Home Blog Page 23

মির্যার স্ববিরোধীতা-১৩

মির্যা কাদিয়ানী কর্তৃক ‘মুতাওয়াফফীকা’ শব্দের অর্থ চার জায়গায় চার রকম!

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর রচনাবলী হতে আরবী শব্দ انى متوفيك -এর ভিন্ন ভিন্ন অনুবাদ পেশ করছি, যেমন তিনি এক জায়গায় انى متوفيك অর্থ লিখেছেন (উর্দূতে), میں تجھکو پوری نعمت دوں گا (উচ্চারণ – মে তুজকো পুরি নে’মত দোংগা) অর্থাৎ আমি তোমাকে পূর্ণ নেয়ামত দেব। (রূহানী খাযায়েন ১/৬২০)। মির্যা সাহেব আরেক জায়গায় লিখেন, میں تجھے کامل اجر بخشوں گا (উচ্চারণ – মে তুজে কামেল আজর বখশোঁগা) অর্থাৎ আমি তোমাকে পরিপূর্ণ পুরষ্কার দেব। (রূহানী খাযায়েন ১/৬৬৪-৬৫)। মির্যা সাহেব আরেক জায়গায় লিখেন میں تجھے اسی ذلیل اور لعنتی موتوں سے بچاؤں گا (মে তুজে এসি যলীল অওর লা’নতি মউতুঁ চে বাছাঁওগা) অর্থাৎ আমি তোমাকে এমন অপমানকর ও অভিশপ্ত মৃত্যু হতে রক্ষা করব। (রূহানী খাযায়েন ১২/২৩)।

স্ববিরোধ কথা :

এবার আপনারা দেখতে পাবেন যে, মির্যা সাহেব ঐ ‘মুতাওয়াফফীকা’ শব্দের অর্থ ঈসা (আ.)-এর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী অর্থ ‘মৃত্যু‘ নিয়েছেন। তিনি লিখেন, اے عیسیٰ میں تجھے وفات دینے والا ہوں (উচ্চারণ – আয় ঈসা মে তুজে ওফাত দেনে ওয়ালা হোঁ) অর্থাৎ হে ঈসা আমি তোমাকে মৃত্যু দেব…। (তুহফায়ে গোলডবিয়া, রূহানী খাযায়েন ১৭/১৬২)।

এখন প্রশ্ন হল, অন্যান্য জায়গায় শব্দটির ‘মৃত্যু’ অর্থ ত্যাগ করে শুধু ঈসা (আ.)-এর ক্ষেত্রে এসে সেটিকে মৃত্যু অর্থে নেয়া হলে, তখন কি ঈসা (আ.)-এর উপর অবিচার করা হল না? অথচ এই জায়গার ন্যায় আগের জায়গাগুলোতেও কর্তা আল্লাহ এবং কর্ম যীরূহ বা প্রাণীবাচকই ছিল! এবার কবি একদম নিরব!!

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি:-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

উরিযা ফীহা বি-রূহি ঈসা শীর্ষক হাদীসের সঠিক তাৎপর্য

0

হাদীসের ভুল অনুবাদ দ্বারা জনমনে বিভ্রান্তি ও তার সমাধান

আহমদীয়া অর্থাৎ কাদিয়ানীবন্ধুদের ভুলটি শুধরানো উচিত, উনাদের অনেককে দেখেছি, একখানা হাদীসের খণ্ডিত একটি অংশ তুলে ধরে দাবী করতে চাচ্ছে যে, দেখ দেখ এখানে পরিষ্কার বলা আছে যে, “ঈসা (আ.)-এর রূহ কবজ করা হয়েছে”। আসুন, সম্পূর্ণ হাদীসটি (আরবীসহ) অনুবাদ আগে দেখে নিই।

  • হুবাইরা ইবনু ইয়ারীম হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, আলী (রা:) যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন হযরত হাসান (রা:) মিম্বারে উঠে ভাষণ দেয়ার প্রাক্কালে বলেছেন…. و لقد قُبِضَ فى الليلةِ التى عُرِجَ فيها بِرُوْحِ عيسى ابنَ مريم ليلةَ سبعِ و عشرين مِن رمضانَ অর্থ—“এমন একটি রাত্রিতে তাঁর (আলী) রূহ কবজ করা হয়েছে, যেই রাত্রিতে রূহ (রূহুল কুদস জিবরাইলের)’র মাধ্যমে ঈসা ইবনে মরিয়মকে উপরে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে (عُرِجَ فيها بِرُوْحِ عيسى)। রাত্রটি ছিল রমাদ্বানের ২৭ তারিখ।” (রেফারেন্স, আত-তবক্বাতুল কোবরা, লি ইবনে সা’আদ ৩/৩৭; মাকতাবাতুল খানজি লাহোর, সহীহ ইবনে হাব্বান খন্ড ১৫, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ খন্ড ১৭)।

