দ্বিমুখী নীতি ও প্রতারণার আরেক নাম ‘কাদিয়ানী জামাত’!

বিভিন্ন পেপার পত্রিকা, টকশো কিবা বক্তৃতায় অনেককে “কে মুসলমান আর কে মুসলমান না, তা শুধুই আল্লাহ জানেন” এই বুলি আওড়াতে দেখা যায়। এরা যেন বলতে চায় যে, কুরআন-সুন্নাহ থেকে নাম-ঠিকানাসহ প্রমাণ করার আগ পর্যন্ত কেউ মুসলমান হবার দাবী করতে পারেনা! অথচ এটি একদমই অজ্ঞতা আর ইসলাম সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান নেই যাদের তাদের কথা। কেননা একজন জ্ঞানীমাত্রই ভালো করে জানেন যে, কুরআন সুন্নাহ-তে এমন অনেক বিষয় উল্লেখ আছে (যেগুলোকে জরুরীয়াতে দ্বীন বলে) যার কোনো একটিও সরাসরি বা অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে অস্বীকার করামাত্রই ব্যক্তি কাফের এবং ইসলামের গণ্ডির বাহিরে বলে গণ্য হবে। (ফেইসবুক থেকে)।

অপ্রিয় হলেও সত্য, সারা দুনিয়ার মুসলিম উম্মাহা কাদিয়ানীদের ‘কাফের-অমুসলিম-জিন্দিক’ আখ্যা দেয়ার অনেক পূর্ব থেকে ওরাই বরং সমস্ত ‘অ-কাদিয়ানী’কে (অর্থাৎ যারা কাদিয়ানী মতের অনুসারী নয় এমন প্রত্যেককে) কাফের আখ্যা দিয়ে রেখেছে। বরং ইহুদী, খ্রিস্টান, অমুসলিম, মুরতাদ, জাহান্নামী ইত্যাদী শব্দেও আখ্যা দিয়েছে। আমি আজ এখানে রেফারেন্স সহ কিছু উদ্ধৃতি সংক্ষেপে তুলে ধরছি। তা পড়ার আগে কাদিয়ানী জামাতের পাক্ষিক আহমদী (তাং ১৫ ডিসেম্বর ২০১২, পাতা ৬) নামীয় ম্যাগাজিনের এই পাতাটি পড়ে নেবেন! এবার নিশ্চয়ই চমকে উঠেছেন, তাই না! হ্যাঁ, চমকে উঠারই কথা। কারণ, পাক্ষিক আহমদী পত্রিকায় এত সুন্দর করে কথাগুলো যারা লিখেছেন তাদেরই পূর্বসূরীরা কিন্তু এত সুন্দর করে মুসলমানদের নিয়ে লিখেনি।

মির্যা কাদিয়ানী আর তার দুই পুত্রের রচনাবলি থেকে নিম্নরূপ :

(১) ‘খোদাতালা আমার উপর প্রকাশ করে দিয়েছেন যে, যাদের নিকট আমার দাওয়াত পৌঁছেছে আর তারা তা কবুল করেনি এমন ব্যক্তি মুসলমান নয় এবং এরা (পরকালে) পাকড়াও হবে।’ (মির্যা কাদিয়ানীর কথিত ওহী-সমগ্র গ্রন্থ তাযকিরাহ পৃষ্ঠা নং ৫১৯; ইলহাম, মার্চ ১৯০৬ ইং, চতুর্থ এডিশন)।

  • মির্যা কাদিয়ানী সাহেব জনৈক প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তরে পরিষ্কার করে লিখে গেছেন যে, এখন যারা তাকে অস্বীকার করে সে কাফের। তিনি তার ‘কাফের’ ফতুয়ার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। সুতরাং সাব্যস্ত হল যে, অ-কাদিয়ানীদের কেউই তাদের দৃষ্টিতে মুসলমান নয়। হোক সে মসজিদুল হারামাইনের ইমাম-খতিবগণ কিংবা আমাদের দেশের সেসব রাজনৈতিক ব্যক্তিগণ-ও যারা কাদিয়ানীদের প্রতি এতই উদার যে, তারা তাদেরকে অমুসলিম বা কাফের মানতে নারাজ। বলাবাহুল্য, আমাদের দেশের জাতীয় নেতৃবৃন্দ কেউই কাদিয়ানীদের দৃষ্টিতে মুসলমান নন, এমনকি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুও তাদের মৌলিক বিশ্বাসের দিক থেকে অমুসলিম, জাহান্নামী। নাউযুবিল্লাহ। মির্যার বইয়ের বাংলা অনূদিত কপি হাকীকাতুল ওহী থেকে স্ক্রিনশট দেখুন,


(২) ‘প্রত্যেক মুসলমান এই বইগুলোকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখে এবং এগুলোতে পরিবেশিত তত্ত্ব ও তথ্য দ্বারা উপকৃত হয় এবং আমার ইসলামের দিকে আহবান করাকে সমর্থন দেয়, ইল্লা যুররিয়্যাতুল বাগাইয়া তথা বেশ্যার সন্তানরা ছাড়া, আল্লাহ এদের উপর মোহর মেরে দিয়েছেন তারা ঈমান আনবেনা।’ (আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম, রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ৫ পৃষ্ঠা নং ৫৪৭-৪৮)।


(৩) মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ লিখেছেন, ‘আমাদের জন্য ফরজ হচ্ছে, আমরা যেন গয়ের আহমদীদেরকে (অর্থাৎ অ-কাদিয়ানীদেরকে) মুসলমান মনে না করি এবং তাদের পেছনে সালাত না পড়ি। কেননা আমাদের দৃষ্টিতে তারা খোদাতালার একজন নবীকে অস্বীকারকারী। এটি ধর্মীয় মু’আমালা (অর্থাৎ ধর্মীয় পারস্পরিক সম্পর্ক), এতে কিছু করার মত কারো কোনো ইখতিয়ার বা সুযোগ নেই।’ (আনওয়ারে খিলাফাত, আনওয়ারুল উলূম খণ্ড নং ৩ পৃষ্ঠা নং ১৪৮; মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ)।

মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ এর ‘বারাকাতে খিলাফত‘ গ্রন্থে লিখা আছে, কোনো আহমদী যেন গয়ের আহমদীর নিকট কন্যাদান না করে। এটি হযরত মসীহ মওউদের কড়া নির্দেশ। এই নির্দেশ সম্পন্ন করা প্রত্যেক আহমদীর উপর ফরজ। স্ক্রিনশট দেখুন।


(৪) ‘যে সমস্ত মুসলমান মির্যা কাদিয়ানীর নিকট বাইয়েত নেয়নি, তারা যদি তার নামও না শুনে থাকে তবুও তারা কাফের এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বাহিরে।’ (আয়নায়ে সাদাকাত, আনওয়ারুল উলূম খণ্ড নং ৬ পৃষ্ঠা নং ১১০; মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ ও কাদিয়ানীদের দ্বিতীয় খলিফা)। নিচের সম্পূর্ণ পাতাটির বাংলা অনুবাদ দেখানে এখানে


(৫) মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমি মসীহ মওউদ (মির্যা) এর নানা উদ্ধৃতি দ্বারা সাব্যস্ত করছি যে, যে তাকে অস্বীকার করবে সে তার দৃষ্টিতে একজন কাফের।’ (আয়নায়ে সাদাকাত, আনওয়ারুল উলূম খণ্ড নং ৬ পৃষ্ঠা নং ১৫১)।

(৬) ‘যারা তাকে কাফের মনে করে তিনি শুধু তাদেরকেই কাফের বলেননি, বরং যারা তাকে কাফের তো বলেনা কিন্তু তার দাবীগুলো স্বীকার করেনা, এমন ব্যক্তিদেরও তিনি কাফের আখ্যা দিয়েছেন।’ (আয়নায়ে সাদাকাত, আনওয়ারুল উলূম খণ্ড নং ৬ পৃষ্ঠা নং ১৫১)।

(৭) ‘সর্বশেষে তিনি (মির্যা) কুরআনুল কারীমের একখানা আয়াত দ্বারা দলিল দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি মির্যা সাহেবকে রাসূল মানবেনা, সে যদিও তাকে মুখে মুখে একজন সত্যবাদী মেনে নেয় না কেন; সেও পাক্কা কাফের।’ (আয়নায়ে সাদাকাত, আনওয়ারুল উলূম খণ্ড নং ৬ পৃষ্ঠা নং ১৫১)। ৫, ৬ এবং ৭ নং এর স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।


(৮) মির্যাপুত্র মির্যা বশির আহমদ এম.এ লিখেছেন, پس اس آیات کے ماتحت ہر ایک ایسا شخص جو موسی کو تو مانتا ہے مگر عیسی کو نہیں مانتا یا عیسی کو مانتا ہے مگر محمد صلعم کو نہیں مانتا اور محمد صلعم کو مانتا ہے پر مسیح موعود کو نہیں مانتا وہ نہ صرف کافر بلکہ پکا کافر اور دائرہ اسلام سے خارج ہے۔ অর্থাৎ সুতরাং এই আয়াত হতে বুঝা গেল যে, প্রত্যেক ব্যক্তি যে মূসাকে মান্য করে কিন্তু ঈসাকে মান্য করল না, অথবা ঈসাকে মান্য করে কিন্তু মুহাম্মদ (সা.)-কে মান্য করল না; অথবা মুহাম্মদ (সা.)-কে মান্য করে কিন্তু মসীহ মওউদ (দাবীদার মির্যা কাদিয়ানী)-কে মান্য করল না, সে শুধুই কাফের নয়, বরং পাক্কা কাফের এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বাহিরে।’ (কালিমাতুল ফছল পৃষ্ঠা নং ২০; পিডিএফ থেকে পৃষ্ঠা নং ২১)। উল্লেখ্য, বইটি উর্দূ ভাষায় রচিত, এর এখনো বাংলায় অনুবাদ হয়নি। এটির মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৯৪; বইটি প্রথম দিকে কাদিয়ানীদের অফিসিয়াল উর্দূ ভাষার একটি সাময়িকী ‘রিভিউ অফ রিলিজন্স’ এর অংশবিশেষ। স্ক্রিনশট প্রদত্ত হল,

(৯) ‘হযরত মির্যা সাহেবের ইলহাম হচ্ছে,…যে লোক তোমার আনুগত্যকারী নয় এবং তোমার বাইয়েতে দাখিল হবেনা ও তোমার বিরোধী সে খোদা এবং রাসূলের নাফরমান এবং জাহান্নামী।’ (কালিমাতুল ফসল, তৃতীয় অধ্যায় পৃষ্ঠা নং ৩৯ [হার্ডকপি]; লিখক, মির্যা  কাদিয়ানীর পুত্র মির্যা বশির আহমদ এম. এ, প্রকাশকাল  ১লা মে ১৯১৫ ইং, কাদিয়ান থেকে প্রকাশিত)।

হার্ডকপি পৃ-৩৯


(১০) মির্যাপুত্র মির্যা বশির আহমদ এম.এ তার পিতা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘অতপর নুযূলে মসীহ গ্রন্থের ৪ নং পৃষ্ঠার একটি টিকায় হুযূর (মির্যা কাদিয়ানী) লিখেছেন, শেষ যুগের জন্য খোদা নির্ধারণ করেছিলেন যে, এটি একটি সাধারণ ফেরা’র (পুনঃজন্মের) যুগ হবে (کہ وہ ایک عام رجعت کا زمانہ ہوگا)। যাতে এই দয়াপ্রাপ্ত উম্মত অন্যান্য উম্মত অপেক্ষা কোনো দিক দিয়ে কম না থাকে। সুতরাং তিনি আমাকে সৃষ্টি করলেন এবং বিগত সমস্ত নবীর সাথে আমাকে সদৃশ্যতা দিলেন এইভাবে যে, তাদের সবার নামে আমার নামকরণ করলেন। আর তাই বারাহীনে আহমদিয়া গ্রন্থে খোদাতালা আদম, ইব্রাহিম, নূহ, মূসা, দাউদ, সুলায়মান, ইউসুফ, ইয়াহিয়া এবং ঈসা প্রমুখ সবার নামে আমার নাম রেখে দিলেন। আর এইভাবেই বিগত সমস্ত নবী এই উম্মতের মাঝে যেন দ্বিতীয়বার জন্মগ্রহণ করলেন। এমনকি সর্বশেষে মসীহ (আ.)-এরও জন্ম হয়ে গেল। আর যে বা যারাই আমার বিরোধিতাকারী, খোদাতালা তাদের নাম রেখে দিয়েছেন ঈসায়ী, ইহুদী এবং মুশরিক।’ (কালিমাতুল ফসল পৃষ্ঠা নং ৪৩-৪৪)।

হার্ডকপি পৃ-৪৩, ৪৪

(১১) ‘যে লোক মসীহ মওউদের দিকে না আসবে (অর্থাৎ তার দলভুক্ত হবেনা) সে ঈমানহারা।’ (কালিমাতুল ফসল, পৃষ্ঠা নং ৫২)।

(১২) ‘কালিমাতুল ফসল’ বইতে মির্যা কাদিয়ানীর একটি ইলহামের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখা আছে, ‘এই ইলহাম দ্বারা পরিষ্কার বুঝা গেল যে, আল্লাহতালা এই যামানায়  মুমিন হওয়ার মানদণ্ড স্থির করেছেন মসীহ মওউদ [অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানী]’র উপর ঈমান আনয়ন করাকে। সুতরাং মসীহ মওউদকে যেই অস্বীকার করে তার পূর্বের ঈমান–ও যাবে।’ (কালিমাতুল ফসল, তৃতীয় অধ্যায়, পৃষ্ঠা নং ৫২)।

হার্ডকপি পৃ-৫২


(১৩) ‘এই সমস্ত উদ্ধৃতি দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, (পবিত্র কুরআনের ৬১ নং সূরা) সূরা আস-সাফ (الصف)-এর মধ্যে ঈসা (আ.) ‘আহমদু রাসূলুল্লাহ‘ বলে যার আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন সেই আহমদ (সা.) মসীহ মওউদ-ই।’ (কয়েক লাইন পরে লিখেন) ‘এই জন্যই তার (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানীর দাবীসমূহ) অস্বীকারকারী একজন কাফের।’ (কালিমাতুল ফসল, পৃষ্ঠা নং ৫১)।

হার্ডকপি পৃ-৫১

(১৪) ‘অতএব ঐ ইলহাম দ্বারা প্রমাণিত হয়ে গেল যে, যে সমস্ত ব্যক্তি মির্যা সাহেবকে সত্যবাদী বিশ্বাস করবেনা এবং তার দাবীগুলোর উপর ঈমান রাখবেনা তারা কাফের।’ (কালিমাতুল ফসল, পৃষ্ঠা নং ৫৩, তৃতীয় অধ্যায়)।


(১৫) ‘মির্যা কাদিয়ানী মুহাম্মদ (সা.)-এর একজন খাতামুল খোলাফা বা খলিফা বা মুত্তাবি। ফলে তাকে অস্বীকারকারীও কাফের (সারমর্ম)।’ (কালিমাতুল ফসল, পৃষ্ঠা নং ৬১)।

হার্ডকপি পৃ-৬১

(১৬) ‘এই যুগে নবী করীম (সা.)-এর অনুসরণ করার জন্য মসীহ মওউদ (মির্যা)-এর প্রতি ঈমান আনা জরুরী।’ (কালিমাতুল ফসল, পৃষ্ঠা নং ৬৬)।

হার্ডকপি পৃ-৬

মুসলিম-অমুসলিম প্রসঙ্গ :
পবিত্র কুরআন এবং হাদীসের অনেক স্থানে মুসলমানকে মুসলমান পরিচয়ে থাকতে ও মুসলিম হয়েই মৃত্যুবরণ করতে পরিষ্কার বলা হয়েছে। এ সম্পর্কে সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ১০২ দেখুন। “হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো আর তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” এখন ‘কে মুসলমান আর কে মুসলমান না’ তা শুধুই আল্লাহর উপর চাপিয়ে দেয় যারা, তারা কি উক্ত আয়াতের উপর ঈমান রাখবে না? কেননা ‘মুসলমানিত্বের’ দায়ভার শুধুই আল্লাহর উপর চাপাতে গেলে তখন কারো পক্ষে নিজেকে মুসলমান বলে বিশ্বাস করা কিভাবে সম্ভব? যাইহোক, এভাবে বললেও যাদের বুঝে আসেনা তাদের উদ্দেশ্যে মির্যা কাদিয়ানীর একখানা উক্তি পেশ করছি। তার ‘হাকীকাতুল ওহী’ গ্রন্থের এক জায়গায় লিখা আছে “শরীয়তের একটি মাসয়ালা হল মুমিনকে কাফের বলা ব্যক্তিটি অবশেষে নিজেই কাফের হয়ে যাবে….এবং কাফেরকে মুমিন বলা ব্যক্তিও কাফের হয়ে যাবে।” (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ২২/১৬৮)। এখন এর কী উত্তর?

অতএব সাব্যস্ত হল যে, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এই বিশ্বাস জরুরী, তারা নিজেরাও নিজেদের ‘মুসলমানিত্বের’ উপর সাক্ষ্য দিতে হবে আর বিশ্বাস রাখতে হবে যে, “আমরাও একজন মুসলিম।” তবেই তাদের উপর দ্বীনি এবং দুনিয়াবী সমস্ত বাহ্যিক নিয়ম কানুন (বিবাহ, সালাতে ইমামতি, কুরবানীতে শরিক, কাজির সামনে সাক্ষ্য প্রদান, জানাজা, মুসলিম গোরস্তানে দাফন, ইসালে সওয়াব ইত্যাদি) প্রয়োগ করা সম্ভব, নইলে মৃত্যুর পর দুনিয়াতেই তাদেরকে (অর্থাৎ মুসলিম না হিন্দু বিশ্বাসে দোদুল্যমান ব্যক্তিদের লাশকে) চিতায় পাঠিয়ে দাহ করার আবেদন জানালেও আশ্চর্য হবো না। পরিশেষে, যে বিষয়টির প্রতি পুনরায় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সেটি হল, কাদিয়ানীরা কতটা দ্বিমুখী আর জঘন্য প্রতারক তা নিশ্চয়ই আর কারো বুঝার বাকি নেই। তারা একদিকে ঐ চটকদার বুলি আওড়িয়ে জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে (উপরের স্ক্রিনশট দেখুন), অপরদিকে প্রায় শতবছর আগ থেকে তারাই আবার ফতুয়াবাজি করে লিখে গেছে যে, গয়ের আহমদীরা সবাই কাফের, অমুসলিম, ঈমানহারা, জারজ, জাহান্নামী, খ্রিস্টান, ইহুদী এবং মুশরিক সহ আরও কত কিছু!

চিতায় দাহ করা (পোড়ানো) হয় লাশ।

বিচারের ভার আপনাদের নিরপেক্ষ বিবেকের উপর ছেড়ে দিলাম। আল্লাহ হাফেজ।

(কাদিয়ানীদের রচনাবলী থেকে উদ্ধৃত কোনো রেফারেন্স বা উদ্ধৃতি মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলে উপযুক্ত পুরষ্কার দেয়া হবে।)

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
শিক্ষাবিদ ও গবেষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here