্যা কাদিয়ানীকে) মানে না, সে শুধু কাফের নয় বরং পাক্কা কাফের এবং ইসলামের গণ্ডিবহির্ভূত।” – কালিমাতুল ফসল পৃষ্ঠা ২০।
ওপরে অতি সংক্ষেপে কদিয়ানীদের অমুসলিম হওয়ার মৌলিক কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো। এ জাতীয় আরো অনেক উদ্ধৃতি রয়েছে যা প্রমাণ করে কাদিয়ানীরা নিকৃষ্টতম কাফের। তাই আসুন এই ভয়াবহ কুফুরী ফেতনা সম্পর্কে নিজেরা সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন করি। কোনো মুসলমান ভাই যেন কাদিয়ানীদের খপ্পরে পড়ে ঈমানহারা না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের ঈমানকে হেফাজত করুন, আমীন।
সার্বিক যোগাযোগ :
তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত প্রকাশনী
হযরতপুর, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১৩
মোবাইল: 01646-373084 (আসরের পর থেকে মাগরিব, রাত ৯ টার পর থেকে ১০ টার মধ্যে কল দেয়ার অনুরোধ)।
কাফের, মুসলিম, মুমিন এগুলো কার পরিভাষা? ইসলামের পরিভাষা। ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে কী বলে? মুসলিম বলে। ঈমান আনলে কী বলে? মুমিন বলে। কুফুরি করলে কী বলে? কাফের বলে। তো আপনি ইসলাম গ্রহণ করবেন, আপনাকে মুসলমান বলা যাবে। আপনি ঈমান আনবেন, আপনাকে মুমিন বলা যাবে। তাহলে কুফুরি করলে কাফের বলা যাবেনা? কি হাস্যকর লজিক! এটা কেমন হাস্যকর লজিক!! কুফুরি / কাফের শুনতে যদি কষ্ট লাগে, তাহলে কুফুরি করেন কেন? কুফুরি ছেড়ে দাও, তওবা করো, ইসলাম গ্রহণ কর। তোমাকে কেউ কাফের বলবেনা। তুমি ইসলামের কাজ করবানা, কুফুরি করবা, আবার মুসলিম নামডাক শুনবা, এত লোল পরে কেন?
আবু মুহাম্মদ রহমানী (হাফিজাহুল্লাহ)।
‘সততা’ ও ‘বিশ্বস্ততা’ নবীর শ্রেষ্ঠ গুণ,
‘আ কুন্তুম মুসাদ্দিকিয়্যা?’ বাক্যের এ খন্ডাংশটি একটি বিখ্যাত হাদীসের অংশ এবং এটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম সহ অন্যান্য প্রামাণিক হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এটি নবুওয়াতের প্রাথমিক যুগে নবী মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক মক্কার সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কুরাইশদের প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার ঘটনার অংশ।
হাদীসের প্রাসঙ্গিক অংশ ও বাংলা অনুবাদ :
হাদীসের মূল বার্তা হলো, শেষনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর নবুওয়াতের সত্যতা ও বিশ্বস্ততা প্রমাণ করার জন্য এই উপমাটি ব্যবহার করেছিলেন। তিনি ইরশাদ করেছিলেন,
أرَأَيْتَكُمْ لو أخْبَرْتُكُمْ أنَّ خَيْلًا بالوَادِي تُرِيدُ أنْ تُغِيرَ علَيْكُم؛ أكُنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ؟ قالوا: نَعَمْ، ما جَرَّبْنَا عَلَيْكَ إلَّا صِدْقًا، قالَ: فإنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ
অনুবাদ, “তোমরা কি মনে করো, যদি আমি তোমাদের জানাই যে, এই উপত্যকার ওপার থেকে একদল অশ্বারোহী (শত্রু) তোমাদের আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছে, তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? উত্তরে উপস্থিত সবাই বলেছিল, “হ্যাঁ, আমরা আপনাকে বিশ্বাস করব, কারণ আমরা আপনাকে সবসময় সত্যবাদী হিসেবেই পেয়েছি” (অন্য বর্ণনায়, “আমরা আপনার কাছ থেকে কখনও মিথ্যা শুনিনি”)। এরপর তিনি বলেছিলেন, “তবে আমি তোমাদের আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করছি”। (সহীহ বুখারী, ইবনে আব্বাস থেকে)।
এই হাদীসের তাৎপর্য হচ্ছে, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্ব থেকেই মক্কার লোকেরা, এমনকি তাঁর কট্টর বিরোধীরাও শেষনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বোচ্চ বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী (আল-আমিন) হিসেবে গণ্য করত।
দাওয়াতের পদ্ধতি : তিনি তাদের বিশ্বাস ও আস্থার মানদণ্ড ব্যবহার করে ইসলামের মৌলিক বার্তা – তাওহীদ (একত্ববাদ) এবং আখিরাতের শাস্তি সম্পর্কে সতর্কবাণী পেশ করেছিলেন। আল্লাহ্র নির্দেশে (সূরা শু’আরা, ২৬:২১৪) গোপনে দাওয়াতের পরিবর্তে প্রকাশ্যে দাওয়াত শুরু করার এটি ছিল প্রথম ধাপ। এই হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মতো হাদীস গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
