Home Blog Page 15

কেয়ামতে শিঙ্গা ফুঁকা : দু’বার না তিনবার?

0

কেয়ামতে শিঙ্গা ফুঁকা : একটা পর্যালোচনা

বিশুদ্ধ মতানুসারে ২টা শিঙ্গা ফুঁকা হবে। প্রথম শিঙ্গা ফুঁকার সাথে সাথে সমগ্র বিশ্বে মহাপ্রলয় ঘটে যাবে, সব কিছু ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে যাবে শুধু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যা অক্ষত রাখতে চান তা ব্যতীত। সূরা আত তাকভীর (৮১:১-২৯) পড়লে এ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এটা পছন্দ করে যে, কেয়ামতের দৃশ্যকে স্বচক্ষে দেখবে সে যেন সূরা তাকভীর, সূরা ইনফিতার ও সূরা ইনশিকাক পাঠ করে। (তিরমিযী হাদীস নং ৩৩৩৩ সহীহ, السلسلة الصحيحة لالبانى হাদীস নং ১০৮১ তাহকীক, শায়খ আলবানী রহ.)। কারণ সূরা তাকভীরে এসেছে- (পড়তে ক্লিক করুন)।

(আয়াতের অনুবাদ) ‘যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেয়া হবে {আবু হোরাইরাহ রা. হতে বর্ণিত নবী করিম (সা.) বলেছেন, الشَّمْسُ وَالقَمَرُ مُكَوَّرَانِ يَوْمَ القِيَامَةِ অর্থাৎ কেয়ামতের দিন সূর্য ও চন্দ্রকে গুটিয়ে নেয়া হবে। সহীহ বুখারী হাদীস নং ৩২০০}, আর নক্ষত্ররাজি যখন পতিত হবে, আর পর্বতগুলোকে যখন সঞ্চালিত করা হবে (এর উদ্দেশ্য, তখন পাহাড় সমূহ মাটির উপর ভেঙ্গে পড়বে ও সারা পৃথিবী প্রকম্পিত হবে), আর যখন দশমাসের গর্ভবতী উটনীগুলো উপেক্ষিত হবে (এখানে দশমাসের গর্ভবতী উটনীকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হল, যদি কেয়ামতের দিন কোনো মানুষের এরূপ মূল্যবান সম্পদ থাকত তাহলে এরূপ মূল্যবান সম্পদও ছেড়ে দিত, কেয়ামতের ভয়াবহতা দেখে তার প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করত না।), যখন বন্য পশুগুলিকে একত্রিত করা হবে (এখানে এর উদ্দেশ্য হল, পশুগুলোকে কিসাস আদায় করার জন্য পুনর্জীবিত করে একত্রিত করা হবে । ফলে দুনিয়াতে যে পশুর শিং ছিল না আর তাকে শিংওয়ালা পশু শিং দ্বারা আঘাত করেছিল সে পশু কেয়ামতের দিন শিংওয়ালা পশুকে অনুরূপ আঘাত করে কিসাস আদায় করে নেবে। পরে তারা আবার মাটিতে পরিণত হয়ে যাবে), যখন সমুদ্রগুলোকে অগ্নিউত্তাল করা হবে, আর যখন আত্মাগুলোকে (সমগোত্রীয়দের সাথে) মিলিয়ে দেয়া হবে, আর যখন জীবন্ত কবরস্থ কন্যাকে (জাহেলিয়াতের যুগে কন্যাশিশুকে মাটিতে জীবন্ত পুঁতিয়া ফেলা হত) জিজ্ঞাসা করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে? আর যখন আমলনামাগুলো প্রকাশ করে দেয়া হবে (মৃত্যুর সময় মানুষের আমলনামা গুটিয়ে দেওয়া হয়। পুনরায় কেয়ামতের দিন হিসাবের জন্য তা খোলা হবে। যা প্রতিটি ব্যক্তি তা প্রত্যক্ষ করবে। বরং প্রত্যেকের হাতে তা ধরিয়ে দেওয়া হবে, সূরা ইসরা আয়াত নং ১৪-তেও একই কথা বলা হয়েছে), আর যখন আসমানকে আবরণমুক্ত করা হবে (অর্থাৎ আকাশ ভেঙ্গে ফেলা হবে যেমন ছাদ ভেঙ্গে ফেলা হয়)… ইত্যাদি’ (আয়াত নং ১-১১ অনুবাদ সমাপ্ত হল)।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহতালা দুটি শিঙ্গা ফুঁকা সম্পর্কে বলেন, وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ إِلا مَنْ شَاءَ اللَّه ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ অর্থ- আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। ফলে আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করেন তারা ছাড়া আসমানসমূহে যারা আছে এবং পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই বেহুঁশ হয়ে পড়বে। তারপর আবার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে। (সূরা যুমার, আয়াত ৬৮)। অধিকন্তু সহীহ বুখারী মুসলিম সহ বিশুদ্ধ সনদে প্রাপ্ত অন্যান্য হাদীস সমূহ দ্বারাও মাত্র ২টা শিঙ্গা ফুঁকা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত আছে, ما بين النفختين أربعون অর্থাৎ (কেয়ামতে শিঙ্গা দুইবার ফুঁকা হবে) দুই শিঙ্গার মধ্যবর্তী সময়ের বিশালতা চল্লিশ। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ৪৬৫১, সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৯৫৫)। হাদীসটির ‘চল্লিশ’ সংখ্যাটির প্রকৃত তাৎপর্য অস্পষ্ট। তাই বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের মাঝে এর মর্মার্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। চল্লিশ দিন, মাস কিবা বছর ইত্যাদি যে কোনোটা হতে পারে। এ সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান মহান আল্লাহই রাখেন।

