Home Blog Page 20

শীয়া খোমেনীবাদ ১

  • খোমেনীবাদ : ১

শীয়া মতবাদ! ইরানের শীয়া বিপ্লবী নেতা ও শীয়া মতবাদের গুরু আয়াতুল্লাহ খোমেনী (১৯০২-১৯৮৯)-এর চিন্তাধারা ও কুফুরী মতবাদের উৎস :

প্রথমে জেনে রাখুন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত-এর প্রধান হাদীসের কিতাব হল, সহীহ আল বুখারী। ঠিক অনুরূপভাবে শীয়াদের প্রধানগ্রন্থ হল, আল কাফী (আরবী : الكافي في الأصول والفروع)। ‘কাফী’ (الكافى) শব্দের অর্থ হল, যথেষ্ট। এই কাফী-তে ১৬ হাজার ১ শত ৯৯খানা রেওয়ায়েত (তাদের ভাষায় হাদীস) উল্লেখ রয়েছে। প্রায় ২০ বছর ধরে সাধনা করে নাকি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকূব আল কুলাইনী সাহেব এই ‘কাফী’ কিতাবটি সংকলন করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, এই কিতাব লিখার পর তাদের তথাকথিত আত্মগোপনে থাকা ইমাম মাহদী (মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল আসগরী)-এর নিকট এটি পেশ করা হয়। শায়খ কুলাইনী সাহেব অবশ্য কোন গুহায় ইমাম মাহদীর খোঁজ পেয়েছিলেন বা কিভাবে পেয়েছিলেন এ সবের কোনো তথ্যই তিনি উল্লেখ করে যাননি। যাইহোক, ইমাম মাহদী নাকি কিতাবটি দেখে বলেছেন, الکافی كافى অর্থাৎ আল কাফী (শীয়াদের জন্য) যথেষ্ট। আমার নিকট লাখনৌর ছাপা ‘আল কাফী’র যে কপিটা রয়েছে, তার ১ম খণ্ডের মুকাদ্দমাতে (ভুমিকাতে)-ই উপরের কথাগুলো লিখা আছে। তাঁদের আরও দাবী হল, এই সাড়ে ১৬ হাজার হাদীসের(?) মধ্যে নাকি একটি জাল (বানোয়াট/মিথ্যা) হাদীসও নেই।

এবার তাদের একখানা স্ববিরোধী আচরণ দেখুন, তারা “বুখারী” এর নাম ‘সহীহ’ কেন রাখা হল, এই ধরনের প্রশ্ন করতে করতে পুরাই পাগল করে দেয়। অথচ তাদেরই শায়খ কুলাইনীর কিতাব “আল কাফী” কিভাবে ‘যথেষ্ট’ (كافى) হল, তার কোনো কোনো জবাব নেই! যাইহোক, এই ‘কাফী’ কিতাবকে তিন (৩) ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা, ১. উসূলে কাফী (اصول الكافى)। ২. ফুরূয়ে কাফী (فروع الكافى)। ৩. রওজাতুল কাফী (روضة الكافى)।

শীয়া মতবাদ সত্যিই এক অদ্ভুত মতবাদ। এদের মতাদর্শ খুব কম মানুষই জানতে পারে। কারণ এরা এগুলো কখনো প্রকাশ করেনা। যাইহোক, উসূল বা নীতিমালা (الاصول) বর্ণিত আছে ‘আল উসূলু মিনাল কাফী’-তে (الاصول من الكافى)। আর তাঁদের ফুরূয়ী মাসআলা যেমন, নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত, বিবাহ-তালাক সহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে আল ফুরূ’ মিনাল কাফী-তে (الفروع من الكافى)। আর ইমামগণের (১২ ইমাম সহ) জীবনী রয়েছে রওজাতুল কাফী-তে (الروضة الكافى)। আহলে সুন্নাহ তথা সুন্নী মুসলিমগণ যেরূপ বুখারী ও মুসলিমের উপর খুব আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন, শীয়াগণ তার চেয়েও বেশি বিশ্বাস রাখেন ‘আল কাফী’ কিতাবের উপর। এই ‘আল কাফী’ কিতাবটির প্রথম অংশে অর্থাৎ উসূলে কাফী’র চতুর্থ খণ্ডের ১৪০ নং পৃষ্ঠায় ‘বাবুত তাকীয়া’ (باب التقية) নামক একটি অধ্যায় রয়েছে, অধ্যায় নং ২২৫, আর এই অধ্যায়ে ২৩ খানা রেওয়ায়েত (হাদীস) এনেছেন শায়খ কুলাইনী সাহেব। আমি এখানে মাত্র দুটি হাদীস (মূলত এগুলো শীয়া পণ্ডিতদের বানোয়াট বর্ণনা – লিখক) পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরব। তাঁর পূর্বে চলুন জেনে নেয়া যাক, তাদেরই অন্যতম একটি মতবাদ “তাকীয়া” সম্পর্কে জেনে নিই। তাকীয়া (التقية) কী ও কেন?

তাকীয়া বা তাকিয়্যাহ :

  • তাকীয়া (التقية) হল, শীয়াদের গুরুত্বপূর্ণ রুকন ও শিক্ষা। এর ব্যবহারিক অর্থ হল, মানুষ তাঁর মান ও মর্যাদা এবং জান-মাল শত্রুর কাছ থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে যা কিছু অন্তরে রয়েছে তাঁর বিপরীতে মত প্রকাশ করা। এরই নাম ‘তাকীয়া’। খুব খেয়াল করুন, যদি আপনি কোনো মিথ্যাকথা বলেন অথবা অন্তরে এক কথা আর মুখে আরেক কথা রাখেন, তাহলে কিন্তু তা অপরাধ নয়। নাউযুবিল্লাহ। কিয়েক্টাবস্থা!
  • শীয়াগণ (পূর্ব নাম রাফেজী) সামান্য বিষয়েও এই রূপ তাকীয়া করেন। প্রয়োজনে করেন, আবার অপ্রয়োজনেও করেন। এর অহরহ দলিল দেয়া যাবে। বলাবাহুল্য যে, তাদের মতাদর্শটি বিগত ১৪ শত বছর ধরেই এইরকম তাকীয়া আর কিতমান (সত্য গোপন)-এর উপর টিকে আছে। এই তাকীয়া অধ্যায়ের ২য় রেওয়ায়েতটি নিচে দেখুন,
  • ابن أبي عمير، عن هشام بن سالم، عن أبي عمر الأعجمي قال: قال لي أبو عبد الله (عليه السلام): يا أبا عمر إن تسعة أعشار الدين في التقية ولا دين لمن لا تقية له والتقية في كل شئ إلا في النبيذ والمسح على الخفين
  • অর্থ, ইমাম জাফর আস সাদেক বলেছেন, (নিশ্চিত কথাগুলো জাফর সাদেকের নামে জঘন্য মিথ্যাচার। তিনি এমন কথা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র – অনুবাদক) হে উমরের পিতা, তাকীয়াতে দ্বীন ইসলামের ১০ ভাগের ৯ ভাগ রয়েছে। কোনো প্রকারের দ্বীন অবশিষ্ট নেই তাকীয়াহ ছাড়া। আর ‘ওয়াত তাকিয়্যাতু ফী কুল্লি শাইয়িন’ তথা দ্বীনের সকল কিছুতেই তাকীয়া রয়েছে, শুধুই মোজার উপর মাসেহ করা আর মদ পান করা এই দুই কর্মে তাকীয়া নেই।’

পাঠকবর্গ! চিন্তা করুন, যাঁদের দ্বীন ধর্মটাই এমন মিথ্যা আর কপটতার উপর প্রতিষ্ঠিত, তাঁদের থেকে আপনি কখনো কোনো বিষয়ে সঠিক তথ্য কিভাবে আশা করতে পারেন? মনে করুন, আপনি একজন কনভার্টেট শীয়া। আপনাকে নানা ধরনের ইতিহাস বা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিয়ে বুঝালো! এখন যাদের রক্তমাংসে তাকীয়া মিশে আছে তারা যে আপনাকে ধোকায় ফেলেনি, সত্যটা কৌশলে গোপন রেখে দেয়নি; আপনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন? কারণ যার একটি কথায় মিথ্যা প্রমাণিত হবে তার তো বাকি সমস্ত কথায় মিথ্যা হওয়া স্বাভাবিক, তাই নয় কি? আহা! তাকীয়া!! ইসলামের ৯ ভাগ তাকীয়াতেই!! মা’আজাল্লাহ! তাহলে ফলাফল কী দাঁড়াচ্ছে!! এই কুরআন, এই হাদীস; সব মিলেও ১০ ভাগের ১ ভাগ না, তাই না? আস্তাগফিরুল্লাহ। তাহলে দ্বীনের বাকিগুলো কোথায় বলবেন কি?

এবার তাকীয়া সম্পর্কিত পরবর্তী রেওয়ায়েতে যাওয়া যাক, শায়খ কুলাইনী (মৃত. ৩২৯ হিজরী, বাগদাদ) সাহেব রচিত ‘আল কাফী’ কিতাবে এসেছে,

محمد بن يحيى، عن أحمد بن محمد بن عيسى، عن محمد بن خالد، والحسين بن سعيد جميعا، عن النضر بن سويد، عن يحيى بن عمران الحلبي، عن حسين بن أبي العلاء عن حبيب بن بشر قال: قال أبو عبد الله (عليه السلام): سمعت أبي يقول: لا والله ما على وجه الأرض شئ أحب إلي من التقية، يا حبيب إنه من كانت له تقية رفعه الله، يا حبيب من لم تكن له تقية وضعه الله، يا حبيب إن الناس إنما هم في هدنة. فلو قد كان ذلك كان هذا

অর্থ, ইমাম জাফর আস সাদেক তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (নাকি) তাঁকে বলতে শুনেছেন, এই জমিনের উপর আমার নিকট তাকীয়া অপেক্ষা অধিক প্রিয় বস্তু আর নেই। যে তাকীয়া করবে আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন। আর যে তাকীয়া করবে না আল্লাহ তার মর্যাদা কমিয়ে দেবেন। হে হাবীব! নিশ্চয়ই সমস্ত মানুষ যুদ্ধবিগ্রহ অবস্থায় আছে। অতএব যদি তেমনি হয় তাহলে তাকীয়া করবে, না হয় করবেনা।

মানে বুঝা গেল, যে কপটতা করবে আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বাড়িয়ে দেন, আর যে তা করবে না আল্লাহ তাঁদের লাঞ্ছিত করে পেছনে ফেলে দেন। তাকীয়াহ ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো প্রিয়তম বস্তু এই জগতে আর কিছুই নেই। কত ফজিলত! কল্পনা করেছেন!! এজন্যই তাঁদেরকে যখন প্রশ্ন করা হয় যে,

১. তোমরা কি খলীফাতুল মুসলিমীন আবু বকর ও উমর (রাযি.)-কে কাফের মানো? যা উসূলে কাফী কিতাবেও লিখা আছে! তারা উত্তরে বলবে, না মানি না।

২. তোমরা খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উসমান (রাযি.)-কে বেশ্যার ছেলে, মদখোর ইত্যাদি মানো কি? যা তোমাদের ‘হায়াতুল কুলুব’ কিতাবেও লিখা আছে। তারা উত্তরে বলবে, না মানি না।

৩. তোমরা কি আল্লাহর কালাম পবিত্র কুরআনকে বিকৃত হয়ে গিয়েছে এমন বিশ্বাস রাখো? যা উসূলে কাফী কিতাবেও লিখা আছে। তারা উত্তরে বলবে, না মানি না।

৪. তোমরা কি বিশ্বাস করো যে, তোমাদের বারো (১২) ইমামগণ মতান্তর ১ লক্ষ কিবা ২ লক্ষ ২৪ হাজার নবী রাসূল থেকেও উত্তম? যা উসূলে কাফী কিতাবেও লিখা আছে। তারা উত্তরে বলবে, না মানি না।

৫. তোমরা কি বিশ্বাস করো যে, ইমাম মাহদীর আগমন হলে মুসলিম উম্মাহার কলিজার টুকরো সাইয়্যিদা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা (রাযি.), যিনি দুনিয়া ও আখিরাতে নবীজির পত্নী, যার বিশুদ্ধ চরিত্রের সাফাই দিয়ে কুরআনের আয়াত (সূরা নূরের প্রায় ১০ আয়াত) নাযিল হয়েছে, সেই আম্মাজান আয়েশার বিরুদ্ধে জিনা-ব্যভিচারের অভিযোগ দাঁড় করিয়ে হদ কায়েম করবেন? নাউযুবিল্লাহ। তারা উত্তরে বলবে, না এমনটা আমরা বিশ্বাস করি না, এটা আমাদের আকিদাও নয়।

৬. তোমরা কি বিশ্বাস করো যে, ইমাম মাহদীর আগমনের পর সর্বপ্রথম কাজ হবে খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আবু বকর এবং হযরত উমর (রাযি.) – উভয়কে নবীজির রওজা থেকে তুলে কাপড়চোপড় খুলে বিবস্ত্র করবেন আর উল্টা ঝুলিয়ে পেটাবেন? তারা উত্তরে বলবে, না মানি না।

এরূপ অসংখ্য প্রশ্ন ও ইবারত খুলে খুলে তাদের কিতাব থেকে দেখালেও তারা বলবে, না মানি না। এগুলো আমার/আমাদের আকিদা বিশ্বাস নয়। এরই নাম শীয়াবাদ, এরই নাম ইসলামের মূলে কুঠারাঘাতকারী জামাত। এরা বিধর্মীদের চেয়েও ইসলামের ঠান্ডা মাথার জঘন্য দুশমন। কিন্তু অধিকাংশ আহলে সুন্নাহ অনুসারী আমাদের মুসলিম ভাই বোন তাদের সম্পর্কে ভালোভাবে না জানার কারণে তাদের শুধুই বাহ্যিকরূপ আর জৌলুশ দেখেই ধোকায় পড়ে এবং পুরোপুরি অন্ধকারে নিপতিত হয়ে যায়। অথচ তাদের এই সমস্ত আকীদা বিশ্বাসের দরুন কোনো ঈমানদার মুসলমান তাদেরকে মুমিন মুসলিম মনে করলে নিজের ঈমান আর ইসলামটাই বরবাদ হয়ে যাবে, এতে কোনোই সন্দেহ নেই। (চলমান)।

দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন

লিখক, তায়েফ হাসান খান, শীয়া মতবাদের উপর একজন স্পেশালিষ্ট ও গবেষক।

সম্পাদনায়, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

পণ্ডিত লেখরাম সম্পর্কে মির্যার মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী-৪

লেখরাম সম্পর্কে মির্যার ভবিষ্যৎবাণী যেসব শব্দচয়নে ছিল!

মির্যা কাদিয়ানীর ভবিষ্যৎবাণীতে পণ্ডিত লেখরাম (پنڈت لیکھرام) সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণীর শব্দচয়ন কীরকম ছিল? লেখরাম কবে এবং কিভাবে হত্যা হল? তার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মির্যায়ী ভবিষ্যৎবাণী পূর্ণতা পেয়েছে, এমন দাবী করা কেন ঠিক হবেনা? খারেক্বে আদত বলতে কী বুঝায়? ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে আজকের এই লিখাটি আপনার জন্য!

আর্য সমাজের জনপ্রিয় ধর্মগুরু ও পণ্ডিত লেখরাম সম্পর্কে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ২০-০২-১৮৯৩ ইং ভবিষ্যৎবাণী করেছিল এভাবে যে,

اگر اس شخص پر چھ برس کے عرصہ میںؔ آج کی تاریخ سے کوئی ایسا عذاب نازل نہ ہوا جو معمولی تکلیفوں سے نرالا اور خارق عادت اور اپنے اندر الٰہی ہیبت رکھتا ہو تو سمجھو کہ میں خدا تعالیٰ کی طرف سے نہیں

অর্থাৎ এই ব্যক্তির উপর আজকের এই তারিখ থেকে আগামী ছয় বছরের মধ্যে যদি এমন কোনো আজাব নাযিল না হয়, যেটি সাধারণ যে কোনো শাস্তির উর্ধ্বে ও নজিরবিহীন (রহস্যময়) হবে আর তার অভ্যন্তরে ইলাহি ভীতি সঞ্চার করবে, তাহলে জেনে রেখো আমি খোদার পক্ষ হতে প্রেরিত নই। (রূহানী খাযায়েন ৫/৬৫০-৫১)। কিন্তু লেখরামের মৃত্যু হয় মির্যার এক দুর্বৃত্ত মুরিদের ছুরিকাঘাতে। (আর্যদের লেখিত পুস্তক হতেও একথাই প্রমাণিত)। মির্যার কথা ছিল নজিরবিহীন এমন এক আজাব তার উপর নাযিল হওয়া যেটি তার অভ্যন্তরে খোদায়ী ভীতি সঞ্চার করবে, কিন্তু তা সেভাবে হয়নি। কারণ দুনিয়ায় ছুরিকাঘাতে অসংখ্য লোক প্রতিদিন মারা যাচ্ছে। ফলে এইরূপ মৃত্যু খারেক্বে আদত তথা নজিরবিহীন-এর পর্যায় পড়েনা। সুতরাং মির্যা কাদিয়ানীর ভবিষ্যৎবাণী মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি

নাতিদীর্ঘ ঘটনা : পণ্ডিত লেখরাম আর মির্যা কাদিয়ানীর মাঝে প্রথমে কলমি আন্দাজে অনেক তর্কবিতর্ক চলেছিল। দুইপক্ষই একে অন্যের জাতগুষ্ঠি পর্যন্ত উদ্ধার করে ছাড়ে! অকথ্য গালিগালাজ কারে কয়। কারো থেকে কেউ কোনো অংশে কম ছিল না। মনের জমানো রাগ-ক্ষোভ প্রশমিত করতে যাইচ্ছেতাই লিখে যেত। মির্যা সাহেব তো একবার আর্যদের ইশ্বর সম্পর্কে বেদ-এর নাম ভেঙ্গে এমন এক কথাও লিখে ফেলে, যার ফলে পাপিষ্ঠ পণ্ডিত লেখরাম প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আমাদের প্রিয়নবী (সা.)-এর পবিত্র সত্তায় উপর্যুপরি আঘাত হানতে শুরু করে। উম্মুল মুমিনীনদের নিয়েও অশালীন মন্তব্য করতে শুরু করে। আসলে এ সমস্ত দুর্ঘটনার জন্য মির্যাই দায়ী। সেই বরং এগুলোর জন্য তাকে প্ররোচিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে ইসলামের নবী এবং উম্মুল মুমিনীনদের শানে আর্য সমাজের পণ্ডিতরা আরও যতসব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছিলো তার সবকয়টিই পণ্ডিত লেখরামের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে ছিল। অথচ আর্যগণ একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারত যে, ইসলাম আর কাদিয়ানীজম দুটো পুরোপুরি আলাদা জিনিস! কাজেই মির্যাকে কাউন্টার দিতে গিয়ে ইসলামকে আক্রমণ করা তাদের বোকামী ছিল। যাইহোক, আর্য সমাজের ইশ্বর সম্পর্কে ‘বেদ‘ এর নাম ভেঙ্গে মির্যার মিথ্যাচারমূলক উক্তিটি ছিল এইরকম –

پرمیشر ناف سے دس انگلی نیچے ہے. سمجھنے والے سمجھ لی

অর্থ- পরমেশ্বর নাভীর দশ আঙুল নিচে। জ্ঞানীরা বুঝে নিও! (চশমায়ে মা’আরেফত, রূহানী খাযায়েন ২৩/১১৪)। ছিঃ! একটা মানুষ কত নোংরা মনের অধিকারী হলে অন্য ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতে এভাবে আঘাত দিতে মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে!

পণ্ডিত লেখরাম সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানীর ভবিষ্যৎবাণীর ভবিষ্যৎ :

  • পণ্ডিত লেখরাম সম্পর্কে সুস্পষ্ট আছে, মির্যা কাদিয়ানী তারই একজন অনুগত ঘাতক-দুর্বৃত্ত মুরিদকে দিয়ে তাকে হত্যা করিয়েছিল। পণ্ডিত লেখরাম ঐ ঘাতকের হাতে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ৭ই-মার্চ ১৮৯৭ সালে। ইতিহাস একটু দীর্ঘ।
  • সংক্ষেপে বলতে গেলে, মির্যা কাদিয়ানী ১৮৮৪ সালের দিকে ৪ খণ্ডে ‘বারাহীনে আহমদীয়া’ নাম দিয়ে বই লিখেন। সেখানে আর্য সমাজের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হয় এবং যে এগুলো খণ্ডন করতে পারবে তাকে ১০ হাজার রুপি পুরষ্কার দেয়ার ঘোষণা করা হয়। পণ্ডিত লেখরাম সে সময়কার একজন আর্য সমাজের জনপ্রিয় পণ্ডিত, লিখক ও বিতার্কিক ছিল। আনুমানিক ৩২টি বই রচনা করে। সে একাধারে উর্দূ, আরবী এবং ফার্সী ভাষায়ও এক সমানে বলতে ও লিখতে পারত। সে মির্যার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং ‘তাকজীবে বারাহীনে আহমদীয়া‘ (বারাহীনে আহমদীয়ার মিথ্যাচার) বই লিখে মির্যাকে খণ্ডন করে। এই ঘটনায় মির্যা কাদিয়ানী অত্যাধিক রেগে আগুন হয়ে যান। তিনি আর কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে গেলেন না। সিদ্ধান্ত করলেন লেখরাম সম্পর্কে মৃত্যুর ভবিষ্যৎবাণী করবেন। অথচ মানুষের হায়াত মউতের মালিক হলেন আল্লাহ, তিনি কখনো কাউকে বলে রাখেন না যে, কার মৃত্যু কখন এবং কিভাবে হবে? আমার বুঝে আসেনা, মির্যা কাদিয়ানী মানুষের হায়াত মউতের ভবিষ্যৎবাণী করার এই খোদায়ী ক্ষমতা পেলেন কোথা থেকে! অথচ সর্বশ্রেষ্ঠ ও শেষনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কেও আল্লাহ এই ক্ষমতা এক মুহূর্তের জন্যও দেননি। যাইহোক, পণ্ডিত লেখরাম সম্পর্কে ১৮৯৩ সালের ২০ই ফেব্রুয়ারী মির্যার ভবিষ্যৎবাণী করা হয়ে গেল! আগামী ছয় বছরের মধ্যে কোনো এক ঈদের কাছাকাছি সময় লেখরামের মৃত্যু হয়ে যাবে। তবে সেই মৃত্যু خارق عادت (খারেক্বে আদত) (অর্থাৎ নজিরবিহীন ও রহস্যময়/mysterious) হবে। (আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম, রূহানী খাযায়েন ৫/৬৫০-৫১)।
  • ইতিহাস সাক্ষী, মির্যা কাদিয়ানী যখন দেখল, ১৮৯৭ সাল-ও গত হয়ে যাচ্ছে। পণ্ডিত লেখরামের মৃত্যুর আলটিমেটাম শেষের দিকে। তবু তার খারেক্বে আদত কোনো মৃত্যু হচ্ছেনা। সে বছরই একজন দুর্বৃত্তকে দিয়ে তাকে ছুরিকাঘাতে চোরাগোপ্তা হত্যার ষড়যন্ত্র করা হল। মির্যা কাদিয়ানীকে সে সময় লেখরামের হত্যা মামলার প্রধান আসামীও করা হয়েছিল। কিন্তু সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সাথে তার জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় শেষমেশ ব্রিটিশ আদালত তাকে জামিন দিয়ে দেয়। এখন নিরপেক্ষভাবে যদি কোনো একজন আহমদীও ‘খারেক্বে আদত’ নিয়মে লেখরামের ধ্বংস সম্পর্কে মির্যার কৃত ভবিষ্যৎবাণীর বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা করেন তাহলে বলতে বাধ্য হবেন যে, দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে লেখরামের মৃত্যু হয়ে যাওয়ার সাথে মির্যা কাদিয়ানীর ভবিষ্যৎবাণী পূর্ণতা পাওয়ার কানাকড়ি সম্পর্কও নেই। এবার ‘খারেক্বে আদত’ বলতে কী বুঝায়, জেনে নিন! মির্যা কাদিয়ানী সাহেব ‘খারেক্বে আদত’ (خارق عادت) এর সংজ্ঞায় লিখেছেন,

ظاہر ہے کہ جس امر کی کوئی نظیر نہ پائی جائے اسی کو دوسرے لفظوں میں خارق عادت بھی کہتے ہیں.

অর্থাৎ প্রকাশ থাকে যে, যে ঘটনা নজিরবিহীন তাকে অন্য শব্দে খারেক্বে আদতও বলা হয়। (সুরমা চশমায়ে আরিয়া, রূহানী খাযায়েন ২/৬৭)। তিনি আরেক জায়গায় লিখেন,

خارق عادت اسی کو تو کہتے ہیں کہ اس کی نظیر دنیا میں نہ پائی جائے

অর্থ, খারেক্বে আদত বলা হয় যার কোনো দৃষ্টান্ত দুনিয়ায় পাওয়া যায় না। (হাকীকাতুল ওহী, রূহানী খাযায়েন ২২/২০৪)।

কাজেই এখন প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক, পণ্ডিত লেখরাম তো ঘাতকের হাতে চোরাগোপ্তা হত্যা হল, خارق عادت (খারেক্বে আদত) বা নজিরবিহীন মৃত্যু হল না! উপরন্তু যে খুন-খারাপি মির্যাকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য করল, খুনের হুকুমদাতা হিসেবে অভিযুক্ত হতে হল; সেই হত্যাকাণ্ড কিভাবে মির্যার ভবিষ্যৎবাণীর পূর্ণতার নিদর্শন হতে পারে? এইভাবে দুর্বৃত্ত দিয়ে চোরাগোপ্তা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যে কেউই তো নিজের পক্ষে হুবহু মির্যার মত একটি ‘নিদর্শন’ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, তাই নয় কি? সারা দুনিয়া যেই কর্মের জন্য মির্যাকে পরোক্ষ একজন খুনি বলছে সেই একই কর্মকে তার অনুসারীরা খোদার নিদর্শন বলতে চাইলে বলুক! আচিরেই আল্লাহর সাথে তাদের বুঝাপড়া হবে!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

ওফাতে মসীহ’র উপর সাহাবীদের মাঝে কি ইজমা হয়েছিল?

ওফাতে মসীহ’র উপর সাহাবীদের মাঝে কি ইজমা হয়েছিল?

  • ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে গিয়েছিল, এমন কথায় নাকি সমস্ত সাহাবী একমত (ইজমা) হয়েছিলেন! আহা! কত বড় মিথ্যা কথা! এই পর্যায় কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি প্রশ্ন করছি,

১. আবুবকর (রা.) যখন و ما محمد الا رسول… (৩:১৪৪) আয়াতটি সবার সম্মুখে পাঠ করলেন এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর মৃত্যু হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সবাইকে বুঝাতে লাগলেন ঠিক সেই সময় হযরত উমর (রা.) খুব জোশে এসে বললেন ‘যে বলবে মুহাম্মদ (সা.) মারা গেছেন তাকে আমি আমার তরবারি দিয়ে হত্যা করব।’ তিনি কিন্তু এটুকু বলেই থেমে যাননি। তিনি আরও বলেন,

و انما رفع الى السماء كما رفع عيسى بن مريم

অর্থাৎ ঈসা (আ.)-কে যেভাবে “আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে” তদ্রূপ মুহাম্মদ (সা.)-কেও উঠিয়ে নেয়া হয়েছে।’ মির্যা কাদিয়ানীও হাদীসটি তার বইতে এনেছেন। (দেখুন রূহানী খাযায়েন ১৫/৫৮০)। এখানে আমার প্রশ্ন হল, তখন আবুবকর (রা.) সহ কোনো একজন সাহাবীও কেন হযরত উমর (রা.)-এর ঈসা সম্পর্কিত ঐ কথার বিরোধিতা করলো না? বুঝা গেল সাহাবীদের নামে ‘ইজমা’ হওয়া সংক্রান্ত কাদিয়ানীদের দাবীটি অনেক বড় মিথ্যা কথা!

২. মির্যা সাহেব তার বইয়ের এক জায়গায় লিখেছে,

اور ابتداء سے آج تک بعض اقوال صحابہ اور مفسرین بھی اس کو مارتے ہی چلے آئے ہیں

অর্থাৎ সেই প্রথম থেকে আজকের এই দিন পর্যন্ত কিছু সংখ্যক সাহাবী এবং মুফাচ্ছিরও তাঁকে (ঈসাকে) মৃত বলে আসছে। (রূহানী খাযায়েন ৩/৩৫১)।

এখানে প্রশ্ন হল, সমস্ত সাহাবী ঐ বিষয়ে আসলেই একমত হয়ে থাকলে ‘কিছু সংখ্যক সাহাবী তাঁকে মৃত বলে আসছে’—মির্যার এই কথার কী মানে? জ্ঞানীদের নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলবে।

৩. মির্যা সাহেব এক জায়গায় (ভিন্ন আরেকটি প্রসঙ্গে লিখলেন), তিন’শ বা চার’শ সংখ্যক সাহাবীর নাম উল্লেখ করতে হবে এবং প্রমাণ পেশ করতে হবে যে, সাহাবীদের ইজমা রয়েছে, নতুবা এক/দু’জনের বয়ানের নাম ‘ইজমা’ রাখা খুবই অবিচার।’ (রূহানী খাযায়েন ৩/২৫৫)।

এখানে প্রশ্নটি হল, ওফাতে মসীহ’র উপর সাহাবীদের ইজমা সংক্রান্ত উক্ত বিপুল সংখ্যক কোনো রেকর্ড কি কাদিয়ানীদের নিকট রয়েছে? সংক্ষেপে। সুতরাং প্রমাণিত হল যে, ঈসা (আ.)-কে নিয়ে কাদিয়ানীদের যতসব দাবী দাওয়া ভিত্তিহীন ও মিথ্যা!

হে আল্লাহ তুমি পথভ্রষ্ট এই সমস্ত কাদিয়ানীদের সহীহ বুঝ দান কর।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩৪

এক জায়গায় লিখেন, মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া আর কেউই ‘ছাহেবে খাতাম’ নন। আরেক জায়গায় লিখেন, ঈসা (আ.) বনী ইসরাইলের জন্য ‘খাতামুল আম্বিয়া’ ছিলেন!

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে (তিনি লিখেছেন), “তিনি (মুহাম্মদ) ব্যতীত আর কেউ ছাহেবে ‘খা-তাম’ নন। ছাহেবে খা-তাম হওয়ার অন্যতম একটি কারণ এই যে, তাঁর মোহর (সীল) দ্বারা এমন নবুওয়তও অর্জিত হয় যার জন্য উম্মতি হওয়া আবশ্যক।” (রূহানী খাযায়েন ২২/২৯-৩০)।

স্ববিরোধী কথা :

“বনী ইসরাইলের ‘খাতামুল আম্বিয়া’ হলেন ঈসা (আ:)”। (নুসরাতুল হক, রূহানী খাযায়েন ২১/৪১২)।

এবার মির্যা কাদিয়ানী সাহেব নিজেরই স্ববিরোধী কথাবার্তার দরুন কী সাব্যস্ত হলেন? আফসোস! আত্মস্বীকৃত একজন মিথ্যাবাদীকে আপনারা ইমাম মাহদী বানিয়ে বসে আসেন। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)। অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩৫

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩৩

কখনো বলে, ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়েছে শামে এবং কবর শামের গ্যালিল জনপদে, আবার বলে, কাশ্মীরে বা তার আশপাশে!

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে (তিনি লিখেছেন) ‘সত্য তো এটাই যে, মসীহ [ঈসা] আপনা মাতৃভুমি গ্যালীলে [সিরিয়া] গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু তাঁর ঐ দেহ যেটি [সেখানে] দাফন হয়েছিল তা আবার জীবিত হয়ে যাওয়া একদমই সত্য নয়।’ (রূহানী খাযায়েন: ৩/৩৫৩; রচনাকাল ১৮৯১ইং)।

স্ববিরোধী কথা :

‘হযরত মসীহ এর কবর কাশ্মীরে অথবা তার আশপাশে [তিব্বতে] রয়েছে।’ (রূহানী খাযায়েন: ১০/৩০২; রচনাকাল ১৮৯৫ইং)। (এ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন) প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩২

মির্যা কাদিয়ানী আর তার পুত্র (কথিত মুসলেহ মওউদ) মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ তাদের দুইজনের পরষ্পর বিরোধী কথাবার্তা!

মির্যায়ী পিতা-পুত্রের মাঝে স্ববিরোধ বক্তব্যের একটি দৃষ্টান্ত এই যে, (কাদিয়ানীদের উর্দূ ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা ‘আল-ফজল’ ২০-আগস্ট-১৯২৪ এর ০৫ নং পাতায় ‘মুহাম্মদী বেগম ওয়ালি পেশগোঈ’ শীর্ষক শিরোনামে মির্যা বশির উদ্দীন মাহমূদের উদ্ধৃতিতে লিখা আছে), اللہ تعالی کا کوئی وعدہ نہیں تھا کہ وہ لڑکی آپ کے نکاح میں آئے گی অর্থাৎ “উনার সাথে (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানীর সাথে) ঐ মেয়েটির (অর্থাৎ মুহাম্মদী বেগমের) বিয়ে হওয়া মর্মে আল্লাহতালার কোনোই ওয়াদা ছিলনা।

স্ববিরোধী কথা :

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী লিখেছেন, جیسا کہ اس نے فرمایا کہ میں اس عورت کو اس کے نکاح کے بعد واپس لاؤں گا اور تجھے دوں گا ‘অর্থাৎ তিনি (খোদা) বলেছেন, আমি এ মহিলাকে তার বিবাহের পর তার নিকট (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানীর নিকট) ফিরিয়ে দেব।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ২/৪৩ নতুন এডিশন)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা হল, মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ কিভাবে এমন জঘন্য মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারলেন? মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের রচনায় যে কথা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে তিনি কিজন্য সেটির বিপরীতে গেলেন? তার এই মিথ্যাচার কিবা অসচেতনতামূলক কথায় সমগ্র আহমদী বিপথগামী হয়নি? দুই জায়গায় দুই রকম! তাও আল্লাহর নাম ভেঙ্গে! আল্লাহ তাদের অনুসারীদের সহীহ বুঝ দান করুন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩১

এই কেমন স্ববিরোধ কথাবার্তা! কোথাও বলল, ফাতেমা বংশে আগত সেই ইমাম মাহদী আমি নই, আবার আরেক জায়গায় কাশফের নাম ভেঙ্গে নিজেকে ফাতেমী বংশীয় সাব্যস্ত করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা!

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে (তিনি লিখেছেন, কাশফে (অতি জাগ্রত স্বপ্নে) হযরত ফাতেমা (রা.) আমার মাথা তাঁর উরুদেশে রেখেছেন এবং আমায় দেখিয়েছেন যে, আমি তাঁর থেকে উদ্ভূত।’ (এক গলতি কা ইযালা বা একটি ভুল সংশোধন, পৃষ্ঠা নং ১১)।

স্ববিরোধ কথা :

মির্যা কাদিয়ানীর বইয়ের আরেক জায়গায় লিখা আছে, “হযরত মাহদী সম্পর্কে ফাতেমার সন্তান থেকে তাঁর আগমনী যে সংবাদ হাদীস সমূহে এসেছে আমি সেই হাদীসে বর্ণিত মাহদী নই।” (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ২১/৩৫৬)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)। অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

কাদিয়ানীদের ‘সালানা জলসা’ হজ্জের মত!

কাদিয়ানীদের চেপে রাখা ধর্মবিশ্বাস!

মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ এর ‘খুতুবাতে মাহমুদ’ গ্রন্থে লিখা আছে যে, জলসাও হজ্জের মত। বিস্তারিত জানুন! এখানে তারই বই থেকে বাংলা অনুবাদ সহ তুলে ধরছি। মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ লিখেছেন,

جب تم حج کے لئے نکلو تو یہ تین باتیں یاد رکھو۔ آج جلسہ کا پہلا دن ہے۔ اور ہمارا جلسہ بھی حج کی طرح ہے۔ حج خدا تعالی نے مؤمنون کی ترقی کے لئے مقرر کیا تھا۔ آج احمدیوں کے لئے دینی لحاظ سے حج تو مفید ہے مگر اس سے اصل غرض یعنی قوم کی ترقی تھی وہ انہیں حاصل نہیں ہو سکتی۔ کیونکہ حج کا مقام ایسی لوگوں کے قبضہ میں ہے جو احمدیوں کو قتل کر دینا بھی جائز سمجھتے ہیں۔ اس لئے خدا تعالی نے قادیان کو اس کام کے لئے مقرر کیا ہے۔ ہمارے آدمیوں میں سے جن کو خدا تعالیٰ توفیق دیتا ہے حج کرتے ہیں۔ مگر وہ فائدہ جو حج سے مقصود ہے وہ سالانہ جلسہ پر ہی آکر اٹھاتے ہیں.

অর্থাৎ ‘যখন তোমরা হজ্জের জন্য বের হবে তখন এ তিনটি কথা স্মরণ রাখবে। আজ জলসার প্রথম দিন। আর আমাদের জলসাও হজ্জের মতো। খোদাতালা মুমিনদের উন্নতি সাধনের জন্যই হজ্জ বিধান করেছিলেন। আজকে আহমদীদের জন্য ধর্মীয় ভাবে হজ্জ করা তো উপকারী, তবে তার মাধ্যমে যা প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্থাৎ জাতির উন্নতি হওয়া ছিল সেটি তার মাধ্যমে অর্জিত হয় না। কেননা হজ্জের স্থান এমন লোকদের আয়ত্তে রয়েছে যারা আহমদীদেরকে হত্যা করাও বৈধ মনে করে। এজন্য খোদাতালা কাদিয়ানকে এই কাজের (হজ্জের) জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমাদের লোকদের মধ্য হতে যাদেরকে খোদাতালা তাওফিক দিয়েছেন (তারা) হজ্জ করুক। কিন্তু হজ্জের মাধ্যমে যে উপকারীতা উদ্দেশ্য সেটি সালানা জলসায় এসেও লাভ করতে পারে।’ (খুতুবাতে মাহমুদ ৪/২৫৪; ২৫-১২-১৯১৪ খ্রিস্ট-বর্ষ)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

কিন্তু এইরূপ সুস্পষ্ট প্রমাণ দেয়ার পরেও কতিপয় ঘাড়ত্যাড়া কাদিয়ানীর দৃষ্টিতে এগুলো মিথ্যা আর বানোয়াটই মনে হয়ে থাকে। আমি সবিনয়ে অনুরোধ করব, উল্লিখিত বইটি তাদের alislam.org ওয়েবসাইট থেকেও ডাউনলোড করে সত্যমিথ্যা মিলিয়ে দেখতে পারে। এইজন্য সরাসরি এই লিংকে ক্লিক করুন। আর নিম্নোক্ত নির্দেশিত ৫৩ নং লাইনে ক্লিক করুন। তবেই বশির উদ্দিন মাহমুদ এর বইটি ডাউনলোড হয়ে যাবে।

প্রিয় পাঠকপাঠিকা! আমাদের উলামায়ে কেরাম মানুষকে কাদিয়ানীদের ব্যাপারে সতর্ক করেই যাচ্ছেন। এখনো সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত। হয়ত কেউ দলিল প্রমাণ ভিত্তিক, কেউ বা সাধারণ ভাবে। যেভাবেই সতর্ক করে যাচ্ছেনা কেন, তাদের সতর্ক করার পেছনে যুক্তি আর বাস্তবতা যে রয়েছে সেটার অন্যতম প্রমাণ আমার আজকের এই লিখাটি। এখন নিজেই চিন্তা করুন, আল্লাহর একটি ফরজ হজ্জের সাথে কাদিয়ানীদের ‘সালানা জলসা’ কিভাবে তুলনীয় হয়? কিন্তু তাদের কত জঘন্য স্পর্ধা হলে ‘জলসা’-কে ফরজ হজ্জের সাথে তুলনা করতে পারে, ভাবতেও অবাক হই। এখন তাদের এই বিশ্বাস এক দিকে ভ্রান্ত ও অপর দিকে হজ্জের নিষ্ঠুরতম অবমাননা নয় কি? জ্ঞানীদের নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলবে, ইনশাআল্লাহ।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী শুধুই একজন!

ইমাম মাহদী শুধুই একজন হবেন, একাধিক ইমাম মাহদীর কনসেপ্ট ভিত্তিহীন

রাসূল (সা.) অসংখ্য সহীহ হাদীসে প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে গেছেন। তন্মধ্যে একটি হাদীসে এসেছে যে, উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালমা (রা.) হতে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন الْمَهْدِيُّ مِنْ عِتْرَتِي مِنْ وَلَدِ فَاطِمَةَ ‏ অর্থাৎ ইমাম মাহদী আমার ঔরসজাত ফাতিমার বংশ থেকে হবে।

(রেফারেন্স :- আবুদাউদ কিতাবুল মাহদী, অধ্যায় নং ৩১; হাদীস নং ৪২৩৫ ইফা হতে প্রকাশিত, হাদীসের মান: সহীহ) ।

সুতরাং একথা একদমই পরিষ্কার হল যে, রাসূল (সা.) একাধিক ইমাম মাহদীর সংবাদ দেননি, বরং শুধুই একজনের সংবাদ দিয়ে গেছেন। আর যার আগমনের সংবাদ দিয়ে গেছেন তিনি আহলে বাইয়েতের অন্তর্ভুক্ত ও ফাতেমা (রা.)-এর সন্তান হতেই আবির্ভূত হবেন। এটিই সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত।

কিন্তু আজকের এই লিখাটি পড়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ইমাম মাহদী তো একজনই, একথা তো সর্বজনসম্মত। তারপরও এইধরনের লিখার উদ্দেশ্যটা কী?

আমি আমার সেসব ভাইবোনদের জিজ্ঞাসার উত্তরে বলতে চাই, মির্যা কাদিয়ানীর কতিপয় অনুসারীর একটি বিভ্রান্তিকর দাবী ও বিশ্বাসের অসারতা প্রমাণ করতেই মূলত আজকের এই লিখা। যেহেতু তাদেরকে যখনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয় যে, এই দেখুন হাদীসগুলো! এই সহীহ হাদীসগুলোর কোনো একটিও মির্যা কাদিয়ানীর সাথে যায়না। তাকে ইমাম মাহদী সাব্যস্ত করার কোনো রসদ এগুলোতে নেই। কাজেই রাসূল (সা.)-এর সুসংবাদকৃত সেই একমাত্র ইমাম মাহদী এখনো আসেনি, তবে তিনি যথাসময়ে আসবেন। সুতরাং মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আপনা দাবীতে সত্যবাদী ছিলনা।

আপনি-আমি যখন এভাবে তাদের সামনে তাদেরই ভুলগুলো ও বাস্তবতা তুলে ধরব, তখন গা বাঁচাতে বা মির্যার মাহদী দাবীকে বাস্তব প্রমাণ করতে তারা একধরণের মিথ্যা আর গোঁজামিলের আশ্রয় নিয়ে থাকে। বলে থাকে যে, আরে জনাব! হাদীসে তো একাধিক ইমাম মাহদীর সংবাদ এসেছে। মির্যা কাদিয়ানী সাহেব যদিও ফাতেমা (রা.)-এর বংশধর বা আহলে বাইয়েতের মধ্য হতে নন, তাতে অসুবিধা কোথায়? ইমাম মাহদী যেহেতু আরও অনেক হবেন সেহেতু তিনি তাদের মধ্য থেকে কোনো না কোনো একজন তো নিশ্চয়ই হবেন! এবার আশাকরি বুঝতেই পেরেছেন যে, তারা কী অসম্ভব রকমের বিভ্রান্তিতে নিপতিত। এইজন্যই লিখাটি লিখতে হল!

এবার আমি সেসব হতভাগা বিভ্রান্ত ও বিপথগামী আহমদীবন্ধুদের উদ্দেশ্যে তাদেরই চতুর্থ খলীফা মির্যা তাহের আহমদ সাহেবের রচিত বই থেকে দেখাব যে, তিনি নিজেও পরিষ্কার করে লিখে গেছেন যে, ইমাম মাহদী শুধুই একজন। রাসূল (সা.) শুধুই একজন ইমাম মাহদী আসার সংবাদ দিয়ে গেছেন।

(রেফারেন্স ‘মাজালিসে ইরফান’ বা مجالس عرفان (উর্দূ) পৃষ্ঠা নং ৭২)।

আমি মির্যা তাহের আহমদ সাহেবের কিতাব থেকে উর্দূটা অনুবাদ সহ নিচে তুলে ধরছি, মির্যা তাহের আহমদ সাহেব লিখেছেন,

اور یہ ہو نہیں سکتا کہ خدا نے دس امتی نبی بہیجنے ہوں اور صرف ایک کی خبر دے۔ اس لئے عقلا امکان اور چیز ہے۔ واقعتا کتنے آئیں گے حضرت اقدس محمد مصطفی صلی اللہ علیہ وسلم سے پوچھے بغیر فیصلہ نہیں ہو سکتا۔ اور آپ صلی اللہ علیہ وسلم نے ایک امام مہدی کی خبر دی ہے۔ یہ تو ہمیں علم ہے۔ اور ہم ایک کو مان بھی بیٹہے ہیں۔ اس لئے کل کو اگر کسی نے دعوی کیا تو جماعت احمدیہ اس سے پوچھے گی کہ ہم نے پہلے کو تو اس لئے ماننا تھا کہ اس کے متعلق آنحضور صلی اللہ علیہ وسلم کی خوشخبریاں تھیں۔ اگر تم سچے ہو تو وہ خوشخبریاں دکھاؤ ہم تمہیں بھی مان لیں گے۔ یہ ہمارا مسلک ہے۔

অর্থাৎ ‘আর এটা তো হতে পারে না যে, খোদাতালা উম্মতিনবী পাঠাবেন দশজন আর সংবাদ দিবেন শুধুই একজনের। বুদ্ধির দাবীতে (যদিও বা এইরূপ) সম্ভাবনা থাকাটা ভিন্ন জিনিস তবে বাস্তবে কতজন আগমন করবে তা তো হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করা ব্যতীত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। আর হযরত (সা.) একজন ইমাম মাহদীরই সংবাদ দিয়ে গেছেন, এটি তো আমাদের জানা কথা। আর আমরা একজনকেই মেনে বসে আছি। কাজেই আগামীকাল যদি দ্বিতীয় কেউ (ইমাম মাহদী হওয়ার) দাবি করে তাহলে জামাতে আহমদীয়া তাকে জিজ্ঞেস করবে যে, আমরা তো আগের ইমাম মাহাদীকে এজন্যই মেনে নিয়েছিলাম যে, তার সম্পর্কে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুসংবাদ ছিল। (কাজেই এখন) যদি তুমি তোমার দাবিতে সত্যবাদী হও তাহলে তোমার ব্যাপারে সুসংবাদ সমূহ প্রদর্শন করো! আমরাও তোমাকে মেনে নেব! এটাই হচ্ছে আমাদের মাসলাক তথা রায়।’

(মাজালিসে ইরফান [مجالس ]-৭২; মির্যা তাহের আহমদ)। স্ক্রিনশট:-

শেষকথা,

আমার প্রিয় আহমদী ভাই ও বোনেরা! আল্লাহর ওয়াস্তে সত্যটা খুঁজুন, সত্যটা বুঝার চেষ্টা করুন। অন্ধ হবেন না। আল্লাহ আপনাকে দুনিয়া বুঝার শক্তি দিয়েছেন, পরিবার বুঝতে শিখেছেন। নিজের ভালো মন্দ সবই বুঝতে সক্ষম। তাহলে কিজন্য নিজের দ্বীন ধর্ম আর ইসলামি শিক্ষায় আপনি অন্ধ থাকবেন? কেন নিরপেক্ষ ভাবে যাচাই করবেন না যে, সেই একমাত্র প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদীর প্রকৃত পরিচয় কেমন?

জাল আর জঈফ হাদীসগুলো বাদ দিয়ে আপনি অন্তত সহীহ ও বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হাদীসগুলো পড়ুন ইমাম মাহদী সংক্রান্ত ১২টি নির্বাচিত সহীহ হাদীস

ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর সনদ (সূত্র) সম্পর্কে গত হাজার বছর আগ থেকেই বিশেষজ্ঞ ইমামগণ সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন যে, কোন কোন হাদীস সূত্রের বিচারে সহীহ ও গ্রহণযোগ্য আর কোন কোন হাদীস অপ্রমাণিত ও বাতিল। ইনশাআল্লাহ, আপনি নিরপেক্ষ ভাবে সত্য খোঁজে দেখুন। একদিন অবশ্যই আপনি আপনার প্রত্যাশিত সত্য পথ পেয়ে যাবেন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩০

কোথাও লিখেছেন, জড়দেহ সহ আকাশে যাওয়া সম্ভব নয়, আবার লিখলেন রাসূল (সা.)-এর মেরাজ হয়েছিল জাগ্রত অবস্থায় ও দেহসহ!

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে, তিনি জনৈক প্রশ্নকারীর প্রশ্নাকারে নিজের রায় উল্লেখপূর্বক লিখেছেন, 

কোনো জড়দেহ আকাশে যাওয়া সম্ভব নয়।” (রূহানী খাযায়েন ৩/১২৬)।

স্ববিরোধ কথা :

“অতপর মে’রাজ প্রসঙ্গে এসো! এটি কখনো আমাদের মতামত নয় যে, সেটি একটি স্বপ্ন ছিল বা শুধুমাত্র রূহই গিয়েছিল।” (মালফুযাত ৫/১৩৪ চতুর্থ এডিশন)।

আরেকটি রচনায় উল্লেখ আছে,

“বাকী রইল আমাদের রসূল (সা:)-এর মে’রাজের প্রসঙ্গটি। এটি ছিল জাগ্রত অবস্থায় একটি পরিপূর্ণ, অতীব সূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক এবং অলৌকিক অভিজ্ঞতা। এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই, রসূলুল্লাহ (সা:)-এর জাগ্রত অবস্থায় দেহসহ উর্ধ্বলোকে গিয়েছেন।” (হামামাতুল বুশরা [বাংলা] ৬০)। যথাক্রমে প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)। অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

মির্যার স্ববিরোধীতা-৩১

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী