Friday, March 24, 2023
Home Blog

সহজে কাদিয়ানী চেনার উপায়

লিফলেট? : কাদিয়ানী কারা? ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ হাইকোর্ট থেকে তাদের বইপুস্তক বাজেয়াপ্ত করে কেন?

মির্যা কাদিয়ানীর স্ববিরোধ কথাবার্তা [1][2][3][4][5][6][7][8][9][10][11][12][13][14][15][16][17][18][19][20][21][22][23][24][25][26][27][28][29][30][31][32][33][34][35][36][37][38][39][40][41][42][43][44][45][46][47][48][49][50]

হায়াতে ঈসা : কুরআনুল কারীম [1][2][3][4][5] | হাদীস শরীফ [1][2][3][4][5][6] যুগ-ইমামগণ [1]

খতমে নবুওয়ত : [খাতাম][খাতামুন নাবিয়্যীন][মির্যায়ী অপব্যাখ্যা ও খণ্ডন [1][2][3] [আয়াত][হাদীস][ত্রিশজন মিথ্যাবাদী নবী]

মির্যা কাদিয়ানীর নবী রাসূল দাবী : [1][2][3][4] | মির্যায়ী রচনাবলীতে তাকফির : [1][2][3] | কাদিয়ানীদের চেপে রাখা ধর্মবিশ্বাস : [1][2][3]

ইমাম মাহদী : [1][2][3][4][5]

সহজে কাদিয়ানী চেনার উপায় :

কাদিয়ানীরা সাধারণত খুবই ধূর্ত ও জঘন্য প্রতারক হয়ে থাকে। তাদের বেশিরভাগই মাথায় কালো টুপি পরে আর মুখে ফ্রেঞ্চ কাটিং দাড়ি রাখে। তাদের ৯০% ফেইসবুক ইউজারের প্রোফাইল লক থাকে, খুব বেশি তর্কপ্রিয় ও ঝগড়াটে হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য একদম সাধারণ বিষয়কেও দুর্বোধ্যভাবে পেশ করে থাকে। তাদের খুব কমন একটা ডায়লগ ঈসা আ. আবার আসলে তখন শেষনবী কে থাকছেন? এর উত্তর আলাদা আর্টিকেলে দেয়া হয়েছে। এখানে সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলব যে, ঈসা (আ.)-এর পুনঃ আগমনের প্রেক্ষিতে এই জন্য প্রশ্ন নেই যে, ঈসা (আ.) মুহাম্মদ (সা.)-এর আগেই নবুওয়ত প্রাপ্ত একজন নবী। আর ঈসা (আ.) শেষ যুগে নবুওয়তের দায়িত্ব নিয়ে অর্থাৎ নবী হিসেবে আসবেন না, বরং একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক এবং সুপথপ্রাপ্ত ইমাম (حكما عدلا و اماما مهديا) ও উম্মতে মুহাম্মদীর পদ মর্যাদা নিয়ে (و على ملته) আসবেন। এখানে আরেকটা কথা বলে রাখা জরুরি যে, উম্মতে মুহাম্মদীর পদ মর্যাদা নিয়ে আসার অর্থ এ নয় যে, তাঁর পূর্বের নবুওয়ত বাতিল হয়ে যাবে, বরং এখানে ঐ কথার অর্থ হল, নবুওয়তে মুহাম্মদীর সময়টিতে তাঁর আনীত শরীয়ত রহিত ও তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শেষনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শরীয়তের অনুগামী হয়ে যেতে বাধ্য। কারণ হাদীসে সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, لو كان موسى حيا ما وسعه إلا اتباعي অর্থাৎ যদি মূসাও (ইহজগতে) জীবিত থাকত তাহলে তাঁর জন্যও আমার আনুগত্য করা ছাড়া কোনো উপায় ছিলনা। (মুসনাদে আহমদ ৩/৩৮৭, হাদীসের মান – হাসান)। তাদের আরও একটি ডায়লগ হচ্ছে, ঈসা (আ.) এর পক্ষে আবার এসে সারা দুনিয়া ঘুরে ঘুরে খ্রিস্টানদের ক্রুশগুলো ভাঙ্গা এবং জঙ্গল থেকে সমস্ত শুয়োর খোঁজে খোঁজে হত্যা করা কীভাবে সম্ভব? উত্তরের জন্য পড়ুন এখান থেকে। কাদিয়ানীদের আরেকটা ডায়লগ হল, যদি ‘শেষনবী‘ বলতে এই অর্থ উদ্দেশ্য হয় যে, ‘তাঁর (সা.) পর আর কাউকে নবী বানানো হবেনা’ তখন প্রশ্ন আসবে যে, ‘আমি তখনও খাতামান নাবিয়্যীন ছিলাম যখন আদম পানি এবং কাদার মাঝে সৃষ্টির সূচনায় ছিলেন‘—হাদীসটির কী অর্থ উদ্দেশ্য? আসলে তারা এ সমস্ত প্রশ্ন ও তর্কের আড়ালে মির্যা কাদিয়ানীর মসীহ ও নবী দাবীর বৈধতা খুঁজতে চায়। কিন্তু হাস্যকর ব্যাপার হল, এদের কাউকেই আমি আজ পর্যন্ত স্বীকার করাতে পারিনি যে, তারা কি তাহলে নিজেদের মির্যা কাদিয়ানীর ‘উম্মত’ বলে স্বীকার করবে? কেননা যে কাউকে ‘নবী’ মানবে সে নিজেকে নির্বিঘ্নে তার ‘উম্মত’ বলেও স্বীকারোক্তি দিবে—এটাই স্বাভাবিক! আর এমনটা তো নয় যে, আমরা আগত ঈসা (আ.)-এর পুনরায় আগমনকে স্রেফ ‘উম্মতি‘ হিসেবেই বিশ্বাস করে কোনো ভুল করছি! আমরা কুরআন এবং হাদীস হতে আমাদের মুসলিম উম্মাহার বিশ্বাসের সমর্থনে মজবুত দলিলও দিয়ে থাকি, এমনকি মির্যা কাদিয়ানীর রচনাবলি হতেও। জেনে আশ্চর্য হবেন, আগত ঈসা নবুওয়তের দায়িত্বে থাকবেন না, তিনি স্রেফ ‘উম্মত’ হিসেবে থাকবেন; এ কথা খোদ মির্যা কাদিয়ানীর-ও। যেমন সে তার রচনার এক স্থানে লিখেছে, “কুরআন শরীফ দ্বারা তো সাব্যস্তই আছে যে, প্রত্যেক নবীই হযরত (সা.)-এর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহতালা বলেন, لتؤمن به و لتنصرنه (তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে)। সুতরাং এইভাবেই সমস্ত আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম) হযরত (সা.) এর উম্মত হয়ে যান।” (বারাহীনে আহমদীয়া খ-৫, রূহানী খাযায়েন ২১/৩০০)। বলাবাহুল্য, ‘সমস্ত আম্বিয়া’ বলতে কিন্তু ঈসা (আ.)-ও তার মধ্যে শামিল। জানি না এখন তার ঝগড়াটে উম্মতেরা এর প্রতিউত্তরে কী বলবে! এদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা সাধারণত নেকাব পরে নাকের নিচ দিয়ে। এদের ধর্মীয় পড়াশোনার হাতেগড়ি নির্দিষ্ট দুটি সাবজেক্ট—ঈসা (আ.) জীবিত না মৃত আর মুহাম্মদ (সা.)-এর পরেও নবুওয়তের সিলসিলা (ধারাক্রম) চালু না বন্ধ, এই দুটো নিয়ে। তারা মূলত মির্যা গোলাম আহমদকে একজন রূপক মসীহ সাব্যস্ত করতেই হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহ সশরীরে জীবিত আকাশে উঠিয়ে নেয়ার কুরআন সুন্নাহভিত্তিক আকিদার অস্বীকারকারী। অথচ সহীহ মুসলিম, তারীখে দামেস্ক, কাঞ্জুল উম্মাল ইত্যাদি গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনায় এসেছে যে, ঈসা (আ.) শেষযুগে দামেস্কে নাযিল হবেন। আল্লাহ তাঁকে ফেরেশতার মাধ্যমে আকাশ থেকে পাঠাবেন। তেমনিভাবে ইসলামের গত চৌদ্দশত বছরের ইতিহাসে গত হয়ে যাওয়া সমস্ত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের ইমামগণেরও বিশ্বাস হচ্ছে, ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু এখনো হয়নি। কিন্তু কাদিয়ানীধর্মের বিশ্বাসমতে, ঈসা (আ.)-এর ১২০ বছর বয়সে কাশ্মীরে মৃত্যু হয়ে গেছে, কাশ্মীরের খান ইয়ার মহল্লায় সমাহিত ইউজ আসেফ (1,2) নামীয় ব্যক্তির কবরটিই ঈসা (আ.)-এর কবর (নাউযুবিল্লাহ)। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীই মূলত ‘কাদিয়ানী জামাত’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাকে তার সাধারণ অনুসারীরা ইমাম মাহদী বিশ্বাস করার দাবী করলেও ‘নবী’ বিশ্বাস করেনা বলেই সাফ বলে দেয়ার চেষ্টা করে। আসলে এরা নিজেদের অজ্ঞতার জন্যই তাকে যেমন ইমাম মাহদী বিশ্বাস করে নিয়েছে, ঠিক একই রকম অজ্ঞতার জন্যই তারা তার নবী দাবী করা সম্পর্কেও বেখবর। এরা খুব সাধারণ ও জেনারেল মানুষদের ধোকা দিয়ে থাকে। সম্প্রতি জেনারেল শিক্ষিতরাও এদের ব্যাপারে খুবই সাবধান হচ্ছেন। চট্টগ্রামের জনৈক চিকিৎসক একদা আমার কাছ থেকে জানতে চাইলেন যে, সাধারণদের জন্য কাদিয়ানীদের সাথে ডিবেট করার পন্থা কী? অর্থাৎ কোন নিয়মনীতি মান্য করলে তাদের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে সফল হওয়া যাবে।? যাইহোক, কাদিয়ানীরা ছলেবলে কৌশলে তাদেরকে কাছে টেনে নেয়ার চেষ্টা করে। তাদের কাছ থেকে বাইয়েত নিয়ে অত:পর ব্রেইন ওয়াশ করে ফেলে, যাতে তাদের বলয়ের বাহিরে ছুটে না যায়। তবে এরপরেও অনেকে বাস্তবতা বুঝতে পেরে কেটে পড়েন। এমনি একজন যুবকের ফোনালাপ থেকে আমি একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছি। দেখুন এখানে। আগের আলোচনায় আবার ফিরে এলাম। সাধারণ কাদিয়ানী যুবক-যুবতীরা মির্যা কাদিয়ানীর দাবীগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে। বিশেষ করে তার ‘শেষনবী’ হবার দাবীটি সম্পর্কে। এই বিষয়ে স্ক্রিনশট সহ কয়েকটি সিরিজ ভিডিও দেখুন। মির্যা কাদিয়ানীর নবী-রাসূল দাবী, সিরিজ (১), (২), (৩), (৪)। (এলাকায় প্রচারের উপযোগী দুই পৃষ্ঠার একটি লিফলেট) অপ্রিয় হলেও সত্য হল, তাদের শীর্ষনেতাদের তৈরিকৃত সিলেবাসের বাহিরে তাদের অধীনস্থদের মন-মগজে ইসলামের ফান্ডামেন্টাল শিক্ষার ছিটেফোঁটাও থাকেনা। এদের প্রাধানতম বৈশিষ্ট্য, কুরআন শরীফ অশুদ্ধ পড়া আর নিজের মত করে ব্যাখ্যা দেয়া। এরা মুসলমানদের মসজিদে যায় না, মুসলমানদের জানাজাতেও অংশগ্রহণ করেনা। এদের পিতা মাতার জানাজাতেও অংশগ্রহণ করতে জোরালো ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকে, বড়জোর জানাজায় কাঠের পুতুলের ন্যায় সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে তবেই সে পর্যন্ত অনুমতি রয়েছে। কত পাষণ্ড আর হতভাগা এরা!ছোটবেলা থেকেই এদেরকে চরম আলেম উলামা বিদ্বেষী করে তোলা হয় বলে এরা আলেম উলামার কাছ থেকেও দূরে থাকে। আলেম উলামার প্রতি এদের মজ্জাগত বিদ্বেষ আর দুশমনির ফলে এদের বেশিরভাগ Ex ahmadi দুর্ভাগ্যবশত মুলহেদ হয়ে যায়, তবু ইসলাম গ্রহণ করতে চায় না। কারণ এদের মন মগজে সেই ছোট বেলা থেকেই ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে, বর্তমান ইসলাম মোল্লা মৌলভীদের বানানো ইসলাম। নাউযুবিল্লাহ। অথচ ইসলামের বুনিয়াদ হচ্ছে, পবিত্র কুরআন এবং কুরআনের মর্মার্থ সুস্পষ্টকারী সহায়ক সংকলন রাসূল (সা.)-এর সীরাত তথা সুন্নাহ।

এরা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ এবং খেলাফত রাষ্ট্রের চরম বিরোধী। স্বভাবতই ব্রিটিশপ্রিয় হয়। কুরআন হাদীসকে সরাসরি অস্বীকার করার পরিবর্তে রূপক কিবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে অস্বীকারকারী হয়। আর নিজ মতবাদের পক্ষে এমন সব বর্ণনা বা উদ্ধৃতিও উপস্থাপন করে থাকে যেগুলোর বেশিরভাগই জাল, জঈফ বা মুনকার পর্যায়ের অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা; কোনো অথেনটিক সোর্স থেকেও সংগৃহীত নয়। এদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল, এদের বইপুস্তক অগণিত স্ববিরোধ কথাবার্তায় ভর্তি, যা এদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও এরা মেনে নিতে চায় না। এগুলো আমার দীর্ঘ অবিজ্ঞতা থেকেই লিখলাম। আরও জানার বিষয় হল, সারা দুনিয়ায় এদের দাবী হচ্ছে, সংখ্যায় এরা ২০ কোটি। অথচ নিরপেক্ষ গণনামতে এরা কোনো ভাবেই ১৫-২০ লাখের বেশি হবেনা। বাংলাদেশে এদের সংখ্যা এদেরই দাবী অনুসারে ১ লক্ষ। তবে আমাদের জরিপ বলছে, এরা কোনো ভাবেই ২৫ হাজারের বেশি হবেনা। বিবাড়িয়া, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সাতক্ষীরার সুন্দরবন, জামালপুরের সরিষাবাড়ি আর বান্দরবন, যশোর এবং খুলনায় এদের সংখ্যাটা তুলনামূলক বেশি। প্রাণ, আর.এফ.এল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মেজর (অব.) আমজাদখান চৌধুরী আর বাংলাদেশের বর্তমান কাদিয়ানীদের ন্যাশনাল আমীর জনাব আব্দুল আউয়াল সাহেব দুইজনই মামাতো আর ফুফাতো ভাই। জনাব আমজাদখানের পিতা আলী কাশেমখান চৌধুরী আর কাদিয়ানী আমীরের মাতা মাসুদা সামাদ আপন ভাই বোন। কাদিয়ানীদের একটি বই ‘সীরাতে মাহদী’-তে ইসলাম বিরোধী ১৬টি চরম বিভ্রান্তিকর ধর্মবিশ্বাস এর উল্লেখ রয়েছে, যা তারা সাধারণ মানুষ থেকে বরাবরই গোপন রাখে। আমি তাদের ডজনখানেক বই থেকে স্ক্রিনশট সহ মির্যা কাদিয়ানীর নবী ও রাসূল দাবীর প্রমাণও অত্র রচনায় দিয়ে রেখেছি। পাঠকদের জন্য আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলও অত্র রচনায় সন্নিবেশিত করে দিয়েছি। তন্মধ্যে কাদিয়ানীদের কলেমার গোপন রহস্যপ্রতিশ্রুত মসীহ্‌ এর পরিচয় এবং প্রতীক্ষিত মাহ্‌দী এর পরিচয় অন্যতম। অধিকন্তু তাদের কেউই এখনো দুনিয়ায় আবির্ভূত হননি। ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মধ্যে পরিষ্কার লিখা আছে যে, তিনি নবীজী (সা.)-এর কন্যা ফাতেমার পুত্র হযরত হাসান (রা.)-এর বংশে জন্মগ্রহণ করবেন। সে হিসেবে তিনি সাইয়েদ এবং কুরাইশীও হবেন তার নাম হবে মুহাম্মদ, পিতার নাম আব্দুল্লাহ, জন্মস্থান হবে আরব (মদীনা), মাহদীয়তের উপর বাইয়েত শুরু করবেন মক্কায়। তিনি আরবে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবেন। আবুদাউদ শরীফে (কিতাবুল, মাহদী অধ্যায়) এসেছে, ‘ইমাম মাহদী সাত বছর রাষ্ট্রকার্য পরিচালনা শেষে ইন্তেকাল করবেন।’ শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী (রহ.) তার ‘আল জামেউস সহীহ’ কিতাবে হাদীসটিকে “হাসান” (حسن) বলেছেন। উল্লিখিত পরিচিতির আলোকে দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, রাসূল (সা.) শেষ যামানায় আগমনকারী যে ইমাম মাহদীর সুসংবাদ দিয়ে গেছেন আজকের এই দিন (২০২২ ইং, এই আর্টিকেল লিখার সময়) পর্যন্ত সেই ইমাম মাহদী এবং প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.) দুইজনের কেউই আবির্ভূত হননি। আল্লাহ চাহিলে দুইজনই যথাসময়ে আসবেন। মির্যা গোলাম আহমদ এর দাবী একই সাথে ইমাম মাহদী এবং ঈসা, দুটোই। কিন্তু রাসূল (সা.) উক্ত দুই মহা পুরুষ সম্পর্কে সহীহ হাদীসগুলোতে যেই পরিচিতি রেখে গেছেন তার ছিটেফোঁটাও মির্যা গোলাম আহমদের সাথে মিল পাওয়া যায় না। এটি পড়ুন, এক নজরে মির্যা কাদিয়ানী। উল্লেখ্য, প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী এবং হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাদা দুই ব্যক্তিই। বহু সহীহ হাদীসে দুইজনের ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় একদম সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। কাদিয়ানীদের বইতে দুই ঈসা’র বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাব এখানে। তাদের ‘ওয়া লাল মাহদী ইল্লা ঈসা ইবনু মরিয়ম’ এর বর্ণনা দিয়ে বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাবও এখান থেকে দেখে নিন। ইমাম মাহদী একই সাথে ফাতেমি, আব্বাসী, হাসানী, হোসাইনী সব কিভাবে হতে পারেন? মাহদীয়তের নিদর্শনের নামে কাদিয়ানীদের উপস্থাপিত চন্দ্রসূর্য গ্রহণের বর্ণনাটি কেন গ্রহণযোগ্য নয়?। এই কাদিয়ানী গোষ্ঠীটি তাদের মতের বাহিরে সমস্ত মুসলমানকে অমুসলিম, কাফের, জাহান্নামী মনে করে থাকে। এরা অন্যান্য মুসলমানের মত হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত দাবী করা সত্ত্বেও বিশ্বের সমস্ত মুসলিম স্কলারদের সর্বসম্মতিক্রমে কাফের ও ইসলাম থেকে খারিজ। তার কারণ এরা খতমে নবুওয়ত এবং হায়াতে মসীহ সহ ইসলামের বহু মৌলিক বিশ্বাসকে কুরআন এবং সুন্নাহর অপব্যাখ্যার আড়ালে অস্বীকার করে থাকে। এরা আজ থেকে শতাধিক বছর আগে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে তথা ১২৫৬ হিজরী সনে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাদিয়ান নামক গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এক ব্যক্তিকে নবী বলে বিশ্বাস করে। তার নাম ছিল মির্যা গোলাম আহ্‌মদ (১৮৩৯-১৯০৮)। সে নিজেকে প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.)-এর রূপক সত্তা এবং শেষ যুগে আগমনকারী ইমাম মাহদী হবার দাবীও করে। অথচ কুরআনের আয়াত ও সহীহ্ হাদীসের মানদণ্ডে এই লোকের দাবীগুলোর একটিও টিকেনা। তাই কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ব্যক্তি নিজ দাবীতে একজন জঘন্য মিথ্যাবাদী ও প্রতারক। এখানে তার কয়েকটি উক্তি তুলে ধরছি, যা পড়ার পর যে কেউই তার আসল পরিচয় পর্যন্ত সহজে পৌঁছতে পারবে! যথা- ১. মির্যা কাদিয়ানী ১৮৯৮ সালের দিকে ব্রিটিশ-ভারত রাণী আলেকজান্ড্রিনা ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে লিখেছিল, ‘নিজেদের হাতে রোপিত এই চারাগাছটির ব্যাপারে খুব সতর্কতা ও অনুসন্ধানের সাথে অগ্রসর হবেন এবং আপনার অধীনস্তদের বলবেন তারা যেন এই পরিবারের ত্যাগ ও নিষ্ঠার কথা মনে করে আমার দলের প্রতি সদয় দৃষ্টি জ্ঞাপন করেন। আমাদের পরিবার ইংরেজ সরকারের কল্যাণে নিজেদের খুন বইয়ে দিতে ও জীবন দিতেও দ্বিধা করেনি আর না এখনো দ্বিধা করছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/২১-২২; নতুন এডিশন)। তার এই কথা পরিষ্কার প্রমাণ যে, সে ব্রিটিশদেরই সৃষ্টি ছিল। ২. ‘আমার বিশ্বাস, যে হারে প্রতিদিন আমার অনুসারির সংখ্যা বাড়ছে সেই হারে জিহাদের পক্ষাবলম্বীর সংখ্যাও কমছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/১৯)। এখানে তার এই বক্তব্য ব্রিটিশ ভারতের ১৮৫৭ সালের আযাদী আন্দোলন ও সিপাহী বিদ্রোহকেই স্মরণ করে দিচ্ছে। মূলত ঐ সমস্ত আন্দোলন সংগ্রাম দমিয়ে রাখতেই পরবর্তীতে এই মির্যায়ী তথা কাদিয়ানী জামাতের সৃষ্টি। ৩. ‘ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্য ইসলামেরই একটি অংশ’ (রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮০)। মির্যা কাদিয়ানীর এই বক্তব্য আমার উপরোক্ত সবগুলো দাবীকে দ্বিপ্রহরের সূর্যের মত একদম পরিষ্কার করে দেয়। যাইহোক ২৫ শে মে ১৮৯৩ সালে অমৃতসর নামক স্থানে মির্যা কাদিয়ানীর সাথে তৎকালীন মুসলিম নেতা শায়খ আব্দুলহক গজনভী (রহ.)-এর একটি মুবাহালা অনুষ্ঠিত হয়। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ৬/৩৭২)। উক্ত মুবাহালায় উভয়পক্ষ নিজের উপর নিজে বদ দোয়া করেন এবং মুবাহালাকারী দুইপক্ষের সত্যবাদীর জীবদ্দশায় যিনি প্রকৃতপক্ষে একজন মিথ্যাবাদী তিনি যেন ধ্বংস হন, এইরূপ কামনাও করেন (দেখুন, মালফূজাত ৫/৩২৭; চতুর্থ এডিশন)। ইতিহাস সাক্ষী, পরবর্তীতে শায়খ গজনভী (রহ.) মারা যান ১৬ই মে ১৯১৭ সালে। আর মির্যা কাদিয়ানী শায়খের জীবদ্দশায় প্রায় ৯ বছর পূর্বেই ১৯০৮ সালে লাহোরে ২৬ শে মে বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় কলেরায় আক্রান্ত হয়ে টাট্টিতে নিপতিত হয়ে মারা যায়। তার লেখিত প্রায় ৮৩টি বইয়ের সমষ্টির নাম ‘রূহানী খাযায়েন‘ (আধ্যাত্মিক ভাণ্ডার), যা আনুমানিক ১৯৬০ সালের দিকে ২৩ খণ্ডে প্রকাশ করা হয়। বইগুলো দ্বারা সেসব মানুষ খুব বিভ্রান্ত হয় যাদের পূর্ব থেকে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে আলোচ্য বিষয়ে গভীর কোনো জ্ঞান নেই। একটি হাদীসে এসেছে, মহানবী (সা.) তাঁর পরবর্তী সময়ে ত্রিশ জন নবুওয়তের মিথ্যা দাবীদারের আবির্ভাব হবার ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন (সুনান তিরমিজী (ইফা) অধ্যায়ঃ ৩৬/ কিতাবুল ফিতনা)। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) (মৃত. ৮৫২ হিজরী) হাদীসটির ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এই ত্রিশজন মিথ্যাবাদী বলতে বিশেষভাবে ওরাই উদ্দেশ্য যাদের দাপট প্রতিষ্ঠা পাবে এবং (সাধারণ মানুষের ভেতর) তাদের তৎপরতার কারণে মারাত্মক সন্দেহ সৃষ্টি হবে। (ফাতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী : খণ্ড ১২ পৃষ্ঠা ৩৪৩)। সমস্ত ইসলামি বিশেষজ্ঞ একমত যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তাদেরই মধ্য হতে একজন। পাঠকদের উদ্দেশ্যে এখানে কয়েকটি লিখার লিংক দিচ্ছি। গুরুত্ব সহ পড়ার অনুরোধ থাকল, কাদিয়ানীরা কাফের কেন? মির্যা কাদিয়ানীর ৫টি মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী। তথাকথিত উম্মতিনবী কাদিয়ানী জামা’তের প্রতিষ্ঠাতার কিছু দাবী দাওয়া। মির্যা কাদিয়ানীর কিছু মিথ্যাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতি। অথচ হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে সমস্ত কাফির মুশরিক ‘সত্যবাদী‘ বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনের ত্রিশ আয়াতে ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে যাওয়ার দাবী কেন ডাহা মিথ্যা? আমাদের ওয়েবসাইট ও আমাদের ভিডিও সমূহ ইউটিউব থেকে (markajTV by PNN) (হেদায়েতের পথিক) দেখার আহবান রইল। আমার (লিখক) ফেইসবুক পেইজ (ধারাবাহিক লাইভ পর্ব) থেকে ভিডিওগুলো দেখার আমন্ত্রণ রইল। আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হতে পারেন। আমার সবগুলো বই (১২টি) এক সাথে অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন। এবার মির্যা কাদিয়ানীর নবী, রাসূল দাবীর প্রামাণ্য কিছু স্ক্যানকপি দেখানো হল,

