Home Blog Page 21

মির্যার স্ববিরোধীতা-২৯

ফাতেহ কাদিয়ান খ্যাত শায়খ সানাউল্লাহ অমৃতসরী (রহ.) সম্পর্কে মির্যার যাবতীয় লেখনীর বিষয়বস্তু গুলো শুধুই দোয়া-নির্ভর, আরেক জায়গার ভাষ্যমতে ইলহাম নির্ভর!

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে,

‘মৌলবী সানাউল্লাহ চে আখেরী ফয়সালা’ শীর্ষক শিরোনামে মির্যা সাহেব যা লিখে গেছেন সে সম্পর্কে তার বইয়ের এক জায়গায় লিখা আছে, “ইয়ে কেসি ইলহাম ইয়া ওহী কি বেনা ফর ফেশগোঈ নিহি, মহছ দু’আ কি তূর ফর মে নে খোদা চে ফয়সালা ছাহা”। অর্থ, এটি কোনো ইলহাম বা ওহীর ভিত্তিতে ভবিষ্যৎবাণী নহে, শুধুই দোয়ার মাধ্যমে আমি খোদার পক্ষ হতে ফয়সালা চেয়েছিলাম। (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/৫৭৮; নতুন এডিশন)।

স্ববিরোধী কথা :

তিনি আরেক জায়গায় লিখেছেন,

“সানাউল্লাহ কে মুতা’আল্লক জু কুচ লিখহা গিয়া ইয়ে দর-আছল হামারে তরফ চে নেহি, বলকে খোদা হী কে তরফ চে উসকি বুনিয়াদ রাখহি গী হে।” অর্থ, সানাউল্লাহ সম্পর্কে আমি যা কিছু লিখেছি তা প্রকৃতপক্ষে আমার পক্ষ হতে নহে, বরং খোদারই পক্ষ হতে সেটির ভিত্তি রাখা হয়েছে। (মির্যায়ী রচনা মালফুযাত ৫/২০৬ নতুন এডিশন)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)। অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

পবিত্র কুরআনে ঈসা জীবিত থাকার দলিল

হায়াতে ঈসা মসীহ প্রসঙ্গ

পবিত্র কুরআন হতেও ইংগিতে প্রমাণিত, হযরত ঈসা (আ.)-এর পুনঃআগমন অকাট্য সত্য!

  • কে জানি বলেছিল, ঈসা (আ.) জীবিত নেই, কুরআন নাকি এর সাক্ষী! আমি জবাবে বলতে চাই, এটি একদমই অসত্য দাবী, যে দাবী পরিষ্কার কুরআন বিরোধী।

বিজ্ঞপাঠকবৃন্দ! লক্ষ্য করুন, পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ৪৬। সেখানে ঈসা (আ.) সম্পর্কে,

و يكلم الناس فى المهد و كهلا

বলা আছে। অর্থ, ঈসা (আ.) দোলনায় থাকাবস্থায় যেমন মানুষের সাথে কথা বলবেন (শৈশবে বলেছেনও), তদ্রূপ প্রৌঢ় বয়সেও বলবেন।

আরবি অভিধানগ্রন্থ ‘লিসানুল আরব‘ [لسان العرب] দেখুন, كهل (কাহোল) বা প্রৌঢ় বয়স ৩৪ থেকে ৫১-এর মাঝামাঝি বয়সকে বলে। এখন আমার প্রশ্ন হল, ঈসা (আ.) এর উর্ধ্বাকাশে হযরত জিবরাঈলের মাধ্যমে ‘রাফা’ বা উঠিয়ে নেয়া যদি অনূর্ধ্ব তেত্রিশ বছর (Thirty-three years) বয়সে হয় (নিশ্চয় এই রকম বয়সেই তাঁর রাফা হয়েছিল,

حين رفع كان ابن اثنتين و ثلاثين سنة و ستة اشهر;

তবকাতে ইবনে সা’আদ ১/৩৫-৩৬ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত), তাহলে তিনি প্রৌঢ় বয়সে কখন পৌছলেন? আর ঐ প্রৌঢ় (তথা পরিণত) বয়সে মানুষের সাথেও বা কখন কথা বললেন? এখন যদি প্রৌঢ় বয়সে তাঁর কথা বলতে হয় তবে কি তাঁকে পৃথিবীতে পুনরায় আসতে হবেনা? অবশ্য আসতে হবে।

উল্লেখ্য, জিবরাঈলের মাধ্যমে সংঘটিত ‘রাফা’ হতে শুধুই রূহ উঠিয়ে নেয়া উদ্দেশ্য হবেনা (فأوحى الله عز وجل إلي جبريل عليه السلام أن أرفع عبدي إلي ;রেফারেন্স তারীখে ইবনে আসাকীর ৪৭/৪৭২, তারীখে বাগদাদ ১১/৩৭৯)।

সুতরাং কুরআনের উক্ত আয়াতের মজবুত ইংগিত, ঈসা (আ.)-এর পুনঃ আগমন অকাট্য সত্য; (কাজেই রূপক তুপক এগুলা আজেবাজে কথা)। অসংখ্য সহীহ হাদীস এ কথারই পরিষ্কার সাক্ষী।

