Home Blog Page 28

সহজে কাদিয়ানী চেনার উপায়

কাদিয়ানীদের কাছ থেকে এ প্রশ্নগুলোর কোনো সঠিক উত্তর আপনি পাবেন না [1] [2] [3] [4] [5]

কাদিয়ানী আক্রান্ত এলাকায় বিতরণের জন্য দুই পৃষ্ঠার ঝকঝকে একটি কালার পিডিএফ – ডাউনলোড করুন

মির্যা কাদিয়ানীর স্ববিরোধ কথাবার্তা [1][2][3][4][5][6][7][8][9][10][11][12][13][14][15][16][17][18][19][20][21][22][23][24][25][26][27][28][29][30][31][32][33][34][35][36][37][38][39][40][41][42][43][44][45][46][47][48][49][50]

হায়াতে ঈসা : কুরআনুল কারীম [1][2][3][4][5] | হাদীস শরীফ [ঈসা আঃ দামেস্কের যেখানে নাযিল হবেন][1][2][3][4][5][6] [7] [8] যুগ-ইমামগণ [1] কাদিয়ানীদের ওফাতে মসীহ’র সব চেয়ে বড় দলীলের জবাব [1]

খতমে নবুওয়ত : [খাতাম][খাতামুন নাবিয়্যীন][মির্যায়ী অপব্যাখ্যা ও খণ্ডন [1][2][3] [আয়াত][হাদীস][ত্রিশজন মিথ্যাবাদী নবী] [আ’রাফ ৩৫] [নিসা ৬৯] [অন্যান্য]

মির্যা কাদিয়ানীর নবী রাসূল দাবী : [1][2][3][4] | মির্যায়ী রচনাবলীতে তাকফির : [1][2][3] | কাদিয়ানীদের চেপে রাখা ধর্মবিশ্বাস : [1][এগুলো কাদিয়ানী ধর্মবিশ্বাস][ডাউনলোড পিডিএফ ফাইল]

ইমাম মাহদী : [1][2][3][4][5][কাদেয়া-জমিদার বংশীয়][চন্দ্রসূর্য গ্রহণ সম্পর্কিত সংশয় নিরসন] [কাদিয়ানী মতবাদের পোস্টমর্টেম]

সহজে কাদিয়ানী চেনার উপায় :

কাদিয়ানীরা সাধারণত খুবই ধূর্ত ও জঘন্য প্রতারক হয়ে থাকে। তাদের বেশিরভাগই মাথায় কালো টুপি পরে আর মুখে ফ্রেঞ্চ কাটিং দাড়ি রাখে। তাদের ৯০% ফেইসবুক ইউজারের প্রোফাইল লক থাকে, খুব বেশি তর্কপ্রিয় ও ঝগড়াটে হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য একদম সাধারণ বিষয়কেও দুর্বোধ্যভাবে পেশ করে থাকে। তাদের খুব কমন একটা ডায়লগ ঈসা আ. আবার আসলে তখন শেষনবী কে থাকছেন? এর উত্তর আলাদা আর্টিকেলে দেয়া হয়েছে। এখানে সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলব যে, ঈসা (আ.)-এর পুনঃ আগমনের প্রেক্ষিতে এই জন্য প্রশ্ন নেই যে, ঈসা (আ.) মুহাম্মদ (সা.)-এর আগেই নবুওয়ত প্রাপ্ত একজন নবী। আর ঈসা (আ.) শেষ যুগে নবুওয়তের দায়িত্ব নিয়ে অর্থাৎ নবী হিসেবে আসবেন না, বরং একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক এবং সুপথপ্রাপ্ত ইমাম ও উম্মতে মুহাম্মদীর পদ মর্যাদা নিয়ে আসবেন। দলিল এই,

يوشِكُ من عاشَ منكُم أنْ يرَى عيسَى ابنَ مريَمَ حكمًا عدلًا وإمامًا مهديًا فيكسِرَ الصَّليبَ ويقتُلَ الخِنزيرَ ويضَعَ الجزيَةَ وتضَعُ الحرْبُ أوْزارها

এখানে আরেকটা কথা বলে রাখা জরুরি যে, উম্মতে মুহাম্মদীর পদ মর্যাদা নিয়ে আসার অর্থ এ নয় যে, তাঁর পূর্বের নবুওয়ত বাতিল হয়ে যাবে, বরং এখানে ঐ কথার অর্থ হল, নবুওয়তে মুহাম্মদীর সময়টিতে তাঁর আনীত শরীয়ত রহিত ও তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শেষনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শরীয়তের অনুগামী হয়ে যেতে বাধ্য। কারণ হাদীসে সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে,

وَلَوْ كَانَ مُوسَى حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا اتِّبَاعِي

অর্থাৎ যদি মূসাও (ইহজগতে) জীবিত থাকত তাহলে তাঁর জন্যও আমার আনুগত্য করা ছাড়া কোনো উপায় ছিলনা। (মুসনাদে আহমদ ৩/৩৮৭, হাদীসের মান – হাসান)। তাদের আরও একটি ডায়লগ হচ্ছে, ঈসা (আ.) এর পক্ষে আবার এসে সারা দুনিয়া ঘুরে ঘুরে খ্রিস্টানদের ক্রুশগুলো ভাঙ্গা এবং জঙ্গল থেকে সমস্ত শুয়োর খোঁজে খোঁজে হত্যা করা কীভাবে সম্ভব?

উত্তরের জন্য পড়ুন এখান থেকে।

কাদিয়ানীদের আরেকটা ডায়লগ হল, যদি ‘শেষনবী‘ বলতে এই অর্থ উদ্দেশ্য হয় যে, ‘তাঁর (সা.) পর আর কাউকে নবী বানানো হবেনা’ তখন প্রশ্ন আসবে যে, ‘আমি তখনও খাতামান নাবিয়্যীন ছিলাম যখন আদম পানি এবং কাদার মাঝে সৃষ্টির সূচনায় ছিলেন‘—হাদীসটির কী অর্থ উদ্দেশ্য?

আসলে তারা এ সমস্ত প্রশ্ন ও তর্কের আড়ালে মির্যা কাদিয়ানীর মসীহ ও নবী দাবীর বৈধতা খুঁজতে চায়। কিন্তু হাস্যকর ব্যাপার হল, এদের কাউকেই আমি আজ পর্যন্ত স্বীকার করাতে পারিনি যে, তারা কি তাহলে নিজেদের মির্যা কাদিয়ানীর ‘উম্মত’ বলে স্বীকার করবে? কেননা যে কাউকে ‘নবী’ মানবে সে নিজেকে নির্বিঘ্নে তার ‘উম্মত’ বলেও স্বীকারোক্তি দিবে—এটাই স্বাভাবিক! আর এমনটা তো নয় যে, আমরা আগত ঈসা (আ.)-এর পুনরায় আগমনকে স্রেফ ‘উম্মতি‘ হিসেবেই বিশ্বাস করে কোনো ভুল করছি! আমরা কুরআন এবং হাদীস হতে আমাদের মুসলিম উম্মাহার বিশ্বাসের সমর্থনে মজবুত দলিলও দিয়ে থাকি, এমনকি মির্যা কাদিয়ানীর রচনাবলি হতেও।

জেনে আশ্চর্য হবেন, আগত ঈসা নবুওয়তের দায়িত্বে থাকবেন না, তিনি স্রেফ ‘উম্মত’ হিসেবে থাকবেন; এ কথা খোদ মির্যা কাদিয়ানীর-ও। যেমন সে তার রচনার এক স্থানে লিখেছে, “কুরআন শরীফ দ্বারা তো সাব্যস্তই আছে যে, প্রত্যেক নবীই হযরত (সা.)-এর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহতালা বলেন-

ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنصُرُنَّهُ

অর্থাৎ “তারপর তোমাদের নিকট যদি এমন একজন রাসূল আগমন করেন যিনি তোমাদের নিকট থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।”

সুতরাং এইভাবেই সমস্ত আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম) হযরত (সা.) এর উম্মত হয়ে যান।” (বারাহীনে আহমদীয়া খ-৫, রূহানী খাযায়েন ২১/৩০০)।

বলাবাহুল্য, ‘সমস্ত আম্বিয়া’ বলতে কিন্তু ঈসা (আ.)-ও তার মধ্যে শামিল। জানি না এখন তার ঝগড়াটে উম্মতেরা এর প্রতিউত্তরে কী বলবে! এদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা সাধারণত নেকাব পরে নাকের নিচ দিয়ে। এদের ধর্মীয় পড়াশোনার হাতেগড়ি নির্দিষ্ট দুটি সাবজেক্ট—ঈসা (আ.) জীবিত না মৃত আর মুহাম্মদ (সা.)-এর পরেও নবুওয়তের সিলসিলা (ধারাক্রম) চালু না বন্ধ, এই দুটো নিয়ে। তারা মূলত মির্যা গোলাম আহমদকে একজন রূপক মসীহ সাব্যস্ত করতেই হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহ সশরীরে জীবিত আকাশে উঠিয়ে নেয়ার কুরআন সুন্নাহভিত্তিক আকিদার অস্বীকারকারী।

অথচ সহীহ মুসলিম, তারীখে দামেস্ক, কাঞ্জুল উম্মাল ইত্যাদি গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনায় এসেছে যে, ঈসা (আ.) শেষযুগে দামেস্কে নাযিল হবেন। আল্লাহ তাঁকে ফেরেশতার মাধ্যমে আকাশ থেকে পাঠাবেন। তেমনিভাবে ইসলামের গত চৌদ্দশত বছরের ইতিহাসে গত হয়ে যাওয়া সমস্ত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের ইমামগণেরও বিশ্বাস হচ্ছে, ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু এখনো হয়নি।

কিন্তু কাদিয়ানীধর্মের বিশ্বাসমতে, ঈসা (আ.)-এর ১২০ বছর বয়সে কাশ্মীরে মৃত্যু হয়ে গেছে, কাশ্মীরের খান ইয়ার মহল্লায় সমাহিত ইউজ আসেফ (1,2) নামীয় ব্যক্তির কবরটিই ঈসা (আ.)-এর কবর (নাউযুবিল্লাহ)।

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীই মূলত ‘কাদিয়ানী জামাত’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাকে তার সাধারণ অনুসারীরা ইমাম মাহদী বিশ্বাস করার দাবী করলেও ‘নবী’ বিশ্বাস করেনা বলেই সাফ বলে দেয়ার চেষ্টা করে। আসলে এরা নিজেদের অজ্ঞতার জন্যই তাকে যেমন ইমাম মাহদী বিশ্বাস করে নিয়েছে, ঠিক একই রকম অজ্ঞতার জন্যই তারা তার নবী দাবী করা সম্পর্কেও বেখবর। এরা খুব সাধারণ ও জেনারেল মানুষদের ধোকা দিয়ে থাকে।

সম্প্রতি জেনারেল শিক্ষিতরাও এদের ব্যাপারে খুবই সাবধান হচ্ছেন। চট্টগ্রামের জনৈক চিকিৎসক একদা আমার কাছ থেকে জানতে চাইলেন যে, সাধারণদের জন্য কাদিয়ানীদের সাথে ডিবেট করার পন্থা কী? অর্থাৎ কোন নিয়মনীতি মান্য করলে তাদের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে সফল হওয়া যাবে।? যাইহোক, কাদিয়ানীরা ছলেবলে কৌশলে তাদেরকে কাছে টেনে নেয়ার চেষ্টা করে। তাদের কাছ থেকে বাইয়েত নিয়ে অত:পর ব্রেইন ওয়াশ করে ফেলে, যাতে তাদের বলয়ের বাহিরে ছুটে না যায়। তবে এরপরেও অনেকে বাস্তবতা বুঝতে পেরে কেটে পড়েন। এমনি একজন যুবকের ফোনালাপ থেকে আমি একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছি। দেখুন এখানে

আগের আলোচনায় আবার ফিরে এলাম। সাধারণ কাদিয়ানী যুবক-যুবতীরা মির্যা কাদিয়ানীর দাবীগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে। বিশেষ করে তার ‘শেষনবী’ হবার দাবীটি সম্পর্কে। এই বিষয়ে স্ক্রিনশট সহ কয়েকটি সিরিজ ভিডিও দেখুন।

মির্যা কাদিয়ানীর নবী-রাসূল দাবী, সিরিজ ভিডিও (১), (২), (৩), (৪)। (লিফলেট [ডাউনলোড লিংক] (১), (২)

অপ্রিয় হলেও সত্য হল, তাদের শীর্ষনেতাদের তৈরিকৃত সিলেবাসের বাহিরে তাদের অধীনস্থদের মন-মগজে ইসলামের ফান্ডামেন্টাল শিক্ষার ছিটেফোঁটাও থাকেনা।

এদের প্রাধানতম বৈশিষ্ট্য, কুরআন শরীফ অশুদ্ধ পড়া আর নিজের মত করে ব্যাখ্যা দেয়া। এরা মুসলমানদের মসজিদে যায় না, মুসলমানদের জানাজাতেও অংশগ্রহণ করেনা। এদের পিতা মাতার জানাজাতেও অংশগ্রহণ করতে জোরালো ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকে, বড়জোর জানাজায় কাঠের পুতুলের ন্যায় সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে তবেই সে পর্যন্ত অনুমতি রয়েছে। কত পাষণ্ড আর হতভাগা এরা!

ছোটবেলা থেকেই এদেরকে চরম আলেম উলামা বিদ্বেষী করে তোলা হয় বলে এরা আলেম উলামার কাছ থেকেও দূরে থাকে। আলেম উলামার প্রতি এদের মজ্জাগত বিদ্বেষ আর দুশমনির ফলে এদের বেশিরভাগ Ex ahmadi দুর্ভাগ্যবশত মুলহেদ হয়ে যায়, তবু ইসলাম গ্রহণ করতে চায় না। কারণ এদের মন মগজে সেই ছোট বেলা থেকেই ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে, বর্তমান ইসলাম মোল্লা মৌলভীদের বানানো ইসলাম। নাউযুবিল্লাহ। অথচ ইসলামের বুনিয়াদ হচ্ছে, পবিত্র কুরআন এবং কুরআনের মর্মার্থ সুস্পষ্টকারী সহায়ক সংকলন রাসূল (সা.)-এর সীরাত তথা সুন্নাহ।

এরা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ এবং খেলাফত রাষ্ট্রের চরম বিরোধী। স্বভাবতই ব্রিটিশপ্রিয় হয়। কুরআন হাদীসকে সরাসরি অস্বীকার করার পরিবর্তে রূপক কিবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে অস্বীকারকারী হয়। আর নিজ মতবাদের পক্ষে এমন সব বর্ণনা বা উদ্ধৃতিও উপস্থাপন করে থাকে যেগুলোর বেশিরভাগই জাল, জঈফ বা মুনকার পর্যায়ের অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা; কোনো অথেনটিক সোর্স থেকেও সংগৃহীত নয়।

এদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল, এদের বইপুস্তক অগণিত স্ববিরোধ কথাবার্তায় ভর্তি, যা এদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও এরা মেনে নিতে চায় না। এগুলো আমার দীর্ঘ অবিজ্ঞতা থেকেই লিখলাম। আরও জানার বিষয় হল, সারা দুনিয়ায় এদের দাবী হচ্ছে, সংখ্যায় এরা ২০ কোটি। অথচ নিরপেক্ষ গণনামতে এরা কোনো ভাবেই ১৫-২০ লাখের বেশি হবেনা। বাংলাদেশে এদের সংখ্যা এদেরই দাবী অনুসারে ১ লক্ষ। তবে আমাদের জরিপ বলছে, এরা কোনো ভাবেই ২৫ হাজারের বেশি হবেনা। বিবাড়িয়া, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সাতক্ষীরার সুন্দরবন, জামালপুরের সরিষাবাড়ি আর বান্দরবন, যশোর এবং খুলনায় এদের সংখ্যাটা তুলনামূলক বেশি।

প্রাণ, আর.এফ.এল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মেজর (অব.) আমজাদখান চৌধুরী আর বাংলাদেশের বর্তমান কাদিয়ানীদের ন্যাশনাল আমীর জনাব আব্দুল আউয়াল সাহেব দুইজনই মামাতো আর ফুফাতো ভাই

জনাব আমজাদখানের পিতা আলী কাশেমখান চৌধুরী আর কাদিয়ানী আমীরের মাতা মাসুদা সামাদ আপন ভাই বোন। কাদিয়ানীদের একটি বই ‘সীরাতে মাহদী’-তে ইসলাম বিরোধী ১৬টি চরম বিভ্রান্তিকর ধর্মবিশ্বাস এর উল্লেখ রয়েছে, যা তারা সাধারণ মানুষ থেকে বরাবরই গোপন রাখে। আমি তাদের ডজনখানেক বই থেকে স্ক্রিনশট সহ মির্যা কাদিয়ানীর নবী ও রাসূল দাবীর প্রমাণও অত্র রচনায় দিয়ে রেখেছি।

পাঠকদের জন্য আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলও অত্র রচনায় সন্নিবেশিত করে দিয়েছি। তন্মধ্যে কাদিয়ানীদের কলেমার গোপন রহস্যপ্রতিশ্রুত মসীহ্‌ এর পরিচয় এবং প্রতীক্ষিত মাহ্‌দী এর পরিচয় অন্যতম। অধিকন্তু তাদের কেউই এখনো দুনিয়ায় আবির্ভূত হননি। ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মধ্যে পরিষ্কার লিখা আছে যে, তিনি নবীজী (সা.)-এর কন্যা ফাতেমার পুত্র হযরত হাসান (রা.)-এর বংশে জন্মগ্রহণ করবেন। সে হিসেবে তিনি সাইয়েদ এবং কুরাইশীও হবেন তার নাম হবে মুহাম্মদ, পিতার নাম আব্দুল্লাহ, জন্মস্থান হবে আরব (মদীনা), মাহদীয়তের উপর বাইয়েত শুরু করবেন মক্কায়। তিনি আরবে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবেন। আবুদাউদ শরীফে (কিতাবুল, মাহদী অধ্যায়) এসেছে, ‘ইমাম মাহদী সাত বছর রাষ্ট্রকার্য পরিচালনা শেষে ইন্তেকাল করবেন।’

শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী (রহ.) তার ‘আল জামেউস সহীহ’ কিতাবে হাদীসটিকে “হাসান” (حسن) বলেছেন। উল্লিখিত পরিচিতির আলোকে দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, রাসূল (সা.) শেষ যামানায় আগমনকারী যে ইমাম মাহদীর সুসংবাদ দিয়ে গেছেন আজকের এই দিন (২০২২ ইং, এই আর্টিকেল লিখার সময়) পর্যন্ত সেই ইমাম মাহদী এবং প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.) দুইজনের কেউই আবির্ভূত হননি। আল্লাহ চাহিলে দুইজনই যথাসময়ে আসবেন।

মির্যা গোলাম আহমদ এর দাবী একই সাথে ইমাম মাহদী এবং ঈসা, দুটোই। কিন্তু রাসূল (সা.) উক্ত দুই মহা পুরুষ সম্পর্কে সহীহ হাদীসগুলোতে যেই পরিচিতি রেখে গেছেন তার ছিটেফোঁটাও মির্যা গোলাম আহমদের সাথে মিল পাওয়া যায় না। এটি পড়ুন, এক নজরে মির্যা কাদিয়ানী

উল্লেখ্য, প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী এবং হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাদা দুই ব্যক্তিই। বহু সহীহ হাদীসে দুইজনের ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় একদম সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। কাদিয়ানীদের বইতে দুই ঈসা’র বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাব এখানে। তাদের ‘ওয়া লাল মাহদী ইল্লা ঈসা ইবনু মরিয়ম’ এর বর্ণনা দিয়ে বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাবও এখান থেকে দেখে নিন। ইমাম মাহদী একই সাথে ফাতেমি, আব্বাসী, হাসানী, হোসাইনী সব কিভাবে হতে পারেন? মাহদীয়তের নিদর্শনের নামে কাদিয়ানীদের উপস্থাপিত চন্দ্রসূর্য গ্রহণের বর্ণনাটি কেন গ্রহণযোগ্য নয়?।

এই কাদিয়ানী গোষ্ঠীটি তাদের মতের বাহিরে সমস্ত মুসলমানকে অমুসলিম, কাফের, জাহান্নামী মনে করে থাকে। এরা অন্যান্য মুসলমানের মত হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত দাবী করা সত্ত্বেও বিশ্বের সমস্ত মুসলিম স্কলারদের সর্বসম্মতিক্রমে কাফের ও ইসলাম থেকে খারিজ। তার কারণ এরা খতমে নবুওয়ত এবং হায়াতে মসীহ সহ ইসলামের বহু মৌলিক বিশ্বাসকে কুরআন এবং সুন্নাহর অপব্যাখ্যার আড়ালে অস্বীকার করে থাকে।

এরা আজ থেকে শতাধিক বছর আগে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে তথা ১২৫৬ হিজরী সনে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাদিয়ান নামক গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এক ব্যক্তিকে নবী বলে বিশ্বাস করে। তার নাম ছিল মির্যা গোলাম আহ্‌মদ (১৮৩৯-১৯০৮)। সে নিজেকে প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.)-এর রূপক সত্তা এবং শেষ যুগে আগমনকারী ইমাম মাহদী হবার দাবীও করে। অথচ কুরআনের আয়াত ও সহীহ্ হাদীসের মানদণ্ডে এই লোকের দাবীগুলোর একটিও টিকেনা। তাই কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ব্যক্তি নিজ দাবীতে একজন জঘন্য মিথ্যাবাদী ও প্রতারক।

এখানে তার কয়েকটি উক্তি তুলে ধরছি, যা পড়ার পর যে কেউই তার আসল পরিচয় পর্যন্ত সহজে পৌঁছতে পারবে! যথা-

১. মির্যা কাদিয়ানী ১৮৯৮ সালের দিকে ব্রিটিশ-ভারত রাণী আলেকজান্ড্রিনা ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে লিখেছিল, ‘নিজেদের হাতে রোপিত এই চারাগাছটির ব্যাপারে খুব সতর্কতা ও অনুসন্ধানের সাথে অগ্রসর হবেন এবং আপনার অধীনস্তদের বলবেন তারা যেন এই পরিবারের ত্যাগ ও নিষ্ঠার কথা মনে করে আমার দলের প্রতি সদয় দৃষ্টি জ্ঞাপন করেন। আমাদের পরিবার ইংরেজ সরকারের কল্যাণে নিজেদের খুন বইয়ে দিতে ও জীবন দিতেও দ্বিধা করেনি আর না এখনো দ্বিধা করছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/২১-২২; নতুন এডিশন)। তার এই কথা পরিষ্কার প্রমাণ যে, সে ব্রিটিশদেরই সৃষ্টি ছিল।

২. ‘আমার বিশ্বাস, যে হারে প্রতিদিন আমার অনুসারির সংখ্যা বাড়ছে সেই হারে জিহাদের পক্ষাবলম্বীর সংখ্যাও কমছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/১৯)। এখানে তার এই বক্তব্য ব্রিটিশ ভারতের ১৮৫৭ সালের আযাদী আন্দোলন ও সিপাহী বিদ্রোহকেই স্মরণ করে দিচ্ছে। মূলত ঐ সমস্ত আন্দোলন সংগ্রাম দমিয়ে রাখতেই পরবর্তীতে এই মির্যায়ী তথা কাদিয়ানী জামাতের সৃষ্টি।

৩. ‘ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্য ইসলামেরই একটি অংশ’ (রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮০)। মির্যা কাদিয়ানীর এই বক্তব্য আমার উপরোক্ত সবগুলো দাবীকে দ্বিপ্রহরের সূর্যের মত একদম পরিষ্কার করে দেয়। যাইহোক ২৫ শে মে ১৮৯৩ সালে অমৃতসর নামক স্থানে মির্যা কাদিয়ানীর সাথে তৎকালীন মুসলিম নেতা শায়খ আব্দুলহক গজনভী (রহ.)-এর একটি মুবাহালা অনুষ্ঠিত হয়। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ৬/৩৭২)। উক্ত মুবাহালায় উভয়পক্ষ নিজের উপর নিজে বদ দোয়া করেন এবং মুবাহালাকারী দুইপক্ষের সত্যবাদীর জীবদ্দশায় যিনি প্রকৃতপক্ষে একজন মিথ্যাবাদী তিনি যেন ধ্বংস হন, এইরূপ কামনাও করেন (দেখুন, মালফূজাত ৫/৩২৭; চতুর্থ এডিশন)।

ইতিহাস সাক্ষী, পরবর্তীতে শায়খ গজনভী (রহ.) মারা যান ১৬ই মে ১৯১৭ সালে। আর মির্যা কাদিয়ানী শায়খের জীবদ্দশায় প্রায় ৯ বছর পূর্বেই ১৯০৮ সালে লাহোরে ২৬ শে মে বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় কলেরায় আক্রান্ত হয়ে টাট্টিতে নিপতিত হয়ে মারা যায়। তার লেখিত প্রায় ৮৩টি বইয়ের সমষ্টির নাম ‘রূহানী খাযায়েন‘ (আধ্যাত্মিক ভাণ্ডার), যা আনুমানিক ১৯৬০ সালের দিকে ২৩ খণ্ডে প্রকাশ করা হয়। বইগুলো দ্বারা সেসব মানুষ খুব বিভ্রান্ত হয় যাদের পূর্ব থেকে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে আলোচ্য বিষয়ে গভীর কোনো জ্ঞান নেই।

একটি হাদীসে এসেছে, মহানবী (সা.) তাঁর পরবর্তী সময়ে ত্রিশ জন নবুওয়তের মিথ্যা দাবীদারের আবির্ভাব হবার ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন (সুনান তিরমিজী (ইফা) অধ্যায়ঃ ৩৬/ কিতাবুল ফিতনা)। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) (মৃত. ৮৫২ হিজরী) হাদীসটির ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এই ত্রিশজন মিথ্যাবাদী বলতে বিশেষভাবে ওরাই উদ্দেশ্য যাদের দাপট প্রতিষ্ঠা পাবে এবং (সাধারণ মানুষের ভেতর) তাদের তৎপরতার কারণে মারাত্মক সন্দেহ সৃষ্টি হবে। (ফাতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী : খণ্ড ১২ পৃষ্ঠা ৩৪৩)।

সমস্ত ইসলামি বিশেষজ্ঞ একমত যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তাদেরই মধ্য হতে একজন। পাঠকদের উদ্দেশ্যে এখানে কয়েকটি লিখার লিংক দিচ্ছি। গুরুত্ব সহ পড়ার অনুরোধ থাকল, কাদিয়ানীরা কাফের কেন? মির্যা কাদিয়ানীর ৫টি মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী। তথাকথিত উম্মতিনবী কাদিয়ানী জামা’তের প্রতিষ্ঠাতার কিছু দাবী দাওয়া। মির্যা কাদিয়ানীর কিছু মিথ্যাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতি। অথচ হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে সমস্ত কাফির মুশরিক ‘সত্যবাদী‘ বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনের ত্রিশ আয়াতে ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে যাওয়ার দাবী কেন ডাহা মিথ্যা?

আমাদের ওয়েবসাইট ও আমাদের ভিডিও সমূহ ইউটিউব থেকে (markajTV by PNN) (হেদায়েতের পথিক) দেখার আহবান রইল। আমার (লিখক) ফেইসবুক পেইজ (ধারাবাহিক লাইভ পর্ব) থেকে ভিডিওগুলো দেখার আমন্ত্রণ রইল। আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হতে পারেন। আমার রচনাসমগ্র ‘সিলেক্টিভ‘ (পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৯৬)

অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন।

কথিত উম্মতিনবী দাবীতেও মির্যা ফেঁসে গেলেন কিভাবে দেখুন

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক- প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ, যোগাযোগ- 01629941773 (What’sapp, Telegram & Imo), ইমেইল- nabifeni44@gmail.com

কাদিয়ানীদের কলেমার গোপন রহস্য

আমরা যখনি কাদিয়ানীদের কলেমার গোপন রহস্য আছে বলি, তখনি তারা চোখ কপালে তুলে চেঁচিয়ে বলতে শুরু করে, মোল্লা মিথ্যুক; মিথ্যা বলছে মোল্লা! আরে জনাব! থামুন না এবার, মিথ্যা কী আর সত্য কী—তা তো আগে শুনবেন, দেখবেন, যাচাই-বাছাই করার মত ধৈর্য্য রাখবেন, তাই নয় কি? আপনি শুনেননি, দেখেনওনি; তাহলে কিভাবে বুঝলেন যে, মোল্লা মিথ্যা বলছে?

আরে জনাব, আপনার কথা অনুসারে দুনিয়ার দু-একজন বড়জোর দুই চার’শ জন মোল্লা মৌলভি যদি মিথ্যা বলেও দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম ইসলামি বিদ্যাপীঠগুলোও কি সত্য-মিথ্যা খতিয়ে না দেখেই আপনাদের নিয়ে মিথ্যা বলছে মনে করেন? দুনিয়ার সর্বস্তরের মুসলিম উম্মাহা যার যার অবস্থান থেকে অভিন্ন স্বরেই আপনাদের কি “কাফের” ঘোষণা করেনি? আপনাদের নিয়ে মুসলিম উম্মাহার আপত্তি যদি মিথ্যাই হত তাহলে আপনাদেরই মুরুব্বি গোচের বহু আহমদী কিজন্য ‘আহমদীয়ত’ তথা কাদিয়ানীয়তকে বিদায় জানালেন? ডক্টর হানি তাহের, ডক্টর ইকরামা নজমি প্রমুখের কথা কি ভুলে গেলেন? এটি তো মাত্র এই তিন-চার বছর আগের ঘটনা! আপনারা কি ডক্টর হানি তাহেরকে আরব-দুনিয়ার আহমদী খলীফা উপাধি দেননি? তো একদম সবাই আপনাদের কি অকারণেই কাফের আখ্যা দিলেন? মুসলিম উম্মাহার বুঝি খেয়েদেয়ে আর কোনো কাম-কাজ নেই? উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে মক্কায় আন্তর্জাতিক ইসলামীক সংস্থা ‘রাবেতা আলমে ইসলামী’র অধীনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশ্বের সকল মুসলিম নেতৃবৃন্দের সামনে দীর্ঘ আলোচনার পর কাদিয়ানীদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছিল।

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী মুহাম্মদী বেগমকে নিয়ে মৃত্যুর আগ দিন পর্যন্ত কি অবলীলায় ইলহামের নাম ভেঙ্গে শতাব্দীর নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্ট যে কাণ্ডকীর্তি করে গেছে তা কি দুনিয়া এত দ্রুতই ভুলে গেছে? সে কি মুহাম্মদী বেগমের সাথে তার বিয়ের ভবিষ্যৎবাণীকে তাকদিরে মুবরাম বলে আখ্যা দেয়নি? সে কি লিখে যায়নি যে, এই ভবিষ্যৎবাণী অপরিবর্তনীয় তথা তাকদিরে মুবরাম? পরে কী হল? ভবিষ্যৎবাণী কি আলোর মুখ দেখতে পেরেছিল? মির্যা কাদিয়ানী মিথ্যুক হওয়ার জন্য আর কী চাই!!

যাইহোক, আপনাদের মুটামুটি সবখানেই মিথ্যা আর প্রতারণা নিহিত। আপনারা গাল ফুলিয়ে যেমন বলেন যে, মুসলমানদের কলেমা আর আপনাদের কলেমা আলাদা নয়, একই; তেমনি বড় বড় হরফে লিখেও সেকথার প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকেন অথচ ফুটোটা কোথায় সেটির কোনোই খবর রাখেন না! তো এইজন্য কি আমরা দোষী? আরে আমরা তো আপনাদের এই সমস্ত মহা দাজ্জালিয়ত আর প্রতারণা থেকে আমাদের মুসলমান ভাই বোনদের সতর্ক করবই, করে যাবই। এতে আপনারা অখুশি হলেও আমাদের কিছুই করার নাই।

আপনাদের কলেমা আর আমাদের কলেমা দৃশ্যত একই হলেও কিন্তু মর্মার্থে কি দুই নাম্বারি করে রেখেছেন তার কী হাশর হবে? কলেমার “মুহাম্মদ” হতে মির্যা কাদিয়ানীকে উদ্দেশ্য নিলে তখন কি আর এই কলেমা ইসলামী কলেমা থাকল নাকি কাদিয়ানী কলেমা হয়ে গেল? অবশ্যই তখন সেটি বেশভূষায় মুসলমানদের কলেমার মত মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সেটি কাদিয়ানী কলেমা বলেই গণ্য হবে, তাতে কোনো সন্দেহ থাকেনা।

সংশ্লিষ্ট কিছু স্ক্রিনশট মির্যা কাদিয়ানীর পুত্র মির্যা বশির আহমদ এম.এর রচিত কালিমাতুল ফসল থেকে নিচে তুলে ধরছি।

অর্থ- “বর্তমানেও ইসলামে প্রবেশ করার কালিমা এটাই। পার্থক্য শুধু এটুকু যে, মসীহ মওউদ (অর্থাৎ মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী)’র আগমন দ্বারা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র অর্থে একজন রাসূল বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে।” (রেফারেন্স:- কালিমাতুল ফছল ষষ্ঠ অধ্যায়, অনলাইন এডিশন পৃষ্ঠা নং ৬৯; মির্যাপুত্র বশির আহমদ এম.এ। প্রকাশকাল ১লা মে ১৯১৫ ইং কাদিয়ান থেকে)।

অর্থ- “এই অবস্থায় আর কি কোনো সন্দেহ থাকতে পারে যে, কাদিয়ানে আল্লাহতালা মুহাম্মদ (সা:)-কে পুনরায় অবতরণ করে স্বীয় প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন যা তিনি ‘ওয়া আখারীনা মিনহুম’-এর মধ্যে করেছিলেন!” (রেফারেন্স:- ‘কালিমাতুল ফছল’ ষষ্ঠ অধ্যায় পৃষ্ঠা নং ১৬; অনলাইন এডিশন)।

অর্থ- “আমরা বলে থাকি যে, কুরআন কোথায় বিদ্যমান! কুরআন যদি বিদ্যমান থাকতই তাহলে কারো আগমন করার প্রয়োজন কী ছিল? সমস্যা তো এটাই যে, কুরআন দুনিয়া থেকে উঠে গেছে! সেজন্যই তো মুহাম্মদ (সা:)-কে দুনিয়াতে দ্বিতীয়বার বুরুজীভাবে প্রেরণ করে তাঁর উপর কুরআন শরীফ নাযিল করার প্রয়োজন দেখা দেয়।” (রেফারেন্স:- ‘কালিমাতুল ফছল’ ষষ্ঠ অধ্যায় পৃষ্ঠা নং ৮৪; অনলাইন এডিশন)।

উল্লেখ্য, এতেই বুঝা যাচ্ছে যে, কাদিয়ানীরা জন্মান্তরবাদেই বিশ্বাসী। অথচ যুক্তিও বলছে যে, এই মতবাদ ঠিক নয়। কেননা আমরা যখন প্রতিদিন কারও মা, কারও বোন মারা যেতে দেখতে পাচ্ছি তাহলে এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসীরা এমন কোনো স্থানে ভুলবশত বিয়ে করে বসবেনা তার গ্যারান্টি কী?

শেষকথা হল, এরপরেও একজন জ্ঞানী ব্যক্তি কখনো কি একথা বলতে পারে যে, দেখতে একই হলেও ভেতরে দুই নাম্বারি নেই!? কখনো না। বরং ভেতরে দুই নাম্বারি আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহ আমাদের সত্যিটা বুঝার তাওফিক দিন।

নাইজেরিয়ায় কাদিয়ানী উপাসনালয়ে কলেমার মধ্যে ‘আহমাদু রাসূলুল্লাহ’ বাক্যের প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টা রুখে দেয় স্থানীয় মুসলমানরা

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

কলেমা তাইয়্যেবাহ নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন

0

কলেমা তাইয়্যেবাহ নিয়ে কথিত শায়খদের গবেষণার ইলমি দুরাবস্থা ও আমাদের পরিতাপ

সহীহ হাদীসে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সম্পূর্ণ কলেমাটি একত্রে আছে কি?

আমাদের এই দেশের তথাকথিত এক শায়খের কথা দিয়েই শুরু করছি, তার নামটি এখানে উল্লেখ করতে চাই না। তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি কথায় কথায় সহীহ হাদীস এর বুলি আওড়িয়ে থাকেন। দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার যে, তিনি সূরা ফাতিহাটাও সহীহশুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে পারেননা। বাংলায় ভালো মত কথাও বলতে পারেননা।

তিনি নাকি ৬ মাস ধরে গবেষণা করেও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ‘ সম্পূর্ণ কলেমা একত্রে খুঁজে পাননি! আর তাই এই কলেমা নাকি এক সাথে লেখা এবং পড়া শিরিক! মানুষটি কথায় কথায় সৌদি আরবকে নিজের আইডল হিসেবে জাহির করারও চেষ্টা করে। প্রকৃত তাওহীদ নাকি শুধু সৌদি আরবেই, আর কোথাও নেই। অথচ সৌদী আরবের পতাকায়ও এ কালিমাই অংকিত রয়েছে। মানুষটি এতটাই বেসামাল যে, তার মতে আফগান ইমারাতে ইসলামীয়া’র সবাই নাকি মুশরিক, মাজারপূজারি! আচ্ছা, অনেক হয়েছে; আজ আর না। এবার চলি মূল আলোচনায়! সত্যিই কি সহীহ হাদীসের কোথাও কলেমা সম্পূর্ণভাবে একত্রে লিখা নেই? তাহলে দেখা যাক, প্রথমে কয়েকটি হাদীস অনুবাদ সহ নিচে উল্লেখ করছি,

হাদীস ১। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, دَخَلْتُ الجَنَّةَ فَرَأيْتُ فِي عارِضَتِي الجَنَّةِ مَكْتُوباً ثلاثة أسطر بالذهب: السطر الأول لا إله إِلَّا الله محمَّدٌ رَسوُلُ الله والسَّطرُ الثَّانِي ما قدمنا وَجَدْنا وَمَا أكَلْنا رَبِحْنا وَمَا خَلَّفْنا خَسِرْنا والسَّطْرُ الثَّالِثُ أُمَّةٌ مُذْنِبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ অর্থ, মেরাজকালে আমি বেহেশতে প্রবেশের সময় এর দু’পাশে দেখি তিনটি লাইনে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। যথা, ১. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ২. আমরা যে ভালো কর্ম পেশ করেছি, তা পেয়েছি। যা খেয়েছি তা থেকে উপকৃত হয়েছি; যা ছেড়ে এসেছি তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ৩. উম্মত হলো গোনাহগার, আর রব হলো ক্ষমাশীল। (জামেউস সগীর, কৃত ইমাম জালালউদ্দীন আস-সুয়ূতী ১/৮৭১ হাদীস নং ৪১৮৬, ইমাম সুয়ূতী রহ. লিখেছেন, হাদীসটির মান, সহীহ)।

হাদীস ২। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ একটি হাদীসে রাসূল (সা.) তদানীন্তন কাফের ও সত্যিকারের মুসলমানদের অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে নিম্নোক্ত আয়াতের আলোকে বলেন, إِذْ جَعَلَ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى وَكَانُوا أَحَقَّ بِهَا وَأَهْلَهَا وهى : لا اله إلا الله محمد رسول الله- অর্থ, কাফেররা মুসলমানদের সাথে সেই অজ্ঞ যুগের বাড়াবাড়িতে লিপ্ত ছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহতালা (মুসলমানদের একত্ববাদের ফলে) রাসূল (সা.) ও ঈমানদারদের ওপর স্বীয় প্রশান্তি অবতরণ করেন। আর তাদের জন্য তাকওয়ার কালিমা আবশ্যক করে দেন। যার সত্যিকার ধারক তারাই। এই তাকওয়ার কালিমাটি হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। (আল-আসমা ওয়াস-সিফাত পৃষ্ঠা নং ১৩১, হাদীস নং ১৯৫; , সংকলক ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনে হোসাইন আল-বায়হাক্বী রহ. মৃত. ৪৫৪ হিঃ)। হাদীসটির সনদে উল্লিখিত সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য ও হাদীসটির মান, সহীহ

  • উল্লেখ্য, এই হাদীসটি মূলত কুরআনে কারীমের সূরায়ে ফাতহ-এর ২৬ নম্বর আয়াতে উল্লিখিত كلمة التقوى (কালিমাতুত তাক্বওয়া)-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বর্ণিত অসংখ্য হাদীসগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া তাফসীরের প্রায় সব কিতাবে কালিমাতুত তাক্বওয়ার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে লিখা আছে, তা হলো “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”। (প্রায় ৫০টিরও বেশি তাফসীরগ্রন্থ আমরা যাচাই করেছি। বিশেষ কয়েকটি গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/১৬৫, রূহুল মা’আনী ১৩/২৯২, কুরতুবী ১৬/১৯০, তাবারী ১১/৩৬৫, বাগাভী ৫/১১৬)।

হাদীস ৩। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, কুরআনে কারীমের সূরা কাহাফ-এর ৮২ নম্বর আয়াত অবলম্বনে, “এর নিচে ছিল তাদের গুপ্ত ধন”। এখানে গুপ্ত ধন বলতে একটি স্বর্ণের বোর্ড, এতে কয়েকটি বিষয় লেখা ছিল। সবশেষে লেখা ছিল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”। (তাবরানী কিতাবুদ দু’আ, হাদীস নং ১৬২৯, বায়হাকী যুহদ, হাদীস নং ৫৪৪, ইমাম সুয়ূতী আদ-দুররুল মনসূর ৯/৬০০ দ্রষ্টব্য)।

  • এই হাদীসের বর্ণনাকারীদের সবাই ثقة বা বিশ্বস্থ, শুধু বুশাইর নামক একজন রাবী এমন রয়েছেন যাকে ইমামগণের অনেকে صدوق তথা গ্রহণযোগ্যও বলেছেন। তাই হাদীসটির মান, হাসান বা অন্যান্য হাদীসের সমন্বয়ে সহীহ

হাদীস ৪। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, كَانَتْ رَايَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَوْدَاءَ وَلِوَاؤُهُ أَبْيَضُ، مَكْتُوبٌ عَلَيْهِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ- অর্থ, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঝাণ্ডাটি ছিল কালো এবং পতাকাটি ছিল সাদা রঙের। এই পতাকায় লেখা ছিল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। (আল মু’জামুল আওসাত লিত-তাবরানী ১/১২৫, হাদীস নং ২২১, শামায়েলে ইমাম বাগাভী, হাদীস নং ৮৯৪)। এই হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য। তবে এর একজন বর্ণনাকারী “হাইয়্যান” সম্পর্কে কেউ কেউ অপরিচিত বলেছেন। কিন্তু তার সম্পর্কে প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ ইমাম আবু হাতেম (রহ.) صدوق বা নির্ভরযোগ্য বলে মত ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া ইমাম বাজ্জারও (রহ.) তাকে সুপ্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণের মধ্যে গণ্য করেছেন । (ইমাম ইবনে আদী সংকলিত ‘আল জারহু ওয়াত-তা’দীল’ ৩/২৪৬ দ্রষ্টব্য)।

হাদীস ৫। সাহাবী হযরত বুরাইদা (রা.) হতে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, انطلق أبو ذر ونعيم ابن عم أبي ذر، وأنا معهم يطلب رسول اللَّه صلّى اللَّه عليه وآله وسلّم وهو مستتر بالجبل، فقال له أبو ذر: يا محمد، أتيناك لنسمع ما تقول، قال: أقول لا إله إلا اللَّه محمد رسول اللَّه، فآمن به أبو ذر وصاحبه. অর্থ, আবুজর এবং নু’আইম তারা দু’জন রাসূল (সা.)-এর খুঁজে বের হন। আমি তাঁদের সাথে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন এক পাহাড়ের আড়ালে ছিলেন। তখন আবুজর (রা.) রাসূল (সা.)-কে বললেন, হে মুহাম্মদ (সা.) আপনি কি বলেন আমরা তা শুনতে এসেছি। তখন রাসূল (সা.) বলেন, আমি বলি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। (আল ইছাবাহ ফী তাম-ঈযিস সাহাবাহ, ইমাম ইবনে হাজর আল আসকালানী ৬/৩৬৫, হাদীস নং ৮৮০৯, যিয়াদাতুল মাগাযী ইউনুস ইবনে বুকাইর দ্রষ্টব্য)। এই হাদীসের সনদও সহীহ, এর সকল বর্ণনাকারী ছিকাহ বা বিশ্বস্থ

হাদীস ৬। হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻓﺺ ﺧﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺣﺒﺸﻴﺎ، ﻭﻛﺎﻥ ﻣﻜﺘﻮﺑﺎ ﻋﻠﻴﻪ : ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ، ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﺳﻄﺮ، ﻭﻣﺤﻤﺪ ﺳﻄﺮ، ﻭﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺳﻄﺮ অর্থ, নবী করীম (সা.)-এর আংটির পানরটি ছিল আবিসিনীয়। আর তাঁর উপর লেখা ছিল ‘,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’। এর প্রথম লাইন ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’, দ্বিতীয় লাইন ‘‘মুহাম্মাদ’’, তৃতীয় লাইন ‘‘রাসূলুল্লাহ’’। (আখলাকুন নবী, আবুশ শাইখ আল ইছবাহানী রহ., হাদীস নং ৩৩৫, হাদীসের মান সহীহ)।

  • আবুশ শাইখ (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত পরিচায় হল, তার পুরো নাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে হাইয়্যান, তিনি ‘আবুশ খাইখ’ নামে প্রসিদ্ধ। তার উপাধী আল ইমামুল হাফেজুস সাদিক মুহাদ্দিসু ইছবাহান। মৃত ২৭৪ হিজরী। ইমাম যাহাবী তার ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে (১৬/২৭৭) তাঁর মৃত্যু সন এটাই লিখেছেন। বিস্তারিত উইকিপিডিয়া থেকে দেখুন। ক্লিক করুন।

আল্লাহ তাআলা এমন অজ্ঞ গবেষকদের মুর্খতাসূলভ গবেষণা থেকে উম্মতের ঈমান ও আমলকে হিফাজত করুন। আমীন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মুসলিমরা উটের প্রস্রাব কেন পান করে? এতে কি শেফা রয়েছে?

0

উত্তরদাতা :

প্রশ্নকর্তার প্রশ্নটাই অমূলক ও বিভ্রান্তিকর। কেননা কোনো সুস্থ্য-সবল মুসলিম জেনে-বুঝে কখনো উটের প্রস্রাব পান করেনা, করতে কাউকে উৎসাহিতও করেনা। বরং ইসলামের উপর এধরণের বেশিরভাগ আপত্তি অগভীর এবং অস্বচ্ছ, বিদ্বেষ মূলক এবং যাচাই-বাছাই বিহীন। আসুন, জবাবটা নিন।

  • রাসূল (সা.)-এর হাদীস সমূহকে সামনে রাখলে নিচের বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে যে,

১। হাদীসের কোথাও মুসলমানদেরকে উটের প্রস্রাব পান করতে বলা হয়নি, বরং উটের প্রস্রাব পান করতে চাওয়ায় নির্দিষ্ট একটি রোগাক্রান্ত সম্প্রদায়কে সাময়িক সময়ের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছিল মাত্র। এই সংক্রান্ত সবগুলো বর্ণনা দেখলে এটাই প্রতীয়মান হবে।

২। সুস্থ্য কাউকে নয়, বরং নির্দিষ্ট একটি অসুস্থ সম্প্রদায়কে রোগমুক্তির জন্য স্রেফ প্রতিষৌধক হিসেবেই তা পান করতে অনুমতি দিয়েছিলেন।

৩। ঐ সম্প্রদায়টি মুসলিম ছিল না, তবে ইসলাম গ্রহণ করার আগ্রহ জানিয়েছিল কিন্তু বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করার পর পরবর্তীতে মুরতাদ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটায় বলা যাচ্ছে যে, ঐ সম্প্রদায়টি মূলত মুনাফিকই ছিল।

৪। অমুসলিম সম্প্রদায়টি ইসলাম গ্রহণের আর্জি নিয়ে মদীনায় রাসূল সা.-এর নিকট এসে নিজেদের অসুস্থতার অভিযোগ করে উটের প্রস্রাব পান করতে আগ্রহ পেশ করায় রাসূল সা. তাদেরকে সেটি দুধের সাথে মিশিয়ে পান করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন শুধুমাত্র রোগের প্রতিষৌধক হিসেবে, সাধারণভাবে ও নিঃশর্তভাবে নয়।

৫। উটের প্রস্রাব পান করার উক্ত পরামর্শ সাধারণ কোনো বিধান বা উদ্বুদ্ধমূলক বিষয় ছিল না, শুধুমাত্র সময়সাপেক্ষ ও নির্দিষ্ট একটি রোগাক্রান্ত সম্প্রদায়ের জন্য, যারা ভিনদেশী ছিলেন এবং মদীনার আবহাওয়ার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে ব্যর্থ ছিলেন। যেজন্য ফোকাহায়ে কেরামদের প্রায় সকলেই উটের মুত্র বা প্রস্রাব পান করাকে শরীয়তের অন্যান্য বিধিমালার আলোকে নিষিদ্ধ বলেই ফতুয়া (রায়) প্রদান করে গেছেন। যাদের মধ্যে ইমামে আযম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী প্রমুখ অন্যতম।

উপরে কয়েকটি পয়েন্টে কিছু জবাব দিলাম, এবার একটু নাতিদীর্ঘ জবাবে আসি,

প্রথমে রাসূল সা.-এর একটি হাদীস আপনাকে শুনাব। হযরত আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে,

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَهْطًا، مِنْ عُكْلٍ ثَمَانِيَةً قَدِمُوا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَاجْتَوَوُا الْمَدِينَةَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، ابْغِنَا رِسْلاً‏.‏ قَالَ ‏ “‏ مَا أَجِدُ لَكُمْ إِلاَّ أَنْ تَلْحَقُوا بِالذَّوْدِ ‏”‏‏.‏ فَانْطَلَقُوا فَشَرِبُوا مِنْ أَبْوَالِهَا وَأَلْبَانِهَا حَتَّى صَحُّوا وَسَمِنُوا، وَقَتَلُوا الرَّاعِيَ، وَاسْتَاقُوا الذَّوْدَ، وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلاَمِهِمْ

অর্থ, উকল নামক গোত্রে আট ব্যক্তির একটি দল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো। মদীনার আবহাওয়া তারা উপযোগী মনে করেনি। তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য দুগ্ধবতী উটনীর ব্যবস্থা করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমরা বরং সাদকার উটের পালের কাছে যাও। তখন তারা সেখানে গিয়ে সেগুলোর প্রস্রাব ও দুধ পান করে সুস্থ এবং মোটাতাজা হয়ে গেল। তারপর তারা উটের রাখালকে হত্যা করে উটের পাল হাকিয়ে নিয়ে গেল এবং তারা মুরতাদ হয়ে গেল। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮০৯; ইফা)।

এই হাদীসের দিকে লক্ষ্য করুন, রাসূল (সা.) তাদেরকে উটনীর প্রস্রাব পান করতে নিজ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই পরামর্শ দেয়ার উল্লেখ নেই। ওরা নিজেরাই বরং স্বেচ্ছায় উটনীর প্রস্রাব এবং দুধ এক সাথে পান করে এবং সেখানেই তাদের প্রতিষৌধক রয়েছে বলে বিশ্বাস করেছিল। এভাবে এই সংক্রান্ত সবগুলো হাদীস একত্রিত করে মোটের উপর চিন্তা করলেই বুঝা যায় যে, রাসূল সা. নিজ থেকে প্রস্রাব পান করতে বলেননি, বরং ওরা পান করতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তিনি (সা.) হয়ত বা তাদেরকে একটি নিয়ম মেনে অনুমতি দিয়েছিলেন মাত্র। নিয়মটি নিম্নরূপ,

  • সদকার উটনীর প্রস্রাব।
  • দুধের সাথে মিশিয়ে।
  • শুধু রোগের আরোগ্য লাভের উদ্দেশ্যে প্রয়োজন মাফিক।

বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান কী বলে? এবং ইসলাম বিরুধীদের অপপ্রচারের জবাবে মুসলিম গবেষকরা কী বলে?

ইসলাম বিরোধী ওরিয়েন্টালিস্টরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বলে থাকে যে, “দেখ দেখ, তোমাদের নবী উটের প্রস্রাব পান করতে বলেছে। তোমাদের নবী কত বাজে আর অবৈজ্ঞানিক কথা বলল!” এবার তাদের এসমস্ত কাটছাঁট ও খন্ডিত বক্তব্যের বিপরীতে আমরা যুক্তি দিয়ে বলতে পারি যে,

রাসূল (সা.) শুধু শুধু উটের প্রস্রাব পান করতে বলেননি, বরং রোগের প্রতিষৌধক হিসেবে দুধের সাথে মিশিয়ে কেউ পান করতে চাইলে তখন হয়ত বা অনুমতি দিয়েছিলেন, ব্যাস এটুকুই। এছাড়া বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সিনার চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল কানুন ফিত-তিব’ (القانون فى الطب) ১৬ শতক পর্যন্ত মুসলিম ও পশ্চিমা বিশ্বের মেডিক্যালগুলোতে পড়ানো হতো। সে গ্রন্থে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্যে উটের প্রস্রাবকে অন্য কিছুর সাথে মিশিয়ে ওষুধ তৈরি করার নিয়মাবলী দেয়া হয়েছে। সে নিয়ম কেবল মুসলিম বিশ্ব নয়, পশ্চিমা বিশ্বেও গত তিন-চার’শ বছর আগে প্রচলিত ছিলো। ইবনে সীনার চিকিৎসা গ্রন্থ ‘আল কানূন‘ এর খন্ড ৩ পৃষ্ঠা নং ১৮০ দেখুন, তিনি লিখেছেন, وقد جُرِّبَ بول الجمل الأعرابي، والمعقود منه ضماداً ومرهماً ومخلوطاً به، فكان نافعاً অর্থ, আরবীয় উটের প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তার মিশ্রণ ঘটিয়ে মলম আর মালিশের মেডিসিন তৈরির কাজ সম্পন্ন করা গিয়াছে। আর তাতে উপকারিতাও রয়েছে।

এমনকি এই আধুনিক যুগে এসেও আমেরিকার নাসা সহ জার্মান, জাপান, চীন, ভারতের মতো বিভিন্ন দেশে মেডিক্যালের একাডেমিক জার্নাল ও বইয়ে উটের প্রস্রাব নিয়ে রিসার্চ হচ্ছে; এবং তারা বলছেন যে, প্রস্রাবকে মেডিসিন হিসাবে ব্যবহার করা হতে পারে ও এতে বহু রোগের প্রতিষৌধক রয়েছে। এ সম্পর্কে এটিও দেখা যেতে পারে, ক্লিক করুন।

সুতরাং, উটের প্রস্রাবকে ওরিয়েন্টালিস্টরা যেভাবে অযৌক্তিক ও বর্বর আকারে উপস্থাপন করে ইসলামের নবীকে আক্রমণ করছে, তা সম্পূর্ণ অবিচার ও অন্যায়। নবী করীম (সা.) নিজ থেকে প্রস্রাব পান করতে যদি বলতেনও তবু এই সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলার কোনোই সুযোগ নেই। দুঃখের বিষয় যে, হাদীস বিশেষজ্ঞ পূর্ববর্তী স্কলারদের ব্যাখ্যাগুলো যাদের পড়াশোনা নেই তারাই মূলত হাদীসগুলোর উপর ভাসা ভাসা কিংবা স্বল্প পরিসরে জ্ঞান রাখার কারণেই বিভ্রান্ত হয়ে থাকে এবং হাদীস অস্বীকারকারীদের চটকদার কথাবার্তায় ধোকা খাচ্ছেন, হাদীসকে অস্বীকার করার মত আত্মঘাতী সিদ্ধান্তেও ভুগছেন! আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।

কোরা ব্লগ থেকে

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

আল্লাহ’র জন্য হাত পা চেহারা সাব্যস্ত করা প্রসঙ্গে

আল্লাহর জন্য হাত পা চেহারা ইত্যাদি সাব্যস্ত করা নিয়ে স্কলারশিপ ইসলামি বিদ্ধানগণের ফিকহ ও প্রাধান্যযোগ্য মতটি কেমন?

লিখেছেন শায়খ ইজহারুল ইসলাম

প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কনসেপ্ট মনে রাখতে হবে।

১। আল্লাহ তায়ালা সব ধরণের অঙ্গ-প্রতঙ্গ থেকে মুক্ত। অঙ্গ-প্রতঙ্গের ধারণা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র।

২। আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি দেহ ও অঙ্গ-প্রতঙ্গ বিশিষ্ট নন। সৃষ্টি যেমন বিভিন্ন অংশ মিলে গঠিত হয়, আল্লাহ তায়ালা এধরণের অংশ অংশ মিলে গঠিত হওয়ার ধারণা থেকে মুক্ত। ছোট বা বড় কোন ধরণের অংশের ধারণা সম্পূর্ণ তাউহীদ পরিপন্থী ও কুফুরী।

৩। কুরআন ও সুন্নাহের কিছু কিছু শব্দ আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে যেগুলো সাধারণত: অংশ বা অঙ্গ বোঝায়। এগুলোর বিষয়ে আহলে সুন্নতের সর্বসম্মত ঐকমত্যপূর্ণ মতামত হল, এগুলো আল্লার ক্ষেত্রে অংশ বা অঙ্গ প্রমাণ করে না। এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর জন্য অংশ বা অঙ্গ সাব্যস্ত করা সুস্পষ্ট কুফুরী।

যেমন, আল্লাহর রং (সিবগাতুল্লাহ), আল্লাহর চেহারা(ওয়াজহুল্লাহ), আল্লাহর হাত (ইয়াদুল্লাহ)।

  • প্রশ্ন: এগুলো থেকে আল্লাহর অংশ বা অঙ্গ সাব্যস্ত করা যদি কুফুরী হয়, তাহলে পবিত্র কুরআনে এগুলো ব্যবহার করা হয়েছে কেন?

উত্তর: পবিত্র কুরআন যেহেতু আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং আরবী ভাষার অলংকার খুবই উচ্চাঙ্গের, এজন্য পবিত্র কুরআন অলঙ্কারের শাস্ত্রের দিক থেকে সবার উপরে।

ভাষা ও সাহিত্যে অঙ্গ ও অংশের অর্থ নেয়া ছাড়াও এজাতীয় শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন, কুরআনে আছে দিনের চেহারা (ওয়াজহান নাহার)। অথচ আমরা জানি, রাত-দিনের কোন চেহারা হয় না। এটা সাহিত্যের অলঙ্কার।

কুরআনে আছে, সত্যের পা ( কাদামা সিদক)। আমরা সবাই জানি, সত্য – মিথ্যার কোন হাত-পা হয় না। এরপরও ভাষার অলঙ্কারের হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

কুরআনে আছে, পিতা-মাতার জন্য নম্রতার ডানা (জানাহাজ জুল) বিছিয়ে দাও। অথচ আমরা জানি, নম্রতার কোন ডানা হয় না।

সুতরাং আরবী ভাষা ও সাহিত্যের উচ্চাঙ্গের অলঙ্কারের কারণে এধরণের ব্যবহার থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। এগুলো কোন দোষণীয় বিষয় নয়।

বরং এগুলো কুরআনের সৌন্দর্য্য। কারণ, যখন বলা হয়, তোমরা আল্লাহর রঙে রঙীন হও, তখন যে মর্ম ও উদ্দেশ্য বোঝান হয়, স্বাভাবিকভাবে বললে এতো অর্থবোধক হয় না। যদি বলি, তোমরা ভালো গুণে গুণান্বিত হও, তাহলে এটা অতটা আবেদনময় হয় না।

আগের উদাহরণে পিতার জন্য নম্রতার ডানা বিছিয়ে দেয়ার কথাটাই ধরুণ। সরল-স্বাভাবিকভাবে যদি বলা হয়, তোমরা পিতা-মাতার সাথে ভালো আচরণ করো, এটা যতটুকু আবেদনময়, এর চেয়ে শতগুণ অর্থবহ হলো, তোমরা পিতা-মাতার সামনে দয়া-মায়া ও নম্রতার ডানা বিছিয়ে দাও।

এজন্য, একথা ভাবা কখনও উচিৎ হবে না যে, যেসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়, সেসব বিষয় পবিত্র কুরআনে আসলো কেন? নাউজুবিল্লাহ।

পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে এধরণের আপত্তি বা ধারণা খুবই মারাত্মক। কারণ, যেটা পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য্য সেটাকে কুরআনের ত্রুটি বিবেচনা করা হচ্ছে। অথচ পবিত্র কুরআন সব – ধরণের দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। এজন্য আমরা দেখি যে, এসব আয়াত ও বক্তব্যে সাহাবায়ে কেরাম কোন আপত্তি করেননি। কারণ তারা মাতৃভাষার অলংকার ও উচ্চাঙ্গের সাহিত্য সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন।

  • প্রশ্ন: এসব শব্দের ক্ষেত্রে অংশ বা অঙ্গ বিশ্বাস না করে কি এগুলো আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা যায়?

উত্তর: এসব শব্দের বাহ্যিক, আক্ষরিক বা সরল অর্থ হল দেহের অংশ বা অঙ্গ। এজন্য অংশ বা অঙ্গের অর্থ বাদ দিলে বাহ্যিক বা আক্ষরিক আর কোন অর্থ অবশিষ্ট থাকে না।

যেহেতু বাহ্যিক সরল অর্থ তথা অংশ বা অঙ্গ অর্থটা সকলের মতে কুফুরী, এজন্য এই কুফুরী অর্থ বাদ দেয়ার পর এই শব্দগুলোর আর কোন সরল অর্থ অবশিষ্ট থাকে না, যা আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা যায়।

এখন আমাদের সামনে দু’টি বিষয় থাকছে,

১। মূল শব্দ, যার বাহ্যিক অর্থকে বাদ দেয়া হয়েছে।

২। শব্দের অনেক রুপক অর্থ ও ব্যবহার।

এই পরিস্থিতিতে আলিমদের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছে। কেউ বলেছেন, বাহ্যিক অর্থ বাদ দেয়ার পর মূল যে শব্দটা অবশিষ্ট থাকছে, এ শব্দকে আল্লাহর সিফাত বা গুণ বলা হবে। তবে এক্ষেত্রে আলাদা কোন অর্থ সাব্যস্ত করা হবে না।

প্রশ্ন হয়, অর্থহীন আবার শব্দ হয় নাকি? তখন তারা বলেন, অর্থটা আমাদের জানা নেই। আল্লাহ ভালো জানেন। একে পরিভাষায়, ইসবাত মায়াত তানজীহ বলে। অর্থাৎ বাহ্যিক অর্থ পরিত্যাগ করে শুধু শব্দটাকে সিফাত বা গুণ সাব্যস্ত করা।

আরেকদল আলিম বলেন, শব্দকে বাহ্যিক অর্থ থেকে বাদ দেয়ার পর আমাদের দায়িত্ব শেষ। আমরা আগ বেড়ে একে সিফাত বা গুণ বলব না আবার নাকচও করব না। এ বিষয়ে পুরো বিষয়টা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিব। একে পরিভাষায় তাফয়ীদ মায়াত তানজীহ ( বাহ্যিক অর্থ বাদ দিয়ে শব্দকে আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়া) বলে।

প্রথম মতের সাথে দ্বিতীয় মতের পার্থক্যটা স্পষ্ট। প্রথম দল শব্দকে তার সরল অর্থ থেকে বাদ দেয়ার পর নিজেদের পক্ষ থেকে সিফাত বলছেন। তবে অর্থের বিষয়টি তারা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিচ্ছেন। আর দ্বিতীয় দল সিফাতও বলছেন না। নাকচও করছেন না। বরং পুরো বিষয়টিকেই আল্লাহর উপর ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনিই ভালো জানেন।

এখানে আরেকদল আছেন। যারা শব্দের সরল অর্থ(অংশ বা অঙ্গ) বাদ দেয়ার পর, শব্দকে পুরোপুরি অর্থহীন বলতে নারাজ। তারা বলেন, কুরআন সুস্পষ্ট আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। বাহ্যিক অর্থ যেহেতু নেয়া সম্ভব হচ্ছে না, সুতরাং আরবী ভাষার নিয়ম মেনে এ শব্দের সবচেয়ে উপযোগী রুপক অর্থটি নিতে হবে। পরিভাষায় যাকে, তা’বীল মায়াত তানজীহ বলে।

তাদের বক্তব্য হল, মূল শব্দের সরল বা বাহ্যিক অর্থ (অংশ বা অঙ্গ) নেয়াটা অসম্ভব হলেও পুরো বাক্যের ব্যবহার থেকে একটি সুস্পষ্ট মর্ম বোঝা যায়। আনুষঙ্গিক মর্ম থেকে বক্তার মূল উদ্দেশ্য বোঝা গেলেই যথেষ্ট।

যেমন কুরআনে এসেছে, নিশ্চয় তোমাদেরকে আল্লাহর চেহারার জন্য আহার করাচ্ছি।

এখানে চেহারা শব্দটি সরল বা বাহ্যিক অর্থ (অংশ বা অঙ্গ) নেয়া সম্ভব নয়। বরং এটি সবার মতে কুফুরী। সুতরাং আল্লাহর চেহারা দ্বারা বাহ্যিক চেহারা উদ্দেশ্য নেয়া যাচ্ছে না। তবে আনুষঙ্গিক বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, এখানে আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য আহার করান হচ্ছে। সুতরাং এখানে চেহারা দ্বারা সন্তষ্টি উদ্দেশ্য। এটাই মূলত: তা’বীল মায়াত তানজীহ।

  • এখন প্রশ্ন হল, আক্বিদায় তো মতবিরোধ হওয়ার কথা না, তাহলে এই মতবিরোধে কে সঠিক?

উত্তর: এখানে অকাট্যভাবে ঐকমত্যের বিষয় আছে। সেটি হল, এসব শব্দের সরল বা বাহ্যিক অর্থে বিশ্বাস করা কুফুরী। এ বিষয়ে উপরের তিনটি দলই একমত। এবং এই ঐকমত্যের বিষয়টিই আহলে সুন্নতের আক্বিদার মূল।

সরল অর্থ বাদ দেয়ার পর শুধু শব্দকে আল্লাহর সিফাত বলা বা কোন কিছু না বলে পুরো বিষয়কে আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়া অথবা আরবী সাহিত্য ও অলংকারের নিয়ম মেনে আনুষঙ্গিক বক্তব্য থেকে রুপক অর্থ নেয়া, সবগুলোই আহলে সুন্নতের নিকট গ্রহণযোগ্য। কোনটাই বাতিল না। সালাফ থেকে উপরের সবগুলিই পাওয়া যায়। একেকজন তাদের বুঝ ও গবেষণা অনুযায়ী একেকটাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

  • প্রশ্ন: তথাকথিত সালাফীদের সাথে পার্থক্য কোথায়?

উত্তর : সালাফীরা এখানে শব্দকে তার বাহ্যিক বা সরল অর্থে বিশ্বাস করতে বলে। যা আহলে সুন্নতের মতে, সুস্পস্ট বাতিল।

তাদেরকে যদি বলা হয়, হাতের বাহ্যিক অর্থ তো অংশ বা অঙ্গ। দেহের অংশ বা অঙ্গের অর্থ ছাড়া হাতের আর তো কোন সরল অর্থ বা উদ্দেশ্য নেই। তখন তারা বলে, না না। আমরা তো অংশ বা অঙ্গের অর্থে বিশ্বাস করি না।

তাহলে হাতের সরল বা বাহ্যিক অর্থটা কী? তখন আর বলতে পারে না।

এজন্য মতবাদ হিসেবে, তথাকথিত সালাফীদের মূলনীতিটা দেহবাদী কুফুরী মূলনীতি। এদের কিছু কিছু আলিম হয়ত অংশ বা অঙ্গে বিশ্বাস করে না, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ অংশ বা অঙ্গে বিশ্বাস করার কারণে দেহবাদী আক্বিদা রাখে। এজন্য মূলনীতির দিক থেকে সালাফীরা আহলে সুন্নত বহির্ভূত বাতিল আক্বিদার জামাত। তবে এদের মধ্যে যারা আল্লাহর অঙ্গ বা অংশে বিশ্বাস করে না এবং বাহ্যিক বা সরল অর্থ নেয়ার দাওয়াত দেয় না, এদেরকে ভ্রষ্ট না বললেও যারা সাধারণ মানুষকে বাহ্যিক বা সরল অর্থে বিশ্বাস করতে বলে এরা ভ্রষ্ট।

মোটকথা, মূলনীতির দিক থেকে সালাফী মতবাদ আহলে সুন্নত বহির্ভূত। মূলনীতিটা দেহবাদী আক্বিদার অনুরূপ।

সংগৃহীত

খ্রিস্টান পাদ্রী ডেপুটি আথহাম ও মির্যা কাদিয়ানী

0

খ্রিস্টান পাদ্রী ডেপুটি আব্দুল্লাহ আথহাম সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানীর ভবিষ্যৎবাণী প্রসঙ্গে:

ডিপুটি আব্দুল্লাহ আথহাম

প্রশ্নকর্তা : মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী খ্রিস্টান পাদ্রী ডেপুটি আব্দুল্লাহ আথহাম সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করেছিল যে, তিনি ১৫ মাস পর মারা গিয়ে হাবিয়া দোজখে নিক্ষিপ্ত হবেন, পরে কি ভবিষ্যৎবাণীটি পূর্ণ হয়েছিল?

উত্তরদাতা : অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আথহাম সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানী আপনা অনুসারীদের নিয়ে বেঁধে দেয়া নির্দিষ্ট সময়ের শেষ দিনটির সারা রাত্রি পর্যন্ত খুবই দোয়া, মোনাজাত ইত্যাদি করেছিলেন। খুব বেশি কান্নাকাটিও করেছিলেন মাবুদের দরবারে। তাহলিল, খতম (অজিফা) ও দানা-ফানা পড়েও আথহামের মৃত্যুর ফরমান জারি করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, মির্যার সেই তাবৎ প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। যার ফলে সুচতুর ও ধুর্ত মির্যা কাদিয়ানী কাসুন্দির পথ বেছে নেন এবং নিজেকে রক্ষা করতে আপনা কৃত ‘শর্ত’-এর ব্যাখ্যা দিয়েও ব্যর্থ হন। কেননা তার বেধে দেয়া নির্ধারিত সময়ের ভেতর আথহামের মৃত্যু না হওয়ায় তিনি নিজেকে রক্ষা করতে ‘শর্ত’-এর যে বেলুন নিয়ে উড়ো উড়ি করতে চেয়েছিলেন সেখানে ‘সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করা‘র শর্ত জুড়ে দেয়ার পর নিজেই সেই “সত্য” এর পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন অর্থাৎ ‘সত্য খোদাকে মানা‘ এবং সেটির উপর ‘প্রতিষ্ঠা থাকা‘। এটিকে এক শব্দে প্রকাশ করলে হয় ‘আথহাম ইসলাম গ্রহণ করা‘। কিন্তু আথহাম আমৃত্যু খ্রিস্টান ধর্মের উপরই বহাল ছিলেন, ইসলামে প্রত্যাবর্তন করেননি।

আথহাম সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানীর সম্পূর্ণ ঘটনাটি আমি এখানে তাদেরই লেখিত লিটারেচার থেকে পাঠকের উদ্দেশ্যে তুলে ধরছি। একজন বিজ্ঞ ও সচেতন পাঠক মাত্র পুরো লিখাটি পড়ে সহজেই আসল ব্যাপারটা বুঝতে সক্ষম হবেন, তারা সেটিকে মিথ্যার বেসাতি করে যতই সুন্দর ভাবে প্রলেপ দেয় না কেন! এখানে যে বইটির স্ক্রিনশট তুলে ধরছি এটি তাদের বর্তমান কাদিয়ানী খলীফা মির্যা মাসরূর আহমদ এর কথিত খুতবাহ। তাদেরই নিজেস্ব প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত। অনলাইন থেকে পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

  • রেফারেন্স, খুতবাতে মাসরূর (ত্রয়োদশ খন্ড) পৃষ্ঠা ৫৪-৫৭, ২০১৫ ইং

উপরের দীর্ঘ আলোচনা পড়া শেষে এবার প্রাসঙ্গিক আরও কিছু তথ্য জেনে রাখুন:

ডিপুটি আব্দুল্লাহ আথহাম সম্পর্কিত উল্লিখিত ঘটনার সাথে আরো বেশ কিছু কথার সংযোগ রয়েছে যেগুলো ঐ পাতাগুলোয় অনুপস্থিত। যেমন মির্যায়ী রচনাবলীতে উল্লেখ আছে,
১। আমি এই মুহূর্তে স্বীকারোক্তি দিচ্ছি যে, যদি এই ভবিষ্যৎবাণী মিথ্যা প্রমাণিত হয় তাহলে আমি সব ধরনের শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত। (রূহানী খাযায়েন ৬/২৯২)।
২। আথহামের মৃত্যুর ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছিল ১৮৯৩ সালের ৫ই জুন থেকে ১৮৯৪ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, প্রায় ১৫ মাসের জন্য। উল্লেখ্য, আব্দুল্লাহ আথহাম নির্ধারিত সময়ের আরও প্রায় তিন বছর পর ১৮৯৬ সালের ২৭শে জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু ঐ নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর আথহাম যখন মারা যায়নি তখন মির্যা আর তার মুরিদদের নানা স্ববিরোধী ও হাস্যকর কাসুন্দি এমনকি মিথ্যার আশ্রয়ও নিতে পিছপা হননি। যেমন, তাদের বিভিন্ন লিটারেচারে উল্লেখ রয়েছে –

(ক) আব্দুল্লাহ আথহাম মনে মনে ইসলাম গ্রহণ করায় সে মরেনি। অথচ অথহাম তার এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং বলিষ্ঠ কণ্ঠে প্রত্যাখ্যান করে। (লাহোর থেকে প্রকাশিত ‘অপাদার‘ পত্রিকায় আব্দুল্লাহ আথহামের প্রেরিত পত্র দ্রষ্টব্য, তাং ৬ই সেপ্টেম্বর ১৮৯৪ সাল)। আথহাম সে পত্রে উল্লেখ করেছেন যে, আমার ব্যাপারে এটি মির্যা কাদিয়ানীর জলজ্যান্ত মিথ্যা। কেননা আমি ধর্ম পরিবর্তন করিনি। আগেও খ্রিস্টান ছিলাম, এখনো খ্রিস্টান আছি। এরপর মির্যা কাদিয়ানীকে চুপসে যেতে হয়।

  • (খ) আথহাম মনে প্রাণে খুব ভয় পেয়ে যায়। এটি তার সত্যের দিকে ফিরে আসার নিদর্শন। তাই মৃত্যু হয়নি। কাদিয়ানী নেতাদের জন্য দুঃসংবাদ হল, নির্ধারিত সময়ের ভেতর আথহামের মৃত্যু না হওয়ায় মির্যাকে রক্ষা করতে ‘শর্ত’-এর বেলুন উড়ানোর আর কোনো সুযোগই থাকেনি। কারণ মির্যা সাহেব ‘সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করা’র শর্ত জুড়ে দেয়ার পর নিজেই সেই “সত্য” এর পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন অর্থাৎ ‘সত্য খোদাকে মানা’ এবং সেটির উপর ‘প্রতিষ্ঠা থাকা’। এটিকে এক শব্দে প্রকাশ করলে হয়, আথহাম ইসলাম গ্রহণ করা। কিন্তু আথহাম আমৃত্যু খ্রিস্টান ধর্মের উপরই বহাল ছিল, ইসলামে প্রত্যাবর্তন করেনি।

(গ) আব্দুল্লাহ আথহামের তওবাহর কারণে এটি সাময়িকভাবে বিলম্বিত হয় ঠিকই কিন্তু অবশেষে সে ধরা পড়ে। তাদের আরেকটি হাস্যকর বক্তব্য হল, আব্দুল্লাহ আথহাম সে তার তওবাহ পড়ে নেয়ার বিষয়টি গোপন করে দুনিয়াকে ধোকা দিতে চেয়েছিল বলে তাকে শপথ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি শপথ করতে রাজি হননি। ফলে তিনি পরবর্তী ২-৩ বছরের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, আথহামকে শপথ করতে হবে এমন কোনো শর্তও কি মির্যার কথিত ইলহামে উল্লেখ ছিল? কোনো কাদিয়ানী কি এর প্রমাণ করতে পারবে?

(ঘ) আব্দুল্লাহ আথহামের মৃত্যুও হয়েছে, ভবিষ্যৎবাণীও পূর্ণ হয়েছে। তবে এই মৃত্যুটা জাগতিক মৃত্যু নয়, বরং আধ্যাত্মিক মৃত্যু। তারা এটিকে কথিত এক পীর খাজা গোলাম ফরীদের নামে ভিত্তিহীন একটি রসালো গল্পের মাধ্যমে বুঝানোর চেষ্টা করে, অথচ ঘটনাটির কোনো ভিত্তিই নেই।

পাঠকবৃন্দ! খেয়াল করুন, মির্যার উক্ত বানোয়াট ভবিষ্যৎবাণীকে বাস্তব করে দেখাতে তারা কত নোংরা খেল খেলেছে। কতটা বেপরোয়া আর খোদাদ্রোহী হলে একটা মিথ্যাকে ঢাকতে কতগুলো মিথ্যা আর কাসুন্দির জন্ম দিতে পারে! এরই নাম কাদিয়ানীয়ত। অথচ মির্যা কাদিয়ানীর ঘনিষ্ঠ সহচর ইয়াকুব আলী ইরফানী সাহেবের বইতেও পরিষ্কার লিখা আছে, ‘আথহামের মৃত্যুর ভবিষ্যৎবাণীর শেষ দিনটি যখন এসে গেল জামাতের লোকদের চেহারা বিবর্ণ ধারণ করল, মন ছোট হয়ে গেল। কেউ কেউ তো অজ্ঞতাবশত বিরুদ্ধবাদীদের জন্য মৃত্যু কামনা করাই শুরু করে দিল। চারো দিকে উদাসীনতা আর বেপরোয়া ভাব প্রকাশ পেল। লোকজন চেঁচিয়ে কান্না করতে লাগল। কাঁদাকণ্ঠে ফরিয়াদ শুরু করল, ‘আয় খোদা হামে রসোয়া মত করো’। হে খোদা, আমাদের লাঞ্চিত করো না।’ (সীরাতে মসীহ মওউদ পৃষ্ঠা ৭, ইয়াকুব আলী ইরফানী; এডিটর সাপ্তাহিক আল হিকাম পত্রিকা)।

  • মির্যা বশির আহমদ এম.এ লিখেছেন, ‘যখন আব্দুল্লাহ আথহামের নির্ধারিত সময়ের শুধু একদিন বাকি তখন মসীহ মওউদ (মির্যা) তার শিষ্য আব্দুল্লাহ সানূরী আর মিয়া হামেদ আলীকে খতম (অজিফা) পড়ার জন্য কিছু দানা (বিচি) কুড়ে আনতে নির্দেশ দেন। তিনি (আব্দুল্লাহ সানূরী) বলেন, আমরা এই খতম প্রায় সমগ্র রাত্রি পর্যন্ত পড়ে সম্পন্ন করলাম। খতম (অজিফা) শেষ করার পর আমরা সেই দানাগুলো তাঁর নিকট নিয়ে আসি। যেহেতু তিনি বলেছিলেন যে, খতম পড়া শেষ হলে দানাগুলো যেন তার নিকট নিয়ে আসি। এরপর তিনি আমাদের দুইজনকে কাদিয়ানের বাহিরে, সম্ভবত উত্তর দিকে নিয়ে গেলেন আর নির্দেশ দিলেন যে, এই দানাগুলো অন্য কোনো অনাবাদি কূপে ফেলে আসতে হবে। তিনি আরও নির্দেশ দিলেন, এই দানাগুলো যখন ফেলে আসব তখন পেছনে তাকানো ছাড়াই যেন দ্রুতবেগে সেখান থেকে সরে আসি। ঘাড় ঘুরিয়েও যেন পেছন দিকে না দেখি। তারপর হযরত সাহেব দানাগুলো একটি অনাবাদি কূপে নিক্ষেপ করে দ্রুত আমাদেরকে সাথে নিয়ে ফিরে আসেন।’ (সীরাতে মাহদী ১/১৬২-৬৩; বর্ণনা নং ১৬০ নতুন এডিশন)।
সীরাতে মাহদী

দৈনিক আল ফজল (২০-জুলাই-১৯৪০ইং) এর মধ্যে পরিষ্কার লিখা আছে, আথহাম সম্পর্কে কৃত ভবিষ্যৎবাণীর শেষ দিন কাদিয়ানের সমস্ত কাদিয়ানী মুরিদ চিল্লাফাল্লা করে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ করেছিল এই বলে যে, ইয়া আল্লাহ! আথহাম মর যায়ে, ইয়া আল্লাহ! আথহম মর যায়ে। হে আল্লাহ! আথহাম যেন মরে যায়, হে আল্লাহ! আথহাম যেন মরে যায়।

  • আফসোস! একজন নবী দাবীদার নিজ অনুসারীদের দিয়ে অন্যের মৃত্যু কামনা করে দোয়া করাচ্ছে!! আবার সে দোয়া ব্যর্থও হয়েছে। এখানে প্রশ্ন আসে, ঐ নির্দিষ্ট দিনে আথহামের মৃত্যু না হওয়াটা যদি সত্যি সত্যিই মির্যার কথা অনুসারে সে তাওবা করার কারণে বা মনে মনে ইসলাম গ্রহণ করার কারণেই হয় তাহলে মির্যা কাদিয়ানী কিজন্য শেষ দিনটিতে নিজ অনুসারীদের দিয়ে আথহামের বিরুদ্ধে মৃত্যু কামনা করে খতম পড়িয়েছিলেন? কী জন্য খতম (অজিফা)ও পড়িয়ে ছিলেন, দানা পড়িয়ে সেগুলো অনাবাদি কূপে নিজেই ফেলে আসলেন? কেনই বা আপনা অনুসারীদের বুক ফাটা আত্ম-চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি করে তুলে ছিলেন? তিনি তখনই সবার মাঝে আথহামের তাওবা কিংবা সত্যের দিকে ফিরে আসার বাণী দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা দিলেই তো হত! কেন নিজ অনুসারীদের সাথে এই জঘন্য তামাশা করতে গেলেন? সে সময় দেশে স্বাক্ষরতার হার ৬% এরও নিচে ছিল বলেই সে সুযোগটা কাজে লাগালেন বুঝি! এটি কি প্রকৃত ইমাম মাহদীর চরিত্র হতে পারে?
মির্যা কাদিয়ানীর সুস্পষ্ট নবী রাসূল দাবী।

এখন আরও একটি প্রশ্ন হল, সত্যিই যদি মির্যার উক্ত ভবিষ্যৎবাণী শর্তযুক্ত (অর্থাৎ সে সত্যের দিকে তথা ইসলামে ফিরে আসলে বেঁচেও যাবে, এইরূপ) হয়ে থাকে আর তার মৃত্যু নির্দিষ্ট সময়ে না হওয়াই ঐ শর্তের কারণে হয়, তাহলে ঐ স্ববিরোধপূর্ণ কথাবার্তার কী মানে? যেমন, আধ্যাত্মিকভাবে তার মৃত্যু হয়ে গেছে বলে আখ্যা দেয়া, কিছুদিন পরে হলেও তার মৃত্যু অবধারিত বলে ব্যক্ত করা! আর সত্যিই যদি মির্যার অপর এক বক্তব্য অনুসারে আথহাম সত্যের দিকে ফিরে আসেন, তাহলে জানার বিষয় হল, সেই সত্যটা কী যার সৌভাগ্যক্রমে সে ‘হাবিয়া দোযখে নিক্ষিপ্ত‘ হওয়া থেকে রক্ষা পেল? উল্লেখ্য, কারো জন্য ‘দোযখ’ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হল ইসলাম গ্রহণ করা। কেননা, আল্লাহ নিজেই বলেছেন, আল্লাহ কারো কাছ থেকে ইসলাম ব্যতীত অন্য আর কোনো ধর্ম গ্রহণ করবেন না (আলে ইমরান ৮৫)। এখন একথাগুলোর কী জবাব?

  • এবার প্রামাণ্য কিছু সংযুক্তি নিম্নরূপ, রূহানী খাযায়েন খ-৬ পৃ-২৯১-৯৩ দেখুন,

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ঈসা (আ.) কি কাশ্মীরে এসেছিলেন?

0

ঈসা (আ.) কি কাশ্মীরে এসেছিলেন? কাদিয়ানীরা এসমস্ত আজগুবি কথাবার্তা কোত্থেকে আমদানি করে?

খন্ডনমূলক জবাব,

আপনি যদি কোনো কাদিয়ানী নেতাকে এই নিয়ে প্রশ্ন করেন তখন সে হয়ত উত্তরে বলবে, সূরা মুমিনূন এর ৫০ নং আয়াত و آويناهما الى ربوة ذات قرار و معين দ্বারা মির্যা কাদিয়ানী সাহেব ‘ঈসা (আ.) কাশ্মীরে এসেছিলেন’ মর্মে উক্ত মতবাদ উদ্ভাবন করে গেছেন! সেযাইহোক কাদিয়ানীদের বিকৃত ব্যাখ্যাটি খুব সহজে বুঝতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে অনূদিত কুরআনের কপি থেকে অত্র আয়াতের অনুবাদটুকু পড়ে নেয়ার অনুরোধ থাকল।

প্রিয় পাঠকবৃন্দ! পবিত্র কুরআনের সূরা মুমিনূন এর ৫০ নং আয়াতে উল্লিখিত (و آويناهما الى ربوة)-এর “রাবওয়া” শব্দ দ্বারা কাদিয়ানীদের কাশ্মীর উদ্দেশ্য নেয়া ঠিক হয়নি। কেননা হাদীসে রাবওয়া দ্বারা এর ভৌগোলিক অবস্থান সুস্পষ্টভাবে নির্ণীত। আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পবিত্র জবানে ‘রাবওয়া’ দ্বারা ফিলিস্তিনের একটি শহর “রামাল্লাহ“ই উদ্দেশ্য নেয়া প্রমাণিত। বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখ রয়েছে তাফসীরে ইবনে কাসীর সহ বহু জায়গায়। সহীহ হাদীসে ‘রাবওয়া’ দ্বারা এর ভৌগোলিক অবস্থান সুস্পষ্টভাবে নির্ণীত হওয়ার প্রমাণ এখানে, (হাদীসের আরবী ইবারতসহ তাফসীরে ইবনে কাসীর গ্রন্থ থেকে) :-

وقال ابن أبي حاتم : حدثنا أبي ، حدثنا إبراهيم بن محمد بن يوسف الفريابي ، حدثنا رواد بن الجراح ، حدثنا عباد بن عباد الخواص أبو عتبة ، حدثنا السيباني ، عن ابن وعلة ، عن كريب السحولي ، عن مرة البهزي قال : سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول لرجل : “ إنك ميت بالربوة ” فمات بالرملة . وهذا حديث غريب جدا .

وأقرب الأقوال في ذلك ما رواه العوفي ، عن ابن عباس في قوله : ( وآويناهما إلى ربوة ذات قرار ومعين ) ، قال : المعين الماء الجاري ، وهو النهر الذي قال الله تعالى : ( قد جعل ربك تحتك سريا ) [ مريم : 24 ] .

وكذا قال الضحاك ، وقتادة : ( إلى ربوة ذات قرار ومعين ) : هو بيت المقدس . فهذا والله أعلم هو الأظهر; لأنه المذكور في الآية الأخرى . والقرآن يفسر بعضه بعضا . وهو أولى ما يفسر به ، ثم الأحاديث الصحيحة ، ثم الآثار .

তাফসীরে ইবনে কাসীর (দশম খন্ড)

এমতাবস্থায় আমরা কিভাবে রাসূল (সা.)-এর নির্ণীত স্থানের পরিচয় পরিত্যাগ করে কাদিয়ানীদের নিজেস্ব মনগড়া ব্যাখ্যা মতে রাবওয়া হতে ভারতের “কাশ্মীর” উদ্দেশ্য নিতে পারি? কাদিয়ানীরা এর কী উত্তর দেবেন?

  • উল্লেখ্য, রামাল্লাহ পশ্চিম তীরে অবস্থিত ফিলিস্তিনের একটি শহর। এটি জেরুজালেম থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে এবং সমুদ্র সমতল থেকে ৮৮০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। আয়াতটিতে রামাল্লাহ শহরকে ‘রাবওয়া’ শব্দে বিশেষিত করার কারণ এটাই। কেননা রাবওয়া বলতে বুঝায় আশপাশের এলাকা হতে তুলনামূলক উচ্চতায় অবস্থিত এমন স্থান।

তারপর আয়াতটির معين শব্দ হতে যে ঝর্ণা বা ছোট নহর-এর উল্লেখ রয়েছে তা হতে ঐ নহরই উদ্দেশ্য যেটি আল্লাহ ঈসা (আ.)-এর জন্মগ্রহণ মুহূর্তে বিবি মরয়মের পদতলে জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। একথা বলেছেন, রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-ও। আর সূরা মরিয়ম আয়াত নং ২৪ এর মধ্যে এর পরিষ্কার ইংগিতও দেয়া হয়েছে। (দেখুন, তাফসীরে ইবনে কাসীর, দশম খন্ড)। ঈসা (আ.)-এর প্রসব হওয়ার পর তিনি সন্তানটিকে সাথে নিয়ে পুনরায় নিজ কওমের নিকট ফিরেও আসেন।

  • কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যনীয় :-

১- রাবওয়া তথা রামাল্লাহ-তে বিবি মরিয়ম আর তাঁর সন্তানটি সহ যখন গিয়েছিলেন তখন তাঁর সন্তান তথা ঈসা (আ.) মায়ের গর্ভে ছিলেন, তিনি সেখানেই ভূমিষ্ঠ হন।

২- সেখানে যে ঝর্ণাটি সৃষ্টি হয়েছিল সেটি তখন মরিয়মের পদতলে আল্লাহর কুদরতে সৃষ্টি হয়েছিল, معين অর্থ ছোট নহর বা ঝর্ণা।

৩- ঈসা (আ.)-এর মাতা সেখান থেকে নিজ কওমে ফিরিয়েও যান। উল্লেখ্য, কুরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা অপর আয়াত দ্বারা হয়ে গেলে তখন তার বিপরীত ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাফসীরে ইবনে কাসীর (রহ.) থেকেও একথা পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে। وَالْقُرْآنُ يُفَسِّرُ بَعْضُهُ بَعْضًا. وَهُوَ أَوْلَى مَا يُفَسَّرُ بِهِ، ثُمَّ الْأَحَادِيثُ الصَّحِيحَةُ، ثُمَّ الْآثَارُ অর্থাৎ সর্বোত্তম তাফসীর সেটাই যে তাফসীর কুরআনের অপরাপর আয়াত দ্বারা হয়ে যাবে, তারপর সেটিই উত্তম তাফসীর যেটা সহীহ হাদীস দ্বারা হয়ে যাবে, এরপর সেটাই যেটা সাহাবায়ে কেরাম এর বিশ্লেষণ দ্বারা হয়ে যাবে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর, দশম খন্ড)।

এখন এতে ঈসা (আ.) কাশ্মীর যাওয়ার বিষয়টি কিভাবে সাব্যস্ত হয়? আপনারা যেরকম ঈসা (আ.)-কে আকাশে নিয়ে থাকলে সরাসরি ‘আকাশ’ শব্দটি কুরআনের মধ্যে পরিষ্কার করে নেই কেন, বলেই প্রশ্ন তুলেন ঠিক অনুরূপ “কাশ্মীর” শব্দটাও তো অত্র আয়াতে নেই! এমনকি জেরুজালেম থেকে কাশ্মীরের দুরত্বও প্রায় ৪৬৬০ কিলোমিটার দূরে। ফলে ঈসা (আ.)-এর আম্মা গর্ভবতী অবস্থায় এতদূর পথ পাড়ি দিয়ে কাশ্মীর যাওয়ার কী অর্থ? আপনার সুস্থ্য বিচারবোধ কী বলে? সুতরাং কাদিয়ানীরা কুরআন থেকে রাবওয়া’র যে ব্যাখ্যা নিয়ে ‘কাশ্মীর’ এর কনসেপ্ট উদ্ভাবন করে থাকে সেটি সুস্পষ্ট বিকৃতি ও বাতিল; সত্যের সাথে যার লেশমাত্র সম্পর্কও নেই।

ঈসা (আ.) এক স্থান থেকে আরেক স্থানে স্থানান্তর হওয়া সম্পর্কে

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ঈসা (আ.) এক স্থান থেকে আরেক স্থানে স্থানান্তর হওয়া সম্পর্কে

ঈসা (আ.) এক স্থান থেকে আরেক স্থানে স্থানান্তর হয়ে যাওয়া শীর্ষক জাল, মুনকার বর্ণনার আশ্রয় নিয়ে ধোকাবাজি করতে গিয়ে আবারও ধরা খেলেন মির্যা কাদিয়ানী!

জাল, মুনকার জাতীয় অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহ দিয়ে কাদিয়ানী নেতারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে থাকে। আর সাধারণ মানুষদেরও কি এত বুঝ-ব্যবস্থা বা শিক্ষাদীক্ষা রয়েছে যে তারা জাল, মুনকার জাতীয় বর্ণনা চিহ্নিত করে সহীহ ও বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদীস বেছে নিবে? কাদিয়ানের সিজোফ্রেনিয়া রোগীটার ধোকা, প্রতারণা আর মিথ্যাচার নিয়ে ইতিপূর্বে অনেক লিখা লিখেছি। আমাদের এই ওয়েবসাইট থেকেও দেখতে পারেন। আজকে এখানে তাদেরই উদ্ধৃত আরেকটা মিথ্যা, মুনকার বর্ণনা যা মির্যার ‘মসীহ হিন্দুস্তান মে’ বইতেও রয়েছে ; উল্লেখ করে সবাইকে জানিয়ে দিতে চাই যে, এটি সম্পর্কে খোদ ইমাম ইবনে জাওজি (ابن الجوزى), ইমাম ইবনে হিব্বান (ابن الحبان), ইমাম যাহাবী (الذهبى) প্রমুখ সহ বহু হাদীস বিশারদ কারণ উল্লেখপূর্বক লিখে গেছেন,

هذا الحديث لا يصح عن رسول الله صلى الله عليه و سلم. قال ابن حبان : هانئ ابن المتوكل كثرت المناكير فى روايته و لا يجوز الاحتجاج به. অর্থাৎ এই হাদীস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সহীহ (বিশুদ্ধ) নয়। ইমাম ইবনে হাব্বান বলেছেন, এর সূত্রে উল্লিখিত হানী ইবনে আল মুতাওয়াক্কিল নামীয় বর্ণনাকারীর বর্ণনায় বহু পরিমাণে মুনকার (অগ্রহণযোগ্য/বিশ্বস্ত রাবীর বিপরীতকৃত) বর্ণনা রয়েছে আর তার বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ হবেনা। (রেফারেন্স, আল ই’লালুল মুতানাহিয়াহ লি-ইবনে জাওজি, পৃষ্ঠা নং ৮০১)। ইবনে জওজি (রহ.) এর কিতাবটির স্ক্রিনশট দেখুন- ক্লিক

  • মুহাদ্দিসগণ এই বর্ণনাটি সম্পর্কে এও লিখেছেন যে, موقوفا من رواية شفي بن ماتع عن كعب الأحبار أو غيره من الإسرائيليين তথা এটি ইসরাইলী বর্ণনা সমূহের অন্তর্ভুক্ত ও সাফি ইবনে মাতে এর সূত্রে (খ্রিস্টান থেকে মুসলিম হওয়া) কা’ব আহবার রা. ও অন্যান্যদের নামে চালিয়ে দেয়া একটি মওকুফ (রাসূল সা.-এর বক্তব্য নয় এমন) রেওয়ায়েত।

উল্লেখ্য, মির্যা কাদিয়ানী সম্পূর্ণ বর্ণনা উল্লেখ না করেই পরের অংশটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দিয়ে দেয়। কারণ, পরের অংশটিতে লিখা আছে فوعزتى و جلالى لازوجنك ألفى حوراء و لأولمن عليك اربعمائة عام অর্থ- আমার ইজ্জত ও মহিমার কসম, আমি তোমাকে দুই হাজার হুর-পরীর সাথে বিয়ে করাব এবং চারশত বছর অব্ধি তোমার জন্য ওয়ালিমা (ভোজ সভা) করাব।

  • এবার সম্পূর্ণ বর্ণনাটি দেখুন, أوحى الله تعالى إلى عيسى أن يا عيسى انتقل من مكان إلى مكان لئلا تعرف فتؤذى، فوعزتي وجلالي لأزوجنك ألفى حوراء، ولأولمن عليك أربعمائة عام অর্থাৎ, আল্লাহ ঈসা এর নিকট ওহী করলেন যে, হে ঈসা! তুমি এক স্থান থেকে আরেক স্থানে স্থানান্তর হও যাতে তোমাকে চিনতে না পারে, ফলে তোমাকে কষ্ট দেয়া হবেনা। আমার ইজ্জত ও মহিমার কসম, আমি তোমাকে দুই হাজার হুর-পরীর সাথে বিয়ে করাব এবং চারশত বছর অব্ধি তোমার জন্য ওয়ালিমা (ভোজ সভা) করাব।

বিজ্ঞ পাঠক, বুঝতেই পেরেছেন যে, মির্যা কাদিয়ানী সাহেব কতটা খেয়ানতকারী হলে মুরোদ হাসিল করতে একই বর্ণনার পরের অংশটি গায়েব করে দিতে পারে! আর পরের অংশটি তিনি কেনই বা গায়েব করবেন না! কারণ তখন তো তাকে এও মেনে নিতে হবে যে, ঈসা (আ.)-এর ঐ স্থানান্তরিত জায়গাটি তার দাবী অনুসারে ‘কাশ্মীর’ হলে তিনি সেখানে দুই হাজার হুর-পরীকে বিয়েও করেছিলেন! যদিও বা ইসলাম কিংবা খ্রিস্টীয় কোনো তারিখ বা লিটারেচার দ্বারা ঈসা (আ.)-এর তেত্রিশ বছরের পরবর্তী জীবনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। এতদ্ব্যতীত সমস্ত বরেণ্য হাদীস বিশারদ অনেক আগ থেকেই বলে আসছেন যে, এটি মুনকার ও অশুদ্ধ এবং ইসরাইলী বর্ণনা, যদ্দ্বারা দলিল প্রমাণ দেয়া বৈধ নয়।

পরিশেষে কথা হল, হানী ইবনে আল মুতাওয়াক্কিল নামীয় মুনকার রাবীর উক্ত মিথ্যা বর্ণনায় কী কথা বলা আছে সেটি তখনি আলোচনার দাবী রাখবে যদি সেটি বিশুদ্ধসূত্রে বর্ণিত হত।

বলে রাখতে চাই যে, ইতিহাসবেত্তা ও বিদগ্ধ আলেমগণের মতে, العلل المتناهية গ্রন্থের লিখক আল্লামা ইবনুল জাওজি (মৃত. ৫৯৭ হিজরী) রহিমাহুল্লাহ ছিলেন সে যুগের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও মুহাদ্দিস। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে ইদরিস আল কাত্তানি (মৃত. ১৩৪৫ হিজরী) তাঁর গ্রন্থের নির্বাচিত অধ্যায়ে লেখেন, ইবনুল জাওজি কুরাইশি তামিমি বকরি সিদ্দিকি বাগদাদি হাম্বলি একজন প্রসিদ্ধ বক্তা। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর লিখিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় আড়াই শত। ‘আর-রিসালাতুল মুসতাতরিফাহ (الرسالة المستطرفة)’ গ্রন্থেও তিনি এমন অভিমত প্রকাশ করেছেন।

আল্লাহ তুমি এই সহজ সরল কাদিয়ানীদের অন্তত আক্বল/সহীহ সমঝ দান কর। ওরা নিজেদের ইসলামি মৌলিক শিক্ষাদীক্ষার অভাবে নিজেদের নেতাদের জাল, মুনকার আর শাজ জাতীয় সমুদয় বর্ণনাকে সহীহ হাদীস ভেবে গিলে খাচ্ছে আর অজান্তে ইসলাম থেকে বেরিয়ে নতুন অধর্ম মতবাদের শিকার হয়ে জাহান্নামের পথে হাটছে। আল্লাহ তুমি হিদায়াত বখশাও।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মির্যা কাদিয়ানী কর্তৃক ঈসা (আ.)-এর অবমাননা

0

আহমদীবন্ধু! আপনার নিরপেক্ষ বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখছি

ইউরোপের লোকদের মদ যত অনিষ্ট করিয়াছে, তাহার কারণ এই যে, ঈসা (আ.) মদ্যপান করিয়াছেন।” (কিশতিয়ে-নূহ ৮৫, বাংলা নবম মুদ্রণ জুন ২০১৮ইং)। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বই ‘কিশতিয়ে-নূহ’ তে এই কথাটি তার অনুসারীরা যখন পড়ে তখন কি মনে প্রশ্ন জাগেনা যে, আল্লাহর একজন সত্য নবীর শানে মির্যার এইধরনের মন্তব্য শুধু কি জঘন্য? নাকি ঈমান নষ্ট হওয়ার শামিলও! সংশ্লিষ্ট আরো কিছু স্ক্রিনশট দেখানো হল।

হয়ত বলবেন যে, হতে পারে তিনি খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে কোনো বাহাসে প্রতিপক্ষ খ্রিস্টান পাদ্রীদের মুখ বন্ধ করে দিতে এধরণের মন্তব্য ছুড়েছিলেন! অথবা বলবেন যে, এখানে তিনি মূলত খ্রিস্টানদের কল্পিত ইশ্বর মসীহকে বুঝিয়েছেন!

  • এই পর্যায় আমার প্রশ্ন হল, মির্যা সাহেবের এইরকম মন্তব্যের প্রেক্ষিতে খ্রিস্টান ডিবেটার পাদ্রীদের কিছু সময়ের জন্য না হয় মুখ বন্ধ হল কিন্তু তার ঐ মন্তব্যের ফলে হযরত ঈসা (আ.)-এর মান মর্যাদার উপর আঘাত হানা হলো কিনা? যেহেতু এইধরনের কোনো কথারই ইসলামি কোনো অথেনটিক সোর্স দ্বারা প্রমাণিত নয়। মোটাদাগে চিন্তা করলে এই জিনিসটাকে কাদিয়ানী মতাবলম্বীরা কীভাবে গ্রহণ করবেন জানিনা! আরেকটা কথা হল, খ্রিস্টানদের কল্পিত ইশ্বর! আরে জনাব! খ্রিস্টানরা তাদের নবীকে ইশ্বর মানুক কিংবা ইশ্বরের পুত্র মানুক; এটি সম্পূর্ণ তাদের ধর্মীয় ব্যাপার। এর জন্য আল্লাহর নিকট তারা অবশ্যই পাকড়াও হবে। কিন্তু আপনি বা আমি তাদের মুখ বন্ধ করার ঠুনকো ছুতোধরে ও কথার ছলে হযরত ঈসা (আ.)-কে তথাকথিত কল্পিত ইশ্বরের জায়গায় রেখে নির্বিচারে অবমাননা করতে পারিনা। ইসলামের তিন স্বর্ণযুগের কোনো অনুসৃত মুসলিম স্কলারদের কেউই এমন নিয়ম নীতি অবলম্বন করেছিলেন, কেউ এর প্রমাণ দিতে পারবেনা। কেউই প্রমাণ করতে পারেনা যে, খ্রিস্টানদের নবী হযরত ঈসা মসীহ (আ.)-কে আঘাত করতে সালফে সালেহীনগণ কথিত কল্পিত মসীহ’র কনসেপশন দিয়ে গেছেন! যদি এরকম কোনো দৃষ্টান্ত থেকে থাকে তাহলে প্রমাণ করা হোক। আফসোসের বিষয় হল, মির্যা কাদিয়ানী স্বভাবতই হযরত ঈসা (আ.)-এর চরম দুশমন ছিল। তার পুস্তকে এর বহু প্রমাণ এখনো বিদ্যমান। তার পুস্তকের একস্থানে তো একথা পরিষ্কার করে লিখা আছে যে,
  • “মসীহ তো শুধুমাত্র অতি সাধারণ একজন নবী ছিলেন। হ্যাঁ তিনিও নৈকট্য লাভকারী কোটির মধ্যে একজন ছিলেন। তবে তিনি সর্বসাধারণের ঐ শ্রেণীর মধ্যে অতি সাধারণ একজন ছিলেন, এর চেয়ে বেশি ছিলেন না। দেখে নাও ইঞ্জিলে লিখা আছে যে, তিনি (মসীহ) ইয়াহইয়া নবীর মুরিদ ছিলেন এবং শিষ্যদের ন্যায় তিনিও ইস্তেবাগ (খ্রীস্টধর্ম গ্রহণের সূচনাতে বিশেষ একপ্রকার পানি ছিটিয়ে দেওয়ার অনুমোদন) লাভ করেছেন। তিনি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি গোত্রের জন্যই এসেছিলেন। হায় আফসোস! তাঁর দ্বারা দুনিয়াতে কারোরই আধ্যাত্মিক উপকারিতা অর্জন হয়নি। তিনি নবুওয়তের এমন একটি দৃষ্টান্ত দুনিয়ায় রেখে গেলেন যার লাভের চেয়ে ক্ষতিই হয়েছে বেশি। তার আগমনে বেদনা আর বিশৃঙ্খলাই বেড়ে যায় এবং দুনিয়ার বিশাল একটি অংশ ধ্বংসের ভাগ্য বরণ করে।” (ইতমামুল হুজ্জাহ, রূহানী খাযায়েন ৮/৩০৮)। নাউযুবিল্লাহ। এবার জ্ঞানীদের নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলবে।

কেউ কেউ আবার একথাও বলেন, খ্রিস্টান মিশনারীরা আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে গালমন্দ কিবা এটা ওটা বহু ধরনের খারাপ কথা বলত, এখনো বলছে; তাই তাদের নবী ঈসা মসীহকেও অনুরূপ আঘাত করা হবে! আমি জবাবে বলতে চাই, ইসলামের শিক্ষা কি এটাই? খ্রিস্টানরা আমাদের নবীকে সম্মান দেয় না বলে কি আমরাও তাদের মত হয়ে যাব? ঈসা (আ.) আল্লাহর একজন সত্য নবী ও রাসূল ছিলেন, একথার উপর কি আমরা মুসলমানরা ঈমান নিই নি? নিয়েছি। আমরা যদি তাদের মতই হয়ে যাই তাহলে আমাদের আর তাদের মধ্যে পার্থক্য থাকল কোথায়? আচ্ছা, তাদের ওসব গালমন্দের প্রতিউত্তর কি গাল-মন্দ? অশালীন ভাষায় তিরস্কার? কোনো নবীর চরিত্র হনন? নাকি ইসলাম এগুলোর বিপরীতেই সুন্দর ও উত্তম কোনো পন্থাও শিক্ষা দিয়ে রেখেছেন? রাসূল (সা.)-এর সাথে নাজরানের খ্রিস্টানদের কি ডিবেট হয়নি। রাসূল (সা.) কি পারতেন না মির্যা কাদিয়ানীর ন্যায় এমন নিষ্ঠুর পন্থাও অবলম্বন করতে? না, তিনি বরং মোবাহালার পন্থা অবলম্বন করেছিলেন। আর পবিত্র কুরআন তো আমাদের শিক্ষাই দিলেন যে, و جادلهم بالتى هى احسن অর্থাৎ সুন্দর পদ্ধতিতে বিতর্ক করো। এখন কোনো নবীকে কল্পিত ঈশ্বরের জায়গায় রেখে তার শানে যাইচ্ছেতাই বলা কি সুন্দর পদ্ধতি? এর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিপক্ষও কি আমাদের নবীর পবিত্র চরিত্রের উপর হামলা করতে উত্তেজিত হবেনা? যেমন মির্যা কাদিয়ানী আর্যদের সম্পর্কে যখন নোংরা মন্তব্য করে বলল যে, “তাদের ঈশ্বর মুসলমানদের নাভীর এক বিঘাত নিচে”। তারই প্রতিক্রিয়া স্বরূপ সেই সময়কার আর্য সমাজের পণ্ডিত লেখরাম মুহাম্মদ (সা.)-এর শানে চরিত্রহনন-মূলক বই রচনা করতে উৎসাহিত হয়। এখন এর জন্য প্রকৃত দায়ী কে? সুতরাং মির্যায়ীদের ঐ সমস্ত বানোয়াট নীতিমালা প্রকারান্তরে ঈমান বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড আর ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বোধ অমুসলিমদের ক্ষেপিয়ে দেয়া বৈ কিছুই না।

অন্ততপক্ষে যাদের জ্ঞানটা বিকৃত হয়ে যায়নি, যারা সত্যিকারে সত্যই খোঁজেন তাদের জন্য উচিত অন্ততঃ এই একটি বিষয় নিয়েও নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করা। মনে রাখতে হবে যে, দশ মন দুধের ভেতর এক ফোঁটা প্রস্রাব পড়া দ্বারাই তা নাপাক হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

ফালাম্মা তাওয়াফফাইতানী’র অপব্যাখ্যা খণ্ডন

কোনো কাদিয়ানী কি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবে?

ত্রিশ আয়াতের ভুল ব্যাখ্যার খন্ডনমূলক জবাব

প্রশ্নকর্তা :

আমি মির্যা কাদিয়ানীর বইতে পড়েছি তিনি লিখেছেন, সূরা মায়েদার ১১৭ নং আয়াত মতে হযরত ঈসা (আ.) যতকাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন ততকাল ঈসায়ীদের ঈমানও ঠিক ছিল। অর্থাৎ ততকাল পর্যন্ত ঈসায়ীরা তাঁকে না খোদার পুত্র সাব্যস্ত করেছিল আর না ইলাহ তথা উপাস্য বলে গ্রহণ করেছিল, কোনোটাই না। মির্যা কাদিয়ানী তারপর লিখেছেন, হযরত ঈসা (আ.) ১২০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন এর তাৎপর্য দাঁড়াল যে, ত্রিত্ববাদী শিরিক ঈসায়ীধর্মে ১২০ বছর পরেই অনুপ্রবেশ করে। কিন্তু মির্যা সাহেব তারই পুস্তকের অন্য আরেক জায়গায় লিখেছেন, সেন্ট পৌল ঈসা (আ.)-কে খোদা বানিয়ে দেয় (চশমায়ে মসীহি, রূহানী খাযায়েন ২০/৩৭৫) এবং তিনি ৬৫ ঈসায়ীতে মৃত্যুবরণ করেন। তার অর্থ হল, সেন্ট পৌল হযরত ঈসা (আ.)-এর ৫৫ বছর পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এখন সম্পূর্ণ তাৎপর্য দাঁড়ালো, হযরত ঈসা (আ.) মৃত্যুবরণ করার পূর্বেই খোদা সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তার মানে তিনি কাশ্মিরে যখন জীবিত তিনি তখনো ফিলিস্তিন কিংবা অন্যান্য স্থানে খোদা সাব্যস্ত হয়ে রয়েছেন! সেন্ট পৌল সম্পর্কে উইকিপিডিয়া থেকে

এখন আমার প্রশ্নটি হল, মির্যা সাহেব যে লিখলেন, যদি ঈসা (আ.) আসমানে জীবিত থাকেন তাহলে দুনিয়ায় ঈসায়ীধর্মে ত্রিত্ববাদী শিরিকের অনুপ্রবেশের সুযোগই নেই। এখন যেহেতু আসমান চেয়েও কাশ্মির আমাদের অনেক নিকটে সেহেতু বর্তমানে তাঁর খোদা সাব্যস্ত হওয়ায় আসমানে জীবিত থাকা গ্রহণযোগ্য না হলে, একই কারণে তিনি কাশ্মিরেও জীবিত থাকতে পারেন কিভাবে? অতএব, ঈসা (আ.)-কে মৃত সাব্যস্ত করে নিজে ‘রূপক ঈসা’ সাজতে  মির্যা সাহেব যে সমস্ত দলিল প্রমাণের আশ্রয় নিয়েছেন তা এখন অযুক্তিক আর মিথ্যা প্রমাণিত হল কিনা?
 
প্রশ্ন-সংশ্লিষ্ট উদ্ধৃতির রেফারেন্স ও ঈসা (আ.) ১২০ বয়সে মৃত্যুবরণ করা :

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব তার ‘মসীহ হিন্দুস্তান মে’ এবং রূহানী খাযায়েন খ-১৫ পৃ-১৪ এবং ৫৫ এর মধ্যে লিখতেছেন: প্রথমে পৃষ্ঠা নং ১৪ দেখুন ‘আমি এই কিতাবে প্রমাণ করব যে, হযরত মসীহ (আ.) শূলিবিদ্ধ হননি, আকাশেও যাননি আর না কখনো আশা রাখা যায় যে, তিনি পৃথিবীতে আকাশ থেকে নাযিল হবেন। বরং তিনি ১২০ বছর বয়সে কাশ্মিরের শ্রীনগরেই মৃত্যুবরণ করেছেন এবং শ্রীনগরের খান ইয়ার মহল্লায় তার কবর রয়েছে।’ তারপর পৃষ্ঠা নং ৫৫ দেখুন ‘এখন পরিষ্কার হল যে, যদি তিনি শুধু কেবল ৩৩ বছর বয়সে আকাশের দিকে উঠে চলে যান তাহলে ঐ অবস্থায় ১২৫ বছরের বর্ণনাটি সহীহ থাকেনা।’

বলে রাখতে চাই যে, হযরত ঈসা (আ.) ১২০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন, একথার অর্থ দাঁড়াল যে, তিনি ১২০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেছেন। কেননা ঈসায়ী ক্যালেন্ডারের সূচনা হয় হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম তারিখ হিসেবে।

সূরা মায়েদা আয়াত নং ১১৭ সম্পর্কিত মির্যা কাদিয়ানীর বক্তব্য :

“হযরত ঈসা (আ.) যদি আকাশে জীবিত থাকেন তাহলে ঈসায়ীরা এখনও পথভ্রষ্ট হয়নি বলে মেনে নিতে বাধ্য।” (রূহানী খাযায়েন ১১/১৩৫)।

“কুরআন শরীফ পরিষ্কার বলছে যে, মসীহ মৃত্যুবরণ করে আকাশে উঠে গেছেন। সুতরাং তাঁর অবতরণ হবে বুরুজিভাবে, হাকিকিভাবে নয় এবং ‘ফালাম্মা তাওয়াফফাইতানী’ (فلما توفيتنى) আয়াত দ্বারা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, মৃত্যু ঈসার উপর এসে গেছে। কেননা এই আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ঈসায়ীরা পথভ্রষ্ট হবে ঈসার মৃত্যুর পর, জীবিত অবস্থায় নয়। যদি মেনে নেয়া হয় যে, হযরত ঈসা (আ.) এখনো মৃত্যুবরণ করেননি তাহলে এটিও মানতে হবে যে, ঈসায়ীরা এখনো পথভ্রষ্ট হয়নি। অথচ এটি স্পষ্ট বাতিল। অধিকন্তু আয়াত বলছে যে, ঈসায়ীরা শুধু কেবল মসীহ (আ.)-এর জীবদ্দশা পর্যন্ত সত্যের উপর বহাল থাকবে। এতেই বুঝা যায় যে, হাওয়ারীদের যুগেই খারাবি (পথভ্রষ্টতা) শুরু হয়ে গিয়েছিল। যদি হাওয়ারীদের যুগেও ঈসায়ীরা সত্যের উপর থাকতে পারত তাহলে খোদাতালা ঐ আয়াতে মসীহর জীবনের স্পষ্ট শর্ত দিতেন না, বরং হাওয়ারীদের জীবনেরও শর্ত দিতেন। সুতরাং এখান থেকেই একটি অতি উন্নত সূক্ষ্মতা ঈসায়ী যুগের ফাসাদ ও বিশৃংখলার কথা জানা যাচ্ছে। আর সেটি এই যে, প্রকৃতপক্ষে হাওয়ারীদের যুগেই ঈসায়ীধর্মে শিরিকের অনুপ্রবেশ করেছিল।” (রূহানী খাযায়েন ১১/৩২১)।

এই আর্টিকেলের শেষাংশে (খ-১১/পৃ-৩২২) মির্যা সাহেব লিখতেছেন : “মোদ্দাকথা হল, আয়াতটি দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈসায়ীধর্মে সমস্ত ফাসাদ এবং বিভ্রান্তি হযরত ঈসা (আ.)-এর মৃত্যুর পরেই শুরু হয়েছিল।”

সম্পূর্ণ আলোচনার সারাংশ :

মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের মতে,
১। ঈসায়ীরা শুধু কেবল হযরত ঈসা (আ.)-এর জীবদ্দশা পর্যন্ত সত্যের উপর বহাল ছিল। অর্থাৎ তাঁকে খোদা, খোদার পুত্র সাব্যস্ত করার ঘটনা তাঁর জীবদ্দশায় ঘটেনি।
২। যাবতীয় শিরিক, বিশেষভাবে ত্রিত্ববাদী মতবাদের উদ্ভব তাঁর মৃত্যুর পরেই ঈসায়ীধর্মে প্রবেশ করেছিল।
৩। হযরত ঈসা (আ.) যতকাল জীবিত ছিলেন ততকাল পর্যন্ত তাঁর ধর্মে শিরিকের অনুপ্রবেশ করার সুযোগ ছিল না। মির্যা কাদিয়ানীর ভাষ্যমতে, ‘ফালাম্মা তাওয়াফফাইতানী’ (فلما توفيتنى) আয়াতের মধ্যে শুধু কেবল ঈসা (আ.)-এর জীবিত থাকার শর্তই আরোপিত হয়।
৪। মির্যা কাদিয়ানীর কিতাব ‘মসীহ হিন্দুস্তান মে’ অনুযায়ী হযরত ঈসা ১২০ ঈসায়ীতে মৃত্যুবরণ করলে তখনি ১২০ ঈসায়ীর পরবর্তী সময়ে শিরিক প্রবেশ করে, ১২০ ঈসায়ীর পূর্বে শিরিক প্রবেশ করার কোনোই সুযোগ নেই।

এবার সেন্ট পৌল ৬৫ ঈসায়ীতে মৃত্যুবরণ করা :

মির্যা লিখতেছেন, “মোটকথা এই ধর্মে সমস্ত খারাবি পৌলের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছিল। হযরত মসীহ তো একজন সরলমনা মানুষ ছিলেন, তিনি কখনো চাননি যে কেউ তাঁকে একজন নেক মানুষও বলুক কিন্তু পৌল তাঁকে খোদা বানিয়ে দেয়।” (চশমায়ে মসীহি, রূহানী খাযায়েন ২০/৩৭৫)।

“এবং সে (পৌল) সর্বপ্রথম ত্রিত্ববাদের খারাপ বীজ বপন করে দামেস্কে এবং এই পৌলীয় ত্রিত্ববাদ দামেস্ক থেকেই আরম্ভ হয়। সেদিকেই হাদীসে নববীতে ইংগিত করে বলা হয়েছে যে, আগত মসীহ দামেস্কের পূর্বপ্রান্তে নাযিল হবেন।” (চশমায়ে মসীহি, রূহানী খাযায়েন ২০/৩৭৭)।

মির্যা সাহেব তার রচিত ‘চশমায়ে মসীহি’ গ্রন্থে পরিষ্কার বলেছেন, হযরত ঈস (আ.)-কে পৌলই খোদা বানিয়েছিল। আর সেই পৌলের মৃত্যু ৬৪ বা ৬৫ ঈসায়ীতে হয়। তার প্রমাণ হিসেবে দেখুন,

  • মাইকেল এইচ হার্ট এর The 100 (দ্য হান্ড্রেড : অ্যা র‍্যাঙ্কিং অব দ্য মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পারসন্স ইন হিস্ট্রি) গ্রন্থ থেকে নেয়া। ST. PAUL (জন্ম ৪ বা ৫ খ্রিস্টাব্দ) (মৃত্যু ৬৪ খ্রিস্টাব্দ) দ্রষ্টব্য। আরো দেখুন, Brown, Raymond E. (1997) An Introduction to the New Testament, p. 436. Doubleday, Anchor Bible Reference Library, আন্তর্জাতিক বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া সাইটেও ৬৪ বা ৬৭ উল্লেখ আছে। স্ক্রিনশট দেখুন,

এখন যেহেতু মির্যা কাদিয়ানীর ইমাম মাহদী এবং মসীহ দাবী মিথ্যা প্রমাণিত হল সেহেতু তার নবী হওয়ার দাবীটাও মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে গেল। কেননা কোনো সত্য নবী কখনই ইমাম মাহদী হওয়ার মিথ্যা দাবী করবেনা, করতে পারেনা।

মূল : আল্লামা ইলিয়াস সাত্তার (হাফিজাহুল্লাহ)
কিতাব : কিয়া কাদিয়ানী/আহমদী জবাব দে ছেকতে হেঁ?
(৩৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৩ কোটি রূপী পুরষ্কার বিষয়ক রচনা)
প্রকাশনায় : ছাওতুল ইসলাম ট্রাস্ট (রেজিঃ), করাচি পাকিস্তান।
পরিচালনায় : বায়তুল মা’মুর রিসার্চ সেন্টার করাচি পাকিস্তান।
অনুবাদক : মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ
এডমিন : মারকায উমর ডটকম