ডকুমেন্ট
  • ‘শেষনবী’-এর সংজ্ঞার উপর আপত্তির জবাব :

প্রশ্নকর্তা (কাদিয়ানী) :– আপনি লিখেছেন, “শেষনবী” বলতে বুঝায় যিনি নবুওয়তপ্রাপ্তির দিক থেকে সকল নবীর শেষে হন তিনিই শেষনবী। অথচ একটি হাদীসে এসেছে, নবীজী (সা.) বলেছেন ‘আমি নিশ্চয়ই তখনও আল্লাহর বান্দা ও খাতামুন নাবিয়্যীন ছিলাম যখন আদম (আ.) কর্দমাক্ত অবস্থায় তাঁর সৃষ্টির সূচনায় ছিলেন।’ এতে বুঝা যাচ্ছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহপাক সবার আগে নবুওয়ত দিয়েছেন। অতএব, বিষয়টি বুঝিয়ে দিন!

উত্তরদাতা :– প্রথমত, “শেষনবী” (آخر الانبياء)-এর উক্ত সংজ্ঞাটা আমার নিজের গড়া নয়, বরং ইমাম যামাখশারী (মৃত. ১১৪৩ খ্রিস্টাব্দ) তা নিজ হাতে লিখে গেছেন। দেখুন, তাফসীরে কাশশাফ ৩/৫৪৫। দ্বিতীয়ত, প্রশ্নে উল্লিখিত রেওয়ায়েতটির আরবী হচ্ছে এরকম, إني عند الله لخاتم الأنبياء وإن آدم لمنجدل في طينته কিন্তু এই রেওয়ায়েতটি যে সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে ঐ একই সাহাবী থেকে উক্ত রেওয়ায়েতের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও পরিষ্কার বর্ণিত আছে যা পড়ার পর “শেষনবী“-এর সংজ্ঞার উপর উত্থাপিত আপত্তিটি সম্পূর্ণভাবে তিরোহিত হয়ে যায়। যেমন হযরত ইরবাস ইবনে সারিয়াহ (রা.) হতে অপর আরেকটি রেওয়ায়েতে এসেছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, إِنِّي عند اللهِ لمكتوبٌ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ، وَإِنَّ آدَمَ لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ অর্থ- নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ’র নিকট খাতামুন নাবিয়্যীন হিসেবে তখনও লিপিবদ্ধ ছিলাম যখন আদম (আ.) কর্দমাক্ত অবস্থায় তাঁর সৃষ্টির সূচনায় ছিলেন।‘ (মেরকাত শরহে মেশকাত, কিতাবুল ফাজায়েল ওয়াশ শামায়েল, মসনাদে আহমদ ৪/১২৭, বায়হাক্বী, সহীহ ইবনে হাব্বান, হাকেম)। (ফেইসবুক থেকে পড়ুন)। থেকে প্রামাণ্য স্ক্যানকপি নিচে তুলে ধরছি। কিতাবটির অনলাইন কপি

খুব খেয়াল করুন, এখানে বলা হচ্ছে مكتوب (written) তথা লিপিবদ্ধ। হাদীস কিন্তু বলছেনা যে, রাসূল (সা.) রূহের জগতে থাকতেই সত্বর নবুওয়তপ্রাপ্ত ছিলেন! অন্য আরেকটি রেওয়ায়েত মতে, “আমার জন্য নবুওয়ত পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল” (মেরকাত শরহে মেশকাত, খণ্ড নং ১০; হাদীস নং ৫৭৫৮, কিতাবুল ফাজায়েল ওয়াশ শামায়েল)। আরেক রেওয়ায়েতে এসেছে, জনৈক সাহাবী প্রশ্ন করেছিলেন, مَتَى كُتِبْت نَبِيًّا؟ فَقَالَ: وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَد অর্থ- হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নাম কবে থেকে নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিল? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, “যখন থেকে আদম (আ.) রূহ এবং শরীরের মাঝামাঝিতে সৃষ্টির সূচনায় ছিলেন।” (মুসনাদে আহমদ ৫/৫৯; আস সিলসিলাতুস সহীহা ৪/৪৭১ শায়খ আলবানী)। অতএব প্রশ্নকারীকে একই বিষয়ে সবগুলো রেওয়ায়েত পড়াশোনা না করায় চরম বিভ্রান্তির শিকার হতে হয়েছে। অন্যথা ইমাম যামাখশারী (রহ.) “শেষনবী”-এর সংজ্ঞায় যে কথা লিখে গেছেন সেখানে সে ভুল খোঁজার দুঃসাহস দেখাতেন না। (এক নজরে পড়ুন)।

কে জানি বলেছিল, আবার সত্যি সত্যিই যদি বনী ঈসরালের নবী ঈসা (আ.) শেষে আসে তবে জন্মের দিক দিয়ে শেষ নবী না হলেও মৃত্যুর দিক দিয়ে ঈসা (আ.)-ই ‘শেষনবী‘ হন। উত্তরে বলব, মৃত্যুর দিক থেকেও ঈসা (আ.) শেষনবী হন না। কেননা ঈসা (আ.) মৃত্যুর আগে নিজের প্রাপ্ত নবুওয়তকে রি-নিউ করবেন না, ফলে নবুওয়তের সীল ভাঙ্গতেও হবেনা। আর যদি তিনি রি-নিউ করতেন তাহলে অবশ্য আপনার ধারণা ঠিক ছিল।

পরিশেষে কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যে একটা প্রশ্ন, রাসূল (সা.) রূহের জগতেই নবুওয়তপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে তাঁর দুনিয়ায় আগমনের পর পুনরায় নবুওয়তপ্রাপ্ত হবার কী মানে? একজন নবী কি একাধিকবার নবুওয়তপ্রাপ্ত হন? এই কমনসেন্সটুকুও নেই বুঝি আপনার/আপনাদের?

মেরকাত

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here