Home Blog Page 18

চার চার বার নাবীউল্লাহ ও মির্যায়ী ভেল্কিবাজি

মির্যায়ী ভেল্কিবাজরা নিকৃষ্ট এক সিলেক্টিভ চিজ!

মুসলিম শরীফের ৭০৭৮ নং হাদীসে [ইফা] ‘চার চার বার ঈসা নাবীউল্লাহ’ উল্লেখ থাকা নিয়ে কাদিয়ানীদের ভেল্কিবাজির মুখোশ উন্মোচন :

(একই হাদীসে উল্লিখিত অপরাপর ১০টি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি)

১. দাজ্জাল যুবক এবং কোঁকড়া চুল বিশিষ্ট হবে।

২. দাজ্জাল পৃথিবীতে চল্লিশ দিন পর্যন্ত থাকবে। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো সাধারণ দিনগুলোর মতই হবে।

৩.দাজ্জাল এক সম্প্রদায়ের নিকট এসে তাদেরকে কুফুরীর দিকে আহবান করবে। তারা তার উপর ঈমান আনয়ন করবে এবং তার ডাকে সাড়া দিবে। অতঃপর সে আকাশকে হুকুম করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিবে, ভূমি গাছ-পালা ও শষ্য উদগত করবে।

৪. দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তীরের লক্ষ্যস্থলের ন্যায় দু’ফাঁক করে ফেলবে। অতঃপর সে পুনরায় তাকে ডাকবে। যুবক দীপ্তমান হাস্যোজ্জল চেহারায় তার দিকে এগিয়ে আসবে।

৫. এ সময় আল্লাহতালা মরিয়মের পুত্র ঈসা (আ.)-কে প্রেরণ করবেন। তিনি দুই হাত দুই ফিরিশতার ডানায় রেখে দুইটি হলুদ বর্ণের চাদর পরিধান করে দামেস্ক নগরীর পূর্ব প্রান্তে শ্বেত মিনারের নিকটে অবতরণ করবেন।

৬. তিনি (ঈসা) দাজ্জালকে তালাশ করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে (ফিলিস্তিনের) ‘লূদ’ নামক পটকের কাছে পেয়ে যাবেন এবং তাকে (বর্শার আঘাতে) হত্যা করবেন।

৭. আল্লাহতালা ঈসা (আ.)- এর প্রতি এ মর্মে ওহী (অন্তরে প্রক্ষেপণ) করবেন যে, আমি আমার এমন কিছু বিশেষ বান্দা আবির্ভূত করছি, যাদের সাথে কারোরই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। সুতরাং তুমি আমার বান্দাদের তূর পর্বতে সমবেত কর। তখন আল্লাহতালা ইয়াজুয-মাজুজ সম্প্রদায়কে প্রেরণ করবেন। তারা প্রতিটি উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে।

৮. তারা আল্লাহ’র নবী ঈসা (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীদেরকে অবরোধ করে রাখবে। ফলে তাদের নিকট (সে সময়কার) একটি বলদ (বা গরু)’র মাথা বর্তমানে তোমাদের (সাহাবীদের যুগেকার অবস্থার দিকে ইংগিত) নিকট একশ দিনারের মূল্যের চেয়েও অধিক উৎকৃষ্ট প্রতিপন্ন হবে।

৯. তখন আল্লাহ’র নবী ঈসা (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। ফলে আল্লাহতালা ইয়াজুয-মাজুজ সম্প্রদায়ের প্রতি আযাব প্রেরণ করবেন।

১০. অতঃপর ঈসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় হতে যমীনে নেমে আসবেন। কিন্তু তারা অর্ধ হাত জায়গাও এমন পাবেন না যেথায় তাদের পঁচা লাশ ও লাশের দুর্গন্ধ নেই। অতঃপর ঈসা (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীগণ পুনরায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন।

এখন প্রশ্ন হল, হাদীসটির ‘নাবিউল্লাহ‘ শব্দটি হতে কাদিয়ানীদের মতে “রূপক” ঈসা উদ্দেশ্য হলে আর সেই কনসেপ্ট থেকেই মির্যা কাদিয়ানীর “নবী” দাবী বৈধ হলে তখন একই হাদীসের উল্লিখিত অপরাপর ১০টি পয়েন্টের কী ব্যাখ্যা? আহা! এরা কতটা জঘন্য সিলেক্টিভ জাতি তা তাদের ব্রেইন ওয়াশরা যদি বুঝত!

(‘ঈসা নাবিউল্লাহ’ চার চার বার মুসলিম শরীফের যে হাদীসটিতে এসেছে সেটির সম্পূর্ণ আরবী ইবারত অর্থসহ এখান থেকে পড়ুন, তবেই কাদিয়ানীদের দু নম্বারি ও প্রতারণা হাতেনাতে ধরতে পারবেন Click)।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

ইহুদী-নাসারাগণ তাদের নবীগণের কবরসমূহ সেজদার স্থলে পরিণত করা

কাদিয়ানীদের প্রশ্নের উত্তর :

ইহুদ-নাসারাগণ তাদের নবীগণের কবর-সমূহকে সেজদার স্থলে পরিণত করা…. প্রসঙ্গে (এপিসোড-২)

