Home Blog Page 26

সাদাকাতুল ফিতর টাকা দিয়ে দেয়ার শরয়ী হুকুম ও ভ্রান্তি নিরসন

0

সহীহ হাদীস ও মুহাদ্দিসগণের মতে টাকা (মূদ্রা) দ্বারা ‘‘সাদাকাতুল ফিতর’’ আদায়ের শরয়ী হুকুম ও ভ্রান্তি নিরসন :

মাহে রমজানে অনেক ব্যস্ততা। তাই এই বিষয়ে খুব সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ। বর্তমানে নতুন করে বাজারে একটি কথা খুব শুনা যাচ্ছে যে, টাকা দিয়ে ফেতরা দেয়া নাকি জায়েজ নেই। তাদের যুক্তি হল, ‘সহীহ বুখারীর মাঝে আছে ফিতরা দিতে হবে গম, খেজুর, কিসমিস, পনীর ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্য দিয়ে।’ তারা এখান থেকে বলতে চাচ্ছে যে, টাকা দিয়ে আদায় করলে আদায় হবে না! আসুন জেনে নিই তাদের এই সমস্ত কথাবার্তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য!

প্রথমত, গম, কিসমিস, পনীর ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় সম্পর্কে :-

ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻓَﺮَﺽَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟﻔِﻄْﺮِ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺗَﻤْﺮٍ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺷَﻌِﻴﺮٍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻌَﺒْﺪِ ﻭَﺍﻟﺤُﺮِّ، ﻭَﺍﻟﺬَّﻛَﺮِ ﻭَﺍﻷُﻧْﺜَﻰ، ﻭَﺍﻟﺼَّﻐِﻴﺮِ ﻭَﺍﻟﻜَﺒِﻴﺮِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ، ﻭَﺃَﻣَﺮَ ﺑِﻬَﺎ ﺃَﻥْ ﺗُﺆَﺩَّﻯ ﻗَﺒْﻞَ ﺧُﺮُﻭﺝِ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ‏»

অর্থ : হযরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যেক গোলাম, আযাদ, পুরুষ, নারী, প্রাপ্ত বয়স্ক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের উপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟﻔِﻄْﺮِ সাদকাতুল ফিতর হিসাবে খেজুর হোক অথবা যব হোক এক সা’ পরিমাণ আদায় করা আবশ্যক করেছেন এবং লোকজনের ঈদের সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী-২/১৩০, হাদীস-১৫০৫)।

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﻳُﻮﺳُﻒَ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﻣَﺎﻟِﻚٌ، ﻋَﻦْ ﺯَﻳْﺪِ ﺑْﻦِ ﺃَﺳْﻠَﻢَ، ﻋَﻦْ ﻋِﻴَﺎﺽِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﺳَﻌْﺪِ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﺮْﺡٍ ﺍﻟﻌَﺎﻣِﺮِﻱِّ، ﺃَﻧَّﻪُ ﺳَﻤِﻊَ ﺃَﺑَﺎ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺍﻟﺨُﺪْﺭِﻱَّ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ، ﻳَﻘُﻮﻝُ : ‏« ﻛُﻨَّﺎ ﻧُﺨْﺮِﺝُ ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟﻔِﻄْﺮِ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﻃَﻌَﺎﻡٍ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺷَﻌِﻴﺮٍ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺗَﻤْﺮٍ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﻗِﻂٍ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺯَﺑِﻴﺐٍ»

অর্থ : হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সা’ পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা’ পরিমাণ যব অথবা এক সা’ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ পনির অথবা এক সা’ পরিমাণ কিসমিস দিয়ে ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟﻔِﻄْﺮِ সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতাম। (সহীহ বুখারী-২/১৩১, হাদীস-১৫০৬)।

উল্লেখ্য যে, উক্ত দুটি হাদীস দ্বারা একথা স্পষ্ট যে, কোনো ব্যক্তি চাইলে মাল দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবে। কিন্তু টাকা দ্বারা আদায় করা ভুল এধরণের কোনো আলোচনা এখানে নেই, বরং ইমাম বুখারী (রহ.), ইবনে আবী শায়বা (রহ.) এবং ইমাম বায়হাকী (রহ.) উনারা সকলে অপরাপর সহীহ হাদীস এবং সাহাবীদের আছার সমূহের আলোকে বলেছেন যে, টাকা দিয়ে ফিতরা দিলেও আদায় হয়ে যাবে। নিচে দেখুন বিস্তারিত।

  • দিনার দিরহাম সম্পর্কে পাঠকের জ্ঞাতার্থে সংক্ষেপে লিখছি, দিরহাম হল রৌপ্যমুদ্রা। সাধারণত ৩ গ্রাম রূপা দিয়ে ১ দিরহাম তৈরি করা হয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সাম্রাজ্যে রূপার পরিমানে হেরফের হয়েছিল। তাই আমরা এর একাধিক মান পেয়ে থাকি। যেমন উসমানি খিলাফত আমলে ১ দিরহাম ৩.২০৭ গ্রাম রূপা দিয়ে তৈরি করা হত। দিরহামের মান নির্ধারণে ফকিহ ইমামদের মতভেদ রয়েছে। যেমন হানাফি ফকিহগণের গবেষণায় ১ দিরহামের মান ৩.১২৫ গ্রাম রূপা। আর অন্য ইমামগণের মতে ২.৯৬ গ্রাম রূপা। এছাড়াও অনেকের মতে ২.৯৭৫ গ্রাম রূপা হল সঠিক মান। যাইহোক আমরা ধরব, ১ দিরহাম = ৩ গ্রাম রূপা। আর ১ গ্রাম রূপার বর্তমান বাজার মূল্য হল ৪৬.২৬ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে রূপার মূল্য ১ গ্রাম= ৪৬.২৬ টাকা, কিন্তু দেশীয় বাজারে ১ গ্রাম= ৯০ টাকা, আমরা এখানে আন্তর্জাতিক মূল্যে হিসেব করে পেলাম, ১ দিরহাম = ১৩৯ টাকা।
  • পাঠকবৃন্দ! দিনার দিরহাম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানুন

দ্বিতীয়ত, ফিতরা টাকা (মুদ্রা) দ্বারা আদায় করা সম্পর্কে :-

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺃُﺳَﺎﻣَﺔَ، ﻋَﻦْ ﺯُﻫَﻴْﺮٍ، ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺃَﺑَﺎ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕَ، ﻳَﻘُﻮﻝُ : ﺃَﺩْﺭَﻛْﺘُﻬُﻢْ ﻭَﻫُﻢْ ﻳُﻌْﻄُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺻَﺪَﻗَﺔِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺍﻟﺪَّﺭَﺍﻫِﻢَ ﺑِﻘِﻴﻤَﺔِ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡِ অর্থাৎ হযরত যুহাইর (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ইসহাক (রহ.) থেকে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আমি সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কে এই অবস্থায় পেয়েছি যে, তারা রমজানে সাদাকায়ে ফিতর খাবারের বিনিময়ে টাকা দ্বারা আদায় করতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা-২/৩৯৮, হাদীস-১০৩৭১, এর সনদের মান সহীহ তথা বিশুদ্ধ)। তেমনিভাবে ‘ইবনে আবী শায়বা’-এর হাদীসগ্রন্থে টাকা দ্বারা সাদাকায়ে ফিতর আদায় করার ব্যাপারে হযরত হাসান বসরী (রহ.)-এর আছার এইভাবে বর্ণিত রয়েছে যে –

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻭَﻛِﻴﻊٌ، ﻋَﻦْ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ، ﻋَﻦْ ﻫِﺸَﺎﻡٍ، ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ، ﻗَﺎﻝَ : ﻟَﺎ ﺑَﺄْﺱَ ﺃَﻥْ ﺗُﻌْﻄِﻲَ ﺍﻟﺪَّﺭَﺍﻫِﻢَ ﻓِﻲ ﺻَﺪَﻗَﺔِ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ অর্থ : ইবনে আবী শায়বা (রহ.) বলেন, ওয়াকী আমাকে সূফিয়ান, হিশাম এবং হাসান বছরী সূত্রে জানিয়েছেন যে, হযরত হাসান বছরী (রহ.) বলেছেন, টাকা দ্বারা সাদাকায়ে ফিতর আদায় করার দ্বারা কোনো সমস্যা নেই। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা-২/৩৯৮, হাদীস-১০৩৭০, সনদের মান সহীহ)। অনুরূপভাবে হযরত উমর বিন আব্দুল আজীজ (রহ.) এর একখানা পত্রও উল্লেখ রয়েছে। যেমন,

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻭَﻛِﻴﻊٌ، ﻋَﻦْ ﻗُﺮَّﺓَ، ﻗَﺎﻝَ : ﺟَﺎﺀَﻧَﺎ ﻛِﺘَﺎﺏُ ﻋُﻤَﺮَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰِ ﻓِﻲ ﺻَﺪَﻗَﺔِ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ ‏ : ﻧِﺼْﻒُ ﺻَﺎﻉٍ ﻋَﻦْ ﻛُﻞِّ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٍ ﺃَﻭْ ﻗِﻴﻤَﺘُﻪُ ﻧِﺼْﻒُ ﺩِﺭْﻫَﻢٍ অর্থাৎ ইবনে আবী শায়বা বলেন, ওয়াকী (রহ.) কুররাহ সূত্রে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, সাদাকাতুল ফিতর সম্পর্কে হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজীজ (রহ.) এর একখানা পত্র আমাদের নিকট এসে পৌঁছে। সেখানে সাদাকাতুল ফিতর মাথাপিছু এক ছা’ অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য অর্ধ-দিরহাম আদায় করার নির্দেশ ছিল। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা-২/৩৯৮, হাদীস-১০৩৬৯, সনদের মান সহীহ)। পূর্বের হিসেব অনুযায়ী অর্ধ-দিরহামের বর্তমান বাজার মূল্য হল, প্রায় ৭০ টাকা। উল্লেখ্য, এই বছর (২০২২ ইং) মাথাপিছু সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৭০ বা ৭৫ টাকা।

এছাড়াও বিখ্যাত ইমাম, ইবনে আবী শায়বা কৃত সংকলিত মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা এর ২/৩৯৮ এর মাঝে অনুচ্ছেদ স্থাপন করা হয় এভাবে যে- ﻓِﻲ ﺇِﻋْﻄَﺎﺀِ ﺍﻟﺪَّﺭَﺍﻫِﻢِ ﻓِﻲ ﺯَﻛَﺎﺓِ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ অর্থাৎ সাদাকায়ে ফিতর টাকা দ্বারা আদায় করা (বৈধ হওয়া) সম্পর্কে। আর ইমাম বায়হাকী (রহ.) তার রচিত কিতাব ‘আস-সুনানুল কুবরা’র ৪/১৮৯ এর মধ্যে এভাবে অনুচ্ছেদ স্থাপন করে গেছেন যে- ﺑَﺎﺏُ ﻣَﻦْ ﺃَﺟَﺎﺯَ ﺃَﺧْﺬَ ﺍﻟْﻘِﻴَﻢِ ﻓِﻲ ﺍﻟﺰَّﻛَﻮَﺍﺕِ অর্থাৎ এই অনুচ্ছেদ হল, টাকা দ্বারা যাকাত আদায় করা অনুমোদিত। তাছাড়া রাসূল (সা.) এর যুগেও ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟﻔِﻄْﺮِ ও ﺯﻛﻮﺓ ইত্যাদি টাকা দ্বারা আদায় করা হতো। তার কিছু প্রমাণ নিম্মে পেশ করা হল –
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻃَﺎﻭُﺱٌ : ﻗَﺎﻝَ ﻣُﻌَﺎﺫٌ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻟِﺄَﻫْﻞِ ﺍﻟﻴَﻤَﻦِ : ‏« ﺍﺋْﺘُﻮﻧِﻲ ﺑِﻌَﺮْﺽٍ ﺛِﻴَﺎﺏٍ ﺧَﻤِﻴﺺٍ – ﺃَﻭْ ﻟَﺒِﻴﺲ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔِ ﻣَﻜَﺎﻥَ ﺍﻟﺸَّﻌِﻴﺮِ ﻭَﺍﻟﺬُّﺭَﺓِ ﺃَﻫْﻮَﻥُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻭَﺧَﻴْﺮٌ ﻟِﺄَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺑِﺎﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ‏» ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺧَﺎﻟِﺪٌ ﻓَﻘَﺪِ ﺍﺣْﺘَﺒَﺲَ ﺃَﺩْﺭَﺍﻋَﻪُ ﻭَﺃَﻋْﺘُﺪَﻩُ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ” ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﺗَﺼَﺪَّﻗْﻦَ ﻭَﻟَﻮْ ﻣِﻦْ ﺣُﻠِﻴِّﻜُﻦَّ ‏» ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺴْﺘَﺜْﻦِ ﺻَﺪَﻗَﺔَ ﺍﻟﻔَﺮْﺽِ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِﻫَﺎ، ﻓَﺠَﻌَﻠَﺖِ ﺍﻟﻤَﺮْﺃَﺓُ ﺗُﻠْﻘِﻲ ﺧُﺮْﺻَﻬَﺎ ﻭَﺳِﺨَﺎﺑَﻬَﺎ، ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺨُﺺَّ ﺍﻟﺬَّﻫَﺐَ ﻭَﺍﻟﻔِﻀَّﺔَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻌُﺮُﻭﺽِ “

অর্থাৎ তাউস (রহ.) বলেন, মু‘আয (ইবনে জাবাল) (রা.) ইয়ামনবাসীদেরকে বললেন, তোমরা যব ও ভুট্টার পরিবর্তে চাদর বা পরিধেয় বস্ত্র আমার কাছে যাকাত স্বরূপ নিয়ে এসো। ওটা তোমাদের পক্ষেও সহজ এবং মদীনায় নবী (সা.) এর সাহাবীগণের জন্যও উত্তম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা.) এর ব্যাপার হল এই যে, সে তাঁর বর্ম ও যুদ্ধাস্ত্র আল্লাহর পথে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। (মহিলাদের লক্ষ্য করে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা তোমাদের অলংকার থেকে হলেও সাদকা কর । [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পণাদ্রব্যের যাকাত সেই পণ্য দ্বারাই আদায় করতে হবে, এমন নির্দিষ্ট করে দেননি। তখন মহিলাগণ কানের দুল ও গলার হার খুলে দিতে আরম্ভ করলেন। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] সোনা ও রূপার বিষয়টি পণ্যদ্রব্য থেকে পৃথক করেননি (বরং উভয় প্রকারেই যাকাত স্বরূপ গ্রহণ করা হত)। (দেখুন, সহীহ বুখারী ২/১১৬)। উল্লেখ্য যে, সাদাকাতুল ফিতর টাকা দ্বারা আদায় করা যাবে এটি ইমাম বুখারী (রহ.) এরও উক্তি- ﻗَﻮْﻟُﻪُ ﺑَﺎﺏُ ﺍﻟْﻌَﺮْﺽِ ﻓِﻲ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓِ: ﺃَﻱْ ﺟَﻮَﺍﺯُ ﺃَﺧْﺬِ ﺍﻟْﻌَﺮْﺽِ ﻭَﻫُﻮَ ﺑِﻔَﺘْﺢِ ﺍﻟْﻤُﻬْﻤَﻠَﺔِ ﻭَﺳُﻜُﻮﻥِ ﺍﻟﺮَّﺍﺀِ ﺑَﻌْﺪَﻫَﺎ ﻣُﻌْﺠَﻤَﺔٌ ﻭَﺍﻟْﻤُﺮَﺍﺩُ ﺑِﻪِ ﻣَﺎ ﻋَﺪَﺍ ﺍﻟﻨَّﻘْﺪَﻳْﻦِ ﻗَﺎﻝَ ﺑﻦ ﺭَﺷِﻴﺪٍ ﻭَﺍﻓَﻖَ ﺍﻟْﺒُﺨَﺎﺭِﻱُّ ﻓِﻲ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﻤَﺴْﺄَﻟَﺔِ ﺍﻟْﺤَﻨَﻔِﻴَّﺔَ ﻣَﻊَ ﻛَﺜْﺮَﺓِ ﻣُﺨَﺎﻟَﻔَﺘِﻪِ ﻟَﻬُﻢْ ﻟَﻜِﻦْ ﻗَﺎﺩَﻩُ ﺇِﻟَﻰ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟﺪَّﻟِﻴﻞُ …… ﺍﻟﺦ আল্লামা ইবনু রাশীদ (রহ.) বলেন, উক্ত মাসয়ালাটির মাঝে ইমাম বুখারী (রহ.) হানাফীদের সাথে সহমত পোষন করেছেন….। (ফাতহুল বারী লি ইবনে হাজার- ৩/৩১২)।

…..এ বিষয়ে আহমদ আল গুমারী (রহ.) আরবী ভাষায় ১৫০ পৃষ্ঠায় ﺗﺤﻘﻴﻖ ﺍﻻﻣﺎﻝ ﻓﻰ ﺍﺧﺮﺍﺝ ﺯﻛﻮﺓ ﺍﻟﻔﻄﺮ ﺑﺎﻟﻤﺎﻝ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুস্তিকা রচনা করেছেন। যা সকলকে পড়ে রাখা আবশ্যক। এ বিষয়ে আরো দেখুন- বাদায়েউস সানায়ে-২/৯৬৯, আল মাবসুত লিস-সারাখসী-৩/১১৩ ইত্যাদি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ফেৎনা সৃষ্টি না করে সঠিক দ্বীন বুঝে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

লিখক, মুফতী ছানাউল্লাহ (হাফিজাহুল্লাহ) ।

পুরুষের দুধ খেয়ে শিশু লালিতপালিত হওয়া

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কত বড় জঘন্য মিথ্যাবাদী হলে এই সমস্ত বালখিল্য টাইপের কথাবার্তা নিজ রচনা সমূহে দেদারসে লিখে যেতে পারে!

মির্যা কাদিয়ানীর রচনা থেকে, এক নবজাতক শিশুর মা মারা যাওয়ার পর শিশুটি তার পিতার দুধ খেয়ে লালিতপালিত হয়েছে, একটি পুরুষ ছাগল থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত দুধ পাওয়া গেছে, একদম শুষ্ক ও ঠনঠনে মাটি থেকে একটি ইঁদুর সৃষ্টি হয়েছে যার অর্ধেকটা মাটিই রয়ে গেছে। রেশমের পোকা সে তার পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই ডিম দিয়েছে এবং ডিম থেকে বাচ্চাও ফুটিয়েছে। (সংক্ষেপে)।

এগুলো মির্যা গোলাম আহমদ নিজ হাতে লিখে গেছেন। তিনি এগুলো লিখার সময় পাঠককে আশ্বস্ত করেছেন। লিখেছেন ‘নির্ভরযোগ্য সূত্রে ও বিশ্বস্ত মানুষের উদ্ধৃতিতে’ই নাকি এই কথাগুলো মানুষের মাঝে প্রচলিত রয়েছে।

এগুলো লিখার পেছনে মির্যার উদ্দেশ্য কী?

জ্বী হ্যাঁ, এর পেছনে মির্যা কাদিয়ানীর উদ্দেশ্য হচ্ছে, হযরত ঈসা (আ.)-এর পিতা ছাড়াই জন্মলাভ করার বিষয়টির আলৌকিকতা স্বীকার না করতে উদ্দেশ্যমূলক নানা গালগল্পে বাহানা করা। এসব গল্পের মাধ্যমে তিনি যেন বুঝাতে চাচ্ছেন যে, নবজাতক শিশুটি তার পিতার দুধ খেয়ে লালিতপালিত হওয়া ইত্যাদি এর ন্যায় প্রকৃতি বিরুধী অনেক ঘটনারই দুনিয়া সাক্ষী।

তাহলে পিতা ছাড়াই জন্মলাভ করার ঘটনার অত গুরুত্ব কিসের?

হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্মলাভের অলৌকিকতা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে না চাওয়ার আরও একটা সূক্ষ্ম কারণ রয়েছে। সেটাই এখানে আমার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব ঈসা (আ.)-এর জন্মলাভের অলৌকিকতাকে স্বীকার করলে, তখন তাকে তাঁর উর্ধ্বাকাশে ঐশীভ্রমণও মেনে নিতে হয়!

মোটকথা, সে খ্রিস্টান মিশনারীদের ডিফেন্ড করার আড়ালে নিজের উদ্দেশ্যটাও পাকাপোক্ত করে ফেলেন। সেটি হল, ঈসা (আ.) জীবিত সশরীরে উর্ধ্বাকাশে যাওয়া। কারণ মির্যা গোলাম আহমদ খুব ভালো ভাবেই জানত যে, যদি সে ঈসা (আ.)-এর উর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করার বিষয়টি মেনে নেয় তখন তার জন্য নিজেকে প্রতিশ্রুত মসীহ ঈসা দাবী করার আর কোনো সুযোগই থাকেনা। পাঠকবৃন্দ! এবার আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।

সম্পর্কিত স্ক্রিনশট

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

সুরা ফাতিহায় “নবুওয়ত” জারি থাকার দাবী

সূরা ফাতিহায় “নবুওয়ত” জারি থাকার দাবী ও তার প্রতিউত্তরে দাঁতভাঙা জবাব

কাদিয়ানী কাল্টরা পবিত্র কুরআনকে অপব্যাখ্যা দিয়ে নবুওয়ত জারি থাকার দাবী করে বরাবরই পাকড়াও হয়ে থাকে! আজকে তেমনি একটি ঘটনা তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ। জনৈক কাদিয়ানী কাল্ট (ব্রেইন ওয়াশ) বলল, সূরা ফাতিহায় “নবুওয়ত” জারি থাকার ইংগিত রয়েছে! আমি প্রতিউত্তরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম,

সত্যিই কি সূরা ফাতিহায় তৃতীয় শ্রেণীর (উম্মতী) নবুওয়ত জারি রয়েছে বুঝায়? যদি তাই হয় তাহলে কি মুহাম্মদ (সা.) এর শান ও মান খাটো করা হল না? কেননা, মির্যার দাবী হচ্ছে, সে মুহাম্মদ (সা.) এর বুরুজ ও দ্বিতীয় আগমনী সত্তা। এমতাবস্থায় মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আবার এসে প্রথম শ্রেণীর (শরীয়তবাহক) নবীর মর্যাদা থেকে তৃতীয় শ্রেণীর নবীর স্তরে কেন নেমে যাবেন? তবে কি মুহাম্মদ (সা.) ক্রমাগতভাবে উন্নতি না করে বরং অবনতিই করলেন? নাউযুবিল্লাহ। ব্যাচারা লা জবাব, ভোঁ দৌড়ের উপর…….।

উল্লেখ্য, কাদিয়ানীদের অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট হল, নবুওয়ত তিন প্রকার। শরীয়তবাহক, স্বতন্ত্র ও বুরুজি। প্রথম দুই প্রকারের ক্রমধারা চিরতরে বন্ধ কিন্তু তৃতীয় প্রকারের নবুওয়তের দ্বার উন্মুক্ত। তবে তৃতীয় প্রকারের নবী শুধুমাত্র একজনই। আর তিনি স্বয়ং নিজেই। কেয়ামত পর্যন্ত আর কেউ উক্ত বুরুজী নবীর মাকাম প্রাপ্ত হবেনা। আর বুরুজি নবীর মাকাম প্রাপ্ত হতে হলে তাকে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্ণ আনুগত্যকারী ও তাঁর পরিপূর্ণ গুণাবলী অর্জনকারী হতে হবে। মির্যা কাদিয়ানীর ভাষ্যমতে, তিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর বুরুজ ও অভিন্ন সত্তা; যেমন নাকি তিনি হুবহু মুহাম্মদ (সা.)ই। নাউযুবিল্লাহ।

আবার তাদের কোনো কোনো এভিডেন্স থেকে পাওয়া যায় যে, মির্যা গোলাম আহমদ প্রকৃতপক্ষেই তেমনি একজন ‘নবী’ যেমনটি ছিলেন ইতিপূর্বেকার নবী রাসূলগণ। এ কথা পরিষ্কার লিখা আছে, দৈনিক আল ফজল পত্রিকায় (পৃষ্ঠা নং ১০, তারিখ ৩০.১২.১৯১৬ ইং)।

উপসংহার, খুব মনে রাখতে হবে, যে সমস্ত ব্যাখ্যা ইসলামের প্রথম তিন স্বর্ণযুগীয় (খায়রুল কুরূনের) শিক্ষায় অনুপস্থিত সেটি যতই সুন্দর হোক, বিদয়াত ও প্রত্যাখ্যাত। কাদিয়ানীবাদের সিংহভাগ কনসেপশন ইসলামের প্রাচীন ও তিন সোনালী যুগের শিক্ষার পরিপন্থী। ফলে সেগুলো পুরোপুরি বাতিল ও পরিত্যাজ্য।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

আরো দশ হাজার মসীহ আসবে, আসা সম্ভব

মির্যা কাদিয়ানীর এই বক্তব্যটাও ইতিপূর্বে কোনো কাদিয়ানীর জানা ছিল কি?

মির্যা কাদিয়ানী জনৈক প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তরে লিখে গেছেন,

“এই অধমের (মির্যা) পক্ষ হতেও এমনটি দাবী করা হয় না যে, মাসীহিয়ত [কথিত রূপক মসীহ্’র আগমনীধারা] আমার সত্তাতেই সমাপ্ত হয়ে গেছে এবং আগামীতে আর কোনো মসীহ্ আগমন করবেনা! বরং আমি তো মানি এবং বারবার বলিও যে, একজন কেন; দশহাজারের চেয়েও অধিক মসীহ্ আগমন করতে পারে এমনকি সম্ভব যে, প্রকাশ্য সম্মান ও সমৃদ্ধিসহকারে আগমন করবে। আরও সম্ভব যে, তিনি সর্বপ্রথম [সিরিয়ার] দামেস্ক নগরীতে অবতরণ করবেন।”

দেখুন, ইযালায়ে আওহাম খন্ড নং ১; রচনাকাল ১৮৯১ইং, রূহানী খাযায়েন খন্ড ৩ পৃষ্ঠা ২৫১।

তাই এখন প্রশ্ন আসবে, তাহলে মির্যা সাহেব উক্ত দশ হাজার মসীহ’র মধ্য হতে কত নাম্বার মসীহ? আর হাদীসে বর্ণিত সেই মসীহ যে তিনি-ই, অন্যরা নন; তা আপনারা কিভাবে নিশ্চিত হতে পারলেন?

রেফারেন্স – স্ক্রিনশট :

মির্যা কাদিয়ানীর আবোলতাবোল বক্তব্য

মির্যা কাদিয়ানীর খোদার নাম সমূহ

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মির্যা কাদিয়ানীর আবোল তাবোল!

মির্যা কাদিয়ানী ও তার আবোল তাবোল যতসব ব্যাখ্যার নামে খিস্তিখেউড়!

মির্যা কাদিয়ানীর মুরিদদের কয়জনেই বা এগুলো জানে!

সাধারণ কাদিয়ানীদের নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কারণ এরা মির্যার বইগুলো কখনো পড়েনা বা পড়ার কোনো মুরোদও নেই। এদের শিক্ষা আর তারবিয়ত আগাগোড়াই কাদিয়ানী জামাতের উর্ধতন নেতাদের বক্তৃতা বয়ান-নির্ভর, যেখানে নিজ চিন্তাশক্তির ছিটেফোঁটাও থাকেনা। আমার আঙ্গুল সেসব কাদিয়ানী নেতাদের প্রতি যারা জেনে-বুঝে সত্যটা গোপন রেখে চলেছে। আমি হলফ করে বলতে পারি, জনাব আব্দুল আউয়াল নিজেও মির্যা গোলাম আহমদকে হাদীসে বর্ণিত ইমাম মাহদী বিশ্বাস করেনা। আর বিশ্বাস করার মত কোনো রসদই তাদের নিকট নেই।

বাংলাদেশের কাদিয়ানী জামাতের চিহ্নিত ১০/১২জন জ্ঞানপাপী এই গোষ্ঠীটাকে আগলে রেখেছে শুধুমাত্র অর্থ কামানের জন্য। কারণ প্রত্যেক কাদিয়ানী নিজ ইনকামের ১৬% অর্থ প্রতিমাসে কাদিয়ানী ফাণ্ডে চাঁদা দিয়ে থাকে। সে সাথে পরিত্যক্ত সম্পত্তির ১০ ভাগের ১ ভাগ দিতে হয় প্রত্যেক কথিত জান্নাতি টিকেটধারী (তাদের পরিভাষায় ‘মছীহ’-)কে। এবার তাহলে হিসেব কষে দেখুন, সারা দেশ থেকে কী পরিমাণে এদের বিনা পুঁজির রমরমা ধর্মব্যবসা।

আমার ভাবতেও অবাক লাগে এত নিকৃত ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী কোন মুখে অন্যকে (মুসলমানদের) ধর্মব্যবসায়ী বলে মুখে ফেনা তুলে! মূলত এই রমরমা ধর্মব্যবসার আড়ালে লালে লাল হওয়ার জন্যই সত্য গোপন করে চলছে আর সাধারণ কাদিয়ানীদের রক্ত শোষণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যেভাবে ইতিপূর্বে কথিত জ্বীনের বাদশাহ নামের ভণ্ডরা নিয়েছিল এবং সহজ সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে সর্বহারা করেছিল!

আজকে লিখব মির্যা কাদিয়ানীর কতিপয় কমেডি ব্যাখ্যা, যা জেনে আপনি নিজেও মনে মনে হাসবেন! আর বলবেন, আহা! এই জ্ঞান বিজ্ঞানের যুগেও এমন একজন মানসিক প্রতিবন্ধীকেও ইমাম মাহদী বিশ্বাস করা কিভাবে সম্ভব হয়!!

মির্যা কাদিয়ানীর অভিনব কমেডি ব্যাখ্যা –

মির্যা কাদিয়ানী লিখেন, নিজ থেকে নতুন কোনো অর্থ দাঁড় করাটাও ইলহাদ (নাস্তিকতা) আর তাহরিফ (বিকৃতি) করার শামিল। (রূহানী খাযায়েন ৩/৫০১)।

কিন্তু বাস্তবতা হল, এভাবে যিনি লিখলেন তিনি নিজেই নিজের কথার উপর অবিচল থাকতে পারেননি। যেমন,

রেফারেন্স সহ নিম্নরূপ-

১. বর্ণনায় উল্লিখিত ‘কার’আ’ (كرعة) হতে কাদিয়ান বুঝা হয়েছে। (রূহানী খাযায়েন ১১/৩২৯)। ২. ‘আদনাল আরদ’ (ادنى الارض) দ্বারা কাদিয়ান উদ্দেশ্য। (তাযকিরাহ ৬৪৯)। ৩. শারক্বিয়্যি দামেস্ক হতে কাদিয়ান উদ্দেশ্য। (তাযকিরাহ ১৪১)। ৪. তিনটি শহরের নাম কুরআনে উল্লেখ আছে, মক্কা, মদীন এবং কাদিয়ান। (তাযকিরাহ পৃষ্ঠা নং ৬০ চতুর্থ এডিশন)। ৫. হামান থেকে উদ্দেশ্য নও মুসলিম সা’দ উল্লাহ উদ্দেশ্য। (রূহানী খাযায়েন ১১/৩৪০)। ৬. ইউরোশলম (يروشلم) থেকে উদ্দেশ্য কাদিয়ান। (রূহানী খাযায়েন ১৮/৪২০)। ৭. হাদীসে উল্লিখিত লুদ গেইট (بباب لد) মানে পাকিস্তানের শহর লুধিয়ানা। (রূহানী খাযায়েন ১৮/৩৪১)। ৮. আল-আকসা মসজিদ দ্বারা উদ্দেশ্য কাদিয়ানের মির্যা কর্তৃক নির্মিত মসজিদ। (রূহানী খাযায়েন ১৬/২১)। ৯. জাহান্নাম মানে প্লেগ মহামারি। (রূহানী খাযায়েন ২২/৫৮৩)। ১০. জান্নাত হতে বিভ্রম বা মনোবৃত্তি উদ্দেশ্য (وهم) উদ্দেশ্য। ১১. মুহাদ্দাসীয়ত মানে নবুওয়ত। (রূহানী খাযায়েন ২২/৫০৩)। ১২. দুটি হলুদ কাপড় (مهرودتين) মানেই দু‘টি রোগ (মিরাক/সিজোফ্রেনিয়া এবং বহুমুত্র রোগ) উদ্দেশ্য। (রূহানী খাযায়েন ২২/৩২০, তাযকিরাতুশ শাহাদাতাইন, বাংলা ৪৯)। ১৩. আদম, ঈসা ও মূসা হতে উদ্দেশ্য মির্যা কাদিয়ানী। (তাযকিরাহ)। ১৪. দাজ্জাল মানে খ্রিস্টান মিশনারী (রূহানী খাযায়েন ২২/৪৫৬), দাজ্জাল মানে শয়তান (রূহানী খাযায়েন ১৪/২৯৬)। ১৫. ফেরাউন মানে আহলে হাদীস শায়খ মুহাম্মদ হুসাইন বাটলভী। ১৬. হিন্দু মানে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষ। ১৭. মৃত্যু (موت) মানে বিজয় (فتح)। (তাযকিরাহ ৫০৩)। ১৮. কথিত ইলহাম ছায়্যিবুন বা (ثيب) হতে মির্যার স্ত্রী নুসরাত জাহান উদ্দেশ্য (জালালুদ্দিন শামস কৃত ব্যাখ্যা), (তাযকিরাহ ৩১)। ১৯. দাব্বাতুল আরদ (دابة الارض) মানে প্লেগের পোকামাকড় (রূহানী খাযায়েন ১৮/৪১৬), উলামায়ে ছূ, (রূহানি খাযায়েন ৭/৮); নেক মানুষের দল (রূহানী খাযায়েন ৩/৩৭০)। ২০. পাঁচ (৫) মানে পঞ্চাশ (৫০)। ২১. চার (৪) মানে চল্লিশ (৪০)। ২২. ১ দিন মানে ২ বছর। ২৩. ইয়াজুজ মাজুজ দ্বারা উদ্দেশ্য রাশিয়া ব্রিটেন (হামামাতুল বুশরা ৩৮, বাংলা অনূদিত নভেম্বর ২০১১ইং)। ২৪. শয়তান মানে খারাপ চিন্তা। ২৪. ২০০ বছর মানে ১৩০০ বছর। ২৫. ১ম তারিখ মানে ত্রয়োদশ তারিখ। ২৬. রমাযানের অর্ধ-তারিখ হতে আঠাশ (২৮) তারিখ উদ্দেশ্য।

পরিশেষ, যার চোখ আছে দেখবে, আর যার বিবেক আছে চিন্তা করবে। কাদিয়ানী জামাতে থেকে বে-ঈমান অবস্থায় কবরে যাবে নাকি হায়াত থাকতে মির্যা গোলামকে তিন তালাক দিয়ে বের হয়ে ইসলামে ফিরে আসবে।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক।

কালূ কালা ইয়াল্লাশ মির্যায়ী খোদার কতগুলো নাম

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আর তার কাদিয়ানীবাদের অনুসারীরা সাধারণ মানুষকে ধোকা দেয়ার জন্য হরহামেশা বলে থাকে যে, তাদের আর মুসলমানদের মধ্যকার তেমন কোনো পার্থক্য নেই। অথচ মির্যায়ী মতবাদে খোদাতালার এমন কতগুলো নামও উল্লেখ পাওয়া যায়, ইসলামী শিক্ষার সাথে যার লেশমাত্র সম্পর্কও নেই। যেমন মির্যায়ী লিটারেচারগুলোয় খোদাতালার কতগুলো নাম উল্লেখপূর্বক লিখা আছে,

১. কালূ – কালা (كالو، كالا)। (যিকরে হাবীব পৃ-১৮১; নতুন এডিশন, কাদিয়ানী মুরিদ মুফতি(!) মুহাম্মদ সাদেক)।

২. ইয়াল্লাশ/ইয়াল্লাস (يلاش)। (তুহফায়ে গোলডবিয়া, রূহানী খাযায়েন ১৭/২০৩, মির্যা কাদিয়ানী)।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন যে, কাদিয়ানীবাদ আর ইসলাম আগাগোড়ায় ভিন্ন দুটি সতন্ত্র ধর্ম। কাজেই কাদিয়ানীবাদের অনুসারীদের ইসলামের গণ্ডিভুক্ত মনে করার কোনো সুযোগ নেই। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ক্বদ খালাত মিন কবলিহির রসুল প্রসঙ্গে – পর্ব ৩

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

অত্র বিষয়ে আর্টিকেল নং ১

অত্র বিষয়ে আর্টিকেল নং ২

পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ১৪৪ এর মধ্যে আল্লাহ তালা ইরশাদ করেছেন, (সঠিক অনুবাদ) :-

  • وَ مَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوۡلٌ ۚ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِ الرُّسُلُ ؕ اَفَا۠ئِنۡ مَّاتَ اَوۡ قُتِلَ انۡقَلَبۡتُمۡ عَلٰۤی اَعۡقَابِکُمۡ ؕ وَ مَنۡ یَّنۡقَلِبۡ عَلٰی عَقِبَیۡہِ فَلَنۡ یَّضُرَّ اللّٰہَ شَیۡئًا ؕ وَ سَیَجۡزِی اللّٰہُ الشّٰکِرِیۡنَ

অর্থাৎ মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র; তাহার পূর্বে বহু রাসূল গত হইয়াছে। সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা সে নিহত হয় তবে তোমরা কি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিবে? এবং কেহ পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিলে সে কখনও আল্লাহ ক্ষতি করিতে পারিবে না; বরং আল্লাহ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করিবেন।” [অনুবাদ – ইসলামিক ফাউন্ডেশন/ইফা]।

কাদিয়ানীদের রচনায় :

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের বইপুস্তকে উক্ত আয়াতের অনুবাদের ক্ষেত্রে লিখা আছে,…. তাঁর পূর্বের/পূর্বেকার সব রসূল গত হয়ে গেছেন।’ তারা এর ব্যাখ্যায় দাবী করে যে, এখানে ‘গত হয়ে গেছেন’ বলতে মারা গেছেন, এটাই একমাত্র উদ্দেশ্য। ফলে এই আয়াত ঈসা (আ.) সহ পূর্বেকার সব রাসূলকেই মারা গেছেন, বলে বুঝায়। স্ক্রিনশট-

কিন্তু তাদের ন্যায় অনুরূপ অনুবাদ এবং ব্যাখ্যা ইসলামের গত ১৪শত বছরেও কোনো বরেণ্য তাফসীরকারক এবং আয়েম্মায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত নয়। খণ্ডনমূলক জবাব নিচে দেয়া হল।

খণ্ডনমূলক জবাব :

উক্ত আয়াতের من قبله الرسل হতে ‘সমস্ত রাসূল’ অথবা ‘সব রাসূল’ এইভাবে যারা অর্থ নিয়ে থাকেন এবং সেই অর্থের উপর ভিত্তি করে যুক্তি দিয়ে দাবী করেন যে, এর দ্বারা প্রমাণিত হয়ে গেল যে, মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্বেকার সমস্ত রাসূল যেভাবে গত হইয়া গিয়াছেন, মানে মৃত্যুবরণ করেছেনই উদ্দেশ্য, তাদের মধ্যে হযরত ঈসা (আ.)ও শামিল। যেহেতু তিনিও হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্বেকার নবী রাসূলগণের একজন; তাদের এই দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলতে চাই যে, প্রথমত, আয়াতটির من قبله الرسل হতে ‘সমস্ত রাসূল’ বা ‘সব রাসূল’ এইভাবে অর্থ নেয়াটাই ঠিক নয়, বরং এইভাবে অর্থ নেয়া ব্যকরণবিরুদ্ধ। যেহেতু আয়াতটির الرسل এর শুরুতে যুক্ত ال (আলিফ+লাম)-কে ‘আলিফ লাম আহদে খারেজি’ (عهد خارجى) হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে الرسل এর মর্মার্থে শর্তপ্রযোজ্য বুঝাবে। অর্থাৎ শব্দটি বহুবচন হওয়া সত্ত্বেও তার অভ্যন্তরে কিছু সংখ্যক রাসূলকে অন্তর্ভুক্ত করবেনা। অতএব আয়াতটির من قبله الرسل হতে সঠিক অর্থ দাঁড়াবে ‘তাঁঁর পূর্বে অনেক বা বহু রাসূল গত হইয়া গিয়াছে।’

এই পর্যায়ে কয়েকটি প্রশ্ন আসতে পারে। তা হল,

  • ১- الرسل এর মর্মার্থে ‘শর্ত প্রযোজ্য’ থাকার প্রমাণ কী?
  • ২- আয়াতটির الرسل (অনেক বা বহু রাসূল)-এর অর্থে আরও যাদেরকে শামিল করা হবেনা বলে বুঝায় তারা কারা? দলিল প্রমাণ আছে কি?

উল্লিখিত প্রশ্ন দুটির উত্তরে বলতে চাই। পবিত্র কুরআনের বহু জায়গায় পৃথিবীতে শেষ যুগে হযরত ঈসা (আ.)-এর দ্বিতীয়বার আগমন সম্পর্কে ইংগিতে ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে। আল্লাহতালা যাকে ইতিপূর্বে বনী ইসরাইলের নিকট একজন রাসূল করে প্রেরণ করেছিলেন। তন্মধ্যে সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ৪৬, সূরা তওবাহ আয়াত নং ৩৩, সূরা আল মায়েদা আয়াত নং ১১০ ইত্যাদি অন্যতম।

এছাড়া হযরত জিবরাঈল (আ.)-কেও পবিত্র কুরআনের বহু জায়গা রাসূল আখ্যা দেয়া হয়েছে।

যেমন পবিত্র কুরআনে এসেছে, বিবি মরিয়মের উদ্দেশ্যে জিবরাঈল (আ.) বলেছিলেন (قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا) ‘ক্বা-লা ইন্নামা আনা রাসূলু রাব্বিকি লিআহাবা লাকি গুলা-মান ঝাকিইইয়া’ অর্থাৎ সে বলল আমি তো কেবল তোমার রবের একজন রাসূল (তথা বার্তাবাহক), তোমাকে একজন পবিত্র পুত্র সন্তান দান করার জন্য এসেছি। (মরিয়াম/১৯:১৯); তাফসীরে কুরতুবীতে এসেছে, সূরা আল হাক্কাহ আয়াত নং ৪০ (إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই এই কুরআন একজন সম্মানিত রাসূলের বার্তা”-এর তাফসীরে ইমাম হাসান বছরী, কলবী এবং মুক্বাতিল প্রমুখের মতে ‘রাসূল‘ শব্দ হতে হযরত জিবরাঈল (আ.) উদ্দেশ্য। এমনকি বহু সংখ্যক ফেরেশতাও এমন রয়েছেন যাদেরকে আল্লাহতালা পবিত্র কুরআনে ‘রাসূল‘ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। যেমন সূরা হাজ্জ্ব এর ৭৫ নং আয়াতে এসেছে – (اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ) অর্থাৎ ‘আল্লাহতালা ফেরেশতাদের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন এবং মানুষের মধ্য থেকেও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।’ আবার অপরদিকে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী লিখেছেন, সূরা আস-সিজদাহ আয়াত নং ২৩ (وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَلَا تَكُن فِي مِرْيَةٍ مِّن لِّقَائِهِ ۖ وَجَعَلْنَاهُ هُدًى لِّبَنِي إِسْرَائِيلَ) অর্থাৎ ‘আমি তো মূসাকে গ্রন্থ দিয়েছিলাম, অতএব তুমি তার সাক্ষাৎ বিষয়ে সন্দেহ করো না। আমি একে (তাওরাত) বনী ইসরাঈলের জন্য পথনির্দেশক করেছিলাম।’ এই আয়াতের মধ্যে হযরত মূসা (আ.) জীবিত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। দেখুন, হামামাতুল বুশরা (বাংলা) পৃষ্ঠা নং ৬২। স্ক্রিনশট –

মির্যা সাহেবের রচনাসমগ্র ২৩ খণ্ডে প্রকাশিত ‘রূহানী খাযায়েন’ এর ৮ নং খণ্ডের ৬৮-৬৯ নং পৃষ্ঠায় আরো লিখা আছে যে,

فرض علينا ان نؤمن بانه حى فى السماء و لم يمت و ليس من الميتين.

অর্থাৎ ‘আমাদের জন্য ফরজ হল, তিনি (মূসা) আকাশে জীবিত এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেননি, তিনি মৃতদের মধ্যেও শামিল নন বলে বিশ্বাস করা।’

সুতরাং অন্ততপক্ষে এটুকু তো প্রমাণিত হল যে, من قبله الرسل এর الرسل এর মর্মার্থে শর্ত প্রযোজ্য, সমস্ত রাসূল অন্তর্ভুক্ত নন, বরং কিছু রাসূল الرسل-এর মধ্যকার অন্তর্ভুক্তির বাহিরে। তাদের মধ্যে হযরত ঈসা (আ.), রূহুল কুদস হযরত জিবরাঈল (আ.) এবং বহু সংখ্যক ফেরেশতাও রয়েছেন। আর মির্যায়ী বিশ্বাস মতে হযরত মূসা (আ.)-কেও এঁদের মধ্যে গণনা করলে তখন তো একেবারেই সোনায় সোহাগা বলা যায়। যাইহোক, এই সমস্ত ক্বারীনা তথা প্রমাণ বা নিদর্শনের কারণেই আয়াতটির الرسل এর ال-কে আহদে খারেজি বলা হয়। ফলে এর তাৎপর্যে শর্ত প্রযোজ্য বুঝানো হবে। আহা! নির্বোধ কাদিয়ানীদের এ সমস্ত ইলমি বিষয়ে বুঝাতে পারে এমন সাধ্য কার? বহুবচনাত্মক শব্দেও ক্বারীনা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বে ‘শর্ত প্রযোজ্য‘ এর বিধান প্রয়োগ হবার আরেকটি প্রমাণ নিম্নরূপ!

মির্যা কাদিয়ানীর একটি কথিত ইলহাম ও তার পরিপ্রেক্ষিতে আমার জিজ্ঞাসা :

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর একটি কথিত ইলহামে উল্লেখ আছে, আল্লাহ তালা তাকে নাকি উদ্দেশ্য করে বলেছেন, آسمان سے کئى تخت اترے مگر سب سے اوپر تيرا تخت بچھایا گیا অর্থাৎ আকাশ থেকে কয়েকটি সিংহাসন নাযিল হয়েছে। কিন্তু সবার উপরে তোমার সিংহাসনটি পাতা হয়েছে। (আরবাঈন [বাংলা] পৃষ্ঠা নং ৯৩, তাযকিরাহ ৩২৩ ইলহাম তাং ১৯০০ ইং, রূহানী খাযায়েন ১৭/৪২৮)। স্ক্রিনশট –

মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ সাহেব উক্ত কথিত ইলহামের ব্যাখ্যা করেছেন নিম্নরূপ –

”آسمان سے کئ تخت اترے پر تيرا تخت (رسول ص پاک کے بعد) سب سے اوپر بچھایا گیا”

অর্থাৎ ‘আকাশ থেকে কয়েকটি সিংহাসন নাযিল হয়েছে। কিন্তু তোমার সিংহাসনটি (রাসূলেপাকের পর) সবার উপরে পাতা হয়েছে।’ (আল-ফজল, তারিখ ১৯ই আগস্ট ১৯৬১ ইং রাবওয়া হতে প্রকাশিত)। স্ক্রিনশট –

এখন এখানে মির্যার কথিত ইলহামে পরিষ্কার করে বলা হল যে, মির্যার সিংহাসনটি সবার উপরে (سب سے اوپر) পাতা হয়েছে। কিন্তু মির্যার পুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ ‘সবার উপরে’ এই কথার ব্যাখ্যায় লিখলেন ‘রাসূলেপাকের পরে’ সবার উপরে। এতে কি তিনি শর্ত প্রযোজ্যের বিধান প্রয়োগ করলেন না? অবশ্যই করেছেন। তাহলে সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ১৪৪ এর الرسل এর মধ্যেও অনুরূপ শর্ত প্রযোজ্যের এই অভিন্ন বিধান প্রয়োগ করে যদি অর্থ করা হয় যে, ‘তার পূর্বে (জিবরাঈল, অন্যান্য ফেরেশতা এবং ঈসা মসীহ ব্যতীত) সব রাসূল গত হইয়া গিয়াছেন’—ভুল হবে কেন? কাদিয়ানীদের নিকট এর নিরপেক্ষ ও গঠনমূলক জবাব চাচ্ছি! এই আর্টিকেলের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘মিন কবলিহির রসুল’-এর সঠিক তাৎপর্য কী ও কেন—এ সম্পর্কে। প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ নিয়ে দালিলিক আরও কিছু আর্টিকেল প্রস্তুত করা হয়েছে। উপরে উল্লিখিত আর্টিকেল দুটিও দেখা যেতে পারে। লিখাটি ভালো লাগলে সবাই শেয়ার করবেন। ওয়াসসালাম।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী, শিক্ষাবিদ ও গবেষক।

সূরা তওবাহ আয়াত ৩৩ দ্বারাও ঈসা (আ.) জীবিত থাকা প্রমাণিত

কাদিয়ানীদের জন্য উচিত, পুরো আর্টিকেলটি ভালো মত পড়া এবং নিরপেক্ষ ভাবে কথাগুলোর উপর চিন্তা করে নিজের মনকে প্রশ্ন করা!

সূরা আত-তওবাহ, আয়াত নং ৩৩ : هُوَ ٱلَّذِيٓ أَرۡسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلۡهُدَىٰ وَدِينِ ٱلۡحَقِّ لِيُظۡهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ وَلَوۡ كَرِهَ ٱلۡمُشۡرِكُونَ অর্থ— তিনিই মহান আল্লাহ, যিনি (তোমাদের কাছে) সুস্পষ্ট হেদায়াত ও সঠিক জীবনবিধান সহকারে তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন, যেন তিনি এ (বিধান)-কে (দুনিয়ার) সব কয়টি বিধানের উপর বিজয়ী করে দিতে পারেন, মুশরিকরা (এ বিজয়কে) যত খারাপই মনে করুক না কেন!

সূরা আলে ইমরান আয়াত নং ৪৬ দ্বারাও ঈসা (আ.) জীবিত থাকা প্রমাণিত! পড়তে ক্লিক করুন Click

পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তওবাহ আয়াত নং ৩৩ এর মধ্যে হযরত ঈসা (আ.) সশরীরে ও রাজনৈতিক দর্পনেই (حكما عدلا তথা ন্যায়পরায়ণ প্রশাসক হিসেবে – বুখারী কিতাবুল আম্বিয়া) পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আগমন করার ইংগিতে ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে, লিখে গেছেন মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এই কথাগুলো তখন লিখেছিলেন যখন তিনি মামূর মিনাল্লাহ, মুলহাম এবং মুজাদ্দিদ হবার-ও দাবী করতেন। তিনি কিন্তু লিখে গেছেন,

“খোদা ইলহামের মাধ্যমে আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তুমি এই শতাব্দীর মুজাদ্দিদ এবং আল্লাহ তালার পক্ষ থেকে এই ইলহামও হয়েছে যে, الرحمن علم القرآن… الخ অর্থাৎ খোদা তোমাকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং তার সঠিক অর্থ তোমার উপর উন্মোচন করেছেন।” (কিতাবুল বারিয়্যাহ, রূহানী খাযায়েন ১৩/২০১, টিকা; ইলহাম ১৮৮২ ইং, তাযকিরাহ পৃষ্ঠা নং ৩৫, চতুর্থ এডিশন)।

এখন তাহলে কেমনে কী? কেননা, বারাহীনে আহমদীয়া চতুর্থ খণ্ড রচনা করেন ১৮৮৪ ইংরেজিতে। যেখানে তিনি সূরা তওবাহ আয়াত নং ৩৩ উল্লেখ করে কুরআন দ্বারা দলিল দিয়ে লিখেন যে, এই আয়াতে ইংগিতে একখানা ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে যে, মসীহ (ঈসা) এই পৃথিবীতে সশরীরে (جسمانى) এবং রাজনৈতিক দর্পনেই (سياست ملكى) পুনরায় আসবেন।

আর আল্লাহর পক্ষ হতে তার পবিত্র ‘কুরআনের সঠিক অর্থ শিক্ষা লাভ করা’র উক্ত কথিত ইলহাম ছিল ১৮৮২ সালের দিককার।

তাই এবার প্রশ্ন হল,

১- মির্যা সাহেব সূরা তওবার ৩৩ নং আয়াত দ্বারা যেখানে মসীহ (আ.)-এর সশরীরে ও রাজনৈতিক দর্পনেই পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আগমনের ইংগিতে ভবিষ্যৎবাণী থাকার কথা লিখলেন সেই আয়াতের বিপরীতে কুরআনের অপরাপর ত্রিশ আয়াত দ্বারা মসীহ’র (ঈসা) মৃত্যু হয়ে যাওয়া কিভাবে সাব্যস্ত হতে পারে? এতে কি পবিত্র কুরআনের ভেতর স্ববিরোধ কথা থাকার জঘন্য অভিযোগ উত্থাপন হল না?

২- আর যদি মির্যা সাহেব কর্তৃক লেখিত “বারাহীনে আহমদীয়া” (খণ্ড নং ৪) এর উক্ত কথাগুলো ভুল বা মিথ্যা হয় তাহলে তো আরও ভীষণ মুসিবত! যার দাবী, আল্লাহ তাকে কুরআনের সঠিক অর্থ শিখিয়ে দিয়েছেন (ইলহাম-১৮৮২ইং) তিনি কিভাবে বারাহীনে আহমদীয়া গ্রন্থের চতুর্থ খণ্ডে (রচনাকাল ১৮৮৪ইং) পরবর্তীতে এত জঘন্য ভুল করতে পারেন! অথচ তার মতে মসীহ’র জীবিত থাকার বিশ্বাস নাকি শিরিক! (রূহানী খাযায়েন ২২/৬৬০)!!

মির্যা সাহেব কিন্তু মুজাদ্দিদ, মামূর এবং মুলহাম দাবী করা অবস্থাতেও প্রায় ১০/১২ বছর পর্যন্ত এই কথাই বিশ্বাস করে আসছিলেন যে, মসীহ আকাশে জীবিত রয়েছেন। (হাকীকাতুন নবুওয়ত ; আনওয়ারুল উলূম ২/৪৬৩; মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ)।

মির্যা কাদিয়ানী সাহেব নিজের মসীহ দাবীর শখ পূর্ণ করতেই হযরত ঈসা (আ.)-কে মৃত ঘোষণা দিতে চাচ্ছেন এবং এইজন্য পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতকেও যাইচ্ছেতাই অপব্যাখ্যা দিতে মরিয়া ছিলেন তা কিন্তু এখন একদমই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে!

নইলে তিনি যে এও লিখলেন,

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তালা আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলের উপর ছাড়েন না এবং আমাকে রক্ষা করেন প্রত্যেক ভুল ভ্রান্তি থেকে এবং শয়তানি পথসমূহ থেকে তিনি আমাকে হেফাজত করেন।” (নূরুল হক, রূহানী খাযায়েন ২২/১৫৪)।

এবার তো অবস্থা আরও খারাপ! যাকে আল্লাহ এক মুহূর্তের জন্যও ভুলের উপর স্থির রাখেন না তিনি প্রায় ১০/১২ বছর এমন একখানা ভুলের উপর কিভাবে স্থায়ী থাকলেন যেই ভুল সাধারণ কোনো ভুল ছিলনা; বরং তার মতে শিরিক ছিল!

এখন হয়ত মির্যা সাহেবের আগের ইলহাম গুলো মিথ্যা ছিল, না হয় তার পরবর্তী ইলিহাম মিথ্যা ছিল বলে মানতে হবে।

একজন নিরপেক্ষ ও চিন্তাশীল আহমদীর মনে নিশ্চয়ই এই বিষয়গুলো ভাবনার জন্ম দেবে এবং ইসলামের মূলধারায় ফিরে আসতে সাহায্য করবে, ইনশাআল্লাহ।

  • কে জানি প্রশ্ন করতে চেয়েছিল যে, মির্যা সাহেব প্রথম দিকে ঈসা (আ.) সম্পর্কে এইভাবে লিখলেও পরবর্তীতে তিনি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলহাম পেয়ে ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু সম্পর্কে খুলাখুলিভাবে বলে যাননি?

উত্তরে বলতে চাই যে, পরবর্তীতে মির্যা সাহেব যে ইলহামের নাম ভেঙ্গে আগের সব বয়ান থেকে সরে আসলেন, তিনি কি ‘বারাহীনে আহমদীয়া’ গ্রন্থে আগের সেসব বয়ানও ইলহামের মাধ্যমে দিয়ে রাখেননি? তাই প্রশ্ন বরাবরের মতই। কোন ইলহাম সত্য? আগেরটা না পরেরটা?

তাছাড়া নিচের প্রশ্নগুলোরও কোনো উত্তর নেই! যেমন-

১৮৮২ সালের ইলহাম মতে, আল্লাহ তাকে কুরআনের সঠিক অর্থ শিখিয়ে দিয়েছেন। এখন তার ফলাফল কি তিনি ১৮৮৪ সালের দিকে লেখিত বারাহীনের মধ্যে ঈসা (আ.) এর দ্বিতীয়বার আসা এবং সশরীরে ও রাজনৈতিক দর্পনে আগমন করার বিশ্বাস ভুল হতে পারে?

মির্যার কথা অনুসারেই সাব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে যে, আগমনকারী মসীহ ‘রূপক কেউ হবেন না’ একথাই চূড়ান্ত। কেননা দ্বিতীয়বার যিনি আসবেন তিনি তো এমন কেউ-ই হবেন যিনি পূর্বেও একবার এসে গিয়েছিলেন, তাই নয় কি? আর তিনি মসীহে ইসরাইলি ব্যতীত আর কে হতে পারেন?

মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের দাবীমতে আল্লাহ তাকে কুরআনের সঠিক অর্থ শিখিয়ে দিয়েছেন! এরপরেও সে কিভাবে পরবর্তী দুই বছর পর আগের কথার বিরুদ্ধে গিয়ে বয়ান পালটে ফেলেন? তবে কি আল্লাহ তাকে কুরআনের সঠিক অর্থ শিখিয়ে দেয়ার ঐ ইলহামও মিথ্যা?

মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের মতে, আল্লাহ তাকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলের উপর স্থির রাখেন না। (রেফারেন্স উপরে দেয়া হয়েছে)।

এমতাবস্থায় তিনি পরবর্তীতে আরও প্রায় ১০/১২ বছর কিভাবে বিশ্বাস করে আসছিলেন যে, ঈসা (আ.) জীবিত আকাশে? তবে কি তাকে আল্লাহতালা এক মুহূর্তের জন্যও ভুলের উপর স্থির না রাখার দাবীটাই মিথ্যা? নাউযুবিল্লাহ।

মির্যা সাহেবের মতে, মুজাদ্দিদ ব্যক্তি নিজ থেকে বানিয়ে কিছুই বলেন না (রূহানী খাযায়েন ১৯/২২১)। এখন তাহলে তার মুজাদ্দিদ দাবীকালে ঈসা (আ.) সম্পর্কে তিনি যা যা লিখলেন তার সবই ভুল? ইন্না-লিল্লাহ!!! খুব খেয়াল করুন! মির্যা সাহেব নিজের ব্যাপারে একদম পরিষ্কার করে লিখে গেছেন যে, ‘আমি যাই বলেছি সব আল্লাহর নির্দেশেই বলেছি আর আমি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই করিনি।’ (রূহানী খাযায়েন ১৯/২২১)। এখন তাহলে পরবর্তীতে তার আগের সব বয়ান থেকে সরে আসার কারণ কী? এত ডজন ডজন অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তাও যার পিছু ছাড়েনি তার মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য আর কী বাকি থাকে? এই সমস্ত অসঙ্গতি তার সিজোফ্রেনিয়া আর হিস্টিরিয়া রোগের উপসর্গ নয় কি? সংক্ষেপে।

সুতরাং বুঝা গেল, কোথাও না কোথাও কোনো ফাঁকফোকর অবশ্যই রয়েছে!

প্রিয় পাঠকবৃন্দ! ইফতারের আগে এই লিখাটি লিখলাম। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, আমি এক বিন্দুও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে লেখিনি। মিথ্যাবাদীর উপর আল্লাহর অভিশাপ। আমীন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক।

আধুনিক কিছু মাসয়ালার শরয়ী সমাধান

0

আধুনিক সমস্যাবলীর শরয়ী সমাধান!

রোজার সমকালীন জরুরি কিছু মাসায়েল

১. ইনজেকশন (Injection): ইনজেকশন নিলে রোযা ভাঙবে না। [ফাত‌ওয়া শামী]।

২. ইনহেলার (Inhaler): শ্বাসকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরল জাতীয় একটি ওষুধ স্প্রে করে মুখের ভিতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করানো হয়, এভাবে মুখের ভিতর ইনহেলার স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভেঙ্গে যাবে। [জাদিদ ফিকহি মাসায়েল, ইমদাদুল ফাতওয়া]।

৩. এনজিও গ্রাম (Angio Gram): হার্ট ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়া দিয়ে কেটে বিশেষ রগের ভিতর দিয়ে হার্ট পর্যন্ত যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয় তার নাম এনজিও গ্রাম। এ যন্ত্রটিতে যদি কোন ধরনের ঔষধ লাগানো থাকে তারপরেও রোজা ভাঙ্গবে না।
[ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা]।

৪. এন্ডোস কপি (Endos Copy): চিকন একটি পাইপ যার মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটি পাকস্থলিতে ঢুকানো হয় এবং বাইরে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। এ নলে যদি কোন ঔষধ ব্যবহার করা হয় বা পাইপের ভিতর দিয়ে পানি/ঔষধ ছিটানো হয়ে থাকে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে, আর যদি কোন ঔষধ লাগানো না থাকে তাহলে রোযা ভাঙ্গবে না। [জাদীদ ফিকহী মাসায়েল]।

৫. নাইট্রোগ্লিসারিন (Nitro Glycerin): এরোসল জাতীয় ঔষধ, যা হার্টের রোগীরা দুই-তিন ফোঁটা জিহ্বার নীচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখে অতঃপর ঔষধটি শিরার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায়। এই ঔষধের কিছু অংশ গলায় প্রবেশ করার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। অতএব,এতে রোজা ভেঙ্গে যাবে। [জাদীদ ফিকহী মাসায়েল]।

৬. লেপারোস কপি (Laparoscopy): শিক্ জাতীয় একটি যন্ত্র; যা পেট ছিদ্র করে পেটের ভিতরের কোন অংশ বা গোশত ইত্যাদি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের করে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে যদি ঔষধ লাগানো থাকে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে অন্যথায় রোযা ভাঙ্গবে না। [মাকালাতুল ফিকহীয়া]।

৭. অক্সিজেন (Oxygen): রোজা অবস্থায় ঔষধ ব্যবহৃত অক্সিজেন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে শুধু বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোযা ভাঙ্গবে না। [জাদীদ ফিকহী মাসায়েল]।

৮. মস্তিস্ক অপারেশন (Brain Operation): রোজা অবস্থায় মস্তিস্ক অপারেশন করে ঔষধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক রোজা ভাঙ্গবে না। [মাকালাতুল ফিকহীয়াহ]।

৯. রক্ত নেয়া বা দেয়া : রোযা অবস্থায় রক্ত দিলে রোযা ভাঙ্গে না। তাই টেস্ট বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া যাবে। তবে এ পরিমাণ রক্ত দেওয়া মাকরুহ যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোযা রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে। তাই দুর্বল লোকদের জন্য রোযা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত দেওয়া ঠিক নয়। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোযা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোযা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোন অসুবিধা নেই। [আলবাহরুর রায়েক]।

১০. সিস্টোসকপি (cystoscopy): প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় এর দ্বারা রোজা ভাঙ্গবে না। [হেদায়া]।

১১. প্রক্টোসকপি (proctoscopy): পাইলস, পিসার, অর্শ, হারিশ, বুটি ও ফিস্টুলা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোসকপ বলে। মলদ্বার দিয়ে নল প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। রোগী যাতে ব্যথা না পায় সে জন্য নলের মধ্যে গ্লিসারিন জাতীয় কোন পিচ্ছিল বস্তু ব্যবহার করা হয়। নলটি পুরোপুরি ভিতরে প্রবেশ করে না। চিকিৎসকদের মতানুসারে ঐ পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সাথে মিশে থাকে এবং নলের সাথেই বেরিয়ে আসে, ভেতরে থাকে না। আর থাকলেও তা পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। যদিও শরীর তা চোষে না কিন্তু ঐ বস্তুটি ভিজা হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
[ফাতওয়া শামী]।

১২. কপার-টি (Coper-T): কপার-টি বলা হয়, যোনিদ্বারে প্লাস্টিক লাগানোকে, যেন সহবাসের সময় বীর্যপাত হলে বীর্য জরায়ুতে পৌঁছাতে না পারে। এ কপার-টি লাগিয়েও সহবাস করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। কাযা কাফফারা উভয়টাই ওয়াজিব হবে।
[ফাত‌ওয়া শামী]।

১৩. সিরোদকার অপারেশন (Shirodkar Operation): সিরোদকার অপারেশন হল, অকাল গর্ভপাত হওয়ার আশংকা থাকলে জরায়ুর মুখের চতুষ্পার্শ্বে সেলাই করে মুখকে খিচিয়ে রাখা। এতে অকাল গর্ভপাত রোধ হয়।যেহেতু এতে কোন ঔষধ বা বস্তু রোযা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য স্থানে পৌঁছে না তাই এর দ্বারা রোযা ভাঙ্গবে না। [ফাত‌ওয়া শামী]।

১৪. ডি এন্ড সি (Dilatation and Curettage): ডি এন্ড সি হল, আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্য Dilator এর মাধ্যমে জীবত কিংবা মৃত বাচ্চাকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে নিয়ে আসা। এতে রোযা ভেঙ্গে যাবে। অযথা এমন করলে কাযা কাফফারা উভয়টি দিতে হবে এবং তওবা করতে হবে। [হেদায়া]।

১৫. এম.আর (M.R): এম, আর হল, গর্ভ ধারণের পাঁচ থেকে আঁট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে এম,আর সিরিঞ্জ প্রবেশ করিয়ে জীবত কিংবা মৃত ভ্রণ নিয়ে আসা। যারপর ঋতুস্রাব পুনরায় হয়। এতে মাসিক শুরু হওয়ার কারণে রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা করতে হবে। কিন্তু যদি রাতের বেলা করা হয় তাহলে দিনের রোজা কাযা করতে হবে না। [ফতহুল কাদীর]।

১৬. আলট্রাসনোগ্রাম (Ultrasongram): আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যে ঔষধ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয় সবই চামড়ার উপরে থাকে, তাই আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোযা ভাঙ্গবে না। [হেদায়া]।

১৭. স্যালাইন (Saline): স্যালাইন নেয়া হয় রগে, আর রগ যেহেতু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা নয়, তাই স্যালাইন নিলে রোজা ভাঙ্গবে না, তবে রোজার কষ্ট লাঘবের জন্য স্যালাইন নেয়া মাকরূহ। [ফতওয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ]।

১৮. টিকা নেয়া (Vaccine) : টিকা নিলে রোজা ভাঙ্গবে না। কারণ, টিকা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তায় ব্যবহার করা হয় না। [আপকে মাসায়েল]।

১৯. ঢুস লাগানো (Douche): ঢুস মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভিতরে প্রবেশ করে, তাই ঢুস নিলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। ঢুস যে জায়গা বা রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে এ জায়গা বা রাস্তা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য স্থান।
[ফাতওয়া শামী]।

২০. ইনসুলিন গ্রহণ করা (Insulin): ইনসুলিন নিলে রোজা ভাঙ্গবে না। কারণ, ইনসুলিন রোযা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না ।
[জাদীদ ফিকহী মাসায়েল]।

২১. দাঁত তোলা: রোজা অবস্থায় একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁত তোলা জায়েয আছে। তবে অতি প্রয়োজন না হলে এমনটা করা মাকরূহ। ঔষধ যদি গলায় চলে যায় অথবা থুথু থেকে বেশী অথবা সমপরিমান রক্ত যদি গলায় যায় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
[আহসানুল ফতওয়া]।

২২. পেস্ট, টুথ পাউডার ব্যবহার করা : রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কিন্তু গলায় পৌঁছালে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
[জাদীদ ফিকহী মাসায়েল]।

২৩. মিসওয়াক করা : শুকনা বা কাঁচা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজার দ্বারা রোজার কোন ক্ষতি হয় না। চাই যখনই মিস‌ওয়াক করা হোক না কেন। [ফাতওয়া শামী]।

২৪. মুখে ঔষধ ব্যবহার করা : মুখে ঔষধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে বা ঔষধের অংশ বিশেষ গলায় প্রবেশ করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। গলায় প্রবেশ না করলে রোজা ভাঙ্গবে না। [ফাতওয়া শামী]।

২৫. রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দেয়া: রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। তবে খুব বেশী পরিমাণে রক্ত দেয়া যার দ্বারা শরীরে দুর্বলতা আসে, তা মাকরূহ। [ফাত‌ওয়া শামী]।

২৬. ডায়াবেটিসের ‍সুগার মাপা: ডায়াবেটিসের ‍সুগার মাপার জন্য সুচ ঢুকিয়ে যে একফোটা রক্ত নেয়া হয়, এতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। [ফাত‌ওয়া শামী]।

২৭. নাকে ঔষধ দেয়া : নাকে পানি বা ঔষধ দিলে যদি তা খাদ্য নালীতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা করতে হবে। [ফাত‌ওয়া শামী]।

২৮. চোখে ঔষধ বা সুরমা ব্যবহার করা : চোখে ঔষধ বা সুরমা ব্যবহার করার দ্বারা রোজা ভাঙ্গবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় অনুভব হয়। [হেদায়া]।

২৯. কানে ঔষধ প্রদান করা : কানে ঔষধ, তেল ইত্যাদি ঢুকালে রোযা ভেঙ্গে যাবে। তবে গোসল করার সময় অনিচ্ছায় যে পানি কানে ঢুকে তাতে রোযা ভঙ্গ হবে না। অবশ্য এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, যেন পানি গলায় চলে না যায়। [মাকালাতুল ফিকহীয়াহ]।

৩০. নকল দাঁত মুখে রাখা: রোজা রেখে নকল দাঁত মুখে স্থাপন করে রাখলে রোজার কোন ক্ষতি হয় না। [ইমদাদুল ফতওয়া]।

সংগৃহীত, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

সুনানু দারে কুতনি এর হাদীস ‘ইন্না লি মাহদীনা’ এর তাহকীক

হাদীস :

إن لمهدينا آيتين لم تكونا منذ خلق السماوات والأرض، تنكسف القمر لأول ليلة من رمضان، وتنكسف الشمس في النصف منه، ولم تكونا منذ خلق الله السماوات والأرض

(উচ্চারণ : ইন্না লি মাহদীনা আয়াতাইনি লাম তাকূনা মনযু খালকিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি। তানকাছিফুল ক্বমারু লি আওয়ালি লায়লাতিম মিন রমাযানা। ওয়া তানকাছিফুশ শামছু ফিন নিছফি মিনহু। ওয়া লাম তাকূনা মনযু খালাক্বাল্লাহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা)।

মির্যা গোলাম আহমদ কৃত অনুবাদ : “আমাদের মাহদীর সত্যায়নের জন্য দুটি নিদর্শন নির্ধারিত আছে। আসমান জমিন যখন থেকে সৃষ্টি হয় তখন থেকে এই দুটি নিদর্শন কোনো দাবীদারের সময় প্রকাশিত হয়নি। আর সেটি হচ্ছে মাহদী দাবীদারের সময় চন্দ্র তার গ্রহণের তিন রাত্রির প্রথম রাত্রিতে অর্থাৎ ১৩তম তারিখে গ্রহণ লাগবে। সূর্য তার গ্রহণের দিনগুলোর মাঝখানের দিনটিতে অর্থাৎ ২৮ তারিখে গ্রহণ লাগবে। যখন থেকে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে কোনো দাবীদারের জন্য মতৈক্য হয়নি যে, তার দাবীর সময় রমাযানের উক্ত তারিখেই চন্দ্রগ্রহণ আর সূর্যগ্রহণ হয়েছেই।” (উর্দূ থেকে বাংলা অনুবাদ-রূহানী খাযায়েন ১১/৩৩০)।

সঠিক অনুবাদ : “নিশ্চয়ই আমাদের মাহদীর জন্য দুইটি নিদর্শন রয়েছে। আসমান জমিন সৃষ্টি হতে অদ্যাবধি এই দুটি নিদর্শন প্রকাশিত হয়নি। একটি হল, রমাযানের প্রথম রাত্রিতে চন্দ্রগ্রহণ লাগবে এবং দ্বিতীয়টি হল, রামাযানের অর্ধ-দিবসে সূর্য গ্রহণ লাগবে। অথচ যখন থেকে আল্লাহতালা আসমান জমিন সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে (অদ্যাবধি) এই দুটি নিদর্শন প্রকাশিত হয়নি।”

সংক্ষিপ্ত আলোচনা : সুনানু দারে কুতনি গ্রন্থে বর্ণিত এই বর্ণনাটি মারফূ (যার সনদ রাসূল সা. পর্যন্ত পৌঁছেছে এমন) তো নয়, কোনো সাহাবী থেকেও বর্ণিত হবার প্রমাণ নেই। এটি মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন নামক একজন ক্ষুদে তাবেয়ীর বক্তব্য হিসেবে কতেক অগ্রহণযোগ্য ও মিথ্যুক রাবীর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেছেন, এটি মুনকার তথা অগ্রহণযোগ্য রেওয়ায়েত। (দারে কুতনি, কিতাবুল ঈদাইন ক্রমিক নং ১৭৭৭)। ডাউনলোড লিংক। রিজাল শাস্ত্রের কিতাব ‘তাকরীবুত তাহযীব’ এবং ‘তাহযীবুত তাহযীব’ এর মধ্যে পরিষ্কার লিখা আছে যে,

قال ابن حبان: رافض يشتم الصحابة ويروي الموضوعات عن الثقات. قال أبو حاتم: منكر الحديث جدا ضعيف الحديث لا يشتغل به تركوه. وكذلك وهاه غير واحد منهم

অর্থাৎ ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.) বলেছেন, এর বর্ণনাকারী আমর ইবনে শিমার একজন রাফেজি ছিল। সে সাহাবীদের গালমন্দ করত। সে বহু বিশ্বস্ত রাবীর নামে অনেক বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করত। ইমাম আবু হাতিম (রহ.) বলেছেন, এটি একটি মুনকার হাদীস ও খুবই দুর্বল হাদীস।

শায়খ নাসির উদ্দীন আল বানী (রহ.) কৃত ‘ছিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি সালাতিল কুসুফ’ গ্রন্থেও বর্ণনাটি উল্লেখপূর্ব লিখা আছে যে, এর সনদ খুবই দুর্বলডাউনলোড লিংক। (খণ্ড নং ১, পৃষ্ঠা নং ১৮)।

এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন –

চন্দ্রসূর্যগ্রহণ কি মাহদীয়তের নিদর্শন?

কাদিয়ান থেকেও কি দেখা গিয়েছিল?

সম্পর্কিত তথ্যসূত্র এর স্ক্রিনশট –

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক