Home Blog Page 10

কাদিয়ানীদের ভণ্ড মাহদীর সমর্থনে প্রমাণ নেই

আলোচ্য বিষয় ২টা, এ দুটি আলোচ্য বিষয় নিয়ে আজকে মুসলমান Vs কাদিয়ানী দ্বিপক্ষীয় সংলাপ চলুক!

(বলে রাখা দরকার, কাদিয়ানীরা কখনোই উসূল বা নিয়ম মেনে বিতর্ক করবেনা, তারা এক প্রসঙ্গ থেকে আরেক প্রসঙ্গে দৌড়ায়…আর ঈসা আলাইহিস সালামকে “মৃত” সাব্যস্ত করতে নিজেদের পুরনো কাসুন্দিতেই চলে যেতে চায়…তাই প্রথমেই মূলনীতি ঠিক করা হল এবং সে আলোকেই ডিবেট/সংলাপ…)।

মুসলমানঃ

১ মুসলমানদের জন্য মির্যা কাদিয়ানীর “মূল দাবী” কী কী?

২ মির্যা কাদিয়ানীর “ইমাম মাহদী” দাবী কোন দলীলের ভিত্তিতে ছিল?

কাদিয়ানীঃ

যুগ ইমাম, মুজাদ্দিদ, মসীহে মওউদ, ইমাম মাহদী ও উম্মতিনবী ইত্যাদি।

মুসলমানঃ

মির্যা কাদিয়ানীর “মসীহে মওউদ” দাবীটা মুসলমানদের জন্য ছিলনা!

কাদিয়ানীঃ

তাহলে কাদের জন্য ছিল?

মুসলমানঃ

মির্যা কাদিয়ানীর “মসীহে মওউদ” দাবীটা শুধুই খ্রিস্টানদের জন্য ছিল, যেমনভাবে আর্যদের (হিন্দুদের) জন্য সে নিজেকে ‘কৃষ্ণের অবতার’ হওয়া দাবী করেছিল!

প্রমাণ এই, মির্যা কাদিয়ানীর পুত্র ও তাদের জামাতের দ্বিতীয় খলীফা মির্যা বশির উদ্দীন মাহমুদ তার পিতা সম্পর্কে লিখেছেন,

“অতএব হে হিন্দু ভাইয়েরা! এই যুগের অবতারও কোনো জাতি বিশেষের নয়। তিনি প্রতিশ্রুত মাহদী, কারণ তিনি মুসলমানদের মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছেন; ‘তিনি খ্রিস্টানদের জন্য ঈসা, কারণ তিনি তাদের পথ প্রদর্শনের উপকরণ এনেছেন।’ হে হিন্দু ভাইয়েরা! তিনি নিষ্কলঙ্ক অবতারও বটে, কেননা তিনি পরম পিতা পরমেশ্বরের পক্ষ হতে আপনাদের জন্য প্রেমের উপহার এনেছেন।”

(রেফারেন্স- তিনিই আমাদের কৃষ্ণ, মূল মির্যা বশির উদ্দীন মাহমুদ; ভাষান্তর মোজাফফর উদ্দিন চৌধুরী, প্রকাশকাল জানুয়ারী ২০১২ ইং)।

এখানে তিনি পরিষ্কার করে লিখে গেছেন, মির্যা কাদিয়ানীর ‘ঈসা’ দাবীটা খ্রিস্টানদের জন্য, সে মুসলমানদের জন্য শুধুই “ইমাম মাহদী”।

কাজেই আপনাদের সাথে শুধুমাত্র “ইমাম মাহদী” টপিকেই মুসলমানদের বিতর্ক করা উচিত! বলাবাহুল্য যে, মির্যা কাদিয়ানীর বইতে ঈসা (আ.) সম্পর্কে লিখা আছে, “এতে বুঝা গেল যে, মসীহ’র (খ্রিস্টীয়) উম্মতগণের অযাচিত কর্মকাণ্ডের দরুন মসীহ’র রূহানীয়তের জন্য এটাই স্থির ছিল যে, তিনি তিনবার দুনিয়াতে নাযিল হবেন।” (রূহানী খাযায়েন ৫/৩৪৬)।

এখন মির্যার এ সমস্ত কথার ব্যাখ্যা চেয়ে প্রশ্ন করতে পারেন শুধুমাত্র ওরাই, যাদের জন্য তিনি ঈসা (আ.) হয়ে আসার দাবী করেছেন!

কাদিয়ানীঃ…. (আর কোনো সদুত্তর নেই)।

মুসলমানঃ

মুসলমানদের জন্য মির্যা কাদিয়ানীর অন্যতম একটা দাবী ছিল “ইমাম মাহদী”। তাই আমার জানার ইচ্ছে, তিনি নিজেকে ইমাম মাহদী দাবী করলেন কোন সোর্সের ভিত্তিতে?

কাদিয়ানীঃ

হাদীসে এসেছে, ইমাম মাহদীর যুগ নিদর্শন হবে, তার সময় একই রমাযানে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ হবে। ১৮৯৪ সালে এধরণের চন্দ্র সূর্য গ্রহণের ঘটনা ঘটেছিল।

মুসলমানঃ

আপনি বললেন “হাদীসে এসেছে”……..। অথচ আমি দেখতে পেলাম যে, চন্দ্র সূর্য গ্রহণের ঐ বর্ণনাটি ইমাম বাকেরের (আসল নাম মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন আলী) নিজেস্ব একটি বক্তব্য মাত্র, যেটির সনদে উল্লিখিত দুইজন রাবী-ই মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত। আপনি জানতে চাইলে তখন পুরোপুরি প্রমাণ আপনাকে দেয়া হবে। এখন আপনাকে আমার প্রশ্ন, তাহলে আপনি এধরণের কোনো বর্ণনাকে “হাদীস” বলতে পারেন কিভাবে? এটা তো হাদীসের সংজ্ঞার সাথে যায় না! তারপর এর সনদে দুইজন রাবী-ই মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ায় কিভাবে নিশ্চিত হতে পারলেন যে, এটি ইমাম বাকের (রহ.)-এর বক্তব্য-ও হতে পারে? অথচ এধরণের রেওয়ায়েত হাদীস বিশারদদের সর্বসম্মতিক্রমে “জাল” ও বানোয়াট। 

কাদিয়ানীঃ (….আর কোনো সদুত্তর নেই, আর কোনো হাদীসও উল্লেখ করেননি)।

মুসলমানঃ

হয়ত আপনি আর কোনো হাদীস উল্লেখ করার সাহস পাচ্ছেন না। আর তা না পারারও কথা। কেননা, মির্যা কাদিয়ানী স্বভাবতই ছিল নিকৃষ্ট একজন মিথ্যাবাদী ও প্রতারক। এর বহু প্রমাণ দেয়া যাবে। আমি এখানে মির্যা কাদিয়ানীর রচনাবলী থেকে প্রধান প্রধান কয়েকটি উদ্ধৃতি কোড করছি। মির্যা কাদিয়ানীর বইতে লিখা আছে, “মাহদী ও প্রতিশ্রুত মসীহ সম্বন্ধে আমার ও আমার জামাতের বিশ্বাস এই যে, মাহদীর আগমন সংক্রান্ত এ ধরণের হাদীসসমূহ কোনো মতেই আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমার মতে এই গুলোর উপর তিন ধরণের আপত্তি আছে।”

(হাকীকাতুল মাহদী [বাংলা] পৃষ্ঠা নং ০৭; অনুবাদক সালেহ আহমদ, মুরব্বী সিলসিলাহ্ আলীয়া আহমদীয়া। প্রকাশকাল, অক্টোবর ২০০১ ইং)।

তার অন্য আরেক বইতে লিখা আছে,

“অন্যদিকে মাহদীর হাদীসসমূহের এই অবস্থা যে, ইহাদের কোনোটিই ক্রুটিমুক্ত নহে। কোনোটিকেই সহী হাদীস বলা যায় না। অতএব যেভাবে ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশিত হইয়াছে এবং যাহা কিছু প্রতিশ্রুত মীমাংসাকারী ফয়সালা করিয়াছেন উহাই সঠিক।” (হাকীকাতুল ওহী পৃ-১৭৩ বাংলা)।

এখন আমার জিজ্ঞাসা, এমতাবস্থায় মির্যা কাদিয়ানীর “ইমাম মাহদী” দাবী (Claim) করার অথোরিটি কোথায়?

কাদিয়ানীঃ (এর-ও কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি, শুধু এলোমেলো কিছু প্রসঙ্গ টেনে আনার চেষ্টা করা হল)।

(জনৈক কাদিয়ানী মু’আল্লিমের সাথে আমার অনলাইন ডিবেট এর চম্বুকাংশ তুলে ধরলাম)।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
ইমেইল nabifeni44@gmail.com
এডমিন www.markajomar.org

ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান (রহ.) জরাহ ও খণ্ডন

ইমাম ❝মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ শায়বানী❞ (রহ.) (জন্ম-মৃত্যু ১৩২-১৮৯ হিঃ) সম্পর্কে “কাজ্জাব” তথা মহা মিথ্যাবাদী হবার অভিযোগ কতটুকু বিশুদ্ধ ও প্রমাণিত?  তিন (৩)টি রেওয়ায়েত উল্লেখপূর্বক তাহকিকি উত্তর,

❝খতীবে বাগদাদী (ক)❞

((أخبرنا محمد بن أحمد بن رزق قال نا أحمد بن علي بن عمر بن حبيش الرازي قال سمعت محمد بن أحمد بن عصام يقول سمعت محمد بن سعد بن محمد بن الحسن بن عطية العوفي يقول سمعت يحيى بن معين – وسألته عن محمد بن الحسن فقال: كذاب))

অর্থাৎ… মুহাম্মদ ইবনে সা’দ ইবনে হাসান বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈনকে বলতে শুনেছি, তাকে মুহাম্মদ ইবনে হাসান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সে কাজ্জাব। (তারীখে বাগদাদ ২/৫৭০)।

খণ্ডনমূলক উত্তরঃ এ বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা সনদে উল্লিখিত ❝মুহাম্মদ ইবনে সা’দ ইবনে হাসান ইবনে আ’তিয়া আল আ’ওফি❞ খুবই দুর্বল এবং মুনকার। কাজেই একজন বরেণ্য ও সুপ্রসিদ্ধ মুজতাহিদ ও ফকিহ ইমামের বিরুদ্ধে এধরণের দুর্বল ও অনির্ভরযোগ্য মানুষের সাক্ষী প্রত্যাখ্যাত।

1 ইমাম যাহাবী (রহ.) এর কিতাব ❝সিয়ারু আলামিন নুবালা❞ (৫/৩২৬) এর মধ্যে তার সম্পর্কে লিখা আছে, সে একজন দুর্বল এবং সে ছিল একজন শীয়া।

2 ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন বলেছেন ((كان ضعيفًا في القضاء. ضعيفًا في الحديث)) সে হাদীস এবং বিচার ব্যবস্থা উভয় ক্ষেত্রে দুর্বল।

3 ইমাম ইবনু সা’দ ‘আত তবক্বাত’ (الطبقات) কিতাবে লিখেছেন ((وقد سمع سماعًا كثيرًا، وكان ضعيفًا في الحديث)) সে অনেক শুনা কথা ধরে আর সে ছিল হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল।

4 ইমাম নাসাঈ এবং আবূ হাতিম উভয়ই তাকে দুর্বল বলেছেন।

5 ইবনে হিব্বান তাকে “আল মাজরূহীন” কিতাবে (منكر الحديث) “মুনকারুল হাদীস” আখ্যা দিয়েছেন। আর বলেছেন, ((ولا يجوز الاحتجاج بخبره)) তার বর্ণনাকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা নাজায়েজ। আর সে ২০১ হিজরীতে মারা যায়। (লিসানুল মীযান ২/২৭৮ দ্রষ্টব্য)।

সোর্সঃ Click

উল্লেখ্য ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) ইমাম আবূ হানীফার শিষ্য ও উপদেষ্টা ছিলেন। ইমাম আবূ ইউসুফের পরে তিনিই ছিলেন একজন যোগ্য শিষ্য। শিক্ষকের কাজ ও মতামতগুলো লিপিবদ্ধ ও সম্পাদনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। হানাফী ফকীহদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম পর্যায়ের মুজতাহিদ ইমাম। তিনি ইমাম মুহাম্মদ হিসাবে পরিচিত। তাঁর অনেক রচনা আইনশাস্ত্র ও আইনশাস্ত্রের ভিত্তির উপর রচিত। ইমাম ইবনে মা’ঈন কিংবা আবূ ইউসুফের নাম ভেঙে আজকে যারা কতেক শাজমুনকার রেওয়ায়েত দ্বারা প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছে, আজ থেকে অনেক আগেই ইমাম যাহিদ আল-কাউসারী (রহ.) দুই-দুইটি কিতাব ((تانیب الخطیب এবং بلوغ الامانی)) রচনা করে সেগুলোর দাঁতভাঙা উত্তর দিয়ে গেছেন।

ইমাম যাহাবী লিখেছেন, ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ শায়বানী (রহ.) ইমাম শাফেয়ীর প্রিয় শায়খ ছিলেন। ইমাম শাফেয়ী ষাট দিনার ব্যয় করে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর কিতাবপত্র সংগ্রহ করেন ((أنفقت على كتب محمد ابن الحسن ستين دينارا)) এবং সেখান থেকে ইলম অর্জন করা সহ তিনি দীর্ঘ সময়ব্যাপী ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর সোহবতে থেকে ফিকহশাস্ত্র আত্মস্থ করেন। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন, ((و قد كتبت عنه حمل بختى)) অর্থাৎ ❝আমি তাঁর কাছ থেকে এক উট-বোঝাই পরিমাণ লিপিবদ্ধ করেছি।❞ (মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি পৃষ্ঠা ৮১, ইমাম যাহাবী)। ইমাম আহমদও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) থেকে ফিকহের জটিল মাসয়ালাগুলো রপ্ত করার প্রয়াস পান। এ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী (রহ.) ❝সিয়ার❞ গ্রন্থে (৯/১৩৬) লিখেছেন ((قال إبراهيم الحربي: قلت للإمام أحمد: من أين لك هذه المسائل الدقاق؟قال: من كتب محمد بن الحسن)) ইবরাহীম আল হারবী বলেছেন, ❝আমি ইমাম আহমদকে জিজ্ঞেস করলাম, এ সূক্ষ্মতর মাসয়ালাগুলো আপনার নিকট কোত্থেকে এলো? তিনি উত্তরে বললেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসানের কিতাবসমূহ থেকে।❞ এখন প্রশ্ন হল, ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদ কিজন্য ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান (রহ.)-এর কিতাব থেকে ইলম নিবেন যদি না তিনি সত্যবাদী হন?

ইমাম ইবনু নাদীম (রহ.) ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মোট ২৭টি রচনা থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে আল-মাবসূত (المبسوط), আল জামেউস সগীর (الجامع الصغير), তিনি কিতাবটি ইমাম আবূ ইউসুফ (রহ.)-এর কাছ থেকে বর্ণনা করেছিলেন। আল জামেউল কাবীর (الجامع الكبير), আস-সিয়ারুল কাবীর (السيرالکبیر), আস-সিয়ারুস সগীর (السيرالصغیر), যিয়াদাত (الزیادات), উল্লিখিত ৬টি কিতাবকে ❝জাহিরুর রিওয়ায়াত❞ বলে। এগুলো হানাফী ফিকহের বুনিয়াদি রচনা। এছাড়াও তিনি রচনা করেন মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ (مؤطا امام محمد); এখানে রেওয়ায়েতগুলো তিনি ইমাম মালেক থেকে একত্রিত করেছেন, কিতাবুল আসার (كتاب الأثار); এখানে রেওয়ায়েত গুলো তিনি ইমামে আ’যম থেকে একত্রিত করেছেন, যিয়াদাতুয যিয়াদাত (زیادات الزیادات), আমালি (الامالى), আল-আসল (الأصل), আল-মাখারিজ ফিল হাইল (المخارج فی الحيل), আল-হুজ্জাহ আ’লা আহলিল মাদীনা (الحجة على اهل المدينة), কিতাবুল কাসবি (کتاب الکسب) অনুবাদগ্রন্থ, ইত্যাদি অন্যতম।

❝খতীবে বাগদাদী (খ)❞

((قرأت على الحسن بن أبي بكر، عن أحمد بن كامل القاضي قال أخبرني أحمد بن القاسم، عن بشر بن الوليد قال قال أبو يوسف قولوا لهذا الكذاب – يعنى محمد بن الحسن – هذا الذي يرويه عني سمعه مني؟)) 

অর্থাৎ… বিশর ইবনে ওয়ালিদ বলেছেন, আবূ ইউসুফ (রহ.) বলেছেন “তোমরা এ কাজ্জাবটিকে অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন হাসানকে জিজ্ঞাসা করো যে, সে আমার কাছ থেকে যা বর্ণনা করছে তা কি সে আমার কাছ থেকে শুনেছে? (তারীখে বাগদাদ ২/৫৭১)।

খণ্ডনমূলক উত্তরঃ বর্ণনাটির সনদে উল্লিখিত ❝বিশর ইবনে ওয়ালিদ ((بشر بن الوليد الكندي))❞ এর জন্ম ১৫০ হিজরীতে, আর মৃত্যু ২৩৮ হিজরীতে। (সিয়ার ১০/৬৭৬ ইমাম যাহাবী)। তার সম্পর্কে জারহ এবং তা’দীল (সমালোচনা এবং প্রশংসা) উভয়ই রয়েছে। কিন্তু মোটের উপর চিন্তা করলে বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, রাবী বিশর ইবনে ওয়ালিদের বর্ণনাটিও প্রমাণযোগ্য নয়। কেননা মুহাদ্দিসগণের কেউ কেউ তার বিরুদ্ধেও ❝অনির্ভরযোগ্যতা❞ এর অভিযোগ তুলেছেন, তাকে কল্পিতমনা ও রাফেজী বলেছেন, মুহাদ্দিসগণ তাকে পরিত্যাগ করার কথাও রয়েছে।

প্রোপাগাণ্ডাকারীদের হয়ত জানা নেই যে, ইমাম আবূ ইউসুফ (রহ.)-এর কাছ থেকেও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর ব্যাপারে অনেক প্রশংসা রয়েছে। ইমাম যাহাবী (রহ.) ❝ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মানাকিব❞ উল্লেখ করে লিখেছেন, সিরিয়ার “রাক্কা” নগরীতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্য ইমাম আবূ ইউসুফ (রহ.) তৎকালীন খলীফা হারুনুর রশীদকে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান (রহ.)-এর ব্যাপারে প্রস্তাব দেন আর তখন তিনি ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। (অন্যখানে বিস্তারিত লিখব, ইনশাআল্লাহ)।

জারহ ও তা’দীলঃ 1 ইমাম সালেহ বিন মুহাম্মদ বলেন, ❝বিশর ইবনে ওয়ালিদ❞ সত্যবাদী, যদিও একজন আহলুর রায়। আরেকবার বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তিনি মনে রাখতে পারেন না যে তিনি কী বলছেন, তিনি ছিলেন বয়োবৃদ্ধ ((صالح بن محمد جزرة : صدوق إلا أنه من أصحاب الرأي، ومرة: صدوق ولكنه لا يعقل ما يحدث به كان قد خرف))।

2 আবূবকর আল বুরক্বানী বলেন, সে বিশুদ্ধতার শর্তে উত্তীর্ণ নন ((أبو بكر البرقاني : ليس هو من شرط الصحيح))।

3 ইমাম দারে কুতনি (রহ.) তাকে সিকাহ বলেছেন ((الدارقطنى ثقة))।

4 ইমাম আবূ দাউদ আস সিজিস্তানী বলেন, সে সিকাহ তথা বিশ্বস্ত ছিল না ((أبو داود السجستاني : لم يكن ثقة))।

5 ইমাম ওবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আস সারাখছি বলেন, সে ছিল কল্পিতমনা ব্যক্তি, যুক্তিবাদী এবং রাফেজী মতাদর্শের। ((عبيد الله بن سعيد السرخسي : من أهل الأهواء من أهل الرأي والرافضة))।

6 মুহাম্মদ ইবনে সা’দ কাতিব আল ওয়াক্বিদী বলেন, যখন সে বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয় এবং কুরআন সৃষ্ট কি অসৃষ্ট-এ বিষয়ে মন্তব্য করলে তখন হাদীস বিশারদগণ তাকে পাকড়াও করেন এবং পরিত্যাগ করেন। ((محمد بن سعد كاتب الواقدي : لما كبرت سنة وتكلم بالوقف أمسك أصحاب الحديث عنه وتركوه))।

রেফারেন্স – তাকরীবুত তাহযীব,  ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী।

সোর্সঃ Click

❝ইমাম উকায়লী’র الضعفاء الكبير থেকে (গ)❞

((محمد بن الحسن صاحب أبي حنيفة كوفي حدثنا أحمد بن محمد بن صدقة قال: سمعت العباس بن محمد البصري، يقول سمعت يحيى بن معين، يقول: محمد جهمي كذا.))

অর্থাৎ…আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আল বছরী বলেন, ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন (রহ.) বলেছেন, মুহাম্মদ একজন জাহমী এবং কাজ্জাব। (আদ্ব-দু’আফাউল কাবীর, ক্রমিক নং ১৬০৬)।

খণ্ডনমূলক উত্তরঃ 1 প্রোপাগাণ্ডাকারীরা ইবনে মা’ঈন (রহ.) এর নাম ভেঙে এ ধরণের জরাহ/সমালোচনা যখন প্রচার করে এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর ন্যায়পরায়ণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তখন তারা ভুলে যায় যে, ইমাম ইবনে মা’ঈন (রহ.) নিজেও ছিলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান (রহ.)-এর শিষ্য বা ছাত্র (দেখুন, মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি পৃষ্ঠা ৮০, ইমাম যাহাবী)। এমনকি ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন (রহ.) স্বীয় উস্তাদ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসানের রচিত ❝আল জামেউস সগীর❞ কিতাবটি সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করেন। এ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী (রহ.) লিখেছেন, ((عباس ابن محمد سمعت ابن معين يقول كتبت عن محمد ابن الحسن الجامع الصغير)) অর্থাৎ আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ বলেন, আমি ইবনে মা’ঈন থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে হাসান থেকে “আল জামেউস সগীর” কিতাবটি লিপিবদ্ধ করেছি। (মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি পৃষ্ঠা ৮১)। এর প্রমাণ বিশুদ্ধ সনদ সহ দেখুন ❝তারীখে বাগদাদ❞ খণ্ড ২ পৃষ্ঠা নং ১৭২। ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন (রহ.) থেকে পরিষ্কার বর্ণিত আছে তিনি বলেছেন ❝আমাদের সাথী (হাদীসবিশারদ)গণ আবূ হানীফা ও তাঁর সাথীদের ক্ষেত্রে বেশি বাড়াবাড়ী করেছেন।❞ (ইবনুল বার মালেকী রচিত ‘জামেউ বয়ানিল ইলম ওয়া ফাজলিহি-২৬০১, সহীহ)।

কাজেই, প্রশ্ন দাঁড়ালো, এমতাবস্থায় আমরা ❝আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আল বছরী❞র বর্ণনার উপর কিভাবে আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারি? আমরা কিভাবে মনে করতে পারি যে, এমন একজন ইমাম সম্পর্কে ইমাম ইবনে মা’ঈন (রহ.) ❝কাজ্জাব❞ এবং ❝জাহমী❞ মন্তব্য করতে পারেন যিনি তাঁরই উস্তাদ ছিলেন এবং উস্তাদের রচিত কিতাব থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন!?

সব চেয়ে বড় কথা হল, যে রাবী (বর্ণনাকারী) এধরণের জরাহ (সমালোচনা) ইবনে মা’ঈন (রহ.) থেকে পেশ করেছেন তিনি তার علة তথা ❝জরাহ’র কারণ❞ পেশ করেননি। অথচ উসূলে হাদীসশাস্ত্রের মুহাদ্দিসগণ বলেছেন, হাদীসের মতন সহীহ হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে ((صحة سنده وانتفاء علته وعدم شذوذه ونكارته وأن لا يكون روايه قد خالف الثقات أو شذ عنهم)) হাদীসের সূত্রের বিশুদ্ধতা, ইল্লাত-علة (জারহ’র কারণ) অনুপস্থিত না থাকা, শাজ (দুর্লভ বর্ণনা) না হওয়া, মুনকার না হওয়া এবং এমন কোনো রাবী না হওয়া যিনি অনেক সিকাহ রাবীর বিপরীতে বর্ণনাকারী কিংবা সিকাহ (বিশ্বস্ত) রাবীগণের সূত্রে শাজ বর্ণনাকারী। (আল ফুরূসিয়্যাতুল মুহাম্মদীয়্যাহ ১/১৮৬, ইমাম ইবনুল কাইয়ুম)।

2 ধারণা করা যাচ্ছে যে, উকায়লীর বর্ণনায় উল্লিখিত ❝আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আল বছরী❞র কথাটি ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর খাস শিষ্য ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) সম্পর্কে ছিলনা, বরং অন্য কারো সম্পর্কে ছিল। আল্লাহু আ’লাম।

শেষকথাঃ অপরাপর প্রায় সকল ইমামের মতই ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান (রহ.)-এর বিরুদ্ধেও যেমন সমালোচনা রয়েছে, তেমনি অনেক প্রশংসাও রয়েছে। আর যে সব সমালোচনা পাওয়া যায় সেগুলো প্রধান প্রধান মুহাদ্দিসগণ গুরুত্ব দেননি। কেননা যে সব ইমাম ন্যায়পরায়ণতা আর বিশ্বস্ততার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়ে গেছেন তাদের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন কারো কোনো জরাহ/সমালোচনা কখনো প্রভাব ফেলবেনা। এটাই উসূলে হাদীসবিদগণের স্বীকৃত মূলনীতি। নতুবা ইমাম বুখারী (রহ.)-এর বিরুদ্ধেও মারাত্মক যেসব জরাহ বর্ণিত আছে সেগুলোর কোনো উত্তর থাকেনা। আর তাই ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর বিরুদ্ধে কোনো ইমাম থেকে  “কাজ্জাব” শব্দে জরাহ সাব্যস্ত হলেও কোনো প্রভাব ফেলবেনা। অধিকন্তু উপরের বর্ণনাগুলোর একটিও সূত্রের বিচারে সহীহ নয়। কাজেই এ সমস্ত সমালোচনা/আপত্তি আমাদের নিকট দু’ পয়সার মূল্যও নেই।

❝এ আর্টিকেল গুলো আপনার জন্য❞

মানাকিবে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) Episode 1 Click

মানাকিবে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) Episode 2 Click

মানাকিবে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) Episode 3 Click

লিখক, মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ
এডমিন ফিকহ মিডিয়া

রাফউল ইয়াদাইন সম্পর্কিত চেপে রাখা তথ্য

সহীহ বুখারী সহ অসংখ্য জায়গায় রাফউল ইয়াদাইন সংক্রান্ত হাদীসগুলো ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, কিন্তু ইবনে উমর (রা.) নিজেই পরবর্তীতে সেই আমল পরিত্যাগ করেছেন। ইবনে উমর (রা.)-এর দুজন শিষ্য মুজাহিদ এবং আব্দুল আজীজ ইবনে হাকিমের সাক্ষ্য মতে এ কথা প্রমাণিত।

ইতিপূর্বে ইবনে উমর (রা.) এর শিষ্য মুজাহিদ (রহ.)-এর সূত্রে এর একটি টনটনে বিশুদ্ধ বর্ণনা পড়ে এসেছেন। অত্র লিখার সংশ্লিষ্ট ও সংযুক্ত স্ক্যানকপি (ক্রমিক 1) থেকেও পুনরায় দেখে নিতে পারেন। আজকে মুজাহিদ (রহ.)-এর উক্ত বর্ণনার অন্যতম শাহেদ (সমর্থক) হিসেবে অপরাপর শিষ্য আব্দুল আজীজ ইবনে হাকিমের আরেকটা রেওয়ায়েত সনদ ও সনদের তাহকিক সহ তুলে ধরছি। হাদীসটি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ শায়বানী (রহ.)-এর সংকলন ❝মুয়াত্তা মুহাম্মদ❞ ((مؤطا محمد)) হাদীস নং ১০৮ থেকে উৎকলিত, ((সনদ)) ((أخبرنا: محمد بن أبان بن صالح عن عبد العزيز بن حكيم قال: رأيت ابن عمر يرفع يديه حذاء أذنيه فى أول تكبيرة افتتاح الصلاة، ولم يرفعهما فيما سوى ذلك))

অর্থাৎ ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, আমাকে মুহাম্মদ ইবনে আবান ইবনে সালেহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল আজীজ ইবনে হাকিমের কাছ থেকে আর তিনি বলেছেন আমি হযরত ইবনে উমর (রা.)-কে দেখেছি যে, তিনি সালাতের শুরুতে প্রথম তাকবীরে নিজ দু’ কানের লতি পর্যন্ত দুই হাত উঠিয়েছেন, তিনি এ ছাড়া আর কোথাও দুই হাত উঠাননি। (শাওয়াহেদ থাকার কারণে এর মান : হাসান)।

রাবীঃ

1 ❝মুহাম্মদ ইবনে আবান ইবনে সালেহ❞ সম্পর্কে আল্লামা জফর আহমদ উসমানী (রহ.) তাঁর এ’লাউস সুনান’ কিতাবে লিখেছেন ((ٱن كان ضعيفا لكنه ليس ممن يكذب، و حديثه يكتب فيعتضد به حديث مجاهد)) ❝তাকে (শুধুমাত্র ‘মুরজিয়া‘ মতাবলম্বী আখ্যা দেয়ার নিমিত্ত) দুর্বল বলা হলেও কিন্তু সে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না আর তার হাদীস লিপিবদ্ধ রাখার উপযোগী ছিল আর মুজাহিদের বর্ণিত হাদীস তার হাদীসটিকে সমর্থন করে।❞ (এ’লাউস সুনান পৃষ্ঠা নং ৭৪)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি

2 উক্ত বর্ণনার মূল রাবী ❝আব্দুল আজীজ ইবনে হাকিম (عبد العزيز بن حكيم)❞ একজন সিকাহ এবং তাবেয়ী। ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.) তাঁকে সিকাহ তাবেয়ীগণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন ((عبد العزيز بن حكيم الحضرمي كنيته أبو يحيى يروي عن ابن عمر عداده في أهل الكوفة روى عنه الثوري وإسرائيل مات بعد سنة … هـ وهو الذي يقال له ابن أبي حكيم . انتهى . وفي ” ميزان الاعتدال ” قال ابن معين : ثقة وقال أبو حاتم : ليس بالقوي))।

অর্থাৎ আব্দুল আজীজ ইবনে হাকিম আল হাযরামী, যার উপনাম আবূ ইয়াহইয়া। তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন আর তাকে কূফাবাসীর মধ্যে গণ্য করা হয়। তার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন ইমাম আস-সাওরী, ইসরাইল প্রমুখ। তিনি ১৩০ হিজরীর পর ইন্তেকাল করেছেন। তাকে ইবনু আবী হাকীমও বলা হয়। ‘মীযানুল ই’তিদাল’ গ্রন্থে এসেছে, ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন বলেছেন, সে একজন সিকাহ বা বিশ্বস্থ [ইমাম আবূদাউদ-ও বলেছেন, সে একজন সিকাহ] আর ইমাম আবূ হাতিম বলেছেন, সে শক্তিশালী নয়। (কিতাবুস সিকাত-كتاب الثقات  ১/১২৫ ইবনে হিব্বান)।

প্রাসঙ্গিক আর্টিকেল গুলো আপনার জন্য

সালাতে রাফউল ইয়াদাইন সংক্রান্ত হাদীস কতগুলো? Click

আবুবকর ইবনে আয়্যাশ-এর সূত্রে হযরত মুজাহিদ থেকে ইবনে উমর (রহ.)-এর তরকে রাফউল ইয়াদাইন প্রসঙ্গে…..Click

রাফউল ইয়াদাইন সম্পর্কিত চেপে রাখা তথ্য Click

ইমাম মালেক (রহ.)-এর ফিকহ বা ইজতিহাদ মতে “রাফউল ইয়াদাইন” এর আমল….Click

ইমাম আওযা’ঈ রাহিমাহুল্লাহ ও রাফউল ইয়াদাইন Click

“তোমরা দুষ্ট ঘোড়ার ন্যায় সালাতে দু’হাত উঠানামা করোনা, তোমরা সালাতে স্থীর থাকো”–রাসূল (সা.)-এর এ ফরমান কিসের ইংগিত? Click

সহীহ বর্ণনামতে হিজরতের পর থেকে রাসূল (সাঃ) “রাফউল ইয়াদাইন”-এর আমল পরিত্যাগ করা….Click

ইমাম ত্বহাবী রাহিমাহুল্লাহ রাফউল ইয়াদাইন (رفع اليدين)-কে “রহিত” আমল বলা ও ‘আবূবকর ইবনে আয়্যাশ’ এর একক বর্ণনার পক্ষে আরও কোনো “শাওয়াহিদ” থাকা…. Click

নবী (সাঃ) এর সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত আবূবকর, উমর দু’জনেরই “আমল” ছিল তরকে রাফউল ইয়াদাঈন তথা রাফউল ইয়াদাইন পরিত্যাগ করা….Click

প্রধান দুই খলীফাতুল মুসলিমীন রাফউল ইয়াদাইন করতেন না Click

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

এডমিন ফিকহ মিডিয়া

শাহ নেয়ামতুল্লাহ ওয়ালী (রহ.)-এর কসীদায় শেষ যুগে হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম আসার সংবাদ

কাদিয়ানীদের জন্য দুঃসংবাদ!! শাহ নেয়ামতুল্লাহ ওয়ালী (রহ.)-এর কসীদায় ❝ঈসা (আ.) আকাশ থেকে অবতরণ করবেন❞ বলেও উল্লেখ রয়েছে…

শাহ নেয়ামতুল্লাহ ওয়ালী (রহ.)-এর সহস্রাধিক ফার্সি কাব্য হতে ঈসা (আ.) এবং ইমাম মাহদী (আ.) উভয় সম্পর্কে আগাম ভবিষ্যৎবাণীতে যা যা উল্লেখ রয়েছে আজ সে সম্পর্কে লিখছি,

তার আগে শাহ নেয়ামতুল্লাহ ওয়ালী সম্পর্কে কিছু জানা উচিত, উনার পূর্ণ নাম নূরউদ্দীন। জন্ম ১৩৩০ খ্রিস্টাব্দে ইরানের হালব শহরে। একজন বিখ্যাত বুযূর্গ ও সাহেবে কাশফ ছিলেন। প্রায় দুই সহস্রাধিক ফার্সি এ কাব্যটি তারই অনবদ্য সৃষ্টি। তিনি ৫৭০ হিজরি মুতাবেক ১৩৭৪ খ্রিস্টাব্দে এ কাব্য লিপিবদ্ধ করেন। ফলে এই কাব্য আজ থেকে প্রায় ৮৭৪ বছর পূর্বেকার ভবিষ্যৎবাণী ঘেরা এক রহস্যপূর্ণ কাব্য। প্রতি যুগ ও শতাব্দীতে তাঁর এ ভবিষ্যৎবাণী অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণতা লাভ করার শক্তিশালী প্রমাণ ও সাক্ষী বিদ্যমান। শাহ নেয়ামতুল্লাহ ওয়ালী (রহ.) ২৮ শে এপ্রিল ১৪২৯ খ্রিস্টাব্দে ইরানের শাহরাস্তান শহরের মাহান (ماهان) নামক গ্রামে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮-৯৯ বছর। তাঁর উক্ত রহস্যপূর্ণ কাব্যগুলোকে (কসিদা) আজও বিশ্ববাসী নিজেদের জন্য শান্তনা ও আশা জাগানো মাইলফলক হিসেবে দেখে থাকেন।

প্রথমে শাহ নেয়ামতুল্লাহ ওয়ালী (রহ.) এর কিছু ফার্সি কাব্য নিম্নরূপ,

غلبہء اسلام باشد تا چہل در ملک ہند + بعد ازاں دجال ہم از اصفہاں پیدا شود

❝ইসলামের বিজয় চল্লিশ বছর যাবৎ হিন্দুস্তানে অক্ষুণ্ণ থাকবে। তারপরেই দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে ইরানের ইস্পাহান শহর থেকে।❞

از برائے دفع آں دجال مے گوئم شنو + عیسیٰ آید مہدی آخر زماں پیدا شود​

❝আমি বলছি, তোমরা শুনো! এই দাজ্জাল কাফেরকে প্রতিহত করার জন্য হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাশরীফ আনবেন এবং শেষ যামানায় আবির্ভূত হবেন হযরত মাহদী আলাইহিস সালাম।❞

نائب مہدی آشکار شود + بلکہ من آشکار مے بینم​

❝(ঈসার) সহকারী মাহদীর প্রকাশ ঘটবে, বরং আমি তো তাঁকে প্রকাশিত হতে দেখতে পাচ্ছি।❞

سمت مشرق زیں طلوع کند + ظہور دجال زار مے بینم​

❝আমি পূর্ব দিক থেকে অভিশপ্ত দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হতে দেখতে পাচ্ছি।❞

رنگ یک چشم او بہ چشم کبود + خرے بر خر سوار مے بینم

❝তার এক চক্ষু (আঙ্গুরের ন্যায়) ফোলা হবে, আর আমি তাকে দেখতেছি সে গাধার পিঠে আরোহন করে আসছে।❞

لشکر او بود اصفہاں + ہم یہود و نصاریٰ مے بینم​

❝তার সৈন্যবাহিনী ইস্পাহান শহরের হবে, আর তাকে ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের সৈন্যদলের সাথে দেখতে পাচ্ছি।❞

ہم مسیح از سماء فر ود آید + پس کوفہ غبار مے بینم​

হযরত মসীহ আলাইহিস সালামও আকাশ থেকে অবতরণ করবেন, আমি কূফা নগরীতে ধূলো (উড়তে) দেখতে পাচ্ছি।❞

از دم تیغ عیسیٰ مریم + قتل دجال زا رمے بینم​

আমি হযরত ঈসার তরবারি দ্বারা অভিশপ্ত দাজ্জালের হত্যা হতে দেখতে পাচ্ছি।❞

زینت شرع دین از اسلام + محکم و استوار مے بینم​

❝ইসলামের শরীয়া দ্বীনকে সুশোভিত করবে। আর আমি দ্বীনকে শক্তিশালী এবং গঠনমূলক হিসেবে দেখতে পাচ্ছি।❞

نہ وردے بخود نمے گوئم + بلکہ از سر یار مے بینم​

❝এই ঘটনাগুলো আমি নিজের পক্ষ থেকে বলছিনা, বরং আমি স্বয়ং আল্লাহর নিগূঢ় রহস্য দেখতে পাচ্ছি।❞

نعمت اللہ نشستہ در کنجے + ہمہ را در کنار مے بینم​

❝নেয়ামতুল্লাহ এক কোণে বসে একদিক থেকে সবকিছু দেখতে পাচ্ছে।❞

শেষকথাঃ

মির্যা কাদিয়ানী ছিল শতাব্দীর বড় দাজ্জাল (মহা প্রতারক)! কারণ সে শাহ নেয়ামতুল্লাহ ওয়ালী (রহ.) এর নামেও মিথ্যাচার করে গেছে। তিনি নাকি ঈসা আর মাহদী দু’জনকে একই ব্যক্তি বলে গেছেন এবং উক্ত কাসীদায় নাকি তিনি এধরণের কাব্য লিখেও গেছেন! যেমন সে লিখেছে,

مہدئ وقت و عیسئ دوراں + ہر دو را شہسوار می بینم

❝ঐ আগমনকারী ব্যক্তি মাহদীও হইবেন এবং ঈসাও হইবেন। তিনি উভয় নামের প্রতীক হইবেন এবং উভয় নামের দাবী করিবেন।❞ (দেখুন, মির্যার রচনা ‘হাকীকাতুল ওহী’ পৃষ্ঠা নং ২৭৮)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য

বলে রাখা দরকার, মির্যা কাদিয়ানীর উল্লিখিত ফার্সি পঙক্তিটির সঠিক অনুবাদেও সে ভুল করেছে। বরং এর সঠিক অনুবাদ হবে, ❝যুগ মাহদী এবং সে যুগের ঈসা, দুইজনকেই আমি বীরযোদ্ধারূপে দেখতে পাচ্ছি।❞

যাইহোক আমি অনেক খোঁজেছি, কিন্তু এধরণের কোনো কাব্য ঐ কসীদায় পাইনি, বরং সম্পূর্ণ বিপরীত পেয়েছি। অর্থাৎ তিনি তাঁর কসীদায় পরিষ্কার লিখে গেছেন যে, ঈসা (আ.) আকাশ থেকে নাযিল হবেন এবং শেষ যুগে হযরত মাহদীর আত্মপ্রকাশ হবে। সুতরাং মির্যা কাদিয়ানী একজন জঘন্য প্রতারক ও মিথ্যাবাদী, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

অনুবাদক, লিখক ও গবেষক প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
এডমিন ফিকহ মিডিয়া

প্রকৃতপক্ষে আহলুল হাদীস বা আহলে হাদীস কারা?

আহলে হাদীস (আহলুল হাদীস/اهل الحديث) এর সংজ্ঞা বা ডেফিনেশন,

আহলুল হাদীস এর ডেফিনেশন কীরকম সে সম্পর্কে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম আল ওয়াজীর-محمد بن إبراهيم الوزير (মৃত. ৮৪০ হিজরী) লিখেছেন ((من المعلوم ان اهل الحديث اسم لمن عنِيَ به وانقطع فى طلبه كما قال بعضهم)) অর্থাৎ জানা আছে যে, নিশ্চয়ই আহলুল হাদীস তাদেরই নাম যারা হাদীস সংরক্ষণ করেছেন এবং হাদীস অনুসন্ধানের (সংগ্রহের) ক্ষেত্রে জীবন উৎসর্গ করেছেন। মুহাদ্দিসগণের কেউ কেউ এরূপই বলেছেন”।

(আর-রওদুল বাসিম ফিয যাব্বি আ’ন সুন্নাতি আবীল কাসিম পৃ-১৮২)।

নোটঃ আরবী সরফ শাস্ত্রে عنِيَ শব্দটি فعل আর তার মাসদার বা ক্রিয়ামূল عناية, শব্দটির ছিলাহ (صلة) যদি ب হয় তখন এর অর্থ হবে সংরক্ষণ করা, রক্ষণাবেক্ষণ করা, গুরুত্বারোপ করা। (وعنِيَ بـ. • اهتمام، رعاية، حفظ)। আরবী অভিধান المعنى দ্রষ্টব্য।

আল্লাহর শুকরিয়া! “আহলে হাদীস” এর প্রকৃত ডেফিনেশন জানা গেল! আহা! এ যুগে এমন ব্যক্তিরাও নিজেদের “আহলে হাদীস” দাবী করে যাচ্ছেন যাদের ন্যূনতম সূরা ফাতেহাও সহীহ শুদ্ধ নেই, আরবী অক্ষর জ্ঞান তো বহূত দূর ক্যা বাত….। (ফিকহ মিডিয়া থেকে পড়ুন)

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এডমিন ফিকহ মিডিয়া (ফিকহ বিষয়ক অনলাইন ভিত্তিক গবেষণামূলক একটি Group বা প্লাটফর্ম)।

আর্টিকেলগুলো আপনার জন্য

❝আমাদের পক্ষ হতে প্রতিবাদ ও তাদের (ইমামে আ’যম বিরোধী গয়ের মুকাল্লিদদের) অপপ্রচারের জবাব❞ Click

মস‌জি‌দে নববীর দেয়া‌লে চার মাযহাবের ইমা‌মগণের নামগুলো স্বর্ণাক্ষরে খচিত Click

তোমাদের মাযহাব “হানাফী” কিন্তু তোমরা আকীদায় “আশ’আরী-মাতুরিদী” কেন? Click

কতিপয় আশ’আরি ও মাতুরিদীধারার বিখ্যাত ৫ জন ইমাম ও মনীষীবৃন্দ! Click

আল্লাহ কোথায়? প্রশ্নের উত্তর কী? Episode 1 Click

Episode 2 Click

Episode 3 Click

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.)-এর দৃষ্টিতে “আহলে হাদীস”-এর প্রকৃত ডেফিনিশন Click

ফিকহী ইমাম ছাড়া আহলে হাদীসরা (হাদীস বিশারদরা) পথভ্রষ্ট ও গোমরাহ! এ কথা কার? Click

এক নজরে হাদীসশাস্ত্রে ইমামে আযম হযরত আবূ হানীফা রাহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের “মানাকীব” তথা গৌরবগাঁথা প্রশংসা-সমূহ Click

শায়খুল ইসলাম আল্লামা যাহিদ আল কাউসারী রাহিমাহুল্লাহ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী Click

ইযা সাহহাল হাদীসু ফাহুয়া মাযহাবী (إذا صح الحديث فهو مذهبى) এর সঠিক তাৎপর্য ও ভ্রান্তি নিরসন Click

❝তোমার জন্য আফসোস হে ইয়াকুব (আবূ ইউসুফ)! তুমি আমার থেকে যা শোন তাই লিখে নিও না। কারণ আমি আজ যে মত প্রদান করি, কাল তা প্রত্যাখ্যান করি এবং কাল যে মত প্রদান করি, পরশু তা প্রত্যাখ্যান করি❞ (সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তর) Click

মানাকীবে আবী হানীফা❞ অর্থাৎ ইমাম আবূ হানীফা রাহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে ইমামগণের প্রশংসাবাণী

ইমাম মালেক ইবনে আনাস (রহ.) হতে Episode 1 Click

ইমাম মালেক ইবনে আনাস (রহ.) হতে Episode 2 Click

ইমাম সুফিয়ান আস-সওরী (রহ.) হতে, Click

ইমাম সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ রাহিমাহুল্লাহ-এর পক্ষ হতে Click

ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.) হতে Episode 1 Click

ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.) হতে Episode 2 Click

ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.) হতে Episode 1 Click

ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন (রহ.) হতে Episode 2 Click

ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন (রহ.) হতে Episode 3 Click

ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন (রহ.) হতে Episode 4 Click

ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন (রহ.) হতে Episode 5 Click

ইমাম শাফেয়ী (রহ.) হতে Click

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) হতে Episode 1 Click

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) হতে Episode 2 Click

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) হতে Episode 3 Click

ইমাম আবুদাউদ সিজিস্তানি (রহ.) হতে Click

ইমাম মক্কী ইবনে ইবরাহীম (রহ.) হতে Click

আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস ইমাম শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ (রহ.) হতে Click

ইমাম আওযা’ঈ (রহ.) হতে Click

ইমাম আইয়ুব আস-সিখতিয়ানী (৬৬-১৩১ হিঃ) এর দৃষ্টিতে Click

ইমাম আব্দুল ওয়াহাব আশ শা’রানী থেকে Click

হাদীসের জগতে ইমামে আযম আবূ হানীফা (রহ.)-এর অবস্থান! Click

ইমামগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ❝সেতু পার হওয়া ইমামগণকে কারো বিচ্ছিন্ন কোনো “জরাহ” বা সমালোচনা প্রভাব ফেলবেনা❞ Click

ইমামে আযম আবূ হানীফা (রহ.) সম্পর্কে এক নজরে ইমামগণের সম্মিলিত মানাকীব Click

চলবে…

মির্যা কাদিয়ানী থিয়েটারে যাওয়া

মুন্সী জফর আহমদ ছিলেন মির্যা কাদিয়ানীর একজন ঘনিষ্ঠ মুরিদ। আজকে তারই উদ্ধৃতিতে মুহাম্মদ সাদিক এর বই “যিকরে হাবীব” থেকে চমৎকার একটা ঘটনা তুলে ধরছি।

উল্লেখ্য, মুহাম্মদ সাদিককে মির্যা কাদিয়ানীর যুগে কাদিয়ানীরা “মুফতি” সম্বোধন করত। তাই তার বইতেও দেখবেন مفتى محمد صادق এভাবেই লিখা। মুসলিম উম্মাহার অন্যতম সুনান গ্রন্থ “তিরমিজি শরীফ” এর রচয়িতা ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ (২০৯-২৭৯ হিঃ) আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘শামায়েল’ (شمائل) বর্ণনা করে ‘শামায়েলে তিরমিজি’ (شمائل ترمزى) সংকলন করেছেন, ঠিক তারই নমুনায় এই কাদিয়ানী মুফতী(?) মুহাম্মদ সাদিক মির্যা কাদিয়ানীরও ‘শামায়েল’ রচনা করে সেটির নাম দিয়েছেন ‘যিকরে হাবীব’ (ذكر حبيب) তথা ‘বন্ধুর আলোচনা’। বাংলাদেশের বিবাড়িয়া সদর জেলার কান্দিপাড়া গ্রামের মৌলভিপাড়ায় স্থানীয় পথভ্রষ্ট কথিত পীর আব্দুল ওয়াহিদকে (যিনি বর্তমান কাদিয়ানী আমীর আব্দুল আউয়ালের নানী ‘হোসনে আক্তার ভানু’ সাহেবার পিতা) “প্রধান” (ন্যাশনাল আমীর) করে ১৯১৩ সালে ‘ব্রাহ্মণবাড়ীয়া আঞ্জুমানে আহমদীয়া’ নামে প্রথম যখন কাদিয়ানী জামাতের গোড়াপত্তন হচ্ছিল তখন সেখানে ভারতের কাদিয়ানের ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিল, কথিত মুফতি মুহাম্মদ সাদিক তখন কাদিয়ানের পক্ষ থেকে নতুন প্রতিষ্ঠিত পূর্ব বাংলার কাদিয়ানী জামাতের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতার ভুমিকায় ছিলেন।

আসুন সেই মুফতি(?) মুহাম্মদ সাদিক এর বই থেকে একটু অংশ পড়া যাক, কথিত মুফতি মুহাম্মদ সাদিক লিখেন, “মুন্সী জফর আহমদ সাহেব নিজেই আমাকে বলেছেন, আমি হযরত সাহেবের (মির্যা কাদিয়ানীর) নিকট আপনার বিরুদ্ধে (অর্থাৎ বইটির লিখক মুফতি সাদেকের বিরুদ্ধে) অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি মনে করলাম যে, তিনি আপনাকে ডাকবেন এবং (আপনার থিয়েটার দেখা নিয়ে) আপনাকে সতর্ক করবেন। কিন্তু হুযুর (মির্যা সাহেব) শুধু একথাই বললেন যে, একবার আমিও (থিয়েটার দেখতে) গিয়েছিলাম, যাতে অবিজ্ঞতা লাভ হয়।” (যিকরে হাবীব পৃষ্ঠা নং ১৪ অথবা পৃষ্ঠা নং ১৮)।

সে যাইহোক, মির্যা কাদিয়ানী সাহেব থিয়েটার দেখেছিলেন সে কথাই তার একান্ত কাছের মুরিদের নিকট তিনি ব্যক্ত করে গেছেন। আর সেটা তার কথিত শামায়েল (জীবনচরিত) গ্রন্থে তারই আরেক ঘনিষ্ঠ সহচর কাদিয়ানী মুফতি মুহাম্মদ সাদিক উদ্ধৃত করেছেন। একই পুস্তকের উপরোল্লিখিত পুরো লিখাটা পড়ে দেখুন, গ্রন্থকার একটু উপরেই নিজের থিয়েটার দেখা সম্পর্কে পরিষ্কার লিখেছেন,

ایک شب دس بجے کے قریب میں تھیئٹر میں چلا گیا

(উচ্চারণ) এক শব দশ বাজে কে করিব মাই থিয়েটার মে চলা গিয়া…।

অর্থাৎ এক রাতে দশটার কাছাকাছি সময় আমি থিয়েটারে চলে গিয়েছিলাম।

সারকথা, মির্যা কাদিয়ানীর নিকট যখন মুফতি মুহাম্মদ সাদিক সাহেব সম্পর্কে থিয়েটার দেখার অভিযোগ করা হল তখন তিনি অভিযোগকারীকে বললেন,

ایک دفعہ ہم بھی گئے تھے اور اس سے معلومات حاصل ہوتے ہیں

(উচ্চারণ) এক দফা হাম ভি গিয়ি থি অর উছ ছে মালুমাত হাছিল হোতে হেঁ।

অর্থাৎ “একবার তো আমিও গিয়েছিলাম যাতে এর দ্বারা (তথা থিয়েটার দেখা দ্বারা) অবিজ্ঞতা লাভ হয়।” আমি জানি না, বর্তমানে কাদিয়ানীরা জীবনে একবারের জন্য হলেও থিয়েটার দেখাকে “সুন্নাতে কাদিয়ানী” সাব্যস্ত করে কিনা?

মির্যা কাদিয়ানীর থিয়েটারে যাওয়া কিবা নর্তকীদের নাচ-গান উপভোগ করা ইত্যাদি নিয়ে এ মুহূর্তে আমার কোনো প্রশ্ন নয়, সেটা যার যার ব্যাপার। এখানে আমার প্রশ্নটি তার মুরিদদের উদ্দেশ্যে।

প্রশ্ন হল, মির্যা কাদিয়ানীর থিয়েটারে যাওয়া সম্পর্কিত বক্তব্যটি একই বইয়ের আলাদা দুই সংস্করণে ভিন্ন ভিন্ন দুটি পৃষ্ঠায় কেন? হার্ডকপিতে ১৮ নং পৃষ্ঠায় আবার পিডিএফ কপিতে ১৪ নং পৃষ্ঠায়, এত এলোমেলো কেন?

কান্দিপাড়ার নতুন একজন নও মুসলিমের (কাদিয়ানী থেকে ২০১৬ সালে মুসলিম হওয়া) একটা কথা মনে পড়ে গেল, তার সাথে ২০১৯ সালে আমার বিবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার তারুয়া গ্রামে দেখা হয়। কথাবার্তার এক পর্যায়ে তিনি বললেন, কাদিয়ানীদের বাংলা বইগুলোরও একই অবস্থা! প্রতি এডিশনে তারা পৃষ্ঠা নাম্বার এলোমেলো করে দেয়। আলেমরা যখন তাদের বই থেকে রেফারেন্স দেয় তখন আমরা আমাদের স্থানীয় মু’আল্লিমের নিকট রেফারেন্স মিলানোর জন্য যেতাম মু’আল্লিম সাহেব আমাদেরকে অন্য আরেকটা এডিশন বের করে বলতেন, দেখ! এধরণের কোনো কথাই আমাদের বইতে নেই…! মোল্লারা আমাদের সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে!! আমি জানিনা, আসলে কি এ উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে? যিকরে হাবীব পৃষ্ঠাটিতেও পৃষ্ঠা নাম্বার দুই রকম…! এর পাছে রহস্যটা কী? জানার জন্য প্রশ্ন!!

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কুরবানীর শর’ঈ হুকুম ইখতিলাফ ও পর্যালোচনা

কুরবানী বা الأضحية এর শর’ঈ হুকুম, ইখতিলাফ ও পর্যালোচনা

কুরবানী حكما (নির্দেশগত) ওয়াজিব, طريقة (আদর্শগত) সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, এভাবে-ও توضيح বা ক্লিয়ারেন্স দেয়া যায়, তাহলে কোনো মতবিরোধ থাকেনা, বলাবাহুল্য, রাসূল (সা.) আজীবন “কুরবানী” এর বিধান পালন করে গেছেন, জীবনে একবারের জন্যও তিনি মিস করেননি। এটাও প্রমাণ করে যে, কুরবানী বিধানগত ওয়াজিব বা আবশ্যক, প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে কুরবানী দিতে হবে। ইবনে মাজাহ (হাসান, তাহকিক আলবানী) এর একটি হাদীসে (فلا يقربنّ مصلانا) এসেছে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কুরবানী দিবেনা সে যেন আমাদের মুসাল্লা-এর (তথা ঈদগাহের) নিকটবর্তীও না হয়। কুরবানীর বিধান পবিত্র কুরআন (فصلِّ لربِّك وانحر) দ্বারা সাব্যস্ত। আবূ দাউদ শরীফের (হা-২৪৮৭, সহীহ) একখানা হাদীস (يا أيها الناس إنّ على أهل كل بيتٍ أضحيةً في كل عام) দ্বারাও বুঝা যায় যে, কুরবানী প্রত্যেক বছর বিধিবদ্ধ। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) এ ধরনের বিভিন্ন দলীল ও প্রমাণের ভিত্তিতে “কুরবানী” ওয়াজিব (والأظهر وجوبها), এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হন। দেখুন, মাজমূ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়াহ খ-২৩ পৃ-১৬২।

শেষকথা হল, কুরবানী বিধানগত “ওয়াজিব” এটাই স্বীকৃত ও চূড়ান্ত, তবে কুরবানী ইবরাহীম (আ.) এর ঐতিহাসিক স্মৃতি স্মারক হিসেবে শরীয়তে মুহাম্মদীয়ায় আমাদের জন্য (سنة ابيكم ابراهيم) “সুন্নাতে ইবরাহীম” হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত। আরও সহজ করে বললে কুরবানী হচ্ছে মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নাহ। আমাদের দেশে গয়ের মুকাল্লিদ শায়খদের কেউ কেউ “কুরবানী”-কে হয়ত সেই সূত্রে ‘সুন্নাহ’ বলতে চান। শায়খ উসাইমিন (রহ.)ও এ মতের প্রবক্তা। ডক্টর মঞ্জুর ইলাহী হাফিজাহুল্লাহ’র কথাটি খুব চমৎকার লেগেছে, তিনি ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.)-এর তাহকিককেই প্রাধান্য দিয়ে বলেছেন, কুরবানী “ওয়াজিব” এটাই সঠিক রায়। যুক্তিও বলে যে, কুরআনে যে সমস্ত নির্দেশ ইংগিতে থাকে আর হাদীস সেটিকে শর্তসাপেক্ষ (নেসাব, অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন থেকে মুক্ত হওয়া শর্তে) বিধিবদ্ধ করে, সে সমস্ত নির্দেশ “ওয়াজিব”-কেই নির্দেশ করবে, সুন্নাহ হওয়াকে নয়।

শরীয়তের একটি মাসয়ালাও রয়েছে যে, সুন্নাহ-কে কেউ অস্বীকার করলে সে বড়জোর ফাসেক হবে, কাফের হবেনা কিন্তু কুরবানীকে অস্বীকার করলে ব্যক্তি “কাফের” হয়ে যাবে। কেননা কুরবানীকে অস্বীকার করার অর্থই হল পবিত্র কুরআনকে আংশিক (فصلِّ لربِّك وانحـر) অস্বীকার করা, যা সুস্পষ্ট কুফুরী। কেননা কুরআনের সূরা মায়েদা, আয়াত-২৭, সূরা আনআম, আয়াত ১৬২-১৬৩, সূরা হজ, আয়াত ৩৪-৩৫ এবং সূরা হজ, আয়াত ৩৬, সূরা হজ, আয়াত ৩৭-৩৮, সূরা সাফফাত, আয়াত ১০২, সূরা কাউসার, আয়াত ২, কুরবানী সম্পর্কেই বিধৃত হয়েছে।

সুতরাং কুরবানী “ওয়াজিব” এতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রধান প্রধান মুজতাহিদ ইমামগণের মধ্যে আবূ হানীফা, মালিক (ইমাম মালিকের দুটি মত : সুন্নাহ এবং ওয়াজিব, কিন্তু জাহেরি রেওয়ায়েত বা চূড়ান্ত মতানুযায়ী ‘ওয়াজিব‘ – মাজমু’ ফাতাওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়াহ ২৩/১৬২) এবং আহমদ ইবনে হাম্বল ও ইমাম আওযা’ঈ, লাইছ প্রমুখ সকলের মতে এটি ওয়াজিব

কিছু সংখ্যক সাহাবীর ব্যাপারে বলা হয় যে, তারা কোনো কোনো বছর কুরবানী করা থেকে বিরত ছিলেন। এর উত্তর হচ্ছে, কুরবানী একটি শর্তসাপেক্ষ শর’ঈ হুকুম। হয়ত বা উনারা সেই শর্তে ঐ বছর গুলোতে উত্তীর্ণ হননি, অথবা তারা সুনির্দিষ্ট কোনো ইল্লাত বা কারণকে সামনে রেখে ইজতিহাদ করায় সেই কারণের ভিত্তিতে তারা ঐ বছরগুলোতে কুরবানী থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। সেই ইল্লাত বা কারণটি ছিল, সাধারণ মানুষের কুরবানীর হুকুমকে অলঙ্ঘনীয় বিধান ভেবে যেন পদস্খলন না ঘটে (وبلغنا أن أبا بكر وعمر رضي الله عنهما كانا لا يضحيان كراهية أن يُرَى أنها واجبة), কিন্তু তাদের এ ইজতিহাদ সমসাময়িক কাউকে প্রভাবিত করেনি, করার প্রমাণও নেই। ইমাম শাফেয়ী (রহ.)ও তাঁদের সে ইজতিহাদের উপরই সিদ্ধান্তে উপনীত হন বিধায় তাঁর ফিকহ মতে কুরবানী “সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ”।

কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমামগণের ফিকহ এবং রাসূল (সা.)-এর “সীরাত” (জীবন ও কর্ম) কী বলে তাও দেখার বিষয়! আমরা জানি যে, রাসূল (সা.) কখনো কুরবানী মিস করেননি। তিনি মদনী জীবনে প্রায় দীর্ঘ ১০ বছর সময় অতিবাহিত করেছেন, এক বছরের জন্যও কুরবানী থেকে বিরত থাকেননি। মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি এর হাদীস (أقام النبي صلي الله عليه وسلم بالمدينة عشر سنين يُضحي) সে কথারই সাক্ষ্য দেয়। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ১৩/৬৫, ইবনে হাজার। কাজেই “কুরবানী” এর শর’ঈ হুকুম ওয়াজিব, আর এ মতটিই প্রাধান্য মত। পরিশেষে কথা হল, এ ফেতনার যুগে পরিচিত কিবা অপরিচিত অনেককে দেখা যাবে যে, ফিকহি মীমাংসিত বিষয়গুলোয় বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছে ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাই এসবে কান দেয়ার কোনো দরকার নেই। নইলে বিভ্রান্ত হবার আশংকা থাকবে। আল্লাহ আমাদেরকে সহীহ সমঝ দান করুন। আমীন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ

বাহাউল্লাহ নতুন শরীয়তবাহক ও রাসূল দাবী করা

বাহায়ীরা বাহাউল্লাহকে “নতুন শরীয়তবাহক একজন রাসূল” বিশ্বাস করে কিনা?

এর উত্তর খোঁজতে গিয়ে তাদেরই নিজেস্ব একটি আরবী ওয়েবসাইট www.bahai.org থেকে নিন্মোক্ত তথ্যটি ফেলাম। লিখা আছে,

في اواسط القرن التاسع عشر اختار الله حضرة بهاء الله لإيصال رسالة جديدة إلى البشرية. فعلى مدى أربعة عقود نزلت آلاف الآيات والرسائل والكتب من يراعه المباركة. في آثاره الكتابية هذه وضع الخطوط الرئيسية لإطار عمل يهدف إلى تطور حضارة عالمية تأخذ بعين الاعتبار البعدين الروحي والمادي لحياة الانسان.

অর্থ- ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে মানবজাতির প্রতি নতুন রেসালত (শরীয়ত) পৌঁছে দেয়ার জন্য আল্লাহতালা বাহাউল্লাহকে মনোনীত করেন। তারপর তার বরকতময় হেফাজতে চার দশক ধরে বহু কিতাব, পত্রাবলী এবং হাজার হাজার আয়াত নাযিল করা হয়। তিনি তার লেখালেখিতে বৈশ্বিক সভ্যতার উন্নতির লক্ষ্যে কাঠামোগত প্রধান প্রধান অনেকগুলো পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন যা মানব জীবনের আধ্যাত্মিক এবং বস্তুগত মাত্রাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে।

(সূত্র – বাহায়ী ডট অর্গ {ক্লিক})।

সম্পূর্ণ লিখাটি হতে জানা গেল, বাহায়ী জামাতের অনুসারীরাও কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের ন্যায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরেও মির্যা হোসাইন আলী নূরীকে (বাহাউল্লাহ নামে প্রসিদ্ধ) নতুন একজন “রাসূল” বিশ্বাস করে। ফলে এরাও উম্মতে মুহাম্মদীয়ার গণ্ডি থেকে খারিজ ও বহিষ্কৃত। সুতরাং এদের ধর্মমত সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করতে হবে। যাতে সাধারণ কেউ এদের জামাতকে মুসলমানদের কোনো উপদল ভেবে পদস্খলিত না হয়।


একই তথ্য বাহায়ীদের আরও যেসব ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়

ক্লিক

ক্লিক

ক্লিক

ক্লিক

তথ্য প্রচারক ও লিখক

প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

লিখাটি প্রচার করতে হবে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

ডক্টর ইসরার আহমদ ও রাফউল ইয়াদাইন

0

সালাতে রাফউল ইয়াদাইনের চমৎকার বয়ান – আল্লামা ডক্টর ইসরার আহমদ রাহিমাহুল্লাহ, পাকিস্তান

ডক্টর ইসরার আহমদ। একজন মু’তাদিল ইসলামিক স্কলার। তিনি ইসলামের এবং ধর্মীয় বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কিত ৬০টি গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে ৯টি বই ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়। এর পূর্বে তিনি একজন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং পিস টিভিতে একটি প্রতিদিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতেন। তিনি নির্দিষ্ট কোনো মাসলাকের সাথে পরিচিত ছিলেন না, উনার দালিলিক আলোচনা হতে লক্ষ লক্ষ দর্শক শ্রোতা পরিতৃপ্তির সাথে দ্বীনের ফিকহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে থাকেন। তিনি আজ আর দুনিয়ায় নেই, কিন্তু তাঁর অডিও ভিডিও স্যোসাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মজার ব্যাপার হল, দেওবন্দী, বেরেলি, আহলে হাদীস ও সালাফী প্রত্যেকে তাঁকে নিজ নিজ মাসলাকের বলে দাবী করে থাকেন। কিন্তু সত্য হল, তিনি একজন ন্যাপরায়ণ ও মধ্যপন্থী ছিলেন। তিনি তারাবী সালাত বিশ রাকাতের প্রবক্তা যেমন, তেমনি সালাতে কখনো কখনো রাফউল ইয়াদাইনও করতেন আবার ছেড়েও দিতেন। আজকে উনার একটা আলোচনা এখানে তুলে ধরছি,

ডক্টর ইসরার আহমদ (রহ.) | ভিডিও – তিনি বলেছেন,

রাফউল ইয়াদাইন তথা সালাতে তাকবীরে তাহরিমাহ ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু হাত উঠানামা করার দলিল বুখারী মুসলিম সহ বহু হাদীসের কিতাবে এসেছে। আর এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো ব্যাপক। কোনো কোনো হাদীসে রাসূল (সা.) এর উক্ত আমল সম্পর্কে সাহাবীদের কাছ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি সালাতে রূকুর সময় রাফউল ইয়াদাইন করেছেন, কোনো কোনো হাদীসে রূকু হতে উঠার সময়ও করার কথা রয়েছে। আবার কোনো কোনো হাদীসে এসেছে, প্রত্যেক সেজদার সময় (নাসায়ী ১/১৬৫) এবং সেজদা থেকে উঠার সময়ও রাফউল ইয়াদাইন করেছেন (আবূ দাউদ ১/১০৮, নাসায়ী ১/১৭২)। সেজদা থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময়ও রাফউল ইয়াদাইন করার কথা রয়েছে (আবূ দাউদ ১/১০৫)। তৃতীয় রাকাতের শুরুতেও (সহীহ বুখারী ১/১০২)। সালাতে প্রতিটি উঁচুনিচু হওয়ার ক্ষেত্রে (ইবনে মাজাহ ৬২)। মানে প্রায় পুরো সালাতজুড়ে প্রায় ৭ জায়গায় রাফউল ইয়াদাইন করার দলিল রয়েছে হাদীসে। আহলে হাদীস ভাইয়েরা তো বুখারী মুসলিম এর হাদীসের কথাই বেশি বলেন, অথচ হাদীসের আরও তো অনেক সংকলন রয়েছে। যেমন মুসান্নাফ ইবনে আব্দির রাজ্জাক ইত্যাদি । কিতাবটি বুখারী মুসলিম-এরও অনেক পূর্বেকার সংকলন। সেখানে ঐ সমস্ত বর্ণনা ভূরি ভূরি নজরে পড়বে। কিন্তু আমাদের হানাফী ভাইয়েরা রাফউল ইয়াদাইন এর হাদীসগুলোর উপর আমল করেন না। কেননা রাসূল (সা.) থেকে রাফউল ইয়াদাইন এর যত হাদীস বর্ণিত আছে সেগুলো একেক সাহাবীর একেক সময়ের রাসূল (সা.)-এর সালাতের অবস্থার উপর তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন মাত্র, যা নিয়মিত কোনো অবস্থাকে নির্দেশ করেনা। আর রাসূল (সা.) তো জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে শুধুমাত্র তাকবীরে তাহরিমাহ এর রাফউল ইয়াদাইন ব্যতীত অন্য সব ধরণের রাফউল ইয়াদাইন পরিত্যাগ করেছেন। হানাফী মালেকী মাযহাবের বিশিষ্ট দুই ইমাম যারা অন্য দুই ইমামের-ও পূর্বেকার ও অধিক গ্রহণযোগ্য তারা রাফউল ইয়াদাইন এর হাদীসের আমল গ্রহণ করেননি, হোক তা সহীহ হাদীস। (কেননা সহীহ হাদীসের আমল যদি “মানসূখ” সাব্যস্ত হয় তখন আর সেটির উপর আমল করা হবেনা, যতই সহীহ হোক)।

ইমাম শাফেয়ী অনেক গুলো রাফউল ইয়াদাইন এর মধ্য থেকে মাত্র দু জায়গার আমল গ্রহণ করেছেন। রূকুতে যেতে এবং উঠতে। আর ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলও শাফেয়ীর অনুরূপ বলেছেন।

হানাফী আর মালেকী মাযহাবের যুক্তি হচ্ছে, রাসূল (সা.)-এর জীবনের সর্বশেষ আমলই উম্মাহার জন্য চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। তাদের এ কথার দলিলও তারা দিয়ে থাকে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর বর্ণনায় আছে, فصلى فلم يرفع يديه الا فى اول مرة অর্থাৎ রাসূল (সা.) সালাত পড়েছেন এবং শুধু প্রথমবার তাকবীরে তাহরিমায় দু হাত উঠিয়েছেন। (তিরমিজি ১/৩৫, হা/২৫৭, আবূ দাউদ হা/৭৪৮)। ইমাম তিরমিজি বলেছেন, هذا حديث حسن অর্থাৎ এ হাদীসের সনদ হাসান। ইবনে হাযম (রহ.) বলেছেন, এর সনদ সহীহ। (আল মুহাল্লা ৪/৮৮)।

সাহাবীরা ছিলেন রাসূল (সা.)-এর পূর্ণ আনুগত্যের একেকজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তারা রাসূল (সা.)-কে যখন যে অবস্থায় দেখেছেন সে অবস্থার কথা উল্লেখ করে দিয়েছেন। এগুলোকে অসঙ্গতি মনে করা পুরোপুরি মূর্খতা। এ সমস্ত বৈপরীত্য আমলগুলোর ডিসাইড করতে মুজতাহিদদেরকে গবেষণা করতে হয়েছে। আমাদেরকে তাদের সেই গবেষণার ফসল ফিকহকে গ্রহণ করতে হবে। আর প্রত্যেক মুজতাহিদের ছিল নিজেস্ব কিছু উসূল (নীতিমালা)। গবেষণার ফলাফল তাদের একেকজনকে একেক মতামতের দিকে নিয়ে যায়। নতুবা মাযহাব কখনো একাধিক হত না। সুতরাং যিনি যেই মুজতাহিদকে ফলো করবেন তিনি সেই মুজতাহিদের ইজতিহাদের উপরই চলবেন।

সাহাবায়ে কেরাম রাসূল (সা.)-কে যখন যে অবস্থায় পেয়েছেন তারা শুধু সেটিকে বর্ণনা করে রেখে গেছেন। আমরা যেসব ক্ষেত্রে গবেষণার দাবী রাখে সেসব ক্ষেত্রে মুজতাহিদের ইজতিহাদের আলোকে সিদ্ধান্তে উপনীত হবো…!

(সম্পূর্ণ ভিডিও এর সার নির্যাস)।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ

ইমাম মালেকের দরসে ইমামে আযম আবূ হানীফা

ইমাম মালেক (রহ.)-এর সান্নিধ্যে হযরত ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)

ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর বুদ্ধিমত্তাঃ

একদা ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) ইমাম মালেক (রহ.)-এর দরসে (হাদীসের ক্লাসে) উপস্থিত ছিলেন, তখনো তিনি তাঁকে চিনতেন না।

ইত্যবসরে ইমাম মালেক (রহ.) তাঁর ছাত্রদের উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্ন রাখলেন। অমনি ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) সেটির উত্তর দিয়ে দেন।

তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ লোকটি কোথা থেকে এসেছে?

তিনি উত্তর দেনঃ ইরাকবাসীর পক্ষ থেকে।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ভণ্ডামী আর বিভেদ সৃষ্টিকারী দেশের অধিবাসীদের কাছ থেকে!!

তিনি (ইমামে আযম) বললেনঃ আমাকে কুরআন থেকে কিছু বলার অনুমতি দিন!

ইমাম মালেক (রহ.) বললেনঃ হ্যাঁ, (অনুমতি দিলাম)।

তিনি (ইমামে আযম) তিলাওয়াত করলেনঃ
(অর্থ) ‘মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের মধ্য হতে কতিপয় এবং ইরাকবাসীদের মধ্যে হতেও কতিপয় লোক এমন মুনাফিক রয়েছে; যারা মুনাফিকিতে অটল। (তওবা ১০১)।

ইমাম মালেক (রহ.) বলেনঃ আল্লাহ তা এভাবে বলেননি!

আবূ হানীফা (রহ.) বললেনঃ আল্লাহ তাহলে কিভাবে বলেছেন?

তিনি বললেনঃ আল্লাহ বলেছেন وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ অর্থাৎ ‘মদীনাবাসীদের’ মধ্যে হতেও কতিপয় লোক এমন মুনাফিক রয়েছে…। (মানে ‘ইরাকবাসী’ এর স্থলে ‘মদীনাবাসী’ হবে)।

তিনি (ইমামে আযম) বললেনঃ আল্লাহ’র প্রশংসা জানাচ্ছি যে, আপনি নিজেই নিজের বিচার করেছেন। (অর্থাৎ কুরআনের ভাষ্যমতে মদীনার-ও কতেক লোক এমন রয়েছে যারা মুনাফিক ও মুনাফিকিতে অটল; তথাপি যত দোষ নন্দ ঘোষ!)

[ইমাম মালেক ইমামে আযমের উপরিউক্ত বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিউত্তরে হতবাক হয়ে] নিজের আসন থেকে লাফিয়ে উঠেন এবং তাঁকে (ইমামে আযমকে) চেনা মাত্রই সম্মান করলেন।

(এটি ইমাম আবূ হানীফার প্রতি ইমাম মালেকের অন্যতম গৌরবগাঁথা স্তুতি – লিখক)।

[রেফারেন্স : নুযহাতুল মাজালিস ওয়া মুন্তাখাবুন নাফাঈস-১৪৯, ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুস সালাম আস-সাফুরী (মৃত. ৮৯৪ হিজরী)]।

আরবীপাঠ সহ ফিকহ মিডিয়া গ্রুপ থেকে পড়ুন

(সংযুক্ত মূল আরবীপাঠ নিম্নরূপ)

অনুবাদক- মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