Home Blog Page 29

ঈসা (আ.)-এর মৃত্যুর দাবীদারদের উদ্দেশ্যে এই কয়টি প্রশ্ন ছুড়ে দিন

ভন্ড মির্যা কাদিয়ানীর অনুসারী কাদিয়ানী নেতাদের কাছ থেকে এই কয়েকটি প্রশ্নের পয়েন্ট টু পয়েন্ট সঠিক উত্তর আদৌ কি পাওয়া সম্ভব?

১। “তাওয়াফফা” (توفى) শব্দটির হাকিকি তথা প্রকৃত অর্থ ‘মৃত্যু’ বা শব্দটি মৃত্যু অর্থের জন্য-ই খাস বা নির্দিষ্ট, এধরণের কোনো প্রমাণ অথেনটিক কোনো সোর্স থেকে (স্ক্রিনশট সহ) দেখাতে পারবেন না। লিখাটি ফেইসবুক থেকে

২। ঈসা (আ.)- এর সাথে প্রাসঙ্গিক উল্লিখিত কোনো আয়াত বা হাদীসে তাঁর সম্পর্কে مات শব্দ বা توفى এই ধরণের অতিতকালবাচক কোনো ক্রিয়াপদ উল্লেখ আছে, দেখাতে পারবেন না।

৩। আপনারা যে সব আয়াতের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে হযরত ঈসা (আ.)-কে মৃত বলে দাবী করে থাকেন সেসব আয়াতের আলোকে ইসলামের প্রথম তিন সোনালী যুগের ইসলামি কোনো একজন স্কলার থেকেও তদ্রূপ প্রমাণ করতে পারবেন না। যদি পারেন প্রমাণ করুন।

৪। অথবা হিজরী গত তেরশত বছরের ইতিহাসে যেসব বরেণ্য ও স্বীকৃত যুগ ইমাম / মুজাদ্দিদ/ মুফাসসির অতিত হয়ে গেছেন তাদের কোনো একজন থেকেও প্রমাণ করতে পারবেন না যে, ঈসা (আ.) মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আগমনকারী একজন ‘রূপক’ ঈসাই হবেন। যদি পারেন (তাদের কিতাবের স্ক্রিনশট সহ) প্রমাণ করুন।

সাহস থাকলে অনলাইন ডিবেটে এসে দুনিয়ার সামনে প্রমাণ করে দেখান। আমার ১০ লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ—কেয়ামতের আগ পর্যন্ত পারবেন না।

হযরত ঈসা (আ.) আকাশ থেকে নাযিল হবেন মর্মে “মিনাস সামায়ি” শব্দ-যোগে কয়েকটি ডকুমেন্টারি সহীহ হাদীস

কাদিয়ানী মুরুব্বীর সাথে প্রফেসর মুহাম্মদ আসিফ এবং মাওলানা ফকীরুল্লাহ ওসায়া সাহেবের ‘ইমাম মাহদী’ বিষয়ক ঐতিহাসিক বাহাসের একটি চম্বুকাংশ

আল্লামা ইলিয়াস সাত্তার (হাফিঃ) এর বই থেকে ‘ফা-লাম্মা তাওয়াফফাইতানী’-এর অপব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন মির্যা কাদিয়ানী

মির্যা কাদিয়ানীর ভবিষ্যৎবাণীর মধ্যে এই কয়টিও আলোর মুখ দেখেনি

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম এ

মির্যা মাসরূর আহমদ নিদাহ খাতুন কর্তৃক ধর্ষণ মামলায়

0

মুসলমান এবং কাদিয়ানীদের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য থাকার প্রমাণ এখানে

কে এই নিদাহ খাতুন? কেন তিনি আহমদী অর্থাৎ কাদিয়ানী জামাতের অভ্যন্তরীণ সমস্ত নোংরামি ফাঁস করে দিচ্ছেন? কাদিয়ানী জামাতের বর্তমান গদ্দিনিসীন মির্যা মাসরূর আহমদ এর সাথে কোন বিষয়ে তিনি বিতর্ক জড়ান। মাসরূর আহমদ তাকে কী বলেন এবং কী কী ধমক দেন। অত:পর নেট দুনিয়ায় দুইজনের কল রেকর্ড ফাঁস! পরিশেষে নিদাহ খাতুন ব্রিটিশ গভমেন্ট এর পুলিশের শরণাপন্ন হন কিভাবে? মির্যা মাসরূর আহমদ, তার শ্যালক মাহমুদ শাহ এবং মির্যা কাদিয়ানীর প্রপৌত্র নওয়াব আমের নামীয় ব্যক্তিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ করার অভিযোগ এনে মামলা ঠুকে দেয়াসহ বিস্তারিত আলোচনা করছি। এই সম্পর্কে (উর্দু ভাষার) সম্প্রতি একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও আপনিও দেখতে পারেন।

মির্যা মাসরূর (বামে), মাহমুদ শাহ [ধর্ষক] (ডানে)।

নিদা আন নাসেরকে গ্রুপ সেক্সকারীগণ : –
১- মির্যা লোকমান আহমদ। ইনি কাদিয়ানী তৃতীয় খলীফার পুত্র। নিদা নিজেই নিজ পিতার বর্বরোচিত যৌন নির্যাতনের অভিযোগকারী।
২-
ড. মির্যা মুবাশ্বির আহমদ। পিতা মির্যা মুনাওয়ার আহমদ বিন মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ।
৩- মাহমুদ শাহ। ইনি হচ্ছেন বর্তমান কাদিয়ানী খলীফা মির্যা মাসরূর আহমদের শ্যালক ও কাদিয়ানী তৃতীয় খলীফা মির্যা নাসের আহমদের নাতি। তিনি কাদিয়ানী জামাতের বড় মুরুব্বিও।
৪- নওয়াব আমের। তিনি মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর প্রপৌত্র। মাতার নাম আমাতুশ শোকর সাহেবা। নানীর নাম নওয়াব আমাতুল হাফিজ সাহেবা। উল্লেখ্য, মির্যা কাদিয়ানীর এক মেয়ে ছিল নওয়াব মোবারাকাহ, আরেক মেয়া ছিল নওয়াব আমাতুল হাফিজ সাহেবা। যাইহোক, খবরটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া Daily mail থেকেও দেখতে পাবেন। তারিখ ০৯-জানুয়ারি-২০২২ইং। ‘ডেইলি মেইল’ পত্রিকার নিউজের লিংক পেতে আমার এই লিখাটিতে ক্লিক করুন।

নিদা আন নাসের এর টুইটার একাউন্ট

নিদা আপনা নানার সাথে

অপ্রিয় হলেও সত্য যে, কাদিয়ানী জামাতে চেপে থাকা অভ্যন্তরীণ নোংরামি আজকাল ফাঁস হচ্ছেনা বরং সেই ১৯৩৮ সাল থেকেই তাদেরই ভেতরের ঘনিষ্ঠ সূত্রে ও ঘনিষ্ঠ লোকদের মাধ্যমেও দুনিয়ার সামনে আসা শুরু হয়েছে। কাদিয়ানীদের দ্বিতীয় খলিফা মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ সম্পর্কে কি আর বলব! এই লোক তো একজন নিয়মিত মাদক সেবনকারীই ছিল। আপন কন্যা আমাতুর রশীদকে ধর্ষণ করে ধরা পড়েছিল। নিজ স্ত্রী আমাতুল হাই এবং তাদেরই গৃহ শিক্ষক মির্যা মুহাম্মদ হোসাইন বি.কম তারা হাতে নাতে জেনা করা অবস্থায় তাকে পাকড়াও করেছিলেন। এই শুনুন, কয়েকজন সাবেক কাদিয়ানীই এই সম্পর্কে বর্ণনা দিচ্ছেন। ভিডিও

কাদিয়ানীদের দ্বিতীয় খলিফা (خليفة المسيح الزانى) মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ

কে এই নিদাহ খাতুন?

নিদাহ খাতুন হচ্ছেন মির্যায়ী রয়্যাল ফ্যামিলির সদস্য। তার পুরো নাম নিদাহ আন-নাসের। পিতার নাম মিঁয়া লোকমান আহমদ বিন মির্যা নাসের আহমদ। তিনি মির্যায়ী তৃতীয় গদ্দিনিসী (খলীফা) মির্যা নাসির আহমদ এর (ছেলের মেয়ে) নাতনি। তিনি একই সাথে কাদিয়ানী চতুর্থ খলীফা মির্যা তাহের আহমদ এর মেয়ে ফাইজাহ বেগমের মেয়ে-ও। উল্লেখ্য, কাদিয়ানী তৃতীয় খলীফার পুত্র লোকমান আহমদের সাথে মির্যা তাহের আহমদের মেয়ে ফাইজাহ বেগমের বিবাহ হয়েছিল। বর্তমানে তিনি লণ্ডন প্রবাসী। তিনি কিশোরী বয়স থেকেই ধর্ষিতা হয়ে আসছেন। তাকে মাহমুদ শাহ নামের এক ব্যক্তি তার সেই কিশোরী বয়স থেকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে। তার অভিযোগ, প্রায় ৩৬ বছর ধরে তিনি মাহমুদ শাহ নামক ঐ মানবরূপী পশু কর্তৃক সময় সময় ধর্ষণের শিকার হয়ে আসছেন। তিনি এক পর্যায় প্রেগন্যান্টও হয়ে যান। নিদাহ খাতুন একজন কাদিয়ানী মতের অনুসারী হিসেবে তার খলীফা ও ‘প্রিয় হুজুর’-এর নিকট বিচারপ্রার্থী হন। মির্যায়ী খলীফা মির্যা মাসরূরের সাথে নিদাহ খাতুন কথাগুলো ফোনে বলেন এবং ফোন কল রেকর্ডও হয়। এখন জানার বিষয় হল, কে এই মাহমুদ শাহ?

কে এই মাহমুদ শাহ?

এই মাহমুদ শাহ হলেন কাদিয়ানীদের বর্তমান খলীফা মির্যা মাসরূর আহমদ এর আপন শ্যালক। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর এক মুরিদের নাম ছিল সাইয়েদ সালমান শাহ। তার এক পুত্রের নাম সাইয়েদ দাউদ মুজাফফর শাহ যিনি বর্তমান কাদিয়ানী খলীফার শ্বশুর এবং কাদিয়ানী তৃতীয় খলীফা মির্যা নাসের আহমদের জামাতাও। কারণ তিনি মির্যা নাসির আহমদ এর মেয়ে আমাতুল হাকিম বেগমকে বিয়ে করেছিলেন। আর তার মেয়ে আমাতুল শাবুহ বেগম হলেন মির্যা মাসরূর এর স্ত্রী। যাইহোক, ধর্ষক মাহমুদ শাহ-ই হলেন ঐ দাউদ মুজাফফর শাহের পুত্র। তিনি বর্তমান কাদিয়ানী জামাতের বড়মাপের একজন কেন্দ্রীয় মুরুব্বী এবং জামাতের নাজেরে আ’লা (Chief Executive Director)। মির্যা নাসের আহমদের পুত্র মির্যা লোকমান আহমদের মেয়ে জনাবা নিদাহ খাতুন বলেছেন, তার এই কর্মকাণ্ডের সাথে ‘আমের শাহ’ নামীয় আরও এক ব্যক্তি জড়িত। এখন জানার বিষয় হল, মির্যা মাসরূর আহমদ তাদের জামাতের একজন খলীফা হিসেবে কী ফয়সালা দিলেন?

ধর্ষিতা নিদাহ খাতুনের প্রতিউত্তরে মির্যায়ী খলীফা :

মির্যায়ী খলীফা প্রতিউত্তরে বললেন, যা হবার হয়ে গেছে, তুমি এবার চুপ থাক। তুমি যদি ধর্ষণের শিকার হয়েই থাক তাহলে এতদিন পর্যন্ত কেন অভিযোগ করোনি? আর এখন তুমি যদি ধর্ষণের বিচার পেতে চাও তাহলে তোমাকে চারজন সাক্ষী হাজির করতে হবে। না পারলে চুপ থাক। বেশি বাড়াবাড়ি করতে যেও না আর বকবক করা বন্ধ কর। অন্যথা তোমাকে ‘বাইয়াত’ থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং এদেশের (ব্রিটেনের) ন্যাশনালিটিও ছিনিয়ে নেয়া হবে। ইত্যাদী। মির্যা মাসরূর আহমদ আর নিদা নাসের এর অডিও ক্লিপ উর্দু ভাষায় লিখা হয়েছে। পড়তে ক্লিক করুন।

নিদাহ খাতুন প্রতিউত্তরে কী বললেন?

নিদা আন নাসের এর শিশুকালীন দুর্লভ ছবি

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যভিচারিণী নই যে, চারজন সাক্ষী হাজির করতে হবে। আমি তো ধর্ষণের শিকার, একজন ধর্ষিতা। তাহলে আমাকেও কেন বিচার পেতে চারজন সাক্ষী হাজির করার বিধান শুনাচ্ছেন? আর জামাতের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তো পরিষ্কার করে লিখা রয়েছে যে, পরন্তু র‍্যাপ (ধর্ষণ) কেস এর বিচারের জন্যও চার জন সাক্ষীর প্রয়োজন নেই। আমি নিজেও ঐ আর্টিকেল পড়েছি। কাজেই আগে তো ওয়েবসাইট ঠিক করবেন! আমি চুপ থাকব কেন? আমি তো একজন মাজলুম এবং ভিকটিম। কুরআন হাদীসের কোথাও কি বলা আছে যে, জালেমের জুলুমের প্রতিবাদ না করে ভিকটিম চুপ থাকবে? আর আমি তো বললামই আমাকে প্রথম থেকেই ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে যাতে আমি এর বিরুদ্ধে আওয়াজ না উঠাই। আমি ৩৬টি বছর এই জুলুম নিরবে সহ্য করে আসছি, আমি বর্তমানে গর্ভবতীও; আমি এই জুলুম সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আওয়াজ উঠাতে বাধ্য হই। এখন আমি যদি খলীফার নিকটেও আমার ন্যায় বিচার পেতে ব্যর্থ হই তাহলে ব্রিটিশ গভমেন্টের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।’ নিদাহ খাতুন এর বক্তব্যের কথাগুলো শুনুন অডিও ক্লিপ থেকে।

এখানে বলে রাখতে চাই যে, র‍্যাপ কেস এর সত্যতা প্রমাণের জন্যও যে চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন নেই সেটি ভিকটিমের ঐ কথার পরপরই কাদিয়ানীরা আর্টিকেলটি তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলে। আমেরিকার একটি ওয়েবসাইট থেকে আমি এই তথ্যটিও উদ্ধার করি। স্ক্রিনশট দেখুন।

আর্টিকেলটি সরিয়ে ফেলা হয়

উল্লেখ্য, নিদাহ সাহেবা হয়ত বলতে চাচ্ছিলেন যে, আমি তো কারো বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ করছিনা যে, আমাকে আমার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য ইসলামি শরীয়ার বিধি মুতাবেক চারজন সাক্ষী হাজির করতে হবে। অধিকন্তু আমি তো নিজেই একজন ভিকটিম (ধর্ষিতা), কারো ব্যাপারে ব্যভিচারের অভিযোগ উত্থানকারী নই (প্রসঙ্গত, ধর্ষণ আর ব্যভিচার দুটি ভিন্ন জিনিস – লিখক)। এখানে আরেকটি কথা না বললেই নয়, কাদিয়ানী খলীফা ভিকটিমকে বলছে ধর্ষণকারীর ধর্ষণের সত্যতা প্রমাণে চারজন সাক্ষী হাজির করতে! কেমন পক্ষপাতদুষ্ট আর ইসলামি শিক্ষায় চরম পর্যায়ের মূর্খ হলে একজন ভিকটিমকেই বলতে পারে যে, তোমার ধর্ষণের পক্ষে চারজন সাক্ষী হাজির কর!?

নিদাহ আন নাসের বিনতে লোকমান সাহেবা (প্রতীকি)

সম্প্রতি ব্রিটিশ স্থানীয় আলেম উলামা ও সর্বস্তরের মুসলমানরা-ও স্রেফ এজ এ হিউম্যানিটি ভিকটিমকে সাপোর্ট দিচ্ছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচারের দাবী জানাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ভিকটিম তার ধর্ষণের নিরপেক্ষ তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যায় বিচারের দাবী জানিয়ে ব্রিটিশ আদালতে কেস ঠুকে দিয়েছেন। কাদিয়ানী জামাতের ‘মেরে পেয়ারে হুজুর’-ও উক্ত মামলার অন্যতম আসামী। ব্রিটিশ মুসলিম কমিউনিটি স্রেফ একজন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্যাতিতা ও জুলুমের বিচারপার্থী এক বোনের আহাজারি শুনে সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে ব্রিটিশ গভমেন্ট এর অন্যতম সদস্য ও বিচারক Toaha Qureshi সাহেবও রয়েছেন। তিনি পাক প্রেসিডেন্ট ইমরানখানের সরকারকেও নিদাহ খাতুনের বিচার দাবীর পক্ষে সরব হওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। বিচারক তোহা কুরাইশি এর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শুনতে ভিডিওটিতে (৪১ মিনিটের পর থেকে শুনুন) ক্লিক করুন।

বিচারক Toaha Qureshi

বেচারি নিদাহ খাতুনের পক্ষে বিচার চাওয়ার বিপরীতে নির্বোধ কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের পাক বংশোদ্ভূত কতিপয় ব্যক্তির অপ্রীতিকর রিয়েক্ট দেখুন তাদেরই কমেন্ট থেকে।

এখানে তার মন্তব্যের খোলাসা হল, এই ভিকটিম মেয়েটির সাথে তোমাদের কী সম্পর্ক? তোমরা বরং তোমাদের মেয়েদের সাথে ইনসাফ কর, আমাদের কোনো মেয়ের ব্যাপারে নাক গলাবেনা!
এখানে এই মন্তব্যের খোলাসা হল, পাকিস্তানে আমাদের আহমদীদের সাথে তোমাদের লোকেরা কত রকম জুলুম করছে তোমরা সেসব ব্যাপারে নিরব থাক অথচ একটা মেয়ে খলীফার ব্যাপারে কিছু একটা অভিযোগ তুলল আর অমনি তোমরা খলীফার পেছনে লেগে গেলে!?
এখানে এই মন্তব্যের খোলাসা হল, ব্যাপারটা তো খুবই সিম্পল। মেয়েটি অভিযোগ করেছে যে, তার সাথে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে (এটি মেয়েটির নামে জঘন্য মিথ্যাচার, কারণ মেয়ের অভিযোগ হচ্ছে প্রায় ৩৬ বছর ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করে আসছে – লিখক) আর অপর পক্ষ বলছে, তাকে ধর্ষণ করার মত এধরণের কোনো চেষ্টাই করা হয়নি!

আমি ছোট্ট একখান মন্তব্য রেখে লিখাটির ইতি টানছি। নিদাহ খাতুন এর মত একজন কাদিয়ানী রয়্যাল ফ্যামিলির সদস্য হয়েও তিনি যেখানে কাদিয়ানী মুরুব্বীদের লালসার শিকার হয়ে বিচার পাননি, বরং বিচার চেয়ে লাঞ্চিত হলেন ও জামাত থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার হুমকি পেলেন, সেখানে আরও অসংখ্য অজানা অচেনা আহমদী কিশোরীদের কী অবস্থা!? তারাও যে ঐ ভিকটিমের মতই নিরবে সব কিছু সহ্য করছেন তা তো সহজেই অনুমেয়। কারণ কাদিয়ানী জামাত মূলত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীর স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি নানা ধরণের ‘চাঁদাবাজি’-এর মাধ্যমে উদরফূর্তির উদ্দেশ্যেই গঠিত, ইসলামের সাথে এদের আসলেই কোনো সম্পর্ক নেই। দুঃখের বিষয় হল, এই সাধারণ কথাটাই ওরা বুঝতে পারেনা! আল্লাহ এদের সহীহ বুঝ দিন। লিখাটি পড়ার পর যদি ভালো লাগে তাহলে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না।

  • জানতে পড়ুন :

কাদিয়ানীদের জনসংখ্যা সারা দুনিয়ায় কত?

তথ্য সংগ্রহে, লিখক শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মির্যা কাদিয়ানীর মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী-৩

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর কতিপয় ভবিষ্যৎবাণী সম্পর্কে :

প্রশ্নকর্তা – মুহাম্মদ মুহসিন আলী, শিক্ষার্থী : দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রিয় উস্তাদ প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী সাহেব! কয়েক দিন পূর্বের কথা। ইন্টারনেট ঘাটতে ঘাটতে ঢুকে পড়ি কাদিয়ানীদের একটি ব্লগে। ব্লগে মির্যা কাদিয়ানীকে ইমাম মাহদী সাব্যস্ত করতে তার সম্পর্কে বহু ভবিষ্যৎবাণী এবং নিদর্শন উল্লেখ করা হল। আদ্যোপান্ত পড়েছি। যেহেতু আমি এই বিষয়ে একদম নতুন একজন পাঠক তাই এসবে কোনোরূপ মন্তব্য করার মত আমার জ্ঞান বা যোগ্যতা কোনোটাই ছিলনা। সেখানে দেখলাম, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর সত্যতা প্রমাণের জন্য নাকি একই রমাযানে চন্দ্র ও সূর্য্যগ্রহণও ঘটেছিল। যা কিনা হাদীসমতে ইমাম মাহদীর সত্যতার নিদর্শন! ভারতের আরিয়া সমাজের পণ্ডিত লেখরামের মৃত্যুর ভবিষ্যতবাণী, মুহাম্মদী বেগমের বাবার মৃত্যুর ভবিষ্যৎবাণীসহ অনেক কিছু। এখন প্রশ্ন হল, মির্যা কাদিয়ানী যদি ভন্ড এবং মিথ্যাবাদী হন তাহলে তার জন্য উল্লিখিত নিদর্শন আর ভবিষ্যৎবাণীগুলো কিজন্য বাস্তবায়িত হল? আমি এই বিষয়ে একদম নতুন পাঠক। তাই আমার ভেতর এইধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমি গঠনমূলক উত্তর চাচ্ছি যাতে আমার সংশয় দূর হয়ে যায়।

উত্তর :

(১) ইমাম মাহদীর জন্য সত্যতার নিদর্শন স্বরূপ একই রমাযানে চন্দ্র ও সূর্য্যগ্রহণ লাগবে—এইধরণের কোনো কথাই রাসূল (সা:) থেকে প্রমাণিত নয়। বরং হাদীস বিশারদগণের সবাই বলেছেন, এটি জাল ও বানোয়াট হাদীস। এখান থেকে জানুন

(২) আর্য সমাজের জনপ্রিয় পণ্ডিত লেখরাম সম্পর্কে মির্যার কৃত ভবিষ্যৎবাণী সম্পর্কে জানতে পড়ুন।

(৩) মুহাম্মদী বেগমের বাবার মৃত্যুর ভবিষ্যৎবাণীসহ আরো যে সমস্ত বিষয়ে মির্যা কাদিয়ানীর লিটারেচার সমূহে উল্লেখ রয়েছে তা পুরোপুরি না জেনে শুধুই আংশিক কথাবার্তায় এটি মনে করা ঠিক হবেনা যে, সেসমস্ত ঘটনা মির্যারই পক্ষে গিয়েছিল। বরং মির্যা কাদিয়ানীর জীবনের প্রায় সমস্ত ভবিষ্যৎবাণীই তার বিরুদ্ধে গিয়েছে এবং তাকে চরমভাবে লাঞ্চিত ও অপমানিত করেছে। যাইহোক, এখানে মির্যা কাদিয়ানীর মাত্র ৫টি ভবিষ্যৎবাণী উল্লেখ করছি যার বিচারে আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন যে, মির্যা কাদিয়ানী কত জঘন্য একজন মিথ্যাবাদী আর প্রতারক ছিল। আর তাই আমরা মুসলমানরা তার বর্তমান অনুসারীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখতে চাই যে,

মির্যা কাদিয়ানী নিজ ভবিষ্যৎবাণীর মানদণ্ডে একজন মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি কিভাবে ‘ইমাম মাহদী’ বা ‘নবী’ হন? প্রথমে তার ভবিষ্যৎবাণী সম্পর্কে আসি। মির্যা সাহেব ভবিষ্যৎবাণী সম্পর্কে লিখেছেন “আমাদের সত্য আর মিথ্যা নিরীক্ষণ করতে আমাদের ভবিষ্যৎবাণী অপেক্ষা আর কোনো নিখুঁত কষ্টিপাথর থাকতে পারেনা।” (রূহানী খাযায়েন ৫/২৮৮)। এবার দেখা যাক, তিনি অন্তত নিজের ভবিষ্যৎবাণীর মানদন্ডেও সত্যবাদী সাব্যস্ত হন কিনা?

ভবিষ্যৎবাণী : ১
মির্যা সাহেবের ঝিয়ারি মুহাম্মদী বেগম নামের একটি মেয়ের অন্যত্রে বিয়ে হয়ে গেলে তারই পরিপ্রেক্ষিতে জনৈক ব্যক্তির একখানা আপত্তির জবাবে তিনি বলেছিলেন, “ওহীয়ে ইলাহীতে একথা নেই যে, তার বিয়ে দ্বিতীয় কোথাও হবে না! বরং একথা অবশ্যই রয়েছে যে, তার বিয়ে অন্য কোথাও হয়ে যাবে। অতএব এটি ভবিষ্যৎবাণীর একখানা অংশ ছিল যা দ্বিতীয় কোথাও বিয়ে হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে। ইলহামে ইলাহীর শব্দটি হল, ছা-ইয়াকফীকা হুমুল্লাহু ওয়া ইউরাদ্দূ-হা ইলাইকা (سيكفيكهم الله و يردوها اليك)। অর্থাৎ খোদা তোমার ঐসমস্ত বিরুদ্ধবাদীদের মুকাবিলা করবেন এবং যার দ্বিতীয় কোথাও বিয়ে হয়ে গেছে খোদা তাঁকে তোমার নিকট ফিরিয়ে দেবেন।” (দৈনিক উর্দূ পত্রিকা ‘আল-হিকাম’ ৩০-০৬-১৯০৫ ইং দ্রষ্টব্য)।

এখানে মুহাম্মদী বেগমকে মির্যা কাদিয়ানীর নিকট ফিরে দেয়া মর্মে যে কথা রয়েছে তা কিন্তু তার দাবীমতে ইলহামে ইলাহীর পক্ষ থেকেই। কিন্তু পরের ইতিহাস সবার জানা। মির্যা সাহেব ২৬-০৫-১৯০৮ ইং কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ওদিকে মুহাম্মদী বেগম তখনো স্বামীর সংসারেই ছিলেন, এমনকি মির্যার মৃত্যুর পরে আরো প্রায় ৪০ বছর স্বামীর সংসার করেন। তাদের আমৃত্যু সংসার-জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মির্যা কাদিয়ানীকে মিথ্যাবাদী প্রমাণে যথেষ্ট নয় কি? এমতাবস্থায় খোদাতালার নামে তার অন্যান্য কথিত ওহী ইলহামও যে মিথ্যা আর বানোয়াট নয় তা কিভাবে বুঝবো?

ভবিষ্যৎবাণী : ২
মির্যা কাদিয়ানীর ১৪ই জানুয়ারী ১৯০৬ ইং এর একটি ইলহাম হল “হাম মক্কা মে মরেগে ইয়া মদীনা মে” অর্থাৎ আমি মক্কায় অথবা মদীনায় মৃত্যুবরণ করব। (তাযকিরাহ ৪র্থ এডিশন, পৃষ্ঠা নং ৫০৩)। এখন প্রশ্ন হল, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মির্যা সাহেবকে সত্যিই কি তার মৃত্যু মক্কায় অথবা মদীনায় হবে বলে আগাম কোনো সংবাদ দিয়েছিলেন? যদি অনুরূপ কোনো সংবাদ তাকে দিয়েই থাকেন তাহলে তার মৃত্যুটা কিজন্য পাকিস্তানের লাহোরে হয়েছিল? এটি কি মহান আল্লাহর নামে জঘন্যতম মিথ্যাচার নয়? কিন্তু কোনো কাদিয়ানীকে আজ পর্যন্ত এর সদুত্তর দিতে পেলাম না। তবে জনৈক কাদিয়ানী পণ্ডিত মির্যার কথার বিকৃতি করে কোনোরকম জবাব দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে বলেছিল, এর ব্যাখ্যা নাকি মির্যা সাহেব নিজেই ঐ একই পৃষ্ঠায় দিয়ে গেছেন। জিজ্ঞাসা করলাম, কী সে ব্যাখ্যা? তিনি বললেন, এর ব্যাখ্যা হল মির্যা সাহেব মৃত্যুর আগে আগে মক্কা মদীনার মত বিজয় লাভ করবেন। তখন আমি বললাম, জনাব! মিথ্যা বলতেও তো একটু বিদ্যা-বুদ্ধি লাগে। আপনার তো দেখছি তাও নেই। আপনি এখানে “মত” কিসের অর্থ করলেন? ছিঃ এত নিকৃষ্ট মিথ্যা কিভাবে বলতে পারলেন! অথচ মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন : ‘উসকি ইয়ে মা’নি হে কে কবল আয মউত মক্কী ফতেহ নসিব হোগি’ অর্থাৎ তার মানে হল, মৃত্যুর আগে আগে ফতেহ মক্কী (মক্কা বিজয়) নসিব হবে। যাইহোক, তো এই ব্যাখ্যাটিও তো হালে পানি পেল না! কেননা আল্লাহতালা মির্যা সাহেবকে তারই মৃত্যুর আগে আগে মক্কা বিজয়ের কোনো সংবাদ সত্যিই যদি দিয়ে থাকেন তাহলে সেটি আজো পর্যন্ত কিজন্য আলোর মুখ দেখতে পেল না? অন্তত তার মৃত্যুর পরবর্তী শত বছরেও কিজন্য কাদিয়ানীরা মক্কা মদীনার উপর বিজয় লাভ করলো না? সুতরাং মির্যা কাদিয়ানী একজন নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী ছিল বলেই পরিষ্কার হয়ে গেল। স্ক্রিনশট :-

ভবিষ্যৎবাণী : ৩
একবার যে কোনোভাবে তার নিকট তার এক ভক্তের সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর সংবাদ এলে তিনি তৎক্ষণাৎ দেরি না করে ঐ স্ত্রীলোকটির পুত্র সন্তান হওয়ার ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে দিলেন। সময়টি ১৯০৬ সালের ১৯ শে ফেব্রুয়ারী। আমি আপনাদের ‘সাপ্তাহিক আল বদর’ (উর্দূ) পত্রিকার সেই কলামটি এখানে তুলে ধরছি। মির্যা সাহেব বলেছেন

“আমি স্বপ্নে দেখলাম, (আমার ভক্ত) মিঁয়া মঞ্জুর মুহাম্মদের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে। জিজ্ঞাসা করা হয়, এ ছেলের নাম কী রাখবে? স্বপ্ন এ পর্যন্তই। সাথে এই ইলহামও হল যে, ছেলেটির নাম ‘বশীরুদ্দৌলাহ্’ রাখবে। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, ছেলেটি সৌভাগ্যবান হবে। তবে আমি বলতে পারবনা যে, এই ছেলে কবে এবং কখন জন্মিবে।”

উপরের বক্তব্যটি মির্যা কাদিয়ানীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সংবাদপত্র ‘সাপ্তাহিক বদর’ এর জিলদ ২, নাম্বার ৮; ১৯০৬ সালের ২৩ ই ফেব্রুয়ারী সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। মির্যা সাহেবের কথিত ইলহামের সমষ্টি ‘তাযকিরাহ’ নামক বইয়ের ৫১০-১১ নং পৃষ্ঠাতেও দেখা যেতে পারে।

এবার তার কথিত ইলহামী ভবিষ্যৎবাণীর কথাগুলোর দিকে খেয়াল করুন। তিনি প্রথমে পুত্র সন্তানের ভবিষ্যৎবাণী করলেন তারপর ‘বশীরুদ্দৌলাহ্’ নামও রাখলেন। তখন ১৯ শে ফেব্রুয়ারী। এরপর ৭ ই জুন তথা স্বপ্নদেখার ৩ মাস ১৬ দিন পর মির্যা সাহেবের নাকি আবার ইলহাম হল এ মর্মে যে, ছেলেটির নাম হবে দুটি। (১) বশীরুদ্দৌলাহ্ এবং (২) আলম কাবাব। এ তথ্যটি ‘তাযকিরাহ’ পুস্তকের ৫৩৩ নং পৃষ্ঠায়ও রয়েছে। তারপর মির্যা সাহেব থেকে ‘তাযকিরাহ’ পুস্তকের ৫৩৪ নং পৃষ্ঠায় এও লিখা আছে “অতপর আমার আরো ইলহাম হয়েছে যে, এ ছেলেটির নাম দুটো নয়, চারটি। একটি হচ্ছে ‘শাদীখান’ আর অপরটি ‘কলেমাতুল্লাহখান’।” তারপর ‘তাযকিরাহ’ (চতুর্থ এডিশন, ২০০৪ইং) পুস্তকের ৫৩৭ নং পৃষ্ঠায় আরো লিখা আছে, ‘অতপর ১১ দিন অন্তে (উল্লিখিত স্বপ্নদেখার প্রায় ৩ মাস ২৭ দিন পর) উনি নাকি ইলহাম দ্বারা জানতে পেরেছেন যে, ছেলেটির নাম ৪টি নয়, বরং ৯টি।’ নামগুলো যথাক্রমে, কলেমাতুল আযীয, কালেমাতুল্লাহখান, ওয়ার্ড, বশীরুদ্দৌলাহ্, শাদীখান, আলম কাবাব, নাছিরুদ্দিন, ফাতেহুদ্দিন এবং মুবারকদিন। (বদর, জিলদ-২, নং ২৫, পৃ-৩ তারিখ, ২১ জুন ১৯০৬; আল হিকাম, জিলদ ১০, নং ২২, পৃ-১ তারিখ, ২৪ জুন ১৯০৬ ইং)।

এখন যে কথাটি বলতে চাই তা হল, মির্যা সাহেবের এতগুলো ইলহামী সংবাদ অবশেষে ভুয়া আর মিথ্যা-ই সাব্যস্ত হল কেন? অথচ আল্লাহ’র চেয়ে অধিক সত্যবাদী এবং অঙ্গীকার পূর্ণকারী আর কে হতে পারে? এবার জানা জরুরী যে, মিঁয়া মঞ্জুর মুহাম্মদ সাহেবের সন্তানসম্ভবা স্ত্রী মুহাম্মদী বেগমের গর্ভ থেকে কখনো কোনো পুত্র সন্তান হয়েছিল কি?

ইতিহাস প্রমাণ করে যে, ১৭ ই জুলাই মিঁয়া মঞ্জুর মুহাম্মদ লুধিয়ানভী সাহেব সংবাদ দিলেন যে, তার একটি কন্যা সন্তান হয়েছে। এটি মির্যা সাহেবের চতুর্থবার ইলহামী ভবিষ্যৎবাণীর ২৯ দিন পরের কথা। তিনি তার কথিত ইলহামী ভবিষ্যৎবাণী দ্বারা ছেলেটির ১/২টি নয়, মোট ৯টি নামই রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ভুমিষ্ট হয় একটি কন্যা সন্তান। যে সন্তানটি উপরের ৯টি নামকেই মিথ্যা প্রমাণ করে দেয়! এখন এর কোনো জবাব কি আপনাদের কাছে আছে কেবলই এটা বলা ছাড়া যে, এই ভবিষ্যৎবাণীর সব কয়টি ইলহাম মিথ্যা ও বানোয়াট। যদি সত্যিই তা আল্লাহ’র পক্ষ থেকে হত তাহলে অবশ্যই সত্য প্রমাণিত হত। পরের ইতিহাস আরো লজ্জাজনক। শেষমেশ মির্যা সাহেব স্বীয় ভবিষ্যৎবাণীর সুষ্ঠু কোনো ব্যাখ্যা দিতে না পেরে পঞ্চমবারের মত আবার ভবিষ্যৎবাণী দিলেন যে “সদ্যভূমিষ্ট মেয়েটির পরেই ঐ ছেলে জন্ম নেবে।” আপনি মির্যার ‘হাকীকাতুল ওহী’ (বাংলা অনূদিত; প্রথম সংস্করণ নভেম্বর ১৯৯৯ইং) বইটির পৃষ্ঠা নং ৮০ খুলে দেখুন। সেখানেও ঘটনাটির কিয়দাংশ টিকায় উল্লেখ আছে। যেমন “ঐ ছেলে এবার জন্ম হয় নাই। কেননা খোদাতালা বলেন ‘আখখারাহুল্লাহু ইলা ওয়াকতিম মুছাম্মা’ অর্থাৎ ঐ কেয়ামত সদৃশ ভূমিকম্প, যাহার জন্য ঐ ছেলে নিদর্শন হইবে, উহাকে আমরা অন্য একটি সময়ে নির্ধারিত করিয়াছি।” কিন্তু আফসোস! ঐ ছেলে আর কখনো জন্ম নেবেনা। কেননা, কিছু দিন পরে দেখা গেল, মিঁয়া মঞ্জুর মুহাম্মদের স্ত্রীই আর বেঁচে নেই। তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এ হচ্ছে মির্যা সাহেবের বানোয়াট ভবিষ্যৎবাণীর আরেকটি সংক্ষিপ্ত ঘটনা। নতুবা এর তালিকা অনেক দীর্ঘ।

ভবিষ্যৎবাণী : ৪
মির্যা সাহেব লিখেছেন, ‘খোদা আমাকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, আমি তোমার বয়স ২ বা ৩ বছর কম-বেশি ৮০ বছর করে দেব।’ (তোহফায়ে গোলড়বিয়া, রূহানী খাযায়েন ১৭/৪৪)। কিন্তু তিনি মারা যান মাত্র ৬৮ বা ৬৯ বছর বয়সে। কেননা তার জন্ম সন তারই ভাষ্য অনুসারে ১৮৩৯ বা ১৮৪০ ইং হলে (রূহানী খাযায়েন ১৩/১৭৭) এবং মৃত্যু সন ১৯০৮ইং হলে তখন তার বয়স কোনোভাবেই ৬৮ বা ৬৯ বছরের বেশি হয় না। এখন সত্যিই যদি ঐ রকম কোনো ওয়াদা আল্লাহর পক্ষ হতে হত তাহলে তো মির্যা সাহেবের মৃত্যু (৮০-৩) ৭৭ বা (৮০+৩) ৮৩ বছর বয়সেই হওয়ার ছিল। অথচ তিনি আরো ৮ বা ৯ বছর পূর্বে মারা যান। তাহলে কি আল্লাহতালা মির্যাকে মিথ্যা ওয়াদা দিয়েছিলেন মনে করেন? নাউযুবিল্লাহ। এখন প্রশ্ন হল, আল্লাহ’র নামে যে লোকটি এত জঘন্য মিথ্যাচার করল সে লোকটির ইমাম মাহদী কিংবা নবী হওয়ার দাবী কিভাবে সত্য হতে পারে? আর এরকম একজন ব্যক্তি যখন দাবী করে বলে যে, ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে আল্লাহতালা আমাকে ইলহামযোগে জানান যে, বনী ইসরাইলী নবী হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:) স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন, তার ঐ ইলহামও যে মিথ্যা নয় তা কিভাবে বুঝলাম? (আহমদ চরিত পৃ-৮; মূল মির্যা বশির উদ্দীন মাহমূদ)। কী জবাব?

এবার শুনুন মির্যা সাহেব মিথ্যাবাদী সম্পর্কে কী লিখে গেছেন, তিনি লিখেছেন, “প্রকাশ থাকে যে, যখন কেউ একটি কথায় মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবে তখন তার অন্য আর কোনো কথায়ও গ্রহণযোগ্যতা থাকেনা।” (চশমায়ে মা’আরিফত, রূহানী খাযায়েন ২৩/২৩১; লিখক মির্যা কাদিয়ানী)। “মিথ্যা বলা মুরতাদ হওয়ার চেয়ে কম নয়।” (রূহানী খাযায়েন ১৭/৫৬)। “মিথ্যা বলা আর গু খাওয়া এক সমান।” (রূহানী খাযায়েন ২২/২১৫)। বিচারের ভার আপনার নিরপেক্ষ বিবেকের উপর ছেড়ে দিলাম।

ভবিষ্যৎবাণী : ৫
মির্যা কাদিয়ানী ভবিষ্যৎবাণী করে লিখেছেন, “মক্কা মদীনায় রেলের রাস্তা তৈরি হচ্ছে।” (রূহানী খাযায়েন ১৯/১০৮)। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী যে, মক্কা মদীনা আজ পর্যন্ত রেলের মুখও দেখতে পায়নি। হয়ত কোনো কেউ বলতে পারেন, মির্যা সাহেবের এ ভবিষ্যৎবাণী তো অনির্দিষ্টকালীন! এর প্রতিউত্তরে বলতে চাই, মির্যা সাহেব তার লেখনীতে এও লিখে গেছেন যে, “আশা করছি যে, খুব দ্রুত এবং কয়েক বছরে এই কাজটি (রেলপথ নির্মাণ) সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। আশ্চার্যের বিষয় নয় যে, তিন বছরের মধ্যেই মক্কা মদীনায় রেলপথ তৈরি হয়ে যাবে। সত্য তো এটাই যে, মক্কা মদীনায় রেলপথ তৈরী হওয়া যেন সমগ্র ইসলামী দুনিয়ায় রেল ব্যবস্থা প্রত্যাবর্তন করা।” (রূহানী খাযায়েন ১৭/১৯৫; সারাংশ)। অথচ মির্যা সাহেবের ইন্তেকালের পর শতাব্দীর অধিক সময় গত হয়ে গেছে। কিন্তু যে রেলপথ খুব দ্রুত কিংবা তিন বছরের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা, দুনিয়া আজ অব্ধি তা বাস্তবায়নের মুখ দেখতে পায়নি! মির্যা কাদিয়ানীর নির্বোধ অনুসারীদের নিকট তার এই ভবিষ্যৎবাণীরও সঠিক কোনো উত্তর নেই, শুধু এইকথা বলা ছাড়া যে, প্রকৃতপক্ষে তার এই ভবিষ্যৎবাণীটিও আল্লাহ’র নামে মিথ্যাই ছিল।

উত্তরদানে, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

ইমাম মাহদী এবং নবী দাবীদার সালেহ বিন তারিফ সম্পর্কে

কে এই সালেহ বিন তারিফ? যিনি শুধু ইমাম মাহদী হবার দাবী করেননি, বরং নিজেকে “নবী”ও দাবী করেছিলেন! ৭৪৪ সালে “নবী” দাবীকারী এই লোকটি ৭৯১ সাল পর্যন্ত বারঘৌতা বারবার (Barghawata মরক্কো কেন্দ্রিক একটি রাজ্য) এর শাসক-ও ছিলেন! আশ্চর্যের ব্যাপার হল, এই মিথ্যা ইমাম মাহদী আপনা দাবীর উপর প্রায় ৪৭ বছর স্থায়ী ছিলেন!

বিস্তারিত ইতিহাস :

সালিহ ইবনে তারিফ (صالح بن طريف) এর পিতার নাম ছিল তারিফ ইবনে মালেক। তিনি ছিলেন ‘বারঘৌতা বারবার’ (বর্তমান মরক্কোর একটি প্রসিদ্ধ এলাকা) রাজ্যের নেতা ও প্রথম রাজা। তার মৃত্যুর পর পুত্র সালেহ ইবনে তারিফ দ্বিতীয় রাজা হিসেবে নির্বাচিত হন। তার জন্ম – ১১০ হিজরী মুতাবেক ৭২৮ খ্রিস্টাব্দে। তিনি নিজেকে “সালেহুল মুমিনীন” নামক নতুন একধর্মের ‘নবী’ বলে ঘোষণা দেন। ৭৪৪ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া খলীফা হিশাম ইবনে আব্দুল মালিকের খিলাফতকালে তিনি ‘নবী‘ দাবী করেন। Click তিনি নবী দাবীর উপর প্রায় ৪৭ বছর সময় অতিবাহিত করে রাজ্য ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তিনি নিরুদ্দেশ হওয়ার পূর্বে নিজ পুত্র ইলিয়াস বিন সালেহকে (৭৯২-৮৪২) তার ধর্মের উপর অবিচল থাকতে বলেন। ২২৪ হিজরীতে পুত্রের মৃত্যুর পর পৌত্র ইউনুস ইবনে ইলিয়াস (৮৪২-৮৮৮) এই ধর্মের সেবা করেন এবং যারা সালেহ এর ধর্ম গ্রহণ করত না তিনি তাদেরকে হত্যাও করতেন। তারপর রাজত্ব করেন আবু গুফাইল মুহাম্মদ (৮৮৮-৯১৭)। ইবনু খালদুনের সূত্রমতে ইনিও নবী দাবী করেছিলেন। তারপর আবু আল আনসার আব্দুল্লাহ (৯১৭-৯৬১)। তারপর ২২ বছর বয়সে রাজ্যের শাসক হন আবু মনসুর ঈসা (৯৬১-?)। রাজ্যের প্রশাসনিক অবস্থা আস্তে আস্তে দুর্বল হতে থাকে। অত:পর ৪৫১ হিজরীতে (আনুমানিক ১০৬৮ সালে) আলমুরাবিত রাজ-বংশের মুসলিম বীর সিপাহসালার ইউসুফ ইবনে তাসফিন (রাজত্বকাল ১০৬১-১১০৬ খ্রি.) বারঘৌতা বারবার রাজ্যকে যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করে নেন এবং উক্ত ধর্মের বিলুপ্তি ঘটান। পরবর্তীতে সালেহ ইবনে তারিফ এর প্রতিষ্ঠিত পুরো সাম্রাজ্য ইসলামের মূলধারার অনুসারী ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত’-এর অধিভুক্ত হয়। এই ভিডিওটি শুনুন

সালেহ বিন তারিফ পবিত্র কুরআন থেকে নিজের পক্ষে দলিল প্রমাণও পেশ করেন। পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাহরীম-এর অন্যতম আয়াত وَإِن تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلاَهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمَلاَئِكَةُ بَعْدَ ذَلِكَ ظَهِيرٌ হতে তিনি তার ধর্মের নামকরণ করেন صَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ বা সালেহুল মুমিনীন।

মজার ব্যাপার হল, সালেহ ইবনে তারিফ একজন ইমাম মাহদী দাবীদারও ছিলেন। তিনি যেই বছর ইমাম মাহদী দাবী করেন তার পরের বছর অর্থাৎ ১২৬ হিজরীতেই একই রমাযানে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহনের ঘটনাও ঘটেছিল এবং তিনি রাজ্য শাসন করেছেন ১৭৪ হিজরী পর্যন্ত। এ সময়ে (অর্থাৎ ১২৫-১৭৪ হিজরী) একই রমাযান মাসে চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ সংঘটিত হয়েছে চার বার। যথাক্রমে ১২৬ হিজরীতে (৭৪৪ খ্রিস্টাব্দে), ১২৭ হিজরীতে (৭৪৫ খ্রিস্টাব্দে), ১৭০ হিজরীতে (৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে) এবং ১৭১ হিজরীতে (৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে)। এ সম্পর্কে দেখা যেতে পারে, কাদিয়ানীদের ‘পাক্ষিক আহমদী‘ পৃ-২৫, তাং ১৫ই এপ্রিল ২০১৫ইং।

প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে খালদুনের সূত্র অনুসারে, তিনি ৮০টি সূরা সহ আল্লাহর কাছ থেকে একটি নতুন কিতাব পেয়েছেন বলে দাবি করেন, যার মধ্যে কোনো কোনোটির নাম নবীগণের নামেও রয়েছে। যেমন, প্রথম সূরার নাম ছিল সূরা আইয়ুব আর শেষ সূরার নাম ছিল সূরা ইউনুস। এছাড়া সূরা নূহ, সূরা ইবলিশ নামেও ছিল। অন্যান্য বহু জিনিসের নামেও সূরার নামকরণ ছিল। যেমন হাঁস, উট, হাতি, হারুত, মারুত, কারূন, হামান, ইয়াজুজ, মাজুজ, দাজ্জাল, তালূত, নমরুদ ও গারায়িবুদ দুনিয়া ইত্যাদি। তার অনুসারীরা তাদের প্রার্থনায় এই সূরা (অধ্যায়) গুলো পড়তো। তিনি তার অনুসারীদের জন্য শরীয়ত (আইন)ও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাদেরকে “সালেহুল মুমিনীন” (অর্থাৎ বিশ্বাসীদের সংশোধনকারী) নামে ডাকা হত। তার দাবিকৃত তথাকথিত ওহীগুলো ‘বারবার’ নামীয় ভাষায় লিখিত ছিল আর সে এগুলোকে ৮০টি সূরা বিশিষ্ট নতুন একটি কোরআন নাম দিয়ে প্রচার করেছিল। (কিতাবুল ই’বর [العبر وديوان المبتدأ والخبر] লি ইবনি খালদূন দ্রষ্টব্য)। উল্লেখ্য, “বারবার (ইংরেজি : Berber)” একটি হাজার বছরের পুরনো ভাষা যেটি দক্ষিণ আফ্রিকা, মরক্কো, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, লিবিয়া এবং মালি রাষ্ট্রসমূহে এখনো প্রচলিত। সূত্র (Click)। সালেহ বিন তারিফের ঘোষণা মতে, তার পরে আর কাউকে নবী বানানো হবে না অর্থাৎ সে নিজেই একজন শেষনবী।

‘বার্ঘৌতা বারবার’ রাজ্যের দ্বিতীয় রাজা সালেহ ইবনে তারিফ নিজেকে ইমাম মাহদী বলেও দাবী করেন এবং প্রচার করতে থাকেন যে, হযরত ঈসা (আ.) তাঁর সঙ্গী হবেন এবং তাঁর পিছনে সালাত আদায় করবেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, আরবী ভাষায় তার নাম ‘সালেহ’, সিরিয়াক ভাষায় ‘মালিক’, পার্সিয়ান ভাষায় ‘আলিম’, হিব্রু ভাষায় ‘রুবিয়া’ এবং বারবার ভাষায় ‘ওয়ারবা’ তথা শেষনবী। সালেহ বিন তারিফ নবুওয়ত দাবীর ৪৭ বছরে পৌঁছার পর বার্ঘৌতা বারবার রাজ্য ছেড়ে পূর্ব আফ্রিকার দিকে কোথাও আত্মগোপনে চলে যান এবং তার উত্তরাধিকারীদের সপ্তম রাজার রাজত্বে পুনরায় ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি তার ছেলে ইলিয়াসকে আন্দালুসের উমাইয়া শাসকদের সমর্থন করতে এবং নিজেদেরকে প্রকাশ্যে ইসলামের পক্ষের শক্তি বলে দাবী করতে বলে যান। তিনি আরো বলে যান যে, যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠলে তখনি যেন তার ‘সালেহুল মুমিনীন’ ধর্ম প্রকাশ্যে প্রচার করেন। ইতিহাস সাক্ষী যে, তার পৌত্র ইউনুস ইবনে ইলিয়াস পিতামহের ওসীয়তটি আমলে নেন। অর্থাৎ শক্তিশালী হওয়ার পরই তিনি উক্ত ধর্ম প্রচারের কাজ প্রকাশ্যে আঞ্জাম দিতে থাকেন।

কিছু সূত্র অনুসারে, সালিহ ইবনে তারিফ নিজেকে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উত্তরসূরী বলে মনে করতেন। সালেহ ইবনে তারিফের ১০ জন শিষ্য এবং অনেক স্ত্রী ছিল। ঐতিহাসিক ইবনে খালদূন লিখেছেন, সালেহ ইবনে তারিফ একজন আন্দুলুসীয় ইহুদীবংশীয় ছিলেন। তিনি উবায়দুল্লাহ মু’তাজিলির কাছ থেকে জ্যোতিষশাস্ত্রের উপর দক্ষতা অর্জন করেন এবং যাদু বিদ্যায় পারদর্শীও ছিলেন। তিনি সাধারণ মানুষদের এগুলোর মাধ্যমে সহজেই নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে পারতেন। তিনি মৃতদের সাথে কথা বলতে এবং অসুস্থদের সুস্থ করতে সক্ষম বলেও দাবি করতেন।

  • ইসলামের সাথে বৈপরীত্যের অন্যান্য নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে চুরির জন্য মৃত্যুদণ্ড, একজন পুরুষের সীমাহীন সংখ্যক স্ত্রী রাখার অনুমতি, রমাযানের পরিবর্তে রজব মাসে রোজার প্রচলন করা, ১০ই জিলহজ্জ মাসের পরিবর্তে ২১শে মহররমে কুরবানির প্রচলন করা। পাঁচ ওয়াক্তের পরিবর্তে দৈনিক দশ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের প্রচলন করা, সম্পূর্ণ নামায ইশারায় পড়া তবে শেষ রাকাতে একত্রে শুধু ৫টি সেজদা দেয়া। অজু, নামাজের নিয়মে পরিবর্তন এবং চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ করা এবং জানাবতের গোসল মওকুফ ইত্যাদি। সালেহ বিন তারিফের উক্ত ধর্মের বিশদ বিবরণ অনেক আরবীয় সূত্রেও উল্লেখ রয়েছে। তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক ইবনে হাজম, ইবনে খালদুন, ইবনে আছীর প্রমুখ অন্যতম।

ইসলামী সাহিত্যে সালেহ ইবনে তারিফের মতবাদ ও বিশ্বাসকে কুফুরী বলে মনে করা হয়। তবে আধুনিক কিছু ‘বারবার’ কর্মী সালেহ বিন তারিফকে উমাইয়াদের বিজয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং বারঘৌতা রাজ্যের ভিত্তি স্থাপনের জন্য একজন নায়ক হিসাবে বিবেচনা করে থাকে। বলাবাহুল্য, সালেহ ইবনে তারিফ কর্তৃক প্রবর্তিত ও প্রচারিত ধর্মটি প্রায় সাড়ে তিন’শ (৩৫০) বছর পর্যন্ত আফ্রিকায় খুব দাপটের সাথে প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং বহু মানুষকে আকৃষ্ট করেছিল। কিন্তু ১০ম শতকের শেষের দিকে আলমুরাবিত রাজ-বংশের মুসলিম বীর সিপাহসালার মুসলিম সেনাপতি ইউসুফ বিন তাসফিন এর নেতৃত্বে একটি যুদ্ধের মাধ্যমে সালেহ বিন তারিফের উক্ত রাজত্বসহ তার মিথ্যা ধর্ম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং অল্প বছর কতেকের মধ্যেই মিথ্যাধর্মটির বিলুপ্তি ঘটতে শুরু করে।

আলমুরাবিত ছিল মরক্কো কেন্দ্রিক একটি ‘বারবার’ ভাষীয় সুন্নী মুসলিম রাজবংশ। মুসলিম সেনাপতি ইউসুফ বিন তাসফিন (মৃত. ১১০৬) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আলমুরাবিতের রাজধানী ছিল (মরক্কোর একটি বিখ্যাত শহর) মারাকেশ। তিনি ছিলেন আমীর আবুবকর ইবনে উমরের অধীনস্থ একজন মুসলিম সেনাপতি। ‘মারাকেশ’ এমন একটি শহর যেটি আমীর আবু বকরের হাত ধরে প্রায় ১০৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই রাজবংশটি উদ্ভব হয়েছিল লামতুনা, গুদালা, পশ্চিম সাহারার যাযাবর বারবার উপজাতি, ড্রা এবং নাইজারের মধ্যবর্তী অঞ্চল জুড়ে ও সেনেগাল নদীর পাশে। উল্লেখ্য, আমীর আবু বকর ইবনে উমর (মৃত. ১০৮৭ইং) ছিলেন সেনাপতি ইউসুফ ইবনে তাসফিন এর চাচাত ভাই। তিনি ‘লামতুনা’ গোত্রের একজন স্বাভাবিক নেতা ও ইবনে ইয়াসিনের অন্যতম শিষ্য, যিনি ইসলামী বিচার বিভাগের মালেকি ফিকহের অনুসারী হিসেবে বিচারালয়ের কাজ করতেন। তিনি তার ভাই ইয়াহিয়া ইবনে উমর আল-লামতুনির মৃত্যুর পর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। তার ভাই ছিলেন ইবনে ইয়াসিনের সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক। কিন্তু তিনি ১০৫৬ সালে গোদালা উপজাতিদের বিরুদ্ধে তাবফারিলার যুদ্ধে নিহত হওয়ার তিন বছর পর ইবনে ইয়াসিনও বারঘাওয়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত হন।

সূত্র : অনলাইন (উইকিপিডিয়া, আরবী ও ইংরেজি সহ বিভিন্ন এ্যারাবিক ব্লগ এবং বেশ কিছু আরবী ইউটিউব চ্যানেল)।
ভাষান্তর – লিখক ও শিক্ষাবিদ
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ
এডমিন www.markajomar.org

কুইজের ৪০টি প্রশ্নের উত্তরমালা সহ

0

৪০টি প্রশ্নের উত্তরমালা সহ খতমে নবুওয়ত ইসলামিক কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২১ইং

সম্পূর্ণ ফরম্যাটটির পিডিএফ এর জন্য এখানে নক করুন Cilck আর কপি করতে ক্লিক করুন এখানে।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ইসলাম এবং কাদিয়ানীধর্মমত এই দুইয়ের মাঝে মৌলিক কিছু পার্থক্য জেনে রাখা দরকার

কাদিয়ানীদের এক ডজনেরও বেশি বই থেকে মির্যা কাদিয়ানীর নবী রাসূল দাবীর প্রমাণ দেখুন

প্রশ্নকর্তা : কাদিয়ানীরা কাফের কেন? এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ জানাবেন!

উত্তরদাতা : প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি শুনুন! তাদের কাফের হওয়ার অন্যতম ও উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ হল,

(এক) কাদিয়ানীরা এমন একব্যক্তির অনুসারী যে নবুওয়তের দাবীদারও (এক গলতি কা ইযালা [বাংলা অনূদিত] পৃষ্ঠা নং ৩,৫,৮,১০ দ্রষ্টব্য) । ফলে তারা পবিত্র কুরআনের সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতসহ বহু আয়াত এবং অসংখ্য তাওয়াতূর পর্যায়ের হাদীসেরই অস্বীকারকারী। বিস্তারিত ডকুমেন্টস সহ জানতে ভিজিট করুন- Click

(দুই) পবিত্র কুরআনের যে আয়াতটির অপব্যাখ্যা করে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকে দ্বিতীয় মুহাম্মদ বলে দাবী করেছিল এবং পৃথিবীতে মুহাম্মদ (সা.) কেয়ামতের আগে শেষ যুগে দ্বিতীয়বার আগমন করবেন বলে নতুন যে কনসেপ্ট দিয়েছিল তার কারণেও এ মানুষটি কাফের এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে খারিজ হয়ে যায়।

মির্যা কাদিয়ানীর অপব্যাখ্যামূলক সম্পূর্ণ বিশ্লেষণটির খন্ডনমূলক উত্তর বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) এর রচিত “ফাতহুল বারী” (فتح الباري فى شرح الصحيح البخارى) থেকে আমি অপর একটি লিখাতে তুলে ধরেছি। পড়তে ক্লিক (ওয়েবসাইট) করুন।

(তিন) কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই জানে না যে, তাদের মির্যা কাদিয়ানীর বইতে কী ধরণের ধর্মবিশ্বাস লিপিবদ্ধ আছে! মির্যা কাদিয়ানীর রচনার একস্থানে ঈসা (আ:)-এর দাদী ছিল বলে লিখা আছে। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ১১/২৯১)। অথচ তার এই কনসেপ্ট পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরান এর ৪৭ নং আয়াতের সুস্পষ্ট বিরোধী। কারণ যার দাদী থাকবে তার পিতা থাকাও সাব্যস্ত হবে। অথচ ঈসা (আ.) পিতা ছাড়াই আল্লাহর নিদর্শন স্বরূপ কুমারী মাতা বিবি মরিয়মের উদরে জন্মলাভ করেছিলেন। স্ক্রিনশট এই যে,

(চার) কাদিয়ানীরা হযরত ঈসা (আ:) সম্পর্কে তাঁর স্বশরীরে জীবিত আকাশে উত্থিত হওয়া এবং কেয়ামতের পূর্বে তাঁর পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসা মর্মে বিশ্বাস করেনা। ফলে তারা পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ১৫৮-৫৯, সূরা আলে ইমরানের ৪৬ নং আয়াতের সুস্পষ্ট ইংগিতসহ অসংখ্য তাওয়াতূর পর্যায়ের হাদীস অস্বীকারকারী। একাধিক সহীহ হাদীসের মধ্য হতে এখানে শুধুমাত্র একটি সহীহ হাদীস উল্লেখ করছি যেখানে পরিষ্কার করে ঈসা (আ.) আকাশ থেকে নাযিল হবেন বলেই উল্লেখ আছে। স্ক্রিনশট এই যে,

মুসনাদে বাজ্জার হাদীস নং ৯৬৪২, (ঈসা ইবনে মরিয়ম আ. আকাশ থেকে নাযিল হবেন)।

(পাঁচ) মির্যা কাদিয়ানী তার রচনাবলীর জায়গায় জায়গায় হযরত ঈসা (আ:) সম্পর্কে অকথ্য ও অবমাননাকর মন্তব্য করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে তার কাফের হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। কাদিয়ানী সম্প্রদায় এমন ব্যক্তির অনুসারী হওয়ায় তারাও একই ঝাঁকের কৈ হিসেবে পরিগণিত। যেমন তার বইতে লিখা আছে,

“সীমাহীন লজ্জার কথা হল এই যে, তিনি (ঈসা) পাহাড়ি শিক্ষাকে যাকে ইঞ্জিলের নির্যাস বলে (তিনি) ইহুদীদের ‘তালমূদ’ গ্রন্থ থেকে চুরি করে লিখেছেন এবং তিনি (তা) এমনভাবে প্রকাশ করলেন যেন এটি তাঁর নিজেরই শিক্ষা! কিন্তু যখন এই চুরি ধরা পড়ল তখন ঈসায়ীরা খুবই লজ্জিত হল। তিনি (ঈসা) এই কাজ হয়ত এইজন্যই করলেন যে, যাতে তিনি উত্তম কোনো শিক্ষা-দীক্ষার নমুনা প্রদর্শন করে কৃতিত্ব হাসিল করতে পারেন! কিন্তু উনার এই অনর্থক কার্যকলাপের দরুন ঈসায়ীদের চরম অসম্মানী হয়।” (রূহানী খাযায়েন ১১/২৯০)। স্ক্রিনশট এই,

(ছয়) হযরত ঈসা (আ.)-এর অসংখ্য মুজিজা অস্বীকার করাও তাদের কাফের হওয়ার কারণ। কেননা এটি বিশেষত সূরা মায়েদার ১১০ নং আয়াতের সুস্পষ্ট বিরোধিতার শামিল। তাদের মিশনারীদের সাথে যারা উন্মুক্ত আলোচনা করেছেন তারা অবশ্যই এর প্রমাণ পেয়ে থাকবেন। এইজন্য কাদিয়ানীদের প্রকাশনা হতে তাদের অনূদিত কুরআনের কপি হতে (সূরা মায়েদা ১১০ [তাদের হিসেবে ১১১] নং আয়াতের বিশ্লেষণ) দেখুন। মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে প্রমাণ এই যে,

(সাত) মির্যা কাদিয়ানীর বইয়ের অন্য আরেক জায়গায় ঈসা (আ.) সম্পর্কে লিখা আছে, ‘তাঁর এইরকম আচার-আচরণ দ্বারা নিজ সহোদর ভাইও তাঁঁর (ঈসা) প্রতি ভীষণ অসন্তুষ্ট ছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল যে, তাঁর (ঈসা) মস্তিষ্কে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা রয়েছে। আর তিনি চাইতেন যেন কোনো দাওয়াখানায় (হাসপাতালে) তাঁঁর নিয়মিত চিকিৎসা চলে যাতে খোদাতালা তাঁকে আরোগ্য দান করেন।” (রূহানী খাযায়েন ১১/২৯০)। স্ক্রিনশট এই যে,

(আট) মির্যা কাদিয়ানী সাহেব হযরত ঈসা (আ.) ছাড়াও অন্যান্য নবীগণের শানে এমনকি মুহাম্মদে আরাবি (সা.)-এর শানেও সীমাহীন অমর্যাদাকর মন্তব্য করেছেন। যেমন সে লিখেছে, “রাসূল (সা:)-এর দ্বারা দ্বীন প্রচারের কাজ পরিপূর্ণভাবে হয়নি। তিনি পূর্ণ প্রচার করেননি। আমি পূর্ণ করেছি।” (রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ১৭। পৃষ্ঠা নং ২৬৩; সারমর্ম)।

কাদিয়ানীরা এমন ব্যক্তিকে ইমাম মাহদী বলে বিশ্বাস করায় প্রকারান্তরে তারাও কাফের জাতির অন্তর্ভুক্ত।

(নয়) ইসলামের স্বতসিদ্ধ এমন বহু শিক্ষাকে বিকৃত করার কারণেও তারা ইসলাম থেকে খারিজ যেগুলোর স্বরূপ ইসলামের সোনালী যুগ থেকে অদ্যাবধি সুরক্ষিত; বরেণ্য যুগ-ইমামদের কেউই কোনো দিন ভিন্ন ব্যাখ্যায় যাননি। যেমন, দাজ্জাল, ইয়াজুজ-মাজুজ, দাব্বাতুল আরদ, মেরাজ, কবরে সুওয়াল-জবাব, খাতামুন নাবিয়্যীন, ইমাম মাহদীর পরিচয় এবং প্রতিশ্রুত ঈসা (সা.) ইত্যাদী।

কিন্তু কাদিয়ানীরা এর প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে মূলধারার মুসলিম উম্মাহার শিক্ষার বিপরীতে মস্তিষ্কপ্রসূত ব্যাখ্যার পেছনে দৌড়ায়। তাদের ধর্মমতে, খ্রিস্টান মিশনারীই দাজ্জাল, চীন-রাশিয়াই ইয়াজুজ-মাজুজ, প্লেগের কীটপতঙ্গই দাব্বাতুল আরদ, মেরাজ নিছক একটি স্বপ্ন, কবরে সুওয়াল-জবাব হবেনা, খাতামান নাবিয়্যীন-এর অর্থ সীল মেরে নবীদের নবুওয়তের সত্যায়নকারী, আগমনকারী ইমাম মাহদী এবং ঈসা দু’জন একই ব্যক্তি (নাউযুবিল্লাহ)। মজার ব্যাপার হল, মির্যা কাদিয়ানীর বইতে পরিষ্কার করে একথাও লিখা আছে যে, ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর কোনোটিকেই সহীহ বলা যায় না। (হাকীকাতুল ওহী ১৭৩ বাংলা অনূদিত)।

(দশ) ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান ‘জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ’-এর অস্বীকার করাও তাদের কাফের হওয়ার অন্যতম কারণ। যেমন, মির্যা কাদিয়ানী লিখেছে, “আমি বিশ্বাস রাখি যে, আমার মুরিদ (অনুসারী) যেই হারে বাড়ছে সেই হারে জিহাদের উপর বিশ্বাসীর সংখ্যাও কমছে। কেননা, আমাকে মসীহ মওউদ এবং ইমাম মাহদী মেনে নেয়াই ‘জিহাদ’ অস্বীকার করা।” (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/১৯; নতুন এডিশন)।

এই গোষ্ঠীটির স্ববিরোধী কথার অন্ত নেই। এরা একদিকে বলে কুরআনের কোনো একটি আয়াতও মানসূখ হয়নি। অন্যদিকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঠেকাতে কুরআনের সাড়ে ১১শ জিহাদ আর ক্বিতালের আয়াত মানসূখ মেনে বিরোধিতা করে যায়।

(এগার) মির্যা কাদিয়ানীকে অস্বীকারকারী সমস্ত মুসলমানকে কাফের, জাহান্নামী আখ্যা দেয়াও তাদের কাফের হওয়ার অন্যতম কারণ। যেমন তাদের বইগুলোতে লিখা আছে, মির্যা কাদিয়ানী লিখেন, “খোদাতায়ালা আমার উপর প্রকাশ করে দিয়েছেন যে, যাদের নিকট আমার দাওয়াত পৌঁছেছে আর তারা তা কবুল করেনি এমন ব্যক্তি মুসলমান নয় এবং এরা (পরকালে) পাকড়াও হবে।” (তাযকিরাহ পৃষ্ঠা নং ৫১৯; ইলহাম, মার্চ ১৯০৬ ইং, চতুর্থ এডিশন)।

  • মির্যার পুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ লিখেন, “প্রত্যেক মুসলমান যিনি হযরত মসীহে মওঊদ (মির্যা কাদিয়ানী)’র বাইয়েতে শামিল হয়নি, সে যদিও হযরত মসীহ মওঊদের নামও শুনেনি, এমন ব্যক্তিও কাফের এবং ইসলাম থেকে বাহিরে।” (আয়নায়ে সাদাক্বাত, আনওয়ারুল উলূম ৬/১১০; মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দীন মাহমুদ; অনলাইন এডিশন)।

(বারো) ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্যকে ইসলামেরই অংশ বলে আখ্যা দেয়া-ও প্রমাণ করে যে, এই কাদিয়ানী সম্প্রদায় ইসলামের গন্ডিভুক্ত নয় বরং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদেরই সৃষ্টি ছিল। যেমন সে লিখেছে, “আমি বরাবরই আমার মত প্রকাশ করেছি যে, ইসলামের দুইটি অংশ। প্রথমত, আল্লাহর আনুগত্য করা। দ্বিতীয়ত, এই (ব্রিটিশ) সরকারের আনুগত্য করা যে নিরাপত্তা দিয়েছে। (রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮০)।

এভাবে আরো বহু কারণ বিদ্যমান। সংক্ষেপে এটুকু জানানো হল। তাহলে একবার ভেবে দেখুন, এদেরকে জেনে-বুঝে মুসলমান মনে করার অর্থ নিজেদের জীবনে ঈমান বিধ্বংসী পরিণতি ডেকে আনা নয় কি?

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মির্যা কাদিয়ানীর ‘দ্বিতীয় মুহাম্মদ’ হবার আজগবি দাবীর দলিল খন্ডন

ইন্নাল হামদা লিল্লাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা-বা’দু;

পবিত্র কুরআনের যে আয়াতটির অপব্যাখ্যা করে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (لعنة الله عليه) নিজেকে ‘দ্বিতীয় মুহাম্মদ‘ বলে দাবী করে গেছেন এবং শেষ যামানায় পৃথিবীতে মুহাম্মদ (সা.) দ্বিতীয়বার আগমন করবেন বলে নতুন যে কনসেপ্ট দিয়ে গেছেন সেটি সম্পর্কে আজকে আরেকটু বিশ্লেষণ মূলক আলোকপাত করছি। অনুগ্রহপূর্বক সবাই এই বিশ্লেষণটি বুঝার চেষ্টা করবেন এবং কমেন্ট বক্সে মতামত দেবেন! আর হ্যাঁ, সম্পূর্ণ বিশ্লেষণটি বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) এর লেখিত “ফাতহুল বারী” (فتح الباري فى شرح الصحيح البخارى) এর আলোকে করা হবে।

নিচে ফাতহুল বারী কিতাবের সংশ্লিষ্ট অংশের স্ক্রিনশট তুলে ধরা হল। পুরো লিখাটি লিখকের পেইজ থেকেও পড়তে পারেন। ক্লিক করুন।

সম্পূর্ণ বিশ্লেষণটি বুঝার সুবিধার্থে সূরা জুমার আয়াত নং ২-৩ এর অনুবাদ “ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে অনুবাদকৃত কপি থেকে” ভালো করে কয়েকবার পড়ে নিন। নিচে দেয়া হল।

বিশ্লেষণ শুরু-

সম্পূর্ণ বিশ্লেষণের সার কথা হল, কাদিয়ানীরা ঐ আয়াতের “আখারীনা” (آخرين) শব্দ হতে যেই কন্সেপ্ট নিয়ে থাকে সেটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন, অপ্রমাণিত ও কুরআনের উক্ত আয়াতের সুস্পষ্ট বিকৃতির শামিল।

  • সূরা জুমা’র ৩ নং আয়াতে কি মুহাম্মদ (সা.)-এর দ্বিতীয়বার আগমন করার ইংগিত আছে কি? কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যে পালটা কিছু প্রশ্ন দেখুন! ক্লিক করুন।

প্রথমতঃ (সূরা জুমা ২-৩) আয়াতের “আখারীনা” (آخرين) শব্দ এবং সহীহ বুখারী সহ অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত একখানা হাদীসের رجال বা رجل (অর্থাৎ এক বা একাধিক ব্যক্তি) সম্পর্কে আলোকপাত করব, ইনশাআল্লাহ….।

  • لو كان الايمان عند الثريا لناله رجال او رجل من هؤلاء
  • হাদীসের অর্থ, ঈমান যদি ছুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জের নিকটও থাকত এদের মধ্য থেকে এক বা একাধিক ব্যক্তি তা (ঈমান/দ্বীন/ইলম) নিশ্চয়ই অর্জন করত। (সহীহ বুখারী)।
  • কুরআন এবং হাদীসের সমষ্টিগত বুঝ ও শিক্ষা-

(১) এর দ্বারা একথা বুঝায়নি যে, ভবিষ্যতে মুহাম্মদ (সা.) আরেকবার আসবেন। বরং হযরত সালমান ফারসী (রা.)-এর বংশধর থেকে এক বা একাধিক ব্যক্তি (অন্য বর্ণনা মতে, তার গোত্রের লোকেরা) ছুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ হতে (হলেও) ঈমান বা দ্বীন বা ইলম অর্জন করে ফেলত, বলেই বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ছুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ হতে অর্জিত জিনিসটা হাদীসের মধ্যে বিভিন্ন সূত্রে বিভিন্ন নামে এসেছে। ঈমান, দ্বীন এবং ইলম। শায়খ আলবানী (রহ.) সবগুলো বর্ণনার সূত্রকে সহীহ বলেছেন। দেখুন,

لو كانَ العلمُ بالثّريّا وفي لفظٍ آخرَ لو كانَ الإيمانُ عندَ الثريّا ، وفي لفظٍ ثالثٍ لو كانَ الدّينُ بالثّريّا لنالهُ رجالٌ مِن أبناءِ فارس

(২) আর তারা এক বা একাধিক ব্যক্তি কিংবা একটি গোত্রও হতে পারে। হাদীসের শব্দটি হচ্ছে,

رجال او رجل او قوم هذا

যার অর্থ হচ্ছে, সালমান ফারসীর পুরো গোত্রটি অথবা ঐ গোত্রের এক বা একাধিক ব্যক্তি তা (ঈমান, দ্বীন, ইলম) অর্জন করতো। আগেই এ সম্পর্কে বলেছি।

(৩) মুসলিম শরীফের হাদীসে ابناء فارس অর্থ পারস্যের সন্তানেরা (বহুবচন) উল্লেখ আছে।

(৪) তারা সবাই সালমান ফারসীর বংশধর হবেন এবং পারস্য বংশীয় হবেন।

  • উল্লেখ্য, মির্যা কাদিয়ানীর বংশ সম্পর্কে স্ববিরোধ অনেক তথ্য রয়েছে। এক জায়গায় লিখা আছে, তার বংশ ছিল মোগল অর্থাৎ তুর্কী তাতারি জাতি। আর তার পূর্বপুরুষ ছিল, মোগল সেনাপতি তৈমুর লং। একথা লিখা আছে, কাদিয়ানীদের “আহমদ চরিত” বইয়ের ১ নং পৃষ্ঠাতেও। আরো দেখুন, রূহানী খাযায়েন ১৩/১৬২। আরেক জায়গায় লিখা আছে, চায়নিজ বংশীয় (রূহানী খাযায়েন ১৭/১২৭)। আরেক জায়গায় লিখা আছে, ফাতেমি এবং ইসরাইলী বংশীয় (রূহানী খাযায়েন ১৮/২১৬)। তবে আরেকটি জায়গায় অবশ্যই পারস্য বংশীয় বলেও লিখা আছে (রূহানী খাযায়েন ১৩/১৬৩)। উফ! এ কেমন পাঁচমিশালি বংশীয় কথিত মসীহ মওউদ সাহেব! যাইহোক, এতেই সাব্যস্ত হচ্ছে যে, মির্যা কাদিয়ানীর সুনির্দিষ্ট কোনো বংশ-পরিচয় ছিলনা, বরং তার বংশ ছিল (বেশুমার) অগণিত।

(৫) আর এটি (ابناء فارس / একাধিক ব্যক্তির কনসেপশন) কুরআনের সূরা জুমার ৩ নং আয়াত و آخرين এরই মর্মার্থের অন্যতম প্রকাশ। ফলে ‘আখারীনা’ বা آخرين (অন্যান্যরা) শব্দটি বহুবচনাত্মক হওয়ায় তারই ইংগিতস্বরূপ বুখারী-মুসলিমে উল্লিখিত অপরাপর শব্দগুলোর অন্যতম رجال আর ابناء فارس (একাধিক ব্যক্তি, পারস্যের সন্তানেরা) উদ্দেশ্য হওয়াই বেশি জোরালো ও সঙ্গতিপূর্ণ।

(৬) আয়াতে উল্লিখিত ‘আখারীনা’ বা آخرين (অর্থাৎ অন্যান্যরা) শব্দটি বাক্যে مجرورا عطفا على الاميين হয়ে بعث (অতিতকাল বাচক) ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্কযুক্ত বটে, কিন্তু কর্ম বা মাফউল নহে। যদি মাফউল হত তাহলে এটি কখনোই جار তথা যের-এর অবস্থায় পতিত হত না। যার ফলে নতুন কেউ আসবে বুঝায়নি, বরং একজন রাসূল হিসেবে আগমনকারী (بعث فى الاميين) হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অনারবী উম্মতের একটি বিশেষ শ্রেণীর কথা বুঝানো হয়েছে যারা অচিরেই আরবের উম্মী(নিরক্ষর)দের সাথে (اميين শব্দটি جار তথা যের-এর অবস্থায় রয়েছে, এর দ্বারা সাহাবীদের বুঝানো হয়েছে) মিলিত হবেন। এখানে ‘আখারীনা (آخرين) শব্দটি পূর্ব বাক্যের اميين এর উপর عطف বা সম্পর্কযুক্ত হওয়ায় বিষয়টি পুরোই পরিষ্কার যে, ভবিষ্যতে কারো আসার কথা এখানে বুঝায়নি, বরং মুহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহ উম্মিয়্যীন (আরবী) আর আখারীন (অনারবী)দের মাঝে প্রেরণ করিয়াছেন, একথাই বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরগ্রন্থ সমূহ দ্রষ্টব্য)।

(৭) এই ‘আখারীনা’ (آخرين বা অন্যান্যরা) বলতে কুরআন কী বুঝাল? এমন প্রশ্নের উত্তর কুরআন (সূরা জুমা) নিজেই উপরিউক্ত ২ নং আয়াতে দিচ্ছে। অর্থাৎ ঐ অন্যান্যরা হচ্ছেন সেসব অনারবী জাতি (আরবের বাহিরের জাতি, বিশেষভাবে পারস্যের সন্তানেরা) যাদের মধ্য হতেও নবী মুহাম্মদ (সা:)-কে একজন রাসূল হিসেবে পাঠানো হয়েছে (بعث /অতিতকাল বাচক-প্রেরণ করা হইয়াছে)।

এবার তাহলে এই ‘আখারীনা’ (آخرين) শব্দ যের-এর অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও এবং بعث ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়েও কিভাবে এমন কোনো অর্থের নির্দেশ করতে পারে যার ফলে بعث অতিতকালবাচক ক্রিয়াপদের অর্থ ‘ভবিষ্যতবাচক ক্রিয়াপদের অর্থে‘ বদলে ফেলা লাগে এবং آخرين শব্দকে اميين এর উপর আতফ (عطف) হওয়াও অমান্য করে সেটিকে বরং بعث ফে’ল এর “দ্বিতীয় মাফউল” (مفعول ثانى) মানা লাগে! কেউ আছেন আমার এই লিখাটিকে সঠিক পন্থায় ভুল প্রমাণ করতে পারবেন? অপেক্ষায় থাকলাম।

পরিশেষে, এখন কাদিয়ানীদের ভন্ডামি, অজ্ঞতা আর বিকৃতি সম্পর্কে যদি বলি তাহলে রাত দিন শেষ হবেনা। শুধু এখানে নয়, পুরো কুরআনের ভেতর তারা ভয়ংকর আকারে বিকৃতির আশ্রয় নিয়ে থাকে। এখন যাদের আরবী শব্দভাণ্ডার আর ব্যাকরণ বিষয়ে জ্ঞান নেই তাদের কী সাধ্য ওদের প্রতারণা আর বিকৃতি ধরতে পারার? আমি কি এমনিতেই এদেরকে মিথ্যুক, প্রতারক আর কুরআনের মর্মার্থ বিকৃতকারী বলি!?

আল্লাহ তাদেরকে কুরআনের অপব্যাখ্যা আর বিকৃতি থেকে ফিরে আসার তাওফিক দিন।

(লিখাটি কপি করে প্রচার করুন)

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ

শিক্ষাবিদ ও গবেষক

তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের জন্য মেহনত করতে আল্লামা কাশ্মীরী’র অসীয়ত

0

ইন্নান হামদা লিল্লাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মাবা’দু!

কাদিয়ানী ফেতনা মুকাবিলায় জগৎ বিখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী [জন্ম-মৃত্যু ১৮৭৫-১৯৩৩ইং] (রহ:) এর ঐতিহাসিক অসীয়ত। তিনি বলেন, “আমার শিক্ষকতার যামানায় আমার কাছ থেকে কমপক্ষে দু’হাজার ছাত্র হাদীসের পাঠ গ্রহণ করেছে। আমার হাদীসের সে সমস্ত ছাত্রের নিকট এতটুকুই আবদার করবাে, তারা যেন আল্লাহর ওয়াস্তে নিজেদের ইলমি-আমলি শক্তি তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের জন্যে ব্যয় করে। তারা যদি এ ব্যাপারে কুতাহি (অলসতা) করে তাহলে আমি হাশরের ময়দানে তাদের আঁচল টেনে ধরবাে।” (সূত্র, আখেরী পায়গাম, পৃষ্ঠা নং ২৬)।

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন –

আল্লামা শাহ আনোয়ার কাশ্মীরী

সম্পর্কিত তথ্যের স্ক্রিনশট :-

কিতাব : আখেরি পায়গাম, লিখক আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী

মির্যা কাদিয়ানী কি সিজোফ্রেনিয়া রোগীও ছিল?

মির্যা কাদিয়ানী কি সিজোফ্রেনিয়া রোগীও ছিল?

ইন্নাল হামদা লিল্লাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ। আম্মাবা’দু!

কথিত ‘আহমদীয়া মুসলিম জামাত’ অর্থাৎ কাদিয়ানী জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। তার বেশিরভাগ অনুসারী জানেই না যে, মির্যা কাদিয়ানী শুধু হিস্টিরিয়া বা মৃগী রোগেই আক্রান্ত ছিল না, বরং সিজোফ্রেনিয়া রোগ-ও ছিল তার। আর এগুলো তার নিজের স্বীকারোক্তি দ্বারা-ও প্রমাণিত। অথচ তার অনুসারীরা তাকে আল্লাহর পক্ষ হতে হযরত মূসা (আ.) এর ন্যায় একজন ছাহিবুশ শরিয়ত বা শরীয়তবাহক নবী বলেও বিশ্বাস করে থাকে। মির্যা কাদিয়ানীর উর্দূ রচনা পাঁচ খন্ডে প্রকাশিত ‘মালফুযাত‘ এর ৫ম খন্ডের ৪৪৭ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য। তারই অপরাপর আরেকটি রচনা ‘আরবা’ঈন‘ থেকে প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

আর তার এই দাবীটি তারই মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগের অর্থাৎ ১৯০৭ সালের দিককার। যদিও তিনি ইতিপূর্বে নিজেকে ইমাম মাহদী, আগত ঈসা (আ:)-এর অবতার তথা রূপক ঈসা (মসীহ); একজন বুরুজি বা জিল্লি নবী ইত্যাদি দাবী করেছিলেন। কিন্তু চিন্তার বিষয় হল, আল্লাহ যাকে তার বান্দাদের জন্য নবী করে পাঠাবেন তার কি কখনো সিজোফ্রেনিয়া আর হিস্টিরিয়া কিংবা মৃগী ইত্যাদি রোগ-ও থাকতে পারে? তারই রচনা ‘হাকীকাতুল ওহী’ গ্রন্থ থেকে নিচে দেখুন,

বলে রাখতে চাই যে, মির্যা কাদিয়ানীর মিরাক্ব বা مراق রোগকে ইদানীংকাল তার অনুসারীরাও “মালিখোঁলিয়া” বলে স্বীকার করে নিয়েছে। তাহলে এই মালিখোঁলিয়াটা কী? অভিধান কী বলে? উর্দূ টু উর্দূ অভিধান ‘ফিরোজুল লুগাত‘ থেকে নিম্নরূপ,

মির্যা কাদিয়ানীর নবী রাসূল দাবীর প্রমাণ তার বই “মালফুযাত” থেকে নিম্নরূপ :-

  • অনলাইনে জনৈক কাদিয়ানী মতাবলম্বী বিষয়টি অস্বীকার করলে আমি তার জবাব দিই এভাবে, পড়তে ক্লিক করুন।

প্রশ্ন হল, মির্যা কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮) কোথায় নিজের “মিরাক্ব” অর্থাৎ সিজোফ্রেনিয়া রোগ ছিল বলেছেন?

উত্তরে বলব, তিনি তার বহু রচনায় এর স্বীকারোক্তি করে লিখে গেছেন। এই নিন সামান্য কিছু প্রমাণ ডকুমেন্ট সহ।

মির্যা কাদিয়ানীর উল্লিখিত “মালফুযাত (ملفوظات)” বইয়ের অত্র পাতাটির সংশ্লিষ্ট অংশের পুরো অনুবাদ নিচে উল্লেখ করা হল। ফলে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, মির্যা কাদিয়ানী নিজেই স্বীকার করে লিখে গেছেন, তার “মিরাক্ব” (مراق) বা সিজোফ্রেনিয়া (মস্তিষ্ক বিকৃতি) রোগ ছিল। আরও পরিষ্কার হয়ে গেল যে, এটি মির্যার প্রতি অন্য কারো পক্ষ থেকে উদ্ধৃত কোনো কথা নয়।

  • এখানে বিশেষত, সিজোফ্রেনিয়া (অর্থাৎ মানসিক ব্যাধি) রোগ এবং রোগীর আচরণ সম্পর্কে জানতে আন্তর্জাতিক বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া সাইটের লিংক দেয়া হল। ক্লিক করুন।
  • মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বই থেকে অনুবাদ এই যে, তিনি লিখেছেন:-

“দুটি হলুদ চাদর হতে উদ্দেশ্য : (মির্যা সাহেব) বলেন, লক্ষ্য কর! হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার রোগ সম্পর্কে যে ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন সেটি পূর্ণতায় রূপ নিয়েছে। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছিলেন, মসীহ (আ:) যখন আকাশ থেকে নাযিল হবেন তখন তিনি দু’টি হলুদ বর্ণের চাদর পরিহিত হবেন। তদ্রূপ আমার-ও দুটি রোগ রয়েছে। একটি উপরাংশে আর অপরটি নিম্নাংশে অর্থাৎ মিরাক্ব (মস্তিষ্ক বিকৃতি) এবং প্রস্রাবের আধিক্য (ডায়াবেটিস)। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধবাদীরা এর অর্থ করে থাকে যে, তিনি (মসীহ) প্রকৃতপক্ষে সন্যাসীদের ন্যায় দুটি হলুদ বর্ণের চাদর পরিহিত অবস্থায় আকাশ থেকে নিচে নেমে আসবেন। কিন্তু এটা ভুল কথা। কেননা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরা ‘হলুদ বর্ণের চাদর’-এর তাৎপর্য হিসেবে সর্বদা রোগের কথাই লিখে গেছেন। যে কেউই হলুদ চাদর বা হলুদ বর্ণের কোনো বস্তু দেখবে তা হতে ‘রোগের’ তাৎপর্যই (উদ্দেশ্য) হবে এবং যে কেউই এভাবে দেখে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে যে, এর তাৎপর্য এটাই।” (অনুবাদ শেষ হল)।

  • যারা উর্দু বুঝেন না তাদের জন্য কাদিয়ানীদের প্রকাশিত বাংলা বই থেকে “মিরাক্ব” এর অর্থ নিচে দেখানো হল :-

কেউ হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন, মিরাক্ব অর্থ ‘মস্তিষ্ক বিকৃতি’ এর আভিধানিক অর্থ তো পেলাম, কিন্তু এর আরেকটা অর্থ “পাগল” বা ‘এক প্রকারের মালিখোলিয়া রোগ’ এর প্রমাণ কোথায়? উত্তরে বলব, এর প্রমাণ হিসেবে উর্দু টু উর্দূ ফিরোজুল লুগাত দেখুন। ক্লিক করুন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কাদিয়ানী নেতা আব্দুল আউয়াল এর ১০টি প্রশ্নের উত্তর

আলেম উলামাদের প্রতি কাদিয়ানীদের ন্যাশনাল আমীর আব্দুল আউয়াল সাহেবের ১০টি প্রশ্ন ও আমার পক্ষ হতে সেগুলোর সহজ উত্তর

[অতিব সংক্ষেপে কাদিয়ানীদের বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্নগুলোর একদম সহজ ভাষায় উত্তর দেয়া হল। আমি ইচ্ছে করলে প্রতিটি প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তত একটি করে হলেও দাঁতভাঙ্গা প্রশ্ন করতে পারতাম। কিন্তু সংক্ষেপ রাখতে করলাম না]।

প্রশ্ন ১ : যেহেতু ৭২ দলের আলেম উলামারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পর নবীর আগমনে বিশ্বাসীদেরকে ইসলাম বহির্ভূত মনে করে। অতএব, জবাব দিন আল্লাহর নবী ঈসা (আ.)-এর আগমনের অপেক্ষাকারী মুসলমানদেরকে আলেমরা কি হিসেবে গণ্য করে?

উত্তর : প্রশ্নকর্তার প্রশ্নেই ভুল। কেননা মুহাম্মদ (সা.)-এর পর নবীর আগমনের বিশ্বাসীদেরকে ইসলামের সমস্ত ফেরকার লোকেরাই ইসলাম বহির্ভূত মনে করেন। কাজেই প্রশ্নে উল্লিখিত সংখ্যাটি ৭২ নয়, বরং ৭৩ হবে। যেহেতু হাদীস শরীফে ‘উম্মতে মুহাম্মদীয়া ৭৩ ফেরকায় বিভক্ত হবে’ বলেই উল্লেখ রয়েছে (তিরমিজী, কিতাবুল ফিতান দ্রষ্টব্য)। যাইহোক, সঠিক উত্তর পাওয়ার জন্য প্রশ্নও সঠিক হওয়া আবশ্যক। উল্লেখ্য, কাদিয়ানীদের জন্য নিজেদেরকে ইসলামের ফেরকাভুক্ত মনে করার কোনো কারণ নেই। কেননা মির্যা কাদিয়ানীর বইতে লিখা আছে “তৃতীয় শতাব্দীর পর বিগত উম্মত তেয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত হইয়া গিয়াছে।” (হাকীকাতুল ওহী [বাংলা] ৩৬)। তাই এখন প্রশ্ন হল, মির্যা কাদিয়ানীর জন্মের হাজার বছর আগেই যে উম্মত তার কথানুসারে তেয়াত্তর ফেরকায় ভাগ হয়ে গেল বর্তমান যুগের কাদিয়ানীরা সেই তেয়াত্তরের মধ্যে গণ্য হয় কিভাবে?

প্রশ্ন ২ : আগমনকারী ঈসা (আ.) নবী হবেন কিনা? যারা বলে, নবী হবেন তারা জবাব দিন ঈসা (আ.)-এর নবী হিসেবে আগমনের পরও হযরত মুহাম্মদ (সা.) কিভাবে খাতামান্নাবীঈন (শেষ নবী) থাকবেন?

উত্তর : হযরত ঈসা (আ.)-এর পুনরায় আগমন দ্বারা হযরত মুহাম্মদ (সা.) কিভাবে খাতামান্নাবীঈন বা ‘শেষনবী’ থাকবেন, প্রশ্নটির উত্তর নেয়ার আগে “শেষনবী” এর সংজ্ঞা কী তা জেনে নিন! বরেণ্য ইমাম আল্লামা যামাখশারী (রহ.) লিখেছেন,

معنى كونه آخر الانبياء انه لا ينبأ أحد بعده و عيسى ممن نبى قبله و حين ينزل عاملا على شريعة محمد مصليا الى قبلته كانه بعض أمته

অর্থ: তিনি (মুহাম্মদ সা.) “শেষনবী”, একথার অর্থ তাঁর পরে অন্য আর কাউকে নবী বানানো হবেনা। অধিকন্তু ঈসা (আ.)-কে উনার আগেই নবী বানানো হয়েছে। আর তিনি (ঈসা আ.) যখন পুনরায় আগমন করবেন তখন তিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর শরীয়তের উপর একজন আমলকারী হবেন এবং তাঁর কেবলার দিকেই সালাত আদায়কারী হবেন। যেন তিনিও অপরাপর উম্মতগণের মত একজন উম্মতই। (তাফসীরে কাশশাফ, সূরা আহযাব আয়াত নং ৪০ দ্রষ্টব্য)।

সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায়, আগমনকারী ঈসা কথিত রূপক কেউ নন, বরং তিনি বনী ইসরাইলী ঈসাই; তিনি পুনরায় এসে একজন “উম্মতী”ই হবেন, তিনি নবুওয়তের দায়িত্বে থাকবেন না। যেহেতু তাঁর নবুওয়ত শুধুমাত্র বনী ইসরাইলী সম্প্রদায়ের জন্যই খাস তথা নির্দিষ্ট ছিল। পবিত্র কুরআন ০৩:৪৯ দ্রষ্টব্য। আর সেজন্যই শায়খ ইবনে আরাবীও (রহ.) লিখেছেন, তাঁর পুনঃআগমন রাসূল (সা.)-এর বাণী “লা নাবিয়্যা বা’দী” (আমার পরে কোনো নবী নেই), এ কথার পরিপন্থী নয়। অতএব বুঝা গেল, প্রশ্নকারীর প্রশ্নই সঠিক হয়নি।

প্রশ্ন ৩ : যারা বলেন, ঈসা (আ.) নবী হিসেবে আগমন করবেন না। তারা জবাব দিন, আপনারা এ কথা কোথায় পেলেন? কুরআন হাদীস থেকে এর যথাযথ দলিল প্রমাণ দিতে পারবেন কি?

উত্তর : ঈসা (আ.) “নবী হিসেবে” অর্থাৎ নবুওয়তের দায়িত্ব নিয়ে আগমন করবেন, এটি তো বরং মির্যা কাদিয়ানীরও বিশ্বাস ছিল না! দেখুন ‘রূহানী খাযায়েন’ খ-৩ পৃষ্ঠা নং ৫৯। যাইহোক, প্রশ্নকর্তার এই প্রশ্নের উত্তর প্রশ্ন নং ২ থেকে আবার দেখে নিন।

প্রশ্ন ৪ : ঈসা (আ.) নবী হিসেবে আগমন করবেন কিনা? দয়া করে আপনারা ৭২ দলের সকলে মিলে একটি অভিন্ন মতামত প্রদান করবেন কি? তা না হলে প্রমাণিত হয়ে গেল, আপনারাই এ বিষয়ে ঐক্যমত ও সন্দেহমুক্ত নন।

উত্তর : ৪ নং প্রশ্নের উত্তরটিও প্রশ্ন নং ২ থেকে দেখে নিন!

প্রশ্ন ৫ : ওহাবীরা দেওবন্দীকে কাফের মনে করে। দেওবন্দীরা ওহাবীকে কাফের মনে করে। তাহলে কেন আপনারা কাফেরের সাথে মিলিত হয়ে কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধেই লেগেছেন? আর যদি তাদের কাফের মনে না করেন তাহলে আপনারা কি আপনাদের বুযুর্গ ও পথিকৃৎদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন?

উত্তর : কথিত ওহাবী কিংবা দেওবন্দী সম্পর্কে প্রশ্নকর্তার উক্ত দাবী সম্পূর্ণ বানোয়াট। প্রশ্নকর্তাকে আমার চ্যালেঞ্জ, তিনি কথিত ওহাবী কিংবা দেওবন্দীদের অথেনটিক কোনো গ্রন্থ থেকে “ওহাবীরা দেওবন্দীকে কাফের মনে করে অথবা দেওবন্দীরা ওহাবীকে কাফের মনে করে” এইরূপ হুবহু কিংবা কাছাকাছি শব্দচয়নেও প্রমাণ করতে পারবেনা। যেজন্য তাদের প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যও অমূলক বৈ কিছুই না।

প্রশ্ন ৬ : ৭২ ফিরকা কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষণা দেয়ার দাবী করে। অথচ আজ পর্যন্ত ‘মুসলমান কে’—এই সংজ্ঞা কেউ দিতে পারল না। দয়া করে বলবেন কি মুসলমান কাকে বলে? অবশ্যই আপনাদের প্রত্যেকের সংজ্ঞা এক রকম ও পরস্পর অভিন্ন হতে হবে।

উত্তর : কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণার দাবী উম্মতে মুহাম্মদীয়ার সকলের। ফলে শব্দটি বায়াত্তর হবেনা, হবে তেয়াত্তর। অপ্রিয় হলেও সত্য, মির্যা কাদিয়ানী নিজেই তার জামাতকে তেয়াত্তর ফেরকার বাহিরে মনে করত। প্রমাণের জন্য ‘রূহানী খাযায়েন’ খ-১৭, পৃষ্ঠা নং ২২৬ দেখে নিন। আপনি উম্মতে মুহাম্মদীয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুসলমান-এর সংজ্ঞা চাচ্ছেন, তাই তো! কিন্তু কেন? মানার জন্য?

আরে জনাব! আমি যদি বিশিষ্ট যুগ-ইমামগণের রচনাবলী হতে ‘মুসলমান’-এর সংজ্ঞা দিইও তবুও তো আপনার লাভ হবেনা। যেহেতু আপনি যে লোকটিকে উম্মতিনবী, মসীহ, ইমাম মাহদী মেনে নিয়েছেন সে নিজেই তো উম্মতে মুহাম্মদীয়ার পূর্ব ও পরবর্তী মনীষীদের কথা পূর্ণাঙ্গ কোনো দলিলই নয় বলে অগ্রাহ্য করে লিখে গেছে। (রূহানী খাযায়েন খ-৩, পৃ-৩৮৯ দ্রষ্টব্য)। তো যেখানে সাল্ফে সালেহীনের কোনো কথারই আপনাদের নিকট অথেনটিক নয় সেখানে এধরণের কোনো প্রত্যাশার কী অর্থ?

প্রশ্ন ৭ : আপনারা কাদিয়ানীদের কাফের মনে করছেন বিধায় তাদেরকে সরকারীভাবে কাফের ঘোষণা করতে হবে? আপনারাও তো প্রত্যেকে এক দল আরেক দলকে কাফের মনে করেন। অতএব জবাব দিবেন কি তাদেরকেও সরকারীভাবে কেন কাফের ঘোষণা করা হবে না?

জবাব : কোনো ব্যক্তি বিশেষের অতি উৎসাহীমূলক তাক্ফীর যা কখনো কখনো প্রতিহিংসামূলকও হয়ে থাকে সেটি আর বিশ্বব্যাপী উম্মতে মুহাম্মদীয়ার সর্বসম্মত প্রাতিষ্ঠানিক তাকফীর কখনো এক নয়। কাদিয়ানীরা উম্মতে মুহাম্মদীয়ার সর্বসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এবং বাস্তবতার নিরিখেই কাফের হিসেবে স্বীকৃত।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে মক্কায় আন্তর্জাতিক ইসলামীক সংস্থা ‘রাবেতা আলমে ইসলামী’র অধীনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশ্বের সকল মুসলিম নেতৃবৃন্দ কাদিয়ানীদের আনুষ্ঠানিকভাবে অমুসলিম ঘোষণা দেয়। পক্ষান্তরে ব্যক্তি বিশেষের অতি উৎসাহীমূলক তাকফীরের জন্য সে নিজেই অভিযুক্ত, যদি না তার উক্ত তাক্ফীর বাস্তবতার নিরিখে হয়। তো যেখানে আপনাদের আর অন্যদের মধ্যে তাকফীরের ব্যাপারটি আকাশ-পাতাল ব্যবধান সেখানে কিভাবে এই প্রশ্ন আসতে পারে যে, কাদিয়ানীদের মত অন্যদেরকে সরকারীভাবে কাফের ঘোষণার দাবী করা হবেনা কেন?

প্রশ্ন ৮ : যদি মির্যা সাহেবের ইংরেজ সরকারকে জনগণের জন্য রহমতস্বরূপ বলার কারণে মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হয় তাহলে আহলে হাদীস, দেওবন্দ ও বেরেলভী আলেমদের ইংরেজ সরকার সম্বন্ধে একই ধরণের মন্তব্য তাদেরকে কি হিসেবে গণ্য করে?

উত্তর : তর্কের খাতিরে মানলাম যে, অন্যরাও ইংরেজ সরকার সম্বন্ধে ঐ একই ধরণের মন্তব্য করেছিলেন কিন্তু মির্যা কাদিয়ানীর সাথে ঐ আহলে হাদীস, দেওবন্দী কিংবা বেরেলভী আলেমদের তুলনা কিভাবে করতে পারেন যেখানে আপনাদের বিশ্বাসমতে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী একজন নবী ও রাসূল! কারণ সে পরিষ্কার লিখে গেছে “আমার দাবী, আমি একজন নবী ও রাসূল”। দেখুন মালফুযাত খ-৫ পৃষ্ঠা নং ৪৪৭ নতুন এডিশন, লিখক মির্যা কাদিয়ানী।

তাই প্রশ্ন হল, অন্যরা ভুল করলেও একজন নবী ও রাসূল দাবীদার মির্যা কাদিয়ানী ইংরেজ সরকার সম্পর্কে ঐ একই ধরণের মন্তব্য করে কিভাবে ভুল করতে পারে?

এবার দেখুন ইংরেজ সরকারের আনুগত্য করার জন্য মির্যা কাদিয়ানী তার বইতে আরো কী কী লিখে গেছে! সে একস্থানে লিখেছে, “খোদাতালা আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, যে সরকারের নিরাপত্তায় জীবনযাপন করবে তার প্রতি কৃতজ্ঞ এবং অনুগত থাকবে। তাই যদি আমরা ব্রিটিশ সরকারের (রাজত্বের বিরুদ্ধে) বিদ্রোহ করি তবে (জেনে রেখো আমরা) যেন ইসলাম, খোদাতালা এবং রাসূলের সাথেই বিদ্রোহ করছি। এই অবস্থায় আমাদের চেয়ে বড় অসৎ আর কে হতে পারে! কেননা খোদাতালার কানূন এবং শরীয়ত আমরা ছেড়ে দিয়েছি।” রূহানী খাযায়েন খ-৬, পৃ-৩৮১ দ্রষ্টব্য।

এখন প্রশ্ন হল, যে ইংরেজ ঔপনিবেশিক দানবদের হাতে শুধু দিল্লীরই ১৮ হাজার মাদরাসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর শুধু একদিনেই তেরো হাজার আলেমকে যারা ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল, ১৮৩১ সালের বালাকোটের ট্র্যাজেডির আগেই যারা সাড়ে ৫৭ হাজার স্বাধীনতাকামী আলেম শহিদ করেছিল (দেখুন, ইতিহাসের ইতিহাস, মুন্সী গোলাম মর্তুজা); হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাধিয়ে যারা ভারতবর্ষের মানুষের জন-জীবন অতিষ্ট করে তুলেছিল; ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য যারা মুসলমানদের মধ্যে নানাভাবে ধর্মীয় বিভাজন তৈরী করেছিল, সেই দানব সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ আর অনুগত হওয়ার ঐ শিক্ষা অন্তত খোদাতালার কিভাবে হতে পারে? খোদাতালা কি কোনো সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির অনুগত হওয়ার সবক দেবেন? কখনো না। সুতরাং মির্যা কাদিয়ানীর মত একজন নবী রাসূল দাবীদার কর্তৃক ইংরেজ সরকারের নিকৃষ্ট গোলামীর ইতিহাস ঢাকতে অন্যদের প্রসঙ্গ টেনে আনা পুরোই অবান্তর!

প্রশ্ন ৯ : ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় মির্যা সাহেবকে ইংরেজদের দালাল বলেন! ভারতবর্ষের আহলে হাদীস, দেওবন্দ, বেরেলভী মৌলভীরাও ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাহলে তারাও কি ইংরেজদের দালাল?

উত্তর : এর উত্তর ৮ নং প্রশ্নের উত্তরাংশে দেয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ১০ : যারা সরকারের কাছে কাদিয়ানীদের অমুসলমান ঘোষণা করার দাবী করে তারা জবাব দিবেন কি? সরকার যদি কাউকে অমুসলমান স্বীকৃতি দেয়ার অধিকার রাখে তাহলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের মুসলমান বানানোর ক্ষমতা রাখে না কেন?

উত্তর : এখানে দুইটি বিষয় লক্ষ্যনীয়। অমুসলিম ঘোষণা করা আর অমুসলিম বানিয়ে দেয়া। মনে রাখতে হবে যে, সরকার কর্তৃক অমুসলিম ঘোষণা করার আগ থেকেই কাদিয়ানীরা নিজেদের কুফুরী আকীদার কারণে ইসলামের গন্ডি হতে খারিজ। ফলে সরকার কর্তৃক তাদের অমুসলিম ঘোষণা করার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র জনগণকে সচেতনকরা আর তাদের ব্যাপারে সরকারের নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করা।

সুতরাং বিষয়টি যাদের বুঝে আসছে তাদের নিকট একদম পরিষ্কার হয়ে গেল যে, মুসলমানরা কখনোই বলতে চায় না যে, কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করার মানে অন্যান্য অমুসলিমদের সরকার মুসলমান বানানোরও ক্ষমতা রাখে! আসলে কাদিয়ানী জ্ঞানপাপীরা ব্যাপারটি বুঝেনা যে তা নয়, মূলত তাদের উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাওয়া। নতুবা একজন সাধারণ মানুষও তাদের প্রশ্নগুলোর অসারতা ধরতে পারেন। আল্লাহ তাদের বিভ্রান্তি থেকে সবাইকে রক্ষা করুন।

পরিশেষ, আমরা কেন কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবী করি—প্রশ্নটির উত্তর দিতে গেলে অনেক লম্বা সময় প্রয়োজন। তথাপি শুধু বুঝার জন্য এখানে একটি উপমা দিতে চাই। আমরা জানি বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র না মেনে যেভাবে কেউ ‘আওয়ামীলীগ’ নামধারণ ও তাদের একান্ত পরিভাষাসমূহ ব্যবহার করতে পারেনা, তদ্রুপ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইসলামের মৌলিক আকীদা না মেনে কেউ ‘মুসলিম’ বা ‘মুসলমান’ নামধারণ এবং একান্ত ইসলামী পরিভাষাসমূহও ব্যবহার করতে পারে না।

এখন হয়ত কারো মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, কাদিয়ানীদের অথেনটিক কোনো রচনায় কি এমন কোনো কথা আছে যার ফলে তারাও মনে করে যে, তাদের সবকিছু মূলধারার মুসলমানদের থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা?

উত্তরে বলব, জ্বী হ্যাঁ আছে। মির্যা কাদিয়ানীর বড় ছেলে এবং তাদের দ্বিতীয় খলীফা(?) বশির উদ্দিন মাহমুদ তিনি কাদিয়ানে তাদের জুমার খুতবায় ভাষণ দিতে গিয়ে স্বীয় পিতার উদ্ধৃতিতে বলেছিলেন, “তিনি (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানী) বলেছেন, এটা ভুল কথা যে, অন্যদের (মুসলমানদের) সাথে আমাদের বিরোধ শুধু ঈসা (আ:)-এর মৃত্যু বা আরো কিছু শাখাগত মাসয়ালা নিয়ে। হযরত (মির্যা) সাহেব বলেছেন, আল্লাহতালার সত্তা, রাসূল, পবিত্র কুরআন, নামায, রোজা, হজ্ব ও যাকাত মোটকথা তিনি (মির্যা) বিস্তারিত বলে গেছেন যে, প্রত্যেকটি বিষয়ে তাদের (মুসলমানদের) সাথে আমাদের বিরোধ আছে।”

(কাদিয়ানীদের ১৯১৩ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত উর্দূ দৈনিক ‘আল ফজল’ তাং ৩০ জুলাই, ১৯৩১ ইং পৃষ্ঠা নং ৭, কলাম ১)

অতএব, জ্ঞানীদের বুঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।

  • আর এর পিডিএফ-এর জন্য এখানে ক্লিক করুন
  • পুরো লিখাটি শেয়ার করুন এবং লিখকের পেইজ থেকে কপি করে প্রচার করুন! Click

লিখক ও শিক্ষাবিদ
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
nabifeni44@gmail.com