হাদীসটি হতে বুঝা গেল, নবীর সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ গুণ সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। যদি কেউ সততা এবং নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হয় তাহলে তার বিষয়টি সেখানেই সমাপ্ত। সামনে আর বাড়তে দেয়া যাবেনা। কারণ কোনো মিথ্যাবাদী নবুওয়ত ও রেসালত দাবী করার যোগ্যতাই রাখেনা। সুতরাং, আল্লাহর রাসূল (সা.) এর জীবন তথা সীরাত থেকেই আমাদের সবক নিতে হবে।
বলাবাহুল্য যে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সহ ইতিপূর্বে যতজনই নবী রাসূল দাবী করেছিল তাদের জীবন-দর্শন থেকে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া গেছে যে, তারা প্রত্যেকে ছিল চরম মিথ্যাবাদী ও ধোকাবাজ। সুতরাং তারা প্রত্যেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার জন্য তাদের ঐ নেতিবাচক ক্যারেক্টারই যথেষ্ট।
মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ হওয়ার দাবী করার প্রমাণ তারই ‘একটি ভুল সংশোধন’ পুস্তক থেকে নিম্নরূপ,

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম এ
কাদিয়ানীদের প্রতি এবার এ বয়ানটিও ছুড়ে দিন,
((বয়ান-৩))
মির্যা কাদিয়ানীর বইতেও ঈসা মসীহের পুনরায় আগমনের বয়ান,
সে লিখেছে, “এই আয়াতে (অর্থাৎ সূরা তওবাহ আয়াত নং ৩৩) ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঈসা মসীহ সশরীরে ও রাজনৈতিক দর্পণে পৃথিবীতে পুনরায় আসবেন।”
মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর রচিত ‘বারাহীনে আহমদীয়া’ চতুর্থ খন্ড; কাদিয়ানীর রচনাসমগ্র ২৩ খন্ডে প্রকাশিত- রূহানী খাযায়েন ১/৫৯৩।
এখন কাদিয়ানীদের প্রশ্ন করতে চাই, যার সশরীরে পুনরায় আগমনী ইঙ্গিত কুরআনেই রয়েছে, সে কুরআনই তাঁকে মৃত সাব্যস্ত করে কিভাবে? প্রামাণ্য স্ক্যানকপি নিম্নরূপ,

কাদিয়ানীদের প্রতি “বয়ান” ছুড়ে দিন এভাবে যে,
((বয়ান-২))
মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তার বইতে লিখেছে, ঈসা (আ.) একজন শরাবী (মদখোর) ছিল, পতিতা মহিলাদের সাথে তার দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল! নাউযুবিল্লাহ। (রেফারেন্স সহ পোস্টের নিচে দীর্ঘ-বাক্যে দেখুন)।
বলে রাখা জরুরি যে, ঈসা (আ.) সম্পর্কে উল্লিখিত উক্তিগুলি তার নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকেই ছিল। এটি শুধুমাত্র খ্রিস্টানদের খন্ডনে পালটা জবাবি তথা ‘ইলজামি জবাব’ রূপে ছিল, এ কথা মোটেও ঠিক না। যদিও কোনো কোনো কাদিয়ানী মতের অনুসারী মির্যা কাদিয়ানীর পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে এমনটা প্রতিউত্তর করার চেষ্টা করে থাকে।
তাই কাদিয়ানী মতের অনুসারীদের প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ রইল, ঈসা (আ.) সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানী নিজ বিশ্বাসের জায়গা থেকে উপরে উল্লিখিত যে আপত্তিকর উক্তি নিজ বইতে লিখে গেছে তা সঠিক এবং বাস্তব প্রমাণ করে দেখান। যদি তা কুরআন হাদীসের আলোকে সঠিক এবং বাস্তব প্রমাণ করে দেখাতে পারেন, তাহলে আমরা মির্যা কাদিয়ানীকে সত্য বলেই মেনে নেব।
আর যদি তা প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে নির্দ্বিধায় আপনারাও মেনে নিতে বাধ্য থাকবেন যে, মির্যা কাদিয়ানী একজন চরম মিথ্যাবাদী ছিল। আর আল্লাহ তায়ালা কোনো মিথ্যাবাদীকে “নবী” তো দূরের কথা; সাধারণ একজন ওলী-আউলিয়াও বানাবেন না, এটাই চূড়ান্ত কথা।
দীর্ঘ-বাক্যে সম্পূর্ণ উদ্ধৃতি :

আচ্ছা পাঠকবৃন্দ, ঈসা (আ.) সম্পর্কে উল্লিখিত উক্তিটি যার সে একই সাথে ঈসা (আ.)-এর মদ পান করার “কারণ”ও কিন্তু নিজ জবানে বলে দেয়ার পরেও ব্যাপারটি সম্পূর্ণরূপে তার নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকেই নয়, একথা কিভাবে বলা যায়??