হাদীসের তাহকীক : হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী হলেন আবু ইসহাক সাব’ঈ। তিনি মুদাল্লিস বা সূত্রের ক্রুটি-বিচ্যূতি গোপনকারী হিসেবে অভিযুক্ত (তবকাতুল মুদাল্লিসীন পৃষ্ঠা নং ৫৮)। তাই বর্ণনাটির সনদের মান দুর্বল । (স্ক্রিনশট দেখুন)

যাইহোক, হাদীসের মান নিয়ে এই মুহূর্তে আমার কোনো অভিযোগ নয়। আমার বলার উদ্দেশ্য হল, এখানে ঈসা (আ.)-এর রূহ কবজ করাই যদি উদ্দেশ্য হত তাহলে عُرِجَ (উরিযা) শব্দ না হয়ে বরং قُبِضَ (কুবিজা) শব্দই ব্যবহার হত। আর ঈসা (আ.)-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত ‘রূহ’ শব্দটিও ‘বা’ (ب) বর্ণ যোগে মাজরূর (مجرور) হত না। সব চে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি ওরাও হয়ত খেয়াল করেনি সেটি হল, বাক্যের মধ্যে روح (রূহ) শব্দটি কর্ম (مفعول) তথা Object নয়। অথচ রূহ কবজ করা বুঝাতে হলেও অন্ততপক্ষে روح শব্দ এখানে কর্মকারকে থাকা লাগত।

জ্ঞানীদের নিশ্চয়ই জানা আছে যে, জিবরাইল (আ.) এর উপাধি ‘রূহুল কুদস’ ছিল। আল্লাহ ঈসা (আ.)-কে রূহুল কুদস তথা জিবরাইল (আ.) এর মাধ্যমে সাহায্য করার কথা পবিত্র কুরআনেও উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তালা ইরশাদ করেছেন, (সূরা বাকারা ৮৭)। و ايدناه بروح القدس (উচ্চারণ – ‘ওয়া আইয়াদনা-হু বি-রূহিল কুদুস‘- অর্থাৎ আমরা তাকে জিবরাইলের মাধ্যমে সাহায্য করেছি)। তাফসীর এই,

حدثنا الحسن بن يحيى قال : أخبرنا عبد الرزاق قال : أخبرنا معمر ، عن قتادة في قوله : وأيدناه بروح القدس) قال : هو جبريل) উপরের রেওয়ায়েতটিতে খুব খেয়াল করুন, হুবহু এই আয়াতের মতই ب (বা) বর্ণ সহকারে بروح (বি-রূহ) শব্দ এসেছে। তাহলে এই নির্বোধরা কিজন্য আরবী ক্রিয়াপদ عرج (উরিযা)এর প্রতি খেয়াল করেনা? যদি ঈসা (আ.) এর রূহ কবজ করাই উদ্দেশ্য হত তবে তো قبض (কুবিজা) শব্দটাই উল্লেখ থাকত, তাই নয় কি? এরপরেও যাদের বুঝে আসবেনা তাদেরকে আল্লাহর নিকট সমর্পণ করছি।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-১২

কোথাও লিখেন, আমিই একমাত্র মসীহ মওউদ, আমার পর আর কোনো মসীহ নেই। আবার আরেক জায়গায় লিখেন, ‘তিনি (মসীহ) তিনবার দুনিয়াতে নাযিল হবেন।’

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর রচনা থেকে উল্লেখ করছি, (তিনি লিখেছেন) ‘সুতরাং আমি ব্যতীত দ্বিতীয় আর কোনো মসীহের জন্য আমার যুগের পর (দুনিয়ায়) কদম রাখার (আগমন করার) জায়গা নেই।’ (রূহানী খাযায়েন: ১৬/২৪৩; রচনাকাল ১৯০০ইং)। 

স্ববিরোধ কথা :

(তিনি আরেক জায়গায় লিখেছেন), ‘…এতে বুঝা গেল যে, মসীহ’র (খ্রিস্টীয়) উম্মতগণের অযাচিত কর্মকাণ্ডের দরুন মসীহ’র রূহানীয়তের জন্য এটাই স্থির ছিল যে, তিনি তিনবার দুনিয়াতে নাযিল হবেন।’ (রূহানী খাযায়েন ৫/৩৪৬)।

বলে রাখা দরকার, মির্যা কাদিয়ানী একথা বলে যেন বুঝাতে চাচ্ছেন যে, মসীহ’র প্রথম অবতার (বুরুজ) ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.), দ্বিতীয় অবতার মির্যা কাদিয়ানী নিজেই আর তৃতীয় অবতার এখনো আসার বাকি। তিনি আগামীতে অচিরেই আসবেন।

পাঠকবৃন্দ! আপনি যদি তার রচনাবলির সমষ্টি ‘রূহানী খাযায়েন’ এর ৫ম খণ্ডের ৩৩৯ পৃষ্ঠা হতে ৩৪৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মাত্র ৮টি পৃষ্ঠা মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে সম্পূর্ণ কথাটির খোলাসা আপনি বুঝতে সক্ষম হবেন। ইনশাআল্লাহ। প্রামাণ্য ডকুমেন্ট :-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)। অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কে এই শায়খ মাহমুদ এফেন্দী (রহ.)

0

হায়াতে আউলিয়ায়ে কেরাম।

শায়েখ মাহমুদ এফেন্দীর জানাজায় এরদোয়ান :
ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় অংশে অবস্থিত ইয়াভুজ সুলতান সেলিম মসজিদে গতকাল বাদ জুমা অনুষ্ঠিত বিশ্ববরেণ্য আলেম, তুরস্কের ধর্মীয় গুরু এবং নকশবন্দিয়া তরীকার খালিদিয়া শাখার শায়খ মাহমুদ এফেন্দীর জানাজায় শরীক হয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ৯৩ বছর বয়সে মহান এ মনীষী ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)। নামাজে জানাজা শেষে যথাযথ সম্মানের সাথে তাঁকে দাফন করা হয়। প্রিয়গুরু ও বিশ্বনন্দিত ইসলামী ব্যক্তিত্ব শায়খ মাহমুদ এফেন্দির ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এক টুইটে বলেছেন: আমাদের দেশের আধ্যাত্মিক একজন পথপ্রদর্শক মাহমুদ এফেন্দিকে আল্লাহ রহম করুন। তিনি ইসলামের জন্যে তাঁর জীবন কুরবান করেছেন। উল্লেখ্য, ইসলামের জন্যে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন শায়খ মাহমুদ এফেন্দি। খেলাফত ও সালতানাতবিদ্বেষী কামাল পাশার রেখে যাওয়া আধুনিক তুরস্কে সেকুলার বা ধর্মহীন শাসনের সময় ইসলামকে মানুষের মাঝে টিকিয়ে রাখতে অক্লান্ত প্রচেষ্টা ছিলো তাঁর। বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের প্রভাব নিয়ে অসংখ্য বই লিখেছেন তিনি। সেকুলার তুরস্কে যখন মসজিদগুলো জাদুঘর হয়ে যায়; মাদ্রাসাগুলোর যাবতীয় সম্পত্তি সরকার ক্রোক করে নেয়; ধর্মীয় শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়; রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে ধর্ম-চর্চা নিষিদ্ধ করা হয় – তখন তুর্কি আলেমগণ শহর ছেড়ে চলে যান প্রত্যন্ত অঞ্চলে। মাদ্রাসা কায়েম করেন অজপাড়া গাঁয়ে। তাঁরা গাছের নিচে বসে বাচ্চাদেরকে কুরআন মজীদ শেখানোর কাজ শুরু করেন। মোট কথা – সরকারী নিষেধাজ্ঞার খড়গ নিয়ে নিজেদেরকে যাঁরা ইসলামের জন্যে সঁপে দিয়েছিলেন, তাঁদেরই একজন ছিলেন মাহমুদ এফেন্দি (রাহমাতুল্লাহিতা’লা ‘আলাইহি)। তিনি যেভাবে কষ্ট করে দ্বীনি ইলম হাসিল করেছেন, সেভাবে নিজেও গ্রামগঞ্জে ছাত্রদেরকে শিখিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় শায়খ মাহমুদ আফেন্দি ছাত্রদের আঙুলের ইশারায় সারফ-নাহু শেখাতেন এবং হাতের ইশারায় মাসয়ালা-মাসায়িল বলতেন। এখনো তুরস্কের কিছু জায়গায় এ পদ্ধতি চালু আছে। মরহুম মাহমুদ এফেন্দি হাফিজাহুল্লাহ তুর্কি ভাষায় আল-কুরআনুল কারীমের ১৮ খণ্ডের বিশাল এক তাফসীর লিখেছেন – যার নাম ‘রুহুল ফোরকান’। (সূত্র: হুরিয়াত ও অন্যান্য)।

