তাওয়াফফা, মুতাওয়াফফীকা, লাম্মা তাওয়াফফাইতানী প্রসঙ্গে ধারণা

পবিত্র কুরআনের انى متوفيك و رافعك الى এর সঠিক তাৎপর্য

পবিত্র কুরআন এর আয়াত : انى متوفيك و رافعك الى সম্পর্কে সংক্ষেপে একটু লিখছি-

উক্ত আয়াতের তাফসীরে রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে দুইটি তাৎপর্য বর্ণিত আছে, (১) আয়াতের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী অর্থ, নিশ্চয়ই আমি তোমার মেয়াদকাল পূর্ণ করব (অথবা নিশ্চয়ই আমি তোমাকে নিয়ে নেব) এবং তোমাকে আমার নিকট উঠিয়ে নেব। (সূরা আলে ইমরান, ৫৫)।

(২) متوفيك এর توفى ক্রিয়াপদকে মাজাজি বা রূপক অর্থে গ্রহণ করলে তখন ইবনে আব্বাস (রা.) যেভাবে অনুবাদ করেছেন ঠিক সেভাবেই অনুবাদ করা আবশ্যক। তাফসীরে ‘দুররে মানসূর’ কিতাবের তৃতীয় খণ্ডে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, اى رافعك ثم متوفيك فى آخر الزمان অর্থ- হে ঈসা! তোমাকে উঠিয়ে নেব, অত:পর শেষ যুগে তোমাকে মৃত্যু দেব

  • প্রশ্নকর্তা, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর তাফসীর মানতে কেন বাধ্য আমরা?

উত্তর, যেহেতু আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করেছেন, اللهم علمه الكتاب অর্থ- হে আল্লাহ আপনি তাঁকে কুরআন শিখিয়ে দিন। (বুখারী, কিতাবুল ইলম)।

এখন চিন্তার বিষয় যে, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কোনো একটি অনুবাদ বা তাৎপর্যের সাথে আহমদী তথা কাদিয়ানীদের অনুবাদ বা শিক্ষার কানাকড়িও মিল নেই! হায়! ইলাহি জামাত!!

  • প্রশ্নকর্তা, কিন্তু ইবনে আব্বাস (রা.) انى متوفيك এর অর্থ তো انى مميتك অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মৃত্যু দেব—এভাবেও করেছেন। বুখারী, কিতাবুত তাফসীর দেখুন।

উত্তর, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সব কয়টি বর্ণনাকে বাদ দিয়ে তার খণ্ডিত বক্তব্যের বিচারে আমরা কিভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি! আমরা ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলো যা কোথাও কোনো কোনো সনদে দীর্ঘ বাক্যে এসেছে, কোথাও বা আরেক সনদে আংশিক বাক্যে এসেছে; এখন পূর্ণ তাকওয়া আর আমানতদারির দাবী কি তার খণ্ডিত বাক্যের উপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া, নাকি সবগুলো বর্ণনার সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত ফয়সালায় যাওয়া? বিচারের ভার আপনার নিরপেক্ষ বিবেকের উপর সোপর্দ করলাম।

  • প্রশ্নকর্তা, তাহলে এই একই কনসেপ্টে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আর কী কী রেওয়ায়েত এসেছে?

উত্তর, এসেছে তো অনেক। আমি এখানে বিশুদ্ধ সনদে মাত্র তিনখানা ‘গয়রে মাজরূহ রেওয়ায়েত’ তুলে ধরছি,

(ক) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ৫৫ يا عيسى انى متوفيك و رافعك الى এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ করেছেন, اى رافعك ثم متوفيك فى آخر الزمان অর্থ- হে ঈসা! তোমাকে উঠিয়ে নেব, অত:পর শেষ যুগে তোমাকে মৃত্যু দেব। (সূত্র, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, তাফসীরে দুররে মানসূর, ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী)।

(খ) ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, و أَن اللهَ رَفَعَهُ بِجَسَدِهِ وَأَنهُ حَيُ الْآنَ و سَيَرْجِعُ الي الدنيا فيها مَلِكاً ثم يَموتُ كما يموتُ الناسُ. অর্থ- নিশ্চয় আল্লাহতালা তাঁকে (ঈসা) সশরীরে উঠিয়ে নেন এবং তিনি এখনো জীবিত। অতিসত্বর তিনি পৃথিবীতে পুনরায় ফিরে আসবেন। আর তিনি পৃথিবীতে একজন বাদশাহ (শাসক) হবেন। তারপর তিনি অন্যান্য মানুষের ন্যায় মৃত্যুবরণ করবেন।” [সূত্র, আত তবকাতুল কোবরা লি-ইবনে সা’আদ : ১/৩৫-৩৬; ‘যিকরুল কুরূনি ওয়াস সানীনি আল্লাতি বাইনা আদাম ওয়া মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ শীর্ষক পর্ব, মাকতাবাতুল খান্জি, কায়রো মিশর]।

(গ) ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, فأُلْقِىَ عَليه شِبْهُ عيسى، ورُفِعَ عيسى من روزنة في البيت إلى السماء. অর্থ- তারপর তাকে (জনৈক শিষ্যকে) ঈসা’র অবিকল সাদৃশ করে দেয়া হল এবং ঈসাকে তাঁর বাড়ীর বাতায়ন পথে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হল। (সূত্র, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খণ্ড ২, হাদীসের সনদ সম্পর্কে ইবনে কাসীর রহ. বলেছেন وهذا إسناد صحيح إلى ابن عباس على شرط مسلم. অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (রা:) পর্যন্ত এই সনদটি সহীহ এবং ইমাম মুসলিম (রহ:) কৃত শর্তের উপরই প্রতিষ্ঠিত)।

আমার প্রাণপ্রিয় আহমদীবন্ধুরা! আসুন, অন্ততঃ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বুঝের সাথে আমরা সবাই আমাদের বুঝটিকে ঘষামাজা করে নিই।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here