হযরত আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) এর কবরের নেম-প্লেটে “খাতামুল বা খাতিমুল ফুক্বাহা ওয়াল মুহাদ্দিসীন” উল্লেখ থাকা এবং কাদিয়ানিদের ওয়াস-ওয়াসাপূর্ণ আপত্তির জবাবে আজকের এই লিখাটি :

কবরের উপর স্থাপিত নেম প্লেট
  • আগে তাদের আপত্তি জেনে নিন!
  • তাদের বক্তব্য হল, ‘খাতাম’ অর্থ শ্রেষ্ঠ, কিন্তু ‘শেষ’ নয়। সে হিসেবে ‘খাতামুন নাবিয়্যীন’ অর্থ শেষনবী নয় বরং শ্রেষ্ঠ নবী। অতএব মুহাম্মদ (সা:) এর পর আর কোনো নবী নেই বলা ঠিক নয়, বরং নবী আছে তবে নতুন শরীয়তবাহক নবী নেই। মুহাম্মদ (সা:) এই হিসেবেই ‘শেষনবী’। কারণ, খাতাম অর্থ ‘শেষ’ হলে তখন প্রশ্ন আসবে, শাহ কাশ্মীরী রহ. কিভাবে খাতামুল মুহাদ্দিসীন হলেন? তবে কি তাঁর পরে কেয়ামত পর্যন্ত আর কোনো মুহাদ্দিস হবেনা? এখন যারা মুহাদ্দিস আছেন তারা কি মুহাদ্দিস নন?

আমার বক্তব্য :

১. আগে বলুন, কাদিয়ানী প্রথম খলিফা হেকিম নূরুদ্দীন এর এই বক্তব্য সম্পর্কে আপনারা কী বলবেন?

হেকিম নূরুদ্দীন সাহেব নিজেই কিন্তু বলে গেছেন যে, মুহাম্মদ (সা:) এর পর আর কোনো নবী নেই। (সূত্র : হযরত মৌলভি নুরউদ্দীন (রা.) খলীফাতুল মসীহ আউয়াল, পৃষ্ঠা নং ৯১ দ্রষ্টব্য)। স্ক্রিনশট দেখুন,

২. মির্যা কাদিয়ানীর পুত্র মির্যা বশির আহমদ এম.এ তিনি তার লেখিত “কালিমাতুল ফছল” বইটির ৯৩ নং পৃষ্ঠায় কাদিয়ানী লাহোরী গ্রুপের প্রধান মুহাম্মদ আলী লাহোরীর একটি বক্তব্যকে খন্ডন করতে গিয়ে কাদিয়ানিদের প্রথম খলিফা(?) হাকিম নূরুদ্দিন সম্পর্কে লিখেছেন : اگر بفرض محال مان بہی لیا جاوئے کہ حضرت خلیفہ اول کا یہی خیال تہا جو مولوی محمد علی صاحب نے ظاہر کیا ہے تو تب بہی کوی حرج واقع نہیں ہوتا کیونکہ حضرت خلیفہ اول مامور نہیں تہے کہ عقائد میں ان کا فیصلہ ہمارے لئے حجت ہو۔ অর্থাৎ “যদি মেনেও নিই যে, মৌলভি মুহাম্মদ আলী লাহোরীর যেই আকীদা সেটি খলিফা-এ আউয়াল (হাকিম নূরুদ্দিন)’রও আকীদা, তবুও কোনো সমস্যা নেই। কেননা হযরত খলিফা-এ আউয়াল মামূর (প্রত্যাদিষ্ট) ব্যক্তি ছিলেন না যে, আক্বায়েদের (ধর্মমত) ক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য দলিল হতে পারে!”

স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য :

হার্ডকপি

কাদিয়ানীদের বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন :

কাদিয়ানিদের নিকট আমার প্রশ্ন, হাকিম নূরুদ্দিন সাহেব যিনি কাদিয়ানী জামাতের প্রথম খলিফা(?), তার সম্পর্কে মির্যা বশির আহমদ এম.এ লিখেছেন সে মামূর তথা প্রত্যাদিষ্ট ছিলেন না; তাই আক্বায়েদের ক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্ত নাকি আপনাদের জন্য কোনো দলিল নয়! এমতাবস্থায় শাহ আনওয়ার কাশ্মীরী (রহ:) এর কবরের উপর স্থাপিত নেম-প্লেটটিতে “খাতিমুল বা খাতামুল ফুকাহা ওয়াল মুহাদ্দিসীন” শব্দটি যিনি লিখলেন তিনি যদি এই অর্থেই লিখেন যে, সত্যি-ই শাহ আনওয়ার কাশ্মীরী (রহ:) এর পর আর কোনো ফকিহ কিবা মুহাদ্দিস নেই, তার এই সিদ্ধান্তটাও আমাদের মুসলিম উম্মাহার ইজমার বিপরীতে ধর্তব্য হবে কেন? সে কি আল্লাহ, রাসূল নাকি যুগ ইমাম বা মামূর মিনাল্লাহ (আল্লাহর পক্ষ হতে প্রত্যাদিষ্ট) ব্যক্তি?

এখন যদি তিনি প্রকৃতপক্ষেই “মামূর মিনাল্লাহ” হয়ে থাকেন তাহলে সেটি প্রমাণ করার দায়িত্ব নিশ্চয়ই আপনাদের, তাই নয় কি? যদি প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি অনুরূপ কেউ, তখনি কেবল আপনাদের উক্ত আপত্তি আমাদের পক্ষে আমলে নেয়ার মত কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে! তার আগে নয়!

আপনারা যেখানে হাকিম নূরুদ্দিন এর মত একজন কথিত খলিফা-এ আউয়ালের সিদ্ধান্তকে দলিল মানতে নারাজ সেখানে কোথায়কার কে কী লিখল তাতে আল্লাহর কালাম, রাসূল (সা:) এর অসংখ্য হাদীস, ইজমায়ে সাহাবা এবং যুগ ইমামদের অগনিত বক্তব্য সবগুলো কি মুহুর্তেই হাওয়ায় মিশে যাবে??? আপনাদের এই কেমন ইনসাফ!!

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here