মির্যার স্ববিরোধীতা-১১

একবার লিখল, শুধুই শরীয়তবাহক নবীর অস্বীকারকারীকে ‘কাফের’ বলা যাবে, আরেক জায়গায় লিখল, ‘যে আমার আহবানে সাড়া দেয়না সে মুসলমান নয়।’

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

(মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন),  ‘খোদাতালা আমার উপর প্রকাশ করে দিয়েছেন যে, যাদের নিকট আমার দাওয়াত পৌঁছেছে আর তারা তা কবুল করেনি এমন ব্যক্তি মুসলমান নয় এবং এরা (পরকালে) পাকড়াও হবে।’ (মির্যা কাদিয়ানীর কথিত ওহী-সমগ্র গ্রন্থ তাযকিরাহ পৃষ্ঠা নং ৫১৯; ইলহাম, মার্চ ১৯০৬ ইং, চতুর্থ এডিশন)।

স্ববিরোধ কথা :

(তিনি তার রচনার আরেক জায়গায় লিখেছেন), ‘এই ব্যাপারটা স্মরণ রাখা উচিত যে, আপনা দাবীর অস্বীকারকারীকে কাফের বলা সেসব নবীর বৈশিষ্ট্য যারা খোদার পক্ষ হতে শরীয়ত এবং আহকামে জাদীদাহ গ্রহণ করেন। কিন্তু একজন শরীয়তবাহক ব্যতীত যে স্তরের মুলহাম এবং মুহাদ্দাস হয় না কেন, জনাবে ইলাহির নিকট যত বিপুল পরিমাণে কথপোকথনের সম্মান অর্জনকারী ও উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন হয় না কেন; তাকে অস্বীকার করলে কেউ কাফের হবেন না।‘ (তিরয়াকুল কুলূব, রূহানী খাযায়েন ১৫/৪৩২)। স্ক্রিনশট দেখুন,

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)। অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন। স্ক্রিনশট

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-১০

কোথাও লিখা আছে, শুধু নবী করীম (সা.)-এর আনুগত্যেই নবুওয়তের মোকাম পাওয়া যায়, কোথাও লিখা আছে, ঈসা (আ.)ও মূসা নবীর আনুগত্যে খোদার নৈকট্য অর্জন ও নবী’র মোকাম পেয়েছেন!

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

এই পর্বে মির্যা কাদিয়ানী আর তার ছেলে বশীর আহমদ (এম.এ) এবং অনুসারীদের মধ্যকার স্ববিরোধী কথাবার্তার আরেকটি প্রমাণ দেখানো হবে। যেমন মির্যার ছেলে বশীর আহমদ (এম.এ) লিখেছেন,

এমন একজন কামেল মানুষের পূর্ণ আনুগত্য দ্বারা মির্যা সাহেবের নবুওয়ত অর্জিত হয়েছে যাঁর পূর্ণ অনুসরণ নবুওয়তের স্তরে পৌঁছে দিয়ে থাকে। সুস্পষ্ট আছে যে, এমন নবুওয়ত নবী করীম (সা.)-এর পূর্বে সম্ভব ছিলনা। কেননা উনার (সা.) পূর্বে এমন কেউই গত হননি যার কামেল আনুগত্য দ্বারা আল্লাহর কাছ থেকে নবুওয়ত পেতে পারে।’ (কালিমাতুল ফছল ২২, হার্ডকপি, প্রথমপ্রকাশ ১লা মে ১৯১৫ ইং)। এই একই কথা এদেশীয় কাদিয়ানীদের বইগুলোতেও রয়েছে। উম্মতিনবী পৃষ্ঠা নং ৯ দ্রষ্টব্য।

  • জ্ঞাতব্য, কালিমাতুল ফসল বইটি গ্রন্থবদ্ধ হওয়ার আগে ‘রিভিউ অফ রিলিজন্স‘ (ریویو آف ریلیجنز) নামীয় কাদিয়ানীদের একটি উর্দূ অফিসিয়াল পত্রিকারই অংশ ছিল। মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৯৪। ভাষা উর্দূ। বইটি এখনও বাংলায় অনুবাদ হয়নি।

স্ববিরোধী কথা :

‘মির্যা কাদিয়ানীর বইতে লিখা আছে, ‘যেমন খোদার বান্দা ঈসা যাকে হিব্রু ভাষায় ইসোয়া বলে, (তিনি) ত্রিশ বছর পর্যন্ত মূসা (আ.)-এর আনুগত্য করে খোদার ঘনিষ্ঠ হয়ে যান এবং নবুওয়তের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।’ (চশমায়ে মসীহ [উর্দূ] পৃষ্ঠা নং ৬৭, রূহানী খাযায়েন: ২০/৩৮১-৮২; রচনাকাল মার্চ, ১৯০৬ইং)। আরও পরিষ্কার করে জানতে চশমায়ে মসীহি (বাংলা) এর ৫২ নং পৃষ্ঠাটিও দেখুন। (নিচ থেকে ২নং স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য)।

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৯

একবার বলল ‘নবীর ইজতিহাদি ভুল হয়, আবার বলল নবীর ইজতিহাদি ভুল মূলত ওহীরই ভুল…(অর্থাৎ নবীর কখনো ইজতিহাদি ভুল হবারও সম্ভবনা নেই)!!

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

(মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন), ‘নবী’র ইজতিহাদী (গবেষণালব্ধ মত) ভুল মূলত ওহীরই ভুল। কেননা নবী কখনো ওহী থেকে কোনো অবস্থাতেই বিরত থাকেন না।’ (রূহানী খাযায়েন: ৫/৩৫৩; রচনাকাল ১৮৯২ইং)।

স্ববিরোধী কথা :

‘নবী(ও) নিজ ইজতিহাদে ভুল করে থাকেন কিন্তু খোদার ওহীতে ভুল হয় না।’ (রূহানী খাযায়েন: ২২/৫৭৩; রচনাকাল ১৯০৭ইং)। স্ক্যান সংযুক্তি:-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৮

শেষ যুগে আত্মপ্রকাশকারী ‘দাব্বাতুল আরদ’ সম্পর্কে

এখন এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

(মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন), ‘দাব্বাতুল আরদ (دابة الارض) হচ্ছে, ধর্মতত্ত্ব আর ফিলোসোফি তথা দর্শনশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জনকারী উলামায়ে কেরাম যারা ইসলামের সাহায্যে সমস্ত বাতিল মতবাদের উপর হামলা করতে দাঁড়িয়ে যাবে।’ (রূহানী খাযায়েন: ৩/৩৭০; রচনাকাল ১৮৯১ইং)।

স্ববিরোধী কথা :

‘দাব্বাতুল আরদ (دابة الارض) হল বিভিন্ন আকৃতির সেসব জন্তু জানোয়ার যারা কাশফে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং অন্তরে উদয় হয়েছে যে, এরা প্লেগের পোকামাকড়।’ (রূহানী খাযায়েন: ১৮/৪১৬; রচনাকাল ১৮৯২ইং)।

দুঃখজনক হলেও সত্য, কুরআন হাদীস মির্যা কাদিয়ানীর নিকট একদমই সস্তা জিনিস, বরং তার চেয়েও অতি সাধারণ বস্তু ছিল। নইলে কিভাবে সম্ভব যে, এমন হটকারিতামূলক অপব্যাখ্যার তুফান ঘটানো!

স্ক্যান সংযুক্তি –

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৭

একবার বললেন, পবিত্র কুরআন দ্বারা ঈসার মৃত্যু সাব্যস্ত; আবার বললেন, কুরআনে ‘ইবনে মরিয়ম’ বলে যে মসীহ’র আগমনী সংবাদ রয়েছে তা হতে মির্যা কাদিয়ানীই উদ্দেশ্য!

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

(মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন), ‘এখন একথা সাব্যস্ত হয়ে গেল যে, পবিত্র কুরআনে যেই মসীহ মওউদের আসার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে সে এই অধমই।’ (ইযালায়ে আওহাম, রূহানী খাযায়েন ৩/৪৬৮)।

স্ববিরোধ কথা :

‘যদি কুরআন দ্বারা ইবনে মরিয়মের মৃত্যু সাব্যস্ত না হয় তাহলে আমি মিথ্যুক সাব্যস্ত হব।’ (রূহানী খাযায়েন ১৯/৯৭, রচনাকাল ১৯০২ ইং)।

মির্যা কাদিয়ানীর নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে এবার আমার জিজ্ঞাসা, পবিত্র কুরআনে ঈসা ইবনে মরিয়ম নামটি দ্বারা কয়জন ব্যক্তি উদ্দেশ্য? যদি শুধুই এক ব্যক্তি উদ্দেশ্য হন আর তিনি মরিয়ম পুত্র ঈসা (আ.)-ই হন (অবশ্য মরিয়ম পুত্র ঈসাই উদ্দেশ্য-লিখক) তাহলে সেই মরিয়ম পুত্র ঈসা-ই আবার কুরআন দ্বারা মৃত সাব্যস্ত কিভাবে হন? অধিকন্তু রাসূল (সা.) শপথ বাক্য সহকারেই (والذى نفسى بيده ليوشكن ان ينزل فيكم ابن مريم الخ) ইবনে মরিয়মের আগমনী ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন (সহীহ বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া)। ফলে এইরূপ ভবিষ্যৎবাণী দ্বারা কোনোভাবেই রূপক অর্থ উদ্দেশ্য হবেনা, বরং প্রকৃত অর্থই উদ্দেশ্য নিতে হবে। মির্যা কাদিয়ানী নিজেও এমন কথা তার ‘হামামাতুল বুশরা’ বইতে লিখে গেছেন। (হামামাতুল বুশরা হতে স্ক্রিনশট)।

মোটকথা, মির্যা কাদিয়ানী সাহেব জঘন্য স্ববিরোধী কথার নজির স্থাপন করে গেছেন।

স্ক্যানকপি সংযুক্তি –

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যার স্ববিরোধীতা-৬

একবার বলল, আনুগত্যের নবীর ধারাক্রম সর্বদা বিদ্যমান থাকবে; আবার বলল, মুহাম্মদী ধারাবাহিকতায় শেষনবী সে নিজেই।

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে (তিনি লিখেছেন),

مگر اس بات کو بحضور دل یاد رکھنا چاہیے کہ یہ نبوت جس کا ہمیشہ کے لئے سلسلہ جارى رہیگا نبوت تامہ نہیں ہے۔ بلکہ جیساکہ میں ابھی بیان کر چکا ہوں وہ صرف ایک جزئ نبوت ہے

অর্থাৎ কিন্তু এই কথা খুব মন দিয়ে স্মরণ রাখা চাই যে, এই নবুওয়ত যার ধারাক্রম সর্বদা বিদ্যমান থাকবে, তা পরিপূর্ণ নবুওয়ত নয়, বরং আমি যেভাবে এখন বলছি যে, তা শুধুই একটি আংশিক নবুওয়ত।’ (তাওযিহুল মারাম, রূহানী খাযায়েন ৩/৬০)।

স্ববিরোধ কথা :

(তিনি আরেক জায়গায় লিখেছেন), “আল্লাহর বিধান, তাঁর দুই ধরনের প্রেরিত পুরুষ নিহত হন না। (১) প্রথমত: ঐ নবী–যিনি সিলসিলার সূচনাতে আগমন করেন, যেমন মুসায়ী সিলসিলায় হযরত মুসা আলায়হিস সালাম এবং মুহাম্মদীয়া সিলসিলায় আমাদের প্রভু ও মওলা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম। (২) দ্বিতীয়ত: ঐ সকল নবী ও আল্লাহর প্রেরিতগণ যারা সিলসিলার শেষে আগমন করেন- যেমন, মুসায়ী সিলসিলায় হযরত ঈসা আলায়হিস সালাম এবং মুহাম্মদী সিলসিলায় এই অধম।” (রূহানী খাযায়েন [উর্দূ] খন্ড ২০ পৃষ্ঠা নং ৬৯-৭০; রচনাকাল ১৯০৩ইং, তাযকেরাতুশ শাহাদাতাইন [বাংলা] পৃষ্ঠা নং ৮২)।

এখানে তিনি পরিষ্কার শব্দে লিখেছেন যে, তিনি (অর্থাৎ মির্যা সাহেব নিজেই) মুহাম্মদী ধারাবাহিকতায় একজন শেষনবী! এবার তাহলে তারই উপরিউক্ত কথামতে ‘আংশিক নবুওয়তের ক্রমধারাও সর্বদা বিদ্যমান থাকল কোথায়?‘ স্ক্যান সংযুক্তি :-

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক শিক্ষাবিদ ও গবেষক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।