Home Blog Page 40

কুরআন দ্বারা ঈসা (আ.) এর মৃত্যু সাব্যস্ত হলে তখন এই প্রশ্নগুলোর জবাব কী?

কাদিয়ানীদের মনগড়া ও বিভ্রান্তিমূলক দাবী: পবিত্র কুরআন দ্বারা প্রমাণিত ঈসা (আ:) বেঁচে নেই, তাই তাদের নিকট এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই!

  • প্রশ্নগুলো যথাক্রমে –

(১) “বহু সহীহ হাদীস বলছে, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই ইবনে মরিয়ম (আ:) নাযিল হবেন” (সহীহ বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া)।

ইবনে মরিয়ম আকাশ থেকে নাযিল হবেন” (আল-আসমা ওয়াস-সিফাত ২/৩৩১; ইমাম বায়হাক্বী, হাদীসের মান : সহীহ, রাবীদের সবাই সহীহ বুখারীর)।

“মরিয়ম পুত্র ঈসা নিশ্চয়ই রাওহা উপত্যকায় হাজ্জ অথবা উমরাহ কিংবা উভয়েরই তালবিয়াহ পাঠ করবেন।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৯২০)।

“ঈসা ইবনে মরিয়ম দুইজন ফেরেশতার পাখার উপর আপনা দুই বাহু রেখে নাযিল হবেন” (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফিতান)।

“ঈসা ইবনে মরিয়মকে তিনি স্বশরীরে জীবিত আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন, তিনি অতি সত্বর পৃথিবীতে ফিরে আসবেন” (আত-তবকাতুল কোবরা লি-ইবনে সা’আদ ১/৩৫-৩৬; হাদীসের মান : সহীহ)!

দীর্ঘ আরেকটি হাদীসের একাংশে এসেছে : ‘ছুম্মা ইয়ানযিলু ঈসা ইবনু মারইয়ামা মুছাদ্দিকান বি-মুহাম্মাদিন ও আ’লা মিল্লাতিহী’ অর্থাৎ “তারপর ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) নাযিল হবেন মুহাম্মদ (সা.)-কে সত্যায়নকারী হিসেবে ও তাঁরই উম্মত হয়ে।” (আল-মু’জামুল আওসাত হাদীস নং ৪৫৮০; হাদীসের মান : হাসান)।

বেশ কিছু সহীহ হাদীসের সংক্ষিপ্ত বঙ্গানুবাদ। এমতাবস্থায় হাদীসগুলো সহীহ হওয়া সত্তে¡ও কাদিয়ানীরা সেগুলো পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে যাওয়ার কথা বলে তারা প্রকারান্তরে রাসূল (সা.)-কেই কুরআন বুঝতে অক্ষম কিংবা কুরআনের বিরুদ্ধবাদী বলে সাব্যস্ত করল কিনা? এবার আসুন! খোদ মির্যা কাদিয়ানী তার বইতে সহীহ হাদীসের বিশেষত্ব কেমন শব্দচয়নে তুলে ধরেছে দেখা যাক।

(২) মির্যা কাদিয়ানী তার বইয়ের এক জায়গায় সহীহ হাদীসের বিশেষত্ব তুলে ধরে লিখেছেন :

“বরং মুওয়াফিকতে কুরআনকে হাদীসের বিশুদ্ধতার মানদন্ড স্থীর করবেনা। এই বিষয়ে উসূলে রেওয়ায়েত তথা বর্ণনার মূলনীতির দিকে রুজূ করার দুইটি কারণ রয়েছে। একটি কারণ এই যে, উসূলে রেওয়ায়েত দ্বারা সহীহ সাব্যস্তকৃত হাদীসসমূহ আপনাআপনি কুরআন মাজিদ এর মুওয়াফিক হয়ে থাকে এবং কখনোই সেটি কুরআন বিরোধী হয় না। কুরআন হচ্ছে ইমাম আর হাদীসসমূহ তার খাদেম বা সেবক ও তার বিভিন্ন বিষয় এবং অস্পষ্ট অর্থের বিশ্লেষণকারী ও সুস্পষ্টকারী যা অল্প জ্ঞানসম্পন্ন আর অসম্পূর্ণ চিন্তাবিদদের ধারণায় সাংঘর্ষিক মনে হয়ে থাকে।” (রেফারেন্স: মুবাহাছায়ে লাদূনিয়া, রূহানী খাযায়েন ৪/৫৪)।

তাই প্রশ্ন হল, বর্তমানে যেসব কাদিয়ানী সহীহ হাদীসকেও কুরআন বিরোধী বলে আখ্যা দেন তারা কি একদিকে রাসূল (সা.)-কে কুরআন বিরোধী বলে আখ্যায়িত করল না? অপরদিকে মির্যা কাদিয়ানী নিজেও যেখানে “উসূলে রেওয়ায়েত (আল-মুস্তালাহাতুল আহাদীস বা হাদীসশাস্ত্রের নীতিমালা) দ্বারা সহীহ সাব্যস্তকৃত হাদীসসমূহ আপনাআপনি কুরআন মাজিদ এর মুওয়াফিক হয়ে থাকে এবং কখনোই সেটি কুরআন বিরোধী হয় না” বলল, সেখানে কথা কাদেরটা সঠিক মানবো? কাদিয়ানী নেতাদেরটা নাকি তাদের কথিত মসীহ মির্যা কাদিয়ানীরটা?

(৩) মির্যা কাদিয়ানী তার বইয়ের এক জায়গায় লিখেছেন, “আমি ‘বারাহীনে আহমদীয়া’ নামক বইতে লিখেছিলাম মসীহ ইবনে মরিয়ম আকাশ থেকে নাযিল হবেন। তবে পরবর্তিতে আমি লিখেছি, আগত মসীহ (ঈসা) আমি নিজেই।” (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ২২/১৫২-৫৩)।

এখানে বলে রাখা দরকার যে, মির্যা কাদিয়ানী তার উক্ত বারাহীনে আহমদীয়া নামক বইটি আল্লাহর পক্ষ হতে নির্দেশপ্রাপ্ত ও একজন মুলহাম [দৈব-বাণীর অধিকারী] হয়েই লিখার দাবী করেছেন। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ৫/৬৫৭)।

তিনি আরো লিখেছেন, প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষ উভয় দিক থেকে বইটির পরিচালক (পৃষ্ঠপোষক) মহান আল্লাহ। (দেখুন, মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ১/৫৬)।

তিনি তার বারাহীনে আহমদীয়া বইকে আল্লাহর কিতাব বলেও আখ্যা দিয়েছেন। দেখুন ‘তাযকেরাতুশ শাহাদাতাঈন’ (বাংলা) পৃষ্ঠা নং ৭৭)।

তাহলে এবার বলুন, ঈসা (আ.) সত্যিই বেঁচে না থাকলে মির্যা কাদিয়ানী তার উক্ত বইতে ঈসা (আ.) জীবিত থাকা, আকাশ থেকে নাযিল হওয়া ইত্যাদি কথাবার্তাগুলোও কি আল্লাহর পক্ষ হতে ইলহাম ছাড়াই কিংবা আল্লাহর পক্ষ হতে নির্দেশপ্রাপ্ত হওয়া ছাড়াই লিখেছিলেন মনে করেন? অথচ তিনি এও দাবী করতেন, আল্লাহতালা তাকে ভুলের উপর এক মুহূর্তও স্থির থাকতে দেন না। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ৮/২৭২)।

তাহলে এবার আমাকে বলুন! যার দাবী, আল্লাহতালা তাকে ভুলের উপর এক মুহূর্তও স্থির রাখেন না সে ১৮৮৪ সালে বইটি লিখার পর হতে ১৮৯৩ সালে মসীহ দাবীর আগ পর্যন্ত বরাবরই কি ভুলের উপর স্থির ছিলেন মনে করেন?

এখন তার ‘বারাহীনে আহমদীয়া’ বইয়ের সেসমস্ত ইলহাম সত্য হলে পরবর্তিতে তিনি পবিত্র কুরআনের ত্রিশ আয়াত দিয়ে ঈসা (আ.)-কে কিভাবে মৃত আখ্যা দিতে পারেন?

(৪) অসংখ্য সাহাবী থেকে ঈসা (আ.) জীবিত ও স্বশরীরে আকাশে উত্থিত হয়ে যাওয়া এবং কেয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে দুনিয়াতে ফিরে আসার সমর্থনে বহু সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে। যার সংখ্যা এত বেশি যে, ফলে সেগুলোর হুকুম (বিধান) তাওয়াতূর পর্যায়ে পৌছে গেছে।

যেমন হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে সূরা আলে ইমরান এর ৫৫নং আয়াত ‘ইন্নী মুতাওয়াফফীকা’ এর তাফসীর বিশুদ্ধসূত্রে বর্ণিত হয়েছে এভাবে যে, তিনি বলেছেন “ক্বালা ইন্নী রাফিউকা ছুম্মা মুতাওয়াফফীকা ফী আখিরিয যামান”। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে উঠিয়ে নেব অতপর শেষ যামানায় তোমাকে (মৃত্যুর মাধ্যমে) পুরোপুরি নিয়ে নেব।” (দুররে মানছূর, ইমাম জালালুদ্দীন আস সুয়ূতী খন্ড নং ৩ দ্রষ্টব্য)।

বলে রাখা দরকার, সহীহ বুখারীর কিতাবুল ইলম অধ্যায়ে (হা/ ৭৫ ইফা) একটি হাদীসে উল্লেখ আছে, রাসূল (সা.) ইবনে আব্বাসের জন্য দোয়া করেছেন ‘আল্লাহুম্মা আ’ল্লিমহুল কিতাব’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে কুরআন শিখিয়ে দিন।’

এমতাবস্থায় রঈসুল মুফাসসিরীন ইবনে আব্বাস (রা.), প্রখ্যাত তাবেয়ী ও ইবনে আব্বাসের খাস শিষ্য ইমাম যাহহাক, মুজাহিদ, আলকামা, ইক্বরিমা, আবু মালেক ও আবু আ’লীয়াহ প্রমূখ তারাও কি কুরআনের সঠিক অর্থ বুঝতে অক্ষম ছিলেন মনে করেন? কাদিয়ানীরা নিজেদেরকে তাঁদের চেয়েও কুরআন বেশী বুঝার দাবী করে কি? আসতাগফিরুল্লাহ!!

(৫) ইসলামের প্রথম শতাব্দী হতে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান অদ্যাবধি সর্বসম্মতভাবে বিশ্বাস করে আসছেন যে, ঈসা (আ.) জীবিত এবং তিনি আকাশে রয়েছেন। এই কথার স্বীকারোক্তি খোদ কাদিয়ানী দ্বিতীয় খলীফা মির্যা বশির উদ্দীনও দিয়ে গেছেন। (তার বইগুলোর সমষ্টি আনওয়ারুল উলূম ২/৪৬৩ দ্রষ্টব্য)।

তাই প্রশ্ন হল, তবে কি সর্বসম্মতভাবে সমস্ত মুসলমানও কুরআনের সঠিক অর্থ বুঝতে অক্ষম ছিলেন বলবেন? কাদিয়ানীরা কি নিজেদেরকে তাঁদের চেয়েও কুরআন বেশী বুঝে বলেই দাবী করতে চায়? অথচ হাদীসে উল্লেখ আছে, উম্মতে মুহাম্মদীয়া কখনো ভুল ও ভ্রষ্টতার উপর একমত হবেনা (তিরমিযী শরীফ, কিতাবুল ফিতান)। এখন কাদিয়ানীরা কি রাসূল (সা.)-এর ভবিষ্যতবাণীটাও সঠিক নয় বলবে? নাউযুবিল্লাহ!

(৬) যুগ শ্রেষ্ঠ ও বরেণ্য ইমামগণের তাফসীরগ্রন্থ তাফসীরে ইবনে কাসীর, বায়দ্বাভী, তাবারী, কুরতুবী, রূহুল মা’আনী, দুররে মানছূর, জালালাইন, খাজেন, আল-মা’আলিমুত তানজিল, কাশশাফ, ইমাম রাজী’র তাফসীরে কাবীর, আবু হাতিম, ইমাম শাওক্বানী’র ফাতহুল ক্বাদির ও শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেস আদ-দেহলভীর ‘ফতহুর রহমান’সহ উল্লেখযোগ্য সমস্ত তাফসীর গ্রন্থে পরিষ্কার লিখা আছে : ঈসা ইবনে মরিয়ম আকাশে জীবিত এবং তাঁর দ্বিতীয়বারের আগমন অকাট্য সত্য।

এখন প্রশ্ন হল, এঁদের সবাই কি পবিত্র কুরআনের সঠিক অর্থ বুঝতে অক্ষম ছিলেন?

কাদিয়ানীরা নিজেদেরকে তাঁদের চেয়েও কুরআন বেশী বুঝার দাবী করবে কি? আসতাগফিরুল্লাহ!!

অথচ মির্যা কাদিয়ানী নিজেও কুরআন শরীফ অর্থগত বিকৃতি থেকে রক্ষা পাওয়ার দ্বিতীয় উপায় হিসেবে লিখে গেছেন,

(অনুবাদ) “দ্বিতীয়তঃ আল্লাহতালা পবিত্র কুরআনকে এমন সব ইমাম আর আকাবীরগণের মাধ্যমেও যাদেরকে প্রত্যেক শতাব্দীর শিরোভাগে কুরআনের সঠিক বুঝ দান করা হয়েছে, যারা কুরআন শরীফের অস্পষ্ট জায়গাগুলো নবীজির হাদীসসমূহ দ্বারা তাফসীর করে খোদার পবিত্র বাণীকে এবং পবিত্র শিক্ষাকে প্রত্যেক যুগে অর্থগত বিকৃতি হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন।” (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ১৪/২৮৮)।

এমতাবস্থায় উল্লিখিত তাফসীরকারকগণ ঈসা (আ.) সম্পর্কে নাযিলকৃত কুরআনের আয়াতগুলোর সঠিক মর্ম উদঘাটনে কিভাবে অক্ষম হতে পারেন? তাহলে প্রত্যেক শতাব্দীর শিরোভাগে তাদেরকে কুরআনের সঠিক বুঝ কিভাবে দান করা হল? আপনাদের মতেও মির্যা নিজেই মিথ্যুক সাব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে কিনা?

আসুন! নিজেদের বিচার-বুদ্ধিকে এভাবে নিজ হাতে হত্যা না করে আগে বরং এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ঈসা (আ.) “স্বশরীরে আকাশে রয়েছেন” কুরআনে কি হুবহু এইভাবে থাকতে হবে?

কাদিয়ানীদের চরম মূর্খতাপূর্ণ জিজ্ঞাসার জবাব :

কাদিয়ানীরাই হরহামেশা এই ধরণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার মত চরম মূর্খতার পরিচয় দিয়ে থাকে। অথচ তাদের লজ্জা হওয়া উচিত এ কারণে যে, তাদের কাদিয়ানের কৃষ্ণ মির্যা গোলাম আহমদ খোদ লিখে গেছেন-

“আমি বারাহিনে আহমদীয়া নামক বইতে লিখেছিলাম, মসীহ ইবনে মরিয়ম আকাশ থেকে নাযিল হবেন। তবে পরবর্তীতে আমি লিখেছি, আগত মসীহ (ঈসা) আমি নিজেই।” (রূহানী খাযায়েন ২২/১৫২-৫৩; হাকীকাতুল ওহী)।

এবার আসুন তার উক্ত কথাটি তিনি যে কিতাবে লিখে গেছেন সেই কিতাবের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তারই মুখ থেকে জেনে নিই।

(ক) “আমি কিতাবটি আল্লাহর পক্ষ হতে একজন মুলহাম (প্রেরণাপ্রাপ্ত) এবং মামূর তথা আদিষ্ট হয়েই লিখেছি।” (রূহানী খাযায়েন ৫/৬৫৭; আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম)।

(খ) “প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষ উভয় দিক থেকে কিতাবটির পরিচালক মহান আল্লাহ।” (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ১/৫৬; ‘আমি এবং আমার বই’ শীর্ষক শিরোনাম)।

তাহলে এবার বলুন! ঈসা (আ.) সত্যিই বেঁচে না থাকলে মির্যা কাদিয়ানী তার বারাহিনে আহমদীয়া নামক বইতে ঈসা (আ.) জীবিত থাকা, আকাশ থেকে নাযিল হওয়া ইত্যাদী কথাবার্তাগুলোও কি আল্লাহর পক্ষ হতে ইলহাম ছাড়াই কিংবা আল্লাহর পক্ষ হতে আদিষ্ট হওয়া ছাড়াই লিখেছিলেন মনে করেন? জবাব দিন!

সেযাইহোক, বর্তমান কাদিয়ানীর অনুসারীদের কথার ধরণে বুঝা যায়, যে কোনো বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা পবিত্র কুরআনেই উল্লেখ থাকা জরুরি, অন্যথা সেটি কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়; যদিও বা অসংখ্য সহীহ হাদীসে তার পক্ষে দলিল থাকেনা কেন!!

আচ্ছা যদি তাই হয় তাহলে মির্যা কাদিয়ানীর দাবী, সে ইমাম মাহদী, মসীহ। তার আরো দাবী, সে মুহাম্মদ (সা.) এর দ্বিতীয় প্রকাশ। তার আরো দাবী, আনুগত্যস্বরূপ সেই একমাত্র উম্মতিনবী। তাই আমারও প্রশ্ন থাকবে, মির্যা কাদিয়ানীর কথাগুলোর প্রমাণ হুবহু কিংবা ইংগিতে হলেও পবিত্র কুরআন থেকে পারলে দেখিয়ে দিন! তারপর আসুন, পবিত্র কুরআনের নামে মির্যা কাদিয়ানীর বেশ কিছু মিথ্যা উদ্ধৃতি আপনাদের দেখাব! তিনি লিখেছেন :

[১] তিনটি শহরের নাম অত্যন্ত মর্যাদার সাথে কুরআনে উল্লেখ আছে। মক্কা, মদীনা এবং কাদিয়ান।

[২] কুরআন শরীফে এমনকি তাওরাতের নানা ছহীফাতেও ভবিষ্যতবাণী রয়েছে যে, মসীহ মওউদের সময় তাউন তথা মহামারী দেখা দেবে।

[৩] যদি পবিত্র কুরআনে আমার নাম ‘ইবনে মরিয়ম’ না রাখা হয় তাহলে আমি মিথ্যাবাদী।

[৪] আমাকে বলা হয়েছে যে, তোমার ব্যাপারে কুরআন এবং হাদীসে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে তুমিই এই আয়াতটির (সূরা আছ-ছফ আয়াত নং ৯) মেসদাক্ব তথা বাস্তবরূপ।

[৫] এখন এই কথার প্রমাণ হয়ে গেল যে, পবিত্র কুরআনে যেই মসীহে মওউদের আগমনের ওয়াদা রয়েছে সে এই অধমই [অর্থাৎ সে মির্যা কাদিয়ানী]।

রেফারেন্স যথাক্রমে-

রূহানী খাযায়েন: খ-৩ পৃ-১৪০; খ-১৯ পৃ ৫; খ-১৯ পৃ-৯৮; খ-১৯ পৃ-১১৩; খ-৩ পৃ-৪৬৮।

এখন জানার বিষয় হল, মির্যা কাদিয়ানীর কথাগুলো কুরআনের কোথায় এবং কোন শব্দে আছে? অন্যথা তার অনুসারীদের মেনে নিতে হবে যে, সে অনেক বড় একজন ভন্ড এবং কাজ্জাব।

এবার উল্লিখিত প্রশ্নের উত্তরে ফিরে আসা যাক :

আমাদের জেনে রাখা জরুরি যে, কোনো বিষয়ে দলিল শুধুমাত্র পবিত্র কুরআন থেকেই তলব করা এটি কুরআনেরই বিরুদ্ধাচারণ বৈ নয়! কেননা আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন “অতপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা [সমাধানের উদ্দেশ্যে] আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ [বিচার] দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর” (সূরা নিসা আয়াত ৫৯ দ্রষ্টব্য)।

সমস্ত তাফসীরকারক একমত যে, এখানে রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হল (সহীহ) হাদীসের দিকে রুজু করা (দেখুন তাফসীরে ইবনে কাসীর)।

তাই সাব্যস্ত হল যে, কাদিয়ানীদের দলিল তলব করার উক্ত পদ্ধতি কোনোভাবেই পবিত্র কুরআনের শিক্ষার অনকূলে পড়েনা। যেজন্য এই ধরণের প্রশ্ন আমলে নেয়াও উচিত নয়, বরং গুনাহ।

এবার আসুন মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে একজন মুলহাম আর মুজাদ্দিদ দাবী করে তার শুরুর দিকের বইগুলোতে ঈসা (আ.) সম্পর্কে কী লিখলো! আমরা জানি মির্যা কাদিয়ানী তার কথিত ইলহামী পুস্তক ‘বারাহীনে আহমদিয়া’ এর মধ্যে ১৮৮৪ সালে পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবাহ এর ৩৩ নং আয়াত উল্লেখপূর্বক লিখেছে,

আয়াতটিতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, মসীহ (আ.) দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আগমন করবেন।

তার বইয়ের ভাষ্যমতে,

“ফোরকানী ইশারা ইস আয়াত মে হে হুয়াল্লাজি আরসালা রাসূলাহু…আওর যব মসীহ (আ.) দোবারা ইস দুনিয়া মে তাশরীফ লায়ে গে তু উন কি হাত ছে দ্বীনে ইসলাম জমিয়ে আফাক্ব আওর আকত্বার মে ফহেল যায়েগা।” (রূহানী খাযায়েন ১/৫৯৩; বারাহিনে আহমদিয়া ৪/৪৯৯ [উর্দূ] দ্রষ্টব্য)।

  • তাই সহজেই প্রশ্ন উঠে, পবিত্র কুরআনে যেই ঈসার আগমন দ্বিতীয়বারের আগমন বলে ইঙ্গিত রয়েছে সে ঈসা ১৮৯৩ সালের পরে রূপক ঈসা হন কিভাবে? উল্লেখ্য, সে ব্যক্তির আগমনকেই দ্বিতীয়বারের আগমন বলে যে ইতিপূর্বে আরো একবার এসেছিলেন।

আরো মজার ব্যাপার হল, মির্যা কাদিয়ানী উক্ত লিখাটির দুই বছর পূর্বে দাবী করে এও লিখেছেন ‘খোদা নে তুজ্হে কুরআন শিখলাইয়া আওর উসকে সহীহ মা’নে তেরে ফর খোল দেগা।’ অর্থাৎ খোদাতায়ালা তোমাকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন আর তাঁর বিশুদ্ধ অর্থ(ও) তোমার নিকট উন্মোচন করেছেন। (রূহানী খাযায়েন ১৩/২০১; তাযকিরাহ ৩৫; ইলহাম ১৮৮২ সাল)।

সুতরাং প্রমাণিত হল, আগত ঈসা কোনোভাবেই ‘রূপক ঈসা’ হতে পারেনা। নতুবা যিনি দাবী করে লিখলেন যে, কুরআনের সঠিক অর্থ স্বয়ং আল্লাহ তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন, তিনিই যখন পরবর্তী দুই বছর পর নিজেই কুরআন থেকে বলছেন যে, পবিত্র কুরআনে ঈসার দ্বিতীয়বারের আগমন সম্পর্কে ইঙ্গিত রয়েছে; তা অন্তত আপনাদের বিচারেও ভুল হতে পারে কিভাবে?

আপনাদের কেউ কি আছেন আমার এই প্রশ্নগুলোর সঠিক ও সন্তোষজনক উত্তর দেবেন? জানি কেয়ামত পর্যন্ত উত্তর দেয়া সম্ভব হবেনা। আর তাই ‘ঈসা (আ.) স্বশরীরে আকাশে রয়েছেন’ হুবহু এইভাবেই পবিত্র কুরআনে উল্লেখ থাকতে হবে, ইংগিত ইশারায় থাকলেও চলবেনা; কাদিয়ানীদের এইধরণের আর কোনো প্রশ্ন তোলারই অধিকার নেই।

প্রাসঙ্গিক একটি লেখা পড়তে ক্লিক

লিখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ঈসা (আ:) এর আয়ুষ্কাল দীর্ঘ করে দেয়া

প্রশ্ন :- পবিত্র কুরআন এবং সহীহ হাদীসের আলোকে প্রতিশ্রুত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:)-এর হায়াত শেষ যামানা পর্যন্ত বিলম্বিত হওয়া সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত কিনা?

উত্তর :- হ্যাঁ শেষ যামানা পর্যন্ত আল্লাহতালা ঈসা (আ:)-এর হায়াত বিলম্বিত করে দেয়া পবিত্র কুরআনের আয়াত দ্বারা ইংগিতে এবং হাদীস শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত আছে।

পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ১৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ দেখুন। সূরা যুখরূফ এর ৫৯ আর ৬১ নং আয়াত দুটোর সমন্বিত মর্মার্থ নিয়ে একটু ভেবে দেখুন। আল্লাহ’র রহমতে আপনি সঠিক মাসয়ালায় পৌঁছে যাবেন, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহতালা হযরত ঈসা (আ:)-এর হায়াত কেয়ামতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত বিলম্বিত করে দিয়েছেন। এ সম্পর্কে বিশিষ্ট সাহাবী রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে নিচের হাদীসটির অনুবাদ দেখুন!

রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন,

“ওয়া মাদ্দা ফী উমরিহি হাত্তা আহবাতা মিনাস সামায়ী ইলাল আরদ্বি। ওয়া ইয়াক্বতুলুদ দাজ্জালা।”

অর্থাৎ আল্লাহতালা তাঁর (ঈসা) হায়াত দীর্ঘ করে দিয়েছেন। এমনকি তিনি আকাশ থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। (দেখুন, ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী রহঃ রচিত ‘দুররে মানছূর’ খন্ড নং ২ পৃষ্ঠা নং ৩৫০)।

ইবনে আব্বাস থেকে উক্ত হাদীসটি ইমাম সুয়ূতী (রহ.) পবিত্র কুরআনের “ইন তু’আয্যিবহুম ফা-ইন্নাহুম ইবাদুকা” শীর্ষক আয়াতের তাফসীর অংশে উল্লেখ করেছেন।

মির্যা কাদিয়ানীর বাগাড়ম্বর ও তার খন্ডনঃ

প্রিয়পাঠক! এবার জানতে হবে, মির্যা কাদিয়ানী নিজের দাবীটি কিরকম শব্দচয়নে করে গেলেন?

জ্ঞানীদের নিকট গোপন থাকেনি যে, মির্যা কাদিয়ানী আর তার অনুসারীরা পবিত্র কুরআনের মধ্যে অপব্যাখ্যা দিয়ে দাবী করতে চায় যে, প্রতিশ্রুত ঈসা (আ:)-কে ইহুদীরা নাকি শূলিতে চড়িয়েছিল (নাউজুবিল্লা) এবং তিনি (শূলি থেকে অব্যাহতি পেয়ে) পরবর্তীতে গোপনে ফিলিস্তিন ছেড়ে কাশ্মীরে পালিয়ে যায়। সেখানেই তিনি বাকি জীবন অতিবাহিত করা শেষে ১২০ বছর বয়সে মারা যান। এছিল মির্যা কাদিয়ানির বক্তব্য। মা’আজাল্লাহ।

আমি কাদিয়ানিদের উক্ত দাবী কিছুক্ষণের জন্য তর্কের খাতিরে মেনে নিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিতে চাই! তা হল,

হযরত ঈসা (আ) বর্তমানে জীবিত না থাকলে পবিত্র কুরআন এবং হাদীসে কেন তার পুনঃ আগমনের ভবিষৎবাণী এলো?

আমি আরো জানতে চাই,

পবিত্র কুরআন এবং সহীহ হাদীসে শেষ যুগে আগমনকারী সম্পর্কে “ইবনে মরিয়ম” উল্লেখ আছে। কোথাও “মাছীলে ইবনে মরিয়ম” তথা ‘ইবনে মরিয়মের অনুরূপ’ কারো আসার কথা নেই।

এ প্রশ্নগুলোর সমাধান কোথায়?

  • এবার আপনি হয়ত জানতে চাচ্ছেন যে, হযরত ঈসা (আ.)-এর পুনঃ আগমন সম্পর্কে ইঙ্গিত কোথায়?

তার জবাবে সংক্ষেপে মাত্র কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করছি। আল্লাহতালা ইরশাদ করেন –

“তিনি (ঈসা) পরিণত বয়সেও মানুষের সাথে কথা বলবেন।” (সূরা আলে ইমরান ৪৮)।

“নিশ্চয় তিনি [ঈসা] কেয়ামতের একটি আলামত বা নিদর্শন (সূরা যুখরুফ ৬১)”।

এ আয়াতের তাফসীরে হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) একদম খুলে খুলে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে,

“এর দ্বারা কেয়ামতের নিকটবর্তী সময় হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ)-এর আত্মপ্রকাশ কেয়ামতের-ই অন্যতম একটি আলামত।”

(বিস্তারিত দেখুন তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪র্থ খন্ডের ১৩৩ নং পৃষ্ঠা)।

পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ১৫৯ নং আয়াতটিও দেখুন। সেখানে উল্লেখ আছে যে, ঈসা (আ.) এর মৃত্যুর আগে আগেই সকল ইহুদ খ্রিষ্টান তাঁর প্রতি ঈমান আনবে।

সূরা মায়েদার ১১০ নং আয়াতটিও দেখুন। সেখানেও উল্লেখ আছে যে, ঈসা (আ.)-কে আল্লাহতালা ইহুদীদের ধরপাকড় থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলেন যখন তারা তাঁকে মেরে ফেলার ইচ্ছে করেছিল। অর্থাৎ ইহুদীরা তাঁকে পাকড়াও করবে তো দূরে থাক, আল্লাহ তাদেরকে ঈসা (আ.) এর কাছেও ভিড়তে দেননি।

সূরা আলে ইমরান ৫৫ নং আয়াতটিও দেখুন। সেখানে উল্লেখ আছে যে, আল্লাহ তাঁকে (জিবরাইল ফেরেশতার মাধ্যমে) উঠিয়ে নিয়েছেন। জিবরাইল ফেরেশতার মাধ্যমে উঠিয়ে নেয়ার সংবাদটি সূরা আল মায়েদার ১১০ নং আয়াত (و ايدناه بروح القدس) হতে এবং বহু সহীহ হাদীস হতে সুস্পষ্ট প্রমাণিত। উল্লেখ্য, শুধুমাত্র আজরাইল ফেরেশতার মাধ্যমে উঠিয়ে নেয়ার অর্থই ‘মৃত্যু’ ঘটানো বুঝাবে। কিন্তু নির্বোধ কাদিয়ানীদের এ সহজ ব্যাপারটি বুঝানোর সাধ্য কার! এবার ইবনু আব্বাস (রা.) হতে এতদ সংক্রান্ত একটি বর্ণনা তুলে ধরছি,

حدثت عن المنجاب قال، حدثنا بشر بن عمارة, عن أبي روق, عن الضحاك, عن ابن عباس: (وأيدناه بروح القدس)، قال: هو الاسم الذي كان يحيي عيسى به الموتى.

ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, (আল্লাহর বাণী) “স্মরণ করো সেই অবস্থার কথা যখন আমি তাঁকে (ঈসাকে) রূহুল কুদস তথা পবিত্র আত্মার মাধ্যমে সাহায্য করলাম” এ ‘পবিত্র আত্মা’ নামটি সেই সত্তা (জিবরাইল ফেরেশতা) আল্লাহ যার মাধ্যমে ঈসাকে মৃত্যু থেকে বাঁচিয়ে ছিলেন। (তাবারী, সূরা বাক্বারা আয়াত নম্বর ৮৭ এর তাফসীর পর্ব দ্রষ্টব্য, হাদীস নং ১৪৯১)।

আরেকটু পেছনে সূরা আলে ইমরানের ৫৪ নং আয়াতে ফিরে যান। আল্লাহতালা ইহুদীদের ষড়যন্ত্রের মুকাবেলায় নিজের অবস্থান জানান দিয়ে বলেন – ওয়ামাকারু ওয়ামা কারাল্লাহ ওয়াল্লাহু খাইরুল মাকিরীন অর্থাৎ “তারা চক্রান্ত করেছিল আর আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্রের মুকাবেলায় উত্তম কৌশলী।” এখন ভাবনার বিষয় যে, ইহুদিদের ষড়যন্ত্র যদি ঈসাকে পাকড়াও করে হাতে পায়ে পেরেগ বিদ্ধ করে প্রাণবধ করতে শূলিতে স্থাপনকরাই হয়, তখন এর বিপরীতে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ’র সুকৌশলী ব্যবস্থাটি কি ঈসাকে ইহুদীদের হাতে তুলে দেয়া? জ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলবে কিনা?

  • মনে রাখতে হবে যে, পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা পবিত্র সহীহ হাদীস। এবার দীর্ঘ আলোচনার খোলাসা নিম্নোক্ত হাদীসগুলোর আলোকে বুঝে নিন! হাদীস শরীফে রাসূলেপাক (সা.) বলেছেনঃ

১- আল্লাহ’র শপথ অতি সত্বর নিশ্চয় ইবনে মরিয়ম একজন ন্যায় পরায়ণ শাসক হিসেবে তোমাদের মাঝে নাযিল হবেন (সহীহ বুখারী কিতাবুল আম্বিয়া – ৩২৬৪)।

২- ইবনে মরিয়ম আকাশ থেকে তোমাদের মাঝে নাযিল হবেন। (ইমাম বায়হাক্বী সংকলিত ‘আল-আসমা ওয়াছ ছিফাত’ পৃষ্ঠা নং ৩৩১; হাদীস নং ৮৯৫)।

৩- সেই মুহূর্তে মরিয়ম পুত্র ঈসা তিনি দুজন ফেরেশতার পাখার উপর আপনা বাহুদ্বয় রেখে পৃথিবীতে নাযিল হবেন। (মুসলিম শরীফ ৫০১; কিতাবুল ফিতান অধ্যায়)।

৪- আমার ভাই ঈসা ইবনে মরিয়ম সিরিয়ার পূর্ব দিকে সাদা মিনারার নিকট আফিক নামক পর্বতের উপর আকাশ থেকে নাযিল হবেন। (কাঞ্জুল উম্মাল খন্ড নং ১৪ পৃষ্ঠা নং ৬১৯; হা/৩৯৭২৬, ইবনে আসাকীর)।

এবার কাদিয়ানিবন্ধুদের উদ্দেশ্যে আমার প্রশ্ন হল, হযরত ঈসা (আ:) এর পুনরায় আগমন দ্বারা যদি আপনাদের মির্যা কাদিয়ানী-ই উদ্দেশ্য হন তাহলে বলুন তো মির্যা সাহেব ইতিপূর্বে দুনিয়াতে আরেকবার কখন কোথায় এসেছিলেন? কেননা “পুনঃ আগমন” (ঊর্দূভাষায় : দো-বারা) বলতে তো এটাই বুঝাবে যে, তিনি ইতিপূর্বে আরেকবার এসেছিলেন, তাই নয় কি?

আমার বুঝে আসেনা, এরকম একটি দিব্যি সত্যকে চেপে রাখতে আপনাদের মির্যা কাদিয়ানী কিজন্য যতসব মিথ্যা আর অহরহ বিদঘুটে অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছিলেন? অথচ বেশিদূর যেতে হবেনা শুধুমাত্র সূরা যুখরূফ এর ৬১ নং আয়াতের দুই লাইন উপরের আয়াতটির অনুবাদ দ্বারা সমাধান পাওয়া সম্ভব যে, শেষযুগে অত্যাসন্ন মসীহ ঈসা হতে মসীহে ইসরাইলি-ই উদ্দেশ্য। যেখানে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে ‘ওয়াজা’আলনাহু মাছালান লি-বানী ইসরাঈল। অর্থাৎ (আল্লাহতালা ইরশাদ করছেন) “তাঁকে বনী ইসরাঈলের জন্য আমি (আমার কুদরতের) একটা আদর্শ বানিয়েছিলাম।” তার দুই লাইন পরেই কিন্তু উল্লেখ আছে, “নিশ্চয় সে (মরিয়মের পুত্র ঈসা) হবে (মূলত) কেয়ামতের একটি নিদর্শন।”

এবার আয়াত দুটির সমন্বিত মর্মার্থ দাঁড়াল এই যে,

কেয়ামতের একটি নিদর্শন যেই ঈসা তিনি নিঃসন্দেহ সেই ব্যক্তি যাকে ইতিপূর্বে বনী ইসরাঈলের জন্যে খোদাতায়ালা তার কুদরতের একটি নিদর্শন বানিয়েছিলেন, তাই নয় কি? সুতরাং মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তার মাসীহ দাবীর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট মিথ্যাবাদী এবং ভন্ড প্রমাণিত হল। আহমদীবন্ধুদের উচিৎ পবিত্র কুরানের এ সুস্পষ্ট মর্মবাণীর সাথে সহমত পোষণ করে মির্যা কাদিয়ানীকে ত্যাগ করে ইসলামে ফিরে আসা। আল্লাহতালা আমাদের সবাইকে সত্য বুঝে তা মেনে নেয়ার হিম্মত দান করুন। আমীন।

  • লিখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক

তাওয়াফফা ও লাম্মা তাওয়াফফাইতানী এর সঠিক ব্যাখ্যা

দয়া করে কোনো কাদিয়ানী সম্পূর্ণ লিখাটি না পড়ে কোনোরূপ মন্তব্য করবেন না!

  • তাওয়াফ্ফা’ শব্দের বিশ্লেষণ ও আমার তিনটি প্রশ্ন :

প্রশ্ন : ‘তাওয়াফফা’ শব্দের আভিধানিক আর ব্যবহারিক (পারিভাষিক) অর্থ নিয়ে কাদিয়ানীদের খুব বেশি ধূম্রজাল সৃষ্টি করতে দেখেছি। তাই এই সম্পর্কে জানাবেন!

উত্তর : আপনার প্রশ্নমতে উত্তরে আসার আগে দুটি বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সে সাথে উত্তরের শেষাংশে ৩টি পাল্টা প্রশ্ন থাকবে।

দুটি বিষয় এই যে, ‘তাওয়াফফা’ (توفي) শব্দযোগে গঠিত কোনো আয়াত বা হাদীসের অনুবাদ কিংবা ব্যাখ্যা নেয়ার ক্ষেত্রে নিচের দুটি বিষয়ে খেয়াল রাখা অপরিহার্য।

(১) আয়াতটির তাওয়াফফা শব্দটি হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:) প্রসঙ্গে ব্যবহার হল কিনা?

(২) হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:) ছাড়া ভিন্ন আর কোনো প্রসঙ্গে ব্যবহার হল কিনা? এই দুই অবস্থায় ক্বারীনার বিচারে তাওয়াফফা’র প্রকৃত মর্মার্থ কী তা নির্ণয় হবে।

‘তাওয়াফফা’ শব্দের ব্যবহার বিধি :

প্রথমেই বলে রাখতে চাই যে, এখানে “তাওয়াফফা” এর ব্যবহার বিধি নিয়ে যা লিখব তার সিকিভাগও আমি আমার নিজ থেকে লিখব না, বরং সম্পূর্ণ লিখাটিই এমন দুইজন বিশিষ্ট তাফসীরকারক ও যুগ ইমামের (ইবনে তাইমিয়াহ, আল্লামা শাওক্বানী) উদ্ধৃতি দিয়ে লিখব যাঁরা খোদ মির্যা কাদিয়ানীর নিকটও বরেণ্য ও যুগ ইমাম হিসেবে স্বীকৃত। যুগ ইমাম সম্পর্কে একটু পরেই মির্যা কাদিয়ানীর উদ্ধৃতি সহ লিখা হবে, ইনশাআল্লাহ। চলুন! আগের বিষয়টিতে আবার ফিরে যাই। তাওয়াফফা শব্দটি যদি ঈসা (আ:) প্রসঙ্গে ব্যবহার হয় তখন অসংখ্য ক্বারীনা (নিদর্শন) এর কারণে সেটির ব্যবহারিক অর্থ ‘সশরীরে নিয়ে নেয়া’-ই উদ্দেশ্য হবে। আর যদি হযরত ঈসা (আ:) ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ব্যবহার হয় তখন শব্দটির মর্মগত উদ্দেশ্য ক্বারীনা’র বিভিন্নতার কারণে বিভিন্ন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ‘তাওয়াফফা’ অর্থ কোথাও ঘুম বা অচেতন উদ্দেশ্য হবে। আবার কোথাও মৃত্যু উদ্দেশ্য হবে। মনে রাখতে হবে যে, ক্বারীনা’র কারণে ‘তাওয়াফফা’ এর যতগুলো ব্যবহারিক অর্থ উদ্দেশ্য নেয়া হবে তার সবগুলোই মাজাজ তথা রূপক। অধিকন্তু ‘তাওয়াফফা’ শব্দটির মূল ধাতু হল ‘ওয়াফ্ইউ’ (وفي) যেটি বাবে তাফা’উল এর মধ্যে থেকেتوفي  রূপে আশ্রিত হয়ে অর্থ দেবে ‘নিয়ে নেয়া’ অথবা ‘পূর্ণকরা’ (‘লিসানুল আরব’ দ্রষ্টব্য)। এবার একথাগুলোই উক্ত বিশিষ্ট দুই যুগ ইমামের উদ্ধৃতিতে দেখা যাক।

প্রথমত, শায়খ ইবনে তাইমিয়াহ (রহ:) রচিত ‘আল জাওয়াবুস সহীহ লি-মান বাদ্দালা দীনাল মসীহ’ (৪/৩৮) নামক গ্রন্থে উল্লেখ আছে, তাওয়াফফা শব্দটি পবিত্র কুরআনে ব্যবহারিক দিক থেকে তিনটি অর্থে উল্লেখ পাওয়া যায়। যথা, ঘুম বা অচেতন, মৃত্যু বা প্রাণ হরণকরা এবং শরীর আর রূহ দুটো একত্রে নিয়ে নেয়া

দ্বিতীয়ত, ইমাম শাওক্বানী (রহ:) রচিত ‘ফাতহুল ক্বাদীর’ (৭/৪০৬; সূরা মায়েদা ১১৭) এর মধ্যেও উল্লেখ আছে যে, তাওয়াফফা শব্দটি পবিত্র কুরআনের মধ্যে ব্যবহারিক দিক থেকে তিনটি অর্থেই উল্লেখ হয়েছে। যথাক্রমে ঘুম, মৃত্যু বা প্রাণ হরণকরা এবং সশরীরে নিয়ে নেয়াস্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য। এবার ‘তাওয়াফফা’ শব্দের আভিধানিক (আক্ষরিক) অর্থ এবং ব্যবহারিক অর্থের উদাহরণ দেখুন!

‘তাওয়াফফা’ শব্দযুক্ত কতিপয় উদাহরণ :

‘তাওয়াফফা’ এর আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য নেয়ার উদাহরণ,

(১) সূরা নিসা আয়াত নং ১৫ দ্রষ্টব্য। যেমন আল্লাহতালা ইরশাদ করেন,

فإن شهدوا فامسكوهن فى البيوت حتى يتوفهن الموت 

(উচ্চারণ) ফা ইন শাহিদূ ফা আমছিকূহুন্না ফিল বুয়ূতি হাত্তা ইতাওয়াফফাহুন্নাল মউতু। অর্থাৎ “যদি তাহারা (ব্যভিচারিণী মহিলা) সাক্ষ্য দেয় তবে তাহাদেরকে গৃহে অবরুদ্ধ করিবে, যে পর্যন্ত না মৃত্যু তাহাদের নিয়ে নেয়।” এখানে মৃত্যু অর্থের জন্য আরবী শব্দ الموت  (আল-মউত) এর পাশাপাশি توفى  (তাওয়াফফা) শব্দও রয়েছে। ফলে বুঝাই যাচ্ছে দুটির ভিন্ন ভিন্ন অর্থই ধর্তব্য হবে। মনে রাখতে হবে, এখানে ‘মওত’ শব্দ উল্লেখ থাকায় ‘তাওয়াফফা’ তার আক্ষরিক অর্থেই ব্যবহার হয়েছে।

(২) সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ১৬১। আল্লাহ’র বাণী ‘ছুম্মা তুওয়াফ্ফা কুল্লু নাফসিম বিমা-কাছাবা…’ অর্থাৎ অতপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে পুরোপুরি দেয়া হবে যা সে উপার্জন করেছে। বলে রাখা দরকার, এখানে ‘তা’ বর্ণে পেশ পড়া হয়েছে শুধুমাত্র এটি কর্মবাচ্যমূলক ক্রিয়াপদ বলে। উপরন্তু এটি বাবে তাফা’উল থেকেই নির্গত।

(৩) পবিত্র হাদীস শরীফ। হযরত ইবনে উমর (রা:) হতে বর্ণিত আছে রাসূল (সা:) বলেছেন,

و إذا رمى الجمار لا يدرى احد ماله حتى يتوفاه الله يوم القيامة 

(উচ্চারণ) ‘ওয়া ইযা রামাল জামা-রা লা-ইয়াদরী আহাদুন মা-লাহূ হাত্তা ইয়াতাওয়াফফা-হুল্লাহু ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ।’ অর্থাৎ “যদি কেউ (হাজ্জের মধ্যে) শয়তানকে পাথর মারে তাহলে সে তার প্রাপ্ত সাওয়াব সম্পর্কে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো ধারণাই রাখবেনা যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে কেয়ামত দিবসে তা পূর্ণ করে দেবেন!” দেখুন, মুসনাদে বাজ্জার, সুনানু তাবারানী, সহীহ ইবনে হিব্বান। (আরো দেখুন, আত-তারগিব ওয়াত-তারহীব খন্ড নং ২ পৃষ্ঠা নং ২০৫)।

এবার ‘ফাতহুল ক্বাদীর’ গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে পারিভাষিক দিক থেকে ঐ তিনখানা অর্থ উদ্দেশ্য নেয়ার উদাহরণ নিচে দেখানো হল,

প্রথমত, ঘুম বা অচেতন অর্থে : যেমন আল কুরআনের ভাষ্য

و هو الذى يتوفاكم بالليل و يعلم ما جرحتم بالنهار

(উচ্চারণ) ওয়া হুয়াল্লাজি ইয়াতাওয়াফ্ফাকুম বিল্লাইল ওয়া ইয়া’লামু মা জারাহ্তুম বিন্নাহারি।

অর্থ: তিনিই রাত্রিকালে তোমাদের (নিদ্রারূপ) মৃত্যু ঘটান এবং দিবসে তোমরা যাহা কর তাহা তিনি জানেন।” (০৬:৬০ ইফা)।

দ্বিতীয়ত, মৃত্যু বা প্রাণ হরণকরা অর্থে : (ক) আল কুরআনের ভাষ্য,

الله يتوفى الأنفس حين موتها و التى لم تمت فى منامها 

(উচ্চারণ) আল্লাহু ইয়াতাওয়াফফাল আনফুসা হীনা মওতিহা ওয়াল্লাতি লাম তামুত ফী মানামিহা।

অর্থ: আল্লাহই প্রাণহরণ করেন জীবনসমূহের তাহাদের মৃত্যুর সময় এবং যাহাদের মৃত্যু আসে নাই তাহাদের প্রাণও নিদ্রার সময়।” (৩৯:৪২ ইফা)।

(খ) আল কুরআনের ভাষ্য,

و توفنا مع الأبرار 

(উচ্চারণ) ওয়া তাওয়াফফানা মা’আল আবরার।

অর্থ: আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের সহগামী করিয়া মৃত্যু দিও। (০৩:১৯৩ ইফা)।

এখানেও ‘তাওয়াফফা’ এর ব্যবহারিক অর্থ মৃত্যু নেয়ার ক্ষেত্রে ক্বারীনা (নিদর্শন) হল, আয়াতটিতে ঈসা (আ:) কিংবা রাত্রির উল্লেখ না থাকা। ফলে সেটি ‘মৃত্যু’ ভিন্ন আর কোনো রূপক অর্থকে নির্দেশ করেনা। যে কারণে সেটির তাওয়াফফা-কে ঈসা (আ:) বা রাত্রি সম্পর্কিত আয়াতের ‘তাওয়াফফা’র সাথে তুলনা করা চলবেনা।

তৃতীয়ত, শরীর আর রূহ দুইটি একত্রে নিয়ে নেয়া অর্থে : আল কুরআনের ভাষ্য,

إنى متوفيك ؛  لما توفيتنى 

অর্থ- ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাকে তুলিয়া নেব’ (অনুবাদ, আল্লামা শাওক্বানী); যখন আপনি আমাকে তুলিয়া নিলেন (অনুবাদ, আল্লামা শাওক্বানী)। (০৩:৫৫;০৫:১১৭)।

মজারব্যাপার হল, কাদিয়ানীদের প্রথম খলীফা হেকিম নূরউদ্দীন বিরচিত পুস্তকেও ‘মুতাওয়াফফীকা’ এর ‘তাওয়াফফা’ অর্থ ‘মুত্যু’ নেয়া হয়নি। যেমন,

يا عيسى إنى متوفيك يعنى اے عیسی میں لینے والا ہوں تجہکو 

‘হে ঈসা! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে নিয়ে নিচ্ছি।’ (কাদিয়ানীদের প্রথম খলিফা হেকিম নূরউদ্দিন কর্তৃক রচিত ‘তাসদীকে বারাহীনে আহমদীয়া’ পৃষ্ঠা নং ৮ দ্রষ্টব্য)। স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

এবার কাদিয়ানীদের একটি মনগড়া উসূল ও তার জবাব দেয়া হবে। তার আগে মির্যা কাদিয়ানীর উদ্ধৃতিতে মুজাদ্দিদের মর্যাদা ও স্বার্থকতা সম্পর্কে একটু আলোচনা,

মির্যা কাদিয়ানীর বইতে মুজাদ্দিদগণের মর্যাদা :

মির্যা কাদিয়ানী নিজের রূপক মসীহ দাবীর পরেও সেই ১৮৯৯ সালে নিজ পুস্তকে বরেণ্য যুগ ইমাম সম্পর্কে দ্ব্যর্থহীনভাবে লিখেছেন (উর্দু),

دوسرے ایسے ائمہ اور اکابر کے ذریعہ سے جن کو ہریک صدی میں فہم قرآن عطا ہوا ہے جنہوں نے قرآن شریف کے اجمالی مقامات کی احادیث نبویہ کی مدد سے تفسیر کرکے خدا کی پاک کلام اور پاک تعلیم کو ہریک زمانہ میں تحریف معنوی سے محفوظ رکھا. ایام الصلح 

অর্থাৎ (আল্লাহতালা কর্তৃক পবিত্র কুরআনের সঠিক শিক্ষাকে প্রত্যেক যুগে সর্বসাকুল্য অবিকৃত রাখার চারটি পদ্ধতির মধ্য হতে) দ্বিতীয়টি হচ্ছে, এমন ইমাম এবং আকাবের (তথা মুজাদ্দিদ)গণ দ্বারাও যাঁদেরকে প্রত্যেক শতাব্দীর মাথায় কুরআনের বিশুদ্ধ বুঝ প্রদান করা হয়ে থাকে। তারা কুরআন শরীফের অস্পষ্ট বিষয়াদী নবীর হাদীস সমূহের সাহায্যে তাফসীর করে খোদার পবিত্র বাণী ও পবিত্র শিক্ষাকে প্রত্যেক যুগেই অর্থগত বিকৃতি থেকে রক্ষা করেছিলেন।” (আইয়্যামুছ ছুলহি ৫৫, সংকলনের তাং ১৮৯৯ ইং; রূহানী খাযায়েন ১৪/২৮৮)। স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

মির্যা কাদিয়ানীর বক্তব্য থেকেও সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, নবী করীম (সা:)-এর হাদীস সমূহের সাহায্যে যুগ ইমামগণ খোদার পবিত্র বাণীকে প্রত্যেক যুগেই অর্থগত বিকৃতি থেকে রক্ষা করেছেন। কাজেই মির্যা কাদিয়ানীর অনুসারীদের জন্য একথা বলার আর সুযোগ থাকেনি যে, যুগ ইমামগণ ‘তাওয়াফফা’ এর ব্যবহারিক অর্থ সম্পর্কে কী লিখলেন আমাদের নিকট তার কোনোই মূল্য নেই! (নাউযুবিল্লাহ)। কেননা তখন প্রকারান্তরে যুগ-ইমাম সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানীর উক্ত বক্তব্যকেই অগ্রাহ্য করা হবে!

কাদিয়ানীদের উসূল ও তার খন্ডন :

কাদিয়ানীদের উসূল (নীতিমালা) হল, যেসব জায়গায় ‘তাওয়াফফা’ এর কর্তা (ফায়েল) আল্লাহ এবং কর্ম (মাফ’উল) যীরূহ তথা প্রাণী হবে আর ক্বারীনা হিসেবে রাত্রি’র উল্লেখ থাকবেনা সেখানে ‘তাওয়াফফা’ শব্দটি শুধুই মৃত্যু অর্থের জন্য। তাই ঈসা (আ:) সম্পর্কিত তাওয়াফফা মানে ‘মৃত্যু’ই! এবার আমার পক্ষ থেকে তাদেরই উল্লিখিত উসূলের খন্ডন ও তারই পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র তিনটি প্রশ্ন নিম্নরূপ :

১. তাহলে আপনারা ইবনে উমর (রা:) হতে বর্ণিত,

و إذا رمى الجمار لا يدرى احد ماله حتى يتوفاه الله يوم القيامة  

হাদীসটির ‘তাওয়াফফা’ অর্থও কি মৃত্যু নিবেন? সেখানেও কিন্তু কর্তা আল্লাহ আর কর্ম যীরূহ!

২. মির্যা কাদিয়ানীর বইতে ‘ইন্নী মুতাওয়াফফীকা’র ভিন্ন ভিন্ন ৬ ধরণের অর্থ রয়েছে। সেগুলো হল,

পরিপূর্ণ নেয়ামত (১/৬২০); পরিপূর্ণ পুরষ্কার (১/৬৬৪-৬৫); অপমানকর ও অভিশপ্ত মৃত্যু হতে রক্ষা (১২/২৩) জন্মগ্রহণকরা (১৯/৪৯) ইত্যাদী।

তার কৃত অনুবাদের ৬ স্থানের মাত্র একটিতেই ‘তাওয়াফফা’ অর্থ মৃত্যু উল্লেখ আছে। অথচ সবগুলোতেই কর্তা আল্লাহ আর কর্ম যীরূহ বা প্রাণী! কী জবাব? স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

৩. তার বইতে আরো লিখা আছে, যেখানে রাত্রিবেলার উল্লেখ আছে শুধুমাত্র সেখানেই উক্ত ক্বারীনার কারণে তাওয়াফফা’ অর্থ মৃত্যু নেয়া হবেনা। তো একই ভাবে আমিও কি বলতে পারিনা যে, যেখানে ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:)-এর প্রসঙ্গ রয়েছে সেখানেও অন্যান্য বহু ক্বারীনার কারণে ‘তাওয়াফফা’ মৃত্যু অর্থে হবেনা! বরং বিশিষ্ট যুগ ইমাম, ইবনে তাইমিয়াহ (রহ:)-এর বিশ্লেষণ অনুসারে সেই ‘তাওয়াফফা’ অর্থ- توفى الروح و البدن جميعا অর্থাৎ রূহ এবং শরীর দুটো একত্রে নিয়ে নেয়া। (আল-জওয়াবুস সহীহ ৪/৩৮ দ্রষ্টব্য)। স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

আশাকরি এইটুকুতেই জ্ঞানীদের সত্যটা বুঝতে আর কোনো কষ্ট হবেনা।

  • লিখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক

কেয়ামতের সর্বশেষ আলামত অগ্নুৎপাত

প্রশ্নকর্তা : কেয়ামতের সর্বশেষ আলামত কী? দলিল সহ জানতে চাই!

উত্তরদাতা: সহীহ মুসলিম এর একটি হাদীস থেকে কেয়ামতের সর্বশেষ আলামত সম্পর্কে জেনে নিন!

  • حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَابْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ – وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ – قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ فُرَاتٍ، الْقَزَّازِ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ الْغِفَارِيِّ، قَالَ اطَّلَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْنَا وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ فَقَالَ ‏”‏ مَا تَذَاكَرُونَ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا نَذْكُرُ السَّاعَةَ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ إِنَّهَا لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْنَ قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ ‏”‏ ‏.‏ فَذَكَرَ الدُّخَانَ وَالدَّجَّالَ وَالدَّابَّةَ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنُزُولَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم وَيَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَثَلاَثَةَ خُسُوفٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٌ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ ‏.

অর্থাৎ হযরত হুযাইফাহ্‌ ইবনু আসীদ আল গিফারী (রা:) থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, একদিন আমরা (বিভিন্ন বিষয়ে) আলোচনা করছিলাম। এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে আসলেন এবং প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি বিষয়ে আলোচনা করছ? উত্তরে তাঁরা বললেন, আমরা কিয়ামতের ব্যাপারে আলোচনা করছি। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ততক্ষন পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষন না তোমরা দশটি বিশেষ আলামত দেখবে।

তারপর তিনি ধুম্র, দাজ্জাল, দাব্বা, পশ্চিমাকাশ হতে সূর্যোদয় হওয়া, মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা (‘আঃ)-এর অবতরণ, ইয়া‘জূজ মা‘জূজ এবং তিনবার ভূখণ্ড ধ্বসে যাওয়া তথা পূর্ব দিকে ভূখণ্ড ধ্বস, পশ্চিম দিকে ভূখণ্ড ধ্বস এবং আরব উপদ্বীপে ভূখণ্ড ধ্বসের কথা বর্ণনা করলেন। এ আলামতসমূহের পর এক অগ্নুৎপাতের প্রকাশিত হবে, যা তাদেরকে ইয়ামান থেকে হাশরের মাঠ পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন. ৭০২১, ই.সে. ৭০৭৮)। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭১৭৭।

উল্লেখ্য, হাদীসটির বর্ণিত আলামতগুলোর মধ্যে প্রথম আলামত ‘ঈসা ইবনে মরিয়ম’ (আ:) এর আত্মপ্রকাশ এবং সর্বশেষ আলামত ‘অগ্নুৎপাত‘ যা দুনিয়ার একদম শেষ সময় প্রকাশিত হয়ে সমস্ত মানুষকে হাশরের ময়দান তথা সিরিয়ার দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। আল্লাহু আ’লাম।

  • লিখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ঈসা (আ:) জীবিত থাকলে তাঁর শরীয়তও কি জীবিত থাকবে?

  • কাদিয়ানীদের প্রশ্ন ও আমার জবাব :

প্রশ্ন : ঈসা (আ:) জীবিত থাকলে তাঁর ঈসায়ী শরীয়তও বর্তমানে জীবিত, রহিত নয়; মানতে হবে। কারণ কোনো নবী যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর আনীত শরীয়তও কোনোভাবেই বাতিল হতে পারেনা, এটাই যুক্তিসংগত। সুতরাং অ-কাদিয়ানী মুসলমানদের বিশ্বাস যেহেতু ঈসা (আ:) বর্তমানে জীবিত ও আকাশে আছে, সেহেতু তারা তাঁর শরীয়তের অনুসারী হওয়াই যুক্তিযুক্ত! অন্যথা তাদেরকেও আহমদীদের (কাদিয়ানীদের) ন্যায় বিশ্বাস করতে হবে যে, ঈসা (আ:) মৃত, জীবিত নন!

আমার জবাব : প্রশ্নকারীর উল্লিখিত প্রশ্ন থেকে মোটামুটি যে কয়টি পয়েন্ট আমি দাঁড় করতে পারি তা হল, প্রশ্নকারী যেন বুঝাতে চাচ্ছে, (১) শরীয়তধারী নবীগণের শরীয়ত শুধুমাত্র তাঁদের মৃত্যুর মাধ্যমেই রহিত বা বাতিল হয়; আর কোনোভাবেই বাতিল হয়না! (২) হযরত ঈসা (আ:)-কে মৃত বলে বিশ্বাস করার অর্থই হল, শরীয়তে মুহাম্মদীয়াকে জীবিত বিশ্বাস করা। অন্যথা শরীয়তে মুহাম্মদীকে মৃত ও বাতিল বলেই বিশ্বাস করার শামিল! (৩) ঈসা (আ:)-কে যারা মৃত বিশ্বাস করেনা তাদের জন্য উচিৎ, তারা যেন ঈসায়ী ধর্মমত গ্রহণ করে নেয়। নতুবা তারা ঈসায়ী ধর্মকে প্রকারান্তরে জীবিত বিশ্বাস করা সত্ত্বেও সেটি গ্রহণ না করাই সুস্পষ্ট কুফুরীর শামিল।

  • এমতাবস্থায় নিচের প্রশ্নগুলোর কী জবাব?

(১) সহীহ হাদীসে আছে, রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন:

  • ولو كان موسى حيا ما وسعه إلا اتباعي رواه أحمد والبيهقي في كتاب شعب الإيمان، وهو حديث حسن

অর্থাৎ যদি মূসাও জীবিত থাকত তবে তার জন্য আমার আনুগত্য করা ছাড়া উপায় ছিলনা।” (সুনানে আহমদ, বায়হাক্বী ফী শু’আবিল ঈমান। হাদীসের মান : হাসান)। উপরের হাদীস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, মূসা (আ:) জীবিত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তাঁর জীবদ্দশায় আমাদের প্রিয় নবী ও শেষনবী মুহাম্মাদে আরাবী (সা:)-এর আবির্ভাবের মাধ্যমে মূসোয়ী শরীয়ত বাতিল হয়ে যাবে। যার ফলে তাঁর (আ:) জন্য আমাদের প্রিয় নবীর শরীয়তের আনুগত্য করা আবশ্যক হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় কাদিয়ানীদের দাবী, ঈসা (আ:) জীবিত থাকা সত্ত্বে বর্তমানে তাঁর শরীয়তও জীবিত থাকবে, এইধরণের কথাবার্তার ভিত্তি কী? তবে কি উল্লিখিত হাদীস মিথ্যা হয়ে যাবে?

(২) তাদের উল্লিখিত দাবী সত্য হলে, তখন তো তাদেরই যুক্তি অনুসারে মুহাম্মদ (সা:) এর মৃত্যুতে শরীয়তে মুহাম্মদীয়াও বাতিল হয়ে যাচ্ছে! নাউযুবিল্লাহি। এর কী জবাব?

(৩) ঈসায়ী ধর্মকে মৃত সাব্যস্ত করতে ঈসা (আ:)-কে মৃত বিশ্বাস করতে হবে, কাদিয়ানীদের এইধরণের দাবীর ভিত্তি কোথায়? ঈসায়ীদের বর্তমান ধর্ম-গ্রন্থ (নিউ টেস্টামেন্ট) বাইবেল ঈসা (আ:)-এর আকাশে উত্থিত হওয়ার বহু বছর পরে সেন্ট পৌল নামক এক ব্যক্তি কর্তৃক রচিত, ঈসা (আ:)-এর সাথে যার কোনোই সম্পর্ক নেই; এগুলো প্রমাণ করার মাধ্যমেও কি বর্তমান ঈসায়ীধর্ম বাতিল সাব্যস্ত হবেনা?

(৪) মির্যা কাদিয়ানীর জন্ম ১৮৩৯ সালে। সে নিজেকে ১৮৬৫ সালে মুলহাম এবং ১৮৮১ সালে মুজাদ্দিদ ও মামূর মিনাল্লাহ দাবী করার পর থেকে ১৮৯৩ সাল পর্যন্ত টানা ২৯ বছর পর্যন্ত মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে আসছিল যে, ঈসা (আ:) জীবিত ও আকাশে। (বারাহীনে আহমদিয়া দ্রষ্টব্য)। তবে কি মির্যা কাদিয়ানীও এই ২৯ বছর যাবৎ ঈসায়ী ধর্মকে সত্য আর শরীয়তে মুহাম্মদীকে বাতিল বিশ্বাস করে আসছিল?

(৫) ঈসা (আ:)-কে জীবিত ও আকাশে বিশ্বাস করার আকীদা উম্মতে মুহাম্মদীয়ার একটি সর্বসম্মত আকীদা। একথার স্বীকারোক্তি মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদের বইতেও পরিষ্কার উল্লেখ আছে (আনওয়ারুল উলূম ২/৪৬৩; মির্যা বশির উদ্দিন)। অপরদিকে রাসূল (সা:)-এর হাদীস বলছে, উম্মতে মুহাম্মদীয়া কখনো কোনো ভুল-ভ্রান্তির উপর একমত হবেনা। যেমন হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন :

  • إِنَّ أُمَّتِي لَا تَجْتَمِعُ عَلَى ضَلَالَةٍ فَإِذَا رَأَيْتُمْ اخْتِلَافًا فَعَلَيْكُمْ بِالسَّوَادِ الْأَعْظَمِ.” (رواه ابن ماجة في السنن رقم 3950)

অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমার উম্মত গোমরাহির উপর কখনোই একমত হবেনা। অতএব তোমরা যখনই মতানৈক্য দেখতে পাবে তখন তোমরা বড় দলটিকে আঁকড়ে ধরবে। (দেখুন, ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৫০)। তাই কাদিয়ানীদের উল্লিখিত দাবী সঠিক হলে, তখন কি রাসূল (সা:)-এর উপরিউক্ত হাদীস মিথ্যা হয়ে যাচ্ছেনা? আমরা কি রাসূল (সা:)-এর হাদীসগুলো ত্যাগ করে কাদিয়ানীদের দাবীকে সত্য মেনে নেব?? সংক্ষেপে। কাদিয়ানীদের নিকট আমার এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর আছে কি?

  • লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

হাদীসের নামে মির্যা কাদিয়ানীর ডজনখানেক মিথ্যা-৫

রাসূল (সা:)-এর নামে মিথ্যা রটানো সম্পর্কে হাদীস : যে ব্যক্তি আমার প্রতি স্বেচ্ছায় মিথ্যাচার করে তার ঠিকানা জাহান্নাম। (সূত্র : সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইলম)।

মির্যা কাদিয়ানীর ধারাবাহিক মিথ্যাসমূহ (প্রামাণ্য স্ক্যানকপি সহ) :

(১) বহু সহীহ হাদীসে এসেছে মসীহ মওউদ শতাব্দির শুরুতে আগমন করবেন এবং তিনি চতুর্দশ শতাব্দির মুজাদ্দিদ হবেন। (রূহানী খাযায়েন ২১:৩৫৯)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

(২) কুরআন এবং বহু হাদীসে ভবিষ্যতবাণী রয়েছে, মসীহ মওউদ (আ:) এর যখন আত্মপ্রকাশ হবে তখন তিনি ইসলামী উলামাদের হাতে কষ্ট পাবেন। তারা তাকে কাফের আখ্যা দেবেন, হত্যার ফতুয়া দেবেন, কঠিনভাবে অবমাননা করবেন এবং ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে ও ধর্ম নষ্টকারী বলে মনে করবেন। (রূহানী খাযায়েন ১৭:৪০৪)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

(৩) কিছু সংখ্যক হাদীসে উল্লেখ আছে, আগত মসীহ এর একটি আলামত এটিও রয়েছে যে, তিনি জুলকারনাঈন হবেন। (রূহানী খাযায়েন ২১:১১৮)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

(৪) বহু হাদীসে নববীতে এমনি এসেছে, প্রতিশ্রুত মাহদীর উপর কুফুরীর ফতুয়া লাগানো হবে। অতএব সেটি এখন পূরণ হলো। (রূহানী খাযায়েন ১২:৭৫)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

(৫) বহু সহীহ হাদীস দ্বারা এটি প্রমাণিত যে, মসীহ ছয় হাজার সালে জন্ম নিবেন। (রূহানী খাযায়েন ২২:২০৯)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

(৬) যেহেতু সহীহ হাদীসে আছে, ইমাম মাহদীর কাছে একটি কিতাব থাকবে যার মধ্যে ৩১৩ জন সাথীর নাম থাকবে। সে ভবিষ্যতবাণী আজ পূরণ হল। (রূহানী খাযায়েন ১১:৩২৪)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

(৭) সহীহ বুখারীতে সুস্পষ্টভাবে লিখা আছে যে, হযরত ঈসা (আ:) মৃত্যুবরণ করিয়াছেন। (রূহানী খাযায়েন ১৯:৬৫) প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

(৮) কুরআন শরীফ এবং বহু হাদীস ও পূর্বেকার বহু কিতাবে উল্লেখ আছে, মসীহ এর যুগে একটি নতুন গাড়ী আবিস্কৃত হবে যা আগুন দ্বারা চলবে, তখন উট বেকার হয়ে পড়বে। আর এই শেষ অংশের হাদীসটি সহীহ মুসলিমেও রয়েছে। এই সেই গাড়ী যেটি আবিস্কৃত হল সেটি রেল (Rail)। (রূহানী খাযায়েন ২০:২৫)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

(৯) বহু হাদীসে এই কথা পরিষ্কার রয়েছে, শেষ যুগে মুহাম্মদ (সা:) দুনিয়াতে আবার আসবেন এবং মসীহও আসবেন। তবে দুইজনই বুরুজীভাবে আসবেন, হাকীকীভাবে নয়। (রূহানী খাযায়েন ১৮:৩৮৪)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

(১০) বহু হাদীসে এটিও উল্লেখ আছে, মসীহ এর সময় তাউন [প্লেগ, মহামারী] ছড়িয়ে পড়বে এবং হজ্জে বাধা প্রদান করা হবে। সুতরাং এই সমস্ত নিদর্শন প্রকাশ্যে আসিয়া গেল। (রূহানী খাযায়েন ১৭:৩৯৯)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

(১১) নবী করীম (সা.)-এর বহু হাদীসে ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে যে, হুজুর (সা.) এর উম্মতের মধ্য হতে এক ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করবে যাকে ঈসা এবং ইবনে মরিয়ম বলা হবে এবং নবী নামেও ডাকা হবে। (রূহানী খাযায়েন ২২:৪০৬)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

১২। ‘মুজাদ্দিদ সেরহান্দী (রহ.) নিজ ‘মাকতুবাত’ (مكتوبات) এর মধ্যে লিখেছেন, যদিও বা এই উম্মতের কিছু সদস্য আল্লাহর সাথে কথপোকথন ও আল্লাহর সম্বোধনের অধিকারী এবং কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারা চলতে থাকবে কিন্তু যাকে খুব বেশি এই বৈশিষ্ট্য এবং গায়েবের সংবাদ দান করা হয় তাকে নবী বলা হয়।’ (রূহানী খাযায়েন ২২:৪০৬)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

শেষকথা : আহমদীবন্ধুদের উচিত, মির্যা সাহেবের মতবাদগুলো অন্ধভাবে ফেরি করার আগে তাকে অন্ততপক্ষে সত্যবাদী প্রমাণ করা। কারণ তিনি নিজেই লিখে গেছেন ‘কেউ একটি কথায় মিথ্যুক প্রমাণিত হলে তার অন্য আর কোনো কথার গ্রহণযোগ্যতা থাকেনা।’ (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ২৩/২৩১)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

লিখক : প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ইমামান মাহদিয়্যান [إماما مهديا] শীর্ষক হাদীসের সঠিক অর্থ ও তাৎপর্য

  • ইমামান মাহদিয়্যান [إماما مهديا] শীর্ষক হাদীস :

সহজ সরল জবাব : চরম অর্থ-বিকৃতিকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায় নিচে উল্লিখিত হাদীসটির ‘ইমামান মাহদিয়্যান’ খন্ডাংশ হতে যেই অর্থটি নিয়ে থাকে তা সম্পূর্ণরূপে ভুল ও ব্যাকরণ বিরুদ্ধ! প্রাসঙ্গিক আলোচনায় আরেকটু পরে আসছি। প্রথমে পুরো হাদীসটির ব্যাকরণসিদ্ধ বাংলা অর্থ জেনে নিন। রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন :

  • يوشك من عاش منكم ان يلقى عيسى بن مريم إماما مهديا وحكما عدلا فيكسر الصليب ويقتل الخنزير ويضع الجزية وتضع الحرب أوزارها
  • উচ্চারণ : ইউশিকু মান আ’-শা মিনকুম আঁই ইয়ালক্বা ঈসা ইবনা মারইয়ামা ইমামান মাহদিয়্যান ওয়া হাকামান আ’দালান ফা ইয়ুকছিরাছ ছালীবা ওয়া ইয়াক্বতুলাল খিনজীরা ওয়া তাদ্বা’আল হারবু আওঝা-রাহা।

অর্থাৎ তোমাদের মধ্য হতে যারা বেঁচে থাকবে তারা অচিরেই ঈসা (আ:)-কে একজন সুপথপ্রাপ্ত ইমাম ও ন্যায়পরায়ণ প্রশাসকরূপে দেখতে পাবে। তিনি ক্রুশ ভাঙবেন এবং শূকর হত্যা করবেন। জিজিয়া (রাষ্ট্রীয় কর) তুলে দেবেন। তখন (আর কোনো প্রতিপক্ষ না থাকায়) যুদ্ধ আপনা সরাঞ্জামাদী গুটিয়ে নেবে (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ৯১১৭)।

বিশ্লেষণমূলক আলোচনা : উক্ত হাদীসে “ইমামান” শব্দটি মওসূফ [বিশেষিতপদ] আর “মাহদিয়্যান” শব্দটি ছিফাত [বিশেষণপদ]। যেজন্য অনুবাদের ক্ষেত্রে প্রথমে “মাহদিয়্যান” এর অর্থ করতে হবে তারপর “ইমামান” এর অর্থ করতে হবে। ফলে “ইমামান মাহদিয়্যান” এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে : ‘একজন সুপথপ্রাপ্ত ইমাম’। একজন ব্যাকরণের ছাত্র হিসেবে অবশ্যই জানার কথা যে, আরবী থেকে বাংলায় অনুবাদের ক্ষেত্রে ছিফাত [বিশেষণপদ]’র অর্থ আগে হয় আর মওসূফ [বিশেষিতপদ]’র অর্থ পরে হয়। যেমন :

[১] আজরান আযীমা [اجرا كريماً] অর্থাৎ উত্তম প্রতিদান। এখানে প্রথমে ‘কারীমা’ এর অর্থ নিতে হবে। কেননা এটি ছিফাত [বিশেষণপদ]। তারপর ‘আজরা’ এর অর্থ নিতে হবে। একই নিয়মে নিম্নরূপ।

[২] ফাদ্বলান কাবীরা [فضلاً كبيراً] অর্থাৎ মহা অনুগ্রহ।

[৩] আযাবান মুহীনা [عذابا مهينا] অর্থাৎ লাঞ্চনাদায়ক শাস্তি। (সূরা আহযাব : ৪৪, ৪৭, ৫৭)। সংক্ষেপে। লক্ষনীয় বিষয় যে, হাদীসটিতে “ইমামান মাহদিয়্যান” এর পূর্বেই ‘ঈসা ইবনে মরিয়ম’ শব্দ উল্লেখ আছে। যেটি বাক্যে “যুলহাল” [যার অবস্থা বুঝানো হয় এমন]। অনুরূপ “মাহদিয়্যান” শীর্ষক একটি রেওয়ায়েত সহীহ বুখারীতেও আছে। নিচে দেখুন :

(ক) হযরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:) সম্পর্কে রাসূল (সা:) বলেছেন, ﻭﺍﺟﻌﻠﻪ ﮬﺎﺩﯾﺎ ﻣﮭﺪﯾﺎ [ওয়াজ’আলহু হাদিয়ান মাহ্দিয়্যান] অর্থাৎ হে আল্লাহ আপনি তাকে একজন সুপথপ্রাপ্ত হিদায়াতকারী বানিয়ে দিন (বুখারী কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার)।

(খ) রাসূল (সা:) হযরত মু’আবিয়া (রা:) সম্পর্কেও বলেছেন : ﺍﻟﻠﮭﻢ ﺍﺟﻌﻠﻪ ﮬﺎﺩﯾﺎ ﻣﮭﺪﯾﺎ ﻭﺍﮬﺪ ﺑﻪ [আল্লাহুম্মাজ আলহু হাদিয়ান মাহ্দিয়্যান ওয়াহ্দি বিহি] অর্থাৎ হে আল্লাহ আপনি তাঁকে একজন সুপথপ্রাপ্ত হিদায়াতকারী বানিয়ে দিন আর তার মাধ্যমে [মানুষকে] হিদায়াত দান করুন। (তিরমিযী কিতাবুল মানাকিব, সনদ হাসান ও গরিব)।

সর্বশেষ কথা হল, যারা মওসূফ ছিফাত এর স্বতসিদ্ধ ব্যকরণিক নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করেই ‘ইমামান মাহদিয়্যান’ এর অর্থ করে ‘ইমাম মাহদীরূপে’ (মহা সুসংবাদ পৃ-১০)। তাদের নিকট আমার প্রশ্ন হল, ‘মুসনাদে আহমদ’ নামক কিতাবসহ হাদীসের অন্যান্য যেসব কিতাবে হযরত ঈসা (আ:)-এর দ্বিতীয় আগমন সম্পর্কে শব্দের সামান্য পরিবর্তনসহ আরো যেসব বাক্যাংশ রয়েছে সেখানেও কি অনুরূপ অর্থ নিবেন? যেমন :

১. ইমামান মাহদিয়্যান ওয়া হাকামান আদালা [إماماً مهديا و حكماً عدلاً]। মুসনাদে আহমদ : হা/৯১১৭।

২. ইমামান মুকছিতান [إماماً مقسطا]। মুসনাদে আহমদ : হা/৭৬২২, ৭৬৯০; তারিখে দামেস্ক : হা/৫১৩৫৫।

৩. ইমামান আদিলান [إماماً عادلاً]। ইমাম ইবনে আবী শাইবাহ (মৃত ২৩৫ হিজরী) সংকলিত মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ : হা/৩৮৪৯১, ৩৬৮০৪।

৪. ইমামান আদিলান ওয়া ক্বাজিয়ান [اماما عادلاً و قاضياً]। ইমাম আবু বকর আশ-শাফেয়ী (মৃত ৩৫৪ হিজরী) সংকলিত, আল ফাওয়ায়িদুশ শাহীর বিল গাইলানিয়াত : হা/৭৯৩, ৮২৪। আপাদত এই কয়েকটা দিলাম।

এখন বলুন, প্রথমোক্ত বর্ণনায় “ইমামান মাহদিয়্যান” এর অর্থ ‘ইমাম মাহদীরূপে’ হলে তবে অন্যান্যগুলোর অর্থ কীরূপে হবে? আশাকরি বুঝতেই পেরেছেন যে, কাদিয়ানীরা ব্যাকরণবিরুদ্ধ ও মতলবসিদ্ধ অনুবাদ করতে গিয়ে কত মারাত্মক ভুলভাল অনুবাদ করে থাকে।

  • লিখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ইমাম মাহদীকে মানার গুরুত্ব সংক্রান্ত হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে কতেক জিজ্ঞাসা

  • ইমাম মাহদীকে মানার গুরুত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ হাদীসটি উল্লেখপূর্বক কিছু প্রশ্ন :

আমরা প্রায়শই দেখি আহমদী তথা কাদিয়ানী জামাতের আলোচনায় ইবনে মাজাহ’র হাদীসের সে অংশটি আসে যা জনাব ফিরোজ আলম সাহেব [কাদিয়ানী ইনচার্জ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন] খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেন। যেমন فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَبَايِعُوهُ [ফা-ইজা রাআইতুমূহু ফা-বাইয়ূহু] অর্থাৎ যখন তোমরা তাকে দেখবে তখন বাইয়াত (যোগদান) করবে। কিংবা فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَبَايِعُوهُ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ فَإِنَّهُ خَلِيفَةُ اللَّهِ الْمَهْدِيُّ [ফা-ইজা রাআইতুমূহু ফা-বাইয়ূহু ওয়া লাও হাবওয়ান আলাছ ছালজি ফা-ইন্নাহু খালীফাতুল্লাহিল মাহ্দী] অর্থাৎ তাঁকে [গোরাসানের দিক থেকে] আত্মপ্রকাশ করতে দেখলে তোমরা বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তার বাইয়াত (যোগদান) করবে। কারণ সে আল্লাহ’র খলীফা আল-মাহদী। কিন্তু কখনো পুরো হাদীসটি বর্ণনা করতে শুনিনি।

এ হাদীসটি ইবনে মাজাহ শরীফে বর্ণিত একটি বড় হাদীসের (হা/৪০৮৪) খন্ডিত অংশ। বলে রাখা প্রয়োজন, একমাত্র ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ:) এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাদীস বিশারদগণ এর সনদকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। সেযেইহোক, আমার প্রশ্ন সেটি নয়।

  • তবে ইমাম হাকেম (রহ:) যেই সনদে বর্ণনা করেছেন সেখানে ‘ক্বদ জাআত মিন ক্বিবালি খোরাসান’ [কালো পতাকাধারী বাহিনী খোরাসানের দিক থেকে আগমন করবে] শব্দটিও উল্লেখ আছে। এমনকি সেটি সনদের বিচারে সহীহ মুসলিম এর সমমানে উন্নীত। দেখুন মুসতাদরিক আলা আস সহীহাইন, কিতাবুল ফিতান ওয়াল মালাহিম।

আমি প্রথমে সম্পূর্ণ হাদীসটির অনুবাদ নিচে পেশ করছি : হযরত সাওবান (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন:

“তোমাদের একটি সম্পদের [সিংহাসন বা গুপ্তধন] নিকট এক খলিফার তিন পুত্র যুদ্ধ করবে। তাদের কেউ সেই সম্পদ দখল করতে পারবে না। অতঃপর প্রাচ্যদেশ থেকে কালো পতাকা উড্ডীন করা হবে। তারা তোমাদেরকে এত ব্যাপকভাবে হত্যা করবে যে, ইতোপূর্বে কোনো জাতি তদ্রুপ করেনি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা:) আরো কিছু বলেছেন, যা আমার মনে নেই। তিনি আরো বলেন, তাকে [খোরাসানের দিক থেকে] আত্মপ্রকাশ করতে দেখলে তোমরা বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তার বাইয়াত করো [তথা তাঁর সিরিয়াভিমুখী মুজাহিদবাহিনীতে যোগদান করো – ইমাম যুহরী, নুআঈম ইবনে হাম্মাদ কৃত আল ফিতান ১/২০৬]। কারণ তিনি আল্লাহর খলীফা আল-মাহদী।”

এখন জনাব ফিরোজ আলম সহ কাদিয়ানী শীর্ষনেতাদের নিকট প্রশ্ন হল :

[১] আহমদীরা (তথা কাদিয়ানীরা) কেন হাদীসটির সম্পূর্ণ অংশ বর্ণনা করেন না?

[২] যদি করে থাকেন তাহলে মির্যা সাহেবের ইমাম মাহ্দী দাবির সময় খলিফার এই তিনপুত্র কারা ছিলেন যারা সেই সময় গুপ্তধনের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন কিন্তু অর্জন করতে পারেন নি? كُلُّهُمُ ابْنُ يَقْتَتِلُ عِنْدَ كَنْزِكُمْ ثَلاَثَةٌ خَلِيفَة [ইয়াকতাতিলু ইনদা কাঞ্জিকুম ছালাছাতুন কুল্লুহুম ইবনু খালীফাতিন]।

[৩] পূর্ব থেকে কালো পতাকাধারী কারা ছিলেন যারা মির্যা সাহেবের যুগে ব্যাপকভাবে মুসলমানদের হত্যা করেছেন, যা ইতোপূর্বে কোনো জাতি করেনি? فَيَقْتُلُونَكُمْ قَتْلاً لَمْ يُقْتَلْهُ قَوْمٌ [ফা-ইয়াকতুলূনাকুম কাতলান লাম ইয়ুকতালহু কাওমুন]।

[৪] ইমাম মাহদী খোরাসানের দিক থেকে সদলবলে সিরিয়াভিমুখে রাওয়ানা হলে মির্যা সাহেব কবে কখন খোরাসানের দিক থেকে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে জিহাদের জন্য বের হয়েছিলেন? বরং আমরা তো জানি যে, তিনি জিহাদের কবর রচিত করতেই উঠেপড়ে লেগেছিলেন। উল্লেখ্য, উইকিপিড়িয়া’র তথ্যমতে খোরাসান এর ভূগৌলিক অবস্থান হল, উত্তর পশ্চিম আফগানিস্তান, উত্তর ও দক্ষিণ পূর্ব উজবেকিস্তান, উত্তর পূর্ব ইরান, দক্ষিণ তুর্কমেনিস্তান, দক্ষিণ কাজিকিস্তান, উত্তর ও পশ্চিম তাজিকিস্তানসহ সম্পূর্ণ বিস্তৃত এলাকা।

  • লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মির্যা কাদিয়ানীর বিভিন্ন দাবী দাওয়া ও সময়কাল

  • এক নজরে মির্যা কাদিয়ানীর বিভিন্ন দাবী দাওয়া

দাবীসমূহের রেফারেন্স ও দাবীকরার সময়কাল

মুলহাম (দৈব-বাণীর অধিকারী)। তাযকিরাহ পৃ ০৬; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৬৮ ইং।

বায়তুল্লাহ (আল্লাহর ঘর)। তাযকিরাহ পৃ ২৮; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৮১ ইং।

মুজাদ্দিস (সংস্কারক)। তাযকিরাহ পৃ ৩৫; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৮২ ইং।

মামূর মিনাল্লাহ (আল্লাহর পক্ষ হতে আদিষ্ট)। তাযকিরাহ পৃ ৩৫; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৮২ ইং।

নাযীর (ভয়প্রদর্শনকারী)। তাযকিরাহ পৃ ৩৫; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৮২ ইং।

আদম, বিবি মরিয়ম, আহমদ। তাযকিরাহ পৃ ৫৫; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৮৩ ইং।

মুরসাল (প্রেরিত)। তাযকিরাহ পৃ ৯৯; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৮৪ ইং।

মাসীলে মসীহ (রূপক ঈসা আ:)। তাযকিরাহ পৃ ১৪৮; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৯১ ইং।

তাওহীদ এবং তাফরিদ। তাযকিরাহ পৃ ১৬৪; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৯২ ইং।

কুন ফা ইয়াকুন (হও বললে হয়ে যাওয়া)। তাযকিরাহ পৃ ১৬৪; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৯২ ইং।

মাসীহে ইবনে মরিয়ম (স্বয়ং ঈসা আ:)। তাযকিরাহ পৃ ১৭৮; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৯৩ ইং।

ইমাম মাহদী ও মাসীহ ঈসা। তাযকিরাহ পৃ ২০৯; ৪র্থ এডিশন, সময়কাল : ১৮৯৪ ইং।

ইমামুয যামান (যামানার ইমাম)। রূহানী খাযায়েন ১৩/৪৯৫, সময়কাল : ১৮৯৮ ইং।

খোদা। রূহানী খাযায়েন ১৩/১০৩, সময়কাল : ১৮৯৮ ইং।

নবুওয়তি প্রাসাদের আখেরি ইট। রূহানী খাযায়েন ১৬/১৭৭-৭৮, সময়কাল : ১৯০০ ইং।

কাশফ (অতিব জাগ্রত দিব্যি-দর্শন) অবস্থায় নিজেকে স্ত্রীলোক মনে হওয়া এবং আল্লাহকে পুরুষরূপে দেখা ও সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার দাবী। ইসলামী কুরবানী ট্রাক্ট (উর্দু) পৃ ১২; ১৯২০ ইং, লিখক, কাজী ইয়ার মুহাম্মদখান সাহেব (মির্যা কাদিয়ানীর ঘনিষ্ট সহচর)।

বুরূজি খাতামুল আম্বিয়া (শেষনবীর দ্বিতীয় প্রকাশ)। রূহানী খাযায়েন ১৮/২১২, সময়কাল : ১৯০১ ইং।

জিল্লি মুহাম্মদ (মুহাম্মদ সা: এর প্রতিবিম্ব)। রূহানী খাযায়েন ১৮/২১২, সময়কাল : ১৯০১ ইং।

জিল্লি, বুরুজি, উম্মতিনবী। রূহানী খাযায়েন ১৮/২১২, সময়কাল : ১৯০১ ইং।

নবী ও রসূল। একটি ভুল সংশোধন পৃ. ৮, সময়কাল : ১৯০১ ইং।

শরীয়তবাহক নবী (নতুন বিধি-বিধানসহ প্রেরিত)। রূহানী খাযায়েন ১৫/৪৩২; ১৭/৪৩৫-৩৬, সময়কাল : ১৯০২ ইং।

আখেরী নবী (শেষনবী)। রূহানী খাযায়েন ২০/৬৯-৭০; ১৯/৬১, সময়কাল : ১৯০২ ইং।

শ্রীকৃষ্ণ-এর অবতার (হিন্দু ধর্মানুসারীদের আরাধ্য বিশিষ্ট একজন দেবতা যিনি তাদের বিশ্বাস মতে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতাররূপে খ্যাত)। রূহানী খাযায়েন ২২/৫২২, সময়কাল : ১৯০৭ ইং।

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী মিরাক (সিজোফ্রেনিয়া) রোগেও আক্রান্ত ছিল (সীরাতে মাহদী: নতুন এডিশন ক্রমিক নং ১৯)। তার অসঙ্গত দাবীগুলো সেই রোগেরই উপসর্গ ছিল বলা চলে।

তথ্য-সংগ্রহে, মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