Monday, December 4, 2023
Home Blog

সহজে কাদিয়ানী চেনার উপায়

লিফলেট? : কাদিয়ানী কারা? ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ হাইকোর্ট থেকে তাদের বইপুস্তক বাজেয়াপ্ত করে কেন?

কাদিয়ানীদের কাছ থেকে এ প্রশ্নগুলোর কোনো সঠিক উত্তর আপনি পাবেন না [1] [2] [3] [4] [5]

মির্যা কাদিয়ানীর স্ববিরোধ কথাবার্তা [1][2][3][4][5][6][7][8][9][10][11][12][13][14][15][16][17][18][19][20][21][22][23][24][25][26][27][28][29][30][31][32][33][34][35][36][37][38][39][40][41][42][43][44][45][46][47][48][49][50]

হায়াতে ঈসা : কুরআনুল কারীম [1][2][3][4][5] | হাদীস শরীফ [ঈসা আঃ দামেস্কের যেখানে নাযিল হবেন][1][2][3][4][5][6] [7] [8] যুগ-ইমামগণ [1]

খতমে নবুওয়ত : [খাতাম][খাতামুন নাবিয়্যীন][মির্যায়ী অপব্যাখ্যা ও খণ্ডন [1][2][3] [আয়াত][হাদীস][ত্রিশজন মিথ্যাবাদী নবী] [আ’রাফ ৩৫] [নিসা ৬৯] [অন্যান্য]

মির্যা কাদিয়ানীর নবী রাসূল দাবী : [1][2][3][4] | মির্যায়ী রচনাবলীতে তাকফির : [1][2][3] | কাদিয়ানীদের চেপে রাখা ধর্মবিশ্বাস : [1][এগুলো কাদিয়ানী ধর্মবিশ্বাস][ডাউনলোড পিডিএফ ফাইল]

ইমাম মাহদী : [1][2][3][4][5]

সহজে কাদিয়ানী চেনার উপায় :

কাদিয়ানীরা সাধারণত খুবই ধূর্ত ও জঘন্য প্রতারক হয়ে থাকে। তাদের বেশিরভাগই মাথায় কালো টুপি পরে আর মুখে ফ্রেঞ্চ কাটিং দাড়ি রাখে। তাদের ৯০% ফেইসবুক ইউজারের প্রোফাইল লক থাকে, খুব বেশি তর্কপ্রিয় ও ঝগড়াটে হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য একদম সাধারণ বিষয়কেও দুর্বোধ্যভাবে পেশ করে থাকে। তাদের খুব কমন একটা ডায়লগ ঈসা আ. আবার আসলে তখন শেষনবী কে থাকছেন? এর উত্তর আলাদা আর্টিকেলে দেয়া হয়েছে। এখানে সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলব যে, ঈসা (আ.)-এর পুনঃ আগমনের প্রেক্ষিতে এই জন্য প্রশ্ন নেই যে, ঈসা (আ.) মুহাম্মদ (সা.)-এর আগেই নবুওয়ত প্রাপ্ত একজন নবী। আর ঈসা (আ.) শেষ যুগে নবুওয়তের দায়িত্ব নিয়ে অর্থাৎ নবী হিসেবে আসবেন না, বরং একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক এবং সুপথপ্রাপ্ত ইমাম ((يوشِكُ من عاشَ منكُم أنْ يرَى عيسَى ابنَ مريَمَ حكمًا عدلًا وإمامًا مهديًا فيكسِرَ الصَّليبَ ويقتُلَ الخِنزيرَ ويضَعَ الجزيَةَ وتضَعُ الحرْبُ أوْزارها)) ও উম্মতে মুহাম্মদীর পদ মর্যাদা নিয়ে (و على ملته) আসবেন। এখানে আরেকটা কথা বলে রাখা জরুরি যে, উম্মতে মুহাম্মদীর পদ মর্যাদা নিয়ে আসার অর্থ এ নয় যে, তাঁর পূর্বের নবুওয়ত বাতিল হয়ে যাবে, বরং এখানে ঐ কথার অর্থ হল, নবুওয়তে মুহাম্মদীর সময়টিতে তাঁর আনীত শরীয়ত রহিত ও তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শেষনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শরীয়তের অনুগামী হয়ে যেতে বাধ্য। কারণ হাদীসে সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে ((وَلَوْ كَانَ مُوسَى حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا اتِّبَاعِي)) অর্থাৎ যদি মূসাও (ইহজগতে) জীবিত থাকত তাহলে তাঁর জন্যও আমার আনুগত্য করা ছাড়া কোনো উপায় ছিলনা। (মুসনাদে আহমদ ৩/৩৮৭, হাদীসের মান – হাসান)। তাদের আরও একটি ডায়লগ হচ্ছে, ঈসা (আ.) এর পক্ষে আবার এসে সারা দুনিয়া ঘুরে ঘুরে খ্রিস্টানদের ক্রুশগুলো ভাঙ্গা এবং জঙ্গল থেকে সমস্ত শুয়োর খোঁজে খোঁজে হত্যা করা কীভাবে সম্ভব? উত্তরের জন্য পড়ুন এখান থেকে। কাদিয়ানীদের আরেকটা ডায়লগ হল, যদি ‘শেষনবী‘ বলতে এই অর্থ উদ্দেশ্য হয় যে, ‘তাঁর (সা.) পর আর কাউকে নবী বানানো হবেনা’ তখন প্রশ্ন আসবে যে, ‘আমি তখনও খাতামান নাবিয়্যীন ছিলাম যখন আদম পানি এবং কাদার মাঝে সৃষ্টির সূচনায় ছিলেন‘—হাদীসটির কী অর্থ উদ্দেশ্য? আসলে তারা এ সমস্ত প্রশ্ন ও তর্কের আড়ালে মির্যা কাদিয়ানীর মসীহ ও নবী দাবীর বৈধতা খুঁজতে চায়। কিন্তু হাস্যকর ব্যাপার হল, এদের কাউকেই আমি আজ পর্যন্ত স্বীকার করাতে পারিনি যে, তারা কি তাহলে নিজেদের মির্যা কাদিয়ানীর ‘উম্মত’ বলে স্বীকার করবে? কেননা যে কাউকে ‘নবী’ মানবে সে নিজেকে নির্বিঘ্নে তার ‘উম্মত’ বলেও স্বীকারোক্তি দিবে—এটাই স্বাভাবিক! আর এমনটা তো নয় যে, আমরা আগত ঈসা (আ.)-এর পুনরায় আগমনকে স্রেফ ‘উম্মতি‘ হিসেবেই বিশ্বাস করে কোনো ভুল করছি! আমরা কুরআন এবং হাদীস হতে আমাদের মুসলিম উম্মাহার বিশ্বাসের সমর্থনে মজবুত দলিলও দিয়ে থাকি, এমনকি মির্যা কাদিয়ানীর রচনাবলি হতেও। জেনে আশ্চর্য হবেন, আগত ঈসা নবুওয়তের দায়িত্বে থাকবেন না, তিনি স্রেফ ‘উম্মত’ হিসেবে থাকবেন; এ কথা খোদ মির্যা কাদিয়ানীর-ও। যেমন সে তার রচনার এক স্থানে লিখেছে, “কুরআন শরীফ দ্বারা তো সাব্যস্তই আছে যে, প্রত্যেক নবীই হযরত (সা.)-এর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহতালা বলেন-ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنصُرُنَّهُ (তারপর তোমাদের নিকট যদি এমন একজন রাসূল আগমন করেন যিনি তোমাদের নিকট থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে)। সুতরাং এইভাবেই সমস্ত আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম) হযরত (সা.) এর উম্মত হয়ে যান।” (বারাহীনে আহমদীয়া খ-৫, রূহানী খাযায়েন ২১/৩০০)। বলাবাহুল্য, ‘সমস্ত আম্বিয়া’ বলতে কিন্তু ঈসা (আ.)-ও তার মধ্যে শামিল। জানি না এখন তার ঝগড়াটে উম্মতেরা এর প্রতিউত্তরে কী বলবে! এদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা সাধারণত নেকাব পরে নাকের নিচ দিয়ে। এদের ধর্মীয় পড়াশোনার হাতেগড়ি নির্দিষ্ট দুটি সাবজেক্ট—ঈসা (আ.) জীবিত না মৃত আর মুহাম্মদ (সা.)-এর পরেও নবুওয়তের সিলসিলা (ধারাক্রম) চালু না বন্ধ, এই দুটো নিয়ে। তারা মূলত মির্যা গোলাম আহমদকে একজন রূপক মসীহ সাব্যস্ত করতেই হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহ সশরীরে জীবিত আকাশে উঠিয়ে নেয়ার কুরআন সুন্নাহভিত্তিক আকিদার অস্বীকারকারী। অথচ সহীহ মুসলিম, তারীখে দামেস্ক, কাঞ্জুল উম্মাল ইত্যাদি গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনায় এসেছে যে, ঈসা (আ.) শেষযুগে দামেস্কে নাযিল হবেন। আল্লাহ তাঁকে ফেরেশতার মাধ্যমে আকাশ থেকে পাঠাবেন। তেমনিভাবে ইসলামের গত চৌদ্দশত বছরের ইতিহাসে গত হয়ে যাওয়া সমস্ত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের ইমামগণেরও বিশ্বাস হচ্ছে, ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু এখনো হয়নি। কিন্তু কাদিয়ানীধর্মের বিশ্বাসমতে, ঈসা (আ.)-এর ১২০ বছর বয়সে কাশ্মীরে মৃত্যু হয়ে গেছে, কাশ্মীরের খান ইয়ার মহল্লায় সমাহিত ইউজ আসেফ (1,2) নামীয় ব্যক্তির কবরটিই ঈসা (আ.)-এর কবর (নাউযুবিল্লাহ)। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীই মূলত ‘কাদিয়ানী জামাত’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাকে তার সাধারণ অনুসারীরা ইমাম মাহদী বিশ্বাস করার দাবী করলেও ‘নবী’ বিশ্বাস করেনা বলেই সাফ বলে দেয়ার চেষ্টা করে। আসলে এরা নিজেদের অজ্ঞতার জন্যই তাকে যেমন ইমাম মাহদী বিশ্বাস করে নিয়েছে, ঠিক একই রকম অজ্ঞতার জন্যই তারা তার নবী দাবী করা সম্পর্কেও বেখবর। এরা খুব সাধারণ ও জেনারেল মানুষদের ধোকা দিয়ে থাকে। সম্প্রতি জেনারেল শিক্ষিতরাও এদের ব্যাপারে খুবই সাবধান হচ্ছেন। চট্টগ্রামের জনৈক চিকিৎসক একদা আমার কাছ থেকে জানতে চাইলেন যে, সাধারণদের জন্য কাদিয়ানীদের সাথে ডিবেট করার পন্থা কী? অর্থাৎ কোন নিয়মনীতি মান্য করলে তাদের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে সফল হওয়া যাবে।? যাইহোক, কাদিয়ানীরা ছলেবলে কৌশলে তাদেরকে কাছে টেনে নেয়ার চেষ্টা করে। তাদের কাছ থেকে বাইয়েত নিয়ে অত:পর ব্রেইন ওয়াশ করে ফেলে, যাতে তাদের বলয়ের বাহিরে ছুটে না যায়। তবে এরপরেও অনেকে বাস্তবতা বুঝতে পেরে কেটে পড়েন। এমনি একজন যুবকের ফোনালাপ থেকে আমি একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছি। দেখুন এখানে। আগের আলোচনায় আবার ফিরে এলাম। সাধারণ কাদিয়ানী যুবক-যুবতীরা মির্যা কাদিয়ানীর দাবীগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে। বিশেষ করে তার ‘শেষনবী’ হবার দাবীটি সম্পর্কে। এই বিষয়ে স্ক্রিনশট সহ কয়েকটি সিরিজ ভিডিও দেখুন। মির্যা কাদিয়ানীর নবী-রাসূল দাবী, সিরিজ ভিডিও (১), (২), (৩), (৪)। (লিফলেট [ডাউনলোড লিংক] (১), (২) অপ্রিয় হলেও সত্য হল, তাদের শীর্ষনেতাদের তৈরিকৃত সিলেবাসের বাহিরে তাদের অধীনস্থদের মন-মগজে ইসলামের ফান্ডামেন্টাল শিক্ষার ছিটেফোঁটাও থাকেনা। এদের প্রাধানতম বৈশিষ্ট্য, কুরআন শরীফ অশুদ্ধ পড়া আর নিজের মত করে ব্যাখ্যা দেয়া। এরা মুসলমানদের মসজিদে যায় না, মুসলমানদের জানাজাতেও অংশগ্রহণ করেনা। এদের পিতা মাতার জানাজাতেও অংশগ্রহণ করতে জোরালো ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকে, বড়জোর জানাজায় কাঠের পুতুলের ন্যায় সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে তবেই সে পর্যন্ত অনুমতি রয়েছে। কত পাষণ্ড আর হতভাগা এরা!ছোটবেলা থেকেই এদেরকে চরম আলেম উলামা বিদ্বেষী করে তোলা হয় বলে এরা আলেম উলামার কাছ থেকেও দূরে থাকে। আলেম উলামার প্রতি এদের মজ্জাগত বিদ্বেষ আর দুশমনির ফলে এদের বেশিরভাগ Ex ahmadi দুর্ভাগ্যবশত মুলহেদ হয়ে যায়, তবু ইসলাম গ্রহণ করতে চায় না। কারণ এদের মন মগজে সেই ছোট বেলা থেকেই ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে, বর্তমান ইসলাম মোল্লা মৌলভীদের বানানো ইসলাম। নাউযুবিল্লাহ। অথচ ইসলামের বুনিয়াদ হচ্ছে, পবিত্র কুরআন এবং কুরআনের মর্মার্থ সুস্পষ্টকারী সহায়ক সংকলন রাসূল (সা.)-এর সীরাত তথা সুন্নাহ।