গোলাম আহমদ কায়িদানীর উক্ত রচনায় হযরত মাসীহ ইবনে মরিয়ম (আ.)-এর প্রতি কয়েকটি অপবাদ পরিদৃষ্ট হয়। (১) তিনি মদ পান করতেন। (২) তিনি ব্যভিচারিণী নারীদের অবৈধ পন্থায় উপার্জিত অর্থ দ্বারা ক্রয়কৃত সুগন্ধি মাথায় লাগাতেন এবং তাদের হাত ও চুল দ্বারা নিজের শরীর স্পর্শ করাতেন। (৩) অনাত্মীয় যুবতী নারীদের থেকে সেবা নিতেন।
অথচ হযরত মসীহ ইবনে মরিয়ম (আ.)-এর মত একজন মহান নবীর প্রতি এসব অশ্লীল ও কদর্য অপবাদ আরোপ করার পর সে এ রায়ও দিয়েছে যে, এসব ঘটনার কারণেই আল্লাহ তাআলা তাকে পবিত্র কুরআনে ‘হাসূর’ (নারী বিরাগী) বিশেষণ দ্বারা বিশেষায়িত করেননি। এতে দৃঢ়ভাবে সাব্যস্ত হচ্ছে যে, উক্ত মানহানিকর কথাগুলো ‘ইলজামি জবাব’ হিসেবে ছিলনা, বরং তার নিজেস্ব বিশ্বাসের জায়গা থেকেই ছিল।



লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
কাদিয়ানী বয়ানের উপর পালটা কিছু বয়ান
((বয়ান-১))
আপনি যখনি কাদিয়ানীদের সাথে কথা বলবেন তারা তখনি আপনার প্রতি যে বয়ানটি ছুড়ে দেবে সেটি হচ্ছে, কুরআন থেকে ঈসা (আ.)-কে জীবিত প্রমাণ করে দিন। প্রমাণ করতে পারলে আমরা কাদিয়ানীয়ত ছেড়ে দেব। ধারণা করা হয় যে, কাদিয়ানীদের সো-কল্ড চতুর্থ খলীফা মির্যা তাহের আহমদই এ বয়ানের প্রবর্তক ছিল। তার আগে কাদিয়ানীদের বয়ান ছিল, ইস্তিখারা করে আল্লাহর কাছ থেকে সমাধান চেয়ে নিন। তিনিই উত্তম সমাধানকারী। বর্তমানেও মাঝেমধ্যে তাদের অনেককে পুরনো এ বয়ানের পেছনে ছুটতে দেখা যায়। আসুন, এবার তাদের উদ্দেশ্যে আমাদের পালটা কিছু বয়ান এখানে উত্থাপন করছি। আমাদের বয়ানগুলো এই যে,
(১) নবুওয়তের দাবীদার গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে শুধুমাত্র একজন ‘সত্যবাদী’ ও ‘আমানতদার’ সাব্যস্ত করে দেখান। তাহলে আর কিছুই করতে হবেনা। আমরা তার সততা আর যোগ্যতার ভিত্তিতেই তার নবুওয়ত দাবীর বৈধতা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর শিক্ষার আলোকে যাচাই করে দেখব। যদি সে নবী হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে যায় তাহলে সে ঈসা (আ.) সম্পর্কে যা যা লিখে গেছে আমরা তার সবকিছু বিনাবাক্যে মেনে নেব। তাই আসুন, আপনারা গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবিকে শুধুমাত্র একজন ‘সত্যবাদী’ ও ‘আমানতদার’ সাব্যস্ত করতে সংলাপে বসুন। আমরা তার বইপুস্তক থেকে তাকে চরম মিথ্যাবাদী এবং ধোকাবাজ সাব্যস্ত করব আর আপনারা সেগুলো খন্ডন করে তাকে ন্যূনতম একজন সত্যবাদী সাব্যস্ত করে দেখাবেন।
(২) আপনারা কথায় কথায় ঈসা (আ.) এর বাঁচা-মরা প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যা আপনাদের শেষনবী গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবির শিক্ষারই বিপরীত। কেননা গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবি ‘দাফেউল বালা’ বইতে লিখে গেছে, “ঈসা ইবনে মরিয়মের আলোচনা বাদ দাও, তার চাইতে উত্তম গোলাম আহমদ কাদিয়ানী”। দেখুন, সে ঈসা (আ.) এর আলোচনা বাদ দিতে বলছে আর আপনারা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর শিক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে ঈসা (আ.) এর আলোচনা টেনে আনছেন! এটা আপনাদের কেমন লজিক! তাহলে সর্বপ্রথম মির্যাকে ত্যাগ করুন!
(৩) ঈসা (আ.)-কে কুরআন দ্বারা জীবিত প্রমাণ করতে বলছেন। আরে ভাই, মির্যা গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবি তো নিজেই ১৮৮৪ সালে তার ‘বারাহীনে আহমদীয়া’ (৪র্থ খন্ড) গ্রন্থে পবিত্র কুরআনের সূরা তওবাহ, আয়াত নম্বর ৩৩ (هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ) দ্বারা দলীল দিয়ে লিখে গেছে যে, এই আয়াতে ইংগিতে একখানা ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে যে, মসীহ (ঈসা) এই পৃথিবীতে সশরীরে (جسمانى) এবং রাজনৈতিক দর্পনেই (سياست ملكى) পুনরায় আসবেন।
বারাহীনে আহমদীয়া গ্রন্থে গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবির লিখাটি এইরূপ,
اور فرقانی اشارہ اس آیات میں ہیں : هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ یہ آیات جسمانی اور سیاست ملکی کے طور پر حضرت مسیح کی حق میں پیشگوئی ہیں اور جس غلبہ کاملہ دین اسلام کا وعدہ دیا گیا ہے وہ غلبہ مسیح کے ذریعہ سے ظہور میں آئے گا اور جب حضرت مسیح علیہ السلام دوبارہ اس دنیا میں تشریف لائیں گے تو ان کے ہاتھ سے دین اسلام جمیع آفاق اور اقطار میں پھیل جائے گا لیکن اس عاجز پر ظاہر کیا گیا ہے کہ یہ خاکسار اپنی غربت اور انکسار اور توکل اور ایثار اور آیات اور انوار کے رو سے مسیح کی پہلی زندگی کا نمونہ ہے اور اس عاجز کی فطرت اور مسیح کی فطرت باہم نہایت ہی متشابہ واقع ہوئی ہے گو ایک ہی جوہر کے دو ٹکرے یا ایک ہی درخت کے دو پہل ہیں۔ براہین احمدیہ حصہ چہارم ؛ روحانی خزائن ۱:۵۹۳
(অর্থ-…..) ঐশী ইংগিত এই আয়াতগুলিতে রয়েছে যে, “তিনিই তাঁর রাসূলকে হেদায়েত এবং সত্য ধর্ম সহকারে প্রেরণ করেছেন, যাতে এটিকে সকল ধর্মের উপর প্রকাশ করা যায়, যদিও মুশরিকরা এটিকে অপছন্দ করে।” এই আয়াতগুলি শারীরিক এবং রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই মসীহের পক্ষে একটি ভবিষ্যদ্বাণী। আর ইসলাম ধর্মের পরিপূর্ণ বিজয় প্রতিশ্রুত মসীহের বিজয়ের মাধ্যমেই প্রকাশিত হবে। আর হযরত মসীহ (ঈসা) দুনিয়ার বুকে আবার যখন আসবেন তখন তাঁর হাত ধরেই ইসলাম ধর্ম পৃথিবীর সকল প্রান্তে এবং সকল দেশে ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু এই অধমের নিকট এটা প্রকাশ পেয়েছে যে, এই অধম মানুষটি তার দারিদ্র্য, নম্রতা, আস্থা, ত্যাগ, নিদর্শন এবং নূর সমূহের মাধ্যমে মসীহের প্রথম জীবনেরই একটি নমুনা। আর এই নম্র মানুষের স্বভাব এবং মসীহের স্বভাব খুবই মিল, যেন তারা একই সত্তার দুটি টুকরো অথবা একই গাছের দুটি শাখা। (বারাহীনে আহমদীয়া, ৪র্থ খন্ড, রূহানী খাযায়েন : ৩/৫৯৩)।
এখন কথা হল, আপনারা কুরআন থেকে যে জিনিসটা সাব্যস্ত করতে বলছেন সেটা তো আপনাদের সো-কল্ড মসীহ গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবি অনেক আগেই করে দিয়ে গেছেন। তাহলে এখন আবার নতুন করে কী প্রমাণ করার কথা বলছেন? আসুন, যেটা প্রমাণ করতে বলছেন সেটা যখন প্রমাণ হয়েই আছে তখন আমরা আপনাদের নিকট জানতে চাইব যে, গোলাম আহমদ কাদিয়ানী “ইবনে চেরাগবিবি” থেকে কিভাবে “ঈসা ইবনে মরিয়ম” হলেন?
