Home Blog Page 25

কাদিয়ানীদের বেহেশতি মাকবেরা নামে দুর্নীতির গোমর ফাঁস

বেহেশতি মাকবেরা :

‘বেহেশতি মাকবেরা’ বাক্যটি ফার্সী এবং আরবী মিশ্রিত। অর্থ বেহেশতি কবর। মানে এমন একটি সমাধি যেটির অধিবাসী একজন বেহেশতি হিসেবে পরিগনিত। মির্যা কাদিয়ানী সাহেব তার বইতে তার কথিত ইলহামে পাওয়া এই বিশেষ ধরনের কবর সম্পর্কে লিখেছেন, যে ব্যক্তি ইহাতে দাফন হবে সে বেহেশতি হয়ে যাবে।’ (মালফুযাত ৫/৩৬০ উর্দূ এডিশন, ইলহাম ১৮-১১-১৯০২ ইং)।

কাদিয়ানীদের নতুন একটি কনসেপশন হচ্ছে কথিত “বেহেশতি মাকবেরা“। সোজা বাংলায়, দুনিয়াতে বসেই বেহেশত কেনা-বেচা। এই বেহেশত কেনা-বেচা চালু করেন মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। তাও আল্লাহর নামে ওহী ইলহামের দোহাই দিয়ে, যা অত্যন্ত নির্লজ্জ ও জঘন্য কর্মকাণ্ড বৈ আর কিছু না। তার অন্ধভক্ত সাধারণ মানুষদের প্রায় সবাই সরলমনে এটি বিশ্বাসও করে নিয়েছেন। তারা ঐ বেহেশতী মাকবেরায় দাফন হওয়ার জন্য যেই শর্ত তাও পূরণ করার চেষ্টা করেন। কেউ একত্রে কেউ বা কিস্তিতে পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত রেট আদায় করে থাকেন। রেট বেশিনা, প্রত্যেক মুসী অর্থাৎ ওসীয়্যতকারী নিজ পরিত্যক্ত সম্পত্তির ১০% সম্পদ বা নগদ অর্থ কাদিয়ানী ফাণ্ডে আদায় করে দেবেন। বিনিময়ে বেহেশত পেয়ে যাবেন। আর কোনো চিন্তা থাকবেনা। কেননা, মির্যা সাহেব পরিষ্কার বলেছেন যে, তার প্রবর্তিত ঐ বেহেশতি মাকবেরায় বেহেশতিরাই কেবল সমাহিত হবেন। মির্যার দাবীমতে, এটাই হল তার প্রতি অবতীর্ণ আল্লাহ’র পবিত্র বাক্যের প্রকৃত মর্মার্থ। (নাউযুবিল্লাহ)। তাদের কথিত ‘বেহেশতি মাকবেরা’ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া থেকে জানতে পড়ুন। ক্লিক করুন।

এই সম্পর্কে আমার পেইজবুক ফেইজে একটি আর্টিকেল পোস্ট দিয়েছি। সেটি হুবহু এখানে তুলে ধরা হল।

এটি মির্যা কাদিয়ানীর বই “আল ওসীয়্যত” এর পৃষ্ঠা নং ৩৮ এবং ৩৯। এখান থেকে তার এদেশীয় অনুসারীদের উদ্দেশ্যে দুই কলম লিখতে চাই যাতে তাদের জ্ঞানের চক্ষুর উপর অন্ধবিশ্বাসের যেই কালো পর্দাটি ঝুলে আছে তা দ্রুত সরে যায় :-

অধিকাংশ কাদিয়ানী বইটি পড়ে থাকলেও বুঝে পড়েনা, এটা সত্য। নইলে এই বইটিতে পরিষ্কার লিখা আছে, মির্যা কাদিয়ানী কর্তৃক প্রবর্তিত কথিত বেহেশতি মাকবেরা নামীয় কবরস্থান শুধুমাত্র ভারতের পাঞ্জাবে “কাদিয়ান” নামক গ্রামেই সীমাবদ্ধ, প্রত্যেক মুসী (ওসীয়্যতকারী)-কে সেই গ্রামেরই নির্ধারিত কবরস্থানে কবর দিতে হবে, বাহিরের যে কোনো দেশের ওসীয়্যতকারী কাদিয়ানীর লাশ সিন্দুকের মধ্যে রেখে কাদিয়ান পাঠাতে হবে। এই হচ্ছে, তার কথিত বেহেশতি মাকবেরার বৃত্তান্ত। স্ক্রিনশট –

এখন আমার প্রশ্নটি হচ্ছে, তাহলে এদেশের কাদিয়ানী মুসীদের লাশ কেন কাদিয়ানে পাঠানো হয়না? কেন এদেশের ভেতরেও নানা স্থানে “বেহেশতি মাকবেরা” নামে কাদিয়ানীরা বেহেশতখানা খুলে বসেছে? এগুলো কি এক দিকে মির্যা কাদিয়ানীর সাথে দুই নাম্বারি নয়? আরেক দিকে যে এটি কবর বিক্রির বিনাপূজির রমরমা নিকৃষ্ট ব্যবসা তা কি আর বলা লাগে?

আমার চ্যালেঞ্জ :-

এখন কোনো কাদিয়ানী কি মির্যার কাছ থেকে এমন কোনো ইলহাম থাকার প্রমাণ দিতে পারবে যেখানে পরিষ্কার করে একথা বলা হয়েছে যে, কথিত এই “বেহেশতি মাকবেরা” কাদিয়ান ছাড়া বাহিরের যে কোনো দেশেও কেউ বানালে বৈধ হবে বা অনুমতি আছে? নইলে মির্যার কথিত ইলহামী ওয়ালা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার এই দুঃসাহস পরবর্তী যুগের চাঁন্দাখোর কাদিয়ানী নেতারা কোত্থেকে পেল? আমার চ্যালেঞ্জ রইল, কোনো কাদিয়ানী নেতা এইরূপ কার্যাবলীর কোনো অনুমোদন থাকা মির্যার তথাকথিত কোনো ওহী বা ইলহাম দ্বারা প্রমাণ করতে পারবেনা।

কাজেই খুব চিন্তা করা দরকার যে, তাহলে কাদিয়ানী মুসীদের লাশ জায়গামত দাফন হচ্ছে কিনা? যদি জায়গামত দাফন না হয় তাহলে ওসীয়্যত বাবত তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির ১০% সম্পদ/সমপরিমাণ অর্থ প্রদান কি ফাউ গেল না?? বেহেশতের লোভনীয় অফার কি তখন লাঠে উঠল না?

  • এই লিখাটি পোস্ট দেয়ার পর একজন কাদিয়ানী মু’আল্লিম কী কমেন্ট করল পড়ে দেখুন! আমিও তার কমেন্টের প্রতিউত্তর করতে দেরি করিনি। কিন্তু সে আর পালটা প্রতিউত্তর করতে পারেনি। লিখাটি ফেইজবুক থেকে পড়ুন! ক্লিক করুন।

যদি ভুল লিখি তবে শুধরে দেবেন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কাদিয়ানীর সাথে পীর খাজা মেহের আলী শাহ (রহ.)-এর কী হয়েছিল?

পীর খাজা মেহের আলী শাহ (রহ.) এর সাথে বাহাস থেকে মির্যা কাদিয়ানীর পলায়নের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :

কাদিয়ানী ফেতনা মুকাবিলায় প্রখ্যাত পীর খাজা মেহের আলী শাহ (রহ.) এর কৃতিত্ব :

কাদিয়ানী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মির্যা গোলাম আহমদ। তিনি ১৮৩৯ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের গুরুদাসপুর জেলার “কাদিয়ান” গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম গোলাম মর্তুজা, মাতা চেরাগ বিবি। মির্যা গোলাম আহমদ পরিণত বয়সে পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এবং জমিদার ছিলেন। একাধিক গৃহ শিক্ষকের মাধ্যমে আরবী ভাষা ও ব্যাকরণ সহ ফারসী ভাষা ইত্যাদি শিক্ষা লাভ করেন। নিজ পিতার কাছ থেকে হোমিওপ্যাথিকের উপরও জ্ঞান লাভ করেন। ১৮৬৪ সাল থেকে তিনি প্রায় চার বছর শিয়ালকোট জেলা প্রশাসকের অফিসে কেরানির চাকুরী করেন, তারপর তিনি চাকুরী ছেড়ে নিজ গ্রাম “কাদিয়ান” চলে যান। কাদিয়ান গিয়ে তিনি হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ সহ বিভিন্ন ধর্মের উপর ধর্মীয় বইপুস্তক অধ্যয়ন করতে থাকেন এবং ধর্মীয় বিতর্কে অংশ নেয়াও শুরু করেন।

যতদূর জানা যায়, তার পূর্বপুরুষরা ছিলেন হানাফী ফিকহের মুকাল্লিদ। মির্যা নিজেও তার প্রথম জীবনে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন। ততদিন পর্যন্ত মির্যার বিশ্বাস আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত-এর মুসলমানদের মতই ছিল। তিনি মুহাম্মদ (সা.)-কে নবীদের মধ্যে মুক্ত অর্থে “শেষনবী” বলেও বিশ্বাসী ছিলেন। তৎকালীন সময়ে মির্যা নিজেও ঈসা (আ.)-এর আকাশে উঠিয়ে যাওয়া এবং কেয়ামতের আগে দামেশকে দুইজন ফেরেশতার মাধ্যমে অবতারণের আকীদায় বিশ্বাসী ছিলেন।

১৮৫৭ সালে দখলদার ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু যুদ্ধে দেশবাসী জয়লাভ করতে না পারায়, বিশেষকরে মুসলিমরা তাদের রাজনৈতিক আধিপত্য হারাতে বসেছিল। তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও হতাশ হয়ে পড়েছিল এবং তাদের অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি পেতে কখন একজন মহাপুরুষ আসবেন তা দেখার জন্য চারপাশে তাকিয়েছিল। এই দ্বিধা ও অস্থিরতার সময় মুসলমানদের মনে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল মির্যা গোলাম আহমদকে তার উপদেষ্টা হেকিম নূরউদ্দীন তা কাজে লাগাতে পরামর্শ দিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, তিনি যদি প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.)-এর রূপক সত্তা (অবতার) হিসেবে নিজেকে জাতির সামনে উপস্থাপন করেন তবে সমগ্র জাতি তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাবে এবং তিনি জাতির পুনরুজ্জীবনের জন্য একটি মহৎ কাজ করতে সক্ষম হবেন।

অধিকন্তু মির্যার এই আন্দোলনের পিছনে কোন ইসলাম বিরোধীশক্তির ইন্ধন ছিল তা অনুমান করা কঠিন নয়, কারণ ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় মুসলমানদের ব্যাপারে আগ্রহ হারালেও কিন্তু মির্যা কাদিয়ানী আর তার প্রতিষ্ঠিত আহমদীয়া দলের প্রতি তাদের সুধারণাই ছিল। মির্যা কাদিয়ানী সেই সময়কার স্বাধীনতাকামী মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও পণ্ডিতদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের কাছে বিভিন্ন দরখাস্ত ও সমন পাঠিয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিশেষ ব্যক্তিদের একজন। আর যখন তিনি দেখলেন যে, হিন্দুরা স্বাধীনতার দৌড়ে মুসলমানদের সঙ্গী হয়ে লড়াই করছে এবং ক্ষমতাও লাভ করছে, তখন তিনি তার দলের প্রতি হিন্দুদের নেক দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য তার পুস্তকাদিতে হিন্দুধর্মের নানা অবতার এবং ঋষি মুনিদের প্রশংসায় লিখতে এবং বক্তৃতা দিতে শুরু করেন। তার বই “শাহাদাতুল কুরআন”-এ তিনি ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্যকে ইসলামের অংশ বলেও ঘোষণা করেছেন।

মির্যা কাদিয়ানী তার উপদেষ্টা ও অনুসারী হেকিম নূরউদ্দীনের পরামর্শ অনুসরণ করে নিজেকে ঈসা (আ.)-এর মাসীল (অবতার) হিসেবে দাবি করেন এবং বলেন, “আমি মরিয়মের পুত্র মসীহ হওয়ার দাবি করি না, আমি পুনর্জন্মে বিশ্বাস করি না, তবে আমি নিজেকে মাছীলে মসীহ (ঈসার অবতার) হবার দাবি করি।”

মির্যা তখন ঈসা (আ.)-এর সাদৃশ্যের এই দাবিকে বেশিদিন ধরে রাখেননি বরং আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে সর্বপ্রথম ঈসার (যীশুখ্রিস্টের) জীবিত থাকার বিশ্বাস অস্বীকার করে তার মৃত্যুর ঘোষণা দেন। তারপর তিনি তার প্রতিশ্রুত মসীহ ঘোষণা করেন। যেমন তিনি লিখেছেন, “আমার দাবী হল আমি সেই প্রতিশ্রুত মসীহ, যাঁর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী আছে ঈশ্বরের সমস্ত পবিত্র গ্রন্থে যে, তিনি শেষকালে আবির্ভূত হবেন।” তারপর এই সময়কালটিও অতিবাহিত হয় এবং পরবর্তী পর্যায়টি ছিল প্রতিশ্রুত মসীহ (সা.) হবার দাবী। মির্যা কাদিয়ানী প্রায় ১০ বছর ধরে তাঁর মসীহ হওয়ার দাবি বজায় রাখেন। এরপর তিনি ১৯০১ সালের নভেম্বরে তাঁর নবুওয়ত দাবীর ঘোষণা করেন।

এই দাবির পর মির্যা কিছুকাল নানা শব্দের (আনুগত্য /জিল্লি/বুরুজি/উম্মতি) আশ্রয় নিয়ে নবী হওয়ার ভান করতে থাকেন। ইতিপূর্বে খাতামুন নাবিয়্যীন সম্পর্কে মির্যার ব্যাখ্যা ছিল যে, এর অর্থ হল আপনি নবীদের সীলমোহর এবং আপনার সীল ছাড়া কারো নবী দাবী নিশ্চিত হতে পারে না। আপনি যাকে সীল মেরে নিশ্চিত করবেন তিনিই হবেন নবী। কিছু সময়ের জন্য মিথ্যা নবী হওয়ার পর, মির্যা কাদিয়ানী সাহেব অবশেষে শরীয়তধারী নবী এবং মুহাম্মদী সিলসিলায় শেষনবী হওয়ার বড় বড় দাবিও করে বসেন। তাঁর রচিত “হাকীকাতুল ওহী” গ্রন্থে তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলোকে নিজের সাথে এডজাস্ট করে ফেলেন, যেগুলো মহানবী (সা.)-এর মহিমায় অবতীর্ণ হয়েছিল। আর যারা তার এই সমস্ত দাবীকে ফালতু আর মিথ্যা বলেছিল তাদের সবাইকে তিনি কাফের বলে ঘোষণা করে বললেন “সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমার নিকট প্রকাশ করেছেন যে, প্রত্যেক ব্যক্তি যে আমার দাওয়াত পাওয়া সত্ত্বেও আমাকে গ্রহণ করেনি সে মুসলমান নয়।” (তাযকিরাহ ৫১৯ নতুন এডিশন)।

