Home Blog Page 37

কুরআনের যেসব আয়াত দিয়ে মির্যা কাদিয়ানীর নবী দাবীকে বৈধতা দিতে চায় সে সম্পর্কে

হাদীসের নাম ভেঙ্গে কথিত উম্মতিনবীর দলিল ও তার খন্ডন পড়ুন

সূরা আলে ইমরান ৮১, আল মুমিনূন ৫১, আহযাব ০৭, আন নাহল ০২, আ’রাফ ৩৫, আলে ইমরান ১৬৪, নিসা ৬৯, সূরা হাজ্জ ৭৫, সূরা জুমা ২-৩, সূরা রা’আদ ৭ ইত্যাদি আয়াত সমূহের অপব্যাখ্যা খন্ডন :

অপ্রিয় হলেও বাস্তব সত্য কথা, ৯৯% কাদিয়ানী মু’আল্লিমের ইসলাম সম্পর্কে ফান্ডামেন্টাল কোনো নলেজই নেই। এদের জ্ঞানের দৌড় পাকি কাদিয়ানী মুরুব্বি আব্দুর রহমান খাদিম রচিত আহমদীয়া পকেটবুক পর্যন্তই। আর মিস্টার আব্দুল আউয়াল সাহেব থেকে যতটুকু শুনেন ততটুকুই। তাই কথিত উম্মতিনবীর কনসেপ্ট নিয়ে বিতর্ক করার আগে নিচের লিখাটি ভালো করে বুঝে পড়ুন। যাতে পবিত্র কুরআন থেকে তাদের ইজরায়ে নবুওয়ত এর কনসেপ্ট আবিষ্কার করার পূর্বে এই নকশার দিকে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। ঠিক আছে, এবার শুরু করা যাক!

তাদের মু’আল্লিমদের প্রথমে জিজ্ঞেস করে জবানবন্দি নিবেন এভাবে যে,

মির্যা কাদিয়ানীর “নবী” দাবী কুরআন হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত, এই তো? তাহলে প্রথমেই জেনে নেয়া যাক মির্যা সাহেবের রচনাবলীতে তার “নবী” দাবীটা কেমন শব্দচয়নে উল্লেখ আছে!

১- মির্যা কাদিয়ানীর মতে তিনিই একমাত্র ও সর্বশেষ উম্মতিনবী। যেমন তার ‘হাকীকাতুল ওহী’ বইয়ের ৩৩০-৩১ নং পৃষ্ঠায় (বাংলায় অনূদিত) লিখা আছে, “মোটকথা খোদার ওহী ও অদৃশ্য বিষয়ের এই বিপুল অংশের জন্য এই উম্মতে আমি-ই একমাত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তি। আমার পূর্বে এই উম্মতে যত আউলিয়া, আবদাল ও কুতুব চলিয়া গিয়াছেন তাহাদিগকে এই পুরস্কারের বিপুল অংশ দেওয়া হয় নাই। অতএব এই কারণে “নবী” নাম পাওয়ার জন্য আমাকেই নির্দিষ্ট করা হইয়াছে। অন্য সকল লোক এই নামের যোগ্য নয়।…. সহীহ হাদীস অনুযায়ী এই রূপ ব্যক্তি একজনই হইবেন এবং এই ভবিষৎবাণী পূর্ণ হইয়াছে। (আরো দেখুন রূহানী খাযায়েন ২২/৪০৬-৭)।

২- আরো লিখা আছে, নবী তিন (৩) প্রকার। হাকিকি নবী, মুস্তাকিল নবী এবং উম্মতিনবী। মির্যা সাহেবদের মতে, হাকিকি আর মুস্তাকিল এই দুই প্রকারের নবী আর হবেনা কিন্তু জিল্লি [উম্মতি] নবী’র আগমনীধারা বন্ধ হয়নি। (মির্যাপুত্র বশির আহমদ এম.এ রচিত ‘কালিমাতুল ফসল’ পৃ-২৩ প্রথম অধ্যায়)। তবে জিল্লি [উম্মতি] নবী শুধুমাত্র একজনই হবেন। আর তিনি মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সাহেব নিজেই।

৩। অন্যত্রে লিখা আছে, মির্যা কাদিয়ানীর দাবীকৃত ‘নবুওয়ত’ আগের নবীগণের মত আল্লাহপ্রদত্ত নয়, বরং তা মুহাম্মদে আরাবী (সা.)-এর আনুগত্য দ্বারাই অর্জিত। (দেখুন হাকীকাতুুন নবুওয়ত ১/৫৪২)।

৪। অন্যত্রে আরো লিখা আছে, পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ‘রাসূল’ (رسول) শব্দটি আ’ম (عام) বা ব্যাপক অর্থবোধক যার অর্থের মধ্যে নবী, রাসূল এবং মুহাদ্দাসও অন্তর্ভুক্ত। (রূহানী খাযায়েন ৫/৩২২)।

৫। অন্যত্রে এও লিখা আছে যে, عام لفظ کو خاص معنی میں محدود کرنا صریح شرارت ہے ((আ’ম লফজ কো খাস মা’নি মে মাহদূদ করনা ছরীহ শারারত হে)) অর্থাৎ ‘আম’ (عام) শব্দকে খাস (خاص) অর্থে সীমাবদ্ধ করা সুস্পষ্ট ঔদ্ধত্যের পরিচায়ক। (রূহানী খাযায়েন ৯/৪৪৪)। তদুপরি মির্যাপুত্র মির্যা বশির আহমদ এম. এ সাহেবের রচনার ভাষ্যমতে, পবিত্র কুরআনের কোথাও এই তৃতীয় প্রকারের (জিল্লি/বুরুজি/উম্মতি) নবী শব্দ উল্লেখ নেই। (কালিমাতুল ফছল ২৭, প্রথম অধ্যায় দ্রষ্টব্য)।

(তারপর বলবেন)

এবার আপনাদের উত্থাপিত আয়াত আর হাদীসগুলোর উপর একটু দৃষ্টি দেয়া যাক। কেননা আপনারা ভবিষ্যতেও নবী-রাসূল আগমনীধারা অব্যাহত থাকার দলিল হিসেবে সাধারণত নিচের আয়াতগুলোই প্রদর্শন করে থাকেন। যেমন:-


১। “আর যখন আল্লাহ নবীদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও প্রজ্ঞা দান করছি, অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থকরূপে যখন একজন রসূল আসবে, তখন নিশ্চয় তোমরা তাকে বিশ্বাস ও সাহায্য করবে” (আলে ইমরান ৮১)।

  • ভ্রান্তি নিরসন:- প্রথমত, উক্ত আয়াতে যেই ‘রাসূল’ সম্পর্কে আলোচনা তার থেকে মির্যা কাদিয়ানীকে উদ্দেশ্য নেয়া শুধু মূর্খতা আর পাগলের প্রলাপ নয় বরং সুস্পষ্ট হটকারিতাও। আয়াতের শানে নুযূল বলছে, এখানে উল্লিখিত “রাসূল” বলতে হযরত মুহাম্মদ (সা:)-কেই বুঝানো হয়েছে। আল্লাহতালা রূহের জগতে সমস্ত নবী রাসূলকে একজন অত্যাসন্ন ‘রাসূল’ এর আবির্ভাব সম্পর্কে অবহিত করেছেন। অত্র আয়াতে রূহের জগতে সমস্ত নবী রাসূলকে সম্বোধন করে ‘লাতু-মিনুন্নাহ বিহী‘ (لتؤمنن به তথা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে) শব্দও বলা হয়েছে। কাজেই এখন যদি ঐ মীছাক-ওয়ালা রাসূল (নাউজুবিল্লা) মির্যা কাদিয়ানীই হন তখন কিন্তু বহু অসঙ্গতির কবলে পড়তে হবে! মির্যা কাদিয়ানী নিজেও একথা তার বইতে লিখে গেছেন। দেখুন, রূহানী খাযায়েন ১৮/৬৭৫। স্ক্রিনশট –

১- আয়াতের “রাসূল” শব্দটি আ’ম হওয়া সত্ত্বেও সেটি খাস (উম্মতি/বুরুজি) অর্থে গৃহীত হচ্ছে, যা সুস্পষ্ট ঔদ্ধত্যের পরিচায়ক। যেজন্য সর্বপ্রথম প্রমাণ করতে হবে যে, অত্র আয়াতে উল্লিখিত “রাসূল” শব্দটি স্রেফ বুরুজি বা উম্মতি অর্থেই খাস, হাকিকি বা মুস্তাকিল ধরনের কোনো অর্থ তাতে নিহিত নয়।

২- মির্যার কথিত উম্মতি বা বুরুজি কনসেপ্টও ভেস্তে যাচ্ছে। কারণ আয়াতটিতে ঐ আগমনকারী রাসূলের উপর অবশিষ্ট সমস্ত নবী রাসূলকে ঈমান আনতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠে, মির্যা কি সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার স্তরে উন্নীত যে, তার উপর ঈমান আনতে স্বয়ং মুহাম্মদ (সা:)ও আদিষ্ট? নাউযুবিল্লাহ।

৩- মির্যায়ীদের জন্য সব চেয়ে বড় দুঃসংবাদ হল, মুহাম্মদে আরাবী (সাঃ) নিজেই হাদীসে বলে গেছেন لو كان بعدى نبى لكان عمر ابن الخطاب (উচ্চারণ) লাও কানা বা’দী নাবিয়্যুন লাকা-না ওমর ইবনুল খাত্তাব অর্থাৎ যদি আমার পরে কোনো নবী হত তাহলে সে ওমর ইবনুল খাত্তাব-ই হত। (তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ৩৬৮৬)। এখন প্রশ্ন হল, পবিত্র কুরআনেই নতুন কোনো নবী-রাসুলের আগমনী সংবাদ সত্যিই যদি থাকবে তাহলে মহানবী (সা:) কিজন্য উমর (রা:) সম্পর্কে ঐ ধরনের বাণী রেখে গেলেন? অথচ পবিত্র কুরআনের সঠিক মর্মার্থ উনার (সা:) থেকে বেশি বুঝার দাবী করার দুঃসাহস কারো নেই! জ্ঞানীদের নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলবে।


২। ‘হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হইতে আহার কর ও সৎকর্ম কর; তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত।’ (আল মুমিনূন ৫১; ইফা)।

  • ভ্রান্তি নিরসন:- এই আয়াত কিভাবে আগামীতে আরো নতুন নবী রাসূল আগমন করবেন বলে বুঝাল তা বোধগম্য নয়। উল্লেখ্য, এখানে “হে রাসূলগণ” বলে বহু রাসূলকে সম্বোধন করা হয়েছে। এখন যদি ওদের কথাই সঠিক ধরি তাহলে মানতে হবে যে, অত্র আয়াতে কমপক্ষে তিন বা ততোধিক রাসূলের আগমনের ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে। ফলে এটি মির্যা কাদিয়ানীর ‘এই উম্মতে নবী নাম পাওয়ার জন্য আমিই একমাত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তি’—কথা মিথ্যা এবং বাতিল হয়ে যাচ্ছে বৈ নয়!

৩। ‘স্মরণ কর, যখন আমি নবীদের নিকট হইতে অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছিলাম এবং তোমার নিকট হইতেও এবং নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও মরিয়ম তনয় ঈসার নিকট হইতেও – তাহাদের নিকট হইতে গ্রহণ করিয়াছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার।’ (আহযাব ৭; অনুবাদ-ইফা)।

  • ভ্রান্তি নিরসন:- আয়াতটির সঠিক তাৎপর্য কী এ নিয়ে বহু কাদিয়ানী জ্ঞানপাপী আজও দ্বিধাদ্বন্দ্বে নিপতিত। ফলে তাদের অধিকাংশই মনে করছে যে, বোধহয় আয়াতটি নতুন একজন নবীর আগমনের বার্তা দিচ্ছে!! নাউযুবিল্লাহ। অথচ অত্র আয়াতে নতুন নবীর আগমনের বিন্দুমাত্র কোনো ইংগিতই নেই। প্রথমে আয়াতটি দেখুন-
  • وَ اِذۡ اَخَذۡنَا مِنَ النَّبِیّٖنَ مِیۡثَاقَہُمۡ وَ مِنۡکَ وَ مِنۡ نُّوۡحٍ وَّ اِبۡرٰہِیۡمَ وَ مُوۡسٰی وَ عِیۡسَی ابۡنِ مَرۡیَمَ ۪ وَ اَخَذۡنَا مِنۡہُمۡ مِّیۡثَاقًا غَلِیۡظًا
  • অর্থ- স্মরণ কর, আমি নবীদের নিকট হতে, তোমার নিকট হতে এবং নূহ, ইব্রাহীম, মূসা, মরিয়ম-তনয় ঈসার নিকট হতে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম; গ্রহণ করেছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে এই দৃঢ় অঙ্গীকার বলতে কি বুঝানো হয়েছে? উত্তরে বলতে পারি, এটি ঐ অঙ্গীকার, যার বর্ণনা সূরা (الشورى) আশ-শূরার ৪২:১৩ নং আয়াতে রয়েছে এবং তা এই যে, اَنۡ اَقِیۡمُوا الدِّیۡنَ وَ لَا تَتَفَرَّقُوۡا فِیۡہِ অর্থ—”দ্বীন প্রতিষ্ঠা কর এবং তাতে বিভক্ত হয়ো না।এবার সূরা আশ-শূরার ১৩ নং আয়াতের অনুবাদ-

شَرَعَ لَکُمۡ مِّنَ الدِّیۡنِ مَا وَصّٰی بِہٖ نُوۡحًا وَّ الَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ وَ مَا وَصَّیۡنَا بِہٖۤ اِبۡرٰہِیۡمَ وَ مُوۡسٰی وَ عِیۡسٰۤی اَنۡ اَقِیۡمُوا الدِّیۡنَ وَ لَا تَتَفَرَّقُوۡا فِیۡہِ ؕ کَبُرَ عَلَی الۡمُشۡرِکِیۡنَ مَا تَدۡعُوۡہُمۡ اِلَیۡہِ ؕ اَللّٰہُ یَجۡتَبِیۡۤ اِلَیۡہِ مَنۡ یَّشَآءُ وَ یَہۡدِیۡۤ اِلَیۡہِ مَنۡ یُّنِیۡبُ

অর্থ- তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন দ্বীন, যার নির্দেশ দিয়েছিলেন নূহকে, আর যা আমরা ওহী করেছি আপনাকে এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ‘ঈসাকে, এ বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি কর না।

আয়াতটিতে মুহাম্মদ (সা:)-এর নাম প্রথমে থাকার কারণ সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) নিজেই হাদীসে ইরশাদ করে গেছেন। তাফসীরে তাবারী-তে এসেছে, তিনি বলেছেন كنت اولهم فى الخلق و آخرهم فى البعث (উচ্চারণ) কুনতু আউয়ালুহুম ফিল খালকি ওয়া আখিরুহুম ফিল বি’ছি। অর্থ আমি (যদিও) আবির্ভাবের দিক থেকে সবার শেষে (তবে কিন্তু) আমি সৃষ্টির দিক থেকে সবার প্রথম।

এখন বিস্ময়কর কথা হল, মহানবী (সা:) যে আয়াত দ্বারা নিজের খতমে নবুওয়তের প্রমাণ দিয়ে গেছেন সেই আয়াত দ্বারা কাদিয়ানীরা নবুওয়ত জারি থাকার প্রমাণ দিচ্ছে! অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, পবিত্র কুরআনের সঠিক মর্মবাণী মহানবী (সা:)-এর চেয়েও কাদিয়ানীরা খুব ভালো বুঝে! নাউযুবিল্লাহ।


৪। “তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা স্বীয় নির্দেশে ওহী (প্রত্যাদেশ) সহ ফিরিশতা অবতীর্ণ করেন, এই মর্মে যাতে তোমরা সতর্ক করো, আমি ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই; সুতরাং তোমরা আমাকে ভয় করো।” (আন-নাহল ০২)।

  • ভ্রান্তি নিরসন:- আয়াতটিতে মুদারের (الفعل المضارع) ছিগাহ যোগে ينزل ক্রিয়াপদ থাকায় ভবিষ্যতেও আরো নবী রাসূলের আগমন ঘটবে বলে ধারণা করা নিতান্তই চরম পর্যায়ের মূর্খতা ছাড়া আর কিছু না। কারণ ভবিষ্যৎবাচক ক্রিয়াপদ চলমান এবং পুরো ঘটিত দুইভাবেই অর্থ প্রদান করে থাকে। উক্ত আয়াতে ‘ওহী প্রেরণ করাটা’ সময়সাপেক্ষ পুরো ঘটিত একটি ক্রিয়া মাত্র, ভবিষ্যতেও এর ধারা চলমান থাকবে বুঝায়নি। পবিত্র কুরআনে এর আরো অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন, সূরা তওবা আয়াত নং ৭১ এর মধ্যে সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে তাদের পূর্ণ আনুগত্যের উপর মুদারের ছিগাহ যোগেই উল্লেখ আছে, و يطيعون الله و رسوله (অর্থাৎ এবং তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করিয়াছেন)। এখন এর মানে কি বর্তমানেও তাদের সেই আনুগত্যের ধারা অব্যাহত? আসলে আরবী ব্যকরণজ্ঞানে শূন্য নির্বোধদের বুঝাতে পারে এমন সাধ্য কার?

নির্বোধদের কথা তর্কের খাতিরে মেনে নিলেও বিপত্তি থেকেই যাচ্ছে। কেননা আয়াতটির ভেতর ان انذروا (অর্থাৎ যাতে তোমরা সতর্ক করো) বহুবচনাত্মক পদ এসে যেন নির্দেশ করছে যে, আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি ওহীসহ ফেরেশতা নাযিল করবেন তাদের সংখ্যা কোনোভাবেই একক কোনো ব্যক্তির ভেতর সীমাবদ্ধ নয়। পক্ষান্তরে মির্যা কাদিয়ানীর দাবী হল,সহীহ হাদীস অনুযায়ী এই রূপ ব্যক্তি একজনই হইবেন এবং এই ভবিষৎবাণী পূর্ণ হইয়াছে।(দেখুন রূহানী খাযায়েন ২২/৪০৬-৭)। এখন সমীকরণ কিভাবে মিলাবেন? সুতরাং নির্বোধগুলোর ঐ দাবী মিথ্যা ও বাতিল। এখানে মির্যার হাকীকাতুল ওহী বইয়ের ৩৩০ নং পৃষ্ঠা থেকে দেখুন,


৫। ‘হে বনী আদম! যদি তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে কোনো রাসূল (বার্তাবাহক) আগমন করেন, তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ শুনায়, তাহলে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ করে; তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবেনা।’ (আ’রাফ ৩৫)।

  • ভ্রান্তি নিরসন:- প্রথমত, এখানে ‘তোমাদের মধ্য থেকে রসূলগণ’ আগমন করবে বলা হয়েছে। কাজেই প্রশ্ন আসবে যে, এ আয়াত যদি ভবিষ্যতেও নবী রাসূল হওয়ার দিকে ইংগিত হয় তাহলে তো মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের পরেও কেয়ামত পর্যন্ত আরও অসংখ্যা-অগণিত নবী রাসূল হওয়ার কথা। আরও প্রশ্ন আসবে যে, আয়াতটির “রাসূল” শব্দের সাথে মির্যা কাদিয়ানীর কী সম্পর্ক? যখন তিনি নিজেই লিখে গেলেন যে, তার নবুওয়ত আগের নবী রাসূলদের মত আল্লাহপ্রদত্ত নয়! অর্থাৎ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী একটা জিনিস যাকে ‘মুহাদ্দাস’ অর্থে অভিহিত করা হবে। অধিকন্তু মির্যা সাহেব এর ‘তাযকেরাতুশ শাহাদাতাইন’ (বাংলা অনূদিত) বইয়ের ৮২ নং পৃষ্ঠায় পরিষ্কার করে একথাও লিখা আছে, মুহাম্মদী সিলসিলায় শেষনবী এই অধম (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানী)। এখন কোনো ভাবেই তো এ আয়াত মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের নবুওয়তকে সাব্যস্ত করল না!

দ্বিতীয়ত, অত্র আয়াত নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট যাদের জানা, তারা নিশ্চয়ই মির্যা কাদিয়ানী ও তার মুরিদদের কথাবার্তায় হেসে খুন হবেন। কেননা এর শানে নুযূল (প্রেক্ষাপট) বলছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন “হে আদম সন্তানেরা! যদি তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে রসূলগণ আগমন করে তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনায়..” কথাটি রূহের জগতে সমস্ত বনী আদমকে লক্ষ্য করেই বলেছিলেন। তখনো কিন্তু পৃথিবীতে নবী রাসূলের আগমনীধারা শুরুই হয়নি। (আয়াতটির শানে নুযূল বা প্রেক্ষাপট জানুন! ক্লিক করুন)।

অতএব, অত্র আয়াত দিয়ে বর্তমানেও নবী রাসূলের আগমনীধারা অব্যাহত থাকার বিশ্বাস সুস্পষ্ট কুরআন-বিকৃতির শামিল। রেফারেন্স : তাফসীরে তাবারী, সূরা আল আ’রাফ; হাদীস নং ১৪৫৫৪, তাফসীরকারক বিশিষ্ট যুগ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী (মৃত : ৩১০ হিজরী)। আশাকরি এবার বুঝতে পেরেছেন।


৬। জনৈক কাদিয়ানীর প্রশ্ন, সূরা আলে ইমরান এর ১৬৪ নং আয়াতে লিখা আছে, “ইয বা’আছা ফীহিম রাসূলাম মিন আনফুসিহিম” অর্থাৎ যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে এক রাসূল আবির্ভূত করলেন…”। এর দ্বারা কিন্তু উম্মতে মুহাম্মদীয়ার মধ্য হতেই একজন রাসূলের কথাই বুঝিয়েছেন। আর তিনিই হলেন মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। কারণ মুহাম্মদ (সা:)-এর আবির্ভাব ‘মুমিনদের মধ্য হতে হয়নি’ বরং ‘উম্মীদের মধ্য হতে হয়েছে’। দেখুন সূরা জুম’আ আয়াত নং ২-৩।

  • ভ্রান্তি নিরসন:– না, এই আয়াতে উল্লিখিত ‘রাসূল’ দ্বারা হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর আগমনেরই সংবাদ দেয়া হয়েছে। মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদও একই কথা লিখে গেছেন (বারাকাতে খিলাফত পৃ-৯; অনলাইন এডিশন) । কেননা আয়াতে ‘বা’আছা’ (بعث) শব্দটি অতীতকালবাচক ক্রিয়াপদ। ফলে আয়াতের ঐ কথা পরবর্তীতে নতুন কোনো রাসূল সম্পর্কে নয়, বরং এমন এক রাসূল সম্পর্কে যিনি অতীতকালে আবির্ভূত হয়ে গেছেন। তর্কের খাতিরে মানলাম যে, এখানে ‘রাসূল’ শব্দটি দ্বারা মির্যা কাদিয়ানীর আবির্ভাবকেই বুঝিয়েছে। তাহলে নিচের এই কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিন!

প্রথমত, ঐ একই আয়াতে কিন্তু و يعلمهم الكتاب (উচ্চারণ : ওয়া ইয়ু’আল্লিমুহুমুল কিতাব) অর্থাৎ তিনি তাদেরকে কিতাব শিক্ষা দেবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে। তাহলে মির্যা কাদিয়ানীর সেই কিতাবটি কী যার শিক্ষা তিনি তার উম্মতদের দিয়ে গিয়েছিলেন? আর হ্যাঁ, আপনাদের জন্য ঐ ‘কিতাব’ হতে কুরআন শরীফ উদ্দেশ্য নেয়ার কোনোই সুযোগ নেই। কারণ আয়াতে শব্দটি নবী নয় বরং ‘রাসূল’। আর রাসূল কখনো নতুন বিধি-বিধান ব্যতীত আবির্ভূত হন না।

উল্লেখ্য, কোনো কোনো নির্বোধ এখানে বলতে পারে যে, নবী আর রাসূল তো একই। আমি এর জবাবে বলতে চাই, তাহলে হাশরের ময়দানে হযরত নূহ (আ:) হাশরবাসীদস্র দ্বারা يا نوح انت اول الرسل অর্থাৎ হে নূহ! আপনি প্রথম রাসূল—এইরূপ শব্দচয়নে কেন আহূত হবেন? (সহীহ বুখারী কিতাবুল আম্বিয়া হাদীস ৩৩৪০ দ্রষ্টব্য)। অথচ নূহ (আ:)-এর আগেও বহু নবী ছিলেন! এটাই প্রমাণ করে, প্রত্যেক রাসূল একই সাথে নবী বটে, কিন্তু প্রত্যেক নবী একই সাথে রাসূল নন। যাইহোক, এখন ঐ আয়াতের রাসূল দ্বারা মির্যাকে উদ্দেশ্য নিতে গেলে তাকে নতুন শরীয়তবাহক নবী হওয়াও মানতে হচ্ছে! তো ঐ নির্বোধরা কি তাকে নতুন শরীয়তবাহকও মেনে নিলো?

দ্বিতীয়ত, আয়াতটির “রাসূল” শব্দ হতে মির্যাকে উদ্দেশ্য নিলে তখন সেটি আ’ম হওয়া সত্ত্বেও খাস (উম্মতি/বুরুজি) অর্থে গৃহীত হচ্ছে, যা সুস্পষ্ট ঔদ্ধত্যের পরিচায়ক। যেজন্য সর্বপ্রথম প্রমাণ করতে হবে যে, অত্র আয়াতে উল্লিখিত “রাসূল” শব্দটি স্রেফ বুরুজি বা উম্মতি অর্থেই খাস, হাকিকি বা মুস্তাকিল ধরনের কোনো অর্থ তাতে নিহিত নয়। এবার আপনাকে একখানা হাদীস শুনাব।

হাদীসে এসেছে রাসূল (সা:) বলেছেন : ‘নিশ্চয়ই নবুওয়ত এবং রেসালত বন্ধ, আমার পর না কোনো রাসূল আছে আর না কোনো নবী আছে।’ (তিরমিযী ২/৪৫৫, আনাস ইবনে মালেক হতে বর্ণিত)। হাদীসের মান : হাসান ও সহীহ। আশাকরি আপনাদের ভুলটি কোথায় এবং কিভাবে তা নিঃসন্দেহে বুঝতে পেরেছেন!


৭। জনৈক কাদিয়ানীর বক্তব্য, উম্মতে মুহাম্মদীয়ার কোনো ব্যক্তি ‘নবী’ হতে পারবেন, একথার উল্লেখ সূরা নিসার ৬৯ নং আয়াতে এভাবে আছে যে, “এবং যারা আল্লাহ এবং রসূলের আনুগত্য করবে তারা ঐ সকল লোকদের মধ্যে শামিল হবে যাদেরকে আল্লাহ পুরস্কার দান করেছেন অর্থাৎ নবীগণ এবং সিদ্দীকগণ এবং শহীদগণ এবং সালেহগণের মধ্যে। এবং এরাই সঙ্গী হিসেবে উত্তম।” (০৪:৬৯) এই আয়াতে কারীমায় একথাই বলা হয়েছে যে, রসূলেপাক (সা:)-এর উম্মতের মধ্যে এমন উম্মতীও হতে পারবেন যিনি সিদ্দীকের স্তর অতিক্রম করে যাবেন এবং নবীর স্তরে উন্নীত হবে। (উম্মতিনবী পৃষ্ঠা নং ১০; চতুর্থ সংস্করণ মার্চ, ২০১১ খ্রিস্টাব্দ; প্রকাশনায় : আহমদীয়া মুসলিম জামাত, বাংলাদেশ)। স্ক্রিনশট :-

  • ভ্রান্তি নিরসন:– আয়াতের শানে নুযূল নিয়ে চিন্তা করলে একজন সাধারণ শিক্ষিত মানুষও বুঝতে পারে যে, আয়াতটি কখনো তথাকথিত উম্মতিনবীর কনসেপ্ট ধারণ করেনা। যারা আয়াতটির শানে নুযূল নিয়ে ভাবতে প্রস্তুত নন তাদেরকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই!

১- ঐ আয়াতে তো ‘নবী’ এর বহুবচন ‘নাবিয়্যীন’ (অর্থাৎ নবীগণ) শব্দ রয়েছে। তাহলে কি কথিত ‘উম্মতীনবী’ আরো হবে বিশ্বাস করেন? যদি আরো হবে বিশ্বাস করেন তাহলে মির্যা কাদিয়ানী তার বইতে (হাকীকাতুল ওহী [বাংলা] পৃষ্ঠা নং ৩৩০) ‘এই উম্মতে আমিই একমাত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তি’ বলে শুধুমাত্র একজনই উম্মতিনবী হবে, কেন লিখলেন?

২- আয়াতের অনুবাদ “যারা আল্লাহ এবং রসূলের আনুগত্য করবে তারা ঐ সকল লোকদের মধ্যে শামিল হবে…”—এরকম হলে তখন و حسن اولئك رفيقا (ওয়া হাছুনা উলা-ইকা রফীকা) অর্থাৎ এবং এরাই সঙ্গী হিসেবে উত্তম, (অনুবাদ, উম্মতিনবী, পৃষ্ঠা নং ১০) একথার কী মানে?

৩- আনুগত্যকারী ব্যক্তি যেসব নবীর মধ্যে শামিল হচ্ছেন সেসব নবীকেও তথাকথিত ‘উম্মতীনবী’ মানা হচ্ছে কিনা? অন্যথা তাদের মধ্যে শামিল হবে কেমনে?

৪- যদি আয়াতের مع الذين انعم الله عليهم من النبيين الخ এর ‘মা’আ’ (مع) অর্থ শামিল বা অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে لا تحذن ان الله معنا (লা-তাহযান ইন্নাল্লাহা মা’আনা)-এর ‘মা’আ’ (مع) কী অর্থে দাঁড়াল? আশাকরি কথিত বুরজি/জিল্লি/ উম্মতিনবী’র কনসেপশনটাই বাতিল হওয়ার প্রমাণ পেলেন! আসুন, এবার উক্ত আয়াতের সঠিক তাৎপর্য কী জেনে নিই!

উক্ত আয়াতের সঠিক তাৎপর্য হল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যকারী নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলে পরকালে (কেয়ামত দিবসে) শ্রেণীভেদে নবী, সিদ্দিক, শহীদ এবং পুণ্যবানদের সঙ্গী (সঙ্গ লাভকারী) হবে। তাফসীরে ইবনে কাসীর সহ প্রায় সমস্ত তাফসীরগ্রন্থে আয়াতটির Context বা শানে নুযূলের প্রেক্ষিতে বিশুদ্ধ বর্ণনার আলোকে এটাই লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর এই জন্যই আয়াতটির শেষাংশে ‘তাহারা কতই না উত্তম সঙ্গী’ বলে উল্লেখ রয়েছে, যাতে কেউ এই স্থলে মা’আ (مع) শব্দের অর্থ ভুলক্রমে শামিল বা অন্তর্ভুক্ত না নেয়।


৮। “আল্লাহতালা ফেরেশতাদের মধ্য হতে বাণীবাহক মনোনীত করেন, মানুষের ভেতর থেকেও (তিনি বাণীর গ্রহীতা বাছাই করেন); অবশ্যই আল্লাহতালা সবকিছু শোনেন ও সব কিছু দেখেন।” (সূরা আল হাজ্জ ৭৫)।

  • ভ্রান্তি নিরসন:- প্রথমত, আয়াতটিতে উল্লিখিত رسل বা রাসূলগণ হতে স্রেফ বুরুজি রঙ্গের নবী-রাসূলই উদ্দেশ্য—এর দলিল কী? কারণ মির্যা সাহেবের মত অনুযায়ী পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ‘রাসূল’ (رسول) শব্দটি আ’ম (عام) বা ব্যাপক অর্থবোধক যার অর্থের মধ্যে নবী, রাসূল এবং মুহাদ্দাসও অন্তর্ভুক্ত। (রূহানী খাযায়েন ৫/৩২২)।

দ্বিতীয়ত, আয়াতে یَصۡطَفِیۡ শব্দ দেখে ধোকা খাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ আয়াতটির শানে নুযূল নিয়ে চিন্তা করলে বুঝতে পারবে যে, মুদারের এই ছিগাহ পুরো ঘটিত বর্তমানকালের জন্যই এসেছে। বিশিষ্ট যুগইমাম আল্লামা সুয়ূতী (রহ:) তাফসীরে জালালাইনের ভেতর এর শানে নুযূল উল্লেখ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এখানে রাসূলগণের মনোনীত করা সময়সাপেক্ষ একটা বিষয় মাত্র। এর মানে ভবিষ্যতেও নবী-রাসুল মনোনীত করতে থাকবেন—এমনটা উদ্দেশ্য নয়। নির্বোধদের বুঝার জন্য বলতে হয় যে, মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন, ‘সামান্য কিছুদিন পর মুন্সী এলাহী বখশ এর নিকট ইলহাম হয় يريدون ان يروا طمثك অর্থাৎ এই লোকেরা তোমার (মির্যা) ঋতুস্রাবের খুন দেখতে চাচ্ছে।’ (রূহানী খাযায়েন ১৭/৪৫২)। তো নির্বোধরা কি মনে করে যে, লোকেরা মির্যা সাহেবের ঋতুস্রাবের (হায়েজ) খুন কেয়ামত পর্যন্ত দেখতে চাচ্ছে? যতসব হাস্যকর!!

তৃতীয়ত, এখানেও رسل শব্দটি رسول এর বহুবচন। অর্থ বার্তাবাহক, প্রেরিত রাসূল। এখানেও সেই পূর্বের ন্যায়ই প্রশ্ন আসবে যে, মির্যা কাদিয়ানীর মত অনুযায়ী বুরুজি রঙ্গের নবী শুধু একজনই হবেন। এ সম্পর্কে উপরে আবার দেখা যেতে পারে। সুতরাং এই আয়াতও তথাকথিত বুরুজি রঙ্গের নবীর আগমনের দলিল নয়। অন্যথা তখন বুরুজি রঙ্গের নবী কমপক্ষে তিনজনই হওয়ার কথা! যাইহোক, ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা আল্লাহতালা বার্তাবাহক হিসেবে চয়ন করেন। বার্তাবাহক হিসেবে ফেরেশতাদের কাজ হল নবীদের কাছে ওহী পৌঁছে দেয়া, এ কাজগুলো করত জিবরাইল (আ:)। আর বার্তাবাহক হিসেবে নবীদের কাজ হল তাদের উপর আগত ওহী অনুসারে মানুষদেরকে দাওয়াত দেয়া, ওহীর বাণী পৌঁছে দেয়া। আশাকরি জবাব পেয়েছেন।


৯। সূরা জুম’আ এর ২ ও ৩ নং আয়াতের অপব্যাখ্যা করে কাদিয়ানীরা দাবী করে যে, পৃথিবীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর দ্বিতীয়বার আগমন ঘটবে! নাউযুবিল্লাহ। অথচ এই দাবী সম্পূর্ণ অসার, মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। এবার আসুন, প্রথমে আয়াত দুটির অনুবাদ জেনে নিই। আল্লাহতালা বলেন,

هوَ الَّذِیۡ بَعَثَ فِی الۡاُمِّیّٖنَ رَسُوۡلًا مِّنۡہُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ وَ یُزَکِّیۡہِمۡ وَ یُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡحِکۡمَۃَ ٭ وَ اِنۡ کَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡن

অর্থ- তিনিই নিরক্ষরদের মধ্যে তাদের একজনকে পাঠিয়েছেন রসূলরূপে যে তাদের নিকট আবৃত্তি করে তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় গ্রন্থ ও প্রজ্ঞা, যদিও ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে। (পরের আয়াত) وَّ اٰخَرِیۡنَ مِنۡہُمۡ لَمَّا یَلۡحَقُوۡا بِہِمۡ ؕ وَ ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡم অর্থ- আর তাদের (اٰخَرِیۡنَ) অন্যান্যদের মধ্যেও যারা এখনো তাদের সাথে (لَمَّا یَلۡحَقُوۡا) মিলিত হয়নি। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

  • বিভ্রান্তি নিরসন :– প্রথমত, এই আয়াতে أُمِّيِّيْنَ (নিরক্ষর) থেকে এমন আরবদেরকে বুঝানো হয়েছে যাদের অধিকাংশই লেখাপড়া জানত না। অত্র আয়াতের সম্পূর্ণ বিষয়টির সংযোগ হল أُمِّيِّيْنَ এর সাথে। মানে, بَعَثَ فِي آخَرِيْنَ مِنْهُمْ (অর্থাৎ তিনি রসূল পাঠিয়েছেন তাদের অন্যান্যদের মধ্যেও)। আর آخَرِيْنَ বলতে পারসীক (বিশেষত, হযরত সালমান ফারসীর বংশধরেরা) এবং অন্যান্য অনারব লোক, যারা কিয়ামত পর্যন্ত রসূল (সা:)-এর উপর ঈমান আনয়ন করবে। এই সম্পর্কে সহীহ বুখারীতে হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে একটি হাদীসও বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, আরব ও অনারবদের সেই সমস্ত লোক, যারা সাহাবাদের যামানার পর কিয়ামত পর্যন্ত আসতে থাকবে। আর ঈমান গ্রহণ করার পর এরা সবাই مِنْهُمْ (তাদের অন্যান্য) তথা সাহাবীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ প্রথম প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীরা أُمِّيِّيْن এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা সমস্ত মুসলমান একই উম্মত। এই (তাদের) সর্বনামের কারণে কেউ কেউ বলেন, ‘অন্যান্য’ বলতে পরে আগমনকারী আরবদেরকে বুঝানো হয়েছে। কেননা, ‘তাদের’ সর্বনাম দ্বারা (আরব) ‘নিরক্ষরদের’ প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। (বিশিষ্ট যুগ ইমাম আল্লামা শাওক্বানী রচিত, ফাতহুল ক্বাদীর দ্রষ্টব্য)।

