Home Blog Page 38

মির্যার স্ববিরোধীতা-২

পড়ুন: মির্যার স্ববিরোধীতা-৩

একেক সময় একেক রকম কথা! কখনো বলে, ঈসা নাযিল হওয়া সম্পর্কে হাদীসে ‘আকাশ’ শব্দ নেই, আবার বলে ‘আছে’!

এমন ব্যক্তিও কী করে আপনা দাবীতে সত্য হন?

১. (তিনি লিখেছেন) ‘সমস্ত হাদীস পড়ে দেখো কোনো সহীহ হাদীসে [ঈসা’র নাযিল সম্পর্কে] ‘আসমান’ শব্দ পাবেনা।’ (রূহানী খাযায়েন: ২৩/২২৯; রচনাকাল ১৯০৭ইং)।

স্ববিরোধী কথা :

‘এই জন্যই তাঁর সম্পর্কে নিষ্পাপ নবীর ভবিষ্যৎবাণীতে এসেছে যে, তিনি [ঈসা] ‘আসমান’ থেকে নাযিল হবেন।’ (রূহানী খাযায়েন: ৫/২৬৮; রচনাকাল ১৮৯২ইং)।

শেষকথা : মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন: মিথ্যাবাদীর কথায় অবশ্যই স্ববিরোধীতা হয়ে থাকে। (রূহানী খাযায়েন: ২১/২৭৫)।

অতএব এবার মির্যা কাদিয়ানী তারই স্ববিরোধী কথার কারণে কী সাব্যস্ত হলেন একটু ভেবে দেখবেন কি? এমন একজন মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান কিজন্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আমাদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

কাদিয়ানীদের বইতে রাসূল (সা:) ‘শেষনবী’ হওয়ার ব্যাখ্যা

  • কাদিয়ানীদের বিভিন্ন পত্র-পুস্তকে নবীজীকে ‘শেষনবী‘ মান্য করার দাবীতে নিকৃষ্টতম অপব্যাখ্যার স্বরূপ স্ক্রিনশটসহ দেখানো হল:

কাদিয়ানীদের ধোকা আর প্রতারণা বুঝা বড় কঠিন! তারা ইদানিংকাল জোর গলায় প্রচার করছে যে, তারা মুহাম্মদ (সা:)-কে শেষনবী মানে। অথচ তাদের লিফলেট আর পত্র পুস্তক বলছে তারা মির্যা কাদিয়ানীকেও নবী মানে এমনকি তাকে শেষনবী বলেই বিশ্বাস করে! তারা যে মির্যা কাদিয়ানীকেও “নবী” মানে সেটি তাদের মির্যা কাদিয়ানীরই অসংখ্য বই থেকে চাইলে প্রমাণ করে দেব। অপ্রিয় হলেও সত্য, মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে একজন পূর্ণ শরীয়তবাহক নবী ও রাসূল বলেও দাবী করে লিখে গেছেন। আমি নিজ চোখে এসব বহুবার পড়েছি, এখনো ডকুমেন্ট আমার হাতেই রয়েছে। এখানে শুধুমাত্র “এক গলতি কা ইযালা” (মূল লিখক, মির্যা কাদিয়ানী) বইয়ের স্ক্রিনশট দিলাম। দেখে নেবেন।

  • তারপর আসি লিফলেট সম্পর্কে

আমি লাল দাগ টেনে দেখিয়েছি যে, তারা হযরত মুহাম্মদ (সা:)-কে শুধুমাত্র ‘শরীয়তবাহক‘ (শর্তযুক্ত) হিসেবেই শেষনবী মানে কিন্তু শর্তহীনভাবে ও বিনা ব্যতিক্রমে “শেষনবী” মানেনা!

এই লিফলেট তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। তারা এইরূপ শর্তযুক্ত (শরীয়তবাহক) করার মাধ্যমে একদম সূক্ষ্মভাবে যেই মতবাদটি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে সেটি হল, মুহাম্মদ (সা:)-এর পরে নবুওয়ত বন্ধ হয়নি, বরং চালু ছিল। তাই মির্যা কাদিয়ানীও একজন নবী, তবে সে শরীয়তবাহক নবী নন; স্রেফ একজন শরীয়ত বিহীন ও প্রতিবিম্বস্বরূপ নবী! পাঠক! বুঝলেন তো তারা কিভাবে প্যাঁচ লাগিয়ে মির্যার নবুওয়ত দাবীকে হালাল করার চেষ্টা করে!!!

সে যাইহোক, আমার বক্তব্য হল, ওরা যাইচ্ছেতাই বিশ্বাস করুক, তাতে আমার সমস্যা নেই। কিন্তু তারা ইসলাম পরিপন্থী জঘন্য কুফুরী বিশ্বাস পোষণ করা সত্ত্বেও সেটিকে ইসলামী বিশ্বাস বলে কেন চালিয়ে দিতে চাইবে? কিজন্য তাদের এইরূপ কুফুরীকে প্রকৃত ইসলাম বলিয়া সাধারণ মানুষকে সেদিকে ধাবিত করে সুকৌশলে ঈমান হরণ করতে চাইবে? আমি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে এইরূপ একটি ধোকা আর প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে রাষ্ট্রের নিকট জোর দাবী জানাব না? বিজ্ঞ পাঠকের সুষ্ঠু বিবেক কী বলে? তাই আমার বন্ধুরা! ওদের ধোকা আর চতুরতা ধরতে না পারলে আপনাকে যে কোনো সময় প্রতারিত হতে হবে, তাতে সন্দেহ নেই! অতএব খুব সাবধান!

যেসব বর্ণনাকে আশ্রয় করে ‘খতমে নবুওয়ত’–কে অস্বীকার করা হয় সেগুলোর জবাব

  • লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

সূরা জুম’আ-তে মুহাম্মদ (সা:)-এর পুনঃজন্ম হওয়ার কোনো ইংগিত আছে কি?

কুরআনের আয়াতে অপব্যাখ্যা দিয়ে মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে “দ্বিতীয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” দাবী করলো যেভাবে?

কাদিয়ানীরা ‘ওয়া আখারীনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকূবিহিম’ [আরবী: وآخرين منهم لما يلحقوبهم] (সূরা জুমা : ৩) আয়াত দ্বারা মির্যা কাদিয়ানীকে হযরত মুহাম্মদে আরাবী (সা.) এর ‘দ্বিতীয় আগমনী সত্তা’ সাব্যস্ত করে থাকে। তাদের বিশ্বাস হচ্ছে, পৃথিবীতে মুহাম্মদ (সা)-এর পুনঃ আগমন ঘটেছে গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর প্রতিচ্ছবিতে। (নাউজুবিল্লাহ)।

আমরা এখানে তাদের সেই কুফুরী ব্যাখ্যার খন্ডন করব, ইনশাআল্লাহ।

প্রথমে জেনে নিতে হবে যে, কাদিয়ানীরা উক্ত আয়াতটির কিরূপ অনুবাদ করেন এবং কেমন ব্যাখ্যা দাঁড় করে থাকেন।

(তাদের অনুবাদ) “আর তাদেরই মাঝ থেকে অন্যদের প্রতিও (তিনি তাকে আবির্ভূত করবেন), যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী (ও) পরম প্রজ্ঞাময়।”

  • এবার তাদের অপব্যাখ্যা :

কাদিয়ানীরা আয়াতটির বিকৃত অনুবাদ করার পর তারই আলোকে ব্যাখ্যা দেয় এভাবে যে,

‘এই আয়াতে শেষ যুগে প্রতিশ্রুত মসীহরূপে মহানবী (সা.)-এর দ্বিতীয় আধ্যাত্মিক আবির্ভাব ঘটবে বলে ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে। মহানবী (সা.) স্বয়ং এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন। বিষয়টির উপর একটি প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে। মহানবী (সা.)-এর এই বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, আয়াতটিতে যে ব্যক্তির আগমনের সংবাদ দেয়া হয়েছে তিনি পারস্য বংশীয় হবেন। আহমদীয়া মুসলিম জামাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রতিশ্রুত মসীহ(!) পারস্য বংশীয় ছিলেন। (সংক্ষেপে তাদের বক্তব্য শেষ হল)।

এককথায়, তারা উক্ত আয়াত এবং হাদীসে মির্যা কাদিয়ানীর আগমনের সুসংবাদ রয়েছে বলে দাবী করতে চায়।

  • এবার তাদের উক্ত কুফুরী অপব্যাখ্যার খন্ডন করা হল,

প্রথমেই আয়াতটির আগের আয়াতসহ দুইখানা আয়াতের সঠিক অনুবাদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে মুদ্রিত আল কুরআনুল করীম এর বঙ্গানুবাদ থেকে) জেনে নিন!

“(আয়াত নং ২) তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসূল পাঠাইয়াছেন তাঁহাদের মধ্য হইতে, যে তাঁহাদের নিকট আবৃত্তি করে তাঁহার আয়াতসমূহ; তাহাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; ইতিপূর্বে তো ইহারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।”

(আয়াত নং ৩) এবং তাহাদের জন্যও যাহারা এখনও এদের সহিত মিলিত হয় নাই। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”

  • এই পর্যায় কাদিয়ানীদের উক্ত বিকৃত অনুবাদ এবং অপব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি তাদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই,

(১) আয়াতের মধ্যে ‘আখারীনা’ (آخرين) শব্দটি যের এর অবস্থায় হওয়ার কারণ এটি ‘উম্মিয়্যীন’ (اميين) এর উপর আত্ফ হয়েছে। একথা বলেছেন সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারক প্রখ্যাত যুগ-ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)। দেখুন ফাতহুল বারী, কিতাবু তাফসীরিল কুরআন অধ্যায়।

ফলে দুটো আয়াতের সারমর্ম দাড়াচ্ছে- আল্লাহতায়ালা উম্মীদের মধ্য হতে যেই রসূল প্রেরণ করেছেন তিনি অন্যান্যদের জন্যও প্রেরিত [একজন রসূল] যারা এখনো এঁদের [সাহাবীদের] সাথে মিলিত হয়নি। তাই প্রশ্ন হল এই আয়াতে ভবিষ্যৎকালে অন্য আর কারো আগমনের সুসংবাদ কিভাবে থাকতে পারে?

(২) আয়াতের মধ্যে ভবিষ্যৎকালে যদি কারো আবির্ভূত হওয়ার কথা সত্যিই থাকত তাহলে অনুবাদের মধ্যে ব্রেকেট ব্যবহার করে ‘তিনি তাকে আবির্ভূত করবেন’ এই অংশটি অতিরিক্ত লিখার কী প্রয়োজন ছিল?

(৩) আয়াতের মধ্যে ‘বা’আছা’ (بعث) শব্দটি অতীতকালবাচক ক্রিয়াপদ। যার অর্থ ‘তিনি পাঠাইয়াছেন’। এর মানে আয়াতটি যার উপর নাযিল হয়েছিল এখানে তাঁকেই বুঝানো হয়েছে যে আল্লাহতায়ালা উম্মীদের মধ্য হতে তাঁকে একজন রসূল করে পাঠিয়েছেন। এমতাবস্থায় ঐ রসূল মির্যা কাদিয়ানী কিভাবে উদ্দেশ্য হয়?

(৪) তারপর চলুন, হাদীসটিও দেখে আসি। হাদীসটি সহীহ বুখারী, মুসলিম এবং সহীহ ইবনে হিব্বান প্রভৃতি কিতাবেও রয়েছে। হাদীসে তিনি (সা.) যে সেই অন্যান্যদের জন্যও প্রেরিত [একজন রসূল] যারা এখনো এঁদের [সাহাবীদের] সাথে মিলিত হয়নি, সেই অন্যান্যদের পরিচয় তুলে ধরতে তিনি হযরত সালমান ফারসী (রা.)-এর শরীরে হাত রেখে যে কথা বলেছিলেন তা হল (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮৯৭) “লাও কা-নাল ঈমানু ইন্দাছ ছুরাইয়্যা লানা-লাহু রিজালুন আও রাজুলুন মিন হা-উলা-য়ি” (আরবী: لو كان الايمان عند الثريا لناله رجال او رجل من هؤلاء) অর্থাৎ ঈমান যদি ছুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জের নিকটেও থাকত তবুও তাদের কতেক লোক অথবা তাদের এক ব্যক্তি তা অবশ্যই নিয়ে আসত। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে (সহীহ মুসলিম) ‘আবনাউল ফারাসি’ অর্থাৎ পারস্যবংশীয় সন্তানগণ। সহীহ ইবনে হিব্বান (খন্ড নং ৬, হাদীস নং ৭১২৩) এর বর্ণনায় এসেছে “লাতানা-ওয়ালুহু রিজালুন মিন কওমি হাজা।” (আরবী: لتناوله رجال من قوم هذا) অর্থাৎ ঈমান যদি ছুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জের নিকটেও থাকত তবুও এর গোত্রের কতেক ব্যক্তি অবশ্যই তা নিয়ে আসত।

সে যাইহোক, হাদীসগুলোর তাৎপর্য দাঁড়াল, সেই অন্যান্যরা বলতে বিশিষ্ট সাহাবী হযরত সালমান ফারসী (রা:)-এর বংশধর কতেক ব্যক্তিকে বুঝানো উদ্দেশ্য। এমতাবস্থায় বহুবচন-সম্বলিত হাদীসটির ‘কতেক ব্যক্তি’ শব্দের مصداق (উদ্দেশ্য) মির্যা কাদিয়ানী কিভাবে হতে পারে?

(৫) মির্যা কাদিয়ানীর পুত্র ও কথিত মুসলেহ মওউদ মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ রচিত “আহমদ চরিত” (বাংলা অনূদীত) বইয়ের ১ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, মির্যা কাদিয়ানীর পূর্ব পুরুষের নাম ছিল (মোঘল) বরলাস। যিনি সম্রাট তৈমুরের পিতৃব্য ছিলেন।

মজার ব্যাপার হল, মির্যা সাহেব নিজের বংশধর ‘মোঘল বরলাস’ বলে নিজেও লিখে গেছেন। দেখুন ‘রূহানী খাযায়েন’ খন্ড নং ১৩ পৃষ্ঠা নং ১৬২। এখানে কী বলবেন? যিনি নিজেই নিজেকে ‘মোঘল’ বংশধর বলছেন তিনি তার বিপরীতে পারস্যবংশীয় হওয়ার দাবী কিভাবে করতে পারেন? অথচ মোঘল [তুর্কী] আর পারস্য দুটি ভিন্ন ভিন্ন দুই জাতি।

(৬) মির্যা সাহেব নিজেকে কোথাও চায়নিজ বংশীয় (রূহানী খাযায়েন ১৭/১২৭), কোথাও ফাতেমী বংশীয় আবার ইসরাইলী বংশীয় (রূহানী খাযায়েন ১৮/২১৬); কোথাও পারস্যবংশীয় (রূহানী খাযায়েন ১৩/১৬৩) বলেও লিখে গেছেন।

তাই আমার প্রশ্ন হল, এমন পাঁচমিশালি বংশীয় তথাকথিত মসীহ সাহেবের প্রকৃত বংশ পরিচয় একসাথে কি সবগুলোই?

  • সম্পূর্ণ লিখাটি আমার ফেইসবুক পেইজ থেকে কপি করুন!

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ঈসা (আ:) কি কাশ্মীরে এসেছিলেন?

ঈসা (আ:) কি কাশ্মীরে এসেছিলেন??

(সূরা মুমিনুন, আয়াত ৫০) ‘এবং আমি মরিয়ম পুত্র (ঈসা) ও তাঁর মাকে করেছিলাম এক নিদর্শন। তাঁদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এক নিরাপদ ও প্রস্রবণবিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে।’

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা : উক্ত আয়াতে ঈসা এবং তাঁর মা মরিয়মকে আল্লাহর ক্ষমতার এক নিদর্শন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা আল্লাহতায়ালা মরিয়মকে বিনা স্বামীতে গর্ভবতী করে ঈসা (আ.)-কে বিনা পিতায় সৃষ্টি করেছেন যা আল্লাহতায়ালারই ক্ষমতার অন্যতম এক নিদর্শন। তারপর আয়াতটিতে রাবওয়াহ (উচ্চভূমি) শব্দও উল্লেখ রয়েছে। যার অর্থ এমন উচ্চভূমি যা সমতল এবং আশপাশের এলাকা থেকে উঁচু। এটি বায়তুল মুকাদ্দাসেরই একটি স্থানকে বুঝানাে হয়েছে। আরেকটি শব্দ এসেছে ‘মা’ঈন’ (বহমান ঝর্ণা) । আরবীতে মা’ঈন বলতে সেই ঝর্ণাকে বুঝানাে হয়েছে যা মহান আল্লাহ ঈসা (আ.)-এর জন্মের সময় মরিয়ম (আ.)-এর পদতলে অলৌকিকভাবে প্রবাহিত করেছিলেন যেমনটি সূরা মরিয়মে (১৯:২৪) উল্লেখ রয়েছে। আয়াতের আরবী, فَنَادَاهَا مِن تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا অর্থ, ‘অত:পর তিনি (জিবরাইল) তাঁকে (মরিয়ম) তাঁর নিম্ন দিক (-এর পাহাড়ের পাদদেশ) থেকে আহবান করে বললেন, তুমি চিন্তিত হয়ো না। তোমার প্রভু তোমার (পদতলে) নিচ দিয়ে একটা বহমান ঝর্ণা সৃষ্টি করে দেবেন।’ তাফসিরে ইবনে কাসীর। কিতাবটি পড়তে ক্লিক করুন

এখানে বলে রাখা জরুরি, সূরা মরিয়মের ২৩ নং আয়াত সাক্ষী, উক্ত নিরাপদ ও প্রস্রবণ বিশিষ্ট উচ্চভূমিতে তাঁদের দু’জনের আশ্রয়-মুহূর্তে বিবি মরিয়ম (আ:) গর্ভবতী ছিলেন। ফলে প্রসব-বেদনার দরুন তিনি জেরুজালেমের নিকটস্থ উঁচু ও সমতল কোনাে নিরিবিলি জায়গায় খেজুর গাছের কান্ডের কাছে চলে গিয়েছিলেন।

নাতি-দীর্ঘ বিশ্লেষণ : এই পর্যায় আয়াতটির রাবওয়াহ এবং মা’ঈন শব্দদুটি নিয়ে একটু কথা বলব। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে যাহহাক (রহ.) বর্ণনা করেন যে, রাবওয়াহ বলা হয় ঐ উঁচু ভূমিকে যা সবুজ-শ্যামল ও কৃষি কাজের উপযােগী (দুররে মানছুর ৬/১০০)। হযরত মুজাহিদ, ইকরিমাহ, সাঈদ ইবনে যােবাইর এবং কাতাদাহ প্রমুখও অনুরূপ বলেছেন (তাফসীরে তাবারী ৫/৫৩৬-৩৭)। মা’ঈন সম্পর্কে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, এটি হল ভূমির উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পানির প্রবাহ (তাফসীরে তাবারী ১৯/৩৮)।

মুজাহিদ, ইকরিমাহ, সাঈদ ইবনে যােবাইর এবং কাতাদাহ প্রমুখও অনুরূপ বলেছেন। সে যাইহােক আয়াতে রাবওয়াহ বলে প্রকৃতপক্ষে আরবের কোন স্থানটিকে বুঝানাে উদ্দেশ্য সে সম্পর্কে তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে এখানে উল্লেখ করছি। তাফসীরে তাবারীর (১৯/৩৭) মধ্যে ইবনে আবী হাতেম হতে হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব (রহ.) এর সূত্রে জায়গাটির নাম ‘দামেস্ক’ উল্লেখ আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম, হাসান বসরী, যায়িদ ইবনে আসলাম এবং খালিদ ইবনে মাদানও প্রায় অনুরূপ বলেছেন। লাইস ইবনে আবী সুলাইম (রহ.) তিনি মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন, আয়াতাংশে ঈসা (আ.) এবং তাঁর মা মরিয়ম দামেস্কের [বর্তমান জেরুজালেম দামেস্কের প্রাচীন ভৌগোলিক সীমানারই অন্তর্ভুক্ত – লিখক] কোনাে এক সমতল ভূমিতে আশ্রয় নেয়ার কথাই বলা হয়েছে (দুররে মানছুর ৬/১০০)। আব্দুর রাজ্জাক (রহ:)-এর ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে হযরত আবু হােরায়রা (রা.) হতে ফিলিস্তিনের ‘রামাল্লা’ এলাকার কথা বলা হয়েছে।

তবে সব চেয়ে বেশি নির্ভরযােগ্য যে বিবরণ পাওয়া যায় তা হল, ইবনে আব্বাস (রা.) হতে প্রাপ্ত আল আউফী’র বর্ণনা। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, আয়াতের অর্থ হচ্ছে প্রবাহিত পানি এবং ঐ ঝর্ণা যা “ক্বদ জা’আলা রাব্বুকি তাহতাকি ছারিইইয়া” অর্থাৎ তােমার প্রভু তােমার পদতলে একটি ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন (সূরা মরিয়ম/১৯:২৪) আয়াতে আল্লাহতায়ালা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এটা হল জেরুজালেম (ফিলিস্তিন) এর একটি স্থান। তবে এই আয়াতটি যেন ঐ আয়াতেরই তাফসীর। আর পবিত্র কুরআনের তাফসীর প্রথমত: কুরআন দ্বারা, তারপর হাদীস দ্বারা এবং এরপর আছার (বিশেষজ্ঞ সাহাবীদের তাফসীর) দ্বারা করা উচিত (তাফসিরে ইবনে কাসীর, সূরা মুমিনুল আয়াত নং ৫০ এর তাফসীর অংশ দ্রষ্টব্য) । উল্লেখ্য, জেরুজালেম প্রাচীন যুগের শাম বা দামেস্কের ভৌগােলিক সীমানারই অংশ বিশেষ।

  • একটি হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা.) ‘রাবওয়া’ শব্দ হতে ফিলিস্তিনের “রামাল্লাহ” শহরকেই উদ্দেশ্য নিয়েছিলেন। এইভাবে আরো দলিল প্রমাণ সহ জানতে ক্লিক করুন এখানে। ক্লিক

শেষকথা : পবিত্র কুরআনে পরিষ্কারভাবে জায়গার নাম উল্লেখ না থাকায় বিশেষজ্ঞ যুগ ইমামগণের মাঝে ‘রাবওয়াহ’ বলতে জেরুজালেমের কোন স্থানকে বুঝানো উদ্দেশ্য তা নিয়ে মতানৈক্য হয়ে যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সবাই একমত যে, উল্লিখিত আশ্রয় লাভের ঘটনা হযরত ঈসার (আ.) ভুমিষ্টকালীন সময়েই ঘটেছিল এবং সেটি আরবের কোনাে এক স্থানেই। তবে সব চেয়ে নির্ভরযােগ্য বর্ণনামতে এমনকি ইবনে আব্বাস হতে অন্য আরেকটি সূত্রে সেই স্থানটি জেরুজালেমের (বর্তমান ফিলিস্তিন) রামাল্লা নামক স্থানই ছিল। রাসূল (সা.) হতে মারফূহ সূত্রে এটি প্রমাণিতও বটে। হাদীসটির স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

সুতরাং মির্যা কাদিয়ানী আর তার অনুসারীদের দাবী : উক্ত আয়াতে ঈসা (আ.) আর তাঁর মা মরিয়ম কাশ্মীরে আগমন করার কথাই বলা হয়েছে, এটি সর্বান্তকরণে মিথ্যা, অপব্যাখ্যা ও পবিত্র কুরআনের নিকৃষ্টতম বিকৃতির শামিল। কেননা তখন প্রশ্ন আসবে, তবে কি ঈসা (আ.) ভারতের কাশ্মীরেই ভূমিষ্ট হয়েছিলেন? আরাে প্রশ্ন আসবে, বিবি মরিয়ম তিনি ঈসা (আ.)-কে প্রসব করার জন্য আপনা বসতি থেকে প্রায় ৪৬৬০ কিলােমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সুদূর ভারতের কাশ্মীরে কিভাবে গেলেন আর কেনই বা যাবেন? ভাবিয়ে তুলে কিনা!

আশাকরি কাদিয়ানী সম্প্রদায় মির্যা কাদিয়ানীর ন্যায় একজন সিজোফ্রেনিয়া রুগীর যতসব উদ্ভট দর্শন নিয়ে শেষবারের মত ভেবে দেখবেন। মির্যা কাদিয়ানীর সিজোফ্রেনিয়া রোগ থাকা সম্পর্কে এখানে পড়ুন

  • সম্পূর্ণ লিখাটি আমার ফেইসবুক পেইজ থেকে পড়ুন!

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

‘ক্বদ খালাত মিন কবলিহির রসুল’ সম্পর্কে – পর্ব ২

অত্র বিষয়ে আর্টিকেল নং ১

অত্র বিষয়ে আর্টিকেল নং ৩

‘ক্বদ খালাত মিন কবলিহির রসুল’ এর সঠিক তাৎপর্য ও কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যে কিছু প্রশ্ন :

সূরা আলে ইমরান এর যে আয়াতটির অপব্যাখ্যা দিয়ে কাদিয়ানী সম্প্রদায় হযরত ঈসা (আ.)-কে মৃত সাব্যস্ত করতে চায় সেটির সঠিক তাৎপর্য নিয়ে আজকে ২ নং আর্টিকেল নিয়ে লিখতে বসছি। এই পর্যায় অত্র আর্টিকেলে যে কয়টি পয়েন্ট নিয়ে লিখব,

  • ১. আয়াতটির من قبله الرسل এর الرسل শব্দের অনুবাদ স্বয়ং কাদিয়ানীদেরই কোনো কোনো লিটারেচারে ‘বহু রাসূল‘ মর্মে গ্রহণ করা!
  • ২. আয়াতটির الرسل এর মর্মার্থে ‘শর্ত প্রযোজ্য‘-এর রীতি না মানলে যে সমস্ত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে এবং যে সমস্ত প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর দেয়া সম্ভব হবেনা!

হেকিম নূরউদ্দিন এর বই থেকে :

আমরা মুসলিম উম্মাহা উক্ত আয়াতটির যেরূপ অর্থ গ্রহণ করে থাকি হুবহু সেই অর্থই গ্রহণ করেছেন কাদিয়ানী খলীফা হেকিম নূরুউদ্দীনও। তার উর্দূ গ্রন্থ থেকে বাংলায় অনুবাদটি এইরূপ, (অর্থ) ‘মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র; তাহার পূর্বে বহু রাসূল গত হইয়াছে।’ (কুরআন ০৩:১৪৪)। বলাবাহুল্য, হেকিম নূরউদ্দীন ‘আর-রসুল’ (الرسل) হতে ‘বহু রাসূল’ (بہت رسول) অর্থ নিয়েছেন। (দেখুন, ফাছলুল খিতাব লি-মুকাদ্দিমাতি আহলিল কিতাব [উর্দূ] পৃষ্ঠা ২৮; রচনা ১৮৮৭-৮৮ইং দ্রষ্টব্য)। সুতরাং বুঝতেই পারছেন যে, তিনিও আয়াতটির الرسل এর শুরুতে যুক্ত ال-কে ‘আহদে খারেজি’ হিসেবেই মনে করতেন। ফলে আয়াতটির الرسل এর অর্থে শর্ত প্রযোজ্য হবার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। স্ক্রিনশট :-

বইটি মির্যা কাদিয়ানীর তত্ত্বাবধানে লিখা :

এখানে বলে রাখতে চাই, হেকিম সাহেব বইটি জম্মুর মহারাজার রাজপুত্রকে চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে পুঞ্চে অবস্থানকালে খ্রিস্টানদের রদ করতে লিখেছিলেন। বইটি লিখার সময় তিনি সকল বিষয়ে মির্যা কাদিয়ানীর পরামর্শ চাইতেন। একথা লিখা আছে ‘হযরত মৌলভী নূরউদ্দীন (রা.) খলীফাতুল মসীহ আউয়াল’ নামীয় পুস্তকের ৭৪-৭৫ পৃষ্ঠায়।

ইস্তিগরাকি অর্থেও শর্ত প্রযোজ্য বিধানযোগ্য :

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতাসহ তার বেশিরভাগ অনুসারী, قد خلت من قبله الرسل (তাঁর পূর্বে রাসূলগণই গত হইয়া গিয়াছেন) এর মধ্যকার الرسل -এর ال-কে ইস্তিগরাকি (ব্যাপক অন্তর্ভুক্তকারী) ধরে অর্থ করে থাকেন ‘সমস্ত রাসূল’ বা ‘সব রাসূল’। অথচ তাদের এই অনুবাদ নানা শক্তিশালী কারীনার বিরুদ্ধে যাওয়ায় সুস্পষ্ট ভুল।

পরন্তু তাদের এই ধরণের কনসেপ্ট উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের স্বতসিদ্ধ উসূল তথা নিয়ম-নীতির পুরোপুরি বিরোধী। বরং তাদের নিয়ম-নীতি পরিপন্থী এই ধরনের উদ্দেশ্যমূলক অর্থ ও ব্যাখ্যা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকবে। এই সম্পর্কে একটু পরেই লিখা হবে, ইনশাআল্লাহ। তাদের জন্য দুঃসংবাদ হল, তাদের এই মনগড়া অর্থ হেকিম নূরউদ্দিনের উল্লিখিত অনুবাদ এমনকি একখানা উসূলেরও সম্পূর্ণ বিরোধী। তা এই যে,

হেকিম নূরউদ্দিন সাহেব কৃত ‘তাসদীকে বারাহীনে আহমদীয়া’ পুস্তকটির ১০৪ নং পৃষ্ঠায় চমৎকার একটি উসূল (নীতিমালা) উল্লেখ আছে এভাবে যে,

الف و لام اگرچہ عموم اور استغراق کے معنی بھی دیتا ہے مگر خصوصیت کے معنی بھی دیتا ہے- ہر دو معنی اپنے اپنے موقع پر لے جاتے ہیں

অর্থাৎ ‘আলিফ লাম যদিও আম এবং ইস্তিগরাকের অর্থও প্রদান করে কিন্তু শর্ত প্রযোজ্য অর্থও প্রদান করে থাকে। উভয় অর্থ যথোপযুক্ত স্থানে গ্রহণ করা হবে।’ (তাসদীক বারাহীনে আহমদীয়া – ১০৪; অনলাইন এডিশন)। এখন তাহলে আপনাদেরই দাবী অনুসারে الرسل-এর আলিফ লাম ‘ইস্তিগরাকি’ হলেও সেখানে এখন শর্ত প্রযোজ্য এর বিধান প্রয়োগের সুযোগ থাকল না কিভাবে? স্ক্রিনশট –

মির্যা বশির উদ্দিন এর রচনা থেকে :

মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ সাহেব তার পিতা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর কথিত একখানা ইলহামের ব্যাখ্যা করেছেন নিম্নরূপ, (উর্দূ)

آسمان سے کئ تخت اترے پر تيرا تخت (رسول ص پاک کے بعد) سب سے اوپر بچھایا گیا

অর্থাৎ ‘আকাশ থেকে কয়েকটি সিংহাসন নাযিল হয়েছে। কিন্তু তোমার সিংহাসনটি (রাসূলেপাকের পর) সবার উপরে পাতা হয়েছে।’ (আল-ফজল, তারিখ ১৯ই আগস্ট ১৯৬১ ইং রাবওয়া হতে প্রকাশিত)। 

মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ ‘সবার উপরে‘ শব্দটিতে ইস্তিগরাকের অর্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি এখানে ‘তাখছীছ’ এর বিধান প্রয়োগ করলেন কিভাবে যদি না শর্ত প্রযোজ্যের নিয়ম না থাকবে?

তিনি কিন্তু বিশেষভাবে একজনকে ‘সবার উপরে’ অর্থের ব্যাপকতার বাহিরে রেখেছেন। তিনি এর মধ্য দিয়ে যেন বুঝাতে চাইলেন, ইস্তিগরাকি অর্থেও শর্ত প্রযোজ্যের নিয়ম বিধানযোগ্য। এটি স্ক্রিনশট সহ ৩ নং আর্টিকেল থেকে দেখে নিন!

  • এবার আলোচনা করা হবে যে, আলিফ লাম-কে ইস্তিগরাকি ধরে অনুবাদ করার ফলে কাদিয়ানী সম্প্রদায় কী কী প্রশ্নের সম্মুখীন হবে?

কে জানি প্রশ্ন করেছিল যে, পুরো আয়াতখানা পড়ে দেখুন, শেষে উল্লেখ আছে, أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ এতে বোঝা যাচ্ছে, এখানে ‘খালাত’ অর্থ মৃত্যু বা হত্যা। এ দুই অর্থের সাথেই শব্দটি নির্দিষ্ট। উত্তরে বলতে চাই যে, এই আয়াতের قد خلت ফে’লকে প্রকৃত অর্থ থেকে বের করে রূপক অর্থে তথা ‘মৃত্যু’ অর্থে গ্রহণ করলে তখন শব্দটির নিজেস্ব গুণাগুণ তথা ইশতিরাক্ব (অর্থের দ্বৈততা) আর অবশিষ্ট থাকেনা। তাছাড়া আয়াতটির أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ এর মৃত্যু আর হত্যা উভয়টাই শুধুমাত্র রাসূল (সা.)-এর উদ্দেশ্যেই ছিল বলে ‘খাস’ এর হুকুমে নিহিত। যার ফলে এগুলোকে ‘আম’ অর্থে ধরে নতুন কোনো ব্যাখ্যার পিছু নেয়া সুস্পষ্ট দুষ্টুমি ও নীতিবিরুদ্ধ বৈ কিছুই না।

যে প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর নেই :

১। সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ১৪৪ এর من قبله الرسل এর الرسل এর মর্মার্থে শর্ত প্রযোজ্যের নিয়ম মেনে অর্থ ও ব্যাখ্যায় যাওয়া আবশ্যক। যেহেতু পবিত্র কুরআনের অপরাপর আয়াত সমূহ দ্বারা বুঝা যায় যে বহু রাসূল এখনো জীবিত। যেমন, সূরা নিসা আয়াত নং ৫৪, আলে ইমরান আয়াত নং ৪৬, সূরা তওবাহ আয়াত নং ৩৩, সূরা মায়েদা আয়াত নং ১১০, সূরা যুখরুফ আয়াত নং ৬১ ইত্যাদি আয়াত সমূহের সুস্পষ্ট ইংগিত দ্বারা হযরত ঈসা রাসূলুল্লাহ (আ.) জীবিত প্রমাণিত। সূরা মরিয়াম আয়াত নং ১৯ দ্বারা হযরত জিবরাঈল (আ.) রাসূল নামে আখ্যায়িত। সূরা হাজ্জ আয়াত নং ৭৫ দ্বারা আরও বহু ফেরেশতা রাসূল নামে আখ্যায়িত। এই সম্পর্কে আর্টিকেল নং ৩ দেখা যেতে পারে। এখন প্রশ্ন হল, قد خلت من قبله الرسل শীর্ষক আয়াতে ‘সমস্ত রাসূল’ গত হইয়া গিয়াছে বলে ‘সমস্ত রাসূল’-ই মৃত্যুবরণ করেছেন- এই উদ্দেশ্য হলে তখন কি উল্লিখিত রাসূলগণকেও মৃত বলা হল না? অথচ এদের সকলেই এখনো জীবিত!

২। সূরা মায়েদা আয়াত নং ৩ (حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ) “তোমাদের উপর মৃত, রক্ত এবং শুয়োরের মাংস হারাম করা হয়েছে”- দ্বারা সমস্ত ‘মৃত জন্তু’-এর মধ্যে মৃত মাছও অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল কিনা? এখন কাদিয়ানীরা যদি এই সমস্ত ক্ষেত্রে হাদীসের বর্ণনাগুলোর আলোকে আয়াতের এই সমস্ত অর্থে শর্ত প্রযোজ্যের নিয়ম না মানেন তাহলে তাদের পক্ষে মৃত মাছ খাওয়াও বৈধ হয় কিভাবে? কেননা ‘সমস্ত মৃত’ বলতে ‘মৃত মাছ’-ও তার মধ্যে শামিল। এবার শর্ত প্রযোজ্য-এর নিয়ম লঙ্ঘন করে মৃত মাছ খাওয়া হালাল করুন! উল্লেখ্য, যারা মনে করেন যে, কুরআন দ্বারা যে কথা সাব্যস্ত হবে সেটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য হাদীসে যাওয়ার দরকার নেই, তারা এই জিজ্ঞাসার কী সমাধান দেবেন!

৩। সূরা আল ফাতির আয়াত নং ২৮ (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ) “নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমগণই তাঁকে ভয় করে”- দ্বারাও সুস্পষ্ট প্রমাণিত যে, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তাঁকে প্রকৃতপক্ষে ভয় করেন আলেমগণই। কিন্তু আমরা সচরাচর দেখি যে, কাদিয়ানী সম্প্রদায় কথায় কথায় আলেম উলামাকে ‘আকাশের নিচে নিকৃষ্ট জীব’ বলে কটুক্তি করে থাকে। অথচ আয়াতটিতে আলেমদের সম্পর্কে আল্লাহতালার উক্ত প্রশংসা বাণী الْعُلَمَاءُ (আল-উলামা) বহুবচনাত্মক শব্দেই এসেছে। ফলে সমস্ত আলেমই উক্ত শব্দে শামিল হওয়াতে একজন আলেম সম্পর্কেও কটুক্তি করার কোনো সুযোগ থাকেনি কাদিয়ানীদের জন্য, যে পর্যন্ত না শর্ত প্রযোজ্যের নিয়ম তারা মানবে! এখন এর সুরাহা কিভাবে করবেন?

৪। সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ১৮১ (سَنَکۡتُبُ مَا قَالُوۡا وَ قَتۡلَہُمُ الۡاَنۡۢبِیَآءَ بِغَیۡرِ حَقٍّ) “অচিরেই আমি তারা যা বলেছে তা এবং নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করার বিষয় লিখে রাখব”- দ্বারাও বাহ্যত সুস্পষ্ট প্রমাণিত যে, বনী ইসরাঈলি সমস্ত নবী তাদের হাতে হত্যা হয়েছেন। কারণ আয়াতে শব্দটি বহুবচনে الْأَنبِيَاءَ (আন আম্বিয়া) এসেছে। এখন এক্ষেত্রেও শর্ত প্রযোজ্য নিয়ম না মানার অর্থই হল, ইয়াকুব, ইউসুফ, শু’আইব, আইয়ুব, মূসা এবং ঈসা (عليهم السلام) সহ সমস্ত ইসরাঈলী নবীকে হত্যা করা হয়েছিল বলেই বিশ্বাস করতে হবে। এখন এর কিভাবে সমাধান করবেন?

৫। সূরা আল-হুজুরাত আয়াত নং ১৩ (يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ) “হে মানবমন্ডলী! নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি”- দ্বারাও বাহ্যত সুস্পষ্ট প্রমাণিত যে, সমস্ত মানুষের ন্যায় হযরত আদম, হাওয়া এবং ঈসাও একই নর এবং নারী হতে সৃষ্ট। আসলে কি তাই? নিশ্চয়ই না। বরং এখানে শর্ত প্রযোজ্য এর নিয়ম মেনে বিশ্বাস করতে হবে যে, এঁদের তিনজনই কুরআনের উক্ত ঘোষণার (مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ) তথা একজন নর এবং নারী থেকে সৃষ্টির প্রচলিত নিয়মের অন্তর্ভুক্তির বাহিরে। এখন কাদিয়ানীরা কি শর্ত প্রযোজ্য এর নিয়ম লঙ্ঘন করে এখানেও সমস্ত মানুষকে একই নর নারী থেকে সৃষ্ট বলবে?

৬। সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ১৮৫ (كُلُّ نَفْسٍۢ ذَآئِقَةُ ٱلْمَوْتِ) অর্থাৎ ‘প্রতিটি নফসকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে’ দ্বারা সকল নফস বা সত্তা মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবেই। অথচ এখানেও ‘শর্ত প্রযোজ্য‘-এর নিয়ম বিধানযোগ্য। অন্যথা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতালাকেও মরণশীল বিশ্বাস করতে হয়, যেহেতু সূরা আল মায়েদার আয়াত নং ১১৬ (تَعۡلَمُ مَا فِي نَفۡسِي وَلَآ أَعۡلَمُ مَا فِي نَفۡسِكَۚ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّٰمُ ٱلۡغُيُوبِ)-এর মধ্যে আল্লাহ’র জন্যও ‘নফস‘ শব্দ ব্যবহার হয়েছে। এখন কাদিয়ানীরা কি আল্লাহকেও মরণশীল বলবে? নাউযুবিল্লাহ।

৭। তর্কের খাতিরে মানলাম যে, আয়াতটির الرسل হতে ‘সমস্ত রাসূল মৃত্যুবরণ করেছে’ এ অর্থই সঠিক; এমতাবস্থায় আপনারা সূরা মায়েদার ৭৫ নং আয়াতের ‘الرسل’ হতেও কি ‘সমস্ত রাসূল মৃত্যুবরণ করেছে’—এমন অর্থ নেবেন? যদি এমন অর্থ নেন তখন কি মুহাম্মদ (সা:)-এর নবুওয়ত ও রেসালতেরও অস্বীকার করা হল না? কেননা যদি বলা হয় যে, মসীহ ইবনে মরিয়মের পূর্বেই সমস্ত রাসূল মৃত্যুবরণ করিয়াছেন, তখন মসীহ (আ:)-এর পর আগমনকারী মুহাম্মদে আরাবী (সা:)-কে আপনারা একজন রাসূল হিসেবে কিভাবে স্বীকার করলেন?

বলে রাখা দরকার যে, আয়াতটির মধ্যে قبل শব্দটি মুদাফ (مضاف)। আর ব্যাকরণের একটি নিয়ম হল, মুদাফ-এর অর্থ নেয়ার ক্ষেত্রে ‘র’ কিংবা ‘এর’ ধরণের ষষ্ঠী বিভক্তি উল্লেখ থাকতে পারবেনা। কাজেই কাদিয়ানী নেতা জনাব আব্দুল আউয়াল সাহেব কর্তৃক গৃহীত অনুবাদ – তাঁর পূর্বেকার সমস্ত রাসূল গত হইয়া গিয়াছে‘ – ব্যাকরণ বিরুদ্ধ ও পরিত্যাজ্য। অথচ এক্ষেত্রে ব্যাকরণসিদ্ধ অনুবাদ হল – তাঁর পূর্বে। শব্দের শেষাংশে ‘র’ বিভক্তি থাকবেনা। যেমন, يد الله على الجماعة ; فوق كل ذى علم عليم ; رسول الله اسوتنا ; এখানে যথাক্রমে يد; فوق এবং رسول শব্দগুলো নিজ নিজ বাক্যে মুদাফ (مضاف) হওয়ায় অনুবাদের ক্ষেত্রে এগুলোতে “” বা “এর” ধরণের ষষ্ঠী বিভক্তি উল্লেখ ছাড়া অনুবাদ হবে এভাবে – আল্লাহর সাহায্য জামাতের উপর; প্রত্যেক জ্ঞানীর উপর জ্ঞানী আছে; আল্লাহর রাসূল আমাদের আদর্শ। অনুরূপ من قبله الرسل এর من قبله -তে অনুবাদ করতে হবে ‘তার পূর্বে‘। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।

ঈসা (আ.) জীবিত ও ইজমা প্রতিষ্ঠা :

উক্ত আয়াত দ্বারা ঈসা (আ:) বেঁচে নেই, মৃত্যুবরণ করিয়াছেন মর্মে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে, এমন ধারণা যাদের, তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই যে, বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকারক বরেণ্য স্কলার ও যুগ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ঈসা (আ.)-এর সশরীরে আকাশে জীবিত থাকা মর্মে (انه رفعه بدنه حيا) ‘আন্নাহু রাফা’আহু বি-বাদানিহি হাইয়ান’ অর্থাৎ আল্লাহতালা নিশ্চয়ই তাঁকে সশরীরে জীবিত উঠিয়ে নিয়েছেন, কেন লিখে গেলেন? (রেফারেন্স, ইবনে হাজার রচিত ‘আত-তালখীছুল হাবীর’ কিতাবুত তালাক, খন্ড ৩ পৃষ্ঠা ৪৬২)। তেমনিভাবে শায়খ ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) তিনিও বা কেন লিখলেন যে (واجمعت الامة على ان الله عز و جل رفع عيسى اليه الى السماء) ‘ওয়াজমা’আতুল উম্মাতু আ’লা আন্নাল্লাহা আ’জ্জা ওয়া জাল্লা রাফা’আ ঈসা ইলাইহি ইলাস-সামায়ি’ অর্থাৎ উম্মতে মুহাম্মদীয়া এইমর্মে সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছেন যে, নিশ্চয় আল্লাহতালা ঈসা (আ:)-কে নিজের নিকট আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন? (রেফারেন্স, ইমাম ইবনে তাইমিয়া রচিত ‘বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যা’ ৪/৪৫৭)। কিতাবটি ডাউনলোড করুন

এরা দুইজনও স্বীকৃত মুজাদ্দিদ :

ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী আর শায়খ ইবনে তাইমিয়াহ তারা দুইজনই মির্যা কাদিয়ানীর নিকটেও মুজাদ্দিদ ও যুগ ইমাম হিসেবে স্বীকৃত। (দেখুন, মির্যা কাদিয়ানীর শিষ্য মির্যা খোদাবক্স কাদিয়ানী রচিত ‘আছলে মুছাফফা’ [উর্দূ] খন্ড ১ পৃষ্ঠা নং ১৪২-৪৫; প্রথমপ্রকাশ ১৯০১ইং, কাদিয়ান থেকে)। স্ক্রিনশট –

মুজাদ্দিদ সম্পর্কে মির্যার দৃষ্টিভঙ্গি :

মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেন, মুজাদ্দিদগণ দ্বীনের মধ্যে কোনোরূপ বেশকম করেননা বরং হারানো দ্বীন পুন: প্রতিষ্ঠা করে থাকেন। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ৬/৩৪৪) স্ক্রিনশট দেখুন। এখন এর সুরাহা কিভাবে করবেন?

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ওয়াহদাতুল উজূদ এর সঠিক ব্যাখ্যা

ওয়াহদাতুল উজূদ (وحدةالوجود) এর ব্যাখ্যা কী? ওয়াহদাতুল উজূদের আক্বীদা কি সঠিক?

ওয়াহদাতুল উজূদের দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে। যার একটি সঠিক অপরটি ভুল।

প্রথম ব্যাখ্যাটি হলো : আল্লাহ তা’আলার অস্তিত্বই একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাঁর সামনে পুরো জগতের অস্তিত্ব এতটাই অসম্পূর্ণ, যেনো তা অস্তিত্বহীন। যেমন বলা হয় অমুক বড় আলেমের সামনে অমুক সাধারণ ব্যক্তি তো কিছুই না। সূর্যের সামনে মোমবাতির আলো অস্তিত্বহীন। অথবা যেমন বলা হয় সমুদ্রের বিশাল অস্তিত্বের সামনে তার মাঝে বিদ্যমান ক্ষুদ্রাকৃতির ফেনাগুলোর যেনো কোনো অস্তিত্বই নেই।

ঠিক আল্লাহ তা’আলার অস্তিত্বের সামনে পুরো জগতকে সুফিয়ায়ে কেরাম তেমনই অস্তিত্বহীন ভাবেন। এর অর্থ এই নয় যে, কোনো জিনিসের অস্তিত্বই নেই। বরং এর অর্থ হলো, আল্লাহ তা’আলার অস্তিত্বই একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ। অন্যদের অস্তিত্ব আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টির দ্বারা সৃষ্ট। স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।

ওয়াহদাতুল উজূদের এ ব্যাখ্যাটি সঠিক। এটাই সুফিয়ায়ে কেরাম ও দেওবন্দীদের আক্বীদা।

দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি হল : ওয়াহদাতুল উজূদের দ্বিতীয় আরেকটি ব্যাখ্যা এমন করা হয় যে, আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কারো কোনো ধরণের অস্তিত্বই নেই। সব কিছুর মধ্যেই আল্লাহ তা’আলা হুলূল করে আছেন। যেটা হিন্দুদের সর্বেশ্বরবাদের বিশ্বাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ওয়াহদাতুল উজূদের এ দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি ভুল। শুধু ভুল নয় বরং এ আক্বীদা কোনো মুসলিম পোষণ করতে পারেন না।

দুঃখের বিষয় হলো, কিছু ভাইয়েরা ওয়াহদাতুল উজূদের এই ভুল ব্যাখ্যাটি দিয়ে সুফিয়ায়ে কেরাম এবং ওলামায়ে দেওবন্দের উপর অপবাদ দিয়ে থাকে। যা তাদের মূর্খতা ও অজ্ঞতার প্রমাণ। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন।

লিখক, মুফতী শফী কাসেমী

মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রহঃ)-এর নামে কাদিয়ানীদের মিথ্যাচারের জবাব

0
  • মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রহঃ)-এর নামে কাদিয়ানীদের মিথ্যাচারের জবাব

প্রশ্ন : ইমামে রাব্বানী সাইয়িদ আহমদ সারহিন্দী (রহঃ) এর কিতাবে কি লেখা আছে যে, শেষ যুগে আলেমগণ ইমাম মাহদীকে গ্রহণ করতে চাইবেনা?

জবাব : আপনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। অপ্রিয় হলেও সত্য, কাদিয়ানীরা ইমামে রাব্বানী সাইয়িদ আহমদ সারহিন্দী (রহঃ)-এর প্রতি নিজেদের কথাকেই তাঁর কথা বলে চালিয়ে দেয় মূলত মির্যা কাদিয়ানীর “ইমাম মাহদী” দাবীকে হালাল করার জন্য। নিচে মুজাদ্দিদে আলফে সানী’র খণ্ডিত বক্তব্যের উপর তাদের অতিব খেয়ানতপূর্ণ মন্তব্যের খন্ডন করা হল!

প্রিয়পাঠক! প্রথমে মুজাদ্দিদ সাহেবের নাম ভেঙ্গে প্রচারিত কাদিয়ানীদের লেখাটি পড়ুন। জনৈক কাদিয়ানী মতাবলম্বী লিখেছেন :

“হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ.)-কে আরব অঞ্চলের (নামধারী) উলামাগণ গ্রহণ করেন না কেন? বার’শ শতাব্দীর মুজাদ্দেদ হযরত শায়খ আহমদ সারহিন্দী (রহঃ) লিখেছেন: “বর্ণিত আছে, হযরত মাহদী রাযিআল্লাহু আনহু তাঁর রাজত্ব কালে যখন ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং সুন্নতকে সঞ্জীবিত করবেন, তখন মদীনার আলেম যে কি-না বেদাতের উপর আমল করা নিজ অভ্যাসে পরিণত করেছে এবং এটি (বেদাত)-কে ধর্মের অংশ বানিয়েছে, আশ্চার্যান্বিত হয়ে বলবে, এই ব্যক্তি আমাদের ধর্মকে দূরে ঠেলে দিয়েছে আর আমাদের ধর্ম ও মিল্লাতকে হত্যা এবং বিনষ্ট করেছে।” (মাকতুবাতে ইমাম রাব্বানী, মাকতুবাত নং-২৫৬, উর্দূ তরজমা, ২য় খণ্ড)।

(উক্ত কাদিয়ানী উম্মত তিনি মুজাদ্দিদ সাহেবের খন্ডিত বক্তব্যের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে তারপর লিখেছেন) অর্থাৎ আরব অঞ্চলের ‘নামধারী আলেমগণ’ ইমাম মাহদীর বিরোধীতা করবে তা বুযুর্গানে দ্বীন জানতেন। আর আজ তাই ঘটছে।” (কাদিয়ানিদের লেখাটি শেষ হল)।

  • এবার খন্ডনমূলক আলোচনা :

হিজরী দশম শতাব্দীর বরেণ্য মুজাদ্দিদ ইমামে রাব্বানী সাইয়েদ আহমদ সারহিন্দী (রহঃ) এর সম্পূর্ণ বক্তব্য সামনে রাখলে আপনি একজন নিরপেক্ষ পাঠক হিসেবে বুঝতে পারবেন যে, মির্যা কাদিয়ানী আর তার অন্ধভক্তরা কিভাবে সাতপাঁচ ব্যাখ্যা করে আত্মপ্রসাদ লাভ করে থাকেন! কিভাবে তারা সম্পূর্ণ বক্তব্যের আগপাছ বাদ দিয়ে খন্ডিত বক্তব্য দ্বারা অশিক্ষিত ও সহজ সরল আহমদীদের বোকা বানিয়ে যাচ্ছেন!!
এবার ইমামে রাব্বানীর লেখা থেকে যেসব বিষয় পরিষ্কার হচ্ছে তা নিচে দেখানো হল-

(১) ইমামে রাব্বানীর বক্তব্য দ্বারা পরিষ্কার হচ্ছে যে, প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী শাসক হবেন। কারণ ইমামে রব্বানি (রহঃ) তার বক্তব্যে “সুলতানত” শব্দ উল্লেখ করেছেন। অভিধান দেখুন, সুলতানত অর্থ বাদশাহি।

(২) ইমামে রাব্বানী (রহঃ) এর বক্তব্যের ভেতর তিনি ইমাম মাহদীর নামের শেষে “রাদ্বিয়াল্লাহ আনহু” শব্দ উল্লেখ করেছেন। এতে বুঝা গেল, প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী যিনি হবেন তিনি স্রেফ একজন মুজাদ্দিদ হবেন কিন্তু নবুওত পেয়ে “নবী” হবেন না। কারণ নবুওয়তপ্রাপ্ত যারা তাদের নামের শেষে “রাদ্বিয়াল্লাহু” হয় না।

(৩) হযরত ইমামে রাব্বানী (রহঃ) এর সাথে মদীনার কতিপয় বিদয়াতী আলেমের সম্ভাব্য দ্বন্দ্ব হতে পারে “বিদয়াত” বিষয় নিয়ে। আর এমনটি হওয়া-ই স্বাভাবিক। এখনো বহু আলেম নানাভাবে বিদয়াতে লিপ্ত। যা আজ কারো অজানা নয়। কেয়ামতের শেষ সময় এই ধারা হয়ত আরো প্রকট আকার ধারণ করার দিকে তিনি ইংগিত করতে চেয়েছিলেন।

(৪) ইমামে রাব্বানী (রহঃ) তার একই পৃষ্ঠার একই বক্তব্যের তৃতীয় লাইনের শেষের দিকে এটাও লিখেছেন “হযরত ইমাম মাহদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নে উস আলেম কো ক্বতল করনে কা হুকুম ফরমায়ে গে।” অর্থাৎ ইমাম মাহদী তখন ওই [মদীনার বিদয়াতি] আলেমকে হত্যার নির্দেশ দেবেন।” এতে আরো পরিষ্কার হয়ে গেল যে, সে সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থাকবে ইমাম মাহদীর হাতে। তাই দেশের কাউকে তখন হত্যার নির্দেশ দেয়ার অধিকার তাঁর থাকবে। লিখাটির সংশ্লিষ্ট স্ক্রিনশট নিচে দেখুন

মাকতুবাত, ৪র্থ খন্ড দপ্তরে আউয়াল (উর্দু) পৃষ্ঠা ৫৮৭; মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহঃ
  • এবার আসুন, মির্যা কাদিয়ানির সাথে উপরের ৪টি বিষয় কিভাবে মিলাবেন?

মির্যা সাহেব কি নবুওয়তের দাবি করেননি? করেছেন। নামের শেষে কি “আলাইহিস সালাম” লিখত না? অবশ্যই লিখত। তাহলে বুঝা গেল কী? ইমামে রাব্বানীর বক্তব্যে যার চরিত্রের উল্লেখ আছে তিনি-ই যদি আজকের মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সাহেব হন তাহলে তার নামের শেষে “রাদ্বিয়াল্লাহু” কোথায়? নাকি ইমামে রাব্বানী ভুল করে গেছেন? যদি ভুল করেন তাহলে উনার নাম ভেঙ্গে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য কী? তাদের এধরণের ফাজলামি কে শিখাল? সাধারণ মানুষকে কাদিয়ানী বানানোর অপচেষ্টা নয় তো?

মির্যা সাহেব কি নির্দিষ্ট কোনো ভুখন্ডের শাসক ছিলেন? অবশ্য না। যেজন্য ধূর্ত মির্যা আজীবন নিজেকে দুনিয়ার বাদশাহ এর স্থলে “আসমানি বাদশাহ” হবার বুলি আওড়াতেন। কেননা কথিত আসমানি বাদশাহ হতে নির্দিষ্ট ভুখন্ড লাগেনা। যেমন বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের “জ্বীনের বাদশাহ” দাবী করে মানুষকে প্রতারিত করছে।

মির্যায়ীরা সব কিছুতে রূপক খোঁজে। তাই তারা মির্যাকে প্রকৃত অর্থে শাসক না বলে বরং রূপকার্থে শাসক মানতে চায়। তা হল, আসমানি শাসক। কেননা তারা জানে যে, রূপক অর্থের আশ্রয় না নিলে মির্যার ভাঁওতাবাজিও ধোপে টিকেনা।

যাইহোক মির্যা সাহেবের সাথে মদীনার আলেমগণসহ সারা দুনিয়ার ইসলামি স্কলার ও মুফতী মাশায়েখদের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত বিশেষত তার নবুওয়ত দাবীর কারণেই। পক্ষান্তরে ইমামে রাব্বানী (রহঃ) লিখে গেছেন ভিন্ন কথা। অর্থাৎ দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ হতে পারে ‘বিদয়াত বা কুসংস্কার বিষয়াবলী’ নিয়ে। তাহলে…?

মির্যা সাহেবকে ইমামে রাব্বানী (রহঃ)-এর উপরিউক্ত বক্তব্যের চরিত্রের সাথে কিভাবে খাপ খাওয়াবেন যেখানে মির্যা সাহেব না নির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের শাসক ছিলেন, না শাসনকর্তা হিসেবে মদীনার কোনো বিদয়াতি আলেমকে হত্যার হুকুম দিতে পেরেছেন? বিপরীতে মির্যাকেই সবাই হত্যার ফতুয়া দিয়ে রেখেছেন।

ইতিহাস সাক্ষী, মির্যার বংশটাই ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পদলেহন করার জন্য। মির্যা সাহেবের লেখিত বই পুস্তক খুলে দেখুন। তিনি ব্রিটিশের কেমন সেবাদাস ছিলেন তা বুঝে আসবে। খোদার প্রেরিত কোনো পয়গম্বর কি কোনো বিধর্মী দখলদার জালিম শাহীর গোলামী করতে পারে?

এর কোনো জবাব আহমদীদের নিকট নেই। শুধু এটুকু স্বীকার করা ছাড়া যে, মূলত ইমামে রাব্বানী মুজাদ্দিদ সাইয়েদ আহমদ সারহিন্দী (রহঃ) এর বক্তব্যের সাথে ভারতীয় ভন্ড মাহদী মির্যা কাদিয়ানীর ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। ইনিয়েবিনিয়ে এবং জোড়াতালি দিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যাই হল তাদের শেষরক্ষা।

আল্লাহতালা এসব অর্ধ শিক্ষিত ও বিবেকহীন কাদিয়ানিদের সত্য উপলব্ধি করার তাওফিক দিন। ওয়াসসালাম।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

আনুগত্যরূপে মির্যার নবুওয়ত লাভের দাবী ও চারটি প্রশ্ন

0

আমি কেন “কাদিয়ানী জামাত” ত্যাগ করলাম?

(লিখাটি একজন সাবেক কাদিয়ানীর (যিনি এক সময় ঢাকা মিরপুর ৬ নং সেক্টরে কাদিয়ানী জামাতের প্রেসিডেন্ট পদাধিকারীও ছিলেন), নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এই নও মুসলিম এ সমস্ত প্রশ্নের কোনো জবাব না পেয়ে পরবর্তিতে কাদিয়ানী ত্যাগ করেন)।

কাদিয়ানিদের একটি পুস্তক ‘এক গলতি কা ইযালা‘। পুস্তকটিতে (বাংলা এডিশন, পৃষ্ঠা ৫, অনুবাদ মৌলভী মোহাম্মদ) মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সাহেব লিখেছেন-

“নবুওয়তের সকল পথ রুদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু একটি পথ সীরাতে সিদ্দিকীর (সিদ্দিকীয়তের রাস্তা) খোলা আছে, যাকে ফানাফির রাসূল বলে। সুতরাং এ পথ দিয়ে যে ব্যক্তি খোদার নিকটবর্তী হয়, তাকে প্রতিচ্ছায়ারূপে মুহাম্মদী নবুওতের বসনেই ভূষিত করা হয়”। স্কিনশট দ্রষ্টব্য।

মির্যার উর্দু বইয়ের বাংলা অনূদিত ‘একটি ভুল সংশোধন‘ পৃষ্ঠা ৫
  • এবার নিচের প্রশ্নগুলো খেয়াল করুন-

(১) ‘একটি ভুল সংশোধন’ বইয়ের কথাটি দ্বারা তিনি যেন বুঝাতে চেয়েছেন যে, যখন নবুওয়তের সকল পথ রুদ্ধ তখন কীভাবে বুরূজী নবীও হওয়া যায়? এখন প্রশ্ন হলো তাহলে বর্তমানকালে তার অনুসারীরা কেন সূরা নিসার ৬৯ নম্বর আয়াত উল্লেখ করেন (নবী সিদ্দিক শহীদ সালেহ)? মির্যা সাহেব কি সূরা নিসা’র এই আয়াত তার নবুওয়ত বিষয়ক এ বইটিতে উল্লেখ করেছেন? যদি না করে থাকেন তাহলে কেন এই আয়াত এখন তার অনুসারীরা উল্লেখ করেন? আল্লাহর রাসূল (সাঃ) সূরা নিসার ৬৯ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় কোথাও কি বলে গেছেন আরো হাজার হাজার নবী আসবেন?

(২) দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে আমরা জানি তিনি সিদ্দিক ছিলেন। এটা তার টাইটেল। যদি প্রকৃতপক্ষে কেউ ফানাফির রাসূল হয় তাহলে তো তিনিই হওয়ার কথা। যিনি তাঁর জীবনের সব কিছু ত্যাগ করলেন তিনি কি সিদ্দিকীয়তের রাস্তা দিয়ে খোদার নিকটবর্তী হননি? হয়ে থাকলে তিনি নবুওয়তের বসনে ভূষিত হননি কেন?

(৩) মির্যা সাহেব বলেছেন উম্মতে মুহাম্মদীয়া সৌভাগ্যবান হতে পারেন না, যদি নবুওয়ত জারি না থাকে। কারণ মূসা নবীর শরীয়তের অধীনে অনেক নবী এসেছেন তাহলে আমাদের নবীর অধীনে এ নেয়ামত বঞ্চিত থাকবে কেন (সূরা ফাতেহার ইহ্দিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম, সিরাতাল্লাজিনা আন আমতা আলাইহিম -এর ব্যাখ্যায়)? যদি নেয়ামতের শর্ত নিয়ে আসা হয় তাহলে এখন প্রশ্ন হল, নবীজির পর দীর্ঘ আরো ১৪০০ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে হলো কেন?

নেয়ামতের হিসাব করলে তো একের পর এক নবী আসা উচিত। আমরা কেন ১৪০০ বছর ধরে এই নেয়ামত থেকে বঞ্চিত থাকলাম?

(৪) মির্যা কাদিয়ানী সাহেব ১৮৭৯ – ‘৮০ সালের দিকে যদি নবী হয়ে থাকেন তাহলে ১৮৮১ – ‘৮২ তে আবার মুজাদ্দিদ হন কীভাবে? যাদের ভেবে দেখার প্রয়োজন তারা ভেবে দেখবেন!

লিখক, এক্স কাদিয়ানী টেক্সাস, ইউ.এস থেকে

কাদিয়ানিরা কি এ পাঁচটি প্রশ্নের জবাব দেয়ার সাহস রাখে?

0

কাদিয়ানীদের নিকট পাঁচটি প্রশ্ন :

প্রশ্ন ১. ঈসা আলাইহিসসলামের ‘রাফা’ কোন ফেরেশতার মাধ্যমে হয়েছিল? (ক) আজরাইল? (খ) জিবরাইল?

নোট : মুসলমানদের বিশ্বাস, ঈসা (আ:)-এর ‘রাফা’ হযরত জিবরাইল (আ:)-এর মাধ্যমেই হয়েছিল। পবিত্র কুরআনের ০৩:৫৫ আয়াতের পটভূমিও আমাদের ডেকে ডেকে বলছে, ঈসা (আ:)-এর উক্ত ‘রাফা’ সেই সময় হয়েছিল যখন ইহুদী সন্ত্রাসীরা হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে ঈসার বাড়ীর আশেপাশে সমবেত হয়েছিল। এ সম্পর্কে হাদীসটি অনুবাদসহ এই, রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন, لما اجتمع اليهود على عيسى عليه السلام ليقتلوه و أتاه جبرائيل … فاَوْحَى اللهُ الى جبرائيلَ اَنِ ارْفَعْ اِلَيَ عَبْدِيْ অর্থাৎ যখন ইহুদীরা ঈসা (আ:)-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিল তখন জিবরাইল (আ:) তাঁর নিকট আগমন করেন….. আল্লাহতায়ালা তাঁকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, তুমি আমার বান্দা [ঈসা]-কে আমার নিকট উঠিয়ে নিয়ে এসো। (রেফারেন্স, তারীখে ইবনে আসাকীর ৪৭/৪৭২; তারীখে বাগদাদ ১১/৩৭৯)।

প্রশ্ন ২. ঈসা আলাইহিসসালামের ‘রাফা‘ কখন হয়েছিল? (ক) ক্রুশীয় ষড়যন্ত্রের ৮৭ বছর পর (খ) ক্রুশীয় ষড়যন্ত্র চলা মুহূর্তে।

নোট : মুসলমানদের বিশ্বাস, ঈসা (আ:)-এর ‘রাফা’ তথা উঠিয়ে নেয়ার ঘটনা ক্রুশীয় ঘটনা চলা মুহূর্তেই জেরুজালেমেই ঘটেছিল। কেননা বিশিষ্ট যুগ ইমাম আল্লামা জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রহ:) সংকলিত ‘দুররে মানছূর’ কিতাবে সুস্পষ্টভাবে লিখা আছে, ورفع وهو ابن أربع وثلاثين سنة من ميلاده অর্থাৎ ঈসাকে উঠিয়ে নেয়া হয় যখন তিনি ৩৪ বছর বয়সী যুবক।

প্রশ্ন ৩. ক্রুশীয় ষড়যন্ত্র হয়েছিল ঈসা আলাইহিসসালামের…..! (ক) পৌঢ়কালে (খ) যৌবনকালে।

নোট : মুসলমানদের বিশ্বাস, ঈসা (আ:)-এর বিরুদ্ধে ঈহুদী সন্ত্রাসী কর্তৃক হত্যার সেই ষড়যন্ত্র তাঁর যৌবনকালেই জেরুজালেমে ঘটেছিল, প্রৌঢ়কালে নয়। কেননা, প্রৌঢ়কাল বলতে ৩৪ হতে ৫১ বছরের মাঝামাঝি বয়সী ব্যক্তিকে বুঝায় (লিসানুল আরব) । কিন্তু ঈসা (আ:) সেই সময় উক্ত বয়সে পৌঁছেননি।

প্রশ্ন ৪. ঈসা আলাইহিসসালামের বিরুদ্ধে ‘হত্যা’-র ষড়যন্ত্র এবং তাঁর ‘রাফা’ উভয়ই হয়েছিল…..! (ক) হিন্দুস্তানে। (খ) ফিলিস্তিনে।

নোট : মুসলমানদের বিশ্বাস, ঈসা (আ:)-এর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং রাফা তথা উঠিয়ে নেয়ার ঘটনা উভয়ই ঘটেছিল ফিলিস্তিনে। এটি একটি মুতাওয়াতির বিষয় যা নতুন করে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই ।

প্রশ্ন ৫. আরবী মা/ما (না-বােধক) বর্ণযুক্ত বাক্যের পর খ্রিস্টানদের রদ করতে যেখানে-ই বাল’ (بل) শব্দটি ব্যবহার হয়েছে সেখানে-ই দেখা যায়…! (ক) ‘বাল’ (بل) শব্দের পূর্বের বাক্যের কর্ম আর পরের বাক্যের কর্ম একইকালে সংঘটিত হয়নি। (খ) ‘বাল’ (بل) শব্দের পূর্বের বাক্যের কর্ম আর পরের বাক্যের কর্ম একইকালে সংঘটিত হয়েছে।

নোট : জ্বী হ্যাঁ, এটি সর্বজন স্বীকৃত একটি আরবী ব্যাকরণগত নিয়ম যে, ‘বাল’ (بل) শব্দের পূর্বের বাক্যের কর্ম আর পরের বাক্যের কর্ম একইকালে সংঘটিত হয়ে থাকবে। কাজেই এই কথা বিশ্বাসকরা ঠিক হবেনা যে, ঈসা (আ:)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র ফিলিস্তিনে (বায়তুল মুকাদ্দাস) হলেও তাঁর রাফা’র (কাদিয়ানীদের মতে আয়াতটির ওই রাফা—র অর্থ ঈসার মৃত্যুর পর তাঁর রূহ উঠিয়ে নেয়া) ঘটনা একইকালে ঘটেনি বরং আরো ৮৭ বছর পর কাশ্মীরের শ্রীনগরে ঘটেছিল। (নাউযুবিল্লাহ)।

আরো পড়ুন : ঈসা (আ:) কি কাশ্মীরে এসেছিলেন?

  • কাদিয়ানীদের কাছ থেকে এই ৫টি প্রশ্নের উত্তর দলিল-প্রমাণ সহ পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম!

মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে কুরআনের ন্যায় বলে দাবী!

0

মির্যা কাদিয়ানীর আরো বহু দাবী দাওয়া রয়েছে। তার দাবীগুলোর সামান্য কিছু দেখতে ক্লিক করুন।

আসলে মির্যা কাদিয়ানীর মত এমন একজন সিজোফ্রেনিয়া রোগী থেকে এর চেয়ে বেশি আর কী আশা করা যায়! পবিত্র কুরআন নিয়েও বুঝি মির্যা কাদিয়ানীর তামাশা করার বাকি ছিল?

এই যে, দেখুন সে কী লিখল : –

(উর্দু উচ্চারণ) : “মাই তো বস কুরআন হি কি তরেহ হোঁ, আওর আনক্বরিব মেয়েরে হাত পর জাহের হোগা যু কুচ্ছ ফোরকান চে জাহের হুয়া”।

তাযকিরাহ (উর্দূ) চতুর্থ এডিশন পৃষ্ঠা নং ৫৭০

বাংলা অনুবাদ : (মির্যার কথিত ইলহাম) আমি তো কুরআনের মতই। আর অচিরেই ফোরকান (কুরআন) হতে যাই প্রকাশিত হয়েছে তাই আমার কাছ থেকেও প্রকাশিত হবে।

রেফারেন্স : তাযকিরাহ (উর্দু) পৃষ্ঠা নং ৫৭০; চতুর্থ এডিশন।

কাজেই কাদিয়ানীরা যখন আমাদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ করে যে, কুরআন থেকে প্রমাণ দিন ঈসা (আ:) আকাশে স্বশরীরে জীবিত আছে, তখন যদি তাদেরকে মির্যা কাদিয়ানীর বই “বারাহীনে আহমদীয়া” থেকে তাদের উক্ত চ্যালেঞ্জ এর জবাব দিই তাহলে কি আমাদের ভুল হবে? যেহেতু মির্যা কাদিয়ানীর কথিত ওহী বা ইলহাম হল, সে নিজেই একটি কুরআন বা কুরআনের মত!! হয়ত জান ছুটাতে এখানেও রূপকের কাসুন্দি নিয়ে হাজির হয়ে যাবেন! কাদিয়ানিরা এর কী জবাব দেবেন?

লিখক শিক্ষাবিদ ও গবেষক