Home Blog Page 17

মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আলজানাদীকে ইবনু মাঈন (রহ.) সিকাহ বলা

প্রশ্ন : ইমাম ইবনু মাঈন (রহ.) মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদীকে কি ‘সিকাহ’ বলেছেন?

উত্তর : ইমাম ইবনু মাঈন (রহ.) মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদীকে “সিকাহ” (বিশ্বস্ত) বলার কথাটি প্রমাণিত নয়। ইমাম আবু সা’আদ আস সাম’আনী أبو سعد السمعاني (৫০৬-৫৬২) রচিত কিতাবুল আনসাব (كتاب الأنساب) এর তৃতীয় খণ্ডের ৩৫১ নং পৃষ্ঠায় (রাবী নং ৯৫৫, অধ্যায় নং ৯৪১) পরিষ্কার করে লিখা আছে, لم يثبت هذا عن ابن معين অর্থাৎ ইমাম ইবনু মাঈন (রহ.) সম্পর্কে এই দাবীর ভিত্তি নেই। বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মু’আল্লিমী [الامام المعلمى] আশ-শাফেয়ী (১৩১৩-১৩৮৬ হিজরী)ও একই কথা বলেছেন। যেমন তিনি লিখেছেন, و لم يثبت هذا عن ابن معين অর্থাৎ হযরত ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন হতে তার ছিকাহ (বিশ্বস্ত) হওয়ার কথাটি প্রমাণিত নয় [ইবনুস সুলাহ কৃত ‘আল আমালী’ (الأمالى لابن الصلاح) পৃষ্ঠা নং ৫২]।

কাজেই ইবনু মাঈন (রহ.)-এর নাম ভেঙ্গে কাদিয়ানী আমীর জনাব আব্দুল আউয়াল সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি সঠিক নয়। তিনি খুব সম্ভব জেনে-বুঝেই তার ভক্তদের প্রতারিত করেছেন। অনেকটা আসহাবে কাহাফের ঐ সাত যুবককে ঘুমন্ত দাজ্জাল বলে ব্যাখ্যা দেয়ার মতই।

মজার ব্যাপার হল, বিশ্ববিখ্যাত ইমাম ইবনুস সুলাহ (রহ.)ও পরিষ্কার করে বলে গেছেন, فان هذا لم يثبت له وصف العدالة অর্থাৎ ‘তবে অবশ্য তার (মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আলজানাদী) ক্ষেত্রে কোনো রকম আদালত (ন্যাপরায়ণতা/বিশ্বস্ততা/গ্রহণযোগ্য) এর কোনো গুণাগুণ প্রমাণিত নয়।’ [আল আমালী পৃষ্ঠা নং ৫২, ইমাম আবু উমর ইবনুল মুফতি সালাহউদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে উসমান ইবনে মূসা আল কুরদি আশ শাহরুযুরী আল মুছুলি ইবনুস সুলাহ (৫৭৭-৬৪৩ হিজরী)]।

অধিকন্তু আব্দুল আউয়াল সাহেব ইমাম ইবনু মাঈন (রহ.)-এর আরেকটি কথাও পুরোপুরি এড়িয়ে যান। সেটি হল, ইমাম ইবনু মাঈন (রহ.) বলেছেন, و روى عنه ثلاثة رجال سوى الشافعي অর্থাৎ আর তার (মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদী) কাছ থেকে তিন ব্যক্তিই হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইমাম শাফেয়ী (কোনো কিছুই) বর্ণনা করেননি। ইমাম যাহাবী লিখেছেন, সনদের ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা এর সূত্রে একটি দল এটি বর্ণনা করেছে। কিন্তু বিশুদ্ধ কথা হল, والصحيح انه لم يسمعه منه অর্থাৎ ইউনুস ইমাম শাফেয়ীর কাছ থেকে বর্ণনাটি শুনেননি। (দেখুন, ইমাম যাহাবী’র মীযানুল ই’তিদাল ৩/৫৩৫ দ্রষ্টব্য)। আবার বর্ণনাটির আরেক রাবী ابان ابن ابى عياش (আবান ইবনে আবী আয়্যাশ) সম্পর্কে ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) লিখেছেন, و هو متروك অর্থাৎ সে একজন পরিত্যাজ্য ও মিথ্যাবাদী। (তাহযীবুত তাহযীব ৯/১৪৪, ইবনে হাজার আসকালানী)। এমনকি তাহযীবুল কামাল কিতাবের ২৫ নং খণ্ডের ১৫০ নং পৃষ্ঠায় (রাবী নং ৫১৮১) পরিষ্কার লিখা আছে, قال الشافعى ما هذا من حديثى و لا حدثت به، كذب على يونس অর্থাৎ ইমাম শাফেয়ী বলেছেন যে, এটি আমার বর্ণিত কোনো হাদীস নয়। আমি এমন হাদীস বর্ণনা করিনি। ইউনুস (-এর সূত্রে) আমার উপর অসত্য আরোপ করেছে। এছাড়া প্রায় ডজনের অধিক স্কলারদের মতে و لا المهدى الا عيسى ابن مريم শীর্ষক রেওয়ায়েতটি দুর্বল এবং মুনকার ও মিথ্যাবাদী রাবী দ্বারা বর্ণিত। আফসোস! কাদিয়ানীদের নিকট এই স্তরের বর্ণনাও অথেনটিক ও দলিলযোগ্য! তারা ইমাম যাহাবীর আংশিক বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ইবনু মাঈনের যেই মতটির প্রচার করে বেড়ায় সেটি ভিত্তিহীন ও অপ্রমাণিত হওয়া স্বয়ং ইমাম যাহাবী (রহ.) এর উক্ত কথা হতেও সুস্পষ্ট। কিন্তু কাদিয়ানীরা কত জঘন্য প্রতারক হলে সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করে কালোকে সাদা বানানোর স্পর্ধা দেখাতে পারে, চিন্তা করুন! আমরা তাদেরকে আল্লাহর নিকট সোপর্দ করলাম।

এখানে কয়েকটি বিষয় সুস্পষ্ট,

(১) ইমাম ইবনু মাঈন (রহ.) মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদীকে “সিকাহ” বলার ব্যাপারটি ইমাম যাহাবী সহ বেশ কয়জন ইমামই অপ্রমাণিত বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। (তার কারণ নিচে উল্লেখ করা হবে)। (২) যে বর্ণনায় و لا المهدى الا عيسى ابن مريم অংশটিও রয়েছে সেটিতে সূত্রের বিচারে انقطاع তথা সূত্র-বিচ্ছিন্নতার ক্রুটি রয়েছে। কারণ মুহাদ্দিসগণ বলেছেন, উক্ত সনদে উল্লিখিত মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদী থেকে ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর سماع তথা শ্রবণ প্রমাণিত নয়। ইমাম যাহাবী (রহ.) মীযানুল ইতিদাল কিতাবে এসব পরিষ্কার করে দিয়ে গেছেন। রেফারেন্স উপরে দেয়া হয়েছে, আবার দেখুন।

এবার জানার বিষয় হল, ইমাম যাহাবী সহ অন্যান্য ইমামগণ ইমাম ইবনু মাঈন (রহ.)-এর “সিকাহ” (বিশ্বস্ত) বলার মতটি অপ্রমাণিত বলেছেন কেন?

এর উত্তর হল, বর্ণনাটির সনদে উল্লিখিত ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা (রহ.) একটি গল্প বলেছেন। গল্পটি ‘মানাকেবুশ শাফেয়ী‘ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। গ্রন্থকার ইমাম আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে হোসাইন আল আবুরী (ابو الحسن محمد بن الحسين الاّبري) (রহ.) [মৃত. ৩৬৩ হিজরী] গল্পটি সনদ সহ উল্লেখ করেছেন। সনদ সহ গল্পটি এরকম, فقال: اخبرني محمد بن عبد الرحمن الهمذاني ببغداد قال: حدثنا محمد بن مخلد وهو العطار وقال : حدثنا أحمد بن محمد بن المؤل العدوي قال: قال لي يونس بن عبد الأعلى : جاءني رجل قد وخطه الشيب سنة ثلاث عشر يعني و مائتين عليه مبطنة وازير يسألني عن هذا الحديث فقال لي : من محمد بن خالد الجندي ؟ فقلت : لا ادري . فقال لي : هذا مؤذن الجند وهو ثقة . فقلت له : انت يحيى بن معين ؟ فقال نعم…الخ

অর্থাৎ (সনদ/সূত্র) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল হামদানী, মুহাম্মদ ইবনে মুখলাদ, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াল আল-আদাবী। (গল্পটি হচ্ছে), আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াল আল-আদাবী বলেছেন, আমাকে ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা বলেছেন, আমার নিকট এক ব্যক্তি এসে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন যে, মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদী সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? আমি বললাম, আমি জানিনা। তখন সে আমাকে বলল, সে ইয়েমেনের “আল-জানাদ” এলাকার একজন মুয়াজ্জিন আর সে একজন সিকাহ। অত:পর আমি তাকে বললাম, তুমি কি ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন? তিনি বললেন, জ্বী হ্যাঁ। (মানাকেবুশ শাফেয়ী)। অনুরূপ গল্পটি ইমাম যাহাবী’র ‘তাহযীবুত তাহযীব’ এর মধ্যেও (৯/২৪৪) উল্লেখ রয়েছে, তবে সেখানে এর কোনো সনদ উল্লেখ করা হয়নি।

এবার উক্ত গল্পের সনদ ও আনুষাঙ্গিক কিছু শিক্ষা:-

গল্পটি কয়েকটি কারণে প্রমাণযোগ্য নয়। ফলে এর উপর ডিফেন্ড করে এমন একজন রাবীকে ইবনু মাঈন (রহ.) “সিকাহ” বলেছেন বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছা অসম্ভব, যাকে জরাহ-তাদীলের ইমামগণ সর্বসম্মতিক্রমে অজ্ঞাত (مجهول) এবং দুর্বল বলেই সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন। কেননা,

(১) ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা-এর মত একজন হাদীসের প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদীর ব্যাপারে জানতে চেয়ে ইবনু মাঈনের প্রশ্নের উত্তর দেবেন অথচ ইবনে মাঈনকেই তিনি তখন চিনলেন না, বরং ইবনে মাঈন নিজের পরিচয় দিয়ে নিজেকে পরিচিত করতে হল, এটা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। কারণ সেই যুগে ইবনু মাঈন (রহ.)-এর মত প্রসিদ্ধ একজন ব্যক্তিকে ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা চেনবেন না, তা হতে পারেনা।

(২) আর গল্পের ধারাবাহিক সূত্রে “আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াল আল-আদাবী” নামীয় এমন এক ব্যক্তি রয়েছেন যাকে খতিব আল বাগদাদী (রহ.) তার ‘তারিখে বাগদাদ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা এবং হাসান ইবনে উরফা হতে রেওয়ায়েতকারী। কিন্তু তার সম্পর্কে কোনো জরাহ এবং আদল কিছুই খোঁজে পাওয়া যায়না, ফলে সে এক প্রকারের অজ্ঞাত (مجهول) রাবীই বলে গণ্য হন। সুতরাং যে বর্ণনাসূত্রে এধরণের রাবীও রয়েছে সেই সূত্রে প্রাপ্ত কোনো গল্পের তথ্যের উপর কিভাবে ডিফেন্ড করা যায়? কিভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে অপরাপর সমস্ত ইমামের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে আমরা বিশ্বাস করতে পারি যে, ইবনু মাঈন (রহ.) মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল জানাদীকে “সিকাহ” বা বিশ্বস্ত বলেছেন? অধিকন্তু ইমাম যাহাবী সহ অনেকেই এই মতের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছেন এবং প্রমাণিত নয় বলেও অভিমত দিয়ে গেছেন।

সুতরাং, এমতাবস্থায় তাকওয়া আর নিরপেক্ষ বিবেকের দাবী হল, ইমামগণের সর্বসম্মত মতামতের প্রতিই শ্রদ্ধা রাখা ও অগ্রাধিকার দেয়া। মেশকাত কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ “মেরকাত” এর লিখক মোল্লা আলী ক্বারী (রহ.) লিখেছেন, এই বর্ণনা সূত্রের বিচারে সমস্ত হাদীস বিশারদের সর্বসম্মতিক্রমে জঈফ তথা দুর্বল (ضعيف باتفاق المحدثين) । (মেরকাত, কিতাবুল ফিতান, বাবু আশরাতিস সা’আহ باب أشراط الساعة, ভলিয়ম নং ১০, পৃষ্ঠা নং ১০১)। এতেও প্রমাণ হয় যে, ইবনে মাঈনের নামে চালিয়ে দেয়া কথিত ‘সিকাহ’ এর মতটি অপ্রমাণিত ও মিথ্যা। অন্যথা মোল্লা আলী ক্বারী (রহ.) কখনো এর দুর্বল হবার সিদ্ধান্তে “সর্বসম্মতিক্রমে” শব্দ ব্যবহার করতেন না। অতএব, কাদিয়ানীদের জন্য কোনোভাবেই উচিত হবেনা, এই ধরনের একটি পরিত্যাজ্য ও মুনকার রেওয়ায়েতের উপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া, যা অপরাপর অসংখ্য সহীহ হাদীস ও তাওয়াতূর পর্যায়ের হাদীস এবং উম্মাহার ইজমায়ী আকীদার বিরুদ্ধে! (প্রয়োজনীয় স্ক্রিনশট সংযুক্ত)।

সংক্ষেপে,

প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম. এ

ইন্নি মুতাওয়াফফীকা (انى متوفيك) এর তাৎপর্য

তাওয়াফফা, মুতাওয়াফফীকা, লাম্মা তাওয়াফফাইতানী প্রসঙ্গে ধারণা

পবিত্র কুরআনের انى متوفيك و رافعك الى এর সঠিক তাৎপর্য

পবিত্র কুরআন এর আয়াত : انى متوفيك و رافعك الى সম্পর্কে সংক্ষেপে একটু লিখছি-

উক্ত আয়াতের তাফসীরে রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে দুইটি তাৎপর্য বর্ণিত আছে, (১) আয়াতের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী অর্থ, নিশ্চয়ই আমি তোমার মেয়াদকাল পূর্ণ করব (অথবা নিশ্চয়ই আমি তোমাকে নিয়ে নেব) এবং তোমাকে আমার নিকট উঠিয়ে নেব। (সূরা আলে ইমরান, ৫৫)।

(২) متوفيك এর توفى ক্রিয়াপদকে মাজাজি বা রূপক অর্থে গ্রহণ করলে তখন ইবনে আব্বাস (রা.) যেভাবে অনুবাদ করেছেন ঠিক সেভাবেই অনুবাদ করা আবশ্যক। তাফসীরে ‘দুররে মানসূর’ কিতাবের তৃতীয় খণ্ডে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, اى رافعك ثم متوفيك فى آخر الزمان অর্থ- হে ঈসা! তোমাকে উঠিয়ে নেব, অত:পর শেষ যুগে তোমাকে মৃত্যু দেব

  • প্রশ্নকর্তা, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর তাফসীর মানতে কেন বাধ্য আমরা?

উত্তর, যেহেতু আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করেছেন, اللهم علمه الكتاب অর্থ- হে আল্লাহ আপনি তাঁকে কুরআন শিখিয়ে দিন। (বুখারী, কিতাবুল ইলম)।

এখন চিন্তার বিষয় যে, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কোনো একটি অনুবাদ বা তাৎপর্যের সাথে আহমদী তথা কাদিয়ানীদের অনুবাদ বা শিক্ষার কানাকড়িও মিল নেই! হায়! ইলাহি জামাত!!

  • প্রশ্নকর্তা, কিন্তু ইবনে আব্বাস (রা.) انى متوفيك এর অর্থ তো انى مميتك অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মৃত্যু দেব—এভাবেও করেছেন। বুখারী, কিতাবুত তাফসীর দেখুন।

উত্তর, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সব কয়টি বর্ণনাকে বাদ দিয়ে তার খণ্ডিত বক্তব্যের বিচারে আমরা কিভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি! আমরা ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলো যা কোথাও কোনো কোনো সনদে দীর্ঘ বাক্যে এসেছে, কোথাও বা আরেক সনদে আংশিক বাক্যে এসেছে; এখন পূর্ণ তাকওয়া আর আমানতদারির দাবী কি তার খণ্ডিত বাক্যের উপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া, নাকি সবগুলো বর্ণনার সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত ফয়সালায় যাওয়া? বিচারের ভার আপনার নিরপেক্ষ বিবেকের উপর সোপর্দ করলাম।

  • প্রশ্নকর্তা, তাহলে এই একই কনসেপ্টে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আর কী কী রেওয়ায়েত এসেছে?

উত্তর, এসেছে তো অনেক। আমি এখানে বিশুদ্ধ সনদে মাত্র তিনখানা ‘গয়রে মাজরূহ রেওয়ায়েত’ তুলে ধরছি,

(ক) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ৫৫ يا عيسى انى متوفيك و رافعك الى এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ করেছেন, اى رافعك ثم متوفيك فى آخر الزمان অর্থ- হে ঈসা! তোমাকে উঠিয়ে নেব, অত:পর শেষ যুগে তোমাকে মৃত্যু দেব। (সূত্র, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, তাফসীরে দুররে মানসূর, ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী)।

(খ) ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, و أَن اللهَ رَفَعَهُ بِجَسَدِهِ وَأَنهُ حَيُ الْآنَ و سَيَرْجِعُ الي الدنيا فيها مَلِكاً ثم يَموتُ كما يموتُ الناسُ. অর্থ- নিশ্চয় আল্লাহতালা তাঁকে (ঈসা) সশরীরে উঠিয়ে নেন এবং তিনি এখনো জীবিত। অতিসত্বর তিনি পৃথিবীতে পুনরায় ফিরে আসবেন। আর তিনি পৃথিবীতে একজন বাদশাহ (শাসক) হবেন। তারপর তিনি অন্যান্য মানুষের ন্যায় মৃত্যুবরণ করবেন।” [সূত্র, আত তবকাতুল কোবরা লি-ইবনে সা’আদ : ১/৩৫-৩৬; ‘যিকরুল কুরূনি ওয়াস সানীনি আল্লাতি বাইনা আদাম ওয়া মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ শীর্ষক পর্ব, মাকতাবাতুল খান্জি, কায়রো মিশর]।

(গ) ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, فأُلْقِىَ عَليه شِبْهُ عيسى، ورُفِعَ عيسى من روزنة في البيت إلى السماء. অর্থ- তারপর তাকে (জনৈক শিষ্যকে) ঈসা’র অবিকল সাদৃশ করে দেয়া হল এবং ঈসাকে তাঁর বাড়ীর বাতায়ন পথে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হল। (সূত্র, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খণ্ড ২, হাদীসের সনদ সম্পর্কে ইবনে কাসীর রহ. বলেছেন وهذا إسناد صحيح إلى ابن عباس على شرط مسلم. অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (রা:) পর্যন্ত এই সনদটি সহীহ এবং ইমাম মুসলিম (রহ:) কৃত শর্তের উপরই প্রতিষ্ঠিত)।

আমার প্রাণপ্রিয় আহমদীবন্ধুরা! আসুন, অন্ততঃ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বুঝের সাথে আমরা সবাই আমাদের বুঝটিকে ঘষামাজা করে নিই।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

কথিত ‘ছায়া হজ্জ’ বনাম ‘মক্কার হজ্জ’ সম্পর্কে

কাদিয়ানীবন্ধুদের আরেকটি ধর্মবিশ্বাস তাদের সালানা জলসা ‘ছায়া হজ্জ’! তাদের উক্ত বিশ্বাসের খোলাসা হচ্ছে, মক্কার হজ্জ মূলত কোনো উপকারী হজ্জই নহে যতক্ষণ না তাদের (কাদিয়ানীদের) ‘সালানা জলসা’তে শরিক হবে। সহজ করে বললে, তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে, মক্কায় অনুষ্ঠিত মুসলিম উম্মাহার এই হজ্জ সম্পূর্ণ রসহীন তথা নিষ্ফল, কোনো উপকারিতা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর প্রবর্তিত ‘সালানা জলসা’ (বার্ষিক সম্মেলন) পালন করা না হবে। নিচের স্ক্রিনশট থেকে দেখে নিন!

মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ এর একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে পয়গামে সুলহে পত্রিকায় লাহোরী মুভমেন্ট এর এডিটর ডাক্তার বাশারত আহমেদ সাহেব লিখেছেন,

پچہلے دنوں خلیفہ صاحب نے ظلی حج کا اعلان کیا اور بتایا کہ مکہ کا حج چونکہ اپنے مقصد حقیقی کو کہو چکا ہے اور ایک رسمی عبادت کی شکل میں رہ گیا ہے اسلئے اللہ تعالیٰ نے قادیان میں ایک اور ظلی حج مقرر کیا ہے

অর্থাৎ দিন কতেক আগে খলীফা (মির্যা বশির উদ্দিন) সাহেব জিল্লী হজ্জের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মক্কার হজ্জ যেহেতু আপনা আসল উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলেছে এবং গতানুগতিক শুধুই একটি ইবাদতের রূপ ধারণ করেছে, সেহেতু আল্লাহতালা কাদিয়ানে দ্বিতীয় আরেকটি জিল্লী হজ্জ চালু করে দিয়েছেন।’ (সূত্র “পয়গামে সুলহে” পাতা ৪, কলাম ২, তাং ১৯/০৪/১৯৩৩ ইং)। কথিত এই জিল্লি হজ্জ সম্পর্কে আরও কিছু উদ্ভট বর্ণনা সম্পর্কে জানতে পরবর্তী স্ক্যানকপি গুলোও দেখা যেতে পারে।

  • মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ এর ‘খুতুবাতে মাহমুদ’ গ্রন্থেও লিখা আছে যে, জলসাও হজ্জের মত (স্ক্রিনশট সহ পড়ুন) Click

ডকুমেন্ট পরিচিত : পয়গামে সুলহে, কাদিয়ানী জামাতের দ্বিতীয় বৃহত্তর গ্রুপের অফিসিয়াল পত্রিকা। আমার নিকট মনে হচ্ছে, এটি প্রতি তিন দিবস অন্তর প্রকাশিত হয়ে থাকে। মির্যা কাদিয়ানীর সিনিয়র সহচর মুহাম্মদ আলী লাহোরী’র প্রতিষ্ঠিত ‘লাহোরি মুভমেন্ট’ কর্তৃক লাহোর থেকে প্রকাশিত। তাদের কেন্দ্রীয় ওয়েব সাইট www.aaiil.org থেকে এর পিডিএফ গুলো ডাউনলোড করা যায়। পত্রিকাটি মূলত তাদেরই প্রতিপক্ষ গ্রুপ তদানিন্তন কাদিয়ানী দ্বিতীয় খলীফা মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ গ্রুপের অফিসিয়াল দৈনিক পত্রিকা ‘আল ফজল’-কে ডিফাইন করতেই বের হত। তাদের মধ্যে প্রথমাবস্থায় বিরোধিতার সূত্রপাত ঘটে ১৯১৪ সালে তাদের প্রথম খলিফা হেকিম নূরউদ্দিনের মৃত্যুর পর। তখন কাদিয়ানী জামাতের একটি অংশ এবং মির্যার স্ত্রী নুসরাত জাহানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদকে খলীফা নির্বাচন করা হয়। অথচ তখন মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ বয়সে খুব ছোট, মাত্র ২৭ বছরের ছিল। আর অপর দিকে মির্যা কাদিয়ানীর ঘনিষ্ঠ সহচর মুহাম্মদ আলী লাহোরীও দ্বিতীয় খলীফার জন্য প্রার্থী হয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ব্যর্থ হন। তারপর তিনি কাদিয়ানী অনুসারীদের বৃহত্তর একটি অংশ নিয়ে ‘লাহোরি মুভমেন্ট‘ গঠন করেন। বর্তমানে ‘লাহোরি মুভমেন্ট’ এর পঞ্চমতম আমীরের যুগ চলছে, নাম প্রফেসর আব্দুল করীম সাঈদ লাহোরী।

কাদিয়ানীদের সব চেয়ে বড় গ্রুপ ‘আহমদীয়া কমিউনিটি’-এর বর্তমান পঞ্চম খলীফা মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদের প্রপৌত্র মির্যা মাসরূর আহমদ। তাদের এই বৃহত্তর দুটি গ্রুপের মধ্যকার বুনিয়াদী ইখতিলাফ ৪টি। যথা-

(১) মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নবী নন, তার ‘নবী’ দাবীটা শুধুই আক্ষরিক অর্থে বিবেচিত হবে, মূলত তার নবী শব্দ থেকে ‘মুহাদ্দাস‘ উদ্দেশ্য।

(২) মির্যা সাহেবকে অস্বীকার করা দ্বারা কেউ অমুসলিম বা কাফের হবেনা, বড়জোর ‘ফাসেক’ এবং পরকালে ‘শাস্তির উপযুক্ত’ বলে গণ্য হবে।

(৩) মির্যা সাহেবের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী সেই ‘মুসলেহ মওউদ’ মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ নন। কেননা ‘মুসলেহ মওউদ’-এর ভবিষ্যৎবাণী মির্যা সাহেবের আসমানী বিবি মুহাম্মদী বেগমের সাথে সম্পর্কিত ছিল। মির্যা সাহেবের সাথে উক্ত আসমানী বিবির বিবাহ সংঘটিত হবার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (বলে রাখা জরুরি, লাহোরিরা বিশ্বাস করে, আসমানী বিবির সাথে মির্যা সাহেবের বিবাহ জান্নাতে হবে)। (৪) ‘জামাত’ পরিচালনা জন্য ‘খিলাফত পদ্ধতি’ নয়, বরং একটা ‘আঞ্জুমান’ তথা পরিচালনা পর্ষদ হতে হবে। কেননা, খিলাফতের ক্রমধারা নবী থেকে আরম্ভ হয়। অতএব মির্যা সাহেবের নবী দাবীটা যেহেতু ‘মুহাদ্দাস’ অর্থে ধর্তব্য, সেহেতু মির্যা সাহেব থেকে খিলাফতের ক্রমধারা আরম্ভ হওয়া সম্ভব নয় (লাহোরী গ্রুপের বক্তব্য শেষ হল)।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

ইউনুস নবীর নামে মির্যা কাদিয়ানীর মিথ্যাচার

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বই থেকে ধারাবাহিক আরেকটি “মিথ্যাচার”-এর প্রমাণ,

মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন, “খোদাতালা ইউনুস নবীকে অকাট্যভাবে চল্লিশ দিন পর্যন্ত (তার জাতির উপর) আজাব (শাস্তি) প্রদান করার ওয়াদা দিয়েছিলেন। এই ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) একটি অকাট্য ওয়াদা ছিল, যেখানে কোনোরূপ শর্ত ছিল না।” (আঞ্জামে আথহাম, রূহানী খাযায়েন ১১/৩০)। প্রামাণ্য স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য

  • উল্লেখ্য, قطعى তথা ‘অকাট্য বিধান’ শুধুমাত্র পবিত্র কুরআনের সাথেই সম্পর্কিত। আরেকটা কথা বলে রাখা জরুরি তা হচ্ছে, এ ধরণের কোনো কথার সোর্স ইঞ্জিল হলেও হবেনা। কারণ মির্যা কাদিয়ানী ইঞ্জিল সম্পর্কে পরিষ্কার স্টেটমেন্ট দিয়ে গেছেন এভাবে যে,
  • خدا نے ہمیں تو یہ بتلایا ہے کہ عیسائی مذہب بالکل مرگیا ہے اور انجیل ایک مردہ اور نا تمام کلام ہے
  • অর্থাৎ ‘খোদা আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ঈসায়ীধর্ম পুরোপুরি মৃত্যুবরণ করেছে আর ইঞ্জিল একটি মৃত ও অসম্পূর্ণ বাণী।’ (দাফেউল বালা, রূহানী খাযায়েন ১৮/২৪০)।

এখন প্রশ্ন হল, পবিত্র কুরআনের কোথায় বা কোন আয়াতে এধরণের কথা আছে যদি আমাদের একটু দেখিয়ে দিতেন! খুবই কৃতজ্ঞ হতাম। নইলে আবারও সাব্যস্ত হবে যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অসংখ্য মিথ্যার মধ্যে এটিও একটি!

আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বললে কী হুকুম?

এ পর্যায় তারই রচিত “হাকীকাতুল ওহী” বই থেকে একটা চমৎকার লিখা তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার প্রতি মিথ্যা আরোপ করা কত বড় অপরাধ? এমন প্রশ্নের উত্তরে পবিত্র কুরআনের সূরা আল আ’রাফ আয়াত নং ৩৭ উল্লেখ করে মির্যা সাহেব লিখছেন, “অর্থাৎ বড় কাফের দুইটিই আছে। প্রথমটি হইল, যে খোদা সম্পর্কে মিথ্যা বলে এবং দ্বিতীয়টি হইল, যে খোদার কালামকে অস্বীকার করে।” (হাকীকাতুল ওহী পৃষ্ঠা নং ১৩০, বাংলা অনূদিত কপি)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি,

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৪১

কোথাও লিখলেন, আদম প্রথম মানুষ নন, তার আগেও মানুষের প্রজন্ম দুনিয়াতে ছিল। আবার কোথাও লিখেছেন, আদমই সৃষ্টিকূলের মধ্যে সর্বপ্রথম মানুষ এবং সর্বপ্রথম খলিফা, আর আমি তারই সদৃশ সর্বশেষ খলিফা!

  • মির্যা কাদিয়ানীর জনৈক মুরিদের দাবী, আদম (আ.) প্রথম মানুষ ছিলেন না। এখানে তার প্রশ্নের উত্তরে লিখতে চাই!
  • জনৈক কাদিয়ানী অনুসারীর উক্ত মন্তব্যের উপর আমার পালটা ছোট্ট একটি প্রশ্ন এই যে,
  • যদি আদম (আ.)-ই প্রথম মানুষ না হন তাহলে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র হাবিল (বাইবেল মতে হেবল) কিজন্য আপন ভগ্নি আকলিমাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর ১/৯৩)। পৃথিবীতে আদম (আ.) এর আগেও মানব সভ্যতা পূর্ব থেকেই চলে আসলে তবে তো হাবিলের বিয়ের জন্য কন্যাও থাকবে! তা সত্ত্বেও আপন ভগ্নির সাথে বিয়ে কেন? হযরত আদম (আ.)-ই বা এই নিয়ম কিভাবে অনুমোদন দিতে পারেন? সহীহ বুখারী সহ প্রায় সকল হাদীস সংকলনে একথা পরিষ্কার এসেছে,
  • إنَّ من أفضَلِ أيَّامِكُم يومَ الجمُعةِ، فيهِ خُلِقَ آدمُ عليهِ السَّلامُ
  • অর্থ- আল্লাহ আদমকে জুমার দিন আসরের পর সৃষ্টি করেছেন। সুনানু নাসাঈ, হাদীস নং ১৩৭৩, হাদীসের মান: সহীহ
  • এখন এগুলো কি সব আজাইরা কিচ্ছা? নাউযুবিল্লাহ। এবার নিন কুরআন থেকে! সূরা বাক্বারা’র আয়াত নং ৩০; আল্লাহতালা যখন পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানানোর ইচ্ছে প্রকাশ করলেন তখন ফেরেশতারা আপত্তি উত্থাপন করে বললেন,
  • اتجعل فيها من يفسد فيها و يسفك الدماء؟
  • অর্থ- আপনি কি এমন একটি জাতি দুনিয়ায় সৃষ্টি করতে চান যারা বিশৃঙ্খলা করবে এবং রক্তপাত করবে….?
  • এখন প্রশ্ন, আদম (আ.)ই যদি প্রথম মানুষ না হন তাহলে ফেরেশতারা কোন আদমের ব্যাপারে ঐ আপত্তিখানা উত্থাপন করেছিলেন?

কোনো উত্তর থাকেনা!

আর আপনি পবিত্র কুরআনের যেসব উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেসবে মোটেও আপনার মত (বিশ্বাস) সাব্যস্ত হয়না। আপনি আয়াত উল্লেখ করেন। আমি আপনার মিথ্যা আর অজ্ঞতা দুটোই পরিষ্কার করে দেব, ইনশাআল্লাহ।

মির্যা কাদিয়ানীর স্ববিরোধীতা :

এবার মির্যা কাদিয়ানীর স্ববিরোধ কথাগুলো জেনে নিন! তিনি লিখেছেন, (ক)

‘আমরা এটি দাবী করিনা যে, মানুষের এই সমগ্র প্রজন্ম যা বর্তমানে পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিদ্যমান এটি এই সর্বশেষ আদমেরই প্রজন্ম! আমরা তো মনে করি যে, এই আদমের পূর্বেও মানব প্রজন্ম ছিল।‘ (দেখুন, মালফুযাত ৫/৬৭৫; মির্যা কাদিয়ানী, উর্দূ এডিশন)।

তিনি তার আরেকটি বক্তব্যে একই মত ব্যক্ত করে এভাবে লিখেছেন যে, (খ)

ہمارے آدم سے پہلے بھی کئی امتیں دنیا میں ہو چکی ہیں اس لیے یہ بھی کچھ تعجب کی بات نہیں کہ آریہ لوگ جو کروڑا برسوں کا دعوی کرتے ہیں ان پر وبال آنے کے بعد کچھ لڑکیاں ان کی باقی رہ گئی ہوں انہیں لڑکیوں سے حضرت آدم کے لڑکوں سے نکاح کرلیا ہو

অর্থাৎ ‘আমাদের আদমের আগেও পৃথিবীতে অনেক জাতি ছিল, তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে আর্য জাতি, যারা লক্ষ লক্ষ বছর দাবি করে। তাদের উপর বিপর্যয় নেমে আসার পর তাদের কিছুসংখ্যক মেয়ে দুনিয়ায় তখনও থেকে যায়। সেই মেয়েদের সাথে হযরত আদম (আ.)-এর পুত্রদের বিবাহ হয়।’ (দেখুন, আরিয়া ধরম, রূহানী খাযায়েন ১০/৪০)।

এবার স্ববিরোধ কথা :

মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন, (ক)

پھر بعد اس کے ہم دیکھتے ہیں کہ پہلا بیٹا تو نوع انسان میں سے آدم ہی تھا چنانچہ انجیلیں اس بات کا اقرار کرتی ہے اور یہ تو معلوم ہے۔۔۔۔۔۔

অর্থাৎ ‘এরপর আমরা দেখি যে, মানব প্রজাতির মধ্যে সর্বপ্রথম মানব ছিলেন আদমই। ইঞ্জিলসমূহ একথারই সাক্ষ্য দেয়। আর একথা তো জানাই আছে যে, বুযূর্গি (সম্মাননা) প্রথমোক্তেরই হয়ে থাকে। আর এমন কাউকে তো বুযূর্গই বলা যায় না যে (ঈসা আ: এর প্রতি ইংগিত- অনুবাদক) পরে আসেন এবং প্রথমোক্তের কাছ থেকে কোনো কথা মুখে তুলে নেন। আর খোদাতালা তো আদমকে নিজ হাতে এবং স্বীয় আকৃতিতে (গুণে) সৃষ্টি করেছেন এবং খুব ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি তাঁর অভ্যন্তরে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন।’ (দেখুন, নূরুল হক, রূহানী খাযায়েন ৮/১০৫)।

তিনি আরেক জায়গায় লিখেছেন, (খ)

‘এই জন্যই নিয়তির দাবী হল, যে মানুষটা সর্বশেষ খলিফা হবেন তিনি ঐ আদমের সদৃশ হবেন যিনি সমস্ত খলিফার সর্বপ্রথমে ছিলেন এবং সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বপ্রথম মানুষ ছিলেন। যার প্রতি খোদাতালা রূহ ফুঁকিয়ে ছিলেন।’ (দেখুন, খুতবাতুল ইলহামিয়্যাহ, রূহানী খাযায়েন ১৬/২৫৬)।

তিনি আরেক জায়গায় লিখেছেন, (গ)

খোদাতালা আদমকে ষষ্ট দিবসে জুমাবারে আসরের পর সৃষ্টি করেছেন। তাওরাত, কুরআন এবং হাদীসসমূহ হতে এটাই সাব্যস্ত হয়। আর খোদাতালা মানুষের জন্য সাতটি দিবস নির্ধারিত করেছেন। এই দিবসগুলোর মুকাবিলায় খোদার প্রতিটি দিবস হাজার বছরের সমান। এর আলোকে উদ্ভাবন করা হয়েছে যে, আদম থেকে নিয়ে দুনিয়ার বয়স সাত হাজার বছর। আর ষষ্ঠতম হাজার যা ষষ্ঠতম দিবসের মুকাবিলায়, সেটি আদমে ছানী বা দ্বিতীয় আদমের (এখানে ‘দ্বিতীয় আদম’ বলে মির্যা নিজের সত্তাকে ইংগিতে বুঝিয়েছে-অনুবাদক) প্রকাশের দিবস। (দেখুন, যামিমা বারাহিনে আহমদীয়া, রূহানী খাযায়েন ২১/২৬০)।

(ক্রমানুসারে প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য)

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কাদিয়ানীদের এই দলিলগুলো সিয়াহ সিত্তার বাহিরের সংকলন থেকে

আহমদী-কাদিয়ানীবন্ধুদের হীতে বিপরীত কতিপয় অর্বাচীন মন্তব্য তুলে ধরছি

আমরা যখনি সিজোফ্রেনিয়া পাড়ার বন্ধুদের বরাবর সহীহ বুখারী মুসলিমের বাহিরেও হাদীসের অন্যান্য সংকলন থেকে হাদীস সমূহ রেফার করি, তখন তারা কী বলে শুনুন,

“আরে ভাই, এই সমস্ত কিতাব বাদ দেন। পারলে বুখারী বা মুসলিম শরীফ থেকে হাদীস দেখান।”

তখন প্রতিউত্তরে তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, আপনারা মির্যা কাদিয়ানীকে ইমাম মাহদী সাব্যস্ত করার জন্য যেই চন্দ্রসূর্য গ্রহণের রেওয়ায়ত দেখান সেটি কি বুখারী আর মুসলিম শরীফ থেকে দেখান? নির্লজ্জ এই ব্যাচারার তখন লম্বা জিহবা চিরতরে খামুশ হয়ে যায়!

  • সহীহ বুখারী-মুসলিম এমনকি সিয়াহ সিত্তার বাহিরের অন্যান্য সংকলন থেকে কাদিয়ানীদের উদ্ধৃত করার কিছু প্রমাণ এখানে তুলে ধরছি,

১. “একই রমাযানে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের রেওয়ায়েত (إن لمهدينا آيتين لم تكونا منذ خلق السماوات والأرض)।” সিয়াহ সিত্তার বাহিরের সংকলন ‘দারে কুতনী, কিতাবুল ঈদাইন’ থেকে। উল্লেখ্য, এই ধরণের ঘটনা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও সাধারণ। যার ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত দেয়া যাবে। তাছাড়া এটি ‘হাদীস’ হিসেবে প্রমাণিতও নয়। অবাক করার ব্যাপার হল, দারে কুতনী নামক কিতাবের বর্ণনাটিতে উল্লেখ আছে, آيتين لم تكونا {আয়াতাঈনি লাম তাকূনা} অর্থাৎ এই দুটি এমন নিদর্শন যা (ইতিপূর্বে আর) সংঘটিত হয়নি’- তাহলে রাসূল (সা:) এর যুগ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এটি কম করে হলেও প্রায় ১০৯ বার কী কারণে সংঘটিত হল? যদিও বা নাসা’র বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে আজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজারেরও অধিক এই ধরণের গ্রহণের ঘটনা ঘটেছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। বিস্তারিত, ক্লিক

২. “যদি মূসা ও ঈসা দুইজনই জীবিত থাকত তাহলে আমার আনুগত্য ছাড়া তাঁদের আর কোনো উপায় থাকত না (لو كان موسى وعيسى حيين ، لما وسعهما إلا اتباعي)।” সিয়াহ সিত্তার বাহিরের সংকলন ‘তাফসীর ইবনে কাসীর’ থেকে। উল্লেখ্য, ইমাম ইবনে কাসীর এটিকে ভিত্তিহীন হওয়া সত্ত্বেও শুধুই সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গ্রন্থবদ্ধ করেছেন। অধিকন্তু তাঁর নিজেরও আকীদা ছিল, ঈসা (আ.)-এর এখনো মৃত্যু হয়নি, তিনি শেষযুগে আকাশ থেকে নাযিল হবেন। তার বক্তব্য এইরূপ, (ذكر الأحاديث الواردة في نزول عيسى بن مريم إلي الأرض من السماء في آخر الزمان قبل يوم القيامة)। দেখুন, তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা নিসা আয়াত-১৫৭-৫৮ সংশ্লিষ্ট তাফসীর। শায়খ আলবানী (রহ.) লিখেছেন, ঈসা শব্দে উল্লিখিত রেওয়ায়েত সহীহ নয়, তবে শুধুই মূসা শব্দে উল্লিখিত রেওয়ায়েতটি বহু সূত্রের সমষ্টিতে শক্তিশালী (فذكر عيسى في هذا الحديث لا يصح ، الحديث قوي بمجموع طرقه لذكر موسى :(لو كان موسى حيا لما وسعه إلا إتباعى) তথ্যসূত্রঃ, ফাতাওয়া আ’বরুল হাতিফ ওয়াস সাইয়ারাহ (فتاوى عبر الهاتف والسيارة) পৃ-১৪১। বিস্তারিত, ক্লিক

৩. ইমাম মাহদী ইয়েমেনের ‘কার’আ’ [কাদিয়ানীরা শব্দটিকে বিকৃত করে ‘কাদেয়া’ শব্দে] নামক গ্রাম থেকে বেরুবেন (يخرج المهدي من قرية باليمن يقال لها كرعة)। সিয়াহ সিত্তার বাহিরে ইমাম সুয়ূতির সংকলন ‘আল আরফুল ওয়ারদি ফী আখবারিল মাহদী’ পৃ-৫৬ থেকে। উল্লেখ্য, ঐ একই বর্ণনায় ‘ইয়েমেন’ দেশটিরও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কাদিয়ানী নেতারা সম্পূর্ণ রেওয়ায়েত থেকে ‘ইয়েমেন’ (اليمن) শব্দটি আস্তে করে হজম করে ফেলে। শুধু তাই নয়, কার’আ (كرعة) শব্দকে “কাদেয়া” (كدعة) শব্দেও পরিবর্তন করে ফেলে। যাইহোক, এটি জাল ও অগ্রহণযোগ্য রেওয়ায়েত। হাদীসশাস্ত্রের প্রায় ১৬ জন বিশেষজ্ঞ যারা মির্যা কাদিয়ানীর জন্মেরও শতাধিক বছর আগেকার, তারা প্রত্যেকে এর সনদ (সূত্র) পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে পরিষ্কার লিখে গেছেন ‘এটি জাল তথা বানোয়াট হাদীস’। বিস্তারিত, ক্লিক

৪. “একটি দল আহমদ নামের মাহদী’র সঙ্গী হয়ে হিন্দুস্তানে সশস্ত্র যুদ্ধ করবে (اصابة تغزوا الهند و هى تكون مع المهدى اسمه أحمد)।” সিয়াহ সিত্তার বাহিরের সংকলন ”আত-তারীখুল কাবীর’ গ্রন্থ থেকে। উল্লেখ্য, মির্যার বাড়ী হিন্দুস্তানে হওয়ায় রেওয়ায়েতটিতে “হিন্দুস্তান” (الهند) শব্দ দেইখা খুশি হবার কোনো কারণ নেই। কেননা প্রথমত, রেওয়ায়েতটি ভিত্তিহীন। দ্বিতীয়ত, এই রেওয়ায়েতেই ঐ মাহদী হিন্দুস্তানে কাফের-মুশরিকদের সাথে সশস্ত্র যুদ্ধকরা প্রসঙ্গে গাজওয়াহ (غزوة/Armed struggle) শব্দ স্পষ্টভাবে এসেছে। অথচ মির্যা কাদিয়ানী আজীবন যুদ্ধবিগ্রহেরই বিরোধিতা করে আসছে। তাহলে এখন এই রেওয়ায়তটিও মির্যার সাথে কিভাবে মিলাবেন?

৫. “ঈসা ইবনে মরিয়ম ১২০ বছর জীবনযাপন করেছেন (إنه لم يكن نبي إلا عاش نصف عمر الذي كان قبله وأخبرني أن عيسى بن مريم عاش عشرين ومائة سنة ولا أراني إلا ذاهباً على رأس الستين فبكت)।” সিয়াহ সিত্তার বাহিরের সংকলন ইমাম সোলায়মান ইবনে আহমদ আত-তাবারানী’র ‘মু’জামুল কাবীর ৫/১১৬’ এবং ইবনে কাসীর সংকলিত ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ ২/৯৫ থেকে। উল্লেখ্য, দেওয়ায়েতটির ধারাবাহিক বর্ণনা সূত্র খুবই দুর্বল ও মুনকার। হাফেজুল হাদীস ইমাম ইবনে আসাকির (রহ.) লিখেছেন, বিশুদ্ধ কথা হল, ان عيسى لم يبلغ هذا العمر অর্থাৎ নিশ্চয়ই ঈসা এই বয়সে পৌঁছেননি। অধিকন্তু একই বর্ণনার শেষের লাইনে লিখা আছে, ‘প্রত্যেক নবী তাঁর পূর্বের নবীর অর্ধেক আয়ুষ্কাল অবশ্যই পেয়েছেন (أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ إِلَّا عَاشَ نِصْفَ عُمَرَ الَّذِي قَبْلَهُ)। এখন যারা এই রেওয়ায়ত অথেনটিক মানেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই, এই জ্যামিতিক হিসাবে নবী দাবীদার খোদ মির্যার বয়সটিও হওয়া উচিত ছিল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ৬৩ বছরের অর্ধেক অর্থাৎ ন্যূনতম ৩১ বছর। কিন্ত আফসোস এটাও সম্ভবপর হয়নি! বরং মির্যা কাদিয়ানী (১৮৩৯/৪০-১৯০৮) মারা যান ৬৮/৬৯ বছর বয়সে! (রূহানী খাযায়েন ১৩/১৭৭) কবি নিরব! বিস্তারিত, ক্লিক

৬. আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, “তোমরা খাতামুল নাবিয়্যীন বলো, (তবে) তোমরা বলবেনা তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই (قُولُوا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ , وَلا تَقُولُوا : لا نَبِيَّ بَعْدَهُ)।” সিয়াহ সিত্তা’র বাহিরের সংকলন ইমাম তাহের পাটনী (রহ.) সংকলিত ‘মাজমাউল বিহার’ পৃ- ৫০২ থেকে। উল্লেখ্য, তারা এর পরের অংশটুকু আর বলে না! অথচ সংশয় নিরসনকারী জবাব তার পরের অংশেই উল্লেখ রয়েছে। কেননা পরের অংশটি হচ্ছে (আরবী) هذا ناظراً إلى نزول عيسى অর্থাৎ এটি ঈসার নাযিল হওয়ার প্রতি দৃষ্টি রেখে। যাইহোক, এভাবে বললে অনেক বলা যায়। বিস্তারিত, ক্লিক

এখন প্রশ্ন হল, কাদিয়ানীরা যখন প্রতিপক্ষের নিকট দলিল প্রমাণ শুধুই কেবল সহীহ বুখারী আর মুসলিম শরীফ থেকে কিংবা সিয়াহ সিত্তার সংকলন থেকে দিতে দাবী করেন তখন নিজেদের এই সমস্ত উদ্ধৃতির সোর্স-এর কথা কেন স্মরণ থাকেনা? আরে জনাব! একটু তো সুবিচার করবেন, তাই না! এত নির্মম আর নিকৃষ্ট দ্বৈত আচরণ আল্লাহ সহ্য করবেন না!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কাদিয়ানীদের বইতে কাউকে মুরতাদ বলার হুকুম

কাদিয়ানীদের তথাকথিত তৃতীয় খলীফা মির্যা তাহের আহমদ এর বই থেকে

প্রথমে মুরতাদ সম্পর্কে জানা যাক, তারপর প্রাসঙ্গিক আলোচনায় ফিরব, ইনশাআল্লাহ। মুরতাদ (مرتد) শব্দটি আরবী। এর ক্রিয়ামূল হচ্ছে ‘আল ইরতিদাদ’ (الارتداد)। বাবে ইফতি’আল থেকে। মূলধাতু رد বা রাদ্দ। আভিধানিক অর্থ, বিমুখ হয়েছে বা ফিরে গিয়েছে এমন ব্যক্তি। এর মূল কথা হলো, ইসলাম ত্যাগ করা বা ইসলামের কোনো মৌলিক আকিদা বা বিধানকে মানতে অস্বীকার করা কিংবা তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করা অথবা ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের অবমাননা করা।

কাদিয়ানী খলীফা মির্যা তাহের আহমদ-এর বাণীতে কেউ অপর কাউকে মুরতাদ বলার অধিকার নেই :

কাদিয়ানী মতবাদের তৃতীয় খলীফা মির্যা তাহের আহমদ সাহেব ‘অপর কাউকে মুরতাদ বলা’ সম্পর্কে কী লিখলেন তা এবার আপনাদের দেখাচ্ছি। তিনি তার রচিত ‘আল্লাহ’র নামে নরহত্যা‘ বইতে লিখেছেন, “পবিত্র কুরআনে ‘রিদ্দা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে অকর্মক রূপে (ইফতি’আল-এর ওজনে) যার অর্থ হচ্ছে, প্রত্যেকের পছন্দ অপছন্দের অধিকার আছে, কিন্তু কারো এই অধিকার নেই যে, সে অপর কাউকে মুরতাদ বলে। এটা একটি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত কাজ এবং এতে বাহিরের কারও কোনো ভুমিকা পালন করার কিছু নেই।” তিনি একই পৃষ্ঠায় কয়েক লাইন উপরে ‘ইরতাদ্দা’ এর ব্যকরণিক বিশ্লেষণ দ্বারা লিখেছেন, “স্বকীয় বিশ্বাস পরিত্যাগ বা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে পবিত্র কুরআন যে শব্দটি ব্যবহার করেছে তা হচ্ছে, ইরতাদ্দা’-যার অর্থ—কোনো মুসলমানকে মুরতাদ বলার অধিকার কারো নেই। ইমাম রাগিব ইস্পাহানীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘ইরতেদাদ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে–যে স্থান থেকে রওয়ানা দিয়েছিল সেই স্থানে ফিরে আসা। শব্দটি বিশেষভাবে সেইভাবে ধর্মত্যাগ করার অর্থাৎ ইসলাম থেকে কুফরীতে (অবিশ্বাসে) প্রত্যাবর্তন করার সঙ্গে সম্পৃক্ত।” (আল্লাহর নামে নর হত্যা, পৃষ্ঠা নং ১১; মির্যা তাহের আহমদ)। স্ক্রিনশট এই,

পরিশেষে আমার প্রশ্নটি হচ্ছে, অনলাইন কিবা অফলাইনে আমরা আহমদী-কাদিয়ানীদের অনেককে কথায় কথায় ‘কাদিয়ানী জামাত ত্যাগকারী’-কে মুরতাদ আখ্যা দিতে দেখে থাকি। অথচ একটু আগেই আমরা প্রমাণ করেছি যে, তাদের কথিত খলীফা মির্যা তাহের আহমদ পরিষ্কার করে লিখে গেছেন যে, কারও জন্য অপর কাউকে মুরতাদ বলার অধিকার নেই। এমতাবস্থায় কাদিয়ানী জামাতের যারা কথায় কথায় তাদেরই Ex Ahmadi or Ex Qadiani (জামাত-ত্যাগকারী)-দের মুরতাদ বলছে তাদের ব্যাপারে জামাতে আহমদীয়ার অফিসিয়ালি কী ফতুয়া (সীদ্ধান্ত)? আশাকরি প্রশ্নের উত্তর দেবেন!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

ঈসা (আ.) শেষ যুগে দামেস্কের কোন জায়গায় নাযিল হবেন?

জনৈক কাদিয়ানী কাল্ট-এর হাস্যকর কিছু কন্টেন্ট ও আমার পালটা কিছু প্রশ্ন,

কাদিয়ানী : মাহদী অনেক কিন্তু ‘ইমাম আল মাহদী’ একজনই।

আমার প্রশ্ন, এখন সেই একমাত্র ইমাম মাহদীটা যদি মির্যা কাদিয়ানী হয় তাহলে সহীহ ও মারফূ সূত্রে বর্ণিত মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলো দিয়ে মির্যাকে ইমাম মাহদী প্রমাণ করতে পারেন না কেন?

কাদিয়ানী : দুইজন ফেরেস্তার দুই ডানায় ঈসা (আ.) তাঁর দুই বাহু রেখে দামেস্কে নাযিল হবেন অর্থাৎ উনার সাথে স্বর্গীয় সাহায্য থাকবে।

আমার প্রশ্ন, এইরকম (অপ)ব্যাখ্যা কোনো একজন বরেণ্য হাদীস বিশারদ আর যুগ ইমাম থেকেও কিজন্য প্রমাণ করতে পারেন না? যাইহোক, তাহলে দামেস্ক-এর কী রূপক ব্যাখ্যা দেবেন? যেহেতু ঈসা (আ.) নাযিল হবেন দামেস্কের (সিরিয়ায়) শ্বেত মিনারার সন্নিকটে। শ্বেত মিনারার-ও বা কী ব্যাখ্যা দেবেন? নাকি হাদীসটির অন্য সবকিছু রূপক, শুধুই শ্বেত মিনারাটাই বাস্তব? এগুলা যে সম্পূর্ণ ফাজলামি ব্যাখ্যা তা বুঝার আর কী বাকি! উল্লেখ্য, হযরত কাতাদাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন,

الشام أرض المحشر و المنشر و بها يجتمع الناس رأسا واحدا و بها ينزل عيسى ابن مريم و بها يهلك الله المسيح الدجال

অর্থাৎ শাম পুনরুত্থিত ও একত্রিত হবার ভূমি। মানুষ সেখানে (কেয়ামত দিবসে) সারিবদ্ধ হয়ে একত্রিত হবে এবং সেই ভূমিতেই ঈসা ইবনে মরিয়ম নাযিল হবেন এবং সেখানেই আল্লাহতালা (তাঁর মাধ্যমে) মসীহ দাজ্জালকে ধ্বংস করবেন। (তারিখে দামেস্ক, ইমাম ইবনে আসাকির খ-১/ পৃ-১৭০)।

বলে রাখা জরুরি, মুসলিম শরীফের হাদীসে شرقى دمشق দ্বারা দামেস্কের পূর্বপ্রান্তে বলে দামেস্ক ভিন্ন অন্য কোনো ভূখণ্ড উদ্দেশ্য নয়, বরং দামেস্কেরই প্রাচীনতম ভৌগোলিক পরিসীমার অন্তর্গত একই ভূমির পূর্বপ্রান্তে শ্বেত মিনারার সন্নিকটে ঈসা (আ.) অবতীর্ণ হবেন বলে বুঝানো হয়েছে, যা তারিখে দামেস্কের উল্লিখিত বর্ণনা-

و بها ينزل عيسى ابن مريم

দ্বারাও পরিষ্কার ইংগিতবিশিষ্ট। সুতরাং কাদিয়ানীদের ব্যাখ্যামতে ‘দামেস্কের পূর্বপ্রান্তে মানে দামেস্কের পূর্ব দিকের হিন্দুস্তান রাষ্ট্র উদ্দেশ্য নেয়া’- ইসলামী শিক্ষায় সুস্পষ্ট তাহরিফ বৈ কিছুই না। মজার ব্যাপার হল, কাদিয়ানীদের ঐ ব্যাখ্যাটা মির্যা কাদিয়ানীরই অন্য আরেকটি বক্তব্যের ঘোরতর বিরোধী! কারণ মির্যা কাদিয়ানী নিজেও তার রচনার এক জায়গায় স্বীকার করে লিখেছেন,

ہاں دمشق میں عند المنارۃ اترنے کی حدیث مسلم میں موجود ہے

অর্থাৎ ‘হ্যাঁ ঈসা (আ.) দামেস্কে শ্বেত মিনারার নিকটে নাযিল হবেন, এমন একটা হাদীস মুসলিম শরীফে উল্লেখ আছে।’ (রূহানী খাযায়েন ৩/১৭২)। স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

প্রসঙ্গত, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত উমাইয়া মসজিদ বা দামেস্ক গ্র্যান্ড মসজিদ বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। উমাইয়া খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের শাসনামলে ৭০৫ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘ নয় বছরের পরিশ্রম শেষে ৭১৪ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। ইসলামী বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন যে, সহীহ মুসলিমসহ অন্যান্য হাদিসগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী কেয়ামতের আগে এখান থেকেই বনী ইসরাইলি নবী হযরত ঈসা (আ.) পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। মসজিদটির দক্ষিন-পূর্ব, দক্ষিন-পশ্চিম কোণ এবং উত্তর দিকে মোট তিনটি মিনার রয়েছে। এরমধ্যে বাম দিকের মিনারটি منارة المسيح বা ‘যিশু মিনার’ (minarat of jesus) নামেও পরিচিত।

কাদিয়ানী : আগমনকারী ইমাম মাহদী মির্যা কাদিয়ানী সাহেব দাদীর দিক থেকে ফাতেমা (রা.) বংশেরও।

আমার প্রশ্ন, মির্যা কাদিয়ানী তাহলে তার আরেক রচনায় নিজেকে ফাতেমি হওয়া কিজন্য অস্বীকার করল? দেখুন, রূহানী খাযায়েন ২১/৩৫৬।  আর আপনাদের ‘আহমদ চরিত’ বইতে তার বংশ মোগল বরলাস (তৈমুর লং-এর বংশধর) উল্লেখ আছে। (আরও দেখুন, হায়াতে তাইয়েবাহ পৃষ্ঠা নং ২)। এখন কোনটা সঠিক?

কাদিয়ানী : মরিয়ম সিদ্দীকা ছিলেন, মরিয়ম থেকে নবীর জন্ম হয়েছে সেইভাবে মির্যা গোলাম আহমদ দুই বছর সিদ্দিক থাকার পর নবী হয়েছেন।

আমার প্রশ্ন, মির্যা কাদিয়ানী ‘রূপক ঈসা’ দাবী করেছেন। এমনকি রূপকভাবে প্রেগন্যান্ট হওয়ার দাবীদারও তিনি। এখন তার আরেক ভাষ্যমতে, আগামীতে আরও দশহাজারের চেয়েও অধিক মসীহ্ দুনিয়ায় আগমন করলে, তখন তারাও কি সবাই প্রেগন্যান্ট হবেন? (দেখুন, রূহানী খাযায়েন খণ্ড ৩ পৃষ্ঠা ২৫১)। খোদার সাথে কাশফি হালতে তাদেরও কি ইন্টারকোর্স হবে? (নাউযুবিল্লাহ); তারাও কি উম্মতি/জিল্লি/বুরুজি নবী হবেন? কবি বরাবরের মত এখানেও নিরব!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

আমি আল্লাহ’র নিকট খাতামুন নাবিয়্যীন হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম

  • ‘শেষনবী’-এর সংজ্ঞার উপর আপত্তির জবাব :

প্রশ্নকর্তা (কাদিয়ানী) :– আপনি লিখেছেন, “শেষনবী” বলতে বুঝায় যিনি নবুওয়তপ্রাপ্তির দিক থেকে সকল নবীর শেষে হন তিনিই শেষনবী। অথচ একটি হাদীসে এসেছে, নবীজী (সা.) বলেছেন ‘আমি নিশ্চয়ই তখনও আল্লাহর বান্দা ও খাতামুন নাবিয়্যীন ছিলাম যখন আদম (আ.) কর্দমাক্ত অবস্থায় তাঁর সৃষ্টির সূচনায় ছিলেন।’ এতে বুঝা যাচ্ছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহপাক সবার আগে নবুওয়ত দিয়েছেন। অতএব, বিষয়টি বুঝিয়ে দিন!

উত্তরদাতা :– প্রথমত, “শেষনবী” (آخر الانبياء)-এর উক্ত সংজ্ঞাটা আমার নিজের গড়া নয়, বরং ইমাম যামাখশারী (মৃত. ১১৪৩ খ্রিস্টাব্দ) তা নিজ হাতে লিখে গেছেন। দেখুন, তাফসীরে কাশশাফ ৩/৫৪৫। দ্বিতীয়ত, প্রশ্নে উল্লিখিত রেওয়ায়েতটির আরবী হচ্ছে এরকম, إني عند الله لخاتم الأنبياء وإن آدم لمنجدل في طينته কিন্তু এই রেওয়ায়েতটি যে সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে ঐ একই সাহাবী থেকে উক্ত রেওয়ায়েতের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও পরিষ্কার বর্ণিত আছে যা পড়ার পর “শেষনবী“-এর সংজ্ঞার উপর উত্থাপিত আপত্তিটি সম্পূর্ণভাবে তিরোহিত হয়ে যায়। যেমন হযরত ইরবাস ইবনে সারিয়াহ (রা.) হতে অপর আরেকটি রেওয়ায়েতে এসেছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, إِنِّي عند اللهِ لمكتوبٌ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ، وَإِنَّ آدَمَ لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ অর্থ- নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ’র নিকট খাতামুন নাবিয়্যীন হিসেবে তখনও লিপিবদ্ধ ছিলাম যখন আদম (আ.) কর্দমাক্ত অবস্থায় তাঁর সৃষ্টির সূচনায় ছিলেন।‘ (মেরকাত শরহে মেশকাত, কিতাবুল ফাজায়েল ওয়াশ শামায়েল, মসনাদে আহমদ ৪/১২৭, বায়হাক্বী, সহীহ ইবনে হাব্বান, হাকেম)। (ফেইসবুক থেকে পড়ুন)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি নিচে তুলে ধরছি। কিতাবটির অনলাইন কপি

খুব খেয়াল করুন, এখানে বলা হচ্ছে مكتوب (written) তথা লিপিবদ্ধ। হাদীস কিন্তু বলছেনা যে, রাসূল (সা.) রূহের জগতে থাকতেই সত্বর নবুওয়তপ্রাপ্ত ছিলেন! অন্য আরেকটি রেওয়ায়েত মতে, “আমার জন্য নবুওয়ত পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল” (মেরকাত শরহে মেশকাত, খণ্ড নং ১০; হাদীস নং ৫৭৫৮, কিতাবুল ফাজায়েল ওয়াশ শামায়েল)। আরেক রেওয়ায়েতে এসেছে, জনৈক সাহাবী প্রশ্ন করেছিলেন, مَتَى كُتِبْت نَبِيًّا؟ فَقَالَ: وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَد অর্থ- হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নাম কবে থেকে নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিল? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, “যখন থেকে আদম (আ.) রূহ এবং শরীরের মাঝামাঝিতে সৃষ্টির সূচনায় ছিলেন।” (মুসনাদে আহমদ ৫/৫৯; আস সিলসিলাতুস সহীহা ৪/৪৭১ শায়খ আলবানী)। অতএব প্রশ্নকারীকে একই বিষয়ে সবগুলো রেওয়ায়েত পড়াশোনা না করায় চরম বিভ্রান্তির শিকার হতে হয়েছে। অন্যথা ইমাম যামাখশারী (রহ.) “শেষনবী”-এর সংজ্ঞায় যে কথা লিখে গেছেন সেখানে সে ভুল খোঁজার দুঃসাহস দেখাতেন না। (এক নজরে পড়ুন)।

কে জানি বলেছিল, আবার সত্যি সত্যিই যদি বনী ঈসরালের নবী ঈসা (আ.) শেষে আসে তবে জন্মের দিক দিয়ে শেষ নবী না হলেও মৃত্যুর দিক দিয়ে ঈসা (আ.)-ই ‘শেষনবী‘ হন। উত্তরে বলব, মৃত্যুর দিক থেকেও ঈসা (আ.) শেষনবী হন না। কেননা ঈসা (আ.) মৃত্যুর আগে পূর্বে প্রাপ্ত নবুওয়তকে রি-নিউ করবেন না, ফলে নবুওয়তের সীলও ভাঙ্গতে হবেনা। হ্যাঁ, তিনি যদি আগের নবুওয়তকে নতুনভাবে রি-নিউ (নবায়ন) করতেন, তখনি কেবল আপনার উত্থাপিত প্রশ্নটি ঠিক ছিল।

পরিশেষে কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যে একটা প্রশ্ন, রাসূল (সা.) রূহের জগতেই নবুওয়তপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে তাঁর দুনিয়ায় আগমনের পর পুনরায় নবুওয়তপ্রাপ্ত হবার কী মানে? একজন নবী কি একাধিকবার নবুওয়তপ্রাপ্ত হন? এই কমনসেন্সটুকুও নেই বুঝি আপনার/আপনাদের?

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

সিজোফ্রেনিয়া পাড়ার কাদিয়ানী কাল্টদের অবস্থা!

কাল্ট কারে কয় দেহেন….!

সিজোফ্রেনিয়া পাড়ার মানুষগুলার অন্ধত্ব আর অসুস্থতার সামান্য নমুনা তুলে ধরছি, জনৈক কাদিয়ানী কাল্টকে উদ্দেশ্য করে…

আমি : মির্যা কাদিয়ানী সাহেবকে তুমি “ইমাম মাহদী” বিশ্বাস করছ অথচ সে ছিল অনেক বড় মিথ্যাবাদী, প্রতারক আর জালিয়াতিকারী।

কাল্ট : তুমি তো তাকে এসব বলবাই! কারণ মোল্লারা এরকমই। (বলে রাখতে চাই, কাদিয়ানীরা তাদের সমস্ত বিরোধীকে “মোল্লা” শব্দে আখ্যা দেয়। শব্দটি তারা গালি হিসেবে ব্যবহার করে থাকে)।

আমি : সে যে জঘন্য মিথ্যাবাদী ছিল আমি কি তা প্রমাণ করে দেব?

কাল্ট : বিরুদ্ধবাদীরা আরও কত কী কইব…!

আমি : আরে আমি বলছি, সে যে মিথ্যুক সেটা আমি প্রমাণ করে দেব কিনা? তার রচিত বই পুস্তক দিয়েই প্রমাণ করে দেব! শুধু ২/১টা না, ডজন ডজন মিথ্যাচার প্রমাণ করে দেব!

কাল্ট : খোদাকে ভয় কর, খোদা কিন্তু সইবেনা! বিরুদ্ধবাদীরা সব সময় সরব ছিল, কিছুই করতে পারেনি।

আমি : আমি বলছি, মির্যা একজন মিথ্যুক। আপনি প্রমাণ চাচ্ছেন না কেন? আমি তাকে তার রচনাবলি দিয়েই প্রমাণ করে দেব যে, সে শতাব্দীর নিকৃষ্ট মহা প্রতারক আর মিথ্যাবাদী! প্রমাণ চাইতে ভয় কিসের আপনার?

কাল্ট : বিরোধিতা আগেও ছিল, এখনো হচ্ছে, সামনেও হবে। সুতরাং তুমি বা তোমার মত বিরুদ্ধবাদীরা এক সময় থাকবেনা। দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

আমি : মির্যা শুধু মিথ্যুক ছিলনা, সে একজন দুশ্চরিত্রও ছিল। বেগানা মহিলাদের দিয়ে শারীরিক সেবা নিত। প্রায় ৪/৫ জন বেগানা নারী তার সেবায় নিয়োজিত ছিল, কখনো কখনো সারা রাত্রি তার সঙ্গে একই রুমে ছিল। এগুলা কি ইসলামের পর্দা বিধান সুস্পষ্ট লঙ্গন ছিলনা? এখন বলুন, এধরণের অসভ্য, দুশ্চরিত্র মানুষ ইমাম মাহদী নির্বাচিত হবার যোগ্য হতে পারে কিভাবে?

কাল্ট : বিরুদ্ধবাদীরা আরও কত শত মিথ্যাচার করবে! করতে থাকুন! আল্লাহ এই ঐশী জামাতের সাথে ছিলেন, থাকবেন! তোমরা হারিয়ে যাবে একদিন।

আমি : দশ লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, যদি আমি মির্যাকে তারই রচনা সমূহ দিয়ে জঘন্য মিথ্যুক সাব্যস্ত করতে না পারি তাহলে আমি আপনাকে নগদে দশ লক্ষ টাকা দেব। এখনো কি আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন না?

কাল্ট : খোদার জামাত, এলাহি জামাত! তুমি যত চেষ্টাই করবে, জামাতের কিছুই করতে পারবেনা…..!

আমি : আমি আপনাকে মির্যার মিথ্যাবাদী হবার বিষয়ে যতই বলছি আপনি ততই এড়িয়ে যাচ্ছেন! ব্যাপারটা আসলে কী? আপনি কি মূলের সমস্যা থাকার চিন্তা বাদ দিয়ে শাখায় তেল মর্দন করতে থাকবেন? এ কি আজব কাণ্ড রে বাপু!

কাল্ট : এ বছর বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামা’তে বয়আতকারীর সংখ্যা ১লক্ষ ৭৬হাজার ৮শত ৩৬ জন যা গত বছরের থেকে ৫১হাজার ৬শত ১৫জন বেশি।
আলহামদুলিল্লাহ!!

হায় রে ব্রেইন ওয়াশ!! আমি বলি কী! আর আমারে বলে কী….!!! সতর্কতা, যদিও পুরো লিখাটি আমার নিজেরই চিন্তা থেকে লেখিত কিন্তু বাস্তবতা এমনই। যারা এদের সাথে মিশেছেন তারা অবশ্যই জানবেন। এরা কখনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেনা। কারণ, এরা দেরিতে হলেও মুটামুটি বুঝতে পেরেছে যে, এখানে প্রবলেম আছেই। তাই ভিক্ষা চাই না, তোর কুত্তা সামলা….অবস্থায় পড়ার ভয়ে কখনো চ্যালেঞ্জ নেয়ার সাহস রাখেনা! উপরের টোটালি কনসেপ্টটাকেই একশব্দে “কাল্ট” বলা হয়। যার সহজ বাংলা–ব্রেইন ওয়াশ। এরকম ব্রেইন ওয়াশ যারা তাদের সাথে তর্ক করে যদিও সাধারণভাবে কোনো ফায়দা নেই কিন্তু আমার বিচারে, খুব বেশি ফায়দা এখানেও নিহিত। আর সেটি হচ্ছে, “নাড়া” দেয়া। ভেতর থেকে তার সুপ্ত বিবেককে জাগিয়ে তুলা। যদি আমার আপনার এই প্রচেষ্টা ইখলাসের সাথে ও দোয়ার মাধ্যমে জারি থাকে, তবে ইনশাআল্লাহ ; এরকম ব্রেইন ওয়াশ কাদিয়ানী কাল্টরাও কোনো একদিন অবশ্যই হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।