Home Blog Page 18

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩৯

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মুজাদ্দিদে আলফে সানী শায়খ আহমদ সারহেন্দী (রহ.)-এর কিতাব ‘মাকতুবাত’-এর মধ্যে আল্লাহর সাথে অধিক বাক্যালাপের অধিকারী যিনি তাকে মুহাদ্দাস আখ্যা দেয়া, আবার ‘নবী’ আখ্যা দেয়া!

মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের বই থেকে (তিনি লিখেছেন), ‘বরং মুজাদ্দিদ আলফে সানী স্বীয় মাকতুবাত-এর দ্বিতীয় খণ্ডে পরিষ্কার লিখেছেন, নবী হওয়া ছাড়াও উম্মতের সাধারণ সদস্যরাও আল্লাহতালার সাথে বাক্য আলাপের সৌভাগ্য পেতে পারে। আর এমন সৌভাগ্যবানদের ‘মুহাদ্দাস’ (আল্লাহ যার সাথে কথপোকথন করেন) বলা হয়।’ (রূহানী খাযায়েন ১/৬৫২, রচনাকাল ১৮৮০ইং)।

স্ববিরোধ কথা :

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব তার বইয়ের অন্যত্রে শায়খ আহমদ সারহেন্দী (রহ.)-এর একই বইয়ের একই উদ্ধৃতিতে লিখেছেন, ‘মুজাদ্দিদ সারহেন্দী (রহ.) নিজ মাকতূবাত-এর মধ্যে লিখেছেন, যদিও বা এই উম্মতের কিছু সদস্য আল্লাহর সাথে কথপোকথন ও আল্লাহর সম্বোধনের অধিকারী এবং কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারা চলতে থাকবে কিন্তু যাকে খুব বেশি এই বৈশিষ্ট্য এবং গায়েবের সংবাদ দান করা হয় তাকে নবী বলা হয়।’ (রূহানী খাযায়েন ২২/৪০৬; রচনাকাল ১৯০৭ ইং)। এখানে প্রশ্ন হল, তাহলে মির্যা গোলাম আহমদ সাহেবের এখানে কোন কথা বা উদ্ধৃতিটি সত্য? প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন। স্ক্রিনশট

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মায়েদা-১১৭ দ্বারা ঈসা (আ.)-কে মৃত সাব্যস্ত করার দলিল ও যুক্তি খণ্ডন

যুক্তি ও দলিল-প্রমাণ খণ্ডন

কাদিয়ানীদের বিশ্বাসমতে, সূরা মায়েদা আয়াত নং ১১৭ অনুযায়ী ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে গেছে!

  • মুসলিম উম্মাহা’র বক্তব্য, সূরা মায়েদা আয়াত নং ১১৭ (فلما توفيتنى) সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীগণও পড়েছেন, বুঝেছেন কিন্তু কেউই বলেননি যে, আয়াতটি ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে গেছে মর্মে দলিল!

উক্ত আয়াত দ্বারা ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে গেছে বলে দাবী করলে তখন কাদিয়ানীদের নিকট নিচের প্রশ্নটির কোনোই জবাব থাকেনা! প্রশ্নটি হল,

মির্যা কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮ইং) লিখেছে, সেন্ট পৌলের মাধ্যমেই ঈসার মৃত্যুর পর খ্রীস্টধর্মে বিকৃতি ঘটেছে (রূহানী খাযায়েন ২০/৩৭৫)। এখন আমার প্রশ্ন হল, ঐ আয়াত ঈসার মৃত্যুর দলিল হলে, তখন তো খ্রীস্টধর্মের বিকৃতি সেন্ট পৌলের মাধ্যমেই ঘটেছে বলে মির্যার উক্ত দাবী (যদিও দাবীটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য) সম্পূর্ণ মিথ্যাই হয়ে যাচ্ছে! কারণ, সেন্ট পৌলের মৃত্যু হয়েছিল ৬৪/৬৫/৬৭ খ্রিস্টাব্দে। আর মির্যার মতে, ঈসা (আ.) মারা যান একশত বিশ বছর বয়সে (অর্থাৎ ১২০ খ্রিস্টাব্দে)। এ হিসেবে সেন্ট পৌল ঈসার মৃত্যুর পরেই খ্রিস্টধর্মের বিকৃতি ঘটায় কেমনে? তবে কি আপনারা ঈসার জীবদ্দশাতেই খ্রিস্টধর্মে বিকৃতি শুরু হয়েছিল বলে বিশ্বাস করেন? নাউযুবিল্লাহ। এখন এর উত্তর “না” হলে, তখন আয়াতটির (মায়েদা ১১৭) لما توفيتنى এর “তাওয়াফফা” (توفى) শব্দের রূপক অর্থ ‘মৃত্যু’ উদ্দেশ্য নেয়া যায় কিভাবে?

উল্লেখ্য, সকল তাফসীরকারক لما توفيتنى এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ করেছেন, لما رفعتنى الى السماء অর্থাৎ (ঈসা কেয়ামতের দিন আল্লাহকে বলবেন) আপনি যখন আমাকে আকাশে উঠিয়ে নিলেন….! (বিশিষ্ট যুগ ইমাম আল্লামা শাওক্বানী রচিত ফাতহুল ক্বাদীর ৭ম খণ্ড দ্রষ্টব্য)।

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর তাওয়াফফা (توفى) বা উঠিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে মালাকুল মউত হযরত আজরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে। যেজন্য তাঁর উক্ত তাওয়াফফা হতে ‘তাওয়াফফা বির রাফা’ (توفى بالرفع) উদ্দেশ্য হবেনা, বরং এ থেকে ‘তাওয়াফফা বিল মউত’ (توفى بالموت)ই উদ্দেশ্য হবে। এ সম্পর্কে পড়তে ক্লিক করুন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মুহাম্মদ (সা.)-কেও তাওয়াফফা করা মানে কি আকাশে উঠিয়ে নেয়া?

কাদিয়ানী মতবাদের ভ্রান্তি ও সংশয় নিরসন

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কেও কি فلما توفيتنى এর কারণে সশরীরে আকাশে উঠিয়ে নিয়া হল বুঝাবে? উত্তর পড়ুন!

কাদিয়ানীর প্রশ্ন : সহীহ বুখারীর একটি হাদীসে মুহাম্মদ (সা.) আর ঈসা (আ.) দু’জনের ক্ষেত্রেই কিন্তু ‘ফা-লাম্মা তাওয়াফ্ফাইতানী’ (فلما توفيتنى) শব্দ উল্লেখ আছে। এখন এর অর্থ ‘আকাশে উঠিয়ে নেয়া’ হলে তবে কি মুহাম্মদ (সা.)-কেও আকাশে উঠিয়ে নেয়া হল?

মুসলিম উম্মাহা’র পক্ষ হতে উত্তর :

(১) ‘তাওয়াফ্ফা’ (توفى) শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘পুরোপুরি নিয়ে নেয়া’ (أخذ الشيئ وافيا) বা ‘পূর্ণকরা’। যেমন حتى يتوفهن الموت অর্থ- তাদেরকে মৃত্যু ‘উঠিয়ে নেয়া’ পর্যন্ত। (সূরা নিসা, আয়াত-১৫)। যদিও বা শব্দটি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ক্বারীনার বিভিন্নতার কারণে বিভিন্ন অর্থ পরিগ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, মির্যা কাদিয়ানীর বইতে توفى (متوفيك) শব্দের ভিন্ন ভিন্ন ৫ ধরণের অর্থ পাওয়া যায়। সেই অর্থগুলো হচ্ছে,

‘পরিপূর্ণ নেয়ামত দান করা’ (রূহানী খাযায়েন ১:৬২০);

‘পরিপূর্ণ পুরষ্কার দেয়া’ (রূহানী খাযায়েন ১:৬৬৪-৬৫);

‘অপমানকর ও অভিশপ্ত মৃত্যু হতে রক্ষাকরা’ (রূহানী খাযায়েন ১২:২৩);

‘জন্মগ্রহণকরা’ (রূহানী খাযায়েন ১৯:৪৯) ইত্যাদী।

মজার ব্যাপার হল, মির্যার সবগুলো রচনাতেই ‘তাওয়াফফা’ (توفى) ক্রিয়াপদের কর্তা আল্লাহ এবং কর্ম যীরূহ (প্রাণী)ই হয়েছে। তা সত্ত্বেও ‘তাওয়াফফা’ শব্দটি ‘মৃত্যু’ অর্থে পরিগৃহীত হয়নি।

আশ্চর্যের কথা হল, মির্যায়ী মুরিদরা মির্যার এ সমস্ত স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপে কোনোই প্রশ্ন তুলেনা! যত তর্ক-বিরোধ আর যুক্তি প্রমাণ সবই যেন হযরত ঈসা (আ.)-কে মেরে ফেলার জন্য! আহ! মির্যায়ী আহ!! কিভাবে সম্ভব এই দ্বৈত নীতি! কারো যাচ্ছেতাই ‘তাওয়াফফা’ অর্থ নিতে কোনো অভিযোগ নেই, কিন্তু ঈসা (আ.)-এর বেলাতে শব্দটিকে জোর করে হলেও মৃত্যু অর্থের জন্যই বরাদ্দ দেয়া! এমন জুলুম আর অসম বন্টন খোদার আর কোনো সৃষ্টির মাঝেও আছে কিনা জানা নেই!

(২) প্রশ্নকর্তা হয়ত জানেই না যে, আজরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে ‘উঠিয়ে নেয়া’ আর জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে ‘উঠিয়ে নেয়া’ এক জিনিস না। রাসূল (সা.)-এর ‘তাওয়াফফা’ (উঠিয়ে নেয়া)-এর ঘটনা মালাকুল মউত হযরত আজরাঈলের মাধ্যমে ঘটেছিল তাই এর অর্থ মৃত্যুর মাধ্যমে শুধু রূহ ‘উঠিয়ে নেয়া’ উদ্দেশ্য!

পক্ষান্তরে ঈসা (আ.)-এর ‘উঠিয়ে নেয়া’র ঘটনা রূহুল কুদস হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে ঘটেছিল। পবিত্র কুরআনেও এর ইংগিত রয়েছে। দেখুন اذ ايدتك بروح القدس (সূরা মায়েদা-১১০)। এর সুস্পষ্ট বিবরণ রয়েছে একাধিক সহীহ হাদীসে।[1] আশাকরি উত্তর পেয়েছেন।

টিকা : [1] ঈসা (আ.)-এর ‘তাওয়াফফা’ (توفى) তথা উঠিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছিল রূহুল কুদস হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে। এর সমর্থনে একাধিক সহীহ হাদীস বিদ্যমান। হাদীস (আরবী),

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في حديث طويل لما أجتمع اليهود على عيسى عليه السلام ليقتلوه وجاء فيه : “… فأوحى الله إلى جبريل أن ارفع إلي عبدي”

অর্থাৎ হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যখন ইহুদীরা ঈসা (আ.)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে সমবেত হলো তখন জিবরাঈল (আ.) তাঁর নিকট আগমন করেন…আল্লাহতালা তাঁকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, তুমি আমার বান্দা (ঈসা)-কে আমার নিকট উঠিয়ে নিয়ে এসো।’ (ইবনে আসাকির সংকলিত তারীখে দামেস্ক ৪৭/৪৭২; খতিব বাগদাদির তারীখে বাগদাদ ১১/৩৭৯)।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি :-

ইবনে আসাকির রহ. সংকলিত হাদীসের সনদ :

أخبرنا أبو الحسن بن قبيس وأبو منصور بن خيرون أنبأنا أبو بكر الخطيب أخبرني الحسن بن محمد الخلال حدثنا أبو حصين ضياء بن محمد الكوفي بها حدثنا الحسين بن مرزوق حدثنا علي بن الحسن بن محمد بن سعيد بن عثمان العكبري حدثنا إبراهيم بن عبد الله الطرسوسي حدثني بلال خادم أنس بن مالك عن أنس بن مالك

(সনদ/ধারাবাহিক বর্ণনাসূত্র) : ইমাম ইবনে আসাকির, আবুল হাসান ইবনু কুবাইস, আবুবকর খতিব, হাসান ইবনু মুহাম্মদ আল খিলাল, আবু হোছাইন জিয়া ইবনু মুহাম্মদ আল কুফী, হোসাইন ইবনে মারযূক্ব, আলী ইবনু হোসাইন ইবনু মুহাম্মদ ইবনু সাঈদ, ইবরাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ আত তারতূসি, বিলাল, হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.)। বলে রাখতে চাই যে, ইমাম ইবনে খুজায়মা (২২৩-৩১১ হিজরী) [ابن خزيمة] (রহ.) স্বীয় ‘সহীহ ইবনে খুজায়মা’ গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি চার-এরও অধিক সূত্রে পাওয়া যায়। কোনো কোনো সূত্র জঈফ আবার কোনো সূত্রকে ‘হাসান‘ (أنه [بلال] صدوق حسن الحديث فهو تابعي كبير روى عن أنس بن مالك روى عنه أربعة فمثله حديثه حسن خاصة) বলেও সাব্যস্ত করা হয়েছে।

ইমাম কুরতুবী (রহ.) সংকলিত বিখ্যাত ‘তাফসীরে কুরতুবী’তে সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ৫৪ এর ব্যাখ্যাও তিনি উক্ত হাদীসটির আলোকে ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন। যেমন তিনি লিখেছেন,

أن اليهود لما اجتمعوا على قتل عيسى دخل البيت هاربا منهم فرفعه جبريل من الكوة إلى السماء

অর্থাৎ যখন ইহুদীরা ঈসাকে (যীশুকে) হত্যা করার জন্য জড়ো হয়েছিল, তখন তিনি তাদের কাছ থেকে পালিয়ে গিয়ে ঘরে প্রবেশ করেছিলেন এবং জিবরাঈল (আ.) তাকে জানালা থেকে আকাশে উঠিয়ে নেন। (তাফসীরে কুরতুবী)। উল্লেখ্য, আরবীতে ‘আলকূতু‘ (الكوة) তথা জানালাকেও বুঝায়! ছবিটি দ্রষ্টব্য।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩৮

কোথাও ইমাম মাহদী এবং ঈসা দুইজনই একই ব্যক্তি বলে লিখলেন আবার কোথাও তাদেরকে ভিন্ন ভিন্ন সত্তা বলেও উল্লেখ করলেন! স্ববিরোধীতা কাকে বলে!

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে। তিনি লিখেছেন,

اور ان حدیثوں کے مقابل پر یہ حدیث بہت صحیح ہے جو ابن ماجہ نے لکھی ہے اور وہ یہ ہے کہ لا مہدی الا عیسی یعنی اور کوئی مہدی نہیں صرف عیسی ہی مہدی ہے جو آنے والا ہے

অর্থাৎ এই (উপরে উল্লিখিত) হাদীসগুলোর তুলনায় ইবনে মাজাহ’র লেখিত এই হাদীসটি বহুত সহীহ। আর সেটি হচ্ছে, لا مہدی الا عیسی (তথা ‘কোনো মাহদী নেই তবে আগমনকারী ঈসা ইবনে মরিয়ম ব্যতীত)।’ (রূহানী খাযায়েন ২১/৩৫৬)।

এখানে তিনি ইমাম মাহদী আর ঈসা উভয়কে একই ব্যক্তি সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন

স্ববিরোধ কথা :

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বই থেকে তুলে দেয়া হল। তিনিও ঈসা মসীহ এবং ইমাম মাহদী দুইজনকে আলাদা সত্তা বলে পরিষ্কার শব্দে লিখে গেছেন এভাবেই,

اور ہم ثابت کر چکے ہیں کہ وہی رجل فارسی  مہدی ہے اس لئے ماننا پڑا کہ مسیح موعود اور مہدی اور دجال تینوں مشرق میں  ہی ظاہر ہوں گے اور وہ ملک ہند ہے۔ 