বই : এক গলতি কা ইযালা বা একটি ভুল সংশোধন পৃ-৩ ও ৪
বই : দাফেউল বালা পৃ-১২

কথিত উম্মতিনবী দাবীতেও মির্যা ফেঁসে গেলেন কিভাবে দেখুন

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক- প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ, যোগাযোগ- 01629941773 (What’sapp, Telegram & Imo), ইমেইল- nabifeni44@gmail.com

প্রত্যেক নবীই কেয়ামতের দিন তাদের উম্মতের সাক্ষী হবেন

প্রত্যেক নবীই নিজ নিজ বিদ্রোহী উম্মতদের বিরুদ্ধে কেয়ামতের দিন সাক্ষী হওয়া,

আমরা যখনি কাদিয়ানী অনুসারীদের প্রশ্ন করি, মির্যা কাদিয়ানী যদি তার ‘নবী’ দাবীতে সত্য হয় তাহলে তার উম্মত কারা? আপনারা কীজন্য নিজেদেরকে তার ‘উম্মত’ বলে স্বীকার করেন না? অথচ পৃথিবীতে এমন কোনো নবী নেই যার ‘উম্মত’ ছিল না। (এ সম্পর্কে দলিল প্রমাণ একটু পরেই পেশ করা হবে)। এমন প্রশ্নের উত্তরে তখন তাদের অবস্থা দেখার মত হয়! বেশিরভাগই তখন চিন্তায় পড়ে যায়। কী উত্তর দেবে! তাদের আরও একটি প্রশ্ন করেছিলাম যে, কবরে ফেরেশতা যখন জিজ্ঞেস করবে যে, তোমার নবী কে? তখন কার নাম বলবেন? এ সব প্রশ্নের সামনে তাদেরকে সীমাহীন অসহায় দেখা যায়। বিবাড়িয়ার (কান্দিপাড়া) বেশ কয়জন তরুণ আহমদী (কাদিয়ানী) শুধু প্রশ্নগুলো নিয়ে নিরপেক্ষ চিন্তা থেকেই তওবা করে মুহাম্মদ (সা.)-কে মুক্ত ও স্বাধীন অর্থে ‘শেষনবী’ মেনে নিয়ে ‘ইসলামের মূলধারায়’ ফিরে এসেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। ইদানীং তাদের নেতাদের কেউ কেউ উক্ত প্রশ্নদুটি থেকে আত্মরক্ষার জন্য নতুন ডেলিভারি দিচ্ছে, তা হচ্ছে, ‘সব নবীর উম্মত থাকেনা!’ এ যেন রাজ্যবিহীন ‘রাজা’ আর সেনাবিহীন সেনাপতি! অথচ মির্যা কাদিয়ানীর দ্ব্যর্থহীন উক্তি, “আমার আগমন দ্বারা প্রত্যেক নবী জীবন ফিরে পেয়েছে। আর সমস্ত রাসূল আমার জামার মধ্যে গোপন হয়ে আছে।” দেখুন, নুযূলে মসীহ, রূহানী খাযায়েন খ-১৮ পৃ-৪৭৮, (ফার্সি কাব্যাংশের অনুবাদ)। অধিকন্তু তার দাবী হচ্ছে, “আদমের বাগান অদ্য পর্যন্ত ছিল অসম্পূর্ণ; আমার আগমনে তা ফল ও পাতায় হয়ে যায় পরিপূর্ণ।” (দেখুন, বারাহীনে আহমদীয়া ৫ম খন্ড, রূহানী খাযায়েন ২১/১৪৪)। অন্যত্রে আরও লিখেছে, (কথিত ইলহাম: খোদাতালা মির্যাকে বলেছেন) ‘ইন্নী মা’আল আকরাম, লাও লা-কা লামা খালাকতুল আফলাক’ অর্থাৎ আমি বুযূর্গদের সাথেই রয়েছি। যদি তুমি না হতে তাহলে আমি আসমান সমূহকে সৃষ্টি করতাম না। (সূত্র, তাযকিরাহ, চতুর্থ এডিশন পৃষ্ঠা নং ৫২৫; ইলহাম ০৪-০৫-১৯০৬ ইং)। নাউযুবিল্লাহ। কাজেই প্রশ্ন আসে, এমন দম্ভোক্তি যার তার উম্মত থাকবেনা তা কিভাবে হয়? প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য,

রূহানী খাযায়েন খ-১৮ পৃ-৪৭৮

সমস্ত নবী নিজ নিজ উম্মতের জন্য সাক্ষী হওয়া :

আল্লাহতালা বলেছেন, (আরবী) وَ یَوۡمَ نَبۡعَثُ مِنۡ کُلِّ اُمَّۃٍ شَہِیۡدًا ثُمَّ لَا یُؤۡذَنُ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَ لَا ہُمۡ یُسۡتَعۡتَبُوۡنَ

অনুবাদঃ আর যেদিন আমরা প্রত্যেক উম্মত থেকে এক একজন সাক্ষী পেশ করব তারপর যারা কুফরী করেছে তাদেরকে না ওযর পেশের অনুমতি দেয়া হবে, আর না তাদেরকে (আল্লাহ্‌র) সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ দেয়া হবে। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৮৪)।

তাফসীরঃ ইতিপূর্বে যত নবী এসেছিলেন প্রত্যেকে কেয়ামতের দিন আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন এবং নিজেদের দায়িত্ব পালনের পক্ষে সাক্ষী হবেন। আর বিদ্রোহী উম্মতগণের বিপক্ষে তাদের কুফরি ও মিথ্যারোপের সাক্ষী হবেন (ফাতহুল কাদীর)। তারা সাক্ষ্য দিবেন যে, তারা তাদেরকে তাওহীদ ও আল্লাহর আনুগত্যের দাওয়াত দিয়েছিলেন। অন্য আয়াতেও আল্লাহতালা সেটা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটা এমন এক দিন যেদিন না তারা কথা বলবে, আর না তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে ওযর পেশ করার।” (সূরা আল-মুরসালাত ৩৫-৩৬) {তাফসীরে ইবন কাসীর}।

আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, বহু মানুষ সত্য অনুধাবনের পরও ঈমান আনে না। তারা কাফির থেকে যায়। আলোচ্য আয়াতে কাফিরদের পরকালীন করুণ পরিণতির বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এ আয়াতে তিনটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। এক. কিয়ামতের আদালতে সাক্ষী। দুই. কৈফিয়তের অবকাশ। তিন. আপত্তি গৃহীত না হওয়া।

কিয়ামতের দিন সমস্ত উম্মত থেকে সাক্ষী হাজির করা হবে এবং সাক্ষীরা নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়া প্রসঙ্গে সাক্ষ্য দেবে। এমন ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করা হবে, যাঁরা আল্লাহ’র কাছে গ্রহণযোগ্য ও মানুষের জন্য তাঁরা আদর্শ। তাঁরা হলেন নবী-রাসুল। প্রত্যেক নবীকে তাঁর জাতির (বিদ্রোহী উম্মতদের বিরুদ্ধে) সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে অন্য আয়াতে এসেছে, (আরবী) فَكَيْفَ إِذٰا جِئْنٰا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَ جِئْنٰا بِكَ عَلىٰ هٰؤُلاٰءِ شَهِيداً অর্থাৎ ‘তখন কী অবস্থা হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী (নবী) উপস্থিত করব এবং তোমাকে [মহানবী (সা.)] তাদের (বিদ্রোহী উম্মতদের মিথ্যা অভিযোগের) বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব, (সূরা : নিসা, আয়াত : ৪১)।

সম্পর্কিত আলোচনাঃ ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহ.) লিখেছেন, يشهد عليها و هو نبيها অর্থাৎ তাদের প্রত্যেক উম্মতের ব্যাপারে তাদের নবীই সাক্ষ্য দেবেন (জালালাইন)। ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) থেকেও এর তাফসীরে পরিষ্কার উল্লেখ আছে, (আরবী) فكيف يكون الأمر والحال يوم القيامة وحين يجيء من كل أمة بشهيد يعني الأنبياء عليهم السلام অর্থাৎ কেয়ামত দিবসের সেই পরিস্থিতি ও অবস্থা কেমন হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে সাক্ষী তথা নবীগণ (আ.)-কে উপস্থিত করব। (ইবনে কাসীর, সূরা নাহল ৪১)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য,

ইবনে কাসীর

শেষকথাঃ আল্লাহতালা পৃথিবীতে যত নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন তাদের প্রত্যেককে তিনি কেয়ামতের দিন নিজ নিজ উম্মতের সাক্ষীরূপে উত্থিত করবেন। কোনো কোনো নবী স্বজাতির বিদ্রোহীদের হাতে নৃশংসভাবে হত্যা হওয়ায়, কেউ বা দাওয়াত কাজের দীর্ঘ সুযোগ না পাওয়ায় হাতেগুনে কয়জন উম্মত নিয়ে হাজির হবেন। এমন কোনো নবী থাকবেনা যাঁর কোনো উম্মত ছিলনা। আর এধরণের হওয়ার ব্যাপারটা কল্পনারই বাহিরে। কেননা কোনো নবীর একজন উম্মত-ও না থাকার অর্থ দাঁড়াচ্ছে আল্লাহ উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচনে ব্যর্থ ছিলেন। নাউযুবিল্লাহ। যা চিন্তা করাও কুফুরীর শামিল।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

তাহযীরুন্নাস সহ অগণিত কিতাবের নাম ভেঙ্গে কাদিয়ানীদের অপপ্রচার

দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবী (রহ.) (মৃ. ১২৯৭ হি.)-এর ‘তাহযীরুন্নাস’ কিতাব থেকে কাদিয়ানীরা ‘ইজরায়ে নবুওয়তের’ (নবুওয়তের ক্রমধারা অব্যাহত) ইস্তিদলাল করার চেষ্টা করে যেমন, তেমনি পবিত্র কুরআনের সূরা নিসা আয়াত নং ৬৯ এর مع النبيين و الصديقين আর মুসলিম শরীফের ‘কিতাবুল ফিতান’ হাদীস নং ৭০৭৮ এর عيسى نبي الله চার চার বার এসেছে, উপবাক্যটি দ্বারাও ইজরায়ে নবুওয়তের ইস্তিদলাল করে থাকে…!

  • (আসলে তাহযীরুন্নাস কিতাবটির কোন কথাটিকে কাদিয়ানীরা বেঁকিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে? পড়তে এখানে ক্লিক করুন – https://markajomar.org/?p=564)

এখন আমার প্রশ্ন হল, কাদিয়ানীদের ঐ সকল ইস্তিদলাল কি সঠিক বা বাস্তবসম্মত? আমার এ প্রশ্নটি বিশেষতঃ বেরেলভি মাসলাকের সেসব ভাই ও বন্ধুদের প্রতি যারা তাহযীরুন্নাস এর “যদি ধরে নেয়া হয় যে….” এরূপ খণ্ডিত ইবারত (اگر بالفرض آپ کے زمانہ میں بھی کہیں اور کوئی نبی ہو جب بھی آپ کا خاتم ہونا بدستور باقی رہتا ہے۔) দিয়েই কাদিয়ানীদের কৃত ইস্তিদলালের দরুন মওলানা কাসেম নানুতবী (রহ.)-কে ‘কাফের’ আখ্যা দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না! এখন আমার প্রশ্নের উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়—তাহলে একই রকম ইস্তিদলালের কারণে তবে কি পবিত্র কুরআন এবং মুসলিম শরীফের হাদীসও অভিযুক্ত হচ্ছেনা? অর্থাৎ তখন কি আপনারা এটাও মেনে নিবেন যে, কুরআন এবং হাদীসের আলোকে কাদিয়ানীদের উল্লিখিত ইস্তিদলাল সঠিক? নাউযুবিল্লাহ।

মোটেও না।

বরং আপনি একমত হন আর যাই হোন; সত্য এটাই যে, কাদিয়ানীরা তাদের মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর নবুওয়ত দাবীর বৈধতা খুঁজতে পূর্ববর্তী আরও অনেক বুযূর্গ আলেমদের কিতাবের নাম ভেঙ্গে ইস্তিদলাল চালিয়ে দিয়েছে, তাদের মধ্যে মাওলানা কাসেম নানুতবী (রহ.) এর রচনাটিও অন্যতম। পবিত্র কুরআন এবং হাদীসকে পর্যন্ত তারা ছাড়েনি, ইচ্ছেমতো তাবিল আর অপব্যাবহার নিশানায় পরিণত করেছে। সুতরাং, মাওলানা কাসেম নানুতবী (রহ.)-এর কিতাবটির মূল ভাষা ফার্সী হলেও এর উর্দূটাও শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখুন, তবেই মনে হবে আকাশটা যেন আপনার মাথার উপর ভেঙ্গে পড়েছে। আপনি অবাক হবেন! আর অবাক হওয়ারই কথা, কেননা তিনি কিতাবটি আকীদায়ে খতমে নবুওয়তের পক্ষেই দলিল ও যুক্তি দিয়েই লিখে গেছেন। তিনি নবীকরীম (সা.)-এর খাতামিয়তকে একই সাথে যামানিরুতবিমাকানি (যুগ, মর্যাদা ও স্থান) সর্বোপরিভাবে সাব্যস্ত করে গেছেন। সব চেয়ে বড় কথা হল, তিনি তাঁর একই পুস্তকে পরিষ্কার করে লিখে গেছেন, যে রাসূল (সা.)-কে মুক্ত ও স্বাধীন অর্থে খাতামান নাবিয়্যীন স্বীকার করেনা সে কাফের। যেমন একই বইয়ের ৩৭ নং পৃষ্ঠায় পরিষ্কার এও লিখেছেন যে, اطلاق خاتم اس بات کو مقتضی ہے کہ تمام انبیاء علیہم السلام کا سلسلہ نبوت آپ پر ختم ہوتا ہے অর্থাৎ “খাতাম (خاتم)-এর প্রয়োগ এই কথারই দাবী রাখে যে, হুজুর (সা:)-এর উপরই সমস্ত নবীর নবুওয়তেরধারা শেষ হয়ে গেছে।” (তাহযীরুন্নাস, হুজ্জাতুল ইসলাম একাডেমী ওয়াক্বফে দারুলউলুম দেওবন্দ, সাহারানপুর হতে প্রকাশিত)। স্ক্রিনশট থেকে দেখুন,

.

মাওলানা কাসেম নানুতবী (রহ.) আরও লিখেছেন, ‘রাসূল (সা.)-কে শেষ নবী অস্বীকারকারী কাফের। এই আকীদা ‘খাতামান নাবিয়্যীন’ সম্বলিত আয়াত, হাদীস ও ইজমা’য়ে উম্মত দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত।’ (তাহযীরুন্নাস-এর নবম পৃষ্ঠার শেষ থেকে এগারতম পৃষ্ঠার শুরু)। নিচে স্ক্রিনশট থেকে দেখুন,

.

তিনি আরো বলেন, ‘আমার দীন ও ঈমান এই যে, রাসূল (সা.)-এর পরে অন্য কারো নবী হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। যে এতে কোনো প্রকারের তাবীল (ব্যাখ্যা) করবে তাকে কাফের মনে করি।‘ (মুনাযারায়ে আজীবাহ পৃষ্ঠা নং ১০৩; জওয়াবে মাখদূরাত পৃষ্ঠা নং ৫০ আরো দেখুন, মুতালাআয়ে বেরেলবিয়্যাত ১: ৩০০-৩২২)

আসুন! এখন থেকে ঐ একই কারণে আমরা কুরআন এবং হাদীসকেও দোষারোপ করতে থাকি!!! লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!!

উল্লেখ্য, জনৈক শায়খ মরহূম’ তাহযীরুন্নাস’ কিতাবের তিন জায়গা থেকে মন মতো ইবারত উঠিয়ে এনে ও আগপাছ কেটেকুটে ‘হুসামুল হারামাইন’ নাম দিয়ে তৈরি করে গেছেন শতাব্দীর জঘন্য খেয়ানতপূর্ণ রচনা। আফসোস! এর মুতা’আল্লেকীন ও ভক্তবৃন্দ এ তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও অন্ধকারে পড়ে আছে। একটিবারের জন্যও তারা যাচাই-বাছাই করে দেখেনা যে, হুসামুল হারামাইনে উদ্ধৃত ইবারতটি কতখানি স্বচ্ছ এবং লিগ্যাল?

‘তাহযীরুন্নাস’ কিতাবের বাস্তবতা ও শায়খ মরহুমের জঘন্য মিথ্যাচার তুলে ধরার জন্য বিক্ষিপ্ত ও স্বতন্ত্র অনেক কিতাব লেখা হয়েছে। বিশেষতঃ হযরত মাওলানা ইদ্রিস কান্দলভী, সারফারাজ খান সফদার ও শহীদে ইসলাম ইউসুফ লুধিয়ানাবি রাহিমাহুমুল্লাহ স্বতন্ত্র রিসালা লিখেছেন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ

ইমাম বায়হাক্বীর সংকলনে ‘মিনাস সামায়ি’ শব্দটির উপর একটি আপত্তির জবাব

প্রশ্ন : ইমাম বায়হাক্বী (রহ.)-এর সংকলন الاسماء و الصفات কিতাবে উল্লিখিত ঈসা (আ.) আকাশ থেকে নাযিল হবেন (ينزل من السماء) শীর্ষক একই হাদীসটি সহীহ বুখারীতেও এসেছে, কিন্তু সেখানে ‘সামা’ বা আকাশ শব্দটি নেই! এখন ইমাম বায়হাক্বীর সনদে এই ‘সামা’ (আকাশ) শব্দ কোত্থেকে বা কিভাবে এলো? আসমাউর রিজালশাস্ত্রের গবেষক মুহাদ্দিসগণ থেকে এইধরনের বর্ণনার হুকুম সম্পর্কে জানতে চাই।

উত্তর : এখানে হাদীসটির সনদে ইমাম বুখারী (রহ.)-এর সনদ অপেক্ষা শেষের দিকে আরো তিনজন রাবী অতিরিক্ত রয়েছে। শায়খ আলবানী (রহ.) এর তাহকিক অনুসারে এখানে ‘সামা’ (আকাশ) শব্দটি এঁদেরই কারো থেকে বৃদ্ধিকৃত হবে যাকে উসূলে হাদীসের পরিভাষায় ‘যিয়াদাতুর রাবী’ (زيادة الراوى) বলা হয়। এই ক্যাটাগরির হাদীসকে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। তন্মধ্যে প্রথম প্রকারের হাদীসকে ‘মাকবূল’ (শর্তমতে গ্রহণযোগ্য) বলা হয়। সহীহ বুখারীর আরবী ব্যাখ্যাকারক ও যুগ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) যিয়াদাতুর রাবী-এর অন্যতম ‘মাকবূল‘ (গ্রহণযোগ্য) হাদীসের সংজ্ঞায় লিখেছেন, زيادة الراوى ليست مقبولة مطلقا عند الجمهور من المحدثين، بل تكون مقبولة اذا لم تقع منافية لرواية من هو أوثق، لانها فى حكم الحديث المستقل الذى يتفرد بروايته الثقة و لا يرويه عن شيخه غيره. অর্থাৎ জামহুর মুহাদ্দেসীনের মতে যিয়াদাতুর রাবী মুক্তভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। (মুক্তভাবে গ্রহণযোগ্য নয় একথার অর্থ হল, যদি রাবীর যিয়াদাত (বৃদ্ধি) অন্য সিকাহ রাবীদের বর্ণিত রেওয়ায়েতের বিরোধী হয়, যার ফলে একটিকে গ্রহণ করলে অন্যটিকে রদ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে; তখন বিচার বিশ্লেষণ ছাড়া রাবীর যিয়াদাত (বর্ণনাকারীর বৃদ্ধি) গ্রহণ করা যাবেনা। এক্ষেত্রে রাবীদের অবস্থা যাচাইবাচাই করে একটিকে প্রাধান্য আর অপরটিকে অপ্রাধান্য বলে সাব্যস্ত করতে হয়)। তবে যদি কোনো রাবীর যিয়াদাত (বৃদ্ধি) অন্য কোনো আওসাক (অধিক বিশ্বস্ত) রাবীর রেওয়ায়েত কৃত হাদীসের বিরোধী না হয়, তখন রাবী সিকাহ (বিশ্বস্ত) হলে তার রেওয়ায়েত গ্রহণ করা হবে এবং সিকাহ রাবীর রেওয়ায়েতকে পৃথক হাদীস ধরা হবে। (আর মনে করা হবে) আওসাক রাবী সেই অংশ তার নিজ শায়খ থেকে অন্য কোনো কারণে বর্ণনা করেননি। (বলেছেন, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহ.)। দেখুন, ইবনে হাজার আসকালানী রচিত শরহে নুখবাতুল ফিকার, যিয়াদাতুর রাবী পর্ব দ্রষ্টব্য।

ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) সিকাহ রাবীর যিয়াদাতের হুকুম সম্পর্কে আরও বলেছেন, و زيادة راويهما مقبولة مالم تقع منافية لمن هو اوثق অর্থাৎ হাদীসে হাসান এবং সহীহ’র বর্ণনায় যিয়াদাত বা বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য, যে পর্যন্ত না বৃদ্ধিকৃত অংশটি ‘আওসাক’ (অপেক্ষাকৃত অধিক বিশ্বস্ত) রাবী’র বিপরীত হয়। (ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রচিত নাখবাতুল ফিকার)। কিতাবটির উর্দূ ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থ ‘তুহফাতুদ দুরার’-তে “মুখালাফাতুল আওসাক” এর বিশ্লেষণ করে লিখা আছে, اور مخالفت ایسی ہو کہ اس زیادتی کو لینے کی صورت میں ارجح کی روایت کا رد کرنا لازم آئے অর্থাৎ মুখালাফাত এইরূপ হওয়া যে, এই ধরনের বৃদ্ধিকৃত অংশ গ্রহণের দ্বারা অপেক্ষাকৃত অধিক বিশ্বস্ত রাবীর বর্ণনাকে রদ বা বিরোধিতা করা হয়! (তুহফাতুদ দুরার-১৯; শায়খ সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ.)। এখন আপত্তিকারীর উপরই দায়িত্ব বর্তাবে একথা প্রমাণ করা যে, বায়হাক্বীর সংকলিত সম্পূর্ণ ভিন্ন সনদে বর্ণিত হাদীসটির ‘মিনাস সামা’ (من السماء) শব্দের বৃদ্ধি দ্বারা অন্য কোন আওসাক রাবীর বর্ণিত রেওয়ায়েতের মুখালাফাত বা বিরোধিতা করা হয়েছে? এমন কোনো হাদীস কি দেখানো সম্ভব হবে যেখানে ঈসা (আ.)-এর নাযিল হওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে ‘সামা’ (আকাশ) শব্দের বিপরীতধর্মী কোনো শব্দ দ্বারা রেওয়ায়ত বর্ণিত হয়েছে? আর তা একজন সহীহ সনদে অপর কোনো ‘আওসাক’ (اوثق) রাবী থেকেই হয়েছে?

বায়হাক্বীর সংকলন থেকে من السماء শীর্ষক হাদীস এর প্রামাণ্য স্ক্যানকপি,

.
মুসনাদে বাজ্জার হাদীস নং ৯৬৪২
  • এবার সহীহ বুখারীর রাবীগণের বাহিরে অতিরিক্ত আরও যে তিনজন রাবীর উল্লেখ ইমাম বায়হাক্বীর উল্লিখিত সনদে (সূত্রে) রয়েছে তাদের ব্যাপারে জারহু ওয়াত-তাদীল এর বিখ্যাত গ্রন্থে কী লিখা আছে তা জেনে নিন! ইমাম যাহাবী (রহ.) লিখেছেন,

১- আবু আব্দুল্লাহ আল হাফিজ। উনার পুরো নাম- মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হামদাবিয়্যা ইবনে নাঈম ইবনে হিকাম। মৃত ৪০৫ হিজরী। তিনি একজন ছিকাহ (বিশ্বস্ত) রাবী ও হাফিজুল হাদীস। ইমাম বুখারী ও মুসলিম উনার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। (তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ২৯৭৯৫ দ্রষ্টব্য)।

২- আবুবকর ইবনে ইসহাক। উনার পূর্ণ নাম- আবুবকর আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে আইয়ুব ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে নূহ। তিনি ২৫৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত: ৩৪২ হিজরী। তিনি একজন বিশ্বস্ত ও উঁচু মাপের মুহাদ্দিস। ইমাম যাহাবী (রহ:) তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন : الإمام العلامة المفتي المحدث ، شيخ الإسلام أبو بكر أحمد بن إسحاق بن أيوب بن يزيد ، النيسابوري الشافعي المعروف بالصبغي অর্থাৎ আবুবকর আহমদ ইবনে ইসহাক তিনি একজন ইমাম, আল্লামা, মুফতি, মুহাদ্দিস ও শায়খুল ইসলাম। তিনি নিশাপুর শহরের অধিবাসী এবং “ছবগী” নামে প্রসিদ্ধ। (দেখুন, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪৪৭; ঊনবিংশতিতম স্তরীয় রাবী)।

৩- আহমদ ইবনে ইবরাহিম। উনার পূর্ণ নাম, আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মালহান। তিনি একজন ছিকাহ বা বিশ্বস্ত রাবী। ইমাম বুখারী মুসলিম দুজনই উনার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এখানে তিনি হাদীসটি ইবনে বুকাইর এর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য, ইমাম ইবনে বুকাইর-এর পূর্ণ নাম ইয়াহিয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর। উনার উপনাম, আবু যাকারিয়া। মৃত: ২৩১ হিজরী। ইবনে হাব্বান (রহ:) উনাকে বিশ্বস্ত রাবীদের মধ্যে শামিল করেছেন। ইমাম বুখারী মুসলিম দুজনই উনার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। (দেখুন, সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৬১৪; দ্বাদশ স্তরীয় রাবী)।

শেষকথা : বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ ও যুগ ইমাম আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)-এর সুস্পষ্ট অভিমত দ্বারা-ও পরিষ্কার হয়ে গেল যে, ইমাম বায়হাক্বীর হাদীসটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও স্বতন্ত্র হাদীস হিসেবে গণ্য হবে এবং সনদের শেষাংশে অতিরিক্ত ৩জন রাবীই ছিকাহ, যাদের কোনো একজনের মাধ্যমেই من السماء টুকরাংশটি বৃদ্ধিকৃত; যা তার উর্ধতন শায়খ হয়ত বা অন্য কোনো কারণে বুখারীর রেওয়ায়েতে উল্লেখ করেননি। আর এ ‘যিয়াদাতুর রাবী’ কর্মটি এ জায়গায় উসূলে হাদীসের প্রতিষ্ঠিত নিয়মের পরিপন্থী না হওয়ায় মাকবুল ও দলিল প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
মুহাম্মদ নূরুন্নবী।

মির্যা কাদিয়ানীর মাযহাব কী ছিল?

মির্যা কাদিয়ানীর ‘নবী রাসূল’ দাবী করার পূর্বে সে কোন মাযহাবে ছিল? হানাফী? শাফেয়ী? মালেফী? হাম্বলী? নাকি ‘আহলে হাদীস’ মাযহাবের ছিল?

উত্তর : ভারত উপমহাদেশের বেশিরভাগই হানাফী মাযহাবের ফিকহ অনুসরণ করতেন বিধায় মির্যা কাদিয়ানীও সে একই মাযহাবের ফিকহ অনুসরণ করে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে নবী রাসূল দাবী করার পর থেকে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের অনুসরণ করতেন না। সহজ করে বললে, তিনি মুক্ত তাকলিদ করতেন। অর্থাৎ যখন যে মাসয়ালায় সুবিধা নিতে চাইতেন তখন সে মাসয়ালা মতে তিনি আমল করতেন। অপ্রিয় হলেও সত্য, তিনি ইরতিদাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার পূর্ব মুহূর্তে পর্যায়ক্রমে ‘লা মাযহাবী’ তারপর ‘হাদীস অস্বীকারকারী’ হয়ে পড়েন। হাদীসের প্রতি তার কীরকম বিদ্বেষ ও বিরুক্তি ছিল তা বুঝতে চাইলে তার ‘কিশতিয়ে নূহ’ বইটির শেষের দিকে (পৃষ্ঠা নং ৭৭, জুন ২০১৮ ইং) কয়েকটি পাতা পড়ে দেখুন। যাইহোক, একথা দিবালোকের মত সুস্পষ্ট যে, শরীয়তের শাখাগত ইখতিলাফি মাসয়ালায় উর্ধতন কোনো ইমামকেই তিনি ফলো করতেন না, বরং হানাফী, শাফেয়ী ইত্যাদী পরিচয়কে তিনি ‘বিদয়াত’ আখ্যা দিয়ে গেছেন। নিচে তারই লিখনী থেকে,

(উর্দু থেকে অনুবাদ) “লোকেরা নিজেদের নাম হানাফী, শাফেয়ী ইত্যাদি রেখেছে, এ সবই বিদয়াত। রাসূল (সা.)-এর নাম দু’টিই ছিলো। একটি হল মুহাম্মদ আরেকটি হল আহমদ (সা.)। রাসূল (সা.)-এর ইসমে আজম হল, মুহাম্মদ (সা.)। যেমন আল্লাহতালার ইসমে আজম হল আল্লাহ। আল্লাহ নামটি বাকি সমস্ত নাম তথা হাইয়্যুন, কাইয়্যুম, রহমান, রহীম ইত্যাদির মাউসূফ। রাসূল (সা.)-এর নাম আহমদ। …এভাইে ইসলামী মাযহাবগুলো ভুল করেছে। কেউ নিজেদের হানাফী বলেছে তো কেউ নিজেদের মালেকী বলছে, কেউ নিজেদের শীয়া, কেউ বা সুন্নী বলছে। অথচ রাসূল (সা.)-এর নাম ছিল দুইটি। মুহাম্মদ ও আহমদ (সা.)। সুতরাং মুসলমানদের দুটি দলই হতে পারে। মুহাম্মদী বা আহমদী। মুহাম্মদী সে সময় যখন তার মাঝে জালাল তথা তেজস্বীতার প্রভাব প্রবল ছিল, আর আহমদী তখন যখন জামাল তথা সৌন্দর্যতার প্রভাব থাকবে। (সূত্র: মালফুযাত ১:৪৪৩-৪৪ নতুন এডিশন, পুরাতন এডিশন ২:২০৮-২০৯)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি

.
কিশতিয়ে নূহ ৭৭, জুন ২০১৮ ইং

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

ত্রিশজন মিথ্যাবাদী নবুওয়ত দাবীদার সংক্রান্ত হাদীসের ব্যাখ্যা

ত্রিশজনের পরেরগুলো কি সত্যবাদী? প্রশ্নোত্তর :

প্রশ্ন – হাদীস শরীফে ত্রিশ জন মিথ্যাবাদী নবুওয়তের দাবীদারের আত্মপ্রকাশ হবে, বর্ণিত আছে। এখন প্রশ্ন হল, ঐ ত্রিশজনের পরেরগুলো কি নবুওয়ত দাবীতে সত্যবাদী বলে বিবেচিত হবেন?….. জনৈক কাদিয়ানী কাল্ট!

উত্তর – সহীহ বুখারীর আরবী ব্যাখ্যাকারক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) অনেক আগেই এতদসংক্রান্ত হাদীসটির সঠিক মর্মার্থ সুস্পষ্ট করে দিয়ে গেছেন। তিনি ‘ত্রিশ‘ সংখ্যার হাদীসটিকে (হাদীসটি এখানে) অপরাপর আরও বেশকিছু রেওয়ায়েতকে সামনে রেখে ব্যাখ্যা দিয়ে লিখেছেন,

(আরবী) وليس المراد بالحديث من ادعى النبوة مطلقا فإنهم لا يحصون كثرة لكون غالبهم ينشأ لهم ذلك عن جنون أو سوداء وإنما المراد من قامت له شوكة وبدت له شبهة

সরল অনুবাদঃ হাদীসে ‘ত্রিশজন’ মিথ্যা নবুওয়ত দাবীদার হতে মুক্ত সংখ্যা উদ্দেশ্য নয়, কেননা এ সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ বুঝানো হয়নি। যেহেতু মস্তিষ্ক ব্যাধি ও মানসিক সমস্যা থেকেও নবী দাবীর প্রবণতা লক্ষণীয়। যেজন্য হাদীসটি হতে শুধু এ অর্থই উদ্দেশ্য যে, তারা (ত্রিশজন) এমন বিশেষ শ্রেণীর হবে যাদের প্রতাপ (দাপট) থাকবে এবং বিভ্রান্তি সমুন্নত রাখতে সক্ষম হবে।’ (ফাওতহুল বারী শরহে বুখারী ৬/৬১৭)। আশাকরি বুঝতে আর কষ্ট হবার কথা নয়! ধন্যবাদ সবাইকে।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য

Fathul Bari 6:617

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর মস্তিষ্ক ব্যাধি জনিত সমস্যা ছিল। সে নিজেই প্রসঙ্গক্রমে এটি স্বীকার করে লিখে গেছে। নিচে প্রামাণ্য স্ক্যানকপি থেকে দেখুন,

মূল লিখক মির্যা কাদিয়ানী

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কুরআনের আলোকে আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত

পবিত্র কুরআনের আলোকে আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত বা নবুওয়তের ক্রমধারার সমাপ্তি,

খতমে নবুওয়ত এমন একটি প্রমাণিত বিশ্বাস, যা জরুরিয়াতে দ্বীন অর্থাৎ ইসলামের অত্যাবশ্যকীয় বিশ্বাস সমূহের অন্যতম। নিচে এর দলিল দেওয়া হল, আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করছেন,

(আরবী) مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَٰكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا অর্থ- ‎”মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা ছিলেন না। তবে তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।” (সূরা আহযাব, আয়াতঃ ৪০)। কুরআনের প্রখ্যাত তাফসীরকারক আল্লামা ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, (আরবী) وقد أخبر تعالى فى كتابه ، وأخبر رسوله فى السنة المتواترة عنه ، أنه لا نبى بعده ، ليعلموا أن كل من ادعى هذا المقام بعده فهو كذاب أفاك دجال ضال مضل ، ولو تخرق وشعبذ ، وأتى بأنواع السحر والطلاسم অর্থাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন এবং তাঁর রাসূল নিজ সম্পর্কে মুতাওয়াতির সুন্নাহ-তে বলেছেন যে, তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, যাতে প্রত্যেকে জানতে পারে যে, তাঁর পরে এই পদের দাবীদার প্রত্যেকেই চরম মিথ্যাবাদী, প্রতারক এবং পথভ্রষ্ট, যদিও বা সে অসাধারণ কর্ম প্রদর্শন করে, ভেল্কি, যাদু-মন্ত্র ইত্যকার ধরণের অলৌকিক কর্ম নিয়ে আসে না কেন! (সূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর, ৩য় খণ্ড, ৪৯৩ পৃষ্ঠা, মিশরীয় ছাপা)।

যৌক্তিক প্রমাণ : যুক্তি থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, ইতিপূর্বে নবীগণ আসতেন তিনটি কারণে,

১. পূর্ববর্তী নবীর প্রচারিত শিক্ষা বিলুপ্ত বা বিকৃত হয়ে গেলে।

২. পূর্ববর্তী নবী কোনো নির্দিষ্টকাল বা স্থানের জন্য প্রেরিত হলে।

৩. পূর্ববর্তী নবীর প্রচারিত শিক্ষা অসম্পূর্ণ অথবা তাতে কোনো সংযোজন বা বিয়োজন প্রয়োজন হলে।

কিন্তু হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য এদের একটিরও প্রয়োজন নেই। তাই নতুনভাবে আর কোনো নবী আগমনের প্রয়োজন নেই। কারণ এই যে,

যুক্তি ১: হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ এখনো বিদ্যমান।

যুক্তি ২: হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বকালের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁর প্রচারিত শিক্ষা ও আদর্শ কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।

যুক্তি ৩: হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রচারিত শিক্ষা ও আদর্শ পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ। এতে বিন্দুমাত্র অসম্পূর্ণতা নেই। কুরআনে এ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে,

(আরবী) الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا অর্থাৎ “আজ আমি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম ও ইসলামকে তোমাদের ধর্ম হিসাবে মনোনীত করলাম।” (সূরা মায়েদা: ০৩)।

ইজমাহ : আকীদায়ে খতমে নবুওয়তের উপর উম্মতে মুহাম্মদীয়ার ইজমা বা সর্বসম্মত রায় প্রতিষ্ঠিত।

এ সম্পর্কে ‘তাফসীর রূহুল মা’আনী’ প্রণেতা আল্লামা মাহমুদ আলূসী (রহ.) লিখেছেন, (আরবী) وقال الألوسي في تفسيره: وكونه صلى الله عليه وسلم- خاتم النبيين مما نطق به الكتاب، وصدعت به السنة، وأجمعت عليه الأمة، فيكفر مدعي خلافه. الأديان والفرق অর্থাৎ নবী করীম (সা.) খাতামুন নাবিয়্যীন হওয়ার ব্যাপারে কিতাবুল্লাহ কথা বলে এবং সুন্নাহ তার ঘোষণা দেয়। উম্মাহ এ বিশ্বাসের উপর ঐক্যবদ্ধ। সুতরাং যে বা যারা এ বিশ্বাসের বিপরীত করবে সে বা তারা কুফুরী করলো। (আল আদইয়ান ওয়াল ফিরাক্ব ১০৭)।

কাজেই বর্তমানে এ আকীদার পক্ষে নতুনভাবে দলিল প্রমাণ তলব করা সুস্পষ্ট গোমরাহী ছাড়া আর কিছুই না। ইমাম ইবনুল হাজম জাহেরী (রহ.) এ সম্পর্কে লিখেছেন, (আরবী) و أنه لا نبي مع محمد صلى الله عليه وسلم ولا بعده أبداً অর্থাৎ সবাই একমত এ কথার উপর যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে অথবা তাঁর পরবর্তীতে কখনোই আর কোনো নবী নেই। (অর্থাৎ আল্লাহ নতুনভাবে কাউকে নবুওয়ত দান করবেন না)। (মারাতিবুল ইজমা পৃষ্ঠা নং ২৬৮)। উক্ত ইজমার বিষয়টি পরিষ্কার করে আরও যে সমস্ত কিতাবে উল্লেখ আছে তন্মধ্যে ইমাম যায়নুদ্দীন ইবনু নাজিম এর الْأَشْبَاهُ وَالنَّظَائِرُ عَلَى مَذْهَبِ أَبِيْ حَنِيْفَةَ النُّعْمَانِ (পৃষ্ঠা ১৭৩), ইমাম মোল্লা আলী ক্বারীর شرح الفقه الاكبر (পৃষ্ঠা ২৪৪), আল্লামা মাহমুদ আলূসী আল-বাগদাদীর روح المعانى (২২/৪৪), ইমাম শারফুদ্দীন আন-নববীর روضة الطالبين (১০/৬৪-৬৫), ইমাম কাযী ইয়াজের الشفاء (২/১০৭০-১০৭১) কিতাব সমূহ অন্যতম। ইবনুল হাজম (রহ.)-এর ‘মারাতিবুল ইজমা‘ কিতাব থেকে প্রামাণ্য স্ক্যানকপি –

.

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

অভিধান থেকে ‘খাতাম’ (خاتم) অর্থ

আরবী “খাতাম” (خاتم) অর্থ – আংটি, সীল, ছাপ, শেষ, সমাপ্তি। ‘খাতামুন নাবিয়্যীন অর্থ- সর্বশেষ নবী : হযরত মুহাম্মদ (স)। (অভিধান : আল মু’জামুল ওয়াফী, ডক্টর ফজলুর রহমান)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি

আরবী বাংলা অভিধান

এবার কয়েকটি পূর্ববর্তী প্রাচীনতম অভিধান ও তাফসীরগ্রন্থ থেকে ‘খাতামান নাবিয়্যীন’ এর অর্থ উল্লেখ করছি,

১. ইসলামের প্রাচীন লিটারেচার ও সুপ্রসিদ্ধ আরবী অভিধান গ্রন্থ ‘তাজুল উরূস‘ এর ৭৬৮৭ নং পৃষ্ঠায় পরিষ্কার করে লিখা আছে, ومنه قوله تعالى: {وخاتم النبيين} أي آخرهم অর্থাৎ আল্লাহতালার বাণী : ওয়া খাতামান নাবিয়্যীন অর্থ- আখেরি নবী (তথা শেষনবী)।

২. ইমাম ইবনুল মানযূর (রহ.) এর শ্রেষ্ঠ আরবী অভিধান গ্রন্থ ‘লিসানুল আরব‘ এর ১২তম খণ্ডের ১৬৪ নং পৃষ্ঠায় লিখা আছে, وخِتامُ القَوْم وخاتِمُهُم وخاتَمُهُم آخرُهم……ولكن رسول الله وخاتِمَ النبيّين}: أَي آخرهم অর্থাৎ খিতামুল কওম এবং খাতিমুহুম এবং খাতামুহুম (শব্দগুলোর সমার্থক অর্থ) আখিরুহুম তথা তাদের সর্বশেষ……(আল্লাহর বাণী:) কিন্তু তিনি আল্লাহর একজন রাসূল এবং খাতিমান নাবিয়্যীন তথা তাঁদের মধ্যে তিনি সর্বশেষ। বলে রাখতে চাই যে, শুধুমাত্র ‘ক্বেরাতে হাফস’ ব্যতীত সর্বসম্মত অপরাপর ক্বেরাত মতে خاتم النبيين আয়াতাংশের পঠনরীতিতে ‘তা’ বর্ণে যের রয়েছে (‘লিসানুল আরব’ অভিধান দ্রষ্টব্য)। ‘লিসানুল আরব’ অভিধান গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে আরও লিখা আছে যে, (আরবী) والخاتِمَ والخاتَمُ من اسماء النبى صلى الله عليه وسلم অর্থাৎ خاتِمَ (খাতিম) এবং خاتَمُ (খাতাম) দু’টিই নবীকরীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য,

Lisanul Arab 12:164 Old Arabic Dictionary

৩. ইমাম রাগিব আল ইস্পাহানী (রহ.) এর ‘আল মুফরাদাত‘ এর ১৪২ নং পৃষ্ঠায় লিখা আছে خاتم النبيين ختم النبوة أى تممها بمجيئه অর্থাৎ খাতামান নাবিয়্যীনই নবুওয়তের সমাপ্তি। এর অর্থ হল, তিনি তার আগমন দ্বারা নবুওয়তের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন।

৪. ‘তাহযীবুল লুগাতিল আযহারী‘ গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৪৭৪ নং পৃষ্ঠায় লিখা আছে, مَا كانَ مُحَمّدٌ أبَا أحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ ولكنَّ رسول اللهِ وخَاتِمَ النَّبِيِّين (معناه: آخر النَّبيِيِّن.) অর্থাৎ মুহাম্মদ (সা.) তোমাদের কোনো পুরুষদের মধ্য থেকে কারো পিতা নন, তবে কিন্তু তিনি আল্লাহর একজন রাসূল এবং খাতিমান নাবিয়্যীন, এর অর্থ হচ্ছে আখিরুন নাবিয়্যীন বা সর্বশেষ নবী।

৫. সর্বাধিক প্রাচীন যুগীয় ইসলামী লিটারেচার ও তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে তাবারী‘-তে ইবনে জারীর আত-তাবারী (রহ.) লিখেছেন, ولكنَّ رسول اللهِ وخَاتِمَ النَّبِيِّين (أى: آخرهم) অর্থাৎ তবে কিন্তু তিনি আল্লাহর একজন রাসূল এবং খাতিমান নাবিয়্যীন, এর অর্থ হচ্ছে আখিরুহুম বা তাদের মধ্য হতে সর্বশেষনবী।

  • উল্লেখ্য, মির্যা কাদিয়ানী নিজেও “নবী” দাবী করার আগে তার ‘ইজালায়ে আওহাম’ গ্রন্থে “খাতাম” অর্থ লিখেছে – সমাপ্তকারী (উর্দূ: ختم کرنے والا)। রূহানী খাযায়েন ৩/৪৩১। স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।
.

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

কাদিয়ানীর নবী রাসূল দাবীর সুস্পষ্ট প্রমাণ

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর ‘নবী রাসূল’ দাবীর সুস্পষ্ট প্রমাণ তাদেরই ওয়েবসাইটে আপলোডকৃত বই দুটি ডাউনলোড করে সরাসরি দেখে নিন! মির্যা কাদিয়ানী রচিত (একটি ভুল সংশোধন)-এর ডাউনলোড লিংক (রচনাকাল ১৯০১ ইং)
https://www.ahmadiyyabangla.org/books/ekti-bhul-sangshodhan/

ডাউনলোড করে, ৩,৫,৮,১০ নং পৃষ্ঠাগুলো পড়ে দেখুন। ভুল ভাঙবে, ইনশাআল্লাহ

তারপর তার আরেকটা রচনা ‘দাফেউল বালা‘ বইটির ডাউনলোড লিংক
https://www.ahmadiyyabangla.org/books/dafi-ul-balaa/

বইটির ১২ নং পৃষ্ঠাটি পড়ে দেখুন। ইনশাআল্লাহ, তাদের যাদুময় কথাবার্তায় যারা এতকাল বিভ্রান্ত হয়ে আছেন তাদের কাছে মনে হবে, আকাশটা যেন এখুনি তাদের মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ল!

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মির্যা কাদিয়ানী হাকিকি নবী?

মির্যা কাদিয়ানীর হাকিকি নবী দাবী :

মির্যা কাদিয়ানীর বইতে ‘হাকিকি‘ নবীর দুই রকম পরিভাষা আমরা খুঁজে পাই। এখানে এটি দ্বিতীয়টা। উল্লেখ্য, কাদিয়ানীরা পরিভাষায় নবী ৩ প্রকার। যথা- হাকিকি নবী, মুস্তাকিল নবী এবং জিল্লি-বুরুজি-উম্মতি-দাস নবী। তারা তাদের পরিভাষা অনুযায়ী মির্যা কাদিয়ানীকে শুধুই তৃতীয় স্তরীয় নবী বলেই বিশ্বাস করার কথা বলে (মির্যাপুত্র বশির আহমদ এম.এ রচিত ‘কালিমাতুল ফসল’ পৃ-২৩ প্রথম অধ্যায়)। অথচ তারা তাদের উক্ত পরিভাষা থেকেও অনেক আগে বেরিয়ে যায়। কারণ তাদের দ্বিতীয় খলীফা ও মির্যা কাদিয়ানীর পুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ রচিত ‘হাকিকাতুন নবুওয়ত’ গ্রন্থের ভাষ্যমতে মির্যা কাদিয়ানী মূলত ‘হাকিকি নবী’ হবারই দাবীদার বলে প্রমাণিত হচ্ছে। মির্যাপুত্র তার বইটির অত্র পৃষ্ঠায় কোনোরূপ রাখঢাক ছাড়াই তার পিতাকে (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানীকে) একজন “হাকিকি নবী” (প্রকৃত নবী) বলেই স্বীকারোক্তি দিয়ে গেছেন। যেমন তিনি লিখেছেন, ہاں آپ نے نبی کے حقیقی معنی وہ فرمائے ہیں کہ وہ کثرت سے امور غیبہ پر اطلاع پائے اور بتاؤ کہ جو شخص ان معنوں کی رو سے جو حقیقی معنیٰ ہے نبی ہو کہ وہ حقیقی نبی ہوگا یا نہیں؟ অর্থাৎ “হ্যাঁ, হযরত (মির্যা) সাহেব নবী’র হাকিকি অর্থ সেটাই বলে গেছেন যে, সে (অর্থাৎ এমন ব্যক্তি) অদৃশ্যের বিষয়াবলি ক্ষেত্রে অধিক পরিমাণে অবগতি লাভ করবে, (এখন) বলো যে, যে ব্যক্তি হাকিকি নবীর এ পারিভাষিক অর্থে একজন হাকিকি নবী, সে হাকিকি নবী হবেন কি হবেন না?” (হাকিকাতুন নবুওয়ত ২/৩৫১)।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য-

হাকিকাতুন নবুওয়ত ২/৩৫১

বলে রাখা জরুরি, বিগত ০৪-০৩-২০২৩ইং ‘ফেজ দ্যা পিপল‘ লাইভে অনুষ্ঠিত একটি ডিবেটে জনৈক ভদ্রলোক নজিব আকবর সাহেব কাদিয়ানী মু’আল্লিম মুবাশ্বিরুর রহমানকে যখন উক্ত প্রশ্নটি করেন তখন তিনি ‘এমন কোনো বক্তব্য থাকা-কে’ সরাসরি অস্বীকার করেন এবং উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। অথচ সত্য কখনো গোপন থাকেনা। পাঠকবৃন্দ! এটাই হচ্ছে কাদিয়ানীদের আসল চরিত্র। তারা জনসম্মুখে নিজেদের প্রকৃত মতবাদ গোপন রাখে এবং উপস্থিত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরাসরি অস্বীকার করে বসে!

আহা! আর কবে চোখ খুলবে এ মতবাদের সহজ সরল অনুসারীদের? এত প্রতারণা, এত জালিয়াতি!! এত সব মেকি ছিদ্র নিয়ে এরা দুনিয়ায় এ চাতুর্যপূর্ণ মতবাদ কিভাবে প্রতিষ্ঠা করবে আমার বুঝে আসেনা!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
শিক্ষাবিদ ও গবেষক

শবে বরাতের ফজিলত ও আমল কি প্রমাণিত?

ইমাম বায়হাক্বী (রহ.)-এর কিতাব থেকে,

(আরবী) عن عائشة : قالت فقدت رسول الله صلى الله عليه و سلم ليلة فخرجت فإذا هو بالبقيع فقال أكنت تخافين أن يحيف الله عليك ورسوله ؟ قلت يا رسول الله إني ظننت أنك أتيت بعض نساءك فقال إن الله عز و جل ينزل ليلة النصف من شعبان إلى السماء الدنيا فيفغر لأكثر من عدد شعر غنم كلب

অনুবাদঃ হযরত আয়শা (রা.) বলেন, এক রাতে রাসূল (সা.)-কে কাছে না পেয়ে খুঁজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে (মদীনার কবরস্থান) গিয়ে পেয়ে গেলাম। তিনি (আমাকে বিষণ্ণ অবস্থায় দেখে) বললেন, কী ব্যাপার আয়েশা? তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার প্রতি কোনো অন্যায় করবেন? হযরত আয়েশা (রা.) বললেন, আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্য কোনো বিবির ঘরে চলে গেলেন কিনা! রাসূল (সা.) বললেন, যখন শাবান মাসের ১৫ তারিখ দিবাগত রাত আসে (অর্থাৎ যখন শবে বরাত হয়), তখন আল্লাহতালা দুনিয়ার নিকটতম আসমানে নাযিল হন এবং বনু কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। (হাদীস নং ৩৫৪৪, রাবীদের সকলেই সিক্বাহ, হাদীসের মান- সহীহ ও মুরসাল)।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য-

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি

শায়খ আলবানী (রহ.) এর ‘সিলসিলাতুস সহীহাহ’ গ্রন্থে শবে বরাতের ফজিলত শীর্ষক হাদীস সম্পর্কে লিখেছেন,

(আরবী) قال الشيخ الألباني: يطلع الله تبارك وتعالى إلى خلقه ليلة النصف من شعبان، فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن : ‏‏‏‏حديث صحيح، روي عن جماعة من الصحابة من طرق مختلفة يشد بعضها بعضا وهم معاذ ‏‏‏‏ابن جبل وأبو ثعلبة الخشني وعبد الله بن عمرو وأبي موسى الأشعري وأبي هريرة ‏‏‏‏وأبي بكر الصديق وعوف ابن مالك وعائشة.

অর্থাৎ “অর্ধ শাবানের রাতে (তথা শবে বরাতে) আল্লাহতালা তাঁর সমস্ত মাখলূকের প্রতি মনযোগ আরোপ করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন (হযরত মু’আয বিন জাবাল থেকে)।–(حديث صحيح) এই হাদীস সহীহ। এটি সাহাবাদের এক জামাত বর্ণনা করেছেন বিভিন্ন সূত্রে, যার একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করেছে। তাদের মাঝে রয়েছেন হযরত মু’আয বিন জাবাল, আবু সা’লাবা, আব্দুল্লাহ বিন আমর, আবু মূসা আশ’আরী, আবু হোরায়রাহ, আবু বকর সিদ্দীক, আ’উফ বিন মালিক এবং উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) প্রমুখ সাহাবীগণ।” (সিলসিলাতুস সাহীহাহ হাদীস নং ১১৪৪, খণ্ড ৩ পৃষ্ঠা নং ১৩৫) (অনুবাদ সমাপ্ত হল)।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ

- Advertisement -

Recent Posts