খতমে নবুওয়ত সম্পর্কিত সনদ সহ তিনটি সহীহ হাদীস

১। নবী করীম (ﷺ) এর শেষ নবী হওয়ার বিবরণ (باب ذِكْرِ كَوْنِهِ صلى الله عليه وسلم خَاتَمَ النَّبِيِّينَ) :

সনদ সহ হাদীসের আরবী অংশ :

‏‏ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ، بْنُ مِينَاءَ عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ مَثَلِي وَمَثَلُ الأَنْبِيَاءِ كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى دَارًا فَأَتَمَّهَا وَأَكْمَلَهَا إِلاَّ مَوْضِعَ لَبِنَةٍ فَجَعَلَ النَّاسُ يَدْخُلُونَهَا وَيَتَعَجَّبُونَ مِنْهَا وَيَقُولُونَ لَوْلاَ مَوْضِعُ اللَّبِنَةِ‏”‏ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ فَأَنَا مَوْضِعُ اللَّبِنَةِ جِئْتُ فَخَتَمْتُ الأَنْبِيَاءَ”‏ ‏.‏ وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سَلِيمٌ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَقَالَ بَدَلَ أَتَمَّهَا أَحْسَنَهَا ‏.‏

অনুবাদ: হযরত জাবির (রা:) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার দৃষ্টান্ত এবং নবীগণের দৃষ্টান্ত সে ব্যক্তির দৃষ্টান্তের ন্যায়, যে একটি গৃহ নির্মাণ করল এবং সে তা সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ করল কিন্তু একখানি ইটের জায়গা ব্যতীত। লোকেরা তাতে প্রবেশ করতে লাগল এবং তা দেখে বিস্মিত হতে লাগল এবং বলাবলি করতে লাগল, যদি এ একখানি ইটের জায়গা খালি না থাকত (তবে কতই না ভাল হতো)! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি হলাম সে ইটের জায়গায়। আমি আগমন করলাম এবং নবীগণের ধারাক্রম সমাপ্ত করলাম

জ্ঞাতব্য : মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহ:) … সালীম ইবনু হাইয়ান (রহ:) সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি أَتَمَّهَا (পরিপূর্ণ)-এর স্থলে أَحْسَنَهَا (সুন্দর করেছে) বলেছেন।

রেফারেন্স : সহীহ মুসলিম (ইফা) অধ্যায়ঃ ৪৫/ ফযীলত (كتاب الفضائل) হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬৪।

হাদীসের ইংলিশ ভার্সন :

  • Jabir reported Allah’s Messenger (ﷺ) as saying: The similitude of mine and that of the Apostles is like that of a person who built a house and he completed it and made it perfect but for the space of a brick. People entered therein and they were surprised at it and said: Had there been a brick (it would have been complete in all respects). Allah’s Messenger (ﷺ) said: I am that place where the brick (completing the building is to be placed), and I have come to finalise the chain of Apostles. This hadith has been narrated through another chain of transmitters but with a slight variation of wording.

২। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নামসমূহ (باب فِي أَسْمَائِهِ صلى الله عليه وسلم) :

হাদীসটির সনদ সহ আরবী অংশ :

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، – وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ – قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَمِعَ مُحَمَّدَ، بْنَ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَنَا أَحْمَدُ وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يُمْحَى بِيَ الْكُفْرُ وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى عَقِبِي وَأَنَا الْعَاقِبُ‏.‏ وَالْعَاقِبُ الَّذِي لَيْسَ بَعْدَهُ نَبِيُّ .‏

অনুবাদ : হযরত জুবায়ের ইবনু মুত’ঈম (রা:) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি মুহাম্মদ (প্রশংসিত), আমি আহমদ (অত্যধিক প্রশংসাকারী), আমি আল-মাহী (বিলুপ্তকারী) এমন ব্যক্তি যে, আমার মাধ্যমে কুফরকে বিলুপ্ত করা হবে। আমি আল-হাশির (একত্রকারী) এমন ব্যক্তি যে, আমার পেছনে লোকদের সমবেত করা হবে। আমি আল-আকিব (সর্বশেষ), আর আল-আকীব ঐ ব্যক্তি যার পর কোনো নবী নেই।

রেফারেন্স : সহীহ মুসলিম (ইফা) অধ্যায়ঃ ৪৫/ ফযীলত (كتاب الفضائل) হাদীস নম্বরঃ ৫৮৯৪।

হাদীসটির ইংলিশ ভার্সন :

  • Jubair b. Mut’im reported on the authority of his father that he heard Allah’s Messenger (ﷺ) as saying: I am Muhammad and I am Ahmad, and I am al-Mahi (the obliterator) by whom unbelief would be obliterated, and I am Hashir (the gatherer) at whose feet mankind will be gathered, and I am ‘Aqib (the last to come) after whom there will be no Prophet ‏.‏

৩। কতিপয় মিথ্যুক বের না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত হবে না (بَابُ مَا جَاءَ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ كَذَّابُونَ ):

হাদীসের সনদ সহ আরবী অংশ :

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى يَعْبُدُوا الأَوْثَانَ وَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي ثَلاَثُونَ كَذَّابُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

অনুবাদ : হযরত ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতের কিছু গোত্র মুশরিকদের সাথে শামিল না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। এমনকি এরা মূর্তিপূজা পর্যন্তও করবে। অচিরেই আমার উম্মতে ত্রিশজন অতি মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে। তারা প্রত্যেকেই দাবী করবে যে, তারা নবী, অথচ আমিই শেষ নবী, আমার পরে কোন নবী নাই। সহীহ, মিশকাত ৫৪০৬, সহীহাহ ১৬৮৩, তিরমিজী হাদীস নম্বরঃ ২২১৯ (আল মাদানী প্রকাশনী)। আবু ঈসা আত-তিরমিজী রহঃ বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ।

রেফারেন্স : সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) অধ্যায়ঃ ৩৬/ ফিতনা (كتاب الفتن عن رسول الله ﷺ) হাদিস নম্বরঃ ২২২২।

ফুটনোট : ‘আমার উম্মতে ত্রিশজন অতি মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে’ হাদীসের এই কথার ব্যাখ্যায় সহীহ বুখারীর বিশ্ববিখ্যাত ব্যাখ্যাকারক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (৭৭৩-৮৫২ হিজরী কায়রো, মিশর) লিখেছেন :- و انما ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﻣﻦ ﻗﺎﻣﺖ ﻟﻪ ﺷﻮﻛﺔ ﻭﺑﺪﺕ ﻟﻪ ﺷﺒﻬﺔ (উচ্চারণ, ওয়া ইন্নামাল মুরাদু মান ক্বামাত লাহু শাওকাতুন ওয়া বাদাত লাহু শুবহাতুন)। অর্থাৎ এই ত্রিশজন মিথ্যাবাদী বলতে বিশেষভাবে ওরাই উদ্দেশ্য যাদের দাপট প্রতিষ্ঠা পাবে এবং (সাধারণ মানুষের ভেতর) তাদের তৎপরতার কারণে মারাত্মক সন্দেহ সৃষ্টি হবে। (ফাতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী : খন্ড ১২ পৃষ্ঠা ৩৪৩)। অর্থাৎ এর মানে এই নয় যে, নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদারের সংখ্যা ত্রিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ! এবার ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ:) সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন : (উইকিপিডিয়া, বাংলা)

হাদীসটির ইংলিশ ভার্সন :

  • Thawban narrated that the Messenger of Allah(s.a.w) said: “The Hour shall not be established until tribes of my Ummah unite with the idolaters, and until they worship idols. And indeed there shall be thirty imposters in my Ummah,each of them claiming that he is a Prophet. And I am the last of the Prophets, there is no Prophet after me.”

উৎস : বাংলা হাদীস অ্যাপস (Apps) থেকে কপিকৃত।

ইসলামের এই শিক্ষার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মির্যা কাদিয়ানীর নবী রাসূল দাবী :

মির্যা গোলাম কাদিয়ানী লিখেছেন : ‘মোটকথা আমি মুহাম্মদ ও আহমদ (সঃ) হওয়ার কারণে আমার নবুওয়ত ও রেসালত লাভ হয়েছে, স্বকীয়তায় নয়, ‘ফানাফির রসূল’ হয়ে অর্থাৎ রসূলের মধ্যে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিলীন করে পেয়েছি। সুতরাং এতে ‘খাতামান্নাবীঈনের’ অর্থে কোন ব্যতিক্রম ঘটলো না। পক্ষান্তরে ঈসা আলায়হেসসালাম আবার (এ পৃথিবীতে) আসলে (খাতামান্নাবীঈনের অর্থে) নিশ্চয়ই ব্যতিক্রম ঘটবে।’ (দেখুন ‘এক গলতি কা ইযালা’ বা একটি ভুল সংশোধন পৃষ্ঠা নং ৫; [বাংলায় অনূদিত], দ্বিতীয় বাংলা সংস্করণ ২০০১ ইং; অনুবাদক মৌলভী মোহাম্মদ; মূল লিখক, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী; রচনাকাল ১৯০১ইং, প্রকাশনায় আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বাংলাদেশ)।

  • কাদিয়ানীদের বই পুস্তক এবং পত্র পত্রিকায় হযরত মুহাম্মদ (সা:)-কে যেসব মর্মার্থে “শেষনবী” মান্য করার দাবী করে তা জানতে এখানে ক্লিক করুন

অতএব, খাতামুন নাবিয়্যীন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এর পর নবুওয়ত দাবী করায় মির্যা কাদিয়ানী একজন মিথ্যাবাদী ও ইসলাম থেকে খারিজ এবং কাফের জাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রমাণিত। ফলে তার অনুসারী কাদিয়ানী সম্প্রদায়ও কাফের জাতির অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই গণ্য হবে। যদিও তারা আমাদের মতই কলেমা পড়ে, নামাজ রোজা ইত্যাদি করেনা কেন! সংক্ষেপে।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

1 COMMENT

  1. আলহামদুলিল্লা। রেফারেন্সসহ সুন্দর একটি লেখা।
    জ্ঞানীদের জন্য খোরাক আছে। জাযাকাল্লাহ, প্রিয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here