Home Blog Page 30

মির্যা মাসরূর কি তাহলে কাদিয়ানীধর্মে বিকৃতি ঘটালেন!

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। ইন্নাল হামদা লিল্লাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আ’লা রাসূলিল্লাহ। আম্মাবা’দু…. প্রিয় পাঠকবৃন্দ! অপ্রিয় হলেও সত্য, এভাবেই মিথ্যা, ধোকা আর প্রতারণা সহ জঘন্য দ্বিচারিতার উপর প্রতিষ্ঠিত কাদিয়ানীধর্ম!! এই যে এ দুটি পৃষ্ঠাই আমার কথার প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।

কেননা মির্যা কাদিয়ানী সুস্পষ্টভাবে তার দাওয়াত যারা কবুল করেনি তিনি তাদেরকে খোদার ইলহামের নামে “অমুসলিম” বলে আখ্যা দিয়ে লিখে গেছেন! (তাযকিরাহ ৫১৯ দ্রষ্টব্য)।

অপরদিকে তাদেরই বর্তমান গদ্দিনিসীন (কথিত খলিফা) মির্যা মাসরূর আহমদ সাহেব সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করতে কত হীনতার সাথে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বক্তব্যে বললেন,

আহমদীয়া জামাত আল্লাহ ও রাসূল (সা:)-এর নির্দেশ অনুসারে প্রত্যেক কালিমা পাঠকারীকে মুসলমান মনে করে। কোনো মুসলমানের মুসলমান হওয়ার জন্য পবিত্র কলেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ পাঠ করাই যথেষ্ট।” (সূত্র: বাইতুল ফতুহ মসজিদ, যুক্তরাজ্য- জুমার খুতবা ০২-ডিসেম্বর-২০১১ইং, পাক্ষিক আহমদী তাং ১৫-১২-২০১২ ইং, পৃষ্ঠা নং ৬ দ্রষ্টব্য)।

এখন তাহলে দুইজনের কথাবার্তায় আকাশ-পাতালে তফাৎ থাকলো কিনা? তাহলে কেমনে কী??

স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

লিখক শিক্ষাবিদ ও গবেষক

আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত সংক্রান্ত সহীহ হাদীস

আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত সম্পর্কিত ২০টির-ও অধিক সহীহ হাদীস (আরবী ও বাংলা অনুবাদসহ) পড়ুন –

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮) নিজেকে নবী দাবী করেছিল ৷ অথচ কুরআন হাদীসের সুস্পষ্ট মেসেজ হচ্ছে, নবী মুহাম্মদ (সা:) মুক্ত ও স্বাধীন অর্থে সর্বশেষ নবী ৷ তারপর ওহীয়ে নবুওয়তেরধারা চিরতরে রুদ্ধ। আমি নিম্নে কেবল ২০টির-ও অধিক হাদীস শরীফ পেশ করছি ৷

প্রসঙ্গত, আরবী ভাষায় খাতাম এবং খাতিম শব্দ দুটি লিসানুল আরব অভিধানবেত্তার মতানুসারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’খানা গুণবাচক নাম। সে হিসেবে শব্দদুটি সমার্থক। পবিত্র কুরআনে ‘খাতামান নাবিয়্যীন’ মূলত ‘খাতিমান নাবিয়্যীন’ এরই অর্থ প্রদানকারী। এ থেকে آخرهم (নবীগণের সর্বশেষ) অর্থই উদ্দেশ্য। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি নিম্নরূপ,

[১] সহীহ বুখারী হাদীস নং ৪৪১৬, قَالَ أَلَا تَرْضَى أَنْ تَكُوْنَ مِنِّيْ بِمَنْزِلَةِ هَارُوْنَ مِنْ مُوْسَى إِلَّا أَنَّهُ لَيْسَ نَبِيٌّ بَعْدِي অর্থ- রাসুল (সা.) আলী (রা.)- কে বললেন, তুমি কি এ কথায় রাজী নও যে, তুমি আমার কাছে সে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হারূন (আ.) যে মর্যাদায় মূসার কাছে অধিষ্ঠিত ছিলেন । পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, হারূন (আ.) নবী ছিলেন আর আমার পরে কোনো নবী নেই৷

[২] সহীহ বুখারী হাদীস নং ৩৫৩২, ৪৮৯৬, قال رسول الله.. وَأَنَا الْعَاقب অর্থ- রাসুল (সা.) বলেন আমার একটি নাম আক্বিব (তথা সর্বশেষে আগমনকারী) ৷

[৩] সহীহ বুখারী হাদীস নং ৩৫৩৫, أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ مَثَلِيْ وَمَثَلَ الأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِيْ كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى بَيْتًا فَأَحْسَنَهُ وَأَجْمَلَهُ إِلَّا مَوْضِعَ لَبِنَةٍ مِنْ زَاوِيَةٍ فَجَعَلَ النَّاسُ يَطُوفُوْنَ بِهِ وَيَعْجَبُوْنَ لَهُ وَيَقُوْلُوْنَ هَلَا وُضِعَتْ هَذِهِ اللَّبِنَةُ قَالَ فَأَنَا اللَّبِنَةُ وَأَنَا خَاتِمُ النَّبِيِّينَ অর্থ- রাসুল (সা.) বলেন, আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের অবস্থা এমন যে, এক ব্যক্তি যেন একটি গৃহ নির্মাণ করল ৷ তাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল৷ কিন্তু এক পাশে একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকজন এর চারপাশে ঘুরে আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল ঐ শূন্যস্থানের ইটটি লাগানো হল না কেন! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমিই সে ইট। আর আমিই সর্বশেষ নবী।

[৪] সহীহ বুখারী হাদীস নং ৬৯৯০, أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَمْ يَبْقَ مِنْ النُّبُوَّةِ إِلاَّ الْمُبَشِّرَاتُ অর্থ- আবূ হোরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, সু-সংবাদ বহনকারী বিষয়াদি ব্যতীত নবুওয়তের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

[৫] সহীহ বুখারী হাদীস নং ৩৪৫৫, إِنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِيْ وَسَيَكُوْنُ خُلَفَاءُ অর্থ- আমার পরে কোনো নবী নেই। তবে অনেক খলীফাহ্ হবে।

[৬] সহীহ বুখারী হাদীস নং ৬১৯৪, حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قُلْتُ لاِبْنِ أَبِي أَوْفَى رَأَيْتَ إِبْرَاهِيمَ ابْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَاتَ صَغِيرًا، وَلَوْ قُضِيَ أَنْ يَكُونَ بَعْدَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نَبِيٌّ عَاشَ ابْنُهُ، وَلَكِنْ لاَ نَبِيَّ بَعْدَهُ‏.‏ অর্থ- ইসমা‘ঈল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আবূ আওফা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি নবী (সা.)-এর পুত্র ইবরাহীম-কে দেখেছেন? তিনি বললেন, তিনি তো বাল্যাবস্থায় মারা গিয়েছেন। যদি মুহাম্মদ (সা.)-এর পরে অন্য কেউ নবী হবার বিধান থাকত তবে তাঁর পুত্র জীবিত থাকতেন। কিন্তু তাঁর পরে কোনো নবী নাই।

[৭] সহীহ বুখারী হাদীস নং ২৬৪১, وَإِنَّ الْوَحْيَ قَدْ انْقَطَعَ অর্থ- নিশ্চয় ওহী বন্ধ হয়ে গেছে ৷

[৮] সহীহ বুখারী হাদীস নং ৪৯৩৬, سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بِإِصْبَعَيْهِ هَكَذَا بِالْوُسْطَى وَالَّتِيْ تَلِي الإِبْهَامَ بُعِثْتُ وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ. অর্থ- সাহল ইবনু সা‘দ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি, রাসুল (সা.) তাঁর মধ্যমা ও বুড়ো আঙ্গুলের নিকটবর্তী অঙ্গুলিদ্বয় এভাবে একত্র করে বললেন, কেয়ামত (কিয়ামত) ও আমাকে এমনিভাবে পাঠানো হয়েছে।

[৯] সহীহ বুখারী হাদীস নং ৭১২১, قَالَ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتَتِلَ فِئَتَانِ عَظِيمَتَانِ يَكُونُ بَيْنَهُمَا مَقْتَلَةٌ عَظِيمَةٌ دَعْوَتُهُمَا وَاحِدَةٌ وَحَتَّى يُبْعَثَ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ قَرِيبٌ مِنْ ثَلاَثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم অর্থ- তিনি বলেছেন, কেয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ দু’টি বড় দল পরস্পরে মহাযুদ্ধে লিপ্ত না হবে। উভয় দলের দাবী হবে অভিন্ন। আর যতক্ষণ ত্রিশের কাছাকাছি মিথ্যাচারী দাজ্জাল-এর প্রকাশ না পাবে তারা প্রত্যেকেই নিজেকে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল বলে দাবি করবে ৷

[১০] সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৬১১৪, فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلاَّ أَنَّهُ لاَ نُبُوَّةَ بَعْدِي অর্থ- রসূলুল্লাহ (সা.) বললেন তুমি কি এতে আনন্দবোধ করো না যে, আমার নিকট তোমার সম্মান মূসা (আ.)-এর নিকট হারূন (আ.)-এর মতো। এ কথা ভিন্ন যে, আমার পর আর কোনো নবুওয়ত নেই ।

[১১] সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১০৫৪, وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِيَ النَّبِيُّونَ ‏ অর্থ- আমাকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য (নবী করে) পাঠানো হয়েছে। আর আমাকে দিয়ে নবীদের আগমন-ধারা সমাপ্ত করা হয়েছে।

[১২] সহীহ বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া হাদীস নং ৩৪৫৫, হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, كَانَتْ بَنُوْ إِسْرَائِيْلَ تَسُوْسُهُمْ الأَنْبِيَاءُ كُلَّمَا هَلَكَ نَبِيٌّ خَلَفَهُ نَبِيٌّ وَإِنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِيْ وَسَيَكُوْنُ خُلَفَاءُ فَيَكْثُرُوْنَ অর্থ বনী ইসরাঈলের নবীগণ তাঁদের উম্মাতকে শাসন করতেন। যখন কোনো একজন নবী মারা যেতেন, তখন অন্য একজন নবী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন। আর আমার পরে কোনো নবী নেই। তবে অনেক খলীফাহ্ হবে। (তাওহিদ প্রকাশনী)।

[১৩] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৯০, হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَمْ يَبْقَ مِنْ النُّبُوَّةِ إِلاَّ الْمُبَشِّرَاتُ অর্থ আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মুবাশশ্বিরাত ব্যতীত নবুওয়তের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই ‘মুবাশ্বশিরাত’ (مُبَشِّرَاتِ) এর মর্মার্থ সুস্পষ্ট করে আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, لَمْ يَبْقَ مِنَ النُّبُوَّةِ إلَّا المُبَشِّراتُ. قالوا: وما المُبَشِّراتُ؟ قالَ: الرُّؤْيا الصَّالِحَةُ অর্থাৎ মুবাশ্বশিরাত ব্যতীত নবুওয়তের আর কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুবাশ্বশিরাত কী? তিনি (সা.) বললেন, সত্য স্বপ্ন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৯০)।

[১৪] ইমাম দায়লামী (রহ.) সংকলিত আল-ফেরদাউস বি-মাছূরিল খিতাব (الفردوس بمأثور الخطاب للدیلمی), ১/৩৯, হাদীস নং ৮৫, হযরত আবু যর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, یٰا أَبَا ذَرٍ أَوَّلُ الْاَنْبِیَاء آدَمُ وَآخِرُہ مُحَمَّدٌ অর্থ ‘হে আবু যর! সর্বপ্রথম নবী ছিলেন আদম আর সর্বশেষ নবী হচ্ছে মুহাম্মদ।’

[১৫] তিরমিযি হাদীস নং ৩৬৮৬, হযরত উকবাহ ইবনে আমের (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, لَوْ كَانَ بَعْدِي نَبِيٌّ لَكَانَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ অর্থ আমার পরবর্তীতে কেউ নবী হলে অবশ্যই উমর ইবনুল খাত্তাবই নবী হতেন। (সহীহ)।

[১৬] সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৩২৬৯, فَإِنِّي آخِرُ الأَنْبِيَاءِ وَإِنَّ مَسْجِدِي آخِرُ الْمَسَاجِدِ ‏ অর্থ- অতএব অবশ্যই আমি নবীগণের সমাপ্তি এবং আমার মসজিদ সর্বশেষ মসজিদ ৷ (অন্য রেওয়ায়েতে আছে, [আরবী] مسجدى آخر مساجد الأنبياء অর্থ- নিশ্চয়ই আমার মসজিদ নবীগণের প্রতিষ্ঠিত মসজিদ সমূহের মধ্যে সর্বশেষ মসজিদ [সূত্র- আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব])।

[১৭] সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৬২১২, وَلَكِنْ أَبْكِي أَنَّ الْوَحْىَ قَدِ انْقَطَعَ مِنَ السَّمَاءِ অর্থ- কিন্তু আমি এজন্য কাঁদছি যে, আকাশ হতে ওহী (তথা ওহীয়ে নবুওয়ত) আসা বন্ধ হয়ে গেল।

[১৮] সহীহ মুসিলম হাদীস নং ৫৮৫৪, مَثَلِي وَمَثَلُ الأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِي كَمَثَلِ رَجُلٍ ابْتَنَى بُيُوتًا فَأَحْسَنَهَا وَأَجْمَلَهَا وَأَكْمَلَهَا إِلاَّ مَوْضِعَ لَبِنَةٍ مِنْ زَاوِيَةٍ مِنْ زَوَايَاهَا فَجَعَلَ النَّاسُ يَطُوفُونَ وَيُعْجِبُهُمُ الْبُنْيَانُ فَيَقُولُونَ أَلاَّ وَضَعْتَ هَا هُنَا لَبِنَةً فَيَتِمَّ بُنْيَانُكَ ‏.‏ فَقَالَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ فَكُنْتُ أَنَا اللَّبِنَ অর্থ- আমার দৃষ্টান্ত ও আমার পূর্বেকার নবীগণের দৃষ্টান্ত সে লোকের উপমার মতো যে কতকগুলো গৃহ বানালো, তা সুন্দর করল ও সুদৃশ্য করল এবং পূর্ণাঙ্গ করল; কিন্তু তার কোনো একটির কোণে একটি ইটের স্থান ব্যতীত। লোকেরা সে ঘরগুলোর চারদিকে চক্কর দিতে (ঘুরেঘুরে দেখতে) লাগল আর সে ঘরগুলো তাদের মুগ্ধ করতে লাগল। পরিশেষে তারা বলতে লাগল, এখানে একখানি ইট লাগালেন না কেন? তাহলে তো আপনার অট্টালিকা পূর্ণাঙ্গ হত। অতঃপর মুহাম্মদ (সা.) বলেন যে, আমি-ই সে (শূন্যস্থানের) ইটখানি।

[১৯] সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৬০২৬, الأَنْبِيَاءُ إِخْوَةٌ مِنْ عَلاَّتٍ وَأُمَّهَاتُهُمْ شَتَّى وَدِينُهُمْ وَاحِدٌ فَلَيْسَ بَيْنَنَا نَبِيٌّ অর্থ- নবীগণ একই পিতার সন্তানের মতো। তাদের মাতা ভিন্ন। তাদের দীন একটিই। আর তাঁর (ঈসা) এবং আমার মাঝে কোনো নবী নেই।

[২০] শামায়েলে তিরমিযি হাদীস নং ২৮৩, فَقَالَ : ” أَنَا مُحَمَّدٌ ، وَأَنَا أَحْمَدُ ، وَأَنَا نَبِيُّ الرَّحْمَةِ ، وَنَبِيُّ التَّوْبَةِ ، وَأَنَا الْمُقَفَّى ، وَأَنَا الْحَاشِرُ ، وَنَبِيُّ الْمَلاحِمِ অর্থ- তিনি বললেন, আমি মুহাম্মদ, আমি আহমদ, আমি নবীউর রহমত (রহমতের নবী) আমি নবীউত তাওবা (তাওবার নবী), আমি মুকাফফী (পরে আগমনকারী), আমি হাশির (একত্রকারী অর্থাৎ আমার সময়ের পরপরই হাশরের ঘটনা ঘটবে), আমি মালাহিমের নবী (জিহাদকারী)।

[২১] আবু দাউদ হাদীস নং ৪২৫২, سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي كَذَّابُونَ ثَلَاثُونَ، كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ، وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لَا نَبِيَّ بَعْدِي অর্থ- অবিলম্বে আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে, তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নবী বলে দাবী করবে। অথচ আমিই সর্বশেষ নবী এবং আমার পরে আর কোনো নবী নেই।

[২২] তিরমিযি হাদীস নং ২২৭২, ان الرِّسَالَةَ وَالنُّبُوَّةَ قَدِ انْقَطَعَتْ فَلاَ رَسُولَ بَعْدِي وَلاَ نَبِيَّ ‏ অর্থ- নিশ্চয় রিসালাত ও নবুওয়তের ধারাবাহিকতা সমাপ্ত হয়ে গেছে। অতএব, আমার পরে আর কোনো রাসূলও প্রেরিত হবে না এবং নবীও হবে না।

[২৩] ইবনে মাজাহ হাদীস নং ৩৮৯৬, ذَهَبَتِ النُّبُوَّةُ وَبَقِيَتِ الْمُبَشِّرَاتُ অর্থ- নবুওয়ত সমাপ্ত হয়ে গেছে এবং মুবাশ্বশিরাত (সত্য স্বপ্ন) অবশিষ্ট রয়ে গেছে।

  • প্রিয়বন্ধুরা, উপরিউক্ত ২০টির-ও অধিক সহীহ হাদীসের আলোকে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টত প্রমাণিত যে, নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের ধারাবাহিকতা সমাপ্ত হয়ে গেছে। তাই তিনি সর্বশেষ নবী ও রাসূল ৷ তাঁর পর আর কোনো প্রকারের নতুন কোনো নবীও নেই রাসূলও নেই৷

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
শিক্ষাবিদ ও গবেষক
হ্যালো-

কুরআন থেকে ওফাতে মসীহ’র দলিল এইভাবে দিতে পারবেন?

  • কাদিয়ানীবন্ধুরা! অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট করা বাদ দিয়ে আসুন, চ্যালেঞ্জ কবুল করুন! মূল পোস্টের লিংক : ক্লিক করুন

আপনি সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রশ্নটি করতে পারেন কিন্তু শতভাগ নিশ্চিত থাকুন যে, উত্তর পাবেন না! শুধু তোতাপাখির মত সেই একই কথা শুনবেন – তোমরা ঈসাকে মরিতে দাও, তবেই ইসলামের জীবন রক্ষা হবে!! আসল কথা হল, ঈসাকে মারতে পারলেই তবে মির্যা কাদিয়ানীর “রূপক ঈসা” দাবীর ষোলকলা পূর্ণ হবে! হায়রে মতলববাজ!! মতলববাজি কি সব সময় গোপন থাকবে!! কিন্তু অধিকাংশ সিজোফ্রেনিয়া পাড়ার নির্বোধ কাল্টগুলা বুঝেনা, আর বুঝানোর সাধ্যও বা আছে কার!!

এবার প্রশ্ন দুটির উত্তর দিন অন্যথা শুধু দৌড়ের ওপরে থাকুন…….

প্রশ্ন ১- পবিত্র কুরআন থেকে এমন একটি আয়াত উল্লেখ করুন যেখানে ঈসা (আ:)-এর নাম বা তৎসংশ্লিষ্ট সর্বনামপদ উল্লেখপূর্বক অতীতকালবাচক এমন কোনো ক্রিয়াপদও উল্লেখ আছে অভিধানে যেটির প্রকৃত অর্থ মৃত্যুও নেয়া হয়েছে আর মির্যা কাদিয়ানীর জন্মের পূর্বে যত যুগ ইমাম গত হয়েছেন তাদের মধ্য থেকে স্রেফ কোনো একজনও ঐ আয়াত দ্বারা ঈসা (আ:)-কে মৃত বলেছেন বা মনে করতেন! আসুন, এইরকম কোনো আয়াত যদি পেশ করতে পারেন তাহলে করুন!

প্রশ্ন ২- পবিত্র হাদীস থেকে শুধু এমন একটি হাদীস উল্লেখ করুন যেখানে ঈসা (আ:)-এর নাম বা তৎসংশ্লিষ্ট সর্বনামপদ উল্লেখপূর্বক অতীতকালবাচক এমন কোনো ক্রিয়াপদও উল্লেখ আছে অভিধানে যেটির প্রকৃত অর্থ মৃত্যুও নেয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রে ঐ হাদীসটির সনদ সহ উল্লেখ করতে হবে। আপনাদের আরো সহজ করে দিচ্ছি যে, ঐ সনদটি মারফূ/মুরসাল/মওকুফ যে কোনটাই হোক, তবে সনদের (Chain of narration) কোনো রাবী তথা বর্ণনাকারী সম্পর্কে জরাহ তা’দীলের বরেণ্য কোনো মুহাক্কিকের (হাদীস-শাস্ত্রবিদ) এমন কোনো নেতিবাচক উক্তি থাকতে পারবেনা যার ফলে সনদের বিচারে ঐ হাদীসটি জাল কিংবা পরিত্যাজ্য হিসেবে গণ্য হয়!

আসুন, আমার এই চ্যালেঞ্জ কবুল করুন। যদি চ্যালেঞ্জ কবুল করতে না পারেন তাহলে এই টপিকে ত্যানা-প্যাচানো বাদ দিয়ে মির্যা কাদিয়ানীর জীবন-চরিত্র নিয়ে আলোচনায় আসুন!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

যদি মূসা ও ঈসা জীবিত থাকত

যদি মূসা এবং ঈসা জীবিত থাকত :

প্রশ্নকর্তা : ‘ইবনে কাসীর’-এর মধ্যে উল্লেখ আছে ‘কোনো কোনো হাদীসে রয়েছে, যদি হযরত মূসা ও হযরত ঈসা (ইহ-জগতে) জীবিত থাকতেন তবে তাঁদেরও আমার আনুগত্য ছাড়া কোনো উপায় থাকত না।’ ফলে কাদিয়ানী সম্প্রদায় এই রেওয়ায়েত দিয়ে হযরত ঈসা (আ:)-কে মৃত বলে আখ্যা দেয়। এখন এর কী উত্তর?

উত্তরদাতা : প্রথমত, উক্ত বর্ণনা সম্পূর্ণ একটি সনদবিহীন। ফলে এটি আকীদাগত তো বটে; কোনো ফাজায়েল বর্ণনাতেও অথেনটিক (প্রমাণযোগ্য) নয়। যেজন্য এ সম্পর্কে কথা বলাও সময় নষ্ট। আর তর্কের খাতিরে এটি অথেনটিক মেনে নিলেও এর দ্বারা ঈসা (আ.) মৃত সাব্যস্ত হবেন না। তার কারণ, এর দ্বারা ‘ইহ-জগতে’ নবীগণের কেউই আর জীবিত নেই, বুঝানো উদ্দেশ্য। কেননা ‘আনুগত্যের’ সম্পর্ক শুধুই ইহজগতের সাথে। অধিকন্তু রাসূল (সা.)-এর অন্য একটি হাদীসে আছে, নবীগণের সবাই যার যার কবরে জীবিত ও সালাত পড়েন। হাদীসটি সহীহ (পড়ুন)। সুতরাং এতেও প্রমাণিত হল যে, ইবনে কাসীরের বর্ণনাটি দ্বারা শুধুই ‘ইহ-জগতে’ জীবিত নেই, বলে বুঝানো উদ্দেশ্য। অন্যথা সমস্ত নবী ইহজাগতিক জীবনের বাহিরে যার যার অবস্থানে প্রত্যেকে জীবিত। এ ক্ষেত্রে শুধু ঈসা (আ.) একটুখানি ব্যতিক্রম, তিনিও জীবিত, কবরে নয়, বরং আকাশে। অন্যান্য হাদীসে এর প্রমাণ বিদ্যমান।

  • উল্লেখ্য, ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) বর্ণনাটি সূরা আম্বিয়া আয়াত নং ৩৪ এর তাফসীর অংশে এনেছেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর এর মূল কিতাব অনলাইন থেকে)।

দ্বিতীয়ত, ইমাম ইবনে কাসীর (রহ:) একই পৃষ্ঠায় আরো তিনখানা হাদীস উল্লেখ করেছেন কিন্তু সেগুলোর একটিতেও ‘ঈসা’ (আ:)-এর নামের উল্লেখ নেই। কাদিয়ানীরা এই হাদীসগুলোর প্রেক্ষাপট সুকৌশলে এড়িয়ে যান। পক্ষান্তরে ইবনে কাসীর (রহ:)-এর ব্যক্তিগত অভিমতও কাদিয়ানী জ্ঞানপাপীরা উদ্ধৃত করেন না। অথচ ইবনে কাসীর কর্তৃক সনদ (সূত্র) বিহীন রেওয়ায়েতটির সংগ্রহ অথেনটিক মনে করে নয়, বরং লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে মর্মে-ই ছিল। আফসোস! নির্বোধ কাদিয়ানী জ্ঞানপাপীরা ব্যাপারটি জেনে-বুঝেই নিজ অনুসারীদের প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করে চলছে। পবিত্র কুরআনেও অন্যদের কথাকে সংগ্রহ রূপে তুলে ধরার দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন আল্লাহতালা মুশরিকদের একটি বক্তব্য তুলে ধরেছেন এইভাবে : ‘যদি তোমরা তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য করো, তবে তোমরা নিশ্চিতরূপেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে’ (মুমিনূন/২৩:৩৪)। এখন আপনি কি এটিকে অথেনটিক (প্রমাণ) ধরে বলতে চাইবেন যে, যেহেতু নবীগণও মানুষ ছিলেন সেহেতু আমরা তাদের আনুগত্য করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না? অবশ্যই চাইবেন না। শায়খ আ’লাভী (রহ:) তাফসীরে ইবনে কাসীরের বর্ণনাটির ‘ঈসা’ শব্দের বৃদ্ধি সম্পর্কে লিখেছেন, ولم يعزه لأحد، ولم أجده في أيٍّ من كتب الحديث التي بين يدي، وسألت عنه الألباني يرحمه الله هاتفيَّاً، فقال: إن زيادة ((عيسى)) منكرة لا أصل لها. অর্থাৎ তিনি (ইবনে কাসীর) একে কারো দিকে নেসবত করেননি। আর আমি ‘ঈসা’ সম্বলিত এমন কোনো রেওয়ায়েত আমার সামনে থাকা হাদীসের কোনো কিতাবেই (খুঁজে) পাইনি। (তাই) আমি শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ:)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেসও করেছিলাম। তিনি প্রতিউত্তরে বলেছেন, ان زيادة عيسى منكرة لا اصل لها অর্থ উক্ত বর্ণনায় ‘ঈসা’ শব্দের বৃদ্ধিকরণ মুনকার তথা অগ্রহণযোগ্য, আর এর কোনো ভিত্তিও নেই।

  • রেফারেন্স, তাখরীজু আহাদীস ওয়া আছার কিতাব ফী যিলালিল কুরআন (تخريج احاديث و آثار كتاب فى ظلال القرآن), শায়খ আ’লাভী বিন আব্দিল কাদের আস-সাক্বাফ (علوي بن عبد القادر السَّقَّاف)। ‘তাখরীজু আহাদীস‘ কিতাবটি দেখা যেতে পারে।

আর এতে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হয় সেজন্য তিনি (ইবনে কাসীর) ঈসা (আ:) সম্পর্কে নিজেস্ব অভিমতও লিখে দিয়েছেন। হযরত ইবনে কাসীর (রহ:)-এর নিজেস্ব অভিমত বাদ দিয়ে ‘ঈসা’ সম্বলিত ঐ রেওয়ায়েতের সংগ্রহকে তাঁর নিজের অভিমতরূপে উপস্থিত করা নিতান্তই হীনরুচির পরিচায়ক ও তাকওয়ার খেলাফ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ইবনে কাসীরের নিজেস্ব অভিমত এই যে, তিনি তাঁর উক্ত গ্রন্থে সূরা নিসার ১৫৮-৫৯ নং আয়াতের তাফসীরে আরো বেশকিছু হাদীস উল্লেখপূর্বক শিরোনাম উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘ذكر الأحاديث الواردة في نزول عيسى بن مريم إلي الأرض من السماء في آخر الزمان قبل يوم القيامة অর্থাৎ ‘কেয়ামতের পূর্বে শেষ যুগে আকাশ থেকে পৃথিবীতে ঈসা ইবনে মরিয়ম এর অবতরণ করা বিষয়ক হাদীসগুলোর আলোচনা।’ সুতরাং কাদিয়ানীরা ইবনে কাসীরের নামে ‘ঈসা’ সম্বলিত যে অংশ উদ্ধৃত করে থাকে তা যে ইবনে কাসীরেরও কোনো অভিমত নয় তা প্রমাণ করার জন্য তাঁর এই উদ্ধৃত অংশই যথেষ্ট। স্ক্রিনশট :-

হাদীসের ঐ কথার প্রেক্ষাপট :

রাসূল (সা:)-এর ঐ কথার প্রেক্ষাপট এই যে, রাসূল (সা:) একদা হযরত উমর (রা:)-এর হাতে তাওরাতের একটি পৃষ্ঠা দেখতে পান। তখন তিনি (সা:) তাঁকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন : وَعَنْ جَابِرٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أَتَاهُ عُمَرُ فَقَالَ إِنَّا نَسْمَعُ أَحَادِيثَ مِنْ يَهُودَ تُعْجِبُنَا أَفْتَرَى أَنْ نَكْتُبَ بَعْضَهَا؟ فَقَالَ: «أَمُتَهَوِّكُونَ أَنْتُمْ كَمَا تَهَوَّكَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى؟ لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً وَلَوْ كَانَ مُوسَى حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا اتِّبَاعِي» . رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي كتاب شعب الايمان

অর্থাৎ হযরত জাবের (রা:)-এর সূত্রে নবী করীম (সা:) থেকে বর্ণিত আছে , একদা যখন উমর (রা:) তাঁর (রাসূল) নিকট এসে বললেন, আমরা ইহুদীদের কাছ থেকে এমন বহু কথা শুনি যা আমাদের অবাক করে দেয়। এখন আমরা তার কোনো কোনোটি লিপিবদ্ধ করাকে আপনি কিভাবে দেখছেন? তিনি বললেন, তোমরা কি ইহুদী ও খ্রিস্টানদের মতই দিশেহারা? আমি তোমাদের নিকট খাঁটি ও স্বচ্ছ জিনিস (দ্বীন) নিয়ে এসেছি। (আজকে) যদি মূসাও বেঁচে থাকতেন, তবে আমার অনুসরণ করা ব্যতীত তাঁর কোনো উপায় ছিল না।

  • সূত্র, ইমাম আহমদ এটি মসনাদে আহমদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ইমাম আল-বায়হাকী স্বীয় গ্রন্থের শু’আবুল ঈমান পর্বে এটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের মান : শায়খ আলবানী (রহ:) হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন।

এখানে গভীরভাবে চিন্তা করলে বুঝা যায় যে, রাসূলের (সা:) ঐ কথায় ঈসা (আ:) এর নাম উল্লেখ থাকার কোনো কারণ নেই। যেহেতু তাওরাত কিতাব ঈসা (আ:)-এর উপর নাযিল হয়নি। অতএব, ঐ সূত্রহীন মুনকার রেওয়ায়েতটি দ্বারা ঈসা (আঃ)-কে মৃত দাবী করা সম্পূর্ণ বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

হাদীসে বর্ণিত “লূদ” আর “লুধিয়ানা” কি একই শহর?

কাদিয়ানীরা “লূদ” শব্দকে ‘লুধিয়ানা’ বলেও অপব্যাখ্যা দেয়! অথচ সহীহ হাদীস তাদের ঐ সমস্ত ব্যাখ্যার সম্পূর্ণ বিরোধী!!

কাদিয়ানীবন্ধুরা! আপনারা হাদীসের “লূদ” শব্দকে পাকিস্তানের ‘লুধিয়ানা’ কিভাবে বলতে পারেন বা আপনাদের কথিত মাহদী ও সিজোফ্রেনিয়া রোগীটাও বা এরকম একটা অপব্যাখ্যা কিভাবে দিতে পারলেন?

অথচ সহীহ হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত যে, “লূদ” হচ্ছে ফিলিস্তিনের একটি শহরের নাম। আপনি ইন্টারনেটেও সার্চ দিলে দেখবেন, একদম পরিষ্কার করে লিখা আছে যে, “লূদ বর্তমান ইসরাইল অধিকৃত ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূখন্ডের একটি ছোট শহর, যা তেলআবিব থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। ইসরাইলের প্রধানতম বিমানবন্দর বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর এই শহরটির নিকটেই অবস্থিত।” (ইন্টারনেট)।

  • উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ)-এর হাদীসে “লূদ” যে ফিলিস্তিনের একটি স্থান, তা পরিষ্কার ভাবে প্রমাণিত। হাদীসের আরবি উচ্চারণ — “ফিলিস্তিন বি-বাবে লূদ (فلسطين بباب لد)”।
  • উইকিপিডিয়া থেকে Click

(হাদীসটি মসনাদে আহমদ গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে, রাবীদের মধ্যে ‘হাযরমি বিন লাহিক’ ছাড়া সবাই সহীহ বুখারি এবং মুসলিম শরীফের রাবী, তবে তিনিও একজন ছিকাহ বা বিশ্বস্ত রাবী)।

সূত্র, ইমাম হাইছামি সংকলিত ‘মাজমাউয যাওয়ায়েদ‘ হাদীস নং ১২৫১২; কিতাবুল ফিতান আ-আ’জানাল্লাহু মিনহা।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

বাইবেলের তিনটি পুস্তকের নামে মির্যা কাদিয়ানীর মিথ্যা-৬

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব কুরআন শরীফ এবং বাইবেলের নামেও কেন এমন সব মিথ্যাচার করে গেলেন?

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সাহেব পবিত্র কুরআন এবং তাওরাতের তিনটি পুস্তকের উদ্ধৃতি দিয়ে নিজ পুস্তক (বাংলায় অনুবাদকৃত) “কিশতিয়ে-নূহ” এর ৫ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “ইহাও স্মরণ রাখিতে হইবে যে, কুরআন শরীফে এমনকি—তওরাতের কোন কোন কিতাবেও এই সংবাদ বিদ্যমান রহিয়াছে যে, মসীহ মওউদ (আ.)-এর সময়ে প্লেগের প্রাদুর্ভাব হইবে।” মির্যা কাদিয়ানী সাহেব উক্ত উদ্ধৃতির সমর্থনে বইয়ের টীকায় তওরাতের তিনটি পুস্তকের রেফারেন্স দিয়েছেন। রেফারেন্স হল, সখরিয়-১৪:১২, ইঞ্জিল মথি-২৪:৮, প্রকাশিত বাক্য-২২:৮। মির্যায়ী রচনা হতে স্ক্রিনশট –

এবার আমি ‘বাংলাদেশ বাইবেল স্যোসাইটি, ঢাকা” থেকে মুদ্রিত বাইবেল থেকে উল্লিখিত তিনটি পুস্তক থেকে আপনাদের উদ্দেশ্যে স্ক্রিনশট তুলে ধরছি। আপনারা ঐ তিনটি পুস্তকের যথাক্রমে ১৪:১২, ২৪:৮ ও ২২:৮ এর সাথে মির্যা কাদিয়ানীর কৃত উদ্ধৃতি মিলিয়ে দেখুন। আপনি বাইবেলের ঐ পুস্তকগুলোর সাথে মির্যা কাদিয়ানীর উদ্ধৃত কথাটির ১% মিলও খুঁজে পাবেন না। এতদ্ব্যতীত পবিত্র কুরআনের সাথে মির্যার উক্ত বক্তব্যের মিল থাকার তো প্রশ্নই আসেনা। এমতাবস্থায় মির্যা কাদিয়ানী সম্পর্কে আপনি বা আমি একজন নিরপেক্ষ পাঠক হিসেবে কেমন মন্তব্য ছুড়তে পারি বলুন!

(মিলিয়ে দেখার জন্য বাইবেলের তিনটি পুস্তকের স্ক্রিনশট এখানে যুক্ত করে দিলাম)।

মির্যা কাদিয়ানী সম্পর্কে উল্লিখিত তথ্যের আলোকে আমি যদি নিম্নরূপ মন্তব্য ছুড়তে চাই তাহলে মোটেও বাড়াবাড়ি হবেনা! যথা-

১- মির্যা কাদিয়ানী একজন মিথ্যাবাদী।
২- একজন খেয়ানতকারী।
৩- একজন প্রতারক।
৪- সত্যমিথ্যা মিশ্রিত কারী।
৫- আল্লাহর নামে জঘন্য মিথ্যারোপকারী।
৬- একজন গু খোর, জারজ, হারামজাদাহ, মুশরিক ও শুয়োরের চেয়েও নিকৃষ্ট। কেননা মির্যা কাদিয়ানী নিজেই তার রচনাবলীর জায়গায় জায়গায় লিখেছে, মিথ্যা বলা আর গু খাওয়া একই কথা। এভাবে উপরের সবগুলো কথা নিজেই লিখেছেন। তাই এগুলো তার সাথে মিলে গেল!
৭- একজন ভন্ড মাহদী, নবুওয়তের মিথ্যাদাবিদার। কেননা, এমন একজন মিথ্যাবাদী ও খেয়ানতকারী আর যাইহোক অন্তত ভদ্র মানুষ হওয়ার যোগ্যতাও রাখেনা; থাক তো ইমাম মাহদী বা নবী হবে!

  • আফসোস! মির্যা কাদিয়ানী সাহেব ভেবেছিলেন যে, তার এসব জালিয়াতি ধরার মত পরবর্তীতে লোকের খুব অভাব থাকবে। ফলে যাচাই-বাছাই ছাড়া সবাই চোখবুঁজে তার সব মিথ্যাকে সত্য বলেই গলাধঃকরণ করবে! বেচারা ভুলেও ভাবেনি যে, শেষ যামানায় স্যোসাল মিডিয়া নামে কিংবা ইন্টারনেট নামে কিছু একটা মানুষের হাতেহাতে পৌঁছে যাবে।

প্রিয় আহমদী ভাই ও বোনেরা! নিরপেক্ষভাবে কথাগুলো নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখবেন। মনে রাখবেন, বাহাউল্লাহ ইরানীও নবুওয়তের দাবীদার ছিলেন এবং ১৮৬৩ সালে মসীহ মওউদ হবার দাবীও করেছিলেন। তিনি তার উক্ত দাবীর উপর আরো প্রায় ২৯ বছর জীবিত ছিলেন। বর্তমানে প্রায় ২১৮টি রাষ্ট্রে তার বাহায়ী জামাত ৮ মিলিয়ন অনুসারীসহ টিকে আছে। এখন কোনো জামাত বা গোষ্ঠী দীর্ঘ সময়ব্যাপী টিকে থাকার অর্থ মোটেও এই নয় যে, সেটি সত্য বলে গন্য হবে। অন্যথা বাহায়ী জামাতকেও সত্য জামাত এবং বাহাউল্লাহও “সত্য মসীহ” হয়ে যেত। তাই আবেগপ্রবণ হয়ে নয়, বরং বিবেকবুদ্ধি সহকারে সত্যটা খুঁজে নেবেন! ইসলামের মূলধারায় ফিরে আসবেন।

ফেইসবুক থেকে

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

শায়খ সারহেন্দী (রহ.) এর নামে মিথ্যাচার-৭

মুজাদ্দিদ আলফে সানী (রহ.)-এর নামে মিথ্যাচার করে মির্যা কাদিয়ানী একই বক্তব্যকে দুই জায়গায় দুইরকম উদ্ধৃত করে পাকড়াও হয়েছেন। যেমন,

  • মির্যা কাদিয়ানী সাহেব লিখেন, ‘মুজাদ্দিদ আলফে সানী স্বীয় মাকতুবাত এর দ্বিতীয় খণ্ডে পরিষ্কার লিখেছেন, নবী হওয়া ছাড়াও উম্মতের সাধারণ সদস্যরাও আল্লাহতালার সাথে বাক্যালাপের সৌভাগ্য পেতে পারে। আর এমন সৌভাগ্যবানদের মুহাদ্দাস বলা হয়।’ (রূহানী খাযায়েন ১/৬৫২)।
  • মির্যা সাহেব তার বইয়ের আরেক জায়গায় লিখেছেন, ‘মুজাদ্দিদ সেরহান্দী নিজ মাকতুবাত এর মধ্যে লিখেছেন, যদিও বা এই উম্মতের কিছু সদস্য আল্লাহর সাথে কথপোকথন ও আল্লাহর সম্বোধনের অধিকারী এবং কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারা চলতে থাকবে কিন্তু যাকে খুব বেশি এই বৈশিষ্ট্য এবং গায়েবের সংবাদ দান করা হয় তাকে নবী বলা হয়।’ (রূহানী খাযায়েন ২২/৪০৬)।

কাদিয়ানীরা মির্যাকে রক্ষা করতে এক্ষেত্রেও যে কাসুন্দি নিয়ে হাজির হন, তার সারাংশ মুটামুটি এরকম!

মির্যা সাহেব নাকি মুজাদ্দিদ আলফে সানী (রহ.) এর “মাকতুবাত” কিতাবের হুবহু উক্তিকে উদ্ধৃত করেননি, বরং ভাবার্থ উদ্ধৃত করেছেন। যেজন্য মির্যা সাহেবকে নাকি খেয়ানতকারি বলা যাবেনা। প্রতিউত্তরে আমি বলি, যেখানে মির্যা সাহেবের উদ্ধৃত বক্তব্যের কথাগুলো একদমই সুস্পষ্ট ও উদ্ধৃতিমূলক সেখানে আপনি/আপনারা মির্যা সাহেবের খেয়ানতপূর্ণ চরিত্রের কালিমা মুছতে কিভাবে এবং কোন প্রমাণে বলতে চাচ্ছেন যে, এটি আলফে সানী (রহ.) এর বক্তব্যের ভাবার্থ মাত্র! এভাবে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে গিয়ে পাছে নিজের পরকাল নষ্ট করে ফেলছেন কিনা—একটু তো চিন্তা করবেন, তাই নয় কি?

স্ক্রিনশট

জ্ঞানীদের নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলবে!!

ফেইসবুক থেকে

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
তাং ০৫/০৮/২০২১

কাদিয়ানীদের একটি সুস্পষ্ট ধর্মমত

কাদিয়ানীদের কিভাবে বিশ্বাস করবেন? এরা গিরগিটির মতো প্রতি ক্ষণে রঙ বদলায়! এদের লিফলেট আর প্রচারপত্রগুলো দেখলে মনে হবে যে, এরা শুধুই ইমাম মাহদী হিসেবে মির্যা কাদিয়ানীকে মান্য করার কথা বলছে। এদের দাবী হল, এই একটা মাত্র কনসেপ্ট ছাড়া মুসলমানদের সাথে নাকি এদের আর কোনো বিরোধ নেই! আহা! কত নিকৃষ্ট ধোকা আর মিথ্যাচার!

এখানে এই যে দেখতে পাচ্ছেন, তারাই বলছে, হযরত মুহাম্মদ সাঃ শেষনবী নন। নাউযুবিল্লাহ।

এর মানে হল, এরা মুহাম্মদ সাঃ -কে বিনা ব্যতিক্রমে “শেষনবী” বিশ্বাস করেনা। অথচ হাদীস শরীফে “লা নাবিয়্যা বা’দী” বলা হয়েছে। যেখানে “লা” শব্দটি ‘লি নাফিয়ে আম’ অর্থাৎ বিনা ব্যতিক্রমে অর্থ নির্দেশকারী ‘লা‘। হুবহু এই ‘লা‘ শব্দটি কলেমার মধ্যেও রয়েছে। ফলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ অর্থ দাঁড়ায় — বিনা ব্যতিক্রমে আল্লাহই একমাত্র উপাস্য। ফলে এখানে তথাকথিত জিল্লি বা বুরুজি উপাস্যের দ্বিতীয় কোনো কনসেপ্ট নির্দেশ করার যেমন সুযোগ নেই তেমনি ‘লা নাবিয়্যা বা’দী (আমার পর আর কোনো নবী নেই – সহীহ বুখারী)’র কারণেও দ্বিতীয় আর কোনো জিল্লি বা বুরুজি টাইপের নবীর জন্ম হওয়ারও সুযোগ নেই বলে সাব্যস্ত হল। এবার অভিধান থেকে خاتم النبيين বা খাতামুন নাবিয়্যীন হতে কী অর্থ নেয়া হয়েছে তা দেখুন!

তাহলে এখন প্রশ্ন হল, খতমে নবুওয়ত পরিপন্থী বিশ্বাস যাদের তারা কিভাবে নিজেদের “মুসলিম” দাবী করতে পারে?

কাদিয়ানীদের দৃষ্টিতে ‘খতমে নবুওয়ত’ এর ব্যাখ্যা কীরকম তা জানতে এখানে ক্লিক করুন। কাদিয়ানীদের প্রকাশিত ‘উম্মতি নবী‘ বই এর ৯ নং পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট নিম্নরূপ,

স্যোসাল মিডিয়ায় সক্রিয় কতিপয় কাদিয়ানী মিশনারী ও তাদের সাপোর্টারদের বিভিন্ন সময় স্ব স্ব স্বীকারোক্তি এ ই যে,

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

কাদিয়ানী কারা? কী তাদের আসল পরিচয়?

বিসমিল্লহির রাহমানির রাহিম
কাদিয়ানী কারা? কী তাদের আসল পরিচয়? তারা কেন মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত নয়? সংক্ষেপে জেনে নিন!

বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার পূর্বে মির্যা কাদিয়ানীর বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন দাবী-দাওয়ার সামান্য তালিকা তুলে ধরছি। যেমন,

১ . মুলহাম (তাযকিরাহ পৃ-০৬; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৬৮ ইং)।

২. বায়তুল্লাহ (তাযকিরাহ পৃ-২৮; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৮১ ইং)।

৩. মুজাদ্দিদ (তাযকিরাহ পৃ-৩৫; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৮২ ইং)।

৪. মামুর মিনাল্লাহ (তাযকিরাহ পৃ-৩৫; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৮২ ইং)।

৫. নাযীর (তাযকিরাহ পৃ-৩৫; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৮২ ইং)।

৬. আদম, বিবি মরিয়ম, আহমদ (তাযকিরাহ পৃ-৫৫; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৮৩ ইং)।

৭. মুরসাল (তাযকিরাহ পৃ-৯৯; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৮৪ ইং)।

৮. মাসীলে মসীহ (তাযকিরাহ পৃ-১৪৮; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৯১ ইং)।

৯. তাওহীদ এবং তাফরিদ (তাযকিরাহ পৃ-১৬৪; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৯২ ইং)।

১০. কুন ফা-ইয়াকুন (তাযকিরাহ পৃ-১৬৪; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৯২ ইং)।

১১. মসীহ ইবনে মরিয়ম (তাযকিরাহ পৃ-১৭৮; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৯৩ ইং)।

১২. ইমাম মাহদী এবং মসীহ ঈসা (তাযকিরাহ পৃ-২০৯; ৪র্থ এডিশন, দাবীর সময় ১৮৯৪ ইং)।

১৩. ইমামুয যামান (রূহানী খাযায়েন খ-১৩ পৃ-৪৯৫; রিপ্রিন্ট ২০০৮ইং দাবীর সময় ১৮৯৮ ইং)।

১৪. খোদা দাবী (রূহানী খাযায়েন খ-১৩ পৃ-১০৩; রিপ্রিন্ট ২০০৮ইং দাবীর সময় ১৮৯৮ ইং)।

১৫. নবুওয়তী প্রাসাদের সর্বশেষ ইট বা শেষনবী (রূহানী খাযায়েন খ-১৬ পৃ-১৭৭-৭৮; রিপ্রিন্ট ২০০৮ইং দাবীর সময় ১৯০০ ইং)।

১৬. কাশফ অবস্থায় নিজেকে একজন নারীরূপে খোদার সাথে সহবাস করার দাবী (ইসলামী কুরবানী ট্রাক্ট, নং ৩৪, পৃ-১৩; রচনাকারী কাদিয়ানীর ঘনিষ্ট সহচর কাজী ইয়ার মুহাম্মদখান)।

১৭. বুরুজি খাতামুল আম্বিয়া বা শেষনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর অবতার। (রূহানী খাযায়েন খ-১৮ পৃ-২১২; রিপ্রিন্ট ২০০৮ইং দাবীর সময় ১৯০১ ইং)।

১৮. জিল্লি মুহাম্মদ (রূহানী খাযায়েন খ-১৮ পৃ-২১২; রিপ্রিন্ট ২০০৮ইং দাবীর সময় ১৯০১ ইং)।

১৯. জিল্লি, বুরুজি, উম্মতি নবী (রূহানী খাযায়েন খ-১৮ পৃ-২১২; রিপ্রিন্ট ২০০৮ইং দাবীর সময় ১৯০১ ইং)।

২০. শরীয়তবাহক নবী (রূহানী খাযায়েন খ-১৫ পৃ-৪৩২ এবং খ-১৭ পৃ-৪৩৫-৩৬; রিপ্রিন্ট ২০০৮ইং দাবীর সময় ১৯০২ ইং)।

২১. শ্রীকৃষ্ণের অবতার (রূহানী খাযায়েন খ-২২ পৃ-৫২২; রিপ্রিন্ট ২০০৮ইং দাবীর সময় ১৯০৭ ইং)।

বিস্তারিত আলোচনা :

কাদিয়ানীদের প্রচারপত্রে (আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত-এর পরিচিতি-তে) ‘আমাদের ধর্ম বিশ্বাস’ শিরোনামে ‘নূরুলহক’ (রচনাকাল ১৮৯৪ইং) বইয়ের উদ্ধৃতিতে তারা তাদের যে ‘ধর্মবিশ্বাস’ উল্লেখ করেছে তা তাদেরই দ্বিতীয় খলীফা মির্যা বশির উদ্দীন মাহমুদের মত অনুসারে বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে বাতিল। কেননা মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ তিনি কাদিয়ানে তাদের জুমার খুতবায় ভাষণকালে মির্যা কাদিয়ানীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “তিনি (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানী) বলেছেন, এটা ভুল কথা যে, অন্যদের [মুসলমানদের] সাথে আমাদের বিরোধ শুধু ঈসা (আ:) এর মৃত্যু বা আরো কিছু শাখাগত মাসয়ালা নিয়ে। হযরত (মির্যা) সাহেব বলেছেন, আল্লাহতালার সত্তা, রাসূল, পবিত্র কুরআন, নামায, রোজা, হজ্ব ও যাকাত মোটকথা তিনি (মির্যা) বিস্তারিত বলে গেছেন যে, প্রত্যেকটি বিষয়ে তাদের [মুসলমানদের] সাথে আমাদের বিরোধ আছে।” (দৈনিক ‘আল ফজল’ তাং ৩০ জুলাই, ১৯৩১ ইং পৃষ্ঠা নং ৭, কলাম ১)। এখানে একদম পরিষ্কার করে বলে দেয়া হয়েছে যে, মুসলমান আর কাদিয়ানীদের মাঝে প্রত্যেকটি বিষয়ে বিরোধ রয়েছে। অর্থাৎ তাদের সাথে যে আমাদের বিরোধ আছে একথা নতুন নয়, অনেক আগেই তারা তাদের রচনাবলীতে স্বীকার করে লিখে গেছে। ধূর্ত কাদিয়ানী নেতারা সাধারণ মানুষকে তাদের দলে ভিড়ানোর উদ্দেশ্যে এগুলো ভুলেও প্রকাশ করেনা। অধিকন্তু মির্যা কাদিয়ানীর বইগুলো স্ববিরোধ কথাবার্তায় ভরপুর। ফলে মির্যার বইগুলো নিরপেক্ষভাবে পড়লে যে কারো পক্ষে ‘কাদিয়ানী জামাত’ ত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকেনা। এবার তাদেরই বিভিন্ন বই থেকে সংক্ষেপে তাদের মারাত্মক কিছু ঈমান-বিধ্বংসী আকীদা-বিশ্বাস এখানে তুলে ধরছি। যেমন-

১। মির্যা কাদিয়ানীর দাবী হল, “অতএব, যেমনটি বারাহীনে আহমদীয়াতে খোদাতালা বলেছেন, আমি আদম, আমি নূহ, আমি ইবরাহিম, আমি ইসহাক, আমি ইয়াকুব, আমি ইসমাইল, আমি মূসা, আমি দাউদ, আমি ঈসা ইবনে মরিয়ম, আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থাৎ বুরুজীভাবে।” (হাকীকাতুল ওহী, রূহানী খাযায়েন ২২/৫২১)।

এখন আমি নতুন কনভার্টেট কাদিয়ানীবন্ধুদের জিজ্ঞাস করতে চাই, কাদিয়ানী নেতারা যখন আপনাদেরকে কাদিয়ানীধর্মের দিকে দাওয়াত দিয়েছিল তখন কি মির্যা কাদিয়ানীর উক্ত দাবীগুলোর সামান্য কিছুও আপনাদেরকে বলেছিল? ৯৯% শিউর যে, ওরা আপনাদেরকে এগুলো বলেনি। আচ্ছা, আপনারা শুধু একবার ভাবুন! মির্যা কাদিয়ানীর দাবী অনুসারে সে যদি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়, তখন কলেমার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর কী তাৎপর্য দাঁড়াবে? অতএব খুবই ভাবিয়ে দেখা দরকার।

এখন হয়ত জানতে চাইবেন যে, মুসলমানদের কলেমা’র “মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” অর্থে কাদিয়ানীরা কী এমন বিকৃতি ঘটিয়েছে? উত্তরে বলব, জ্বী, অবশ্যই তারা বিকৃতি ঘটানোর চেষ্টা করেছে। যেমন তাদেরই বইতে পরিষ্কার লিখা আছে, “আমাদের নতুন কোনো কলেমার প্রয়োজন নেই। কেননা মসীহে মওঊদ [মির্যা কাদিয়ানী] নবী করীম (সা:) থেকে ভিন্ন কেউ নন। তিনি নিজেও বলতেন, আমার সত্তা তাঁর সত্তাতে পরিণত। এমনকি [তিনি এও বলতেন] যে ব্যক্তি আমার আর মুহাম্মদ মুস্তফার মাঝে পার্থক্য করে সে না আমাকে চিনল, না আমাকে দেখল। এটি এইজন্য যে, আল্লাহতালার ওয়াদা ছিল, তিনি খাতামুন নাবিয়্যীন [মুহাম্মদ মুস্তফা]’কে দুনিয়াতে আরেকবার পাঠাবেন। যেমন ‘ওয়া আখারীনা মিনহুম’ আয়াত দ্বারা সুস্পষ্ট। সুতরাং মসীহে মওঊদ-ই স্বয়ং মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ। যিনি ইসলাম প্রচার করতে দুনিয়াতে দ্বিতীয়বার আগমন করেছেন। তাই আমাদের [কাদিয়ানিদের] জন্য নতুন কোনো কলেমার প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ যদি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র স্থলে অন্য আর কেউ আসত তখনই কেবল [নতুন কলেমার] প্রয়োজন পড়ত।” (কালিমাতুল ফছল ৬৮, ষষ্ঠ অধ্যায়)। সবাই পড়ুন, নাউযুবিল্লাহ।

কেননা তারা মির্যা কাদিয়ানীকে মুহাম্মদ (সা:) মেনে নিয়ে বলছে যে, এইজন্যই তাদের নতুন কোনো কলেমার প্রয়োজন নেই। তার মানে দাঁড়াল, তারা ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ হতে উদ্দেশ্য নিয়ে থাকে মির্যা গোলাম আহমদকে। এমতাবস্থায় তারা কিভাবে মুসলমান হিসেবে গণ্য হতে পারে? তারপর চলুন, আমাদের প্রিয় নবী ও শেষনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানীর একটি রচনায় কী লিখা আছে জেনে নিই।

২। মির্যা কাদিয়ানী লিখেছে, “রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বারা দ্বীন প্রচারের কাজ পরিপূর্ণভাবে হয়নি। তিনি পূর্ণ প্রচার করেননি। আমি পূর্ণ করেছি।” (রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ১৭ পৃষ্ঠা নং ২৬৩; সারমর্ম)। মির্যার সম্পূর্ণ-বক্তব্যটি এরকম, ‘আর যেহেতু রাসূল (সা:)-এর দ্বিতীয় আবশ্যিক দায়িত্ব হল, হিদায়াতের প্রচারকার্য সম্পূর্ণ করা। রাসূল (সা:)-এর যুগে প্রচারকার্য চালানোর কোনো মিডিয়া না থাকায় তা (সম্পূর্ণ করা) সম্ভব ছিলনা। তাই কুরআন শরীফের আয়াত “ওয়া আ-খারীনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকূ-বিহিম” (সূরা জুম’আ ০৩)’র মধ্যে রাসূল (সা:)-এর দ্বিতীয় আগমনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এই প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন এই জন্যই সৃষ্টি হয়েছে যে, যাতে রাসূল (সা:)-এর দ্বিতীয় আবশ্যিক দায়িত্বটা অর্থাৎ দ্বীন ও হিদায়াতের প্রচারকার্যের পরিপূর্ণতা যা উনার (সা:) হাতেই সম্পূর্ণ হওয়ার ছিল, সেই সময় (রাসূলের যুগে) কোনো প্রচার মিডিয়া না থাকায় তা সম্পূর্ণ হয়নি। অতএব রাসূল (সা:) আপনা বুরুজি রঙ্গে (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানীর স্বরূপে) দ্বিতীয় আগমনের মাধ্যমে সেই আবশ্যিক দায়িত্বটা এমন যুগে সম্পূর্ণ করলেন যখন পৃথিবীর সমস্ত কওম পর্যন্ত ইসলাম পৌঁছানোর জন্য মিডিয়াগুলোর উদ্ভব হয়েছে।’ নাউযুবিল্লাহ।

এখানে আমি আপনাদের জিজ্ঞাস করতে চাই, যে ব্যক্তি বলতে পারে যে “রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বারা দ্বীন প্রচারের কাজ পরিপূর্ণভাবে হয়নি বা তিনি পূর্ণ প্রচার করেননি; আমি পূর্ণ করেছি”। নাউযুবিল্লাহ। এমন ব্যক্তি তো প্রকাশ্য নবীর দুশমন এবং নিকৃষ্ট কাফের! এখন তাহলে এই ব্যক্তি কিভাবে ইমাম মাহদী হতে পারে? আপনাদের মনে কি এধরণের প্রশ্ন জাগে না? এরপর দেখুন, এই মির্যা কাদিয়ানী আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর শানে আরো কী কী বেয়াদবী করল?

৩। মির্যা কাদিয়ানী তার বইতে লিখেছে “আমার আলামত (মুজিজা) দশ লক্ষ” (রূহানী খাযায়েন ২১/৭২)। ”রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুজিজা (মাত্র) তিন হাজার” (রূহানী খাযায়েন ১৭/ ১৫৩)। নাউযুবিল্লাহ। এখানে বলে রাখতে চাই, মির্যা কাদিয়ানীর রচনাসমগ্র ‘রূহানী খাযায়েন’ এর ২১ খন্ডের ৬৩ নং পৃষ্ঠায় লিখা আছে, আলামত আর মুজিজা একই।

এখন তাহলে মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে আমাদের প্রিয় নবী (সা:)-এর চেয়েও মর্যাদায় বড় হওয়ার দাবী করল না কিভাবে? এমন বেয়াদব কখনো কি আশেকে রাসূল বা নবীজীর পূর্ণ আনুগত্যকারী হওয়ার দাবী করতে পারে? কখনো নয়। এবার চলুন, মির্যা কাদিয়ানীর মুখ থেকেই শুনে আসি। সে যে নিজেকে আমাদের প্রিয় নবী (সা:) থেকেও শ্রেষ্ঠ হওয়ার দাবী করে লিখে গেছে এখানে তারই বই থেকে উল্লেখ করছি।

৪। মির্যা কাদিয়ানী লিখেছে, “বরং সত্য এটাই যে, হযরত (সা:)-এর রূহানীয়ত ছয় হাজার বছরের শেষাংশে তথা ঐ বছরগুলোর তুলনায় এই দিনগুলোতে সব চেয়ে শক্তিশালী, স্বয়ংসম্পন্ন এবং সুদৃঢ়, বরং চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায়। যেজন্য আমরা তলোয়ার আর যুদ্ধদলের মুখাপেক্ষী নই।” (খোতবাতুল ইলহামিয়্যাহ [আরবী], রূহানী খাযায়েন ১৬/২৭১-৭২)।

  • এখানে মির্যার কথাটির সারমর্ম হল, তার দাবীমতে সে দ্বিতীয় মুহাম্মদ (সা:)। নাউযুবিল্লাহ। যেমন সে লিখছে, “আবার এ পুস্তকেই উক্ত ওহীর সাথে আল্লাহ’র এ ওহী আছে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ওয়াল্লাযীনা মা’আহু আশিদ্দাউ আলাল কুফফারি রুহামাউ বাইনাহুম’। এ ঐশী বাণীতে আমার নাম মুহাম্মদ রাখা হয়েছে এবং রাসূলও।” (সূত্র, একটি ভুল সংশোধন পৃষ্ঠা নং ৪, দ্বিতীয় বাংলা সংস্করণ, অক্টোবর ২০০১ইং)। এভাবেই সে নিজ দাবীমতে, কথিত ছয় হাজার বছরের শেষাংশে এসেছে। উল্লেখ্য, মির্যার দাবী হল, বনী আদমের সময়সীমা পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত মাত্র সাত হাজার বছর। আর মাত্র এক হাজার বছর পরেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। ঐ হিসেবে সে দাবী করছে, তার আগমন ছয় হাজার বছরের শেষাংশে (অর্থাৎ এই সময়) আগের মুহাম্মদে আরাবী (সা:)-এর চাইতেও শক্তিশালী এবং স্বয়ংসম্পন্ন অবস্থায় হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ। যাইহোক, কুরআন হাদীসের বর্ণনা অনুসারে কেয়ামতের সঠিক খবর মহান আল্লাহ ছাড়া আর কারো জানা নেই। মির্যা কাদিয়ানী তার এ সমস্ত কথাবার্তায় প্রকারান্তরে নিজেকে যেন খোদা হওয়ারই দাবী করল! অপ্রিয় হলেও সত্য যে, তার রচনার অন্য এক জায়গায় তার ‘খোদা হওয়ার দাবী’ও রয়েছে। যেমন,

মির্যা কাদিয়ানীর বই ‘আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম’ (উর্দূ) এর মধ্যে সে নিজের খোদায়িত্বের দাবী করে লিখেছে, ‘ওয়া রাআইতুনী ফিল মানামি আইনাল্লাহি ওয়া তাইয়াক্কানতু আন্নানি হুয়া’ অর্থাৎ আমি নিজেকে স্বয়ং খোদা হিসেবে স্বপ্নে দেখি এবং নিশ্চিত হলাম যে, নিশ্চয়ই আমি তাই। (আরো দেখুন, মির্যা কাদিয়ানীর ৮৩টি বইয়ের সমষ্টি ২৩ খন্ডে প্রকাশিত ‘রূহানী খাযায়েন’ খন্ড নং ৫ পৃষ্ঠা নং ৫৬৪)। এখানে সে স্বপ্নের মধ্যে নিজেকে খোদাররূপে দেখতে পায়। সে এটুকুর মধ্যে কথা শেষ না করে তারপরেই বলেছে, ‘এবং নিশ্চিত হলাম যে, নিশ্চয়ই আমি তাই’। নাউযুবিল্লাহ। সুতরাং তার এই স্বপ্নকে এইজন্যই আর কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই। সে তার ‘চশমায়ে মসীহি’ (চতুর্থ বাংলা সংস্করণ ২০১৮) বইয়ের ৪৩ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে, আল্লাহতালা তাকে সম্বোধন করে বলেছেন, আন্তা মিন্নী বি-মান-যিলাতী আওলাদী অর্থাৎ ‘তুমি আমার পুত্র স্থানীয়’। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে ‘খোদার স্ত্রী’ হওয়ার দাবীও করেছে। (দেখুন, তারই কথিত এক সাহাবী কাজী ইয়ার মুহাম্মদ খান বিরচিত ‘ইসলামী কুরবানী ট্রাক্ট’ পৃষ্ঠা নং ১৩)। এখানে শুধুমাত্র বইটির উক্ত উর্দূ অংশের বঙ্গানুবাদ করে দেব। লিখা আছে : ‘মসীহ মওউদ (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানী) একদা নিজের একটি অবস্থা এভাবে প্রকাশ করেছেন যে, একবার কাশফের অবস্থা উনার উপর এমনভাবে চেপে বসল যে, তিনি যেন একজন স্ত্রীলোক। আর আল্লাহতালা আপনা পুরুষত্বের শক্তি তার উপর প্রয়োগ করলেন, বুঝদারদের বুঝার জন্য ইশারাই যথেষ্ট।’ সুতরাং তার খোদা, খোদার পুত্র এবং খোদার স্ত্রী দাবী করার প্রমাণও পাওয়া গেল।

এখন আমি আপনাদের জিজ্ঞাস করতে চাই, কাদিয়ানী নেতারা যখন আপনাদেরকে তাদের জামাতে ভিড়াতে দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছিল তখন যদি আপনারা তাদের আভ্যন্তরীণ এসমস্ত নিকৃষ্ট বিষয়গুলো জানতেন কখনো কি খোদা, খোদারপুত্র এবং খোদার স্ত্রী দাবীদার এমন একজন মস্তিষ্ক-বিকৃত ব্যক্তিকে ইমাম মাহদী মেনে নিতেন? নিশ্চয়ই না। এবার বুঝলেন তো ওরা কিজন্য বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মানুষকে গোপনে দাওয়াত দেয়! কেন কথায় কথায় আলেম-সমাজকে নিন্দা করে! এরা ধর্মের নামে সারাবছর সদস্যদের আয়ের ১৬% মাসিক চাঁদা তুলে খায়, কথিত বেহেশতি মাক্ববারা’র ওসীয়তের নামে মৃতব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তির ১০% হিসেবে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে খায়; এরপরেও এরা ধর্ম-ব্যবসায়ী হয়না, আলেমরাই নাকি ধর্ম-ব্যবসায়ী! যাইহোক, এরা ভালো করেই জানে যে, বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের সাথে আপনারা তাদের বিষয়ে জানতে চাওয়ামাত্রই তাদের আভ্যন্তরীণ কুফুরীগুলো ফাঁস হয়ে যাবে। তখন আর আপনাদেরকে কাদিয়ানী বানানো সম্ভব হবেনা। এখন বলতে পারেন যে, মির্যা কাদিয়ানীর যে মস্তিষ্ক-বিকৃতি রোগও ছিল তার প্রমাণ কী? হ্যাঁ, তার প্রমাণ হল,

৫। মির্যা কাদিয়ানী ‘ঈসা (আ:) আকাশ থেকে দু’টি হলুদ বর্ণের চাদর পরিহিত অবস্থায় পৃথিবীতে নাযিল হবেন’ মর্মে মুসলিম শরীফের (সহীহ মুসলিম, অধ্যায় : কিতাবুল ফিতান ওয়া আশরাতিস সা’আহ, হাদীস নং ৭০৭৮) একটি হাদীসকে নিজের সাথে একজাস্ট করতে ব্যাখ্যা দিয়ে লিখেছে, “ঐ দু’টি চাদর হতে আমার দু’টি রোগের প্রতি ইংগিত। একটি উপরাংশে আরেকটি নিম্নাংশে। অর্থাৎ مِراق اور کثرت بول তথা সিজোফ্রেনিয়া (মস্তিষ্ক-বিকৃতি) এবং বহুমুত্র রোগ।” (দেখুন, মালফুযাত ৫/৩৩; নতুন এডিশন, তাযকিরাতুশ শাহাদাতাইন [বাংলা] পৃ-৪৯; লিখক মির্যা কাদিয়ানী)।

আপনারা প্রসিদ্ধ ‘উর্দূ টু উর্দূ অভিধান’ ফিরোজুল লুগাত দেখুন, সেখানে ‘মিরাক’ অর্থ ‘এক কিসিম কা মালিখোলিয়া জুনূন’ (অর্থাৎ এক ধরণের মস্তিষ্ক-বিকৃত পাগল) বলেই লিখা আছে। আপনি আন্তর্জাতিক বিশ্বকোষ ‘উইকিপিডিয়া’ থেকেও ঐ রোগের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারেন। সেখানে সিজোফ্রেনিয়া রোগের বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিষ্কার উল্লেখ আছে যে, ‘এ রোগের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে চিন্তাধারা এবং অনুভূতির প্রকাশের মধ্যে সঙ্গতি থাকে না। এর লক্ষণগুলো হলো উদ্ভট চিন্তা, বিভ্রান্তিকর বা অলীক কিছু দেখা, অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তা এবং অন্যরা যা শুনতে পায় না এমন কিছু শোনা।’

এবার আমি জিজ্ঞাস করতে চাই, আপনারা কি কখনো আত্মস্বীকৃত এমন একজন মস্তিষ্ক-বিকৃতির কাউকে ইমাম মাহদী মানতে পারেন? আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাকে ইমাম মাহদী করে পাঠাবেন তাকে কি একজন সুস্থ্য-সবল করে পাঠাতে অক্ষম? অবশ্যই না। এবার হয়ত আপনাদের বুঝে এসে গেছে যে, মির্যা কাদিয়ানী কিজন্য নিজেকে এত কিছু দাবী করেছিল? যার ফলে সে একজন পাগল আর উম্মাদ বলেই সাব্যস্ত হচ্ছে। এই যে দেখুন, সে নিজের ব্যাপারে আরো কী দাবী করল? সে লিখেছে,

৬। “আদমের বাগান অদ্য পর্যন্ত ছিল অসম্পূর্ণ; আমার আগমনে তা ফল ও পাতায় হয়ে যায় পরিপূর্ণ।” (দেখুন, বারাহীনে আহমদীয়া ৫ম খন্ড, রূহানী খাযায়েন ২১/১৪৪)। অন্যত্রে লিখেছে, ‘ইন্নী মা’আল আকরাম, লাও লা-কা লামা খালাকতুল আফলাক’ অর্থাৎ আমি বুযূর্গদের সাথেই রয়েছি। যদি তুমি না হতে তাহলে আমি আসমান সমূহকে সৃষ্টি করতাম না। (সূত্র, তাযকিরাহ, চতুর্থ এডিশন পৃষ্ঠা নং ৫২৫; ইলহাম ০৪-০৫-১৯০৬ ইং)।

এখানে আমার প্রশ্ন হল, যদি কেউ মির্যার উক্ত কথাগুলো বিশ্বাস করে তাহলে কি সে মুহাম্মদ (সা:)-এর চেয়েও মির্যা কাদিয়ানীকে শ্রেষ্ঠ মানলো না? কোনো মুসলমান কি কখনো এটি মানতে প্রস্তুত হবে? অতএব, মির্যা কাদিয়ানী যে একজন মস্তিষ্ক-বিকৃত মানুষ ছিল তাতে কোনোই সন্দেহ নেই।

এবার ভেবে দেখুন, এই ব্যক্তিকে অন্তত মুসলমান মানতেও আপনি প্রস্তুত আছেন কিনা? যেহেতু আপনাদেরকে একদিন অবশ্যই মরতে হবে। কাজেই কাকে মানবেন আর কাকে ছাড়বেন তা খুব ভেবেচিন্তে হয় যেন। দুনিয়ার তুচ্ছ লোভ-লালসা আর নিজেদের অজ্ঞতার কারণে কোনোভাবেই মহামূল্যবান ঈমানটা বরবাদ করা যাবে না! সর্বদা বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে ও যোগাযোগ বজায় রেখে চলবেন। তাহলে আশা করা যায়, পৃথিবীর কোনো ভন্ড প্রতারক সহজে ধোকা দিয়ে আপনাদের ঈমান লুটতে পারবেনা, ইনশাআল্লাহ।

আপনারা জেনে আরো অবাক হবেন, এই নিকৃষ্ট ভন্ড প্রতারক তার বইয়ের কোনো কোনো জায়গায় নিজেকে মুহাম্মদ (সা:)-এর দাস বলেও লিখেছে। এটি কেবল সাধারণ মানুষকে বুঝানোর জন্যই যে, সে কতবড় আশেকে রাসূল! অথচ একটু আগেই দেখেছেন যে, সে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার জন্য কী সমস্ত কথাবার্তা লিখে গেছে। এবার দেখুন, এই পাগল-উম্মাদ আর মিথ্যাবাদী লোকটি আমাদের প্রিয় নবী (সা:) সম্পর্কে আরো কী লিখে গেছে?

৭। সে লিখেছে, “কিন্তু তোমরা খুব মনযোগ সহকারে শুনে নাও যে, এখন মুহাম্মদ (সা:)-এর নামের তাজাল্লি (মর্যাদা বা বড়ত্ব) প্রকাশ করার সময় নয়। অর্থাৎ জালালি রঙ্গের কোনো খেদমত অবশিষ্ট নেই। কেননা সেই জালাল (মর্যাদা বা বড়ত্ব) যথাযথ পরিমাণে প্রকাশিত হয়ে গেছে। সূর্যের কিরণ এখন আর বরদাশত হওয়ার নয়। এখন চাঁদের শীতল আলোর প্রয়োজন। আর সেটি আহমদের রঙ্গে আমিই।” (আরবাঈন নং ৩, রূহানী খাযায়েন ১৭/৪৪৫-৪৬)।

এখন আমি প্রশ্ন করতে চাই সেসব নব দীক্ষিত কনভার্টেট কাদিয়ানীবন্ধুদের, যারা মনে করেন ইসলামের মূলধারা তথা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত থেকে বের হয়ে কাদিয়ানী জামাতে যোগ দিয়ে সঠিক কাজ করেছেন তারা কি কখনো মেনে নিবেন যে, এখন মুহাম্মদ (সা:) এর মর্যাদা বা বড়ত্ব প্রকাশ করার সময় নয়! নাউযুবিল্লাহ। এরপরেও আপনারা কিভাবে ভাবছেন যে, মির্যা কাদিয়ানীকে মেনে নিয়ে সঠিক পথে আছেন? আপনারা কি মনে করেন যে, মির্যা কাদিয়ানীর মত একজন আত্মস্বীকৃত পাগলকে ‘শেষনবী’ বিশ্বাস করে পরকালে নাজাত পাবেন? এখন হয়ত জানতে চাচ্ছেন যে, মির্যা কাদিয়ানী সত্যিই কি নিজেকে শেষনবী হওয়ারও দাবী করেছিল? জ্বী হ্যাঁ, করেছিল। এই যে প্রমাণ দেখুন।

৮। মির্যা কাদিয়ানী তার বই ‘তাযকেরাতুশ শাহাদাতাইন’ এর মধ্যে লিখেছে : ‘দো কিসিম কে মুরসাল মিনাল্লাহ কতল নিহি হুয়া করতে (১) এক উয়ো নবী জু সিলসিলাহ কে আউয়াল ফর আতে হেঁ জেইছা কে সিলসিলায়ে মূসোবিয়া মে হযরত মূসা আওর সিলসিলায়ে মুহাম্মদিয়া মে হামারে সাইয়েদ ও মওলা আঁ হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (২) দোসরে উয়ো নবী আওর মামূর মিনাল্লাহ জু সিলসিলাহ কে আখের মে আতে হেঁ জেইসা কে সিলসিলায়ে মূসোবিয়া মে হযরত ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওর সিলসিলায়ে মুহাম্মদিয়া মে ইয়ে আ’জেজ।’ অর্থাৎ “আল্লাহর বিধান, তাঁর দুই ধরনের প্রেরিত পুরুষ নিহত হন না। (১) প্রথমত: ঐ নবী যিনি সিলসিলার সূচনাতে আগমন করেন, যেমন মুসায়ী সিলসিলায় হযরত মুসা আলায়হিস সালাম এবং মুহাম্মদীয়া সিলসিলায় আমাদের প্রভু ও মওলা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম। (২) দ্বিতীয়ত: ঐ সকল নবী ও আল্লাহর প্রেরিতগণ যারা সিলসিলার শেষে আগমন করেন- যেমন, মুসায়ী সিলসিলায় হযরত ঈসা আলায়হিস সালাম এবং মুহাম্মদী সিলসিলায় এই অধম।” (দেখুন, রূহানী খাযায়েন [উর্দূ] খন্ড ২০ পৃষ্ঠা নং ৬৯-৭০; রচনাকাল ১৯০৩ইং, তাযকেরাতুশ শাহাদাতাইন [বাংলা] পৃষ্ঠা নং ৮২; মূল লিখক মির্যা কাদিয়ানী)। এখানে সে পরিষ্কার শব্দে লিখেছে, সে নাকি মুহাম্মদী ধারাবাহিকতায় একজন শেষনবী। কী বুঝলেন? যে লোক নিজেকে ইমাম মাহদী দাবী করলো সে লোকই কিন্তু নিজেকে দাবী করছে একজন ‘শেষনবী’! যে কথা সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াত ‘ওয়া খাতামান নাবিয়্যীন’ (এবং তিনি শেষনবী) এর পুরো বিরোধী। নবীজীর হাদীস ‘লা নাবিয়্যা বা’দী’ (আমার পর আর কোনো নবী নেই) এরও বিরোধী।

অথচ এই লোক নিজেকে নবী দাবী করার আগে প্রায় ১৮৯১ সালের দিকে রচিত তার ‘হামামাতুল বুশরা’ বইতে নিজের নবুওয়ত দাবী অস্বীকার করেছে এবং মুহাম্মদ (সা:)-কে একজন ‘শেষনবী’ আখ্যা দিয়ে লিখে গেছে। যেমন তার হামামাতুল বুশরা (বাংলা অনূদিত) বইয়ের ৪৮ নং পৃষ্ঠায় লিখা আছে : ‘আমাদের রাসূল (সা:)-এর পর কীভাবে কোন নবী আসতে পারে? তাঁর মৃত্যুর পর ওহী বন্ধ হয়ে গেছে আর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে নবীদের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন।’ বইটির ১৪২ নং পৃষ্ঠায়সে এও লিখেছেন : ‘আর আমার দ্বারা নবুওয়তের দাবী করে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত হওয়া এবং কাফের জাতির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়া মোটেও সম্ভবপর নয়।’

এখন তাহলে মির্যা কাদিয়ানী নিজেই নিজের কথা অনুসারে নবুওয়তের দাবী করে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত এবং কাফের জাতির অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল কিনা? এবার হয়ত বুঝতে পেরেছেন যে, মূলত এই ছিদ্রগুলোর উপর পর্দা ফেলতেই কাদিয়ানী নেতারা মুসলমানদের সাথে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিত বিষয় নিয়ে তর্ক শুরু করে। যাতে সাধারণ মানুষদের দৃষ্টিকে ভিন্নদিকে ঘুরিয়ে দিয়ে উপস্থিত শ্রোতাদের আগ্রহ নষ্ট করতে পারে। এই হল তাদের কুটকৌশল। জনৈক কাদিয়ানী একবার আমাকে প্রশ্ন করেছিল যে, আপনাদের যখন ঈসা (আ:)-এর জীবন-মৃত্যু নিয়ে বাহাস করার আহবান জানানো হয় তখন আপনারা সেটিকে এড়িয়ে যান কেন?

তখন আমি উত্তরে বললাম, ঈসা (আ:) জীবিত থাকা কিংবা মৃত্যুবরণ করার বিশ্বাস বিশেষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই নয়। আর একথা খোদ্ মির্যা সাহেবই লিখে গেছে। (দেখুন ‘আহমদী ও গয়ের-আহমদীদের মধ্যে পার্থক্য’ পৃ-১; বাংলা দ্বিতীয় পূনর্মুদ্রণ, মে ২০১৮ইং)। যেজন্য আমরা তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মির্যার আত্ম-জীবনী নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। যেহেতু তার দাবী হল, তাঁর প্রতি যে ঈমান আনবেনা তার পূর্বের ঈমানও গ্রহণযোগ্য নয়। (কালিমাতুল ফছল, ৩য় অধ্যায়; পৃ-৫২)। তারপর সে জনমের মত চুপ হয়ে যায়। এবার মুসলমানদের ব্যাপারে মির্যা কাদিয়ানীর ফতুয়াবাজী কীরকম ছিল দেখুন।

৯। মির্যা কাদিয়ানী লিখেছে (ক) “খোদাতালা আমার উপর প্রকাশ করেছেন যে, যাদের নিকট আমার দাওয়াত পৌঁছেছে আর তারা তা কবুল করেনি এমন ব্যক্তি মুসলমান নয় এবং এরা (পরকালে) পাকড়াও হবে। (সূত্র, তাযকিরাহ পৃষ্ঠা নং ৫১৯; ইলহাম, মার্চ ১৯০৬ ইং, চতুর্থ এডিশন, লিখক মির্যা কাদিয়ানী)।

(খ) এবার কাদিয়ানীদের দ্বিতীয় খলীফার বইতে কী লিখা আছে শুনুন, “প্রত্যেক মুসলমান যিনি হযরত মসীহে মওঊদ (মির্যা কাদিয়ানী)’র বাইয়েতে শামিল হয়নি, সে যদিও হযরত মসীহ মওঊদের নামও শুনেনি, এমন ব্যক্তিও কাফের এবং ইসলাম থেকে বাহিরে।” (সূত্র, আয়নায়ে সাদাক্বাত, আনওয়ারুল উলূম ৬/১১০; মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দীন মাহমুদ; অনলাইন এডিশন)। সুতরাং এ সমস্ত বক্তব্য হতে পরিষ্কার বুঝা যায় যে, মির্যা কাদিয়ানীকে স্বীকার না করা পর্যন্ত একজন মুসলমান কোনোভাবেই মুসলমান থাকতে পারবেনা, যদিও ঐ মুসলমান ব্যক্তিটি আল্লাহ এবং তার প্রিয় হাবীব মুহাম্মদ (সা:)-এর উপর পরিপূর্ণ ঈমান রাখেনা কেন! তো একথাগুলো কি আপনারা মানেন? আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও আপনারা কি আপনাদের মৃত পূর্ব-পুরুষদের এমনকি এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারকেও শুধু কাদিয়ানী না হওয়ার কারণে কাফের আর জাহান্নামী মনে করবেন? নাউযুবিল্লাহ।

শুধু একটি প্রশ্ন : এই পর্যায় কাদিয়ানীদেরকে শুধু একটি প্রশ্ন করতে চাই, মির্যা কাদিয়ানীর দাবী হল, হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পূর্ণ আনুগত্যের মাধ্যমেই সে নবীর মোকাম (মর্যাদা) লাভ করেছে! এতে বাহ্যিকভাবে মনে হচ্ছে, তার নবুওয়ত দাবীর ভিত্তিটা মূলত আনুগত্য-ই।

বিপরীতে মির্যা কাদিয়ানীর রচনার আরেক জায়গায় পরিষ্কার লিখা আছে, “তাদের পরিষ্কার জানা আছে যে, আমরাও নবুওয়তের দাবীদারের প্রতি অভিশাপ দিই এবং লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রবক্তা এবং হযরত হযরত (সা:)-এর খতমে নবুওয়তের উপর ঈমান রাখি এবং ওহীয়ে নবুওয়ত বন্ধ তবে (আমরা) ওহীয়ে বেলায়তেরই প্রবক্তা যেটি মুহাম্মদ (সা:)-এর নবুওয়তকে আশ্রিত করে ও তারই আনুগত্য দ্বারা আউলিয়ায়ে কেরামের অর্জিত হয়ে থাকে। যে আমাদের প্রতি এর চেয়ে বেশি কোনো কথার অভিযোগ করবে সে যেন তাকওয়া আর সততাই পরিত্যাগ করল।” (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ২/২৯৭; নতুন এডিশন)। সারকথা, প্রথমোক্ত বক্তব্য হল, সে আনুগত্য দ্বারা ‘নবীর মোকাম’ লাভ করেছে। আর শেষোক্ত বক্তব্য হল, আনুগত্য দ্বারা আউলিয়ায়ে কেরামের ন্যায় শুধুই ‘বেলায়ত’ লাভ হয় (অর্থাৎ নবী’র মোকাম লাভ হয় না)।

তাহলে আপনারা কিভাবে বিশ্বাস করতে পরেন যে, মির্যা কাদিয়ানী নবীজীর আনুগত্য দ্বারা নবীর মোকাম লাভ করার দাবীতে একজন সত্যবাদী? এটি কি তার অসঙ্গতিপূর্ণ দাবী আর ভন্ডামী নয়?

শেষকথা : এখানে শুধু তাদের লিফলেটের ‘আমাদের ধর্ম বিশ্বাস’ শিরোনামে তারা যে সূক্ষ্ম মিথ্যা আর প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সাধারণ মানুষদের ধোকা দিতে চেয়েছে সেটুকুরই সংক্ষিপ্ত জবাব দেয়ার চেষ্টা করা হল। নতুবা এভাবে তাদের মিথ্যা আর প্রতারণার মুখোশ উন্মোচন করতে শুরু করলে অনেক বড় পুস্তক হয়ে যাবে। পরিশেষে আমার কলিজার টুকরো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবন্ধুরা! আপনারা দয়া করে এলাকার মুসলমানদের ঈমানের পাহাদারী করতে এগিয়ে আসুন। বিজ্ঞ আলেম উলামাদের সাথে নিয়ে নিজ এলাকার মুসলমানদেরকে ‘কাদিয়ানীরা কেন অমুসলিম’ তা জনগণকে বুঝানোর চেষ্টা করুন আর কাদিয়ানীদেরকে বলুন, তারা তাদের আসল ধর্মবিশ্বাস আর যেন গোপন না করে। আর যেন মুসলমানদের তাদের দলে ভিড়ানোর চেষ্টা না করে। তারাও এদেশে থাকবে। এটি তাদের নাগরিক অধিকার। তবে যে যার আসল পরিচয় নিয়ে থাকবে। যেভাবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানরা নিজেদের আসল পরিচয় নিয়ে আছে। ভেজাল পণ্য তৈরী করা যেমন অপরাধ তেমনি সেটি প্রচার করাও অপরাধ। তাই যেহেতু কাদিয়ানী মতবাদ ইসলামের বাহিরে সম্পূর্ণ একটি নতুন ধর্মমত সেহেতু ইসলামের নামে সেটি মানুষের মাঝে প্রচার করাও অপরাধ। কারণ মির্যা কাদিয়ানী একজন নবী ও রাসূল দাবীদার। আর একথা সবারই জানা যে, নবী ও রাসূলের ভিন্নতার কারণে ধর্মও ভিন্ন পরিচিতি লাভ করে। যেমন মূসা (আ:)-এর অনুসারীরা ইহুদী হিসেবে পরিচিত, ঈসা (আ:)-এর অনুসারীরা ঈসায়ী বা খ্রিস্টান হিসেবে পরিচিত। আর শেষনবী মুহাম্মদ (সা:)-এর অনুসারীরা মুসলমান বা মুসলিম হিসেবে পরিচিত। অনুরূপ মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর (জন্মমৃত্যু : ১৮৩৯-১৯০৮ইং) অনুসারীরা কিজন্য মুসলমান পরিচয় ধারণ করবে? তারা বরং কাদিয়ানী বা মির্যায়ী নামে পরিচয় ধারণ করবে। ফলে তাদের বিবাহ-শাদী, সমাজ-ব্যবস্থা এবং জানাজা ও দাফন-কাফন ইত্যাদী কোনো কিছুর সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক নেই। আজকের মত এখানে শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।

বলে রাখা জরুরি, এখানে উল্লিখিত কোনো তথ্য কোনো কাদিয়ানী মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলে তাকে নগদে দশ লক্ষ টাকা পুরষ্কৃত করা হবে। পারলে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। আর যদি মিথ্যা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে অবশ্যই ঐ মজলিসে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সামনে মির্যা কাদিয়ানীর প্রতি লানত দিয়ে তওবাহ করে ইসলামের মূলধারায় ফিরে আসতে হবে। যদি সাহস থাকে তাহলে আসুন, আমার চ্যালেঞ্জ কবুল করুন।

লিখক, মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ শিক্ষাবিদ ও গবেষক ; যোগাযোগ – ০১৬২৯-৯৪১৭৭৩

মেরাজ সশরীরে হয়েছিল মর্মে সমস্ত সাহাবীর বিশ্বাস

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মেরাজ সশরীরে হবার আকীদা একটি ইজমা ভিত্তিক তথা সর্বসম্মত আকীদা, এ মর্মে মির্যা কাদিয়ানীর স্বীকারোক্তি তারই লিখনী থেকে নিম্নরূপ,

  • “আমাদের উলামায়ে কেরামের উপর আল্লাহ রহম করুন। আমাদের নেতা ও মওলা (সা.)-এর মান মর্যাদা তারা লক্ষ্য করেনা যে, আল্লাহতালার সব চেয়ে বেশি করুনা ছিল তাঁর উপর। কিন্তু তথাপি হযরত (সা.)-কে সশরীরে উঠিয়ে নেয়া সম্পর্কে অর্থাৎ মেরাজের রজনীতে তাঁকে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল মর্মে সমস্ত সাহাবীর তেমনই বিশ্বাস ছিল যেমনটা মসীহ (ঈসা)-কে উঠিয়ে নেয়া সম্পর্কে এই যামানার মানুষের বিশ্বাস। অর্থাৎ সশরীরে (আকাশে) উঠিয়ে যাওয়া অতপর ফিরে আসা। কিন্তু তথাপি হযরত আয়েশা (রা.) একথা মানতেন না। তিনি বলতেন যে, এটি (মেরাজ) একটি সত্য স্বপ্নই ছিল মাত্র। যেজন্য নাউযুবিল্লাহ কেউ না তাঁর নাম নাস্তিক বা ভ্রষ্ট রেখেছে আর না ইজমার বিপরীতে চলে যাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছে।” (রূহানী খাযায়েন ৩/২৪৭-৪৮)।

প্রখ্যাত মুহাদ্দেসীন ও হাদীস বিশারদগণ বলেছেন, হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত রেওয়াতটি সূত্রের বিচারে দুর্বল ও অপ্রমাণিত। স্ক্রিনশট

এবার নুযূলে মসীহ সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানীর স্বীকারোক্তি কেমন ছিল পড়ুন!মির্যা সাহেব লিখেছেন,

“মসীহ এর আগমনী ভবিষ্যৎবাণী প্রথমস্তরের ভবিষ্যৎবাণী। সবাই সর্বসম্মতিক্রমে এটি গ্রহণ করে নিয়েছে। এর তাওয়াতূরের মর্যাদাও লাভ হয়েছে।” (রূহানী খাযায়েন ৩/৪০০; সারাংশ)।

“আল্লাহতালা আমার পূর্বে মুসলমানদের প্রতিভা মসীহ’র সশরীরে অবতরণের দিকেই ফিরিয়েছেন কিন্তু আমার উপর এই রহস্য উন্মোচন হয় যে, তার অবতরণ সশরীরে নয়, বরং রূহানীভাবেই হবে।” (রূহানী খাযায়েন ৫/৫৫৩)।

“তাওয়াতূর বিষয়ক কোনো কিছু অস্বীকার করা প্রকারান্তরে ইসলাম-ই অস্বীকার করা।” (রূহানী খাযায়েন ১৩/২০৬)।

শেষকথা : এখন সারমর্ম দাঁড়াল এই যে, নবী করীম (সা.)-এর মেরাজ সশরীরে আকাশে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল, এটি সমস্ত সাহাবীর বিশ্বাস ছিল বলে খোদ মির্যায়ী রচনাই সাক্ষী। হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.)-এর আগমনের ভবিষ্যৎবাণী একাধারে উম্মাহার ইজমা-ভিত্তিক আকীদা (جسکو سب نے بالاتفاق قبول کرلیاہے) এবং এর তাওয়াতূরের মর্যাদাও লাভ হওয়া, কথাগুলো স্বয়ং মির্যা কাদিয়ানী নিজেই লিখে গেছেন। তিনি এও লিখে গেছেন যে, ইতিপূর্বের সমস্ত মুসলমানের বিশ্বাস ছিল যে, ঈসা মসীহ (আ.) সশরীরেই অবতরণ করবেন। আর এই বিশ্বাস একটি তাওয়াতূর পর্যায়ের বিশ্বাস ছিল। মির্যা সাহেব লিখেছেন, “তাওয়াতূর বিষয়ক কোনো কিছু অস্বীকার করা প্রকারান্তরে ইসলাম-ই অস্বীকার করা।” এখন প্রশ্ন হল, বর্তমানে কেউ ঈসা (আ.) সম্পর্কিত কাদিয়ানী অনুরূপ কনসেপ্ট লালন করার অর্থ কি সাহাবায়ে কেরামের মত ও পথের বিপরীতমুখী কনসেপ্ট লালন করা নয়? তাহলে সাহাবায়ে কেরামের মতের বিপরীতে অবস্থান করে কোনো কাদিয়ানী কিভাবে নিজেকে মুসলমান দাবী করতে পারে? নাকি তারা বলতে চাচ্ছে যে, সাহাবায়ে কেরামের ঐ মত ও পথ ভুল ছিল! নাউযুবিল্লাহ।

জ্ঞানীদের নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলবে।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।