Home Blog Page 27

মির্যা কাদিয়ানী কি ইসলামের খাদেম?

0

মির্যা কাদিয়ানী কি নিজেকে ইসলামের খাদেম বা সেবক বলেই মনে করতেন?

প্রশ্নকর্তা : কাদিয়ানের মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অনুসারীরা তাকে ইসলামের খাদেম বা সেবক বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। এখন জানার বিষয় হল, মির্যা গোলাম আহমদ সাহেব নিজেকে সত্যিই কি এই রকমটাই মনে করতেন?

উত্তরদাতা : অপ্রিয় হলেও সত্য এই যে, মির্যা কাদিয়ানী সাহেব নিজেকে “খাদেমে ইসলাম” বা ইসলামের সেবক” মনে করতেন না, একথা তারই পুত্রধন মির্যা বশির আহমদ এম.এ সাহেব তার সীরাতে মাহদীতে লিখে রেখেছেন। ডাক্তার আব্দুল হাকিমখান মির্যা কাদিয়ানীর ২০ বছরের ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে মির্যাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়ে ইসলামে ফিরে আসেন। ডাক্তার আব্দুল হাকিম সাহেব কাদিয়ানী থাকাকালীন মির্যাকে উদ্দেশ্য করে পত্র লিখেছিলেন। মির্যা সাহেব সেই পত্রে উল্লিখিত آپكا وجود خادم اسلام هے نه كه عين اسلام (আপনার আবির্ভাব ইসলামের একজন সেবক হিসেবেই, ইসলামের মূল হিসেবে নয়) ডাক্তার সাহেবের কথাটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বরং নিজেকে একজন روح اسلام বা ইসলামের প্রাণ তথা মূল বলেই আখ্যা দিয়ে প্রতিউত্তর লিখেছেন। এইকথা তারই পুত্রের বইতে লিখা আছে। (দেখুন, সীরাতে মাহদী বর্ণনা নং ৬৬৫)।

এখন তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে আমার জিজ্ঞাসা, এমতাবস্থায় আপনারা কিজন্য কথায় কথায় তাকে ইসলামের একজন “সেবক” বলে আখ্যা দেন এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর একজন দাস বলেন? কোনো নবীর দাস কি ঐ নবীর আনীত দ্বীন ও শরীয়তের প্রাণ হতে পারে? জ্ঞানীদের নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলবে।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ইমাম মাহদীর নিকট প্রথম বাইয়েত নেয়ার সংখ্যাটি তিনশত তের হওয়া!

ইমাম মাহদীর নিকট প্রথম বাইয়েত নেবেন যারা তাদের সংখ্যাটি কত? তিনশত তের? এইধরনের কোনো সহীহ হাদীস কি রয়েছে? আজকে এই সম্পর্কে প্রামাণ্য কিছু আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ। প্রথমে এই সম্পর্কে হাদীসটির আরবী পাঠ নিচে দেখুন,

ইমাম নু’আইম বিন হাম্মাদ (রহ.) সংকলিত ‘আল ফিতান‘ গ্রন্থে হাদীসটি কয়েকটি সনদেই বর্ণিত আছে। সবগুলো সনদই জাল, মিথ্যা আর দুর্বল বলেই উল্লেখ রয়েছে। এখানে তন্মধ্য হতে যে বর্ণনাটি উল্লেখ করছি সেটি উক্ত ‘আল ফিতান’ এর হাদীস নং ৯৮৬ এবং ইমাম হাকেম (রহ.) এর ‘আল মুস্তাদরাক‘ এর ৮৫৩৭ নং হাদীস। হাদীসটির সনদ বা বর্ণনাসূত্র সহ উল্লেখ করছি, ইমাম নু’আইম বিন হাম্মাদ বলেন,

أبي يوسف المقدسي ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فِي ذِي الْقَعْدَةِ تُجَاذِبُ الْقَبَائِلُ وَتُغَادِرُ ، فَيُنْهَبُ الْحَاجُّ ، فَتَكُونُ مَلْحَمَةٌ بِمِنًى ، يَكْثُرُ فِيهَا الْقَتْلَى ، وَيَسِيلُ فِيهَا الدِّمَاءُ ، حَتَّى تَسِيلَ دِمَاؤُهُمْ عَلَى عَقَبَةِ الْجَمْرَةِ ، وَحَتَّى يَهْرُبَ صَاحِبُهُمْ فَيَأْتِي بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ ، فَيُبَايَعُ وَهُوَ كَارِهٌ ، يُقَالُ لَهُ: إِنْ أَبِيتَ ضَرَبْنَا عُنُقَكَ ، يُبَايِعُهُ مِثْلُ عِدَّةِ أَهْلِ بَدْرٍ يَرْضَى عَنْهُمْ سَاكِنُ السَّمَاءِ وَسَاكِنُ الْأَرْضِ

অর্থাৎ আবু নু’আইম বিন হাম্মাদ এটি আবু ইউসুফ আল মাক্বদিসি থেকে তিনি আবুল মালেক ইবনে আবী সুলাইমান থেকে, তিনি আমর বিন শুয়াইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, আর তার পিতা তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ‘জিলক্বদ মাসে গোত্রে গোত্রে বিবাদ শুরু হবে। সে বছর হজ্ব নিষিদ্ধ থাকবে। মীনায় তীব্র লড়াই হবে। অধিকাংশ মানুষ তাতে মারা যাবে। প্রচুর রক্ত প্রবাহিত হবে। এমনকি রক্ত জামরাহ পর্যন্ত চলে আসবে। এ খুন চলতে থাকবে যতক্ষণ না মীনা থেকে লোকজন পালিয়ে যায়। তখন তিনি (ইমাম আল মাহদী) রুকনে ইয়ামিনী এবং মাকামে ইবরাহীমের মাঝখানে থাকবেন। তারপর তাঁর হাতে বাইয়েত হবে লোকজন। যদিও তিনি তা অপছন্দ করেন। তখন তাকে বলা হবে, যদি তুমি বাইয়েত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাও তাহলে তোমাকে হত্যা করা হবে। তখন তিনি বদর সংখ্যক (৩১৩জন) অনুসারীকে বাইয়েত করবেন। তার উপর আসমান ও জমিনের অধিবাসীগণ সন্তুষ্ট হবেন। (কিতাবুল ফিতান, হাদীস নং-৯৮৬)।

হাদীসের সনদ বা সূত্র বিশ্লেষণ :
উল্লিখিত হাদীসের বর্ণনাসূত্রে এক ব্যক্তি হলেন আবু ইউসুফ আল মাক্বদিসি। তার প্রকৃত নাম, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল মাক্বদিসি। ইমাম যাহাবী তার সম্পর্কে লিখেছেন هو متهم ، ليس بثقة অর্থাৎ সে (মিথ্যাবাদী হিসেবে) অভিযুক্ত, সে বিশ্বস্ত নয়। (মীযানুল ই’তিদাল রাবী নং ৭৮৪৯)। ইমাম আবুল ফাতহ আল আযদী (রহ.) বলেছেন كذاب، متروك الحديث অর্থাৎ সে ছিল একজন বড় মিথ্যাবাদী, তার বর্ণনাকৃত হাদীস মাতরূক তথা অগ্রহণযোগ্য। (সূত্র, ঐ)। সনদের দ্বিতীয় ব্যক্তি মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ আল আ’র‍যামী। তার সম্পর্কে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেছেন ترك الناس حديثه অর্থাৎ লোকেরা তার হাদীস পরিত্যাগ করেছে। (মীযানুল ই’তিদাল রাবী নং ৭৯০৫)। ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.) বলেছেন لا يكتب حديثه অর্থাৎ তার হাদীস লিখাযোগ্য নয়। (সূত্র, ঐ)।

একটি প্রশ্নের উত্তর চাচ্ছি : আহমদী বা কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের নিরপেক্ষ বিবেকের নিকট একটি প্রশ্ন, আপনাদের মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সাহেবের নানা বইপুস্তকেও উক্ত হাদীসটির উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে পুরোপুরি উল্লেখ পাওয়া যায়না, আবার যতটুকু পাওয়া যায় ততটুকুও গোঁজামিলে ভরা। যেমন তিনি লিখেছেন, “যেহেতু সহীহ হাদীসে আছে, ইমাম মাহদীর কাছে একটি কিতাব থাকবে যার মধ্যে ৩১৩ জন সাথীর নাম থাকবে। সে ভবিষ্যতবাণী আজ পূরণ হল।” (রূহানী খাযায়েন ১১:৩২৪)। কিন্তু এধরণের কোনো সহীহ কিংবা জঈফ হাদীস থাকাটাও প্রমাণিত নয়। এখন কথা হল, মির্যা সাহেব কিজন্য উপরিউক্ত সম্পূর্ণ হাদীসটি উল্লেখ না করেই অতিব সংক্ষেপে ও খণ্ডিতাংশ উল্লেখ করে গেছেন তা দেরিতে হলেও নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। যদিও এই হাদীসটি সনদের বিচারে মোটেও অথেনটিক নয়, পুরোপুরি প্রত্যাখ্যাত কিন্তু আমি সেদিকে এই মুহূর্তে যেতে চাচ্ছিনা। এখানে আমার বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, একজন ইমাম মাহদী দাবীদার কিভাবে পারলেন, এখানেও পাঠককে ধোকা দিতে? পুরো হাদীসটি উল্লেখ করা হলে পাঠকবৃন্দ কি কখনোই মির্যা গোলাম আহমদ সাহেবকে হাদীসের ফরমান অনুযায়ী ইমাম মাহদী বিশ্বাস করবে? কখনোই না। কেননা, তখন প্রশ্ন আসবে যে, মির্যা সাহেবই যদি হাদীসের ফরমান অনুযায়ী প্রকৃতপক্ষে ইমাম মাহদী হন তবে তিনি কিজন্য উক্ত বাইয়েতটি রুকন এবং মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে সম্পন্ন করলেন না? অথচ মির্যা সাহেব বাইয়েত নিয়েছিলেন পাকিস্তানের শিয়ালকোট জেলায় ১৮৮৯ সালের দিকে। তাও তিনি তখন তার উক্ত বাইয়েত মাহদীয়তের উপর নেননি, নিয়েছিলেন তার মুজাদ্দিয়তের উপর। অথচ ইমাম মাহদী প্রথমে মুজাদ্দিয়তের উপর বাইয়েত নেবেন, এমন কোনো কথা কোথাও ইংগিতেও নেই। অন্ততপক্ষে এই একটি মানদণ্ডেও মির্যা গোলাম আহমদ এর মাহদী দাবী মিথ্যা আর প্রতারণা সাব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। মির্যা গোলাম আহমদ সাহেব মূলত এইজন্যই পুরো হাদীসটি উল্লেখ করার সাহস পাননি, কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন। এখন এর চাইতে বড় জালিয়াতি আর প্রতারণা আর কী হতে পারে?

আপনার নিরপেক্ষ বিবেক কী বলে? এমন প্রতারক আদৌ কি ইমাম মাহদী দাবীতে সত্যবাদী হবেন? মির্যা কাদিয়ানীর প্রথম বাইয়েত মাহদীয়তের উপর ছিলনা, ছিল মুজাদ্দিয়তের উপর। ১৮৮৯ সালে। প্রমাণ দেখুন,

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

আহমদীয়া অমুসলিম জামা’ত এর ধর্মবিশ্বাস

এক নজরে কাদিয়ানী ধর্মবিশ্বাস

১৯০৩ এবং ১৯০৪ সালে পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলার সুপ্রিমকোর্টের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মৌলভি করম উদ্দীন জিহলমী সাহেবের সাথে দ্বিপাক্ষিক কথোপকথন অবস্থায় ও মাননীয় ম্যাজিস্ট্রেট জনাব লালা আথমারাম (لالہ آتمارام) এর সম্মুখে মির্যা কাদিয়ানী নিজের ধর্মমত নিম্নরূপ ব্যক্ত করেন যা তারই কথিত ‘কামরুল আম্বিয়া’ উপাধীপ্রাপ্ত পুত্রধন মির্যা বশির আহমদ এম.এ রচিত সীরাতে মাহদী বইয়ের তৃতীয় খন্ডের ৬৯৫ নং বর্ণনা অনুসারে নিচে উল্লেখ করছি :

মির্যা কাদিয়ানী বলেছেন :-
১- ঈসা (আ:) মারা গেছেন।
২- ঈসা (আ:) ক্রুসবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাঁকে বেহুঁশ অবস্থায় শূলি থেকে নামানো হয়েছিল।
৩- ঈসা (আ:) সশরীরে আকাশে যাননি।
৪- ঈসা (আ:) আকাশ থেকে নাযিল হবেন না এবং কারো সাথে লড়াইও করবেন না।
৫- এমন কোনো মাহদী হবেনা যিনি দুনিয়ায় এসে খ্রিষ্টান আর অন্যান্য বিধর্মীর সাথে যুদ্ধ করবেন এবং অমুসলিমদেরকে ক্বতল (হত্যা) করবে ও ইসলামের বিজয় আনয়ন করবে।
৬- এই যুগে (শেষ যামানায়) জিহাদ করা অর্থাৎ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে লড়াই করা সম্পূর্ণ হারাম।
৭- এটা একদমই ভুল কথা যে, মসীহ মওঊদ (ঈসা) এসে ক্রুস ভাঙ্গবেন এবং শুয়োর মারবেন।
৮- আমি মির্যা গোলাম আহমদ মসীহ মওঊদ, মাহদী, ইমামুযযামান, মুজাদ্দিদ, প্রতিবিম্ব স্বরূপ রাসূল এবং আল্লাহর নবী এবং আমার উপর খোদার ওহী নাযিল হয়ে থাকে।
৯- মসীহ মওঊদ (মির্যা কাদিয়ানী) এই উম্মতের বিগত সমস্ত আউলিয়া হতে আফদ্বল (শ্রেষ্ঠ)।
১০- খোদাতালা মসীহ মওউদ (মির্যা কাদিয়ানী)’র সত্তায় সমস্ত নবীর সিফাত (গুণাবলী) এবং ফজিলত (শ্রেষ্ঠত্ব) একত্র করে দিয়েছেন।
১১- কাফের জাহান্নামে সর্বদা থাকবেনা।
১২- ইমাম মাহদী কুরাইশ বংশীয় হবেনা।
১৩- উম্মতে মুহাম্মদিয়ার মসীহ আর ইসরাইলী মসীহ দুইজনই ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি এবং মসীহে মুহাম্মদী (মির্যা কাদিয়ানী) তিনি ইসরাইলী মসীহ’র (হযরত ঈসা আঃ) চেয়ে আফদ্বল (শ্রেষ্ঠ)।
১৪- হযরত ঈসা (আ:) তিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করেননি।
১৫- হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর মেরাজ সশরীরে (জাগ্রত অবস্থায়) হয়নি।
১৬- খোদাতালার ওহী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যায়নি। (অনুবাদ সমাপ্ত হল)।

আশাকরি এইটুকুতেই পরিষ্কার হয়ে গেল যে, শেষনবী মুহাম্মদে আরাবী (সা:)-এর আনীত পবিত্র ইসলামের সুপ্রতিষ্ঠিত আক্বীদার মুকাবিলায় কাদিয়ানী আক্বীদার বীভৎস রূপটা কেমন! (সীরাতে মাহদী বইয়ের প্রদত্ত স্ক্রিনশট হতে উপরের কথাগুলো মিলিয়ে নিন)।

প্রামাণ্য স্ক্যানকপি

শেষকথা, কাদিয়ানী জামাতের মুরুব্বী পর্যায়ের উর্ধতন দায়িত্বশীলদের অনেকেই প্রতিনিয়ত একটি মিথ্যা বারবার উচ্চারণ করে থাকে, তা হল তাদের আর আমাদের (মুসলমানদের) মাঝে নাকি মৌলিক কোনো পার্থক্যই নেই; বেশি থেকে বেশি পার্থক্য শুধুই এটি যে, আগমনকারী ইমাম মাহদীকে তারা মেনে নিয়েছে আর বিপরীতে আমরা তাকে মেনে নিইনি! এবার চিন্তা করে দেখুন, কত নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী আর প্রতারক এরা। উল্লেখ্য, হযরত মুহাম্মদ (সা.) যেই ইমাম মাহদী সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন এবং সহীহ সূত্রে বর্ণিত হাদীস সমূহ হতে ইমাম মাহদীর নাম, পিতার নাম, বংশপরিচয়, জন্মস্থান এবং হিজরত ও বাইয়েত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে তার কোনো একটির সাথেও কাদিয়ানের সিজোফ্রেনিয়া রোগী মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর মিল পাওয়া যায়না। প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী সম্পর্কে জানুন Click

অনুবাদক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

মির্যা কাদিয়ানী সত্যিই কি খোদা দাবীও করেছিল?

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এবং সিজোফ্রেনিয়া রোগ ও খোদা দাবী প্রসঙ্গে,

খোদা দাবীঃ

একজন মানুষ নিজেকে ‘খোদা‘ দাবী করতে পারে কিভাবে তা বুঝে আসেনা। হ্যাঁ, ইতিহাস সাক্ষী, এইরূপ দাবী ইতিপূর্বে অনেকেই করেছিল। যেমন পবিত্র কুরআনে ফেরাউন সম্পর্কে উল্লেখ আছে فَقَالَ أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَىٰ অর্থাৎ সে বলেছিল, আমি তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন প্রভু। (সূরা নাযেয়াত ২৪)। তবে সিজোফ্রেনিয়া রোগ বিশেষজ্ঞগণ লিখে গেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় তখন সে বেশ কিছু অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখা দেবে, নিজকে নিজ সর্বদা নিরাপত্তাহীন অনুভব করবে, অন্যকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখবে। গায়েব থেকে অদৃশ্যের আওয়াজ শুনার দাবী করবে যা অন্যরা শুনতে পায় না। এই ধরনের রোগী যদি খুব বেশি ট্যালেন্টপুল (মেধাবী) হয় তখন সে নিজেকে খোদার প্রেরিত পুরুষ, নবী হবার দাবীও করে; কখনো কখনো খোদার প্রতিচ্ছবি কিংবা হুবহু খোদা দাবীও করে বসে।

সিজোফ্রেনিয়া রোগীঃ

সিজোফ্রেনিয়া শব্দটি ইংরেজি আর উর্দুতে এর প্রতিশব্দ হল মিরাক্ব কিবা মালিখোঁলিয়া। আরবী-বাংলা অভিধানে মিরাক্ব অর্থ ‘মস্তিষ্কবিকৃতি‘ লিখা আছে। এই রোগ বিশেষজ্ঞগণ আজ থেকে প্রায় ৬শত বছর আগেই লিখে গেছেন যে, এই রোগে আক্রান্তদের অধিকাংশই অদ্ভুত ধরণের আচরণ প্রদর্শন করতে থাকে। তন্মধ্যে নিজেকে ‘খোদা’ দাবী অন্যতম। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এশিয়ার উত্তর-পূর্ব উজবেকিস্তানের জারেফশান নদী উপত্যকায় অবস্থিত প্রসিদ্ধ শহর সমরকন্দ নগরে জন্মগ্রহণকারী বিশিষ্ট হেকিম বুরহান উদ্দীন নাফীস [মৃত. ১৪৩৮ খ্রি.] (নাফীস আল কিরমানী নামে প্রসিদ্ধ)ও একই তথ্য দিয়ে গেছেন। হেকিম নাফীস আল কিরমানী কর্তৃক বিরচিত ‘শরহুল আছবাব ওয়াল আ’লামাত‘ (شرح الاسباب و العلامات) খ-১ পৃ-৬৭-৭০ বইটি দ্রষ্টব্য।

ইরানের খোরাসান শহরের অধিবাসী হাকিম মুহাম্মদ আ’যম খান চিশতীও একই কথা লিখে গেছেন। তার রচিত একছীরে আ’যম (اكسير اعظم) বইটির খ-১ পৃ-১৮৮ দ্রষ্টব্য; فصل امراض دماغ طريق تشخيص ماليخوليا বা সিজোফ্রেনিয়া রোগনির্ণয়-এর পদ্ধতি ও মস্তিষ্ক ব্যাধীর পরিচ্ছেদ দেখা যেতে পারে। এখন একছীরে আ’যম নামক সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থকার সম্পর্কে একটু লিখতে চাই!

হাকিম মুহাম্মদ আ’যম খান চিশতী (মৃত্যু ১৩২০ হিজরী মুতাবিক ১৯০২ ইং), যিনি নাজিম জাহান নামে পরিচিত। তিনি চিকিৎসা-সম্রাট হাকিম শাহ আজম খান সিস্তানির পুত্র। তিনি কবি, সুপ্রসিদ্ধ ইউনানী চিকিৎসক, উপমহাদেশীয় ইসলামী জগতের ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম বিরল ব্যক্তিত্ব। তার প্রধান জন্মভূমি ছিল, সিস্তান খোরাসান। তার প্রপিতামহ হাকিম মুহাম্মদ কাজেমখান খোরাসান (ইরান) থেকে কাবুলে হিজরত করেছিলেন। হাকিম মুহাম্মদ আজম খানের বয়স যখন মাত্র ১৬ বছর, তখন তার পিতা মারা যান। তিনি তার পিতা এবং অন্যান্য উস্তাদগণের কাছ থেকে চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়ন করেন এবং অনেক মূল্যবান অবদান রেখে যান। একছীরে আ’যম (৫ খণ্ডে) কিতাবটি তারই চিকিৎসা শাস্ত্রে অন্যতম। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন।

অপ্রিয় হলেও সত্য, মির্যা কাদিয়ানীর দ্বিতীয় স্ত্রী নুসরাত জাহানের সংসারে ১৮৮৮ সালে জন্মগ্রহণকারী প্রথম ছেলে বশিরে আওয়াল এর মৃত্যুর পরপরই স্ত্রীর সাক্ষ্যমতে মির্যা গোলাম আহমদ মিরাক্ব তথা সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে যান। আর এই তথ্যটি মির্যার মেঝো ছেলে মির্যা বশির আহমদ এম.এ স্বীয় রচনা ‘সীরাতে মাহদী‘ এর ১ম খন্ডের বর্ণনা নং ১৯ এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।

আধুনিক অনেক কাদিয়ানী এখানে উল্লিখিত বিষয়গুলো এখন আর অস্বীকার করেন না। কেননা গোটা অনলাইনজুড়ে সার্চ দিলেই মির্যা কাদিয়ানীর রচনাবলী (উর্দূ, বাংলায়) সহজে পাওয়া যাচ্ছে। যেখানে সুস্পষ্টভাবে মির্যা গোলাম আহমদ (মৃত. ১৯০৮ইং)-এর সিজোফ্রেনিয়া, হিস্টিরিয়া এবং মৃগী রোগ থাকার বিষয়গুলো তারই লিখনি দ্বারা প্রমাণিত। এইজন্য তার ‘হাকীকাতুল ওহী‘ (পৃষ্ঠা নং ৩০৫, নভেম্বর ১৯৯৯ইং) বইটিও দেখা যেতে পারে। যাইহোক মির্যা গোলাম আহমদ সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারটি একদমই সত্যি, সেখানে কারো জন্য সন্দেহ করার মোটেও সুযোগ নেই।

আর সেই মিরাক্ব বা সিজোফ্রেনিয়া রোগের অন্যতম উপসর্গ ছিল মির্যা গোলাম আহমদ এর ‘খোদা‘ হবার দাবী। এবার তারই বই থেকে স্ক্রিনশট সহ পুরো বৃত্তান্ত অনুবাদ আর উর্দু ইবারতের উচ্চারণ সহকারে নিচে তুলে ধরছি। দেখুন,

তিনি তার ‘কিতাবুল বারিয়্যাহ’ গ্রন্থে লিখেছেন,

‘میں نے اپنے ایک کشف میں دیکھا کہ میں خود خدا ہوں اور یقین کیا کہ وہی ہوں اور میرا اپنا کوئی ارادہ اور کوئی خیال اور کوئی عمل نہیں رہا اور میں ایک سوراخ دار برتن کی طرح ہو گیا ہوں’

“মে নে আপনে এক কাশফ মে দেখহা কে, মে খোদা হোঁ অওর একীন কিয়া কে ও-হি হোঁ; অওর মেরা কুয়ি ইরাদা অওর কুয়ি খিয়াল অওর কুয়ি আমল নেহি রাহা অওর মে এক ছুরাখ দার বরতন কি তরাহ হো-গিয়া হোঁ…।”

অর্থাৎ আর আমি নিজেকে কাশফ (অতি-জাগ্রত ধ্যান) অবস্থায় হুবহু খোদা হিসেবে দেখলাম এবং নিশ্চিত হলাম যে, নিশ্চিতই আমি তাই। তখন আমার কোনো ইচ্ছা, আশঙ্কা আর নিজের কোনো কর্মই অবশিষ্ট থাকেনি। আর আমি তখন একখানা নষ্ট পাত্রের ন্যায় হয়ে গেলাম। (কিতাবুল বারিয়্যাহ, রূহানী খাযায়েন ১৩/১০৩)। (প্রামাণ্য স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য)।

পাঠক! একজন খোদা দাবীদার কীভাবে নবীজী (সা.)-এর ভবিষ্যৎবাণীকৃত সেই ইমাম মাহদী হবার দাবী করতে পারে, বিচারের ভার আপনার নিরপেক্ষ বিবেকের উপর ছেড়ে দিলাম।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

শুধুই কালেমা তাওহীদ কি জান্নাত লাভের জন্য যথেষ্ট?

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উত্তর হল, জ্বী হ্যাঁ। কালেমা তাওহীদ জান্নাত লাভের জন্য যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ, তবে অন্তত ফরজ, ওয়াজিব আমলসমূহ ত্যাগ করার ফলে সে পরকালে শাস্তিযোগ্য অপরাধী হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর আল্লাহ যদি কোনো ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ করতে চান তা ভিন্ন বিষয়। আল্লাহ চাইলে আমল ত্যাগকরার ফলে শাস্তিও দিতে পারেন, চাইলে ক্ষমাও করতে পারেন! মোটকথা, তাওহীদের স্বীকারোক্তির ফলে এবং শিরিক থেকে আমৃত্যু পবিত্র থাকলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামের কঠিনতম শাস্তি ভোগ করার পর যথাসময় মুক্তি পেতে সক্ষম হবে, ইনশাআল্লাহ।

.

এবার প্রশ্ন আসবে, তাহলে ‘যে আন্তরিকতার সাথে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু—এর স্বীকারোক্তি দেবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে‘ এই ধরনের হাদীস দ্বারা আমলের কোনো গুরুত্ব নেই বলে বিশ্বাস করার সুযোগ থাকবে কিনা?

উত্তর হচ্ছে, উল্লিখিত হাদীসের ব্যাখ্যায় বিজ্ঞ হাদীস বিশারদগণ থেকে দুইটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। তারা লিখেছেন, وقيل: هو في حق من قالها فمات بعدها قيل: إن ذلك كان قبل نزول الفرائض، في أوائل الدعوة في مكة অর্থ- কারো মতে, এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে উক্ত কলেমা পাঠ করার পরপরই মৃত্যুবরণ করেছেন। কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারক এটিও লিখেছেন যে, এই কলেমা পাঠ মক্কার সেই প্রাথমিক যুগের সাথে সম্পর্কিত যে সময়টিতে তখনও ফরজ-বিধানাবলী নাযিল হয়নি, শুধুমাত্র ঈমানের দাওয়াত চলছিল।

শারেহে বুখারী ইবনে হাজার আসকালানী, শারেহে মুসলিম ইমাম নববী প্রমুখও অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন। এইজন্যই এ ধরনের হাদীস দ্বারা আমলের কোনো গুরুত্ব নেই বলে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। রাসূল (সা.) থেকে হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস দ্বারাও একথার পরিষ্কার ইংগিত বিদ্যমান। যেমন মুসলিম শরীফের ‘কিতাবুল ঈমান’ অধ্যায়ে এসেছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, من مات وهو يعلم أنه لا إله إلا الله دخل الجنة অর্থ- যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করছে যে সে জানে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। উল্লেখ্য যে, জান্নাতে প্রবেশ করার দুটি পন্থা রয়েছে। একজন তওহীদে বিশ্বাসী গুনাহগার যদি প্রথম দফায় জান্নাতে প্রবেশ করতে না পারলেও কিন্তু শাস্তি ভোগ করার পরে হলেও সে প্রবেশ করতে পারবে, ইনশাআল্লাহ। হাদীসটিতে دخل الجنة বাক্যটি মুক্ত অর্থে। এতে সে আল্লাহ চাইলে প্রথমেও পারবে। নতুবা পরে হলেও প্রবেশ করবে। যেহেতু সে তাওহীদে বিশ্বাসী এবং শিরিক থেকে পবিত্র।

তবে এমন কোনো ব্যক্তির তাওহীদের স্বীকারোক্তি কখনো আল্লাহ কবুল করবেন না, যে আল্লাহর প্রেরিত কোনো বার্তাবাহকের রেসালতের স্বীকৃতি দেয়নি। যেমন, ইহুদি খ্রিস্টান জাতি। অথবা কোনো রেসালতের মিথ্যা দাবীদার মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর মত কোনো মিথ্যাবাদীকে নবী রাসূল মেনে নিয়ে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে গেছে। যেমন, মরক্কোর সালেহ বিন তারিফের সালেহুল মুমিনীন জামাত, ভারতের মির্যা গোলাম আহমদের আহমদী জামাত, ইরানের আলী মুহাম্মদ বাবের বাবী জামাত ও ইরানের মির্যা হুসাইন আলী নূরী (বাহাউল্লাহ)’র বাহায়ী জামাত ইত্যাদী। আল্লাহু আ’লাম।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

সহজে কাদিয়ানী চেনার উপায়

কাদিয়ানীদের কাছ থেকে এ প্রশ্নগুলোর কোনো সঠিক উত্তর আপনি পাবেন না [1] [2] [3] [4] [5]

কাদিয়ানী আক্রান্ত এলাকায় বিতরণের জন্য দুই পৃষ্ঠার ঝকঝকে একটি কালার পিডিএফ – ডাউনলোড করুন

মির্যা কাদিয়ানীর স্ববিরোধ কথাবার্তা [1][2][3][4][5][6][7][8][9][10][11][12][13][14][15][16][17][18][19][20][21][22][23][24][25][26][27][28][29][30][31][32][33][34][35][36][37][38][39][40][41][42][43][44][45][46][47][48][49][50]

হায়াতে ঈসা : কুরআনুল কারীম [1][2][3][4][5] | হাদীস শরীফ [ঈসা আঃ দামেস্কের যেখানে নাযিল হবেন][1][2][3][4][5][6] [7] [8] যুগ-ইমামগণ [1] কাদিয়ানীদের ওফাতে মসীহ’র সব চেয়ে বড় দলীলের জবাব [1]

খতমে নবুওয়ত : [খাতাম][খাতামুন নাবিয়্যীন][মির্যায়ী অপব্যাখ্যা ও খণ্ডন [1][2][3] [আয়াত][হাদীস][ত্রিশজন মিথ্যাবাদী নবী] [আ’রাফ ৩৫] [নিসা ৬৯] [অন্যান্য]

মির্যা কাদিয়ানীর নবী রাসূল দাবী : [1][2][3][4] | মির্যায়ী রচনাবলীতে তাকফির : [1][2][3] | কাদিয়ানীদের চেপে রাখা ধর্মবিশ্বাস : [1][এগুলো কাদিয়ানী ধর্মবিশ্বাস][ডাউনলোড পিডিএফ ফাইল]

ইমাম মাহদী : [1][2][3][4][5][কাদেয়া-জমিদার বংশীয়][চন্দ্রসূর্য গ্রহণ সম্পর্কিত সংশয় নিরসন] [কাদিয়ানী মতবাদের পোস্টমর্টেম]

সহজে কাদিয়ানী চেনার উপায় :

কাদিয়ানীরা সাধারণত খুবই ধূর্ত ও জঘন্য প্রতারক হয়ে থাকে। তাদের বেশিরভাগই মাথায় কালো টুপি পরে আর মুখে ফ্রেঞ্চ কাটিং দাড়ি রাখে। তাদের ৯০% ফেইসবুক ইউজারের প্রোফাইল লক থাকে, খুব বেশি তর্কপ্রিয় ও ঝগড়াটে হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য একদম সাধারণ বিষয়কেও দুর্বোধ্যভাবে পেশ করে থাকে। তাদের খুব কমন একটা ডায়লগ ঈসা আ. আবার আসলে তখন শেষনবী কে থাকছেন? এর উত্তর আলাদা আর্টিকেলে দেয়া হয়েছে। এখানে সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলব যে, ঈসা (আ.)-এর পুনঃ আগমনের প্রেক্ষিতে এই জন্য প্রশ্ন নেই যে, ঈসা (আ.) মুহাম্মদ (সা.)-এর আগেই নবুওয়ত প্রাপ্ত একজন নবী। আর ঈসা (আ.) শেষ যুগে নবুওয়তের দায়িত্ব নিয়ে অর্থাৎ নবী হিসেবে আসবেন না, বরং একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক এবং সুপথপ্রাপ্ত ইমাম ও উম্মতে মুহাম্মদীর পদ মর্যাদা নিয়ে আসবেন। দলিল এই,

يوشِكُ من عاشَ منكُم أنْ يرَى عيسَى ابنَ مريَمَ حكمًا عدلًا وإمامًا مهديًا فيكسِرَ الصَّليبَ ويقتُلَ الخِنزيرَ ويضَعَ الجزيَةَ وتضَعُ الحرْبُ أوْزارها

এখানে আরেকটা কথা বলে রাখা জরুরি যে, উম্মতে মুহাম্মদীর পদ মর্যাদা নিয়ে আসার অর্থ এ নয় যে, তাঁর পূর্বের নবুওয়ত বাতিল হয়ে যাবে, বরং এখানে ঐ কথার অর্থ হল, নবুওয়তে মুহাম্মদীর সময়টিতে তাঁর আনীত শরীয়ত রহিত ও তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শেষনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শরীয়তের অনুগামী হয়ে যেতে বাধ্য। কারণ হাদীসে সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে,

وَلَوْ كَانَ مُوسَى حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا اتِّبَاعِي

অর্থাৎ যদি মূসাও (ইহজগতে) জীবিত থাকত তাহলে তাঁর জন্যও আমার আনুগত্য করা ছাড়া কোনো উপায় ছিলনা। (মুসনাদে আহমদ ৩/৩৮৭, হাদীসের মান – হাসান)। তাদের আরও একটি ডায়লগ হচ্ছে, ঈসা (আ.) এর পক্ষে আবার এসে সারা দুনিয়া ঘুরে ঘুরে খ্রিস্টানদের ক্রুশগুলো ভাঙ্গা এবং জঙ্গল থেকে সমস্ত শুয়োর খোঁজে খোঁজে হত্যা করা কীভাবে সম্ভব?

উত্তরের জন্য পড়ুন এখান থেকে।

কাদিয়ানীদের আরেকটা ডায়লগ হল, যদি ‘শেষনবী‘ বলতে এই অর্থ উদ্দেশ্য হয় যে, ‘তাঁর (সা.) পর আর কাউকে নবী বানানো হবেনা’ তখন প্রশ্ন আসবে যে, ‘আমি তখনও খাতামান নাবিয়্যীন ছিলাম যখন আদম পানি এবং কাদার মাঝে সৃষ্টির সূচনায় ছিলেন‘—হাদীসটির কী অর্থ উদ্দেশ্য?

আসলে তারা এ সমস্ত প্রশ্ন ও তর্কের আড়ালে মির্যা কাদিয়ানীর মসীহ ও নবী দাবীর বৈধতা খুঁজতে চায়। কিন্তু হাস্যকর ব্যাপার হল, এদের কাউকেই আমি আজ পর্যন্ত স্বীকার করাতে পারিনি যে, তারা কি তাহলে নিজেদের মির্যা কাদিয়ানীর ‘উম্মত’ বলে স্বীকার করবে? কেননা যে কাউকে ‘নবী’ মানবে সে নিজেকে নির্বিঘ্নে তার ‘উম্মত’ বলেও স্বীকারোক্তি দিবে—এটাই স্বাভাবিক! আর এমনটা তো নয় যে, আমরা আগত ঈসা (আ.)-এর পুনরায় আগমনকে স্রেফ ‘উম্মতি‘ হিসেবেই বিশ্বাস করে কোনো ভুল করছি! আমরা কুরআন এবং হাদীস হতে আমাদের মুসলিম উম্মাহার বিশ্বাসের সমর্থনে মজবুত দলিলও দিয়ে থাকি, এমনকি মির্যা কাদিয়ানীর রচনাবলি হতেও।

জেনে আশ্চর্য হবেন, আগত ঈসা নবুওয়তের দায়িত্বে থাকবেন না, তিনি স্রেফ ‘উম্মত’ হিসেবে থাকবেন; এ কথা খোদ মির্যা কাদিয়ানীর-ও। যেমন সে তার রচনার এক স্থানে লিখেছে, “কুরআন শরীফ দ্বারা তো সাব্যস্তই আছে যে, প্রত্যেক নবীই হযরত (সা.)-এর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহতালা বলেন-

ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنصُرُنَّهُ

অর্থাৎ “তারপর তোমাদের নিকট যদি এমন একজন রাসূল আগমন করেন যিনি তোমাদের নিকট থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।”

সুতরাং এইভাবেই সমস্ত আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম) হযরত (সা.) এর উম্মত হয়ে যান।” (বারাহীনে আহমদীয়া খ-৫, রূহানী খাযায়েন ২১/৩০০)।

বলাবাহুল্য, ‘সমস্ত আম্বিয়া’ বলতে কিন্তু ঈসা (আ.)-ও তার মধ্যে শামিল। জানি না এখন তার ঝগড়াটে উম্মতেরা এর প্রতিউত্তরে কী বলবে! এদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা সাধারণত নেকাব পরে নাকের নিচ দিয়ে। এদের ধর্মীয় পড়াশোনার হাতেগড়ি নির্দিষ্ট দুটি সাবজেক্ট—ঈসা (আ.) জীবিত না মৃত আর মুহাম্মদ (সা.)-এর পরেও নবুওয়তের সিলসিলা (ধারাক্রম) চালু না বন্ধ, এই দুটো নিয়ে। তারা মূলত মির্যা গোলাম আহমদকে একজন রূপক মসীহ সাব্যস্ত করতেই হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহ সশরীরে জীবিত আকাশে উঠিয়ে নেয়ার কুরআন সুন্নাহভিত্তিক আকিদার অস্বীকারকারী।

অথচ সহীহ মুসলিম, তারীখে দামেস্ক, কাঞ্জুল উম্মাল ইত্যাদি গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনায় এসেছে যে, ঈসা (আ.) শেষযুগে দামেস্কে নাযিল হবেন। আল্লাহ তাঁকে ফেরেশতার মাধ্যমে আকাশ থেকে পাঠাবেন। তেমনিভাবে ইসলামের গত চৌদ্দশত বছরের ইতিহাসে গত হয়ে যাওয়া সমস্ত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের ইমামগণেরও বিশ্বাস হচ্ছে, ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু এখনো হয়নি।

কিন্তু কাদিয়ানীধর্মের বিশ্বাসমতে, ঈসা (আ.)-এর ১২০ বছর বয়সে কাশ্মীরে মৃত্যু হয়ে গেছে, কাশ্মীরের খান ইয়ার মহল্লায় সমাহিত ইউজ আসেফ (1,2) নামীয় ব্যক্তির কবরটিই ঈসা (আ.)-এর কবর (নাউযুবিল্লাহ)।

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীই মূলত ‘কাদিয়ানী জামাত’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাকে তার সাধারণ অনুসারীরা ইমাম মাহদী বিশ্বাস করার দাবী করলেও ‘নবী’ বিশ্বাস করেনা বলেই সাফ বলে দেয়ার চেষ্টা করে। আসলে এরা নিজেদের অজ্ঞতার জন্যই তাকে যেমন ইমাম মাহদী বিশ্বাস করে নিয়েছে, ঠিক একই রকম অজ্ঞতার জন্যই তারা তার নবী দাবী করা সম্পর্কেও বেখবর। এরা খুব সাধারণ ও জেনারেল মানুষদের ধোকা দিয়ে থাকে।

সম্প্রতি জেনারেল শিক্ষিতরাও এদের ব্যাপারে খুবই সাবধান হচ্ছেন। চট্টগ্রামের জনৈক চিকিৎসক একদা আমার কাছ থেকে জানতে চাইলেন যে, সাধারণদের জন্য কাদিয়ানীদের সাথে ডিবেট করার পন্থা কী? অর্থাৎ কোন নিয়মনীতি মান্য করলে তাদের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে সফল হওয়া যাবে।? যাইহোক, কাদিয়ানীরা ছলেবলে কৌশলে তাদেরকে কাছে টেনে নেয়ার চেষ্টা করে। তাদের কাছ থেকে বাইয়েত নিয়ে অত:পর ব্রেইন ওয়াশ করে ফেলে, যাতে তাদের বলয়ের বাহিরে ছুটে না যায়। তবে এরপরেও অনেকে বাস্তবতা বুঝতে পেরে কেটে পড়েন। এমনি একজন যুবকের ফোনালাপ থেকে আমি একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছি। দেখুন এখানে

আগের আলোচনায় আবার ফিরে এলাম। সাধারণ কাদিয়ানী যুবক-যুবতীরা মির্যা কাদিয়ানীর দাবীগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে। বিশেষ করে তার ‘শেষনবী’ হবার দাবীটি সম্পর্কে। এই বিষয়ে স্ক্রিনশট সহ কয়েকটি সিরিজ ভিডিও দেখুন।

মির্যা কাদিয়ানীর নবী-রাসূল দাবী, সিরিজ ভিডিও (১), (২), (৩), (৪)। (লিফলেট [ডাউনলোড লিংক] (১), (২)

অপ্রিয় হলেও সত্য হল, তাদের শীর্ষনেতাদের তৈরিকৃত সিলেবাসের বাহিরে তাদের অধীনস্থদের মন-মগজে ইসলামের ফান্ডামেন্টাল শিক্ষার ছিটেফোঁটাও থাকেনা।

এদের প্রাধানতম বৈশিষ্ট্য, কুরআন শরীফ অশুদ্ধ পড়া আর নিজের মত করে ব্যাখ্যা দেয়া। এরা মুসলমানদের মসজিদে যায় না, মুসলমানদের জানাজাতেও অংশগ্রহণ করেনা। এদের পিতা মাতার জানাজাতেও অংশগ্রহণ করতে জোরালো ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকে, বড়জোর জানাজায় কাঠের পুতুলের ন্যায় সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে তবেই সে পর্যন্ত অনুমতি রয়েছে। কত পাষণ্ড আর হতভাগা এরা!

ছোটবেলা থেকেই এদেরকে চরম আলেম উলামা বিদ্বেষী করে তোলা হয় বলে এরা আলেম উলামার কাছ থেকেও দূরে থাকে। আলেম উলামার প্রতি এদের মজ্জাগত বিদ্বেষ আর দুশমনির ফলে এদের বেশিরভাগ Ex ahmadi দুর্ভাগ্যবশত মুলহেদ হয়ে যায়, তবু ইসলাম গ্রহণ করতে চায় না। কারণ এদের মন মগজে সেই ছোট বেলা থেকেই ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে, বর্তমান ইসলাম মোল্লা মৌলভীদের বানানো ইসলাম। নাউযুবিল্লাহ। অথচ ইসলামের বুনিয়াদ হচ্ছে, পবিত্র কুরআন এবং কুরআনের মর্মার্থ সুস্পষ্টকারী সহায়ক সংকলন রাসূল (সা.)-এর সীরাত তথা সুন্নাহ।

এরা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ এবং খেলাফত রাষ্ট্রের চরম বিরোধী। স্বভাবতই ব্রিটিশপ্রিয় হয়। কুরআন হাদীসকে সরাসরি অস্বীকার করার পরিবর্তে রূপক কিবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে অস্বীকারকারী হয়। আর নিজ মতবাদের পক্ষে এমন সব বর্ণনা বা উদ্ধৃতিও উপস্থাপন করে থাকে যেগুলোর বেশিরভাগই জাল, জঈফ বা মুনকার পর্যায়ের অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা; কোনো অথেনটিক সোর্স থেকেও সংগৃহীত নয়।

এদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল, এদের বইপুস্তক অগণিত স্ববিরোধ কথাবার্তায় ভর্তি, যা এদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও এরা মেনে নিতে চায় না। এগুলো আমার দীর্ঘ অবিজ্ঞতা থেকেই লিখলাম। আরও জানার বিষয় হল, সারা দুনিয়ায় এদের দাবী হচ্ছে, সংখ্যায় এরা ২০ কোটি। অথচ নিরপেক্ষ গণনামতে এরা কোনো ভাবেই ১৫-২০ লাখের বেশি হবেনা। বাংলাদেশে এদের সংখ্যা এদেরই দাবী অনুসারে ১ লক্ষ। তবে আমাদের জরিপ বলছে, এরা কোনো ভাবেই ২৫ হাজারের বেশি হবেনা। বিবাড়িয়া, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সাতক্ষীরার সুন্দরবন, জামালপুরের সরিষাবাড়ি আর বান্দরবন, যশোর এবং খুলনায় এদের সংখ্যাটা তুলনামূলক বেশি।

প্রাণ, আর.এফ.এল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মেজর (অব.) আমজাদখান চৌধুরী আর বাংলাদেশের বর্তমান কাদিয়ানীদের ন্যাশনাল আমীর জনাব আব্দুল আউয়াল সাহেব দুইজনই মামাতো আর ফুফাতো ভাই

জনাব আমজাদখানের পিতা আলী কাশেমখান চৌধুরী আর কাদিয়ানী আমীরের মাতা মাসুদা সামাদ আপন ভাই বোন। কাদিয়ানীদের একটি বই ‘সীরাতে মাহদী’-তে ইসলাম বিরোধী ১৬টি চরম বিভ্রান্তিকর ধর্মবিশ্বাস এর উল্লেখ রয়েছে, যা তারা সাধারণ মানুষ থেকে বরাবরই গোপন রাখে। আমি তাদের ডজনখানেক বই থেকে স্ক্রিনশট সহ মির্যা কাদিয়ানীর নবী ও রাসূল দাবীর প্রমাণও অত্র রচনায় দিয়ে রেখেছি।

পাঠকদের জন্য আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলও অত্র রচনায় সন্নিবেশিত করে দিয়েছি। তন্মধ্যে কাদিয়ানীদের কলেমার গোপন রহস্যপ্রতিশ্রুত মসীহ্‌ এর পরিচয় এবং প্রতীক্ষিত মাহ্‌দী এর পরিচয় অন্যতম। অধিকন্তু তাদের কেউই এখনো দুনিয়ায় আবির্ভূত হননি। ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মধ্যে পরিষ্কার লিখা আছে যে, তিনি নবীজী (সা.)-এর কন্যা ফাতেমার পুত্র হযরত হাসান (রা.)-এর বংশে জন্মগ্রহণ করবেন। সে হিসেবে তিনি সাইয়েদ এবং কুরাইশীও হবেন তার নাম হবে মুহাম্মদ, পিতার নাম আব্দুল্লাহ, জন্মস্থান হবে আরব (মদীনা), মাহদীয়তের উপর বাইয়েত শুরু করবেন মক্কায়। তিনি আরবে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবেন। আবুদাউদ শরীফে (কিতাবুল, মাহদী অধ্যায়) এসেছে, ‘ইমাম মাহদী সাত বছর রাষ্ট্রকার্য পরিচালনা শেষে ইন্তেকাল করবেন।’

শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী (রহ.) তার ‘আল জামেউস সহীহ’ কিতাবে হাদীসটিকে “হাসান” (حسن) বলেছেন। উল্লিখিত পরিচিতির আলোকে দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, রাসূল (সা.) শেষ যামানায় আগমনকারী যে ইমাম মাহদীর সুসংবাদ দিয়ে গেছেন আজকের এই দিন (২০২২ ইং, এই আর্টিকেল লিখার সময়) পর্যন্ত সেই ইমাম মাহদী এবং প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.) দুইজনের কেউই আবির্ভূত হননি। আল্লাহ চাহিলে দুইজনই যথাসময়ে আসবেন।

মির্যা গোলাম আহমদ এর দাবী একই সাথে ইমাম মাহদী এবং ঈসা, দুটোই। কিন্তু রাসূল (সা.) উক্ত দুই মহা পুরুষ সম্পর্কে সহীহ হাদীসগুলোতে যেই পরিচিতি রেখে গেছেন তার ছিটেফোঁটাও মির্যা গোলাম আহমদের সাথে মিল পাওয়া যায় না। এটি পড়ুন, এক নজরে মির্যা কাদিয়ানী

উল্লেখ্য, প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী এবং হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাদা দুই ব্যক্তিই। বহু সহীহ হাদীসে দুইজনের ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় একদম সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। কাদিয়ানীদের বইতে দুই ঈসা’র বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাব এখানে। তাদের ‘ওয়া লাল মাহদী ইল্লা ঈসা ইবনু মরিয়ম’ এর বর্ণনা দিয়ে বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাবও এখান থেকে দেখে নিন। ইমাম মাহদী একই সাথে ফাতেমি, আব্বাসী, হাসানী, হোসাইনী সব কিভাবে হতে পারেন? মাহদীয়তের নিদর্শনের নামে কাদিয়ানীদের উপস্থাপিত চন্দ্রসূর্য গ্রহণের বর্ণনাটি কেন গ্রহণযোগ্য নয়?।

এই কাদিয়ানী গোষ্ঠীটি তাদের মতের বাহিরে সমস্ত মুসলমানকে অমুসলিম, কাফের, জাহান্নামী মনে করে থাকে। এরা অন্যান্য মুসলমানের মত হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত দাবী করা সত্ত্বেও বিশ্বের সমস্ত মুসলিম স্কলারদের সর্বসম্মতিক্রমে কাফের ও ইসলাম থেকে খারিজ। তার কারণ এরা খতমে নবুওয়ত এবং হায়াতে মসীহ সহ ইসলামের বহু মৌলিক বিশ্বাসকে কুরআন এবং সুন্নাহর অপব্যাখ্যার আড়ালে অস্বীকার করে থাকে।

এরা আজ থেকে শতাধিক বছর আগে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে তথা ১২৫৬ হিজরী সনে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাদিয়ান নামক গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এক ব্যক্তিকে নবী বলে বিশ্বাস করে। তার নাম ছিল মির্যা গোলাম আহ্‌মদ (১৮৩৯-১৯০৮)। সে নিজেকে প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.)-এর রূপক সত্তা এবং শেষ যুগে আগমনকারী ইমাম মাহদী হবার দাবীও করে। অথচ কুরআনের আয়াত ও সহীহ্ হাদীসের মানদণ্ডে এই লোকের দাবীগুলোর একটিও টিকেনা। তাই কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ব্যক্তি নিজ দাবীতে একজন জঘন্য মিথ্যাবাদী ও প্রতারক।

এখানে তার কয়েকটি উক্তি তুলে ধরছি, যা পড়ার পর যে কেউই তার আসল পরিচয় পর্যন্ত সহজে পৌঁছতে পারবে! যথা-

১. মির্যা কাদিয়ানী ১৮৯৮ সালের দিকে ব্রিটিশ-ভারত রাণী আলেকজান্ড্রিনা ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে লিখেছিল, ‘নিজেদের হাতে রোপিত এই চারাগাছটির ব্যাপারে খুব সতর্কতা ও অনুসন্ধানের সাথে অগ্রসর হবেন এবং আপনার অধীনস্তদের বলবেন তারা যেন এই পরিবারের ত্যাগ ও নিষ্ঠার কথা মনে করে আমার দলের প্রতি সদয় দৃষ্টি জ্ঞাপন করেন। আমাদের পরিবার ইংরেজ সরকারের কল্যাণে নিজেদের খুন বইয়ে দিতে ও জীবন দিতেও দ্বিধা করেনি আর না এখনো দ্বিধা করছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/২১-২২; নতুন এডিশন)। তার এই কথা পরিষ্কার প্রমাণ যে, সে ব্রিটিশদেরই সৃষ্টি ছিল।

২. ‘আমার বিশ্বাস, যে হারে প্রতিদিন আমার অনুসারির সংখ্যা বাড়ছে সেই হারে জিহাদের পক্ষাবলম্বীর সংখ্যাও কমছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/১৯)। এখানে তার এই বক্তব্য ব্রিটিশ ভারতের ১৮৫৭ সালের আযাদী আন্দোলন ও সিপাহী বিদ্রোহকেই স্মরণ করে দিচ্ছে। মূলত ঐ সমস্ত আন্দোলন সংগ্রাম দমিয়ে রাখতেই পরবর্তীতে এই মির্যায়ী তথা কাদিয়ানী জামাতের সৃষ্টি।

৩. ‘ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্য ইসলামেরই একটি অংশ’ (রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮০)। মির্যা কাদিয়ানীর এই বক্তব্য আমার উপরোক্ত সবগুলো দাবীকে দ্বিপ্রহরের সূর্যের মত একদম পরিষ্কার করে দেয়। যাইহোক ২৫ শে মে ১৮৯৩ সালে অমৃতসর নামক স্থানে মির্যা কাদিয়ানীর সাথে তৎকালীন মুসলিম নেতা শায়খ আব্দুলহক গজনভী (রহ.)-এর একটি মুবাহালা অনুষ্ঠিত হয়। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ৬/৩৭২)। উক্ত মুবাহালায় উভয়পক্ষ নিজের উপর নিজে বদ দোয়া করেন এবং মুবাহালাকারী দুইপক্ষের সত্যবাদীর জীবদ্দশায় যিনি প্রকৃতপক্ষে একজন মিথ্যাবাদী তিনি যেন ধ্বংস হন, এইরূপ কামনাও করেন (দেখুন, মালফূজাত ৫/৩২৭; চতুর্থ এডিশন)।

ইতিহাস সাক্ষী, পরবর্তীতে শায়খ গজনভী (রহ.) মারা যান ১৬ই মে ১৯১৭ সালে। আর মির্যা কাদিয়ানী শায়খের জীবদ্দশায় প্রায় ৯ বছর পূর্বেই ১৯০৮ সালে লাহোরে ২৬ শে মে বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় কলেরায় আক্রান্ত হয়ে টাট্টিতে নিপতিত হয়ে মারা যায়। তার লেখিত প্রায় ৮৩টি বইয়ের সমষ্টির নাম ‘রূহানী খাযায়েন‘ (আধ্যাত্মিক ভাণ্ডার), যা আনুমানিক ১৯৬০ সালের দিকে ২৩ খণ্ডে প্রকাশ করা হয়। বইগুলো দ্বারা সেসব মানুষ খুব বিভ্রান্ত হয় যাদের পূর্ব থেকে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে আলোচ্য বিষয়ে গভীর কোনো জ্ঞান নেই।

একটি হাদীসে এসেছে, মহানবী (সা.) তাঁর পরবর্তী সময়ে ত্রিশ জন নবুওয়তের মিথ্যা দাবীদারের আবির্ভাব হবার ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন (সুনান তিরমিজী (ইফা) অধ্যায়ঃ ৩৬/ কিতাবুল ফিতনা)। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) (মৃত. ৮৫২ হিজরী) হাদীসটির ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এই ত্রিশজন মিথ্যাবাদী বলতে বিশেষভাবে ওরাই উদ্দেশ্য যাদের দাপট প্রতিষ্ঠা পাবে এবং (সাধারণ মানুষের ভেতর) তাদের তৎপরতার কারণে মারাত্মক সন্দেহ সৃষ্টি হবে। (ফাতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী : খণ্ড ১২ পৃষ্ঠা ৩৪৩)।

সমস্ত ইসলামি বিশেষজ্ঞ একমত যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তাদেরই মধ্য হতে একজন। পাঠকদের উদ্দেশ্যে এখানে কয়েকটি লিখার লিংক দিচ্ছি। গুরুত্ব সহ পড়ার অনুরোধ থাকল, কাদিয়ানীরা কাফের কেন? মির্যা কাদিয়ানীর ৫টি মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী। তথাকথিত উম্মতিনবী কাদিয়ানী জামা’তের প্রতিষ্ঠাতার কিছু দাবী দাওয়া। মির্যা কাদিয়ানীর কিছু মিথ্যাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতি। অথচ হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে সমস্ত কাফির মুশরিক ‘সত্যবাদী‘ বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনের ত্রিশ আয়াতে ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে যাওয়ার দাবী কেন ডাহা মিথ্যা?

আমাদের ওয়েবসাইট ও আমাদের ভিডিও সমূহ ইউটিউব থেকে (markajTV by PNN) (হেদায়েতের পথিক) দেখার আহবান রইল। আমার (লিখক) ফেইসবুক পেইজ (ধারাবাহিক লাইভ পর্ব) থেকে ভিডিওগুলো দেখার আমন্ত্রণ রইল। আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হতে পারেন। আমার রচনাসমগ্র ‘সিলেক্টিভ‘ (পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৯৬)

অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন।

কথিত উম্মতিনবী দাবীতেও মির্যা ফেঁসে গেলেন কিভাবে দেখুন

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক- প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ, যোগাযোগ- 01629941773 (What’sapp, Telegram & Imo), ইমেইল- nabifeni44@gmail.com

কাদিয়ানীদের কলেমার গোপন রহস্য

আমরা যখনি কাদিয়ানীদের কলেমার গোপন রহস্য আছে বলি, তখনি তারা চোখ কপালে তুলে চেঁচিয়ে বলতে শুরু করে, মোল্লা মিথ্যুক; মিথ্যা বলছে মোল্লা! আরে জনাব! থামুন না এবার, মিথ্যা কী আর সত্য কী—তা তো আগে শুনবেন, দেখবেন, যাচাই-বাছাই করার মত ধৈর্য্য রাখবেন, তাই নয় কি? আপনি শুনেননি, দেখেনওনি; তাহলে কিভাবে বুঝলেন যে, মোল্লা মিথ্যা বলছে?

আরে জনাব, আপনার কথা অনুসারে দুনিয়ার দু-একজন বড়জোর দুই চার’শ জন মোল্লা মৌলভি যদি মিথ্যা বলেও দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম ইসলামি বিদ্যাপীঠগুলোও কি সত্য-মিথ্যা খতিয়ে না দেখেই আপনাদের নিয়ে মিথ্যা বলছে মনে করেন? দুনিয়ার সর্বস্তরের মুসলিম উম্মাহা যার যার অবস্থান থেকে অভিন্ন স্বরেই আপনাদের কি “কাফের” ঘোষণা করেনি? আপনাদের নিয়ে মুসলিম উম্মাহার আপত্তি যদি মিথ্যাই হত তাহলে আপনাদেরই মুরুব্বি গোচের বহু আহমদী কিজন্য ‘আহমদীয়ত’ তথা কাদিয়ানীয়তকে বিদায় জানালেন? ডক্টর হানি তাহের, ডক্টর ইকরামা নজমি প্রমুখের কথা কি ভুলে গেলেন? এটি তো মাত্র এই তিন-চার বছর আগের ঘটনা! আপনারা কি ডক্টর হানি তাহেরকে আরব-দুনিয়ার আহমদী খলীফা উপাধি দেননি? তো একদম সবাই আপনাদের কি অকারণেই কাফের আখ্যা দিলেন? মুসলিম উম্মাহার বুঝি খেয়েদেয়ে আর কোনো কাম-কাজ নেই? উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে মক্কায় আন্তর্জাতিক ইসলামীক সংস্থা ‘রাবেতা আলমে ইসলামী’র অধীনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশ্বের সকল মুসলিম নেতৃবৃন্দের সামনে দীর্ঘ আলোচনার পর কাদিয়ানীদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছিল।

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী মুহাম্মদী বেগমকে নিয়ে মৃত্যুর আগ দিন পর্যন্ত কি অবলীলায় ইলহামের নাম ভেঙ্গে শতাব্দীর নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্ট যে কাণ্ডকীর্তি করে গেছে তা কি দুনিয়া এত দ্রুতই ভুলে গেছে? সে কি মুহাম্মদী বেগমের সাথে তার বিয়ের ভবিষ্যৎবাণীকে তাকদিরে মুবরাম বলে আখ্যা দেয়নি? সে কি লিখে যায়নি যে, এই ভবিষ্যৎবাণী অপরিবর্তনীয় তথা তাকদিরে মুবরাম? পরে কী হল? ভবিষ্যৎবাণী কি আলোর মুখ দেখতে পেরেছিল? মির্যা কাদিয়ানী মিথ্যুক হওয়ার জন্য আর কী চাই!!

যাইহোক, আপনাদের মুটামুটি সবখানেই মিথ্যা আর প্রতারণা নিহিত। আপনারা গাল ফুলিয়ে যেমন বলেন যে, মুসলমানদের কলেমা আর আপনাদের কলেমা আলাদা নয়, একই; তেমনি বড় বড় হরফে লিখেও সেকথার প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকেন অথচ ফুটোটা কোথায় সেটির কোনোই খবর রাখেন না! তো এইজন্য কি আমরা দোষী? আরে আমরা তো আপনাদের এই সমস্ত মহা দাজ্জালিয়ত আর প্রতারণা থেকে আমাদের মুসলমান ভাই বোনদের সতর্ক করবই, করে যাবই। এতে আপনারা অখুশি হলেও আমাদের কিছুই করার নাই।

আপনাদের কলেমা আর আমাদের কলেমা দৃশ্যত একই হলেও কিন্তু মর্মার্থে কি দুই নাম্বারি করে রেখেছেন তার কী হাশর হবে? কলেমার “মুহাম্মদ” হতে মির্যা কাদিয়ানীকে উদ্দেশ্য নিলে তখন কি আর এই কলেমা ইসলামী কলেমা থাকল নাকি কাদিয়ানী কলেমা হয়ে গেল? অবশ্যই তখন সেটি বেশভূষায় মুসলমানদের কলেমার মত মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সেটি কাদিয়ানী কলেমা বলেই গণ্য হবে, তাতে কোনো সন্দেহ থাকেনা।

সংশ্লিষ্ট কিছু স্ক্রিনশট মির্যা কাদিয়ানীর পুত্র মির্যা বশির আহমদ এম.এর রচিত কালিমাতুল ফসল থেকে নিচে তুলে ধরছি।

অর্থ- “বর্তমানেও ইসলামে প্রবেশ করার কালিমা এটাই। পার্থক্য শুধু এটুকু যে, মসীহ মওউদ (অর্থাৎ মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী)’র আগমন দ্বারা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র অর্থে একজন রাসূল বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে।” (রেফারেন্স:- কালিমাতুল ফছল ষষ্ঠ অধ্যায়, অনলাইন এডিশন পৃষ্ঠা নং ৬৯; মির্যাপুত্র বশির আহমদ এম.এ। প্রকাশকাল ১লা মে ১৯১৫ ইং কাদিয়ান থেকে)।

অর্থ- “এই অবস্থায় আর কি কোনো সন্দেহ থাকতে পারে যে, কাদিয়ানে আল্লাহতালা মুহাম্মদ (সা:)-কে পুনরায় অবতরণ করে স্বীয় প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন যা তিনি ‘ওয়া আখারীনা মিনহুম’-এর মধ্যে করেছিলেন!” (রেফারেন্স:- ‘কালিমাতুল ফছল’ ষষ্ঠ অধ্যায় পৃষ্ঠা নং ১৬; অনলাইন এডিশন)।

অর্থ- “আমরা বলে থাকি যে, কুরআন কোথায় বিদ্যমান! কুরআন যদি বিদ্যমান থাকতই তাহলে কারো আগমন করার প্রয়োজন কী ছিল? সমস্যা তো এটাই যে, কুরআন দুনিয়া থেকে উঠে গেছে! সেজন্যই তো মুহাম্মদ (সা:)-কে দুনিয়াতে দ্বিতীয়বার বুরুজীভাবে প্রেরণ করে তাঁর উপর কুরআন শরীফ নাযিল করার প্রয়োজন দেখা দেয়।” (রেফারেন্স:- ‘কালিমাতুল ফছল’ ষষ্ঠ অধ্যায় পৃষ্ঠা নং ৮৪; অনলাইন এডিশন)।

উল্লেখ্য, এতেই বুঝা যাচ্ছে যে, কাদিয়ানীরা জন্মান্তরবাদেই বিশ্বাসী। অথচ যুক্তিও বলছে যে, এই মতবাদ ঠিক নয়। কেননা আমরা যখন প্রতিদিন কারও মা, কারও বোন মারা যেতে দেখতে পাচ্ছি তাহলে এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসীরা এমন কোনো স্থানে ভুলবশত বিয়ে করে বসবেনা তার গ্যারান্টি কী?

শেষকথা হল, এরপরেও একজন জ্ঞানী ব্যক্তি কখনো কি একথা বলতে পারে যে, দেখতে একই হলেও ভেতরে দুই নাম্বারি নেই!? কখনো না। বরং ভেতরে দুই নাম্বারি আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহ আমাদের সত্যিটা বুঝার তাওফিক দিন।

নাইজেরিয়ায় কাদিয়ানী উপাসনালয়ে কলেমার মধ্যে ‘আহমাদু রাসূলুল্লাহ’ বাক্যের প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টা রুখে দেয় স্থানীয় মুসলমানরা

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

কলেমা তাইয়্যেবাহ নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন

0

কলেমা তাইয়্যেবাহ নিয়ে কথিত শায়খদের গবেষণার ইলমি দুরাবস্থা ও আমাদের পরিতাপ

সহীহ হাদীসে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সম্পূর্ণ কলেমাটি একত্রে আছে কি?

আমাদের এই দেশের তথাকথিত এক শায়খের কথা দিয়েই শুরু করছি, তার নামটি এখানে উল্লেখ করতে চাই না। তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি কথায় কথায় সহীহ হাদীস এর বুলি আওড়িয়ে থাকেন। দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার যে, তিনি সূরা ফাতিহাটাও সহীহশুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে পারেননা। বাংলায় ভালো মত কথাও বলতে পারেননা।

তিনি নাকি ৬ মাস ধরে গবেষণা করেও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ‘ সম্পূর্ণ কলেমা একত্রে খুঁজে পাননি! আর তাই এই কলেমা নাকি এক সাথে লেখা এবং পড়া শিরিক! মানুষটি কথায় কথায় সৌদি আরবকে নিজের আইডল হিসেবে জাহির করারও চেষ্টা করে। প্রকৃত তাওহীদ নাকি শুধু সৌদি আরবেই, আর কোথাও নেই। অথচ সৌদী আরবের পতাকায়ও এ কালিমাই অংকিত রয়েছে। মানুষটি এতটাই বেসামাল যে, তার মতে আফগান ইমারাতে ইসলামীয়া’র সবাই নাকি মুশরিক, মাজারপূজারি! আচ্ছা, অনেক হয়েছে; আজ আর না। এবার চলি মূল আলোচনায়! সত্যিই কি সহীহ হাদীসের কোথাও কলেমা সম্পূর্ণভাবে একত্রে লিখা নেই? তাহলে দেখা যাক, প্রথমে কয়েকটি হাদীস অনুবাদ সহ নিচে উল্লেখ করছি,

হাদীস ১। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, دَخَلْتُ الجَنَّةَ فَرَأيْتُ فِي عارِضَتِي الجَنَّةِ مَكْتُوباً ثلاثة أسطر بالذهب: السطر الأول لا إله إِلَّا الله محمَّدٌ رَسوُلُ الله والسَّطرُ الثَّانِي ما قدمنا وَجَدْنا وَمَا أكَلْنا رَبِحْنا وَمَا خَلَّفْنا خَسِرْنا والسَّطْرُ الثَّالِثُ أُمَّةٌ مُذْنِبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ অর্থ, মেরাজকালে আমি বেহেশতে প্রবেশের সময় এর দু’পাশে দেখি তিনটি লাইনে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। যথা, ১. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ২. আমরা যে ভালো কর্ম পেশ করেছি, তা পেয়েছি। যা খেয়েছি তা থেকে উপকৃত হয়েছি; যা ছেড়ে এসেছি তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ৩. উম্মত হলো গোনাহগার, আর রব হলো ক্ষমাশীল। (জামেউস সগীর, কৃত ইমাম জালালউদ্দীন আস-সুয়ূতী ১/৮৭১ হাদীস নং ৪১৮৬, ইমাম সুয়ূতী রহ. লিখেছেন, হাদীসটির মান, সহীহ)।

হাদীস ২। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ একটি হাদীসে রাসূল (সা.) তদানীন্তন কাফের ও সত্যিকারের মুসলমানদের অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে নিম্নোক্ত আয়াতের আলোকে বলেন, إِذْ جَعَلَ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى وَكَانُوا أَحَقَّ بِهَا وَأَهْلَهَا وهى : لا اله إلا الله محمد رسول الله- অর্থ, কাফেররা মুসলমানদের সাথে সেই অজ্ঞ যুগের বাড়াবাড়িতে লিপ্ত ছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহতালা (মুসলমানদের একত্ববাদের ফলে) রাসূল (সা.) ও ঈমানদারদের ওপর স্বীয় প্রশান্তি অবতরণ করেন। আর তাদের জন্য তাকওয়ার কালিমা আবশ্যক করে দেন। যার সত্যিকার ধারক তারাই। এই তাকওয়ার কালিমাটি হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। (আল-আসমা ওয়াস-সিফাত পৃষ্ঠা নং ১৩১, হাদীস নং ১৯৫; , সংকলক ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনে হোসাইন আল-বায়হাক্বী রহ. মৃত. ৪৫৪ হিঃ)। হাদীসটির সনদে উল্লিখিত সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য ও হাদীসটির মান, সহীহ

  • উল্লেখ্য, এই হাদীসটি মূলত কুরআনে কারীমের সূরায়ে ফাতহ-এর ২৬ নম্বর আয়াতে উল্লিখিত كلمة التقوى (কালিমাতুত তাক্বওয়া)-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বর্ণিত অসংখ্য হাদীসগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া তাফসীরের প্রায় সব কিতাবে কালিমাতুত তাক্বওয়ার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে লিখা আছে, তা হলো “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”। (প্রায় ৫০টিরও বেশি তাফসীরগ্রন্থ আমরা যাচাই করেছি। বিশেষ কয়েকটি গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/১৬৫, রূহুল মা’আনী ১৩/২৯২, কুরতুবী ১৬/১৯০, তাবারী ১১/৩৬৫, বাগাভী ৫/১১৬)।

হাদীস ৩। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, কুরআনে কারীমের সূরা কাহাফ-এর ৮২ নম্বর আয়াত অবলম্বনে, “এর নিচে ছিল তাদের গুপ্ত ধন”। এখানে গুপ্ত ধন বলতে একটি স্বর্ণের বোর্ড, এতে কয়েকটি বিষয় লেখা ছিল। সবশেষে লেখা ছিল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”। (তাবরানী কিতাবুদ দু’আ, হাদীস নং ১৬২৯, বায়হাকী যুহদ, হাদীস নং ৫৪৪, ইমাম সুয়ূতী আদ-দুররুল মনসূর ৯/৬০০ দ্রষ্টব্য)।

  • এই হাদীসের বর্ণনাকারীদের সবাই ثقة বা বিশ্বস্থ, শুধু বুশাইর নামক একজন রাবী এমন রয়েছেন যাকে ইমামগণের অনেকে صدوق তথা গ্রহণযোগ্যও বলেছেন। তাই হাদীসটির মান, হাসান বা অন্যান্য হাদীসের সমন্বয়ে সহীহ

হাদীস ৪। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, كَانَتْ رَايَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَوْدَاءَ وَلِوَاؤُهُ أَبْيَضُ، مَكْتُوبٌ عَلَيْهِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ- অর্থ, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঝাণ্ডাটি ছিল কালো এবং পতাকাটি ছিল সাদা রঙের। এই পতাকায় লেখা ছিল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। (আল মু’জামুল আওসাত লিত-তাবরানী ১/১২৫, হাদীস নং ২২১, শামায়েলে ইমাম বাগাভী, হাদীস নং ৮৯৪)। এই হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য। তবে এর একজন বর্ণনাকারী “হাইয়্যান” সম্পর্কে কেউ কেউ অপরিচিত বলেছেন। কিন্তু তার সম্পর্কে প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ ইমাম আবু হাতেম (রহ.) صدوق বা নির্ভরযোগ্য বলে মত ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া ইমাম বাজ্জারও (রহ.) তাকে সুপ্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণের মধ্যে গণ্য করেছেন । (ইমাম ইবনে আদী সংকলিত ‘আল জারহু ওয়াত-তা’দীল’ ৩/২৪৬ দ্রষ্টব্য)।

হাদীস ৫। সাহাবী হযরত বুরাইদা (রা.) হতে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, انطلق أبو ذر ونعيم ابن عم أبي ذر، وأنا معهم يطلب رسول اللَّه صلّى اللَّه عليه وآله وسلّم وهو مستتر بالجبل، فقال له أبو ذر: يا محمد، أتيناك لنسمع ما تقول، قال: أقول لا إله إلا اللَّه محمد رسول اللَّه، فآمن به أبو ذر وصاحبه. অর্থ, আবুজর এবং নু’আইম তারা দু’জন রাসূল (সা.)-এর খুঁজে বের হন। আমি তাঁদের সাথে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন এক পাহাড়ের আড়ালে ছিলেন। তখন আবুজর (রা.) রাসূল (সা.)-কে বললেন, হে মুহাম্মদ (সা.) আপনি কি বলেন আমরা তা শুনতে এসেছি। তখন রাসূল (সা.) বলেন, আমি বলি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। (আল ইছাবাহ ফী তাম-ঈযিস সাহাবাহ, ইমাম ইবনে হাজর আল আসকালানী ৬/৩৬৫, হাদীস নং ৮৮০৯, যিয়াদাতুল মাগাযী ইউনুস ইবনে বুকাইর দ্রষ্টব্য)। এই হাদীসের সনদও সহীহ, এর সকল বর্ণনাকারী ছিকাহ বা বিশ্বস্থ

হাদীস ৬। হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻓﺺ ﺧﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺣﺒﺸﻴﺎ، ﻭﻛﺎﻥ ﻣﻜﺘﻮﺑﺎ ﻋﻠﻴﻪ : ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ، ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﺳﻄﺮ، ﻭﻣﺤﻤﺪ ﺳﻄﺮ، ﻭﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺳﻄﺮ অর্থ, নবী করীম (সা.)-এর আংটির পানরটি ছিল আবিসিনীয়। আর তাঁর উপর লেখা ছিল ‘,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’। এর প্রথম লাইন ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’, দ্বিতীয় লাইন ‘‘মুহাম্মাদ’’, তৃতীয় লাইন ‘‘রাসূলুল্লাহ’’। (আখলাকুন নবী, আবুশ শাইখ আল ইছবাহানী রহ., হাদীস নং ৩৩৫, হাদীসের মান সহীহ)।

  • আবুশ শাইখ (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত পরিচায় হল, তার পুরো নাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে হাইয়্যান, তিনি ‘আবুশ খাইখ’ নামে প্রসিদ্ধ। তার উপাধী আল ইমামুল হাফেজুস সাদিক মুহাদ্দিসু ইছবাহান। মৃত ২৭৪ হিজরী। ইমাম যাহাবী তার ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে (১৬/২৭৭) তাঁর মৃত্যু সন এটাই লিখেছেন। বিস্তারিত উইকিপিডিয়া থেকে দেখুন। ক্লিক করুন।

আল্লাহ তাআলা এমন অজ্ঞ গবেষকদের মুর্খতাসূলভ গবেষণা থেকে উম্মতের ঈমান ও আমলকে হিফাজত করুন। আমীন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

মুসলিমরা উটের প্রস্রাব কেন পান করে? এতে কি শেফা রয়েছে?

0

উত্তরদাতা :

প্রশ্নকর্তার প্রশ্নটাই অমূলক ও বিভ্রান্তিকর। কেননা কোনো সুস্থ্য-সবল মুসলিম জেনে-বুঝে কখনো উটের প্রস্রাব পান করেনা, করতে কাউকে উৎসাহিতও করেনা। বরং ইসলামের উপর এধরণের বেশিরভাগ আপত্তি অগভীর এবং অস্বচ্ছ, বিদ্বেষ মূলক এবং যাচাই-বাছাই বিহীন। আসুন, জবাবটা নিন।

  • রাসূল (সা.)-এর হাদীস সমূহকে সামনে রাখলে নিচের বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে যে,

১। হাদীসের কোথাও মুসলমানদেরকে উটের প্রস্রাব পান করতে বলা হয়নি, বরং উটের প্রস্রাব পান করতে চাওয়ায় নির্দিষ্ট একটি রোগাক্রান্ত সম্প্রদায়কে সাময়িক সময়ের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছিল মাত্র। এই সংক্রান্ত সবগুলো বর্ণনা দেখলে এটাই প্রতীয়মান হবে।

২। সুস্থ্য কাউকে নয়, বরং নির্দিষ্ট একটি অসুস্থ সম্প্রদায়কে রোগমুক্তির জন্য স্রেফ প্রতিষৌধক হিসেবেই তা পান করতে অনুমতি দিয়েছিলেন।

৩। ঐ সম্প্রদায়টি মুসলিম ছিল না, তবে ইসলাম গ্রহণ করার আগ্রহ জানিয়েছিল কিন্তু বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করার পর পরবর্তীতে মুরতাদ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটায় বলা যাচ্ছে যে, ঐ সম্প্রদায়টি মূলত মুনাফিকই ছিল।

৪। অমুসলিম সম্প্রদায়টি ইসলাম গ্রহণের আর্জি নিয়ে মদীনায় রাসূল সা.-এর নিকট এসে নিজেদের অসুস্থতার অভিযোগ করে উটের প্রস্রাব পান করতে আগ্রহ পেশ করায় রাসূল সা. তাদেরকে সেটি দুধের সাথে মিশিয়ে পান করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন শুধুমাত্র রোগের প্রতিষৌধক হিসেবে, সাধারণভাবে ও নিঃশর্তভাবে নয়।

৫। উটের প্রস্রাব পান করার উক্ত পরামর্শ সাধারণ কোনো বিধান বা উদ্বুদ্ধমূলক বিষয় ছিল না, শুধুমাত্র সময়সাপেক্ষ ও নির্দিষ্ট একটি রোগাক্রান্ত সম্প্রদায়ের জন্য, যারা ভিনদেশী ছিলেন এবং মদীনার আবহাওয়ার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে ব্যর্থ ছিলেন। যেজন্য ফোকাহায়ে কেরামদের প্রায় সকলেই উটের মুত্র বা প্রস্রাব পান করাকে শরীয়তের অন্যান্য বিধিমালার আলোকে নিষিদ্ধ বলেই ফতুয়া (রায়) প্রদান করে গেছেন। যাদের মধ্যে ইমামে আযম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী প্রমুখ অন্যতম।

উপরে কয়েকটি পয়েন্টে কিছু জবাব দিলাম, এবার একটু নাতিদীর্ঘ জবাবে আসি,

প্রথমে রাসূল সা.-এর একটি হাদীস আপনাকে শুনাব। হযরত আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে,

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَهْطًا، مِنْ عُكْلٍ ثَمَانِيَةً قَدِمُوا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَاجْتَوَوُا الْمَدِينَةَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، ابْغِنَا رِسْلاً‏.‏ قَالَ ‏ “‏ مَا أَجِدُ لَكُمْ إِلاَّ أَنْ تَلْحَقُوا بِالذَّوْدِ ‏”‏‏.‏ فَانْطَلَقُوا فَشَرِبُوا مِنْ أَبْوَالِهَا وَأَلْبَانِهَا حَتَّى صَحُّوا وَسَمِنُوا، وَقَتَلُوا الرَّاعِيَ، وَاسْتَاقُوا الذَّوْدَ، وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلاَمِهِمْ

অর্থ, উকল নামক গোত্রে আট ব্যক্তির একটি দল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো। মদীনার আবহাওয়া তারা উপযোগী মনে করেনি। তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য দুগ্ধবতী উটনীর ব্যবস্থা করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমরা বরং সাদকার উটের পালের কাছে যাও। তখন তারা সেখানে গিয়ে সেগুলোর প্রস্রাব ও দুধ পান করে সুস্থ এবং মোটাতাজা হয়ে গেল। তারপর তারা উটের রাখালকে হত্যা করে উটের পাল হাকিয়ে নিয়ে গেল এবং তারা মুরতাদ হয়ে গেল। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮০৯; ইফা)।

এই হাদীসের দিকে লক্ষ্য করুন, রাসূল (সা.) তাদেরকে উটনীর প্রস্রাব পান করতে নিজ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই পরামর্শ দেয়ার উল্লেখ নেই। ওরা নিজেরাই বরং স্বেচ্ছায় উটনীর প্রস্রাব এবং দুধ এক সাথে পান করে এবং সেখানেই তাদের প্রতিষৌধক রয়েছে বলে বিশ্বাস করেছিল। এভাবে এই সংক্রান্ত সবগুলো হাদীস একত্রিত করে মোটের উপর চিন্তা করলেই বুঝা যায় যে, রাসূল সা. নিজ থেকে প্রস্রাব পান করতে বলেননি, বরং ওরা পান করতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তিনি (সা.) হয়ত বা তাদেরকে একটি নিয়ম মেনে অনুমতি দিয়েছিলেন মাত্র। নিয়মটি নিম্নরূপ,

  • সদকার উটনীর প্রস্রাব।
  • দুধের সাথে মিশিয়ে।
  • শুধু রোগের আরোগ্য লাভের উদ্দেশ্যে প্রয়োজন মাফিক।

বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান কী বলে? এবং ইসলাম বিরুধীদের অপপ্রচারের জবাবে মুসলিম গবেষকরা কী বলে?

ইসলাম বিরোধী ওরিয়েন্টালিস্টরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বলে থাকে যে, “দেখ দেখ, তোমাদের নবী উটের প্রস্রাব পান করতে বলেছে। তোমাদের নবী কত বাজে আর অবৈজ্ঞানিক কথা বলল!” এবার তাদের এসমস্ত কাটছাঁট ও খন্ডিত বক্তব্যের বিপরীতে আমরা যুক্তি দিয়ে বলতে পারি যে,

রাসূল (সা.) শুধু শুধু উটের প্রস্রাব পান করতে বলেননি, বরং রোগের প্রতিষৌধক হিসেবে দুধের সাথে মিশিয়ে কেউ পান করতে চাইলে তখন হয়ত বা অনুমতি দিয়েছিলেন, ব্যাস এটুকুই। এছাড়া বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সিনার চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল কানুন ফিত-তিব’ (القانون فى الطب) ১৬ শতক পর্যন্ত মুসলিম ও পশ্চিমা বিশ্বের মেডিক্যালগুলোতে পড়ানো হতো। সে গ্রন্থে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্যে উটের প্রস্রাবকে অন্য কিছুর সাথে মিশিয়ে ওষুধ তৈরি করার নিয়মাবলী দেয়া হয়েছে। সে নিয়ম কেবল মুসলিম বিশ্ব নয়, পশ্চিমা বিশ্বেও গত তিন-চার’শ বছর আগে প্রচলিত ছিলো। ইবনে সীনার চিকিৎসা গ্রন্থ ‘আল কানূন‘ এর খন্ড ৩ পৃষ্ঠা নং ১৮০ দেখুন, তিনি লিখেছেন, وقد جُرِّبَ بول الجمل الأعرابي، والمعقود منه ضماداً ومرهماً ومخلوطاً به، فكان نافعاً অর্থ, আরবীয় উটের প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তার মিশ্রণ ঘটিয়ে মলম আর মালিশের মেডিসিন তৈরির কাজ সম্পন্ন করা গিয়াছে। আর তাতে উপকারিতাও রয়েছে।

এমনকি এই আধুনিক যুগে এসেও আমেরিকার নাসা সহ জার্মান, জাপান, চীন, ভারতের মতো বিভিন্ন দেশে মেডিক্যালের একাডেমিক জার্নাল ও বইয়ে উটের প্রস্রাব নিয়ে রিসার্চ হচ্ছে; এবং তারা বলছেন যে, প্রস্রাবকে মেডিসিন হিসাবে ব্যবহার করা হতে পারে ও এতে বহু রোগের প্রতিষৌধক রয়েছে। এ সম্পর্কে এটিও দেখা যেতে পারে, ক্লিক করুন।

সুতরাং, উটের প্রস্রাবকে ওরিয়েন্টালিস্টরা যেভাবে অযৌক্তিক ও বর্বর আকারে উপস্থাপন করে ইসলামের নবীকে আক্রমণ করছে, তা সম্পূর্ণ অবিচার ও অন্যায়। নবী করীম (সা.) নিজ থেকে প্রস্রাব পান করতে যদি বলতেনও তবু এই সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলার কোনোই সুযোগ নেই। দুঃখের বিষয় যে, হাদীস বিশেষজ্ঞ পূর্ববর্তী স্কলারদের ব্যাখ্যাগুলো যাদের পড়াশোনা নেই তারাই মূলত হাদীসগুলোর উপর ভাসা ভাসা কিংবা স্বল্প পরিসরে জ্ঞান রাখার কারণেই বিভ্রান্ত হয়ে থাকে এবং হাদীস অস্বীকারকারীদের চটকদার কথাবার্তায় ধোকা খাচ্ছেন, হাদীসকে অস্বীকার করার মত আত্মঘাতী সিদ্ধান্তেও ভুগছেন! আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।

কোরা ব্লগ থেকে

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক

আল্লাহ’র জন্য হাত পা চেহারা সাব্যস্ত করা প্রসঙ্গে

আল্লাহর জন্য হাত পা চেহারা ইত্যাদি সাব্যস্ত করা নিয়ে স্কলারশিপ ইসলামি বিদ্ধানগণের ফিকহ ও প্রাধান্যযোগ্য মতটি কেমন?

লিখেছেন শায়খ ইজহারুল ইসলাম

প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কনসেপ্ট মনে রাখতে হবে।

১। আল্লাহ তায়ালা সব ধরণের অঙ্গ-প্রতঙ্গ থেকে মুক্ত। অঙ্গ-প্রতঙ্গের ধারণা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র।

২। আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি দেহ ও অঙ্গ-প্রতঙ্গ বিশিষ্ট নন। সৃষ্টি যেমন বিভিন্ন অংশ মিলে গঠিত হয়, আল্লাহ তায়ালা এধরণের অংশ অংশ মিলে গঠিত হওয়ার ধারণা থেকে মুক্ত। ছোট বা বড় কোন ধরণের অংশের ধারণা সম্পূর্ণ তাউহীদ পরিপন্থী ও কুফুরী।

৩। কুরআন ও সুন্নাহের কিছু কিছু শব্দ আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে যেগুলো সাধারণত: অংশ বা অঙ্গ বোঝায়। এগুলোর বিষয়ে আহলে সুন্নতের সর্বসম্মত ঐকমত্যপূর্ণ মতামত হল, এগুলো আল্লার ক্ষেত্রে অংশ বা অঙ্গ প্রমাণ করে না। এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর জন্য অংশ বা অঙ্গ সাব্যস্ত করা সুস্পষ্ট কুফুরী।

যেমন, আল্লাহর রং (সিবগাতুল্লাহ), আল্লাহর চেহারা(ওয়াজহুল্লাহ), আল্লাহর হাত (ইয়াদুল্লাহ)।

  • প্রশ্ন: এগুলো থেকে আল্লাহর অংশ বা অঙ্গ সাব্যস্ত করা যদি কুফুরী হয়, তাহলে পবিত্র কুরআনে এগুলো ব্যবহার করা হয়েছে কেন?

উত্তর: পবিত্র কুরআন যেহেতু আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং আরবী ভাষার অলংকার খুবই উচ্চাঙ্গের, এজন্য পবিত্র কুরআন অলঙ্কারের শাস্ত্রের দিক থেকে সবার উপরে।

ভাষা ও সাহিত্যে অঙ্গ ও অংশের অর্থ নেয়া ছাড়াও এজাতীয় শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন, কুরআনে আছে দিনের চেহারা (ওয়াজহান নাহার)। অথচ আমরা জানি, রাত-দিনের কোন চেহারা হয় না। এটা সাহিত্যের অলঙ্কার।

কুরআনে আছে, সত্যের পা ( কাদামা সিদক)। আমরা সবাই জানি, সত্য – মিথ্যার কোন হাত-পা হয় না। এরপরও ভাষার অলঙ্কারের হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

কুরআনে আছে, পিতা-মাতার জন্য নম্রতার ডানা (জানাহাজ জুল) বিছিয়ে দাও। অথচ আমরা জানি, নম্রতার কোন ডানা হয় না।

সুতরাং আরবী ভাষা ও সাহিত্যের উচ্চাঙ্গের অলঙ্কারের কারণে এধরণের ব্যবহার থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। এগুলো কোন দোষণীয় বিষয় নয়।

বরং এগুলো কুরআনের সৌন্দর্য্য। কারণ, যখন বলা হয়, তোমরা আল্লাহর রঙে রঙীন হও, তখন যে মর্ম ও উদ্দেশ্য বোঝান হয়, স্বাভাবিকভাবে বললে এতো অর্থবোধক হয় না। যদি বলি, তোমরা ভালো গুণে গুণান্বিত হও, তাহলে এটা অতটা আবেদনময় হয় না।

আগের উদাহরণে পিতার জন্য নম্রতার ডানা বিছিয়ে দেয়ার কথাটাই ধরুণ। সরল-স্বাভাবিকভাবে যদি বলা হয়, তোমরা পিতা-মাতার সাথে ভালো আচরণ করো, এটা যতটুকু আবেদনময়, এর চেয়ে শতগুণ অর্থবহ হলো, তোমরা পিতা-মাতার সামনে দয়া-মায়া ও নম্রতার ডানা বিছিয়ে দাও।

এজন্য, একথা ভাবা কখনও উচিৎ হবে না যে, যেসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়, সেসব বিষয় পবিত্র কুরআনে আসলো কেন? নাউজুবিল্লাহ।

পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে এধরণের আপত্তি বা ধারণা খুবই মারাত্মক। কারণ, যেটা পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য্য সেটাকে কুরআনের ত্রুটি বিবেচনা করা হচ্ছে। অথচ পবিত্র কুরআন সব – ধরণের দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। এজন্য আমরা দেখি যে, এসব আয়াত ও বক্তব্যে সাহাবায়ে কেরাম কোন আপত্তি করেননি। কারণ তারা মাতৃভাষার অলংকার ও উচ্চাঙ্গের সাহিত্য সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন।

  • প্রশ্ন: এসব শব্দের ক্ষেত্রে অংশ বা অঙ্গ বিশ্বাস না করে কি এগুলো আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা যায়?

উত্তর: এসব শব্দের বাহ্যিক, আক্ষরিক বা সরল অর্থ হল দেহের অংশ বা অঙ্গ। এজন্য অংশ বা অঙ্গের অর্থ বাদ দিলে বাহ্যিক বা আক্ষরিক আর কোন অর্থ অবশিষ্ট থাকে না।

যেহেতু বাহ্যিক সরল অর্থ তথা অংশ বা অঙ্গ অর্থটা সকলের মতে কুফুরী, এজন্য এই কুফুরী অর্থ বাদ দেয়ার পর এই শব্দগুলোর আর কোন সরল অর্থ অবশিষ্ট থাকে না, যা আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা যায়।

এখন আমাদের সামনে দু’টি বিষয় থাকছে,

১। মূল শব্দ, যার বাহ্যিক অর্থকে বাদ দেয়া হয়েছে।

২। শব্দের অনেক রুপক অর্থ ও ব্যবহার।

এই পরিস্থিতিতে আলিমদের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছে। কেউ বলেছেন, বাহ্যিক অর্থ বাদ দেয়ার পর মূল যে শব্দটা অবশিষ্ট থাকছে, এ শব্দকে আল্লাহর সিফাত বা গুণ বলা হবে। তবে এক্ষেত্রে আলাদা কোন অর্থ সাব্যস্ত করা হবে না।

প্রশ্ন হয়, অর্থহীন আবার শব্দ হয় নাকি? তখন তারা বলেন, অর্থটা আমাদের জানা নেই। আল্লাহ ভালো জানেন। একে পরিভাষায়, ইসবাত মায়াত তানজীহ বলে। অর্থাৎ বাহ্যিক অর্থ পরিত্যাগ করে শুধু শব্দটাকে সিফাত বা গুণ সাব্যস্ত করা।

আরেকদল আলিম বলেন, শব্দকে বাহ্যিক অর্থ থেকে বাদ দেয়ার পর আমাদের দায়িত্ব শেষ। আমরা আগ বেড়ে একে সিফাত বা গুণ বলব না আবার নাকচও করব না। এ বিষয়ে পুরো বিষয়টা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিব। একে পরিভাষায় তাফয়ীদ মায়াত তানজীহ ( বাহ্যিক অর্থ বাদ দিয়ে শব্দকে আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়া) বলে।

প্রথম মতের সাথে দ্বিতীয় মতের পার্থক্যটা স্পষ্ট। প্রথম দল শব্দকে তার সরল অর্থ থেকে বাদ দেয়ার পর নিজেদের পক্ষ থেকে সিফাত বলছেন। তবে অর্থের বিষয়টি তারা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিচ্ছেন। আর দ্বিতীয় দল সিফাতও বলছেন না। নাকচও করছেন না। বরং পুরো বিষয়টিকেই আল্লাহর উপর ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনিই ভালো জানেন।

এখানে আরেকদল আছেন। যারা শব্দের সরল অর্থ(অংশ বা অঙ্গ) বাদ দেয়ার পর, শব্দকে পুরোপুরি অর্থহীন বলতে নারাজ। তারা বলেন, কুরআন সুস্পষ্ট আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। বাহ্যিক অর্থ যেহেতু নেয়া সম্ভব হচ্ছে না, সুতরাং আরবী ভাষার নিয়ম মেনে এ শব্দের সবচেয়ে উপযোগী রুপক অর্থটি নিতে হবে। পরিভাষায় যাকে, তা’বীল মায়াত তানজীহ বলে।

তাদের বক্তব্য হল, মূল শব্দের সরল বা বাহ্যিক অর্থ (অংশ বা অঙ্গ) নেয়াটা অসম্ভব হলেও পুরো বাক্যের ব্যবহার থেকে একটি সুস্পষ্ট মর্ম বোঝা যায়। আনুষঙ্গিক মর্ম থেকে বক্তার মূল উদ্দেশ্য বোঝা গেলেই যথেষ্ট।

যেমন কুরআনে এসেছে, নিশ্চয় তোমাদেরকে আল্লাহর চেহারার জন্য আহার করাচ্ছি।

এখানে চেহারা শব্দটি সরল বা বাহ্যিক অর্থ (অংশ বা অঙ্গ) নেয়া সম্ভব নয়। বরং এটি সবার মতে কুফুরী। সুতরাং আল্লাহর চেহারা দ্বারা বাহ্যিক চেহারা উদ্দেশ্য নেয়া যাচ্ছে না। তবে আনুষঙ্গিক বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, এখানে আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য আহার করান হচ্ছে। সুতরাং এখানে চেহারা দ্বারা সন্তষ্টি উদ্দেশ্য। এটাই মূলত: তা’বীল মায়াত তানজীহ।

  • এখন প্রশ্ন হল, আক্বিদায় তো মতবিরোধ হওয়ার কথা না, তাহলে এই মতবিরোধে কে সঠিক?

উত্তর: এখানে অকাট্যভাবে ঐকমত্যের বিষয় আছে। সেটি হল, এসব শব্দের সরল বা বাহ্যিক অর্থে বিশ্বাস করা কুফুরী। এ বিষয়ে উপরের তিনটি দলই একমত। এবং এই ঐকমত্যের বিষয়টিই আহলে সুন্নতের আক্বিদার মূল।

সরল অর্থ বাদ দেয়ার পর শুধু শব্দকে আল্লাহর সিফাত বলা বা কোন কিছু না বলে পুরো বিষয়কে আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়া অথবা আরবী সাহিত্য ও অলংকারের নিয়ম মেনে আনুষঙ্গিক বক্তব্য থেকে রুপক অর্থ নেয়া, সবগুলোই আহলে সুন্নতের নিকট গ্রহণযোগ্য। কোনটাই বাতিল না। সালাফ থেকে উপরের সবগুলিই পাওয়া যায়। একেকজন তাদের বুঝ ও গবেষণা অনুযায়ী একেকটাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

  • প্রশ্ন: তথাকথিত সালাফীদের সাথে পার্থক্য কোথায়?

উত্তর : সালাফীরা এখানে শব্দকে তার বাহ্যিক বা সরল অর্থে বিশ্বাস করতে বলে। যা আহলে সুন্নতের মতে, সুস্পস্ট বাতিল।

তাদেরকে যদি বলা হয়, হাতের বাহ্যিক অর্থ তো অংশ বা অঙ্গ। দেহের অংশ বা অঙ্গের অর্থ ছাড়া হাতের আর তো কোন সরল অর্থ বা উদ্দেশ্য নেই। তখন তারা বলে, না না। আমরা তো অংশ বা অঙ্গের অর্থে বিশ্বাস করি না।

তাহলে হাতের সরল বা বাহ্যিক অর্থটা কী? তখন আর বলতে পারে না।

এজন্য মতবাদ হিসেবে, তথাকথিত সালাফীদের মূলনীতিটা দেহবাদী কুফুরী মূলনীতি। এদের কিছু কিছু আলিম হয়ত অংশ বা অঙ্গে বিশ্বাস করে না, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ অংশ বা অঙ্গে বিশ্বাস করার কারণে দেহবাদী আক্বিদা রাখে। এজন্য মূলনীতির দিক থেকে সালাফীরা আহলে সুন্নত বহির্ভূত বাতিল আক্বিদার জামাত। তবে এদের মধ্যে যারা আল্লাহর অঙ্গ বা অংশে বিশ্বাস করে না এবং বাহ্যিক বা সরল অর্থ নেয়ার দাওয়াত দেয় না, এদেরকে ভ্রষ্ট না বললেও যারা সাধারণ মানুষকে বাহ্যিক বা সরল অর্থে বিশ্বাস করতে বলে এরা ভ্রষ্ট।

মোটকথা, মূলনীতির দিক থেকে সালাফী মতবাদ আহলে সুন্নত বহির্ভূত। মূলনীতিটা দেহবাদী আক্বিদার অনুরূপ।

সংগৃহীত