Home Blog Page 33

মির্যার রচনায় রাণী ভিক্টোরিয়ার অতিরঞ্জিত গুণকীর্তন

একজন খ্রিষ্ট ধর্মানুসারী ব্রিটিশ রাণী ভিক্টোরিয়ার প্রতি অতিরঞ্জিত “প্রশংসা” একজন ইমাম মাহদী দাবীদারের জন্য আদৌ শোভা পায় কি?

ব্রিটিশ রাণী ভিক্টোরিয়ার উদ্দেশ্যে কাদিয়ানের নবুওয়তের মিথ্যাদাবীদার মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর রচনা :-

“হে মহা রাণী! আপনার সেই পবিত্র বাসনা যেটি ঐশী সাহায্যকে নিজের দিকে আকর্ষণ করছে এবং আপনার সদিচ্ছার সাধনা যদ্দ্বারা আকাশ রহমতের সাথে পৃথিবীর দিকে ঝুঁকতেছে। এইজন্যই আপনার শাসনামল ছাড়া আর কোনো শাসনামল এইরূপ নেই যেটি মসীহ মওউদের আত্মপ্রকাশের উপযোগী। সেজন্যই খোদাতালা আপনার নূরানী যুগে আকাশ থেকে একটি নূর নাযিল করেছেন। কেননা নূর নূরকেই নিজের দিকে আকর্ষণ করে থাকে (যেমনিভাবে) অন্ধকার অন্ধকারকে আকর্ষণ করে থাকে। হে কল্যাণকামী এবং সৌভাগ্যশালী যুগশ্রেষ্ঠ সম্রাজ্ঞী! যেসমস্ত কিতাবে মসীহ মওউদের আগমনী সংবাদ লিপিবদ্ধ আছে সেখানে আপনার নিরাপদ শাসনামলের প্রতি সুস্পষ্ট ইংগিত পাওয়া যায়।” (সেতারায়ে কায়সারিয়া, রূহানী খাযায়েন ১৫/১১৭)।

আলেকজান্ড্রিনা ভিক্টোরিয়া; ২৪শে মে, ১৮১৯ – ২২শে জানুয়ারি, ১৯০১ ইং। যুক্তরাজ্য ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাণী ছিলেন। তিনি অভিষিক্ত হন ২০ জুন,১৮৩৭ সালে। তিনি ১ মে ১৮৭৬ সালে ভারত সম্রাজ্ঞী উপাধি ধারণ করেন। রাণী ভিক্টোরিয়ার আরো কিছু ছবি।

মির্যা কাদিয়ানীর নবুওয়ত দাবী সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

মির্যা কাদিয়ানীর নিকট প্রকৃত মুনাফিক

0

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮) বৃটিশদের সাহায্য সহযোগিতা করতেই ‘কাদিয়ানী জামাত’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ঠিকই কিন্তু পরবর্তীতে তিনি এটিকে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থোপার্জনের উৎস হিসেবে রূপ দিয়ে যান। মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের ‘আল ওসীয়্যত‘ (বাংলা অনূদিত) বইটি যে কেউই পড়লে বিষয়টি বুঝতে পারবেন। তিনি ধর্মের আদলে কবর বিক্রির নিকৃষ্ট প্রথারও প্রচলন করে গেছেন। তার মতে আল্লাহতালা নাকি তাকে ইলহামের মাধ্যমে নতুন একটি কবরের সুসংবাদ দেন। সেটির নাম ‘বেহেশতি মাকবেরা’। স্ক্রিনশট দ্ররষ্টব্য

আল-ওসীয়্যত : ৩৪ বাংলা অনূদিত

এই কবরে দাফন হতে চাইলে তার মুরিদদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-দশমাংশ তার জামাতের জন্য ওসীয়্যত করে যেতে হবে। তার মানে আপনি ১০ লক্ষ টাকার সম্পদের মালিক হলে তার থেকে ১ লক্ষ টাকা মির্যায়ী জামাতের জন্য ছেড়ে যেতে হবে।

আল ওসীয়্যত বইতে মির্যা কাদিয়ানীর সুস্পষ্ট ‘রাসূল’ দাবী

এভাবে প্রায় ৫৫ প্রকারের চাঁদার খাত রয়েছে কাদিয়ানী জামাতে। এখানে মির্যা কাদিয়ানীর ০৫-১১-১৯০২ সালের দিকে প্রচারিত একটি প্রজ্ঞাপন তারই উর্দূ ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করে দেব।

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে উল্লেখ করছি –

ہر ایک شخص جو مرید ہے اس کو چاہیے جو اپنے نفس پر کچھ ماہواری مقرر کر دے خواہ ایک پیسہ ہو اور خواہ ایک دہیلہ اور جو شخص کچھ بھی مقرر نہیں کرتا اور نہ جسمانی طور پر اس سلسلہ کے لئے کچھ بھی مدد دے سکتا ہے وہ منافق ہے ۔ اب اس کے بعد وہ سلسلہ میں رہ نہیں سکے گا ۔ مجموعہ اشتہارت 3/469 ؛ مرزا غلام احمد قادیانی

অর্থাৎ আমার মুরিদ (শিষ্য) হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত নিজের উপর মাসিক একটি বাজেট নির্ধারণ করা, তা পয়সা হোক বা কোনো প্রতিশ্রুতি হোক। আর যে ব্যক্তি কিছুই নির্ধারণ করে না এবং শারীরিকভাবেও এ সিলসিলার জন্য কোনোভাবেই সাহায্য-সহায়তা করে না, সে মুনাফিক। সে এর পর থেকে এই সিলসিলায় (কাদিয়ানী জামাতে) থাকতে পারবে না।” (সূত্র, মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/৪৬৯; মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী)। প্রমাণের জন্য বইটির স্ক্রিনশট দেখুন!

সাধারণ কাদিয়ানীদের চাঁদার টাকায় মির্যা মাসরূর আহমদ এর সস্ত্রীক আনন্দ ভ্রমণ
বেগানা নারীকে পাশে নিয়ে মির্যায়ী খলীফার সেল্ফি
কাদিয়ানীদের বর্তমান খলীফা মির্যা মাসরূর আহমদ এর ২০০৩ সালের দাড়ি বিহীন ছবি
মির্যা মাসরূর আহমদ এর নানা সময়ের নানা ভঙ্গিমার ফটো

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মেরাজ জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরে হওয়ার প্রমাণ

ইসরা এবং মেরাজ কী? কখন ও কিভাবে সংঘটিত হয়েছিল? ভ্রান্তি নিরসন

আজকের এ আলোচনায় “ইসরা এবং মেরাজ” এর অর্থ, সময়কাল এবং ঘটনা উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ। এখানে বলে রাখতে চাই যে, নবী করীম (সা:) এর মেরাজ প্রথমে স্বপ্নযোগে তারপর জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে সংঘটিত হয়েছিল। তাই যেসব হাদীসে মেরাজ স্বপ্নযোগে সংঘটিত হওয়ার উপর আলোকপাত করা হয়েছে তদ্দ্বারা একথা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, মেরাজ শুধুই স্বপ্নযোগে সংঘটিত হয়েছিল, জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরে হয়নি! বরং মেরাজ জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরে সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারেও শক্তিশালী ও মজবুত দলিল এবং যুক্তি-প্রমাণ বিদ্যমান।

এ সম্পর্কে হিজরী ষষ্ঠ শতকের বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ ও সীরাতগ্রন্থকার শায়খ আব্দুর রহমান সুহাইলী (রহ:) [মৃত. ৫৮১হিজরী] বলেন – وَرَأَيْت الْمُهَلّبَ فِي شَرْحِ الْبُخَارِيّ قَدْ حَكَى هَذَا الْقَوْلَ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْ الْعُلَمَاءِ وَأَنّهُمْ قَالُوا: كَانَ الْإِسْرَاءُ مَرّتَيْنِ مَرّةً فِي نُوُمِهِ وَمَرّةً فِي يَقَظَتِهِ بِبَدَنِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ الْمُؤَلّفُ وَهَذَا الْقَوْلُ هُوَ الّذِي يَصِحّ، وَبِهِ تَتّفِقُ مَعَانِي الْأَخْبَارِ الخ (الروض الأنف شرح سيرت ابن هشام)

অর্থাৎ আমি বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ “শরহুল মুহাল্লাব লি সহীহিল বুখারী” এর মধ্যে দেখেছি, সেখানে গ্রন্থকার (অর্থাৎ মুহাল্লাব ইবনে আবী ছুফরাহ আল মারিয়্যি আল উন্দুলুসি [মৃত. ৪৩৫ হিজরী] – অনুবাদক) আহলে ইলমের এক জামাতের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, মূলত মেরাজ দুইবার হয়েছে। একবার স্বপ্নযোগে দ্বিতীয়বার জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে। (আর-রওজুল আনফ ফী শরহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনে হিশাম-১/২৪৪ দ্রষ্টব্য)। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতও এটাই। মেরাজ দুইবার হয়েছে। মেরাজ স্বপ্নযোগেও হয়েছে আবার জাগ্রতাবস্থায় সশরীরেও হয়েছে। প্রথমে হয়েছে স্বপ্নে তারপর হয়েছে জাগ্রতাবস্থায় সশরীরে।

ইসরা ও মেরাজ অর্থ কী?

ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ। ইসরা বা রাত্রিকালীন ভ্রমণ বলতে নবী করীম (সা:)-এর মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত সফরকে বুঝানো হয়। মেরাজ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। আর জমিন হতে ঊর্ধ্বলোকে ভ্রমণকে মেরাজ বলা হয়। আল্লাহ তাঁর প্রিয়তম বান্দা মুহাম্মদে আরাবী (সা:)-কে বিশেষ দিক-নির্দেশনার জন্যে নবুওয়তের ১০ম বছরের কোনো এক রাতে (প্রসিদ্ধ মতে, ২৭ শে রজব) আকাশে ডেকে নেন। ইসলামের ইতিহাসে এটাকে মেরাজ নামে অভিহিত করা হয়।

এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন : سُبۡحٰنَ الَّذِیۡۤ اَسۡرٰی بِعَبۡدِہٖ لَیۡلًا مِّنَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اِلَی الۡمَسۡجِدِ الۡاَقۡصَا الَّذِیۡ بٰرَکۡنَا حَوۡلَہٗ لِنُرِیَہٗ مِنۡ اٰیٰتِنَا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ অর্থাৎ পবিত্র মহান সে সত্ত্বা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা বনী ইসরাইল : ১)।

উক্ত আয়াত নবী করীম (সা:)-এর ইসরা সংক্রান্ত ঘটনার অকাট্য দলিল। যেটি জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরে হয়েছিল বলেই সুস্পষ্ট প্রমাণিত। তাই যাদের ধারণা যে, মেরাজ শুধুই স্বপ্নযোগে হয়েছিল তাদের নিকট প্রশ্ন, সহীহ বুখারীর যেই হাদীসটিতে মেরাজের ঘটনা বিধৃত হয়েছে সেখানে ঘটনার ধারাবাহিকতায় প্রথমে ‘ইসরা’ এর ঘটনা অতপর عرج بى الى السماء অর্থাৎ আমাকে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয় (সহীহ বুখারী), দ্বারা ঐশী ভ্রমণের দ্বিতীয় পর্ব মেরাজের ঘটনাও উল্লেখ রয়েছে। যার ফলে নবী করীম (সা:) এর ইসরা’র ঘটনার ন্যায় মেরাজের ঘটনাটিও জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরেই সংঘটিত হয়েছিল বলেই প্রমাণ হয় কিনা? অবশ্যই প্রমাণ হয় বলতে হবে।

এখানে আরেকটি কথা না বললেই নয়, সেটি হল ইসরার ঘটনার ন্যায় মেরাজের ঘটনাটিও পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাজমের আয়াত নং ১১-১২ দ্বারা ইংগিতে প্রমাণিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতালা বলেন, مَا کَذَبَ الۡفُؤَادُ مَا رَاٰی অর্থাৎ যা সে দেখেছে তাঁর হৃদয় তা অস্বীকার করেনি। ‘তাফসীরে আহসানুল বায়ান’ এর মধ্যে লিখা আছে, এর তাৎপর্য হল, নবী করীম (সা:) জিবরাইল (আ:)-কে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেন যে, তাঁর ছয়শত ডানা রয়েছে। তাঁর প্রসারিত ডানা পূর্ব ও পশ্চিমের (আকাশ ও পৃথিবীর) মধ্যবর্তী স্থানকে ঘিরে রেখেছিল। এ দর্শনকে নবী করীম (সা:)-এর অন্তর মিথ্যা মনে করেনি। বরং আল্লাহর এই বিশাল ক্ষমতাকে স্বীকার করে নিয়েছে।

পরের আয়াতে এসেছে, اَفَتُمٰرُوۡنَہٗ عَلٰی مَا یَرٰی অর্থাৎ ‘সে যা দেখেছে তোমরা কি সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করবে?’

এখন নবী করীম (সা:)-এর মেরাজ যদি শুধুই স্বপ্নযোগে হত তাহলে কিন্তু স্বপ্নে দেখা জিনসগুলো নিয়ে সমসাময়িককালের ইসলাম বিরোধীদের বিতর্ক করা কিংবা অস্বীকার করার কোনোই কারণ ছিলনা! কেননা স্বপ্নে দেখা জিনিসগুলো যতই অবিশ্বাস্য হয় না কেন কিন্তু সেটিকে দুনিয়ার কোনো বিবেকবান ব্যক্তি চ্যালেঞ্জ করেনা। অথচ মেরাজের বিরুদ্ধে তদানিন্তন সময়ও একশ্রেণীর ইসলাম বিরোধীর চুলকানি ছিল। তারা বরাবরই সেটির বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলেছিল। পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাজমের উক্ত আয়াত সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর হাদীসে তো সে সম্পর্কে বহু বর্ণনা রয়েছেই। এই পর্যায় আমি সহীহ বুখারী থেকে সেই হাদীসখানা উল্লেখ করছি যেটি নবী করীম (সা:)-এর মেরাজ জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরেই হওয়ার পক্ষে দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করে থাকে।

এখানে একটি কথা বলে রাখতে চাই, নবী করীম (সা:)-এর মেরাজ জাগ্রতাবস্থায়সশরীরে সংঘটিত হয়েছিল মর্মে কাদিয়ানী জামাতের প্রতিষ্ঠাতা, ভন্ডনবী মির্যা কাদিয়ানী থেকেও স্বীকারোক্তি রয়েছে। যদিও বর্তমানে তার অনুসারীদের অনেকেই এটি স্বীকার করেনা! মির্যার রচিত “হামামাতুল বুশরা” (বাংলা অনূদিত) পৃষ্ঠা নং ৬০ থেকে দেখুন। স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

মিরাজের ঘটনা :

মিরাজের ঘটনাটি সহীহ বুখারী ও মুসলিমেও বর্ণিত হয়েছে। সহীহ বুখারীতে এসেছে, হযরত আনাস (রা:) মালেক ইবনে সা’সাআহ (রা:) হতে বর্ণনা করেছেন :-

একদিন সকাল বেলা হযরত মুহাম্মদ (সা:) প্রকাশ করেন, ‘গত রাতে আমার প্রভু আমায় অত্যন্ত সম্মানিত করেন। আমি শুয়ে বিশ্রাম করছিলাম, এমন সময় জিবরাইল এসে আমাকে জাগিয়ে কা’বা মসজিদে নিয়ে যান। সেখানে তিনি আমার বক্ষ বিদীর্ণ করেন এবং তা জমজমের (কা’বার মধ্যকার পবিত্র কূপের) পানি দ্বারা ধুয়ে ফেলেন। অতঃপর তাকে ঈমান ও হিকমত দ্বারা পূর্ণ করে বিদীর্ণ স্থান পূর্বের ন্যায় জুড়ে দেন। এরপর তিনি আমার আরোহণের জন্যে খচ্চরের চেয়ে কিছু ছোট একটি সাদা জানোয়ার উপস্থিত করেন। তার নাম ছিলো বুরাক। এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন জানোয়ার ছিলো। আমি তার ওপর আরোহণ করতেই বায়তুল মুকাদ্দাস গিয়ে উপনীত হলাম। এখানে বোরাকটি মসজিদে আকসার দরজার সঙ্গে বেঁধে রেখে আমি মসজিদের মধ্যে প্রবেশ করে দুই রাকা’আত নামায পড়লাম। এ সময় জিবরাইল আমার সামনে দুটি পেয়ালা উপস্থিত করলেন। তার একটিতে শরাব এবং অপরটিতে ছিলো দুধ। আমি দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করে শরাবেরটি ফেরত দিলাম। এটা দেখে জিবরাইল বললেন, ‘আপনি দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করে স্বভাব-ধর্মকেই (দ্বীনে ফিতরাত) অবলম্বন করেছেন।

এরপর মহাকাশ ভ্রমণ শুরু হলো। আমরা যখন প্রথম আকাশ (পৃথিবীর নিকটতম আকাশ) পর্যন্ত পৌঁছলাম, তখন জিবরাইল পাহারাদার ফেরেশতাকে দরজা খুলে দিতে বললেন। সে জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমার সঙ্গে কে আছেন?’ জিবরাইল বললেন, ‘মুহাম্মদ’। ফেরেশতা আবার জিজ্ঞেস করলো, এঁকে কি ডাকা হয়েছে? জিবরাইল বললেন, ‘হ্যাঁ ডাকা হয়েছে। একথা শুনে ফেরেশতা দরজা খুলতে খুলতে বললো, ‘এমন ব্যক্তিত্বের আগমন মুবারক হোক।’ আমরা ভেতরে ঢুকতেই হযরত আদম (আ:)-এর সঙ্গে সাক্ষাত হলো। জিবরাইল আমায় বললেন, ‘ইনি আপনার পিতা (মানব বংশের আদি পুরুষ) আদম। আপনি এঁকে সালাম করুন। আমি সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাবদান প্রসঙ্গে বললেন, ‘খোশ আমদেদ! হে নেক পুত্র, হে সত্য নবী’।

এরপর আমরা দ্বিতীয় আকাশে পৌঁছলাম এবং প্রথম আকাশের ন্যায় সওয়াল-জবাবের পর দরজা খুলে দেয়া হলো। আমরা ভেতরে গেলাম এবং হযরত ইয়াহ্ইয়া ও হযরত ঈসা (আ:)-এর সঙ্গে সাক্ষাত হলো। জিবরাইল তাঁদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আপনি সালাম করুন।’ আমি সালাম করলাম। উভয়ে জবাবদান প্রসঙ্গে বললেন, ‘খোশ আমদেদ! হে নেক ভ্রাতা, হে সত্য নবী!’ অতঃপর আমরা তৃতীয় আকাশে পৌঁছলাম। এখানে হযরত ইউসুফ (আ:)-এর সঙ্গে দেখা হলো। আগের মতোই তাঁর সঙ্গে সালাম-কালাম হলো। অনুরূপভাবে চতুর্থ আকাশে হযরত ইদরীস (আ:)-এর সঙ্গে, পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন (আ:)-এর সঙ্গে এবং ষষ্ঠ আকাশে মূসা (আ:)-এর সঙ্গে সাক্ষাত হলো। সর্বশেষ সপ্তম আকাশে হযরত ইবরাহীম (আ:)-এর সঙ্গে সাক্ষাত হলো এবং তিনিও সালামের জবাবদান প্রসঙ্গে বললেন, ‘খোশ আমদেদ! হে নেক পুত্র, হে নেক নবী! এরপর আমাকে ‘সিদরাতুল মুন্তাহা’ (সিদরাতুল মুনতাহা হলো সপ্তম আকাশে আরশের ডান দিকে একটি কুল জাতীয় বৃক্ষ, সকল সৃষ্টির জ্ঞানের সীমার শেষ প্রান্ত। তারপর কি আছে, একমাত্র আল্লাহই জানেন) নামক একটি সমুন্নত বরই গাছ পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়া হলো। এর উপর অগণিত ফেরেশতা জোনাকির মতো ঝিকমিক করছিলো।’ (হাদীসের অনুবাদ সমাপ্ত হল, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৬৭৪)।

নবী করীম (সা:)-এর মেরাজ জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরে সংঘটিত হওয়ার সমর্থনে আরো বেশকিছু দলিল-প্রমাণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন!

  • সম্পূর্ণ লিখাটি আমার ফেইসবুক পেইজ থেকেও পড়তে পারেন Click

লিখক ও গবেষক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যা কাদিয়ানীর লাশ বরফ দ্বারা বাক্সবন্দী করা

মির্যা কাদিয়ানীর লাশ বরফের বাক্স করে লাহোর থেকে ভারতের কাদিয়ান গ্রামে নিয়ে যাওয়ার একটি ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা :

২৬ শে মে ১৯০৮ সালের কথা। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সাহেব লাহোরে আপনা এক মুরিদের বাসায় কলেরায় মৃত্যুবরণ করেন। সেই এক লম্বা করুণ ইতিহাস। আজ সেদিকে যাচ্ছিনা। গত কয়দিন আগের কথা। ইউটিউবে এক সাবেক আহমদী (কাদিয়ানী) মির্যা শামসুদ্দিন সাহেবের একটি ভিডিও দেখতেছিলাম।

  • বলে রাখতে চাই, মির্যা শামসুদ্দিন সাহেব ২০১৩ সালে কাদিয়ানীয়ত ত্যাগ করে ইসলামে ফিরে আসেন। তার পিতা মির্যা হামিদ উদ্দিন আর বর্তমান কাদিয়ানী খলীফা মির্যা মাসরূর আহমদ দুইজনই দুধ-শরিক ভাই।

যাইহোক মির্যা শামসুদ্দিন সাহেব তার ভিডিওটিতে আজব একটা তথ্য দিলেন। মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের মৃত্যুর পরে তার ভক্ত মুরিদরা তাকে বরফের বাক্স করে কাদিয়ান নিয়ে আসেন। উনি মির্যাপুত্র বশির আহমদ এম.এ সাহেব রচিত “সীরাতে মাহদী” এর দ্বিতীয় খন্ডের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। মির্যায়ীদের আরেকটি পুস্তক “আসহাবে আহমদ” এর অষ্টম খন্ড থেকেও স্ক্রিনশট সহ উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আমি তথ্যটি জেনে অবাক হলাম! হায় আল্লাহ! মির্যা সাহেব তো একজন নবী রাসূল এবং খোদ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলেও দাবী করতেন। তাহলে তার লাশ কিজন্য নষ্ট হওয়ার আশংকায় ছিল? নতুবা বরফের বাক্স করে লাশ নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কি? তা-ও এমন বাক্স করে যার ভেতরে বাহিরে পর্যাপ্ত পরিমাণে বরফ রাখা ছিল!

তাদেরই বইয়ের ভাষায় : জিস কি আন্দর কাফি তি’দাত বরফ কি বহরি থি। অর্থাৎ যার ভেতরটা পর্যাপ্ত পরিমাণে বরফে পূর্ণ ছিল। (সীরাতে মাহদী, ২য় খন্ড)। তারপর তাদের ‘আসহাবে আহমদ’ পুস্তক এর উদ্ধৃতিটাও দেখতে পারেন। কফিনের ভেতরে এবং বাহিরে অর্থাৎ দুই দিকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে বরফে তার লাশ ঢাকা ছিল। যেন লাশ ফুলে ফেঁপে বা ফেটে না যায়!!

এখন হয়ত কারো কারো মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, নবীদের দেহ মুবারক পঁচে না বা নষ্ট হয় না, এইরূপ কোনো কথা কি হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত আছে? আমি এর উত্তরে বলব, জ্বী হ্যাঁ। নিশ্চয়ই আছে। তাহলে দেখুন, হাদীসগ্রন্থের নাম, “মুসতাদরাক আ’লা আস-সহীহাঈন (مستدرك على الصحيحين)” অধ্যায় كتاب الفتن والملاحم ; সংকলক, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ নিশাপুরী (রহ:)। হাদীস নং ৩৫৮৯।

  • হযরত আউস ইবনে আবী আউস (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন : إن الله تعالى حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء ” . هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ، ولم يخرجاه অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহতালা নবীগণের শরীরকে মাটির জন্য ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। (হাদীসের মান : সহীহ, হাদিসটির সনদের মান ইমাম বুখারী এবং মুসলিম উভয়ের কৃত শর্তে বিদ্যমান)।

এবার আশাকরি বুঝতেই পেরেছেন, সত্যিকারের নবীগণের শরীর কখনো নষ্ট হওয়ার জিনিস নয় এমনকি মাটি পর্যন্ত ভক্ষণ করার ক্ষমতা রাখেনা। এককথায় নবীদের শরীরের সম্মান রক্ষার্থে তা নষ্ট হওয়া কিংবা পঁচেগলে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারা ইত্যাদি থেকে আল্লাহ রক্ষা করে থাকেন।

ওহে আল্লাহ! এমন অপ্রিয় তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়েও তোমার যেসব কাদিয়ানী বান্দা মির্যার হাকীকত পর্যন্ত পৌছতে চাচ্ছেনা তাদেরকে বুঝানোর সাধ্য আমাদের নেই! মাবূদ! তুমি তাদের সহীহ বুঝ দান কর। আমীন।

অনুবাদক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক।

রদ্দে কাদিয়ানীয়তের উপর ১০০+ গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল

প্রায় পাঁচ বছরেরও অধিক সময় নিয়ে ফেইসবুকে রদ্দে কাদিয়ানীয়তের উপর আমার লেখিত গুরুত্বপূর্ণ পোস্টগুলো আজ আপনাদের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছি। লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টস সহ অত্র ওয়েবসাইটে থাকার পাশাপাশি পোস্টগুলোর লিংক আপনাদের খেদমতে তুলে দেয়াও প্রয়োজন বোধ করছি। অবশ্য প্রতিটি আর্টিকেল ধারাবাহিকভাবে যোজন বিয়োজন দ্বারা আরো বেশি তথ্যবহুল করতে থাকব, ইনশাআল্লাহ। তাই লিখার লিংকগুলো কখনো হাতছাড়া করা ঠিক হবেনা। আমার পক্ষ হতে সবার জন্য আমার সব কয়টি কন্টেইন উন্মুক্ত। তবে শর্ত হল, কোনোরূপ এডিট করা যাবেনা এবং কার্টেসি উল্লেখ করতে হবে।

লেখাগুলো ৪টি ক্যাটাগরিতে :

  • # হায়াতে ঈসা ও ওফাতে ঈসা
  • # প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী
  • # খতমে নবুওয়ত ও ইজরায়ে নবুওয়ত
  • # মির্যা কাদিয়ানীর আত্মপরিচয় ও কাজিবাতে মির্যা

ক্লিক করুন

লিংকটি সবাই শেয়ার করুন

কুরআনের একটি মাত্র জায়গায় ‘আসহাবুন নার’ অর্থ জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক

0

প্রশ্নকর্তা : “তাওয়াফফা” শব্দটি কুরআনের অসংখ্য স্থানে “মৃত্যু” অর্থের জন্য ব্যবহৃত হলে তবে সেটি শুধু মাত্র কুরআনের দুটি স্থানে (০৩:৫৫;০৫:১১৭) কিজন্য ‘মৃত্যু-ভিন্ন’ অর্থের জন্য ব্যবহৃত হবে?

উত্তরদাতা :

(ক) প্রশ্নকর্তার প্রশ্নে উত্থাপিত দাবীটা পুরোপুরি সঠিক নয়। কেননা পবিত্র কুরআনের (০৩:১৫; ০৬:৬০) আয়াত সহ প্রায় স্থানে উল্লিখিত “তাওয়াফফা” শব্দ “মৃত্যু” অর্থে ব্যবহার হয়নি।

(খ)
প্রশ্নকর্তার উল্লিখিত দাবী সম্পূর্ণ মনগড়া ও তাফসীর শাস্ত্রীয় নীতি-বিরুদ্ধ একটি অর্বাচীন দাবী। তর্কের খাতিরে তার উক্ত দাবী মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য যদি মেনেও নিই তখন তার নিকট নিচের প্রশ্নটির আদৌ কোনো জবাব থাকেনা। প্রশ্নটি হল, পবিত্র কুরআনের অসংখ্য জায়গায় ‘আসহাবুন নার’ (আরবী : أَصْحَابَ النَّارِ) শব্দ ব্যবহার হয়েছে। তন্মধ্যে বাকারা/০২:৩৯,৮১,২১৭,২৫৭; আলে ইমরান/০৩:১১৬; আ’রাফ/০৭:৪৪,৫০; রা’আদ/১৩:০৫; যুমার/৩৯:০৮; মুমিন/৪০:০৬,৪৩; তাগাবুন/৬৪:১০; মুদ্দাচ্ছির/৭৪:৩১ অন্যতম। এখানে মাত্র ১৩টি স্থানের উল্লেখ করা হল। এছাড়া আরো বহু উদাহরণ দেয়া যাবে। কিন্তু পবিত্র কুরআনের ১১৪টি সূরার মধ্যে শুধুমাত্র সূরা মুদ্দাচ্ছির আয়াত নং ৩১ ছাড়া অন্য সবকয়টি স্থানে শব্দটির অর্থ হল “জাহান্নামীগণ“। সূরা মুদ্দাচ্ছির এর ৩১নং আয়াতে উল্লিখিত “আসহাবুন নার” (আরবী : أَصْحَابَ النَّارِ) অর্থ “জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বা ফেরেশতাগণ” (রেফারেন্স, তাফসীরে ইবনে কাসীর দ্রষ্টব্য)। এখন এর কী জবাব?

নিচে সংশ্লিষ্ট আয়াতটি অর্থসহ তুলে ধরছি।

  • মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, وَمَا جَعَلْنَا أَصْحَابَ النَّارِ إِلَّا مَلائِكَةً وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا ۙ لِیَسۡتَیۡقِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ وَ یَزۡدَادَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِیۡمَانًا وَّ لَا یَرۡتَابَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ وَ لِیَقُوۡلَ الَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ وَّ الۡکٰفِرُوۡنَ مَاذَاۤ اَرَادَ اللّٰہُ بِہٰذَا مَثَلًا ؕ کَذٰلِکَ یُضِلُّ اللّٰہُ مَنۡ یَّشَآءُ وَ یَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ مَا یَعۡلَمُ جُنُوۡدَ رَبِّکَ اِلَّا ہُوَ ؕ وَ مَا ہِیَ اِلَّا ذِکۡرٰی لِلۡبَشَرِ

অর্থ : আর আমি ফেরেশতাদেরকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানিয়েছি। আর কাফিরদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ আমি তাদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছি। যাতে কিতাবপ্রাপ্তরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে; আর মুমিনদের ঈমান বেড়ে যায় এবং কিতাবপ্রাপ্তরা ও মুমিনরা সন্দেহ পোষণ না করে। আর যেন যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা এবং অবশিষ্টরা বলে, এরূপ উপমা দ্বারা আল্লাহ কী ইচ্ছা করেছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন আর যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানেন না। আর এ হচ্ছে মানুষের জন্য উপদেশমাত্র। (আল-কুরআন/৭৪:৩১)।

(গ)

মির্যা কাদিয়ানী খোদ্ নিজেও আপনা বইতে ‘তাওয়াফ্ফা’ শব্দের ভিন্ন ভিন্ন ৫ ধরণের অর্থ নিয়েছেন। তার লেখিত ৮৩টি বইয়ের সমষ্টি ২৩ খন্ডে প্রকাশিত রূহানী খাযায়েন থেকে সেই অর্থগুলো হচ্ছে ‘পূর্ণ নেয়ামত দানকরা’ [১:৬২০]; ‘পরিপূর্ণ পুরষ্কার দেয়া’ [১:৬৬৪-৬৫]; ‘অপমানকর ও অভিশপ্ত মৃত্যু হতে রক্ষাকরা’ [১২:২৩]; ‘জন্মগ্রহণকরা’ [১৯:৪৯]। তার কৃত অনুবাদের পাঁচ স্থানের মাত্র একটিতেই ‘তাওয়াফফা’ অর্থ মৃত্যু উল্লেখ রয়েছে। অথচ পাঁচ জায়গাতেই তারই কৃত ঊসূল-মতে ‘কর্তা আল্লাহ্ আর কর্ম প্রাণী’ই রয়েছে। তো এবার এখানে কী জবাব দেবেন?

পরিশেষে বলতে পারি, পবিত্র কুরআনের শব্দসমূহের অর্থ-প্রয়োগ সম্পর্কে দাবী করে এভাবে বলা সঠিক নয় যে, অমুক শব্দটি কুরআনের যতস্থানেই এসেছে সেটি সবখানে অমুক অর্থে ব্যবহার হলে তখন অমুক স্থানে তমুক ব্যতিক্রম অর্থে কিজন্য ব্যবহার হতে যাবে!? তার কারণ পবিত্র কুরআনের কোন শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হল সে সম্পর্কে সব চেয়ে ভালো জানতেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারপর সাহাবায়ে কেরাম। তারপর সাহাবায়ে কেরামের শিষ্যরা তথা বিজ্ঞ তাবেয়ীগণ। তারপর তাবেয়ীদের শিষ্যরা তথা বিজ্ঞ আইম্মায়ে কেরাম ও তাফসীরকারকগণ। তাঁরা পবিত্র কুরআনকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস এবং সাহাবায়ে কেরামের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দ্বারা প্রতি যুগে সব ধরনের বিকৃতি থেকে রক্ষা করেছেন। ফলে তাঁদের ব্যাখ্যা ও বুঝের বিপরীতে যে কোনো ব্যাখ্যা ও বুঝ পুরোপুরি বাতিল এবং পরিত্যাজ্য।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।
লিখক ও গবেষক

কাদিয়ানীদের কথিত ‘মুসলেহ মওউদ’ তাহলে কে?

2

কাদিয়ানীবন্ধুদের তথাকথিত “মুসলেহ মওউদ” কোনোভাবেই মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ নন! কিন্তু কেন? জানতে সম্পূর্ণ লিখাটি পড়ুন!

  • কাদিয়ানীবন্ধুদের তথাকথিত “মুসলেহ মওউদ” (বা মির্যা কাদিয়ানীর প্রতিশ্রুত পুত্র) মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ নন, বরং মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের রচনাবলীর আলোকে “মুসলেহ মওউদ” মূলত মুহাম্মদী বেগমের গর্ভ থেকেই হওয়ার ছিল! মির্যা সাহেবের রচনাবলী থেকে বিষয়টি এখানে প্রমাণ করছি! আশাকরি বিষয়টি নিয়ে নিজেরাও একটু ভেবে দেখবেন!

প্রথমে কয়েকটি ধারণা :

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে আমাদের নিচের কয়েকটি কথা ভালো মত মনে রাখতে হবে। যেমন, মির্যা সাহেবের সাথে তার প্রথমা স্ত্রী হুরমত বিবির বিয়ে হয় ১৮৫২ বা ৫৩ সালে । দ্বিতীয়া স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিয়ে হয় ১৮৮৪ সালে দিল্লিতে। তার গর্ভে মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ এর জন্ম হয় ১৮৮৯ সালে। তবে তার এক বছর পূর্বে অর্থাৎ ১৮৮৮ সালে নুসরাতের গর্ভে বশির উদ্দিন নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয় যিনি বশিরে আউয়াল নামে পরিচিত। তিনি ঐ বছরই মারা যান । মির্যা কাদিয়ানীর সাথে মুহাম্মদী বেগমের বিবাহের প্রথম ভবিষ্যৎবাণীটি ১৮৮৮ সালের দিকে ছিল। (রেফারেন্স, মির্যাপুত্র রচিত সীরাতে মাহদী খ-২; পৃষ্ঠা ৪৪৩-৪৪ রেওয়ায়েত নং ৪৭০, নতুন ও অনলাইন এডিশন)।

স্ক্রিনশট

তাহলে “মুসলেহ মওউদ” কে? এ সম্পর্কে আমার তাহকিক ও গবেষণা :

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ এর নেতৃত্বাধীন “কাদিয়ানী” গ্রুপের মতানুসারে মির্যা কাদিয়ানীর ভবিষ্যৎবাণীকৃত সেই কথিত মুসলেহ মওউদ হচ্ছেন তাদের দ্বিতীয় খলীফা মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ আহমদ (১৮৮৯-১৯৬৫ইং)। অপ্রিয় হলেও সত্য হল, মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ ই উক্ত “মুসলেহ মওউদ” ছিলেন এটি একেবারেই অসত্য। কাদিয়ানীদের দ্বিতীয় গ্রুপ “লাহোরি মুভমেন্ট” এরও একই বক্তব্য যে, মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ সেই মুসলেহ মওউদ নন, মির্যা কাদিয়ানী যার ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন!

এখন প্রশ্ন হল, ১. তাহলে তথাকথিত সেই মুসলেহ মওউদ কে? ২. তার আদৌ জন্ম হয়েছে কিনা? ৩. অথবা কেয়ামতের পূর্বে তার কখনো জন্ম হওয়ার সুযোগ আর আছে কিনা? ৪. যদি আর কোনো সুযোগ না থাকে তবে কেন থাকবেনা? আজকের প্রবন্ধে এ কয়টি প্রশ্নের উত্তর দেব, ইনশাআল্লাহ।

  • উল্লেখ্য, কথিত মুসলেহ মওউদ এর কনসেপশনটি মির্যা কাদিয়ানীর একটি বানোয়াট ধারণা, তার সাথে ইসলামের বিন্দুবিসর্গ সম্পর্কও নেই।

প্রশ্ন নং ১ এর উত্তর হল, তথাকথিত সেই মুসলেহ মওউদ অন্য আর যেই হবে হোক কিন্তু তিনি যে কোনোভাবেই মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ নন, এটি দ্বিপ্রহরের সূর্যের মত পরিষ্কার। হ্যাঁ, মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের ১৮৯৬ সালে রচিত ‘দ্বমীমায়ে রেসালায়ে আঞ্জামে আথহাম’ (উর্দু) এর ৫৩ নং পৃষ্ঠার উক্তি অনুসারে দ্ব্যর্থহীনভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, কথিত মুসলেহ মওউদ স্বীয় আসমানী বিবি মরহুমা মুহাম্মদী বেগমের গর্ভ হতেই জন্ম হওয়ার ছিল। এ সম্পর্কে মির্যা সাহেবের ভাষ্যটি নিম্নরূপ : اس پیشگوئی کی تصدیق کے لئے جناب رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے بھی پہلے سے ایک پیشگوئی فرمائی ہے کہ یتزوج و یولد لہ یعنی وہ مسیح موعود بیوی کرے گا اور نیز وہ صاحب اولاد ہو گا۔ اب ظاہر ہے کہ تز و ج اور اولاد کا ذکر کرنا عام طور پر مقصود نہیں۔کیونکہ عام طور پر ہر یک شادی کرتا ہے اور اولاد بھی ہوتی ہے اس میں کچھ خوبی نہیں بلکہ وہ خاص تزوج ہے جو بطور نشان ہوگا اور اولاد سے مراد وہ خاص اولاد ہیں جس کی نسبت اس عاجز کی پیشگوئی موجود ہے گویا اس جاگہ رسول اللہ صلی اللہ علیہ السلام ان سیاہ دل منکروں کو ان کے شبہات کا جواب دے رہے ہیں اور فرما رہے ہیں کہ یہ باتیں ضرور پوری ہوگی۔

অর্থাৎ এই ভবিষ্যৎবাণীর সত্যতার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুরু থেকেই একটি ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন যে, তিনি (আগত মসীহ) বিয়ে করবেন এবং তাঁর সন্তান হবে অর্থাৎ মসীহ মওউদ বিয়ে করবেন এমনকি তাঁর সন্তানও হবে। এখন প্রকাশ থাকে যে, বিয়ে করা এবং সন্তান হওয়া সংক্রান্ত আলোচনা সাধারণ কোনো উদ্দেশ্যে নয়। কেননা সাধারণভাবে প্রত্যেকেই বিয়ে করে এবং সন্তানও হয়ে থাকে। এতে স্বতন্ত্র কোনো সৌন্দর্য বা বৈশিষ্ট্য থাকেনা। বরং এই (ভবিষ্যৎবাণী)-তে বিশেষ ধরনের বিয়েই উদ্দেশ্য যা নিদর্শনস্বরূপ এবং বিশেষ ধরনের সন্তান হওয়া উদ্দেশ্য যার ব্যাপারে এই অধমের ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে। এই স্থানে (ঐ ভবিষ্যৎবাণীর মাধ্যমে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম অস্বীকারকারী কৃষ্ণ হৃদয়ের ব্যক্তিদের সংশয়পূর্ণ জিজ্ঞাসার জবাব দিয়ে যেন বলতে চেয়েছেন যে, এই কথাগুলো অবশ্যই পূর্ণ হবে। (দ্বমীমায়ে রেসালায়ে আঞ্জামে আথহাম ৫৩, মির্যার ৮৩টি বইয়ের সমষ্টি ২৩ খন্ডে প্রকাশিত ‘রূহানী খাযায়েন’ ১১/৩৩৭)।

স্ক্রিনশট

মির্যা সাহেবের উল্লিখিত বক্তব্যের সারমর্ম এই যে,

১- হাদীসে মসীহ মওউদ এসে বিয়ে করা এবং তাঁর সন্তান হওয়ার কথা এসেছে। আর এটি রাসূল (সা:) কর্তৃক সত্যায়িত একটি ভবিষ্যৎবাণী।

২- প্রকাশ থাকে যে, বিয়ে করা এবং সন্তান হওয়া সংক্রান্ত আলোচনা সাধারণ কোনো উদ্দেশ্যে নয়। কেননা সাধারণভাবে প্রত্যেকেই বিয়ে করে এবং সন্তানও হয়ে থাকে। এতে স্বতন্ত্র কোনো সৌন্দর্য বা বৈশিষ্ট্য থাকেনা।

৩- এই (ভবিষ্যৎবাণী)-তে বিশেষ ধরনের বিয়েই উদ্দেশ্য যা নিদর্শনস্বরূপ এবং বিশেষ ধরনের সন্তান হওয়া উদ্দেশ্য যার ব্যাপারে এই অধমের ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে।

এবার মির্যা সাহেব যে হাদীসটির খন্ডিত অংশ দুটো উদ্ধৃত করে তথাকথিত “মুসলেহ মওউদ” নামের বিশেষ ধরনের সন্তানের ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন সে হাদীসের সম্পূর্ণ পাঠটি অনুবাদসহ দেখুন! হাদীসে এসেছে : ينزل عيسى ابن مريم إلى الأرض، فيتزوج ويولد له، ويمكث خمسا وأربعين سنة، ثم يموت، فيدفن معي في قبري، فأقوم أنا وعيسى ابن مريم في قبر واحد بين أبي بكر وعمر অর্থাৎ (সঠিক অনুবাদ) ঈসা ইবনে মরিয়ম পৃথিবীতে নাযিল হবেন। অতপর তিনি বিয়ে করবেন এবং তাঁর সন্তান হবে। তিনি পয়তাল্লিশ বছর অবস্থান করবেন। অতপর মৃত্যুবরণ করবেন। তারপর তিনি আমার সাথে আমার কবরে দাফন হবেন। অতপর আমি এবং ঈসা ইবনে মরিয়ম আবুবকর এবং উমরের মাঝে একই কবরে অবস্থান করবো। (সূত্র মেশকাত শরীফ, হাদীসের মান : দুর্বল)।

  • প্রাসঙ্গিক একটি কথা বলে রাখতে চাই যে, হাদীসটি সূত্রের বিচারে এতটা শক্তিশালী যে, এটি ভিন্ন ভিন্ন ৩টি সনদে বর্ণিত হয়েছে। ‘আল-মু’জামুল কাবীর‘ কিতাবের খন্ড নং ১৩ পৃষ্ঠা নং ১৫৯ এর মধ্যে একই অর্থবোধক আরেকটি হাদীস ভিন্ন আরেক সনদে পাওয়া যায়।

হাদীসটির “ঈসা ইবনে মরিয়ম আমার কবরের মধ্যে” দাফন হবে, এ কথার সঠিক তাৎপর্য নিয়ে কাদিয়ানীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধূম্রজাল সৃষ্টি করলেও বিশিষ্ট যুগ ইমাম মোল্লা আলী ক্বারী (রহ:) সেটির প্রকৃত অর্থ فى مقبرتى অর্থাৎ “আমার গোরস্থানে” এটাই বুঝিয়ে গেছেন। দেখুন, মেরকাত শরহে মেশকাত, কিতাবুল ফিতান ১০/১৬৬। ফলে এই সংক্রান্ত তাবৎ তাবীল আর রূপকের কাসুন্দি বরাবরের মতই প্রত্যাখ্যাত ও পরিত্যাজ্য!

মেরকাত শরহে মেশকাত, কিতাবুল ফিতান ; মোল্লা আলী ক্বারী রহঃ

একই ধরনের অপরাপর হাদীসগুলো দ্বারাও বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। তেমনি একটি হাদীস সনদসহ এইরকম : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺃَﺣْﻤَﺪَ ﺍﻟﺘَّﺮْﻣِﺬِﻱُّ ﺛَﻨَﺎ ﺑَﻜْﺮُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟْﻮَﻫَّﺎﺏِ ﺛَﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑْﻦُ ﻧَﺎﻓِﻊٍ ﺍﻟﺼَّﺎﺋِﻎُ ﻋَﻦْ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦ ﺍﻟﻀَّﺤَّﺎﻙِ ﻋَﻦْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺑْﻦِ ﻳُﻮﺳُﻒَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑْﻦِ ﺳَﻼﻡٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﻋَﻦْ ﺟَﺪِّﻩِ ﻗَﺎﻝَ : ﻳُﺪْﻓَﻦُ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﻣَﻊَ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﺻَﺎﺣِﺒَﻴْﻪِ ، ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ ﻗَﺒْﺮُﻩُ ﺭَﺍﺑِﻌَﺎً

অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা:) বলেছেন, ঈসা (আ:)-কে রাসূল এবং তাঁর দুই সাহাবী (আবুবকর, উমর)’র সাথে (একই কবরস্থানে) দাফন করা হবে। ফলে (সেখানে) তাঁর কবরটি চতুর্থতম কবর হবে।’ এই হাদীস উপরে উল্লিখিত হাদীসটির বিশ্লেষণকারী এবং ‘রাওজা শরীফ খুঁড়ে তার অভ্যন্তরে দাফন করার কথা বুঝাল কিনা’ সেই সংশয়টুকুরও তিরোহিতকারী। কেননা এই হাদীসে সুস্পষ্টই ‘ক্বাবরুহু রাবি’আন’ (ঈসার কবরটি সেখানে চতুর্থতম কবর) বলেই উল্লেখ রয়েছে।

ইমাম তিরমিযী (রহ:) এটি স্বীয় “আল-জামে” গ্রন্থে আগের ২টি সনদের বাহিরে ভিন্ন আরেক সনদেও উল্লেখ করে বলেছেন, এর সনদ হাসান এবং গরীব তথা সনদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্ণনাকারী অনূর্ধ্ব একজন।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন Click

অবশেষে প্রমাণিত হল, উপরের দীর্ঘ বক্তব্যের আলোকে প্রমাণ করতে পারলাম যে, মির্যার কথিত মুসলেহ মওউদ এর জন্ম তারই প্রতিশ্রুত ও আসমানী বিবি মুহাম্মদী বেগমের গর্ভ থেকেই হওয়ার ছিল। তিনি বিষয়টিকে হাদীস দ্বারা উদ্ধৃত করে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, اس پیشگوئی کی تصدیق کے لئے جناب رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے بھی پہلے سے ایک پیشگوئی فرمائی ہے کہ یتزوج و یولد لہ یعنی وہ مسیح موعود بیوی کرے گا اور نیز وہ صاحب اولاد ہو گا۔ অর্থাৎ এই ভবিষ্যৎবাণীর সত্যতার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুরু থেকেই একটি ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন যে, তিনি (আগত মসীহ) বিয়ে করবেন এবং তাঁর সন্তান হবে অর্থাৎ মসীহ মওউদ বিয়ে করবেন এমনকি তাঁর সন্তানও হবে।

  • এবার হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন যে, মির্যা কাদিয়ানী সাহেব থেকে এধরণের আর কোনো ইংগিত তার অন্য আর কোনো রচনা হতেও বুঝা যায় কিনা?

উত্তরে বলা হবে যে, হ্যাঁ অবশ্যই। মির্যা কাদিয়ানী সাহেব ১০ই জুলাই ১৮৮৮ সালে আপনা একখানা ইশতিহার এর পরিশিষ্ট তুলে ধরে মুহাম্মদী বেগমের পরিবারের সাথে আত্মীয়তা করার উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে খোদ লিখেছেন : ایک عرصہ سے یہ لوگ جو میرے کنبے سے اور میرے اقارب ہیں کیا مرد اور کیا عورت مجہے میرے الہامی دعاوی میں مکار اور دکاندار خیال کرتے ہیں ۔۔۔۔۔۔اگر ان میں کچھ نور ایمان اور کانقشنس ہوتا اس رشتہ کی درخواست کی کچھ ضرورت نہیں تہی۔ سب ضرورتوں کو خدا تعالی نے پورا کردیا تہا۔ اولاد بہی عطا کئی اور ان میں سے وہ لڑکا بہی جو دین کا چراغ ہوگا۔ بلکہ ایک اور لڑکا ہونے کا قرب مدت تک وعدہ دیا جسکا نام محمود احمد ہوگا۔ اور اپنے کاموں میں اولوا کالعزم نکلے گا۔ پس یہ رشتہ جسکی درخواست کی گئی ہے محض بطور نشان کے ہے تا خدا تعالی اس کنبہ کے منکرین کو اعجوبہ قدرت دکہلا دے۔ ۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔خاکسار غلام احمد از قادیان ضلع گورداسپور ۔ پانزدہم جولائی 1888 عیسائی۔

অর্থাৎ (আলোচনাটি মুহাম্মদী বেগমের পিতা আহমদ বেগ এর পরিবার সংক্রান্ত—অনুবাদক) দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আমার গোষ্ঠী এবং নিকটাত্মীয়গণের যারাই পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে আমার ইলহাম আর দাবিসমূহকে প্রতারণা এবং কারসাজি মনে করত……..। যদি তাদের মধ্যে সামান্যতম ঈমানের জ্যোতি এবং কানেকশন থাকত তাহলে(ও) তাদের সাথে আত্মীয়তার প্রস্তাব করার কোনোই প্রয়োজন ছিল না। সকল প্রয়োজনীয়তা খোদাতায়ালা পূরণ করে দিয়েছেন। তিনি সন্তানও দান করেছেন এবং তাদের মধ্য থেকে এমন সন্তানও দান করেছেন যে দ্বীনের বাতি হবে। (তবে) নিকটতম সময়ে আরেকটি সন্তানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যার নাম মাহমুদ আহমদ হবে। যে আপনা মিশনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চরিত্রের স্বাক্ষর রাখবে। সুতরাং এই (গোষ্ঠীর সাথে অর্থাৎ মুহাম্মদী বেগমের পরিবারের সাথে—অনুবাদক) আত্মীয়তার প্রস্তাব করা হয়েছে শুধুমাত্র (সেই) নিদর্শনটির জন্য। যাতে খোদাতালা এই গোষ্ঠীটির (আত্মীয়তার সম্পর্ক) অস্বীকারকারীদের স্বর্গীয় শক্তির বিরল এক দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করতে পারেন। নিবেদক, অধম গোলাম আহমদ গুরুদাসপুর উপজেলার কাদিয়ান থেকে। ১৫-জুলাই-১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে। (সূত্র: মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ১/১৬০-৬২; নতুন ও অনলাইন এডিশন)।

স্ক্রিনশট

মির্যা সাহেবের উল্লিখিত বক্তব্যের সারমর্ম এই যে,

১- যদি তাদের মধ্যে (অর্থাৎ মুহাম্মদী বেগমের পরিবারের মধ্যে) সামান্যতম ঈমানের জ্যোতি এবং কানেকশন থাকত তাহলে(ও) তাদের সাথে আত্মীয়তার প্রস্তাব করার কোনোই প্রয়োজন ছিল না। ১০ ই জুলাই ১৮৮৮ সালে মির্যা সাহেব তৃতীয় বিয়ের প্রস্তাবের প্রয়োজনীয়তা যখন তুলে ধরছেন তখন নুসরাত জাহানের সাথে তার সংঘটিত বিয়ের বয়স ৪ বছর গত হতে চলল!

২- মির্যা সাহেব নুসরাত জাহান এর গর্ভ থেকে কতেক সন্তানপ্রাপ্তির কথাও জানান দেন। ততদিনে তার দুই সন্তানই জন্মেছিল, বশিরে আউয়াল এবং আছমত বিবি (সীরাতে মাহদী রেওয়ায়েত নং ৪৭০ দ্রষ্টব্য)। তিনি এখানে বশিরে আউয়াল সম্পর্কেই ‘দ্বীনের বাতি’ বলে আখ্যা দেন। যদিও তিনি সেই বছরেই মারা যান।

৩- মির্যা সাহেব এখানে দ্বিতীয় আরেকটি সন্তানের আগমনী সংবাদও উল্লেখ করেন। যার নাম রাখেন মাহমুদ আহমদ। তিনি তাকেই “মুসলেহ মওউদ” হিসেবে সম্বোধন করেন। কিন্তু এই মাহমুদ আহমদ এর সংবাদ দেয়ার পরপরই মির্যা মুহাম্মদী বেগমের পরিবারের সাথে আত্মীয়তার প্রসঙ্গটিও টেনে আনেন। যার ফলে নুসরাত জাহানের গর্ভে জন্ম নেয়া বশির উদ্দিন মাহমুদকে কথিত “মুসলেহ মওউদ” মনে করার আর কোনো সুযোগই থাকেনা। এই যে দেখুন মির্যা সাহেব কীভাবে কথাটি শেষ করে মুহাম্মদী বেগমের পরিবারের সাথে তার আত্মীয়তার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য টেনে আনলেন! তিনি বলেন پس یہ رشتہ جسکی درخواست کی گئی ہے محض بطور نشان کے ہے تا خدا تعالی اس کنبہ کے منکرین کو اعجوبہ قدرت دکہلا دے۔ অর্থাৎ সুতরাং এই (গোষ্ঠীর সাথে অর্থাৎ মুহাম্মদী বেগমের পরিবারের সাথে—অনুবাদক) আত্মীয়তার প্রস্তাব করা হয়েছে শুধুমাত্র (সেই) নিদর্শনটির জন্য। যাতে খোদাতালা এই গোষ্ঠীটির (আত্মীয়তার সম্পর্ক) অস্বীকারকারীদের স্বর্গীয় শক্তির বিরল এক দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করতে পারেন।

জ্ঞানীদের নিশ্চয়ই এবার ভাবিয়ে তুলবে।

  • হয়ত আরও জানতে চাইবেন যে, আর কোথাও মুহাম্মদী বেগম সম্পর্কিত এ ধরনের কোনো কথার প্রমাণ আরও আছে কিনা?

উত্তরে বলব, জ্বী হ্যাঁ আছে। এই যে দেখুন, মির্যা কাদিয়ানী সাহেব তার তথাকথিত একটি ইলহাম يا آدم اسكن انت و زوجك الجنة . يا مريم اسكن انت و زوجك الجنة . يا احمد اسكن انت و زوجك الجنة এর তাৎপর্য উল্লেখ করে লিখেছেন, “বারাহীনে আহমদিয়া পুস্তকেও আজ থেকে (অর্থাৎ ১৯০০ সাল থেকে) ১৭ বছর পূর্বে ঐ ভবিষ্যৎবাণীর দিকেই ইংগিত রয়েছে যার রহস্য বর্তমানে আমার নিকট পরিষ্কার হয়ে গেছে। সেটি হল এই ইলহাম যা বারাহীনে আহমদিয়ার ৪৯৬ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে। এই ইলহামের মধ্যে ৩টি স্থানে زوج (সহধর্মিণী) শব্দ উল্লেখ আছে। আর ৩টি নাম (অর্থাৎ আদম, মরিয়ম এবং আহমদ) এই অধমেরই রাখা হয়েছে।………… এবং (বর্তমানে) তৃতীয় زوجہ (সহধর্মিণী) এর অপেক্ষায়। তার সাথে আহমদ নামকে শামিল করা হয়েছে। আর এই “আহমদ” শব্দটি ঐ কথার প্রতিই ইংগিত যে, ঐ সময় হামদ এবং প্রশংসা হবে। এটি একটি গুপ্ত ভবিষ্যৎবাণী।” (দ্বমীমায়ে রেসালায়ে আঞ্জামে আথহাম ৫৪, রূহানী খাযায়েন ১১/৩৩৮)।

স্ক্রিনশট

উপরের বক্তব্যটিতে মির্যা সাহেব দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, এই ইলহাম যা বারাহীনে আহমদিয়ার ৪৯৬ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে। এই ইলহামের মধ্যে ৩টি স্থানে زوج (সহধর্মিণী) শব্দ উল্লেখ আছে। আর ৩টি নাম (অর্থাৎ আদম, মরিয়ম এবং আহমদ) এই অধমেরই রাখা হয়েছে।………… এবং (বর্তমানে) তৃতীয় زوجہ (সহধর্মিণী) এর অপেক্ষায়। মির্যা সাহেব কিন্তু তৃতীয় সহধর্মিণীর সাথে বিয়ের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তখনও যখন ১৯০০ সাল প্রায় শেষের দিকে গড়িয়ে গেছে। তা এজন্যই যে, মির্যা সাহেবের কথিত মুসলেহ মওউদ তার এই তৃতীয় সহধর্মিণীর গর্ভ থেকেই হবেন বলেই তিনি ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে রেখেছেন। আর তার সেই ভবিষ্যৎবাণীটি ১৮৯৬ সালে রচিত ‘দ্বমীমায়ে রেসালায়ে আঞ্জামে আথহাম’ (উর্দু) এর ৫৩ নং পৃষ্ঠায় কিভাবে বর্ণিত আছে তা উপরে নিশ্চয়ই পড়েছেন। প্রয়োজনে আবার পড়ে দেখুন। আমি আবারও বলছি, মির্যা সাহেব রাসূল (সা:)-এর হাদীসের উদ্ধৃতিতে মুহাম্মদী বেগমের সাথে তার বিয়ের প্রয়োজনীয়তাকে আশ্রয় করে ‘দ্বমীমায়ে রেসালায়ে আঞ্জামে আথহাম’ নামক পুস্তকে “মুসলেহ মওউদ” সংক্রান্ত ভবিষ্যৎবাণীটির পুনরাবৃত্তি যখন করছিলেন তখন মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ এর বয়স ৮ বছর চলছে । সুতরাং এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে, মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদকে কথিত মুসলেহ মওউদ হিসেবে কাদিয়ানী লাহোরি মুভমেন্টও কেন স্বীকার করেননা!

  • মুহাম্মদী বেগম কে ছিলেন? তার সাথে মির্যা কাদিয়ানীর কী এমন ঘটেছিল? সম্পূর্ণ ঘটনা মির্যায়ী রচনা হতে তুলে ধরছি :

মুহাম্মদী বেগম :

মুহাম্মদী বেগম ছিলেন মির্যা কাদিয়ানীর এক নিকট আত্মীয়া এবং তার পুত্র ফজলে আহমদ এর চাচাত শালি হিসেবে মির্যার ঝিয়ারিও বলা যায় (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ১/২২১)। পিতা আহমদ বেগ। স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সুলতান মুহাম্মদ। মির্যার দাবী, খোদাতায়ালা নাকি তাকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়েছেন, তার সাথে মুহাম্মদী বেগমের বিবাহ হবেই হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যদি মুহাম্মদী বেগমের বিবাহ কোনো কারণে অন্য কারো সাথে হয়েও যায়, খোদাতায়ালা তাঁকে বিধবা করে হলেও মির্যাকে ফিরিয়ে দেবেন। খোদাতায়ালার এই কথায় কোনো পরিবর্তন হবেনা। কিন্তু পরের ইতিহাস সবার জানা। মির্যা সাহেব ২৬-০৫-১৯০৮ ইং কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ওদিকে মুহাম্মদী বেগম তখনো স্বামীর সংসারেই ছিলেন, এমনকি মির্যার মৃত্যুর পরেও আরো প্রায় ৪০ বছর স্বামীর সংসার করেন। স্বামী সুলতান মুহাম্মদের মৃত্যু হয় ১৯৪৯ সালে আর মুহাম্মদী বেগম ১৯ শে নভেম্বর ১৯৬৬ সালে লাহোরে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের আমৃত্যু সংসার-জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মির্যা কাদিয়ানীকে মিথ্যাবাদী প্রমাণে যথেষ্ট ছিল।

  • মির্যা কাদিয়ানীর সাথে মুহাম্মদী বেগমের বিয়ে না হওয়ায় তাদের পরবর্তী রচনাবলীতে অপব্যাখ্যা আর স্ববিরোধ বক্তব্যের তুফান ঘটানোর দৃষ্টান্ত :

কাদিয়ানীদের উর্দূ ভাষার দৈনিক পত্রিকা ‘আল-ফজল’ ০২-০৮-১৯২৪ ইং এর ২২ নং পাতায় মির্যা বশির উদ্দীন মাহমুদের উদ্ধৃতিতে লিখা আছে ‘হযরতের সাথে ওই মেয়েটির বিবাহ হওয়া মর্মে আল্লাহতায়ালার কোনোই ওয়াদা ছিলনা।

স্ক্রিনশট >> দৈনিক আল-ফজল’ ০২-০৮-১৯২৪ ইং এর ২২ নং পাতা

এবার তাদের উর্দূ ভাষার আরেকটি দৈনিক পত্রিকা ‘আল-হিকাম’ ৩০-০৬-১৯০৫ ইং এর মধ্যে কী লিখা আছে দেখুন : “ইলহামে ইলাহীর শব্দটি হল, ছা-ইয়াকফীকা হুমুল্লাহু ওয়া ইউরাদ্দূ-হা ইলাইকা অর্থাৎ খোদা তোমার ঐ সমস্ত বিরুদ্ধবাদীদের মুকাবিলা করবেন এবং দ্বিতীয় কোথাও যার বিয়ে হয়ে গেছে খোদা তাকে তোমার নিকট ফিরিয়ে এনে দেবেন।”

স্ক্রিনশট >> দৈনিক ‘আল-হিকাম’ ৩০-০৬-১৯০৫ ইং

এবার তাদের ‘মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত’ পুস্তকে কী লিখা আছে দেখুন: ‘খোদাতায়ালা বলেছেন আমি এ মহিলাকে তার বিবাহের পর তার (অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানীর) নিকট ফিরিয়ে আনব।’ সূত্র : মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ২/৪৩ নতুন এডিশন।

স্ক্রিনশট

এই তো গেল তাদের পিতা-পুত্রের স্ববিরোধ কথাবার্তার একটি প্রমাণ। এবার মির্যাকে বাঁচাতে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কাদিয়ানী নেতারা সেটির কেমন উদ্ভট তাবীল (ব্যাখ্যা) দাঁড় করল নিচে দেখুন!

“ভবিষ্যৎবাণীতে উল্লিখিত কুমারী ও বিধবা উভয় অংশই তাঁর সহধর্মীনি হযরত নুসরত জাহান বেগম এর মধ্যমেই পূর্ণ হবার ছিল এবং সেভাবেই হয়েছে। অর্থাৎ তিনি কুমারী অবস্থায় তাঁর স্ত্রী হয়ে আসবেন এবং স্বামীর মৃত্যুতে বিধবা অবস্থায় রয়ে যাবেন।”

এই তাবীলটি তাদের অন্যতম প্রধান মুরুব্বী জালালুদ্দীন শামস সাহেবেরও। সংক্ষেপে।

পরিশেষে অবশিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর হল, মির্যা সাহেবের সাথে মুহাম্মদী বেগমের বিয়ে না হওয়ায় সেই কথিত মুসলেহ মওউদ এর আদৌ জন্ম হয়নি বলেই মানতে হবে। একই কারণে কেয়ামতের পূর্বে তার কখনো জন্ম হওয়ারও সুযোগ নেই। অতএব, যাদের বিবেক রয়েছে তারা বিবেক দিয়ে চিন্তা করবে, এই প্রত্যাশায় আজকের মত এখানেই শেষ করছি। ওয়াস-সালাম।

লিখক ও গবেষক প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
তারিখ ২২.০২.২০২১ইং

মির্যা কাদিয়ানীর ৮০ বছর বেঁচে থাকার ভবিষ্যৎবাণীর পরিশেষ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (১৮৪০-১৯০৮) মহান আল্লাহ তায়ালার নাম ভেঙ্গে ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে লিখেছেন “আল্লাহতালা আমাকে সুস্পষ্ট শব্দে জানিয়ে দিয়েছেন যে তোমার বয়স ৮০ (আশি) বছর হবে। এতে ৫ অথবা ৬ বছর কম হবে বা বেশি হবে।” (রূহানী খাযায়েন ২১/২৫৮)।

তিনি তার নিজের জন্ম তারিখ সম্পর্কেও লিখে গেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি ১৮৩৯ অথবা ১৮৪০ সালে শিখদের আখেরি ওয়াক্তে জন্ম লাভ করেছি। আর আমি ১৮৫৭ সালে ১৬ অথবা ১৭ বছর বয়সী ছিলাম।” (রূহানী খাযায়েন ১৩/১৭৭)।

(প্রামাণ্য স্ক্যানকপি উপরে দেখুন)

প্রশ্ন করা যেতে পারে যে, মির্যা কাদিয়ানীর ভবিষ্যৎবাণী মিথ্যা সাব্যস্ত হল কিভাবে?

উত্তরে বলা হবে যে, মির্যা কাদিয়ানী তার উক্ত ভবিষ্যৎবাণী অনুসারে (৬৯+৬) ৭৫ বছর বয়সে অথবা (৬৯-৬) ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করার কথা। কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করেন (১৯০৮-১৮৩৯) ৬৯ বছর বয়সে।

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব কিন্তু একথাও লিখে গেছেন যে, “যদি প্রমাণিত হয়ে যায় যে, আমার শত শত ভবিষ্যৎবাণী হতে কোনো একটিও মিথ্যা, তাহলে আমি স্বীকার করে নেব যে, আমি একজন মিথ্যাবাদী।”

রূহানী খাযায়েন খন্ড নং ১৮ পৃষ্ঠা নং ৪৬১।

হে আল্লাহ! তুমি এখনো যাদের অন্তরে মোহর মেরে দাওনি তারা যেন মৃত্যুর আগে আগে হিদায়াতের অমূল্য সম্পদ ঈমান থেকে বঞ্চিত হয়ে না যায়! তাদেরকে তুমি সঠিক চিন্তাশক্তি দান কর।

আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

বাইবেল বলছে ‘রূপক ঈসা’ এর কনসেপশন শুধুই মানুষকে ঠকানো!

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

দিন কতেক পূর্বে “বাইবেল” এর এই উদ্ধৃতিটি যখন ইমেজ আকারে পোস্ট করেছিলাম তখন কাদিয়ানীবন্ধুদের অনেকে আমাকে কটাক্ষ করে বলেছিল ‘তুই মোল্লা একটা মিথ্যাবাদী’! তাই এখন সরাসরি স্ক্রিনশট থেকে তুলে দিলাম। যারা বাইবেলকে কুরআন হাদীসের বাহিরেও অন্যতম একটি প্রামাণিক সোর্স হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন তাদের জন্য উচিত হবেনা এর কিছু অংশ বিশ্বাস করা আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করা। সে হিসেবে বাইবেল এর এই জায়গাটিতে (মথি ২৪:৪-৫) যে কথাটি লিখা আছে সে সম্পর্কে অন্ততপক্ষে বাইবেল প্রেমি আহমদীবন্ধুদের নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলবে! অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের “রূপক ঈসা” দাবীটা বাইবেলের এই উক্তি দ্বারা মানুষকে ‘ঠকানো’ বৈ আর কিছুই না প্রমাণ করবে! ফেইসবুকে পড়ুুন

  • এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘দেখো! কেউ যেন তোমাদের না ঠকায়৷ (মথি 24:4)।
  • 5 আমি তোমাদের একথা বলছি কারণ অনেকে আমার নামে আসবে আর তারা বলবে, ‘আমি খ্রীষ্ট৷’ আর তারা অনেক লোককে ঠকাবে৷ (মথি 24:5)।

# বাইবেল নতুন নিয়ম ২৪: ৪-৫ দ্রষ্টব্য

স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য :

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

ঈসা (আ:) শূলিবিদ্ধ হননি! এটাই প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা

ঈসা (আ:)-কে শূলিবিদ্ধ করার এ জঘন্য বিশ্বাস কাদের?

প্রশ্ন :- “ওয়ামা ছালাবূহু” (০৪:১৫৭) এর প্রকৃত মর্মার্থ কী? তাত্ত্বিক ও যুক্তিকভাবে বুঝিয়ে দেবেন! আরো জানতে চাই যে, “ঈসার মৃত্যু নিশ্চিত করার পরে শূলী থেকে নামানো” বিশ্বাস কাদের?

জবাব :- আপনার প্রশ্নের মূল জবাবে একটু পরেই যাচ্ছি। প্রথমে জেনে নিন যে, পবিত্র কুরআনের ভাষায় : ইহুদীদের অন্যতম দাবী এই ছিল “আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে হত্যা করেছি”। ব্যস, তাদের দাবী এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ। এখন আল্লাহতালা তাদের দাবী খন্ডন করলেন কিভাবে তা জানা প্রয়োজন এবং বুঝাও প্রয়োজন!

খন্ডন :-

আল্লাহতালা তাদের উক্ত দাবী খন্ডন করতে গিয়ে ২টি শব্দ উল্লেখ করেছেন। (১) “তারা তাঁকে হত্যা করেনি।” তার মানে ইহুদীদের দাবীর খন্ডন হয়ে গেল। তারপরেই আল্লাহ বলছেন (২) “তারা তাঁকে শূলেও চড়ায়নি।” এখন ভাবনা জন্ম দেয় যে, ইহুদীদের দাবী তো শুধুই ১টি ছিল। অথচ আল্লাহতালা সেটির খন্ডন করেই পুনরায় বলছেন “তারা তাঁকে শূলেও চড়ায়নি।” এর রহস্য কী?

এর রহস্যের জট খুলতে চাইলে সূরা মায়েদার ১১০ নং আয়াতটি পড়ুন। আপনি দেখতে পাবেন যে, ঈসাকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে সেখানে পরিষ্কার শব্দে “কাফাফতু বনী ইসরাইলা আনকা অর্থাৎ তখন আমি [আল্লাহ] বনী ইসরাইলকে তোমা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম” উল্লেখ আছে।

খ্রিস্টানদের কিতাবেও পবিত্র কুরআনের উক্ত বক্তব্যের সমর্থনে পাওয়া যায় যে, ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার আগের দিন যীশু (আ:) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হওয়া থেকে ইহুদীদের কাছ থেকে রক্ষা করার জন্য (ম্যাথু ২৬:৩৯)। এবার তো পুরোই পরিষ্কার হয়ে গেল যে, ইহুদীরা ঈসাকে শূলে চড়াবে তো দূরে থাক, তারা বরং তাঁর কাছেও ঘেষতে পারেনি।

ফলাফল দাঁড়াল এই যে, ঈসা (আ:)-কে ইহুদীরা ‘শূলে না চড়ানো’ ব্যাপারটিও সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই প্রশ্ন আগের মতই থেকে যাচ্ছে যে, তথাপি ইহুদীদের দাবীর খন্ডনে আল্লাহতালা “ওয়ামা ছালাবূহু” কেন বললেন?

এর জবাব হল, সেই সময়কার নিয়ম ছিল “মিথ্যাবাদী ও ভন্ড প্রতারক” শ্রেণীর অপরাধীদের হত্যার পর শূলে চড়িয়ে রাখা হত। ইহুদীরা ঈসা (আ:)-কে যেহেতু মিথ্যাবাদী ও প্রতারক আখ্যা দিত, তাই তারা তাঁকে হত্যা করতে যখনি জমায়েত হল তখনি আল্লাহতালা তাঁর থেকে ইহুদীদের নিবৃত রাখলেন এবং আকাশে উঠিয়ে নিলেন।

ঘটনাক্রমে ইহুদীরা ঈসা (আ:)-এর সাদৃশ্যপূর্ণ নিজেদেরই যে লোকটিকে শূলে চড়িয়েছিল সেই লোকটিকে তারা প্রকৃতপক্ষে ঈসা-ই ধারণা করেছিল। আল্লাহতালা পরের অংশে ইহুদীদের এ ধারণাকেও খন্ডন করে দিতে বলেছেন “ওয়ামা ছালাবূহু” (তাফসীরে জালালাইন)। তার মানে “তারা ঈসাকে হত্যা তো করেইনি, তাঁর মৃত্যুকে ‘অভিশপ্ত’ সাব্যস্ত করার অসৎ উদ্দেশ্যে শূলিতেও ঝুলিয়ে রাখতে পারেনি।”

তাহলে তাঁকে কী করা হয়েছিল? সোজা উত্তর – “ওয়ালাকিন শুব্বিয়া লাহুম অর্থাৎ কিন্তু তাদের (কোনো একজনকে ঈসার সাদৃশ্য করে দেয়ার ফলে) বিভ্রম হয়েছিল।”

তাদের বিভ্রম হওয়ার প্রেক্ষিতে বাস্তব ঘটনার স্বরূপ :-

এরূপ বিভ্রম হওয়ার ফলে তদানীন্তন ইহুদ এবং খ্রিষ্টানরাও ঈসার ব্যাপারে মতভেদে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি পবিত্র কুরআনেও নিম্নরূপ এসেছে। আল্লাহতালা ফরমান : “যারা তার সম্বন্ধে মতভেদ করেছিল তারা নিশ্চয় এ সম্বন্ধে সংশয়যুক্ত ছিল; এ সম্পর্কে অনুমানের অনুসরণ ব্যতীত তাদের কোনো জ্ঞানই ছিলনা। এটি নিশ্চিত যে, তারা তাঁকে হত্যা করে নাই। (তারপর আল্লাহতালা আরো ফরমান) “বাল রাফা’আহুল্লাহু ইলাইহি” তথা বরং আল্লাহ তাঁকে তাঁর নিজের নিকট [আকাশে] তুলিয়ে নিয়েছেন। (বিস্তারিত তাফসীরের কিতাবে দেখে নিন)।

তবে এখানে যারা মনে করেন যে, “ছালাব” অর্থ – শূলিবিদ্ধ করে হত্যা করা, তাদের উদ্দেশ্যেই আমি সব সময় উত্তরে বলি যে, আপনার কথা ধরে নিলেও এটাই সাব্যস্ত হবে যে, ঈসাকে শূলেচড়ানো হয়নি। কারণ, “শূলিতে ঝুলানো+হত্যা করা” দুটোই কিন্তু আল্লাহতালা “ওয়া-মা” শব্দ দ্বারা খন্ডন করে দিয়েছেন।

এখন আপনি যদি দাবী করেন যে, ঈসাকে “শূলে ঝুলানো” হয়েছিল কিন্তু তিনি “হত্যা” হননি। উত্তরে বলা হবে যে, আপনার এ দাবী অবান্তর। কারণ, শূলে ঝুলিয়ে রাখার পূর্বে মৃত্যু নিশ্চিত করা যেখানে নিয়ম রয়েছে, সেখানে আপনাকে বিশ্বাস করতে হলে দুটোকেই এক সঙ্গে বিশ্বাস করতে হবে। অথচ আল্লাহতালা “ওয়া-মা” শব্দ দ্বারা পুরো ব্যাপারটিকেই খন্ডন করতে চেয়েছেন!! এ সূক্ষ্ম ব্যাপারটি আপনাদের ভাবিয়ে তুলেনা কেন?

“ঈসাকে মৃত্যু নিশ্চিত করার পরে শূলী থেকে নামানো হয়” এ বিশ্বাস কাদের? দেখে নিই ইতিহাস কী বলে?

ইদানীংকাল ওরা (কাদিয়ানিরা) ঘটা করে প্রচার করে চলেছে যে, ঈসা (আ:) জীবিত থাকা সম্পর্কিত মুসলমানদের বিশ্বাস নাকি খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস থেকে এসেছে। নাউজুবিল্লা। শুনে অবাক হবেন যে, ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। অর্থাৎ ইহুদ এবং খ্রিষ্টান উভয়ের বিশ্বাস মতে, ঈসাকে শূলিবিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু শুধুমাত্র খ্রিষ্টানরা একটু ব্যতিক্রম বিশ্বাস করে যে, “ঈসাকে শূলিবিদ্ধ করার পর ইহুদী কর্তৃক তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে শূলি থেকে তাঁকে নামানো হয়। পরে আল্লাহতালা তাঁকে কয়েক ঘন্টা পরে পুনরায় জীবিত করে আকাশে উঠিয়ে নেন।” অপ্রিয় হলেও সত্য, আহমদী তথা কাদিয়ানিদের যেই মতবাদ সেটি ইহুদীদের সাথে পুরোপুরি এবং খ্রিষ্টান জাতির সাথে আংশিক মিলে যায়। বাংলায় প্রবাদ আছে – উল্টো চমকিলেরে রাম!!

আমি আহমদী তথা কাদিয়ানীদের নিকট প্রশ্ন রাখতে চাই যে, মুসলমানদেরও বিশ্বাস কি এরূপ? অবশ্যই না। বরং মুসলমানদের বিশ্বাস হচ্ছে, “ইহুদীরা ঈসা (আ:)-কে শূলিবিদ্ধ করবে তো দূরে থাক, তারা তাঁর কাছেও ঘেষতে পারেনি। আল্লাহতালা তাঁকে নিরাপদে আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন।”

শুনে আরো অবাক হবেন, ইতিহাস পড়লে বুঝা যায় যে, হযরত ঈসা (আ:) ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পরেও পুনরায় জীবন লাভ করা – এটি আঠার এবং উনিশ শতকের খ্রিস্টান যাজকদের আবিষ্কৃত, যা swoon hypothesis নামে পরিচিত। তার প্রথম ধারণা দেন খ্রিষ্টান যাজক কার্ল ফ্রেডরিচ বার্ডট (Karl Friedrich Bahrdt)। যিনি ছিলেন unorthodox German biblical scholar, theologian, and polemicist.

(তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া)।

মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের জন্মের আগেই সারা দুনিয়ার খ্রিষ্টানদের এ ক্রুশিয় ধারণা দিয়ে গেছেন খ্রিস্টান পণ্ডিতগণ। বিশ্বাস না হলে আপনি গুগল সার্চ দিয়ে দেখুন। যে বাইবেল থেকে এ ধারণা তৈরি হয়েছে সেই বাইবেল থেকে-ই দেখা যায় “ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তাঁকে ক্রুশ থেকে নামানো হয়েছে।” নাউজুবিল্লা।

এখন চিন্তা করে বলুন- বর্তমান দুনিয়ার কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের সাথে খ্রিষ্টানদের উক্ত আকিদার হুবহু মিল পাওয়া যাচ্ছে কিনা? তাই উদরপিণ্ডি বুদোড় ঘাড়ে না চাপিয়ে শেষবারের মত আরেকবার ভেবে দেখুন- কোথাকার জল কোথায় ঢালছেন?

লেখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।