(৪) আপনি বললেন, ঈসা (আ.)-কে কুরআন থেকে জীবিত প্রমাণ করে দিতে। আচ্ছা, ঠিক আছে। আমি তর্কের খাতিরে আপনার সাথে একমত হলাম যে, ঈসা (আ.) বেঁচে নেই। এখন আপনি আমাকে বলুন, ঈসা (আ.) বাঁচা-মরার সাথে গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবির “ঈসা” দাবী করার কী সম্পর্ক? সে কিভাবে ঈসা ইবনে মরিয়ম হল? ইতিপূর্বে তো বাহাউল্লাহ ইরানীও নিজেকে ঈসা দাবী করেছে। কাজেই কেউ ঈসা দাবী করলেই যদি সত্যিকার অর্থে সে ঈসা হয়ে যেত তাহলে তো বাহাউল্লাহ ইরানীকেও “ঈসা মসীহ” মানতে হবে!
(৫) ঈসা (আ.) যদি আপনাদের বিশ্বাসমতে মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তাহলে প্রশ্ন হল বর্তমানে ঈসা মসীহ (আ.) এর সমাধি তথা কবর কোথায়? আসুন দেখা যাক গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবির রচনাবলীতে ঈসা মসীহ (আ.) এর কবরের সন্ধান কিভাবে দেয়া হয়েছে!
সে এক জায়গায় লিখেছে,
اور کیا تعجب کہ حضرت مسیح کی قبر کشمیر یا اس کے نواح میں ہو
অর্থাৎ কি যে আশ্চর্যের ব্যাপার যে, হযরত মসীহ’র কবর কাশ্মীর অথবা তার আশপাশে (তিব্বতে) অবস্থিত। (রূহানী খাযায়েন খণ্ড ১০ পৃষ্ঠা নং ৩০২)।
এতে বুঝা গেল, সে নিজেও কনফিউশানে ছিল। সে তিব্বতে নাকি কাশ্মীরে, কোনটা বলবে নিজেও ঠিক পায়নি।
সে আরেক জায়গায় লিখেছে,
یہ تو سچ ہے کہ مسیح اپنے وطن گلیل میں جا کر فوت ہو گیا ۔ لیکن یہ ہرگز سچ نہیں کہ وہی جسم جو دفن ہو چکا تھا پھر زندہ ہو گیا۔
‘সত্য তো এটাই যে, মসীহ (ঈসা) আপনা মাতৃভুমি গ্যালীলে (সিরিয়া) গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু তাঁর ঐ দেহ যেটি (সেখানে) দাফন হয়েছিল তা আবার জীবিত হয়ে যাওয়া একদমই সত্য নয়।’ (ইযালায়ে আওহাম ২য় খন্ড, রূহানী খাযায়েন: ৩/৩৫৩; রচনাকাল ১৮৯১ইং)।
সে আরেক জায়গায় লিখেছে,
حضرت عیسی علیہ السلام بیت اللحم میں پیدا ہوئے اور بیت اللحم اور بلدہ قدس میں تین کوس کا فاصلہ ہے اور حضرت عیسی علیہ السلام کے قبر بلدہ قدس میں ہیں اور اپ تک موجود ہیں اور اس پر ایک گرجا بنا ہوا ہے اور وہ گرجا تمام گرجاؤں سے بڑا ہیں اور اس کے اندر حضرت عیسی کی قبر ہے اور اسی گرجا میں حضرت مریم صدیقہ کی قبر ہے اور دونوں قبرین علیحدہ علیحدہ ہیں۔ اتمام الحجہ روحانی خزائن ۸: ۲۹۹
অর্থাৎ…. হযরত ঈসা (আ.) এর কবর ‘ফিলিস্তিন’ এর বায়তুল মোকাদ্দাসের আঙ্গিনায়। (দেখুন, ইতমামুল হুজ্জাত, রূহানী খাযায়েন খণ্ড নং ৮ পৃষ্ঠা নং ২৯৯ [টিকা দ্রষ্টব্য])।
এখন প্রশ্ন হল, ঈসা (আ.) গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবির দাবীমতে মৃত্যুবরণ করার বিশ্বাস সঠিক হলে, তখন ঈসা (আ.) এর কবর সম্পর্কে সে যা যা লিখে গেছে সবগুলোকে সঠিক বলতে হবে। এখন আপনারা কি ঈসা (আ.) এর কবর ‘বায়তুল মোকাদ্দাসের আঙ্গিনায়, সিরিয়ার গ্যালিল জনপদে, তিব্বত এলাকায় কিংবা কাশ্মীরের শ্রীনগরে’ অর্থাৎ একসাথে সবখানে মানেন? হাস্যকর!
(৬) আপনারা গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবিকে ‘নবী’ মানেন, কিন্তু কিসের ভিত্তিতে তা মানেন সেটা ক্লিয়ার করেন না। কখনো বলেন, শেষ যামানায় ঈসা মসীহ আসবেন আর হাদীসে তাঁকে চার-চার বার نبى الله عيسى (আল্লাহর নবী ঈসা) অর্থাৎ “নবী” শব্দে সম্বোধন করা হয়েছে। গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবি নিজেকে ঐ ঈসা মসীহ দাবী করায় নাকি আপনারা তাকে নবী মানেন! আবার কখনো সূরা নিসার ৬৯ নম্বর আয়াতের من النبيين و الصديقين দ্বারাও আনুগত্যরূপে নবী হওয়া যায় বলে তাকে ‘নবী’ আখ্যা দেন। আবার দেখা যায় যে, সূরা জুমা’র وآخرين منهم لما يلحقوبهم দ্বারাও ব্যাখ্যা দেন এ বলে যে, এ আয়াতে শেষ যামানায় মুহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহ নাকি জীবিত করে দুনিয়ায় আরেকবার পাঠানোর কথা বুঝিয়েছেন (নাউজুবিল্লাহ), সে হিসেবে নাকি গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবিকে আপনারা ‘নবী’ এমনকি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ-ও মানেন! এমনিভাবে তার ‘মালফুযাত’ গ্রন্থে লিখা আছে যে, আল্লাহ তায়ালা তার সাথে অধিক পরিমাণে বাক্যালাপ করেছেন এবং তার অগণিত ভবিষ্যৎবাণী প্রতিফলিত হয়েছে। এমন ব্যক্তিও নাকি তার মতানুসারে ‘নবী’ নাম প্রাপ্ত হন। মির্যা কাদিয়ানী সে হিসেবেই একজন নবী (নাউযুবিল্লাহ)। আমার জানা নেই যে, আসলে এখানে আপনাদের শেষ কথাটা কী!
সে যাইহোক; তাকে যে দিক থেকেই হোক ‘নবী’ মানেন এটি যখন সাব্যস্ত হয়ে গেল, তখন আপনাদের একখানা প্রশ্ন করা উচিত বলে মনে করছি তা হচ্ছে,
আপনারা মৃত্যুর পর কবরের ফেরেশতার و من نبيك অর্থাৎ তোমার নবী কে? প্রশ্নের উত্তরে কার নাম বলবেন? গোলাম আহমদ ইবনে চেরাগবিবির নাম বলবেন? নাকি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম বলবেন? যেহেতু গোলাম আহমদ নিজেকে শেষনবী হওয়ার দাবীও করেছে, (দেখুন, তাযকিরাতুশ শাহাদাতাই-৮২ বাংলা অনূদিত) সেহেতু তাকে ছাড়া আপনারা দ্বিতীয় কারো নাম ফেরেশতার প্রশ্নের উত্তরে উত্থাপন করতে পারেন না।
লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ
কাদিয়ানীদের তথাকথিত খলীফাদের শিশু, কিশোর, তরুণ ও মধ্যবয়সী সহ নানা সময়ের বৈচিত্র্যময় ফটো।









কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয় ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা কতটুকু সম্ভব তা নির্ভর করবে এন্টি কাদিয়ানী মুভমেন্ট কাদিয়ানীদের মুকাবিলায় কতটুকু শক্তিশালী তার উপর। কাদিয়ানীরা একতা, সাহসিকতা, কাঠামোগত, একাডেমিক এবং কর্মতৎপরতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যতটা অগ্রগামী, তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি অগ্রগামী থাকা জরুরি এন্টি কাদিয়ানী মুভমেন্টের জন্য।
কাদিয়ানীদের রয়েছে শিশু, যুবক, বয়স্ক এবং মহিলা কর্মী বাহিনী। এদের প্রত্যেকের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার ব্যবস্থাও থাকে। ৭ থেকে ১৫ বছরের ছেলে শিশু কর্মীদের বলা হয় আতফাল, আর মেয়ে শিশু কর্মীদের বলা হয় নাসেরাহ (১৯৩৮ ইং)। ১৫ থেকে ৪০ বছরের যুবকদের কর্মী বাহিনীকে বলা হয় খুদ্দাম (১৯৩৮ ইং) আর মহিলা কর্মীদের বলা হয় লাজনা (১৯২২ ইং) আর চল্লিশ বছরের বেশি বয়স্কদের বলা হয় আনসার (১৯৪০ ইং)। মির্যা বশির উদ্দীন মাহমুদ কর্তৃক উল্লিখিত সহায়ক সংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
এদের প্রত্যেকের কার্যক্রমগুলো স্ব স্ব অবস্থান থেকে পৃথকভাবে পরিচালিত হয়। প্রত্যেককে নিজ নিজ কার্যক্রমের উপর রিপোর্ট জমা দিতে হয়। প্রত্যেকটি কর্মী সদস্যের সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক কার্যক্রমের উপর মূল্যায়নধর্মী আলাদা ম্যাগাজিন, বুলেটিন প্রকাশ করা হয়। যারা কৃতিত্বের সাক্ষর রাখতে পারেন তাদেরকে কেন্দ্র থেকে বিশেষ সম্মাননা সহ পুরষ্কৃত করা হয়।
এদের ভি টিম হিসেবে যত শাখাপ্রশাখাই থাকুক না কেন, প্রত্যেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে অভিন্ন নির্দেশনার মধ্য দিয়েই পরিচালিত হয় এবং সুনির্দিষ্ট টার্গেটেই এগিয়ে যায়।
এদের পুরো সত্তাটাই নির্দিষ্ট একটি কাঠামোর উপর দন্ডায়মান। হাইকমান্ড থেকে যখন যা নির্দেশ আসে তারা তা সুশৃঙ্খলভাবেই তা আঞ্জাম দিয়ে থাকে। তাদের প্রত্যেকটি কাজের জন্য পৃথকভাবে যোগ্য ও অভিজ্ঞ দায়িত্বশীল রয়েছেন। তারা হোম ওয়ার্ক ছাড়া কোনো কাজ করেন না। ফলে তাদের কর্মপদ্ধতি থাকে নিখুঁত। অবশ্যই তাদের কাজ গুলো প্রফেশনালি কর্মীদের মাধ্যমেও আঞ্জাম দেয়া হয়। তাদের প্রতিটি বিভাগ প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী দ্বারা যেমন পরিচালিত, তেমনি সবাই হাইকমান্ডের নিকট জবাবদিহিতার আওতাভুক্ত।
তাদের নিজেস্ব অভিজ্ঞ ব্যক্তি বিশেষ দ্বারা আইটি সেক্টর পরিচালিত। তাদের রয়েছে একাধিক একাডেমিক ওয়েবসাইট। যেখানে তাদের গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো সহ গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আর তার সো-কল্ড খলীফাদের রচিত বইগুলোর পিডিএফ পাওয়া যায়। তাদের ওয়েব সাইট গুলোতে আরবি, উর্দু এবং বাংলা সহ সব ধরনের বই, ম্যাগাজিন, বুলেটিন, লিফলেট আপলোড থাকে। তারা তাদের বিরোধীদের সমালোচনার উপর খন্ডনমূলক আর্টিকেলও রেখে দিয়েছে।
এ তো গত ১৫ ই নভেম্বর ২০২৫ এর ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খতমে নবুওয়ত সম্মেলনের বক্তাদের বক্তব্যগুলোর উপর তারা তাদের পালটা জবাবি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যা স্যোসাল মিডিয়ায় পাওয়া যায়। তারা কতটা পূর্ব থেকে সুপরিকল্পিত প্লানিং নিয়ে অগ্রসরমান তা তাদের কাজের ধরণ দেখেই বুঝা যায়।
কাজেই কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করানোর সক্ষমতা তাদের বিরোধী পক্ষের কতটুকু আছে বা নেই তা পুরোপুরি নির্ভর করছে বিরোধী পক্ষের কার্যক্রমের টোটাল কাঠামোটা কী রকম! কাদিয়ানীদের সমপর্যায়ের? নাকি তার চেয়েও কম কিংবা বেশি?
খতমে নবুওয়ত এর ব্যানারে যারা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে,
১। সারা দেশে কাদিয়ানী আস্তানাগুলোতে কি আপনাদের পদচারণা রয়েছে? কাদিয়ানী মতবাদ যারা গ্রহণ করেছেন তারাও তো ইতিপূর্বে আমাদেরই ভাই বোন ছিলেন। তারা কিজন্য ভুল পথে গেলেন? তারা কি বুঝেশুনে কাদিয়ানী হন নাকি টাকা পয়সার লোভে বা আবেগে কাদিয়ানী হন? কোনো কারণ তো অবশ্যই আছে, তাই নয় কি? একটু ভেবে দেখেছেন?
২। কাদিয়ানীদের দাওয়াতি কর্মপন্থা কী? তারা সাধারণ মানুষকে কেমন বয়ান দ্বারা বুঝায় বা দাওয়াত দেয়? আপনারা কি সে বয়ানগুলো নোট করেছেন? সেসব বয়ানের বিপরীতে আপনারা কি আরও শক্তিশালী কোনো বয়ান তৈরি করতে পেরেছেন? আপনারা কি সেই শক্তিশালী বয়ানের উপর তারবিয়ত তথা প্রশিক্ষণ কর্মশালার ব্যবস্থা করেছেন? কিছু দাঈ তৈরি করে আক্রান্ত এলাকাগুলোয় দাওয়াতি কাজের কোনো উদ্যোগ নিতে পেরেছেন?
৩। কাদিয়ানীদের মত আপনাদের সুনির্দিষ্ট কোনো দক্ষ, যোগ্য, প্রশিক্ষিত, সাহসী এবং কর্মঠ কোনো লিডারশীপ কি আছেন যার সিদ্ধান্তকে সবাই সুপ্রিম সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন? অন্যথা আপনাদের সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক কার্যক্রমগুলো কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে? দাঈদের কার্যক্রম গুলো কয়টা শাখায় বিভক্ত? তাদের কার্যক্রমের উপর মনিটরিং সেলে কতজন দায়িত্বশীল রয়েছেন? আইটি সেকশনে কাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের মাধ্যমে ওয়েবসাইট, ইউটিউব, স্যোসাল মিডিয়ায় কী কী আপডেট রয়েছে?
৪। বাংলাদেশে কাদিয়ানীরা জাতীয় দৈনিক গুলোতে সম্পূর্ণ পৃষ্ঠা ব্যাপী ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে থাকে। খতমে নবুওয়তের হাইকমান্ড থেকে সেটির প্রতিউত্তরে আমরা কেন কোনো আপডেট দেখিনা। জাতীয় দৈনিক গুলোতে কি খতমে নবুওয়তের হাইকমান্ড থেকে পাঠানো কোনো ডকুমেন্ট প্রকাশ করতে অনিহা প্রকাশ করেছিল?
এভাবে অনেক কিছুই জিজ্ঞেস করার আছে। আমাদের সম্মানিত উলামায়ে কেরামের উচিত, কাদিয়ানীদের মুকাবিলায় যদি সম্ভব হয় যুৎসই উদ্যোগ গ্রহণ করুন। কাঠামোগত ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজের ময়দানে সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম অব্যাহত রাখুন। অন্যথা শুধুশুধু লোকদেখানো কাজ করে কোনো লাভ নেই। ২০০৩ সালে বেগম জিয়ার আমলে কাদিয়ানীদের কিছু বইপুস্তক সে সময় সরকার নিষিদ্ধ করা মাত্রই সারা দুনিয়া থেকে সরকারের উপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। প্রায় ১৫শ নিন্দাসূচক ফ্যাক্স এসে জমা হয়েছিল বেগম জিয়া বরাবর। বিশ্বব্যাপী কাদিয়ানীদের হাত কতটা লম্বা তা বোধহয় বেগম জিয়া সে সময় কিছুটা টের পেয়েছিলেন। তারপর থেকে বেগম জিয়া একদম সাইজ হয়ে যান। কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে ভুলেও আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তার সরকার। সুতরাং এখন বুঝতেই পারছেন যে, তাহলে এ মুহূর্তে আমাদের আসল করণীয় কাজটা কী? হ্যাঁ, ইউসুফ বিন্নুরী (রহ.), আব্দুস সালাম চাটগামী (রহ.) দুজন মহান ব্যক্তিত্ব খুবই চমৎকার বলে গেছেন। সেটি হচ্ছে, কাদিয়ানীদের নিকট যাওয়া, তাদেরকে ধরে ধরে বুঝাতে থাকা। তাদেরকে মোহাব্বত করে দ্বীনের পথে ডাকা। জবরদস্তি না করা। মাদ্রাসা স্কুলের মেধাবী ছাত্রদের তারবিয়ত দিয়ে আক্রান্ত এলাকাগুলোয় পাঠিয়ে দেয়া। আর এ কাজের জন্য যত টাকা পয়সা দরকার তা সবাই মিলে আঞ্জাম দেয়া।
রাষ্ট্রের প্রধান প্রধান দায়িত্বশীল যারা তাদের কাছে যাওয়া। সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী প্রত্যেককে বুঝানো এবং কাদিয়ানীরা কেন ভুল পথে আছে তা তাদের সামনে তুলে ধরা। এ জন্য যত টাকার বইপুস্তক কেনা দরকার তা কিনে লাইব্রেরী আকারে বন্দোবস্তো করা। তাহলে মাত্র দশ বছরও লাগবেনা, এরই মধ্যে প্রায় সব কাদিয়ানীই ভুল বুঝতে পেরে ইসলামে ফিরে আসবে, ইনশাআল্লাহ। ফলে রাষ্ট্রীয় ভাবে তাদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করার দরকারও পড়বেনা।
লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
কাদিয়ানীদের সাথে বিতর্ক করার আগে তাদের বই গুলো তো নিশ্চয়ই পড়া থাকতে হবে, সে সাথে তাদের জ্ঞানের দৌঁড়ও মাপা থাকতে হবে।
খাতাম কিবা খাতিম এ জাতীয় পুরনো ঝগড়াঝাটি বাদ দিয়ে একদম জায়গামতো হাত ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের প্রশ্ন করতে হবে। স্যোসাল মিডিয়া ছাড়া কোনো কাদিয়ানীর সাথে আমার পক্ষে সাধারণত বিতর্কে জড়ানোর সুযোগ থাকেনা। বর্তমানে নানা কারণে স্যোসাল মিডিয়া থেকে অনেকটাই দূরে থাকছি। বেশ কিছুদিন আগের একটি তর্কবিতর্ক আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। যাতে ‘আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত’ টপিকে বিতর্ক আলোচনায় আমি আমার স্পেশাল নিয়মটা সবাইকে জানিয়ে রাখতে পারি।
একবার ওদেরই একজন মিশনারীকে তর্কের এক পর্যায়ে বললাম, আপনি আমাকে একটু ক্লিয়ারেন্স দিন তো, আপনারা কি ইন-জেনারেল নবুওয়তের ধারা অব্যাহত রয়েছে মানেন, নাকি রাসূল (সা.) এর ফরমান মুতাবেক শেষ যামানায় একজন নবী (ঈসা) এর পুনঃআগমন হবে, শুধু এটাই মানেন? যদি ইন-জেনারেল (সাধারণভাবে) নবুওয়তের ধারা অব্যাহত রয়েছে মানেন তাহলে আপনি আমার কথার উত্তর দিন যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর পর নবী আসার ধারা কেন চিরতরে বন্ধ বলা হল? এ যে দেখুন, গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বইতে পরিষ্কার করে লিখা আছে যে, একমাত্র গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকেই নাকি “নবী” নাম পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। (হাকিকাতুল ওহী ৩৩০, বাংলা সংস্করণ ১৯৯৯ ইং)। তাহলে ইন-জেনারেল নবুওয়তের ধারা অব্যাহত থাকল কোথায়? গোলাম আহমদের পর তো সেটা বন্ধ হয়ে গেল!
আর যদি মনে করেন যে, আপনারা-ও রাসূল (সা.) এর সেই ভবিষ্যৎবাণী মুতাবেক মুসলমানদের ন্যায় শুধুই একজন নবী (ঈসা) এর পুনঃ আগমনে বিশ্বাসী, যা সহীহ বুখারী, মুসলিম সহ হাদীসের বহু কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, তাহলে আপনার প্রতি আমার মাত্র একটি প্রশ্ন থাকলো। তা হল, সেই আগত নবী (ঈসা) সম্পর্কে রাসূল (সা.) এর ভবিষ্যৎবাণীগুলোতে যা যা উল্লেখ রয়েছে সেগুলোর সাথে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে আপনি কি কখনো মিলিয়ে দেখেছেন? আমার বিশ্বাস যে, আপনি মিলিয়ে দেখেননি অথবা আপনি আগে কখনো এভাবে বিষয়টিকে নিয়ে ভাবেননি!
আমি অথেনটিক বর্ণনাগুলো থেকে মাত্র কয়েকটি সম্পূর্ণ বর্ণনা আপনার সামনে তুলে ধরছি, মেহেরবানী করে আমাকে গোলাম আহমদের সাথে মিলিয়ে দেখাবেন। তবে কোনো মনগড়া ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। ব্যাখ্যা যদি দিতেই হয় তাহলে অন্তত গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর জন্মেরও পূর্বেকার মাননীয় যুগ ইমামগণ থেকে (ব্যাখ্যা) দিতে হবে।
বলাবাহুল্য, রাসূল (সা.) এর কোনো কোনো ভবিষ্যৎবাণী শপথ বাক্য সহকারেও উল্লেখ আছে। ফলে সেটিতে উল্লিখিত “ইবনে মরিয়ম” (মরিয়ম পুত্র) হতে রূপক কোনো অর্থ উদ্দেশ্য হতে পারেনা আর সেখানে আগত “নবী” সম্পর্কে পরিষ্কার বলা আছে যে, তিনি ইবনে মরিয়ম তথা মরিয়মের পুত্র, যিনি কেয়ামতের পূর্বে যথাসময়ে নাযিল হবেন। মানে তিনি জন্মগ্রহণ করবেন না, বরং বনী ইসরাইলের জন্য প্রেরিত পুরনো একজন নবী, যার পুনঃআগমন শুধুই ‘উম্মতি’ হিসেবে । আল্লাহ তার শাসনামলে ইসলামকে অপরাপর সমস্ত বাতিল দ্বীনের উপর বিজয় দান করবেন। আর তাঁর নির্দেশে যুদ্ধকর (জিজিয়া) স্থগিত করা হবে। অর্থাৎ সে সময়টিতে জিজিয়ার অপশন বাতিল করে দেয়া হবে। ধর্মযুদ্ধ চলমান থাকার একপর্যায়ে ইসলাম বিরোধীরা হয়ত যুদ্ধে নিহত হবে নয়তো বা আত্মসমর্পণ করে পর্যায়ক্রমে ইসলাম গ্রহণ করবে। ফলে একটি সময়ের ব্যবধানে ঐ ধর্মযুদ্ধটাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঐ নবী (ঈসা) এর জীবদ্দশাতেই বন্ধ হয়ে যাবে। এ-সংক্রান্ত সবগুলো সহীহ হাদীসকে একসাথ করে দেখলে সে সময়কার পুরো ঘটনার পটভূমি এটাই দাঁড়াবে।
আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি, আপনি উক্ত ভবিষ্যৎবাণী অনুসারী গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে শতভাগ তো দূরের কথা, ২ পার্সেন্টও প্রমাণ করতে পারবেন না।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, আপনি যার চোখ দিয়ে ইসলাম দেখছেন এবং যার শিক্ষামতে পবিত্র কুরআনের নামে ঈসা (আ.)-কে মেরে ফেলতে বসে আছেন, সেই গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেই তার আরেকটি রচনায় লিখে গেছে,
اب ثبوت اس بات کا کہ وہ مسیح موعود جس کے آنے کا قران کریم میں وعدہ دیا گیا ہے یہ عاجز ہی ہے ان تمام دلائل اور علامت اور قرائن سے جو ذیل میں لکھتا ہوں ہر ایک طالب حق پر بخوبی کھل جائے گا۔
অর্থাৎ এখন একথা সাব্যস্ত হয়ে গেল যে, পবিত্র কুরআনে যেই মসীহ মওউদের আসার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে সে এই অধমই। (ইযালায়ে আওহাম, রূহানী খাযায়েন ৩/৪৬৮)।
এখন কথা হল, আহমদীয়া তথা কাদিয়ানী ধর্মমত অনুসারে পবিত্র কুরআন দ্বারাই যেখানে ঈসা (আ.)-কে মেরে ফেলতে এতকাল ধরে মগজের সর্বশক্তি ব্যয় করে আসছেন, সেই ঈসা দুনিয়াতে আবার আসার প্রতিশ্রুতি একই কুরআনে কিভাবে থাকতে পারে?
এখন হয়ত বলবেন যে, কুরআনে যে ঈসার আগমনের প্রতিশ্রুতি থাকার কথা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী লিখে গেছে তা হতে গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেই উদ্দেশ্য। যদি তাই হয় তাহলে আপনি দয়া করে আমাকে পবিত্র কুরআন থেকে আগত ঈসা (আ.) এর প্রতিশ্রুতিটা সর্বপ্রথম আয়াতের অনুবাদ দ্বারা বুঝিয়ে দিন। তারপর সেই আয়াতের সাথে গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর সম্পর্ক কী এবং কিভাবে, তা পরিষ্কার করে দিন। দয়া করে এ কষ্টটুকু করুন। যাতে আমিও সত্যিকারের আগত প্রতিশ্রুত সেই ঈসা (আ.)-কে চিনতে পারি এবং গোমরাহ হওয়া থেকে বাঁচতে পারি।
আমার চ্যালেঞ্জ রইল, কোনো কাদিয়ানী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চেষ্টা করলেও গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে রাসূল (সা.) এর ফরমান মুতাবেক ‘প্রতিশ্রুত ঈসা’ (মসীহ) প্রমাণ করতে পারবেনা।
লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
তারিখ- ০৭/১১/২০২৫