  • বলাবাহুল্য, ঈসা (আ.)-এর ১২০ বছর জীবন-যাপন করা মর্মে বর্ণনাটি সহীহ নয়, বরং সর্বসম্মতিক্রমে দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য। তাছাড়া বর্ণনাটির শুরুতে কিন্তু এও উল্লেখ আছে, ‘প্রত্যেক নবী তাঁর পূর্বের নবীর অর্ধেক আয়ুষ্কাল অবশ্যই পেয়েছেন।’ তাই এখন প্রশ্ন দাঁড়াবে, হযরত ইদরীস (আ.) এর পরেই হযরত নূহ (আ.)-এর আগমন হয়। আর হযরত ইদরীস (আ.)-এর বয়স হয়েছিল মাত্র ৮২ বছর। অপরদিকে নূহ (আ.)-এর বয়স ছিল ৯৫০ বছর। অথচ তাঁর বয়স ৮২ বছরের অর্ধেকই হওয়ার কথা। এখন এটি কি সুস্পষ্ট অসঙ্গতিপূর্ণ কথা নয়? রাসূল (সা.) কি এইরূপ অসঙ্গতিপূর্ণ কথা বলবেন? নিশ্চয়ই না। উল্লেখ্য, বাইবেল ‘আদিপুস্তক‘ ৫:১৮-২৪ মতে ইদরীস (আ.) ৩৬৫ বছর জীবিত ছিলেন।

সে যাইহোক, কোনোভাবেই কিন্তু নূহ (আ.) হযরত ইদরীস (আ.)-এর অর্ধেক আয়ুষ্কাল পাননি। এভাবে আরও অনেক উল্লেখ করা যাবে। সংক্ষেপে।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

দশ ঢোক দুধ পান ও কুরআনে রজমের আয়াত থাকা

শীয়া, আহলে কুরআন, খ্রিস্টান মিশনারী এবং নাস্তিকদের বিভ্রান্তিমূলক জিজ্ঞাসার জবাবে অতিব সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ লিখাটি লিখছি

প্রশ্নকর্তা : কুরআনে রজমের আয়াত নেই কেন?

উত্তর : প্রশ্নকারী হয়ত বিভিন্ন হাদীসে রজম সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হওয়ার বিষয়ে জানতে পেরে অতপর সেই আয়াত কুরআনে বিদ্যমান নেই দেখেই বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন! এমন অনেকের এই বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রধান কারণ হচ্ছে তাদের নাসিখ-মানসূখের পুরোপুরি ইলম (নলেজ) না থাকা।

এবার মূলকথায় আসা যাক,

রজমের আয়াত সম্পর্কে ঐতিহাসিকভাবে যে তথ্যটি পাওয়া যায় সেখানে আরও একটি তথ্য রয়েছে, নাস্তিক জিন্দিকরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেই তথ্যটি চেপে যায় শুধুই কুরআনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। সে তথ্যটি হল, রজমের আয়াত সম্পর্কে হাদীস দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, সেগুলো কুরআনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলনা, ফলে সেগুলোর তেলাওয়াত এবং বিধান উভয়টি রহিত। ফলে রাসূল (সা.) কুরআন সংকলনের সময় সেসব আয়াতও পান্ডুলিপিতে সন্নিবেশিত করতে নিষেধ করেন। এ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, হযরত উমার (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নিকট গিয়েছিলেন এবং জিজ্ঞেস করেছিলেন,

يا رسول الله أكتبني آية الرجم قال لا استطيع ذاك

অর্থ, হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে রজমের আয়াতটি লিখে দেওয়া হোক। তিনি বললেন, আমি তা করতে পারব না। (সুনানুল কুবরা বায়হাকী ৮/২১১ এবং সুনানুল কুবরা লিন-নাসাঈ হাদীস নং ৭১৪৮)। তাহকিক, শায়খ আলবানী (রহ.) বলেছেন, এর সনদ সহীহ। রজমের আয়াত সম্পর্কে উত্তর পেলেন।

  • নুসখ বা রহিতের ধরণ চারটি। তন্মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে, যার হুকুম ও তিলওয়াত কোনোটিই বহাল থাকেনা। যেমনঃ মাহরামের হুকুম আরোপ করার উদ্দেশ্যে দশ আর পাঁচ ঢোক দুধ পান করা সংক্রান্ত নাযিলকৃত আয়াত প্রথম দিকে থাকা কিন্তু পরে তা রহিত তথা মিটিয়ে দেয়া।
  • পবিত্র কুরআনে নাসিখ-মানসুখ বা রহিতকরণ সম্পর্কে আল্লাহতালা বলেন, ‘এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।’ (সূরা নাহল ১০১)। ‘আমি কোনো আয়াত রহিত করলে অথবা মিটিয়ে দিলে তদাপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান? (সূরা বাকারা ১০৬)।

এবার দশ ঢোক দুধ পান করা সম্পর্কে বলছি শুনুন!

এই দশ ঢোক দুধ পান সংক্রান্ত বিধানটিও রজমের ন্যায় মানসূখ তথা রহিত। এখানে বলে রাখা জরুরি যে, রহিত হয়ে যাওয়ার অন্যতম আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে, তেলাওয়াত বাদ পড়ে যাওয়া, তবে শুধুই হুকুম (বিধান) অক্ষুণ্ণ থাকা। রাসূল (সা.) এর পত্নীগণ থেকেও ব্যাপারটি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কাজেই এটি কিছুতেই হতে পারেনা যে, এমন একটি বিষয়ে তারা আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়া ব্যতীতই একই যুগে সকলে একই রকম বুঝ গ্রহণ করবেন!

যেমন এ সম্পর্কে একখানা সহীহ হাদীসে এসেছে, নবী (সা.) এর অন্যান্য সহধর্মিণী দশ/পাঁচ ঢোক দুধপান করা দ্বারা কোনো পুরুষের তাদের নিকট প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করতেন। তারা (আয়িশা রাদ্বি.-কে উদ্দেশ্য করে) বলতেন, আল্লাহর কসম, আমরা মনে করি রাসুল (সা.) সাহলা বিনতে সুহাইল (রা.)-কে যে অনুমতি দিয়েছিলেন তা কেবলমাত্র সালিম (রা.) এর জন্য রাসুল (সা.) এর পক্ষ থেকে রুখসত তথা বিশেষ ছাড় ছিল। কসম আল্লাহর, এইরূপ দুধপান করানো দ্বারা কেউ আমাদের নিকট প্রবেশ করতে পারবেনা। নবী করীম (সা.) এর সকল সহধর্মিণী এই মতের উপর অটল ছিলেন। (সুনান আবু দাউদ, অনুচ্ছেদ ১০৪, হাদীস নং ২০৫৭)।

আশাকরি বুঝতেই পারছেন যে, ১০ বা ৫ ঢোক দুধ পান সংক্রান্ত উভয় বিধান অস্থায়ী ছিল, চূড়ান্ত ছিল না। ইসলামে চূড়ান্ত বিধান হিসেবে নির্ধারিত হচ্ছে দুগ্ধপোষ্য শিশুর দুধপানের আদর্শ বয়স মাত্র দুই-আড়াই বছরই। তাই ১০ আর ৫ ঢোকের আয়াত কুরআনের পাণ্ডুলিপিতে স্থান পায়নি। রাসূল (সা.) নিজেই তা সন্নিবেশিত করেননি। নাসিখ-মানসূখ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিস আদ দেহলভি (রহ.)-এর ‘আল ফাউযুল কাবীর’ কিতাবটিও পড়া যেতে পারে।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-২৮

মির্যা কাদিয়ানীর পাঁচমিশালি বংশ-পরিচয়! তার নিজেরই রচনাবলী থেকে তুলে ধরা হল! একজন নবী রাসূল দাবীদারের এই কেমন স্ববিরোধ কথাবার্তা!

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বই থেকে, তিনি (মির্যা সাহেব) নিজ বংশ-পরিচয় সম্পর্কে অনেক স্ববিরোধ তথ্য দিয়ে রেখেছেন।

তার বইয়ের এক জায়গায় লিখা আছে, তার বংশ ছিল মোগল/মুঘল অর্থাৎ তুর্কী তাতারি জাতি। আর তার পূর্বপুরুষ ছিল, মোগল সেনাপতি তৈমুর লং। একথা লিখা আছে, তাদের “আহমদ চরিত” বইয়ের ১ নং পৃষ্ঠাতেও। আরো দেখুন, রূহানী খাযায়েন ১৩/১৬২।

আরেক জায়গায় লিখা আছে, চায়নিজ বংশীয় (রূহানী খাযায়েন ১৭/১২৭)।

আরেক জায়গায় লিখা আছে, ফাতেমি এবং ইসরাইলী বংশীয় (রূহানী খাযায়েন ১৮/২১৬)।

তবে আরেকটি জায়গায় অবশ্যই পারস্য বংশীয় বলেও লিখা আছে (রূহানী খাযায়েন ১৩/১৬৩)। এখন একজন নবী রাসূল দাবীদারের কথাবার্তায় এত জঘন্য স্ববিরোধীতা কিভাবে থাকতে পারে? প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন, মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

মির্যার স্ববিরোধীতা-২৯

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-২৭

মির্যার রচনায় এক জায়গায় লিখা আছে নবুওয়তের ওহী বন্ধ হয়ে গেছে, মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ নবীগণের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। আরেক জায়গায় নিজেই নিজের ব্যাপারে লিখলেন যে, তিনি নিজেই নাকি খোদার সকল পথসমূহের মধ্যে সর্বশেষ পথ!

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে, তিনি লিখেছেন,

‘আমাদের নবী (সা.)-এর পর আমরা যদি কোনো নবীর আগমনকে বৈধ আখ্যা দেই তাহলে আমাদেরকে নবুওয়তের ওহী বন্ধ হওয়ার পর এটিকে অব্যাহত রাখার পথ খুঁজতে হবে। মুসলমানদের অজানা নয়, এটি সত্য পরিত্যাগের নামান্তর মাত্র। আমাদের রাসূল (সা.)-এর পর কিভাবে কোনো নবী আসতে পারে? তাঁর মৃত্যুর পর ওহী বন্ধ হয়ে গেছে আর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে নবীদের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন।’ (মির্যার লেখিত পুস্তক হামামাতুল বুশরা, পৃষ্ঠা নং ৪৮)।

এখানে মির্যা কাদিয়ানী পরিষ্কার করে বুঝিয়ে গেছেন যে, মুহাম্মদ (সা.)-ই সর্বশেষ নবী। তিনিই সর্বশেষ নূর ও হিদায়াতের শেষ ও চূড়ান্ত জ্যোতি।

এবার মির্যার স্ববিরোধী কথা :

‘মুবারক (আশিসপ্রাপ্ত) তাহারা, যাহারা আমাকে চিনিতে পারিয়াছে। আমি খোদার সকল পথসমূহের মধ্যে সর্বশেষ পথ, এবং আমি তাহার যাবতীয় জ্যোতির মধ্যে সর্বশেষ জ্যোতি।’ (মির্যার লেখিত কিশতিয়ে নূহ, পৃষ্ঠা নং ৭৩ )।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা হল, এমতাবস্থায় মির্যা সাহেব কি সীমাহীন মিথ্যা আর অসঙ্গতির জন্ম দিয়ে গেলেন না? এখন তাহলে মির্যা সাহেবকে তারই কথা অনুসারে আমি যদি একজন নাম্বার ওয়ান ‘কাজ্জাব-মিথ্যাবাদী‘ আখ্যা দিই তবে কি অন্যায় হবে? যেহেতু তিনি খোদ লিখেছেন, “মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে।” (রূহানী খাযায়েন ২১/২৭৫)। আপনার নিরপেক্ষ বিবেকের কাছে প্রশ্নগুলো রেখে দিলাম।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কাদিয়ানীবাদের ওফাতে মসীহ’র বড় দলিলের খণ্ডন

কাদিয়ানী মতবাদের খণ্ডনে সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ১৪৪-এর অপব্যাখ্যার জবাব :

ঈসা (আ.)-কে মৃত আখ্যা দিয়ে তদস্থলে মির্যা গোলাম আহমদকে “মসীহ” সাব্যস্ত করতেই কাদিয়ানীরা সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ১৪৪ (قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِ الرُّسُلُ) এর অপব্যাখ্যা দেয়, এখানে তার সংক্ষিপ্ত খণ্ডন করা হল! প্রিয় পাঠকবৃন্দ! নিচের প্রশ্ন তিনখানা বুঝার জন্য প্রথমে আয়াতটির বঙ্গানুবাদ দেখে নিন!। আয়াতটির সঠিক অনুবাদ,

وَ مَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوۡلٌ ۚ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِ الرُّسُلُ ؕ اَفَا۠ئِنۡ مَّاتَ اَوۡ قُتِلَ انۡقَلَبۡتُمۡ عَلٰۤی اَعۡقَابِکُمۡ ؕ وَ مَنۡ یَّنۡقَلِبۡ عَلٰی عَقِبَیۡہِ فَلَنۡ یَّضُرَّ اللّٰہَ شَیۡئًا ؕ وَ سَیَجۡزِی اللّٰہُ الشّٰکِرِیۡنَ

অর্থাৎ মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র; তাহার পূর্বে বহু রাসূল গত হইয়াছে। সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা সে নিহত হয় তবে তোমরা কি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিবে? এবং কেহ পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিলে সে কখনও আল্লাহর ক্ষতি করিতে পারিবে না; বরং আল্লাহ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করিবেন।” (অনুবাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন/ইফা হতে প্রকাশিত)। 

পাঠকবৃন্দের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আপনা রচনার এক জায়গায় قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِ الرُّسُلُ আয়াতাংশের অর্থ করেছেন,

اور اس سے پہلے بھی رسول ہی آتے رہے ہیں

অর্থাৎ এবং তাঁহার পূর্বেও রাসূলই আগমন করিতেন। (জঙ্গে মুকাদ্দাস পৃষ্ঠা ৭, রূহানী খ্যায়েন ৬/৮৯)।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য

মুসলিম উম্মাহা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে, আয়াতটিতে নানা কারীনা’র (ইংগিত) বিচারে শর্ত প্রযোজ্যের নীতি মানা হবে। ফলে সেখানে الرُّسُلُ-এর সঠিক অর্থ হল ‘বহু রাসূল বা অনেক রাসূল গত হইয়া গিয়াছে’। আয়াতটি যেন বুঝাতে চাচ্ছে, হে নবী! আপনার পূর্বেও আরও যত রাসূল গত হয়ে গেছেন তারা-ও আপনার মত রাসূলই ছিলেন, খোদা ছিলেন না যে তাঁরা অমর হয়ে থাকবে; কাজেই আপনার মৃত্যুতেও মক্কার মুশরিকদের এত আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

জ্ঞানীরা আয়াতটির শানে নুযূল বা প্রসঙ্গ নিয়েও চিন্তা করতে পারে। তাছাড়া একই আয়াতে রাসূলগনের দুনিয়া হতে স্থানান্তরিত হওয়ার কথাটি ব্যক্ত হয়েছে قَدۡ خَلَتۡ (গত হইয়া গিয়াছে) ক্রিয়াপদ দ্বারা, অথচ قد ماتت (মারা গিয়াছে) ক্রিয়াপদ দ্বারাও ব্যক্ত হতে পারত। এ সমস্ত সূক্ষ্ম ইংগিত সমূহ আমাদের ডেকে ডেকে বলছে যে, আয়াতটির الرُّسُلُ অর্থে শর্তপ্রযোজ্যের নীতি গৃহীত হয়েছে। অন্যথা কাদিয়ানীদের নিকট নিচের প্রশ্নগুলোর কোনোই জবাব থাকেনা।

১. পবিত্র কুরআনে জিবরাইল (আ.)-কেও ‘রাসূল‘ সম্বোধন করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তালা বলেছেন,

قَالَ اِنَّمَاۤ اَنَا رَسُوۡلُ رَبِّکِ ٭ۖ لِاَہَبَ لَکِ غُلٰمًا زَکِیًّا
অর্থ- সে বলল, ‘আমি তো তোমার প্রতিপালকের রাসূল (প্রেরিত-দূত) মাত্র; তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করবার জন্য (আমি প্রেরিত হয়েছি)।’ (সূরা মরিয়ম ১৯)।

অন্যত্রে ইরশাদ হয়েছে,

اِنَّہٗ لَقَوۡلُ رَسُوۡلٍ کَرِیۡمٍ
অর্থ- নিশ্চয়ই এই কুরআন এক সম্মানিত রসূলের বার্তা। (সূরা আল হাক্কাহ ৪০)।

এমনকি ফেরেশতাদের একটি অংশকেও রাসূল মনোনীত করার কথা আছে। যেমন আল্লাহ তালা বলেছেন,

اَللّٰہُ یَصۡطَفِیۡ مِنَ الۡمَلٰٓئِکَۃِ رُسُلًا وَّ مِنَ النَّاسِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌۢ بَصِیۡرٌ
অর্থ- আল্লাহ ফিরিশতাদের মধ্য হতে মনোনীত করেন রসুল (বাণীবাহক) এবং মানুষের মধ্য হতেও। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (সূরা আল-হাজ্জ্ব ৭৫)।

তাহলে কি প্রশ্ন উঠেনা যে, তবে কি মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্বেই জিবরাইলসহ এই ফেরেশতাগণও গত হইয়া গিয়াছে কিংবা মৃত্যুবরণ করিয়াছে?

এই প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত একটি কথা খুব খেয়াল রাখতে হবে যে, এখানে ‘মানব রাসূল’ আর ‘ফেরেশতা রাসূল’-এর ডিফারেন্স করার কোনোই সুযোগ নেই; যদি الرسل এর আলিফ লামকে ‘ইস্তিগরাকি’ (استغراقى) মানা হয়। যেহেতু তখন বিনা ব্যতিক্রমে সব রাসূলকেই অন্তর্ভুক্ত করবে।

২. মির্যা কাদিয়ানীর একটি ইলহাম হচ্ছে, ‘আকাশ থেকে কয়েকটি সিংহাসন নাযিল হয়েছে কিন্তু সবার উপরে তোমার সিংহাসন পাতা হয়েছে।’ (আরবাঈন পৃ-৯৩, মির্যা কাদিয়ানী দ্রষ্টব্য)। এখন শর্ত প্রযোজ্য-এর নীতি না মানলে তবে কি মির্যার ঐ সিংহাসন “সবার উপরে” একথা দ্বারা মুহাম্মদ (সা.)-এর সিংহাসনের উপরেও পাতা হয়েছে মানবেন? (স্ক্রিনশট ১)

৩. কাদিয়ানী প্রথম খলিফা হেকিম নূরউদ্দিন লিখেছেন, আলিফ লামে ইস্তিগরাকি যদিও ব্যাপকার্থবোধক তবে শর্ত প্রযোজ্যের (خصوصيت) অর্থও দিয়ে থাকে। (তাসদীকে বারাহীনে আহমদিয়া ১০৪)। এখন প্রশ্ন হল, الرسل হতে ‘সমস্ত রাসূল’ অর্থ নেয়া সত্ত্বেও হেকিম নূরউদ্দিনের কথা অনুসারে ‘শর্ত প্রযোজ্য’-এর নীতি অনুযায়ী ঈসা (আ.) সহ আরও কিছু সংখ্যক রাসূলকে ‘সমস্ত রাসূল গত হইয়া গিয়াছে’ এর অন্তর্ভুক্তির বাহিরে মানলে ভুল কেন হবে? (স্ক্রিনশট ২)

কাদিয়ানী/আহমদীদের নিকট এই ৩টি প্রশ্নের আদৌ কোনো সদুত্তর নেই। লিখাটি স্যোসাল মিডিয়া ফেইসবুকে পোস্ট করার পর কতিপয় ব্রেইন ওয়াশ কাদিয়ানী কীসব হাস্যকর তাবীল আর কাসুন্দি মূলক মন্তব্য দিয়েছে দেখতে পারেন! তবে আমিও তাদের সব মন্তব্যের উপর প্রতিউত্তর করেছি, যার প্রতিউত্তর করা তাদের পক্ষে এখনো পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। স্যোসাল মিডিয়া থেকে- দেখুন। (মির্যা কাদিয়ানীর নবী দাবী করার ১৫টি প্রমাণ- দেখুন)।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-২৬

ছিঃ একজন নবী দাবীদারের এ কেমন বিদ্রূপাত্মক কথাবার্তা! একবার বলল, ঈসাকে সম্মান করি, আবার বলল, তাঁর কোনরূপ শ্রেষ্ঠত্ব তিনি দেখেন নি।

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে (তিনি লিখলেন),

‘আমরা হযরত ঈসাকে (আ.) সম্মান করি ও তাঁকে খোদা তা’লার নবী বলে বিশ্বাস করি।’ (চশমায়ে মসীহি, ভূমিকা অংশ)।

স্ববিরোধ কথা :

‘আমি এই বিষয়ে ঈসা মসীহ’র কোনরূপ শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে পাই নি। তাঁর সম্বন্ধে যে অলৌকিক কাজ বর্ণিত আছে তদ্রূপ বরং তদাপেক্ষা অধিকতর অলৌকিক কাজ ও ঘটনা আমাতেই পূর্ণ হচ্ছে। (চশমায়ে মসীহি বাংলা অনূদিত পৃষ্ঠা নং ১৬)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি-

মির্যা সাহেবের নিকট ঈসা (আ.)-এর মর্যাদা :

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব ঈসা (আ.) সম্পর্কে মনেপ্রাণে এই বিশ্বাস রাখতেন যে, তিনি মদ পান করতেন। নাউযুবিল্লাহ। যেমন তিনি লিখেছেন, “ইউরোপের লোকদের মদ যত অনিষ্ট করিয়াছে, তাহার কারণ এই যে, ঈসা (আ.) মদ্যপান করিয়াছেন।” (কিশতিয়ে-নূহ ৮৫, বাংলা নবম মুদ্রণ জুন ২০১৮ইং)। স্ক্রিনশট-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)। অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

মির্যার স্ববিরোধীতা-২৭

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

উম্মতিনবী’র ধারণাটি বানোয়াট কেন?

উম্মতিনবী : মির্যা কাদিয়ানীর নবুওয়ত দাবী বৈধ করার সূক্ষ্ম চক্রান্ত

প্রশ্নকর্তা (কাদিয়ানী) : নবী (সা.)-এর আনুগত্য দ্বারাও নবীর মোকাম লাভ করা যায়। কুরআনেই তার দলিল আছে। দেখুন, আল্লাহতালা’র বাণী (নিসা ৬৯),

وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَٰئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ ۚ وَحَسُنَ أُولَٰئِكَ رَفِيقًا

অর্থাৎ এবং যারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তারা সঙ্গী হবে তাদের, আল্লাহ যাদের উপর নেয়ামত দান করেছেন। তারা (ছিলেন) নবীগণ, সিদ্দিকগণ, শহীদগণ এবং সালেহগণ। আর এঁরা (নেয়ামতপ্রাপ্তগণ) সঙ্গী হিসেবে কতইনা উত্তম সঙ্গী।’

উত্তরদাতা (মুসলিম) : আয়াতটির শানে নুযূল কী, তা একটু বলবেন?

প্রশ্নকর্তা : শানে নুযূল যাইহোক, আমি যেটা বললাম তাতে ভুল কী পাইলেন?

উত্তরদাতা : শানে নুযূল বলছে, রাসূল (সা.)-এর জনৈক সাহাবীর হৃদয় নিংড়ানো একখানা আকূতির পরিপ্রেক্ষিতেই আল্লাহতালা উক্ত আয়াতটি নাযিল করেছেন। সাহাবী নবীজীর নিকট জানতে চেয়েছিলেন যে, পরপারে (জান্নাতে) নবীজীর সঙ্গ লাভ করতে তিনি পারবেন কিনা? (তাফসীরে ইবনে কাসীর-এর ভেতর বিস্তারিত আছে)। অতএব পরিষ্কার বুঝা গেল যে, আয়াতের প্রেক্ষাপট হতে উক্ত চার শ্রেণীর মর্যাদাপ্রাপ্ত (নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সালেহ)-দের সঙ্গ লাভ করার শর্ত আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্যের বিষয়টি যেমন বুঝা যাচ্ছে, তেমনি একই আয়াতের শেষাংশ হতেও একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, সঙ্গ লাভ করার ঘটনাটি পরপারেই (জান্নাতে) ঘটবে, ইনশাআল্লাহ। অন্যথা আয়াতটির শেষাংশে উল্লিখিত ‘ওয়া হাছুনা উলা-ইকা রফীকা’ (و حسن اولئك رفيقا) অর্থাৎ এবং এরাই সঙ্গী হিসেবে উত্তম—আল্লাহর একথার কোনো অর্থই থাকেনা।

প্রশ্নকর্তা : হুম….। কিন্তু এভাবে তো আগে কখনো ভেবে দেখেনি!

উত্তরদাতা : তর্কের খাতিরে যদি কাদিয়ানীদের উপরিউক্ত কনসেপশন ৫ সেকেন্ডের জন্য মেনেও নিই, তখন তাদের নিকট নিচের প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর থাকবেনা! প্রশ্নগুলো হচ্ছে,

১. و من يطع الله… আয়াতে তো من (মান/who) শব্দটি নারী-পুরুষ, এক/একাধিক সংখ্যার ধারণারই নির্দেশকারী (অর্থ, যে/যারা)। তাহলে আপনারা কথিত ‘উম্মতীনবী’-এর সংখ্যাটা শুধুই একজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেন কেন? এই যে দেখুন, মির্যা কাদিয়ানী সাহেব নিজেই তার একখানা রচনায় (হাকীকাতুল ওহী [বাংলা] পৃষ্ঠা নং ৩৩০) লিখেছেন, ‘এই উম্মতে আমিই একমাত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তি’। তাহলে কেমনে কী? স্ক্রিনশট এই,

২. আপনাদেরই কৃত অর্থ মতে, আনুগত্যকারী ব্যক্তি যেসব নবী রাসূলের মধ্যে শামিল হচ্ছে সেসব নবী রাসূলকেও তথাকথিত ‘উম্মতীনবী’ মানা হচ্ছে কিনা? অন্যথা এরা তাদের (অ-উম্মতিনবীদের) মধ্যে শামিল হবে কেমনে?

৩. আর কথিত ‘উম্মতিনবী’ শুধুই মির্যা কাদিয়ানী হলে তবে কি আয়াতটির কার্যকারিতা কেয়ামত পর্যন্ত চিরতরে বন্ধ? অথচ আপনারাই তো বলেন যে, কুরআনের কোনো আয়াতই মানসুখ হয়নি!

প্রশ্নকর্তা : আচ্ছা ঠিক আছে, আপনার কথা মানলাম! এখন তাহলে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। প্রশ্নটি হচ্ছে, আল্লাহ এবং রাসূল (সা.)-এর অনুগত্য করে আমরা কি ইহজগতেও কোনো পুরষ্কার পেতে পারিনা? যদি পেতে পারি তাহলে এটি কুরআন শরীফের কোন আয়াতে আছে?

উত্তরদাতা : জ্বী হ্যাঁ; পবিত্র কুরআনের সূরা নূর আয়াত নং ৫২-তে আপনার প্রশ্নটির জবাব فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَآئِزُونَ (অর্থাৎ তারা প্রত্যেকে সফলকাম) দ্বারা দেয়া হয়েছে। তাফসীরে কুরতুবীতে হযরত উমর (রা.) হতে একখানা বর্ণনায় ‘তারা প্রত্যেকে সফলকাম’ এর তাফসীরে উল্লেখ আছে যে, والفائز من نجا من النار وأدخل الجنة অর্থাৎ ‘এই সফলকাম ব্যক্তি তারাই যারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ আশাকরি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন।

প্রশ্নকর্তা : শেষ আরেকটা প্রশ্ন করতে চাই। উক্ত আয়াতে উল্লিখিত مع (মা’আ) শব্দটির কী অর্থ?

উত্তরদাতা : আরবী অভিধানে শব্দটির অনেকগুলো আভিধানিক অর্থ রয়েছে। যেমন, সাথে সহিত, সঙ্গে, সঙ্গ, শামিল ইত্যাদি। আমি কিন্তু আপনার প্রশ্নটির পেছনে লুকিয়ে থাকা একটি কারণ সম্পর্কেও অবগত আছি। আর তাই আপনার প্রতি আমার জিজ্ঞাসা হল, অভিধানে কোনো শব্দের যতগুলো অর্থ রয়েছে সবগুলো অর্থ কি একই সাথে প্রয়োগ হবে নাকি যথোপযুক্ত অর্থটাই প্রয়োগ হবে? জ্ঞানীমাত্রই জানেন যে, কখনোই একই সাথে সবগুলো অর্থ প্রয়োগ হবেনা। কাজেই এখন জানার বিষয় হল, তাহলে উক্ত আয়াতে উল্লিখিত ‘মা’আ’ (مع) শব্দের যথোপযুক্ত সেই অর্থটা কী? উত্তরে বলব, শব্দটির ঐ অর্থই গ্রহণযোগ্য যে অর্থের সাথে আয়াতটির প্রেক্ষাপটের সামঞ্জস্যতা রয়েছে ও একই আয়াতের শেষাংশের “এবং এরাই সঙ্গী হিসেবে উত্তম”—কথাটির সাথেও পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।

বলাবাহুল্য, এধরণের একখানা হাদীসেও ‘মা’আ’ (مع) শব্দটি প্রয়োগ হয়েছে। যেমন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, التاجر الصدوق الأمين مع النبيين والصديقين والشهداء অর্থাৎ সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী ব্যক্তি নবীগণ, সিদ্দিকগণ, শহীদগণের সঙ্গী হবে। (জামে তিরমিজি, হাদীসের মান : হাসান, রাবী আবু সাঈদ আল খুদরী রা.)। এখন আয়াতটির مع النبيين (মা’আন নাবিয়্যীন) দ্বারা আনুগত্যরূপে নবী’র মোকাম লাভ করার ব্যাখ্যাটি সঠিক হলে, তখন এই হাদীসের مع النبيين (মা’আন নাবিয়্যীন) হতে কী অর্থ? অথচ কোনো নির্বোধও হাদীসের এই পদ কিবা উপবাক্য হতে নবীর মোকাম লাভ করার ব্যাখ্যা নেন না! যদিও একই ভাবে এখানেও এমন ব্যাখ্যা নেয়ার সুযোগ আছে যে, ন্যায়পরায়ণ ও সত্যবাদী ব্যবসায়ীগণও নবীর মোকাম লাভ করবে! নাউযুবিল্লাহ।

শেষকথা : প্রিয় আহমদী অর্থাৎ কাদিয়ানীবন্ধু, আপনি কিন্তু সারা জীবন শুনে আসছিলেন যে, আনুগত্যরূপে নবী হওয়ার সম্ভাবনা শুধু মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের মাঝেই সীমাবদ্ধ, আগের কোনো নবীর আনুগত্য দ্বারা নবী হওয়া সম্ভব ছিলনা! এবার দেখুন, মির্যা সাহেব তার অন্য একটি রচনায় কী লিখলেন! তিনি লিখেছেন, মূসা (আ.)-এর অনুসরণ করে শত শত লোক পয়গম্বর হয়েছেন! (চশমায়ে মসীহি, বাংলা ৫২)। স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য। এবার নিশ্চয়ই আপনার মাথার উপর আকাশটা ভেঙ্গে পড়ার মত হল, তাই নয় কি? আমি কিন্তু অনেক আগ থেকেই মির্যা কাদিয়ানীর স্ববিরোধী কথাবার্তা সম্পর্কে সতর্ক করে আসছি! আফসোস! কে শুনে কার কথা!

সূরা নিসা আয়াত নং ৬৯ এর শানে নুযূল বা প্রেক্ষাপট

লিখক, প্রিন্সিপাল মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ

মির্যার স্ববিরোধীতা-২৫

মির্যা কাদিয়ানী একবার লিখলেন মাহদী সংক্রান্ত সবগুলো হাদীসই দুর্বল, এমনকি ইবনে মাজাহ শরীফেরটাও, আবার লিখেন, ইবনে মাজাহ শরীফে লেখিত ঐ হাদীস বেশি সহীহ। হায়! স্ববিরোধীতা কারে কয়!

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে (তিনি লিখেছেন),

‘মাহদীর আগমন সংক্রান্ত হাদীসগুলো সম্পর্কে তুমি জানো, এর সবগুলোই দুর্বল এবং নানা আপত্তিতে ক্ষত বিক্ষত। আবার এগুলোর একাংশ অপরাংশের বক্তব্য বিরোধী। এমনকি ইবনে মাজাহ শরীফ এবং অন্যান্য হাদীসগ্রন্থে এটিও বর্ণিত হয়েছে, ঈসা ছাড়া অন্য কোনো মাহদী নেই। অতএব এত কঠিক বিরোধ, অভ্যন্তরীণ ক্রুটি ও দুর্বলতা সত্ত্বেও এসব হাদীসের উপর কিভাবে নির্ভর করা যেতে পারে?’ (হামামাতুল বুশরা, বাংলা অনূদিত পৃষ্ঠা নং ১৬১; মির্যা কাদিয়ানী)।

স্ববিরোধ কথা :

‘এবং ঐ হাদীস সমূহের মুকাবিলায় ইবনে মাজাহ শরীফে লেখিত ঐ হাদীস বেশি সহীহ। আর সেটি হচ্ছে, لا المهدى الا عيسى অর্থাৎ আগমনকারী ঈসা ব্যতীত আর কোনো মাহদী নেই, শুধুমাত্র ঈসাই মাহদী।’ (রূহানী খাযায়েন ২১/৩৫৬)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য।

শেষকথা : আহমদী অর্থাৎ কাদিয়ানীদের জন্য চরম লজ্জার কথা হল, তাদের স্ববিরোধ বক্তা কথিত মসীহ সাহেব ‘তুহফায়ে গোলডবিয়া’ (প্রথম প্রকাশ, আগস্ট ১৯০২ইং) নামক বইতে এও লিখেন যে,

اور ہم ثابت کر چکے ہیں کہ وہی رجل فارسی مہدی ہے اس لئے ماننا پڑا کہ مسیح موعود اور مہدی اور دجال تینوں مشرق میں ہی ظاہر ہوں گے اور وہ ملک ہند ہے۔

অর্থাৎ এবং আমি প্রমাণ করেছি যে, সেই পারস্যের পুরুষটি-ই মাহদী। যেজন্য মানতে হবে যে, মসীহ মওঊদ, মাহদী এবং দাজ্জাল তিনোজন পূর্বদিকেই প্রকাশিত হবে আর সেই রাষ্ট্রটি হচ্ছে হিন্দুস্থান।” (রূহানী খাযায়েন ১৭/১৬৭ দ্রষ্টব্য)।

মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের এই কথা হতে পরিষ্কার বুঝা গেল যে, ইমাম মাহদী আর মসীহ ঈসা তারা একই সত্তা নন, বরং আলাদা দু’জনই। এখন কথা হল, তার বর্তমান অনুসারীরা তার স্ববিরোধপূর্ণ বক্তব্যগুলো থেকে এখন কোনটা নেবে আর কোনটা ছাড়বে? কিভাবে সম্ভব এত জঘন্য স্ববিরোধী এই মেড ইন ব্রিটেন মির্যাকে ইমাম মাহদীও মান্য করা?

মির্যার স্ববিরোধীতা-২৬

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-২৪

কোথাও আল্লাহর নাম ভেঙ্গে মির্যা কাদিয়ানী নিজের বয়স ২ বা ৩ বছর কমবেশি করে দেয়ার গল্প সাজিয়েছেন; আবার কোথাও ৫ বা ৬ বছরের কমবেশির কথা! এমন নিকৃষ্ট বৈপরীত্য দুনিয়ার ইতিহাসেও আছে কিনা সন্দেহ!

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে (তিনি লিখেন), ‘খোদা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমি তোমার বয়স ২ বা ৩ বছর কমবেশি ৮০ বছর করে দেব।’ (রূহানী খাযায়েন ১৭/৪৪)। 

স্ববিরোধ কথা : 

‘খোদাতালা আমাকে জানিয়েছেন, তোমার বয়স ৫ বা ৬ বছর কমবেশি ৮০ বছর হবে।’ (রূহানী খাযায়েন ২১/২৫৮)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি।

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)। অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী