Home Blog Page 36

ইমাম হাসান এবং হোসাইনের বংশধারা অবশিষ্ট আছে কি?

ইমাম হাসান এবং হুসাইন এর বংশধারা অবশিষ্ট আছে কি?

  • জনৈক কাদিয়ানী অনুসারী মির্যা গোলাম আহমদকে ইমাম মাহদী সাব্যস্ত করতে এভিডেন্স খুঁজে না পেয়ে বলল,
  • “আরে জনাব! ইমাম মাহদী হযরত হাসান (রা.)-এর বংশে কিভাবে জন্মিবেন, হাসানের বংশধারা কি এখন অবশিষ্ট আছে?”
  • এই লিখাটি ঐ কাদিয়ানীর অজ্ঞতা আর গোঁড়ামিপূর্ণ মন্তব্যের জবাবেই লিখলাম। এখানে বলে রাখতে চাই যে, হযরত হাসান (রা.) জীবনে অনেকগুলো বিয়ে করেছিলেন। তবে তিনি কখনো এক সঙ্গে চারের অধিক স্ত্রী রাখেননি। কারো ইন্তেকাল হলে বা তালাক হলে শুধু তখনি বংশধর বাড়াতে পরবর্তীতে আরেকটি বিয়ে করতেন। শেষ যুগে আগমনকারী ইমাম মাহদী উনারই বংশের কোনো সৌভাগ্যবান পুরুষের ঔরসে হবে বলে বহু সহীহ হাদীসে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে। দেখুন, আবুদাউদ কিতাবুল মাহদী। অতএব বর্তমানে হযরত হাসানের বংশধারা অবশিষ্ট আছে কি নেই—এমন প্রশ্ন তোলাটাও নিকৃষ্ট হটকারিতার শামিল।

শুনে অবাক হবেন যে, মির্যা কাদিয়ানী থেকেও এমন ধরনের কোনো উক্তি খোঁজে পাওয়া যায়না। কাদিয়ানীরা কি ভুলে গিয়েছে যে, মির্যা কাদিয়ানী একখানা স্বপ্নের মাধ্যমে নিজ সত্তাকে ইমাম মাহদী সাব্যস্ত করতে ‘একটি ভুল সংশোধন’ বইতে লিখেছে যে, তার নানী সম্পর্কিত জনৈকা এক মহিলা নাকি আহলে বয়আত তথা নবী বংশ থেকেই এসেছেন! যদিও তার এ দাবী শতভাগ উদ্দেশ্যমূলক ও অপ্রমাণিত।

প্রথমেই জেনে নিই শেষ যুগে আগমনকারী ইমাম মাহদী কার বংশ হতে হবেন?

উত্তর হল, বহু সহীহ হাদীসের আলোকে প্রমাণিত, হযরত ইমাম মাহদী নবী পরিবার থেকে ও হযরত ফাতেমা (রা.) এর সন্তান হযরত হাসান এর বংশে জন্মগ্রহণ করবেন (আবুদাউদ হা/৪২৮৪)।

ইমাম হাসান বিন আলী (রা.)-এর বংশধারা:

ইমাম যাহাবী রচিত ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (খ-৪/পৃ-৩৪৭) থেকে :

بنو الحَسَنِ هُم : الحَسَنُ ، وَزَيْدٌ ، وَطَلْحَةُ، وَالقَاسِمُ، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعَبْدُ اللهِ -فَقُتِلُوا بِكَرْبَلاَءَ مَعَ عَمِّهِمُ الشَّهِيْدِ- وَعَمْرٌو، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَالحُسَيْنُ، وَمُحَمَّدٌ، وَيَعْقُوْبُ، وَإِسْمَاعِيْلُ، فَهَؤُلاَءِ الذُّكُورُ مِنْ أَوْلاَدِ السَّيِّدِ الحَسَنِ. وَلَمْ يُعْقِبْ مِنْهُم سِوَى الرَّجُلَيْنِ الأَوَّلَيْنِ: الحَسَنِ وَزَيْدٍ، فَلِحَسَنٍ خَمْسَةُ أَوْلاَدٍ أَعْقَبُوا، وَلزِيدٍ ابْنٌ، وَهُوَ الحَسَنُ بنُ زَيْدٍ، فَلاَ عَقِبَ لَهُ إلَّا مِنْهُ، وَلِي إِمْرَةَ المَدِيْنَةِ، وَهُوَ وَالِدُ السِّتِّ نَفِيْسَةَ، وَالقَاسِمِ، وَإِسْمَاعِيْلَ، وَعَبْدِ اللهِ، وَإِبْرَاهِيْمَ، وزيد، وإسحاق.

অর্থাৎ হাসান বিন আলী (০৩-৫০হিজরী) এর সন্তানগণ হলেন, হাসান, যায়িদ, তালহা, কাশেম, আবু বকর, আব্দুল্লাহ। তারা তাদের শহীদ চাচা (হুসাইন)’র সাথে কারবালায় নিহত হন। আর আমর, আব্দুর রহমান, হুসাইন, মুহাম্মদ, ইয়াকুব, ইসমাইল প্রমুখ এরা সর্দার হাসান (বিন আলী)’র সন্তানদের পুরুষগণ। এদের মধ্যে হাসান বিন হাসান আর যায়িদ বিন হাসান এ দুজন ছাড়া অন্যদের থেকে বংশ বিস্তার হয়নি। অধিকন্তু হাসান বিন হাসান এর ৫ সন্তান ছিল। আর যায়েদ বিন হাসানের ছিল ১ সন্তান। যার নাম ছিল হাসান বিন যায়েদ বিন হাসান। তার (যায়িদ বিন হাসান) থেকেও বংশ বিস্তার হয়নি। তবে কিন্তু তার মদীনার এক কৃতদাসীর সন্তান থেকে বংশ বিস্তার হয়েছে। যিনি ৬ সন্তানের জনক। তারা হলেন, কাশেম, ইসমাইল, আব্দুল্লাহ, ইবরাহিম, যায়িদ, ইসহাক। (অনুবাদ সমাপ্ত হল)।

  • ইমাম হুসাইন বিন আলী (রা.)-এর বংশধারা:

ইমাম যাহাবী রচিত ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (খ-৪/পৃ-৩৭২) থেকে :

أَولاَدُ الحُسَيْنِ هُمْ: عَلِيٌّ الأَكْبَرُ الَّذِي قُتِلَ مَعَ أَبِيْهِ، وَعَلِيٌّ زِينُ العَابِديْنَ، وَذُرِّيَتُهُ عَدَدٌ كَثِيْرٌ، وَجَعْفَرٌ، وَعَبْدُ اللهِ وَلَمْ يُعْقِبَا.

অর্থাৎ হুসাইন (০৪-৬১ হিজরী) এর সন্তানগণ হলেন, আলী আকবর (উপাধি, আবুল হাসান [৩৩-৬১হিজরী]) যিনি পিতার সাথে নিহত হন। আর আলী যয়নুল আবেদীন (উপনাম, আস-সাজ্জাদ) এর বংশের সন্তান সন্ততি অনেক রয়েছে। তবে জাফর ইবনে হুসাইন আর আব্দুল্লাহ ইবনে হুসাইন এদের বংশ বিস্তার হয়নি। (আরো দেখুন, তাহযীবুত তাহযীব খ-২/পৃ-৩৪৫; তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত খ-১/পৃ-১৬৩)।

বলে রাখতে চাই যে, ইমাম হুসাইন (রহ:) এর পুত্র সন্তানদের মধ্যে আলী আকবর বিন হুসাইন ২৫ বছর বয়সে ৬১ হিজরীতে কারবালায় শহীদ হন। উনার অপর দুই পুত্র জাফর এবং আব্দুল্লাহ ছোটবেলাতেই ইন্তেকাল করেন। ফলে তাদের থেকেও বংশ বিস্তার হয়নি। কিন্তু আলী যয়নুল আবেদীন (৩৮-৯৫ হিজরী) থেকে বংশ বিস্তার হয় বহুলাংশে। কারবালার যুদ্ধে আলী যয়নুল আবেদীন যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন না। তিনি সস্ত্রীক ও পুত্র মুহাম্মদ আল-বাকের এবং আপনা ফুফু যয়নাব বিনতে আলী সহ তাবুতে ছিলেন । কারণ তিনি তখন প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। শত্রুরা তাঁকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ফুফু যয়নাব বিনতে আলী (০৫-৬২হিজরী) এর প্রাণপণ প্রচেষ্টায় ও খুব বেশি অসুস্থ থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান!

ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন,

لما استشهد والده، قال شمر بن ذي الجوشن: اقتلوا هذا الغلام؛ فقال بعض أصحابه: أنقتل فتى حدثاً مريضاً لم يقاتل؟! فتركوه

অর্থাৎ যখন তার পিতা হুসাইন বিন আলী শহিদ হয়ে গেলেন তখন শামির বিন যিল যোশন বলল, এই ছেলেটাকেও হত্যা করে ফেল। তখন তার কোনো কোনো সাথী নিষেধ করে বলল, ছেলেটি অসুস্থতায় ভুগছে। এর ফলে তাকে আর হত্যা করা হয়নি, তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র : তাবক্বাতুল কোবরা লি-ইবনে সা’আদ ৫/১৬৩; তারীখে তাবারী ১১/৬৩০; তারীখে দামেস্ক লি-ইবনে আসাকীর ২/৩৩৫।

ইতিহাস থেকে আরও সাব্যস্ত আছে যে, আলী যয়নুল আবেদীন এর সংসারে প্রায় ১৬জন সন্তান সন্ততি জন্ম গ্রহণ করেন। তন্মধ্যে একজনের নাম ছিল ‘হাসান আসগর’ (১০০-১৫৭ হিজরী)। এই হাসান আসগর থেকেই ৫ জন পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। তারা হলেন, উবায়দুল্লাহ আল-আ’রাজ, আব্দুল্লাহ আল-আকিকি, সুলায়মান, আলী, আল-হাসান। এভাবে অসংখ্য মাত্রায় বংশ বিস্তার হয়।

হাসান বিন হাসান (আল-মুসান্না) ও তার বংশ :

  • হাসান বিন হাসান (আল-মুসান্না) এর একাধিক পুত্র ছিল, যাদের মাধ্যমে তার বংশধারা টিকে ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে অনেক শাখা বিলুপ্ত হয়ে যায়।
  • তার বংশধরদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ পরবর্তীতে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের বংশধররা ‘সাদাতে হাসানি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। 

যায়িদ বিন হাসান ও তার বংশ :

  • যায়েদ বিন হাসান এর সন্তান ‘হাসান বিন যায়িদ বিন হাসান’ (যিনি আলীর প্রপৌত্র) ছিলেন, যার মাধ্যমে তার বংশধারা অব্যাহত ছিল এবং তিনি মদিনার গভর্নরও হয়েছিলেন।
  • যায়েদ বিন হাসানের বংশধারার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা তার একজন দাসীর সন্তানদের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে, যারা কাসেম, ইসমাইল, আবদুল্লাহ, ইবরাহিম, যায়িদ ও ইসহাকের মতো সন্তানের জনক ছিলেন এবং তারাও সমাজে প্রভাবশালী ছিলেন। 

ইমাম মাহদী হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) এর বংশ থেকে হবে কিভাবে?

কোনো কোনো হাদীসে উল্লেখ আছে যে, ইমাম মাহদী ইমাম হুসাইনের বংশ থেকে হবেন। ফলে বাহ্যিকভাবে হাদীসের মধ্যে স্ববিরোধ মনে হয়ে থাকে। এর জবাবে বলব, ইমাম হাসান আর ইমাম হুসাইন দু’জনের সন্তানদের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের ইতিহাস যাদের ভালোভাবে জানা আছে তারা কখনোই এ জাতীয় বর্ণনা দ্বারা বিভ্রান্ত হবেনা।

ইতিহাস প্রমাণ করে যে, ইমাম হুসাইন বিন আলী (রা.) এর একটি কন্যা ছিলেন ফাতেমা। তার বিয়ে হয়েছিল ইমাম হাসান বিন আলীর পুত্র হাসান আল মুছান্নাহ (৩৭-৯৭ হিজরী) এর সাথে। হাসান আল মুছান্নাহ’র মায়ের নাম ছিল খাওলাহ বিনতে মানযূর। তাদের সংসারে জন্মগ্রহণ করেন, আব্দুল্লাহ আল-মুহায, ইবরাহীম আল-গুমার, হাসান আল-মুছাল্লাছ প্রমুখ। (সূত্র : মুনতাহিল আ-মা-ল ফী তাওরীখিন নাবী ওয়াল আ-ল, ১/৬৫১-৫৩; শায়খ আব্বাস আল-ক্বিম্মী)।

আপনাদেরকে আরও একটি তথ্য দেব। হযরত হাসান বিন আলী (রা.) এর ‘ফাতেমা‘ নামে একজন কন্যা ছিল। তাঁকে বিয়ে দেয়া হয় ইমাম হুসাইন (রা.) এর পুত্র আলী যয়নুল আবেদীন এর সাথে। সে ঘরে প্রায় ষোলজন সন্তান সন্ততি জন্ম লাভ করেন।

ইমাম মাহদী হযরত আব্বাস (রা.) এর বংশ থেকে হবে কিভাবে?

ইমাম মাহদী পিতার দিক থেকে হযরত হাসান এবং হযরত আব্বাস উভয়ের বংশধর হবেন। কেননা হযরত হাসানের সাথে হযরত আব্বাসের পুত্র আল-ফজলের মেয়ে উম্মে কুলছুমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ আল-আসগর, জাফর, হামজা এবং ফাতেমা (দেখুন তবক্বাতে ইবনে সা’আদ ৬/৩৫২)। 

সারসংক্ষেপ :
হাসান ও যায়িদ, উভয় ইমাম হাসানের পুত্র, তাদের বংশধরদের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। হাসান বিন হাসানের বংশধরদের মধ্যে কিছু ধারা টিকে থাকলেও, যায়িদ বিন হাসানের বংশধররা (বিশেষ করে তার ক্রীতদাসীর সন্তানদের মাধ্যমে) ‘সাদাতে হাসানি’ নামে পরিচিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। 

অতএব, বুঝা গেল প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদীর মাতা কিংবা পিতার বংশক্রম ইমাম হাসান এবং ইমাম হুসাইন দুইজনের সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই কোনো কোনো বর্ণনায় ইমাম মাহদীর বংশ হিসেবে ইমাম হুসাইন (রা.)-এরও উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রধানতম কারণ এটাই। গভীরভাবে চিন্তা করলে যে কেউই বুঝতে পারবে যে, হাদীসগুলোর কোনো কোনোটির সনদের মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও মূলত মতনের ক্ষেত্রে কোনো বৈপরীত্য নেই।

শিক্ষাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ, অ্যাডমিন – রদ্দে কাদিয়ানী অ্যাপ।

মির্যা কাদিয়ানীর ঈমান বিধ্বংসী কথাবার্তা

0

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের তথাকথিত ইমাম মাহদী মির্যা গোলাম আহমদের বইতে মারাত্মক ঈমান-বিধ্বংসী কথাবার্তা

[১] মুসলমানদের জাহান্নামী ও কাফের আখ্যা দেয়াঃ

“আমাকে (ইলহামের মাধ্যমে) জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, যেই লোক তোমাকে সনাক্ত করার পরেও তোমার সাথে দুশমনি রাখে এবং তোমার বিরোধিতা করে সে জাহান্নামী”। (দেখুন, তাযকিরাহ ১৩০; চতুর্থ এডিশন)।

“যে লোক তোমার আনুগত্য করবেনা, বাইয়েত নেবেনা এবং তোমার বিরোধী থাকবে সে খোদা এবং রাসূলের নাফরমান এবং জাহান্নামী।” (কালিমাতুল ফছল, অনলাইন এডিশন)।

কালিমাতুল ফছল

“প্রত্যেক মুসলমান যিনি হযরত মাসীহে মওঊদ (মির্যা কাদিয়ানী)’র বাইয়েতে শামিল হয়নি, সে যদিও হযরত মসীহ মওঊদের নামও শুনেনি, এমন ব্যক্তিও কাফের এবং ইসলাম থেকে বাহিরে।” (আয়নায়ে সাদাক্বাত, আনওয়ারুল উলূম ৬/১১০; মির্যাপুত্র মির্যা মাহমুদ; অনলাইন এডিশন)।

[২] মির্যার দৃষ্টিতে তাকে অমান্যকারীরা বেশ্যার সন্তানঃ

“(আমার) এই কিতাবগুলো এমন, যা সব মুসলমানই মুহাব্বতের দৃষ্টিতে দেখে আর তার জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয় এবং আমাকে গ্রহণ করে ও সত্যায়ন করে শুধুমাত্র যুররিয়্যাতুল বাগাইয়া তথা বেশ্যার সন্তানেরা ছাড়া। আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন। ফলে তারা (আমাকে) কবুল করবেনা” (দেখুন, রূহানী খাযায়েন খন্ড ৫ পৃষ্ঠা ৫৪৭-৪৮)।

[৩] কাদিয়ানী সাহেব নিজেকে খোদা দাবীঃ

“স্বপ্নে দেখলাম আমি খোদা এবং বিশ্বাস করলাম আসলেই তাই।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ৫/৫৬৪, অন্য জায়গায় কাশফে দেখার উল্লেখ আছে, তাযকিরাহ পৃষ্ঠা নং ১৫২; চতুর্থ এডিশন)।

[৪] মির্যা কাদিয়ানীর হাতে খোদার বাইয়াতঃ

“আল্লাহ তায়ালা আমার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছেন।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড ১৮ পৃষ্ঠা ২২৭)।

[৫] খোদার সাথে সহবাসঃ

“হযরত মসীহে মওঊদ (মির্যা কাদিয়ানী) একবার নিজের অবস্থা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, কাশফ (আধ্যাত্মিক ধ্যাণ)’র অবস্থা এভাবে চেপে বসল যে, নিজেকে মহীলা মনে হল। আর আল্লাহ তা’য়ালা পৌরুষত্বের শক্তি আমার উপর প্রকাশ করছেন। জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।” নাউযুবিল্লাহ। দেখুন (মির্যা কাদিয়ানীর কথিত এক অনুচর কাজী ইয়ার মুহাম্মদ সাহেব রচিত) ‘ইসলামী কুরবানী ট্রাকট, পৃষ্ঠা নং ১৩।

[৬] পবিত্র কুরআনের অবমাননাঃ

মির্যা কাদিয়ানীর কথিত ইলহাম “কুরআনকে আমি কাদিয়ানের নিকট অবতীর্ণ করেছি।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন ৩/১৪০)। “হ্যাঁ বাস্তবিকই কুরআনের ভেতর ‘কাদিয়ান’ এর নাম উল্লেখ আছে।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন ৩/১৪০)।

“আমরা বলে থাকি যে, কুরআন কোথায় বিদ্যমান! কুরআন যদি বিদ্যমান থাকতই তাহলে কারো আগমন করার প্রয়োজন কী ছিল? সমস্যা তো এটাই যে, কুরআন দুনিয়া থেকে উঠে গেছে! সেজন্যই তো মুহাম্মদ (সা:)-কে দুনিয়াতে দ্বিতীয়বার বুরূজীভাবে প্রেরণ করে তাঁর উপর কুরআন শরীফ নাযিল করার প্রয়োজন দেখা দেয়।” (দেখুন ‘কালিমাতুল ফছল’ ষষ্ঠ অধ্যায় পৃষ্ঠা নং ৮৩)। “অতপর স্বীকার করতেই হবে যে, কুরআন শরীফ অশ্লীল গালি দিয়ে ভর্তি এবং কুরআন কঠোর ভাষার রাস্তা ব্যবহার করেছে।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন ৩/১১৫)।

“কুরআন আল্লাহ’র কেতাব এবং আমার মুখের কথা।” (দেখুন তাযকিরাহ পৃষ্ঠা নং ৭৭; হাকীকাতুল ওহী [বাংলা] পৃষ্ঠা নং ৬৮, আল ইস্তিফতা [বাংলা] পৃষ্ঠা নং ১১০)।

[৭] রাসূল (সাঃ)-এর অবমাননাঃ

“রাসূল (সা:)-এর দ্বারা দ্বীন প্রচারের কাজ পরিপূর্ণভাবে হয়নি। তিনি পূর্ণ প্রচার করেননি। আমি পূর্ণ করেছি।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ১৭ পৃষ্ঠা নং ২৬৩; সারমর্ম)।

মির্যার সম্পূর্ণ-বক্তব্যটি এরকম : ‘আর যেহেতু রাসূল (সা:) এর দ্বিতীয় আবশ্যিক দায়িত্ব হল, হিদায়াতের প্রচারকার্য সম্পূর্ণ করা। রাসূল (সা:) এর যুগে প্রচারকার্য চালানোর কোনো মিড়িয়া না থাকায় তা (সম্পূর্ণ করা) সম্ভব ছিলনা। তাই কুরআন শরীফের আয়াত “ওয়া আখারীনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকূবিহিম” (সূরা জুম’আ ০৩) এর মধ্যে রাসূল (সা:) এর দ্বিতীয় আগমনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এই প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন এই জন্যই সৃষ্টি হয়েছে যে, যাতে রাসূল (সা:) এর দ্বিতীয় আবশ্যিক দায়িত্বটা অর্থাৎ দ্বীন ও হিদায়াতের প্রচারকার্যের পরিপূর্ণতা যা উনার (সা:) হাতেই সম্পূর্ণ হওয়ার ছিল, সেই সময় (রাসূলের যুগে) কোনো প্রচার মিড়িয়া না থাকায় তা সম্পূর্ণ হয়নি। অতএব রাসূল (সা:) তিনি তার বুরুজি রঙ্গে (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানীর স্বরূপে) দ্বিতীয় আগমনের মাধ্যমে সেই আবশ্যিক দায়িত্বটা এমন যুগে সম্পূর্ণ করলেন যখন পৃথিবীর সমস্ত কওম পর্যন্ত ইসলাম পৌঁছানোর জন্য মিড়িয়াগুলোর উদ্ভব হয়েছে।’ নাউযুবিল্লাহ।

“আমার আলামত (মুজিজা) দশ লক্ষ”। (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড ২১ পৃষ্ঠা ৭২)। ” রাসূল (সাঃ) এর মুজিজা (মাত্র) তিন হাজার।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড ১৭ পৃষ্ঠা ১৫৩)। উল্লেখ্য, রূহানী খাযায়েন এর ২১ খন্ডের ৬৩ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে আলামত আর মুজিজা একই।

“এটা একদম সহীহ এবং বিশুদ্ধ কথা যে, প্রত্যেক ব্যক্তি উন্নতি লাভ করতে পারে। বড় থেকে বড় মর্যাদা অর্জন করতে পারে। হাত্তা কে মুহাম্মদ (সাঃ) চে বিহি বাড় ছেকতা হে। অর্থাৎ এমনকি মুহাম্মদ (সাঃ) থেকেও আগে বাড়তে পারবে।” (দেখুন, কাদিয়ানিদের পত্রিকা ‘আল ফদ্বল’ নং ৫, জিলদ ১০, তারিখ ১৭ জুলাই ১৯২২ ইং)। প্রিয়পাঠক! চিন্তা করে দেখুন, এর চেয়ে মারাত্মক নবী অবমাননা আর কী হতে পারে?

[৮] ঈসা (আঃ) এর অবমাননাঃ

(মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেঃ) “ইউরোপের লোকদের মদ এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার কারণ হল, (তাদের নবী) ঈসা মদ পান করত।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড ১৯ পৃষ্ঠা ৭১)

“ঈসা (আঃ) মদ পান করত। হতে পারে অসুস্থতার কারণে কিংবা পুরনো অভ্যাসের কারণে।” নাউযুবিল্লাহ। (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড ১৯ পৃষ্ঠা ৭১)।

“স্মরণ থাকা দরকার যে, তাঁর (ঈসা)ও মিথ্যা বলার অভ্যাস ছিল।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড ১১ পৃষ্ঠা ২৮৯)।

“ঈসা (আঃ)-এর অধিকাংশ ভবিষ্যৎবাণী পূরণ হয়নি।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড ২২ পৃষ্ঠা ১৮৩)। উল্লেখ্য, মির্যা সাহেব লিখেছেন – যে ব্যক্তি আপনা দাবিতে মিথ্যাবাদী তার ভবিষ্যৎবাণী কখনো পূরণ হয়না। (দেখুন, আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম ৩২৩; রূহানী খাযায়েন খন্ড ৫)। একবার ভেবে দেখুন, মির্যা সাহেবের ছোড়া এই তীরটি কোন দিকে গেল!

“উনার (ঈসা) গালি দেয়ার এবং খারাপ ভাষা ব্যবহারের খুব বেশি অভ্যাস ছিল। সামান্য সামান্য ব্যাপারেই তিনি রেগে যেতেন”। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন খন্ড ১১ পৃষ্ঠা ২৮৯)।

“ঈসার তিন (৩) জন নানী আর দাদী ব্যভিচারিনী এবং দেহ ব্যবসায়ী ছিলেন। যাদের রক্তে ঈসার জন্ম।” নাউযুবিল্লাহ। (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড ১১ পৃষ্ঠা ২৯১; দ্বমীমায়ে আঞ্জামে আথহাম)।

“কিন্তু সত্য কথা হল, ঈসার কোনো মুজিজা-ই ছিলনা।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড ১১ পৃষ্ঠা ২৯০)।

“কেননা এই মাসীহ ইবনে মরিয়ম স্বীয় পিতা ইউসুফ নাজ্জারের সাথে বাইশ (২২) বছর পর্যন্ত কাঠ-মিস্ত্রির কাজ করেছিলেন”। (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ৩ পৃষ্ঠা নং ২৫৪)। মির্যা কাদিয়ানী এই বাক্যে ঈসা (আঃ)-এর পিতা ছিল দাবী করেন! যা পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরান এর ৪৭ নং আয়াতের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।

“আমরা ঈসা (আঃ) একজন মদ্যপ আর কাবাবি হওয়া যাকগে মেনে নিলাম, কিন্তু তিনি তো কখনো কখনো শুয়োরের গোস্তও খেয়েছিলেন।” (দেখুন, রূহানী খাযায়েন খন্ড ১২ পৃষ্ঠা ৩৭৩)।

“কুরআন শরীফে ঈসা (আ:) সম্পর্কে ‘হাছূর’ (নারীদের সংশ্রব হতে বিরত) শব্দ উল্লেখ হয়নি। তার কারণ তিনি মদ পান করতেন। অশ্লীল নারী আর সেবিকাগণ তাঁর মাথায় সুগন্ধি মেখে দিত এবং শরীর দাবিয়ে দিত।” (দেখুন, দাফেউল বালা, রূহানী খাযায়েন ১৮/২২০; সারমর্ম)। নাউযুবিল্লাহ।

[৯] হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর অবমাননাঃ

” অতএব এই উম্মতের ইউসুফ তথা এই অধম (মির্যা) বনী ইসরাইলী ইউসুফ (আঃ) অপেক্ষা (মর্যাদায়) এগিয়ে। কেননা এই অধম (মির্যা)’র দোয়াতে কারাবন্ধীর কারামুক্তি হয়েছে আর অপর দিকে ইউসুফ বিন ইয়াকুবকে কারাগারে নিক্ষিপ্ত করা হয়েছে।” (দেখুন, বারাহিনে আহমদিয়া, ৫ম খন্ড, রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ২১ পৃষ্ঠা ৯৯)।

[১০] হযরত মরিয়ম (আঃ)-এর অবমাননাঃ

”দেখ এটা কত যে আপত্তিকর! মরিয়মকে মন্দিরের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছিল। ফলে সে বায়তুল মুকাদ্দাসের জন্য আজীবনের সেবক হয়ে থাকল। জীবনভর বিয়েও করলেন না। কিন্তু যখন তিনি ছয় মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়লেন তখন নিজ সম্প্রদায়ের মুরুব্বীগণ ইউসুফ নাজ্জার নামক একজনের সাথে তাকে বিয়ে দিয়ে দিলেন। তিনি (স্বামীর) ঘরে যাওয়ার এক বা দুই মাসের ভেতরই একটি সন্তান হয়ে গেল। সেই সন্তানটিই ঈসা বা ইসোয়া।” (দেখুন, চশমায়ে মাসীহ, রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ২০ পৃষ্ঠা নং ৩৫৫-৫৬)।

[১১] পবিত্র হাদীসের অবমাননাঃ

“সমর্থনের জন্য আমরা ওই সব হাদীসও উল্লেখ করি যা কুরআন মোতাবেক এবং আমার ওহীর সাথে সাংঘর্ষিক নয়। এ ছাড়া অন্য সব হাদীসকে ডাস্টবিনের ময়লার মত আমরা নিক্ষেপ করি।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ১৯ পৃষ্ঠা ১৪০)।

[১২] মক্কা মদীনার অবমাননাঃ

“ছায়া হজ্জ (কাদিয়ানের জলসা) ব্যতীত মক্কার হজ্জ রসহীন।” (দেখুন পয়গামে সুলহ ১৯ এপ্রিল ১৯৩৩ ইং)।

“এই সরকারের (ব্রিটিশ সরকার) অধীনে যে নিরাপত্তা পাচ্ছি তা মক্কা মদীনাতেও পাওয়া সম্ভব নয়।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ১৫ পৃষ্ঠা ১৫৬)।

[১৩] ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্য ইসলামের অংশঃ

“আমি বরাবরই আমার মত প্রকাশ করেছি যে, ইসলামের দুইটি অংশ। প্রথমত আল্লাহর আনুগত্য করবে। দ্বিতীয়ত এই (ব্রিটিশ) সরকারের আনুগত্য করবে যে নিরাপত্তা দিয়েছে। (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ৬ পৃষ্ঠা ৩৮০)।

অপ্রিয় হলেও সত্য, মির্যা সাহেব নিজেকে ব্রিটিশের লাগানো চারাগাছ পরিচিত হতে পছন্দ করতেন। (দেখুন মাজমু’আয়ে ইশতিহারাতঃ খন্ড নং ৩ পৃষ্ঠা ২১)।

[১৪] জিহাদের অবমাননাঃ

“আমি বিশ্বাস রাখি যে, আমার মুরিদ (অনুসারী) যেই হারে বাড়ছে সেই হারে জিহাদের উপর বিশ্বাসীর সংখ্যাও কমছে। কেননা, আমাকে মাসীহ মওঊদ এবং ইমাম মাহদী মেনে নেয়াই ‘জিহাদ’ অস্বীকার করা।” (দেখুন, মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত খন্ড ৩ পৃষ্ঠা ১৯)।

[১৫] নবুওত দাবীদারের উপর মির্যা কর্তৃক অভিশাপ অতপর নিজেই নবুওত দাবী করেনঃ

“এটা একদম সুস্পষ্ট যে, আমরাও নবুওত দাবিদারের উপর অভিশাপ করে থাকি।” (দেখুন মাজমু’আয়ে ইশতিহারাতঃ খন্ড নং ২ পৃষ্ঠা ২৯৭-৯৮)।

“আমি হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) এর পর অন্য যে কোনো নবুওত এবং রেসালত দাবিদারকে মিথ্যাবাদী এবং কাফের মনে করি।” (দেখুন মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২৩০)।

মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত

“আমার দাবী, আমি একজন নবী ও রাসূল।” (দেখুন মালফুযাত [নতুন এডিশন] খন্ড নং ৫ পৃষ্ঠা ৪৪৭)।

মালফুযাত

“সত্য খোদা তো সেই খোদা যিনি কাদিয়ানে আপনা রাসূল প্রেরণ করেছেন।” (দেখুন দাফেউল বালা [বাংলা অনূদিত] পৃষ্ঠা নং ১২, রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ১৮ পৃষ্ঠা নং ২৩১)। উল্লেখ্য মির্যা সাহেব নিজেই নিজের ফতুয়াতে অভিশপ্ত, মিথ্যাবাদী এবং কাফের সাব্যস্ত হলেন।

দাফেউল বালা

[১৬] ঈসা (আঃ)-কে জীবিত ও সশরীরে আকাশে বিশ্বাসকরা শিরক কিন্তু মূসা (আঃ)-কে জীবিত ও আকাশে বিশ্বাসকরা ফরজঃ

(ক) “এ কথা বলা যে, ঈসা (আঃ) মারা যাননি, এটি সুস্পষ্ট শিরিকি কথা।” (দেখুন রূহানী খাযায়েন খন্ড ২২ পৃষ্ঠা ২৬০)।

(খ) “ইনি সেই মূসা মর্দে খোদা। পবিত্র কুরআনে যার হায়াতের প্রতি ইংগিত রয়েছে যে, তিনি আকাশে (সশরীরে) জীবিত বিদ্যমান এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেননি; তিনি মৃতদের অন্তর্ভুক্তও নন – এসবে ঈমান রাখা আমাদের উপর ফরজ।” (দেখুন, নূরুল হক ১ম খন্ড পৃষ্ঠা নং ৫০; রূহানী খাযায়েন খন্ড ৮ পৃষ্ঠা ৬৮-৬৯)।

প্রিয় সচেতন দেশবাসী ভাই ও বোনেরা! এই তো অতি সামান্য। আরো বহু আপত্তিকর উক্তির প্রমাণ আছে। কিন্তু তার অনুসারী আহমদী বা কাদিয়ানিরা মির্যার বইগুলো পড়ার যোগ্যতা রাখেনা বলেই আজ তাদের নিকট এই উদ্ধৃতিগুলো মিথ্যা এবং বানোয়াট মনে হওয়াই স্বাভাবিক।

পরিশেষঃ দীর্ঘ আলোচনা শেষে আমি প্রমাণ করলাম যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এবং তার অনুসারী আহমদিয়া (কাদিয়ানী) জামাত পবিত্র ইসলামধর্ম থেকে সম্পূর্ণরূপে বাহিরে। এই সম্প্রদায়টি মূলত ব্রিটিশ সাম্রাবাদের-ই লাগানো চারাগাছ। ভারতবর্ষের ইতিহাস তারই সুস্পষ্ট প্রমাণবহন করছে। তাই আমাদের সবার একটাই দাবী, তা হল পাকিস্তান গভমেন্ট ১৯৭৪ সালের ৭ ই সেপ্টেম্বর সংবিধানের ২৬০ দফা অনুচ্ছেদের যেই ধারায় কাদিয়ানিদের ইসলাম বহির্ভূত “অমুসলিম সংখ্যালঘু” স্বতন্ত্র একটি ধর্মের অনুসারী ঘোষণা দিয়েছিল সেই একই ধারায় এদেশেও তাদের “অমুসলিম সংখ্যালঘু” ঘোষণা দেয়া হোক।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি লিখার লিংক :

  • ১. মির্যা কাদিয়ানীর নবী দাবীর ১৫টি রেফারেন্স Click

লেখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

যেকোনো একটা মাযহাবের পরিপূর্ণ অনুসরণ করার যৌক্তিকতা

0

যেকোনো একটা মাযহাবের পরিপূর্ণ অনুসরণ করার যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে :

পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলিম মুফতি তারিক মাসউদ একটি চমৎকার ঘটনা বলেছেন। তিনি তাঁর লম্বা বয়ানের এক স্থানে বলেছেন :

তারেক মাসউদ হাফিঃ

“এক লোক স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে আমার কাছে এসে জানতে চাইল, -‘মুফতি সাহেব, স্ত্রীকে একত্রে তিন তালাক দিলে কি তিন তালাক হয়?’

আমি বললাম, ‘জ্বি, হয়ে যায়।’

-‘কিন্তু, সৌদি আরবের বড় আলেম বিন বায রহ. তো বলেছেন, ‘হয় না’। তিনি তো কুরআন-সুন্নাহর আলোকেই বলেছেন।’

-‘আপনি সাহাবীদের আমল, আইম্মায়ে আরবা’আর সর্বসম্মত মত ও ইজমার সাথে শাইখ বিন বায রহ.-এর মতের তুলনা করছেন! তিনি অবশ্যই বড় আলেম ছিলেন; তবে এক্ষেত্রে তিনি বিচ্ছিন্ন অভিমত দিয়েছেন। এমন বিচ্ছিন্ন অভিমত অনুসরণীয় নয়।’

-‘না. না… না… তিনি তো কুরআন-সুন্নাহর আলোকেই ফাতওয়া দিয়েছেন। আমি শুধু কুরআন-সুন্নাহ মানি।’

-‘ঠিক আছে। আপনি যদি বিন বায রহ. এর এই বিচ্ছিন্ন ফতোয়া মানেন তাহলে শায়খের আরেকটা ফাতওয়া আছে। ওটাও মানুন। শাখ বিন বায রহ. বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেয় তাহলে সে কাফির-মুরতাদ হয়ে যায়। স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যায়।’ এটাও মানবেন আশা করি।’

‘না, না। এটা ঠিক না…।’

তখন আমি বললাম, ‘আপনি মাঝে মাঝে নামায ছেড়ে দেন। শায়খ বিন বায রহ. এর ওই ফতোয়া মানলে তো পৃথিবীর কোনো নারীর সাথেই আপনার বিয়ে টিকবে না। কাজেই কারো কথা এক মাসআলায় মানবেন, অন্য মাসআলায় মানবেন না। এর নাম ইসলাম নয়।”

সংগ্রহীত

কুরআন ও হাদীসের আলোকে হযরত ইদ্রিস (আ:) এর মৃত্যু কোথায় হয়েছিল?

0

কুরআন ও হাদীসের আলোকে হযরত ইদ্রিস (আ:) এর মৃত্যু কোথায় হয়েছিল?

এই যে দেখতে পাচ্ছেন এটা কি জানেন? এটি বিখ্যাত যুগ ইমাম ও মুফাসসির বরেণ্য মুহাদ্দিস আল্লামা ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (রহ:)-এর সংকলিত ‘তাফসীর’ তাফসীরে জালালাইন এর একটি পৃষ্ঠা (অনলাইন ভার্সন)।

যাইহোক, আজ হযরত ইদ্রিস (আ:) সম্পর্কে কিছু লিখব। কেননা সূরা মরিয়ম আয়াত নং ৫৭ এর ‘রাফা‘ শব্দ নিয়েও কাদিয়ানীরা দুরভিসন্ধিমূলক কতেক ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হয়ে যায়। আজ অতিব সংক্ষেপে সেটির খন্ডন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

প্রথমেই ইদ্রিস (আ:)-এর অন্যতম কতেক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানুন। জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিত হলো আল্লাহর তরফ থেকে আসা ঐশী বাণী যা হযরত ইদ্রিস (আ:)-এর মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রথম বিকাশ ঘটে। শুধু তাই নয়, তিনিই প্রথম ব্যক্তি আল্লাহ যাঁকে ‘ওয়া রাফা’নাহু মাকা-নান আলিয়্যা’ বলে আকাশে স্বশরীরে জীবিত উঠিয়ে নেয়ার কথা পবিত্র কুরআনে আমাদের জানিয়েছেন। তিনি ছাড়াও পরবর্তীতে আল্লাহতালা যথাক্রমে হযরত ঈসা (আ:)-কে ক্রুশীয় ঘটনাকালে এবং শেষনবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মেরাজের ঘটনাকালে স্বশরীরে আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন।

হযরত ইদ্রিস (আ:)-এর আলোচনা আসলেই গণিতবিদ্যা আর জ্যোতির্বিদ্যার প্রসঙ্গ অটোমেটিকেলি সামনে চলে আসে। যদিও বা উক্ত শিক্ষাদুটিকে আজকাল কেউ কেউ অবজ্ঞা করেন। এসব আসলে তাদের অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। আপনারা হয়তো অনেকেই হযরত ইদ্রিস (আ:) এর নাম পর্যন্ত শোনেননি বা চিনেন না জানেন না। তাই গণিতের জন্মকথা বলার আগে পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে হযরত ইদ্রিস (আ:)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়ের কিছুটা তুলে ধরছি।

সূরা মরিয়মে উল্লেখ করা হয়েছে : “এই গ্রন্থে উল্লেখিত ইদ্রিসের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, সে ছিল সত্যবাদী নবী। আমি তাঁকে সুউচ্চে তুলে নিয়েছি।” এই আয়াতের তাফসীর থেকে জানা যায়, এখানে ইদ্রিস (আ:)-এর কথা বর্ণনা করা হয়েছে; তিনি ছিলেন একজন সত্যনবী এবং আল্লাহ তাআলার একজন বিশিষ্ট বান্দা। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুউচ্চে তুলে নিয়েছেন।

হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণিত আছে, মেরাজ গমনকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস সাল্লামের সাথে হযরত ইদ্রিস (আ:)-এর সাক্ষাত ঘটেছিল। এ নিয়ে ইমাম ইবনে জারীর (রহ:) একটি অতি বিস্ময়কর হাদীস তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রা:) কা’আব ( রা:)-কে “ওয়া রাফা’নাহু মাকা-নান আলিয়্যা” (وَّ رَفَعۡنٰہُ مَکَانًا عَلِیًّا)- আয়াতের ভাবার্থ জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেন: “আল্লাহ তা’আলা হযরত ইদ্রিস (আ:)-কে ওহী করেন – ‘আদম সন্তানের আমলের সমান তোমার একার আমল আমি প্রতিদিন উঠিয়ে থাকি। কাজেই আমি পছন্দ করি যে, তোমার আমল বৃদ্ধি পাক।’ অতঃপর তাঁর নিকট একজন বন্ধু ফেরেশতা আগমন করলে তিনি তাঁর কাছে বলেন – ‘আমার নিকট ওহী এসেছে; অতএব আপনি মৃত্যুর ফেরেশতাকে বলে দিন তিনি যেন একটু দেরি করে আমার জান কবজ করেন, যাতে আমার আমল বৃদ্ধি পায়।” তারপর ওই বন্ধু ফেরেশতা তখন তাঁকে নিজের পালকের উপর বসিয়ে নিয়ে আকাশে উঠে যান এবং চতুর্থ আসমানে গিয়ে মালাকুল মাউত অর্থাৎ হযরত আজরাইল ফেরেশতার সাক্ষাত পান। ওই ফেরেশতা মালাকুল মাউত ফেরেশতাকে হযরত ইদ্রিস (আ:)-এর ব্যাপারে সুপারিশ করলে মৃত্যুর ফেরেশতা বন্ধু ফেরেশতাকে জিজ্ঞেস করেন, “তিনি কোথায় আছেন?” উত্তরে বন্ধু ফেরেশতা বলেন, “এই তো তিনি আমার পালকের উপর বসে আছেন।”

মৃত্যুর ফেরেশতা তখন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “সুবহানাল্লাহ! আমাকে এখনই নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেন ইদ্রিস (আ:)-এর রূহ চতুর্থ আসমান থেকে কবজ করি। কিন্তু আমি চিন্তা করছিলাম – ইদ্রিস (আ:) তো আছেন জমিনে, চতুর্থ আসমান থেকে তাঁর রূহ কবজ করবো কিভাবে?” অতঃপর তৎক্ষণাৎ মৃত্যুর ফেরেশতা হযরত ইদ্রিস (আ:)-এর রূহ কবজ করে নেন।

উক্ত রেওয়ায়েতটিই অন্য এক সনদে এভাবে এসেছে – হযরত ইদ্রিস (আ:) বন্ধু ফেরেশতার মাধ্যমে মালাকুল মাউত ফেরেশতাকে জিজ্ঞাস করেছিলেন, “আমার হায়াত আর কত দিন বাকী আছে?” অন্য আরেক হাদীসে আছে তাঁর এই প্রশ্নের উত্তরে মালাকুল মাউত বলেছিলেন, “আমি লক্ষ্য করছি, চক্ষুর একটা পলক ফেলার সময় মাত্র বাকী আছে।” বন্ধু ফেরেশতা তাঁর পলকের নিচে তৎক্ষণাৎ তাকিয়ে দেখেন, হযরত ইদ্রিস (আ:)-এর জান এরই মধ্যে কবজ করা হয়ে গেছে।

হযরত মুজাহিদ (রহ:) বলেন – হযরত ইদ্রিস (আ:)-কে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, তিনি [জমিনে] মৃত্যুবরণ করেননি, বরং তাঁকে হযরত ঈসা (আ:)-এর মতো জীবিত উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আউফী (রহ:)-এর রেওয়ায়েতের মাধ্যমে ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত আছে – হযরত ইদ্রিস (আ:)-কে ষষ্ঠ আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল, আর সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী এবং ইবনে কাসীর এই দু’জনের মতামত কী?

ইমাম সুয়ুতি (রহ:) এর মতও পবিত্র কুরআনের (১৯:৫৭) অনুসারে হযরত ইদ্রিস (আ:)-কে চতুর্থ আকাশে স্বশরীরে উঠিয়ে নেয়ার কথাই বুঝানো উদ্দেশ্য। তবে কারো কারো মতে, ষষ্ঠ বা সপ্তম আকাশে উঠিয়ে নেয়ার কথাও এসেছে। আল্লাহতায়ালা তাকে সেখানেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করিয়েছেন অতপর তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন। ইমাম ইবনে কাসীর (রহ:) হতেও অনুরূপ মত রয়েছে। ইমাম ইবনে কাসীর (রহ:) লিখেছেন : (আল কুরআন /১৯:৫৭) ‘আমরা তাঁকে উন্নীত করেছিলাম সুউচ্চ স্থানে অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা ইদ্রিস আলাইহিস সালামকে সুউচ্চ স্থানে উঠিয়ে নিয়েছেন এর উদ্দেশ্য এই যে, তাঁকে উচ্চ স্থান তথা আকাশে অবস্থান করার ব্যবস্থা করেছেন (তাফসীরে ইবন কাসীর)। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন আমাকে আকাশে উঠানো হয়েছিল মেরাজের রাত্ৰিতে আমি ইদ্রিসকে চতুর্থ আসমানে দেখেছি।” (তিরমিয়ী : ৩১৫৭)। তবে ইবনে কাসীর (রহ:) এই সম্পর্কে বলেছেন : এটা কা’আব আল-আহবারের ইসরাঈলী বৰ্ণনাগুলোর অন্যতম। সম্ভবত এইজন্যই কেউ কেউ আয়াতটির ‘স্বশরীরে উঠিয়ে নেয়া’র ভিন্ন অর্থ—তাঁকে উঁচু স্থান জান্নাতে দেয়া হয়েছে অথবা তাঁকে নবুওয়ত ও রিসালাত দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে, উদ্দেশ্য নিয়েছেন। যাইহোক, উদ্দেশ্য যে কোনোটাই হতে পারে। তবে আকাশে স্বশরীরে উঠিয়ে নেয়ার পক্ষেই ক্বারীনা বা ইংগিত শক্তিশালী। কেননা আয়াতের ‘রাফা’ এমন একটি সকর্মক ক্রিয়াপদ যার ‘কর্ম‘ বা Object (ه/ادريس) সত্তাবাচক। যেজন্য তাফসীরকারকদের বেশিরভাগই মনে করেন যে, এখানে রাফা শব্দটি রূপক কোনো অর্থকে (মর্যাদা উন্নীত করা বা নবুওয়ত ও রিসালত দ্বারা সম্মান বৃদ্ধি করা) বুঝাবেনা।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যা কাদিয়ানীর গালিগালাজ

0

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কি গালিগালাজও করত?

নীতিবাক্য : মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী লিখেছেন, কোনো খারাপ কথা মুখে আনা আমার স্বভাব পরিপন্থি। (রূহানী খাযায়েন ৪/৩২০) তিনি তার রচনায় এও দাবী করে লিখেছেন, আল্লাহ তা’আলা তাকে নাকি সুন্দর চরিত্র দিয়ে পাঠিয়েছেন। (রূহানী খাযায়েন ১৭/৪২৬)।

মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের গালিগালাজ :

অথচ মানুষকে গালিগালাজের যে লম্বা তালিকা মির্যা সাহেব তার বই-পুস্তকে রেখে গেছেন তা সত্যিই একজন ভদ্র মানুষের ক্ষেত্রে ভাবা কঠিন। কোনো নবী রাসূল তো দূরের কথা, ন্যূনতম একজন সৎ এবং ভদ্র মানুষের জন্যও তা কল্পনা করা যায় না। নমুনা স্বরূপ কয়েকটি দেখুন :

১. খানকীর ছেলে। (রূহানী খাযায়েন ৫/৫৪৮)।
২. মিথ্যার গু খাদক। (রূহানী খাযায়েন১১/৩৩৪)।
৩. কুত্তা। (রূহানী খাযায়েন ১২/১২৮)।
৪. হিন্দুর বাচ্চা। (রূহানী খাযায়েন ১১/৫৯)।
৫. শুয়োর। (রূহানী খাযায়েন ১১/৩৩৭)।
৬. বেশ্যার বংশ। (রূহানী খাযায়েন ৮/১৬৩)।
৭. হে মরা খাওয়া মওলভী। (রূহানী খাযায়েন ১১/৩০৫)।
৮. আঁধারের কীট। (রূহানী খাযায়েন ১১/৩০৫)।
৯. হে নাপাক দাজ্জাল। (রূহানী খাযায়েন ১১/৩৩০)।
১০। হে পেঁচা। (রূহানী খাযায়েন ২১/৩৩২)।
১১. নাপাক মোল্লারা। (রূহানী খাযায়েন ১৪/৪১৩)।
১৫. নিকৃষ্ট নাপাক। (রূহানী খাযায়েন ১৪/৪১৩)।
১৬. হারাম-জাদাহ। (রূহানী খাযায়েন ৯/৩১)।
১৭. শুয়োরের চেয়ে বেশি নাপাক। (রূহানী খাযায়েন১১/৩০৫)।
১৮. খান্নাস। (রূহানী খাযায়েন ১১/১৭ [টিকা] দ্র.)
১৯. দুনিয়ার কীট। (রূহানী খাযায়েন ২১/৩১১)।
২০. তাদের উপর হাজার লা’নত। (রূহানী খাযায়েন ১১/৩৩০)।
২১. বিশ্বাসঘাতক। (রূহানী খাযায়েন ১৯/১৯০)।

মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের গালিগুলো কাদেরকে উদ্দেশ্যে করে?

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব এই গালিগুলোর অধিকাংশই আলেম-উলামাদের উদ্দেশ্যে ছুঁড়েছেন। তার সমকালীন সময়ে ইলমে দ্বীনের আলোচিত খাদেম, উম্মতের আস্থাভাজন কোনো আলেমই মির্যা সাহেবের এ কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ থেকে বাঁচতে পারেননি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, মির্যা সাহেব তৎকালীন দখলদার ব্রিটিশের মত জালিম স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো কথা বলেছেন বা তাদের গালি দিয়েছেন বলে কোনোই দৃষ্টান্ত নেই।

দখলদার ব্রিটিশ সরকার সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানীর অভিব্যক্তি :

মির্যা সাহেব নিজেই লিখেছেন, আমার কথার মধ্যে ইংরেজদের বিরুদ্ধে কখনও কোনো বক্তব্য থাকবে না। আমরা এ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। কেননা আমরা তার কাছে আরাম ও শান্তি পাই। (রূহানী খাযায়েন ২৩/৪৮৪)।

আরো লিখেছেন, আমার শিরা-উপশিরায় ব্রিটিশ সরকারের কৃতজ্ঞতা বহমান। (রূহানী খাযায়েন ৬/৩৭৮)।

তিনি আরও লিখেছেন, আমার জীবনের অধিকাংশই অতিবাহিত হয়েছে ব্রিটিশ সরকারকে সুদৃঢ় আর সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে। (রূহানী খাযায়েন ১৫/১৫৫-৫৬)। চিন্তার বিষয় যে, আল্লাহ যাকে ইমাম মাহদী করে পাঠাবেন তার জীবনের অধিকাংশই নাকি সমসাময়িককালীন এমন একটি সরকারের সহযোগিতায় অতিবাহিত হবে যেই সরকার খ্রিস্টান এবং স্বৈরাচারী! ভাবিয়ে তুলে কিনা? স্ক্রিনশট দেখুন,

তিনি আরও লিখেছেন, ব্রিটিশ সরকার তোমাদের জন্য রহমত ও বরকত স্বরূপ। (মজমু’আয়ে ইশতিহারাত ২/৭০৯)।

তিনি আরও লিখেছেন, ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্য ইসলামেরই একটি অংশ। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮০)। স্ক্রিনশট দেখুন

তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অজ্ঞ, নোংরা ও পাপী ইত্যাদি শব্দে কটুক্তি করে গেছেন। (দেখুন, বারাহীনে আহমদিয়া বাংলা অনূদিত ৩/৮; প্রকাশকাল ডিসেম্বর ২০১৭ ইং)। স্ক্রিনশট দেখুন

তিনি নিজেকে সুস্পষ্টভাবে ব্রিটিশ সরকারের রোপিত চারাগাছ বলেও স্বহস্তে লিখে গেছেন। দেখুন, মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত (উর্দূ) ৩/২১-২২, নতুন এডিশন। সংক্ষেপে দু’চারটে কথা লিখলাম। নতুবা এই তালিকা অনেক দীর্ঘ। স্ক্রিনশট দেখুন

কী বুঝলাম?

বুঝলাম যে, মির্যা কাদিয়ানী মূলত ব্রিটিশ সরকারেরই সৃষ্ট। ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য এবং জিহাদকে নিষ্প্রভ করার জন্যই তারা তাকে দাঁড় করিয়েছিল। যেজন্য তাকে প্রথমে ইমাম মাহদী অতপর প্রতিশ্রুত মসীহ ঈসা হওয়ার দাবী করতে হয়েছে। কেননা সে ভালো করেই জানত যে, জিহাদ নিষ্প্রভ করার ঘোষণা দিতে হলে তাকে একই সাথে মসীহ দাবী করাও বাধ্যতামূলক। কারণ হাদীসে এসেছে, ওয়াইয়াদ্বা’উল হার্বু। অর্থাৎ মসীহ’র যুুুগে লড়াই স্থগিত হয়ে যাবে।

আশাকরি বুঝতেই পারছেন যে, ব্রিটিশরা খেলাটা কিভাবে খেলেছে! অথচ ইতিহাস সাক্ষী, কোনো রিফর্মার বা আল্লাহ প্রেরিত মহাপুরুষ তাদের সমসাময়িককালের স্বৈরশাসকদের কখনো অনুগত ছিলেননা, বরং আমৃত্যু তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়েছেন। আহ! কাদিয়ানী সম্প্রদায় এসব কেন যে ভেবে দেখেনা! উপরন্তু তারা মনে করছে, মির্যা কাদিয়ানীই মসীহ এবং একজন নবী! নাউযুবিল্লাহ।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

প্রতিশ্রুত ঈসা (আ:) দ্বিতীয়বার এসে হজ্জ্ব পালন করবেন

হযরত ঈসা (আ.) পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার এসে হজ্জ্ব করার উপর কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যমূলক আপত্তি উত্থাপন ও তার খন্ডন,

প্রতিশ্রুত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) শেষযুগে পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার যখন আসবেন তখন তিনি হজ্জ্ব এবং উমরাহ পালন করবেন। সহীহ মুসলিম শরীফের একটি হাদীসে রাসূল (সা.) হতে প্রতিশ্রুত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে এমনি ভবিষ্যৎবাণী উল্লেখ রয়েছে। (রেফারেন্স : সহীহ মুসলিম [হাঃ একাডেমী] হাদীস নং ২৯২০)।

বলাবাহুল্য যে, উল্লিখিত হাদীসে ঈসা (আ.)-এর শুধুই তালবিয়াহ্ পাঠ করা সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে তিনি ইহরাম কোথা হতে বেঁধে হজ্জ্বের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন সে সম্পর্কে কোনো কথারই উল্লেখ নেই। তবে বহু সহীহ হাদীস আর ভৌগোলিক বিচার বিশ্লেষণ দ্বারা খুব জোরালোভাবে সাব্যস্ত হচ্ছে যে, ঈসা (আ.) দামেস্কের পূর্বপ্রান্তে ও জেরুজালেমের নিকটবর্তী আফীক[1] নামক শহরের উঁচু জায়গায় অবতরণের পর তিনি যথাসময় সেখান থেকেই হজ্জ্বের ইহরাম বেঁধে মক্কার উদ্দেশ্যে (উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে) মদীনারই অন্তবর্তী এলাকা ‘রাওহা’ উপত্যকায় কাফেলা সহ এসে পৌঁছুবেন। তারপর সেখান থেকে তালবিয়াহ পাঠ আরম্ভ করবেন। কেননা হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা.) নিজেও কখনো কখনো হজ্জ্ব আর উমরাহ করার উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে রাওহা উপত্যকায় নির্মিত ‘মসজিদে রাওহা’-তে অবতারণ করতেন। সেখান থেকেই তিনি ইহরাম ও তালবিয়াহ পাঠ আরম্ভ করে দিতেন। (ইমাম ইবনে জওযীর ‘আলওয়াফা’ এর সূূত্রে উইকিপিডিয়া [আরবি])। অতএব, কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যমূলক সমুদয় আপত্তি পুরোপুরি অসার বলেই সাব্যস্ত হল ! (আল্লাহু আ’লাম)।

[1] ‘আফিক’ বা ‘আফেক’ হচ্ছে হিব্রু বাইবেলে উল্লিখিত তিনটি স্থানের নাম। এটি প্রাচীন একটি শহর, যেটি খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বর্তমানে শহরটি ভৌগোলিক দিক থেকে শামের অন্তর্ভুক্ত ও ফিলিস্তিনের অংশ, ইসরায়েল সেটিকে বর্তমানে জোরপূর্বক দখলে রেখেছে। শহরটির নিকটবর্তী নদীর তলদেশ অনুসারে সেটিকে ‘আফিক’ নামে নামকরণ করা হয়েছে, যেখানে ভারী বৃষ্টিপাতের পরে দ্রুত প্রবাহমান স্রোতধারা উঠে আসে।

স্ক্রিনশট :

এক নজরে রাওহা’র ভৌগোলিক অবস্থান :

মক্কা হতে জেরুজালেম (দক্ষিণ -উত্তরে) দূরত্ব ১৪৭৮ কি:মি:| (চারচাকা গাড়ির গতিবেগে) সময় ১৫:৫৩/মি.।

মক্কা হতে রাওহা উপত্যকা (দক্ষিণ -উত্তরে) দূরত্ব ৩৪৬.৪ কি:মি:|সময় ০৩:২৩/মি.।

রাওহা উপত্যকা হতে মদীনা (দক্ষিণ -উত্তরে) দূরত্ব ১০৪ কি:মি:|সময় ০১:০৭/মি.।

মদীনা হতে জেরুজালেম তথা বায়তুল মুকাদ্দাস (দক্ষিণ -উত্তরে) দূরত্ব ১২০০ কি:মি:|সময় ১৩:১৫/মি.।

এখানে জানিয়ে দিতে চাই যে, হযরত ঈসা (আ.) যেই রাওহা উপত্যকার সন্নিকটবর্তী হয়ে হজ্জ্বের তালবিয়াহ পাঠ আরম্ভ করবেন বলে সহীহ মুসলিম শরীফে এসেছে, মক্কার কেন্দ্র থেকে সেটির দূরত্ব ৩৪৬.৪ কিলোমিটার আর রাওহা অঞ্চলের উত্তরের প্রান্তসীমা থেকে মদীনার কেন্দ্রের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার। কারণ রাওহা উপত্যকা ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিস্তৃত এলাকা। (সূত্র : আধুনিক গুগোল ম্যাপ)। এবার হাদীসটি দেখুন :-

অধ্যায়ঃ ১৬। হজ্জ্ব (كتاب الحج); হাদিস নম্বর : ২৯২০

(আরবী) باب إِهْلاَلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهَدْيِهِ ‏ وَحَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، قَالَ سَعِيدٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ حَنْظَلَةَ الأَسْلَمِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيُهِلَّنَّ ابْنُ مَرْيَمَ بِفَجِّ الرَّوْحَاءِ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا أَوْ لَيَثْنِيَنَّهُمَا

২৯২০-(২১৬/১২৫২) সাঈদ ইবনু মানসূর, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহ.) …… আবু হোরায়রাহ (রা.) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! মরিয়ম পুত্র ঈসা (আ.) নিশ্চিত রাওহা উপত্যকায় হজ্জ্ব (হাজ্জ/হজ)  অথবা উমরাহ অথবা উভয়ের তালবিয়াহ্ পাঠ করবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২৮৯৬, ইসলামীক সেন্টার ২৮৯৫)।

ফুটনোট :

এখানে দুটো প্রশ্ন থাকে :-

প্রশ্ন ১ :

রাওহা উপত্যকা কোথায়? সাহাবীদের যুগেও রাওহা উপত্যকা হতে হজ্জ্ব বা উমরাহ এর জন্য তাদের তালবিয়াহ্ পাঠকরার দৃষ্টান্ত আছে কি?

জবাবে বলা হবে যে, ‘রাওহা‘ এটি মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী ২৫ কিলোমিটার বিস্তৃত মদীনারই একটি উপত্যকা। উইকিপিডিয়া (আরবী) দ্রষ্টব্য। ফলে এটি ‘যুল-হুলাইফাহ’ নামক মীকাতের ভুগৌলিক সীমানারই অন্তর্ভুক্ত। ইমাম বুখারী’র শায়খের শায়খ ইমাম আবূ বকর ইবনু আবী শাইবা’ (রহ.) তিনি হযরত ইয়াকুব ইবনে যায়েদ (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন

: كان اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم لايبلغون الروحاء حتى تَبُح أصواتهم من التلبية

অর্থ : রাসূল (সা)-এর সাহাবীরা ‘রাওহা’ উপত্যকায় পৌঁছার আগ পর্যন্ত উচ্চাওয়াজে তালবিয়াহ্ পাঠ করতেন না। (মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৩/৩৭২; হাদীস নং ১৫০৫১, মান সহীহ)। অতএব, সাহাবীদের যুগেও রাওহা উপত্যকা হতে হজ্জ্ব বা উমরাহ এর জন্য তাদের তালবিয়াহ্ পাঠকরার দৃষ্টান্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেল এবং হাদীসটির ন্যায় উক্ত হাদীস ঈসা (আ.) এর হজ্জ্বের তালাবিয়াহ্ পাঠের স্থান সম্পর্কেও জানান দিলো।

স্ক্রিনশট :

প্রশ্ন ২ :

সহীহ বুখারীর কিতাবুল হাজ্জ্ব পর্বে হজ্জ্বের মীকাত মাত্র ৪টির উল্লেখ আছে। সেখানে মদীনার সীমান্তবর্তী যে কোনো হজ্জ্ব পালনকারীর ইহরামের ক্ষেত্রে ‘যুল-হুলাইফা’ নামক মীকাতের বর্ণনা এসেছে। অর্থাৎ যুল-হুলাইফা নামক স্থান অতিক্রম করার আগেই ইহরাম বাঁধা আবশ্যক যেভাবে আমাদের বাংলাদেশীরা এয়ারপোর্ট থেকে ইহরাম অবস্থায় ‘ইয়ালামলাম‘ নামক মীকাত অতিক্রম করে থাকে। তো ঈসা (আ.) রাওহা উপত্যকা হতে তালবিয়াহ্ পাঠ আরম্ভ করবেন বুঝলাম কিন্তু উনার মীকাত হিসেবে ওই চারখানা মীকাতের কোনটি ধর্তব্য হবে?

জবাবে বলব, আর যেহেতু ‘রাওহা’ উপত্যকা ‘যুল-হুলাইফাহ’ নামক মীকাতের ভুগৌলিক সীমানারই অন্তর্ভুক্ত হওয়াই প্রমাণিত সেহেতু হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্য ওই স্থান থেকেই হজ্জ্বের তালবিয়াহ্ পাঠ করা প্রকারান্তরে ‘যুল-হুলাইফাহ’ থেকেই ইহরাম সহ তালবিয়াহ্ পাঠ করার নামান্তর। সুতরাং কাদিয়ানীদের দৃষ্টিতে সহীহ বুখারীর উক্ত মীকাত শীর্ষক হাদীসের সাথে মুসলিম শরীফের উল্লিখিত হাদীসের বৈপরীত্য থাকার যেই আপত্তি উত্থাপন করা হয় তজ্জন্য মূলত ‘রাওহা‘ এর ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে তাদের চরম অজ্ঞতা কিংবা মতলবসিদ্ধ অসৎ উদ্দেশ্যই দায়ী! আশাকরি উত্তর পেয়েছেন।

মির্যা কাদিয়ানীর প্রকৃত পরিচয় Click

কাদিয়ানীদের জন্য দুঃসংবাদ :

কাদিয়ানীদের জন্য দুঃসংবাদ যে, উক্ত হাদীসটি ‘কসম’ সহ বর্ণিত হওয়ায় তার সংবাদটি বাহ্যিক অর্থেই পূর্ণ হবে এর রূপক অর্থ করা যাবেনা। অন্যথা কসম করে কী লাভ হল? মির্যা কাদিয়ানী থেকেও ‘কসম’ সম্বলিত হাদীস সম্পর্কে অনুরূপ মতই উল্লেখ আছে। (দেখুন, হামামাতুল বুশরা [বাংলা] পৃষ্ঠা নং ২৭)।

শেষকথা : ভারতীয় বংশোদ্ভূত নবুওয়তের দাবীদার মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকেই ইমাম মাহদী এবং প্রতিশ্রুত ঈসা ইবনে মরিয়ম হওয়ার দাবীও করেছিল। তার অনুসারিরা তাকে একজন রূপক মসীহ বলেও বিশ্বাস করে। অথচ মির্যা কাদিয়ানী জীবনে কখনো হজ্জ্ব বা উমরাহ কোনোটাই করতে পারেনি। আমরা যদি সহীহ মুসলিম শরীফে উল্লিখিত হাদীসটির মানদণ্ডেও মির্যাকে পরিমাপ করতে চাই তাতেও যথেষ্ট হবে যে, হাদীসে বর্ণিত প্রতিশ্রুত সেই মসীহ ঈসা আর যেই হবেনা কেন—সে অন্তত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী হতে পারেনা!! বিষয়টি তার অনুসারীদের অবশ্যই ভাবিয়ে তুলতে সাহায্য করবে, ইনশাআল্লাহ।

স্ক্রিনশট :

পরিশেষে রাসূল (সা.) এর সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎবাণীটি আপনাদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে দিতে চাই যে, রাসূল (সা.) ঈসা (আ.) সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন : নিশ্চয়ই ঈসা মৃত্যুবরণ করেননি। নিশ্চয়ই তিনি কেয়ামতের পূর্বে তোমাদের নিকট ফিরে আসবেন। (তাফসীরে তাবারী, ৫/৪৪৮)।

স্ক্রিনশট :

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

কোন ফেরকার ইসলামে ফিরে আসব—কাদিয়ানীদের প্রশ্নের উত্তর

কাদিয়ানীদের প্রশ্নের উত্তর : কোন ফেরকার ইসলামে ফিরে আসব?

কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যমূলক প্রশ্ন : কাদিয়ানীয়ত ছেড়ে কোন ইসলামে ফিরে যেতে চান? শীয়া, সুন্নী, হানাফী, মালেকী…..দেওবন্দী, বেরলবী….ইত্যাদী কোন ফেরকার ইসলামে ফিরে গেলে সঠিক ইসলামে ফিরে যাওয়া হবে?

আমার উত্তর : (পিকচারটি দ্রষ্টব্য)।

প্রথমকথা হল, মনে করুন কাদিয়ানীয়ত ছেড়ে কেউ এদের যে কোনাে একটিতে চলে গেল! অন্ততপক্ষে তাতেও তার ঈমানটা বাঁচবে, ইনশাআল্লাহ। কেননা সে মুহাম্মদ (সা:)-এর পরে দ্বিতীয় আর কাউকে নবী মেনে নেয়া থেকে রক্ষা পেল। ফলে তার আমলের দুর্বলতার কারণে সাময়িক শান্তি ভােগ করলেও একটি সময় ঈমানের কারণে সে নাজাত পাবে।

দ্বিতীয়কথা হল, প্রশ্নে বর্ণিত নামগুলাের মধ্যে শীয়া হল ইসলামের একটি পুরনাে ফেরকা। তাদের বিচারে তারাও সঠিক। বিপরীতে অন্যগুলাের মধ্যে হানাফী শাফেয়ী মালেকী আর হাম্বলী এই চারটি ভিন্ন ভিন্ন কোনাে ফেরকাই নয়, বরং ফিকহি মাসয়ালায় চারজন বিশিষ্ট ফকিহ ও মুজতাহিদ ইমামের চারটি ফিকহ (মাযহাব) বা গবেষণালব্ধ বুঝের দালিলিক ভিন্নতা মাত্র। মূলত কুরআন হাদীসের আলােকে পরিপূর্ণ চলার পথ-ই এককথায় মাযহাব’। সামগ্রিক বিচারে চারোে মাযহাবই আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। তারপর আহলে হাদীস, চরমােনাই, জামাতে ইসলামী ইত্যাদী এগুলাের কোনাে কোনােটি রাজনৈতিক দল আবার কোনােটি পীর মুরশিদি তরিকা, কোনাে কোনােটি মানহাজ মাত্র; আলাদা কোনাে ফেরকা নয়। যেহেতু ফেরকা, মানহাজ, পলিটিকাল পার্টি ও মাযহাব এগুলাে ভিন্ন ভিন্ন জিনিস।

কাদিয়ানীদের নিকট আমার প্রশ্ন হল, আপনারা অন্যদের মত যদি ইসলামী কোনাে ফেরকা কিংবা আহলে সুন্নাহর অন্তর্গত কোনাে মুসলিম সংগঠন হয়ে থাকেন তাহলে মির্যা কাদিয়ানীও কলেমা’র মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র মর্মার্থে শামিল—এমন কুফুরী কথাও আপনাদের ‘কালিমাতুল ফছল’ বইতে উল্লেখ থাকবে কেন? কিংবা মির্যা কাদিয়ানীকে ত্যাগ করার দরুন কোনাে ব্যক্তি মুরতাদ আখ্যায়িত হবে কেন? তাই অপ্রিয় হলেও সত্য, সাধারণ কাদিয়ানীদের বুঝে আসুক বা না আসুক, সত্য এটাই যে, কাদিয়ানীয়ত নতুন একটি ধর্ম। ফলে এটি ইসলামের কোনাে ফেরকারই অন্তর্ভুক্ত নয়। অতএব যারা এখনাে এই দলের অন্তর্ভুক্ত আছেন তাদের উচিৎ, আমার কথাগুলাে নিজ দায়িত্বে ও অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা। আল্লাহতালা সবাইকে বুঝার তাওফিক দিন।

কাদিয়ানীদের কলেমায় ‘মুহাম্মদ’ শব্দের তাৎপর্য:

ক্লিক করুন

কাদিয়ানী সংগঠন ত্যাগকারী কিংবা মির্যা কাদিয়ানীকে অমান্যকারী ‘মুরতাদ’ ও অমুসলিম হিসেবে আখ্যায়িত :

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

নবী ও রাসূল এর সংজ্ঞা ও কাদিয়ানীদের উচিত জবাব

নবী এবং রাসূল কি একই? কুরআন হাদীস এবং যুগ ইমামরা কী বলেছেন?

যারা মনে করেন যে, নবী আর রাসূল মূলতই অভিন্ন তাদের নিকট নিচের প্রশ্নগুলোর জবাব চাচ্ছি!

[১] পবিত্র কুরআনঃ সূরা হাজ্জ এর ৫২ নং আয়াতে আল্লাহতালা ইরশাদ করেন,

وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنسَخُ اللَّهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

অর্থাৎ আমি তোমার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল এবং নবী প্রেরণ করিয়াছি, তাহাদের কেহ যখনই কিছু আকাঙ্ক্ষা করিয়াছে, তখনই শয়তান তাহার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করিয়াছে, কিন্তু শয়তান যাহা প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ তাহা বিদূরিত করেন। অতপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সু-প্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (অনুবাদ, ইফা হতে প্রকাশিত)।

আমার প্রশ্ন হল, নবী আর রাসূল যদি একই হত তাহলে আল্লাহতায়ালা কেন বললেন “রাসুল ওয়া লা নবী”? মানে তিনি “রাসূল” বলেই তো থেমে যেতে পারতেন! তারপর আবার “নবী” শব্দ কেন আনলেন? অথচ পবিত্র কুরআন সব ধরণের অনর্থক বর্ণনা ও দ্বিরুক্তি হতে পবিত্র!

[২] হাদীস শরীফঃ বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন [হাশরের কঠিন মুহূর্তে শাফায়াতের উদ্দেশ্যে সমস্ত হাশরবাসী হযরত নূহ (আঃ)-এর নিকট শাফায়াতের জন্য যখন আসবেন তখনকার ঘটনা] হাদীসের খন্ডাংশ,

فيأتون نوحا فيقولون يا نوح انت اول الرسل الى اهل الارض و سماك الله عبدا شكورا

(উচ্চারণ) ফা ইয়া’তূনা নূহান ফা ইয়াকূলূনা ইয়া নূহুন আন্তা আউয়ালুর রুসুলি ইলা আহলিল আরদ্বি ওয়া সাম্মা-কাল্লাহু আব্দান শাকূরা।” অর্থাৎ… অতপর সমস্ত হাশরবাসী হযরত নূহ (আঃ)-এর নিকট ছুটে আসবে। তারা এসে বলবে, হে নূহ! আপনি হলেন পৃথিবীতে প্রথম রাসূল। আল্লাহতায়ালা আপনার নাম রেখেছিলেন ‘একজন শুকরগুজার বান্দা’। (সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল আম্বিয়া, হাদীস নং ৩৩৪০)।

আমার প্রশ্ন হল, যদি নবী আর রাসূল একই হত তাহলে হযরত নূহ (আঃ)-কে হাশরবাসীরা কেন বলবেন, انت اول الرسل (You are first messenger) অর্থাৎ আপনি প্রথম রাসূল! এর মানে কি তাহলে নূহ (আঃ)-ই প্রথম নবী? আপনারাও কি এটাই বুঝাতে চান? যদি তাই হয় তাহলে নূহ (আঃ)-এর পূর্বে গত হয়ে যাওয়া হযরত আদম (আঃ) এবং হযরত শীষ (আঃ) প্রমুখ এঁরা কি নবী ছিলেন না? অর্থাৎ আমার প্রশ্নটি হল, নূহ (আঃ)-ই প্রথম রাসূল মানে তিনিই প্রথম নবী—এই অর্থ হলে তখন আদম আর শীষ এঁদের কী হবে? ভাবিয়ে তুলে কিনা?

[৩] যুগশ্রেষ্ঠ ইমামঃ নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীও ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ)-কে হিজরী ৬ষ্ঠ শতাব্দীর একজন যুগ ইমাম ও মুজাদ্দিদ হিসেবেই মানতেন। (রেফারেন্স, আছলে মুছাফফা, উর্দু এশিশন ১/১৬২-৬৫ দ্রষ্টব্য, মির্যা খোদাবক্স কাদিয়ানী রচিত; প্রথম প্রকাশ ১৯০১ ইং; মহাসুসংবাদ পৃষ্ঠা নং ৪৪)। এবার শায়খ ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) কী বলেছেন শুনুন :

রাসূল হলেন তিনি, যাঁকে অবিশ্বাসী কাফের সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করা হয়ে থাকে। আর নবী হলেন তিনি যাঁকে এমন কোনো সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করা হয় যারা পূর্বেকার রাসূলের শরীয়তে বিশ্বাসী। ফলে প্রেরিত এই পয়গম্বর তিনি তাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেন এবং তাদের মধ্যকার সংঘটিত বিভেদগুলোর মীমাংসা করেন।” শায়খ ইবনে তাইমিয়াহ (রহঃ) এর বক্তব্যের বঙ্গানুবাদ সমাপ্ত হল। (মাজমু’আয়ে ফাতাওয়া লি-ইবনে তাইমিয়াহ)।

একটি প্রশ্ন ও তার জবাবঃ

প্রশ্ন : আল্লাহতালা হযরত ইসমাইল (আঃ) সম্পর্কে ‘ওয়া কা-না রাসূলান নাবিয়্যা’ (আরবী: وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا ) বলে তাঁকে ‘রাসূল’ আখ্যা দিয়েছেন। অথচ তিনি নতুন কোনো শরিয়তি ওহীর বাহক ছিলেন না! তারপরেও তাকে ‘রাসুল’ বলল কেন?

উত্তর : উক্ত প্রশ্নের উত্তরে বলা হবে যে, হযরত ইসমাঈল (আঃ) কর্তৃক প্রচারিত শরীয়ত যদিও নতুন কোনো শরীয়ত ছিলনা, বরং এটি ইবরাহিমী শরীয়ত ছিল; কিন্তু তিনি যেই বনু জুরহাম সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন তাদের দিক থেকে তাঁর প্রচারিত শরীয়তে ইবরাহিমী নতুন ছিল; এমনকি তারা ইসমাইল (আঃ) এর মাধ্যমেই শরীয়তে ইবরাহিমী সম্পর্কে নতুনভাবে জ্ঞান লাভ করতে পেরেছিলো। তাই প্রত্যক্ষভাবে যদিও ঈসমাইল (আঃ) নতুন কোনো শরিয়তি ওহীর বাহক ছিলেন না কিন্তু পরোক্ষভাবে তিনি বনু জুরহামের নিকট একজন শরিয়তি ওহীর প্রচারকের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। এ সম্পর্কে হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত শাহ আশরাফ আলী থানভী-ও লিখেছেন,

“আল্লাহ’র যেই প্রেরিত পুরুষ তাঁর অনুসারীদের নিকট নতুন শরীয়ত পৌঁছান তাঁকে ‘রাসূল’ বলে। চাইত উক্ত শরীয়ত রাসূলের দিক থেকে নতুন হোক, যেমন তাওরাত ইঞ্জিল যবূর ইত্যাদি; অথবা যাদের নিকট তিনি প্রেরিত হলেন তাদের দিক থেকে নতুন হোক, যেমন হযরত ইসমাইল (আঃ) এর প্রচারিত শরীয়তে ইবরাহিমী। কেননা ইসমাইল (আঃ) কর্তৃক প্রচারিত শরীয়ত নতুন কোনো শরীয়ত ছিলনা বরং এটি ইবরাহিমী শরীয়তই ছিল। কিন্তু বনু জুরহাম সম্প্রদায় হযরত ইসমাইল (আঃ) এর মাধ্যমেই শরীয়তে ইবরাহিমী সম্পর্কে নতুনভাবে জ্ঞান লাভ করেছিলো। (রেফারেন্স, ইমদাদুল ফাতাওয়া, খন্ড নং ৫ পৃষ্ঠা নং ৪৫৩)।

[৪] মির্যা কাদিয়ানীঃ মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কর্তৃক ১৮৮৪ সালে রচিত ‘বারাহীনে আহমদিয়া’ নামক কথিত ইলহামি বইয়ের ৩নং খন্ডের ২৪৬ নং পৃষ্ঠাতে তিনি “সকল নবী এবং সকল রাসূল” এইরূপ শব্দচয়নে নবী এবং রাসূলকে ভিন্ন ভিন্ন মর্মার্থে উল্লেখ করেছেন। এবার তার বই থেকে ‘রাসূল’-এর পরিচয় কিভাবে আছে দেখা যাক!

মির্যা কাদিয়ানী রচিত ‘ইযালায়ে আওহাম‘ কিতাবের ৩ নং খন্ডের ২৪৬ নং পাতায় লেখা আছে,

حسب تصريح قرآن کریم رسول اسی کو کہتے ہیں جس نے احکام و عقائد دین جبرائیل کے ذریعہ حاصل کئی ہوں لیکن وحی نبوت پر تو تیرہ سو برس سے مہر لگ گئی ہے. کیا یہ مہر اس وقت ٹوٹ جائے گی؟

অর্থাৎ কুরআনের সুস্পষ্ট বিবরণ মতে রাসূল তাঁকেই বলে যিনি জিবরাইল (আঃ)-এর মাধ্যমে দ্বীনী-বিধিমালা ও আকিদাসমূহ লাভ করে থাকেন। পরন্তু নবুওয়াতি-ওহীর উপর তো তেরশত বছর হতে মোহর (সীল) লেগে আছে! তো এই মোহর কি বর্তমানে ভেঙ্গে পড়বে? (রূহানী খাযায়েন ৩/৩৮৭ দ্রষ্টব্য)। উল্লেখ্য এখানে তার (মির্যা) “রাসূল” -এর সংজ্ঞায় পরিষ্কার শব্দে ‘আহকাম” (আরবী : احکام) শব্দটি উল্লেখ রয়েছে। যেটি ‘শরীয়ত’ শব্দের সমার্থক।

এখানে আমার প্রশ্ন হল, “রাসূল” -এর সংজ্ঞায় মির্যা কাদিয়ানী থেকেও “রাসুল যিনি তিনি একজন শরীয়তি ওহীর বাহক” এইরূপই প্রমাণ পাওয়া গেল কিনা? একইভাবে অত্র পৃষ্ঠায় মির্যা সাহেব “নবী” এর পরিচয়টাও “গত তেরশত বছর হতে নবুওয়াতি-ওহীর উপর যেই মোহর (সীল) লেগে আছে তা বর্তমানে ভাঙ্গতে পারে এমন সাধ্য কার”-মর্মে সুস্পষ্ট করে দিলেন কিনা? আপনাদের মতে নবী আর রাসূল দুটো যখন একই তাহলে দুটোর সংজ্ঞায় বা পরিচয়ের ক্ষেত্রে বৈপরীত্য কেন?

সুতরাং বলতে পারি, কাদিয়ানীরা যেটি মনে করে বসে আছে সেটি ভুল এবং পুরোপুরি বাতিল। বরং নবী এবং রাসূল দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক রাসূল একই সাথে নবীও কিন্তু প্রত্যেক নবী একই সাথে রাসূল নন! কথা সংক্ষেপ রাখতে আজকের মত এই পর্যন্তই। আল্লাহ হাফেজ।

লেখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

হাদীসের নাম ভেঙ্গে উম্মতিনবীর দলিল ও তার খন্ডন

জনৈক প্রশ্নকর্তা : একটি হাদীসে উল্লেখ আছে “…অতপর মূসা (আ:) আরজ করলেন اِجْعَلْنِىْ نَبِيًّا تِلْكَ الْاُمَّة অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাকে সেই উম্মতের নবী বানিয়ে দাও। আল্লাহপাক ইরশাদ করলেন “মিনহা নাবিয়্যুহা” অর্থাৎ তাদের নবী তাদেরই মধ্য থেকে হবে।” ( ইমাম আবু নাঈম আল-ইস্ফাহানী (রহ:)-এর সীরাতগ্রন্থ “হুলিয়া” এবং থানভীর সীরাতগ্রন্থ “নশরুত্তিব” দ্রষ্টব্য)। এই হাদীসে ‘তাদের নবী’ হতে মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের কথাই কি বুঝানো হয়েছে?

সূরা নিসা আয়াত নং ৬৯ এর অপব্যাখ্যা খন্ডন Click

উত্তর : শায়খ আলবানী (রহ:) লিখেছেন, এর সূত্র খুবই দুর্বল বরং মওজূ অর্থাৎ বানোয়াট। সনদের একজন রাবী আবু আইয়ুব আল জানাইরি একজন মাতরূক তথা পরিত্যাজ্য এমনকি তার ভেতর দুর্বলতা থাকাও প্রসিদ্ধ, অপর আরেক রাবী সাঈদ ইবনে মূসা একজন মাজহূল অর্থাৎ অজ্ঞাত রাবী। ইমাম ইয়াহ্ইয়া বিন মঈন, ইবনে আদী, ইমাম বুখারী, আবু যুর’আ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বর্ণনাটির রাবীগণের কঠোর সমালোচনা করেছেন (ইমাম যাহাবী (রহ:) রচিত ‘মীযানুল ইতিদাল’ ৩/৬৭ দ্রষ্টব্য)। ইমাম ইবনে হাব্বান (রহ:) থেকে উক্ত বর্ণনাটির একজন রাবী সাঈদ ইবনে মূসা আল-উমাবী সম্পর্কে ‘মীযানুল ইতিদাল’ কিতাবে লিখা আছে

اتهمه ابن حبان بالوضع. ثم ساق له ثلاثة أحاديث هذا أحدها ، وقال: موضوع

অর্থাৎ ইবনে হিব্বান (রহ:) উক্ত বর্ণনাকারীকে জাল হাদীস তৈরিকারী বলে অভিহিত করেছেন। অতপর তিনি ঐ বর্ণনাকারীর তিনখানা হাদীসের অন্যতম এই একখানা হাদীসকে জাল তথা বানোয়াট বলেছেন।

  • কিতাবের ভাষ্যমতে :-

শায়খ নাসির উদ্দীন আল-বানী (রহ:) লিখেছেন,

إسناده ضعيف جدا، بل موضوع، ولوائح الوضع عليه ظاهرة ، وآفته أبو أيوب الجنائري واسمه سليمان بن سلمة الحمصي قال أبو حاتم: متروك لا يشتغل به. وقال ابن الجنيد: كان يكذب. وقال الخطيب: سعيد بن موسى مجهول، والجنائزي مشهور بالضعف.

অর্থাৎ – এর সনদ (সূত্র) খুবই দুর্বল, বরং বানোয়াট। বানোয়াট হওয়ার লক্ষণসমূহ এতে সুস্পষ্ট। আর এখানে সমস্যা হল, আবু আইয়ুব আল জানাইরি। তার নাম সুলেমান ইবনে সালামাহ আল হেমসি। তার সম্পর্কে ইমাম আবু হাতেম বলেছেন, সে মাতরূক বা পরিত্যাজ্য, তাকে নিয়ে হাদীসের কাজ করা যাবেনা। ইবনুল জুনাইদ বলেছেন, সে মিথ্যা বলত। ইমাম খতিব আল-বাগদাদী বলেছেন, সাঈদ ইবনে মূসা একজন মাজহূল তথা অজ্ঞাত রাবী। আর আবু আইয়ুব আল-জানায়িরি দুর্বলতার জন্য প্রসিদ্ধ।

(সূত্র : জিলালুল জুন্নাহ ফী তাখরীজিস সুন্নাহ লি-ইবনে আবী আ’ছেম- শায়খ আলবানী রহ. খ-১, পৃ-২২২; বর্ণনা নং ৬৯৬)। এবার কবি সত্যি নিরব! স্ক্রিনশট এই :-

  • সতর্কতা :

এখানে যে কথাটি বলে রাখা জরুরি সেটি হচ্ছে, এটি সহীহ হলেও এর দ্বারা কখনোই কথিত উম্মতিনবীর কনসেপ্ট প্রমাণিত হয় না। তার কারণ এখানে মূলত মূসা (আ:)-এর নিবেদনের প্রতিউত্তরে আল্লাহর যেই কথাটি উল্লেখ আছে অর্থাৎ قال نبيها منهم তথা তাদের নবী তাদেরই মধ্য থেকে হবেন। এ থেকে উদ্দেশ্য হল, মুহাম্মদে আরাবী (সা:)-এর আবির্ভাবের সংবাদ দেয়া। তার কারণ এর একটু উপরেই লিখা আছে, قال موسى و من امة احمد؟ (উচ্চারণ, ক্বালা মূসা ওয়া মান উম্মাতু আহমদ?) অর্থাৎ মূসা (আ:) জিজ্ঞেস করলেন, আহমদ এর উম্মত কারা (তথা মুহাম্মদ সাঃ এর উম্মতের বৈশিষ্ট্য কেমন হবে?)। এতেই সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, মূসা (আ:) যেই উম্মতের নবী হতে চেয়ে নিবেদন করার কথা রয়েছে সেই উম্মত মূলত উম্মতে মুহাম্মদীই। সুতরাং এই থেকে কাদিয়ানীদের কথিত উম্মতিনবীর কনসেপ্ট পুরোই অপ্রাসঙ্গিক, বানোয়াট ও বাস্তবতা বিবর্জিত বলে প্রমাণ পাওয়া গেল। এরপরেও যারা এটিকে সাত অন্ধের হাতি দেখা উল্লু কা পাঠাদের ন্যায় উম্মতিনবীর দলিল মনে করবে তাদেরকে বুঝানোর সাধ্য কারো নেই! আল্লাহর নিকট তাদের সোপর্দ করছি।

লিখকের পেইজ থেকে পড়ুন Click

  • কাদিয়ানীদের তথাকথিত “উম্মতিনবী”র দলিলটি সম্পূর্ণরূপে ও হাদীসের নাম ভেঙ্গে নিম্নরূপ:-

তাদের বইতে উল্লেখ আছে যে, হাদীসে কুদসীতে এসেছে : “আল্লাহতায়ালা একবার মূসা (আ:)-কে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করেছেন তুমি বনী ইসরাঈলদের জানিয়ে দাও, যে ব্যক্তি আহমদ (সা:) এর প্রতি অবিশ্বাসী অবস্থায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে সে যেই হোক আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব। হযরত মূসা (আ:) আরজ করলেন, আহমদ কে? আল্লাহপাক ইরশাদ করলেন : হে মূসা! আমার ইজ্জত ও গৌরবের শপথ। আমি সমস্ত সৃষ্টি জগতের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক সম্মানিত কাউকেই সৃষ্টি করিনি। আমি তাঁর নাম আরশের মধ্যে আমার নামের সাথে আসমান ও জমিন এবং চন্দ্র ও সূর্য সৃষ্টির বিশ লক্ষ বছর পূর্বে লিপিবদ্ধ করেছি। আমার ইজ্জত ও গৌরবের শপথ! আমার সমস্ত মাখলূকের জন্য জান্নাত হারাম যতক্ষণ মুহাম্মদ (সা:) এবং তাঁর উম্মত জান্নাতে প্রবেশ না করবে। অতপর মূসা (আ:) আরজ করলেন : “ইজ’আলনী নাবিয়্যা তিলকাল উম্মাতি” অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাকে সেই উম্মতের নবী বানিয়ে দাও। আল্লাহপাক ইরশাদ করলেন “মিনহা নাবিয়্যুহা” অর্থাৎ তাদের নবী তাদেরই মধ্য থেকে হবে। মূসা (আ:) পুনরায় আরজ করলেন : তবে আমাকে সেই নবীর একজন ‘উম্মত’ বানিয়ে দাও। আল্লাহপাক ইরশাদ করলেন, তুমি তাঁর পূর্বেই নবীরূপে আবির্ভূত হয়েছ আর সেই নবী তোমার পরে প্রেরিত হবেন। তবে জান্নাতে তাঁর সাথে তোমাকে একত্রিত করে দেব।”

  • কাদিয়ানীদের বিশ্বাস:

কাদিয়ানীদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, মূসা (আ:)-এর নিবেদনের প্রতিউত্তরে আল্লাহর বাণী : ‘তাদের নবী তাদেরই মধ্য থেকে হবে।’ অর্থাৎ মুহাম্মদ (সা:) এর উম্মতের মধ্য হতে একজন ‘নবী’ হবেন। অতএব, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীই ছিলেন সেই উম্মতিনবী! (নাউযুবিল্লাহ)।

  • আরেকটি জবাব:

‘তাফসীরে আবী হাতিম’ (৫/১৫৮৭) এর মধ্যে এই ধরণের আরেকটি দুর্বল বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, আল্লাহপাক মূসা (আ:)-কে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করলেন : تلك الامة تكون بعدك امة احمد (উচ্চারণ) ‘তিলকাল উম্মাতু তাকূনু বা’দাকা উম্মাতু আহমাদ’ অর্থাৎ ঐ উম্মত তোমার পর আহমদের উম্মত হবে। এতে কিন্তু পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, মূসা (আ:) যেই উম্মতের নবী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলিয়া কথিত আছে তার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহও যে বলেছেন ‘তাদের নবী তাদেরই মধ্য থেকে হবে’—এই সমস্ত কথাবার্তায় ভবিষ্যতে একজন ‘উম্মতিনবী’ হবে—বুঝায় না, বরং ঐ সমস্ত কথাবার্তায় মুহাম্মদ (সা:)-এরই আগমনী সংবাদ দেয়া উদ্দেশ্য। নচেৎ ‘তাকূনু বা’দাকা উম্মাতু আহমাদ’—একথার কী মানে?

এছাড়াও উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা:) হতে একটি বর্ণনায় উল্লেখ আছে, “যে রাতে প্রিয়নবী (সা:) জন্মগ্রহণ করলেন সেই রাতে একজন [জ্যোতিষী] ইহুদী পন্ডিত মক্কার দিকে আগমন করছিল। সে কুরাইশদের সম্বোধন করে বলল, হে কুরাইশ সকল! আজ রাতে তোমাদের কি কোনো পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে? তারা জবাব দিলো, আমরা জানিনা। তখন সেই ইহুদী বলল : অনুসন্ধান করো! কেননা, আজ রাতে এই উম্মতের নবী জন্মগ্রহণ করেছেন যার দুই কাঁধের মাঝখানে একটা চি‎‎‎‎‎হ্ন রয়েছে। অতপর কুরাইশরা অনুসন্ধান করার পর জানতে পারল যে, জনাব আব্দুল্লাহ’র এক পুত্র [মুহাম্মদ সা:] সন্তান জন্মগ্রহণ করেছেন।” (ফাতহুল বারী’র সুত্রে নশরুত্তিব’ [বাংলা] অধ্যায় ষষ্ঠ হাদীস নং ৭ দ্রষ্টব্য)।

অতএব বর্ণনাটি সহীহ হোক কিংবা জাল হোক, যাই হোক; কোনো অবস্থাতেই এর ‘তাদের নবী তাদেরই মধ্য থেকে হবে’ খন্ডিত অংশকে আশ্রয় করে তথাকথিত উম্মতিনবী’র অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় না। এটি পূর্বেকার আরো সে সকল সীরাতগ্রন্থকার স্ব স্ব কিতাবে উম্মতে মুহাম্মদীয়ার ফজিলত বর্ণনা করতে উল্লেখ করেছেন তাদের কারো থেকে কাদিয়ানীদের কথিত উম্মতিনবীর কনসেপ্ট প্রমাণিত হয়না! উল্লেখ্য, ফজিলত বর্ণনার ক্ষেত্রে যদিও বা সহীহ হাদীস নয় এমন হাদীসও প্রাসঙ্গিকক্রমে উল্লেখ করা কারো কারো মতে বৈধ, কিন্তু আকীদার প্রমাণে একমাত্র সহীহ হাদীসই অথেনটিক, এটি উম্মাহার সর্বসম্মত মুহাদ্দিসীনের মত। আল্লাহ তুমি তাদের হিদায়াত দান কর।

একই বিষয়ে আরও একটি লিখা হাদীসে কথিত ‘উম্মতিনবী’র দলিল থাকার দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

সূরা নিসা’র ৬৯ নং আয়াতটি নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট

সূরা নিসা আয়াত নং ৬৯ এর নাযিলের প্রেক্ষাপট “তাফসীরে ইবনে কাসীর” থেকে (আরবী ইবারত সহ) :

وقد روي مرفوعا من وجه آخر ، فقال أبو بكر بن مردويه : حدثنا عبد الرحيم بن محمد بن مسلم ، حدثنا إسماعيل بن أحمد بن أسيد ، حدثنا عبد الله بن عمران ، حدثنا فضيل بن عياض ، عن منصور ، عن إبراهيم ، عن الأسود ، عن عائشة قالت : جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال : يا رسول الله : إنك لأحب إلي من نفسي وأحب إلي من أهلي ، وأحب إلي من ولدي ، وإني لأكون في البيت فأذكرك فما أصبر حتى آتيك فأنظر إليك ، وإذا ذكرت موتي وموتك عرفت أنك إذا دخلت الجنة رفعت مع النبيين ، وإن دخلت الجنة خشيت ألا أراك . فلم يرد عليه النبي صلى الله عليه وسلم حتى نزلت عليه : ( ومن يطع الله والرسول فأولئك مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقا ). وهكذا رواه الحافظ أبو عبد الله المقدسي في كتابه : ” صفة الجنة ” ، من طريق الطبراني ، عن أحمد بن عمرو بن مسلم الخلال ، عن عبد الله بن عمران العابدي ، به . ثم قال : لا أرى بإسناده بأسا والله أعلم .

অর্থ- মারফূ (যে হাদীসের সূত্রের ক্রমধারা রাসূল পর্যন্ত পৌঁছেছে এমন) সূত্রে বর্ণিত আছে, (সম্পূর্ণ সনদ বা Chain of narration) আবু বকর বিন মারদাওয়াই বলেছেন, আমাদেরকে আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মাদ বিন মুসলিম বলেছেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে ইসমাইল বিন আহমেদ বিন আসীদ বলেছেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে আবদুল্লাহ বিন ইমরান বলেছেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে ফুদায়েল বিন ইয়ায বলেছেন, তিনি মনসুর থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি হযরত আয়েশা (রা.) থেকে। (হাদীসের মতন বা Text) হযরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, এক সাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ’র রসূল! আপনি আমার কাছে আমার নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয়, আমার পরিবার চেয়েও প্রিয়, আমার সন্তানদের চেয়েও প্রিয়, আমি যখন গৃহে অবস্থান করি আপনাকে (মনে মনে) স্মরণ করি। আর আপনার সাহচর্যে না এসে এবং আপনাকে না দেখে নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারি না। আর যখনি আমি আমার মৃত্যুর কথা স্মরণ করি তখন আপনার মৃত্যুর কথাও স্মরণ করি। আমি তো জানি যে, আপনি যখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন তখন নবীগণের সাথেই উঠাবসা করবেন।

পক্ষান্তরে আমি যদি জান্নাতে প্রবেশ করিও তবু আপনাকে (জান্নাতে) দেখতে পাব কিনা আশংকা করছি।’ এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এই আয়াত ( ومن يطع الله والرسول فأولئك مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقا ) নাযিল হয়।

তারপরই তিনি তাঁকে (ঐ সাহাবীকে) প্রতিউত্তর দেন। (ইমাম ইবনে কাসীর তারপর লিখেছেন), হাফেযুল হাদীস আবু আব্দিল্লাহ আল মাকদিসি (রহ.) [মৃত. ৬৪৩ হিজরী] বিরচিত ‘সিফাতুল জান্নাহ’ গ্রন্থে তিনি ইমাম তাবারানী (রহ.)-এর সূত্রে [তাবারানী, আহমদ ইবনে আমর ইবনে মুসলিম আল খিলাল, আব্দুল্লাহ ইবনে ইমরান আল আবেদী সূত্রে] এটি বর্ণনা করে বলেছেন, لا أرى بإسناده بأسا অর্থাৎ আমি বর্ণনাটির সনদ বা সূত্রে কোনো সমস্যা দেখিনা। (তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা নিসা আয়াত ৬৯ এর তাফসীর অংশ দ্রষ্টব্য)।

আফসোস হল, সূরা নিয়া আয়াত নং ৬৯ এর শানে নুযূল যেখানে পরিষ্কার বলছে অন্য কথা সেখানে কাদিয়ানী জ্ঞানপাপীরা আয়াতটির উপবাক্য مع النبيين হতে তথাকথিত “উম্মতিনবী”-এর কনসেপশন দাঁড় করানোর চেষ্টায় রত! আহা! এই নির্বোধরা কোথায়কার জল কোথায় ঢালতে শুরু করলো!! দুঃখের বিষয় হল, অধিকাংশ কাদিয়ানীই আয়াতটির শানে নুযূল কী বলল তা খোঁজে দেখেনা। যদি তারা সামান্যই আত্মসচেতন হত আর আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখত তাহলেও আয়াতটির অপব্যাখ্যায় এভাবে অন্ধের মত গা ভাসিয়ে দিত না। আল্লাহ তাদের হিফাজত করুন। যাইহোক, এই একই তাফসীর রয়েছে “আত-তাফসীরুল মাছীর, আল-ওয়াছীত, আল-বাগাভী, আল-কুরতুবী, আত-তাবারী এবং তাফসিরে জালালাইন” ইত্যাদি কিতাবে-ও। নিচে উল্লেখ করা হল,

[১] আত-তাফসীরুল মুইয়াসসার থেকে : (আরবী) فكانوا في صحبته من أنعم الله تعالى عليهم بالجنة من الأنبياء والصديقين الخ . التفسير الميسر অর্থাৎ তাঁরা সেসব ব্যক্তিদের সঙ্গী হবেন যাঁদেরকে আল্লাহতালা জান্নাতে নেয়ামত দেবেন। আর তাঁরা হলেন নবীগণ, ছিদ্দীকীন, ইত্যাদি। (দেখুন : আত-তাফসীরুল মুইয়াসসার)।

 [২] আল-ওয়াসীত লি-ত্বনতাভী থেকে : (আরবী) يكونون يوم القيامة في صحبة الأنبياء الذين ارسلهم الله مبشرين و منذرين الخ. الوسيط لطنطاوى অর্থাৎ তারা কিয়ামতের দিন নবীদের সঙ্গী হবেন যাঁদেরকে আল্লাহতালা সুসংবাদ দাতা আর ভয়প্রদর্শনকারী হিসেবে প্রেরণ করিয়াছেন। (দেখুন : আল-ওয়াসীত লি-ত্বনতাভী)।

[৩] তাফসীরে বাগাভী থেকে : (আরবী) أولئك رفيقا يعني رفقاء الجنة. البغوي অর্থাৎ তারা সবাই জান্নাতে সঙ্গী হবেন। (দেখুন : তাফসীরে বাগাভী, প্রাচীন যুগের শ্রেষ্ঠ তাফসীর গ্রন্থ)।

[৪] তাফসীরে কুরতুবী থেকে : (আরবী) أى هم معهم في دار واحد و نعيم واحد يستمتعون برؤيتهم والحضور معهم لا أنهم يساوونهم في الدرجة. القرطبي অর্থাৎ তারা সবাই একই ঘরে ও একই দারুন নাঈমে (জান্নাতের একটি নাম) তাঁদের সঙ্গী হবেন। তারা নিজেদের চোখ দিয়ে নেয়ামত উপভোগ করবে এবং তাঁদের সাথেই উপস্থিত থাকবে। তবে মর্যাদার ক্ষেত্রে তাঁরা এঁদের সমকক্ষ হবেনা। (দেখুন তাফসীরে কুরতুবী)।

[৫] তাফসীরে তাবারী থেকে : (আরবী) এবার তাফসীরে তাবারী থেকে উদ্ধৃতি দিয়েই ইতি টানব, ইনশাল্লাহ। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী (রহ.) লিখেছেন, فهو مع الذين أنعم الله عليهم بهدايته والتوفيق لطاعته فى الدنيا من أنبيائه و فى الآخرة إذا دخل الجنة.الخ অর্থাৎ যাকে আল্লাহতালা স্বীয় হিদায়াত দ্বারা নেয়ামত দান করেছেন এবং দুনিয়াতে নবীদের অনুগত হওয়ার জন্য (যাকে) তাওফিক দিয়েছেন, সে পরকালে তাঁদের সঙ্গী হবে যখন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (প্রাচীন তাফসীর গ্রন্থ ‘তাফসীরে তাবারী, নিসা আয়াত ৬৯ দ্রষ্টব্য )।

শেষকথা, আয়াতটির অবতরণের প্রেক্ষাপট যাচাই করলে সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, সূরা নিসা’র ৬৯ নং আয়াতে যেসকল নেয়ামতপ্রাপ্তের সঙ্গী হবার সুসংবাদ দান করা হয়েছে সেটি কার্যত পরকালের সাথেই সম্পর্কিত, দুনিয়ার জীবনের সাথে নয়। সুতরাং প্রমাণ পাওয়া গেল যে, কথিত উম্মতিনবী কনসেপ্ট শুধুই মির্যা কাদিয়ানীর নবী দাবী হালাল করার অসৎ উদ্দেশ্যেই! আল্লাহ আমাদেরকে এইধরনের ইসলাম বিরোধী আকীদা থেকে হেফাজত করুন।

আরও পড়ুন : উম্মতিনবী ধারণাটি কেন বেহুদা আর বাতিল?

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক