রাফউল ইয়াদাইন

হানাফীদের দলিল সহীহ হাদীস থেকে

নামাযে তাকবীরে তাহরিমা ছাড়া হাত আর কোথাও না উঠানোর পাঁচটি স্পষ্ট রেওয়ায়েত আছে। সেগুলোর একটি হচ্ছে, হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নামায পড়ে দেখাব কি? একথা বলে তিনি فصلى فلم يرفع يديه الا فى اول مرة অর্থাৎ নামায পড়লেন এবং শুধুই প্রথমবার তাকবীরে তাহরিমায় হাত উঠালেন। (তিরমিজি হাদীস নং ২৫৭, আবুদাউদ হাদীস নং ৭৪৮)।

তাহকীক : ইমাম তিরমিজি বলেছেন, এই হাদীস হাসান, ইমাম ইবনে হাযম বলেছেন, এটি সহীহ, (আল মুহাল্লা ৪/৮৮)। আল্লামা আহমদ মুহাম্মদ শাকের (রহ.) লিখেছেন, و هذا الحديث صحيح صححه ابن حزم و غيره من الحفاظ، وما قالوا فى تعليله ليس بعلة অর্থাৎ এই হাদীসের সনদ সহীহ। ইবনে হাযম সহ অনেক হাফেজে হাদীস এটিকে সহীহ বলেছেন। অন্যরা এতে যেসব ইল্লত (ত্রুটির কারণ) সাব্যস্ত করেছেন সেগুলো আদৌ কোনো ইল্লতই নয়। (শরহে জামে তিরমিজি ২/৪১)।

শেষকথা, নামাযে হাত বিভিন্ন জায়গায় উঠানোর পক্ষে যেমন রেওয়ায়েত রয়েছে, হাত না উঠানোরও রয়েছে। এই সম্পর্কে যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দেস সাইয়েদ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) বলেছেন, تواتر العمل بهما من عهد الصحابة و التابعين و اتباعهم على كلا النحوين و انما بقى الاختلاف فى افضل من الامرين. অর্থাৎ উভয়ক্ষেত্রেই নিরবচ্ছিন্নভাবে আমল হয়ে আসছে—সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীদের যুগ থেকেই; তবে মতপার্থক্য শুধু এতটুকুতেই যে, এর কোনটি উত্তম।

অতএব, উত্তম-অনুত্তম বিষয়ক রেওয়ায়েত নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করা থেকে সবাই বিরত থাকতে হবে। যেখানে দুই দিকেরই সহীহ রেওয়ায়েত বিদ্যমান সেখানে উভয় রেওয়ায়েতের উপরই উম্মাহার বৈচিত্র্যময় আমল জারি থাকুক, এই প্রত্যাশা। তবে যেই সমাজে-এলাকায় পূর্ব থেকে যেটি চালু রয়েছে সেখানে সেটির মুকাবিলায় অন্যটিতে জোর না দিই। নচেৎ ফেতনা (বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার আপনাকেই নিতে হবে, উম্মাহার মাঝে দলাদলি সৃষ্টির গুনাহও আপনাকেই বহন করতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সহীহ বুঝ দিন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here