আহমদী-কাদিয়ানীবন্ধুদের প্রায় দেখা যায় যে, উক্ত হাদীসটির একতরফা বাহ্যিক অর্থে হযরত ঈসা (আ.)-কেও অন্তর্ভুক্ত করে মৃত বলিয়া সাব্যস্ত করার চেষ্টা করে। আমি এর যথাযোগ্য ইলমি জবাব অন্যখানে দিয়েছি (এপিসোড-১)। এখানে শুধু এটুকু বলব যে, নির্বোধ কাদিয়ানীরা একথা বুঝতে পারেনা যে, ইহুদীদের নবীগণ খ্রিস্টানদেরও নবী হিসেবে গণ্য হয়ে থাকেন। মির্যা কাদিয়ানী ‘দাফেউল বালা’ (বাংলা অনূদিত, টীকা দ্রষ্টব্য) বইতে সুস্পষ্টত লিখে গেছেন,

হযরত ঈসা (আ:) হযরত মূসা (আ:)-এরই শরীয়তের অধীনে ছিলেন।

অতএব, অন্তত তার এই বক্তব্যই বলে দিচ্ছে হাদীসের ঐ কথার একমাত্র এই অর্থ ছাড়া আর কোনো অর্থ নাই যে, বনী ইসরাইলের কবর-পূজার মত অপবিত্র ও গর্হিত কাজটি যেসমস্ত নবীর শানে ঘটেছিল তাঁরা সকলেই ইহুদীদের জন্যই প্রেরিত ও ঈসা (আ:)-এর আগমনপূর্ব সময়কার ছিলেন। সহীহ মুসলিম শরীফে হযরত জুনদুব (রা.) হতে বর্ণিত,

كانوا يتخذون قبور أنبيائهم و صالحيهم مساجد

অর্থ—’ইহুদ-নাসারাগণ তাদের নবীগণ আর নেককার (পূর্বপুরুষ) গণের কবর-সমূহকে সেজদার স্থলে পরিণত করেছিল‘ মর্মে হাদীসটিও আমাদের ডেকে ডেকে বলছে যে, قبور انبيائهم (নবীগণের কবর-সমূহ) হতে শুধুমাত্র ইহুদীদের জন্যই প্রেরিত ও ঈসা (আ:)-এর আগমনপূর্ব সময়কার “নবীগণের কবর-সমূহ” বুঝানো উদ্দেশ্য।

সুতরাং একদম স্পষ্ট হয়ে গেল যে,

قبور انبيائهم مساجد হাদীসটির “কবর-সমূহ” অর্থে হযরত ঈসা (আ.)-এর কবরকে শামিল করবেনা। শেষকথা হল, রাসূল (সা.)-এর অসংখ্য হাদীস বলছে, তিনি (আ.) শেষ যুগে আকাশ থেকে যথাসময়ে নাযিল হবেন। তারপর তিনি যথাসময় মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবেন। আশাকরি আর কোনো সংশয় রইলো না।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যা কাদিয়ানীর মিথ্যা-৮

বাইবেলের নামেও এ কি জঘন্য মিথ্যাচার! তাহলে এমন ব্যক্তি আপনা দাবীসমূহ ক্ষেত্রে সত্য হন কিভাবে? সে তো প্রতারণাও দিতে পারে?

মির্যা কাদিয়ানীকে “ইমাম মাহদী” সাব্যস্ত করার আগে সে শুধুই একজন “সত্যবাদী” ছিল প্রমাণ করুন!

বাইবেলের নামে মির্যা কাদিয়ানীর কত জঘন্য মিথ্যাচার দেখুন,

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব লিখেছেন, “ইঞ্জিলে হযরত মসীহ’র আগমন সম্পর্কে দু’ধরণের ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে। (এক) শেষ যুগে তাঁর আগমনের যে ওয়াদা তা হচ্ছে রূহানীভাবে আগমনের ওয়াদা।” (দেখুন, মসীহ হিন্দুস্তান মে, বাংলা ৩৬; পুনর্মুদ্রণ মার্চ, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ)।

কিন্তু আমি বাইবেল পড়তে গিয়ে দেখলাম সেখানে একটি শ্লোকে লিখা আছে, “যীশু যখন জৈতুন পর্বতমালার ওপর বসেছিলেন, তখন তাঁর শিষ্যরা একান্তে তাঁর কাছে এসে তাঁকে বললেন, ‘আমাদের বলুন, কখন এসব ঘটবে, আর আপনার আসার এবং এ যুগের শেষ পরিণতির সময় জানার চিহ্নই বা কী হবে?’ এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘দেখো! কেউ যেন তোমাদের না ঠকায়৷ আমি তোমাদের একথা বলছি কারণ অনেকে আমার নামে আসবে আর তারা বলবে, ‘আমি খ্রীষ্ট৷’ আর তারা অনেক লোককে ঠকাবে৷” (বাইবেল, মথি ২৪:৩-৫)।

বাইবেলের আরেকটি শ্লোকে লিখা আছে, “সেই দুই ব্যক্তি প্রেরিতদের বললেন, ‘হে গালীলের লোকেরা, তোমরা আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছ কেন? এই যে যীশু, যাকে তোমাদের সামনে থেকে স্বর্গে তুলে নেওয়া হল, তাঁকে যেভাবে তোমরা স্বর্গে যেতে দেখলে, ঠিক সেই ভাবেই তিনি ফিরে আসবেন৷” (বাইবেল, শিষ্যচরিত/প্রেরিত অধ্যায়-১/শ্লোক ১০-১১)।

এখন প্রশ্ন হল, বাইবেলের নামেও এত ডাহা মিথ্যা রটনাকারী অন্তত আল্লাহ’র নির্বাচিত একজন “প্রেরিত পুরুষ” হন কিভাবে?

শেষকথা, আসলে আহমদী-কাদিয়ানীবন্ধুরা সহজ ও সঠিক পদ্ধতিতে মির্যা কাদিয়ানী সাহেবকে আবিষ্কার করতে চায় না। ফলে তারা ‘মাহদী-মসীহ’ টার্ম নিয়ে খামখা সময় পার করে থাকেন। অথচ যে মানুষটি “সত্যবাদী” এর মানদণ্ডেও উত্তীর্ণ হতে পারেন না সেই মানুষটিকে তারা আল্লাহর প্রেরিত মহা পুরুষ বানিয়ে ফেলছে! ও কলিজার ভাইয়েরা! নিজেদের উপর একটুখানি দয়া করুন! নিরপেক্ষ বিবেক দিয়ে কথাগুলো ভাবুন!

মনে করুন, মির্যা কাদিয়ানী সাহেব স্বভাবতই একজন মিথ্যুক, এমতাবস্থায় তার আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত দাবী /ইমাম মাহদী দাবী/ইসলামের গত শতশত বছর পূর্বেকার শিক্ষার বিপরীতে যেসব নতুন শিক্ষা দিয়ে গেলেন ইত্যাদি আপনি কোন বিশ্বস্ততার ভিত্তিতে সত্য বলে গ্রহণ করবেন! আপনাকে তো ঠকানোও হতে পারে! নাকি তার মিথ্যাকেও রূপক আখ্যা দেবেন! এইজন্যই আমি/আমার মত যারা আছেন তাদের কথা একটাই, আগে মির্যা কাদিয়ানীর সত্যবাদিতা সাব্যস্ত করা হোক, তার পরেই তার বিভিন্ন ব্যাখ্যা দাবী এবং শিক্ষা-দীক্ষা সংক্রান্ত পর্যালোচনায় যাওয়া হবে।

লিখক, প্রিন্সিপাল মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ

কাদিয়ানী কচিকাঁচা বাচ্ছাদের সাথেও প্রতারণা!

কাদিয়ানী ছোট বাচ্ছাদের সাথে ‘ইমাম মাহদী’ সংক্রান্ত বিষয়ে এ কেমন ধোকাবাজি!

হাদীসের নাম ভেঙ্গে কাদিয়ানী জামাতের দায়িত্বশীল নেতারা তাদের অবুঝ কচিকাঁচা বাচ্ছাদের একদম ছোটবেলা থেকেই কিভাবে ভুল শিক্ষা দিচ্ছে দেখুন!

নোট- কাদিয়ানীদের অফিসিয়াল সাময়িকী পাক্ষিক আহমদী, পৃষ্ঠা নং ৪২-৪৩, তাং ৩১ শে মার্চ ১৯৯৭ ইং হতে হুবহু তুলে ধরা হল,

  • আমার ১০ লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ, এখানে উল্লিখিত বিষয়গুলো সত্য সাব্যস্ত করার মত বাংলাদেশের কোনো কেন্দ্রীয় ও পরিচিত কাদিয়ানী নেতা আমার সাথে অনলাইন ডিবেটে বা এই পোস্টে আসার সাহস করতে পারবেনা। আমি প্রমাণ করে দিতে পারব যে, মাত্র এই কয়েকটি পয়েন্টেই তারা অসম্ভব রকমের সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে এবং মারাত্মক পর্যায়ের গোঁজামিল সৃষ্টি করে মানুষকে ধোকা দিয়েছে। যথা-

(১) ইমাম মাহদী দামেস্কের পূর্ব দিকে জন্ম গ্রহণ করবেন (কাঞ্জুল উম্মাল ২য় খণ্ড ২০৩ পৃষ্ঠা)।

(২) হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রসূল করীম (সা.) বলেছেন, এক মহান ব্যক্তি ইমামতের দাবী করবেন। তাঁর প্রকাশ হওয়ার স্থানটি দুটি নদীর মাঝখানে অবস্থিত হবে। (মেশকাত, বাবু আশরাতুস সা’আত – ৪৭১)।

(৩) “মাহদী (আ.) এক পল্লী গ্রাম থেকে দাবী করবেন তার নাম হবে কাদ’আ“। (জাওয়াহেরুল আসরার, বেহারুল আনওয়ার)। উল্লেখ্য, রেফারেন্সকৃত এই দুটি গ্রন্থ হাদীসের কোনো সংকলন নয়। তথাপি আমার চ্যালেঞ্জ রইল, এইরূপ শব্দচয়নে মাহদীর গ্রামের নাম “কাদ’আ” (كدعة) হওয়া মর্মে জাল সূত্রেও উক্ত গ্রন্থদুটিতে কোনো হাদীস উল্লেখ থাকা প্রমাণ করতে পারবেনা। কাজেই এটি তাদের সুস্পষ্ট মিথ্যাচার! (প্রাসঙ্গিক এই লিখাটিও পড়া যেতে পারে- ক্লিক করুন)।

(৪) “যে হাদীসের মধ্যে দেশের নাম হিন্দুস্তান বলা হয়েছিল এর মধ্যে তার নামও বলা হয়েছিল। একদল মাহদীর সাথে জেহাদে অংশগ্রহণ করবে। মাহদীর নাম হবে আহমদ।” (রেফারেন্স নেই)। উল্লেখ্য, এই বর্ণনার কোনো সনদ বা সূত্র নেই। আমার বুঝে আসেনা, এমন ভিত্তিহীন আর কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুও তাদের নিকট অথেনটিক হতে পারে কিভাবে!

(৫) [ইমাম মাহদীর ছবিও আঁকা হয়েছিল, তবে ভাষা দ্বারা] মধ্য আকৃতির হবেন, লাল সাদা মিশানো রং-এর হবেন। চুল সরল হবে। মাহদী দেখতে খুবই সুশ্রী হবেন। (আবুদাউদ, কিতাবুল মালাহিম পৃ- ৫১৪)।

(৬) ‘তাঁর পেশা জমিদারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।’ (রেফারেন্স নেই)।

(৭) হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন মাহদীর আবির্ভাব হবেন তখন তাকে আমার সালাম দিবে এবং তাকে মেনে নিবে। তার বয়াত করবে। তাকে তালাশ করে তার কাছে পৌঁছতে যদি তোমাদের বরফের পাহাড়ও ডিঙ্গাতে হয় তাহলেও তাই করবে।” (রেফারেন্স নেই)।

উল্লেখ্য, উপরে বর্ণনাটির প্রথম ১ ও ২ নং সংক্রান্ত বক্তব্য শুধুই হযরত ঈসা (আ.)-এর সাথে সম্পর্কিত। তবে কিন্তু ৩ নং সংক্রান্ত কোনো কথারই ঈসা (আ.) সংক্রান্ত হাদীসের কোনো সংকলনে পাওয়া যায় না। তথাপি মিথ্যাবাদীর দল কতই না চটকদার ভঙ্গিতে সেটিকে গুলিয়ে ফেলেছে ইমাম মাহদীর সাথে! আহা! এই মিথ্যুকের দলও নাকি ইলাহি জামাত!!

  • কাদিয়ানীদের মারাত্মক একটি জালিয়াতি ও বিকৃত কনসেপ্ট : ‘যিনি ঈসা তিনিই মাহদী‘-এর খণ্ডনমূলক জবাব পড়ুন এখান থেকে, ক্লিক করুন।

শেষকথা, ভাবতেও গা শিহরে উঠে! অপরিণত বয়সের কচিকাঁচা বাচ্ছাদের সাথে এত জঘন্য প্রতারণা!! এরা যখন প্রাপ্ত বয়সে পৌঁছবে এবং হাদীসের কিতাবগুলোর মূল পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করবে; তখন কী হবে! ইসলামের মৌলিক শিক্ষার বাহিরে এদেরকে এভাবে আরো যেসব ভ্রান্ত কনসেপ্ট খাওয়ানো হল, পরিণত বয়সে ঐ প্রতারকের দল তাদেরকে তখন কী জবাব দেবে? আল্লাহ তুমি এই প্রতারকদের থেকে আমাদের সহজ সরল মুসলমানদের ঈমান রক্ষা কর। পাক্ষিক আহমদী মার্চ ১৯৯৭ইং এর প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৪০

কুরআনের ‘ইবনে মরিয়ম’ (মরিয়মপুত্র) হতে মির্যা কাদিয়ানী উদ্দেশ্য, তাহলে কি কুরআন দ্বারা ইবনে মরিয়মের মৃত্যু প্রমাণিত হওয়ার অর্থ খোদ মির্যা কাদিয়ানীরই মৃত্যু হয়ে যাওয়া? জ্ঞানীদের নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলবে!

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে (তিনি লিখেছেন),

پہلے قرآن شریف پر نظر غور ڈالو اور ذرا آنکھ کھول کر دیکھو کہ کیوں کر وہ صاف اور بین طور پر عیسی بن مریم کے مر جانے کی خبر دے رہا ہے جس کی ہم کوئی بھی تاویل نہیں کر سکتے۔

অর্থাৎ প্রথমে কুরআন শরীফের ভেতর গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ কর আর চোখ মেলে দেখ যে, এটি কেমন পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট করে সংবাদ দিচ্ছে যে, ঈসা ইবনে মরিয়ম মৃত্যুবরণ করেছেন।‘ (ইযালায়ে আওহাম, রূহানী খাযায়েন ৩/২২৪)।

স্ববিরোধ কথা :

মির্যা কাদিয়ানীর আরেক রচনায় লিখা আছে, তিনি লিখেছেন, ‘যদি কুরআন আমার নাম ‘ইবনে মরিয়ম’ না রাখে তাহলে আমি মিথ্যুক সাব্যস্ত হব।’ (তুহফাতুন নদওয়াহ, রূহানী খাযায়েন ১৯/৯৮)।

এখান প্রশ্ন দাঁড়ায়, পবিত্র কুরআনে “ইবনে মরিয়ম” তথা মরিয়ম (আ.)-এর পুত্র বলতে কয়জনের জীবনবৃত্তান্ত উল্লেখ রয়েছে? ইসলামের গত চৌদ্দশত বছর থেকে ক্রমাগত চলে আসা মূলধারার শিক্ষার আলোকে আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, কাদিয়ানীরা কখনো পবিত্র কুরআন থেকে নবীজী (সা.)-এর সীরাত এবং সাহাবায়ে কেরামের তাফসীর দ্বারা প্রমাণ করতে পারবেনা যে, সেখানে দুইজন ‘ইবনে মরিয়ম’-এর আলোচনা রয়েছে। এমতাবস্থায় কুরআন দ্বারা ‘ইবনে মরিয়ম’ এর মৃত্যু সাব্যস্ত হলে তখন কি স্বয়ং মির্যা কাদিয়ানীরই মৃত্যু সাব্যস্ত হচ্ছেনা? যেহেতু তার দাবীই হল, কুরআনের ইবনে মরিয়ম হতে সে উদ্দেশ্য…! যদি তাই হয়, তাহলে পবিত্র কুরআন হতে কাদিয়ানীরা কিজন্য দাবী করে বলছে যে, ঈসা ইবনে মরিয়মের মৃত্যু পবিত্র কুরআন দ্বারা সাব্যস্ত!? পাঠকের নিরপেক্ষ বিবেকের নিকট প্রশ্নটি রেখে গেলাম।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩৯

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মুজাদ্দিদে আলফে সানী শায়খ আহমদ সারহেন্দী (রহ.)-এর কিতাব ‘মাকতুবাত’-এর মধ্যে আল্লাহর সাথে অধিক বাক্যালাপের অধিকারী যিনি তাকে মুহাদ্দাস আখ্যা দেয়া, আবার ‘নবী’ আখ্যা দেয়া!

মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের বই থেকে (তিনি লিখেছেন), ‘বরং মুজাদ্দিদ আলফে সানী স্বীয় মাকতুবাত-এর দ্বিতীয় খণ্ডে পরিষ্কার লিখেছেন, নবী হওয়া ছাড়াও উম্মতের সাধারণ সদস্যরাও আল্লাহতালার সাথে বাক্য আলাপের সৌভাগ্য পেতে পারে। আর এমন সৌভাগ্যবানদের ‘মুহাদ্দাস’ (আল্লাহ যার সাথে কথপোকথন করেন) বলা হয়।’ (রূহানী খাযায়েন ১/৬৫২, রচনাকাল ১৮৮০ইং)।

স্ববিরোধ কথা :

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব তার বইয়ের অন্যত্রে শায়খ আহমদ সারহেন্দী (রহ.)-এর একই বইয়ের একই উদ্ধৃতিতে লিখেছেন, ‘মুজাদ্দিদ সারহেন্দী (রহ.) নিজ মাকতূবাত-এর মধ্যে লিখেছেন, যদিও বা এই উম্মতের কিছু সদস্য আল্লাহর সাথে কথপোকথন ও আল্লাহর সম্বোধনের অধিকারী এবং কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারা চলতে থাকবে কিন্তু যাকে খুব বেশি এই বৈশিষ্ট্য এবং গায়েবের সংবাদ দান করা হয় তাকে নবী বলা হয়।’ (রূহানী খাযায়েন ২২/৪০৬; রচনাকাল ১৯০৭ ইং)। এখানে প্রশ্ন হল, তাহলে মির্যা গোলাম আহমদ সাহেবের এখানে কোন কথা বা উদ্ধৃতিটি সত্য? প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন। স্ক্রিনশট

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মায়েদা-১১৭ দ্বারা ঈসা (আ.)-কে মৃত সাব্যস্ত করার দলিল ও যুক্তি খণ্ডন

যুক্তি ও দলিল-প্রমাণ খণ্ডন

কাদিয়ানীদের বিশ্বাসমতে, সূরা মায়েদা আয়াত নং ১১৭ অনুযায়ী ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে গেছে!

  • মুসলিম উম্মাহা’র বক্তব্য, সূরা মায়েদা আয়াত নং ১১৭ (فلما توفيتنى) সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীগণও পড়েছেন, বুঝেছেন কিন্তু কেউই বলেননি যে, আয়াতটি ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে গেছে মর্মে দলিল!

উক্ত আয়াত দ্বারা ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে গেছে বলে দাবী করলে তখন কাদিয়ানীদের নিকট নিচের প্রশ্নটির কোনোই জবাব থাকেনা! প্রশ্নটি হল,

মির্যা কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮ইং) লিখেছে, সেন্ট পৌলের মাধ্যমেই ঈসার মৃত্যুর পর খ্রীস্টধর্মে বিকৃতি ঘটেছে (রূহানী খাযায়েন ২০/৩৭৫)। এখন আমার প্রশ্ন হল, ঐ আয়াত ঈসার মৃত্যুর দলিল হলে, তখন তো খ্রীস্টধর্মের বিকৃতি সেন্ট পৌলের মাধ্যমেই ঘটেছে বলে মির্যার উক্ত দাবী (যদিও দাবীটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য) সম্পূর্ণ মিথ্যাই হয়ে যাচ্ছে! কারণ, সেন্ট পৌলের মৃত্যু হয়েছিল ৬৪/৬৫/৬৭ খ্রিস্টাব্দে। আর মির্যার মতে, ঈসা (আ.) মারা যান একশত বিশ বছর বয়সে (অর্থাৎ ১২০ খ্রিস্টাব্দে)। এ হিসেবে সেন্ট পৌল ঈসার মৃত্যুর পরেই খ্রিস্টধর্মের বিকৃতি ঘটায় কেমনে? তবে কি আপনারা ঈসার জীবদ্দশাতেই খ্রিস্টধর্মে বিকৃতি শুরু হয়েছিল বলে বিশ্বাস করেন? নাউযুবিল্লাহ। এখন এর উত্তর “না” হলে, তখন আয়াতটির (মায়েদা ১১৭) لما توفيتنى এর “তাওয়াফফা” (توفى) শব্দের রূপক অর্থ ‘মৃত্যু’ উদ্দেশ্য নেয়া যায় কিভাবে?

উল্লেখ্য, সকল তাফসীরকারক لما توفيتنى এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ করেছেন, لما رفعتنى الى السماء অর্থাৎ (ঈসা কেয়ামতের দিন আল্লাহকে বলবেন) আপনি যখন আমাকে আকাশে উঠিয়ে নিলেন….! (বিশিষ্ট যুগ ইমাম আল্লামা শাওক্বানী রচিত ফাতহুল ক্বাদীর ৭ম খণ্ড দ্রষ্টব্য)।

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর তাওয়াফফা (توفى) বা উঠিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে মালাকুল মউত হযরত আজরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে। যেজন্য তাঁর উক্ত তাওয়াফফা হতে ‘তাওয়াফফা বির রাফা’ (توفى بالرفع) উদ্দেশ্য হবেনা, বরং এ থেকে ‘তাওয়াফফা বিল মউত’ (توفى بالموت)ই উদ্দেশ্য হবে। এ সম্পর্কে পড়তে ক্লিক করুন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মুহাম্মদ (সা.)-কেও তাওয়াফফা করা মানে কি আকাশে উঠিয়ে নেয়া?

কাদিয়ানী মতবাদের ভ্রান্তি ও সংশয় নিরসন

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কেও কি فلما توفيتنى এর কারণে সশরীরে আকাশে উঠিয়ে নিয়া হল বুঝাবে? উত্তর পড়ুন!

কাদিয়ানীর প্রশ্ন : সহীহ বুখারীর একটি হাদীসে মুহাম্মদ (সা.) আর ঈসা (আ.) দু’জনের ক্ষেত্রেই কিন্তু ‘ফা-লাম্মা তাওয়াফ্ফাইতানী’ (فلما توفيتنى) শব্দ উল্লেখ আছে। এখন এর অর্থ ‘আকাশে উঠিয়ে নেয়া’ হলে তবে কি মুহাম্মদ (সা.)-কেও আকাশে উঠিয়ে নেয়া হল?

মুসলিম উম্মাহা’র পক্ষ হতে উত্তর :

(১) ‘তাওয়াফ্ফা’ (توفى) শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘পুরোপুরি নিয়ে নেয়া’ (أخذ الشيئ وافيا) বা ‘পূর্ণকরা’। যেমন حتى يتوفهن الموت অর্থ- তাদেরকে মৃত্যু ‘উঠিয়ে নেয়া’ পর্যন্ত। (সূরা নিসা, আয়াত-১৫)। যদিও বা শব্দটি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ক্বারীনার বিভিন্নতার কারণে বিভিন্ন অর্থ পরিগ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, মির্যা কাদিয়ানীর বইতে توفى (متوفيك) শব্দের ভিন্ন ভিন্ন ৫ ধরণের অর্থ পাওয়া যায়। সেই অর্থগুলো হচ্ছে,

‘পরিপূর্ণ নেয়ামত দান করা’ (রূহানী খাযায়েন ১:৬২০);

‘পরিপূর্ণ পুরষ্কার দেয়া’ (রূহানী খাযায়েন ১:৬৬৪-৬৫);

‘অপমানকর ও অভিশপ্ত মৃত্যু হতে রক্ষাকরা’ (রূহানী খাযায়েন ১২:২৩);

‘জন্মগ্রহণকরা’ (রূহানী খাযায়েন ১৯:৪৯) ইত্যাদী।

মজার ব্যাপার হল, মির্যার সবগুলো রচনাতেই ‘তাওয়াফফা’ (توفى) ক্রিয়াপদের কর্তা আল্লাহ এবং কর্ম যীরূহ (প্রাণী)ই হয়েছে। তা সত্ত্বেও ‘তাওয়াফফা’ শব্দটি ‘মৃত্যু’ অর্থে পরিগৃহীত হয়নি।

আশ্চর্যের কথা হল, মির্যায়ী মুরিদরা মির্যার এ সমস্ত স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপে কোনোই প্রশ্ন তুলেনা! যত তর্ক-বিরোধ আর যুক্তি প্রমাণ সবই যেন হযরত ঈসা (আ.)-কে মেরে ফেলার জন্য! আহ! মির্যায়ী আহ!! কিভাবে সম্ভব এই দ্বৈত নীতি! কারো যাচ্ছেতাই ‘তাওয়াফফা’ অর্থ নিতে কোনো অভিযোগ নেই, কিন্তু ঈসা (আ.)-এর বেলাতে শব্দটিকে জোর করে হলেও মৃত্যু অর্থের জন্যই বরাদ্দ দেয়া! এমন জুলুম আর অসম বন্টন খোদার আর কোনো সৃষ্টির মাঝেও আছে কিনা জানা নেই!

(২) প্রশ্নকর্তা হয়ত জানেই না যে, আজরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে ‘উঠিয়ে নেয়া’ আর জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে ‘উঠিয়ে নেয়া’ এক জিনিস না। রাসূল (সা.)-এর ‘তাওয়াফফা’ (উঠিয়ে নেয়া)-এর ঘটনা মালাকুল মউত হযরত আজরাঈলের মাধ্যমে ঘটেছিল তাই এর অর্থ মৃত্যুর মাধ্যমে শুধু রূহ ‘উঠিয়ে নেয়া’ উদ্দেশ্য!

পক্ষান্তরে ঈসা (আ.)-এর ‘উঠিয়ে নেয়া’র ঘটনা রূহুল কুদস হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে ঘটেছিল। পবিত্র কুরআনেও এর ইংগিত রয়েছে। দেখুন اذ ايدتك بروح القدس (সূরা মায়েদা-১১০)। এর সুস্পষ্ট বিবরণ রয়েছে একাধিক সহীহ হাদীসে।[1] আশাকরি উত্তর পেয়েছেন।

টিকা : [1] ঈসা (আ.)-এর ‘তাওয়াফফা’ (توفى) তথা উঠিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছিল রূহুল কুদস হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে। এর সমর্থনে একাধিক সহীহ হাদীস বিদ্যমান। হাদীস (আরবী),

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في حديث طويل لما أجتمع اليهود على عيسى عليه السلام ليقتلوه وجاء فيه : “… فأوحى الله إلى جبريل أن ارفع إلي عبدي”

অর্থাৎ হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যখন ইহুদীরা ঈসা (আ.)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে সমবেত হলো তখন জিবরাঈল (আ.) তাঁর নিকট আগমন করেন…আল্লাহতালা তাঁকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, তুমি আমার বান্দা (ঈসা)-কে আমার নিকট উঠিয়ে নিয়ে এসো।’ (ইবনে আসাকির সংকলিত তারীখে দামেস্ক ৪৭/৪৭২; খতিব বাগদাদির তারীখে বাগদাদ ১১/৩৭৯)।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি :-

ইবনে আসাকির রহ. সংকলিত হাদীসের সনদ :

أخبرنا أبو الحسن بن قبيس وأبو منصور بن خيرون أنبأنا أبو بكر الخطيب أخبرني الحسن بن محمد الخلال حدثنا أبو حصين ضياء بن محمد الكوفي بها حدثنا الحسين بن مرزوق حدثنا علي بن الحسن بن محمد بن سعيد بن عثمان العكبري حدثنا إبراهيم بن عبد الله الطرسوسي حدثني بلال خادم أنس بن مالك عن أنس بن مالك

(সনদ/ধারাবাহিক বর্ণনাসূত্র) : ইমাম ইবনে আসাকির, আবুল হাসান ইবনু কুবাইস, আবুবকর খতিব, হাসান ইবনু মুহাম্মদ আল খিলাল, আবু হোছাইন জিয়া ইবনু মুহাম্মদ আল কুফী, হোসাইন ইবনে মারযূক্ব, আলী ইবনু হোসাইন ইবনু মুহাম্মদ ইবনু সাঈদ, ইবরাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ আত তারতূসি, বিলাল, হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.)। বলে রাখতে চাই যে, ইমাম ইবনে খুজায়মা (২২৩-৩১১ হিজরী) [ابن خزيمة] (রহ.) স্বীয় ‘সহীহ ইবনে খুজায়মা’ গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি চার-এরও অধিক সূত্রে পাওয়া যায়। কোনো কোনো সূত্র জঈফ আবার কোনো সূত্রকে ‘হাসান‘ (أنه [بلال] صدوق حسن الحديث فهو تابعي كبير روى عن أنس بن مالك روى عنه أربعة فمثله حديثه حسن خاصة) বলেও সাব্যস্ত করা হয়েছে।

ইমাম কুরতুবী (রহ.) সংকলিত বিখ্যাত ‘তাফসীরে কুরতুবী’তে সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ৫৪ এর ব্যাখ্যাও তিনি উক্ত হাদীসটির আলোকে ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন। যেমন তিনি লিখেছেন,

أن اليهود لما اجتمعوا على قتل عيسى دخل البيت هاربا منهم فرفعه جبريل من الكوة إلى السماء

অর্থাৎ যখন ইহুদীরা ঈসাকে (যীশুকে) হত্যা করার জন্য জড়ো হয়েছিল, তখন তিনি তাদের কাছ থেকে পালিয়ে গিয়ে ঘরে প্রবেশ করেছিলেন এবং জিবরাঈল (আ.) তাকে জানালা থেকে আকাশে উঠিয়ে নেন। (তাফসীরে কুরতুবী)। উল্লেখ্য, আরবীতে ‘আলকূতু‘ (الكوة) তথা জানালাকেও বুঝায়! ছবিটি দ্রষ্টব্য।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩৮

কোথাও ইমাম মাহদী এবং ঈসা দুইজনই একই ব্যক্তি বলে লিখলেন আবার কোথাও তাদেরকে ভিন্ন ভিন্ন সত্তা বলেও উল্লেখ করলেন! স্ববিরোধীতা কাকে বলে!

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে। তিনি লিখেছেন,

اور ان حدیثوں کے مقابل پر یہ حدیث بہت صحیح ہے جو ابن ماجہ نے لکھی ہے اور وہ یہ ہے کہ لا مہدی الا عیسی یعنی اور کوئی مہدی نہیں صرف عیسی ہی مہدی ہے جو آنے والا ہے

অর্থাৎ এই (উপরে উল্লিখিত) হাদীসগুলোর তুলনায় ইবনে মাজাহ’র লেখিত এই হাদীসটি বহুত সহীহ। আর সেটি হচ্ছে, لا مہدی الا عیسی (তথা ‘কোনো মাহদী নেই তবে আগমনকারী ঈসা ইবনে মরিয়ম ব্যতীত)।’ (রূহানী খাযায়েন ২১/৩৫৬)।

এখানে তিনি ইমাম মাহদী আর ঈসা উভয়কে একই ব্যক্তি সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন

স্ববিরোধ কথা :

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বই থেকে তুলে দেয়া হল। তিনিও ঈসা মসীহ এবং ইমাম মাহদী দুইজনকে আলাদা সত্তা বলে পরিষ্কার শব্দে লিখে গেছেন এভাবেই,

اور ہم ثابت کر چکے ہیں کہ وہی رجل فارسی  مہدی ہے اس لئے ماننا پڑا کہ مسیح موعود اور مہدی اور دجال تینوں مشرق میں  ہی ظاہر ہوں گے اور وہ ملک ہند ہے۔ 

অর্থাৎ এবং আমি প্রমাণ করেছি যে, সেই পারস্যের পুরুষটি-ই মাহদী। যেজন্য মানতে হবে যে, মসীহ মওউদ, মাহদী এবং দাজ্জাল তিনোজন পূর্বদিকেই প্রকাশিত হবে আর সেই রাষ্ট্রটি হচ্ছে হিন্দুস্থান। (রূহানী খাযায়েন ১৭/১৬৭)। 

সম্পর্কিত কিছু কথা :-

এখানে মির্যা সাহেব পরিষ্কার শব্দে ‘তিনো‘ তথা তিনজন বলে লিখে গেছেন। স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে যে, ঈসা আর ইমাম মাহদী কখনোই একই সত্তা হবেন না। আর এটি মির্যা কাদিয়ানীরও কলম থেকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যেভাবেই হোক, বেরিয়ে গেছে। এখন কথা হল, মির্যা সাহেব প্রথমোক্ত রচনায় লিখলেন, মাহদী এবং ঈসা দুইজনই একই ব্যক্তি, আর তিনি ইবনে মাজাহ’র একটি রেওয়ায়েত দ্বারা সে কথা প্রমাণও করতে চেয়েছেন। এমনকি রেওয়ায়েতটিকে তিনি তার অপরাপর কথার বিরুদ্ধে গিয়েও ‘সহীহ’ আখ্যা দিয়েছেন। এর চেয়ে বড় স্ববিরোধ কথা আর কী?

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)। অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মির্যায়ীদের স্ববিরোধীতা-৩৭

আজকে এখানে মির্যায়ী তথা কাদিয়ানীদের লিটারেচার থেকে পরষ্পর বিরোধী দুইটি বক্তব্য আপনাদের সামনে তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ।

() [ক] ‘আমাদের মতে আহমদীর পক্ষেও জাহান্নামে যাওয়া সম্ভব, এবং যাহারা আহমদী (কাদিয়ানী) নহে তাহাদের পক্ষেও জান্নাতে যাওয়া সম্ভব’। (আহমদীয়াতের পয়গাম পৃষ্ঠা নং ১১, দশম সংস্করণ মে ২০০৬ ইং)।

[খ] বাংলাদেশের কাদিয়ানী জামাতের মূলকেন্দ্র ঢাকার বকশিবাজার। সেখান থেকে প্রকাশিত তাদের অফিসিয়াল ম্যাগাজিন ‘পাক্ষিক আহমদী‘ (তাং ১৫-১২-২০১২ইং পৃষ্ঠা নং ৬) থেকে লিখছি, সেখানে লিখা আছে, ‘আল্লাহ প্রেরিত সেই মসীহে মওউদ (আ.)-এর ইসলামী শিক্ষার আলোকে প্রদত্ত সুশিক্ষার কারণেই আহমদীয়া জামাত আল্লাহ ও রসূল (সা.)-এর নির্দেশ অনুসারে প্রত্যেক কলেমা পাঠকারীকে মুসলমান মনে করে।’

এবার আগেরটার স্ববিরোধ কথা পড়ুন,

() মির্যা কাদিয়ানীর ছেলে ও (কথিত মুসলেহ মওউদ খেতাবপ্রাপ্ত এবং তার) দ্বিতীয় খলীফা মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদের রচিত “আয়নায়ে সাদাকাত” থেকে পড়ুন, তিনি লিখেছেন,

کل مسلمان جو حضرت مسیح موعود کی بیعت میں شامل نہیں ہوئے خواہ انہوں نے حضرت مسیح موعود کا نام بہی نہیں سنا وہ کافر اور دائرہ اسلام سے خارج ہیں

অর্থাৎ  যে সমস্ত মুসলমান মসীহ মওউদের (মির্যা কাদিয়ানী) বাইয়েতের মধ্যে শামিল হয়নি, তারা যদিও বা হযরত মসীহ মওউদের নাম পর্যন্ত শুনেনি এমন ব্যক্তিও কাফের এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বহিষ্কৃত। (আরো দেখুন, মির্যা বশির উদ্দিন এর রচনাবলীর সমষ্টি ২৬ খণ্ডে প্রকাশিত ‘আনওয়ারুল উলূম’ এর ৬ নং খণ্ডের ১১০ নং পৃষ্ঠা, অনলাইন এডিশন [উর্দু])। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি :-

শেষকথা, আমি এসবের উপর মন্তব্য করতে চাই না। তবে শুধু এটুকু জিজ্ঞেস করতে চাই, যেসব সাধারণ কাদিয়ানী নিজ নিজ এলাকার কলেমা পাঠকারী অ-কাদিয়ানী আত্মীয়স্বজন কিবা পাড়াপ্রতিবেশিকে কলেমা পাঠকারী হিসেবে একজন মুসলমান বলে বিশ্বাস করে আসছেন, তাদের উক্ত বিশ্বাসের কী অবস্থা হবে? কারণ মির্যা পুত্র বশির উদ্দিন মাহমুদ তো পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, মসীহে মওউদের নিকট বাইয়েত না নিলে এমনকি যে মসীহে মওউদের নামও শুনেনি এমন ব্যক্তিও কাফের এবং ইসলামের গণ্ডির বাহিরে! এমতাবস্থায় বাংলাদেশী কাদিয়ানীদের পাক্ষিক আহমদীর ফতুয়াকে সঠিক মানবো নাকি মির্যাপুত্রেরটা সঠিক মানবো? সাধারণ কাদিয়ানীদের কোন গতি?

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