• আলোচনার শুরুতে আমরা দু’টি পরিভাষার সাথে পরিচিত হই… ওলামায়ে কেরামের তো জানাই আছে, অন্যদের জন্য নিম্নে পরিভাষা দুটোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো!

১। التلفيق (আত তালফীক) :

একাধিক মাযহাবকে একত্র করে আমল করাকে তালফীক বলা হয়। যেমন- একজন অজু করলো। এরপর তার শরীর থেকে রক্ত বের হলো। সে মনে মনে বললো, ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহ এর মাযহাব অনুযায়ী যেহেতু শরীর থেকে রক্ত বের হলে অযু ভাঙ্গে না, অতএব আমি এ ব্যাপারে ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহের মাযহাব অবলম্বন করলাম। কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রীর শরীরের সাথে হাত লাগলো। মেয়েদের শরীর স্পর্শ করলে ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর মাযহাব অনুযায়ী ওযু নষ্ট হয় না। কিন্তু ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহর মাযহাব মোতাবেক ওযু নষ্ট হয়ে যায়। সে এখন স্থির করলো, এ ব্যাপারে আমি ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ এর মাযহাব গ্রহণ করলাম। এরপর সে ঐ অজু দ্বারা নামায আদায় করলো। এটা হচ্ছে তালফীকের উদাহরণ।

২। تتبع الرخص (রুখসত অন্বেষণ বা সুযোগ সন্ধান) :

শরীয়তে রুখসত বলতে দুই ধরনের বিষয়কে বুঝানো হয় : এক. কোরআন-সুন্নাহ দ্বারা নির্দেশিত রুখসত। যেমন- মুসাফির অবস্থায় চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযকে দুই রাকআত আদায় করা। এ ধরনের রুখসত পালনে কোনো অসুবিধাই নেই। এই ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:

  • ان الله يحب ان تؤتى رخصه كما يحب ان تؤتى عزائمه

আল্লাহ তাআলা রুখসতগুলো পালন করাও তেমনটিই পছন্দ করেন, যেমনটি তিনি চান আযীমতগুলো পালন করা। (আল মুজামুল কাবীর: ১১/৩২৩, হাফেয মুনযিরী রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আত তারগীব: ২/১৩৫)। দুই. ফুকাহায়ে কেরামের ইজতেহাদী রুখসত সমূহ খুঁজে বেড়ানো। অর্থাৎ কোনো একজন মুজতাহিদ ইমাম একটি বিষয়কে নাজায়েয বলে আখ্যা দিয়েছেন, আর অন্য কোনো ইমাম সে ব্যাপারে জায়েযের ফতওয়া দিয়েছেন। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র সুবিধার স্বার্থে এই ধরনের রুখসতগুলো অন্বেষণ করে করে আমলের জন্য গ্রহণ করার চেষ্টা করা। এক কথায় নিজের মনের সাথে যেটা মিলে, সব মাযহাব থেকে এমন সহজটা গ্রহণ করা। অথচ শরীয়তে প্রবৃত্তির অনুসরণকে সম্পূর্ণভাবে হারাম করা হয়েছে। (দেখুন, আল মুওয়াফাকাত,৫/৯৯, আল বাহরুল মুহীত,৬/৩২৫, জামিউ বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাজলিহী ২/৯২)। এখানে এই দ্বিতীয় অর্থ উদ্দেশ্য।

তালফীক ও তাতাব্বুউর রুখাসের মাঝে যেমন কিছুটা সাদৃশ্য আছে, তেমনিভাবে এ দু’য়ের মাঝে কিছুটা পার্থক্যও রয়েছে। এ সম্পর্কে অনেক লম্বা আলোচনা আছে, যা এ অল্প পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। ‘তালফীক’ ও ‘তাতাব্বুউর রুখসাত’ এ দু’টি চিন্তাধারাকেই ওলামায়ে কেরাম নাজায়েয, হারাম ও মারাত্মক গোনাহের কাজ বলে গণ্য করেছেন। (আল মুওয়াফাকাত: ৪/১৪০)। কেউ বলতে পারেন, হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো দুই জিনিসের মাঝে সহজটাই গ্রহণ করতেন। আমি বলবো, হাদীসটা অর্ধেক বলে থামেন কেন? পূর্ণ হাদীসটি ভালো করে লক্ষ্য করে দেখুন, ভুল ভেঙ্গে যাবে।

  • عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّهَا قَالَتْ مَا خُيِّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلاَّ أَخَذَ أَيْسَرَهُمَا، مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا، فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ.‏

হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা হতে বর্ণিত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে যখনই দু’টি জিনিসের মাঝে একটি গ্রহণের স্বাধীনতা দেওয়া হতো, তখন তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন যদি তা গুনাহ না হতো। গুনাহ হতে তিনি অনেক দূরে অবস্থান করতেন। সহীহুল বুখারী, হাদীস নম্বর: ৩৫৬০।

দুইজিনিসের মাঝে স্বাধীনতা দেয়া হলে, সেই ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহজটা ওই সময় গ্রহণ করতেন, যখন তা গুনাহ না হতো। আর তালফীক ও সুযোগসন্ধানকে তো প্রবৃত্তির অনুসরণ হবার কারণে নাজায়েয ও গুনাহের কাজ বলা হয়েছে। তাই অর্ধেক হাদীস পড়ে মন্তব্য করা উচিত হবে না। হাফেয ইবনে হাযম রাহিমাহুল্লাহ এবং হাফেয ইবনে আব্দুল বার রহিমাহুল্লাহ এই ধরনের চিন্তাধারা নাজায়েয ও হারাম হওয়ার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের ইজমা’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। (মারাতিবুল ইজমা’: পৃষ্ঠা নম্বর: ১৭৫, জামিউ বয়ানিল ইলম)। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি নাবীযে তামারের ব্যাপারে আহলে কূফার মাযহাবের উপর, সেমা’ অর্থাৎ গান-বাদ্যের ব্যাপারে আহলে মদীনার মাযহাবের উপর, আর নিকাহে মুতআ’র ব্যাপারে আহলে মক্কার অভিমতের উপর আমল করে, তাহলে সে ফাসেক হয়ে যাবে। মা’মর রহিমাহুল্লাহ থেকেও এই ধরনের বর্ণনা এসেছে। (ইরশাদূল ফুহূল: পৃষ্ঠা নম্বর: ২৭২)।

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ইফতাবোর্ড এর ফতওয়ার কিতাব ফাতাওয়া আল লাজনা আদ দাইমাহ ও আল মাউসূআতুল ফিকহিয়্যাহ-তে (২২/১৬৪) শরয়ী মাসায়েলে রুখসত খুঁজে বেড়ানো বা সুযোগসন্ধানকে নাজায়েয, শরীয়তবিমুখতা, ও প্রবৃত্তির অনুসরণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে শরীয়ত মানুষের খেল তামাশার পাত্র হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। ফাতাওয়া আল লাজনাহ আদ দাইমাহ এর এই ইবারতটিও ভালো করে লক্ষ্য করুন :

  • أما إن كان المراد بالأخذ بالرخص في الدين هو الأخذ بالأسهل وما يوافق هوى الإنسان من فتاوى وأقوال العلماء – فإن ذلك غير جائز، والواجب على الإنسان أن يحتاط لدينه، وأن يحرص على إبراء ذمته، فلا يتبع إلا ما صح به الدليل من كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وإن كان جاهلا بالحكم فإنه يسأل أهل الذكر ممن يوثق بعلمه وفتواه، ولا يكثر من سؤال العلماء في المسألة الواحدة فيتبع الأسهل له وما يوافق هواه، فإن ذلك دليل على تفريطه وإهماله لأمور دينه، وقد أثر عن بعض السلف قوله: (من تتبع رخص العلماء فقد تزندق).

রুখসত থেকে উদ্দেশ্য যদি তুলনামূলক বেশি সহজটি ও বিভিন্ন অভিমত থেকে নিজের মনমতো অভিমতটি গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা নাজায়েয। মানুষের জন্য জরুরী হলো, দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা। কর্তব্য আদায়ে সচেষ্ট হওয়া। অতএব, কুরআন-সুন্নাহর সহীহ দলীল দ্বারা প্রমাণিত অভিমতটিই অনুসরণ করবে। আর যদি হুকুম না জানা থাকে তাহলে যার ইলম এবং ফায়ারওয়াল উপর আস্থা রাখা যায় এমন গ্রহণযোগ্য কোনো আহলে ইলমকে জিজ্ঞাসা করবে। সহজ ও সুযোগ সন্ধানের উদ্দেশ্যে একই মাসআলা বিভিন্ন জনের কাছে জিজ্ঞেস করবে না। এটা তার দ্বীনের ব্যাপারে অবহেলা ও উদাসিনতার প্রমাণ হবে। সালাফের মধ্যে অনেকে বলেছেন, যে ওলামায়ে কেরামের রুখসতগুলো খুঁজে বেড়াবে, সে বদ্বদ্বীন হয়ে যাবে। বড় আফসোসের বিষয় আমাদের কিছু দাঈ ভাইয়েরা বর্তমানে জনপ্রিয়তা অর্জন করার ভয়ঙ্কর এক দাওয়াতিপন্থা বেছে নিয়েছেন। তা হলো, ইসলামকে সহজীকরণ। আর এ উদ্দেশ্যে তারা কখনো তালফীক, কখনো রুখসত সন্ধানের পথ বেছে নেন। এ ধরনের তালফীকপন্থী ও সুযোগসন্ধানী শায়েখদেরকে দেখবেন, তারা নিরপেক্ষতার ভূমিকা গ্রহণ করে বিভিন্ন সময়ে বলে যে, “এটা কি অমুক মাযহাবে নাই?” হানাফী মাযহাবের ইমামগণও তো কখনো কখনো অন্য মাযহাব মোতাবেক ফতওয়া দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ঐ ধরনের আমল করলে কী অসুবিধা?

আমি এদের কান্ডজ্ঞান দেখে অবাক হই। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তারা আমজনতাকে গোমরাহী ও বদদ্বীনির দিকে ঠেলে দিতে চান। শরীয়তকে খেল-তামাশা বানাতে চান। নিজ মাযহাব থেকে অন্য মাযহাবের দিকে গমন করা কোনো অপরিহার্য জরুরতের ক্ষেত্রেই হতে পারে। আর এটা কেবলমাত্র যুগশ্রেষ্ঠ, বিজ্ঞ মুফতীয়ানে কেরামের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ক্ষেত্র বিশেষে হয়। আমজনতা নিজে নিজেই এ ধরনের যেকোনো সময় যেকোনো মাযহাবের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এ ধরনের অনুমতি আমজনতার জন্য কখনোই হতে পারে না।

যেখানে এসব শায়খদেরও কোনো না কোনো ইমামের ব্যাখ্যার আলো অনুসরণ করা ছাড়া চলার কোনো পথ নেই। সেখানে তারা কি আমজনতাকে মুজতাহিদ মনে করেন? কোরআন-হাদীসের সামান্য ও সাধারণ জ্ঞান এবং কোরআন-হাদীসের শুধুমাত্র অনুবাদ জানা এ ব্যাপারে যথেষ্ট নয়। কখনো হতে পারে না। সেখানে আমজনতা, যারা কুরআন-সুন্নাহর অনুবাদ জানা তো দূরের কথা অনেকে তো অনুবাদ পড়তেও জানেন না। তাদেরকে আমাদের নিরপেক্ষ এ সমস্ত শায়খ ও দাঈগণ কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ও ইচ্ছাস্বাধীনভাবে যেকোনো সময় যেকোনো মাযহাবের অনুসরণ করার অনুমতি দিচ্ছেন। এর প্রতি উৎসাহিত করছেন। আপনি কি ভেবে দেখেছেন, অবস্থা কতটা ভয়ংকর ? কতটা মারাত্মক? এভাবে সাধারণ মানুষ আস্তে আস্তে সুযোগ সন্ধান করতে করতে, মাযহাব থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে, দ্বীন থেকেই এক সময় বের হয়ে যাবে।

মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন বাটালবী, যিনি লা-মাযহাবীদেরকে ওয়াহাবী নাম হতে আহলে হাদীস নামের রেজিস্ট্রেশন এনে দিয়েছিলেন, ইংরেজ সরকার থেকে। তিনি তার ইশাআতুস সুন্নাহ পত্রিকায় উল্লেখ করেছেন, “আমার পঁচিশ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে জানতে পারলাম, পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলম ছাড়া যারা মাযহাব ত্যাগ করে, তারা আস্তে আস্তে দ্বীন থেকে সটকে পড়ে। কেউ খ্রিস্টান হয়, কেউ লামাযহাবী। শরীয়তের আহকাম থেকে বের হয়ে ফাসেক আর ফাজের হয়ে যাওয়া তো এই স্বাধীনচিন্তার অতি স্বাভাবিক ফলাফল।” (ইশাআতুস সুন্নাহ, খ:১১, সংখ্যা: ২, পৃষ্ঠা নম্বর: ৫৩)

শরীয়তের দৃষ্টিতে আসল হচ্ছে সরাসরি কুরআন সুন্নাহর উপর আমল করা। ‌ কিন্তু এটা কার জন্য? জায়েদ, ওমর, বকরের জন্য? যেকোনো কলিমুদ্দিন সলিমুদ্দিনের জন্য? এটা কি খেলনা? এটা কি ছেলের হাতের মোয়া? তা কখনো না। তাহলে কেনো এবং কোন স্বার্থে আমজনতার সামনে যেকোনো সময় যেকোনো মাযহাবের অনুসরণের দ্বার উন্মোচন করে দেয়া হচ্ছে? বিভিন্ন মাযহাবের রুখসত আর সুযোগগুলো তাদের সামনে বয়ান করে করে কেনো তাদের মধ্যে সুযোগসন্ধানী মানসিকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে?

আমাদের দেশের একজন জনপ্রিয় দাঈ আছেন। যিনি সদাসর্বদা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টায় মত্ত। কখনো ইংরেজি, কখনো সুযোগসন্ধানী বক্তব্য রেখে একে একে আলোচনার শিরোনাম হতে তিনি প্রতিনিয়তই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তালফীকপন্থী। রুখসত অন্বেষণ তথা সুযোগসন্ধানী মানসিকতায় বিশ্বাসী তিনি। আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন, তিনি কিছুদিন আগে একজন ইমামের একটি অভিমত সামনে এনে ফতওয়া দিয়েছিলেন, মেয়েরা চেহারা খুলে বাইরে বের হতে পারবে। চেহারা পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। পরবর্তীতে আবার অন্য একজন ইমামের বক্তব্য অনুযায়ী ফতওয়া দিলেন, নামাযে কোরআন শরীফ দেখে পড়া যাবে। এটাকেই বলে তালফীক ও সুযোগসন্ধান । আবার ইদানিং নতুন একটি ফতওয়া দিয়েছেন, কষ্টকর কাজ যারা করেন, তারা রোযা না রাখলেও চলবে। আবার বলছেন, তারাবীহের নামায চার রাকাত পড়লেও চলবে। আবার কেহ কেহ বলছেন, অজু ছাড়াও কুরআন মাজিদ স্পর্শ করা যাবে। এটাকে বলে রুখসত অন্বেষণ , সুযোগসন্ধান। অনেকে বলেন, উক্ত মাওলানার এটা ভুল হয়েছে। তাঁর ফতোয়া দেওয়ার যোগ্যতা নাই, ইত্যাদি….।

কিন্তু আমি তা মনে করি না। ইফতা না পড়লেও আমাদের দারুল ইফতাগুলো থেকে সাধারণ যেসব মুফতী বের হন, কিতাব পত্র দেখে-শুনে তাকওয়ার প্রতি লক্ষ্য রেখে ফতোয়া দিলে তিনি তাঁদের চেয়ে খারাপ করবেন না। আমি মনে করি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই এরকম করে যাচ্ছেন এবং আগামীতেও করবেন। কারণ তিনি তালফীকপন্থী, সুযোগসন্ধানী মানসিকতায় বিশ্বাসী। যা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। শরীয়তের বুনিয়াদ বিধ্বংসী চিন্তা। কিন্তু তিনি সেই নিষিদ্ধ পন্থাই অনুসরণ করে যাচ্ছেন। বরং সেদিকে মানুষকে বয়ানের মাধ্যমে উৎসাহিত করছেন। দাওয়াত দিচ্ছেন। তাঁর জনপ্রিয়তা অর্জনের মেইন হাতিয়ারই হচ্ছে, تلفيق ও تتبع الرخص । কারণ, তাঁর যে প্রয়োজন জনপ্রিয়তা…দ্বীন কোথায় যায় যাক, দ্বীনের বুনিয়াদ ধ্বংস হয় হোক, তাতে তেমন কিবা যায় আসে? দ্বীনের অবস্থা যাই হোক, নিজের অবস্থান তো তৈরি হবে… বস্তুবাদী ও ভোগবাদী সমাজের যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণী ও আমজনতা অধিকাংশই যে এখন শুধু সহজ চায় তাদেরকে আকৃষ্ট করতে দ্বীনের সহজীকরণ প্রয়োজন। তাই দরকার তালফীক ও রুখসত। অথচ আমরা দেখি, আমাদের সালাফগণ এ ব্যাপারে অনেক অনেক সর্তকতা অবলম্বন করেছেন। যেনো সাধারণ মানুষ দ্বীন-ধর্মের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে না পড়ে। সামান্য ব্যাপারে রুখসত অন্বেষণ না করে। সুযোগসন্ধানী না হয়ে যায়। এখানে আমি সহীহুল বুখারীতে তায়াম্মূম অধ্যায়ে উল্লেখিত একটি হাদীস পেশ করছি –

  • عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ فَقَالَ لَهُ أَبُو مُوسَى لَوْ أَنَّ رَجُلاً أَجْنَبَ، فَلَمْ يَجِدِ الْمَاءَ شَهْرًا، أَمَا كَانَ يَتَيَمَّمُ وَيُصَلِّي فَكَيْفَ تَصْنَعُونَ بِهَذِهِ الآيَةِ فِي سُورَةِ الْمَائِدَةِ ‏{‏فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا‏}‏ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ رُخِّصَ لَهُمْ فِي هَذَا لأَوْشَكُوا إِذَا بَرَدَ عَلَيْهِمُ الْمَاءُ أَنْ يَتَيَمَّمُوا الصَّعِيدَ‏.‏ قُلْتُ وَإِنَّمَا كَرِهْتُمْ هَذَا لِذَا قَالَ نَعَمْ‏.‏

শাক্বীক রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নে মাস’ঊদ ও আবূ মূসা আশ’আরী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। আবু মূসা আশ’আরী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ‘আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-কে বললেন, কোনো ব্যক্তি জুনুবী (গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি) হলে সে যদি এক মাস পর্যন্ত পানি না পায়, তা হলে কি সে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করবে না? শাক্বীক (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বললেন, এক মাস পানি না পেলেও সে তায়াম্মুম করবে না। তখন তাঁকে আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বললেন, তাহলে সূরা মায়িদাহ্‌র এ আয়াত সম্পর্কে কী করবেন যে, “পানি না পেলে পাক মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে” (সূরা আল-মায়িদা ৫/৬)। আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু জওয়াব দিলেন, মানুষকে সেই অনুমতি দিলে অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে যে, সামান্য ঠান্ডা লাগলেই লোকেরা মাটি দিয়ে তায়াম্মুম শুরু করবে। আমি বললাম আপনারা এ জন্যেই কি তা অপছন্দ করেন? তিনি জবাব দিলেন, হাঁ।

জুনুবীর ক্ষেত্রে একান্ত প্রয়োজনে তায়াম্মুমের অনুমতি থাকলেও, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এ ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করতেন। কেন? যাতে করে মানুষের মাঝে সুযোগ সন্ধানের মানসিকতা সৃষ্টি না হয়। সামান্য ঠাণ্ডার ভয়েই যেন তায়াম্মুম শুরু করে না দেয়। সহীহুল বুখারী, হাদীস নম্বর: ৩৪৭। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু কিছু বক্তা আমজনতার অজ্ঞতা আর মূর্খতাকে পুঁজি করে তাদের চাহিদা মোতাবেক শুধু সহজ ও রুখসতের মাসায়েলগুলো উল্লেখ করেন। মাঝেমধ্যে হিন্দি ও বাংলা সিনেমার গান গেয়েও শোনান। যাতে সহজেই শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হওয়া যায়। বাস্তবিকপক্ষে এ সকল বক্তারা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য তো নয়ই, বরং তারা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। কারণ তারা শরীয়তকে তামাশায় রূপান্তরিত করছে। আহ্ ! যে জনপ্রিয়তা অর্জনে আমরা গর্ব করি, আমাদের আসলাফ ও পূর্বসূরীগণ সেটা ঘৃণা করতেন।

ওয়াজ-নসীহত ও দ্বীনের কথা সবার থেকে হাসিল করা যায় না। এখনতো স্টেজে দু-চারটি কথাবার্তা সাজিয়ে গুছিয়ে বলতে পারলেই তাকে অনেক বড় ‘আল্লামা’ মনে করা হয়। আমাদের দেশের সাধারণ পাবলিকের ভক্তি-শ্রদ্ধার কোনো মাপকাঠি বলতেই নেই। রাস্তার হকাররা এমবিবিএস ডাক্তারের চেয়ে লেকচার ভালো দেয়। তার লেকচার যতই শ্রুতিমধুর হোক, তার কথায় ওষুধ খাওয়া যাবে না। তদ্রুপ সব বক্তার উপর আস্থা রাখা যাবে না। তাদের সবার বক্তব্যের উপর আমল করা যাবে না। বিনোদনমূলক ওয়াজ থেকে বিনোদন নেওয়া যাবে, আমল করা যাবে না। একমাত্র হকপন্থী, উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য উলামায়ে কেরামের ফাতাওয়ার উপরই আমল করতে হবে। যেনতেন বক্তার বক্তৃতা, যেকোনো লেকচারারের লেকচার শুনেই দৌড় দেওয়া যাবে না। মুসলিম শরীফে উল্লেখ আছে, মুহাম্মদ ইবনে ছীরীন রহিমাহুল্লাহ বলেন :

  • إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِينٌ، فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ.

“নিশ্চয় ইহা দ্বীনের অংশ। সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে দ্বীন গ্রহণ করছো, তা ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখো।” (মুকাদ্দিমায়ে মুসলিম: পৃষ্ঠা ১১)। একজন মানুষের সবচেয়ে বড় গোমরাহী হলো, চিন্তা-চেতনার গোমরাহী। মানুষের মতাদর্শ যখন বদলে যায়, ইসলামের সঠিক রূপরেখা থেকে ফিরে যেতে থাকে, তখন আস্তে আস্তে সে ‘ফিকরি ইরতিদাদে’র শিকার হয়ে যায়। উপর থেকে দেখে আপনি মনে করবেন, সে আসলে একজন পাক্কা মুসলিম। কিন্তু বাস্তবে ভেতর থেকে চিন্তা-চেতনা, মাসলাক-মাশরাবের দিক থেকে, সে সম্পূর্ণই ভ্রান্ত পথের অনুসারী হয়ে যায়। মানুষ যখন তালফীক ও সুযোগসন্ধানের পথে চলতে থাকে, তখন তারাও এই ধরনের পরিনণতির পথে চলতে শুরু করে…. আমাদের কিছু ভাইয়েরা বুঝে না বুঝে আমজনতাকে সে পথের দিকেই নিয়ে যাচ্ছেন।

হঠাৎ জনপ্রিয়তা সংক্রান্ত একটি গল্প মনে পড়লো। ছোটবেলায় আমি আমার কোনো একজন শিক্ষকের কাছে গল্পটি শুনেছিলাম। একজন লোক কয়েকবার হজ্ব করলো। কিন্তু তাকে কেউ হাজী বলে না। তখন সে একজনের কাছে পরামর্শ চাইলো, আমি এতবার হজ করলাম, আমাকে কেউ তো হাজী বলে না, এখন কী করি বলুন তো? লোকটি সব শুনে বললো, ব্যতিক্রমধর্মী কিছু না করলে, স্রোতের বিপরীত না চললে, রাতারাতি শোহরত পাওয়া যায় না। জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায় না। তুমি এবার হজে গিয়ে এমন একটা কাজ করবা, যা ইতিপূর্বে কেহই করে নি, তাহলে দেখবা সবাই তোমাকে হাজী বলে ডাকবে। সে জিজ্ঞাসা করলো, কী করতে হবে? লোকটি বললো, এবার হজে গিয়ে জমজম কূপে পেশাব করতে শুরু করবা, দেখবে সবাই তোমাকে হাজী বলবে। লোকটি এবার হজে গিয়ে সত্যি সত্যি জমজম কূপের মধ্যে পেশাব করার পরিকল্পনা করলো। জমজম কূপের পারে গিয়ে যেই মাত্র পেশাব শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে, ওমনি লোকজন বাঁধা দিয়ে বলা শুরু করলো, এই দেখো দেখো মুতুরে হাজী কী করে ! হায়রে মুতুরে হাজীর কারবার ইত্যাদী। তখন থেকে সবাই লোকটিকে হাজী বলা শুরু করলো, তবে সাথে একটি বিশেষণ যুক্ত করে। সেটা হলো, “মুতুরে হাজী”। জনপ্রিয় হওয়ার জন্য ইসলামকে সহজীকরণ করে ব্যবসা করার কোনো দরকার নেই। ইসলাম ধর্মের সমস্ত হুকুম-আহকাম এমনিতেই সহজ। সুন্দর। আকর্ষণীয়। ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েই যুগে যুগে লক্ষ লক্ষ মানুষ ইসলাম ধর্মে অনুপ্রাণিত হয়েছে। ইসলাম তলোয়ারের জোরে নয়, আদর্শ ও সৌন্দর্যের কারণে বিস্তৃতি লাভ করেছে।

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

  • وَ مَا جَعَلَ عَلَیۡکُمۡ فِی الدِّیۡنِ مِنۡ حَرَجٍ

আল্লাহ তাআলা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি। (সূরা হজ্ব, আয়াত নম্বর:৭৮)। অর্থাৎ ইসলামের মধ্যে এমন কোনো নির্দেশ নেই, যেখানে সঙ্কীর্ণতা রয়েছে।

  • يريد الله بكم اليسر

এই আয়াতটির এবং الدين يسر হাদীসটির আজকাল অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য সহজ আহকাম চান। কোনো হুকুম-আহকামের মধ্যে সংকীর্ণতা রাখেননি, কথাটির অর্থ হচ্ছে, ইসলামে যে বিধানগুলো দেওয়া হয়েছে, তা আসলেই অনেক সহজ। এতে কোনো ধরনের সংকীর্ণতা নেই, কঠোরতা নেই। যেমন পূর্ববর্তী উম্মতের উপরে ছিলো। পূর্ববর্তী উম্মতের জন্য গুনাহের তওবা ছিলো, হত্যা করে ফেলা। রাতে গুনাহ করলে সকালে দরজায় লেখা উঠতো। জাকাতের কোনো নিসাব ছিল না। সবারই দিতে হতো‌। দেওয়াও লাগতো চার ভাগের এক ভাগ। আবার তা কারো উপকারে আসতো না। মাঠে রেখে আসতে হতো। আগুন এসে জ্বালিয়ে দিতো। কোরবানীর বিষয়ও ঠিক এমনই ছিল। কেউ গোশত খেতে পারত না। আগুন এসে কবুল হওয়া কোরবানীটি জ্বালিয়ে দিতো। কাপড়ে এমনকি কোনো কোনো বর্ণনা মোতাবেক শরীরেও নাপাক লাগলে, পবিত্রতার জন্য কাপড় বা শরীরের ওই স্থান কেটে ফেলতে হতো। এরকম আরো অনেক অনেক কঠোর বিধান ছিল‌। চিন্তা করে দেখুন ! ইসলামের বিধানগুলো সে তুলনায় কত সহজ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

  • بُعِثْتُ بِالْحَنِيفِيَّةِ السَّمْحَةِ

অর্থাৎ আমাকে সব বাতিল আদয়ান ও ভ্রান্তমতবাদ থেকে ভিন্নতর, সহজ সরল দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। মুসনাদে আহমাদ,৩৬/৬২৪, হাদীস নম্বর: ২২২৯১, আল মুজামুল কাবীর,৮/২২২ হাদীস নম্বর: ৭৮৮৩। আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত ইসলামী বিধি-বিধান এমনিতেই সহজ। সব মাযহাব থেকে রুখসত, সুযোগ ও ছাড় দেওয়া বিধানগুলো একত্রিত করে, নতুন করে সহজীকরণের কোনো প্রয়োজন নেই। যারা ইসলামকে শর্টকাট ও সহজীকরণের মতাদর্শে বিশ্বাসী তারা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছেন! আপনি যদি শরীরের উপরের অংশের সবচেয়ে শর্টকাট পোশাকটি, আর নিচের অংশের সবচেয়ে শর্টকাট পোশাকটি পরিধান করেন, তাহলে এই পোশাক পরিধান করে জনসম্মুখে যাওয়ার, স্টেজে বসে লেকচার দেওয়ার মত পরিস্থিতি থাকবে কি? (সতর শুধুমাত্র নিজের সামনের ও পিছনের লজ্জাস্থান দুটি, এমন অভিমতও তো একজন অনেক বড় ইমামের রয়েছে।) তাহলে স্টেজে বসে ইসলামকে এতো শর্টকাট করার চিন্তাভাবনা কেন? রুখসত ও সুযোগসন্ধানী মানসিকতায় বিশ্বাসীরা সালাফের একটি কথা স্মরণ করে ভয় করা উচিৎ।

  • من تتبع الرخص فقد تزندق

যে ব্যক্তি রুখসত ( সুযোগ ) খুঁজে বেড়াবে, সে ঈমানহারা হয়ে যাবে। এটা সম্ভবত ইমাম আউযায়ী রাহিমাহুল্লাহর বক্তব্য। ইরশাদুল ফুহুল কিতাবে একটি ঘটনা বর্ণিত আছে। কাজী ইসমাঈল রাহিমাহুল্লাহ একদিন খলীফা মু’তাজিদ বিল্লাহ আব্বাসীর দরবারে প্রবেশ করলেন। তখন খালীফা তার সামনে একটি কিতাব তুলে ধরে বললেন, এটা ভালো করে দেখুন তো! কাজী সাহেব ভালো করে দেখলেন, সেখানে বিভিন্ন ওলামায়ে কেরামের রুখসতগুলো (সুযোগ এর ফতোয়াগুলো) একত্রিত করা হয়েছে। কাজী সাহেব খলীফার উদ্দেশ্যে বললেন, এ কিতাবের লেখক বদদ্বীন। খলীফা জিজ্ঞাসা করলেন, একিতাবের হাদীসগুলো কি সহীহ নয়? এখানে উল্লেখিত মাসআলাগুলো কি সহীহ হাদীস শরীফে উল্লেখ নেই? তিনি বললেন, অবশ্যই সহীহ। তবে যিনি একটিকে জায়েয বলেছেন, তিনি অন্যটিকে জায়েয বলেননি। যিনি একটির অনুমতি দিয়েছেন, তিনি অন্যটির অনুমতি দেননি। কিন্তু লেখক সব মাযহাব থেকে শুধু সুযোগ ও রুখসতের ফতোয়াগুলোই এখানে একত্র করেছেন। তখন খলীফা ওই কিতাবটি পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। (আল মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ,২২/১৬৪)। এসব শর্টকাট ও সহজীকরণের কথা শুনলে, আমার ছোটবেলায় পড়া একটি বাবুরাম সাপুড়ে কবিতার কথা মনে পড়ে।

                    বাবুরাম সাপুড়ে,               কোথা যাস্ বাপুরে ?                আয় বাবা দেখে যা,               দুটো সাপ রেখে যা—              যে সাপের চোখ্ নেই,               শিং নেই, নোখ্ নেই,  ছোটে না কি হাঁটে না, ‌‌কাউকে যে কাটে না, ‌করে নাকো ফোঁস্ ফাঁস্, মারে নাকো ঢুঁশঢাঁশ, নেই কোনো উৎপাত, খায় শুধু দুধ ভাত, সেই সাপ জ্যান্ত গোটা দুই আন্ত ! তেড়ে মেরে ডাণ্ডা ক'রে দিই ঠাণ্ডা।!

আমাদের কিছু ভাইয়েরা এরূপ ইসলামই চান, যেটা হবে এ কবিতার সাপের মতো, নখ-দন্ত বিহীন। আর সে জন্যই তারা বেছে নিয়েছেন মারাত্মক ভয়ংকর দাওয়াতীপন্থা ” তালফীক ও সুযোগসন্ধান” । আল্লাহ তাআ’লা আমাদের ঐসকল ভাইদেরকে হিদায়াত করুন। সঠিক পথে ব্যবহৃত হলে, তাঁরা আমাদের সম্পদ । আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথে, ইখলাসের সাথে দাওয়াত দেওয়ার তাওফীক দিন। আর আমাদের সবাইকে শরীয়াহ’র বুনিয়াদ বিধ্বংসী তালফীক ও সুযোগসন্ধানী মানসিকতা থেকে হিফাজত করুন।

  • মুফতী মুহাম্মদ শফী কাসেমী সাহেবের টাইমলাইন থেকে
  • স্বনামধন্য হাদীস বিশারদ [মুহাদ্দিস], বগুড়া জামিল মাদরাসা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here