দ্বিতীয়ত, ‘আখারীনা’ (آخرين) শব্দটি উম্মিয়্যীন (اميين) এর উপর আতফ (عطف) হওয়ায় সেটি যের-এর অবস্থায় হয়েছে। একথা বলেছেন, সহীহ বুখারী’র ব্যাখ্যাকারক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহ. (ان يكون مجرورا عطفا على الاميين)। [ফাতহুল বারী, কিতাবু তাফসীরিল কুরআন দ্রষ্টব্য]। যার ফলে আখারীনা শব্দকে বা’আছা’ এর দ্বিতীয় মাফউল (object/কর্ম) ধরে এভাবে অর্থ নেয়া যাবেনা যে, আল্লাহ অন্যান্যদের পাঠিয়েছেন! এখানে দুইটা বিষয় খুবই লক্ষণীয়। একটি হল, ‘আখারীনা’ শব্দটি بعث এর সাথে সম্পর্কযুক্ত হিসেবে নসবের অবস্থায় হয়নি, বরং اميين এর সাথে সম্পর্কযুক্ত হিসেবে মাজরূরের (যের-এর) অবস্থায় হয়েছে। অপরটি হল, এখানে بعث পদটি ভবিষ্যৎবাচক ক্রিয়াপদ নয়, বরং অতীতকাল বাচক ক্রিয়াপদ। যদ্দরুন পরবর্তীতে কারো আবির্ভাবের কনসেপ্ট এখানে অনুপস্থিত। সুতরাং আপনাদের (কাদিয়ানীদের) বিশ্বাস অনুযায়ী এখানে মুহাম্মদ (সা:)-এর পুনরায় আগমনের কোনো কথারই লেশমাত্র সম্পর্ক থাকবে তো দূরের কথা, ভবিষ্যতে দ্বিতীয় কারো আসার কোনো কনসেপ্টই এখানে নেই।

  • এই সম্পর্কে চমৎকার আরেকটি লিখা Click করুন

১০। “যারা অবিশ্বাস করেছে তারা বলে, ‘তার প্রতিপালকের নিকট হতে তার নিকট কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ করা হয় না?’ তুমি তো শুধুমাত্র একজন সতর্ককারী। আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য পথ প্রদর্শক রয়েছে।” (সূরা রা’আদ, ৭)।

  • ভ্রান্তি নিরসন : এখানে নবীর আগমনীধারা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবীদারদের যুক্তি হল, আয়াতটিতে বলা হয়েছে যে, وَ لِكُلِّ قَوْمٍ هَادٍ মানে, ‘আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য পথ প্রদর্শক রয়েছে।’ সুতরাং নবীর আগমনীধারা বন্ধ হয়নি। এর উত্তর হল, এই আয়াতে আল্লাহতালা আপনা কানূনে কুদরত (বিধিবিধান) সম্পর্কে জানান দিয়েছেন মাত্র। সেটি হল, তিনি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নির্দেশনার জন্য তাদেরই ভাষাভাষী একজন সতর্ককারী বা নবী প্রেরণ করে থাকেন। আর সেই সতর্ককারী বা নবীদের প্রেরণের ধারাক্রম ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। সূরা ফাতিরের ২৪ নং আয়াতে ‘খালা’ (خَلَا) অতিতকালবাচক ক্রিয়াপদ দ্বারা সে কথার পরিষ্কার ইংগিতও রয়েছে। যেমন আল্লাহতালা বলেন, وَ اِنْ مِّنْ اُمّةٍ اِلَّا خَلَا فِيْهَا نَذِيْرٌ (ওয়া ইম্মিন উম্মাতিন ইল্লা খালা ফীহা নাযীর) অর্থাৎ ‘প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিকট সতর্ককারী অবশ্যই এসেছে।’ এখন জানার বিষয় হল, কোন্ নবীর মাধ্যমে আল্লাহ সতর্ককারীদের ক্রমধারা পূর্ণ করলেন? এর উত্তরে সূরা আহযাব আয়াত নং ৪০ এর وَخَاتَمَ النَّبِيِّيْنَ (ওয়া খাতামান নাবিয়্যীন) এর ঘোষণাই যথেষ্ট। কারণ এখানে আল্লাহ পরিষ্কার বলে দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ (সা.)-ই সেসব সতর্ককারীদের ক্রমধারা সমাপ্তকারী। সুনানু তিরমিজীর হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা.) নিজেই ‘খাতামান নাবিয়্যীন’ এর মর্মার্থ পরিষ্কার করে দিয়ে বলেছেন لَا نَبِيَّ بَعْدِىْ (লা নাবিয়্যা বা’দী) অর্থাৎ ‘আমার পরে আর কোনো নবী নেই’।

খুব বেশি ব্যস্ততার কারণে বিস্তারিত লিখা সম্ভব হয়নি। সংক্ষেপে আজ এই পর্যন্ত। জ্ঞানীরা নিশ্চয়ই লিখাটি নিয়ে নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করবেন এবং সত্যটা উন্মুক্ত মন নিয়ে খোঁজে নেবেন। আল্লাহ আমাদের বিভ্রান্ত ভাইবোনদের ঈমান হেফাজত করুন। আমীন।

সূরা নিসা আয়াত ৬৯ এর শানে নুযূল সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন।

লিখাটি ফেসবুক পেজ থেকে পড়ুন

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ
মেইল nabifeni44@gmail.com
তারিখ ১৩/১০/২০২১ইং

মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী (হাফিঃ)

0

এক অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব উস্তাদে মুহতারাম মুফতিয়ে আজম আল্লামা আব্দুস সালাম (চাটগামী) হাফিজাহুল্লাহ। তিনি এমন এক অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যে, নিজের জমি বিক্রি করে দ্বীনি বই ছাপিয়ে প্রিয়জনদের হাদিয়া দেয়ার নজির স্থাপন করেছেন।

দারুলউলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা ছাড়াও তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয় হল:-

▪️ তিনি বর্তমান বাংলাদেশের মুফতীয়ে আ’জম।

▪️তিনি জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইউসুফ বানূরী (রহ.) এবং মুফতী ওয়ালী হাসান টুংকী (রহ.) এর হাতেগড়া শিষ্য।

▪️ ইফতা পড়াকালীন দুই বৎসরে প্রায় ৪০ হাজার পৃষ্ঠারও অধিক মুতালা’আ করেছেন।

▪️ পরবর্তীতে সেখানে দায়িত্ব পালনকালীন ৩০ বছরে তিন লক্ষাধিক ফতোয়া তাঁর স্বাক্ষরেই প্রকাশিত হয়েছে।

▪️তিনি জামিয়া বানূরী টাউন করাচীতে দীর্ঘকাল প্রধান মুফতীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

▪️তিনি সেখানে সহীহ মুসলিম ও সুনানু তিরমিযীর দরস দিতেন।

▪️উর্দূ ভাষায় তাঁর রচিত গবেষণাধর্মী বই এখনো পাকিস্তানে ব্যাপক মূল্যায়ন হয়।

▪️তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে পাঁচ খন্ডে “জাহিরুল ফাতাওয়া” এক অনবদ্য ফতোয়াগ্রন্থ।

এ ফতোওয়া গ্রন্থ নিয়ে মূল্যবান একটি স্বপ্নের বাশারতও রয়েছে।

▪️তিনি পাকিস্তান থাকাকালীন কোনো ফিকহী সেমিনার তাঁকে ছাড়া যেন কল্পনাই করা যেতনা!

▪️দেশে চলে আসার প্রবল ইচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর পদে যোগ্য কাউকে না পাওয়ায় তৎকালীন মুহতামিম মুজাহিদে ইসলাম শহীদ ড. নিজামুদ্দীন শামেযী (রহ.) মঞ্জুর করতে ছিলেননা। পরিশেষে শারীরীক অসুস্থতার দরুন তিনি অব্যহতি দিয়ে দেশে চলে আসলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রধান মুফতী পদে অন্য কাউকে নিয়োগ দেননি। (নায়েব) সহকারী দিয়েই কাজ আঞ্জাম দিতে থাকেন। মুফতীয়ে আযম বাংলাদেশ থেকে সময়ে সময়ে গিয়ে তাদরীস ও ফতোওয়ার কাজ আঞ্জাম দিতেন। তারপর শারীরীক দুর্বলতা ও ভিসা জটিলতা শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েক বছর যাবত উনার আর যাওয়া হয়নি।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা ফিকহের জগতের এই অমূল্য রতনকে পরিপূর্ণ সুস্থতা নসীব করুন এবং হায়াতে তাইয়্যিবাহ্ দান করুন। সাথে সাথে আমাদেরকেও যথাযথ ক্বদর করে তাঁর জীবদ্দশাতেই আরো অধিক পরিমানে ইস্তেফাদার তাওফীক দান করুন। আমিন।

সংগ্রহীত।

শায়খ ইবনে কাইয়ুম (রহ:) এর আকীদা ঈসা (আ:) জীবিত

  • ইমাম ইবনে কাইয়ুম (রহ:)-এর আকিদা ঈসা (আ:) জীবিত ও আকাশেই আছেন!

প্রথমে বলে রাখা দরকার যে, কাদিয়ানিদের দৃষ্টিতে ইমাম ইবনে কাইয়ুম (রহ:) ছিলেন সপ্তম শতাব্দির মুজাদ্দিদ। দেখুন মির্যা খোদা বখশ কাদিয়ানী রচিত ‘আছলে মুছাফফা’ ১/১৬৪। স্বয়ং মির্যা কাদিয়ানী সাহেব লিখেছেন, ইবনে কাইয়ুম (রহ:) তদানীন্তন সময়ের একজন মুহাদ্দিস, মুফাসসির এবং যুগের ইমাম ছিলেন। (রূহানী খাযায়েন ১৩/২২১)। এবার আমরা ইবনে কাইয়ুম (রহ:) -এর বক্তব্য জানব। ইবনে কাইয়ুম (রহ:) লিখেছেন : وهذا المسیح ابن مریم حی لم یمت وغذأہ من جنس غذاء الملائكة অর্থাৎ মসীহ ইবনে মরিয়ম তিনি জীবিত, মৃত্যুবরণ করেননি। ফেরেশতাদের (আধ্যাত্মিক) খাবারের মতই তাঁকেও খাওয়ানো হয়। (দেখুন, আত-তিবইয়ান ফী আকসামিল কুরআন: পৃষ্ঠা নং ২৫৫; মাকতাবাতুল মুতানাব্বী কায়রো মিশর, মূল লিখক, ইবনে কাইয়ুম কৃত)।

ইমাম ইবনুল কাইয়ুম (রহ:) আরো লিখেছেন : و اجتمعوا على قتل المسيح و صلبه فضانه الله من ذلك و أكرمه ان يهينه على أيديهم و ألقى شبهه على غيره فقتلوه و صلبوه. অর্থাৎ ইহুদীরা ঈসাকে হত্যা এবং ক্রুসবিদ্ধ করতে সবাই একত্রিত হলে আল্লাহতালা তাঁকে তা হতে রক্ষা করেন এবং তাঁকে তাদের হাতে অপদস্ত হওয়া থেকে সম্মানিত করেন আর তিনি অন্য একজনকে তাঁঁর সাদৃশ করে দেন। ফলে তারা তাকে হত্যা করে এবং ক্রুসবিদ্ধ করে। (হিদায়াতুল হাইয়ারা ফী আজবিবাতিল ইয়াহুদ ওয়ান নাসারা, পৃষ্ঠা নং ৪৮; ইবনুল কাইয়ুম রহ:)। স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য

ইমাম ইবনে কাইয়ুম (রহ:) তিনি আরো লিখেছেন : المسلمین الذی ینتظرونه هو عبدﷲ ورسوله وروحه وکلمته القاها الی مریم العذراء البتول عیسیٰ ابن مریم اخو عبدﷲ ورسوله محمد بن عبد ﷲ فیظهر دین ﷲ وتوحیدہ ویقتل اعداء الدین اتخذوہ وامه الٰهين من دون ﷲ واعداء لا الیهودة الذین رموہ وامه بالعظائم فهذا هو الذی ینتظرہ المسلمون وهو نازل علی المنارۃ الشرقية بدمشق واضعاً یدیه علی منکبي ملکین یراہ الناس عیاناً بابصارهم نازلاً من السماء فیحکم بکتاب ﷲ وسنة رسوله অর্থাৎ মসীহ’র জন্য মুসলমানরা অপেক্ষা করতেছে। তিনি আল্লাহ’র বান্দা এবং আল্লাহ’ রাসূল। তিনি আল্লাহ’র রূহ এবং আল্লাহ’র ঐ কালিমা যা তিনি মরিয়ম (আ:)-এর প্রতি নাযিল করেছেন। অর্থাৎ ঈসা ইবনে মরিয়ম আল্লাহ’র বান্দা এবং আল্লাহ’র রাসূল হযরত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সা:)-এর একজন ভাই (হাদিসে এসেছে, নবীগন পরস্পর বৈপিত্রেয় ভাই)। তিনি আল্লাহ’র দ্বীন এবং তাওহীদকে জয়ী করবেন এবং নিজ দুশমনদের (লড়াইয়ের মাধ্যমে) হত্যা করবেন, যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাঁকে এবং তাঁর মাতাকে উপাস্য বানিয়েছে। আর তিনি সেসব ইহুদী দুশমনদের হত্যা করবেন যারা তাঁর উপর এবং তাঁর মাতার উপর অপবাদ রটিয়েছে। তিনিই হলেন মসীহ মুসলমানগণ যার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি দামেস্কের পূর্ব প্রান্তে সাদা মিনারার নিকটে এমন অবস্থায় নাযিল হবেন যে, তখন তাঁর দুই হাত দুই ফেরেশতার দুই পাখার উপর রাখা থাকবে। লোকেরা তখন স্বচক্ষে তাঁকে আসমান থেকে অবতরণ করতে দেখবে। তিনি আল্লাহ’র কিতাব এবং রাসূলের সুন্নাত দ্বারা বিচারকার্য পরিচালনা করবেন।” দেখুন, হিদায়াতুল হাইয়ারা ফী আজবিবাতিল ইয়াহুদ ওয়ান- নাসারা; লেখক ইমাম ইবনে কাইয়ুম (রহ:)।

উপরের দীর্ঘ বক্তব্য দ্বারা ঈসা (আ:) সম্পর্কে ইমাম ইবনে কাইয়ুম (রহ:)-এর আকিদা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। কেননা সেখানে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, ঈসা (আ:) তিনি আকাশে জীবিত আছেন। তিনি দুইজন ফেরেশতার দুই পাখার উপর হাত রেখে যখন নাযিল হবেন তখন সমসাময়িককালের মুসলমানরা স্বচক্ষে সেই দৃশ্য দেখবেন।

  • এবার কাদিয়ানীরা ইবনে কাইয়ুম (রহ:)-এর যে বক্তব্যটিকে নিজেদের পক্ষে দলিল বানিয়ে মিথ্যাচার করে বেড়ায় সেটি নিচে দেখুন:

ইমাম ইবনে কাইয়ুম (রহ:) ‘মাদারিজুস সালিকীন’ কিতাবের ২য় খন্ডের ২৪৩ এবং ৩১৩ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন : ومحمدﷺ مبعوث الی جمیع الثقلین فرسالتة عامة لجمیع الجن والانس فی کل زمان ولو کان موسیٰ وعیسیٰ حیین لکانا من اتباعه واذا نزل عیسیٰ ابن مریم فانما یحکم بشریعة محمدﷺ অর্থাৎ হযরত (সা:)-এর নবুওয়ত তামাম জীন এবং ইনসানের জন্য এবং প্রত্যেক যামানার জন্য। যদি হযরত মূসা এবং ঈসা (অদ্যাবধি পার্থিব) হায়াতে থাকত তাহলে তাদেরকে অবশ্যই হযরত (সা:)-এর অনুসরণ করতে হত। আর ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:) যখন নাযিল হবেন তখন তিনি শরীয়তে মুহাম্মদীর উপরই আমল করবেন।”

  • যদি হযরত মূসা এবং ঈসা (অদ্যাবধি পার্থিব) হায়াতে থাকত মর্মে এর তাৎপর্য :

মির্যা কাদিয়ানী তার বই পুস্তকের বহু জায়গায় লিখেছেন যে, শায়খ ইবনুল কাইয়ুম (রহ:) ঈসা (আ:)-কে মৃত্যুবরণ করেছেন বলেই বিশ্বাস করতেন! নাউযুবিল্লাহ। শায়খের অসংখ্য বক্তব্যকে পাশ কাটিয়ে ‘মাদারিজুস সালিকীন’ গ্রন্থের একখানা উদ্ধৃতির حیین (হাইয়ীন) শব্দকে আশ্রয় করে মির্যা কাদিয়ানী উনার নামে এমন জঘন্য মিথ্যাচার করে বসে। অথচ ওই শব্দের প্রকৃত তাৎপর্য হল, যদি মূসা এবং ঈসা তারা দুইজনই পার্থিব জীবনে বর্তমান থাকতো! আরো সহজ করে বললে, যদি মূসা আর ঈসা দুইজনই পৃথিবীতে বর্তমান থাকত! একথার বিপরীত দিক হল, যেহেতু মূসা আর ঈসা তারা পার্থিব জীবনে বর্তমান নেই সেহেতু তাদের কেউই বর্তমানে নবী করিম (সা:)-এর আনুগত্য করতে বাধ্য নয়। তবে হ্যাঁ, শেষ যামানায় হযরত ঈসা (আ:) আবার যখন পার্থিব জীবনে ফিরে আসবেন তখন তিনি অবশ্যই শরীয়তে মুহাম্মদীর উপরই আমল করবেন। শায়খ ইবনুল কাইয়ুম (রহ:) আপনা মাদারিজুস সালিকীন পুস্তকে واذا نزل عیسیٰ ابن مریم فانما یحکم بشریعة محمدﷺ অনুরূপ বক্তব্যের মাধ্যমে তা একদমই পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

সেযাইহোক এই পর্যায় আমি কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই। (১) যদি لو کان حیین (লাও কানা হাইয়ীন) শব্দের মাধ্যমে তিনি ঈসা (আ:)-কে জীবিত নেই বলেই বুঝাতে চাইতেন তাহলে তিনি তাঁর পুস্তকের অন্যান্য জায়গায় কিজন্য লিখলেন যে, ঈসা (আ:) জীবিত তিনি মৃত্যুবরণ করেননি। আল্লাহতালা অন্য একজনকে ঈসার সাদৃশ করে দেন। ফলে তারা তাঁকে হত্যা করে এবং ক্রুসবিদ্ধ করে। ঈসা (আ:) দামেস্কের পূর্ব প্রান্তে সাদা মিনারার নিকটে এমন অবস্থায় নাযিল হবেন যে, তখন তাঁর দুই হাত দুই ফেরেশতার দুই পাখার উপর রাখা থাকবে। লোকেরা তখন স্বচক্ষে তাঁকে আসমান থেকে অবতরণ করতে দেখবে, ইত্যাদি। (২) শায়খ তার উক্ত শব্দচয়নের মাধ্যমে যদি অনুরূপ কোনো কথা বুঝাতে চাইতেন তাহলে ‘মাদারিজুস সালিকীন’ পুস্তকের ২য় খন্ডের ২৪৩ ও ৩১৩ নং পৃষ্ঠায় ওই একই শব্দের পরপরই তিনি واذا نزل عیسیٰ ابن مریم فانما یحکم بشریعة محمدﷺ [আর ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:) যখন নাযিল হবেন তখন তিনি শরীয়তে মুহাম্মদীর উপরই আমল করবেন]–এমন কথা কিজন্য লিখলেন? মরিয়ম পুত্র ঈসা (আ:) মৃত্যুবরণ করে থাকলে ‘আর যখন ঈসা ইবনে মরিয়ম নাযিল হবেন’—শায়খের একথার কী অর্থ? মরা মানুষ কি কেয়ামতের আগে পুনরায় ফিরে আসতে পারে? ভাবিয়ে তুলে কিনা? (৩) বাঁচা-মরা এসবের সাথে অপার্থিব জগতের কী সম্পর্ক? শায়খ ইবনুল কাইয়ুম (রহ:) হযরত ঈসা (আ:)-কে বর্তমানে অপার্থিব জগতেরই একজন বাসিন্দা বলে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও তিনি حیین (হাইয়ীন) শব্দকে আশ্রয় করে মূসা আর ঈসা (আলাইহিমাস সালাম) সম্পর্কে ‘যদি তারা জীবিত থাকত’—অনুরূপ তাৎপর্য কিভাবে নিতে পারেন? এবার একটু গোঁড়ামি ছেড়ে ইসলামের মূলধারায় ফিরে আসুন।

পরিশেষে খুবই দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, ইমাম ইবনে কাইয়ুম (রহ:)-এরও আকিদা ছিল, হযরত ঈসা (আ:)-ই কেয়ামত পূর্ব সময়ে আকাশ থেকে নাযিল হবেন এবং তিনি বর্তমানে জীবিত। কাজেই মির্যা কাদিয়ানী একজন মিথ্যুক এবং ভন্ড। এমনকি সে মছীলে ঈসা দাবী করায় ইমাম ইবনুল কাইয়ুম (রহ:)-এর ফতুয়াতেও ‘শয়তানের ওলী’ সাব্যস্ত হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে হেফাজত করুন। আমীন!

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ঈসা (আ:)-এর কবর কোথায় হবে?

0

হযরত ইমাম বুখারী (রহ:) এর আকীদা ঈসা (আ:)-এর কবর হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর রাওজাতে হবে!

ইমাম বুখারী (রহ:) আপনা কিতাব “তারীখে কাবীর” এর মধ্যে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা:) এর বর্ণনায় একটি হাদীস নিয়ে এসেছেন। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা:) রেওয়ায়েত করেন: ليدفنن عيسى بن مريم مع النبي صلى الله عليه وسلم في بيته উচ্চারণঃ লাইয়ুদ ফানান্না ঈসা ইবনু মরিয়াম মা’আন নাবিয়্যি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফী বাইতিহি। অর্থাৎ “নিশ্চিত ভাবেই হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:)-এর কবর নবী করীম (সা:)-এর রাওজাতে হবে।” ‘তারীখে কাবীর’ কিতাবের স্ক্রিনশট লিখাটির ভেতর দেখা যেতে পারে। ইমাম বুখারী সংকলিত “তারীখে কাবীর (التاريخ الكبير للبخاري) খন্ড নং ১ পৃষ্ঠা নং ১৬৩; কিতাবটি সর্বমোট ৯ খন্ডে প্রকাশিত।

  • একটি প্রশ্নোত্তর : হাদীসটিতে ‘ফী বায়তিহি’ শব্দ উল্লেখ থাকার কারণে ঈসা (আ:)-এর কবর রাসূল (সা:)-এর রাওজা শরীফের অভ্যন্তরে তথা রাওজা শরীফ খুঁড়ে তার ভেতরেই হওয়ার কথা বুঝাতে চাইল কিনা? অথচ এমনটি চিন্তা করাও অসম্ভব!

উত্তর : হাদীসে “ফী বাইতিহি” (فى بيته) শব্দ থাকায় রাসূলের রাওজা শরিফ খুঁড়ে তার অভ্যন্তরে ঈসাকে দাফন করা বুঝাল কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই। কারণ আরবী বর্ণ “ফী” (فى) কখনো সখনো অভিধানে “অতি নিকটে” অর্থেও ব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। পবিত্র কুরআনের সূরা ‘আন নামল’ এর একটি আয়াতে মূসা (আ:) সম্পর্কে নাযিল হয়েছে: فَلَمَّا جَاءهَا نُودِيَ أَن بُورِكَ مَن فِي النَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا অর্থাৎ “অতপর সে (মূসা) যখন (আগুনের) কাছে পৌছলো, তখন তাঁকে (অদৃশ্য থেকে) আওয়াজ দেয়া হল, বরকতময় হোক সে, যিনি এই আগুনের মধ্যে (তথা নিকটে) রয়েছে, বরকতময় হোক তারা যারা এর আশেপাশে রয়েছে।” (সূরা আন নামল, আয়াত নং ৮)। বলাই বাহুল্য, সবাই জানেন যে, তূর পর্বতমালায় তখন মূসা (আ:) আগুনের অভ্যন্তরে ছিলেন না, বরং আগুনের অতি নিকটে বা কোনো এক পাশে-ই ছিলেন। (তাফসীরে কাবীর, ইমাম রাজীঃ ২৪/১৮৩)। তদ্রূপ উক্ত হাদীসেও “ফী বাইতিহি” (فى بيته) বলতে রাওজা শরীফ খুঁড়ে তার অভ্যন্তরে—এই অর্থ নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হল, রাওজা শরীফের অতিব নিকটে। অতএব দুশ্চিন্তার আর কোনো কারণ থাকল না।

অন্য আরেকটি হাদীসে ‘ফী ক্ববরী‘ অর্থাৎ ঈসার কবর আমার কবরে হবে—একথার তাৎপর্য কী তা বিশিষ্ট যুগ-ইমাম মোল্লা আলী ক্বারী (রহ:)-এর কিতাব ‘মেরকাত‘ (কিতাবুল ফিতান)-এর মধ্যে ‘ফী মাক্ববিরাতী’ তথা আমার গোরস্তানে, এইরূপ শব্দে উল্লেখ আছে। স্ক্রিনশট থেকে দেখুন!

হাদীসের সনদ সম্পর্কিত তথ্য :- হাদীসটি সূত্রের বিচারে এতটা শক্তিশালী যে, এটি ভিন্ন ভিন্ন ৩টি সনদে বর্ণিত হয়েছে। ‘আল-মু’জামুল কাবীর‘ কিতাবের খন্ড নং ১৩ পৃষ্ঠা নং ১৫৯ এর মধ্যে একই অর্থবোধক আরেকটি হাদীস ভিন্ন আরেক সনদে পাওয়া যায়। সনদসহ হাদীসটি এইরকম :

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺃَﺣْﻤَﺪَ ﺍﻟﺘَّﺮْﻣِﺬِﻱُّ ﺛَﻨَﺎ ﺑَﻜْﺮُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟْﻮَﻫَّﺎﺏِ ﺛَﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑْﻦُ ﻧَﺎﻓِﻊٍ ﺍﻟﺼَّﺎﺋِﻎُ ﻋَﻦْ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦ ﺍﻟﻀَّﺤَّﺎﻙِ ﻋَﻦْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺑْﻦِ ﻳُﻮﺳُﻒَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑْﻦِ ﺳَﻼﻡٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﻋَﻦْ ﺟَﺪِّﻩِ ﻗَﺎﻝَ : ﻳُﺪْﻓَﻦُ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﻣَﻊَ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﺻَﺎﺣِﺒَﻴْﻪِ ، ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ ﻗَﺒْﺮُﻩُ ﺭَﺍﺑِﻌَﺎً অর্থাৎ ‘আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা:) বলেছেন, ঈসা (আ:)-কে রাসূল এবং তাঁর দুই সাহাবী (আবুবকর, উমর)’র সাথে (একই কবরস্থানে) দাফন করা হবে। ফলে (সেখানে) তাঁর কবরটি চতুর্থতম কবর হবে।’ এই হাদীস উপরে উল্লিখিত হাদীসটির বিশ্লেষণকারী এবং ‘রাওজা শরীফ খুঁড়ে তার অভ্যন্তরে দাফন করার কথা বুঝাল কিনা’ সেই সংশয়টুকুরও তিরোহিতকারী। কেননা এই হাদীসে সুস্পষ্টই ‘ক্বাবরুহু রাবি’আন’ (ঈসার কবরটি সেখানে চতুর্থতম কবর) বলেই উল্লেখ রয়েছে।

ইমাম তিরমিযী (রহ:) তিনি এটি স্বীয় “আল-জামে” গ্রন্থে আগের ২টি সনদের বাহিরে ভিন্ন আরেক সনদেও উল্লেখ করে বলেছেন, এর সনদ হাসান এবং গরীব তথা সনদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্ণনাকারী অনূর্ধ্ব একজন। ইমাম তিরমিযী (রহ:) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি এইরকম : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺯَﻳْﺪُ ﺑْﻦُ ﺃَﺧْﺰَﻡَ ﺍﻟﻄَّﺎﺋِﻲُّ ﺍﻟْﺒَﺼْﺮِﻱُّ ﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﻗُﺘَﻴْﺒَﺔَ ﺳَﻠْﻢُ ﺑْﻦُ ﻗُﺘَﻴْﺒَﺔَ ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﺃَﺑُﻮ ﻣَﻮْﺩُﻭﺩٍ ﺍﻟْﻤَﺪَﻧِﻲُّ ﺛَﻨَﺎ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﺍﻟﻀَّﺤَّﺎﻙِ ﻋَﻦْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺑْﻦِ ﻳُﻮﺳُﻒَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑْﻦِ ﺳَﻼﻡٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﻋَﻦْ ﺟَﺪِّﻩِ ﻗَﺎﻝَ : ﻣَﻜْﺘُﻮﺏٌ ﻓِﻲ ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓِ ﺻِﻔَﺔُ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ، ﻭَﺻِﻔَﺔُ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺑْﻦِ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻳُﺪْﻓَﻦُ ﻣَﻌَﻪُ . ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻣَﻮْﺩُﻭﺩٍ : ﻭَﻗَﺪْ ﺑَﻘِﻲَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻣَﻮْﺿِﻊُ ﻗَﺒْﺮٍ . ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻋِﻴﺴَﻰ : ﻫَﺬَﺍ ﺣَﺪِﻳﺚٌ ﺣَﺴَﻦٌ ﻏَﺮِﻳﺐٌ অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা:) বলেছেন, তাওরাতের মধ্যে মুহাম্মদ (সা:)-এর গুণাগুণ লিপিবদ্ধ রয়েছে আর ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:)-এর গুণটি (এভাবে বর্ণিত আছে যে তা) হল, তাঁকে মুহাম্মদ (সা:)-এর (রাওজা শরীফের) সাথে দাফন করা হবে। অতপর (বর্ণনাকারী) আবু মওদূদ বলেন, (রাসূলের) রাওজাতে একটি কবরের স্থান (এখনও) খালি রয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রহ:) বলেছেন, এই হাদীস হাসান (সহীহ) এবং গরীব (তথা সূত্রের কোনো স্তরে রাবীর সংখ্যা অনূর্ধ্ব একজন)।”

হযরত আয়েশা (রা:) হতেও বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন : يا رسول الله انى أرى اعيش من بعدك فتأذن لى ان ادفن إلى جنبك فقال و إنى لك بذالك الموضع؟ ما فيه إلا موضع قبرى و قبر أبى بكر و عمر و عيسى بن مريم অর্থাৎ হে আল্লাহর রাসূল! আমার ধারণা যে, আমি আপনার পরেও জীবিত থাকব! তাই আপনার কবরের পাশেই আমি দাফন হবার কোনো অনুমতি আছে কি? উত্তরে রাসূল (সা:) বললেন, তুমি এমন একটি স্থানে দাফন কিভাবে হতে পার যেখানে আমার, আবুবকর, উমর আর ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:) এর কবর থাকবে! (বর্ণনাকারী উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা, কিতাব : কাঞ্জুল উম্মাল খন্ড নং ৭ পৃষ্ঠা নং ২৬৮)।

পরিশেষঃ মির্যা কাদিয়ানীর নিকটও মাননীয় মুজাদ্দিদ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ:) এর একটি উদ্ধৃতি দিয়ে লেখাটি শেষ করতে চাই। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ “ফাতহুল বারী” কিতাবের ৭ম খন্ডের ৮২ নং পৃষ্ঠায় ঈসা (আঃ) এর কবর রাসূল (সা:)-এর রাওজা শরীফে হওয়া সম্পর্কে লিখেছেন : ﺇﻥ قبور الثلاثة ﻓﻲ ﺻﻔﺔ ﺑﻴﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ، ﻭﻫﻨﺎﻙ ﻣﻮﺿﻊ ﻗﺒﺮ ﻳُﺪﻓﻦ ﻓﻴﻪ ﻋﻴﺴﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ অর্থাৎ হযরত আয়েশা (রা:)-এর ঘরের শামিয়ানায় (তথা রাসূলের রাওজাতে) তিনটি কবর বিদ্যমান আছে। সেখানে আরেকটি কবরের স্থান (অবশিষ্ট) আছে যেখানে ঈসা (আ:) দাফন হবেন।

বলে রাখতে চাই, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ:)-এর উক্ত ব্যাখ্যাকে ‘আল-মু’জামুল কাবীর‘ এর একটি হাদীসের খন্ডাংশ জোরালোভাবে সমর্থন করে। কারণ সেখানে লেখা আছে ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ ﻗَﺒْﺮُﻩُ ﺭَﺍﺑِﻌَﺎً অর্থাৎ ‘রাওজাতে ঈসা’র কবরটি চতুর্থতম হবে।‘

কাদিয়ানীদের অর্বাচীন যুক্তির কারণ : কাদিয়ানীরা হাদীসগুলো অমান্য করার অসৎ উদ্দেশ্যে নানা অর্বাচীন যুক্তি আর কাসুন্দির পিছু নিয়ে থাকে। তারা হাদীসগুলোর প্রকৃত মর্মার্থ ঘুরে দিতে জঘন্যতম ছলচাতুরির আশ্রয় নেয়। ‘ঈসা (আঃ)-কে রাসূলের রাওজাতে দাফন করলে নাকি রাওজা শরীফ খুঁড়তে হবে! আর তাই হাদীসগুলো বাদ দিতে হবে, এই হল কাদিয়ানীদের অর্বাচীন যুক্তি ! মূলত তাদের এই সমস্ত হাস্যকর কথাবার্তা মির্যা কাদিয়ানীর বই হামামাতুল বুশরা সহ অন্যান্য বই-পুস্তকেরই হান্ড্রেড পার্সেন্ট চর্বিতচর্বন। এই সমস্ত নিকৃষ্ট বোবা শয়তানদের জন্য দুঃসংবাদ যে, তাদের সেসব শয়তানী যুক্তি অপরাপর হাদীসগুলো আর যুগ ইমামদের বক্তব্যের আলোকে পুরোপুরি তিরোহিত হয়ে গেছে। তাই দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, ইতিপূর্বে যুগ ইমাম ও মুজাদ্দিদগণের আকীদা ছিল পুনঃ আগমনকারী ঈসা ইবনে মরিয়ম বলতে বনী ইসরাইলের সেই ঈসা-ই উদ্দেশ্য যিনি অচিরেই আগমন করবেন। অতপর মৃত্যুবরণ করবেন এবং রাসূল (সা:)-এর রাওজাতে দাফন হবেন। সেখানে তাঁর কবরটি হবে চতুর্থতম। জ্ঞানীদের সত্যটা বুঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। সংক্ষেপে এ পর্যন্ত। ওয়াসসালাম।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ইমাম মাহদী কি নবী?

0

ইমাম মাহদী কি নবী?

প্রশ্ন : ইমাম মাহদী (المهدى) কি নবী হবেন? অন্যথা তাঁর নামের পরে “আলায়হে ওয়া সাল্লাম” কিজন্য বলা হয় বা লিখা হয়?

উত্তর : ইমাম মাহদীর নামের পর কোথাও কেউ “আলায়হে ওয়া সাল্লাম” লিখলে বা বললে যদি তিনি “নবী”ই হবেন বুঝায়, তাহলে হযরত লোকমান হাকিম, খিজির, বিবি মরিয়ম, বিবি আছিয়া, বিবি হাওয়া প্রমুখ এঁরাও কি নবী ছিলো বলবেন? অবশ্যই না। আপনি সহীহ বুখারী’র ‘কিতাবুল ফাজায়েলে সাহাবা’ অধ্যায়ের (হাদীস নং ৩৭১১, অধ্যায় নং ৬২; আত-তাওহীদ প্রকাশনী) ‘বাবুল মানাক্বিবে ফাতিমা’ শীর্ষক পর্ব খুলে দেখুন! সেখানে হযরত ফাতেমা (রা:) এর নামের পরেও “আলায়হাস সালাম” (عليها السلام) লিখা আছে। সুনানু তিরমিজি গ্রন্থে একটি শিরোনাম হল “মানাক্বিবুল হাসান ওয়াল হোসাইন আলায়হিমাস্ সালাম” (مناقب الحسن والحسين عليهما السلام)। সেখানে ৩৭৭৪ নং হাদীসটির খন্ডাংশে লিখা আছে “জা-আল হাসানু ওয়াল হোসাইনু আলায়হিমাস সালাম (جاء الحسن والحسين عليهما السلام)।” তাই বলে কি ফাতেমা আর হাসান হোসাইন-ও নবী? নাউযুবিল্লাহ। এখানে কী বলবেন? মূলত যাদের নিকট ইসলামের সঠিক কোনো শিক্ষা নেই কাদিয়ানীরা এই সমস্ত অর্বাচীন যুক্তি দিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। যাইহোক, নামের পরে ‘আলায়হিস সালাম’ বলা বা লিখা প্রকৃতপক্ষে আহলে বাইয়েত’রই অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। হযরত ইমাম মাহদী আহলে বাইয়েত থেকে হবেন বলেই তার নামের পরেও অনুরূপ বলা হয় কিংবা লিখা হয়। এটাই মূল কারণ। আল্লাহু আ’লাম।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ছন্দে ছন্দে মির্যা কাদিয়ানীর চরিত্র

2

ছন্দে ছন্দে মির্যা কাদিয়ানীর চরিত্র
লেখকঃ কবি সবুজ ইসমাইল

জাহান্নামে দগ্ধ হচ্ছে শয়তানের এক ভাই; মৃত্যুকালে আপনা বিষ্ঠা মেখেছিলো যে গায়।

শয়তানিতে সারাটি জীবন করিয়া দিছে পার; খোদা দ্রোহী এই ভণ্ডের জায়গা কোথায় হবে আর?

নারী-লোভী তার বৃদ্ধকালে, এক যুবতীর লাগি; ঘোষণা দিলো, এই মেয়ে যেনো হয় মোর অনুরাগী।

ইহার সাথে শাদী হয়েছে মোর, দূর আকাশের পারে; দাও বিয়ে দাও আমার সাথে সঁপিয়োনা আর কারে!

আমি ব্যতিরেক কেউ হবেনা এই মেয়েটির স্বামী; খোদার ফয়সালা ইহার চেয়ে আর কী আছে দামী?

মেয়েটির বাপে বড় উত্তাপে কহিলো মির্জা শোন; তোরে চিনি আমি, বড্ড পাপী; নিজের পাপটা গুন।

কাল দিবো শাদী, পাত্র দেখিয়াছি, তুই যা পারিস কর; তোর অভিশাপে হবেনা কিছুই, বরং তা সাপে বর।

আমার আল্লাহ আমার সহায়, শয়তানে নাহি ডরি; তুই হেথা আসি যত সর্বনাশী বলি যা জীবন ভরই।

কী চেয়েছিল কী হয়ে গেলো—এই ভাবিয়া সার; কত ছল করি, মেয়েটিরে ধরি, করবো বিয়ে আর!

বিয়েটা হলো অন্যের সাথে, মোর মুখে মেখে কালি; স্বপনে স্বপনে বিভোর ছিলাম, মেলেছিনু কত ডালি!

ধরা খেয়ে বেশ, সব হল শেষ, নতুন ফন্দি আঁটে; যেই করে হোক তাহারে ভোগ করিব এই বাটে।

এইবার আরও জোর উদ্যমে নামিয়া পড়িল বেশ; মেয়েটিরে চাই, চাই পেতে চাই, দেখিয়া লইবো শেষ।

ঢেঁড়া পিটিয়া কহিয়া দিলো, শোনো হে দেশবাসী; এই মেয়েটা বিধবা হবে, বউ হবে তখন আসি।

এই নহে নহে মোর কথা, নহে, এই যে খোদার বাণী; অচিরেই আমি করব শাদী হবে সে মোর রানী।

লোকে বলিলো, আরে বেচারা! আর কত কবে মিছে; জীবনটাই তার কেটে গেল তার মিথ্যা এর পিছে পিছে।

খোদাতালা কি অবিচার করেন, মিথ্যুকদের লাগি; পর ঘরনীরে তাহার নীড়ে আনিয়া দিবে সে ভাগি?

দেখিতে দেখিতে দিব্যি কত বছর যাইতেছে কেটে; মেয়েটি তখনও স্বামী সংসারে বিচরে সুখে-হেটে!

লোকে তখনি বলিতে লাগিলো, ওরে ও মিথ্যাবাদী; ছল করে তুই কত কথা ক’লি, নাহি হলো তবু শাদী।

না মরে গেলো মেয়েটির স্বামী, না ফলে তোর কথা; পাগলের প্রলাপ পাগলে বলে, সর্বত্রই অযথা।

কবিতায় ‘মেয়ে’টির চরিত্র হল, মির্যার স্বপ্নের রানী মুহাম্মদী বেগম

মির্যার স্ববিরোধীতা-২

পড়ুন: মির্যার স্ববিরোধীতা-৩

একেক সময় একেক রকম কথা! কখনো বলে, ঈসা নাযিল হওয়া সম্পর্কে হাদীসে ‘আকাশ’ শব্দ নেই, আবার বলে ‘আছে’!

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

১. (তিনি লিখেছেন) ‘সমস্ত হাদীস পড়ে দেখো কোনো সহীহ হাদীসে [ঈসা’র নাযিল সম্পর্কে] ‘আসমান’ শব্দ পাবেনা।’ (রূহানী খাযায়েন: ২৩/২২৯; রচনাকাল ১৯০৭ইং)।

স্ববিরোধী কথা :

‘এই জন্যই তাঁর সম্পর্কে নিষ্পাপ নবীর ভবিষ্যৎবাণীতে এসেছে যে, তিনি [ঈসা] ‘আসমান’ থেকে নাযিল হবেন।’ (রূহানী খাযায়েন: ৫/২৬৮; রচনাকাল ১৮৯২ইং)।

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

কাদিয়ানীদের বইতে রাসূল (সা:) ‘শেষনবী’ হওয়ার ব্যাখ্যা

  • কাদিয়ানীদের বিভিন্ন পত্র-পুস্তকে নবীজীকে ‘শেষনবী‘ মান্য করার দাবীতে নিকৃষ্টতম অপব্যাখ্যার স্বরূপ স্ক্রিনশটসহ দেখানো হল:

কাদিয়ানীদের ধোকা আর প্রতারণা বুঝা বড় কঠিন! তারা ইদানিংকাল জোর গলায় প্রচার করছে যে, তারা মুহাম্মদ (সা:)-কে শেষনবী মানে। অথচ তাদের লিফলেট আর পত্র পুস্তক বলছে তারা মির্যা কাদিয়ানীকেও নবী মানে এমনকি তাকে শেষনবী বলেই বিশ্বাস করে! তারা যে মির্যা কাদিয়ানীকেও “নবী” মানে সেটি তাদের মির্যা কাদিয়ানীরই অসংখ্য বই থেকে চাইলে প্রমাণ করে দেব। অপ্রিয় হলেও সত্য, মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে একজন পূর্ণ শরীয়তবাহক নবী ও রাসূল বলেও দাবী করে লিখে গেছেন। আমি নিজ চোখে এসব বহুবার পড়েছি, এখনো ডকুমেন্ট আমার হাতেই রয়েছে। এখানে শুধুমাত্র “এক গলতি কা ইযালা” (মূল লিখক, মির্যা কাদিয়ানী) বইয়ের স্ক্রিনশট দিলাম। দেখে নেবেন।

  • তারপর আসি লিফলেট সম্পর্কে

আমি লাল দাগ টেনে দেখিয়েছি যে, তারা হযরত মুহাম্মদ (সা:)-কে শুধুমাত্র ‘শরীয়তবাহক‘ (শর্তযুক্ত) হিসেবেই শেষনবী মানে কিন্তু শর্তহীনভাবে ও বিনা ব্যতিক্রমে “শেষনবী” মানেনা!

এই লিফলেট তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। তারা এইরূপ শর্তযুক্ত (শরীয়তবাহক) করার মাধ্যমে একদম সূক্ষ্মভাবে যেই মতবাদটি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে সেটি হল, মুহাম্মদ (সা:)-এর পরে নবুওয়ত বন্ধ হয়নি, বরং চালু ছিল। তাই মির্যা কাদিয়ানীও একজন নবী, তবে সে শরীয়তবাহক নবী নন; স্রেফ একজন শরীয়ত বিহীন ও প্রতিবিম্বস্বরূপ নবী! পাঠক! বুঝলেন তো তারা কিভাবে প্যাঁচ লাগিয়ে মির্যার নবুওয়ত দাবীকে হালাল করার চেষ্টা করে!!!

সে যাইহোক, আমার বক্তব্য হল, ওরা যাইচ্ছেতাই বিশ্বাস করুক, তাতে আমার সমস্যা নেই। কিন্তু তারা ইসলাম পরিপন্থী জঘন্য কুফুরী বিশ্বাস পোষণ করা সত্ত্বেও সেটিকে ইসলামী বিশ্বাস বলে কেন চালিয়ে দিতে চাইবে? কিজন্য তাদের এইরূপ কুফুরীকে প্রকৃত ইসলাম বলিয়া সাধারণ মানুষকে সেদিকে ধাবিত করে সুকৌশলে ঈমান হরণ করতে চাইবে? আমি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে এইরূপ একটি ধোকা আর প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে রাষ্ট্রের নিকট জোর দাবী জানাব না? বিজ্ঞ পাঠকের সুষ্ঠু বিবেক কী বলে? তাই আমার বন্ধুরা! ওদের ধোকা আর চতুরতা ধরতে না পারলে আপনাকে যে কোনো সময় প্রতারিত হতে হবে, তাতে সন্দেহ নেই! অতএব খুব সাবধান!

যেসব বর্ণনাকে আশ্রয় করে ‘খতমে নবুওয়ত’–কে অস্বীকার করা হয় সেগুলোর জবাব

  • লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

সূরা জুম’আ-তে মুহাম্মদ (সা:)-এর পুনঃজন্ম হওয়ার কোনো ইংগিত আছে কি?

কুরআনের আয়াতে অপব্যাখ্যা দিয়ে মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে “দ্বিতীয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” দাবী করলো যেভাবে?

কাদিয়ানীরা ‘ওয়া আখারীনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকূবিহিম’ [আরবী: وآخرين منهم لما يلحقوبهم] (সূরা জুমা : ৩) আয়াত দ্বারা মির্যা কাদিয়ানীকে হযরত মুহাম্মদে আরাবী (সা.) এর ‘দ্বিতীয় আগমনী সত্তা’ সাব্যস্ত করে থাকে। তাদের বিশ্বাস হচ্ছে, পৃথিবীতে মুহাম্মদ (সা)-এর পুনঃ আগমন ঘটেছে গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর প্রতিচ্ছবিতে। (নাউজুবিল্লাহ)।

আমরা এখানে তাদের সেই কুফুরী ব্যাখ্যার খন্ডন করব, ইনশাআল্লাহ।

প্রথমে জেনে নিতে হবে যে, কাদিয়ানীরা উক্ত আয়াতটির কিরূপ অনুবাদ করেন এবং কেমন ব্যাখ্যা দাঁড় করে থাকেন।

(তাদের অনুবাদ) “আর তাদেরই মাঝ থেকে অন্যদের প্রতিও (তিনি তাকে আবির্ভূত করবেন), যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী (ও) পরম প্রজ্ঞাময়।”

  • এবার তাদের অপব্যাখ্যা :

কাদিয়ানীরা আয়াতটির বিকৃত অনুবাদ করার পর তারই আলোকে ব্যাখ্যা দেয় এভাবে যে,

‘এই আয়াতে শেষ যুগে প্রতিশ্রুত মসীহরূপে মহানবী (সা.)-এর দ্বিতীয় আধ্যাত্মিক আবির্ভাব ঘটবে বলে ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে। মহানবী (সা.) স্বয়ং এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন। বিষয়টির উপর একটি প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে। মহানবী (সা.)-এর এই বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, আয়াতটিতে যে ব্যক্তির আগমনের সংবাদ দেয়া হয়েছে তিনি পারস্য বংশীয় হবেন। আহমদীয়া মুসলিম জামাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রতিশ্রুত মসীহ(!) পারস্য বংশীয় ছিলেন। (সংক্ষেপে তাদের বক্তব্য শেষ হল)।

এককথায়, তারা উক্ত আয়াত এবং হাদীসে মির্যা কাদিয়ানীর আগমনের সুসংবাদ রয়েছে বলে দাবী করতে চায়।

  • এবার তাদের উক্ত কুফুরী অপব্যাখ্যার খন্ডন করা হল,

প্রথমেই আয়াতটির আগের আয়াতসহ দুইখানা আয়াতের সঠিক অনুবাদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে মুদ্রিত আল কুরআনুল করীম এর বঙ্গানুবাদ থেকে) জেনে নিন!

“(আয়াত নং ২) তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসূল পাঠাইয়াছেন তাঁহাদের মধ্য হইতে, যে তাঁহাদের নিকট আবৃত্তি করে তাঁহার আয়াতসমূহ; তাহাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; ইতিপূর্বে তো ইহারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।”

(আয়াত নং ৩) এবং তাহাদের জন্যও যাহারা এখনও এদের সহিত মিলিত হয় নাই। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”

  • এই পর্যায় কাদিয়ানীদের উক্ত বিকৃত অনুবাদ এবং অপব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি তাদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই,

(১) আয়াতের মধ্যে ‘আখারীনা’ (آخرين) শব্দটি যের এর অবস্থায় হওয়ার কারণ এটি ‘উম্মিয়্যীন’ (اميين) এর উপর আত্ফ হয়েছে। একথা বলেছেন সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারক প্রখ্যাত যুগ-ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)। দেখুন ফাতহুল বারী, কিতাবু তাফসীরিল কুরআন অধ্যায়।

ফলে দুটো আয়াতের সারমর্ম দাড়াচ্ছে- আল্লাহতায়ালা উম্মীদের মধ্য হতে যেই রসূল প্রেরণ করেছেন তিনি অন্যান্যদের জন্যও প্রেরিত [একজন রসূল] যারা এখনো এঁদের [সাহাবীদের] সাথে মিলিত হয়নি। তাই প্রশ্ন হল এই আয়াতে ভবিষ্যৎকালে অন্য আর কারো আগমনের সুসংবাদ কিভাবে থাকতে পারে?

(২) আয়াতের মধ্যে ভবিষ্যৎকালে যদি কারো আবির্ভূত হওয়ার কথা সত্যিই থাকত তাহলে অনুবাদের মধ্যে ব্রেকেট ব্যবহার করে ‘তিনি তাকে আবির্ভূত করবেন’ এই অংশটি অতিরিক্ত লিখার কী প্রয়োজন ছিল?

(৩) আয়াতের মধ্যে ‘বা’আছা’ (بعث) শব্দটি অতীতকালবাচক ক্রিয়াপদ। যার অর্থ ‘তিনি পাঠাইয়াছেন’। এর মানে আয়াতটি যার উপর নাযিল হয়েছিল এখানে তাঁকেই বুঝানো হয়েছে যে আল্লাহতায়ালা উম্মীদের মধ্য হতে তাঁকে একজন রসূল করে পাঠিয়েছেন। এমতাবস্থায় ঐ রসূল মির্যা কাদিয়ানী কিভাবে উদ্দেশ্য হয়?

(৪) তারপর চলুন, হাদীসটিও দেখে আসি। হাদীসটি সহীহ বুখারী, মুসলিম এবং সহীহ ইবনে হিব্বান প্রভৃতি কিতাবেও রয়েছে। হাদীসে তিনি (সা.) যে সেই অন্যান্যদের জন্যও প্রেরিত [একজন রসূল] যারা এখনো এঁদের [সাহাবীদের] সাথে মিলিত হয়নি, সেই অন্যান্যদের পরিচয় তুলে ধরতে তিনি হযরত সালমান ফারসী (রা.)-এর শরীরে হাত রেখে যে কথা বলেছিলেন তা হল (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮৯৭) “লাও কা-নাল ঈমানু ইন্দাছ ছুরাইয়্যা লানা-লাহু রিজালুন আও রাজুলুন মিন হা-উলা-য়ি” (আরবী: لو كان الايمان عند الثريا لناله رجال او رجل من هؤلاء) অর্থাৎ ঈমান যদি ছুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জের নিকটেও থাকত তবুও তাদের কতেক লোক অথবা তাদের এক ব্যক্তি তা অবশ্যই নিয়ে আসত। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে (সহীহ মুসলিম) ‘আবনাউল ফারাসি’ অর্থাৎ পারস্যবংশীয় সন্তানগণ। সহীহ ইবনে হিব্বান (খন্ড নং ৬, হাদীস নং ৭১২৩) এর বর্ণনায় এসেছে “লাতানা-ওয়ালুহু রিজালুন মিন কওমি হাজা।” (আরবী: لتناوله رجال من قوم هذا) অর্থাৎ ঈমান যদি ছুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জের নিকটেও থাকত তবুও এর গোত্রের কতেক ব্যক্তি অবশ্যই তা নিয়ে আসত।

সে যাইহোক, হাদীসগুলোর তাৎপর্য দাঁড়াল, সেই অন্যান্যরা বলতে বিশিষ্ট সাহাবী হযরত সালমান ফারসী (রা:)-এর বংশধর কতেক ব্যক্তিকে বুঝানো উদ্দেশ্য। এমতাবস্থায় বহুবচন-সম্বলিত হাদীসটির ‘কতেক ব্যক্তি’ শব্দের مصداق (উদ্দেশ্য) মির্যা কাদিয়ানী কিভাবে হতে পারে?

(৫) মির্যা কাদিয়ানীর পুত্র ও কথিত মুসলেহ মওউদ মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ রচিত “আহমদ চরিত” (বাংলা অনূদীত) বইয়ের ১ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, মির্যা কাদিয়ানীর পূর্ব পুরুষের নাম ছিল (মোঘল) বরলাস। যিনি সম্রাট তৈমুরের পিতৃব্য ছিলেন।

মজার ব্যাপার হল, মির্যা সাহেব নিজের বংশধর ‘মোঘল বরলাস’ বলে নিজেও লিখে গেছেন। দেখুন ‘রূহানী খাযায়েন’ খন্ড নং ১৩ পৃষ্ঠা নং ১৬২। এখানে কী বলবেন? যিনি নিজেই নিজেকে ‘মোঘল’ বংশধর বলছেন তিনি তার বিপরীতে পারস্যবংশীয় হওয়ার দাবী কিভাবে করতে পারেন? অথচ মোঘল [তুর্কী] আর পারস্য দুটি ভিন্ন ভিন্ন দুই জাতি।

(৬) মির্যা সাহেব নিজেকে কোথাও চায়নিজ বংশীয় (রূহানী খাযায়েন ১৭/১২৭), কোথাও ফাতেমী বংশীয় আবার ইসরাইলী বংশীয় (রূহানী খাযায়েন ১৮/২১৬); কোথাও পারস্যবংশীয় (রূহানী খাযায়েন ১৩/১৬৩) বলেও লিখে গেছেন।

তাই আমার প্রশ্ন হল, এমন পাঁচমিশালি বংশীয় তথাকথিত মসীহ সাহেবের প্রকৃত বংশ পরিচয় একসাথে কি সবগুলোই?

  • সম্পূর্ণ লিখাটি আমার ফেইসবুক পেইজ থেকে কপি করুন!

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ঈসা (আ:) কি কাশ্মীরে এসেছিলেন?

ঈসা (আ:) কি কাশ্মীরে এসেছিলেন??

(সূরা মুমিনুন, আয়াত ৫০) ‘এবং আমি মরিয়ম পুত্র (ঈসা) ও তাঁর মাকে করেছিলাম এক নিদর্শন। তাঁদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এক নিরাপদ ও প্রস্রবণবিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে।’

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা : উক্ত আয়াতে ঈসা এবং তাঁর মা মরিয়মকে আল্লাহর ক্ষমতার এক নিদর্শন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা আল্লাহতায়ালা মরিয়মকে বিনা স্বামীতে গর্ভবতী করে ঈসা (আ.)-কে বিনা পিতায় সৃষ্টি করেছেন যা আল্লাহতায়ালারই ক্ষমতার অন্যতম এক নিদর্শন। তারপর আয়াতটিতে রাবওয়াহ (উচ্চভূমি) শব্দও উল্লেখ রয়েছে। যার অর্থ এমন উচ্চভূমি যা সমতল এবং আশপাশের এলাকা থেকে উঁচু। এটি বায়তুল মুকাদ্দাসেরই একটি স্থানকে বুঝানাে হয়েছে। আরেকটি শব্দ এসেছে ‘মা’ঈন’ (বহমান ঝর্ণা) । আরবীতে মা’ঈন বলতে সেই ঝর্ণাকে বুঝানাে হয়েছে যা মহান আল্লাহ ঈসা (আ.)-এর জন্মের সময় মরিয়ম (আ.)-এর পদতলে অলৌকিকভাবে প্রবাহিত করেছিলেন যেমনটি সূরা মরিয়মে (১৯:২৪) উল্লেখ রয়েছে। আয়াতের আরবী, فَنَادَاهَا مِن تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا অর্থ, ‘অত:পর তিনি (জিবরাইল) তাঁকে (মরিয়ম) তাঁর নিম্ন দিক (-এর পাহাড়ের পাদদেশ) থেকে আহবান করে বললেন, তুমি চিন্তিত হয়ো না। তোমার প্রভু তোমার (পদতলে) নিচ দিয়ে একটা বহমান ঝর্ণা সৃষ্টি করে দেবেন।’ তাফসিরে ইবনে কাসীর। কিতাবটি পড়তে ক্লিক করুন

এখানে বলে রাখা জরুরি, সূরা মরিয়মের ২৩ নং আয়াত সাক্ষী, উক্ত নিরাপদ ও প্রস্রবণ বিশিষ্ট উচ্চভূমিতে তাঁদের দু’জনের আশ্রয়-মুহূর্তে বিবি মরিয়ম (আ:) গর্ভবতী ছিলেন। ফলে প্রসব-বেদনার দরুন তিনি জেরুজালেমের নিকটস্থ উঁচু ও সমতল কোনাে নিরিবিলি জায়গায় খেজুর গাছের কান্ডের কাছে চলে গিয়েছিলেন।

নাতি-দীর্ঘ বিশ্লেষণ : এই পর্যায় আয়াতটির রাবওয়াহ এবং মা’ঈন শব্দদুটি নিয়ে একটু কথা বলব। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে যাহহাক (রহ.) বর্ণনা করেন যে, রাবওয়াহ বলা হয় ঐ উঁচু ভূমিকে যা সবুজ-শ্যামল ও কৃষি কাজের উপযােগী (দুররে মানছুর ৬/১০০)। হযরত মুজাহিদ, ইকরিমাহ, সাঈদ ইবনে যােবাইর এবং কাতাদাহ প্রমুখও অনুরূপ বলেছেন (তাফসীরে তাবারী ৫/৫৩৬-৩৭)। মা’ঈন সম্পর্কে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, এটি হল ভূমির উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পানির প্রবাহ (তাফসীরে তাবারী ১৯/৩৮)।

মুজাহিদ, ইকরিমাহ, সাঈদ ইবনে যােবাইর এবং কাতাদাহ প্রমুখও অনুরূপ বলেছেন। সে যাইহােক আয়াতে রাবওয়াহ বলে প্রকৃতপক্ষে আরবের কোন স্থানটিকে বুঝানাে উদ্দেশ্য সে সম্পর্কে তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে এখানে উল্লেখ করছি। তাফসীরে তাবারীর (১৯/৩৭) মধ্যে ইবনে আবী হাতেম হতে হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব (রহ.) এর সূত্রে জায়গাটির নাম ‘দামেস্ক’ উল্লেখ আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম, হাসান বসরী, যায়িদ ইবনে আসলাম এবং খালিদ ইবনে মাদানও প্রায় অনুরূপ বলেছেন। লাইস ইবনে আবী সুলাইম (রহ.) তিনি মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন, আয়াতাংশে ঈসা (আ.) এবং তাঁর মা মরিয়ম দামেস্কের [বর্তমান জেরুজালেম দামেস্কের প্রাচীন ভৌগোলিক সীমানারই অন্তর্ভুক্ত – লিখক] কোনাে এক সমতল ভূমিতে আশ্রয় নেয়ার কথাই বলা হয়েছে (দুররে মানছুর ৬/১০০)। আব্দুর রাজ্জাক (রহ:)-এর ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে হযরত আবু হােরায়রা (রা.) হতে ফিলিস্তিনের ‘রামাল্লা’ এলাকার কথা বলা হয়েছে।

তবে সব চেয়ে বেশি নির্ভরযােগ্য যে বিবরণ পাওয়া যায় তা হল, ইবনে আব্বাস (রা.) হতে প্রাপ্ত আল আউফী’র বর্ণনা। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, আয়াতের অর্থ হচ্ছে প্রবাহিত পানি এবং ঐ ঝর্ণা যা “ক্বদ জা’আলা রাব্বুকি তাহতাকি ছারিইইয়া” অর্থাৎ তােমার প্রভু তােমার পদতলে একটি ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন (সূরা মরিয়ম/১৯:২৪) আয়াতে আল্লাহতায়ালা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এটা হল জেরুজালেম (ফিলিস্তিন) এর একটি স্থান। তবে এই আয়াতটি যেন ঐ আয়াতেরই তাফসীর। আর পবিত্র কুরআনের তাফসীর প্রথমত: কুরআন দ্বারা, তারপর হাদীস দ্বারা এবং এরপর আছার (বিশেষজ্ঞ সাহাবীদের তাফসীর) দ্বারা করা উচিত (তাফসিরে ইবনে কাসীর, সূরা মুমিনুল আয়াত নং ৫০ এর তাফসীর অংশ দ্রষ্টব্য) । উল্লেখ্য, জেরুজালেম প্রাচীন যুগের শাম বা দামেস্কের ভৌগােলিক সীমানারই অংশ বিশেষ।

  • একটি হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা.) ‘রাবওয়া’ শব্দ হতে ফিলিস্তিনের “রামাল্লাহ” শহরকেই উদ্দেশ্য নিয়েছিলেন। এইভাবে আরো দলিল প্রমাণ সহ জানতে ক্লিক করুন এখানে। ক্লিক

শেষকথা : পবিত্র কুরআনে পরিষ্কারভাবে জায়গার নাম উল্লেখ না থাকায় বিশেষজ্ঞ যুগ ইমামগণের মাঝে ‘রাবওয়াহ’ বলতে জেরুজালেমের কোন স্থানকে বুঝানো উদ্দেশ্য তা নিয়ে মতানৈক্য হয়ে যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সবাই একমত যে, উল্লিখিত আশ্রয় লাভের ঘটনা হযরত ঈসার (আ.) ভুমিষ্টকালীন সময়েই ঘটেছিল এবং সেটি আরবের কোনাে এক স্থানেই। তবে সব চেয়ে নির্ভরযােগ্য বর্ণনামতে এমনকি ইবনে আব্বাস হতে অন্য আরেকটি সূত্রে সেই স্থানটি জেরুজালেমের (বর্তমান ফিলিস্তিন) রামাল্লা নামক স্থানই ছিল। রাসূল (সা.) হতে মারফূহ সূত্রে এটি প্রমাণিতও বটে। হাদীসটির স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

সুতরাং মির্যা কাদিয়ানী আর তার অনুসারীদের দাবী : উক্ত আয়াতে ঈসা (আ.) আর তাঁর মা মরিয়ম কাশ্মীরে আগমন করার কথাই বলা হয়েছে, এটি সর্বান্তকরণে মিথ্যা, অপব্যাখ্যা ও পবিত্র কুরআনের নিকৃষ্টতম বিকৃতির শামিল। কেননা তখন প্রশ্ন আসবে, তবে কি ঈসা (আ.) ভারতের কাশ্মীরেই ভূমিষ্ট হয়েছিলেন? আরাে প্রশ্ন আসবে, বিবি মরিয়ম তিনি ঈসা (আ.)-কে প্রসব করার জন্য আপনা বসতি থেকে প্রায় ৪৬৬০ কিলােমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সুদূর ভারতের কাশ্মীরে কিভাবে গেলেন আর কেনই বা যাবেন? ভাবিয়ে তুলে কিনা!

আশাকরি কাদিয়ানী সম্প্রদায় মির্যা কাদিয়ানীর ন্যায় একজন সিজোফ্রেনিয়া রুগীর যতসব উদ্ভট দর্শন নিয়ে শেষবারের মত ভেবে দেখবেন। মির্যা কাদিয়ানীর সিজোফ্রেনিয়া রোগ থাকা সম্পর্কে এখানে পড়ুন

  • সম্পূর্ণ লিখাটি আমার ফেইসবুক পেইজ থেকে পড়ুন!

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক