কাদিয়ানীদের অন্যতম একটি প্রতারণা মাহদীয়তের কথিত নিদর্শন চন্দ্রসূর্যগ্রহণের অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা

অপ্রিয় হলেও সত্য, বহু মানুষকে কাদিয়ানীরা এই একটা মিথ্যা দিয়ে অনবরত পথভ্রষ্ট করেই চলছে। অথচ এই ধরণের কোনো বর্ণনা-ই ‘হাদীস’ হিসেবে প্রমাণিত নয়। তাছাড়া এর সনদের মধ্যে দুইজন মিথ্যুক এবং মুনকার পর্যায়ের রাবী (বর্ণনাকারী) থাকার কারণে বর্ণনার কথাগুলো তাবেয়ী মুহাম্মদ ইবনু আলী তথা ইমাম বাকের (রহ.)-এর কিনা তাও নিশ্চিত নয়। যদি কথাগুলো ইমাম বাকের-এর বলেও নিশ্চিত হওয়া যেত তাহলেও কথাগুলোর একটু হলেও গুরুত্ব থাকত। কাজেই বর্ণনাটি সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য ও বাতিল। প্রিয় ভাই ও বোনেরা! বিষয়টিকে আমি প্রশ্নোত্তর আকারে নিচে তুলে ধরছি, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। তার আগে বর্ণনাটির সনদ বা ধারাবাহিক বর্ণনাসূত্র উল্লেখ করা হল। যথা গ্রন্থকার ইমাম দারে কুতনী, আবু সাঈদ, মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু নওফল, উবায়েদ ইবনু ইয়া’ঈশ, ইউনুস ইবনু বুকাইর, আমর ইবনু শিমার, জাবের ইবনু ইয়াজিদ, মুহাম্মদ ইবনু আলী ইবনু হোসাইন ইবনু আলী।

প্রশ্নর্কতা : এটি ইমাম বাকেরের বক্তব্য হওয়াটাও কিজন্য নিশ্চিত নয়?

উত্তরদাতা : ঐ যে দুই মিথ্যুকের কারণে। উপরেই সনদ উল্লেখ করে দিলাম! সেখানে ইমাম বাকেরের নামে যে দুই ব্যক্তি চন্দ্রসূর্যগ্রহণের কথাটি মাহদীয়তের নির্দশন বলে চালিয়ে দিয়েছে তাদের নামও উল্লেখ আছে, দেখুন! ইমাম বুখারী, ইবনে হাব্বান, ইয়াহইয়া ইবনু মঈন সহ হাদীসশাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ পরিষ্কার বলে দিয়েছেন যে, এই দুই ব্যক্তি মিথ্যুক এবং মুনকারুল হাদীস। এদের সূত্রে বর্ণিত কোনো কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং এদের বর্ণিত কথাটি এই জন্যই ইমাম বাকেরের কথাও কিনা নিশ্চিত নয়।

প্রশ্নকর্তা : ইমাম বুখারীও কি এধরণের কথা বলেছেন?

উত্তরদাতা : জ্বী, বলেছেন। মূল কিতাব ‘তালখীছুল মুস্তাদরিক’ (১/২৪৬) থেকে হুবহু আরবী ইবারত তুলে ধরছি। যেমন قال يحيى بن معين : ليس بشيئ و قال الجورجانى : زائغ كذاب. و قال ابن حبان : رافضى يشتم الصحابة و يروى الموضوعات عن الثقات. و قال البخارى : منكر الحديث. و قال يحيى : لا يكتب حديثه و قال السليمان : كان عمرو يضع للروافض و قال ابو حاتم : منكر الحديث جدا ضعيف الحديث الخ و قال الحاكم ابو عبدالله : كان كثير الموضوعات عن جابر. এখানে নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন যে, ইমাম বুখারীও (রহ.) আমর ইবনে শিমার-কে ‘মুনকারুল হাদীস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ তো বলেছেনই।

যেমন, তার বর্ণিত রেওয়ায়েত গুরুত্বহীন, সে কপট প্রকৃতির ও মিথ্যাবাদী, সে একজন রাফেজি (শীয়া মতাদর্শী) এবং সাহাবীদের গালি দিত, সে বিশ্বস্থ রাবীদের নামে জাল হাদীস তৈরী করত, সে একজন মুনকার রাবী, তার কোনো হাদীসই লিখাযোগ্য নয়, সে রাফেজিদের জন্য হাদীস জাল করত, সে একজন খুবই জঈফুল হাদীস, ইমাম হাকেম (রহ.) বলেছেন, সে জাবের ইবনু ইয়াজিদের কাছ থেকে বহু জাল হাদীস বর্ণনাকারী। উপরে যে সব কথা লিখলাম তা মূলত আরবী ইবারতটিরই অনুবাদ।

এবার দ্বিতীয় রাবী সম্পর্কে কী লিখা আছে শুনুন। আসমাউর রিজাল শাস্ত্রেল বিখ্যাত কিতাব ইমাম ইবনু আদী (২৭৭-৩৬৫ হিজরী) রচিত ‘আল কামেল ফী দ্বু’আফায়ির রিজাল’ (২/১১৩) থেকে হুবহু আরবী ইবারত তুলে ধরছি। যেমন عن ابى حنيفة قال : ما رأيت احدا اكذب من جابر الجعفى. অর্থাৎ ইমামে আযম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন, আমি জাবের ইবনে ইয়াজিদ আল জা’ফি এর চাইতে বড় মিথ্যাবাদী দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি। প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ ইমাম লাইছ ইবনু আবি সুলাইম (রহ.) বলেছেন فانه كذاب অর্থাৎ নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি বহুত বড় মিথ্যাবাদী।

এবার তাহলে নিজের বিবেককেই প্রশ্ন করুন, যে বর্ণনার মধ্যে দুইজন রাবীই মিথ্যাবাদী এবং জাল হাদীস তৈরীকারী হিসেবে অভিযুক্ত ও মুনকারুল হাদীসও সেটির কথাগুলো ইমাম বাকের-এরই ছিল বলে কিভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়?

প্রশ্নকর্তা : তা বুঝলাম, কিন্তু মির্যা সাহেবের ইমাম মাহদী দাবীকালে এই ধরণের ঘটনা ঘটলো কেন? এটা চিন্তার বিষয় নয় কি?

উত্তরদাতা : চন্দ্রসূর্যগ্রহণের ঘটনা ঘটা নিয়ে আপনার চিন্তার কোনো কারণ নেই, যেখানে এটি আল্লাহর অন্যান্য প্রাকৃতিক সাধারণ নিয়মগুলোর মতই! হ্যাঁ, যদি এটি প্রাকৃতিক সাধারণ নিয়মগুলোর মত না হত আর ইতিপূর্বে এইধরণের ঘটনা অসংখ্যবার না ঘটত! এখন এইধরণের ঘটনা ইতিপূর্বে অসংখ্যবার ঘটে যাওয়ায় বলার আর অপেক্ষা রাখেনা যে, মাহদীয়তের নির্দশ হিসেবে এর মধ্যে বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যই বাকি থাকেনি।

প্রশ্নকর্তা : আপনি কি বলতে চাচ্ছেন যে, চন্দ্রসূর্যগ্রহণের এই অলৌকিক ঘটনাটি বিশেষ কোনো নিদর্শন নয়, ইতিপূর্বেও সময় সময় এটি দৃশ্যমান ছিল? এর সমর্থনে আপনার নিকট কী প্রমাণ আছে?

উত্তরদাতা : জ্বী, ইতিপূর্বেও এটি বহুবার সাধারণ নিয়মেই দৃশ্যমান হয়েছিল। আর এটি আমার নিজের কোনো বক্তব্য নয়। এর পক্ষে ইতিহাস বড় সাক্ষী। আপনাদের ঢাকা বকশিবাজার থেকে প্রকাশিত ‘পাক্ষিক আহমদী’ (পৃ-২৪, তাং ১৫-এপ্রিল-২০১৫ইং) পড়ে দেখুন, আপনারাও এটি স্বীকার করে লিখেছেন এভাবে যে, ‘হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোনমি বিভাগের প্রফেসর জি. এম. বল্লভ ও আমি (মির্যায়ী লিখক) যে হিসাব কষেছি তাতে দেখা গেছে যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগ থেকে এ পর্যন্ত একই রমযান মাসে চন্দ্রসূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয়েছে মোট ১০৯ বার। এর মধ্যে তিনবার দুটি গ্রহণই নির্ধারিত তারিখে অর্থাৎ ১৩ ও ২৮ রমযানে কাদিয়ান থেকে দৃশ্যমান ছিল।’

বলে রাখা জরুরী, মির্যায়ী লিখক এখানে ’কাদিয়ান থেকে দৃশ্যমান ছিল’ দাবী করলেও আমেরিকা মহাকাশ গবেষণা বিভাগ ‘নাসা’ তার এই দাবী প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ নাসা-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ১৮৯৪ সালের ৬ই এপ্রিলে সংঘটিত গ্রহণের মানচিত্রে (বেগুনি রঙ্গের একটি অঙ্কিত রেখা দ্বারা) উক্ত গ্রহণের কক্ষপথ দেখিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয় যে, সেটি বাংলাদেশ আর বেঙ্গালুরু-এর উপর দিয়ে দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে চলে যায়। এই গ্রহণ এশিয়ার নানা দেশসহ ভারতেরও কয়েকটি স্থান থেকে দৃশ্যমান হলেও কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পাঞ্জাব থেকে দেখা যায়নি। এখন প্রশ্ন হল, ‘কাদিয়ান’ কি ভারতের পাঞ্জাবের বাহিরে না ভেতরে?

এখানে মজার বিষয় হল, নাসা-এর বিজ্ঞানীদের ওয়েবসাইটটিতে পরিষ্কার করে এও লিখা আছে, এই ধরণের চন্দ্রসূর্যগ্রহণের ঘটনা আজ অব্ধি প্রায় পাঁচ হাজারেরও অধিক বার ঘটেছিল। আপনি কি এরপরেও এটিকে প্রাকৃতিক সাধারণ নিয়মগুলোর মতই মানতে অস্বীকার করবেন?

প্রশ্নকর্তা : আপনি কি আর কোনো মাহদী দাবীদারের সময়ও এই ধরণের চন্দ্রসূর্যগ্রহণের ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রমাণ করতে পারবেন?

উত্তরদাতা : জ্বী, পারব। আপনি কি মরক্কো বংশোদ্ভূত সালেহ বিন তারিফ-এর নাম শুনেছেন? তিনি নিজেকে ৭৪৪ সালে নবী দাবী করেন। তিনি ৭৯১ সাল পর্যন্ত মরক্কোর ‘বারঘৌতা বারবার’ রাজ্যের একজন শাসক ছিলেন। তিনি নিজেকে ইমাম মাহদীও দাবী করেছিলেন। তিনি যে বছর ইমাম মাহদী দাবী করেন তার পরের বছর অর্থাৎ ১২৬ হিজরী মুতাবিক ৭৪৪ খ্রিস্টাব্দে একই রমাযানের ১৩ এবং ২৮ তারিখে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের ঘটনাও ঘটেছিল। আর এই ঘটনা তার সময় চারবার ঘটেছিল যথাক্রমে ৭৪৪, ৭৪৫, ৭৮৭ এবং ৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে। তার প্রতিষ্ঠিত ঐ জামাতের নাম ছিল ‘সালেহুল মুমিনীন’। তার মৃত্যুর পরেও তার এই জামাত প্রায় সাড়ে তিন’শ বছর পর্যন্ত আফ্রিকায় খুব দাপটের সাথে প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে আকৃষ্ট করেছিল। পরবর্তীতে ১০ম শতকের শেষের দিকে আল মুরাবিত রাজ-বংশের মুসলিম বীর সিপাহসালার ইউসুফ বিন তাসফিন এর নেতৃত্বে একটি যুদ্ধের মাধ্যমে সালেহ বিন তারিফের রাজ্যের পতনের মধ্য দিয়ে ঐ মিথ্যা দলটিরও বিলুপ্তি ঘটে।

প্রশ্নকর্তা : কিন্তু মির্যা সাহেব তো ১৮৯৪ সালের দিকে শুধুই ইমাম মাহদী দাবীদারই ছিলেন, তিনি নবী দাবী করেননি? অথচ সালেহ বিন তারিফ তো নবী দাবীও করেছিল?

উত্তরদাতা : তাহলে ‘বাবী জামাত’ এর প্রতিষ্ঠাতা ইরানের আলী মুহাম্মদ বাব সম্পর্কে কী বলবেন? সে ইমাম মাহদী দাবী করেছিল ১৮৪৪ সালে। একই রমাযানে চন্দ্রসূর্য গ্রহণের ঘটনা ঘটেছিল ১৮৫১ সালে। তিনি কিন্তু শুধু ইমাম মাহদী দাবীই করেছিলেন। বর্তমানেও তার বহু অনুসারী (প্রায় ৪ মিলিয়ন, উইকিপিডিয়া) পৃথিবীতে রয়েছে। প্রায় ২১৮টি রাষ্ট্রে তার অনুসারীদের অবস্থান রয়েছে। যাইহোক, মির্যা সাহেবের জন্য একটি দুঃসংবাদ আছে, বলব?
: বলুন!
: মির্যা কাদিয়ানী ঐ চন্দ্রসূর্যগ্রহণ সংক্রান্ত বর্ণনাটির মর্মার্থ বুঝাতে গিয়ে নিজ কিতাবে লিখে গেছেন, ‘বরং হাদীসের উদ্দেশ্য হল, কোনো নবুওয়ত বা রেসালত দাবীদারের সময়টিতে কখনো এই দুইটি গ্রহণ একত্রিত হবেনা।’ (রূহানী খাযায়েন ২২/২০৩)। মির্যা সাহেব এই কথা বলে মূলত সে সমস্ত মাহদী দাবীদারের বিরুদ্ধে আঙ্গুল উঠাতে চাচ্ছেন যারা মাহদী দাবীর সময় নবুওয়ত ও রেসালতের দাবী করেনি, যদিও চন্দ্রসূর্যগ্রহণের ঘটনাও ঘটেছিল! হায়! মানুষ কতটা ধূর্ত হলে এইরূপ উদ্ভট ব্যাখ্যাও দিয়ে যেতে পারে! যাইহোক, এখন আমার প্রশ্ন হল, মির্যা সাহেব ১৮৯৪ বা ১৮৯৫ সালে চন্দ্র সূর্যগ্রণের সময়ও নবুওয়ত বা রেসালতের দাবিদার ছিলেন না, যা আপনিও জানেন বরং তিনি ১৮৯৭ সালের দিকেও নবুওয়ত দাবিদারের প্রতি লানত (অভিশাপ) বর্ষণ করেছেন। (দেখুন মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ২/২৯৭-২৯৮ ও ২/২)।

এমতাবস্থায় ঐ দুই মিথ্যুকের বর্ণনাকে সহীহ মেনে নেয়া হলেও এর মাধ্যমে মির্যা কাদিয়ানীকে কীভাবে ইমাম মাহদী সাব্যস্ত করবেন? অথচ মির্যা কাদিয়ানীর উক্ত ব্যাখ্যা অনুসারে আপনি ‘সালেহ বিন তারিফ’-কেই ইমাম মাহদী মানতে বাধ্য। কারণ সে একই সময় ইমাম মাহদী এবং নবী দুটোরই দাবীদার ছিল!

আচ্ছা! আপনি কি জানেন আপনাদের মির্যা কাদিয়ানী সাহেব পরিষ্কার ভাষায় লিখে গেছেন যে, তার একনিষ্ঠ অনুসারীরা যে কোনো মতভেদপূর্ণ বিষয়ের সমাধান যেন তার কাছ থেকেই নেয়? (দেখুন রূহানী খাযায়েন ১৭/৬৪)। অন্তত এ দিক থেকেও আপনাদের জন্য বৈধ হবেনা ঐ দুই মিথ্যুকের বর্ণিত রেওয়ায়েতকে মাহদীয়তের কথিত নিদর্শন মনে করা। কারণ মির্যা সাহেব এও লিখে গেছেন ‘ইমাম বুখারীর কৃত শর্তের বিপরীত যে হাদীস সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ (দেখুন রূহানী খাযায়েন ১৭/১১৯-২০)। এখন এর কী উত্তর দেবেন?

পরিশেষে দুটি বিভ্রান্তির নিরসনে একটু লিখা জরুরী।

(ক) ‘ওয়া লাল মাহদী ইল্লা ঈসা ইবনু মারিয়ম’ এটি একটি অনির্ভরযোগ্য বর্ণনা। এটি আমার মনগড়া কোনো কথা নয়। মির্যা কাদিয়ানী নিজেই একথা লিখে গেছেন। (দেখুন হামামাতুল বুশরা (বাংলা) পৃ-১৬১, প্রকাশকাল নভেম্বর ২০১১ইং)। মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলে দশ লক্ষ টাকা দেব!

(খ) তারপর ‘যদি মূসা ও ঈসা বেঁচে থাকত তাহলে আমার আনুগত্য করা ছাড়া তাদের উপায় থাকতো না’ বর্ণনাটির কোনো সনদ তথা সূত্র নেই। মানে এটি ভিত্তিহীন একটি রেওয়ায়েত। তাফসীরে ইবনে কাসীরের মধ্যে গ্রন্থকার এটিকে কোনো সনদ কিংবা উদ্ধৃতি ছাড়াই শুধুমাত্র লোকমুখে প্রচলিত হেতু সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই লিপিবদ্ধ করেছেন, অথেনটিক হিসেবে নয়। অধিকন্তু ইবনে কাসীর (রহ.)-এরও আকীদা ছিল ঈসা (আ.) জীবিত এবং তিনি আকাশ থেকেই দুনিয়ায় ফিরে আসবেন (সূরা নিসার ১৫৮-৫৯ নং আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)। সুতরাং তাঁর ঐ রেওয়ায়েতটির সংগ্রহকে তাঁর নিজেস্ব অভিমতরূপে উপস্থিত করা নিতান্তই হীনরুচির পরিচায়ক ও তাকওয়ার খেলাফ বৈ নয়। বিস্তারিত জানতে আমার লেখিত ‘উম্মতীনবী নামে প্রতারণা’ বইটি পড়তে পারেন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here