Home Blog Page 33

মির্যা কাদিয়ানীর ‘মসীহ’ দাবীর ভিত্তিটা কী?

হায়! কেমনে কি!!!

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। অগণিত দরুদ ও সালাম খাতামুন নাবিয়্যীন ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদে আরাবি (সা:)-এর উপর বর্ষিত হোক!

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর রচনা হতে তারই একটি বক্তব্য নিচে তুলে ধরছি :-

  • মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর সম্পূর্ণ বক্তব্যের সারমর্ম এই যে, ৩ (তিন) জন মাছীলে মসীহ’র আবির্ভাব হওয়াই নির্ধারিত। রূহানী খাযায়েন এর ৫ম খন্ডের পৃষ্ঠা নং ৩৩৯ হতে ৩৪৬ পর্যন্ত ৮টি পৃষ্ঠা খুব ভালো করে পড়ে দেখুন। তবেই আপনার মনে হবে, মাথার উপর যেন এই বিশাল আকাশটি এখনি ভেঙ্গে পড়ল!! হায় হায়! এ কেমন স্ববিরোধ কথাবার্তা! কাদিয়ানীবন্ধুদের উচিত, আপাতদৃষ্টে (কাদিয়ানী) জামাতের অমুক তমুকের বই পুস্তক ঘাটাঘাটি বাদ দিয়ে মির্যা কাদিয়ানীর বইগুলোতে কিসব স্ববিরোধ কথাবার্তা রয়েছে তা নিরপেক্ষ ভাবে খতিয়ে দেখা। তবেই বুঝতে আর কষ্ট হবেনা যে, আপনারা প্রকৃতপক্ষে দ্বীনে মুহাম্মদীর গন্ডীতে আছেন, নাকি নিজেদেরই অজান্তে ভিন্ন কোনো ধর্মের অনুসারী হয়ে রয়েছেন!

মির্যা সাহেবের ভাষ্য হচ্ছে,

اس سے معلوم ہوا کہ مسیح کی امت کی نالائق کرتوتوں کی وجہ سے مسیح کی روحانیت کے لیے یہی مقدر تھا کہ تین مرتبہ دنیا میں نازل ہو۔

অর্থাৎ এর দ্বারা বুঝা যায় যে, মসীহ’র উম্মতের (খ্রিস্টানদের) অযাচিত কৃতকর্মের কারণে মাসীহ’র রূহানীয়তের জন্য এটাই নির্ধারিত ছিল যে, ৩ (তিন) বার দুনিয়ায় অবতীর্ণ হবেন।” (উপর থেকে সংশ্লিষ্ট সম্পূর্ণ লিখাটি পড়ুন – লিখক)।

আমার কাজ সত্যটা তুলে ধরা। আর আপনাদের কাজ হল, বিষয়টি নিজ চোখে ও নিরপেক্ষ ভাবে যাচাই করে দেখা। আল্লাহ তুমি নবুওয়তের দাবীদার মুরতাদ মির্যা কাদিয়ানীর কবল থেকে আমার কলিজার টুকরো আহমদীবন্ধুদের রেহাই দান কর। আমীন।

প্রামাণ্য স্ক্রিনশট

পড়তে ক্লিক করুন :-

ঈসা (আ:)-কে মৃত প্রমাণ করতে পবিত্র কুরআনের ৩০টি আয়াতের অপব্যাখ্যার খন্ডনমূলক জবাব Click

বাইবেল বলছে ‘রূপক ঈসা’ এর ধারণাটি শুধুই মানুষকে ঠকানো Click

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয় হওয়ার হাদীসের অপব্যাখ্যার খন্ডন

পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয় হওয়া ও কাদিয়ানীদের অপব্যাখ্যা খন্ডন

পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয় সংক্রান্ত হাদীসকে কাদিয়ানী সম্প্রদায় কর্তৃক অস্বীকার করার মতলবসিদ্ধ অপব্যাখ্যাটি প্রায় এরকম :

  • “হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের যে দশটি আলামতের কথা বলেছেন যার মধ্যে আছে পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, আমরা বরাবরের মতোই মনে করি, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় আলামতটি একটি রূপক। বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মাধ্যমে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমা সভ্যতার আবির্ভাব এবং সমগ্র বিশ্বের উপর এর ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে আমরা (আপাতদৃষ্টিতে) পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের প্রতীক হিসেবে সনাক্ত করেছি, এবং এটাই শেষ সময়ের একটি বড় আলামত।”

খন্ডনমূলক জবাব :

বর্তমানে প্রতিদিন পূর্ব দিক থেকে সূর্য উদিত হচ্ছে। আখেরী যামানায় কিয়ামতের সন্নিকটবর্তী সময়ে এ অবস্থার পরিবর্তন হয়ে পশ্চিমাকাশে সূর্যোদয় ঘটবে। এটি হবে কিয়ামতের অত্যন্ত নিকটবর্তী সময়ে। পশ্চিমাকাশে সূর্য উঠার পর তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। কুরআন ও সহীহ হাদীসের মাধ্যমে এ বিষয়টি প্রমাণিত। কিন্তু কাদিয়ানী সম্প্রদায় তাদের সাধারণ কাদিয়ানীদেরকে এই ধরনের অপব্যাখ্যা দ্বারা বিভ্রান্ত করা সত্ত্বেও তারা এক্ষেত্রে আরও যে বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে সেটি হল, ওই সময় তাওবার দ্বার বন্ধ হয়ে যাবে মর্মে যে কথাটিও হাদীসে রয়েছে সেটি এড়িয়ে যাওয়া। যাতে তারা নিজেদের এ সমস্ত ব্যাখ্যার নামে ভন্ডামি ও প্রতারণার মুখোশ উন্মোচন হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারে।

এই পর্যায় আমি পবিত্র কুরআন থেকে কয়েকটি আয়াত এবং কয়েকটি সহীহ হাদীস এখানে তুলে ধরছি। যার ফলে খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে, তারা কত নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী আর ভন্ড হলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা:)-এর কথাকে অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে বিকৃত-ব্যাখ্যার পথ বেচে নিয়েছে। পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয় হওয়ার পর কাফেরদের ঈমান গ্রহণ তাদের উপকারে আসবেনা, এই মর্মে আল্লাহতালা বলেন,

  • هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمْ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا قُلْ انتَظِرُوا إِنَّا مُنتَظِرُونَ

অর্থাৎ ‘‘তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা আগমণ করবে কিংবা আপনার পালনকর্তা আগমণ করবেন। অথবা আপনার পালনকর্তার কোনো নিদর্শন আসবে। যে দিন আপনার পালনকর্তার কোনো নিদর্শন এসে যাবে তখন এমন ব্যক্তির ঈমান কোনো উপকারে আসবেনা যে পূর্ব থেকে ঈমান আনয়ন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনো সৎকাজ করেনি। হে নবী! আপনি বলুনঃ তোমরা অপেক্ষা করতে থাক। আমরাও অপেক্ষা করতে থাকলাম’’ (সূরা আনআমঃ ১৫৮)।

অধিকাংশ মুফাসসিরে কুরআনের মতে অত্র আয়াতে ‘‘কোনো নিদর্শন’’ বলতে পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়কে বুঝানো হয়েছে। ইবনে জারীর আত্-তাবারী বলেনঃ আয়াতে বর্ণিত নিদর্শনটি পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্য উদিত হওয়াই অধিক বিশুদ্ধ। কারণ এ ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে (তাফসীরে তাবারী, ৮/ ১০৩)।

১। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

  • لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ يَعْنِي آمَنُوا أَجْمَعُونَ فَذَلِكَ حِينَ ( لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا )

অর্থাৎ ‘‘যতদিন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবেনা ততদিন কিয়ামত হবেনা। যখন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবে এবং মানুষ তা দেখতে পাবে তখন সকলেই ঈমান আনবে। তখন এমন ব্যক্তির ঈমান কোনো উপকারে আসবেনা যে পূর্ব থেকে বিশ্বাস স্থাপন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনো সৎকাজ করেনি’’। (বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুর রিক্বাক)।

২। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ

  • إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا

অর্থাৎ ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহতালা দিনের বেলায় অপরাধকারীদের তাওবা কবূল করার জন্য সারা রাত স্বীয় হাত প্রসারিত করে রাখেন এবং রাতের বেলায় অপরাধকারীদের তাওবা কবূল করার জন্য সারা দিন তাঁর হাত প্রসারিত করে রাখেন। পশ্চিম আকাশ দিয়ে সূর্য উদয় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এভাবে তাওবার দরজা খোলা থাকবে’’। (মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুত তাওবা)।

পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠার পর তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবেঃ

আল্লাহতালা অত্যন্ত পরম দয়াময় ও ক্ষমাশীল। বান্দা গুনাহ করে যখন তাঁর কাছে ক্ষমা চায় তখন তিনি খুশী হন এবং বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত তিনি বান্দার তাওবা কবুল করতে থাকবেন। কিন্তু যখন পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠে যাবে তখন কারো ঈমান গ্রহণযোগ্য হবেনা এবং ফাসেক ও গুনাহগারের তাওবাও কবুল হবেনা। কারণ পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হওয়া একটি বিরাট নিদর্শন যা সে সময়কার প্রতিটি জীবিত ব্যক্তিই দেখতে পাবে এবং প্রত্যেক কাফেরই কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। অথচ ইতিপূর্বে তারা অস্বীকার করতো। মরণ উপস্থিত হওয়ার পর পাপী মু’মিন ব্যক্তির মতই হবে তাদের অবস্থা। মরণ উপস্থিত হওয়ার পর গুনাহগার বান্দার তাওবা যেমন কবুল হয়না পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠার পর তেমনি কাফেরের ঈমান ও গুনাহগারের তাওবা কবুল হবেনা। আল্লাহতালা বলেনঃ

  • فَلَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا قَالُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَحْدَهُ وَكَفَرْنَا بِمَا كُنَّا بِهِ مُشْرِكِينَ (84) فَلَمْ يَكُ يَنْفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ فِي عِبَادِهِ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكَافِرُونَ

অর্থাৎ ‘‘তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করলো তখন বললোঃ আমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করলাম এবং যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক করতাম তাদেরকে পরিহার করলাম। অতঃপর তাদের এ ঈমান কোনো উপকারে আসলোনা যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করল। আল্লাহতালার এ নীতি পূর্ব থেকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। সেখানে কাফেরেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়’’ (সূরা গাফেরঃ ৮৪-৮৫)।

ইমাম কুরতুবী (রহঃ) পূর্ববর্তী যামানার আলেমদের থেকে বর্ণনা করে বলেনঃ পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠার পর ঈমান ও তাওবা কবূল না হওয়ার করণ এই যে, তখন অন্তরে ভয় ঢুকে যাবে, পাপ কাজ করার আশা-আকাঙ্খা মিটে যাবে এবং শরীরের শক্তি শেষ হয়ে যাবে। কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সময় সকল মানুষ মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে উপস্থিত ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যাবে। তাই পশ্চিম আকাশে সূর্য দেখে কেউ তাওবা করলে তার তাওবা কবূল হবেনা। যেমন মালকুল মাওতকে দেখে তাওবা করলে কারো তাওবা কবুল হয়না (তাফসীরে কুরতুবী, ৭/ ১৪৬)

ইমাম ইবনে কাসীর (রহঃ) বলেনঃ ‘‘সে দিন যদি কোনো কাফের ঈমান এনে মুসলমান হয়ে যায় তার ঈমান গ্রহণ করা হবেনা। সে দিনের পূর্বে যে ব্যক্তি মুমিন থাকবে সে যদি ঈমানদার হওয়ার সাথে সাথে সৎকর্ম পরায়ন হয়ে থাকে তাহলে সে মহান কল্যাণের উপর থাকবে। আর যদি সে গুনাহগার বান্দা হয়ে থাকে এবং পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠতে দেখে তাওবা করে তার তাওবা কবূল হবেনা’’ (তাফসীরে ইবনে কাসীর, ৩/৩৭১)।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

হাদীসে কথিত ‘উম্মতিনবী’র দলিল থাকার দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট

হাদীসে কথিত ‘উম্মতি নবী‘ এর দলিল থাকার দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট

প্রশ্নকর্তা : একটি হাদীসে উল্লেখ আছে “…অতপর মূসা (আ:) আরজ করলেন,

اِجْعَلْنِىْ نَبِيًّا تِلْكَ الْاُمَّة

অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাকে সেই উম্মতের নবী বানিয়ে দাও। আল্লাহপাক ইরশাদ করলেন “মিনহা নাবিয়্যুহা” অর্থাৎ তাদের নবী তাদেরই মধ্য থেকে হবে।” ( ইমাম আবু নাঈম আল-ইস্পাহানী (রহ:)-এর সীরাতগ্রন্থ “হুলিয়া” এবং থানভীর সীরাতগ্রন্থ “নশরুত্তিব” দ্রষ্টব্য)। এই হাদীসে ‘তাদের নবী’ হতে মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের কথাই কি বুঝানো হয়েছে?

খন্ডনমূলক জবাব : প্রথমত, ইমাম ইয়াহ্ইয়া বিন মঈন, ইবনে আদী, ইমাম বুখারী, আবু যুর’আ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটির রাবীগণের কঠোর সমালোচনা করেছেন [ইমাম যাহাবী (রহ:) রচিত ‘মীযানুল ইতিদাল’ ৩/৬৭ দ্রষ্টব্য]। ইমাম ইবনে হাব্বান (রহ:) থেকে উক্ত বর্ণনাটির একজন রাবী সাঈদ ইবনে মূসা আল-উমাবী সম্পর্কে ‘মীযানুল ইতিদাল’ কিতাবে লিখা আছে,

اتهمه ابن حبان بالوضع. ثم ساق له ثلاثة أحاديث هذا أحدها ، وقال: موضوع

অর্থাৎ ইবনে হাব্বান (রহ:) উক্ত বর্ণনাকারীকে জাল হাদীস তৈরিকারী বলে অভিহিত করেছেন। অতপর তিনি ঐ বর্ণনাকারীর তিনখানা হাদীসের অন্যতম এই একখানা হাদীসকে জাল তথা বানোয়াট বলেছেন। শায়খ আলবানী (রহ:) লিখেছেন, এর সূত্র খুবই দুর্বল ও বানোয়াট (ইমাম ইবনে আবী আ’ছেম রচিত কিতাবুস সুন্নাহ’র তাহ্কিক শায়খ আলবানীর ‘যিলালুল জুন্নাহ ফী তাখরীজিস্ সুন্নাহ ১/৩০৬ দ্রষ্টব্য)। ফলে হাদীসের ঐ কথাগুলো প্রকৃতপক্ষে রাসূল (সা:)-এরই কথা কিনা তা নিশ্চিত নয়, বরং সন্দেহজনক। তাই ঐ কথাগুলো আকীদার ক্ষেত্রে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। অন্যথা কাদিয়ানীদের নিকট নিচের প্রশ্নগুলোর কোনোই জবাব থাকেনা।

কারণ উক্ত হাদীস হতে বুঝা যায়, মূসা (আ:) প্রথমে উম্মতে মুহাম্মদীয়ার নবী হতে আরজ করেছিলেন। এমনকি উম্মতে মুহাম্মদীয়ার মধ্যে শামিল হতেও চেয়েছিলেন! ফলে প্রশ্ন আসবে যে, হযরত মূসা (আ:) বনী ইসরাঈলের জন্য অলরেডি একজন রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েও তিনি উম্মতে মুহাম্মদীয়ার ‘নবী’ হতে চাইবেন কেন? অথচ ঐ উম্মতের জন্য সর্বশেষ নবী মুহাম্মদে আরাবী (সা:) পূর্ব থেকেই মনোনীত হয়ে আছেন যার সংবাদ ‘তাওরাত’ কিতাবেও দেয়া হয়েছে! আরো প্রশ্ন আসবে যে, মূসা (আ:) নিজের নবী ও রাসূলের পদ মর্যাদা উপেক্ষা করে শুধুমাত্র একজন “উম্মত” হতে চাইবেন কোন্ যুক্তিতে? কোনো উম্মত কি কখনো নবী রাসূলের সমকক্ষ হতে পারে?

  • দ্বিতীয়ত, ইমাম আবু নাঈম আল-ইস্পাহানী (রহ:)-এর আরেকটি সীরাতগ্রন্থ ‘দালায়িলুন নাবুওয়্যাহ‘ [دلائل النبوة] (পৃষ্ঠা ৬৮-৬৯) এর মধ্যে উক্ত বর্ণনাটি নিম্নোক্ত শব্দচয়নেও উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি বর্ণনা করেছেন,
  • إِنَّ مُوسَى لَمَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِ التَّوْرَاةُ، وَقَرَأَهَا فَوَجَدَ فِيهَا ذِكْرَ هَذِهِ الْأُمَّةِ فَقَالَ: يَا رَبِّي، إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً هُمُ الْآخِرُونَ السَّابِقُونَ، فَاجْعَلْهَا أُمَّتِي قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ … قَالَ: يَا رَبِّ فَاجْعَلْنِي مِنْ أُمَّةِ أَحْمَدَ.
  • অর্থাৎ “মূসা (আ:) এর প্রতি যখন তাওরাত নাযিল হল এবং তিনি যখন সেটি পড়লেন এবং সেখানে এই উম্মতের আলোচনা দেখতে পেলেন তখন তিনি আরজ করলেন, হে আমার প্রভু! আমি এই তখতে (তাওরাতের পান্ডুলিপি) শেষ যামানার অগ্রগামী উম্মতের আলোচনা দেখতে পাই। তাদেরকে আমার উম্মত বানিয়ে দিন। আল্লাহতালা উত্তরে বললেন, তারা আহমদের উম্মত।…. তখন মূসা (আ:) বললেন, তাহলে আমাকে আহমদের উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করে দিন।”

তৃতীয়ত, ‘তাফসীরে আবী হাতিম’ (৫/১৫৮৭) এর মধ্যেও এই ধরণের আরেকটি দুর্বল বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, আল্লাহপাক মূসা (আ:)-কে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করলেন,

تِلْكَ الْاُمَّةُ تَكُوْنُ بَعْدَكَ اُمَّةُ اَحْمَدَ

অর্থাৎ ঐ উম্মত তোমার পর আহমদের উম্মত হবে। এতে কিন্তু পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, মূসা (আ:) যেই উম্মতের নবী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলিয়া কথিত আছে তার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহও যে বলেছেন ‘তাদের নবী তাদেরই মধ্য থেকে হবে’-এই সমস্ত কথাবার্তায় ভবিষ্যতে একজন ‘উম্মতিনবী’ হবে—বুঝায় না, বরং ঐ সমস্ত কথাবার্তায় মুহাম্মদ (সা:)-এরই আগমনী সংবাদ দেয়া উদ্দেশ্য। নচেৎ ‘তিলকাল উম্মাতু তাকূনু বা’দাকা উম্মাতু আহমাদ’ (تِلْكَ الْاُمَّةُ تَكُوْنُ بَعْدَكَ اُمَّةُ اَحْمَدَ) একথার কী মানে?

  • এবার প্রশ্ন আসতে পারে যে, ঐ “আহমদ” দ্বারা মুহাম্মদ (সা:)-ই যে উদ্দেশ্য তা কিভাবে বুঝলাম? একজন উম্মতিনবীর আগমনী সংবাদও তো হতে পারে! এর জবাব নিম্নরূপ,

বিজ্ঞপাঠকবৃন্দ! একটু লক্ষ্য করুন। আবু নঈম এর হুলিয়াতুল আউলিয়া حلية الأولياء গ্রন্থের উক্ত বর্ণনাতেই “আহমদ” নামক ব্যক্তিটির পরিচয় এভাবে উল্লেখ আছে যে, “হযরত মূসা (আ:) আরজ করলেন, আহমদ কে? আল্লাহপাক ইরশাদ করলেন : হে মূসা! আমার ইজ্জত ও গৌরবের শপথ। আমি সমস্ত সৃষ্টি জগতের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক সম্মানিত কাউকেই সৃষ্টি করিনি। আমি তাঁর নাম আরশের মধ্যে আমার নামের সাথে আসমান ও জমিন এবং চন্দ্র ও সূর্য সৃষ্টির বিশ লক্ষ বছর পূর্বে লিপিবদ্ধ করেছি। আমার ইজ্জত ও গৌরবের শপথ! আমার সমস্ত মাখলূকের জন্য জান্নাত হারাম যতক্ষণ মুহাম্মদ (সা:) এবং তাঁর উম্মত জান্নাতে প্রবেশ না করবে।”

আশাকরি বুঝতেই পেরেছেন যে, হাদীসটি যদি সহীহও ধরি তাহলেও কিন্তু এখানে ‘আহমদ’ নামীয় মহান ঐ ব্যক্তিটি দ্বারা স্বয়ং মুহাম্মদে আরাবী (সা:)-ই উদ্দেশ্য। সুতরাং এর দ্বারা তথাকথিত উম্মতিনবী’র কনসেপশন পুরোপুরি ভ্রান্ত ও বাতিল সাব্যস্ত হল।

  • হাদীসের নামে তাদের আরো ১২টি দলিলের জবাব এখানে Click

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ

মসীহের আবির্ভাব এর সময় উল্লেখ করে মির্যা কাদিয়ানী যেভাবে ফেঁসে গেলেন!

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সাহেবের একটি বিচার-বিশ্লেষণ ও আমার মূল্যায়ন –

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব মসীহ দাবী করে কতটা দিশাহারা অবস্থায় পড়েছিল তা তার লিখনী পড়লেই বুঝা যায়। এক দিকে দাবী করলেন পবিত্র কুরআন দ্বারা প্রমাণিত বনী ইসরাইলি ঈসা (আ.) মৃত্যুবরণ করেছেন। আবার নিজেই লিখলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, মসীহ (আ.)-এর আবির্ভাবের সময়কাল ১৪০০ বছরই নির্ধারিত। (রূহানী খাযায়েন ৩/৪৬৪)। তিনি পবিত্র কুরআন শরীফের (সূূূূরা মুমিনুন)-এর একটি ১৮ নং আয়াতের খণ্ডিত অংশের বর্ণগুলোর আবজাদের নিয়মে সংখ্যা মান হিসেবে উল্লেখ করলেন ১২৭৪। অর্থাৎ মসীহ (আ.)-এর আবির্ভাবের সময়টি এই আয়াতের ইংগিতে ১২৭৪ বছরকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু মির্যা কাদিয়ানী সাহেব নিজেকে মসীহ হবার দাবী করেছেন ১৮৯২ সালের পর অর্থাৎ হিজরী ১৩০৯ সালের পর। এই সম্পর্কিত একটি লিখা পড়তে ক্লিক করুন।

স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য

এবার তাহলে কেমনে কী?

সমীকরণ তো মিলেনা!!

মজার ব্যাপার হল, মির্যা কাদিয়ানীর উক্ত বিচার-বিশ্লেষণ অনুসারে বাহায়ী জামাতের মির্যা হুসাইন আলী নূরী (১৮১৭-১৮৯২) ওরফে বাহাউল্লাহ-ই কথিত রূপক মসীহ সাব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে৷ কেননা সে মসীহ দাবী করেছিল ১৮৬৩ সালে। যা কিনা মির্যায়ী কথিত গবেষণার ফসল ১২৭৪ হিসেবে খ্রিস্টীয় ১৮৫৭ সাল হয়। তার মানে কথিত নির্ধারিত সময়ের মাত্র ৬ বা ৭ বছরের মাথায় বাহাউল্লাহ সাহেব নিজেকে রূপক মসীহ দাবীতে আত্মপ্রকাশ করেন। বর্তমানে তার জামাত পৃথিবীর ২১৮টি দেশের প্রায় ১২০০ টি জাতি ও বর্ণের ৮০০ ভাষাভাষী মানুষের মাঝে সমাদৃত। (সূত্র, উইকিপিডিয়া [আরবী])। এবার কোথায়কার জল কোথায় ঢালা হল!!!

আল্লাহতালা আমাদেরকে সঠিকভাবে বুঝার ও চিন্তা করার তাওফিক দিন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

ঈসা (আ.) আবার আসলে তখন শেষনবী কে হচ্ছেন?

ঈসা (আ.) আবার আসলে তখন শেষনবী কে হচ্ছেন? অনলাইনে অধিকাংশ কাদিয়ানী এই প্রশ্নের আড়ালে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর নবুওয়ত দাবীর বৈধতা খোঁজার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করারও খুব চেষ্টা করে। অথচ প্রশ্নটির উত্তর খুবই সহজ, একটু মগজটা খাটালেই হয়! মূল প্রশ্নোত্তরে যাওয়ার আগে কাদিয়ানীদের বিক্ষিপ্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই।

প্রশ্ন – নবীউল্লাহ হযরত ঈসা (আ.)-এর আগমনের বিষয়ে যারা বিশ্বাস রাখে, তারা একই সাথে খাতামান্নাবীঈন (সা.)-কে কিভাবে ‘শেষনবী’ মনে করে? এভাবে আপনাদের বিশ্বাস পরস্পর বিরোধী নয় কি?

উত্তর হচ্ছে, তাহলে তো মির্যা কাদিয়ানীও নবুওয়তের দাবী করতে পারেনা। অথচ তার অনুসারীরা ঈসা (আ.)-এর আগমনী বিশ্বাসের ভিত্তিতেই মির্যা কাদিয়ানীর ‘নবী’ দাবী মেনে নেয়! যদিও বা তাদের কেউই নবী দাবীদার মির্যা কাদিয়ানীর উম্মত হতে চায় না। আহা! এ কি অদ্ভুত ধরণের নবী আর কি অদ্ভুত অনুসারী!

এবার সরল উত্তরে আসি, ঈসা (আ.) এমন একজন নবী যিনি পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আসার অনেক আগেই নবুওয়ত লাভ করেছেন। ফলে তার আবার আসাতে নবুওয়তের দরজায় কোনো রকম ধাক্কা লাগবেনা। হ্যাঁ, তিনি আবার আসার পর যদি তার পূর্বের নবুওয়ত রিনিউ(!) করার দরকার হত, শুধুমাত্র তখনি খতমে নবুওয়তের সীল ভেঙ্গে অভ্যন্তরে প্রবেশের প্রয়োজন হত! মূলত এইজন্যই ঈসা (আ.)-এর দ্বিতীয়বারের আগমন দ্বারা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী ‘আমিই শেষনবী’ (انا خاتم النبيين)-এর উপর কোনো প্রশ্ন উঠবেনা। শায়খ ইবনুল আরাবী (রহ.)-ও একই কথা লিখে গেছেন স্বীয় ‘ফতুহাতে মাক্কিয়া’ (খ-২/পৃ-৩) কিতাবে। যেমন তিনি লিখেন, ونبوة عيسى عليه السلام ثابتة له محققة فهذا نبي ورسول قد ظهر بعده صلى الله عليه وسلم وهو الصادق في قوله إنه لا نبي بعده অর্থাৎ “পক্ষান্তরে নবুওয়তে ঈসা আপনা মর্যাদায় বহাল থাকবে {কিন্তু পুনরায় প্রতিষ্ঠা লাভ করবেনা}। যেহেতু তিনি-ও একজন নবী ও রাসূল ছিলেন, তাঁর পরেই হযরত (সা.)-এর আবির্ভাব হয়েছিল। যিনি স্বীয় বাণী : إنه لا نبي بعده (অর্থাৎ নিশ্চয়ই তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই)-তে একজন সত্যবাদী।” একদম পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, শায়খ ইবনে আরাবীও কথিত ‘রূপক ঈসা’র আগমনী কনসেপ্টে বিশ্বাসী ছিলেন না, বরং সেই ঈসা ইবনে মরিয়মের-ই পুনঃ আগমনে বিশ্বাসী ছিলেন যিনি ইতিপূর্বে নবী ও রাসূল ছিলেন আর তাঁর পরেই আবির্ভূত হন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। আহা! এরপরেও কাদিয়ানীরা এই সহজ বিষয়টা ঘোলাটে করে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেই করবে!

যাইহোক, এরপর তারা প্রশ্ন করে, সত্যি সত্যিই যদি বনী ইসরাইলের নবী ঈসা (আ.) শেষে আসেন তবে জন্মের দিক দিয়ে শেষনবী না হলেও মৃত্যুর দিক দিয়ে ঈসা (আ.)-ই শেষনবী হন, তাই নয় কি?

উত্তর– মৃত্যুর দিক দিয়েও ঈসা (আ.) শেষনবী হন না। কেননা ঈসা (আ.) মৃত্যুর আগে নিজের প্রাপ্ত নবুওয়তকে রি-নিউ বা নবায়ন করবেন না। যদি করতেন তখনি এই দাবী সঠিক ছিল। সত্য বলতে, তাদের প্রশ্নগুলোই বলে দেয় যে, তারা ধর্মজ্ঞানে কতটা অজ্ঞ।

তারা আবার প্রশ্ন করে যে, তার মানে তিনি পুনরায় এসে নবী হিসেবে মরবেন না?

উত্তর – ঈসা (আ.) পুনরায় এসে পূর্ববর্তী একজন নবী হিসেবে মরবেন, তবে পুনরায় আগমনের পর তিনি যেহেতু নবুওয়তের দায়িত্বে থাকবেন না, স্রেফ উম্মত হিসেবে থাকবেন সেহেতু তাঁর মৃত্যুটা একই সাথে ‘উম্মতি’ হিসেবেও হবে। বলে রাখা জরুরি যে, আমরা মুসলিম উম্মাহা বরং ‘খতমে নবুওয়ত’-এর সে অর্থই নিয়ে থাকি যে অর্থ নিয়েছেন বিশিষ্ট যুগ ইমাম আবুল কাশেম মাহমুদ ইবনে উমর আল যামাখশারী (রহ.) [মৃত. ১১৪৩ হিজরী]। তিনি “শেষনবী” এর সংজ্ঞায় লিখে গেছেন, “যাকে সবার শেষে নবী বানানো হয় তিনিই শেষনবী। পক্ষান্তরে ঈসা (আ.) হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের আগ থেকেই নবী ছিলেন।

তারা আর কোনো প্রশ্ন খোঁজে না পেয়ে শেষে একদম ফালতু একটা প্রশ্ন করে যে, তাহলে কি ঈসা (আ.)-এর নবুওয়ত তখন বাতিল হয়ে যাবে বলতে চান?

উত্তরে বলতে চাই, ঈসা (আ.)-এর পুনঃ আগমনে তাঁর নবুওয়ত “বাতিল” হয়ে যাবে, এটা তো মুসলমানদের বিশ্বাস নয়। মুসলমানদের বিশ্বাস তো হল, নবুওয়তে মুহাম্মদীর যুগে যদি আগেকার কোনো নবীও ইহজগতে থাকত তাহলে তিনিও নবুওয়তের দায়িত্বমুক্ত হয়ে স্রেফ উম্মতে মুহাম্মদী বলে গণ্য হয়ে যেতেন। নিচের সহীহ হাদীস সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। যেমন, আল্লাহর রাসূল (সা.) একটা হাদীসে বলেছেন, لو كان أخى موسى حيا ما وسعه إلا اتباعي . أخرجه أحمد অর্থাৎ যদি আমার ভ্রাতা মূসাও জীবিত থাকত তাহলে তার জন্য আমার আনুগত্য ছাড়া কোনো উপায় ছিলনা। (মুসনাদে আহমদ ৩/৩৮৭, হাদীসের মান, হাসান)। এখন আপনি কি রাসূল (সা.)-এর উপরেও একই প্রশ্ন উঠাবেন যে, তাহলে কি মূসা (আ.)-এর নবুওয়ত সে সময় বাতিল হয়ে যাবে? নাউযুবিল্লাহ। আপনাদের উচিত, মির্যার নবুওয়ত দাবীর বৈধতা খোঁজার আগে নিজেদের ঈমানের পরিণতি নিয়ে চিন্তা করা। এবার প্রশ্নোত্তরে আসা যাক,

প্রশ্ন-১, আল্লাহ্ তা’লা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কুরআন শরীফে খাতামান্নাবীন (خاتم النبيين) বলেছেন আর জামাতে আহমদীয়ার প্রত্যেক সদস্যও মুহাম্মদ (সা.)-কে খাতামান্নাবীন বলে বিশ্বাস করে। কোনো ব্যক্তি ততক্ষন পর্যন্ত আহমদীয়া জামাতে প্রবেশ করতে পারে না যতক্ষন সে বয়াত করার সময় একথা স্বীকার না করে যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) খাতামান্নাবীঈন। তা সত্ত্বেও বিদ্বেষবশত আহমদীদের (কাদিয়ানীদের) উপর এই অপবাদ আরোপ করা যে, তারা খাতামান্নাবীঈন মানে না, একটি স্পষ্ট জুলুম এবং অন্যায়।

উত্তর-১, প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উত্তরে যাওয়ার আগে তাকে জিজ্ঞেস করতে চাই যে, তিনি তার প্রশ্নে সব কথা বাংলায় লিখা সত্ত্বেও ‘খাতামান্নাবীঈন’ শব্দটিকে আরবীরূপেই রেখে দিলেন, বাংলায় খোলাসা করলেন না! মতলবটা কী? সে যাইহোক, প্রশ্নে বর্ণিত দাবীটি মোটেও সত্য নয়। কেননা কাদিয়ানীদের মূলধারার রচনাবলীতে বরং মির্যা গোলাম আহমদই ‘শেষনবী‘ বলে উল্লেখ রয়েছে। কাজেই, বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। যে কারণেই তাদের ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহার অভিযোগ বাস্তব সত্য, কোনো অপবাদ নয়! (স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য)।

প্রশ্ন-২, যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস রাখে যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পর হযরত ঈসা (আ.) আল্লাহ্‌র নবী হিসেবে আগমন করবেন, তিনি আঁ-হযরত (সা.) এর খতমে নবুওয়তের মান্যকারী কিভাবে হবেন? যদি বনী ইসরাঈলী নবী হযরত ঈসা (আ.) আঁ-হযরত (সা.)-এর পর আসতে পারে তাহলে খতমে নবুওয়ত কিভাবে হল? এটি তো স্পষ্টত ধোঁকাবাজিমূলক কথা। যে ব্যক্তি পৃথিবীর মানুষকে একদিকে এটি বলে যে, নবুওয়তের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, সাথে সাথে এটিও বলে যে, ঈসা (আ.) আসবেন; সে কি মুসলমানদেরকে একই সাথে দুটি নৌকার ওপর রেখে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করছে না?

উত্তর-২, উল্লিখিত প্রশ্নের প্রতিপাদ্য অংশগুলো কয়েকভাগে রেখে প্রশ্নের উত্তরে আসা যাক। (ক) তার প্রশ্নে একটি কথা এসেছে ‘নবী হিসেবে আগমন করা’। (খ) বনী ইসরাইলী নবী ঈসা (আ.) আবার আসলে ‘খতমে নবুওয়ত’ কিভাবে হল? (গ) নবুওয়তের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, বললে তখন ঈসা (আ.) আসবেন, একথা বলা যাবেনা….।

এবার উত্তরে আসছি। (ক) ঈসা (আ.) নবী হিসেবে আগমন করার বিশ্বাস মুসলমানদের নয়, বরং এই বিশ্বাস কাদিয়ানীদের। আমি এর প্রমাণ হিসেবে বলি, কাদিয়ানীদের রচনাবলীতে পরিষ্কার শর্তসাপেক্ষে উল্লেখ আছে হযরত মুহাম্মদ (সা.) মুক্ত ও স্বাধীন অর্থে শেষনবী নন, বরং তিনি শুধুমাত্র একজন শরীয়তবাহক শেষনবী। তার অর্থ, শরীয়তবিহীন নবী আগমনীধারা অব্যাহত। নাউযুবিল্লাহ।

(খ) ঈসা (আ.)-এর পুনরায় আগমন দ্বারা খতমে নবুওয়তের দরজায় কোনো রকম ধাক্কা লাগবেনা। কারণ ঈসা (আ.)-এর আগমন সংক্রান্ত যতগুলো সহীহ বর্ণনা এসেছে কোথাও ‘তিনি নবী হিসেবে আসবেন’—বলা নেই, বড়জোর এটুকু বলা আছে যে, তিনি اماما هاديا و حكما عادلا (একজন সুপথপ্রাপ্ত ইমাম এবং ন্যায়পরায়ণ শাসক) হিসেবে আকাশ থেকে (من السماء) নাযিল হবেন।

(গ) নবুওয়তের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে বলে ঈসা (আ.)ও আর আসবেন না—এমন কথা কোনো সুস্থ-বিবেকবান মানুষ বলতে পারেনা। কারণ ঈসা (আ.) এমন একজন নবী যিনি পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আসার অনেক আগেই নবুওয়ত লাভ করেছেন। ফলে তার আবার আসাতে নবুওয়তের দরজায় কোনো রকম ধাক্কা লাগবেনা। হ্যাঁ, তিনি আবার আসার পর যদি তার পূর্বের নবুওয়ত রিনিউ(!) করার দরকার হত, শুধুমাত্র তখনি খতমে নবুওয়তের সীল ভেঙ্গে অভ্যন্তরে প্রবেশের প্রয়োজন পড়ত! মূলত এইজন্যই ঈসা (আ.)-এর দ্বিতীয়বারের আগমন দ্বারা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী ‘আমিই শেষনবী’ (انا خاتم النبيين)-এর উপর কোনো প্রশ্ন উঠবেনা। (যথাক্রমে- স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য)।

প্রশ্ন-৩, নন-আহমদীরা বলে যে, নতুন কোনো নবী আসতে পারবে না, পুরোনো নবী আসতে পারে। এটি একটি প্রতারণা মূলক কথা। যদি খতমে নবুওয়তের অর্থ এটি হয় যে, নবুওয়তের দরজা সার্বিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তাহলে নতুন পুরোনোতে কি পার্থক্য রয়েছে? অতএব, বন্ধুদের বিবেকের কাছে এ প্রশ্ন থাকল, নবীউল্লাহ হযরত ঈসা (আ.)-এর আগমনের বিষয়ে যারা বিশ্বাস রাখে, তারা একই সাথে খাতামান্নাবীঈন (সা.)-কে কিভাবে ‘শেষনবী’ মনে করে? এভাবে আপনাদের বিশ্বাস পরস্পর বিরোধী নয় কি?

উত্তর-৩, প্রশ্নকর্তার প্রশ্নে উল্লেখ আছে যে, যদি খতমে নবুওয়তের অর্থ এটি হয় যে, নবুওয়তের দরজা সার্বিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তাহলে নতুন পুরোনোতে কি পার্থক্য রয়েছে? আমি বলি, প্রকৃত অবস্থা কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত। কেননা আমরা মুসলিম উম্মাহা বরং ‘খতমে নবুওয়ত’-এর সে অর্থই নিয়ে থাকি যে অর্থ নিয়েছেন বিশিষ্ট যুগ ইমাম আবুল কাশেম মাহমুদ ইবনে উমর আল যামাখশারী (রহ.) [মৃত. ১১৪৩ হিজরী]। তিনি “শেষনবী” এর সংজ্ঞায় লিখে গেছেন, “যাকে সবার শেষে নবী বানানো হয় তিনিই শেষনবী”। পক্ষান্তরে ঈসা (আ.) হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের আগ থেকেই নবী ছিলেন। (قلت: معنى كونه آخر الأنبياء أنه لا ينبأ أحد بعده، وعيسى مما نبئ قبله، وحين ينزل، ينزل عاملاً على شريعة محمد مصلياً إلى قبلته كأنه بعض أمته)। (তাফসীরে কাশশাফ ৩/৫৪৫, সূরা আহযাব আয়াত নং ৪০ দ্রষ্টব্য)।

প্রশকর্তার আরেকটি হাস্যকর অভিযোগের প্রতিউত্তরে বলছি, মুসলিম উম্মাহা’র প্রকৃত বিশ্বাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে ভ্রান্তি ছড়িয়ে কোনো লাভ হবেনা। আহা! মানুষ কতটা পাপিষ্ঠ আর জালেম হলে, নিজেদের অধর্ম-বিশ্বাসকে অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারে! অথচ গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, প্রকৃতপক্ষে কাদিয়ানীরাই ঈসা (আ.) বিষয়ে স্ববিরোধ আকীদা পোষণকারী। তার প্রমাণ হল, এরা আগত ঈসা (আ.) নবী হবেন, এমন আকীদা রাখা সত্ত্বেও সেই ‘ঈসা’ দাবীদার মির্যা কাদিয়ানীকে ‘নবী’ বিশ্বাস করে সত্য, কিন্তু নিজেদের তাঁর “উম্মত” স্বীকার করেনা! এ কেমন দ্বিচারিতা! শেষে আরেকটি কথা না বললেই নয়, ঈসা (আ.)-এর দ্বিতীয়বারের আগমন স্রেফ একজন “উম্মতি” রূপে ও মুহাম্মদ (সা.)-এর রেসালতের সত্যায়নকারী হিসেবে হবে (ثم ينزل عيسى ابن مريم مصدقاً بمحمد على ملته، إماماً مهدياً، وحكماً عدلاً، فيقتل الدجال)। ইমাম আল হাইছামী রচিত ‘আল-মাজমাউয যাওয়ায়েদ’ [المجمع الزوائد] (কিতাবুল ফিতান অধ্যায়, হাদীস নং ১২৫০১)। এই হাদীসটিও পরিষ্কার ইংগিত দেয় তিনি (আ.) নবুওয়তের দায়িত্বে থাকবেন না। কেননা মুহাম্মদ (সা.)-এর মৃত্যুর পর নবুওয়তের ওহী বন্ধ হয়ে গেছে—বলিয়া মির্যা কাদিয়ানী নিজেও তার ‘হামামাতুল বুশরা‘ (বাংলা) পৃষ্ঠা নং ৪৮-এর মধ্যে দ্ব্যর্থহীনভাবে লিখে গেছেন। কিন্তু আফসোস! হতভাগা মির্যা কাদিয়ানী যদিও পরবর্তীতে আগের সমস্ত কথা ভুলে গেছেন এবং নিজেকে ‘নবী‘ দাবী করে বসেছেন! (যথাক্রমে – স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য)।

ঈসা (আ:) উম্মতে মুহাম্মদীয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে চেয়ে প্রার্থনা করেছিলেন কি?

আশাকরি সবাই বুঝতে পেরেছেন যে, কাদিয়ানীরা সহজ একটা বিষয়কে কত সূক্ষ্মভাবে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য পেশ করে থাকে! আল্লাহ আমাদেরকে সত্য বুঝার এবং মানার তাওফিক দিন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মির্যার রচনায় রাণী ভিক্টোরিয়ার অতিরঞ্জিত গুণকীর্তন

একজন খ্রিষ্ট ধর্মানুসারী ব্রিটিশ রাণী ভিক্টোরিয়ার প্রতি অতিরঞ্জিত “প্রশংসা” একজন ইমাম মাহদী দাবীদারের জন্য আদৌ শোভা পায় কি?

ব্রিটিশ রাণী ভিক্টোরিয়ার উদ্দেশ্যে কাদিয়ানের নবুওয়তের মিথ্যাদাবীদার মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর রচনা :-

“হে মহা রাণী! আপনার সেই পবিত্র বাসনা যেটি ঐশী সাহায্যকে নিজের দিকে আকর্ষণ করছে এবং আপনার সদিচ্ছার সাধনা যদ্দ্বারা আকাশ রহমতের সাথে পৃথিবীর দিকে ঝুঁকতেছে। এইজন্যই আপনার শাসনামল ছাড়া আর কোনো শাসনামল এইরূপ নেই যেটি মসীহ মওউদের আত্মপ্রকাশের উপযোগী। সেজন্যই খোদাতালা আপনার নূরানী যুগে আকাশ থেকে একটি নূর নাযিল করেছেন। কেননা নূর নূরকেই নিজের দিকে আকর্ষণ করে থাকে (যেমনিভাবে) অন্ধকার অন্ধকারকে আকর্ষণ করে থাকে। হে কল্যাণকামী এবং সৌভাগ্যশালী যুগশ্রেষ্ঠ সম্রাজ্ঞী! যেসমস্ত কিতাবে মসীহ মওউদের আগমনী সংবাদ লিপিবদ্ধ আছে সেখানে আপনার নিরাপদ শাসনামলের প্রতি সুস্পষ্ট ইংগিত পাওয়া যায়।” (সেতারায়ে কায়সারিয়া, রূহানী খাযায়েন ১৫/১১৭)।

আলেকজান্ড্রিনা ভিক্টোরিয়া; ২৪শে মে, ১৮১৯ – ২২শে জানুয়ারি, ১৯০১ ইং। যুক্তরাজ্য ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাণী ছিলেন। তিনি অভিষিক্ত হন ২০ জুন,১৮৩৭ সালে। তিনি ১ মে ১৮৭৬ সালে ভারত সম্রাজ্ঞী উপাধি ধারণ করেন। রাণী ভিক্টোরিয়ার আরো কিছু ছবি।

মির্যা কাদিয়ানীর নবুওয়ত দাবী সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

মির্যা কাদিয়ানীর নিকট প্রকৃত মুনাফিক

0

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮) বৃটিশদের সাহায্য সহযোগিতা করতেই ‘কাদিয়ানী জামাত’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ঠিকই কিন্তু পরবর্তীতে তিনি এটিকে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থোপার্জনের উৎস হিসেবে রূপ দিয়ে যান। মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের ‘আল ওসীয়্যত‘ (বাংলা অনূদিত) বইটি যে কেউই পড়লে বিষয়টি বুঝতে পারবেন। তিনি ধর্মের আদলে কবর বিক্রির নিকৃষ্ট প্রথারও প্রচলন করে গেছেন। তার মতে আল্লাহতালা নাকি তাকে ইলহামের মাধ্যমে নতুন একটি কবরের সুসংবাদ দেন। সেটির নাম ‘বেহেশতি মাকবেরা’। স্ক্রিনশট দ্ররষ্টব্য

আল-ওসীয়্যত : ৩৪ বাংলা অনূদিত

এই কবরে দাফন হতে চাইলে তার মুরিদদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-দশমাংশ তার জামাতের জন্য ওসীয়্যত করে যেতে হবে। তার মানে আপনি ১০ লক্ষ টাকার সম্পদের মালিক হলে তার থেকে ১ লক্ষ টাকা মির্যায়ী জামাতের জন্য ছেড়ে যেতে হবে।

আল ওসীয়্যত বইতে মির্যা কাদিয়ানীর সুস্পষ্ট ‘রাসূল’ দাবী

এভাবে প্রায় ৫৫ প্রকারের চাঁদার খাত রয়েছে কাদিয়ানী জামাতে। এখানে মির্যা কাদিয়ানীর ০৫-১১-১৯০২ সালের দিকে প্রচারিত একটি প্রজ্ঞাপন তারই উর্দূ ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করে দেব।

মির্যা কাদিয়ানীর বই থেকে উল্লেখ করছি –

ہر ایک شخص جو مرید ہے اس کو چاہیے جو اپنے نفس پر کچھ ماہواری مقرر کر دے خواہ ایک پیسہ ہو اور خواہ ایک دہیلہ اور جو شخص کچھ بھی مقرر نہیں کرتا اور نہ جسمانی طور پر اس سلسلہ کے لئے کچھ بھی مدد دے سکتا ہے وہ منافق ہے ۔ اب اس کے بعد وہ سلسلہ میں رہ نہیں سکے گا ۔ مجموعہ اشتہارت 3/469 ؛ مرزا غلام احمد قادیانی

অর্থাৎ আমার মুরিদ (শিষ্য) হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত নিজের উপর মাসিক একটি বাজেট নির্ধারণ করা, তা পয়সা হোক বা কোনো প্রতিশ্রুতি হোক। আর যে ব্যক্তি কিছুই নির্ধারণ করে না এবং শারীরিকভাবেও এ সিলসিলার জন্য কোনোভাবেই সাহায্য-সহায়তা করে না, সে মুনাফিক। সে এর পর থেকে এই সিলসিলায় (কাদিয়ানী জামাতে) থাকতে পারবে না।” (সূত্র, মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/৪৬৯; মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী)। প্রমাণের জন্য বইটির স্ক্রিনশট দেখুন!

সাধারণ কাদিয়ানীদের চাঁদার টাকায় মির্যা মাসরূর আহমদ এর সস্ত্রীক আনন্দ ভ্রমণ
বেগানা নারীকে পাশে নিয়ে মির্যায়ী খলীফার সেল্ফি
কাদিয়ানীদের বর্তমান খলীফা মির্যা মাসরূর আহমদ এর ২০০৩ সালের দাড়ি বিহীন ছবি
মির্যা মাসরূর আহমদ এর নানা সময়ের নানা ভঙ্গিমার ফটো

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মেরাজ জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরে হওয়ার প্রমাণ

ইসরা এবং মেরাজ কী? কখন ও কিভাবে সংঘটিত হয়েছিল? ভ্রান্তি নিরসন

আজকের এ আলোচনায় “ইসরা এবং মেরাজ” এর অর্থ, সময়কাল এবং ঘটনা উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ। এখানে বলে রাখতে চাই যে, নবী করীম (সা:) এর মেরাজ প্রথমে স্বপ্নযোগে তারপর জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে সংঘটিত হয়েছিল। তাই যেসব হাদীসে মেরাজ স্বপ্নযোগে সংঘটিত হওয়ার উপর আলোকপাত করা হয়েছে তদ্দ্বারা একথা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, মেরাজ শুধুই স্বপ্নযোগে সংঘটিত হয়েছিল, জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরে হয়নি! বরং মেরাজ জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরে সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারেও শক্তিশালী ও মজবুত দলিল এবং যুক্তি-প্রমাণ বিদ্যমান।

এ সম্পর্কে হিজরী ষষ্ঠ শতকের বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ ও সীরাতগ্রন্থকার শায়খ আব্দুর রহমান সুহাইলী (রহ:) [মৃত. ৫৮১হিজরী] বলেন – وَرَأَيْت الْمُهَلّبَ فِي شَرْحِ الْبُخَارِيّ قَدْ حَكَى هَذَا الْقَوْلَ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْ الْعُلَمَاءِ وَأَنّهُمْ قَالُوا: كَانَ الْإِسْرَاءُ مَرّتَيْنِ مَرّةً فِي نُوُمِهِ وَمَرّةً فِي يَقَظَتِهِ بِبَدَنِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ الْمُؤَلّفُ وَهَذَا الْقَوْلُ هُوَ الّذِي يَصِحّ، وَبِهِ تَتّفِقُ مَعَانِي الْأَخْبَارِ الخ (الروض الأنف شرح سيرت ابن هشام)

অর্থাৎ আমি বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ “শরহুল মুহাল্লাব লি সহীহিল বুখারী” এর মধ্যে দেখেছি, সেখানে গ্রন্থকার (অর্থাৎ মুহাল্লাব ইবনে আবী ছুফরাহ আল মারিয়্যি আল উন্দুলুসি [মৃত. ৪৩৫ হিজরী] – অনুবাদক) আহলে ইলমের এক জামাতের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, মূলত মেরাজ দুইবার হয়েছে। একবার স্বপ্নযোগে দ্বিতীয়বার জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে। (আর-রওজুল আনফ ফী শরহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনে হিশাম-১/২৪৪ দ্রষ্টব্য)। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতও এটাই। মেরাজ দুইবার হয়েছে। মেরাজ স্বপ্নযোগেও হয়েছে আবার জাগ্রতাবস্থায় সশরীরেও হয়েছে। প্রথমে হয়েছে স্বপ্নে তারপর হয়েছে জাগ্রতাবস্থায় সশরীরে।

ইসরা ও মেরাজ অর্থ কী?

ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ। ইসরা বা রাত্রিকালীন ভ্রমণ বলতে নবী করীম (সা:)-এর মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত সফরকে বুঝানো হয়। মেরাজ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। আর জমিন হতে ঊর্ধ্বলোকে ভ্রমণকে মেরাজ বলা হয়। আল্লাহ তাঁর প্রিয়তম বান্দা মুহাম্মদে আরাবী (সা:)-কে বিশেষ দিক-নির্দেশনার জন্যে নবুওয়তের ১০ম বছরের কোনো এক রাতে (প্রসিদ্ধ মতে, ২৭ শে রজব) আকাশে ডেকে নেন। ইসলামের ইতিহাসে এটাকে মেরাজ নামে অভিহিত করা হয়।

এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন : سُبۡحٰنَ الَّذِیۡۤ اَسۡرٰی بِعَبۡدِہٖ لَیۡلًا مِّنَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اِلَی الۡمَسۡجِدِ الۡاَقۡصَا الَّذِیۡ بٰرَکۡنَا حَوۡلَہٗ لِنُرِیَہٗ مِنۡ اٰیٰتِنَا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ অর্থাৎ পবিত্র মহান সে সত্ত্বা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা বনী ইসরাইল : ১)।

উক্ত আয়াত নবী করীম (সা:)-এর ইসরা সংক্রান্ত ঘটনার অকাট্য দলিল। যেটি জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরে হয়েছিল বলেই সুস্পষ্ট প্রমাণিত। তাই যাদের ধারণা যে, মেরাজ শুধুই স্বপ্নযোগে হয়েছিল তাদের নিকট প্রশ্ন, সহীহ বুখারীর যেই হাদীসটিতে মেরাজের ঘটনা বিধৃত হয়েছে সেখানে ঘটনার ধারাবাহিকতায় প্রথমে ‘ইসরা’ এর ঘটনা অতপর عرج بى الى السماء অর্থাৎ আমাকে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয় (সহীহ বুখারী), দ্বারা ঐশী ভ্রমণের দ্বিতীয় পর্ব মেরাজের ঘটনাও উল্লেখ রয়েছে। যার ফলে নবী করীম (সা:) এর ইসরা’র ঘটনার ন্যায় মেরাজের ঘটনাটিও জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরেই সংঘটিত হয়েছিল বলেই প্রমাণ হয় কিনা? অবশ্যই প্রমাণ হয় বলতে হবে।

এখানে আরেকটি কথা না বললেই নয়, সেটি হল ইসরার ঘটনার ন্যায় মেরাজের ঘটনাটিও পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাজমের আয়াত নং ১১-১২ দ্বারা ইংগিতে প্রমাণিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতালা বলেন, مَا کَذَبَ الۡفُؤَادُ مَا رَاٰی অর্থাৎ যা সে দেখেছে তাঁর হৃদয় তা অস্বীকার করেনি। ‘তাফসীরে আহসানুল বায়ান’ এর মধ্যে লিখা আছে, এর তাৎপর্য হল, নবী করীম (সা:) জিবরাইল (আ:)-কে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেন যে, তাঁর ছয়শত ডানা রয়েছে। তাঁর প্রসারিত ডানা পূর্ব ও পশ্চিমের (আকাশ ও পৃথিবীর) মধ্যবর্তী স্থানকে ঘিরে রেখেছিল। এ দর্শনকে নবী করীম (সা:)-এর অন্তর মিথ্যা মনে করেনি। বরং আল্লাহর এই বিশাল ক্ষমতাকে স্বীকার করে নিয়েছে।

পরের আয়াতে এসেছে, اَفَتُمٰرُوۡنَہٗ عَلٰی مَا یَرٰی অর্থাৎ ‘সে যা দেখেছে তোমরা কি সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করবে?’

এখন নবী করীম (সা:)-এর মেরাজ যদি শুধুই স্বপ্নযোগে হত তাহলে কিন্তু স্বপ্নে দেখা জিনসগুলো নিয়ে সমসাময়িককালের ইসলাম বিরোধীদের বিতর্ক করা কিংবা অস্বীকার করার কোনোই কারণ ছিলনা! কেননা স্বপ্নে দেখা জিনিসগুলো যতই অবিশ্বাস্য হয় না কেন কিন্তু সেটিকে দুনিয়ার কোনো বিবেকবান ব্যক্তি চ্যালেঞ্জ করেনা। অথচ মেরাজের বিরুদ্ধে তদানিন্তন সময়ও একশ্রেণীর ইসলাম বিরোধীর চুলকানি ছিল। তারা বরাবরই সেটির বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলেছিল। পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাজমের উক্ত আয়াত সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর হাদীসে তো সে সম্পর্কে বহু বর্ণনা রয়েছেই। এই পর্যায় আমি সহীহ বুখারী থেকে সেই হাদীসখানা উল্লেখ করছি যেটি নবী করীম (সা:)-এর মেরাজ জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরেই হওয়ার পক্ষে দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করে থাকে।

এখানে একটি কথা বলে রাখতে চাই, নবী করীম (সা:)-এর মেরাজ জাগ্রতাবস্থায়সশরীরে সংঘটিত হয়েছিল মর্মে কাদিয়ানী জামাতের প্রতিষ্ঠাতা, ভন্ডনবী মির্যা কাদিয়ানী থেকেও স্বীকারোক্তি রয়েছে। যদিও বর্তমানে তার অনুসারীদের অনেকেই এটি স্বীকার করেনা! মির্যার রচিত “হামামাতুল বুশরা” (বাংলা অনূদিত) পৃষ্ঠা নং ৬০ থেকে দেখুন। স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

মিরাজের ঘটনা :

মিরাজের ঘটনাটি সহীহ বুখারী ও মুসলিমেও বর্ণিত হয়েছে। সহীহ বুখারীতে এসেছে, হযরত আনাস (রা:) মালেক ইবনে সা’সাআহ (রা:) হতে বর্ণনা করেছেন :-

একদিন সকাল বেলা হযরত মুহাম্মদ (সা:) প্রকাশ করেন, ‘গত রাতে আমার প্রভু আমায় অত্যন্ত সম্মানিত করেন। আমি শুয়ে বিশ্রাম করছিলাম, এমন সময় জিবরাইল এসে আমাকে জাগিয়ে কা’বা মসজিদে নিয়ে যান। সেখানে তিনি আমার বক্ষ বিদীর্ণ করেন এবং তা জমজমের (কা’বার মধ্যকার পবিত্র কূপের) পানি দ্বারা ধুয়ে ফেলেন। অতঃপর তাকে ঈমান ও হিকমত দ্বারা পূর্ণ করে বিদীর্ণ স্থান পূর্বের ন্যায় জুড়ে দেন। এরপর তিনি আমার আরোহণের জন্যে খচ্চরের চেয়ে কিছু ছোট একটি সাদা জানোয়ার উপস্থিত করেন। তার নাম ছিলো বুরাক। এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন জানোয়ার ছিলো। আমি তার ওপর আরোহণ করতেই বায়তুল মুকাদ্দাস গিয়ে উপনীত হলাম। এখানে বোরাকটি মসজিদে আকসার দরজার সঙ্গে বেঁধে রেখে আমি মসজিদের মধ্যে প্রবেশ করে দুই রাকা’আত নামায পড়লাম। এ সময় জিবরাইল আমার সামনে দুটি পেয়ালা উপস্থিত করলেন। তার একটিতে শরাব এবং অপরটিতে ছিলো দুধ। আমি দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করে শরাবেরটি ফেরত দিলাম। এটা দেখে জিবরাইল বললেন, ‘আপনি দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করে স্বভাব-ধর্মকেই (দ্বীনে ফিতরাত) অবলম্বন করেছেন।

এরপর মহাকাশ ভ্রমণ শুরু হলো। আমরা যখন প্রথম আকাশ (পৃথিবীর নিকটতম আকাশ) পর্যন্ত পৌঁছলাম, তখন জিবরাইল পাহারাদার ফেরেশতাকে দরজা খুলে দিতে বললেন। সে জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমার সঙ্গে কে আছেন?’ জিবরাইল বললেন, ‘মুহাম্মদ’। ফেরেশতা আবার জিজ্ঞেস করলো, এঁকে কি ডাকা হয়েছে? জিবরাইল বললেন, ‘হ্যাঁ ডাকা হয়েছে। একথা শুনে ফেরেশতা দরজা খুলতে খুলতে বললো, ‘এমন ব্যক্তিত্বের আগমন মুবারক হোক।’ আমরা ভেতরে ঢুকতেই হযরত আদম (আ:)-এর সঙ্গে সাক্ষাত হলো। জিবরাইল আমায় বললেন, ‘ইনি আপনার পিতা (মানব বংশের আদি পুরুষ) আদম। আপনি এঁকে সালাম করুন। আমি সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাবদান প্রসঙ্গে বললেন, ‘খোশ আমদেদ! হে নেক পুত্র, হে সত্য নবী’।

এরপর আমরা দ্বিতীয় আকাশে পৌঁছলাম এবং প্রথম আকাশের ন্যায় সওয়াল-জবাবের পর দরজা খুলে দেয়া হলো। আমরা ভেতরে গেলাম এবং হযরত ইয়াহ্ইয়া ও হযরত ঈসা (আ:)-এর সঙ্গে সাক্ষাত হলো। জিবরাইল তাঁদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আপনি সালাম করুন।’ আমি সালাম করলাম। উভয়ে জবাবদান প্রসঙ্গে বললেন, ‘খোশ আমদেদ! হে নেক ভ্রাতা, হে সত্য নবী!’ অতঃপর আমরা তৃতীয় আকাশে পৌঁছলাম। এখানে হযরত ইউসুফ (আ:)-এর সঙ্গে দেখা হলো। আগের মতোই তাঁর সঙ্গে সালাম-কালাম হলো। অনুরূপভাবে চতুর্থ আকাশে হযরত ইদরীস (আ:)-এর সঙ্গে, পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন (আ:)-এর সঙ্গে এবং ষষ্ঠ আকাশে মূসা (আ:)-এর সঙ্গে সাক্ষাত হলো। সর্বশেষ সপ্তম আকাশে হযরত ইবরাহীম (আ:)-এর সঙ্গে সাক্ষাত হলো এবং তিনিও সালামের জবাবদান প্রসঙ্গে বললেন, ‘খোশ আমদেদ! হে নেক পুত্র, হে নেক নবী! এরপর আমাকে ‘সিদরাতুল মুন্তাহা’ (সিদরাতুল মুনতাহা হলো সপ্তম আকাশে আরশের ডান দিকে একটি কুল জাতীয় বৃক্ষ, সকল সৃষ্টির জ্ঞানের সীমার শেষ প্রান্ত। তারপর কি আছে, একমাত্র আল্লাহই জানেন) নামক একটি সমুন্নত বরই গাছ পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়া হলো। এর উপর অগণিত ফেরেশতা জোনাকির মতো ঝিকমিক করছিলো।’ (হাদীসের অনুবাদ সমাপ্ত হল, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৬৭৪)।

নবী করীম (সা:)-এর মেরাজ জাগ্রতাবস্থায় ও সশরীরে সংঘটিত হওয়ার সমর্থনে আরো বেশকিছু দলিল-প্রমাণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন!

  • সম্পূর্ণ লিখাটি আমার ফেইসবুক পেইজ থেকেও পড়তে পারেন Click

লিখক ও গবেষক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

মির্যা কাদিয়ানীর লাশ বরফ দ্বারা বাক্সবন্দী করা

মির্যা কাদিয়ানীর লাশ বরফের বাক্স করে লাহোর থেকে ভারতের কাদিয়ান গ্রামে নিয়ে যাওয়ার একটি ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা :

২৬ শে মে ১৯০৮ সালের কথা। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সাহেব লাহোরে আপনা এক মুরিদের বাসায় কলেরায় মৃত্যুবরণ করেন। সেই এক লম্বা করুণ ইতিহাস। আজ সেদিকে যাচ্ছিনা। গত কয়দিন আগের কথা। ইউটিউবে এক সাবেক আহমদী (কাদিয়ানী) মির্যা শামসুদ্দিন সাহেবের একটি ভিডিও দেখতেছিলাম।

  • বলে রাখতে চাই, মির্যা শামসুদ্দিন সাহেব ২০১৩ সালে কাদিয়ানীয়ত ত্যাগ করে ইসলামে ফিরে আসেন। তার পিতা মির্যা হামিদ উদ্দিন আর বর্তমান কাদিয়ানী খলীফা মির্যা মাসরূর আহমদ দুইজনই দুধ-শরিক ভাই।

যাইহোক মির্যা শামসুদ্দিন সাহেব তার ভিডিওটিতে আজব একটা তথ্য দিলেন। মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের মৃত্যুর পরে তার ভক্ত মুরিদরা তাকে বরফের বাক্স করে কাদিয়ান নিয়ে আসেন। উনি মির্যাপুত্র বশির আহমদ এম.এ সাহেব রচিত “সীরাতে মাহদী” এর দ্বিতীয় খন্ডের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। মির্যায়ীদের আরেকটি পুস্তক “আসহাবে আহমদ” এর অষ্টম খন্ড থেকেও স্ক্রিনশট সহ উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আমি তথ্যটি জেনে অবাক হলাম! হায় আল্লাহ! মির্যা সাহেব তো একজন নবী রাসূল এবং খোদ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলেও দাবী করতেন। তাহলে তার লাশ কিজন্য নষ্ট হওয়ার আশংকায় ছিল? নতুবা বরফের বাক্স করে লাশ নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কি? তা-ও এমন বাক্স করে যার ভেতরে বাহিরে পর্যাপ্ত পরিমাণে বরফ রাখা ছিল!

তাদেরই বইয়ের ভাষায় : জিস কি আন্দর কাফি তি’দাত বরফ কি বহরি থি। অর্থাৎ যার ভেতরটা পর্যাপ্ত পরিমাণে বরফে পূর্ণ ছিল। (সীরাতে মাহদী, ২য় খন্ড)। তারপর তাদের ‘আসহাবে আহমদ’ পুস্তক এর উদ্ধৃতিটাও দেখতে পারেন। কফিনের ভেতরে এবং বাহিরে অর্থাৎ দুই দিকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে বরফে তার লাশ ঢাকা ছিল। যেন লাশ ফুলে ফেঁপে বা ফেটে না যায়!!

এখন হয়ত কারো কারো মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, নবীদের দেহ মুবারক পঁচে না বা নষ্ট হয় না, এইরূপ কোনো কথা কি হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত আছে? আমি এর উত্তরে বলব, জ্বী হ্যাঁ। নিশ্চয়ই আছে। তাহলে দেখুন, হাদীসগ্রন্থের নাম, “মুসতাদরাক আ’লা আস-সহীহাঈন (مستدرك على الصحيحين)” অধ্যায় كتاب الفتن والملاحم ; সংকলক, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ নিশাপুরী (রহ:)। হাদীস নং ৩৫৮৯।

  • হযরত আউস ইবনে আবী আউস (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন : إن الله تعالى حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء ” . هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ، ولم يخرجاه অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহতালা নবীগণের শরীরকে মাটির জন্য ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। (হাদীসের মান : সহীহ, হাদিসটির সনদের মান ইমাম বুখারী এবং মুসলিম উভয়ের কৃত শর্তে বিদ্যমান)।

এবার আশাকরি বুঝতেই পেরেছেন, সত্যিকারের নবীগণের শরীর কখনো নষ্ট হওয়ার জিনিস নয় এমনকি মাটি পর্যন্ত ভক্ষণ করার ক্ষমতা রাখেনা। এককথায় নবীদের শরীরের সম্মান রক্ষার্থে তা নষ্ট হওয়া কিংবা পঁচেগলে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারা ইত্যাদি থেকে আল্লাহ রক্ষা করে থাকেন।

ওহে আল্লাহ! এমন অপ্রিয় তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়েও তোমার যেসব কাদিয়ানী বান্দা মির্যার হাকীকত পর্যন্ত পৌছতে চাচ্ছেনা তাদেরকে বুঝানোর সাধ্য আমাদের নেই! মাবূদ! তুমি তাদের সহীহ বুঝ দান কর। আমীন।

অনুবাদক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক।

রদ্দে কাদিয়ানীয়তের উপর ১০০+ গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল

প্রায় পাঁচ বছরেরও অধিক সময় নিয়ে ফেইসবুকে রদ্দে কাদিয়ানীয়তের উপর আমার লেখিত গুরুত্বপূর্ণ পোস্টগুলো আজ আপনাদের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছি। লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টস সহ অত্র ওয়েবসাইটে থাকার পাশাপাশি পোস্টগুলোর লিংক আপনাদের খেদমতে তুলে দেয়াও প্রয়োজন বোধ করছি। অবশ্য প্রতিটি আর্টিকেল ধারাবাহিকভাবে যোজন বিয়োজন দ্বারা আরো বেশি তথ্যবহুল করতে থাকব, ইনশাআল্লাহ। তাই লিখার লিংকগুলো কখনো হাতছাড়া করা ঠিক হবেনা। আমার পক্ষ হতে সবার জন্য আমার সব কয়টি কন্টেইন উন্মুক্ত। তবে শর্ত হল, কোনোরূপ এডিট করা যাবেনা এবং কার্টেসি উল্লেখ করতে হবে।

লেখাগুলো ৪টি ক্যাটাগরিতে :

  • # হায়াতে ঈসা ও ওফাতে ঈসা
  • # প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী
  • # খতমে নবুওয়ত ও ইজরায়ে নবুওয়ত
  • # মির্যা কাদিয়ানীর আত্মপরিচয় ও কাজিবাতে মির্যা

ক্লিক করুন

লিংকটি সবাই শেয়ার করুন