অর্থাৎ এবং আমি প্রমাণ করেছি যে, সেই পারস্যের পুরুষটি-ই মাহদী। যেজন্য মানতে হবে যে, মসীহ মওউদ, মাহদী এবং দাজ্জাল তিনোজন পূর্বদিকেই প্রকাশিত হবে আর সেই রাষ্ট্রটি হচ্ছে হিন্দুস্থান। (রূহানী খাযায়েন ১৭/১৬৭)। 

সম্পর্কিত কিছু কথা :-

এখানে মির্যা সাহেব পরিষ্কার শব্দে ‘তিনো‘ তথা তিনজন বলে লিখে গেছেন। স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে যে, ঈসা আর ইমাম মাহদী কখনোই একই সত্তা হবেন না। আর এটি মির্যা কাদিয়ানীরও কলম থেকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যেভাবেই হোক, বেরিয়ে গেছে। এখন কথা হল, মির্যা সাহেব প্রথমোক্ত রচনায় লিখলেন, মাহদী এবং ঈসা দুইজনই একই ব্যক্তি, আর তিনি ইবনে মাজাহ’র একটি রেওয়ায়েত দ্বারা সে কথা প্রমাণও করতে চেয়েছেন। এমনকি রেওয়ায়েতটিকে তিনি তার অপরাপর কথার বিরুদ্ধে গিয়েও ‘সহীহ’ আখ্যা দিয়েছেন। এর চেয়ে বড় স্ববিরোধ কথা আর কী?

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)। অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মির্যায়ীদের স্ববিরোধীতা-৩৭

আজকে এখানে মির্যায়ী তথা কাদিয়ানীদের লিটারেচার থেকে পরষ্পর বিরোধী দুইটি বক্তব্য আপনাদের সামনে তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ।

() [ক] ‘আমাদের মতে আহমদীর পক্ষেও জাহান্নামে যাওয়া সম্ভব, এবং যাহারা আহমদী (কাদিয়ানী) নহে তাহাদের পক্ষেও জান্নাতে যাওয়া সম্ভব’। (আহমদীয়াতের পয়গাম পৃষ্ঠা নং ১১, দশম সংস্করণ মে ২০০৬ ইং)।

[খ] বাংলাদেশের কাদিয়ানী জামাতের মূলকেন্দ্র ঢাকার বকশিবাজার। সেখান থেকে প্রকাশিত তাদের অফিসিয়াল ম্যাগাজিন ‘পাক্ষিক আহমদী‘ (তাং ১৫-১২-২০১২ইং পৃষ্ঠা নং ৬) থেকে লিখছি, সেখানে লিখা আছে, ‘আল্লাহ প্রেরিত সেই মসীহে মওউদ (আ.)-এর ইসলামী শিক্ষার আলোকে প্রদত্ত সুশিক্ষার কারণেই আহমদীয়া জামাত আল্লাহ ও রসূল (সা.)-এর নির্দেশ অনুসারে প্রত্যেক কলেমা পাঠকারীকে মুসলমান মনে করে।’

এবার আগেরটার স্ববিরোধ কথা পড়ুন,

() মির্যা কাদিয়ানীর ছেলে ও (কথিত মুসলেহ মওউদ খেতাবপ্রাপ্ত এবং তার) দ্বিতীয় খলীফা মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদের রচিত “আয়নায়ে সাদাকাত” থেকে পড়ুন, তিনি লিখেছেন,

کل مسلمان جو حضرت مسیح موعود کی بیعت میں شامل نہیں ہوئے خواہ انہوں نے حضرت مسیح موعود کا نام بہی نہیں سنا وہ کافر اور دائرہ اسلام سے خارج ہیں

অর্থাৎ  যে সমস্ত মুসলমান মসীহ মওউদের (মির্যা কাদিয়ানী) বাইয়েতের মধ্যে শামিল হয়নি, তারা যদিও বা হযরত মসীহ মওউদের নাম পর্যন্ত শুনেনি এমন ব্যক্তিও কাফের এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বহিষ্কৃত। (আরো দেখুন, মির্যা বশির উদ্দিন এর রচনাবলীর সমষ্টি ২৬ খণ্ডে প্রকাশিত ‘আনওয়ারুল উলূম’ এর ৬ নং খণ্ডের ১১০ নং পৃষ্ঠা, অনলাইন এডিশন [উর্দু])। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি :-

শেষকথা, আমি এসবের উপর মন্তব্য করতে চাই না। তবে শুধু এটুকু জিজ্ঞেস করতে চাই, যেসব সাধারণ কাদিয়ানী নিজ নিজ এলাকার কলেমা পাঠকারী অ-কাদিয়ানী আত্মীয়স্বজন কিবা পাড়াপ্রতিবেশিকে কলেমা পাঠকারী হিসেবে একজন মুসলমান বলে বিশ্বাস করে আসছেন, তাদের উক্ত বিশ্বাসের কী অবস্থা হবে? কারণ মির্যা পুত্র বশির উদ্দিন মাহমুদ তো পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, মসীহে মওউদের নিকট বাইয়েত না নিলে এমনকি যে মসীহে মওউদের নামও শুনেনি এমন ব্যক্তিও কাফের এবং ইসলামের গণ্ডির বাহিরে! এমতাবস্থায় বাংলাদেশী কাদিয়ানীদের পাক্ষিক আহমদীর ফতুয়াকে সঠিক মানবো নাকি মির্যাপুত্রেরটা সঠিক মানবো? সাধারণ কাদিয়ানীদের কোন গতি?

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ

হযরত আদম (আ.)-এর আগেও কিছু মানুষ ছিল কি?

0

হযরত আদম (আ.) “প্রথম মানুষ” ছিলেন না, তার আগেও মানুষ ছিল (নাউযুবিল্লাহ), এটি কাদিয়ানীদের অন্যতম একটি কুফুরি বিশ্বাস। তাদের লিটারেচার গুলোই এর সাক্ষী। নিচে স্ক্যানকপি পেশ করা হবে!

এইরূপ আকীদা রাখার পরিণাম ফল হল,
[
১] পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত ‘আদম’ নামীয় মানুষটির প্রকৃত অবস্থা (প্রথম নবী ও মানব জাতির আদি পিতা) অস্বীকার করার শামিল।

[২] ইসলামের মূলধারার শিক্ষা ও ইজমার বিপরীতে সম্পূর্ণ নতুন তথা বিদয়াতি আকীদা পোষণ করার নামান্তর। এই পর্যায় কাদিয়ানীদের উক্ত বিভ্রান্তিকর বিশ্বাসের অসারতা তুলে ধরতে বিবেক-জাগানিয়া কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই!

কাদিয়ানীদের প্রতি প্রশ্নগুলো এই,

[১] মির্যা কাদিয়ানী মানব সভ্যতার আয়ু হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত মাত্র পাঁচ হাজার বছর বলে লিখে গেছেন। ফলে একথা সাব্যস্ত হয়ে গেল যে, প্রথম মানুষটা কে সেটি মির্যা সাহেব নিশ্চয়ই জানতেন! নইলে তিনি কিভাবে পাঁচ হাজার বছরের হিসেব লিখে যেতে পারলেন? (দেখুন, ইসলাম ও এদেশের অন্যান্য ধর্মমত পৃষ্ঠা নং ৪২-৪৩)। উল্লেখ্য, উক্ত বইয়েরই ৪৮ নং পৃষ্ঠায় একদম পরিষ্কার করে এও লিখা আছে যে, ‘আর এই (সকল) সভ্যতার পূর্ণ চক্রের আয়ু সাত হাজার বছর পর্যন্ত প্রসারিত।‘ এ থেকে বুঝা গেল, মোট মানব সভ্যতার সর্বসাকুল্য আয়ু মাত্র সাত হাজার বছর, তারপরই কেয়ামত হয়ে যাবে। (পৃ-৪৮ দ্রষ্টব্য)।

কিয়েক্টাবস্থা! কেয়ামতের আর কতদিন বাকি মির্যা সাহেব নির্দিষ্ট করে তাও বলে দিলেন!! অথচ….!

[২] সহীহ বুখারীর হাদীসে আছে, কেয়ামতের দিন সমস্ত মানুষ শাফায়াতের প্রথম পর্বে সর্বপ্রথম আদম (আ.)-এর নিকট যাবেন (فَيَأْتُونَ آدَمَ فَيَقُولُونَ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ)। হাদীসে এসেছে, সমস্ত মানুষ আদমের নিকট উপস্থিত হয়ে বলবেন, আপনি আমাদের জন্য শাফায়াত করুন আপনার রবের নিকট। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ৭৫১০)। এখন এই “আদম” নামীয় মানুষটি একই সঙ্গে নবী আর আদি পিতা, দুটোই ছিলেন না কিভাবে? আদি পিতা হলে, তাঁর আগেও আরও কিছু মানুষ কিভাবে থাকতে পারে? এরপর দেখুন, বুখারীর হাদীসও বলছে যে, আদমই আদি পিতা!

[৩] রাসূল (সা.) মেরাজে যখন যান তখন প্রথম আসমানে আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-এর সাথে নবীজীর দেখা হলে জিবরাঈল (আ.) পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় বলেছিলেন هَذَا أَبُوكَ آدَمُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ অর্থাৎ ইনি আপনার পিতা আদম, আপনি তাঁর প্রতি সালাম পেশ করুন। (সহীহ বুখারী, ইসরা ও মেরাজের অধ্যায়)। আদম (আ.) সম্পর্কে জিবরাঈল নবীজীকে বলছেন, ‘হাযা আবূকা আদাম, ফাসাল্লিম আ’লাইহি’ (ইনি আপনার পিতা আদম…)। এখন আদম (আ.) নবী হওয়া, সে সাথে আদি পিতাও হওয়া; দুটোই প্রমাণিত হল কিনা?

এরপরেও কাদিয়ানী মতবাদ অনুসারে, হযরত আদম (আ.)-এর পূর্বেও মানুষ ছিল, একথা গ্রহণযোগ্য হয় কিভাবে?

আসলে কাদিয়ানীরা এইরকম অসংখ্য ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহার সর্বসম্মত আকীদা বিশ্বাসের বিপরীতে অবস্থান করার কারণেই ইসলামের গণ্ডি থেকে সম্পূর্ণ বাহিরে!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

শীয়া খোমেনীবাদ ৩

খোমেনীবাদ : ৩

ইরানী শীয়া মতবাদের পথিকৃৎ মহানায়ক ও শীয়া মতবাদের মুজাদ্দিদ দাবীদার আয়াতুল্লাহ খোমেনী (১৯০২-১৯৮৯) লিখেছেন,

یہاں تک کہ حضرت ختمی مرتبت ﷺ جو بشریت کی اصلاح، نظام عدل کے قیام اور تربیت بشر کیلئے آۓ تھے بھی اپنے زمانے میں اس مقصد میں مکمل طور پر کامیابی نہ پاسکے۔ جو شخص مکمل طور پر اس مقصد میں کامیاب ہوگا اور پوری دنیا میں عدل قائم کرے گا وہ صرف حضرت حجت ہیں ۔

অর্থ, এমন কি খাতামুল আম্বিয়া হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি মানব জাতির সংশোধন, ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত নিযাম (রাষ্ট্র) প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং মানব জাতীর যথাযথ তারবিয়াত (শিক্ষা-দীক্ষা প্রদান)-এর জন্য আগমন করেছিলেন, তিনি তাঁর যুগে এই সকল দায়িত্ব ও উদ্দেশ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে কামিয়াব (সফল) হতে পারেননি। যে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে তাঁর মাকছাদে (উদ্দেশ্যে) সফল হবেন এবং সমগ্র বিশ্বে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন, তিনি হলেন হযরতে হুজ্জাত (তথা শীয়াদের বারোতম ইমাম, মুহাম্মদ ইবনু হাসান আল আসগরী, উপাধী ইমাম মাহদী; যিনি তাদের বর্তমান বিশ্বাস অনুসারে লোকান্তরিত আছেন, শেষ যুগে ফিরে আসবেন-লিখক)।

তথ্যসূত্র – امامت اور انسان کامل (অর্থাৎ ইমামাত আওর ইনছানে কামেল)। লেখক, শীয়া ইমাম রূহুল্লাহ খোমেনী, পৃষ্ঠা নং ২৭৮। প্রকাশনায়, ইদারায়ে তালীম ওয়া তারবিয়াত, লাহোর। সংযুক্ত স্ক্যানকপি নিচে দেখুন,

শেষকথা,

শীয়াদের এই কথিত মুজাদ্দিদ নবীকূল শিরোমনি হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে এসব কী লিখল! হায় হায়!! নবীজী (সা.) নাকি স্বীয় উদ্দেশ্যকে সফল করতে পারেননি! তিনি নাকি তাঁর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি!! তিনি তাঁর মিশনে আংশিক সফল ও আংশিক ব্যর্থ বা বিফল! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়ে ছিলেন, তিনি তা যথাযথভাবে পালন করতে পারেন নি! আর সে দায়িত্ব নাকি শেষ যুগে এসে তাঁদের লোকান্তরিত কথিত ১২তম ইমাম সম্পূর্ণ করবেন!

উল্লেখ্য, আহলে সুন্নাহ’র আকীদা মোটেও শীয়াদের মত নয়। বরং আহলে সুন্নাহর অনুসারীরা অসংখ্য সহীহ হাদীসের আলোকে বিশ্বাস করেন যে, প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী কোনো গর্তে লুকায়িত নন। বরং তিনি যথাসময়ে (মদীনায়) মায়ের গর্ভে জন্ম নিবেন, আত্মপ্রকাশ হবেন মক্কায় এবং সমগ্র বিশ্বের বুকে অত্যন্ত প্রতাপের সাথে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। আর সে সময় ঈসা (আ.)-কে আল্লাহ আকাশ থেকে ফেরেশতার মাধ্যমে পৃথিবীতে নাযিল করবেন।

যাইহোক, বলতে ছিলাম, শীয়াদের কত জঘন্য আকিদা হলে, নবীজীর মিশনকে ব্যর্থ ও নিষ্ফল বলেও আখ্যা দিতে পারে! না না, এমন আকিদা কোনো মুসলমানের হতে পারে?এমন কথা তো কোনো কাফেরের কিতাবেও নেই! তাহলে এ কেমন শীয়াদের মুজাদ্দিদ? এরা কেমন ইমাম? শীয়াদের সবাই কি ইমোশনাল? তাদের সুস্থ্যজ্ঞানবোধ কি নেই? ইসলামের আদিম ও সহজ সরল পথে তথা আহলে সুন্নাহর পথ ও শিক্ষায় শীয়াদের এখনি ফিরে আসা উচিত। নইলে তাদের এ সব নবী বিদ্বেষী মতাদর্শ তাদেরকে নিঃসন্দেহে জাহান্নামে পৌঁছে দেবে।

অপ্রিয় হলেও সত্য, এই শীয়ারাই মূলত আল্লাহর শানে বেয়াদবি করে, আল্লাহর ফেরেস্তার শানে গোস্তাখি করে, আল্লাহর নবীগণের শানে তো তাদের গোস্তাখি করার অসংখ্য প্রমাণ বিদ্যমান। এরা আহলে বাইয়েতের শানেও প্রচুর গোস্তাখি করার প্রমাণ রয়েছে।

জেনে অবাক হলেও সত্য এটাই যে, এই শীয়াদের পূর্বপুরুষরা আব্দুল্লাহ ইবনু সাবা নামক ইহুদীর সৃষ্টি। এরা মূলত তারই ‘সাবাঈ’ ধর্মের অনুসারী। তাঁদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য আহলে বাইয়েতের মহব্বতের নামে নাটক করে থাকে। ইনশাআল্লাহ, আমি মহররমের সিরিজ যখন লিখব তখনই তাঁদের কিতাব থেকেই দেখিয়ে দেব যে, হযরত হুসাইন (রা.)-কে এই রাফেজি সাবাঈ-শীয়ারাই শহীদ করেছিল। মূলত এরা নিজেরাই আহলে বাইয়েতের প্রকৃত খুনী। আসল কথা হল, এঁদের জন্মই হয়েছিল ইসলাম আর মুসলিম উম্মাহার ক্ষতি করার জন্য।

এরা বর্তমানে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাকে বিকৃত করার মিশন নিয়ে নেমেছে। এরা পবিত্র কুরআনকে বিকৃত গ্রন্থ বলে প্রমাণ করতে নানা জাল ও অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা আর বিকৃত ইতিহাসেরও আশ্রয় নিয়ে থাকে। ফলে খ্রিস্টান আর নাস্তিকদের জন্য এদেরই সে সমস্ত বানোয়াট আর্গুমেন্ট দ্বারাই অনেক সহজ হয়ে যায় ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। এভাবেই শীয়ারা ইসলামের শিকড় কেটে দেয়ার ভয়াবহ মিশনে কাজ করছে। কিন্তু সাধারণ মুসলমান আর অনেক জ্ঞানীও শীয়াদের অপতৎপরতা সম্পর্কে আজও বেখবর! (প্রামাণ্য স্ক্রিনশট)।

লিখক, তায়েফ হাসান খান
শীয়া মতবাদের উপর স্পেশালিষ্ট ও গবেষক।

সম্পাদনায়, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

ঈদে গাদীরে খুম উদযাপনের অজানা রহস্য

কথিত ‘ঈদে গাদীরে খুম’ উদযাপনের অন্তর্নিহিত রহস্য

১৮ই জিলহজ্জ শীয়াদের কথিত ‘ঈদে গাদীরে খুম‘ হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের উপর খুশি প্রকাশের উদ্দেশ্যেও পালিত হয় কিনা?

শীয়া ইসনা আশারীয়া সম্প্রদায়ের বিখ্যাত ধর্মীয়গ্রন্থ ও বাকের মজলিসির ‘বিহারুল আনওয়ার’-এর ৯৮ নং খণ্ডের ১৯৫ নং পাতায় লিখা আছে যে, “….উসমান ইবনু আফফান ৩৫ হিজরীর ১৮ই জিলহজ্জ রোজ শুক্রবার হত্যা হন যিনি উমাইয়া বংশের প্রথম খলীফা ছিলেন!” লিখকের দীর্ঘ লিখনীর শব্দচয়ন দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায় যে, তাদের কথিত ‘ঈদে গাদীরে খুম’ (عيد غدير خم) এর দিবসটি নাকি বহু কারণে বরকতপূর্ণ ও খুশি উদযাপনযোগ্য। আর তন্মধ্যে এই দিবসে উসমান (রা.) এর নির্মম শাহাদাত বরণ অন্যতম। এতেই পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় যে, তাঁর শাহাদাত বরণের উপর আনন্দ প্রকাশ করার জন্যও ‘ঈদে গাদীরে খুম’ যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়ে থাকে।” নাউযুবিল্লাহ। ইসলাম এবং মুসলিম বিশ্বের জন্য এর চেয়ে বড় কষ্টের আর বড় বেদনার আর কী হতে পারে?? (স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য)।

আহ! এই শীয়ারা (রাফেজিরা) কতটা অমানবিক, কত জঘন্য অভিশপ্ত!! কল্পনা করুন তো একবার! মাজলুম খলীফা, বৃদ্ধ উসমান! প্রিয় নবী রাসূলে আরাবী (সা.)-এর দুই কলিজার টুকরো (যাদের একজন মৃত্যুবরণ করলে পরবর্তীতে আরেকজনকে বিবাহ করেন উসমান) যায়নাব আর রুকাইয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রিয়তম স্বামী, নবীজীর পবিত্র জবাবে ‘যিন্নুরাইন’ খ্যাতিলাভকারী উসমানের শাহাদাতের উপর খুশি প্রকাশ! আহ! ইসলামের তৃতীয় খলীফার মর্মন্তুদ শাহাদাতের উপর খুশি উদযাপন!! শতাব্দীর কি নিকৃষ্ট ধৃষ্টতা! আহ উসমান! আহ!! রোজা অবস্থায়, পিপাসার্ত অবস্থায়, ইরাকি বিচ্ছিন্নতাবাদী সাবাঈ-সন্ত্রাসীচক্র কুপিয়ে হত্যা করেছিল যাঁকে। সেই হত্যার দিন ১৮ই জিলহজ্জ দিবসে ঈদে গাদীরে খুম পালন! ঈদ তথা আনন্দ উদযাপন!! কতোটা অভিশপ্ত আর পাষাণ এরা। এঁদের সাথে যাঁরা মহব্বত পোষণ করে, এরাও কি অভিশপ্ত নয়? এঁদের সাথে প্রকৃত ইসলাম প্রিয় কোনো মুসলমানের সুসম্পর্ক থাকতে পারে কি?

লিখক, তায়েফ হাসান খান (শীয়া মতবাদের মুখোশ উন্মোচনকারী প্রখ্যাত স্কলার ও গবেষক)।

সম্পাদনায়, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ

নবীগণ তাদের কবরে জীবিত

নবীগণের অন্যতম একটি সম্মান ও বৈশিষ্ট্য!

নবীগণ তাদের কবরসমূহে জীবিত, সুবহানাল্লাহ!! নবীগণের মুজিজা বা অন্যতম একটি ঐশী মর্যাদা।

হাদীসের তাহকীক ও তাখরীজ : قال أبو يعلى: حدثنا أبو الجهم الأزرق بن علي حدثنا يحيى بن أبي بكير حدثنا المستلم بن سعيد عن الحجاج عن ثابت البناني: عن أنس بن مالك: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون). অর্থ, আবু ই’য়ালা মওছূলি বলেন আমাকে আবুল জিহাম আল আযরাক ইবনু আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে ইয়াহইয়া ইবনু আবী বুকাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে মুস্তালিম ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি হাজ্জাজ থেকে আর তিনি সাবেত আল বুনানি থেকে, তিনি হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে। (সনদ সমাপ্ত)। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, (উচ্চারণ) আল আম্বিয়া আহইয়াউন ফী কুবূরিহিম ইউসাল্লূনা। অর্থাৎ, নবীগণ নিজেদের কবরগুলোতে জীবিত, তারা সালাত পড়েন। (মুসনাদু আবী ই’য়ালা [مسند أبي يعلى الموصلي], হাদীস ক্রমিক নং ৩৪২৫, হাদীসের মান : সহীহ)। এবার হাদীসটির তাহকীক দেখুন,

তাহকীক, ইমাম বায়হাক্বী (রহ.) হাদীসটি আবু ই’য়ালা (أبي يعلى الموصلي) এর সূত্রেই স্বীয় কিতাব حياة الأنبياء في قبورهم এর ২৩ নং পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। ইমাম নূরুদ্দীন আল হাইছামী (রহ.) ‘মাজমাউয যাওয়ায়েদ’ কিতাবে (খ-৮ পৃ-২১১) হাদীসটির রাবীগণ সম্পর্কে লিখেছেন رواه أبو يعلى والبزار ورجال أبو يعلى ثقات অর্থাৎ এটি আবু ই’য়ালা আল মওছূলি এবং ইমাম বাজ্জার উভয়ই তাদের মুসনাদে বর্ণনা করেছেন আর আবু ই’য়ালা এর বর্ণনার সমস্ত রাবী সিকাহ তথা বিশ্বস্ত। শায়খ আলবানী (রহ.) ‘আস সিলসিলাতুস সহীহা’ (السلسلة الصحيحة) কিতাবেও এটি উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, এর সনদ সহীহ

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩৬

কোথাও লিখলেন, পাখির উড্ডয়ন কুরআন দ্বারা প্রমাণিত নয়, আরেক জায়গায় লিখল, কুরআন দ্বারা প্রমাণিত…!!

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে (তিনি লিখেছেন),

اور یہ بھی یاد رکھنا چاہئے کہ ان پرندوں کا پرواز کرنا قرآن شریف سے ہر گز ثابت نہیں ہوتا بلکہ ان کا ہلنا اور جنبش کرنا بھی بپایہ ثبوت نہیں پہنچتا اور نہ درحقیقت ان کا زندہ ہوجانا ثابت ہوتا ہے

অর্থাৎ আর এটাও মনে রাখতে হবে যে, এই পাখিদের উড়ে যাওয়া পবিত্র কুরআন দ্বারা প্রমাণিত নয়, এমনকি তাদের ঝাঁকুনি ও নড়াচড়া করাও প্রমাণিত নয় আর প্রকৃতপক্ষে এটাও প্রমাণিত নয় যে, তারা জীবিত। (রূহানী খাযায়েন ৩/২৫৬-৫৭, টিকা দ্রষ্টব্য)।

স্ববিরোধ কথা :

মির্যা সাহেব লিখেছেন

, اور حضرت مسیح کی چڑیاں با وجودیکہ معجزہ کے طور پر ان کا پرواز قرآن کریم سے ثابت ہے مگر پھر بھی مٹی کے مٹی ہی تھے

অর্থাৎ, আর হযরত মসীহ (আ.)-এর পাখিরা যদিও তাদের উড্ডয়ন একটি অলৌকিক ঘটনা যা পবিত্র কুরআন দ্বারাই প্রমাণিত, তবুও তারা মৃত্তিকাই (মাটিই) ছিল। খোদাতালা কোথাও বলেননি যে, এরা জীবিতই হয়ে গিয়েছিলো! (আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম, রূহানী খাযায়েন ৫/৬৮)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি :-

শেষকথা হল, এমতাবস্থায় মির্যা সাহেব কি সীমাহীন মিথ্যা আর অসঙ্গতির জন্ম দিয়ে গেলেন না? এখন তাহলে মির্যা সাহেবকে তারই কথা অনুসারে আমি যদি একজন নাম্বার ওয়ান ‘কাজ্জাব-মিথ্যাবাদী‘ আখ্যা দিই তবে কি অন্যায় হবে? যেহেতু তিনি খোদ লিখেছেন, “মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে।” (রূহানী খাযায়েন ২১/২৭৫)। আপনার নিরপেক্ষ বিবেকের কাছে প্রশ্নগুলো রেখে দিলাম।

মির্যা স্ববিরোধীতা-৩৭

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক