Home তারাবীহ মুয়াত্তা মালিক গ্রন্থের আট রাকাত কিয়ামুল লাইলের জবাব

মুয়াত্তা মালিক গ্রন্থের আট রাকাত কিয়ামুল লাইলের জবাব

0

মুয়াত্তা মালিক গ্রন্থের ৮ রাকাত কিয়ামুল লাইলের জবাব :

মুয়াত্তা মালিক গ্রন্থে ‘মুহাম্মদ বিন ইউসুফ’ হতে বর্ণিত ১১ রাকাতের কিয়ামুল লাইলের রেওয়ায়েতটি স্বয়ং বর্ণনাকারীর দৃষ্টিতেও ত্রুটিপূর্ণ। যে কথা বর্তমান যুগের অধিকাংশ মানুষই অনুসন্ধান করে দেখতে চান না।

মু’য়াত্তা-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ الاستذكار (আল ইস্তিযকার) এর মধ্যেই হাফিয ইমাম ইবনে আব্দিল বার আল মালেকী (রহ.) এ সম্পর্কে পরিষ্কার লিখে গেছেন যে, أَنَّ الْأَغْلَبَ عِنْدِي فِي إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً الْوَهْمُ অর্থাৎ আমার প্রবল ধারণা {হাদীসটির} إِحْدَى عَشْرَةَ “এগারো” কথাটি একটি ওহাম বা ত্রুটি।

তিনি উমর (রা.)-এর যুগের ২০ রাকাত তারাবীহ’র বিবরণ সম্বলিত কয়েকটি বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন,

وَهَذَا كُلُّهُ يَشْهَدُ بِأَنَّ الرِّوَايَةَ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً وَهْمٌ وَغَلَطٌ وَأَنَّ الصَّحِيحَ ثَلَاثٌ وَعِشْرُونَ وَإِحْدَى وَعِشْرُونَ رَكْعَةً وَاللَّهُ أَعْلَمُ

অর্থাৎ “এ সকল বর্ণনা এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, ১১ রাকাত পড়ার কথাটি ভ্রম ও ভুল। সঠিক বর্ণনা হচ্ছে, (তিন রাকাত বিতর সহ) ২৩ রাকাত এবং (এক রাকাত বিতর সহ) ২১ রাকাত, আল্লাহু আ’লাম।” (আল ইসতিযকার ৫/১৫৪, ৫৬ তাহকীক, শায়খ আব্দুল মু’তী।)।

ইমাম ইবনু আব্দিল বার (রহ.) ১১ এবং ২১ রাকাতের মধ্যে সামঞ্জস্যতার বিধান করতে চেয়ে এ কথাও বলেছেন যে, হযরত উমর (রা.) প্রথমদিকে বিতর ব্যতীত ৮ বা ১০ রাকাতের নির্দেশ হয়তো বা দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ২০ রাকাতের উপরই ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইমাম ইবনুল হুমাম (রহ.)ও তার ‘ফাতহুল মুলহিম’ কিতাবের ৪৮৫ নং পৃষ্ঠায় এমন কথা লিখে গেছেন। ইমাম ইবনু আব্দিল বার (রহ.) এর কিতাবের ভাষায় নিম্নরূপ,

إِلَّا أَنَّهُ يَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ الْقِيَامُ فِي أَوَّلِ مَا عُمِلَ بِهِ عُمَرُ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، ثُمَّ خُفِّفَ عَلَيْهِمْ طُولُ الْقِيَامِ، وَنَقَلَهُمْ إِلَى إِحْدَى وَعِشْرِينَ رَكْعَةً، يُخَفِّفُونَ فِيهَا الْقِرَاءَةَ وَيَزِيدُونَ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، إِلَّا أَنَّ الْأَغْلَبَ عِنْدِي فِي إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً الْوَهْمُ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

অর্থাৎ “কিন্তু এটাও সম্ভব যে, উমর (রা.)-এর যুগে এগারো রাকাতের বিষয়টি প্রথমে ছিলো, তারপর তিনি মুসল্লিদের জন্য কিয়ামের দৈর্ঘ্য কমিয়ে রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধি করে (এক রাকাত বিতির সহ) একুশে রূপান্তরিত করেন। অতঃপর সাহাবীগণ তিলাওয়াত সংক্ষিপ্ত করে রুকূ-সিজদাহ বাড়িয়ে নেন। কিন্তু, আমার প্রবল ধারণা হল, إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً الْوَهْمُ তথা ‘এগারো’ কথাটি একটি ওহাম বা ভ্রম।” (আল ইসতিযকার ২:৬৮, কিতাবুস সালাত ফী রমাযান)।

নোট : আরবি শব্দ “الْوَهْمُ” (আল-ওয়াহমু) এর সরল বাংলা অর্থ হলো, ভ্রম। অর্থাৎ বাস্তবতা না জেনে বা ভুলভাবে কিছু কল্পনা করাকে وهم বলা হয়।

আসল আলাপ :

প্রথমতঃ সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে ইয়াযীদ ইবনে খুসায়ফা (রহ.)-এর রেওয়ায়েত [বিতির+কিয়ামুল লাইল ১+২০/৩+২০] ইযতিরাব-মুক্ত তথা সুশৃঙ্খল কিন্তু একই সাহাবী থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ (রহ.)-এর রেওয়ায়েত (২১/১১/১৩) ইযতিরাব-মুক্ত নয়, বরং মূল-টেক্সটে গড়মিল রয়েছে। যেমন, তার থেকে ৪ ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে,

(১) ইসমাঈল ইবনে উমাইয়্যাহ ১১ এবং ২১ রাকাত দু’রকমই বর্ণনা করেছেন, এ ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ২১ রাকাতকেই (قَالَ مُحَمَّدٌ: أَوْ قُلْتُ لِإِحْدَى وَعِشْرِينَ) জোরালোভাবে স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন। ইমাম হাকেম সংকলিত ‘আল ফাওয়ায়েদ’ ১:১৩৫ দ্রষ্টব্য।

(২) দাউদ ইবনে কায়েস (রহ.) ২১ রাকাত। মুসান্নাফ ইবনে আব্দির রাজ্জাক হাদীস নং ৭৭৩০ দ্রষ্টব্য।

(৩) মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (রহ.) ১৩ রাকাত। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে নছর আল মারওয়াযী সংকলিত ‘কিয়ামুল লাইল’ দ্রষ্টব্য, আরও দেখুন ফাতহুল বারী ৪:৩১৯।

(৪) ইমাম মালেক ইবনে আনাস (রহ.) ১১ রাকাত। মুয়াত্তা মালেক হাদীস নং ১১৫ দ্রষ্টব্য। অতএব, ইযতিরাব থাকার বিষয়টি এখন পরিষ্কার।

দ্বিতীয়তঃ বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ স্বয়ং নিজেই ২১ রাকাতের বর্ণনাকে প্রাধান্য ও স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন কোথায় এবং কিভাবে, তা দেখুন!

ইমাম আবু বকর নিশাপুরী, ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া সূত্রে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ও ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফা থেকে, তারা উভয়ে সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে….. বর্ণনা করেছেন,

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، ثَنَا حَجَّاجٌ، عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ يُوسُفَ ابْنُ أُخْتِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ أَخْبَرَهُ أَنَّ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ أَخْبَرَهُ قَالَ: جَمَعَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ النَّاسَ عَلَى أَبِي بْنِ كَعْبٍ، وَتَمِيمِ الدَّارِيِّ، فَكَانَا يَقُومَانِ بِمِئَةٍ فِي رَكْعَةٍ فَمَا يَنْصَرِفُ حَتَّى نَرَى أَوْ نَشُكُّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ، قَالَ فَكُنَّا نَقُومُ بِأَحَدَ عَشَرَ، قُلْتُ أَوْ وَاحِدٍ وَعِشْرِينَ، قَالَ: لَقَدْ سَمِعَ ذَلِكَ مِنَ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ابْنُ خُصَيْفَةَ، فَسَأَلْتُ يَزِيدَ بْنَ خُصَيْفَةَ؟ فَقَالَ: أَحْسَنْتَ، إِنَّ السَّائِبَ قَالَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ، قَالَ مُحَمَّدٌ: أَوْ قُلْتُ لِإِحْدَى وَعِشْرِينَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ لَوْ كَانَ عِنْدَ عَلِيِّ بْنِ مُدِينِي لَفَرِحَ بِهِ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: ابْنُ أُخْتِ السَّائِبِ..

বাংলা অনুবাদ : ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া (রহ.) মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে বর্ননা করেন, সায়িব বিন ইয়াযীদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ওমর (রা.) উবাই বিন কা’ব এবং তামিম আদ দারির সাথে তারাবীহ পড়ার জন্য লোকজনকে জড় করেছেন। তারা দুইজন ১ রাকাতে ১০০ আয়াত পড়তেন, যতক্ষণ না আমরা দেখতাম বা আমাদের মনে হতো ভোর হয়ে যাবে ৷ তিনি বলেন, আমরা ১১ রাকাত পড়তাম । আমি বললাম, অথবা ২১ রাকাত ৷ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ বলেন, অবশ্যই সায়িব বিন ইয়াজিদ (রা.) থেকে ২১ রাকাতের বিষয়টি শুনেছে ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফা (রহ.)। এরপর আমি (ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া) ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফাকে জিজ্ঞাসা করলাম; ইবনে খুসাইফা (রহ.) বললেন, তুমি উত্তম-ই বলেছো, নিশ্চয় সায়িব (রা.) ২১ রাকাতের কথাই বলেছেন। (অতপর) মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ বলেন, অথবা আমিই বলেছি ২১ রাকাত ৷

{ইমাম আবু বকর হাকেম নিশাপুরী বলেছেন, এর সনদ হাসান}।

(‘ফাওয়াইদ’ আবু বকর নিশাপুরীঃ মাকতাবাতুশ শামেলাঃ ১৬ নং হাদীস। আল ফাওয়ায়েদ পান্ডুলিপি ১/১৩৫)।

(পয়েন্টঃ ১) মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের স্বীকৃতি কিভাবে দেখা যাক, একই হাদীসটিতে বলা হয়েছে যে, قَالَ فَكُنَّا نَقُومُ بِأَحَدَ عَشَرَ، قُلْتُ أَوْ وَاحِدٌ وَعِشْرُونَ অর্থাৎ “তিনি (মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ) বলেন, আমরা ১১ রাকাত পড়তাম । আমি বললাম, অথবা ২১ রাকাত।”

(পয়েন্টঃ ২) ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফা (রহ.) সায়িব (রা.) থেকে ২১ রাকাতের কথা শুনেছেন। এ কথার স্বীকৃতি দিচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ এভাবে যে, قَالَ: لَقَدْ سَمِعَ ذَلِكَ مِنَ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ابْنُ خُصَيْفَةَ “তিনি (মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ) বলেন, অবশ্যই ইবনে খুসাইফা সায়িব বিন ইয়াযীদ (রা.) থেকে (২১ রাকাতের) বিষয়টি শুনেছে।”

(পয়েন্টঃ ৩) বর্ণনাকারীর প্রশ্নের জবাবে ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফা নিশ্চয়তার সাথে উত্তর দেন এইভাবে যে, فَقَالَ: أَحْسَنْتَ، إِنَّ السَّائِبَ قَالَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ “তুমি ঠিকই বলেছো। নিশ্চয় সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) ২১ রাকাতের কথাই বলেছেন।”

(পয়েন্টঃ ৪) এখন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ঐ কথারই স্বীকৃতি দিয়ে বললেন, قَالَ مُحَمَّدٌ: أَوْ قُلْتُ لِإِحْدَى وَعِشْرِينَ “মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ বলেন, অথবা আমিই বলেছি ২১ রাকাত।”

এই বর্ণনাটির খণ্ডিত অংশ শায়খ আলবানী সাহেব শব্দগত এদিক-ওদিক করে নিজ ‘সালাতুত তারাবীহ’ গ্রন্থের ৫০ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি নিজেও লিখতে বাধ্য হন, قُلْتُ: وَسَنَدُهُ صَحِيحٌ “আমি (আলবানী) বলি, এই বর্ণনাটির সনদ সহীহ।” (সালাতুত তারাবীহ ৫০ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)। তবে এতে শায়খ আলবানী (রহ.) দুইটি নিন্দনীয় কাজ করেছেন।

(১) এই ইবারতটুকু গায়েব করে দিয়েছেনঃ قَالَ مُحَمَّدٌ: أَوْ قُلْتُ لِإِحْدَى وَعِشْرِينَ তথা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ বলেন, অথবা আমিই বলেছি ২১ রাকাত৷ তিনি এটি ভুলক্রমে করে থাকলে আল্লাহ ক্ষমা করুন।

(২) বর্ণনাটির একটি শব্দ শামেলা’র সফট কপিতে স্পষ্ট এভাবে আছেঃ أحسنتَ অর্থ তুমি উত্তম/ঠিক বলেছো, আর কলমি নোসখা’র পাদটীকায় লিখা আছে, حَسَّنْتَ أَرَانَ بِهِ অর্থাৎ আমার মতে তুমি ঠিক বলেছো।

আফসোস, শায়খ আলবানী সাহেব শব্দটিকে পরিবর্তন করে লিখেছেনঃ حَسِبْتُ (হাসিবতু) অর্থাৎ আমি ধারণা করছি। ফলে হাদীসের বাক্যটি দাঁড়ালোঃ حَسِبْتُ أَنَّ السَّائِبَ قَالَ: أَحَدٌ وَعِشْرُونَ অর্থ- আমি (ইবনে খুসাইফা) ধারণা করছি যে, সায়িব (রা.) বলেছেন ২১ রাকাত’। শায়খ আলবানী সাহেব শব্দটি যদি ভুলক্রমেই পরিবর্তন করে থাকেন, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।

আলোচনার সারাংশ :

পরিশেষে বর্ণনাটি থেকে স্পষ্ট হল যে, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে ১১ এবং ২১ রাকাত বর্ণনা করেছেন। আর ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফা (রহ.) সায়েব ইবনে ইয়াযীদ থেকে ২১ রাকাত বর্ণনা করেছেন। এ পর্যায় ফলাফল দাঁড়াল, ১১ রাকাতের মতটি একমাত্র মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের মত আর অপরদিকে ২১ রাকাতের মতটি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ এবং ও ইয়াযীদ ইবনে খুসায়ফা উভয়েরই মত। কাজেই যুক্তি আর বিবেকের দাবীতে, প্রথমোক্ত মত অপেক্ষা শেষোক্ত ২১ রাকাতের মতটিই প্রধান্য পাবে। এরই ভিত্তিতে হযরত উমর (রা.)-এর যুগের ২০ রাকাত তারাবীহ ইযতিরাবমুক্ত, অপরদিকে ৮ রাকাত তারাবীহ ইযতিরাবযুক্ত বা শায (شاذ) বলেই প্রতীয়মান হয়। আল্লাহু আ’লাম।

এবার ‘মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ’ নামীয় পূর্বোক্ত ১১ রাকাত সম্বলিত রাবী থেকেই ২১ রাকাতের রেওয়ায়েত দেখুন!

ইমাম আব্দুর রাজ্জাক আস-সান’আনী থেকে, তিনি দাউল ইবনে কায়স থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে,

عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، وَغَيْرِهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ عُمَرَ: جَمَعَ النَّاسَ فِي رَمَضَانَ عَلَى أَبِي بْنِ كَعْبٍ، وَعَلَى تَمِيمِ الدَّارِيِّ عَلَى إِحْدَى وَعِشْرِينَ رَكْعَةً يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينَ وَيَنْصَرِفُونَ عِنْدَ فُرُوعِ الْفَجْرِ

বাংলা অনুবাদ : দাউদ ইবনে কায়েস এবং অন্যন্যদের থেকে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ সাহাবী সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত উমর (রা.) রমাযান মাসে উবাই ইবনে কা‘ব এবং তামীমে দারী (রা.)-এর পেছনে সবাইকে (বিতির এক রাকাত সহ) ২১ রাকাত সালাতের উপর ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। (মুসান্নাফে আব্দির রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০ দ্রষ্টব্য)।

সুতরাং প্রমাণিত হয়ে গেল যে, মুয়াত্তা মালিক গ্রন্থে ‘মুহাম্মদ বিন ইউসুফ’ হতে বর্ণিত ১১ রাকাতের কিয়ামুল লাইলের রেওয়ায়েতটি স্বয়ং বর্ণনাকারীর দৃষ্টিতেও ত্রুটিপূর্ণ। পক্ষান্তরে হযরত উমর (রা.)-এর যুগে সকল সাহাবীর ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রচলিত ২০ রাকাত তারাবীহ’র বর্ণনাটি সহীহ এবং ইযতিরাবমুক্ত। এমনকি চার ইমামের কেউই এর বিরোধিতা করেননি। ফলে ধারাবাহিকভাবে এই পদ্ধতি শুরু থেকে বর্তমান যুগ অব্দি চালু রয়েছে। আমাদের বুঝা উচিত যে, উম্মাহার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বাহিরে যাওয়া সম্পূর্ণ অনিরাপদ। আল্লাহু আ’লাম। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here