অথচ মুসলমানদের অন্যতম একটি চিরন্তন বিশ্বাস যে, মুহাম্মদ (সা.)-ই আল্লাহতালার শেষনবী। তারপর আর কোনো নবীর জন্ম হবেনা। আর মহানবী (সা.)-এর ফরমান মুতাবেক হযরত ঈসা (আ.) দ্বিতীয়বার আসবেন “উম্মতি” হিসেবে, নবী হিসেবে নয়। কেননা পবিত্র কুরআনের সূরা মায়েদা আয়াত নং ৩ এর اليوم اكملت لكم دينكم (আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি) অনুসারে বর্তমানে নবুওয়তি দায়িত্ব সহকারে দ্বিতীয় কারো আসার প্রয়োজন নেই। সুতরাং ঈসা (আ.)-এর আগমনও নবুওয়তি দায়িত্ব সহকারে হবেনা, বড়জোর “উম্মতি” হিসেবে হবেন।

মুসলিম উম্মাহার নিকট ইসলামে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রয়োজন যথাক্রমে, ১. আল্লাহ’র কিতাব ২. মহানবীর হাদীস ৩. সালাফের ইজতিহাদ ৪. সাহাবা আজমা’ঈনের ঐকমত্য। এই চারটির দাঁড়িপাল্লায় যা সত্য, তা মুসলমানদের জন্য গৃহীত; আর যা মিথ্যা তা তাদের নিকট প্রত্যাখ্যাত। কিন্তু মির্যা কাদিয়ানীর সমুদয় দাবী এই স্কেলে সত্য প্রমাণিত হয়নি। তাই মুসলমানদের পক্ষে এটি বিশ্বাস করা সম্ভব ছিল না। তথাপি তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লিখনীর সর্বশক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েন। ফলে তার সত্য-মিথ্যায় মিশ্রিত ক্ষুরধার লিখা কতিপয় নির্বোধ ও সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে।

মির্যা কাদিয়ানীর এই সমস্ত লিখালিখির অসারতা উন্মোচন করতে সেই সময়কার প্রসিদ্ধ আলেমেদ্বীন খাজা পীর মেহের আলীশাহ (রহ.) একখানা বই রচনা করেন, যেখানে পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণ করে দেন যে, হযরত মসীহ ইবনে মরিয়ম (আ.)-কে হত্যা করা হয়নি বা ক্রুশবিদ্ধ করাও হয়নি বরং শারীরিকভাবে জীবিত অবস্থায় আকাশে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং কিয়ামতের আগে তিনি দ্বিতীয়বার আবির্ভূত হবেন। হযরত ইমাম মাহদী আসবেন, ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করবেন। তারপর ঈসা (আ.) দামেস্কে আকাশ থেকে অবতরণ করবেন এবং ইমাম মাহদী (আ.)-এর সাথে এক হয়ে যুদ্ধ করবেন এবং ফিলিস্তিনের “বাব লূদে” ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) “মসীহে দাজ্জাল”-কে হত্যা করবেন। এরপর ইয়াজুজ-মাজুজ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে।

খাজা পীর মেহের আলী শাহ (রহ.)-এর রচিত “শামসুল হিদায়া” গ্রন্থটি উপমহাদেশের ইসলামিক পণ্ডিতদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তার প্রতিটি লিখা ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও ফলপ্রসূ। অমৃতসর শহরের একজন আহলে হাদীস মানহাজের আলেম মৌলভী হাবীবুল্লাহ সাহেব লিখেছেন যে, “শামসুল হিদায়া” বইটি পড়ার পর বহু সংখ্যক মির্যায়ী (কাদিয়ানী) তওবা করে এবং সঠিক পথে চলে আসে। মৌলভী হাবীবুল্লাহ সাহেব নিজেও আগে মির্যায়ীদের যাদুময় লিখনী দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন কিন্তু খাজা সাহেবের বই তাকে সরল পথে অবিচল থাকতে সাহায্য করে এবং তিনি তার তাবৎ সংশয় খাজা মেহের আলী সাহেবের নিকট উল্লেখ করে সমাধান নিয়ে নিতেন। একই মৌলভী হাবীবুল্লাহ সাহেব পরবর্তীতে কাদিয়ানী মতবাদের খণ্ডনে এমন এমন গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছিলেন যে, বিখ্যাত আলেম আল্লামা শাব্বির আহমদ উসমানী (রহ.)ও তাঁর পাদটীকায় সূরা আল মুমিনুনের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

১৯০০ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি, মির্যা কাদিয়ানীর বিশেষ উপদেষ্টা হেকিম নূরউদ্দীন সাহেব খাজা পীর মেহের আলী শাহ (রহ.)-কে একটি চিঠি লেখেন, যাতে তিনি বারোটি প্রশ্নের তালিকা করেন। খাজা সাহেবের উক্ত জবাব পরবর্তীতে দেশের আনাচে কানাচে সমস্ত মানুষের হাতে পৌঁছে যেতে থাকে এবং নামীদামী ইসলামিক স্কলাররা সেই জবাবগুলোর পাদটীকাও সংযোজন করে দেন। খাজা সাহেবের ‘শামসুল হিদায়া’ বইটি বাজারে ছড়িয়ে পড়ার পর মির্যায়ীরা কোনঠাসা হয়ে পড়ে এবং জায়গায় জায়গায় পাকড়াও হতে থাকে। মির্যায়ীয়ত গেল গেল রব পড়তে শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে মির্যা কাদিয়ানী সাহেব খাজা পীর মেহের আলী সাহেবকে মুনাজারার (দ্বিপাক্ষিক বিতর্ক) আহবান করেন। খাজা সাহেব তো এটাই চাচ্ছিলেন। তিনি আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করলেন। কারণ, এবার সবার সামনে মির্যার ভণ্ডামি উন্মোচন করার সুযোগ পাওয়া গেল। এই বিতর্কের আহবান খাজা পীর মেহের আলী শাহের পক্ষ থেকে ছিল না। তা বরং মির্যা কাদিয়ানীর ইচ্ছানুযায়ীই হয়েছিল। কিন্তু ধূর্ত মির্যা তার বিশ্বাস এবং দাবীকে খণ্ডন করার জন্য এই বিতর্কের আহবান করেননি, বরং খাজা সাহেবকে তার সাথে পাল্লা দিয়ে আরবীতে তাফসীর লিখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। যেন দুইজনই তাফসীর লেখার সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

যাইহোক, খাজা মেহের আলী সাহেব শুধু আমন্ত্রণই গ্রহণ করেননি বরং মির্যা সাহেবকে লিখিত বিতর্কের পাশাপাশি বক্তৃতা বিতর্কের জন্যও আমন্ত্রণ জানান। বিতর্কের স্থান “শাহী মসজিদ লাহোর” হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ৩ জন বিদ্যানকে ফয়সাল (বিচারক) হিসাবে মনোনীত করা হয়। ২২শে জুলাই ১৯০০ তারিখে মির্যা সাহেব সারা ভারতে একটি বিজ্ঞাপন বিতরণ করা হয়, যাতে উপমহাদেশের সকল মাশায়েখ ও উলামা এবং খাজা মেহের আলী শাহ সহ বিশেষভাবে ৮৬ জন বিশিষ্ট উলামাকে উদ্দেশ্য করে মির্যার মুকাবিলায় ২৫শে আগস্ট ১৯০০ তারিখে লাহোরে বিতর্কানুষ্ঠানের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। খাজা মেহের আলীই প্রথম এই উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং তার পক্ষে ২৫শে জুলাই ১৯০০ সালে তিনি একটি বিজ্ঞাপনও প্রকাশ করেন এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি ২৫শে আগস্ট ১৯০০ তারিখে লাহোর সফর করেন।

তাই যখন প্রতিশ্রুতির দিন ঘনিয়ে আসছিল, তখন হাজার হাজার মুসলমান লাহোরে উপস্থিত হন। বিভিন্ন মতের প্রায় সবাই (শিয়া, দেওবন্দি, বেরেলি, আহলে হাদীস) এমনকি কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের অনুসারীসহ সমাজের সর্বস্তরের মুসলমানরা দূর-দূরান্ত থেকে একত্রিত হন। ২৫ শে আগস্ট ১৯০০ ইং পুলিশ নির্ধারিত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তখনও মির্যা অবশ্যই আসবেন, এমনি কথা শুনা যাচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর মির্যা কাদিয়ানী সাফ জানিয়ে দেন যে, আমি কোনো মূল্যে লাহোরে আসতে প্রস্তুত নই। অজুহাত ছিল, সেখানকার মানুষজন নাকি তাকে তার নবুওয়তের দাবীতে মিথ্যাবাদী প্রমাণের জন্য হত্যা করতে পারে। যদিও মির্যার নিজস্ব অনুরোধেই বিতর্কটি পরিচালিত হয়েছিল এবং মির্যার নিজের ইচ্ছা অনুযায়ীই উক্ত বিতর্কের উপর ৫০০০ কপি বিজ্ঞাপন ছাপানোও হয়েছিল। (বর্তমানেও কাদিয়ানীরা প্রতিপক্ষকে এমনি প্রতারণা দিয়ে থাকে। তারা তর্জনগর্জন করে প্রথমে চ্যালেঞ্জ দেবে কিন্তু পরবর্তীতে হুবহু মির্যার মতই নানা অজুহাতে পিছটান দিয়ে থাকে – অনুবাদক)।

বলে রাখা দরকার, এই বিজ্ঞাপন তাদের কাছে একটি নিবন্ধিত ডাকযোগে মির্যার কাছে পাঠানো হয়েছিল। ডাকযোগে পাঠানো হয়েছিল পাঞ্জাব এবং ভারত, এনডব্লিউএফপি এবং আফগানিস্তানের আরও অনেক আলেম ও পণ্ডিতদের কাছেও। এভাবেই বিতর্কের আমন্ত্রণ এবং আমন্ত্রণের প্রতিক্রিয়া সম্প্রচার করা হয়েছিল, যা সর্বত্র আগ্রহ জাগিয়েছে। মির্যার পলায়ন যখন জনগণের মধ্যে ব্যাপক হতাশার সৃষ্টি করে, তখন ২৫ শে আগস্ট লাহোরের শাহী মসজিদে মুসলমানদের একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সমস্ত ইসলামী নেতৃস্থানীয় আলেমগণ মিম্বরে উঠে বয়ান দিয়েছিলেন। তারা ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর শেষনবী এবং তাঁরপরে আর কোনো ধরণের নবীর জন্ম হবেনা এবং যে এই বিশ্বাসকে অস্বীকার করে সে ইসলামের আওতার বাইরে। লাহোরের উক্ত বিতর্ক থেকে মির্যার পলায়ন তার সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার পর তিনি বেপরোয়া হয়ে পড়েন। তিনি তার হারানো সুনাম উদ্ধারের জন্য অনেক চেষ্টা চালান। প্রথমে “ইজাযুল মসীহ/ইজাযে মসীহ (اعجاز المسيح)” নামে একটি বইতে সূরা ফাতিহার আরবি তাফসীর প্রকাশ করেন। তারপর সুযোগ বুঝে এক বছর পরে ১৯০১ সালের নভেম্বরে নিজেকে একজন “নবী” ঘোষণা করেন। তার এক বছর পরে তার বেতনভুক্ত মুরিদ মুহাম্মদ হাসান আমরোহীকে দিয়ে “শামসে বাযেগা (شمس بازغة)” নামে একটি বই লিখান, যা খাজা মেহের আলী শাহ (রহ.)-এর “শামসুল হিদায়া” বইয়ের খণ্ডন করার উদ্দেশ্যে ছিল। তার জবাবে খাজা মেহের আলী শাহ (রহ.) বিখ্যাত গ্রন্থ “সাইফে চিশতিয়াই (سيف چشتيائى)” রচনা করেন। বইটির যাদুময় লিখনীশক্তি ছিল অতুলনীয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপমহাদেশের বিশিষ্ট আলেম উলেমা তাঁকে এখনো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এই বইটিতে মির্যার “শামসে বাযেগা” বইয়ের দাঁতভাঙা উত্তর দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে। আজ পর্যন্ত মির্যায়ীরা (কাদিয়ানীরা) এর কোনো যুক্তিই খন্ডন করতে পারেনি। কিন্তু আফসোস! সাধারণ কোনো কাদিয়ানীই এ সমস্ত ঐতিহাসিক বিষয়ে কোনো জ্ঞানই রাখেনা। আল্লাহ তাদেরকে সহীহ বুঝদান করুন। আমীন।

অনুবাদক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী। এডমিন www.markajomar.org

রাসূল (সা.) কি হিজরত ভূমি নির্ণয়ে ইজতিহাদি ভুল করেছেন?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

হিজরত ভূমি নির্ণয় ক্ষেত্রে কি নবীজীর ইজতিহাদি ভুল হয়েছিল?

উত্তর, কোনো নবী রাসূলের ক্ষেত্রে এধরণের প্রশ্ন তোলাই সঠিক নয়। যেহেতু একে তো নবী রাসূলগণের জন্য দ্বীনি বিষয়ে ইজতিহাদ করার প্রয়োজন পড়েনা, দ্বিতীয়ত উনাদের ইজতিহাদী (গবেষণালব্ধ মতের) ভ্রান্তি মূলত ওহীরই ভ্রান্তি হিসেবে গণ্য হবে। কারণ দ্বীনি বিষয়ে নবী রাসূলগণ কখনো ওহী থেকে কোনো অবস্থাতেই বিরত থাকেন না।” বলে রাখা দরকার, শুধুমাত্র দ্বীনি বিষয়ে শরীয়তের দলিল ও নিয়মনীতির ভিত্তিতে উলামায়ে কেরামের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তকেই ‘ইজতিহাদ’ বলা হবে। সেযাইহোক, নবী রাসূলগণের ক্ষেত্রে ‘ইজতিহাদ’ শব্দ কিজন্য বেমানান, জানতে এই লিখাটি পড়ুন।

রাসূল (সা.)-এর প্রতি এইরূপ অভিযোগ কাদের?

উত্তর, এইরূপ অভিযোগ মির্যা কাদিয়ানী ও তার অনুসারীদের। তাদের দাবী হচ্ছে, দো-জাহানের সরদার হযরত মুহাম্মদ (সা.) আপনা ‘হোদায়বিয়ার যাত্রাকালে’ স্থান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে “ইয়ামামা” আর “হাজর/হিজর” নামক স্থান ভেবে ইজতিহাদি ভুল করেছিলেন’! (দেখুন, হাকীকাতুল ওহী বাংলা অনূদিত পৃষ্ঠা নং ৩২৯)। নাউযুবিল্লাহ।

পাঠকবৃন্দ একটু খেয়াল করুন!

মির্যা গোলাম আহমদ হাদীসের সম্পূর্ণ কনসেপ্ট বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে এবং সারা দুনিয়াকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছে। কেননা সঠিক তথ্যটি হচ্ছে, (১) ঐতিহাসিক ‘হোদায়বিয়ার যাত্রা’ ৬ষ্ঠ হিজরীতে হয়েছিল। (২) সেই ‘যাত্রা’ মদীনা থেকে মক্কা অভিমুখে ছিল। (৩) হোদায়বিয়ার যাত্রা সম্পর্কিত বর্ণনায় ‘ইয়ামামা’ (الْيَمَامَةُ) বা হাজর/হিজর (الهجر) নামক স্থানের উল্লেখ-ই নেই। আসুন, হোদায়বিয়ার যাত্রা সম্পর্কেও জেনে নেয়া যাক!

হোদায়বিয়ার সফর বা যাত্রা :

ঐতিহাসিক হোদায়বিয়ার যাত্রা ইতিহাস সম্পর্কে বলতে গেলে, হিজরী ৬ষ্ঠ সনের জ্বিলকদ মাসে হোদায়বিয়ার অভিযান সংঘটিত হয়। এই সনে নবী করীম (সা.) একদা স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি তার সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে মদীনা থেকে মক্কায় গমন করেন এবং সেখানে উমরাহ পালন করলেন। নবী (সা.)-এর স্বপ্ন নিছক একটি স্বপ্ন নয়, বরং সেটিও একধরনের ওহী। সুতরাং এরপর তিনি চৌদ্দশত সাহাবীসহ উমরাহ পালন করার জন্য মক্কা রওয়ানা হলেন। এখন প্রতারক মির্যা কাদিয়ানীর প্রতি প্রশ্ন উঠে যে, এমতাবস্থায় নবী করীম (সা.)-এর বিরুদ্ধে কথিত ইজতিহাদি ভুলের অভিযোগের ভিত্তি কী? আহা! কোটি কোটি লানত এমন নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদীর উপর।

নবী রাসূলগণের উপর কথিত ইজতিহাদি ভুলের ট্যাগ লাগানোর কারণ কী?

উত্তরে বলা যায় যে, মির্যা গোলাম আহমদ আল্লাহর নামে যখন তখন বানোয়াট ভবিষ্যৎবাণী প্রচার করত আর ব্যর্থ হত। এটি তার মজ্জাগত স্বভাব ছিল। আর এ সমস্ত ব্যর্থতার দায় এড়ানোর জন্যই নবী রাসূলগণের বিরুদ্ধে সে অবিরাম মিথ্যা অভিযোগ করে যেত। তার অশিক্ষিত মুরিদরা বিনাবাক্যে তা বিশ্বাসও করে নিত। যেমন সে কথিত ওহী ইলহামের কথা বলে কাদিয়ান অধিবাসী জনৈক স্ত্রীলোকের একটি পুত্র সন্তান হবার ভবিষ্যৎবাণী দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কন্যা সন্তান হয়। আর তার কিছুদিন পরেই স্ত্রীলোকটি মারা যান। (এ সম্পর্কে পড়তে এখানে ক্লিক করুন, ৩ নং ভবিষ্যৎবাণী দ্রষ্টব্য)। মির্যা গোলাম আহমদের জন্য এ সমস্ত অহেতুক ভবিষ্যৎবাণীর দায় এড়ানো ছিল খুবই কঠিন। তাই সে নবী রাসূলগণের উপর ওসব অপবাদ দিয়ে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করত। প্রমাণের জন্য দেখুন, হাকীকাতুল ওহী (বাংলা অনূদিত) পৃষ্ঠা নং ৮০, রূহানী খাযায়েন ২২/৫৭৩। স্ক্রিনশট এই,

এখন যে সমস্ত সহজ সরল কাদিয়ানী (আহমদী) মির্যা কাদিয়ানীর যেনতেন কথাবার্তা অন্ধের মতো এতকাল ধরে বিশ্বাস করে আসছেন এখন তাদের মাথার উপর পুরো আকাশটা কি ভেঙ্গে পড়ার মত অবস্থা হল না?

হোদায়বিয়ার যাত্রার সাথে ইয়ামামা বা হিজর-এর প্রাসঙ্গিকতা আছে কি?

উত্তরে বলা যায়, কোনো প্রাসঙ্গিকতাই নেই। কেননা ‘ইয়ামামা’ শব্দ শীর্ষক হাদীসটিতে বলা হচ্ছে, রাসূল (সা.) স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি হিজরত করছেন মক্কা থেকে মদীনা অভিমুখে! অথচ ‘হোদায়বিয়ার যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘মদীনা থেকে মক্কায়‘; রাসূল (সা.)-এর মদনীযুগে ও ৬ষ্ঠ হিজরীতেই। জ্ঞানীরা এখন কিছু বলুন!

এখন আমরা রাসূল (সা.)-এর হাদীস থেকেই দেখব যে, হিজরত সংশ্লিষ্ট ঐ কথাটিতে “ইয়ামামা” শব্দটি কিভাবে উল্লেখ আছে?

রাসূল (সা.) থেকে যেই হিজরত সম্পর্কে স্বপ্নে দেখার ঘটনা বর্ণিত আছে সেটি ‘হোদায়বিয়ার যাত্রা’ ছিলনা, বরং মক্কা থেকে মদীনা অভিমুখে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক হিজরতই ছিল, যেই হিজরতে রাসূল (সা.)-এর সফরসঙ্গী মাত্র ২জন ছিলো। এই পর্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রাসূল (সা.) সাহাবীদেরকে সেই হিজরতের ভূমি সম্পর্কে না ইজতিহাদ করেন আর না আগাম কোনো তথ্যই দেন, কিছুই করেননি, প্রয়োজনও ছিল না; যেহেতু একজন ওহীর বাহক কখনো ইজতিহাদের মুখোমুখি হন না। সুতরাং এ জন্যই এখানেও রাসূল (সা.) থেকে কোনো ইজতিহাদি গলতি হয়েছিল বলা নিতান্তই গর্হিত কাজ এবং জঘন্য মিথ্যাচার। এখন আমরা দেখব যে, এই হিজরত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসটি কীরকম? আমি হাদীসটির উদ্দিষ্ট অংশটি এখানে উল্লেখ করছি। (অর্থাৎ) “রাসূল (সা.) স্বপ্নে হিজরত ভূমিকে “খেজুরগাছ” সমৃদ্ধরূপে দেখতে পেয়েছিলেন (إِلَى أَرْضٍ بِهَا نَخْلٌ)। তিনি এভাবে স্বপ্নে দেখার পরপরই মনে মনে ধারণা করেছিলেন যে, খেজুরগাছ সমৃদ্ধ সেই এলাকাটি হয়ত ইয়ামামা অথবা হাজর/হিজর নামক স্থান হবে (وَهَلِي إِلَى أَنَّهَا الْيَمَامَةُ أَوْ هَجَرُ)। কিন্তু পরবর্তীতে হিজরত মদীনায় হওয়াতে রাসূল (সা.)-এর মনের সংশয় দূর হয়ে যায় এবং নিশ্চিত হন যে, খেজুরগাছ সমৃদ্ধ সেই ভূমিটি ‘ইয়ামামা’ কিংবা ‘হাজর/হিজর’ কোনোটাই নয়, বরং ইয়াসরিব তথা মদীনা-ই। ব্যাস, বিষয়টি এই পর্যন্তই।

এখন এটিকে ইজতিহাদি গলতি বলা কিভাবে বৈধ হতে পারে? কোনো কাদিয়ানী কি বলবেন ‘ইজতিহাদ‘ কাকে বলে আর ইজতিহাদ করা কাদের বৈশিষ্ট্য? নবী রাসূলগণের না সাধারণদের? উল্লেখ্য, মির্যা কাদিয়ানীর মতে “নবী’র ইজতিহাদী (গবেষণালব্ধ মত) ভুল মূলত ওহীরই ভুল। কেননা নবী কখনো ওহী থেকে কোনো অবস্থাতেই বিরত থাকেন না।” (রূহানী খাযায়েন: ৫/৩৫৩; রচনাকাল ১৮৯২ইং)। স্ক্রিনশট এই,

  • (১) ইয়ামামা (يمامة) হল, আধুনিক সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্ব নজদের একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল। যাইহোক, মির্যা কাদিয়ানী কত নিকৃষ্ট মিথ্যুক হলে সে নিজের দুর্বলতা ঢাকতে আল্লাহর সত্য নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সত্তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পেছনে দৌঁড়তে পারে, অনর্থক দাবী করে লিখতে পারে যে, রাসূল (সা.) হিজরতের ভূমি ‘ইয়ামামা’ সাব্যস্ত করে ইজতিহাদি ভ্রান্তির শিকার হন! নাউযুবিল্লাহ, ছুম্মা নাউযুবিল্লাহ।
  • (২) হাজর/হিজর (هجر) হচ্ছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় একটি প্রাচীন শহর, যেটির বর্তমান নাম ‘আল ইহছা‘, (الاحساء) ; শহরটি রাজধানী রিয়াদ থেকে পূর্বে প্রায় ৩২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

হাদীসটি অনুবাদ সহ :

আবু আমির আব্দুল্লাহ ইবনু বাররাদ আশআরী ও আবূ কুরায়র মুহাম্মদ ইবনু আলা (রহ.) … আবু মূসা (রা.) সূত্রে নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أُهَاجِرُ مِنْ مَكَّةَ إِلَى أَرْضٍ بِهَا نَخْلٌ فَذَهَبَ وَهَلِي إِلَى أَنَّهَا الْيَمَامَةُ أَوْ هَجَرُ فَإِذَا هِيَ الْمَدِينَةُ يَثْرِبُ وَرَأَيْتُ فِي رُؤْيَاىَ هَذِهِ أَنِّي هَزَزْتُ سَيْفًا فَانْقَطَعَ صَدْرُهُ فَإِذَا هُوَ مَا أُصِيبَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ أُحُدٍ ثُمَّ هَزَزْتُهُ أُخْرَى فَعَادَ أَحْسَنَ مَا كَانَ فَإِذَا هُوَ مَا جَاءَ اللَّهُ بِهِ مِنَ الْفَتْحِ وَاجْتِمَاعِ الْمُؤْمِنِينَ وَرَأَيْتُ فِيهَا أَيْضًا بَقَرًا وَاللَّهُ خَيْرٌ فَإِذَا هُمُ النَّفَرُ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ أُحُدٍ وَإِذَا الْخَيْرُ مَا جَاءَ اللَّهُ بِهِ مِنَ الْخَيْرِ بَعْدُ وَثَوَابُ الصِّدْقِ الَّذِي آتَانَا اللَّهُ بَعْدُ يَوْمَ بَدْرٍ‏.‏

অর্থাৎ আমি স্বপ্লে দেখলাম যে, আমি মক্কা থেকে এমন এক দেশে হিজরত করতে যাচ্ছি যেখানে খেজুর গাছ রয়েছে। তাতে আমার ধারণা এদিকে গেল যে, তা ইয়ামামা কিংবা হাজর/হিজর (এলাকা) হবে। পরে (বাস্তবে) দেখি যে, তা হল মদীনা (যার পূর্ব নাম) ইয়াসরিব। আমি আমার এ স্বপ্নে আরও দেখলাম যে, আমি একটি তরবারি নাড়াচাড়া করলাম, ফলে তার মধ্যখানে ভেঙ্গে গেল। তা ছিল উহুদের দিনে, যা মুমিনগণের উপর আপতিত হয়েছিল।

পরে আমি আরেকবার সেই তরবারি নাড়া দিলে তা আগের চাইতে উত্তম হয়ে গেল। মুলত তা হল সেই বিজয় ও ঈমানদারদের সম্মিলন, সংহতি যা আল্লাহ সংঘটিত করলেন (তথা মক্কা বিজয়)। আমি তাতে একটি গরুও দেখলাম। আর আল্লাহ তা’আলাই কল্যাণের অধিকারী। মূলত তা হল উহুদের যুদ্ধে (শাহাদাতপ্রাপ্ত) ঈমানদারগণের দলটি। আর কল্যাণ হল সে কল্যাণ, যা পরবর্তীতে আল্লাহতালা দান করেছেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সে সাওয়াব ও প্রতিদান যা আল্লাহতালা আমাদের বদর যুদ্ধের পরে দিয়েছেন। [সহীহ মুসলিম (ইফা.) অধ্যায়: ৪৪/ স্বপ্ন (كتاب الرؤيا) হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩৫]।

শেষকথা, ভ্রষ্ট কাদিয়ানী জামাত সহ আরো যত অমুসলিম সম্প্রদায় নিজেদের মুসলিম পরিচয় দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে থাকে তাদের উচিত, নিজেদের হীনস্বার্থে এই জাতীয় সমস্ত অপপ্রচার থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ আমাদেরকে প্রকৃত সত্যটা বুঝার তাওফিক দিন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

আমেরিকা রাশিয়া ইয়াজুজ-মাজুজ হলে এই প্রশ্নের কী জবাব?

কাদিয়ানী লিটারেচারে আমেরিকা রাশিয়া-ই নাকি ইয়াজুজ-মাজুজ!

কাদিয়ানীদের চরম বিকৃত ও ভ্রষ্ট ধর্মবিশ্বাসের সাক্ষী তাদের বইপুস্তক গুলো। অধিকাংশ সাধারণ কাদিয়ানী জানেই না যে, তাদের কাদিয়ানীধর্মের আকীদা কেমন? তাদের অন্যতম একটি ধর্মবিশ্বাস হচ্ছে, ইসলাম যে ইয়াজুজ-মাজুজের শিক্ষা দেয় তা হতে পরাশক্তি ‘রাশিয়া-আমেরিকা‘ উদ্দেশ্য। অথচ হাদীসে উল্লেখ আছে যে, ইয়াজুজ-মাজুজ এর আবির্ভাব ঘটবে ঈসা (আ.)-এর সময়ে, তাদের কারণে তিনি এবং তাঁর সাথীসঙ্গীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন (وَيُحْصَرُ نَبِيُّ اللَّهُ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ)। (মুসলিম শরিফ, কিতাবুল ফিতান, হাদীস নং ৭১০৬)। এটি মির্যা কাদিয়ানী নিজেও মানতেন!

মির্যা গোলাম আহমদ এর দাবী হচ্ছে, আমিই হলাম সেই ঈসা।

আমেরিকা বিশ্বের বুকে একক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে ১৭৭৬ সালে। রাশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর একক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে ১৯৯১ সালে। (উইকিপিডিয়া)।

মির্যা কাদিয়ানীর জন্ম-মৃত্যু তাদেরই লিটারেচার অনুযায়ী যথাক্রমে ১৮৩৫ইং-১৯০৮ইং।

এবার প্রশ্ন হল, আমেরিকা মির্যার জন্মেরও ৫৯ বছর আগে আর রাশিয়া মির্যার মৃত্যুর প্রায় ৮৩ বছর পরে দুনিয়ায় একক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে অন্ততঃ রূপকভাবেও হাদীসে বর্ণিত সেই ইয়াজুজ-মাজুজ হল কিভাবে? এদের একটাও তো মির্যার সমসাময়িক ছিল না!

ব্রেইনওয়াশ কাদিয়ানীরা কি এরপরেও নিজেদের বিচারবুদ্ধি নিজ হাতে হত্যা করে হলেও এই সমস্ত অযুক্তিযুক্ত রূপক রূপক খেলা খেলে যাবে?

আল্লাহ আর তাঁর রাসূল (সা.) থেকে সর্বসম্মত মুসলিম উম্মাহা গত চৌদ্দশত বছর ধরে ক্রমাগতভাবে যেভাবে ইয়াজুজ-মাজুজ এর কনসেপ্ট ধারণ করে আছেন সেটির বিপরীতে ভিন্ন যে কোনো ব্যাখ্যা থেকে আল্লাহ আমাদের কাদিয়ানীবন্ধুদের রক্ষা করুন এবং হেদায়েত দিন।

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র একটি ঐতিহাসিক দলিল যা ৪ই জুলাই ১৭৭৬ সালে পেনসিলভেনিয়া প্রাদেশিক আইনসভায় অনুষ্ঠিত ২য় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসের সভায় গৃহীত হয়। আর সোভিয়েত যুগ বিংশ শতকের কিছু উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত সাফল্য পেয়েছিল। যার মধ্যে ছিল বিশ্বের প্রথম মহাকাশযান ও প্রথম নভোচারী। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর সোভিয়েতের রুশীয় প্রজাতন্ত্র রুশ ফেডারেশন হিসেবে গঠিত হয় এবং একক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত হয়। (উইকিপিডিয়া)।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

সহীহ হাদীসে ইমাম মাহদীর পরিচয়

আমার কলিজার টুকরো কাদিয়ানী ভাইবোনকে বলছি, নিচে উল্লিখিত সহীহ হাদীসগুলোর সাথে আপনাদের মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে মিলিয়ে ‘ইমাম মাহদী‘ প্রমাণ করা যায় কিনা দেখবেন! সম্পূর্ণ লিখাটি মনযোগ সহকারে পড়ার পর দ্বিতীয় এই লিখাটিও পড়ে দেখবেন। তবেই আপনাদের নিকট পানি পানির মত আর দুধ দুধের মত পরিষ্কার হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। Click in here : প্রকৃত ইমাম মাহদী এবং মির্যা কাদিয়ানী এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য গুলো কী কী?

১. গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)। অধ্যায়ঃ ৩১/ মাহদী (আ.) সম্পর্কে (كتاب المهدى) হাদীস নং ৪২৩০ :

المهدى حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، – يَعْنِي ابْنَ أَبِي خَالِدٍ – عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏”‏ لاَ يَزَالُ هَذَا الدِّينُ قَائِمًا حَتَّى يَكُونَ عَلَيْكُمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيفَةً كُلُّهُمْ تَجْتَمِعُ عَلَيْهِ الأُمَّةُ ‏”‏ ‏.‏ فَسَمِعْتُ كَلاَمًا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ أَفْهَمْهُ قُلْتُ لأَبِي مَا يَقُولُ قَالَ ‏”‏ كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ ‏.‏

অনুবাদঃ আমর ইবনে উসমান (রহ.) …. জাবির ইব্‌ন সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, এ দ্বীন ততক্ষণ পর্যন্ত কায়েম থাকবে, যতক্ষণ না তোমাদের উপর সর্ব সম্মতিক্রমে নির্বাচিত বার জন খলীফা (নিযুক্ত) হয়। (রাবী বলেন) এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরো কিছু বলতে শুনি, কিন্তু আমি তা বুঝতে পারিনি। তখন আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি কি বলেছেন? তিনি বলেন, এ সমস্ত খলীফা[১] কুরাইশ বংশ থেকে হবে। (হাদীসের মান, সহীহ)।

নোটঃ [১] ইমাম সুয়ূতী (রহ.) হাদীসটির كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ (এ সমস্ত খলীফা কুরাইশ বংশ থেকে হবে)-এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন, إن في ذلك إشارة إلى ما قاله العلماء : إن المهدي احد الاثني عشر অর্থাৎ এর ইংগিত সে কথার দিকেই যা বিশেষজ্ঞগণ মত ব্যক্ত করে গেছেন, তা হচ্ছে নিশ্চয়ই ইমাম মাহদী ঐ বারোজনেরই একজন হবেন। (আল আরফুল ওয়ারদী, ইমাম সুয়ূতী দ্রষ্টব্য)। শায়খ আলী আহমদ আব্দুল আ’ল আত তাহতাভী রচিত ‘তাম্বীহুল গাফেলীন শরহু কিতাবি আ’লামাতি ইয়াওমিদ দীন‘-২০৮ দ্রষ্টব্য। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য।

২. গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)। অধ্যায়ঃ ৩১/ মাহদী (আঃ) সম্পর্কে (كتاب المهدى) হাদীস নং ৪২৩৩ :

باب المهدى حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عُبَيْدٍ، حَدَّثَهُمْ ح، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، – يَعْنِي ابْنَ عَيَّاشٍ ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا زَائِدَةُ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ فِطْرٍ، – الْمَعْنَى وَاحِدٌ – كُلُّهُمْ عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ لَوْ لَمْ يَبْقَ مِنَ الدُّنْيَا إِلاَّ يَوْمٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ زَائِدَةُ فِي حَدِيثِهِ ‏”‏ لَطَوَّلَ اللَّهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ اتَّفَقُوا ‏”‏ حَتَّى يَبْعَثَ فِيهِ رَجُلاً مِنِّي ‏”‏ ‏.‏ أَوْ ‏”‏ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يُوَاطِئُ اسْمُهُ اسْمِي وَاسْمُ أَبِيهِ اسْمَ أَبِي”‏ ‏.‏ زَادَ فِي حَدِيثِ فِطْرٍ ‏”‏ يَمْلأُ الأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلاً كَمَا مُلِئَتْ ظُلْمًا وَجَوْرًا ‏”‏ ‏.‏ وَقَالَ فِي حَدِيثِ سُفْيَانَ ‏”‏ لاَ تَذْهَبُ أَوْ لاَ تَنْقَضِي الدُّنْيَا حَتَّى يَمْلِكَ الْعَرَبَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يُوَاطِئُ اسْمُهُ اسْمِي ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَفْظُ عُمَرَ وَأَبِي بَكْرٍ بِمَعْنَى سُفْيَانَ ‏.‏

অনুবাদঃ মুসাদ্দাদ (রহ.) …. আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি দুনিয়ার মাত্র একদিনও বাকী থাকে, তবুও আল্লাহ্‌ সেদিনকে এত দীর্ঘ করে দেবেন যে, তাতে আমার থেকে অথবা আমার আহলে-বাইয়েত থেকে এমন এক ব্যক্তিকে পয়দা করবেন, যার নাম হবে আমার নামের মত এবং তার পিতার নাম হবে আমার পিতার নামের মত। রাবী ফিত্‌র (রহ.)-এর হাদীছে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, সে ব্যক্তি যমীনকে আদল ও ইনসাফে পূর্ণ করবে, যেরূপ তা অন্যায়-অবিচারে পূর্ণ হয়েছিল। রাবী সুফিয়ান (রহ.)-এর হাদিছে আছে যে, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন) দুনিয়া ততক্ষণ ধ্বংস হবে না, যতক্ষণ না আমার বংশ থেকে একজন আরবের শাসনকর্তা নিযুক্ত হবে। যার নাম হবে আমার নামের মত। (হাদীসের মান, হাসান)। ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) শেষ যুগে আত্মপ্রকাশকারী প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদীর সম্পূর্ণ নামটি কিরকম হবে তিনি তার ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (البداية والنهاية)’ কিতাবে নিম্নরূপ উল্লেখ করে গেছেন, তিনি লিখেছেন, محمد بن عبد الله العلوي الفاطمي الحسني رضي الله عنهم. الفتن والملاحم অর্থাৎ [ইমাম মাহদীর নাম হবে] মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ যিনি আলী, ফাতেমা এবং হাসানের (আল আলীবিয়্যি আল ফাতেমিয়্যি আল হাসানি) ঔরসজাত হবেন; রাদিআল্লাহু আনহুম। (বিশৃঙ্খলা ও মালহামা অধ্যায় খ-১/পৃ-১৭)।

৩. গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)। অধ্যায়ঃ ৩১/ মাহদী (আ.) সম্পর্কে (كتاب المهدى) হাদীস নং ৪২৩৪ :

باب المهدى حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا فِطْرٌ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ عَلِيٍّ، – رضى الله تعالى عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏: “‏ لَوْ لَمْ يَبْقَ مِنَ الدَّهْرِ إِلاَّ يَوْمٌ لَبَعَثَ اللَّهُ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَمْلأُهَا عَدْلاً كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا‏”‏ ‏.‏

অনুবাদঃ উসমান ইবনে আবূ শায়বা (রহ.) …. আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি আকাশের একটি দিনও অবশিষ্ট থাকে, তবুও মহান আল্লাহ্‌ আমার আহলে বাইয়েত থেকে এমন এক ব্যক্তিকে সৃষ্টি করবেন, যিনি পৃথিবীকে ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করবেন, যেমন তা জুল্‌ম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ ছিল। (হাদীসের মান, সহীহ)।

৪. গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)। অধ্যায়ঃ ৩১/ মাহদী (আ.) সম্পর্কে (كتاب المهدى) হাদীস নং ৪২৩৫।

باب المهدى حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمَلِيحِ الْحَسَنُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ بَيَانٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ نُفَيْلٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ الْمَهْدِيُّ مِنْ عِتْرَتِي مِنْ وَلَدِ فَاطِمَةَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ وَسَمِعْتُ أَبَا الْمَلِيحِ يُثْنِي عَلَى عَلِيِّ بْنِ نُفَيْلٍ وَيَذْكُرُ مِنْهُ صَلاَحًا ‏.‏

অনুবাদঃ আহমদ ইব্‌ন ইবরাহীম (রহ.) …. উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, “মাহদী আমার ঔরসজাত ফাতিমার বংশ থেকে হবে।” (হাদীসের মান, সহীহ)।

৫. গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)। অধ্যায়ঃ ৩১/ মাহদী (আ.) সম্পর্কে (كتاب المهدى) হাদীস নং ৪২৩৬ :

باب المهدى حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ تَمَّامِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ الْمَهْدِيُّ مِنِّي أَجْلَى الْجَبْهَةِ أَقْنَى الأَنْفِ يَمْلأُ الأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلاً كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا وَظُلْمًا يَمْلِكُ سَبْعَ سِنِينَ‏”‏ ‏.‏

অনুবাদঃ সাহ্‌ল ইবনে তাম্মাম (রহ.) …. আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাহদী আমার বংশোদ্ভুত হবে, যার ললাট প্রশস্ত ও নাক উঁচু হবে। যিনি পৃথিবীকে আদ্‌ল-ইনসাফ দ্বারা এরূপ পূর্ণ করবেন, যেরূপ তা অন্যায়-অবিচারে পূর্ণ ছিল। তিনি সাত বছর রাজত্ব করবেন। (হাদীসের মান, হাসান)।

৬. গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)। অধ্যায়ঃ ৩১/ মাহদী (আ.) সম্পর্কে (كتاب المهدى) হাদীস নং ৪২৩৭ :

باب المهدى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ صَالِحٍ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ صَاحِبٍ، لَهُ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ يَكُونُ اخْتِلاَفٌ عِنْدَ مَوْتِ خَلِيفَةٍ فَيَخْرُجُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ هَارِبًا إِلَى مَكَّةَ فَيَأْتِيهِ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ فَيُخْرِجُونَهُ وَهُوَ كَارِهٌ فَيُبَايِعُونَهُ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ وَيُبْعَثُ إِلَيْهِ بَعْثٌ مِنَ الشَّامِ فَيُخْسَفُ بِهِمْ بِالْبَيْدَاءِ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَإِذَا رَأَى النَّاسُ ذَلِكَ أَتَاهُ أَبْدَالُ الشَّامِ وَعَصَائِبُ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَيُبَايِعُونَهُ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ ثُمَّ يَنْشَأُ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ أَخْوَالُهُ كَلْبٌ فَيَبْعَثُ إِلَيْهِمْ بَعْثًا فَيَظْهَرُونَ عَلَيْهِمْ وَذَلِكَ بَعْثُ كَلْبٍ وَالْخَيْبَةُ لِمَنْ لَمْ يَشْهَدْ غَنِيمَةَ كَلْبٍ فَيَقْسِمُ الْمَالَ وَيَعْمَلُ فِي النَّاسِ بِسُنَّةِ نَبِيِّهِمْ صلى الله عليه وسلم وَيُلْقِي الإِسْلاَمُ بِجِرَانِهِ إِلَى الأَرْضِ فَيَلْبَثُ سَبْعَ سِنِينَ ثُمَّ يُتَوَفَّى وَيُصَلِّي عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ : قَالَ بَعْضُهُمْ عَنْ هِشَامٍ ‏”‏ تِسْعَ سِنِينَ”‏ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ‏”‏ سَبْعَ سِنِينَ ‏”‏ ‏.‏

অনুবাদঃ মুহাম্মদ ইবনে মুছান্না (রহ.) …. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন খলীফার মৃতুর সময় মতানৈক্য দেখা দিলে এবং সে সময় মদীনা থেকে এক ব্যক্তি পালিয়ে মক্কায় আসলে, সেখানকার অধিবাসিগণ তার পাশে সমবেত হবে এবং তাকে ইমামতি করার জন্য সামনে পাঠাবে। কিন্তু সে ব্যক্তি তা অপছন্দ করবে। এরপর লোকেরা তার হাতে ‘হাজরে-আসওয়াদ’ ও ‘মাকামে-ইব্‌রাহীমের’ মাঝে বাইয়েত গ্রহণ করবে। সে সময় শামদেশ থেকে তার বিরুদ্ধে একদল সৈন্য প্রেরিত হবে, যারা মক্কা ও মদীনার মাঝে অবস্থিত ‘বাইদাহ’ নামক স্থানে মাটিতে ধ্বংস প্রাপ্ত হবে। {ইমাম হাকিম (রহ.) ভিন্ন আরেক সনদে তার ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে এই অংশটি উল্লেখ করে বলেছেন, এর সনদ সহীহ}। লোকেরা যখন এ অবস্থা দেখবে, তখন শাম ও ইরাকের ওলী-আবদালগণ তার নিকট উপস্থিত হয়ে, ‘হাজরে-আসওয়াদ’ ও মাকামে-ইব্‌রাহীমের’ মাঝে বাইয়েত গ্রহণ করবে। এরপর কুরাইশ বংশে এমন এক ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করবে যার মামাগণ হবে ‘কালব’ গোত্রের। যারা তাদের বিরুদ্ধে একদল সৈন্য পাঠাবে এবং এ যুদ্ধে তারা বিজয়ী হবে। এরা ‘কালব’ গোত্রের সেই সৈন্য, যারা মাহ্‌দীর সৈন্যদের হাতে পরাজিত হবে। এই সময় যারা কালব গোত্রের গনীমতের মালের অংশগ্রহণ করার জন্য উপস্থিত হবেনা, তাদের জন্য আফসোস। এরপর মাহ্‌দী (আ.) গনীমতের মাল লোকদের মাঝে বণ্টন করে দিয়ে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত পুনরুজ্জীবিত করবেন। সে সময় যারা পৃথিবীতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি সাত বছর জীবিত থাকার পর ইন্তিকাল করবেন এবং মুসলিমরা তাঁর জানাযার সালাত আদায় করবে। (সনদের মান, জঈফ বা দুর্বল)।

৭. গ্রন্থঃ মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ (المصنف ابن أبي شيبة)। খণ্ড নং ১৫ পৃষ্ঠা নং ৪৫, হাদীস নং ১৯০৭০ :

حدثنا عفان قال: حدثنا عمران القطان، عن قتادة، عن أبي الخليل، عن عبد الله بن الحارث، عن أم سلمة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : يبايع لرجل بين الركن والمقام كعدة أهل بدر، فتأتيه عصائب العراق وأبدال الشام، فيغزوهم جيش من أهل الشام، حتى إذا كانوا بالبيداء يخسف بهم، ثم يغزوهم رجل من قريش أخواله كلب فيلتقون فيهزمهم الله، فكان يقال: الخائب من خاب (من) غنيمة كلب. (المصنف ابن أبي شيبة: المجلد الخامس عشر، رقم الصفحة ٤٥ رقم الحديث ١٩٠٧٠)

অনুবাদঃ আফফান থেকে তিনি ইমরান ইবনে কাতান থেকে তিনি ক্বাতাদাহ থেকে তিনি আবু খলীল থেকে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল হারেস থেকে তিনি উম্মে সালমাহ থেকে…. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গযওয়ায়ে বদরের সমপরিমাণ লোকজন একব্যক্তির নিকট ‘হাজরে-আসওয়াদ’ এবং ‘মাকামে-ইব্‌রাহীমের’ মধ্যভাগে বাইয়েত গ্রহণ করবে। অত:পর শাম ও ইরাকের ওলী-আবদালগণ তার নিকট উপস্থিত হতে থাকবে। (সে সময়) শামদেশ থেকে তার বিরুদ্ধে একদল সৈন্য যুদ্ধের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হবে, মক্কা ও মদীনার মাঝে অবস্থিত ‘বাইদাহ’ নামক স্থানে মাটিতে তারা ধ্বংস প্রাপ্ত হবে। {উপরের একই বর্ণনা ইমাম হাকিম (রহ.)ও সহীহ সনদে তার ‘মুস্তাদরাক লিল হাকিম’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন}। এরপর কুরাইশ বংশীয় এমন একব্যক্তি (ইমাম মাহদীর সাহায্যে) তাদের (অর্থাৎ ‘কালব’ গোত্রের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন যার মামাগণ ‘কালব’ গোত্রীয়। এরা মুখোমুখি লড়াইতে লিপ্ত হবে। আল্লাহতালা এদেরকে (কালব গোত্রীয় শত্রুদের) পরাজিত করবেন। (তারপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) {আজকের এ দিন} প্রকৃত বঞ্চিত তারাই যারা কালব গোত্র থেকে প্রাপ্ত গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) থেকে বঞ্চিত। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, খণ্ড নং ১৫, পৃষ্ঠা নং ৪৫, হাদীস নং ১৯০৭০, হাদীসের মান : সহীহ)। সিয়াহ সিত্তার অন্যতম ‘সুনানু আবী দাউদ’ কিতাবের ‘কিতাবুল মাহদী’ অধ্যায় কিছুটা দুর্বল সূত্রে শেষাংশে একথাগুলোও এসেছে যে, এরপর ইমাম মাহ্‌দী (আ.) গনীমতের মাল লোকদের মাঝে বণ্টন করে দিয়ে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত পুনরুজ্জীবিত করবেন। সে সময় সারা পৃথিবীতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি সাত বছর জীবিত থাকার পর ইন্তিকাল করবেন এবং মুসলিমরা তাঁর জানাযার সালাত আদায় করবে।

৮. গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)। অধ্যায়ঃ ৩১/ মাহদী (আ.) সম্পর্কে (كتاب المهدى) হাদীস নং ৪২৪০ :

باب المهدى حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ ابْنِ الْقِبْطِيَّةِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِقِصَّةِ جَيْشِ الْخَسْفِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ بِمَنْ كَانَ كَارِهًا قَالَ ‏ “‏ يُخْسَفُ بِهِمْ وَلَكِنْ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى نِيَّتِهِ ‏”‏ ‏.‏ الْمُغِيرَةِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ – رضى الله عنه – وَنَظَرَ إِلَى ابْنِهِ الْحَسَنِ فَقَالَ إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ كَمَا سَمَّاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَسَيَخْرُجُ مِنْ صُلْبِهِ رَجُلٌ يُسَمَّى بِاسْمِ نَبِيِّكُمْ يُشْبِهُهُ فِي الْخُلُقِ وَلاَ يُشْبِهُهُ فِي الْخَلْقِ ثُمَّ ذَكَرَ قِصَّةَ يَمْلأُ الأَرْضَ عَدْلاً ‏.‏ وَقَالَ هَارُونُ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ طَرِيفٍ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا – رضى الله عنه – يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ يَخْرُجُ رَجُلٌ مِنْ وَرَاءِ النَّهْرِ يُقَالُ لَهُ الْحَارِثُ بْنُ حَرَّاثٍ عَلَى مُقَدِّمَتِهِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ مَنْصُورٌ يُوَطِّئُ أَوْ يُمَكِّنُ لآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا مَكَّنَتْ قُرَيْشٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَبَ عَلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ نَصْرُهُ ‏”‏ ‏.‏ أَوْ قَالَ ‏”‏ إِجَابَتُهُ ‏”‏ ‏.‏

অনুবাদঃ উসমান ইবনে আবূ শায়বা (রহ.) …. উম্মে সালামা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ‘যমীন-ধসে যাওয়া’ সম্পর্কিত হাদীছ বর্ণনা প্রসংগে বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! তার কী অবস্থা হবে, যে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যুদ্ধে যোগদান করবে? তিনি বলেন, সেও তাদের সাথে জমিনে ধসে মারা যাবে, কিন্তু কিয়ামতের দিন তাকে তার নিয়তের উপর উঠানো হবে। (হাদীসের এই অংশটির সনদ সহীহ)। ইমাম আবূ দাউদ (রহ.) হারূন ইব্‌ন মুগীরা থেকে, তিনি আবূ ইসহাক (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা আলী (রা.) তাঁর পুত্র হাসানের প্রতি দৃষ্টিপাত করে বলেনঃ আমার এ ছেলে জান্নাতের যুবদের সর্দার, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনি আরো বলেন অতি সত্তর তার বংশে এমন এক ব্যক্তি জন্ম গ্রহণ করবে, যার নাম হবে তোমাদের নবীর অনুরূপ। স্বভাব-চরিত্রে তিনি তাঁরই মত হবেন, তবে আকৃতিতে নয়। এরপর আলী (রা.) বলেন, তিনি পৃথিবীকে আদল-ইনসাফে পরিপূর্ণ করবেন। (এই অংশের উল্লিখিত সনদ জঈফ বা দুর্বল)। হারূন (রহ.) …. আমর ইব্‌ন কায়স (রহ.) থেকে, তিনি হিলাল ইব্‌ন আমর (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাঃ)-কে এরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘অরাউন্‌-নাহার’ (মধ্য এশিয়া) থেকে এমন এক ব্যক্তি বের হবে, যার নাম হবে ‘হারিছ ইব্‌ন হারবাছ’ এবং তার আগে অপর এক ব্যক্তি বের হবে, যাকে লোকেরা ‘মানসূর’ বলবে। তিনি মুহাম্মাদ (অর্থাৎ ইমাম মাহদী)-এর অনুসারী (সেনা)-দের তেমনিভাবে সাহায্য করবেন, যেমনিভাবে কুরাইশগণ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাহায্য করেছিল। প্রত্যেক মু’মিনের উচিত হবে তাঁকে সাহায্য করা এবং তাঁর আহবানে সাড়া দেয়া। (এই অংশের উল্লিখিত সনদ জঈফ বা দুর্বল)।

৯. গ্রন্থঃ আখবারুল মাহদী, সংকলক ইমাম বুখারীর উস্তাদ হাফেযুল হাদীস আবু আব্দুল্লাহ নু’আইম বিন হাম্মাদ (রহ.) :

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: « ((مِنَّا الذي يُصلِّي عيسى ابنُ مريمَ خلفَه))» . رواه أبو نعيم في ((كتاب المهدي)) كما في ((كنز العمال)) وقال الألباني : صحيح كما فى السلسلة الصحيحة: الصفحة أو الرقم : 2293

অনুবাদঃ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আমাদের (আহলে বাইয়েত) হতে (আগমনকারী) তার (ইমাম মাহদী) পেছনে ঈসা ইবনে মরিয়ম সালাত পড়বেন।’ রেফারেন্স : কিতাবুল মাহদী হাদীস নং ৪১, আবু নু’আইম। শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী (রহ.) বলেন, এর সনদ সহীহ। (আস-সিলসিলাতুস সহীহা, হাদীস নং ২২৯৩; আল-বুরহান ফী আলামাতি মাহদী আখিরুয যামান (البرهان في علامات مهدي آخر الزمان) পৃষ্ঠা নং ১৫৮, আল-আ’রফুল ওয়ারদি ফী আখবারিল মাহদী লিস-সুয়ূতি (العرف الوردي في أخبار المهدي للسيوطي) পৃষ্ঠা নং ১৩৪)।

১০. গ্রন্থঃ আল মানারুল মুনীফ (المنار المنيف), পৃষ্ঠা নং ৯৪। শায়খ ইবনুল কাইয়ুম (রহ.)।

قال الحارث بن أبى اسامة فى مسنده حدثنا إسماعيل بن عبدالكريم حدثنا ابراهيم بن عقيل عن ابيه عن وهب بن منبة عن جابر قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ينزل عيسى بن مريم فيقول أميرهم المهدي تعال صل بنا ، فيقول : لا إن بعضهم أمير بعض تكرمة الله لهذه الأمة ” و هذا الاسناد جيد

والحديث في صحيح مسلم بلفظ : ” .. فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ تَعَالَ صَلِّ لَنَا فَيَقُولُ لا إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ تَكْرِمَةَ اللَّهِ هَذِهِ الأُمَّةَ”. رواه مسلم

অনুবাদঃ হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ঈসা (আ.) অবতরণ করবেন। অতপর মুসলমানদের আমীর ইমাম মাহদী বলবেন, আসুন সালাতে আমাদের ইমামতি করুন! তারপর তিনি বলবেন, না; নিশ্চয় তাদেরই একে অন্যের ইমাম। এটি আল্লাহতালা প্রদত্ত এই উম্মতের সম্মান। (আরো দেখুন, ইমাম বুখারীর উস্তাদ হাফেযুল হাদীস আবু আব্দুল্লাহ নু’আইম বিন হাম্মাদ সংকলিত আখবারুল মাহদী; বিশিষ্ট যুগ ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেছেন, এই হাদীসের সনদ জায়্যিদ বা খুবই ভাল; আল-মানারুল মুনীফ পৃষ্ঠা নং ৯৪, মুহাক্কিক আল্লামা আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল মু’আল্লিমী; শায়খ আলবানী (রহ.) বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ এবং তিনি স্বীয় কিতাব ‘আস-সিলসিলাতুস সহীহা’- তেও এনেছেন। হাদীস নং ২২৩৬)।

সহীহ মুসলিম শরীফে হাদীসটি নিম্নোক্ত শব্দচয়নে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের একটি দল হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে বাতিলের বিরুদ্ধে লড়তে থাকবে এবং অবশেষে ঈসা (আ.) অবতরণ করবেন। (সেই সময়কার) মুসলমানদের ‘আমীর’ (নেতা) বলবেন, আসুন সালাতে আমাদের ইমামতি করুন! তারপর তিনি (ঈসা) বলবেন, না; নিশ্চয় আপনারাই একে অন্যের ইমাম। এই হলো আল্লাহ তা’আলা প্রদত্ত এ উম্মতের সম্মান। (রেফারেন্স, সহীহ মুসলিম, খণ্ড নং ১, কিতাবুল ঈমান, হাদীস নং ১৫৬)। এই হাদীসে ঈসা (আ.) অবতরণ করার পরে সেই সময়কার মুসলমানদের আমীরের সাথে তৎক্ষণাৎ সালাতের ইমামতির বিষয়ে দুই পক্ষের কথাবার্তার উল্লেখ রয়েছে। তাদের একজন ঈসা (আ.) আর অন্যজন মুসলমানদের ‘আমীর তথা নেতা’। মূলত, সেই ‘নেতা’—ই ইমাম মাহদী, যা প্রথমোক্ত হাদীসের أميرهم المهدي দ্বারা সুস্পষ্ট প্রমাণিত।

১১. গ্রন্থঃ কিতাবুল ফিতান মানাকিবুল মাহদী, সংকলক ইমাম বুখারীর উস্তাদ হাফেযুল হাদীস আবু আব্দুল্লাহ নু’আইম বিন হাম্মাদ (রহ.) :

عن عبدالله ابن عباس رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : يكون في زمن المهدي ويصلى عيسى خلفه. كما في ((كنز العمال)) وقال السيوطى : هذا من أعجب العجب، فإنّ صلاة عيسى خلف المهدي ثابتة في عدّة أحاديث صحيحة بإخبار رسول اللّه، وهو الصادق المصدّق الذي لا يخلف خبره. كما في ((الحاوى للفتاوى))

অনুবাদঃ হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইমাম মাহদী’র যুগেই ঈসার আগমন হবে এবং তিনি ইমাম মাহদী’র পেছনে সালাত পড়বেন।’ (রেফারেন্স : কাঞ্জুল উম্মাল খণ্ড নং ৫ পৃষ্ঠা নং ৩৮৩; হাদীস নং ৭৩৮৪; কিতাবুল ফিতান মানাকিবুল মাহদী, সংকলক ইমাম বুখারীর উস্তাদ হাফেযুল হাদীস আবু আব্দুল্লাহ নু’আইম বিন হাম্মাদ; মুসনাদে আহমদ, মুস্তাদরিক লিল হাকিম। হাদীসের মান : সহীহ)। বিশিষ্ট যুগ ইমাম আল্লামা সুয়ূতি (রহ.) লিখেছেন, “এটি অতিব বিস্ময়কর ব্যাপার বটে যে, নিশ্চয়ই ইমাম মাহদীর পেছনে হযরত ঈসা (আ.) সালাত আদায় করবেন। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিপুল পরিমাণ সংবাদ দ্বারা ও সহীহ হাদীস সমূহ দ্বারা প্রমাণিত। আর তিনি এমন একজন পরম সত্যবাদী যার প্রদত্ত সংবাদে ব্যত্যয় হবেনা।” (ইমাম সুয়ূতি রচিত আল হাভী লিল ফাতাওয়া, খণ্ড নং ২ পৃষ্ঠা নং ১৬৭)।

১২. গ্রন্থঃ আ’রফুল ওয়ারদি ফী আখবারিল মাহদী (العرف الوردي في أخبار المهدي) পৃষ্ঠা নং ১৩৫, সংকলক ইমাম জালাল উদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহ.) :

وأخرج ابن أبي شيبة في المصنّف عن ابن سيرين قال: المهدي من هذه الأمّة، وهو الذي يؤمّ عيسى بن مريم

অনুবাদঃ ইমাম বুখারীর শায়খ (উস্তাদ) ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ (রহ.) স্বীয় ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে সিরীন (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইমাম মাহদী এই উম্মতের মধ্য হতে আগমন করবেন এবং তিনি ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.)-এর (সালাতের) ইমামতি করবেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ ১৫/১৯৮; হাদীস নং ১৯৪৯৫, হাদীসের মান, হাসান)। এই হাদীসটিও সুস্পষ্ট প্রমাণ করে যে, ইমাম মাহদী এবং ঈসা (আ.) দুইজনই ভিন্ন ভিন্ন দুই ব্যক্তি। হযরত ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাহদীর পেছনে ঈসা (আ.) সালাত আদায় করবেন মর্মে দীর্ঘ একখানা হাদীসের একটি অংশ এইরূপ, وأنه يؤم هذه الأمة وعيسى يصلي خلفه অর্থাৎ ‘এবং তিনি (ঈসা) নিশ্চয়ই এই উম্মতের নেতৃত্ব দিবেন আর ঈসা তাঁর পেছনে সালাত পড়বেন।’ বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী (রহ.) লিখেছেন, এর সনদ বা ধারাবাহিক বর্ণনাসূত্র সহীহ তথা বিশুদ্ধ। (আস-সিলসিলাতুস সহীহাতুল মুখতাছিরাহ [السلسة الصحيحة المختصرة] খণ্ড নং ৫ পৃষ্ঠা নং ৪৮৬)।

১৩. গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমদ (المسند لامام احمد ابن الحنبل), ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) :

وعن عبد الله بن عباس، رضي الله عنهما، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لن تهلك. أمة أنا في أولها، وعيس ابن مريم في آخرها، والمهدي في وسطها . أخرجه الإمام أحمد بن حنبل، في مسنده ورواه الحافظ أبو نعيم، في عواليه

অনুবাদঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘উম্মতে মুহাম্মদীয়া কখনোই ধ্বংস হবেনা। যেহেতু আমি তাদের শুরুতে রয়েছি এবং ঈসা ইবনে মরিয়ম তাদের শেষাংশে থাকবেন আর তাদের মধ্যখানে থাকবেন ইমাম মাহদী।’ (ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল স্বীয় মসনাদগ্রন্থে এই হাদীস উল্লেখ করেছেন। হাফেযুল হাদীস আবু নু’আইম আল ইস্পাহানী স্বীয় আ’ওয়ালী (عوالي الحارث بن أبي اسامة) কিতাবেও উল্লেখ করেছেন, হাদীসের মান, হাসান)। ইমাম ইবনে হাজার আল হাইতামি আল-মাক্কী (রহ.) হাদীসটির والمهدي في وسطها বাক্যাংশের ব্যাখ্যায় القول المختصر فى علامات المهدى المنتظر নামক গ্রন্থে লিখেছেন, اريد بالوسط قريب آخرها حتى لا ينافى بقية الروايات المصرحة الخ অর্থাৎ ‘হাদীসে উল্লিখিত الوسط বা মধ্যখানে ইমাম মাহদী আগমন করবেন, একথার উদ্দেশ্য হল, উম্মাহার শেষ মুহূর্তের কাছাকাছি কোনো সময়ে আগমন করা, ফলে এটি সুস্পষ্ট অন্যান্য বর্ণনাগুলোর বিরোধিতা করেনা।’ (আল বুরহান ফী আলামাতিল মাহদী আখিরিয জামান -৫৭)। নিচে ইমাম মুনাভী (রহ.) এর ব্যাখ্যাটিও দিয়ে দেয়া হল।

১৪. গ্রন্থঃ মুস্তাদরাক আ’লা আসসহীহাইন, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান ওয়াল মালাহিম, পরিচ্ছেদঃ ‘আকাশ’ থেকে ঈসা (আ.) নাযিল হওয়া : হাদীসঃ ৮৫২০

أخبرني الحسن بن حكيم المروزي ، ثنا أحمد بن إبراهيم الشذوري ، ثنا سعيد بن هبيرة ، ثنا حماد بن زيد ، عن أيوب السختياني ، وعلي بن زيد بن جدعان ، عن أبي نضرة ، قال : فينزل عيسى ابن مريم – عليه الصلاة والسلام – عند صلاة الفجر ، فيقول له إمام الناس : تقدم يا روح الله فصل بنا ، فيقول : إنكم معشر هذه الأمة أمراء بعضكم على بعض ، تقدم أنت فصل بنا ، فيتقدم فيصلي بهم فإذا انصرف أخذ عيسى – صلوات الله عليه – حربته [فينطلق] نحو الدجال فإذا رآه ذاب كما يذوب الرصاص ، فتقع حربته بين ثندوته فيقتله ، ثم ينهزم أصحابه فليس شيء يومئذ يجن منهم أحدا ، حتى إن الحجر يقول : يا مؤمن هذا كافر فاقتله. “هذا حديث صحيح الإسناد على شرط مسلم بذكر أيوب السختياني ، ولم يخرجاه”.

অনুবাদঃ আবী নাদ্বরাহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন,…. অত:পর ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) ফজরের সময় নাযিল হবেন। তখন ইমামুন্নাস তথা লোকদের ইমাম (ইমাম মাহদী) তাঁকে অনুরোধ করবেন যে, হে রূহুল্লাহ আপনি সামনে বাড়ুন আর আমাদের সালাত পড়িয়ে দিন। প্রতিউত্তরে তিনি বলবেন, নিশ্চয়ই তোমরা এই উম্মাহ একের অন্যের নেতৃত্বের মর্যাদায় আশীষ প্রাপ্ত। সুতরাং তুমিই সামনে যাও এবং আমাদের সালাত পড়িয়ে দাও। এরপর তিনি (ইমাম মাহদী) সামনে এগিয়ে যাবেন এবং সালাত পড়াবেন। তারপর তিনি যখন সালাম ফিরাবেন তখন (দেখতে পাবেন) ঈসা সালাতুল্লাহি আ’লাই আপনা বর্শা হাতে তুলে নিচ্ছেন এবং দাজ্জালকে বধ করতে মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি যখনই তাকে দেখবেন তখনি সে (তথা প্রাণের ভয়ে মানসিকভাবে) লবণের ন্যায় গলে যেতে থাকবে। অত:পর তিনি তাঁর বর্শা নিজ বাহুতে বহন করবেন এবং তাকে (দাজ্জালকে) হত্যা করবেন। তারপর তিনি (তথা ঈসার নেতৃত্বে) তাঁর বাহিনীকে পরাজিত করবেন এবং সেদিন তাদের মধ্য থেকে কেউই বাঁচতে পারবে না। এমনকি তখন পাথর (পর্যন্ত) বলবে, হে মুমিন! এ হচ্ছে একজন কাফের! তুমি তাকে হত্যা কর। -সহীহ। (এ হাদীসের সনদ ‘সহীহ মুসলিম শরীফের’ শর্তেই সহীহ)।

অনুবাদ সহ সম্পূর্ণ আরবী ইবারত “বাংলা হাদীস” Apps থেকে সংগৃহীত। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সহীহ হাদীস এখান থেকে পড়ুন।

কাদিয়ানীদের সহজে চেনার উপায়

শিক্ষাবিদ ও গবেষক

সাদাকাতুল ফিতর টাকা দিয়ে দেয়ার শরয়ী হুকুম ও ভ্রান্তি নিরসন

0

সহীহ হাদীস ও মুহাদ্দিসগণের মতে টাকা (মূদ্রা) দ্বারা ‘‘সাদাকাতুল ফিতর’’ আদায়ের শরয়ী হুকুম ও ভ্রান্তি নিরসন :

মাহে রমজানে অনেক ব্যস্ততা। তাই এই বিষয়ে খুব সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ। বর্তমানে নতুন করে বাজারে একটি কথা খুব শুনা যাচ্ছে যে, টাকা দিয়ে ফেতরা দেয়া নাকি জায়েজ নেই। তাদের যুক্তি হল, ‘সহীহ বুখারীর মাঝে আছে ফিতরা দিতে হবে গম, খেজুর, কিসমিস, পনীর ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্য দিয়ে।’ তারা এখান থেকে বলতে চাচ্ছে যে, টাকা দিয়ে আদায় করলে আদায় হবে না! আসুন জেনে নিই তাদের এই সমস্ত কথাবার্তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য!

প্রথমত, গম, কিসমিস, পনীর ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় সম্পর্কে :-

ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻓَﺮَﺽَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟﻔِﻄْﺮِ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺗَﻤْﺮٍ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺷَﻌِﻴﺮٍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻌَﺒْﺪِ ﻭَﺍﻟﺤُﺮِّ، ﻭَﺍﻟﺬَّﻛَﺮِ ﻭَﺍﻷُﻧْﺜَﻰ، ﻭَﺍﻟﺼَّﻐِﻴﺮِ ﻭَﺍﻟﻜَﺒِﻴﺮِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ، ﻭَﺃَﻣَﺮَ ﺑِﻬَﺎ ﺃَﻥْ ﺗُﺆَﺩَّﻯ ﻗَﺒْﻞَ ﺧُﺮُﻭﺝِ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ‏»

অর্থ : হযরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যেক গোলাম, আযাদ, পুরুষ, নারী, প্রাপ্ত বয়স্ক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের উপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟﻔِﻄْﺮِ সাদকাতুল ফিতর হিসাবে খেজুর হোক অথবা যব হোক এক সা’ পরিমাণ আদায় করা আবশ্যক করেছেন এবং লোকজনের ঈদের সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী-২/১৩০, হাদীস-১৫০৫)।

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﻳُﻮﺳُﻒَ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﻣَﺎﻟِﻚٌ، ﻋَﻦْ ﺯَﻳْﺪِ ﺑْﻦِ ﺃَﺳْﻠَﻢَ، ﻋَﻦْ ﻋِﻴَﺎﺽِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﺳَﻌْﺪِ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﺮْﺡٍ ﺍﻟﻌَﺎﻣِﺮِﻱِّ، ﺃَﻧَّﻪُ ﺳَﻤِﻊَ ﺃَﺑَﺎ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺍﻟﺨُﺪْﺭِﻱَّ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ، ﻳَﻘُﻮﻝُ : ‏« ﻛُﻨَّﺎ ﻧُﺨْﺮِﺝُ ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟﻔِﻄْﺮِ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﻃَﻌَﺎﻡٍ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺷَﻌِﻴﺮٍ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺗَﻤْﺮٍ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﻗِﻂٍ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺯَﺑِﻴﺐٍ»

অর্থ : হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সা’ পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা’ পরিমাণ যব অথবা এক সা’ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ পনির অথবা এক সা’ পরিমাণ কিসমিস দিয়ে ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟﻔِﻄْﺮِ সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতাম। (সহীহ বুখারী-২/১৩১, হাদীস-১৫০৬)।

উল্লেখ্য যে, উক্ত দুটি হাদীস দ্বারা একথা স্পষ্ট যে, কোনো ব্যক্তি চাইলে মাল দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবে। কিন্তু টাকা দ্বারা আদায় করা ভুল এধরণের কোনো আলোচনা এখানে নেই, বরং ইমাম বুখারী (রহ.), ইবনে আবী শায়বা (রহ.) এবং ইমাম বায়হাকী (রহ.) উনারা সকলে অপরাপর সহীহ হাদীস এবং সাহাবীদের আছার সমূহের আলোকে বলেছেন যে, টাকা দিয়ে ফিতরা দিলেও আদায় হয়ে যাবে। নিচে দেখুন বিস্তারিত।

  • দিনার দিরহাম সম্পর্কে পাঠকের জ্ঞাতার্থে সংক্ষেপে লিখছি, দিরহাম হল রৌপ্যমুদ্রা। সাধারণত ৩ গ্রাম রূপা দিয়ে ১ দিরহাম তৈরি করা হয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সাম্রাজ্যে রূপার পরিমানে হেরফের হয়েছিল। তাই আমরা এর একাধিক মান পেয়ে থাকি। যেমন উসমানি খিলাফত আমলে ১ দিরহাম ৩.২০৭ গ্রাম রূপা দিয়ে তৈরি করা হত। দিরহামের মান নির্ধারণে ফকিহ ইমামদের মতভেদ রয়েছে। যেমন হানাফি ফকিহগণের গবেষণায় ১ দিরহামের মান ৩.১২৫ গ্রাম রূপা। আর অন্য ইমামগণের মতে ২.৯৬ গ্রাম রূপা। এছাড়াও অনেকের মতে ২.৯৭৫ গ্রাম রূপা হল সঠিক মান। যাইহোক আমরা ধরব, ১ দিরহাম = ৩ গ্রাম রূপা। আর ১ গ্রাম রূপার বর্তমান বাজার মূল্য হল ৪৬.২৬ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে রূপার মূল্য ১ গ্রাম= ৪৬.২৬ টাকা, কিন্তু দেশীয় বাজারে ১ গ্রাম= ৯০ টাকা, আমরা এখানে আন্তর্জাতিক মূল্যে হিসেব করে পেলাম, ১ দিরহাম = ১৩৯ টাকা।
  • পাঠকবৃন্দ! দিনার দিরহাম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানুন

দ্বিতীয়ত, ফিতরা টাকা (মুদ্রা) দ্বারা আদায় করা সম্পর্কে :-

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺃُﺳَﺎﻣَﺔَ، ﻋَﻦْ ﺯُﻫَﻴْﺮٍ، ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺃَﺑَﺎ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕَ، ﻳَﻘُﻮﻝُ : ﺃَﺩْﺭَﻛْﺘُﻬُﻢْ ﻭَﻫُﻢْ ﻳُﻌْﻄُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺻَﺪَﻗَﺔِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺍﻟﺪَّﺭَﺍﻫِﻢَ ﺑِﻘِﻴﻤَﺔِ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡِ অর্থাৎ হযরত যুহাইর (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ইসহাক (রহ.) থেকে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আমি সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কে এই অবস্থায় পেয়েছি যে, তারা রমজানে সাদাকায়ে ফিতর খাবারের বিনিময়ে টাকা দ্বারা আদায় করতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা-২/৩৯৮, হাদীস-১০৩৭১, এর সনদের মান সহীহ তথা বিশুদ্ধ)। তেমনিভাবে ‘ইবনে আবী শায়বা’-এর হাদীসগ্রন্থে টাকা দ্বারা সাদাকায়ে ফিতর আদায় করার ব্যাপারে হযরত হাসান বসরী (রহ.)-এর আছার এইভাবে বর্ণিত রয়েছে যে –

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻭَﻛِﻴﻊٌ، ﻋَﻦْ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ، ﻋَﻦْ ﻫِﺸَﺎﻡٍ، ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ، ﻗَﺎﻝَ : ﻟَﺎ ﺑَﺄْﺱَ ﺃَﻥْ ﺗُﻌْﻄِﻲَ ﺍﻟﺪَّﺭَﺍﻫِﻢَ ﻓِﻲ ﺻَﺪَﻗَﺔِ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ অর্থ : ইবনে আবী শায়বা (রহ.) বলেন, ওয়াকী আমাকে সূফিয়ান, হিশাম এবং হাসান বছরী সূত্রে জানিয়েছেন যে, হযরত হাসান বছরী (রহ.) বলেছেন, টাকা দ্বারা সাদাকায়ে ফিতর আদায় করার দ্বারা কোনো সমস্যা নেই। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা-২/৩৯৮, হাদীস-১০৩৭০, সনদের মান সহীহ)। অনুরূপভাবে হযরত উমর বিন আব্দুল আজীজ (রহ.) এর একখানা পত্রও উল্লেখ রয়েছে। যেমন,

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻭَﻛِﻴﻊٌ، ﻋَﻦْ ﻗُﺮَّﺓَ، ﻗَﺎﻝَ : ﺟَﺎﺀَﻧَﺎ ﻛِﺘَﺎﺏُ ﻋُﻤَﺮَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰِ ﻓِﻲ ﺻَﺪَﻗَﺔِ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ ‏ : ﻧِﺼْﻒُ ﺻَﺎﻉٍ ﻋَﻦْ ﻛُﻞِّ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٍ ﺃَﻭْ ﻗِﻴﻤَﺘُﻪُ ﻧِﺼْﻒُ ﺩِﺭْﻫَﻢٍ অর্থাৎ ইবনে আবী শায়বা বলেন, ওয়াকী (রহ.) কুররাহ সূত্রে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, সাদাকাতুল ফিতর সম্পর্কে হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজীজ (রহ.) এর একখানা পত্র আমাদের নিকট এসে পৌঁছে। সেখানে সাদাকাতুল ফিতর মাথাপিছু এক ছা’ অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য অর্ধ-দিরহাম আদায় করার নির্দেশ ছিল। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা-২/৩৯৮, হাদীস-১০৩৬৯, সনদের মান সহীহ)। পূর্বের হিসেব অনুযায়ী অর্ধ-দিরহামের বর্তমান বাজার মূল্য হল, প্রায় ৭০ টাকা। উল্লেখ্য, এই বছর (২০২২ ইং) মাথাপিছু সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৭০ বা ৭৫ টাকা।

এছাড়াও বিখ্যাত ইমাম, ইবনে আবী শায়বা কৃত সংকলিত মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা এর ২/৩৯৮ এর মাঝে অনুচ্ছেদ স্থাপন করা হয় এভাবে যে- ﻓِﻲ ﺇِﻋْﻄَﺎﺀِ ﺍﻟﺪَّﺭَﺍﻫِﻢِ ﻓِﻲ ﺯَﻛَﺎﺓِ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ অর্থাৎ সাদাকায়ে ফিতর টাকা দ্বারা আদায় করা (বৈধ হওয়া) সম্পর্কে। আর ইমাম বায়হাকী (রহ.) তার রচিত কিতাব ‘আস-সুনানুল কুবরা’র ৪/১৮৯ এর মধ্যে এভাবে অনুচ্ছেদ স্থাপন করে গেছেন যে- ﺑَﺎﺏُ ﻣَﻦْ ﺃَﺟَﺎﺯَ ﺃَﺧْﺬَ ﺍﻟْﻘِﻴَﻢِ ﻓِﻲ ﺍﻟﺰَّﻛَﻮَﺍﺕِ অর্থাৎ এই অনুচ্ছেদ হল, টাকা দ্বারা যাকাত আদায় করা অনুমোদিত। তাছাড়া রাসূল (সা.) এর যুগেও ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟﻔِﻄْﺮِ ও ﺯﻛﻮﺓ ইত্যাদি টাকা দ্বারা আদায় করা হতো। তার কিছু প্রমাণ নিম্মে পেশ করা হল –
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻃَﺎﻭُﺱٌ : ﻗَﺎﻝَ ﻣُﻌَﺎﺫٌ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻟِﺄَﻫْﻞِ ﺍﻟﻴَﻤَﻦِ : ‏« ﺍﺋْﺘُﻮﻧِﻲ ﺑِﻌَﺮْﺽٍ ﺛِﻴَﺎﺏٍ ﺧَﻤِﻴﺺٍ – ﺃَﻭْ ﻟَﺒِﻴﺲ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔِ ﻣَﻜَﺎﻥَ ﺍﻟﺸَّﻌِﻴﺮِ ﻭَﺍﻟﺬُّﺭَﺓِ ﺃَﻫْﻮَﻥُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻭَﺧَﻴْﺮٌ ﻟِﺄَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺑِﺎﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ‏» ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺧَﺎﻟِﺪٌ ﻓَﻘَﺪِ ﺍﺣْﺘَﺒَﺲَ ﺃَﺩْﺭَﺍﻋَﻪُ ﻭَﺃَﻋْﺘُﺪَﻩُ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ” ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﺗَﺼَﺪَّﻗْﻦَ ﻭَﻟَﻮْ ﻣِﻦْ ﺣُﻠِﻴِّﻜُﻦَّ ‏» ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺴْﺘَﺜْﻦِ ﺻَﺪَﻗَﺔَ ﺍﻟﻔَﺮْﺽِ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِﻫَﺎ، ﻓَﺠَﻌَﻠَﺖِ ﺍﻟﻤَﺮْﺃَﺓُ ﺗُﻠْﻘِﻲ ﺧُﺮْﺻَﻬَﺎ ﻭَﺳِﺨَﺎﺑَﻬَﺎ، ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺨُﺺَّ ﺍﻟﺬَّﻫَﺐَ ﻭَﺍﻟﻔِﻀَّﺔَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻌُﺮُﻭﺽِ “

অর্থাৎ তাউস (রহ.) বলেন, মু‘আয (ইবনে জাবাল) (রা.) ইয়ামনবাসীদেরকে বললেন, তোমরা যব ও ভুট্টার পরিবর্তে চাদর বা পরিধেয় বস্ত্র আমার কাছে যাকাত স্বরূপ নিয়ে এসো। ওটা তোমাদের পক্ষেও সহজ এবং মদীনায় নবী (সা.) এর সাহাবীগণের জন্যও উত্তম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা.) এর ব্যাপার হল এই যে, সে তাঁর বর্ম ও যুদ্ধাস্ত্র আল্লাহর পথে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। (মহিলাদের লক্ষ্য করে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা তোমাদের অলংকার থেকে হলেও সাদকা কর । [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পণাদ্রব্যের যাকাত সেই পণ্য দ্বারাই আদায় করতে হবে, এমন নির্দিষ্ট করে দেননি। তখন মহিলাগণ কানের দুল ও গলার হার খুলে দিতে আরম্ভ করলেন। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] সোনা ও রূপার বিষয়টি পণ্যদ্রব্য থেকে পৃথক করেননি (বরং উভয় প্রকারেই যাকাত স্বরূপ গ্রহণ করা হত)। (দেখুন, সহীহ বুখারী ২/১১৬)। উল্লেখ্য যে, সাদাকাতুল ফিতর টাকা দ্বারা আদায় করা যাবে এটি ইমাম বুখারী (রহ.) এরও উক্তি- ﻗَﻮْﻟُﻪُ ﺑَﺎﺏُ ﺍﻟْﻌَﺮْﺽِ ﻓِﻲ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓِ: ﺃَﻱْ ﺟَﻮَﺍﺯُ ﺃَﺧْﺬِ ﺍﻟْﻌَﺮْﺽِ ﻭَﻫُﻮَ ﺑِﻔَﺘْﺢِ ﺍﻟْﻤُﻬْﻤَﻠَﺔِ ﻭَﺳُﻜُﻮﻥِ ﺍﻟﺮَّﺍﺀِ ﺑَﻌْﺪَﻫَﺎ ﻣُﻌْﺠَﻤَﺔٌ ﻭَﺍﻟْﻤُﺮَﺍﺩُ ﺑِﻪِ ﻣَﺎ ﻋَﺪَﺍ ﺍﻟﻨَّﻘْﺪَﻳْﻦِ ﻗَﺎﻝَ ﺑﻦ ﺭَﺷِﻴﺪٍ ﻭَﺍﻓَﻖَ ﺍﻟْﺒُﺨَﺎﺭِﻱُّ ﻓِﻲ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﻤَﺴْﺄَﻟَﺔِ ﺍﻟْﺤَﻨَﻔِﻴَّﺔَ ﻣَﻊَ ﻛَﺜْﺮَﺓِ ﻣُﺨَﺎﻟَﻔَﺘِﻪِ ﻟَﻬُﻢْ ﻟَﻜِﻦْ ﻗَﺎﺩَﻩُ ﺇِﻟَﻰ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟﺪَّﻟِﻴﻞُ …… ﺍﻟﺦ আল্লামা ইবনু রাশীদ (রহ.) বলেন, উক্ত মাসয়ালাটির মাঝে ইমাম বুখারী (রহ.) হানাফীদের সাথে সহমত পোষন করেছেন….। (ফাতহুল বারী লি ইবনে হাজার- ৩/৩১২)।

…..এ বিষয়ে আহমদ আল গুমারী (রহ.) আরবী ভাষায় ১৫০ পৃষ্ঠায় ﺗﺤﻘﻴﻖ ﺍﻻﻣﺎﻝ ﻓﻰ ﺍﺧﺮﺍﺝ ﺯﻛﻮﺓ ﺍﻟﻔﻄﺮ ﺑﺎﻟﻤﺎﻝ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুস্তিকা রচনা করেছেন। যা সকলকে পড়ে রাখা আবশ্যক। এ বিষয়ে আরো দেখুন- বাদায়েউস সানায়ে-২/৯৬৯, আল মাবসুত লিস-সারাখসী-৩/১১৩ ইত্যাদি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ফেৎনা সৃষ্টি না করে সঠিক দ্বীন বুঝে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

লিখক, মুফতী ছানাউল্লাহ (হাফিজাহুল্লাহ) ।

পুরুষের দুধ খেয়ে শিশু লালিতপালিত হওয়া

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কত বড় জঘন্য মিথ্যাবাদী হলে এই সমস্ত বালখিল্য টাইপের কথাবার্তা নিজ রচনা সমূহে দেদারসে লিখে যেতে পারে!

মির্যা কাদিয়ানীর রচনা থেকে, এক নবজাতক শিশুর মা মারা যাওয়ার পর শিশুটি তার পিতার দুধ খেয়ে লালিতপালিত হয়েছে, একটি পুরুষ ছাগল থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত দুধ পাওয়া গেছে, একদম শুষ্ক ও ঠনঠনে মাটি থেকে একটি ইঁদুর সৃষ্টি হয়েছে যার অর্ধেকটা মাটিই রয়ে গেছে। রেশমের পোকা সে তার পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই ডিম দিয়েছে এবং ডিম থেকে বাচ্চাও ফুটিয়েছে। (সংক্ষেপে)।

এগুলো মির্যা গোলাম আহমদ নিজ হাতে লিখে গেছেন। তিনি এগুলো লিখার সময় পাঠককে আশ্বস্ত করেছেন। লিখেছেন ‘নির্ভরযোগ্য সূত্রে ও বিশ্বস্ত মানুষের উদ্ধৃতিতে’ই নাকি এই কথাগুলো মানুষের মাঝে প্রচলিত রয়েছে।

এগুলো লিখার পেছনে মির্যার উদ্দেশ্য কী?

জ্বী হ্যাঁ, এর পেছনে মির্যা কাদিয়ানীর উদ্দেশ্য হচ্ছে, হযরত ঈসা (আ.)-এর পিতা ছাড়াই জন্মলাভ করার বিষয়টির আলৌকিকতা স্বীকার না করতে উদ্দেশ্যমূলক নানা গালগল্পে বাহানা করা। এসব গল্পের মাধ্যমে তিনি যেন বুঝাতে চাচ্ছেন যে, নবজাতক শিশুটি তার পিতার দুধ খেয়ে লালিতপালিত হওয়া ইত্যাদি এর ন্যায় প্রকৃতি বিরুধী অনেক ঘটনারই দুনিয়া সাক্ষী।

তাহলে পিতা ছাড়াই জন্মলাভ করার ঘটনার অত গুরুত্ব কিসের?

হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্মলাভের অলৌকিকতা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে না চাওয়ার আরও একটা সূক্ষ্ম কারণ রয়েছে। সেটাই এখানে আমার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব ঈসা (আ.)-এর জন্মলাভের অলৌকিকতাকে স্বীকার করলে, তখন তাকে তাঁর উর্ধ্বাকাশে ঐশীভ্রমণও মেনে নিতে হয়!

মোটকথা, সে খ্রিস্টান মিশনারীদের ডিফেন্ড করার আড়ালে নিজের উদ্দেশ্যটাও পাকাপোক্ত করে ফেলেন। সেটি হল, ঈসা (আ.) জীবিত সশরীরে উর্ধ্বাকাশে যাওয়া। কারণ মির্যা গোলাম আহমদ খুব ভালো ভাবেই জানত যে, যদি সে ঈসা (আ.)-এর উর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করার বিষয়টি মেনে নেয় তখন তার জন্য নিজেকে প্রতিশ্রুত মসীহ ঈসা দাবী করার আর কোনো সুযোগই থাকেনা। পাঠকবৃন্দ! এবার আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।

সম্পর্কিত স্ক্রিনশট

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

সুরা ফাতিহায় “নবুওয়ত” জারি থাকার দাবী

সূরা ফাতিহায় “নবুওয়ত” জারি থাকার দাবী ও তার প্রতিউত্তরে দাঁতভাঙা জবাব

কাদিয়ানী কাল্টরা পবিত্র কুরআনকে অপব্যাখ্যা দিয়ে নবুওয়ত জারি থাকার দাবী করে বরাবরই পাকড়াও হয়ে থাকে! আজকে তেমনি একটি ঘটনা তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ। জনৈক কাদিয়ানী কাল্ট (ব্রেইন ওয়াশ) বলল, সূরা ফাতিহায় “নবুওয়ত” জারি থাকার ইংগিত রয়েছে! আমি প্রতিউত্তরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম,

সত্যিই কি সূরা ফাতিহায় তৃতীয় শ্রেণীর (উম্মতী) নবুওয়ত জারি রয়েছে বুঝায়? যদি তাই হয় তাহলে কি মুহাম্মদ (সা.) এর শান ও মান খাটো করা হল না? কেননা, মির্যার দাবী হচ্ছে, সে মুহাম্মদ (সা.) এর বুরুজ ও দ্বিতীয় আগমনী সত্তা। এমতাবস্থায় মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আবার এসে প্রথম শ্রেণীর (শরীয়তবাহক) নবীর মর্যাদা থেকে তৃতীয় শ্রেণীর নবীর স্তরে কেন নেমে যাবেন? তবে কি মুহাম্মদ (সা.) ক্রমাগতভাবে উন্নতি না করে বরং অবনতিই করলেন? নাউযুবিল্লাহ। ব্যাচারা লা জবাব, ভোঁ দৌড়ের উপর…….।

উল্লেখ্য, কাদিয়ানীদের অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট হল, নবুওয়ত তিন প্রকার। শরীয়তবাহক, স্বতন্ত্র ও বুরুজি। প্রথম দুই প্রকারের ক্রমধারা চিরতরে বন্ধ কিন্তু তৃতীয় প্রকারের নবুওয়তের দ্বার উন্মুক্ত। তবে তৃতীয় প্রকারের নবী শুধুমাত্র একজনই। আর তিনি স্বয়ং নিজেই। কেয়ামত পর্যন্ত আর কেউ উক্ত বুরুজী নবীর মাকাম প্রাপ্ত হবেনা। আর বুরুজি নবীর মাকাম প্রাপ্ত হতে হলে তাকে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্ণ আনুগত্যকারী ও তাঁর পরিপূর্ণ গুণাবলী অর্জনকারী হতে হবে। মির্যা কাদিয়ানীর ভাষ্যমতে, তিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর বুরুজ ও অভিন্ন সত্তা; যেমন নাকি তিনি হুবহু মুহাম্মদ (সা.)ই। নাউযুবিল্লাহ।

আবার তাদের কোনো কোনো এভিডেন্স থেকে পাওয়া যায় যে, মির্যা গোলাম আহমদ প্রকৃতপক্ষেই তেমনি একজন ‘নবী’ যেমনটি ছিলেন ইতিপূর্বেকার নবী রাসূলগণ। এ কথা পরিষ্কার লিখা আছে, দৈনিক আল ফজল পত্রিকায় (পৃষ্ঠা নং ১০, তারিখ ৩০.১২.১৯১৬ ইং)।

উপসংহার, খুব মনে রাখতে হবে, যে সমস্ত ব্যাখ্যা ইসলামের প্রথম তিন স্বর্ণযুগীয় (খায়রুল কুরূনের) শিক্ষায় অনুপস্থিত সেটি যতই সুন্দর হোক, বিদয়াত ও প্রত্যাখ্যাত। কাদিয়ানীবাদের সিংহভাগ কনসেপশন ইসলামের প্রাচীন ও তিন সোনালী যুগের শিক্ষার পরিপন্থী। ফলে সেগুলো পুরোপুরি বাতিল ও পরিত্যাজ্য।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

আরো দশ হাজার মসীহ আসবে, আসা সম্ভব

মির্যা কাদিয়ানীর এই বক্তব্যটাও ইতিপূর্বে কোনো কাদিয়ানীর জানা ছিল কি?

মির্যা কাদিয়ানী জনৈক প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তরে লিখে গেছেন,

“এই অধমের (মির্যা) পক্ষ হতেও এমনটি দাবী করা হয় না যে, মাসীহিয়ত [কথিত রূপক মসীহ্’র আগমনীধারা] আমার সত্তাতেই সমাপ্ত হয়ে গেছে এবং আগামীতে আর কোনো মসীহ্ আগমন করবেনা! বরং আমি তো মানি এবং বারবার বলিও যে, একজন কেন; দশহাজারের চেয়েও অধিক মসীহ্ আগমন করতে পারে এমনকি সম্ভব যে, প্রকাশ্য সম্মান ও সমৃদ্ধিসহকারে আগমন করবে। আরও সম্ভব যে, তিনি সর্বপ্রথম [সিরিয়ার] দামেস্ক নগরীতে অবতরণ করবেন।”

দেখুন, ইযালায়ে আওহাম খন্ড নং ১; রচনাকাল ১৮৯১ইং, রূহানী খাযায়েন খন্ড ৩ পৃষ্ঠা ২৫১।

তাই এখন প্রশ্ন আসবে, তাহলে মির্যা সাহেব উক্ত দশ হাজার মসীহ’র মধ্য হতে কত নাম্বার মসীহ? আর হাদীসে বর্ণিত সেই মসীহ যে তিনি-ই, অন্যরা নন; তা আপনারা কিভাবে নিশ্চিত হতে পারলেন?

রেফারেন্স – স্ক্রিনশট :

মির্যা কাদিয়ানীর আবোলতাবোল বক্তব্য

মির্যা কাদিয়ানীর খোদার নাম সমূহ

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মির্যা কাদিয়ানীর আবোল তাবোল!

মির্যা কাদিয়ানী ও তার আবোল তাবোল যতসব ব্যাখ্যার নামে খিস্তিখেউড়!

মির্যা কাদিয়ানীর মুরিদদের কয়জনেই বা এগুলো জানে!

সাধারণ কাদিয়ানীদের নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কারণ এরা মির্যার বইগুলো কখনো পড়েনা বা পড়ার কোনো মুরোদও নেই। এদের শিক্ষা আর তারবিয়ত আগাগোড়াই কাদিয়ানী জামাতের উর্ধতন নেতাদের বক্তৃতা বয়ান-নির্ভর, যেখানে নিজ চিন্তাশক্তির ছিটেফোঁটাও থাকেনা। আমার আঙ্গুল সেসব কাদিয়ানী নেতাদের প্রতি যারা জেনে-বুঝে সত্যটা গোপন রেখে চলেছে। আমি হলফ করে বলতে পারি, জনাব আব্দুল আউয়াল নিজেও মির্যা গোলাম আহমদকে হাদীসে বর্ণিত ইমাম মাহদী বিশ্বাস করেনা। আর বিশ্বাস করার মত কোনো রসদই তাদের নিকট নেই।

বাংলাদেশের কাদিয়ানী জামাতের চিহ্নিত ১০/১২জন জ্ঞানপাপী এই গোষ্ঠীটাকে আগলে রেখেছে শুধুমাত্র অর্থ কামানের জন্য। কারণ প্রত্যেক কাদিয়ানী নিজ ইনকামের ১৬% অর্থ প্রতিমাসে কাদিয়ানী ফাণ্ডে চাঁদা দিয়ে থাকে। সে সাথে পরিত্যক্ত সম্পত্তির ১০ ভাগের ১ ভাগ দিতে হয় প্রত্যেক কথিত জান্নাতি টিকেটধারী (তাদের পরিভাষায় ‘মছীহ’-)কে। এবার তাহলে হিসেব কষে দেখুন, সারা দেশ থেকে কী পরিমাণে এদের বিনা পুঁজির রমরমা ধর্মব্যবসা।

আমার ভাবতেও অবাক লাগে এত নিকৃত ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী কোন মুখে অন্যকে (মুসলমানদের) ধর্মব্যবসায়ী বলে মুখে ফেনা তুলে! মূলত এই রমরমা ধর্মব্যবসার আড়ালে লালে লাল হওয়ার জন্যই সত্য গোপন করে চলছে আর সাধারণ কাদিয়ানীদের রক্ত শোষণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যেভাবে ইতিপূর্বে কথিত জ্বীনের বাদশাহ নামের ভণ্ডরা নিয়েছিল এবং সহজ সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে সর্বহারা করেছিল!

আজকে লিখব মির্যা কাদিয়ানীর কতিপয় কমেডি ব্যাখ্যা, যা জেনে আপনি নিজেও মনে মনে হাসবেন! আর বলবেন, আহা! এই জ্ঞান বিজ্ঞানের যুগেও এমন একজন মানসিক প্রতিবন্ধীকেও ইমাম মাহদী বিশ্বাস করা কিভাবে সম্ভব হয়!!

মির্যা কাদিয়ানীর অভিনব কমেডি ব্যাখ্যা –

মির্যা কাদিয়ানী লিখেন, নিজ থেকে নতুন কোনো অর্থ দাঁড় করাটাও ইলহাদ (নাস্তিকতা) আর তাহরিফ (বিকৃতি) করার শামিল। (রূহানী খাযায়েন ৩/৫০১)।

কিন্তু বাস্তবতা হল, এভাবে যিনি লিখলেন তিনি নিজেই নিজের কথার উপর অবিচল থাকতে পারেননি। যেমন,

রেফারেন্স সহ নিম্নরূপ-

১. বর্ণনায় উল্লিখিত ‘কার’আ’ (كرعة) হতে কাদিয়ান বুঝা হয়েছে। (রূহানী খাযায়েন ১১/৩২৯)। ২. ‘আদনাল আরদ’ (ادنى الارض) দ্বারা কাদিয়ান উদ্দেশ্য। (তাযকিরাহ ৬৪৯)। ৩. শারক্বিয়্যি দামেস্ক হতে কাদিয়ান উদ্দেশ্য। (তাযকিরাহ ১৪১)। ৪. তিনটি শহরের নাম কুরআনে উল্লেখ আছে, মক্কা, মদীন এবং কাদিয়ান। (তাযকিরাহ পৃষ্ঠা নং ৬০ চতুর্থ এডিশন)। ৫. হামান থেকে উদ্দেশ্য নও মুসলিম সা’দ উল্লাহ উদ্দেশ্য। (রূহানী খাযায়েন ১১/৩৪০)। ৬. ইউরোশলম (يروشلم) থেকে উদ্দেশ্য কাদিয়ান। (রূহানী খাযায়েন ১৮/৪২০)। ৭. হাদীসে উল্লিখিত লুদ গেইট (بباب لد) মানে পাকিস্তানের শহর লুধিয়ানা। (রূহানী খাযায়েন ১৮/৩৪১)। ৮. আল-আকসা মসজিদ দ্বারা উদ্দেশ্য কাদিয়ানের মির্যা কর্তৃক নির্মিত মসজিদ। (রূহানী খাযায়েন ১৬/২১)। ৯. জাহান্নাম মানে প্লেগ মহামারি। (রূহানী খাযায়েন ২২/৫৮৩)। ১০. জান্নাত হতে বিভ্রম বা মনোবৃত্তি উদ্দেশ্য (وهم) উদ্দেশ্য। ১১. মুহাদ্দাসীয়ত মানে নবুওয়ত। (রূহানী খাযায়েন ২২/৫০৩)। ১২. দুটি হলুদ কাপড় (مهرودتين) মানেই দু‘টি রোগ (মিরাক/সিজোফ্রেনিয়া এবং বহুমুত্র রোগ) উদ্দেশ্য। (রূহানী খাযায়েন ২২/৩২০, তাযকিরাতুশ শাহাদাতাইন, বাংলা ৪৯)। ১৩. আদম, ঈসা ও মূসা হতে উদ্দেশ্য মির্যা কাদিয়ানী। (তাযকিরাহ)। ১৪. দাজ্জাল মানে খ্রিস্টান মিশনারী (রূহানী খাযায়েন ২২/৪৫৬), দাজ্জাল মানে শয়তান (রূহানী খাযায়েন ১৪/২৯৬)। ১৫. ফেরাউন মানে আহলে হাদীস শায়খ মুহাম্মদ হুসাইন বাটলভী। ১৬. হিন্দু মানে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষ। ১৭. মৃত্যু (موت) মানে বিজয় (فتح)। (তাযকিরাহ ৫০৩)। ১৮. কথিত ইলহাম ছায়্যিবুন বা (ثيب) হতে মির্যার স্ত্রী নুসরাত জাহান উদ্দেশ্য (জালালুদ্দিন শামস কৃত ব্যাখ্যা), (তাযকিরাহ ৩১)। ১৯. দাব্বাতুল আরদ (دابة الارض) মানে প্লেগের পোকামাকড় (রূহানী খাযায়েন ১৮/৪১৬), উলামায়ে ছূ, (রূহানি খাযায়েন ৭/৮); নেক মানুষের দল (রূহানী খাযায়েন ৩/৩৭০)। ২০. পাঁচ (৫) মানে পঞ্চাশ (৫০)। ২১. চার (৪) মানে চল্লিশ (৪০)। ২২. ১ দিন মানে ২ বছর। ২৩. ইয়াজুজ মাজুজ দ্বারা উদ্দেশ্য রাশিয়া ব্রিটেন (হামামাতুল বুশরা ৩৮, বাংলা অনূদিত নভেম্বর ২০১১ইং)। ২৪. শয়তান মানে খারাপ চিন্তা। ২৪. ২০০ বছর মানে ১৩০০ বছর। ২৫. ১ম তারিখ মানে ত্রয়োদশ তারিখ। ২৬. রমাযানের অর্ধ-তারিখ হতে আঠাশ (২৮) তারিখ উদ্দেশ্য।

পরিশেষ, যার চোখ আছে দেখবে, আর যার বিবেক আছে চিন্তা করবে। কাদিয়ানী জামাতে থেকে বে-ঈমান অবস্থায় কবরে যাবে নাকি হায়াত থাকতে মির্যা গোলামকে তিন তালাক দিয়ে বের হয়ে ইসলামে ফিরে আসবে।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক।