Wednesday, October 5, 2022
Home Blog

সহজে কাদিয়ানী চেনার আলামত

মির্যা কাদিয়ানী ও অনুসারী

কাদিয়ানীদের সহজে চেনার উপায় :

কাদিয়ানীরা সাধারণত খুবই ধূর্ত ও জঘন্য প্রতারক হয়ে থাকে। তাদের বেশিরভাগই মাথায় কালো টুপি পরে আর মুখে ফ্রেঞ্চ কাটিং দাড়ি রাখে। তাদের ৯০% ফেইসবুক ইউজারের প্রোফাইল লক থাকে, খুব বেশি তর্কপ্রিয় ও ঝগড়াটে হয়ে থাকে। এদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা সাধারণত নেকাব পরে নাকের নিচ দিয়ে। এদের ধর্মীয় পড়াশোনার হাতেগড়ি নির্দিষ্ট দুটি সাবজেক্ট—ঈসা (আ.) জীবিত না মৃত আর মুহাম্মদ (সা.)-এর পরেও নবুওয়তের সিলসিলা (ধারাক্রম) চালু না বন্ধ, এই দুটো নিয়ে। তারা মূলত মির্যা গোলাম আহমদকে একজন রূপক মসীহ সাব্যস্ত করতেই হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহ সশরীরে জীবিত আকাশে উঠিয়ে নেয়ার কুরআন সুন্নাহভিত্তিক আকিদা অস্বীকারকারী। অথচ ইসলামের গত চৌদ্দশত বছরের ইতিহাসে গত হয়ে যাওয়া সমস্ত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের ইমামগণেরও বিশ্বাস হচ্ছে, ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু এখনো হয়নি। তাদের বক্তব্য, ঈসা (আ.)-এর ১২০ বছর বয়সে কাশ্মীরে মৃত্যু হয়ে গেছে, কাশ্মীরের খান ইয়ান মহল্লায় সমাহিত ইউজ আসেফ নামীয় ব্যক্তির কবরটিই ঈসা (আ.)-এর কবর। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীই মূলত ‘কাদিয়ানী জামাত’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাকে তার সাধারণ অনুসারীরা ইমাম মাহদী বিশ্বাস করার দাবী করলেও ‘নবী’ বিশ্বাস করেনা বলেই সাফ বলে দেয়ার চেষ্টা করে। আসলে এরা নিজেদের অজ্ঞতার জন্যই তাকে যেমন ইমাম মাহদী বিশ্বাস করে নিয়েছে, ঠিক একই রকম অজ্ঞতার জন্যই তারা তার নবী দাবী করা সম্পর্কেও বেখবর। স্ক্রিনশট সহ কয়েকটি সিরিজ ভিডিও দেখুন। মির্যা কাদিয়ানীর নবী দাবী, সিরিজ (১), (২), (৩), (৪)। এর বাহিরে এদের মন-মগজে ইসলামের ফান্ডামেন্টাল শিক্ষার ছিটেফোঁটাও থাকেনা। এদের প্রাধানতম বৈশিষ্ট্য, কুরআন শরীফ অশুদ্ধ পড়া আর নিজের মত করে ব্যাখ্যা দেয়া। এরা মুসলমানদের মসজিদে যায় না, মুসলমানদের জানাজাতেও অংশগ্রহণ করেনা। ছোটবেলা থেকেই এদেরকে চরম আলেম উলামা বিদ্বেষী করে তোলা হয় বলে এরা আলেম উলামার কাছ থেকে দূরে থাকে। আলেম উলামার প্রতি এদের জন্মান্ধ বিদ্বেষ আর দুশমনির ফলে এদেরই বেশিরভাগ Ex ahmadi দুর্ভাগ্য কারণে মুলহেদ হয়ে যায়, তবু ইসলাম গ্রহণ করতে চায় না। কারণ এদের মন মগজে সেই ছোট বেলা থেকেই ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে, বর্তমান ইসলাম মোল্লা মৌলভীদের বানানো ইসলাম। নাউযুবিল্লাহ।

এরা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ এবং খেলাফত রাষ্ট্রের চরম বিরোধী। স্বভাবতই ব্রিটিশপ্রিয় হয়। কুরআন হাদীসকে সরাসরি অস্বীকার করার পরিবর্তে রূপক কিবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে অস্বীকারকারী হয়। আর নিজ মতবাদের পক্ষে এমন সব বর্ণনা বা উদ্ধৃতিও উপস্থাপন করে থাকে যেগুলোর বেশিরভাগই জাল, জঈফ বা মুনকার পর্যায়ের অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা; কোনো অথেনটিক সোর্স থেকেও সংগৃহীত নয়। এদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল, এদের বইপুস্তক অগণিত স্ববিরোধ কথাবার্তায় ভর্তি, যা এদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও এরা মেনে নিতে চায় না। সংক্ষেপে। এগুলো আমার দীর্ঘ অবিজ্ঞতা থেকেই লিখলাম। সারা দুনিয়ায় এদের দাবী হচ্ছে, সংখ্যায় এরা ২০ কোটি। অথচ নিরপেক্ষ গণনামতে এরা কোনো ভাবেই ১৫-২০ লাখের বেশি হবেনা। বাংলাদেশে এদের সংখ্যা এদেরই দাবী অনুসারে ১ লক্ষ। তবে আমাদের জরিপ বলছে, এরা কোনো ভাবেই ২৫ হাজারের বেশি হবেনা। বিবাড়িয়া, পঞ্চগড়, সাতক্ষীরার সুন্দরবন, জামালপুরের সরিষাবাড়ি আর বান্দরবন, যশোর এবং খুলনায় এদের সংখ্যাটা তুলনামূলক বেশি। প্রাণ, আর.এফ.এল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মেজর (অব.) আমজাদখান চৌধুরী আর বাংলাদেশের বর্তমান কাদিয়ানীদের ন্যাশনাল আমীর জনাব আব্দুল আউয়াল সাহেব দুইজনই মামাতো আর ফুফাতো ভাই। জনাব আমজাদখানের পিতা আলী কাশেমখান চৌধুরী আর কাদিয়ানী আমীরের মাতা মাসুদা সামাদ আপন ভাই বোন। কাদিয়ানীদের বইতে ইসলাম বিরোধী ১৬টি চরম বিভ্রান্তিকর ধর্মবিশ্বাস যা তারা সাধারণ মানুষ থেকে বরাবরই গোপন রাখে কাদিয়ানীদের ডজনখানেক বই থেকে স্ক্রিনশট সহ মির্যা কাদিয়ানীর নবী ও রাসূল দাবীর প্রমাণ। কাদিয়ানীদের কলেমার গোপন রহস্যপ্রতিশ্রুত মসীহ্‌ এর পরিচয় এবং প্রতীক্ষিত মাহ্‌দী এর পরিচয় আর তাদের কেউই এখনো আবির্ভূত হননি। ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মধ্যে পরিষ্কার লিখা আছে যে, তিনি নবীজী (সা.)-এর কন্যা ফাতেমার পুত্র হযরত হাসান (রা.)-এর বংশে জন্মগ্রহণ করবেন। সে হিসেবে তিনি সাইয়েদ এবং কুরাইশীও হবেন তার নাম হবে মুহাম্মদ, পিতার নাম আব্দুল্লাহ, জন্মস্থান হবে আরব (মদীনা), মাহদীয়তের উপর বাইয়েত শুরু করবেন মক্কায়। তিনি আরবে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবেন। আবুদাউদ শরীফে (কিতাবুল, মাহদী অধ্যায়) এসেছে, ‘ইমাম মাহদী সাত বছর রাষ্ট্রকার্য পরিচালনা শেষে ইন্তেকাল করবেন।’ শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী (রহ.) তার ‘আল জামেউস সহীহ’ কিতাবে হাদীসটিকে “হাসান” (حسن) বলেছেন। উল্লিখিত পরিচিতির আলোকে দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, রাসূল (সা.) শেষ যামানায় আগমনকারী যে ইমাম মাহদীর সুসংবাদ দিয়ে গেছেন আজকের এই দিন (২০২২ ইং, এই আর্টিকেল লিখার সময়) পর্যন্ত সেই ইমাম মাহদী এবং প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.) দুইজনের কেউই আবির্ভূত হননি। আল্লাহ চাহিলে দুইজনই যথাসময়ে আসবেন। মির্যা গোলাম আহমদ এর দাবী একই সাথে ইমাম মাহদী এবং ঈসা, দুটোই। কিন্তু রাসূল (সা.) উক্ত দুই মহা পুরুষ সম্পর্কে সহীহ হাদীসগুলোতে যেই পরিচিতি রেখে গেছেন তার ছিটেফোঁটাও মির্যা গোলাম আহমদের সাথে মিল পাওয়া যায় না। এটি পড়ুন, এক নজরে মির্যা কাদিয়ানী। উল্লেখ্য, প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী এবং হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাদা দুই ব্যক্তিই। বহু সহীহ হাদীসে দুইজনের ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় একদম সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। কাদিয়ানীদের বইতে দুই ঈসা’র বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাব এখানে। তাদের ‘ওয়া লাল মাহদী ইল্লা ঈসা ইবনু মরিয়ম’ এর বর্ণনা দিয়ে বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাবও এখান থেকে দেখে নিন। ইমাম মাহদী একই সাথে ফাতেমি, আব্বাসী, হাসানী, হোসাইনী সব কিভাবে হতে পারেন? মাহদীয়তের নিদর্শনের নামে কাদিয়ানীদের উপস্থাপিত চন্দ্রসূর্য গ্রহণের বর্ণনাটি কেন গ্রহণযোগ্য নয়?। একটি সতর্কবার্তা, একটি ঈমান বিধ্বংসী ও মুসলিম নাম ব্যবহারকারী কাদিয়ানী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা থেকে সবাইকে সতর্ক করতে কয়েকটি কথা বিনীতভাবে উপস্থাপন করছি। এই কাদিয়ানী গোষ্ঠীটি তাদের মতের বাহিরে সমস্ত মুসলমানকে অমুসলিম, কাফের, জাহান্নামী মনে করে থাকে। এরা অন্যান্য মুসলমানের মত হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত দাবী করা সত্ত্বেও বিশ্বের সমস্ত মুসলিম স্কলারদের সর্বসম্মতিক্রমে কাফের ও ইসলাম থেকে খারিজ। তার কারণ এরা খতমে নবুওয়ত এবং হায়াতে মসীহ সহ ইসলামের বহু মৌলিক বিশ্বাসকে কুরআন এবং সুন্নাহর অপব্যাখ্যার আড়ালে অস্বীকার করে থাকে। এরা আজ থেকে শতাধিক বছর আগে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে তথা ১২৫৬ হিজরী সনে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাদিয়ান নামক গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এক ব্যক্তিকে নবী বলে বিশ্বাস করে। তার নাম ছিল মির্যা গোলাম আহ্‌মদ (১৮৩৯-১৯০৮)। সে নিজেকে প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.)-এর রূপক সত্তা এবং শেষ যুগে আগমনকারী ইমাম মাহদী হবার দাবীও করে। অথচ কুরআনের আয়াত ও সহীহ্ হাদীসের আলোকে একথা সুস্পষ্ট যে, এই ব্যক্তি নিজ দাবীতে একজন জঘন্য মিথ্যাবাদী ও প্রতারক। এখানে তার কয়েকটি উক্তি তুলে ধরছি, যা পড়ার পর যে কেউই তার আসল পরিচয় পর্যন্ত সহজে পৌঁছতে পারবে! যথা- ১. মির্যা কাদিয়ানী ১৮৯৮ সালের দিকে ব্রিটিশ-ভারত রাণী আলেকজান্ড্রিনা ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে লিখেছিল, ‘নিজেদের হাতে রোপিত এই চারাগাছটির ব্যাপারে খুব সতর্কতা ও অনুসন্ধানের সাথে অগ্রসর হবেন এবং আপনার অধীনস্তদের বলবেন তারা যেন এই পরিবারের ত্যাগ ও নিষ্ঠার কথা মনে করে আমার দলের প্রতি সদয় দৃষ্টি জ্ঞাপন করেন। আমাদের পরিবার ইংরেজ সরকারের কল্যাণে নিজেদের খুন বইয়ে দিতে ও জীবন দিতেও দ্বিধা করেনি আর না এখনো দ্বিধা করছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/২১-২২; নতুন এডিশন)। তার এই কথা পরিষ্কার প্রমাণ যে, সে ব্রিটিশদেরই সৃষ্টি ছিল। ২. ‘আমার বিশ্বাস, যে হারে প্রতিদিন আমার অনুসারির সংখ্যা বাড়ছে সেই হারে জিহাদের পক্ষাবলম্বীর সংখ্যাও কমছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/১৯)। এখানে তার এই বক্তব্য ব্রিটিশ ভারতের ১৮৫৭ সালের আযাদী আন্দোলন ও সিপাহী বিদ্রোহকেই স্মরণ করে দিচ্ছে। মূলত ঐ সমস্ত আন্দোলন সংগ্রাম দমিয়ে রাখতেই পরবর্তীতে এই মির্যায়ী তথা কাদিয়ানী জামাতের সৃষ্টি। ৩. ‘ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্য ইসলামেরই একটি অংশ’ (রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮০)। মির্যা কাদিয়ানীর এই বক্তব্য আমার উপরোক্ত সবগুলো দাবীকে দ্বিপ্রহরের সূর্যের মত একদম পরিষ্কার করে দেয়। যাইহোক ২৫ শে মে ১৮৯৩ সালে অমৃতসর নামক স্থানে মির্যা কাদিয়ানীর সাথে তৎকালীন মুসলিম নেতা শায়খ আব্দুলহক গজনভী (রহ.)-এর একটি মুবাহালা অনুষ্ঠিত হয়। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ৬/৩৭২)। উক্ত মুবাহালায় উভয়পক্ষ নিজের উপর নিজে বদ দোয়া করেন এবং মুবাহালাকারী দুইপক্ষের সত্যবাদীর জীবদ্দশায় যিনি প্রকৃতপক্ষে একজন মিথ্যাবাদী তিনি যেন ধ্বংস হন, এইরূপ কামনাও করেন (দেখুন, মালফূজাত ৫/৩২৭; চতুর্থ এডিশন)। ইতিহাস সাক্ষী, পরবর্তীতে শায়খ গজনভী (রহ.) মারা যান ১৬ই মে ১৯১৭ সালে। আর মির্যা কাদিয়ানী শায়খের জীবদ্দশায় প্রায় ৯ বছর পূর্বেই ১৯০৮ সালে লাহোরে ২৬ শে মে বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় কলেরায় আক্রান্ত হয়ে টাট্টিতে নিপতিত হয়ে মারা যায়। তার লেখিত প্রায় ৮৩টি বইয়ের সমষ্টির নাম ‘রূহানী খাযায়েন‘ (আধ্যাত্মিক ভাণ্ডার), যা আনুমানিক ১৯৬০ সালের দিকে ২৩ খন্ডে প্রকাশ করা হয়। বইগুলো দ্বারা সেসব মানুষ খুব বিভ্রান্ত হয় যাদের পূর্ব থেকে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে আলোচ্য বিষয়ে গভীর কোনো জ্ঞান নেই। একটি হাদীসে এসেছে, মহানবী (সা.) তাঁর পরবর্তী সময়ে ত্রিশ জন নবুওয়তের মিথ্যা দাবীদারের আবির্ভাব হবার ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন (সুনান তিরমিজী (ইফা) অধ্যায়ঃ ৩৬/ কিতাবুল ফিতনা)। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) (মৃত. ৮৫২ হিজরী) হাদীসটির ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এই ত্রিশজন মিথ্যাবাদী বলতে বিশেষভাবে ওরাই উদ্দেশ্য যাদের দাপট প্রতিষ্ঠা পাবে এবং (সাধারণ মানুষের ভেতর) তাদের তৎপরতার কারণে মারাত্মক সন্দেহ সৃষ্টি হবে। (ফাতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী : খণ্ড ১২ পৃষ্ঠা ৩৪৩)। সমস্ত ইসলামি বিশেষজ্ঞ একমত যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তাদেরই মধ্য হতে একজন। কাদিয়ানীরা কাফের কেন?
মির্যা কাদিয়ানীর ৫টি মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী। তথাকথিত উম্মতিনবী কাদিয়ানী জামা’তের প্রতিষ্ঠাতার কিছু দাবী দাওয়া। মির্যা কাদিয়ানীর কিছু মিথ্যাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতি। পবিত্র কুরআনের ত্রিশ আয়াতে ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে যাওয়ার দাবী কেন ডাহা মিথ্যা? আমাদের অন্যান্য ওয়েবসাইট আমাদের ভিডিও সমূহ। ইউটিউব থেকে (markajTV by PNN) (হেদায়েতের পথিক)। লিখকের ফেইসবুক পেইজ (ধারাবাহিক লাইভ পর্ব) থেকে ভিডিও। আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হতে পারেন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ

বাহাউল্লাহ ইরানীর মসীহ মওউদ দাবী

কাদিয়ানীদের লিটারেচার হতে বাহাউল্লাহর মসীহ দাবীর প্রমাণ,

প্রতিশ্রুত মসীহ মওউদ দাবীদার বাহাউল্লাহ ইরানী

প্রশ্ন হল, বাহাউল্লাহ ইরানী সাহেব মসীহ মওউদ দাবী করেছিলেন, এর প্রমাণ কী?

উত্তর, আজকের এই লিখাটি লিখার উদ্দেশ্য হল, কাদিয়ানী তথা মির্যায়ী লিটারেচার সমূহে একটি তথাকথিত মূলনীতি খুব জোরেশোরে উচ্চারিত হতে দেখি, তা হল, রাসূল (সা.)-এর মোট নবুওয়তের ২৩ বছর জীবন-জিন্দেগি অতিক্রম করা কোনো মিথ্যা নবুওয়তের দাবীদারের জন্য সম্ভব নয়, যদি কখনো কোনো দাবীদার তা অতিক্রম করতে সক্ষম হয় তাহলে সে সত্যবাদী বলেই সাব্যস্ত হবে। তাদের দাবী হল, সূরা আল হাক্কাহ আয়াত নং ৪৪-৪৬ অনুসারে কোনো মিথ্যা দাবীদারকে আল্লাহ কখনো ছাড় দেননা, পাকড়াও করে থাকেন। এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ কোনোভাবেই ন্যূনতম ২৩ বছরের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অবকাশ দেননা। এই নির্বোধরা তারপর বলে থাকে, মির্যা কাদিয়ানী আপনা দাবীতে প্রায় ২৩ বছরেরও অধিক সময় অতিক্রম করেছিলেন, আল্লাহ তাকে সেই দীর্ঘ সময়ব্যাপী পাকড়াও করেননি। সুতরাং মির্যা কাদিয়ানী মিথ্যাবাদী নন, বরং সত্য। (এই হচ্ছে তাদের মূলনীতি)।

আমি আজকে এখানে তাদের সেই মনগড়া মূলনীতির গঠনমূলক দাঁতভাঙা উত্তর দেব, ইনশাআল্লাহ। প্রথমত, কাদিয়ানীদের উল্লিখিত মূলনীতি ঠিক নয়, বরং আগাগোড়াই গলদ। এই সম্পর্কিত আলোচনায় একটু পরেই আসছি। দ্বিতীয়ত, সূরা আল হাক্কাহ, আয়াত নং ৪৪-৪৬ কোনো ভাবেই সেরকম কোনো মূলনীতির জন্য সাপোর্টিং এভিডিয়েন্স নয় যেভাবে কাদিয়ানীরা বিশ্বাস করে।

  • সূরা আল-হাক্কাহ আয়াত ৪৪-৪৬, আল্লাহতালা বলেন, وَ لَوۡ تَقَوَّلَ عَلَیۡنَا بَعۡضَ الۡاَقَاوِیۡلِ অর্থ, সে যদি আমার নামে কিছু রচনা করে চালাতে চেষ্টা করত।’ لَاَخَذۡنَا مِنۡہُ بِالۡیَمِیۡنِ অর্থ, তবে অবশ্যই আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম’। ثُمَّ لَقَطَعۡنَا مِنۡہُ الۡوَتِیۡنَ অর্থ, এবং কেটে দিতাম তার জীবন-ধমনী।বলে রাখা জরুরি যে, এই শাস্তি কেবলমাত্র সত্যনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যাপারে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে। এ থেকে উদ্দেশ্য তাঁর সত্যতার বিকাশ। এতে কোনো মূলনীতির কথা বর্ণনা করা হয়নি যে, যে ব্যক্তিই নবী হওয়ার মিথ্যা দাবী করবে, তাকেই সত্বর শাস্তি প্রদান করব। কাজেই নবুওয়তের কোনো মিথ্যা দাবীদারকে এই ভিত্তিতে সত্য সাব্যস্ত করা যাবে না যে, দুনিয়াতে সে আল্লাহর পাকড়াও থেকে যেহেতু রেহাই পেয়েছে সেহেতু সে সত্য। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাবলী থেকেও প্রমাণিত যে, নবুওয়তের অনেক মিথ্যা দাবীদারকে আল্লাহ ঢিল দিয়েছেন এবং তারা দুনিয়াতে তাঁর পাকড়াও থেকে নিরাপত্তা লাভ করেছে। যেজন্য আল্লাহর ঐ শাস্তির ধমককে মূলনীতি মনে করে নিলে তখন নবুওয়তের বহু মিথ্যা দাবীদারদেরকে সত্য নবী বলে মেনে নিতে হবে। বাহায়ী জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মির্যা হোসাইন আলী নূরী ওরফে বাহাউল্লাহ তন্মধ্যে অন্যতম। কারণ বাহাউল্লাহ (১৮১৭-১৮৯২) সাহেবও নবী রাসূল এবং মসীহ মওউদ দাবী করার পর আরও প্রায় চল্লিশ বছর বেঁচে ছিলেন। (দৈনিক আল হিকাম, নভেম্বর ১৯০৪ ইং পৃ. ১৯)।

বাহাউল্লাহ’র নবুওয়তে ওহী এবং মসীহ মওউদ দাবী :

(১) বাহায়ী জামাতের প্রতিষ্ঠাতা জনাব বাহাউল্লাহ সাহেব ১২৬৯ হিজরীতে নিজেকে ‘প্রতিশ্রুত মসীহ‘ বলে দাবী করেছিলেন। আর তিনি পরবর্তীতে ১৩০৯ হিজরী পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। (দৈনিক আল-হিকাম (الحكم)। উল্লেখ্য, আল-হিকাম একটি উর্দূ পত্রিকা। এটি কাদিয়ানী জামাতের নিজেস্ব একটি অফিসিয়াল পত্রিকা, গুরুদাসপুর জেলার (পাঞ্জাব, হিন্দুস্তান) কাদিয়ান দারুল আমান থেকে ১৮৯৭ সাল থেকে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হয়ে আসলেও পরবর্তীতে এটি ১৯০৬ সাল থেকে ‘দৈনিক‘ পত্রিকায় রূপান্তরিত হয়। পত্রিকাটির ডাউনলোড লিংক।

(২) বাহাউল্লাহ ইরানী সাহেব দাবী করেছিলেন যে, আমার প্রতি খোদার ওহী প্রকাশিত হয়েছে। (রেফারেন্স, দৈনিক আল হিকাম, ভলিউম ৮, নম্বর ৯, তারিখ ১৭ নভেম্বর ১৯০৪, পৃ. ১৯)।

(৩) বাহাউল্লাহ ইরানী সাহেব প্রতিশ্রুত মসীহ দাবীর পর আরও প্রায় চল্লিশ বছর বেঁচেও ছিলেন এবং তিনি শেষ পর্যন্ত তার দাবিতে অবিচল ছিলেন। (দৈনিক আল হিকাম, নভেম্বর ১৯০৪ ইং পৃ. ১৯)। (২ এবং ৩ নং এর জন্য স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য)।

পরিশেষ :

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! এবার নিজেরাই চিন্তা করুন, এই কাদিয়ানী সম্প্রদায় মির্যা কাদিয়ানীর নবুওয়ত দাবী হালাল করার জন্য কতটা নিচে নামতে পারে! কিভাবে জঘন্য ব্যাখ্যা আর অযথা যুক্তিতর্কেও জড়াতে পারে! এদের উক্ত যুক্তি সত্য হলে তখন বাহায়ী জামাতের প্রধান বাহাউল্লাহ আর তার জামাতও সত্য সাব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে কিনা? এমতাবস্থায় মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আপনা প্রতিশ্রুত মসীহ দাবীতে কিভাবে সত্য হন?

বলে রাখা জরুরি, বাহায়ীদের প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান অনুসারে ১৯৮৬ সালে বিশ্বে বাহাই ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা ছিলো ৪০ লক্ষ ৭৪ হাজার, এবং বৃদ্ধির হার ছিল ৪.৪%। বাহায়ী সূত্রমতে ১৯৯১ পর্যন্ত সারা বিশ্বে বাহায়ী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০ লক্ষেরও বেশি। ওয়ার্ল্ড ক্রিশ্চিয়ান এনসাইক্লোপিডিয়া, ২০০১ সালের এক জরিপে (পৃ. ৪) প্রকাশ করে যে, ২০০০ সালে বিশ্বে বাহাই অনুসারীর ছিলো সংখ্যা প্রায় ৭০ লক্ষ ১০ হাজার, এবং ২১৮টি দেশে এদের অনুসারী রয়েছে। এদের কেবলা আক্কা (বর্তমান ইসরাইলের হাইফা শহর), নামায তিন ওয়াক্ত, নারী পুরুষের মাঝে পর্দার বিধান নেই। এদের হিসেবে ১৯ দিনে এক মাস, ১৯ মাসে ১ বছর। তাদের রোজাও মাত্র ১৯টি। এদের মধ্যে নামায মাত্র তিন ক্যাটাগরির মানুষের জন্য। বৃদ্ধদের জন্য কোনো নামায নেই। আর পানি পাওয়া না গেলে তখন তিনবার ‘বিসমিল্লাহিল আত্বহার’ বলে শরীরে ফুঁ দিয়েও নামায পড়া জায়েজ। এদের উপাসনালয় সমূহ সব ধর্মের অনুসারীদের জন্য উন্মুক্ত। বাহাউল্লাহ ইরানী একই সাথে একজন নবী ও রাসূল দাবীদারও। ইলাহিয়তের দাবীও ছিল। তার সুস্পষ্ট বক্তব্য, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়ত ও রেসালতের ক্রমধারা তথা ইসলাম বারো শত বছর পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ ছিল, তারপর থেকে ইসলাম রহিত ও বাতিল। এখন থেকে শুধুই বাহাউল্লাহর নবুওয়ত ও রেসালত চলবে। বাহাউল্লাহর পুত্র আব্দুল বাহা’র রচনা মতে, বাহায়ীরা তাঁদের বর্তমান দূত বাহাউল্লাহ’র আবির্ভাবের ১০০০ বছরের মধ্যে ঈশ্বরের আর কোনো দূতের আবির্ভাবে বিশ্বাস করে না। বাহাউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র আব্বাস এফেন্দী ওরফে আব্দুলবাহা তারপর শোঘি এফেন্দী বাহায়ী জামাতের হাল ধরেন। তারপর ১৯৬৩ সালের পর থেকে নেতৃত্বের চরম দ্বন্দ্ব দেখা দেয়ায় বাহায়ী জামাত সিট অফ দ্য ইউনিভার্সাল হাউস অফ জাস্টিস, (বাহায়ীদের পরিচালনা পর্ষদ) দ্বারা পরিচালিত হতে থাকে প্রধানকেন্দ্র হাইফা (ইসরাইল) থেকে। প্রধানতম ধর্মগ্রন্থ কিতাবুল আক্বদাস, আল বয়ান এবং কিতাবুল ইতক্বান। মুসলিম উম্মাহার সকল স্কলারের সর্বসম্মত ফতুয়ায় বাহায়ী জামাত ইসলামের গণ্ডি থেকে বহিষ্কৃত ও একটি স্বতন্ত্র ধর্মমত। তবে বর্তমানে বাহাউল্লাহ’র গুরু আলী মুহাম্মদ বাব এর অনুসারীরা ছোটখাটো অনেক ভাগে বিভক্ত। তন্মধ্যে বাবী সুবহে আযলী, বাবী বাহাউল্লাহ, বাহায়ী-আব্বাস এফেন্দী, বাহায়ী-মির্যা মুহাম্মদ আলী অন্যতম। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন! আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আলজানাদীকে ইবনে মাঈন (রহ.) সিকাহ বলা

মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদীকে ইবনে মাঈন (রহ.) সিকাহ আখ্যা দেয়া কি প্রমাণিত? মুহাদ্দিসীনদের অভিমত :

ইমাম ইবনে মাঈন (রহ.) মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদীকে “সিকাহ” (বিশ্বস্ত) বলার নেপথ্য গল্পের একটু গভীরে চলুন। তাহলেই পরিষ্কার হতে পারবেন যে, ইবনে মাঈন (রহ.) এর নামে এই কথা ভিত্তিহীন। ইমাম আবু সা’আদ আস সাম’আনী أبو سعد السمعاني (৫০৬-৫৬২) রচিত কিতাবুল আনসাব (كتاب الأنساب) এর তৃতীয় খণ্ডের ৩৫১ নং পৃষ্ঠায় (রাবী নং ৯৫৫, অধ্যায় নং ৯৪১) পরিষ্কার করে লিখা আছে, لم يثبت هذا عن ابن معين অর্থাৎ ইমাম ইবনে মাঈন (রহ.) সম্পর্কে এই দাবীর ভিত্তি নেই। বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মু’আল্লিমী [الامام المعلمى] আশ-শাফেয়ী (১৩১৩-১৩৮৬ হিজরী)ও একই কথা বলেছেন। যেমন তিনি লিখেছেন, و لم يثبت هذا عن ابن معين অর্থাৎ হযরত ইয়াহইয়া বিন মাঈন হতে তার ছিকাহ (বিশ্বস্ত) হওয়ার কথাটি প্রমাণিত নয় [ইবনুস সুলাহ কৃত ‘আল আমালী’ (الأمالى لابن الصلاح) পৃষ্ঠা নং ৫২]।

কাজেই ইবনে মাঈন (রহ.)-এর নাম ভেঙ্গে কাদিয়ানী আমীর জনাব আব্দুল আউয়াল সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি সঠিক নয়। তিনি খুব সম্ভব জেনে-বুঝেই তার ভক্তদের প্রতারিত করেছেন। অনেকটা আসহাবে কাহাফের ঐ সাত যুবককে ঘুমন্ত দাজ্জাল বলে ব্যাখ্যা দেয়ার মতই। জনাব আব্দুল আউয়াল সাহেব ইমাম ইবনে মাঈন (রহ.) সম্পর্কিত কথাটি পেশ করার ক্ষেত্রে ইমাম যাহাবী (রহ.)-এর আংশিক বক্তব্যই উল্লেখ করেছেন। অথচ ইমাম যাহাবীর ঐ বক্তব্যের পরেই والله اعلم (আল্লাহই ভালো জানেন) কথাটুকুও রয়েছে, যাতে প্রমাণিত হয় যে, ইমাম যাহাবী (রহ.) হতে ইবনে মাঈন (রহ.)-এর “সিকাহ” সংক্রান্ত উক্তিটি দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত কোনো কথা ছিলনা। কিন্তু আব্দুল আউয়াল সাহেব এটি চেপে গেছেন। মজার ব্যাপার হল, বিশ্ববিখ্যাত ইমাম ইবনুস সুলাহ (রহ.)ও পরিষ্কার করে বলে গেছেন, فان هذا لم يثبت له وصف العدالة অর্থাৎ ‘তবে অবশ্য তার (মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আলজানাদী) ক্ষেত্রে কোনো রকম আদালত (ন্যাপরায়ণতা/বিশ্বস্ততা/গ্রহণযোগ্য) এর কোনো গুণাগুণ প্রমাণিত নয়।’ [আল আমালী পৃষ্ঠা নং ৫২, ইমাম আবু উমর ইবনুল মুফতি সালাহউদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে উসমান ইবনে মূসা আল কুরদি আশ শাহরুযুরী আল মুছুলি ইবনুস সুলাহ (৫৭৭-৬৪৩ হিজরী)]।

অধিকন্তু আব্দুল আউয়াল সাহেব ইমাম ইবনে মাঈন (রহ.)-এর আরেকটি কথাও পুরোপুরি এড়িয়ে যান। সেটি হল, ইমাম ইবনে মাঈন (রহ.) বলেছেন, و روى عنه ثلاثة رجال سوى الشافعي অর্থাৎ আর তার (মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদী) কাছ থেকে তিন ব্যক্তিই হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইমাম শাফেয়ী (কোনো কিছুই) বর্ণনা করেননি। ইমাম যাহাবী লিখেছেন, সনদের ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা এর সূত্রে একটি দল এটি বর্ণনা করেছে। কিন্তু বিশুদ্ধ কথা হল, والصحيح انه لم يسمعه منه অর্থাৎ ইউনুস ইমাম শাফেয়ীর কাছ থেকে বর্ণনাটি শুনেননি। (দেখুন, ইমাম যাহাবী’র মীযানুল ই’তিদাল ৩/৫৩৫ দ্রষ্টব্য)। আবার বর্ণনাটির আরেক রাবী ابان ابن ابى عياش (আবান ইবনে আবী আয়্যাশ) সম্পর্কে ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) লিখেছেন, و هو متروك অর্থাৎ সে একজন পরিত্যাজ্য ও মিথ্যাবাদী। (তাহযীবুত তাহযীব ৯/১৪৪, ইবনে হাজার আসকালানী)। এমনকি তাহযীবুল কামাল কিতাবের ২৫ নং খণ্ডের ১৫০ নং পৃষ্ঠায় (রাবী নং ৫১৮১) পরিষ্কার লিখা আছে, قال الشافعى ما هذا من حديثى و لا حدثت به، كذب على يونس অর্থাৎ ইমাম শাফেয়ী বলেছেন যে, এটি আমার বর্ণিত কোনো হাদীস নয়। আমি এমন হাদীস বর্ণনা করিনি। ইউনুস (-এর সূত্রে) আমার উপর অসত্য আরোপ করেছে। এছাড়া প্রায় ডজনের অধিক স্কলারদের মতে و لا المهدى الا عيسى ابن مريم শীর্ষক রেওয়ায়েতটি দুর্বল এবং মুনকার ও মিথ্যাবাদী রাবী দ্বারা বর্ণিত। আফসোস! কাদিয়ানীদের নিকট এই স্তরের বর্ণনাও অথেনটিক ও দলিলযোগ্য! তারা ইমাম যাহাবীর আংশিক বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ইবনে মাঈনের যেই মতটির প্রচার করে বেড়ায় সেটি ভিত্তিহীন ও অপ্রমাণিত হওয়া স্বয়ং ইমাম যাহাবীরই ঐ একই উক্তি হতেই পরিষ্কার। কিন্তু কাদিয়ানীরা কত জঘন্য প্রতারক হলে সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করে কালোকে সাদা বানানোর স্পর্ধা দেখাতে পারে, চিন্তা করুন! আমরা তাদেরকে আল্লাহর নিকট সোপর্দ করলাম।

এখানে কয়েকটি বিষয় সুস্পষ্ট,

(১) ইমাম ইবনে মাঈন (রহ.) মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদীকে “সিকাহ” বলার ব্যাপারটি ইমাম যাহাবী সহ বেশ কয়জন ইমামই অপ্রমাণিত বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। (তার কারণ নিচে উল্লেখ করা হবে)। (২) যে বর্ণনায় و لا المهدى الا عيسى ابن مريم অংশটিও রয়েছে সেটিতে সূত্রের বিচারে انقطاع তথা সূত্র-বিচ্ছিন্নতার ক্রুটি রয়েছে। কারণ মুহাদ্দিসগণ বলেছেন, উক্ত সনদে উল্লিখিত মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদী থেকে ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর سماع তথা শ্রবণ প্রমাণিত নয়। ইমাম যাহাবী (রহ.) মীযানুল ইতিদাল কিতাবে এসব পরিষ্কার করে দিয়ে গেছেন। রেফারেন্স উপরে দেয়া হয়েছে, আবার দেখুন।

এবার জানার বিষয় হল, ইমাম যাহাবী সহ অন্যান্য ইমামগণ ইমাম ইবনে মাঈন (রহ.)-এর “সিকাহ” (বিশ্বস্ত) বলার মতটি অপ্রমাণিত বলেছেন কেন?

এর উত্তর হল, বর্ণনাটির সনদে উল্লিখিত ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা (রহ.) একটি গল্প বলেছেন। গল্পটি ‘মানাকেবুশ শাফেয়ী‘ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। গ্রন্থকার ইমাম আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে হোসাইন আল আবুরী (ابو الحسن محمد بن الحسين الاّبري) (রহ.) [মৃত. ৩৬৩ হিজরী] গল্পটি সনদ সহ উল্লেখ করেছেন। সনদ সহ গল্পটি এরকম, فقال: اخبرني محمد بن عبد الرحمن الهمذاني ببغداد قال: حدثنا محمد بن مخلد وهو العطار وقال : حدثنا أحمد بن محمد بن المؤل العدوي قال: قال لي يونس بن عبد الأعلى : جاءني رجل قد وخطه الشيب سنة ثلاث عشر يعني و مائتين عليه مبطنة وازير يسألني عن هذا الحديث فقال لي : من محمد بن خالد الجندي ؟ فقلت : لا ادري . فقال لي : هذا مؤذن الجند وهو ثقة . فقلت له : انت يحيى بن معين ؟ فقال نعم…الخ

অর্থাৎ (সনদ/সূত্র) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল হামদানী, মুহাম্মদ ইবনে মুখলাদ, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াল আল-আদাবী। (গল্পটি হচ্ছে), আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াল আল-আদাবী বলেছেন, আমাকে ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা বলেছেন, আমার নিকট এক ব্যক্তি এসে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন যে, মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদী সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? আমি বললাম, আমি জানিনা। তখন সে আমাকে বলল, সে ইয়েমেনের “আল-জানাদ” এলাকার একজন মুয়াজ্জিন আর সে একজন সিকাহ। অত:পর আমি তাকে বললাম, তুমি কি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন? তিনি বললেন, জ্বী হ্যাঁ। (মানাকেবুশ শাফেয়ী)। অনুরূপ গল্পটি ইমাম যাহাবী’র ‘তাহযীবুত তাহযীব’ এর মধ্যেও (৯/২৪৪) উল্লেখ রয়েছে, তবে সেখানে এর কোনো সনদ উল্লেখ করা হয়নি।

এবার উক্ত গল্পের সনদ ও আনুষাঙ্গিক কিছু শিক্ষা:-

গল্পটি কয়েকটি কারণে প্রমাণযোগ্য নয়। ফলে এর উপর ডিফেন্ড করে এমন একজন রাবীকে ইবনে মাঈন (রহ.) “সিকাহ” বলেছেন বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছা অসম্ভব, যাকে জরাহ-তাদীলের ইমামগণ সর্বসম্মতিক্রমে অজ্ঞাত (مجهول) এবং দুর্বল বলেই সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন। কেননা,

(১) ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা-এর মত একজন হাদীসের প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদীর ব্যাপারে জানতে চেয়ে ইবনে মাঈনের প্রশ্নের উত্তর দেবেন অথচ ইবনে মাঈনকেই তিনি তখন চিনলেন না, বরং ইবনে মাঈন নিজের পরিচয় দিয়ে নিজেকে পরিচিত করতে হল, এটা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। কারণ সেই যুগে ইবনে মাঈন (রহ.)-এর মত প্রসিদ্ধ একজন ব্যক্তিকে ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা চেনবেন না, তা হতে পারেনা।

(২) আর গল্পের ধারাবাহিক সূত্রে “আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াল আল-আদাবী” নামীয় এমন এক ব্যক্তি রয়েছেন যাকে খতিব আল বাগদাদী (রহ.) তার ‘তারিখে বাগদাদ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা এবং হাসান ইবনে উরফা হতে রেওয়ায়েতকারী। কিন্তু তার সম্পর্কে কোনো জরাহ এবং আদল কিছুই খোঁজে পাওয়া যায়না, ফলে সে এক প্রকারের অজ্ঞাত (مجهول) রাবীই বলে গণ্য হন। সুতরাং যে বর্ণনাসূত্রে এধরণের রাবীও রয়েছে সেই সূত্রে প্রাপ্ত কোনো গল্পের তথ্যের উপর কিভাবে ডিফেন্ড করা যায়? কিভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে অপরাপর সমস্ত ইমামের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে আমরা বিশ্বাস করতে পারি যে, ইবনে মাঈন (রহ.) মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদীকে “সিকাহ” বা বিশ্বস্ত বলেছেন? অধিকন্তু ইমাম যাহাবী সহ অনেকেই এই মতের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছেন এবং প্রমাণিত নয় বলেও অভিমত দিয়ে গেছেন।

সুতরাং, এমতাবস্থায় তাকওয়া আর নিরপেক্ষ বিবেকের দাবী হল, ইমামগণের সর্বসম্মত মতামতের প্রতিই শ্রদ্ধা রাখা ও অগ্রাধিকার দেয়া। মেশকাত কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ “মেরকাত” এর লিখক মোল্লা আলী ক্বারী (রহ.) লিখেছেন, এই বর্ণনা সূত্রের বিচারে সমস্ত হাদীস বিশারদের সর্বসম্মতিক্রমে জঈফ তথা দুর্বল (ضعيف باتفاق المحدثين) । (মেরকাত, কিতাবুল ফিতান, বাবু আশরাতিস সা’আহ باب أشراط الساعة, ভলিয়ম নং ১০, পৃষ্ঠা নং ১০১)। এতেও প্রমাণ হয় যে, ইবনে মাঈনের নামে চালিয়ে দেয়া কথিত ‘সিকাহ’ এর মতটি অপ্রমাণিত ও মিথ্যা। অন্যথা মোল্লা আলী ক্বারী (রহ.) কখনো এর দুর্বল হবার সিদ্ধান্তে “সর্বসম্মতিক্রমে” শব্দ ব্যবহার করতেন না। অতএব, কাদিয়ানীদের জন্য কোনোভাবেই উচিত হবেনা, এই ধরনের একটি পরিত্যাজ্য ও মুনকার রেওয়ায়েতের উপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া, যা অপরাপর অসংখ্য সহীহ হাদীস ও তাওয়াতূর পর্যায়ের হাদীস এবং উম্মাহার ইজমায়ী আকীদার বিরুদ্ধে! (প্রয়োজনীয় স্ক্রিনশট সংযুক্ত)।

সংক্ষেপে,

প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম. এ

ইন্নি মুতাওয়াফফীকা (انى متوفيك) এর তাৎপর্য

0

তাওয়াফফা, মুতাওয়াফফীকা, লাম্মা তাওয়াফফাইতানী প্রসঙ্গে ধারণা

পবিত্র কুরআনের انى متوفيك و رافعك الى এর সঠিক তাৎপর্য

পবিত্র কুরআন এর আয়াত : انى متوفيك و رافعك الى সম্পর্কে সংক্ষেপে একটু লিখছি-

উক্ত আয়াতের তাফসীরে রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে দুইটি তাৎপর্য বর্ণিত আছে, (১) আয়াতের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী অর্থ, নিশ্চয়ই আমি তোমার মেয়াদকাল পূর্ণ করব (অথবা নিশ্চয়ই আমি তোমাকে নিয়ে নেব) এবং তোমাকে আমার নিকট উঠিয়ে নেব। (সূরা আলে ইমরান, ৫৫)।

(২) متوفيك এর توفى ক্রিয়াপদকে মাজাজি বা রূপক অর্থে গ্রহণ করলে তখন ইবনে আব্বাস (রা.) যেভাবে অনুবাদ করেছেন ঠিক সেভাবেই অনুবাদ করা আবশ্যক। তাফসীরে ‘দুররে মানসূর’ কিতাবের তৃতীয় খণ্ডে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, اى رافعك ثم متوفيك فى آخر الزمان অর্থ- হে ঈসা! তোমাকে উঠিয়ে নেব, অত:পর শেষ যুগে তোমাকে মৃত্যু দেব

  • প্রশ্নকর্তা, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর তাফসীর মানতে কেন বাধ্য আমরা?

উত্তর, যেহেতু আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করেছেন, اللهم علمه الكتاب অর্থ- হে আল্লাহ আপনি তাঁকে কুরআন শিখিয়ে দিন। (বুখারী, কিতাবুল ইলম)।

এখন চিন্তার বিষয় যে, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কোনো একটি অনুবাদ বা তাৎপর্যের সাথে আহমদী তথা কাদিয়ানীদের অনুবাদ বা শিক্ষার কানাকড়িও মিল নেই! হায়! ইলাহি জামাত!!

  • প্রশ্নকর্তা, কিন্তু ইবনে আব্বাস (রা.) انى متوفيك এর অর্থ তো انى مميتك অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মৃত্যু দেব—এভাবেও করেছেন। বুখারী, কিতাবুত তাফসীর দেখুন।

উত্তর, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সব কয়টি বর্ণনাকে বাদ দিয়ে তার খণ্ডিত বক্তব্যের বিচারে আমরা কিভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি! আমরা ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলো যা কোথাও কোনো কোনো সনদে দীর্ঘ বাক্যে এসেছে, কোথাও বা আরেক সনদে আংশিক বাক্যে এসেছে; এখন পূর্ণ তাকওয়া আর আমানতদারির দাবী কি তার খণ্ডিত বাক্যের উপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া, নাকি সবগুলো বর্ণনার সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত ফয়সালায় যাওয়া? বিচারের ভার আপনার নিরপেক্ষ বিবেকের উপর সোপর্দ করলাম।

  • প্রশ্নকর্তা, তাহলে এই একই কনসেপ্টে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আর কী কী রেওয়ায়েত এসেছে?

উত্তর, এসেছে তো অনেক। আমি এখানে বিশুদ্ধ সনদে মাত্র তিনখানা ‘গয়রে মাজরূহ রেওয়ায়েত’ তুলে ধরছি,

(ক) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ৫৫ يا عيسى انى متوفيك و رافعك الى এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ করেছেন, اى رافعك ثم متوفيك فى آخر الزمان অর্থ- হে ঈসা! তোমাকে উঠিয়ে নেব, অত:পর শেষ যুগে তোমাকে মৃত্যু দেব। (সূত্র, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, তাফসীরে দুররে মানসূর, ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী)।

(খ) ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, و أَن اللهَ رَفَعَهُ بِجَسَدِهِ وَأَنهُ حَيُ الْآنَ و سَيَرْجِعُ الي الدنيا فيها مَلِكاً ثم يَموتُ كما يموتُ الناسُ. অর্থ- নিশ্চয় আল্লাহতালা তাঁকে (ঈসা) সশরীরে উঠিয়ে নেন এবং তিনি এখনো জীবিত। অতিসত্বর তিনি পৃথিবীতে পুনরায় ফিরে আসবেন। আর তিনি পৃথিবীতে একজন বাদশাহ (শাসক) হবেন। তারপর তিনি অন্যান্য মানুষের ন্যায় মৃত্যুবরণ করবেন।” [সূত্র, আত তবকাতুল কোবরা লি-ইবনে সা’আদ : ১/৩৫-৩৬; ‘যিকরুল কুরূনি ওয়াস সানীনি আল্লাতি বাইনা আদাম ওয়া মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ শীর্ষক পর্ব, মাকতাবাতুল খান্জি, কায়রো মিশর]।

(গ) ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, فأُلْقِىَ عَليه شِبْهُ عيسى، ورُفِعَ عيسى من روزنة في البيت إلى السماء. অর্থ- তারপর তাকে (জনৈক শিষ্যকে) ঈসা’র অবিকল সাদৃশ করে দেয়া হল এবং ঈসাকে তাঁর বাড়ীর বাতায়ন পথে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হল। (সূত্র, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খণ্ড ২, হাদীসের সনদ সম্পর্কে ইবনে কাসীর রহ. বলেছেন وهذا إسناد صحيح إلى ابن عباس على شرط مسلم. অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (রা:) পর্যন্ত এই সনদটি সহীহ এবং ইমাম মুসলিম (রহ:) কৃত শর্তের উপরই প্রতিষ্ঠিত)।

আমার প্রাণপ্রিয় আহমদীবন্ধুরা! আসুন, অন্ততঃ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বুঝের সাথে আমরা সবাই আমাদের বুঝটিকে ঘষামাজা করে নিই।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

কথিত ‘ছায়া হজ্জ’ বনাম ‘মক্কার হজ্জ’ সম্পর্কে

কাদিয়ানীবন্ধুদের আরেকটি ধর্মবিশ্বাস তাদের সালানা জলসা ‘ছায়া হজ্জ’! তাদের উক্ত বিশ্বাসের খোলাসা হচ্ছে, মক্কার হজ্জ মূলত কোনো উপকারী হজ্জই নহে যতক্ষণ না তাদের (কাদিয়ানীদের) ‘সালানা জলসা’তে শরিক হবে। সহজ করে বললে, তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে, মক্কায় অনুষ্ঠিত মুসলিম উম্মাহার এই হজ্জ সম্পূর্ণ রসহীন তথা নিষ্ফল, কোনো উপকারিতা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর প্রবর্তিত ‘সালানা জলসা’ (বার্ষিক সম্মেলন) পালন করা না হবে। নিচের স্ক্রিনশট থেকে দেখে নিন!

পয়গামে সুলহে ১৯/০৪/১৯৩৩ ইং

মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ এর একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে পয়গামে সুলহে পত্রিকায় লাহোরী মুভমেন্ট এর এডিটর ডাক্তার বাশারত আহমেদ সাহেব লিখেছেন, پچہلے دنوں خلیفہ صاحب نے ظلی حج کا اعلان کیا اور بتایا کہ مکہ کا حج چونکہ اپنے مقصد حقیقی کو کہو چکا ہے اور ایک رسمی عبادت کی شکل میں رہ گیا ہے اسلئے اللہ تعالیٰ نے قادیان میں ایک اور ظلی حج مقرر کیا ہے অর্থাৎ দিন কতেক আগে খলীফা (মির্যা বশির উদ্দিন) সাহেব জিল্লী হজ্জের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মক্কার হজ্জ যেহেতু আপনা আসল উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলেছে এবং গতানুগতিক শুধুই একটি ইবাদতের রূপ ধারণ করেছে, সেহেতু আল্লাহতালা কাদিয়ানে দ্বিতীয় আরেকটি জিল্লী হজ্জ চালু করে দিয়েছেন।’ (সূত্র “পয়গামে সুলহে” পাতা ৪, কলাম ২, তাং ১৯/০৪/১৯৩৩ ইং)। কথিত এই জিল্লি হজ্জ সম্পর্কে আরও কিছু উদ্ভট বর্ণনা সম্পর্কে জানতে পরবর্তী স্ক্যানকপি গুলোও দেখা যেতে পারে।

  • মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ এর ‘খুতুবাতে মাহমুদ’ গ্রন্থেও লিখা আছে যে, জলসাও হজ্জের মত (স্ক্রিনশট সহ পড়ুন) Click

ডকুমেন্ট পরিচিত : পয়গামে সুলহে, কাদিয়ানী জামাতের দ্বিতীয় বৃহত্তর গ্রুপের অফিসিয়াল পত্রিকা। আমার নিকট মনে হচ্ছে, এটি প্রতি তিন দিবস অন্তর প্রকাশিত হয়ে থাকে। মির্যা কাদিয়ানীর সিনিয়র সহচর মুহাম্মদ আলী লাহোরী’র প্রতিষ্ঠিত ‘লাহোরি মুভমেন্ট’ কর্তৃক লাহোর থেকে প্রকাশিত। তাদের কেন্দ্রীয় ওয়েব সাইট www.aaiil.org থেকে এর পিডিএফ গুলো ডাউনলোড করা যায়। পত্রিকাটি মূলত তাদেরই প্রতিপক্ষ গ্রুপ তদানিন্তন কাদিয়ানী দ্বিতীয় খলীফা মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ গ্রুপের অফিসিয়াল দৈনিক পত্রিকা ‘আল ফজল’-কে ডিফাইন করতেই বের হত। তাদের মধ্যে প্রথমাবস্থায় বিরোধিতার সূত্রপাত ঘটে ১৯১৪ সালে তাদের প্রথম খলিফা হেকিম নূরউদ্দিনের মৃত্যুর পর। তখন কাদিয়ানী জামাতের একটি অংশ এবং মির্যার স্ত্রী নুসরাত জাহানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদকে খলীফা নির্বাচন করা হয়। অথচ তখন মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ বয়সে খুব ছোট, মাত্র ২৭ বছরের ছিল। আর অপর দিকে মির্যা কাদিয়ানীর ঘনিষ্ঠ সহচর মুহাম্মদ আলী লাহোরীও দ্বিতীয় খলীফার জন্য প্রার্থী হয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ব্যর্থ হন। তারপর তিনি কাদিয়ানী অনুসারীদের বৃহত্তর একটি অংশ নিয়ে ‘লাহোরি মুভমেন্ট‘ গঠন করেন। বর্তমানে ‘লাহোরি মুভমেন্ট’ এর পঞ্চমতম আমীরের যুগ চলছে, নাম প্রফেসর আব্দুল করীম সাঈদ লাহোরী।

আব্দুল করীম সাঈদ

কাদিয়ানীদের সব চেয়ে বড় গ্রুপ ‘আহমদীয়া কমিউনিটি’-এর বর্তমান পঞ্চম খলীফা মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদের প্রপৌত্র মির্যা মাসরূর আহমদ। তাদের এই বৃহত্তর দুটি গ্রুপের মধ্যকার বুনিয়াদী ইখতিলাফ ৪টি। যথা- (১) মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নবী নন, তার ‘নবী’ দাবীটা শুধুই আক্ষরিক অর্থে বিবেচিত হবে, মূলত তার নবী শব্দ থেকে ‘মুহাদ্দাস‘ উদ্দেশ্য। (২) মির্যা সাহেবকে অস্বীকার করা দ্বারা কেউ অমুসলিম বা কাফের হবেনা, বড়জোর ‘ফাসেক’ এবং পরকালে ‘শাস্তির উপযুক্ত’ বলে গণ্য হবে। (৩) মির্যা সাহেবের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী সেই ‘মুসলেহ মওউদ’ মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ নন। কেননা ‘মুসলেহ মওউদ’-এর ভবিষ্যৎবাণী মির্যা সাহেবের আসমানী বিবি মুহাম্মদী বেগমের সাথে সম্পর্কিত ছিল। মির্যা সাহেবের সাথে উক্ত আসমানী বিবির বিবাহ সংঘটিত হবার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (বলে রাখা জরুরি, লাহোরিরা বিশ্বাস করে, আসমানী বিবির সাথে মির্যা সাহেবের বিবাহ জান্নাতে হবে)। (৪) ‘জামাত’ পরিচালনা জন্য ‘খিলাফত পদ্ধতি’ নয়, বরং একটা ‘আঞ্জুমান’ তথা পরিচালনা পর্ষদ হতে হবে। কেননা, খিলাফতের ক্রমধারা নবী থেকে আরম্ভ হয়। অতএব মির্যা সাহেবের নবী দাবীটা যেহেতু ‘মুহাদ্দাস’ অর্থে ধর্তব্য, সেহেতু মির্যা সাহেব থেকে খিলাফতের ক্রমধারা আরম্ভ হওয়া সম্ভব নয় (লাহোরী গ্রুপের বক্তব্য শেষ হল)।

  • আরও কিছু প্রাসঙ্গিক স্ক্যানকপি এই (মূল স্ক্রিনের উদ্দিষ্ট অংশটি ১ এবং ২ নং থেকে Zoom করে দেখানো হল)।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

ইউনুস নবীর নামে মির্যা কাদিয়ানীর মিথ্যাচার

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বই থেকে ধারাবাহিক আরেকটি “মিথ্যাচার”-এর প্রমাণ,

মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন, “খোদাতালা ইউনুস নবীকে অকাট্যভাবে চল্লিশ দিন পর্যন্ত (তার জাতির উপর) আজাব (শাস্তি) প্রদান করার ওয়াদা দিয়েছিলেন। এই ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) একটি অকাট্য ওয়াদা ছিল, যেখানে কোনোরূপ শর্ত ছিল না।” (আঞ্জামে আথহাম, রূহানী খাযায়েন ১১/৩০)। প্রামাণ্য স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য

  • উল্লেখ্য, قطعى তথা ‘অকাট্য বিধান’ শুধুমাত্র পবিত্র কুরআনের সাথেই সম্পর্কিত। আরেকটা কথা বলে রাখা জরুরি তা হচ্ছে, এ ধরণের কোনো কথার সোর্স ইঞ্জিল হলেও হবেনা। কারণ মির্যা কাদিয়ানী ইঞ্জিল সম্পর্কে পরিষ্কার স্টেটমেন্ট দিয়ে গেছেন এভাবে যে, خدا نے ہمیں تو یہ بتلایا ہے کہ عیسائی مذہب بالکل مرگیا ہے اور انجیل ایک مردہ اور نا تمام کلام ہے অর্থাৎ ‘খোদা আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ঈসায়ীধর্ম পুরোপুরি মৃত্যুবরণ করেছে আর ইঞ্জিল একটি মৃত ও অসম্পূর্ণ বাণী।’ (দাফেউল বালা, রূহানী খাযায়েন ১৮/২৪০)।

এখন প্রশ্ন হল, পবিত্র কুরআনের কোথায় বা কোন আয়াতে এধরণের কথা আছে যদি আমাদের একটু দেখিয়ে দিতেন! খুবই কৃতজ্ঞ হতাম। নইলে আবারও সাব্যস্ত হবে যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অসংখ্য মিথ্যার মধ্যে এটিও একটি!

লেখাগুলোও পড়ুন,

মির্যার মতে আল্লাহর প্রতি মিথ্যাচারকারীর হুকুম

প্রমাণের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৪১

কোথাও লিখলেন, আদম প্রথম মানুষ নন, তার আগেও মানুষের প্রজন্ম দুনিয়াতে ছিল। আবার কোথাও লিখেছেন, আদমই সৃষ্টিকূলের মধ্যে সর্বপ্রথম মানুষ এবং সর্বপ্রথম খলিফা, আর আমি তারই সদৃশ সর্বশেষ খলিফা!

  • মির্যা কাদিয়ানীর জনৈক মুরিদের দাবী, আদম (আ.) প্রথম মানুষ ছিলেন না। এখানে তার প্রশ্নের উত্তরে লিখতে চাই!
  • জনৈক কাদিয়ানী অনুসারীর উক্ত মন্তব্যের উপর আমার পালটা ছোট্ট একটি প্রশ্ন এই যে,
  • যদি আদম (আ.)-ই প্রথম মানুষ না হন তাহলে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র হাবিল (বাইবেল মতে হেবল) কিজন্য আপন ভগ্নি আকলিমাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর ১/৯৩)। পৃথিবীতে আদম (আ.) এর আগেও মানব সভ্যতা পূর্ব থেকেই চলে আসলে তবে তো হাবিলের বিয়ের জন্য কন্যাও থাকবে! তা সত্ত্বেও আপন ভগ্নির সাথে বিয়ে কেন? হযরত আদম (আ.)-ই বা এই নিয়ম কিভাবে অনুমোদন দিতে পারেন? সহীহ বুখারী সহ প্রায় সকল হাদীস সংকলনে একথা পরিষ্কার এসেছে, আল্লাহ আদমকে জুমার দিন আসরের পর সৃষ্টি করেছেন (إنَّ من أفضَلِ أيَّامِكُم يومَ الجمُعةِ، فيهِ خُلِقَ آدمُ عليهِ السَّلامُ)। সুনানু নাসাঈ, হাদীস নং ১৩৭৩, হাদীসের মান: সহীহ। এখন এগুলো কি সব আজাইরা কিচ্ছা? নাউযুবিল্লাহ। এবার নিন কুরআন থেকে! সূরা বাক্বারা’র আয়াত নং ৩০; আল্লাহতালা যখন পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানানোর ইচ্ছে প্রকাশ করলেন তখন ফেরেশতারা আপত্তি উত্থাপন করে বললেন اتجعل فيها من يفسد فيها و يسفك الدماء؟ অর্থ- আপনি কি এমন একটি জাতি দুনিয়ায় সৃষ্টি করতে চান যারা বিশৃঙ্খলা করবে এবং রক্তপাত করবে….? এখন প্রশ্ন, আদম (আ.)ই যদি প্রথম মানুষ না হন তাহলে ফেরেশতারা কোন আদমের ব্যাপারে ঐ আপত্তিখানা উত্থাপন করেছিলেন?

কোনো উত্তর থাকেনা!

আর আপনি পবিত্র কুরআনের যেসব উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেসবে মোটেও আপনার মত (বিশ্বাস) সাব্যস্ত হয়না। আপনি আয়াত উল্লেখ করেন। আমি আপনার মিথ্যা আর অজ্ঞতা দুটোই পরিষ্কার করে দেব, ইনশাআল্লাহ।

মির্যা কাদিয়ানীর স্ববিরোধীতা :

এবার মির্যা কাদিয়ানীর স্ববিরোধ কথাগুলো জেনে নিন! তিনি লিখেছেন, (ক) ‘আমরা এটি দাবী করিনা যে, মানুষের এই সমগ্র প্রজন্ম যা বর্তমানে পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিদ্যমান এটি এই সর্বশেষ আদমেরই প্রজন্ম! আমরা তো মনে করি যে, এই আদমের পূর্বেও মানব প্রজন্ম ছিল।‘ (দেখুন, মালফুযাত ৫/৬৭৫; মির্যা কাদিয়ানী, উর্দূ এডিশন)। তিনি তার আরেকটি বক্তব্যে একই মত ব্যক্ত করে এভাবে লিখেছেন যে, (খ) ہمارے آدم سے پہلے بھی کئی امتیں دنیا میں ہو چکی ہیں اس لیے یہ بھی کچھ تعجب کی بات نہیں کہ آریہ لوگ جو کروڑا برسوں کا دعوی کرتے ہیں ان پر وبال آنے کے بعد کچھ لڑکیاں ان کی باقی رہ گئی ہوں انہیں لڑکیوں سے حضرت آدم کے لڑکوں سے نکاح کرلیا ہو অর্থাৎ ‘আমাদের আদমের আগেও পৃথিবীতে অনেক জাতি ছিল, তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে আর্য জাতি, যারা লক্ষ লক্ষ বছর দাবি করে। তাদের উপর বিপর্যয় নেমে আসার পর তাদের কিছুসংখ্যক মেয়ে দুনিয়ায় তখনও থেকে যায়। সেই মেয়েদের সাথে হযরত আদম (আ.)-এর পুত্রদের বিবাহ হয়।’ (দেখুন, আরিয়া ধরম, রূহানী খাযায়েন ১০/৪০)। এবার স্ববিরোধ কথা :-

মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন, (ক) پھر بعد اس کے ہم دیکھتے ہیں کہ پہلا بیٹا تو نوع انسان میں سے آدم ہی تھا چنانچہ انجیلیں اس بات کا اقرار کرتی ہے اور یہ تو معلوم ہے۔۔۔۔۔۔ অর্থাৎ ‘এরপর আমরা দেখি যে, মানব প্রজাতির মধ্যে সর্বপ্রথম মানব ছিলেন আদমই। ইঞ্জিলসমূহ একথারই সাক্ষ্য দেয়। আর একথা তো জানাই আছে যে, বুযূর্গি (সম্মাননা) প্রথমোক্তেরই হয়ে থাকে। আর এমন কাউকে তো বুযূর্গই বলা যায় না যে (ঈসা আ: এর প্রতি ইংগিত- অনুবাদক) পরে আসেন এবং প্রথমোক্তের কাছ থেকে কোনো কথা মুখে তুলে নেন। আর খোদাতালা তো আদমকে নিজ হাতে এবং স্বীয় আকৃতিতে (গুণে) সৃষ্টি করেছেন এবং খুব ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি তাঁর অভ্যন্তরে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন।’ (দেখুন, নূরুল হক, রূহানী খাযায়েন ৮/১০৫)। তিনি আরেক জায়গায় লিখেছেন, (খ) ‘এই জন্যই নিয়তির দাবী হল, যে মানুষটা সর্বশেষ খলিফা হবেন তিনি ঐ আদমের সদৃশ হবেন যিনি সমস্ত খলিফার সর্বপ্রথমে ছিলেন এবং সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বপ্রথম মানুষ ছিলেন। যার প্রতি খোদাতালা রূহ ফুঁকিয়ে ছিলেন।’ (দেখুন, খুতবাতুল ইলহামিয়্যাহ, রূহানী খাযায়েন ১৬/২৫৬)। তিনি আরেক জায়গায় লিখেছেন, (গ) ‘খোদাতালা আদমকে ষষ্ট দিবসে জুমাবারে আসরের পর সৃষ্টি করেছেন। তাওরাত, কুরআন এবং হাদীসসমূহ হতে এটাই সাব্যস্ত হয়। আর খোদাতালা মানুষের জন্য সাতটি দিবস নির্ধারিত করেছেন। এই দিবসগুলোর মুকাবিলায় খোদার প্রতিটি দিবস হাজার বছরের সমান। এর আলোকে উদ্ভাবন করা হয়েছে যে, আদম থেকে নিয়ে দুনিয়ার বয়স সাত হাজার বছর। আর ষষ্ঠতম হাজার যা ষষ্ঠতম দিবসের মুকাবিলায়, সেটি আদমে ছানী বা দ্বিতীয় আদমের (এখানে ‘দ্বিতীয় আদমন’ বলে মির্যা নিজের সত্তাকে ইংগিতে বুঝিয়েছে-অনুবাদক) প্রকাশের দিবস। (দেখুন, যামিমা বারাহিনে আহমদীয়া, রূহানী খাযায়েন ২১/২৬০)।

ক্রমানুসারে প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

আল্লাহ’র প্রতি মিথ্যাচারকারী সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানীর ব্যাখ্যা

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। একজন নবী রাসূল দাবীদার। জন্ম ১৮৩৯ বা ১৮৪০ ইং আর মৃত্যু সন ১৯০৮ ইং। উল্লেখ্য, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সাহেব নিজেই নিজের জন্ম সন সম্পর্কে ১৮৩৯ অথবা ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ লিখে গেছেন। (রূহানী খাযায়েন ১৩/১৭৭)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি,

আজকে তারই রচিত “হাকীকাতুল ওহী” বই থেকে একটা চমৎকার লিখা তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার প্রতি মিথ্যা আরোপ করা কত বড় অপরাধ? এমন প্রশ্নের উত্তরে পবিত্র কুরআনের সূরা আল আ’রাফ আয়াত নং ৩৭ উল্লেখ করে মির্যা সাহেব লিখছেন, “অর্থাৎ বড় কাফের দুইটিই আছে। প্রথমটি হইল, যে খোদা সম্পর্কে মিথ্যা বলে এবং দ্বিতীয়টি হইল, যে খোদার কালামকে অস্বীকার করে।” (হাকীকাতুল ওহী পৃষ্ঠা নং ১৩০, বাংলা অনূদিত কপি)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি,

এখন আমার প্রশ্ন হল, মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের লেখিত প্রায় সব কয়টি রচনায় মহান আল্লাহতালা সম্পর্কে মিথ্যাচার করার ভুরি ভুরি প্রমাণ রয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি নিজেই নিজের কথা অনুসারে অনেক বড় একজন কাফের সাব্যস্ত হলেন কিনা? আফসোস! কাদিয়ানী জামাতের সদস্যরা মির্যার জীবন-চরিত্র নিয়ে চিন্তা করেনা। অথচ ধর্ম জগতে কোনো মিথ্যাবাদীর যে কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বা দর্শন পুরোই মূল্যহীন। আর এমন ব্যক্তি যদি বড় কাফের সাব্যস্ত হন তাহলে তো কথাই নেই; কেচ্ছা সেখানেই খতম! আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তাওফিক দিন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কাদিয়ানীদের এই দলিলগুলো সিয়াহ সিত্তার বাহিরের সংকলন থেকে

আহমদী-কাদিয়ানীবন্ধুদের হীতে বিপরীত কতিপয় অর্বাচীন মন্তব্য তুলে ধরছি

আমরা যখনি সিজোফ্রেনিয়া পাড়ার বন্ধুদের বরাবর সহীহ বুখারী মুসলিমের বাহিরেও হাদীসের অন্যান্য সংকলন থেকে হাদীস সমূহ রেফার করি, তখন তারা কী বলে শুনুন,

“আরে ভাই, এই সমস্ত কিতাব বাদ দেন। পারলে বুখারী বা মুসলিম শরীফ থেকে হাদীস দেখান।”

তখন প্রতিউত্তরে তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, আপনারা মির্যা কাদিয়ানীকে ইমাম মাহদী সাব্যস্ত করার জন্য যেই চন্দ্রসূর্য গ্রহণের রেওয়ায়ত দেখান সেটি কি বুখারী আর মুসলিম শরীফ থেকে দেখান? নির্লজ্জ এই ব্যাচারার তখন লম্বা জিহবা চিরতরে খামুশ হয়ে যায়!

সহীহ বুখারী-মুসলিম এমনকি সিয়াহ সিত্তার বাহিরের অন্যান্য সংকলন থেকে কাদিয়ানীদের উদ্ধৃত করার কিছু প্রমাণ এখানে তুলে ধরছি,

১. “একই রমাযানে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের রেওয়ায়েত (إن لمهدينا آيتين لم تكونا منذ خلق السماوات والأرض)।” সিয়াহ সিত্তার বাহিরের সংকলন ‘দারে কুতনী, কিতাবুল ঈদাইন’ থেকে। উল্লেখ্য, এই ধরণের ঘটনা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও সাধারণ। যার ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত দেয়া যাবে। তাছাড়া এটি ‘হাদীস’ হিসেবে প্রমাণিতও নয়। অবাক করার ব্যাপার হল, দারে কুতনী নামক কিতাবের বর্ণনাটিতে উল্লেখ আছে, آيتين لم تكونا {আয়াতাঈনি লাম তাকূনা} অর্থাৎ এই দুটি এমন নিদর্শন যা (ইতিপূর্বে আর) সংঘটিত হয়নি’- তাহলে রাসূল (সা:) এর যুগ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এটি কম করে হলেও প্রায় ১০৯ বার কী কারণে সংঘটিত হল? যদিও বা নাসা’র বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে আজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজারেরও অধিক এই ধরণের গ্রহণের ঘটনা ঘটেছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। বিস্তারিত, ক্লিক

২. “যদি মূসা ও ঈসা দুইজনই জীবিত থাকত তাহলে আমার আনুগত্য ছাড়া তাঁদের আর কোনো উপায় থাকত না (لو كان موسى وعيسى حيين ، لما وسعهما إلا اتباعي)।” সিয়াহ সিত্তার বাহিরের সংকলন ‘তাফসীর ইবনে কাসীর’ থেকে। উল্লেখ্য, ইমাম ইবনে কাসীর এটিকে ভিত্তিহীন হওয়া সত্ত্বেও শুধুই সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গ্রন্থবদ্ধ করেছেন। অধিকন্তু তাঁর নিজেরও আকীদা ছিল, ঈসা (আ.)-এর এখনো মৃত্যু হয়নি, তিনি শেষযুগে আকাশ থেকে নাযিল হবেন। তার বক্তব্য এইরূপ, (ذكر الأحاديث الواردة في نزول عيسى بن مريم إلي الأرض من السماء في آخر الزمان قبل يوم القيامة)। দেখুন, তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা নিসা আয়াত-১৫৭-৫৮ সংশ্লিষ্ট তাফসীর। শায়খ আলবানী (রহ.) লিখেছেন, ঈসা শব্দে উল্লিখিত রেওয়ায়েত সহীহ নয়, তবে শুধুই মূসা শব্দে উল্লিখিত রেওয়ায়েতটি বহু সূত্রের সমষ্টিতে শক্তিশালী (فذكر عيسى في هذا الحديث لا يصح ، الحديث قوي بمجموع طرقه لذكر موسى :(لو كان موسى حيا لما وسعه إلا إتباعى) তথ্যসূত্রঃ, ফাতাওয়া আ’বরুল হাতিফ ওয়াস সাইয়ারাহ (فتاوى عبر الهاتف والسيارة) পৃ-১৪১। বিস্তারিত, ক্লিক

৩. ইমাম মাহদী ইয়েমেনের ‘কার’আ’ [কাদিয়ানীরা শব্দটিকে বিকৃত করে ‘কাদেয়া’ শব্দে] নামক গ্রাম থেকে বেরুবেন (يخرج المهدي من قرية باليمن يقال لها كرعة)। সিয়াহ সিত্তার বাহিরে ইমাম সুয়ূতির সংকলন ‘আল আরফুল ওয়ারদি ফী আখবারিল মাহদী’ পৃ-৫৬ থেকে। উল্লেখ্য, ঐ একই বর্ণনায় ‘ইয়েমেন’ দেশটিরও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কাদিয়ানী নেতারা সম্পূর্ণ রেওয়ায়েত থেকে ‘ইয়েমেন’ (اليمن) শব্দটি আস্তে করে হজম করে ফেলে। শুধু তাই নয়, কার’আ (كرعة) শব্দকে “কাদেয়া” (كدعة) শব্দেও পরিবর্তন করে ফেলে। যাইহোক, এটি জাল ও অগ্রহণযোগ্য রেওয়ায়েত। হাদীসশাস্ত্রের প্রায় ১৬ জন বিশেষজ্ঞ যারা মির্যা কাদিয়ানীর জন্মেরও শতাধিক বছর আগেকার, তারা প্রত্যেকে এর সনদ (সূত্র) পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে পরিষ্কার লিখে গেছেন ‘এটি জাল তথা বানোয়াট হাদীস’। বিস্তারিত, ক্লিক

৪. “একটি দল আহমদ নামের মাহদী’র সঙ্গী হয়ে হিন্দুস্তানে সশস্ত্র যুদ্ধ করবে (اصابة تغزوا الهند و هى تكون مع المهدى اسمه أحمد)।” সিয়াহ সিত্তার বাহিরের সংকলন ”আত-তারীখুল কাবীর’ গ্রন্থ থেকে। উল্লেখ্য, মির্যার বাড়ী হিন্দুস্তানে হওয়ায় রেওয়ায়েতটিতে “হিন্দুস্তান” (الهند) শব্দ দেইখা খুশি হবার কোনো কারণ নেই। কেননা প্রথমত, রেওয়ায়েতটি ভিত্তিহীন। দ্বিতীয়ত, এই রেওয়ায়েতেই ঐ মাহদী হিন্দুস্তানে কাফের-মুশরিকদের সাথে সশস্ত্র যুদ্ধকরা প্রসঙ্গে গাজওয়াহ (غزوة/Armed struggle) শব্দ স্পষ্টভাবে এসেছে। অথচ মির্যা কাদিয়ানী আজীবন যুদ্ধবিগ্রহেরই বিরোধিতা করে আসছে। তাহলে এখন এই রেওয়ায়তটিও মির্যার সাথে কিভাবে মিলাবেন?

৫. “ঈসা ইবনে মরিয়ম ১২০ বছর জীবনযাপন করেছেন (إنه لم يكن نبي إلا عاش نصف عمر الذي كان قبله وأخبرني أن عيسى بن مريم عاش عشرين ومائة سنة ولا أراني إلا ذاهباً على رأس الستين فبكت)।” সিয়াহ সিত্তার বাহিরের সংকলন ইমাম সোলায়মান ইবনে আহমদ আত-তাবারানী’র ‘মু’জামুল কাবীর ৫/১১৬’ এবং ইবনে কাসীর সংকলিত ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ ২/৯৫ থেকে। উল্লেখ্য, দেওয়ায়েতটির ধারাবাহিক বর্ণনা সূত্র খুবই দুর্বল ও মুনকার। হাফেজুল হাদীস ইমাম ইবনে আসাকির (রহ.) লিখেছেন, বিশুদ্ধ কথা হল, ان عيسى لم يبلغ هذا العمر অর্থাৎ নিশ্চয়ই ঈসা এই বয়সে পৌঁছেননি। অধিকন্তু একই বর্ণনার শেষের লাইনে লিখা আছে, ‘প্রত্যেক নবী তাঁর পূর্বের নবীর অর্ধেক আয়ুষ্কাল অবশ্যই পেয়েছেন (أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ إِلَّا عَاشَ نِصْفَ عُمَرَ الَّذِي قَبْلَهُ)। এখন যারা এই রেওয়ায়ত অথেনটিক মানেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই, এই জ্যামিতিক হিসাবে নবী দাবীদার খোদ মির্যার বয়সটিও হওয়া উচিত ছিল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ৬৩ বছরের অর্ধেক অর্থাৎ ন্যূনতম ৩১ বছর। কিন্ত আফসোস এটাও সম্ভবপর হয়নি! বরং মির্যা কাদিয়ানী (১৮৩৯/৪০-১৯০৮) মারা যান ৬৮/৬৯ বছর বয়সে! (রূহানী খাযায়েন ১৩/১৭৭) কবি নিরব! বিস্তারিত, ক্লিক

৬. আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, “তোমরা খাতামুল আম্বিয়া বলো, (তবে) তোমরা বলবেনা তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই (خَاتَمُ النَّبِيِّينَ , وَلا تَقُولُوا : لا نَبِيَّ بَعْدَهُ)।” সিয়াহ সিত্তার বাহিরের সংকলন ইমাম তাহের পাটনী (রহ.) সংকলিত ‘মাজমাউল বিহার’ পৃ- ৫০২ থেকে। উল্লেখ্য, তারা এর পরের অংশটুকু আর বলে না! অথচ সংশয় নিরসনকারী জবাব তার পরের অংশেই উল্লেখ রয়েছে। কেননা পরের অংশটি হচ্ছে (আরবী) هذا ناظراً إلى نزول عيسى অর্থাৎ এটি ঈসার নাযিল হওয়ার প্রতি দৃষ্টি রেখে। যাইহোক, এভাবে বললে অনেক বলা যায়। বিস্তারিত, ক্লিক

এখন প্রশ্ন হল, কাদিয়ানীরা যখন প্রতিপক্ষের নিকট দলিল প্রমাণ শুধুই কেবল সহীহ বুখারী আর মুসলিম শরীফ থেকে কিংবা সিয়াহ সিত্তার সংকলন থেকে দিতে দাবী করেন তখন নিজেদের এই সমস্ত উদ্ধৃতির সোর্স-এর কথা কেন স্মরণ থাকেনা? আরে জনাব! একটু তো সুবিচার করবেন, তাই না! এত নির্মম আর নিকৃষ্ট দ্বৈত আচরণ আল্লাহ সহ্য করবেন না!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কাদিয়ানীদের বইতে কাউকে মুরতাদ বলার হুকুম

কাদিয়ানীদের তথাকথিত তৃতীয় খলীফা মির্যা তাহের আহমদ এর বই থেকে

প্রথমে মুরতাদ সম্পর্কে জানা যাক, তারপর প্রাসঙ্গিক আলোচনায় ফিরব, ইনশাআল্লাহ। মুরতাদ (مرتد) শব্দটি আরবী। এর ক্রিয়ামূল হচ্ছে ‘আল ইরতিদাদ’ (الارتداد)। বাবে ইফতি’আল থেকে। মূলধাতু رد বা রাদ্দ। আভিধানিক অর্থ, বিমুখ হয়েছে বা ফিরে গিয়েছে এমন ব্যক্তি। এর মূল কথা হলো, ইসলাম ত্যাগ করা বা ইসলামের কোনো মৌলিক আকিদা বা বিধানকে মানতে অস্বীকার করা কিংবা তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করা অথবা ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের অবমাননা করা।

কাদিয়ানী খলীফা মির্যা তাহের আহমদ-এর বাণীতে কেউ আপর কাউকে মুরতাদ বলার অধিকার নেই :

কাদিয়ানী মতবাদের তৃতীয় খলীফা মির্যা তাহের আহমদ সাহেব ‘অপর কাউকে মুরতাদ বলা’ সম্পর্কে কী লিখলেন তা এবার আপনাদের দেখাচ্ছি। তিনি তার রচিত ‘আল্লাহ’র নামে নরহত্যা‘ বইতে লিখেছেন, “পবিত্র কুরআনে ‘রিদ্দা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে অকর্মক রূপে (ইফতি’আল-এর ওজনে) যার অর্থ হচ্ছে, প্রত্যেকের পছন্দ অপছন্দের অধিকার আছে, কিন্তু কারো এই অধিকার নেই যে, সে অপর কাউকে মুরতাদ বলে। এটা একটি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত কাজ এবং এতে বাহিরের কারও কোনো ভুমিকা পালন করার কিছু নেই।” তিনি একই পৃষ্ঠায় কয়েক লাইন উপরে ‘ইরতাদ্দা’ এর ব্যকরণিক বিশ্লেষণ দ্বারা লিখেছেন, “স্বকীয় বিশ্বাস পরিত্যাগ বা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে পবিত্র কুরআন যে শব্দটি ব্যবহার করেছে তা হচ্ছে, ইরতাদ্দা’-যার অর্থ—কোনো মুসলমানকে মুরতাদ বলার অধিকার কারো নেই। ইমাম রাগিব ইস্পাহানীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘ইরতেদাদ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে–যে স্থান থেকে রওয়ানা দিয়েছিল সেই স্থানে ফিরে আসা। শব্দটি বিশেষভাবে সেইভাবে ধর্মত্যাগ করার অর্থাৎ ইসলাম থেকে কুফরীতে (অবিশ্বাসে) প্রত্যাবর্তন করার সঙ্গে সম্পৃক্ত।” (আল্লাহর নামে নর হত্যা, পৃষ্ঠা নং ১১; মির্যা তাহের আহমদ)। স্ক্রিনশট এই,

পরিশেষে আমার প্রশ্নটি হচ্ছে, অনলাইন কিবা অফলাইনে আমরা আহমদী-কাদিয়ানীদের অনেককে কথায় কথায় ‘কাদিয়ানী জামাত ত্যাগকারী’-কে মুরতাদ আখ্যা দিতে দেখে থাকি। অথচ একটু আগেই আমরা প্রমাণ করেছি যে, তাদের কথিত খলীফা মির্যা তাহের আহমদ পরিষ্কার করে লিখে গেছেন যে, কারও জন্য অপর কাউকে মুরতাদ বলার অধিকার নেই। এমতাবস্থায় কাদিয়ানী জামাতের যারা কথায় কথায় তাদেরই Ex Ahmadi or Ex Qadiani (জামাত-ত্যাগকারী)-দের মুরতাদ বলছে তাদের ব্যাপারে জামাতে আহমদীয়ার অফিসিয়ালি কী ফতুয়া (সীদ্ধান্ত)? আশাকরি প্রশ্নের উত্তর দেবেন!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

ঈসা (আ.) শেষ যুগে দামেস্কের কোন জায়গায় নাযিল হবেন?

জনৈক কাদিয়ানী কাল্ট-এর হাস্যকর কিছু কন্টেন্ট ও আমার পালটা কিছু প্রশ্ন,

▪️মাহদী অনেক কিন্তু ‘ইমাম আল মাহদী’ একজনই।

আমার প্রশ্ন, এখন সেই একমাত্র ইমাম মাহদীটা যদি মির্যা কাদিয়ানী হয় তাহলে সহীহ ও মারফূ সূত্রে বর্ণিত মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলো দিয়ে মির্যাকে ইমাম মাহদী প্রমাণ করতে পারেন না কেন?

▪️দুইজন ফেরেস্তার দুই ডানায় ঈসা (আ.) তাঁর দুই বাহু রেখে দামেস্কে নাযিল হবেন অর্থাৎ উনার সাথে স্বর্গীয় সাহায্য থাকবে।

আমার প্রশ্ন, এইরকম (অপ)ব্যাখ্যা কোনো একজন বরেণ্য হাদীস বিশারদ আর যুগ ইমাম থেকেও কিজন্য প্রমাণ করতে পারেন না? যাইহোক, তাহলে দামেস্ক-এর কী রূপক ব্যাখ্যা দেবেন? যেহেতু ঈসা (আ.) নাযিল হবেন দামেস্কের (সিরিয়ায়) শ্বেত মিনারার সন্নিকটে। শ্বেত মিনারার-ও বা কী ব্যাখ্যা দেবেন? নাকি হাদীসটির অন্য সবকিছু রূপক, শুধুই শ্বেত মিনারাটাই বাস্তব? এগুলা যে সম্পূর্ণ ফাজলামি ব্যাখ্যা তা বুঝার আর কী বাকি! উল্লেখ্য, হযরত কাতাদাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন, الشام أرض المحشر و المنشر و بها يجتمع الناس رأسا واحدا و بها ينزل عيسى ابن مريم و بها يهلك الله المسيح الدجال অর্থাৎ শাম পুনরুত্থিত ও একত্রিত হবার ভূমি। মানুষ সেখানে (কেয়ামত দিবসে) সারিবদ্ধ হয়ে একত্রিত হবে এবং সেই ভূমিতেই ঈসা ইবনে মরিয়ম নাযিল হবেন এবং সেখানেই আল্লাহতালা (তাঁর মাধ্যমে) মসীহ দাজ্জালকে ধ্বংস করবেন। (তারিখে দামেস্ক, ইমাম ইবনে আসাকির খ-১/ পৃ-১৭০)।

বলে রাখা জরুরি, মুসলিম শরীফের হাদীসে شرقى دمشق দ্বারা দামেস্কের পূর্বপ্রান্তে বলে দামেস্ক ভিন্ন অন্য কোনো ভূখণ্ড উদ্দেশ্য নয়, বরং দামেস্কেরই প্রাচীনতম ভৌগোলিক পরিসীমার অন্তর্গত একই ভূমির পূর্বপ্রান্তে শ্বেত মিনারার সন্নিকটে ঈসা (আ.) অবতীর্ণ হবেন বলে বুঝানো হয়েছে, যা তারিখে দামেস্কের উল্লিখিত বর্ণনা (و بها ينزل عيسى ابن مريم) দ্বারাও পরিষ্কার ইংগিতবিশিষ্ট। সুতরাং কাদিয়ানীদের ব্যাখ্যামতে ‘দামেস্কের পূর্বপ্রান্তে মানে দামেস্কের পূর্ব দিকের হিন্দুস্তান রাষ্ট্র উদ্দেশ্য নেয়া’- ইসলামী শিক্ষায় সুস্পষ্ট তাহরিফ বৈ কিছুই না।

প্রসঙ্গত, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত উমাইয়া মসজিদ বা দামেস্ক গ্র্যান্ড মসজিদ বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। উমাইয়া খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের শাসনামলে ৭০৫ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘ নয় বছরের পরিশ্রম শেষে ৭১৪ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। ইসলামী বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন যে, সহীহ মুসলিমসহ অন্যান্য হাদিসগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী কেয়ামতের আগে এখান থেকেই নবী হযরত ঈসা (আ.) পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। মসজিদটির দক্ষিন-পূর্ব, দক্ষিন-পশ্চিম কোণ এবং উত্তর দিকে মোট তিনটি মিনার রয়েছে। এরমধ্যে বাম দিকের মিনারটি منارة المسيح বা ‘যিশু মিনার’ (minarat of jesus) নামেও পরিচিত।

▪️আগমনকারী ইমাম মাহদী মির্যা কাদিয়ানী সাহেব দাদীর দিক থেকে ফাতেমা (রা.) বংশেরও।

আমার প্রশ্ন, মির্যা কাদিয়ানী তাহলে তার আরেক রচনায় নিজেকে ফাতেমি হওয়া কিজন্য অস্বীকার করল? দেখুন, রূহানী খাযায়েন ২১/৩৫৬।  আর আপনাদের ‘আহমদ চরিত’ বইতে তার বংশ মোগল বরলাস (তৈমুর লং-এর বংশধর) উল্লেখ আছে। (আরও দেখুন, হায়াতে তাইয়েবাহ পৃষ্ঠা নং ২)। এখন কোনটা সঠিক?

▪️মরিয়ম সিদ্দীকা ছিলেন, মরিয়ম থেকে নবীর জন্ম হয়েছে সেইভাবে মির্যা গোলাম আহমদ দুই বছর সিদ্দিক থাকার পর নবী হয়েছেন।

আমার প্রশ্ন, মির্যা কাদিয়ানী ‘রূপক ঈসা’ দাবী করেছেন। এমনকি রূপকভাবে প্রেগন্যান্ট হওয়ার দাবীদারও তিনি। এখন তার আরেক ভাষ্যমতে, আগামীতে আরও দশহাজারের চেয়েও অধিক মসীহ্ দুনিয়ায় আগমন করলে, তখন তারাও কি সবাই প্রেগন্যান্ট হবেন? (দেখুন, রূহানী খাযায়েন খণ্ড ৩ পৃষ্ঠা ২৫১)। খোদার সাথে কাশফি হালতে তাদেরও কি ইন্টারকোর্স হবে? (নাউযুবিল্লাহ); তারাও কি উম্মতি/জিল্লি/বুরুজি নবী হবেন? কবি বরাবরের মত এখানেও নিরব!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

- Advertisement -

Recent Posts