এরা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ এবং খেলাফত রাষ্ট্রের চরম বিরোধী। স্বভাবতই ব্রিটিশপ্রিয় হয়। কুরআন হাদীসকে সরাসরি অস্বীকার করার পরিবর্তে রূপক কিবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে অস্বীকারকারী হয়। আর নিজ মতবাদের পক্ষে এমন সব বর্ণনা বা উদ্ধৃতিও উপস্থাপন করে থাকে যেগুলোর বেশিরভাগই জাল, জঈফ বা মুনকার পর্যায়ের অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা; কোনো অথেনটিক সোর্স থেকেও সংগৃহীত নয়। এদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল, এদের বইপুস্তক অগণিত স্ববিরোধ কথাবার্তায় ভর্তি, যা এদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও এরা মেনে নিতে চায় না। এগুলো আমার দীর্ঘ অবিজ্ঞতা থেকেই লিখলাম। আরও জানার বিষয় হল, সারা দুনিয়ায় এদের দাবী হচ্ছে, সংখ্যায় এরা ২০ কোটি। অথচ নিরপেক্ষ গণনামতে এরা কোনো ভাবেই ১৫-২০ লাখের বেশি হবেনা। বাংলাদেশে এদের সংখ্যা এদেরই দাবী অনুসারে ১ লক্ষ। তবে আমাদের জরিপ বলছে, এরা কোনো ভাবেই ২৫ হাজারের বেশি হবেনা। বিবাড়িয়া, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সাতক্ষীরার সুন্দরবন, জামালপুরের সরিষাবাড়ি আর বান্দরবন, যশোর এবং খুলনায় এদের সংখ্যাটা তুলনামূলক বেশি। প্রাণ, আর.এফ.এল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মেজর (অব.) আমজাদখান চৌধুরী আর বাংলাদেশের বর্তমান কাদিয়ানীদের ন্যাশনাল আমীর জনাব আব্দুল আউয়াল সাহেব দুইজনই মামাতো আর ফুফাতো ভাই। জনাব আমজাদখানের পিতা আলী কাশেমখান চৌধুরী আর কাদিয়ানী আমীরের মাতা মাসুদা সামাদ আপন ভাই বোন। কাদিয়ানীদের একটি বই ‘সীরাতে মাহদী’-তে ইসলাম বিরোধী ১৬টি চরম বিভ্রান্তিকর ধর্মবিশ্বাস এর উল্লেখ রয়েছে, যা তারা সাধারণ মানুষ থেকে বরাবরই গোপন রাখে। আমি তাদের ডজনখানেক বই থেকে স্ক্রিনশট সহ মির্যা কাদিয়ানীর নবী ও রাসূল দাবীর প্রমাণও অত্র রচনায় দিয়ে রেখেছি। পাঠকদের জন্য আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলও অত্র রচনায় সন্নিবেশিত করে দিয়েছি। তন্মধ্যে কাদিয়ানীদের কলেমার গোপন রহস্যপ্রতিশ্রুত মসীহ্‌ এর পরিচয় এবং প্রতীক্ষিত মাহ্‌দী এর পরিচয় অন্যতম। অধিকন্তু তাদের কেউই এখনো দুনিয়ায় আবির্ভূত হননি। ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মধ্যে পরিষ্কার লিখা আছে যে, তিনি নবীজী (সা.)-এর কন্যা ফাতেমার পুত্র হযরত হাসান (রা.)-এর বংশে জন্মগ্রহণ করবেন। সে হিসেবে তিনি সাইয়েদ এবং কুরাইশীও হবেন তার নাম হবে মুহাম্মদ, পিতার নাম আব্দুল্লাহ, জন্মস্থান হবে আরব (মদীনা), মাহদীয়তের উপর বাইয়েত শুরু করবেন মক্কায়। তিনি আরবে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবেন। আবুদাউদ শরীফে (কিতাবুল, মাহদী অধ্যায়) এসেছে, ‘ইমাম মাহদী সাত বছর রাষ্ট্রকার্য পরিচালনা শেষে ইন্তেকাল করবেন।’ শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী (রহ.) তার ‘আল জামেউস সহীহ’ কিতাবে হাদীসটিকে “হাসান” (حسن) বলেছেন। উল্লিখিত পরিচিতির আলোকে দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, রাসূল (সা.) শেষ যামানায় আগমনকারী যে ইমাম মাহদীর সুসংবাদ দিয়ে গেছেন আজকের এই দিন (২০২২ ইং, এই আর্টিকেল লিখার সময়) পর্যন্ত সেই ইমাম মাহদী এবং প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.) দুইজনের কেউই আবির্ভূত হননি। আল্লাহ চাহিলে দুইজনই যথাসময়ে আসবেন। মির্যা গোলাম আহমদ এর দাবী একই সাথে ইমাম মাহদী এবং ঈসা, দুটোই। কিন্তু রাসূল (সা.) উক্ত দুই মহা পুরুষ সম্পর্কে সহীহ হাদীসগুলোতে যেই পরিচিতি রেখে গেছেন তার ছিটেফোঁটাও মির্যা গোলাম আহমদের সাথে মিল পাওয়া যায় না। এটি পড়ুন, এক নজরে মির্যা কাদিয়ানী। উল্লেখ্য, প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী এবং হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাদা দুই ব্যক্তিই। বহু সহীহ হাদীসে দুইজনের ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় একদম সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। কাদিয়ানীদের বইতে দুই ঈসা’র বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাব এখানে। তাদের ‘ওয়া লাল মাহদী ইল্লা ঈসা ইবনু মরিয়ম’ এর বর্ণনা দিয়ে বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাবও এখান থেকে দেখে নিন। ইমাম মাহদী একই সাথে ফাতেমি, আব্বাসী, হাসানী, হোসাইনী সব কিভাবে হতে পারেন? মাহদীয়তের নিদর্শনের নামে কাদিয়ানীদের উপস্থাপিত চন্দ্রসূর্য গ্রহণের বর্ণনাটি কেন গ্রহণযোগ্য নয়?। এই কাদিয়ানী গোষ্ঠীটি তাদের মতের বাহিরে সমস্ত মুসলমানকে অমুসলিম, কাফের, জাহান্নামী মনে করে থাকে। এরা অন্যান্য মুসলমানের মত হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত দাবী করা সত্ত্বেও বিশ্বের সমস্ত মুসলিম স্কলারদের সর্বসম্মতিক্রমে কাফের ও ইসলাম থেকে খারিজ। তার কারণ এরা খতমে নবুওয়ত এবং হায়াতে মসীহ সহ ইসলামের বহু মৌলিক বিশ্বাসকে কুরআন এবং সুন্নাহর অপব্যাখ্যার আড়ালে অস্বীকার করে থাকে। এরা আজ থেকে শতাধিক বছর আগে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে তথা ১২৫৬ হিজরী সনে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাদিয়ান নামক গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এক ব্যক্তিকে নবী বলে বিশ্বাস করে। তার নাম ছিল মির্যা গোলাম আহ্‌মদ (১৮৩৯-১৯০৮)। সে নিজেকে প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.)-এর রূপক সত্তা এবং শেষ যুগে আগমনকারী ইমাম মাহদী হবার দাবীও করে। অথচ কুরআনের আয়াত ও সহীহ্ হাদীসের মানদণ্ডে এই লোকের দাবীগুলোর একটিও টিকেনা। তাই কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ব্যক্তি নিজ দাবীতে একজন জঘন্য মিথ্যাবাদী ও প্রতারক। এখানে তার কয়েকটি উক্তি তুলে ধরছি, যা পড়ার পর যে কেউই তার আসল পরিচয় পর্যন্ত সহজে পৌঁছতে পারবে! যথা- ১. মির্যা কাদিয়ানী ১৮৯৮ সালের দিকে ব্রিটিশ-ভারত রাণী আলেকজান্ড্রিনা ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে লিখেছিল, ‘নিজেদের হাতে রোপিত এই চারাগাছটির ব্যাপারে খুব সতর্কতা ও অনুসন্ধানের সাথে অগ্রসর হবেন এবং আপনার অধীনস্তদের বলবেন তারা যেন এই পরিবারের ত্যাগ ও নিষ্ঠার কথা মনে করে আমার দলের প্রতি সদয় দৃষ্টি জ্ঞাপন করেন। আমাদের পরিবার ইংরেজ সরকারের কল্যাণে নিজেদের খুন বইয়ে দিতে ও জীবন দিতেও দ্বিধা করেনি আর না এখনো দ্বিধা করছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/২১-২২; নতুন এডিশন)। তার এই কথা পরিষ্কার প্রমাণ যে, সে ব্রিটিশদেরই সৃষ্টি ছিল। ২. ‘আমার বিশ্বাস, যে হারে প্রতিদিন আমার অনুসারির সংখ্যা বাড়ছে সেই হারে জিহাদের পক্ষাবলম্বীর সংখ্যাও কমছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/১৯)। এখানে তার এই বক্তব্য ব্রিটিশ ভারতের ১৮৫৭ সালের আযাদী আন্দোলন ও সিপাহী বিদ্রোহকেই স্মরণ করে দিচ্ছে। মূলত ঐ সমস্ত আন্দোলন সংগ্রাম দমিয়ে রাখতেই পরবর্তীতে এই মির্যায়ী তথা কাদিয়ানী জামাতের সৃষ্টি। ৩. ‘ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্য ইসলামেরই একটি অংশ’ (রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮০)। মির্যা কাদিয়ানীর এই বক্তব্য আমার উপরোক্ত সবগুলো দাবীকে দ্বিপ্রহরের সূর্যের মত একদম পরিষ্কার করে দেয়। যাইহোক ২৫ শে মে ১৮৯৩ সালে অমৃতসর নামক স্থানে মির্যা কাদিয়ানীর সাথে তৎকালীন মুসলিম নেতা শায়খ আব্দুলহক গজনভী (রহ.)-এর একটি মুবাহালা অনুষ্ঠিত হয়। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ৬/৩৭২)। উক্ত মুবাহালায় উভয়পক্ষ নিজের উপর নিজে বদ দোয়া করেন এবং মুবাহালাকারী দুইপক্ষের সত্যবাদীর জীবদ্দশায় যিনি প্রকৃতপক্ষে একজন মিথ্যাবাদী তিনি যেন ধ্বংস হন, এইরূপ কামনাও করেন (দেখুন, মালফূজাত ৫/৩২৭; চতুর্থ এডিশন)। ইতিহাস সাক্ষী, পরবর্তীতে শায়খ গজনভী (রহ.) মারা যান ১৬ই মে ১৯১৭ সালে। আর মির্যা কাদিয়ানী শায়খের জীবদ্দশায় প্রায় ৯ বছর পূর্বেই ১৯০৮ সালে লাহোরে ২৬ শে মে বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় কলেরায় আক্রান্ত হয়ে টাট্টিতে নিপতিত হয়ে মারা যায়। তার লেখিত প্রায় ৮৩টি বইয়ের সমষ্টির নাম ‘রূহানী খাযায়েন‘ (আধ্যাত্মিক ভাণ্ডার), যা আনুমানিক ১৯৬০ সালের দিকে ২৩ খণ্ডে প্রকাশ করা হয়। বইগুলো দ্বারা সেসব মানুষ খুব বিভ্রান্ত হয় যাদের পূর্ব থেকে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে আলোচ্য বিষয়ে গভীর কোনো জ্ঞান নেই। একটি হাদীসে এসেছে, মহানবী (সা.) তাঁর পরবর্তী সময়ে ত্রিশ জন নবুওয়তের মিথ্যা দাবীদারের আবির্ভাব হবার ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন (সুনান তিরমিজী (ইফা) অধ্যায়ঃ ৩৬/ কিতাবুল ফিতনা)। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) (মৃত. ৮৫২ হিজরী) হাদীসটির ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এই ত্রিশজন মিথ্যাবাদী বলতে বিশেষভাবে ওরাই উদ্দেশ্য যাদের দাপট প্রতিষ্ঠা পাবে এবং (সাধারণ মানুষের ভেতর) তাদের তৎপরতার কারণে মারাত্মক সন্দেহ সৃষ্টি হবে। (ফাতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী : খণ্ড ১২ পৃষ্ঠা ৩৪৩)। সমস্ত ইসলামি বিশেষজ্ঞ একমত যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তাদেরই মধ্য হতে একজন। পাঠকদের উদ্দেশ্যে এখানে কয়েকটি লিখার লিংক দিচ্ছি। গুরুত্ব সহ পড়ার অনুরোধ থাকল, কাদিয়ানীরা কাফের কেন? মির্যা কাদিয়ানীর ৫টি মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী। তথাকথিত উম্মতিনবী কাদিয়ানী জামা’তের প্রতিষ্ঠাতার কিছু দাবী দাওয়া। মির্যা কাদিয়ানীর কিছু মিথ্যাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতি। অথচ হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে সমস্ত কাফির মুশরিক ‘সত্যবাদী‘ বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনের ত্রিশ আয়াতে ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে যাওয়ার দাবী কেন ডাহা মিথ্যা? আমাদের ওয়েবসাইট ও আমাদের ভিডিও সমূহ ইউটিউব থেকে (markajTV by PNN) (হেদায়েতের পথিক) দেখার আহবান রইল। আমার (লিখক) ফেইসবুক পেইজ (ধারাবাহিক লাইভ পর্ব) থেকে ভিডিওগুলো দেখার আমন্ত্রণ রইল। আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হতে পারেন। আমার সবগুলো বই (১২টি) এক সাথে অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন। এবার মির্যা কাদিয়ানীর নবী, রাসূল দাবীর প্রামাণ্য কিছু স্ক্যানকপি দেখানো হল,

বই : এক গলতি কা ইযালা বা একটি ভুল সংশোধন পৃ-৩ ও ৪
বই : দাফেউল বালা পৃ-১২

কথিত উম্মতিনবী দাবীতেও মির্যা ফেঁসে গেলেন কিভাবে দেখুন

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক- প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ, যোগাযোগ- 01629941773 (What’sapp, Telegram & Imo), ইমেইল- nabifeni44@gmail.com

ঈসা (আ.)-এর রাফা (উঠিয়ে নেয়া) কোথায় হয়েছিল?

0

হযরত ঈসা (আ.)-এর রাফা (بل رفعه الله اليه) কোথায় হয়েছিল…….? বিশুদ্ধ হাদীসের আলোকে সংক্ষিপ্ত উত্তর নিম্নরূপ,

উত্তর : আল্লাহ ঈসা (আ.)-কে সশরীরে আকাশে উঠিয়ে নিয়েছিলেন অত:পর…..! রেফারেন্স দেখুন-

1 আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সা’আদ (মৃত. ২৩০ হিজরী)-এর ১১ খণ্ডে সংকলিত প্রাচীনতম হাদীসগ্রন্থ ‘আত-তবকাতুল কোবরা’ খ-১ পৃ-৩৫-৩৬ (رَفَعَهُ بِبَدَنِهِ); অর্থ- তিনি তাঁকে সশরীরে উঠিয়ে নেন। – সহীহ

2 শায়খ আহমদ আব্দুর রহমান আলবান্না (১৮৮২-১৯৫৮)-এর ২৪ খণ্ডে সংকলিত ‘আল ফাতহুর রব্বানী লি তারতীবে মুসনাদে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানী’ খ-২০ পৃ-১৪১ দ্রষ্টব্য (لَمَّا اَرَادَ اللهُ اَنْ يَّرْفَعَ عِيْسَي اِلَى السَّمَاءِ); অর্থ-আল্লাহ ঈসাকে যখন আকাশে উঠিয়ে নিতে চাইলেন…। – সহীহ মুসলিম এর শর্তে সহীহ

3 ইমাম আবুবকর আহমদ আল-বাজ্জারের ১৮ খণ্ডে সংকলিত ‘মুসনাদে বাজ্জার’ হাদীস নং ৯৬৪২ (يَنْزِلُ عِيْسَى بْنُ مَرْيَمَ مِنَ السَّمَاءِ); অর্থ-ঈসা ইবনে মরিয়ম আকাশ থেকে নাযিল হবেন। – সহীহ

4 ইমাম নূরুদ্দীন আল-হাইসামীর ১২ খণ্ডে সংকলিত ‘মাজমাউয যাওয়ায়েদ’ খ-৭ পৃ-৩৪৯ (يَنْزِلُ عِيْسَى بْنُ مَرْيَمَ مِنَ السَّمَاءِ); অর্থ-ঈসা ইবনে মরিয়ম আকাশ থেকে নাযিল হবেন। – সহীহ

5 ইমাম বায়হাক্বীর ২ খণ্ডে সংকলিত ‘আল আসমা ওয়াস সিফাত’ খ-১ পৃ-৩৩১, হাদীস নং ৮৯৫ (مِنَ السَّمَاءِ); অর্থ- আকাশ থেকে….। – সহীহ

  • উল্লেখ্য, এ বর্ণনায় من السماء অংশটুকু সিকাহ রাবীর নিজেস্ব বৃদ্ধি, যা গ্রহণযোগ্য। সনদে বুখারীর রাবীগণ ছাড়াও ইমাম বায়হাক্বীর সনদে অতিরিক্ত ৩ জন রাবী রয়েছেন, যারা প্রত্যেকে সিকাহ।

6 সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৮৯৬ ঈসা ইবনে মরিয়ম এসে হজ্জ করবেন (وَالَّذِىْ نَفْسِىْ بِيَدِهِ لَيُهِلَّنَّ اِبْنُ مَرْيَمَ بِفَجِّ الرَّوْحَاءِ حَاجًّا اَوْ مُعْتَمِرًا اَوْ لَيَثْنِيَنَّهُمَا); অর্থ- সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, ইবনে মরিয়ম রাওহা উপত্যকা হতে হজ্জ অথবা উমরা কিংবা উভয়টির জন্য তালবিয়াহ পাঠ করবেন। – সহীহ

7 ইমাম আলী আল মুত্তাকি আলহিন্দী-এর ১৮ খণ্ডে সংকলিত ‘কাঞ্জুল উম্মাল’ খ-১৪ পৃ-৬১৯ (مِنَ السَّمَاءِ); অর্থ- আকাশ থেকে….। – সহীহ

8 সহীহ মুসলিমের সূত্রে মির্যায়ী রচনাসমগ্র ‘রূহানী খাযায়েন’ খ-৩ পৃ-১৪২ (صحیح مسلم کی حدیث میں جو یہ لفظ موجود ہے کہ حضرت مسیح جب آسمان سے اتریں گے)؛ অর্থ- মুসলিম শরীফের হাদীসে এমন শব্দ বিদ্যমান আছে যে, হযরত মসীহ যখন আকাশ থেকে নাযিল হবেন….! মালফুযাত খ-৫ পৃ-৩৩ (آپ نے فرمایا تھا کہ مسیح آسمان پر سے جب اترےگا)। অর্থ- রাসূল (সা.) ফরমায়ে ছিলেন যে, মসীহ আকাশ থেকে যখন নাযিল হবে…! সংক্ষেপে।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি সহ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

লিখক – প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
শিক্ষাবিদ ও গবেষক

রদ্দে কাদিয়ানী অ্যাপ-App ডাউনলোড করুন

রদ্দে কাদিয়ানী App ডাউনলোড লিংক Click : https://play.google.com/store/apps/details?id=com.mominul.radd_e_qadyyani

QR কোডটিও ব্যবহার করতে পারেন

QR Code
অ্যাপের আইকন

এগুলো কাদিয়ানীদের ধর্মবিশ্বাস-3

এগুলো-ও কাদিয়ানীদের ধর্মবিশ্বাস

তাদেরই অথেনটিক বইপুস্তক ও পত্র পত্রিকা থেকে

২৪ হযরত ঈসা আলাইহিসসালাম ‘লূদ’ নামক ফটকে দাজ্জালকে হত্যা করবেন বলে হাদীসে যে ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে, সেই ‘লূদ’ হতে পাকিস্তানের ‘লুধিয়ানা’ শহর উদ্দেশ্য[24]

২৫ খ্রিস্টান পাদ্রীরাই প্রতিশ্রুত সেই দাজ্জাল[25]

২৬ ইয়াজুজ-মাজুজ হচ্ছে রাশিয়া ও বৃটেনের খ্রিস্টানজাতি[26]

২৭ ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র শাহাদাত বরণের চাইতে আব্দুল লতিফ সাহেবের শাহাদাত বরণ অধিকতর মর্যাদাপূর্ণ, (কেননা) সে সততা, আনুগত্যের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করেছে যার দরুন সে অতিব দৃঢ়তর প্রতিযোগিতায় অগ্রে পৌঁছে গেছে[27]

উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে ১৮৯২ সালে মুরতাদের শাস্তি হিসেবে মির্যা কাদিয়ানীর মুরিদ আব্দুল লতিফকে সরকার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

২৮ মির্যা কাদিয়ানী মুসলমানদের জন্য ‘ইমাম মাহদী’ আর খ্রিস্টানদের জন্য ঈসা (মসীহ) হিসেবে আবির্ভূত হন[28]

২৯ মির্যা কাদিয়ানী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন[29]

৩০ মির্যা কাদিয়ানী পরিষ্কার লিখেছে, তাকে অমান্য করার মানেই হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অমান্য করা[30]

তথ্যসূত্রঃ
[24] রূহানী খাযায়েন ১৮:৩৪১।
[25] হামামাতুল বুশরা পৃ-৩৩, রূহানী খাযায়েন ২২:৪৫৬।
[26] হামামাতুল বুশরা পৃ-৩৮ বাংলা অনূদিত, চলমান টিকা দ্রষ্টব্য।
[27] মালফুযাত ৪:৩৬৪, মির্যা কাদিয়ানী।
[28] তিনিই আমাদের কৃষ্ণ পৃ-২, বাংলা অনূদিত, মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দীন।
[29] ইসলামে প্রতিশ্রুত মসীহ ও মাহদীর দাবীসমূহ পৃ-১৪। একই বইয়ের ১৬ নং পৃষ্ঠায় লিখা আছে যে, বৌদ্ধদের প্রতিশ্রুত ‘মৈত্তেয়’ আর জরথুস্ত্রের প্রতিশ্রুত ‘মেসিওদরবাহমী’ এর ভবিষ্যৎবাণী হতে মির্যা কাদিয়ানীই উদ্দেশ্য।
[30] হাকীকাতুল ওহী পৃষ্ঠা ১৭, বাংলা অনূদিত।

ছবিঃ ফুটফুটে সুন্দর মানুষটি কাদিয়ানীদের বর্তমান খলীফা মির্যা কাদিয়ানীর প্রপৌত্র মির্যা মাসরূর আহমদ।

Mirza Masrur Ahmed (Present Qadiani 5th Kholifa in Uk) Picture 2003

পড়ুন পর্ব ১ ক্লিক

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

আহলে কিতাবীদের মাঝে কেয়ামত পর্যন্ত শত্রুতা সঞ্চারিত থাকা

আহলে কিতাবীদের মাঝে কেয়ামত পর্যন্ত শত্রুতা সঞ্চারিত থাকা ও একটি প্রশ্নের উত্তর

এধরণের প্রশ্ন সাধারণত কাদিয়ানীরাই উত্থাপন করে থাকে। তাদের এ ধরনের প্রশ্নের অন্তরালে একটা মতলব থাকে। সেটি হচ্ছে, কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে ও শেষ যুগে আগমনকারী ঈসা (আ.)-এর মৃত্যুর আগে আগেই সমস্ত আহলে কিতাবী মুসলমান হয়ে যাওয়া’র বিষয়টিকে কুযুক্তির আড়ালে অস্বীকার করতে চাওয়া। যেহেতু সূরা নিসা আয়াত নং ১৫৯ বলছে, ঈসা (আ.)-এর মৃত্যুর আগে আগেই তারা প্রত্যেকে ঈমান গ্রহণ করবে। এখন পবিত্র কুরআনের এ ভবিষ্যৎবাণী সরাসরি অস্বীকার করার সাধ্য কার? মূলত এ জন্যই ওরা কুযুক্তির আশ্রয় নেয় এবং উল্লিখিত শিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকে।

কিন্তু প্রশ্ন হল, তাদের এ ধরনের মতলবসিদ্ধ বিশ্বাস ধারণ ও অনুরূপ কুযুক্তির পেছনে দৌড়ানোর কারণ কী?

উত্তর হচ্ছে, মির্যা কাদিয়ানী (জন্ম-মৃত্যু ১৮৩৯-১৯০৮ইং) কুরআন ও হাদীসের আলোকে নিজেকে প্রতিশ্রুত মসীহ তথা হযরত ঈসা (আ.) বলে দাবী করেছে আর কাদিয়ানী তথা কথিত আহমদীয়া সম্প্রদায় তাকে সেভাবেই মেনে আসছে। কাজেই এখন সহজেই প্রশ্ন উঠবে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজ দাবীতে যদি সত্যিকারের সেই মসীহ তথা ইবনে মরিয়ম হন তাহলে তো পবিত্র কুরআনের (৪:১৫৯/নিসা) উল্লিখিত শিক্ষা অনুসারে বর্তমান দুনিয়ায় আর কোনো আহলে কিতাবী (ইহুদী খ্রিস্টান) না থাকারই কথা, সকলে ঈমান গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যাওয়ারই কথা! কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এ সমস্ত যৌক্তিক যে কোনো প্রশ্নের সম্মুখে সম্পূর্ণ কোনঠাসা। এমতাবস্থায় তাদের জন্য আয়াতটির উল্লিখিত শিক্ষায় অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনো উপায় থাকেনা। মজার ব্যাপার হল, তাদের ন্যায় অনুরূপ কোনো ব্যাখ্যা ইসলামের বিগত চৌদ্দশত বছরেও নির্ভরযোগ্য কোনো সোর্স দ্বারা প্রমাণিত নয়।

তাদের সেই কুযুক্তি ও অপব্যাখ্যাটা কী?

তাদের সেই কুযুক্তি ও অপব্যাখ্যাটি হচ্ছে এ রকম, তারা যুক্তি দেয় যে, হযরত মসীহ তথা ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:)-এর যুগে এবং তাঁরই মৃত্যুর আগে সমস্ত আহলে কিতাবী (ইহুদ-খ্রিস্টান) মুমিন হয়ে গেলে তখন পবিত্র কুরআনের (০৫:৬৪/মায়েদা) আয়াত অনুসারে আহলে কিতাবীদের মাঝে إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ তথা ‘কেয়ামত পর্যন্ত’ শত্রুতা সঞ্চারিত থাকে কিভাবে? সুতরাং বুঝা গেল, ঈসা (আ.)-এর মৃত্যুর আগে আগেই সমস্ত আহলে কিতাবী ঈমান গ্রহণের শিক্ষাটি একটি রূপক, বাস্তব নয়। (এ ছিল তাদের কুযুক্তি ও কুরআন বিরোধী চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ ধর্মবিশ্বাস)।

  • আল্লাহতালা ইরশাদ করেছেন : وَإِن مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ إِلَّا لَيُؤۡمِنَنَّ بِهِۦ قَبۡلَ مَوۡتِهِۦۖ وَيَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ يَكُونُ عَلَيۡهِمۡ شَهِيدٗا 

অনুবাদঃ কিতাবীদের যত দল আছে তারা অবশ্যই ঈসার প্রতি তাঁর মৃত্যুর পূর্বে ঈমান আনবে। আর কেয়ামতের দিন তিনি ওদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবেন (অর্থাৎ তিনি ওদের অবস্থা ও আমল প্রকাশ করে বলবেন যে, ইহুদীরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল আর খ্রিস্টানরা আমাকে আল্লাহর পুত্র বলেছিল)। (তাফসীরে উসমানী, আল্লামা জাস্টিস মুফতি তকি উসমানী হতে অনুবাদ চয়িত)। (সূরা নিসা ১৫৯)।

  • আল্লাহতালা ইরশাদ করেছেন : وَقَالَتِ ٱلۡيَهُودُ يَدُ ٱللَّهِ مَغۡلُولَةٌۚ غُلَّتۡ أَيۡدِيهِمۡ وَلُعِنُواْ بِمَا قَالُواْۘ بَلۡ يَدَاهُ مَبۡسُوطَتَانِ يُنفِقُ كَيۡفَ يَشَآءُۚ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرٗا مِّنۡهُم مَّآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ مِن رَّبِّكَ طُغۡيَٰنٗا وَكُفۡرٗاۚ وَأَلۡقَيۡنَا بَيۡنَهُمُ ٱلۡعَدَٰوَةَ وَٱلۡبَغۡضَآءَ إِلَىٰ يَوۡمِ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ كُلَّمَآ أَوۡقَدُواْ نَارٗا لِّلۡحَرۡبِ أَطۡفَأَهَا ٱللَّهُۚ وَيَسۡعَوۡنَ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَسَادٗاۚ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُفۡسِدِينَ

অনুবাদঃ ইহুদীরা বলে আল্লাহর হাত রুদ্ধ। ওদেরই হাত রুদ্ধ হয়ে যাক এবং ওরা যা বলেছে তার কারণে ওদের প্রতি লা’নত বর্ষিত হোক। বরং আল্লাহর উভয় হাত প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছে ব্যয় করেন। আর আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে নিশ্চয়ই তা অনেকের অবাধ্যতা ও কুফুর বাড়িয়ে দেবে এবং আমি কেয়ামত দিবস পর্যন্ত ওদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করে দিয়েছি। যখনি তারা যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করে আল্লাহ তা নিবিয়ে দেন। আর ওরা যমীনে ফাসাদ করার উদ্দেশ্যে দৌড়ঝাঁপ করে। অথচ আল্লাহ ফাসাদকারীদের পছন্দ করেন না। (তাফসীরে উসমানী, আল্লামা জাস্টিস মুফতি তকি উসমানী হতে অনুবাদ চয়িত)। (সূরা মায়েদা ৬৪)।

যাইহোক, এখন কাদিয়ানীদের উল্লিখিত কুযুক্তির উত্তর দেয়া হবে। তাদের প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, পবিত্র কুরআনের ০৫:৬৪ আয়াত অনুসারে ‘কেয়ামত পর্যন্ত’ বলে মূলত ‘সুদীর্ঘকাল পর্যন্ত’ সময়ের বিশালতাকেই বুঝানো উদ্দেশ্য। যেহেতু সময়ের বিশালতাকে বুঝাতে ‘কেয়ামত পর্যন্ত’ কথাটি একধরণের বাগধারা ও একটি বালাগাত তথা অলংকারপূর্ণ বাণী। যেমন, সাজেদ তার পরম বন্ধু মাজেদকে বলল, তুই ‘কেয়ামত পর্যন্ত’ চেষ্টা করলেও চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়ী হতে পারবিনা।

খেয়াল করুন, ‘কেয়ামত পর্যন্ত’ বলতে সাজেদ মোটেও এটা বুঝাতে চায়নি যে, সে প্রকৃতপক্ষে কেয়ামতের শিঙ্গাফুঁক দেয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকবে! কারণ বাগধারাকে সাধারণ অর্থে বিচার করা যায়না।

এবার আরেকটু খোলাসা করছি! হাদীসে আসছে, বিশিষ্ট সাহাবী হযরত জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ((لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ)) অর্থাৎ আমার উম্মতের একটি জামাত সর্বদাই সত্যের স্বপক্ষে ক্বিতাল করে কিয়ামত পর্যন্ত বিজয় হতে থাকবে। (সহীহ মুসলিম ৪৮০১ ইফা)। এখানেও ‘কেয়ামত পর্যন্ত’ শব্দ চয়িত হয়েছে। পক্ষান্তরে অপর আরেকটি হাদীসের শেষাংশে উল্লেখ আছে যে, যখন ঈসা (আ.) দ্বিতীয়বার আসবেন তখন ((و تَضَع الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا)) অর্থাৎ যুদ্ধ আপনা সমস্ত সমরাস্ত্র গুটিয়ে নেবে (মুসনাদে আহমদ হা/৯১১৭)। এবার তাহলে ক্বিতাল (সশস্ত্র ধর্মযুদ্ধ) ‘কেয়ামত পর্যন্ত’ চলবে, এর কী অর্থ দাঁড়াল? যে ক্বিতাল কেয়ামত পর্যন্ত অবিরাম চলতে থাকবে বলা হল, সেই ক্বিতাল হযরত ঈসা (আ:)-এর যুগে কোনো কাফের বাহিনী না থাকায় আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যাবে; এইরূপ উল্লেখ থাকাটাই কি প্রমাণ করে না যে ‘কেয়ামত পর্যন্ত’ বলে মূলত ‘সুদীর্ঘকাল পর্যন্ত’ সময়ের বিশালতাই উদ্দেশ্য!

শেষকথাঃ পবিত্র কুরআন আর অসংখ্য সহীহ হাদীসের বিরুদ্ধে গিয়ে কারো জন্য এমন কোনো যুক্তি দাঁড় করা ঠিক হবেনা যা ইজমায়ে উম্মতের সুপ্রতিষ্ঠিত ও তাওয়াতূর পর্যায়ের আকীদার পরিপন্থী। আসল কথা হল, যারা কুরআনকে নিজের মনগড়া যুক্তি দিয়ে বুঝতে চায় তারাই পথভ্রষ্ট হয়। কেননা কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে কুরআন যেভাবে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, তারপর সাহাবীরা পরবর্তী প্রজন্মকে তথা তাবেয়ীদের যা শিক্ষা দিয়ে গেছেন, অনুরূপ তাবেয়ীগণ তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তথা তাবে-তাবেয়ীগণকে যা শিক্ষা দিয়ে গেছেন সেসব শিক্ষা-দীক্ষাকে বিশুদ্ধ সনদ ও ধারাবাহিক বর্ণনাসূত্রে নির্ভরযোগ্য তাফসীরকারকগণ স্ব স্ব তাফসীর গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। কাজেই বর্তমানে কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর এমন কোনো ব্যাখ্যা বা শিক্ষা গ্রহণযোগ্য হবেনা যেটির কোনো সনদ নেই কিংবা নির্ভরযোগ্য তাফসীর হতে বিশুদ্ধসূত্রে প্রমাণিত নয়। কাদিয়ানী সহ তাবৎ পথভ্রষ্ট গোষ্ঠীর সমুদয় ধর্মমত ও শিক্ষা-দীক্ষা মূলত এ সমস্ত কারণেই বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

এগুলো কাদিয়ানীদের ধর্মবিশ্বাস-2

Radd-e Qadiani

এগুলো-ও কাদিয়ানীদের ধর্মবিশ্বাস

তাদেরই অথেনটিক বইপুস্তক ও পত্র-পত্রিকা থেকে নেয়া

১৩ কাদিয়ানী রচনাবলীতে উল্লেখ আছে, আল্লাহতালার নাম ‘ইয়াল্লাস’[13]

১৪ আমাদের জলসাও হজ্জের মতো…হজ্জের মাধ্যমে যে উপকারীতা উদ্দেশ্য সেটি সালানা জলসায়
এসেও লাভ করতে পারে[14]

১৫ হযরত আদম আলাইহিসসালাম প্রথম মানব ছিলেন না[15]

১৬ কোনো কাফের মুশরিকও চিরকাল জাহান্নামে থাকবেনা[16]

১৭ হযরত মূসা আলাইহিসসালাম জীবিত এবং সশরীরে আকাশে রয়েছেন, তিনি এখনো মৃত্যুবরণ করেননি[17]

১৮ মসীহ (ঈসা) দেশ হইতে গোপনে পলায়ন করিয়া কাশ্মীরের দিকে চলিয়া গেলেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন[18]

১৯ ঈসা আলাইহিসসালাম সম্পর্কে জীবিত থাকার বিশ্বাস সুস্পষ্ট শিরক[19]

২০ মির্যা কাদিয়ানীর নিকট হযরত জিবরাঈল আলাইহিসসালামও ওহী নিয়ে আসতেন[20]

২১ মির্যা কাদিয়ানীর নিকট আরো যারা ওহী নিয়ে আসতেন তাদের একজনের নাম ছিল ‘টিচি-টিচি’[21]

২২ শেষযুগে আগমনকারী যে ইমাম মাহদীর সংবাদ হাদীসসমূহে এসেছে তিনি আর প্রতিশ্রুত ঈসা আলাইহিসসালাম দুইজন একই ব্যক্তি[22]

২৩ পবিত্র কুরআনে যে মসীহ মওউদের আগমন করার কথা রয়েছে তা হতে মির্যা কাদিয়ানীই উদ্দেশ্য[23]

তথ্যসূত্রঃ
[13] রূহানী খাযায়েন ১৭:২০৩ উর্দূ, আরও কিছু নাম উল্লেখ পাওয়া যায়, যেমন- কালা এবং কালূ। দেখুন যিকরে হাবীব পৃ-১৮১ (নতুন এডিশন), লিখক মির্যায়ী ঘনিষ্ঠ সহচর মুহাম্মদ সাদিক।
[14] খুতুবাতে মাহমুদ ৪:২৫৪, তাং ২৫-১২-১৯১৪ খ্রিস্টবর্ষ।
[15] মালফুযাত ৫:৬৭৫, উর্দূ।
[16] আহমদীয়তের পয়গাম পৃ-১২ দশম সংস্করণ মে ২০০৬ইং।
[17] রূহানী খাযায়েন ৮:৬৮-৬৯।
[18] কিশতিয়ে নূহ পৃ-৭২ বাংলায় অনূদিত, মির্যা কাদিয়ানী।
[19] রূহানী খাযায়েন ২২:৬৬০।
[20] রূহানী খাযায়েন ২২:১০৬, টিকা দ্রষ্টব্য।
[21] রূহানী খাযায়েন ২২:৩৪৬, আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ পাওয়া যায়, যেমন- ‘মিঠোন লাল’ (তাযকিরাহ পৃ-৫৭৩-৭৪ চতুর্থ এডিশন), ‘শের আলী’ এবং ‘খয়রাতি’ (রূহানী খাযায়েন ১৫:৩৫১-৫২), ‘আইল’ (তাযকিরাহ পৃ-৩৬৯), ‘হাফিয’ (তাযকিরাহ পৃ-৬৪৩), ২০ বছর বয়সী ইংরেজ টগবগে যুবকের আকৃতিতে দেখতে ‘দরুশনি’ (মালফুযাত ৪:৬৯)।
[22] হামামাতুল বুশরা পৃ-৩২, বাংলা অনূদিত।
[23] রূহানী খাযায়েন ৩:৪৬৮, মির্যা কাদিয়ানীর ৮৩টি বইয়ের রচনাসমগ্র, রিপ্রিন্ট ২০০৮ ইং।

উল্লিখিত কোনো একটি তথ্য-ও কোনো কাদিয়ানী মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলে তাকে নগদ দশ লক্ষ টাকা পুরষ্কৃত করা হবে।

ছবিঃ ফুটফুটে সুন্দর মানুষটি মির্যা কাদিয়ানীর প্রপৌত্র ও কাদিয়ানীদের বর্তমান গদ্দিনিসীন (খলীফা) মির্যা মাসরূর আহমদ (২০০৩ সালে তোলা)।

Mirza Masrur Ahmed Picture 2003

পড়ুন পর্ব ১ ক্লিক

পড়ুন পর্ব ৩ ক্লিক

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

এগুলো কাদিয়ানীদের ধর্মবিশ্বাস-1

Radd-e Qadiani

এগুলো কাদিয়ানীদের ধর্মবিশ্বাস

তাদেরই অথেনটিক বইপুস্তক ও পত্র পত্রিকা থেকে

১ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থে গোলাম আহমদ কাদিয়ানীও অন্তর্ভুক্ত[1]

২ মির্যা কাদিয়ানী-ই ‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এবং তিনি প্রকৃতপক্ষেই ‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’[2]

৩ মির্যা কাদিয়ানীর যুগের পর থেকে কেয়ামতের আর মাত্র এক হাজার বছর বাকি। আর এ এক হাজার বছর মির্যা কাদিয়ানীর জন্য নির্ধারিত (অর্থাৎ এ পুরো সময়টিতে মির্যা কাদিয়ানীর নবুওয়ত মেনে নেয়া ছাড়া কারো মুক্তি নেই)[3]

৪ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে মিডিয়া না থাকার দরুন তাঁর দ্বারা দ্বীন প্রচারের কাজ পরিপূর্ণ হয়নি, মির্যা কাদিয়ানী এসে সেসব অপরিপূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ করেছেন[4]। নাউযুবিল্লাহ।

৫ কাশফ অবস্থায় মির্যা কাদিয়ানী নারীরূপ ধারণ করে আর আল্লাহ পুরুষের রূপে এসে তার সাথে সহবাস করে[5]। নাউযুবিল্লাহ।

৬ হ্যাঁ, আমি কেবল নবী নহি, এক দিক হইতে নবী এবং আরেক দিক হইতে উম্মতি[6]

৭ ‘বেহেশতি মাক্ববেরায় যারা দাফন হবেন তারা নিশ্চিত বেহেশতি’[7]

৮ পবিত্র কুরআনে কাদিয়ানের নাম উল্লেখ রয়েছে[8]

৯ পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত ‘মসজিদে আকসা’ হতে কাদিয়ানে মির্যা কাদিয়ানীর নির্মিত ‘মসজিদ’ উদ্দেশ্য[9]

১০ পবিত্র কুরআনে ‘ইবনে মরিয়ম’ বলে মির্যা কাদিয়ানীর নাম রাখা হয়েছে[10]

১১ ‘যে ব্যক্তিই মির্যা কাদিয়ানীর দলে প্রবেশ করেছে, সে প্রকৃপক্ষে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেই দাখিল হয়ে গেছে[11]।’ নাউযুবিল্লাহ।

১২ আমাদের জন্য ফরজ হল, আমরা যেন গয়ের আহমদীদের ‘মুসলমান’ মনে না করি, তাদের পেছনে নামায না পড়ি। কেননা তারা আমাদের দৃষ্টিতে খোদাতালার একজন নবীকে অস্বীকারকারী[12]ডাউনলোড ফাইল

তথ্যসূত্রঃ
[1] কালিমাতুল ফসল, ষষ্ঠ অধ্যায় পৃ- ৬৮।
[2] দৈনিক আল ফজল, তাং ২৮/১০/১৯১৫ ইং, কাদিয়ানীদের উর্দূ পত্রিকা।
[3] ইসলাম ও এদেশে অন্যান্য ধর্মমত পৃ-৪২ ও ৪৯, দ্বিতীয় বাংলা সংস্করণ ১০ আগস্ট ২০১২ খ্রি.।
[4] রূহানী খাযায়েন ১৭:২৬৩।
[5] ইসলামি কুরবানী ট্রাক্ট নং ৩৪ পৃ-১২ উর্দূ।
[6] উম্মতিনবী পৃ-৯, হাকীকাতুল ওহী (বাংলা) পৃ-১২৩।
[7] মালফুযাত ২:৫২৬-২৭ উর্দু, চতুর্থ এডিশন।
[8] রূহানী খাযায়েন ৩:১৪০।
[9] রূহানী খাযায়েন ১৬:২১।
[10] রূহানী খাযায়েন ১৯:৯৮।
[11] খুতবাতুল ইলহামিয়্যাহ পৃ-১৭১, রূহানী খাযায়েন ১৬:২৫৮।
[12] আনওয়ারে খিলাফত পৃ-৯৩, মির্যা বশির উদ্দীনের রচনাসমগ্র ‘আনওয়ারুল উলূম’ ৩:১৪৮ উর্দূ অনলাইন এডিশন, কাদিয়ানী দ্বিতীয় খলীফা।

প্রামাণ্য ও সংযুক্ত স্ক্রিনশট

01
02
03
04
05
06
06
07
08
09
10
11
12

ছবিঃ ফুটফুটে চেহারার এ মানুষটি কাদিয়ানীদের বর্তমান (পঞ্চম) খলীফা মির্যা মাসরূর আহমেদ।

Mirza Masrur Ahmed (Present Qadiani 5th Kholifa in Uk) Picture 2003

ফেজবুক থেকে পড়ুন

পড়ুন পর্ব ২ ক্লিক

লিখক ও গবেষক প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

সূরা আ’রাফ ৩৫ ও সংশ্লিষ্ট শানে নুযূল

ভবিষ্যতে কি আরও অসংখ্য নবী রাসূল আগমন করার দলীল পবিত্র কুরআনে রয়েছে? অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি নিরসন,

.

আল্লাহতালা ইরশাদ করেনঃ ((يَا بَنِي آدَمَ إِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي ۙ فَمَنِ اتَّقَىٰ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ)) অর্থ- ‘হে বনী আদম! যদি তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ (বার্তাবাহকগণ) আগমন করেন, তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ শুনায়, তাহলে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ করে; তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবেনা।’ (সূরা আল আ’রাফ আয়াত ৩৫)।

ইমাম জালালুদ্দিন আস সুয়ূতি (রহ.) (মৃত. ৯১১ হিজরী) আয়াতটির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে লিখেছেন –

আবী সাইয়ার আস-সুলামি (أبي سيّار السُّلَمي) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত সাইয়েদানা হযরত আদম এবং তাঁর সন্তানদেরকে হাতের মুষ্টিতে রেখে ইরশাদ করেছিলেন ((یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ اِمَّا یَاۡتِیَنَّکُمۡ رُسُلٌ مِّنۡکُمۡ یَقُصُّوۡنَ عَلَیۡکُمۡ اٰیٰتِیۡ ۙ فَمَنِ اتَّقٰی وَ اَصۡلَحَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَ لَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ)) অর্থাৎ ‘হে বনী আদম! যদি তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ (বার্তাবাহকগণ) আগমন করেন…। তারপর তিনি রাসূলগণের প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকালেন এবং ইরশাদ করলেন “হে রাসূলগণ….”। (তাফসীরে দুররে মানসুর ৩:২৬২)।

এতে প্রমাণিত হল যে, আল্লাহর উক্ত সংবাদ একটি দূরবর্তী অতীত সংবাদ, যার ফলে অসংখ্য নবী রাসূল আগমনী ক্রমধারার সমাপ্তি ঘটেছে খাতামুন নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। বলাবাহুল্য যে, পবিত্র কুরআনের একটি অলংকার হচ্ছে, কুরআনের যেসব আয়াতে “ইয়া বনী আদম” অথবা “ইয়া আইয়ুহান নাস” উপবাক্যে আল্লাহ যখন কোনো ব্যাপারে সংবাদ দেন তখন সমগ্র মানবমণ্ডলীকেই সম্বোধন করে সংবাদ দেন। যেজন্য আয়াতটি ভবিষ্যতেও নতুন নতুন নবী রাসূল আগমনকরার বিষয়ে সংবাদ দিতে মনে করা অজ্ঞতা ও কুফুরীর শামিল।

একই তাফসীর বিশিষ্ট যুগ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী (মৃত : ৩১০ হিজরী)ও সহীহ হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখে গেছেন। (দেখুন তাফসীরে তাবারী, সূরা আ’রাফ, হাদীস নং ১৪৫৫৪)। যেমন তিনি লিখেছেন, ((إن الله جعل آدم وذريته في كفّه فقال: (يا بني آدم إما يأتينكم رسل منكم يقصون عليكم آياتي فمن اتقى وأصلح فلا خوف عليهم ولا هم يحزنون)) অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন “হে আদম সন্তানেরা! যদি তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে রসূলগণ আগমন করে তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনায়…” কথাটি রূহের জগতে হযরত আদম এবং তাঁর সন্তানদেরকে হাতের মুষ্টিতে রেখে বলেছিলেন।

তাফসীরে ইবনে কাসীর গ্রন্থে ইমাম ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসীর (রহ.) আয়াতটির ব্যাখ্যায় এভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ((ثم أنذر تعالى بني آدم بأنه سيبعث إليهم رسلا يقصون عليهم آياته)) অর্থাৎ অত:পর আল্লাহতালা বনী আদমকে (রূহের জগতে) সতর্ক করে বলেন, তিনি অচিরেই তাদের নিকট বহু রাসূল প্রেরণ করবেন, যারা তাদেরকে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনাবেন।

উল্লিখিত দুই ইমামই কিন্তু কাদিয়ানীদের নিকট মান্যবর ও যুগ ইমাম হিসেবে স্বীকৃত। কেননা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর শিষ্য মির্যা খোদাবক্স কাদিয়ানীর কিতাব ‘আছলে মুছাফফা‘ খ-১ পৃষ্ঠা নং ১৬২-৬৫ এর মধ্যে উপরের দুইজন ইমামকে “যুগ ইমাম ও মুজাদ্দিদ” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলাবাহুল্য যে, কিতাবটি মির্যা কাদিয়ানীর জীবদ্দশায় লিখা হয় এবং তার মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পূর্বেই প্রকাশ করা হয়। কিতাবটির ভুমিকায় পরিষ্কার লিখা আছে যে, কিতাবটির প্রতিটি কন্টেন্ট মির্যা কাদিয়ানীকে নিয়মিত দেখানো হত এবং তারই নির্দেশনায় লিখা সম্পন্ন করা হয়েছিল।

যুগ ইমাম সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের সুস্পষ্ট বাণী হচ্ছে, ((مجدد کا منکر فاسق ہے)) মুজাদ্দিদগণের কথা অস্বীকারকারী ফাসেক। (রূহানী খাযায়েন ৬:৩৪৪)। কাজেই মির্যা সাহেবের মুরিদদের উচিত, অন্তত ফাসেক হওয়া থেকে বাঁচতে হলেও উপরের মুজাদ্দিদ দ্বয়ের পেশকৃত তাফসীর মেনে নেয়া এবং স্বীকার করা যে, আয়াতটি ভবিষ্যতে আরও অসংখ্য নবী রাসূল আগমণের কনসেপ্ট দিতে নয়, বরং রূহের জগতেই সমগ্র আদম সন্তানদের উদ্দেশ্যে ভবিষ্যতে নবী রাসূলগণের আগমনী কাহিনী জানান দেয়ার জন্য ছিল। আয়াতটির পূর্বাপর আয়াতগুলো পড়ে দেখলে আরও বেশি সুস্পষ্ট হওয়া যাবে। কারণ পূর্বাপর আয়াতগুলোয় হযরত আদম এবং আদি-মাতা হাওয়া তাঁদের দু’জনের সৃষ্টি অত:পর জান্নাতে অবস্থান করা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচিত হয়।

  • এরপরেও যেসব কাদিয়ানী বিশ্বাস করবে যে, উল্লিখিত আয়াত হতে ভবিষ্যতে অসংখ্য নবী রাসূল আগমণের সংবাদ দেয়া হয়েছে, তাদের নিকট তখন নিচের প্রশ্নগুলোর কোনো জবাব থাকেনা।

১ এটি ভবিষ্যতে আরও অসংখ্য নবী রাসূল আগমন করার পক্ষের দলীল হয়ে থাকলে তা অবশ্যই মির্যা কাদিয়ানী সাহেব তার রচনার কোথাও না কোথাও অবশ্যই লিখে যেতেন। কিন্তু তার বইপুস্তক যতটুকু আমার পড়াশোনা তার আলোকে আমি চ্যালেঞ্জ দিতে পারি যে, সে ভবিষ্যতেও অসংখ্য নবী রাসূল আগমন করার দলীল হিসেবে কোথাও আয়াতটিকে উল্লেখ করে যায়নি। কেউ পারলে আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন!

২ মির্যা কাদিয়ানীর মতে, মুহাম্মদ (সা.)-এর পর সেই একমাত্র নবী। যেমন, তার বইতে লিখা আছে, “সহীহ হাদীস অনুযায়ী এই রূপ ব্যক্তি একজনই হইবেন এবং এই ভবিষৎবাণী পূর্ণ হইয়াছে।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন ২২/৪০৬-৭, আরও দেখুন হাকীকাতুল ওহী পৃ-৩৩০, বাংলা)। একথা তার অন্য আরেক বইতে আরও পরিষ্কার করে উল্লেখ আছে। যেমন তিনি ‘তাযকেরাতুশ শাহাদাতাইন’ (বাংলা অনূদিত) বইয়ের ৮২ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন, মুহাম্মদী সিলসিলায় শেষে আগমনকারী এই অধম (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানী)। এখন কী হবে? ভবিষ্যতেও অসংখ্য নবী রাসূল যদি আসতেই থাকে তাহলে মির্যা সাহেব নিজ দাবীমতে এ উম্মতে ‘সর্বশেষ’ আগমনকারী কিভাবে হন!?

৩ আয়াতটির খণ্ডিতাংশে আরও উল্লেখ আছে যে, یَقُصُّوۡنَ عَلَیۡکُمۡ اٰیٰتِیۡ অর্থাৎ তাঁরা (রাসূলগণ) তোমাদেরকে আমার আয়াত সমূহ পাঠ করে শুনাবে। এতে পরিষ্কার হয়ে গেল, আগমনকারী নবীগণ শরীয়তবাহক-ও হবেন এবং তাদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র উম্মতও থাকবে। নইলে “আয়াতসমূহ” পাঠ করে নিজ নিজ উম্মতদের শুনানোর কী মানে? শরীয়ত বিহীন নবীগণ আয়াতসমূহের অধিকারী হবেন কিভাবে?

উল্লেখ্য, ‘তাফসীরে বাগাভী’-তে লিখা আছে, হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (یَقُصُّوۡنَ عَلَیۡکُمۡ اٰیٰتِیۡ)-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন ((قال ابن عباس : فرائضي وأحكامي)) অর্থাৎ রাসূলগণ এসে যখন তোমাদেরকে আমার ফরজ-সমূহ এবং শরীয়তের বিধানাবলী পাঠ করে শুনাবেন!

৪ কাদিয়ানী সাহেবের বহু রচনায় পরিষ্কার করে লিখা আছে যে, তার দাবীকৃত নবুওয়ত আসল নয়, বরং আনুগত্যস্বরূপ নবুওয়ত; আনুগত্যের মাধ্যমে তার উক্ত নবুওয়ত অর্জিত হয়। (দেখুন রূহানী খাযায়েন ২২:৩০)। এখন প্রশ্ন হল, তাহলে আয়াতে উল্লিখিত রাসূলগণের সাথে মির্যা কাদিয়ানীর কী সম্পর্ক? যেখানে তারই বক্তব্য হল, তার নবুওয়ত আসল নয়। পূর্বের নবীদের মত সরাসরি আল্লাহপ্রদত্তও নয়! এমতাবস্থায় সে ঐ আয়াতটির “রসুল” শব্দেও কিভাবে শামিল হতে পারে?

লিখক প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
শিক্ষাবিদ ও গবেষক

কাদিয়ানীদের বুদ্ধিবৃত্তিক দুইখানা মারণাস্ত্র সামলাবেন কিভাবে

কাদিয়ানীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ‘টেবিলটি’কে কিভাবে উলটে দেবেন??

তর্ক শুরু হলেই কাদিয়ানী পণ্ডিতগণ মনস্তাত্ত্বিকভাবে মুসলিম উম্মাহকে দুর্বল করার জন্য বিশেষতঃ দুটি বুদ্ধিবৃত্তিক অস্ত্র ব্যবহার করে। একটি হল, আরে বর্তমান দুনিয়ার মুসলমানদের অবস্থার দিকে তাকিয়ে দেখো, তাদের অবস্থা কতটা শোচনীয়, তারা কেমন নিপীড়িত ও বঞ্চিত। তাদের আলেমরা আকাশের নীচে সর্বনিকৃষ্ট জীব, একে অন্যে দলাদলিতে লিপ্ত। বর্তমানে ইসলামের আলো যেন নিভু নিভু অবস্থা! এ অবস্থায় আল্লাহ যদি দুনিয়ায় কোনো মহাপুরুষ প্রেরণ না করেন তবে আর কখন প্রেরণ করবেন? তাই আমরা বিশ্বাস করি যে, সেই ব্রিটিশ পিরিয়ডে ইসলামের দুর্দিনে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী প্রতিশ্রুত মসীহ এবং মাহদী হিসেবে আল্লাহর একজন প্রেরিত নবী। (নাউযুবিল্লাহ)।

দ্বিতীয় অস্ত্র হল, ঈসা (আ.) জীবিত নেই, আর একথা কুরআন দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। সুতরাং আগত ঈসা ইবনে মরিয়ম দ্বারা ‘রূপক ঈসা’-ই উদ্দেশ্য, আর তিনিই হলেন মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (মৃত. ১৯০৮ ইং)। কেননা দুই হাজার বছর পূর্বের ঈসা (আ.) বর্তমানে বেঁচে থাকা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কেননা এ বয়সের কেউই সাধারণত বেঁচে থাকেন না, বেঁচে থাকা অসম্ভব! (নাউযুবিল্লাহ)।

কাদিয়ানীদের যুক্তিগুলো বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিন্তু একটু গভীর থেকে চিন্তা করলে যে কেউ সহজেই ধরতে পারবে যে, তাদের ঐ সমস্ত যুক্তিতর্কের মূল উদ্দেশ্য একটাই, সেটি হল- মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম আর হযরত ইমাম মাহদী হিসেবেই দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়া। তাই আপতত কোনো ধরণের বিতর্কে না গিয়েই আমরা তাদেরকে মাত্র কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই!

তর্কের খাতিরে মেনে নিচ্ছি যে, আপনাদের কথা অনুসারে হযরত ঈসা (আ.) জীবিত নেই এবং দুনিয়ার সব আলেম উলামা গোমরাহ, পথভ্রষ্ট। কিন্তু তাই বলে কি মির্যা কাদিয়ানী নিজ দাবীতে সত্য হয়ে যাবে? কারণ বাহায়ী জামাতের প্রতিষ্ঠাতা ও মসীহ দাবীকারী মির্যা হুসাইন আলী নূরী তথা বাহাউল্লাহ ইরানীও (জন্ম-মৃত্যু ১৮১৭-১৮৯২) হযরত ঈসা (আ.)-কে মৃত দাবী করার মাধ্যমে নিজেকে ‘মসীহ’ (ঈসা) বলে দাবী করে গেছেন।

দুনিয়ার বর্তমান আদর্শিক অবস্থা গত একশ বছর চেয়ে অনেক বেশি খারাপ। যে কেউ একথা স্বীকার করতে বাধ্য। কিন্তু আখেরি নবী মুহাম্মদে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের পরেও দুনিয়ার অবস্থা খারাপ হলেই কি আল্লাহ একেরপর এক নবী রাসূল পাঠাতেই থাকবেন? তাহলে এ শতাব্দীতেও যারা নবী রাসূল দাবী করবে আপনারা কি তাদেরকেও নবী রাসূল মেনে নেবেন?

আল্লাহতালা দুনিয়ায় ঈসা মসীহ এবং ইমাম মাহদী দুইজনকেই যথাসময় প্রেরণ করার কথা যদি সত্যিই বলে থাকেন, তাহলে সেটির বিবরণ পবিত্র কুরআনে অথবা বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদীসগুলোয় অবশ্যই থাকবে। কিন্তু কোনো একটি হাদীসও কি আপনারা মির্যা কাদিয়ানীর সাথে মিলাতে পেরেছেন? পারেননি। দয়াকরে আমাদেরকে গ্রহণযোগ্য দলিলের ভিত্তিতে অবশ্যই প্রমাণ করে দেখাবেন যে, মির্যা কাদিয়ানী কিভাবে মসীহ হলেন? কিভাবে ইমাম মাহদী হলেন? কিভাবে তিনি আল্লাহর পক্ষ হতে একজন নবীও হলেন?

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কাদিয়ানীরা নিজেদের মতবাদ দ্বারা নিজেরাই ফেঁসে গেছে

কাদিয়ানী মিশনারীদের নিকট এ প্রশ্নগুলোর কোনো সঠিক উত্তর আছে কি?

১ কুরআনের কোন আয়াতে লিখা আছে যে, ঈসা (আ.) দুনিয়াতে আবার আসবেন? কারণ মির্যা কাদিয়ানী দাবী করত যে, কুরআন দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছে, ঈসা (আ.) পৃথিবীতে আবার আসবেন! (রূহানী খাযায়েন ১:৫৯৩)।

উল্লেখ্য, মুসলিম উম্মাহ বিশ্বাস করেন, ঈসা (আ.) আবার আসবেন ঠিকই, কিন্তু তিনি রূপক কেউ নন, বরং তিনি প্রকৃত ঈসা ইবনে মরিয়ম-ই। আর এর প্রমাণ কুরআনে [3:46] ইংগিতে (وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلا وَمِنَ الصَّالِحِينَ) এবং হাদীসে পরিষ্কার করে এসেছে (وَالَّذِي نَفْسِي بيَدِهِ، لَيُوشِكَنَّ أَنْ يَنْزِلَ فِيكُمُ ابنُ مَرْيَمَ حَكَمًا عَدْلًا) বুখারী মুসলিম দ্রষ্টব্য।

২ আগমনকারী ঈসা ‘রূপক ঈসা‘ হবেন, এর মজবুত এমন কোনো দলীল কি কুরআনে বা হাদীসে রয়েছে, যা দ্বারা গত তেরশত বছর ধরে প্রতি শতাব্দীর সকল যুগ-ইমাম ও মুজাদ্দিদ, মুফাসসির এবং হাদীস বিশারদগণও আপনাদের মতোই মনে করতেন!?

উল্লেখ্য, কাদিয়ানীদের ‘মহা সুসংবাদ’ নামের একটি বইয়ের শেষে আঠারো জন যুগ ইমামের নাম-তালিকা উল্লেখ আছে। অন্তত তাদের কোনো একজন-ও কি আপনাদের অনুরূপ কোনো কনসেপ্ট রাখতেন? প্রামাণ্য স্ক্যানকপি সহ দেখাবেন!

৩ এমন একটি হাদীস বা কুরআনের আয়াত কি নির্ভরযোগ্য কোনো পুরনো তাফসীর বা ব্যাখ্যা সহকারে দেখাতে পারবেন যেখানে আগমনকারী ঈসা আর প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী তারা দু’জনই একজন হবেন বলে উল্লেখ রয়েছে?

৪ সহীহ মুসলিম শরীফের একটি হাদীসে প্রায় চার চার বার আগত ঈসাকে ‘নবীউল্লাহ ঈসা‘ অর্থাৎ আল্লাহর নবী হযরত ঈসা নাযিল হবেন, উল্লেখ রয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, সেই ‘নবীউল্লাহ ঈসা’ দ্বারা মির্যা কাদিয়ানী উদ্দেশ্য হলে তিনি কিজন্য নিজেকে সরাসরি ‘নবী’ দাবী করার পরিবর্তে বিভিন্ন বিশেষণমূলক শব্দ (উম্মতি-বুরুজি-জিল্লি)কে আশ্রয় নিলেন? তাকে এ অনুমতি কে দিয়েছে? আল্লাহ দিয়েছেন? তার কোনো লিখনীতে কি একথা পরিষ্কার করে উল্লেখ আছে যে, সে সমস্ত বিশেষণের আশ্রয় নিতে আল্লাহ-ই তাকে বলেছেন!? দয়া করে তার বই থেকে দলীল দেখাবেন!

৫ মনে করুন, আল্লাহ-ই তাকে ‘নবী‘ নামে নামকরণ করেছেন! যদি তার এ কথা সঠিক হত তাহলে সে কিজন্য তার আরেকটা লিখায় মানুষের উদ্দেশ্যে লিখেছে যে,

তোমরা আমার লিখায় আমার সম্পর্কে যেখানেই ‘নবী’ শব্দ দেখতে পাবে তোমরা সে নবী শব্দটি কর্তিত ধরে নেবে আর নবী শব্দের জায়গায় ‘মুহাদ্দাস’ শব্দ উদ্দেশ্য নেবে! (আনওয়ারুল উলূম ২:৫৪১, উর্দূ – আনলাইন এডিশন)।

ডকুমেন্টস সহ দেখুন- ক্লিক

উত্তরগুলো পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলুম!

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ

আবূ হানীফা (রহ.) একজন সিকাহ ছিলেন

সনদের তাহকিক সহ ইমামে আ’যম আবূ হানীফা (রহ.) সম্পর্কে ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন (১৫৮-২৩৩ হিজরী)-এর অভিমত,

ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন (রহ.)-এর শিষ্য আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহীম আদ-দাওরাক্বি বলেন ((قَالَ (أَبُو يَعْقُوب) وَنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَافِظُ قَالَ نَا عبد الله بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ قَالَ سُئِلَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ فَقَالَ ثِقَةٌ مَا سَمِعْتُ أَحَدًا ضَعَّفَهُ هَذَا شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ يَكْتُبُ إِلَيْهِ أَنْ يحدث ويأمره وَشعْبَة شُعْبَة)) অর্থ ❝ইয়াহইয়া ইবন মা’ঈনকে আবূ হানীফা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে আমি শুনতে পেলাম, তিনি বলেছেন, তিনি একজন সিকাহ (অর্থাৎ তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত)। কেউ তাঁকে দুর্বল বলেছেন বলে আমি শুনিনি। এ তো শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, তিনি আবূ হানীফাকে হাদীস বর্ণনা করতে লিখে পাঠান এবং অনুরোধ করেন। আর শু’বাহ তো শু’বাহ-ই।❞ (ইমাম ইবনু আব্দিল বার, আল-ইনতিকা পৃ. ১২৭)। – সহীহ। রাবীগণ সকলে বিশ্বস্ত।

তাহকিক ও রাবীর সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত

1 ইমাম ইবনু আব্দিল বার মালেকি (গ্রন্থকার) জন্ম: ৩৬৮-মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরী। ইমাম যাহাবী লিখেছেন ((كان إماما دينا ، ثقة ، متقنا ، علامة ، متبحرا ، صاحب سنة واتباع)) অর্থাৎ একজন একনিষ্ঠ ইমাম, সিকাহ, সুপুরুষ, আল্লামা, বিশাল পণ্ডিত ও সুন্নাহর অনুসারী। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৮:১৫৮ ইমাম যাহাবী)।

2 ইবনু আব্দিল বার (রহ.)-এর শায়খ ইমাম আবূ ইয়াকুব। ইমাম যাহাবী তার মৃত্যুসন ৩৮৮ হিজরী বলে উল্লেখ করেছেন (দেখুন তারীখুল ইসলাম ৮:৬৪৩)। পূর্ণ নাম, ইউসুফ ইবনে আহমদ আস-সয়দালানী আল মাক্কী, উপনাম আবূ ইয়াকুব। তিনি বলেছেন ((نا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَافِظُ)) এ কথা আমাকে আহমদ ইবনুল হাসান আল হাফিয বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনু আব্দিল বার (রহ.) সহ অনেক ইমাম তাঁকে তাওসীক্ব করেছেন (দেখুন আল ইস্তিযকার ১:২১)। তাছাড়া শায়খ আবুল ফাওযান কিফায়াতুল্লাহ আস-সানাবিলী তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন ((ابو یعقوب یوسف بن احمد بن يوسف الصيدلانی … … ثقہ ہیں)) ❝আবু ইয়াকুব আস-সয়দালানী একজন সিকাহ।❞ (দেখুন, আনওয়ারুল বদর, পৃ-৩৩৩)।

3 আহমদ ইবনুল হাসান হাফিয (পূর্ণ নাম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আদ-দিনাওয়ারী), উপনাম আবূবকর, পেশা আদ্দাররাব (الضَرّابَ), নিসবত আদ-দিনাওয়ারী। একজন সিকাহ রাবী। ইমাম খতীব বাগদাদী লিখেছেন ((قدم بَغْدَاد وحدث بها، وكان ثقة. مات يوم الأربعاء لأربع عشرة خلت من جمادى الأولى سَنَة ثمان وعشرين وثلاثمائة ببَغْدَاد)) অর্থাৎ তিনি বাগদাদ গমন করেন এবং তাঁর কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করা হয়। তিনি একজন সিকাহ ছিলেন। তিনি জুমাদাল উলা মাসের ১৪ তারিখে বুধবার ৩২৮ হিজরীতে বাগদানে ইন্তেকাল করেন। (তারীখে বাগদাদ ৪:৪২৭ খতীব বাগদাদী, তারীখুল ইসলাম ২৪:২২৪ ইমাম যাহাবী, মু’জামু ইবনিল মুক্বরি ৫০৩)।

  • উল্লেখ্য, এ আহমদ ইবনুল হাসান আল হাফিয নামে দু’ ব্যক্তি রয়েছে। একজনের নামের শেষে السُّكّريّ রয়েছে, তার মৃত্যু-সন ২৬১ হতে ২৭০ হিজরীর মধ্যে (তারীখুল ইসলাম ৬:২৬২ ইমাম যাহাবী), আরেকজনের নামের শেষে الدينورى রয়েছে; কিন্তু উক্ত সনদে الدينورى নামীয় ব্যক্তিই উদ্দেশ্য যিনি ৩২৭ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। আর একথার প্রমাণ আছে ইবনুল বার (রহ.)-এর কিতাব ‘আল ইন্তিক্বা’ এর ১৪৫ নং পৃষ্ঠায় উল্লিখিত অপর একটি বর্ণনার সনদে।

4 আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহীম আদ-দাওরাক্বি। উপনাম আবূ আব্দিল্লাহ। কেউ কেউ তাঁর মৃত্যু সন ২৪৬ হতে ২৭৬ হিজরীর মধ্যে বলে লিখেছেন। ইমাম যাহাবী (রহ.) তার মৃত্যু সন ২৭৬ হিজরী বলেই উল্লেখ করেছেন (দেখুন, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৩:১৫৪)। ইমাম যাহাবী (রহ.) লিখেছেন ((وكان صدوقا. وثقه الدارقطني)) ইমাম আবূ হাতিম তাঁকে সত্যবাদী (صدوق) বলেছেন এবং দারা কুতনী তাকে সিকাহ বলেছেন। তাঁর কাছ থেকে ইমাম মুসলিম সহ অনেক মুহাদ্দিস হাদীস বর্ণনা করেছেন।

উল্লেখ্য, গয়ের মুকাল্লিদরা উক্ত বর্ণনার সনদের উপর انقطاع এর যে অভিযোগ উত্থাপন করে সেটি তাদের ক্রুটিপূর্ণ তাহকিক আর অজ্ঞতা থেকেই করে থাকে। তারা রাবীগণের সঠিক পরিচয় নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বেশকিছু শাওয়াহিদ-شواهد ও মুতাবি’ ইমাম ইবনে মা’ঈন (রহ.) থেকে তাঁরই একাধিক শিষ্যের যৌথ বর্ণনা হতে নিম্নরূপ,

❝ইমাম মিয্যি (রহ.) এর তাহযীবুল কামাল ৭০৩২, ইমাম যাহাবীর তারীখুল ইসলাম ৬:৯৯১ এর তথ্য অবলম্বনে… ❞

((محمد بن سعد العوفى سمعت ابن معين يقول: كان ابو حنيفة ثقة الخ))

1 মুহাম্মদ ইবনে সা’আদ আল আ’ওফী (২৭২ হিজরী) থেকে…। তাঁর ব্যাপারে ইমাম আবূ আব্দিল্লাহ হাকিম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইমাম দারা কুতনী (রহ.)-কে বলতে শুনেছেন ((لا بأس به)) অর্থাৎ তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। (তারীখে বাগদাদ ২:৩৬৮)।

ইমাম ইবনু হাব্বান বলেছেন ((لا يجوز به اذا انفرد)) অর্থাৎ তার একক বর্ণনা দ্বারা দলিল দেয়া বৈধ হবেনা। (আল মাজরূহীন)।

ইবনে মা’ঈন (রহ.) বলেছেন ((ليس بمتين)) অর্থাৎ সে সুদৃঢ় নন। ইমাম আবূ যুর’আ (রহ.) বলেছেন ((لين الحديث)) সে হাদীসের ক্ষেত্রে কোমল। (তাহযীবুল কামাল রাবী ক্রমিক নং ৫১৫০)।

((و قال صالح بن محمد الأسدى الحافظ سمعت يحيى ابن
معين يقول: كان ابو حنيفة ثقة فى الحديث الخ)) ((قال صالح بن جزرة وغيره سمعنا ابن معين يقول : أبو حنيفة ثقة الخ))

2 সালেহ ইবনে মুহাম্মদ আল আসদী আল হাফিয (২০৫-২৯৩ হিজরী) থেকেও…। তাঁর সম্পর্কে ইমাম যাহাবী (রহ.) বলেন ((الامام الحافظ الكبير الحجة)) তিনি একজন ইমাম, হাফিযুল কাবীর ও হুজ্জত। ইমাম দারা কুতনী (রহ.) বলেছেন ((و كان ثقة حافظا غازيا)) অর্থাৎ তিনি একজন সিকাহ, হাফিয এবং গাযী। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪:২৪ ইমাম যাহাবী)।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি – আল মওসুআতুল হাদীসিয়্যাহ ২:১১৭

ইবনে মা’ঈন (রহ.) থেকে আবূ হানীফা (রহ.) সম্পর্কে নিচের বর্ণনাগুলো জাল ও বানোয়াট যে কারণে,

1 ইবনে আবী মরিয়াম বলেন ((سألت يحيى بن معين عن أبي حنيفة، فقال: «لا يكتب حديثه)) অর্থ- আমি ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈনকে আবূ হানীফা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তাঁর হাদীস লিখাযোগ্য নয়। (ইমাম ইবনু আদী সংকলিত আল কামিল ৮:২৩৬)।

  • দুর্বল।

কারণ এর সনদে ابن أبي مريم নামীয় রাবী অনির্ভরযোগ্য। ইমাম যাহাবী লিখেছেন ((ضَعَّفَهُ: أَحْمَدُ بنُ حَنْبَلٍ، وَغَيْرُهُ، مِنْ قِبَلِ حِفْظِه.)) অর্থাৎ ইমাম আহমদ সহ অন্যান্যরা তাকে তার স্মরণশক্তির ক্রুটির কারণে দুর্বল বলেছেন। তিনি আরও লিখেছেন ((وَقَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: أَحَادِيْثُه صَالِحَةٌ، وَلاَ يُحْتَجُّ بِهِ)) অর্থাৎ ইমাম ইবনু আদী বলেন, তার হাদীসসমূহ সঠিক, তবে তা দ্বারা দলিল দেয়া যাবেনা। ইমাম ইবনে হিব্বান বলেন ((هُوَ رَدِيْءُ الحِفْظِ)) অর্থ- সে স্মরণ শক্তির দিক থেকে প্রত্যাখ্যাত। ইয়াযিদ ইবনে আব্দ রাব্বিহ বলেন, সে ১৫৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করে। (ইমাম যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা দ্রষ্টব্য)।

2 মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবী শায়বাহ বলেন ((سمعت يحيى بن معين وسئل عن أبي حنيفة، قال: «كان يضعف في الحديث)) অর্থ- আমি ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন থেকে শুনেছি তাঁকে আবূ হানীফা (রহ.) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বলেন, তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল ছিলেন (উ’ক্বাইলীর সংকলন আদ্ব-উ’আফা ৪:২৮৪)।

  • জাল।

কারণ এর সনদে محمد بن عثمان بن أبي شيبة (মৃত. ২৯৭ হিজরী) নামীয় রাবী সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, সে ছিল ((كذاب يضع الحديث)) একজন মহা মিথ্যাবাদী এবং হাদীস জালকারী। ইমাম যাহাবী লিখেছেন ((وأما عبد الله بن أحمد بن حنبل فقال : كذاب. وقال عبد الرحمن بن خراش : كان يضع الحديث)) অর্থ- আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, সে ছিল একজন মহা মিথ্যাবাদী। ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে খারাস বলেন, সে হাদীস জালকারী ছিল (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪:২২, ইমাম যাহাবী)।

আলোচনা শেষ করব ইমাম ইবনু আব্দিল বার মালেকী (রহ.)-এর একটি চমৎকার উক্তি দিয়ে। তিনি লিখেছেন ((الذين رووا عن أبي حنيفة ووثقوه وأثنوا عليه أكثر من الذين تكلموا فيه)) অর্থাৎ ❝যারা ইমামে আ’যম থেকে বর্ণনা করেছেন সকলে তাঁকে সিকাহ বলেছেন এবং প্রশংসা করেছেন। আর তাদের সংখ্যা ঐ সকল লোকের চেয়ে বেশি যারা তাঁর সমালোচনা করেছে।❞ (জামে বায়ানিল ইলম ২/১৪৯)।

তথ্যসংগ্রাহক মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ

এডমিন ফিকহ মিডিয়া

- Advertisement -

Recent Posts