যুক্তি ও দলিল-প্রমাণ খণ্ডন

কাদিয়ানীদের বিশ্বাসমতে, সূরা মায়েদা আয়াত নং ১১৭ অনুযায়ী ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে গেছে!

  • মুসলিম উম্মাহা’র বক্তব্য, সূরা মায়েদা আয়াত নং ১১৭ (فلما توفيتنى) সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীগণও পড়েছেন, বুঝেছেন কিন্তু কেউই বলেননি যে, আয়াতটি ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে গেছে মর্মে দলিল!

উক্ত আয়াত দ্বারা ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে গেছে বলে দাবী করলে তখন কাদিয়ানীদের নিকট নিচের প্রশ্নটির কোনোই জবাব থাকেনা! প্রশ্নটি হল,

মির্যা কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮ইং) লিখেছে, সেন্ট পৌলের মাধ্যমেই ঈসার মৃত্যুর পর খ্রীস্টধর্মে বিকৃতি ঘটেছে (রূহানী খাযায়েন ২০/৩৭৫)। এখন আমার প্রশ্ন হল, ঐ আয়াত ঈসার মৃত্যুর দলিল হলে, তখন তো খ্রীস্টধর্মের বিকৃতি সেন্ট পৌলের মাধ্যমেই ঘটেছে বলে মির্যার উক্ত দাবী (যদিও দাবীটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য) সম্পূর্ণ মিথ্যাই হয়ে যাচ্ছে! কারণ, সেন্ট পৌলের মৃত্যু হয়েছিল ৬৪/৬৫/৬৭ খ্রিস্টাব্দে। আর মির্যার মতে, ঈসা (আ.) মারা যান একশত বিশ বছর বয়সে (অর্থাৎ ১২০ খ্রিস্টাব্দে)। এ হিসেবে সেন্ট পৌল ঈসার মৃত্যুর পরেই খ্রিস্টধর্মের বিকৃতি ঘটায় কেমনে? তবে কি আপনারা ঈসার জীবদ্দশাতেই খ্রিস্টধর্মে বিকৃতি শুরু হয়েছিল বলে বিশ্বাস করেন? নাউযুবিল্লাহ। এখন এর উত্তর “না” হলে, তখন আয়াতটির (মায়েদা ১১৭) لما توفيتنى এর “তাওয়াফফা” (توفى) শব্দের রূপক অর্থ ‘মৃত্যু’ উদ্দেশ্য নেয়া যায় কিভাবে?

উল্লেখ্য, সকল তাফসীরকারক لما توفيتنى এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ করেছেন, لما رفعتنى الى السماء অর্থাৎ (ঈসা কেয়ামতের দিন আল্লাহকে বলবেন) আপনি যখন আমাকে আকাশে উঠিয়ে নিলেন….! (বিশিষ্ট যুগ ইমাম আল্লামা শাওক্বানী রচিত ফাতহুল ক্বাদীর ৭ম খণ্ড দ্রষ্টব্য)।

ফাতহুল কাদীর

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর তাওয়াফফা (توفى) বা উঠিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে মালাকুল মউত হযরত আজরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে। যেজন্য তাঁর উক্ত তাওয়াফফা হতে ‘তাওয়াফফা বির রাফা’ (توفى بالرفع) উদ্দেশ্য হবেনা, বরং এ থেকে ‘তাওয়াফফা বিল মউত’ (توفى بالموت)ই উদ্দেশ্য হবে। এ সম্পর্কে পড়তে ক্লিক করুন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here