শেষ যুগে মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যেই প্রতিশ্রুত মসীহ এবং ইমাম মাহদীর আবির্ভাব হওয়ার ভবিষ্যৎবাণী হাদীসসমূহে এসেছে সেই মসীহ এবং ইমাম মাহদী তারা ভিন্নভিন্ন চরিত্রের হওয়া সত্ত্বেও মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকে একই সাথে ইমাম মাহদী এবং মসীহ হওয়ার দাবী করেছিল। তাই এবার আসুন জেনে নিই, প্রতিশ্রুত মসীহ এবং প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী এঁরা একই ব্যক্তি নাকি ভিন্ন ভিন্ন দুই ব্যক্তি?

[১] বিশিষ্ট সাহাবী হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা:) বলেন, আমি নবী (সা:)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন :

  • لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ قَالَ فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ تَعَالَ صَلِّ لَنَا فَيَقُولُ لاَ.‏ إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ ‏.‏ تَكْرِمَةَ اللَّهِ هَذِهِ الأُمَّةَ‏ ‏‏

অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের একটি দল হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে বাতিলের বিরুদ্ধে লড়তে থাকবে এবং অবশেষে ঈসা (আ:) অবতরণ করবেন। (সেই সময়কার) মুসলমানদের ‘আমীর’ (নেতা) বলবেন, আসুন সালাতে আমাদের ইমামতি করুন! তারপর তিনি (ঈসা) বলবেন, না; নিশ্চয় আপনারাই একে অন্যের ইমাম। এই হলো আল্লাহ তা’আলা প্রদত্ত এ উম্মতের সম্মান। (রেফারেন্স, সহীহ মুসলিম, খন্ড নং ১, কিতাবুল ঈমান, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরীয়ত অনুসারী প্রশাসক হিসেবে ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:) এর অবতরণ শীর্ষক পরিচ্ছেদ, হাদীস নং ১৫৬)। এই হাদীসে ঈসা (আ:) অবতরণ করার পরে সেই সময়কার মুসলমানদের আমীরের সাথে তৎক্ষণাৎ সালাতের ইমামতির বিষয়ে দুই পক্ষের কথাবার্তার উল্লেখ রয়েছে। তাদের একজন ঈসা (আ:) আর অন্যজন মুসলমানদের ‘আমীর তথা নেতা’। মূলত, সেই ‘নেতা’-ই কিন্তু ইমাম মাহদী। একথার প্রমাণ একই সাহাবী থেকে ভিন্ন আরেকটি সহীহ হাদীসে নিম্নরূপ বর্ণিত আছে। যেমন :

[২] হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূল (সা:) বলেছেন :

  • يَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ فَيَقُولُ أَمِيْرُهُمُ الْمَهْدِيْ تَعَالَ صَلِّ بِنَا فَيَقُولُ لاَ.‏إِنَّ بَعْضَهُمْ أَمِيْرُ بَعْضٍ تَكْرِمَةَ اللَّهِ لِهذه الأُمةِ‏‏

অর্থাৎ, ঈসা (আ:) অবতরণ করবেন। অতপর মুসলমানদের আমীর ইমাম মাহদী বলবেন, আসুন সালাতে আমাদের ইমামতি করুন! তারপর তিনি বলবেন, না; নিশ্চয় তাদেরই একে অন্যের ইমাম। এটি আল্লাহ তা’আলা প্রদত্ত এই উম্মতের সম্মান। [দেখুন, ইমাম বুখারীর উস্তাদ হাফেযুল হাদীস আবু আব্দুল্লাহ নু’আইম বিন হাম্মাদ সংকলিত আখবারুল মাহদী; বিশিষ্ট যুগ ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ:) বলেছেন, এই হাদীসের সনদ জায়্যিদ বা খুবই ভাল; আল-মানারুল মুনীফ পৃষ্ঠা নং ১৪৭; শায়খ আলবানী (রহ:) বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ এবং তিনি স্বীয় কিতাব ‘আস-সিলসিলাতুস সহীহা’তেও এনেছেন। হাদীস নং ২২৩৬]। উক্ত হাদীসটিতে ‘আমীরুহুম আল-মাহদী’ [أميرهم المهدي] অর্থাৎ মুসলমানদের আমীর ইমাম মাহদী-এভাবেই কিন্তু পরিষ্কার উল্লেখ আছে। সুতরাং মুসলিম শরীফের হাদীস এবং এই হাদীসদুটো মিলে একদম সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আগত মসীহ আর প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন দুইজনই।

[৩] রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন :

  • يكون في زمن المهدي ويصلى عيسى خلفه (ইয়াকূনু ফী যামানিল মাহদী ওয়া ইউসাল্লী ঈসা খালফাহু)

অর্থাৎ ইমাম মাহদী’র যুগেই ঈসার আগমন হবে এবং তিনি ইমাম মাহদী’র পেছনে সালাত পড়বেন।’ [রেফারেন্স : কাঞ্জুল উম্মাল খন্ড নং ৫ পৃষ্ঠা নং ৩৮৩; হাদীস নং ৭৩৮৪; কিতাবুল ফিতান মানাকিবুল মাহদী, সংকলক ইমাম বুখারীর উস্তাদ হাফেযুল হাদীস আবু আব্দুল্লাহ নু’আইম বিন হাম্মাদ; মুসনাদে আহমদ, মুসতাদ্রিক লিল হাকিম। হাদীসের মান : সহীহ]। এই তো অতি সামান্য। পরন্তু সিহাহ সিত্তাহসহ প্রায় সব কয়টি হাদীসের কিতাবে ঈসা (সা:)-এর দ্বিতীয়বার আগমন করার সুস্পষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান।

সুতরাং মির্যা কাদিয়ানী সে মসীহ কিংবা ইমাম মাহদী হবে তো দূরের কথা বরং সে মসীহ এবং মাহদী একই সঙ্গে দুইজন হওয়ার দাবী করে শুধু ভন্ড সাব্যস্ত হয়নি, বরং রাসূল (সা:)-এর হাদীসকে বিকৃত করে সে মহা প্রতারকে পরিণত হয়েছে।

  • লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here