কাদিয়ানীদের চরম মূর্খতাপূর্ণ জিজ্ঞাসার জবাব :

কাদিয়ানীরাই হরহামেশা এই ধরণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার মত চরম মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করে থাকে। অথচ তাদের শরম হওয়া উচিত এই কারণে যে, তাদেরই মির্যা কাদিয়ানী তার বইয়ের এক জায়গায় লিখেছে : “আমি বারাহিনে আহমদীয়া নামক বইতে লিখেছিলাম, মসীহ ইবনে মরিয়ম আকাশ থেকে নাযিল হবেন। তবে পরবর্তীতে আমি লিখেছি, আগত মসীহ (ঈসা) আমি নিজেই।” (রূহানী খাযায়েন ২২/১৫২-৫৩; হাকীকাতুল ওহী)। এবার আসুন তার উক্ত কথাটি তিনি যে কিতাবে লিখে গেছেন সেই কিতাবের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তারই মুখ থেকে জেনে নিই।


(ক) “আমি কিতাবটি আল্লাহর পক্ষ হতে একজন মুলহাম (প্রেরণাপ্রাপ্ত) এবং মামূর তথা আদিষ্ট হয়েই লিখেছি।” (রূহানী খাযায়েন ৫/৬৫৭; আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম)।


(খ) “প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষ উভয় দিক থেকে কিতাবটির পরিচালক মহান আল্লাহ।” (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ১/৫৬; ‘আমি এবং আমার বই’ শীর্ষক শিরোনাম)।

তাহলে এবার বলুন! ঈসা (আ:) সত্যিই বেঁচে না থাকলে মির্যা কাদিয়ানী তার বারাহিনে আহমদীয়া নামক বইতে ঈসা (আ:) জীবিত থাকা, আকাশ থেকে নাযিল হওয়া ইত্যাদী কথাবার্তাগুলোও কি আল্লাহর পক্ষ হতে ইলহাম ছাড়াই কিংবা আল্লাহর পক্ষ হতে আদিষ্ট হওয়া ছাড়াই লিখেছিলেন মনে করেন? জবাব দিন!
সেযাইহোক, বর্তমান কাদিয়ানীর অনুসারীদের কথার ধরণে বুঝা যায়, যে কোনো বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা পবিত্র কুরআনেই উল্লেখ থাকা জুরুরি, অন্যথা সেটি কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়; যদিও বা অসংখ্য সহীহ হাদীসে তার পক্ষে দলিল থাকেনা কেন!! আচ্ছা যদি তাই হয় তাহলে মির্যা কাদিয়ানীর দাবী, সে ইমাম মাহদী, মসীহ। তার আরো দাবী, সে মুহাম্মদ (সা:) এর দ্বিতীয় প্রকাশ। তার আরো দাবী, আনুগত্যস্বরূপ সেই একমাত্র উম্মতিনবী। তাই আমারও প্রশ্ন থাকবে, মির্যা কাদিয়ানীর কথাগুলোর প্রমাণ হুবহু কিংবা ইংগিতে হলেও পবিত্র কুরআন থেকে পারলে দেখিয়ে দিন! তারপর আসুন, পবিত্র কুরআনের নামে মির্যা কাদিয়ানীর বেশ কিছু মিথ্যা উদ্ধৃতি আপনাদের দেখাব! তিনি লিখেছেন :

[১] তিনটি শহরের নাম অত্যন্ত মর্যাদার সাথে কুরআনে উল্লেখ আছে। মক্কা, মদীনা এবং কাদিয়ান।
[২] কুরআন শরীফে এমনকি তাওরাতের নানা ছহীফাতেও ভবিষ্যতবাণী রয়েছে যে, মসীহ মওউদের সময় তাউন তথা মহামারী দেখা দেবে।
[৩] যদি পবিত্র কুরআনে আমার নাম ‘ইবনে মরিয়ম’ না রাখা হয় তাহলে আমি মিথ্যাবাদী।
[৪] আমাকে বলা হয়েছে যে, তোমার ব্যাপারে কুরআন এবং হাদীসে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে তুমিই এই আয়াতটির [সূরা আছ-ছফ আয়াত নং ৯] মেস্দাক তথা বাস্তবরূপ।
[৫] এখন এই কথার প্রমাণ হয়ে গেল যে, পবিত্র কুরআনে যেই মসীহে মওউদের আগমনের ওয়াদা রয়েছে সে এই অধমই [অর্থাৎ সে মির্যা কাদিয়ানী]।

রেফারেন্স যথাক্রমে : রূহানী খাযায়েন: খ-৩ পৃ-১৪০; খ-১৯ পৃ ৫; খ-১৯ পৃ-৯৮; খ-১৯ পৃ-১১৩; খ-৩ পৃ-৪৬৮।

এখন জানার বিষয় হল, মির্যা কাদিয়ানীর কথাগুলো কুরআনের কোথায় এবং কোন শব্দে আছে দেখান! অন্যথা মেনে নিন, সে জঘন্যতম একজন মিথ্যুক আর ভন্ড ছিল!

এবার উল্লিখিত প্রশ্নের উত্তরে ফিরে আসা যাক :

আমাদের জেনে রাখা জুরুরি যে, কোনো বিষয়ে দলিল শুধুমাত্র পবিত্র কুরআন থেকেই তলব করা এটি কুরআনেরই বিরুদ্ধাচারণ বৈ নয়! কেননা আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন “অতপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা [সমাধানের উদ্দেশ্যে] আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ [বিচার] দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর” (সূরা নিসা আয়াত ৫৯ দ্রষ্টব্য)। সমস্ত তাফসীরকারক একমত যে, এখানে রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হল (সহীহ) হাদীসের দিকে রুজু করা (দেখুন তাফসীরে ইবনে কাসীর)। তাই সাব্যস্ত হল যে, কাদিয়ানীদের দলিল তলব করার উক্ত পদ্ধতি কোনোভাবেই পবিত্র কুরআনের শিক্ষার অনকূলে পড়েনা। যেজন্য এই ধরণের প্রশ্ন আমলে নেয়াও উচিত নয়, বরং গুনাহ।

এবার আসুন মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে একজন মুলহাম আর মুজাদ্দিদ দাবী করে তার শুরুর দিকের বইগুলোতে ঈসা (আ:) সম্পর্কে কী লিখলো! আমরা জানি মির্যা কাদিয়ানী তার কথিত ইলহামী পুস্তক ‘বারাহীনে আহমদিয়া’ এর মধ্যে ১৮৮৪ সালে পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবাহ এর ৩৩ নং আয়াত উল্লেখপূর্বক লিখেছে, আয়াতটিতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, মসীহ (আ:) দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আগমন করবেন। তার বইয়ের ভাষ্যমতে: ‘ফোরকানী ইশারা ইস আয়াত মে হে হুয়াল্লাজি আরসালা রাসূলাহু…আওর যব মসীহ (আ:) দোবারা ইস দুনিয়া মে তাশরীফ লায়ে গে তু উন কি হাত ছে দ্বীনে ইসলাম জমিয়ে আফাক্ব আওর আকত্বার মে ফহেল যায়েগা।’ (রূহানী খাযায়েন ১/৫৯৩; বারাহিনে আহমদিয়া ৪/৪৯৯ [উর্দূ] দ্রষ্টব্য)।

  • তাই সহজেই প্রশ্ন উঠে, পবিত্র কুরআনে যেই ঈসার আগমন দ্বিতীয়বারের আগমন বলে ইঙ্গিত রয়েছে সে ঈসা ১৮৯৩ সালের পরে রূপক ঈসা হন কিভাবে? উল্লেখ্য, সে ব্যক্তির আগমনকেই দ্বিতীয়বারের আগমন বলে যে ইতিপূর্বে আরো একবার এসেছিলেন।

আরো মজার ব্যাপার হল, মির্যা কাদিয়ানী উক্ত লিখাটির দুই বছর পূর্বে দাবী করে এও লিখেছেন ‘খোদা নে তুজ্হে কুরআন শিখলাইয়া আওর উসকে সহীহ মা’নে তেরে ফর খোল দেগা।’ অর্থাৎ খোদাতায়ালা তোমাকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন আর তাঁর বিশুদ্ধ অর্থ(ও) তোমার নিকট উন্মোচন করেছেন। (রূহানী খাযায়েন ১৩/২০১; তাযকিরাহ ৩৫; ইলহাম ১৮৮২ সাল)। সুতরাং প্রমাণিত হল, আগত ঈসা কোনোভাবেই ‘রূপক ঈসা’ হতে পারেনা। নতুবা যিনি দাবী করে লিখলেন যে, কুরআনের সঠিক অর্থ স্বয়ং আল্লাহ তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন, তিনিই যখন পরবর্তী দুই বছর পর নিজেই কুরআন থেকে বলছেন যে, পবিত্র কুরআনে ঈসার দ্বিতীয়বারের আগমন সম্পর্কে ইঙ্গিত রয়েছে; তা অন্তত আপনাদের বিচারেও ভুল হতে পারে কিভাবে? আপনাদের কেউ কি আছেন আমার এই প্রশ্নগুলোর সঠিক ও সন্তোষজনক উত্তর দেবেন? জানি কেয়ামত পর্যন্ত উত্তর দেয়া সম্ভব হবেনা। আর তাই ‘ঈসা (আ:) স্বশরীরে আকাশে রয়েছেন’ হুবহু এইভাবেই পবিত্র কুরআনে উল্লেখ থাকতে হবে, ইংগিত ইশারায় থাকলেও চলবেনা; কাদিয়ানীদের এইধরণের আর কোনো প্রশ্ন তোলারই অধিকার নেই। প্রাসঙ্গিক একটি লেখা পড়তে : Click this link

এবার আপনি হয়ত জানতে চাচ্ছেন যে, হযরত ঈসা (আ)-এর পুনঃ আগমন সম্পর্কে ইঙ্গিত কোথায়?

লিখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here