তবে কুরআন এবং গুটিকয়েক হাদীসের ইংগিতসমূহ একত্রিত করে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কেয়ামতে ৩টা শিঙ্গা ফুঁকা হবে। প্রথমটির মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী এক মহা ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হবে। কিন্তু সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ৩টা শিঙ্গা ফুঁকা সংক্রান্ত রেওয়ায়েত সম্পর্কে লিখেছেন وهو حديث ضعيف مضطرب অর্থাৎ এই বর্ণনা দুর্বল এবং মুদতরিব [বিশৃঙখল জনিত] (ফাতহুল বারী ১১/৩৬৯, ইমাম কুরতুবী সংকলিত তাযকিরাহ পৃ-১৮৪)। সুতরাং কেয়ামতে শিঙ্গা দুইবার ফুঁকা সংক্রান্ত শিক্ষাই বিশুদ্ধ ও অথেনটিক। আল্লাহু আ’লাম।

  • টিকা– হাদীসে মুদতরিব বলে, যে হাদীসের মাঝে সাধারণত রাবীর পরিবর্তন নিয়ে অর্থাৎ সনদের এ স্তরে প্রকৃত রাবী কে—এ নিয়ে অথবা মতন নিয়ে অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে প্রকৃত মতন কোনটি অথবা উভয়ের পরিবর্তন নিয়ে বিরোধ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় আর এ ব্যাপারে দৃঢ়তার দিক থেকে সবগুলো রেওয়ায়েতই সমান মর্যাদার; কোনো একটিকে অপরটির উপর অগ্রাধিকার দেয়া যায় না, এমন হাদীসকে مضطرب বা মুদতরিব বলা হয়। দেখুন, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) রচিত شرح نخبة الفكر বা শরহে নুখবাতুল ফিকার। সকল মুহাদ্দিসীন একমত যে, মুদতরিব হাদীস অথেনটিক নয়।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

আব্দুর রহমান লখভী ও মির্যা কাদিয়ানী

মির্যা কাদিয়ানীর মিথ্যাচার

মির্যা কাদিয়ানী অতি চালাকি করে নিজেই নিজের কথায় কিভাবে ধরা খেল দেখেন….

মরহুম মওলানা আব্দুর রহমান লখভীর সাথে মির্যা কাদিয়ানীর ঐতিহাসিক একটি চমৎকার বিতর্ক নিয়ে একটু লিখব। আব্দুর রহমান লখভী (রহ.) মির্যার সমসাময়িক একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আলেম ছিলেন। ১৮৯১ সাল। মির্যা কাদিয়ানী যখন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে শুরু করলো, কখনো মাহদী কখনো বা মসীহ মওউদ আবার কখনো নবী দাবী, কখনো বা নবী দাবী অস্বীকার করে নবী শব্দকে ‘মুহাদ্দাস’ অর্থে উদ্দেশ্য ইত্যাদি বলে একেক সময় একেক রকম বয়ান দিতে লাগলো এবং মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলতে শুরু করলো তখন মওলানা আব্দুর রহমান লখভী (রহ.) মির্যার নিকট পত্র প্রেরণ করে জানালেন, আমার নিকট ইলহাম হয়েছে যে,

ان فرعون و هامان و جنودهما كانوا خاطئين

(অর্থাৎ নিশ্চয়ই ফেরাউন আর হামান আর তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা মিথ্যা) এই ইলহামে ইলাহিতে ফেরাউন দ্বারা মির্যাকে এবং হামান দ্বারা (মির্যার উপদেষ্টা) নুরউদ্দীনকে বুঝানো উদ্দেশ্য । পত্রের কথাগুলো মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের লিখনীতেও স্থান পেয়েছে। দেখুন, রূহানী খাযায়েন ২২/৩৬৭-৬৮ (নিচে স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য)।

মির্যা কাদিয়ানী পত্রটি হাতে নিয়ে পড়লেন এবং মন্তব্য করে বললেন যে, এই ইলহামের ভেতর তো আমার নাম নেই! তারপর মওলানা আব্দুর রহমান লখভী সাহেব কিছুদিন পর মির্যাকে নতুন আরেকটা ইলহামের সংবাদ দিলেন। তিনি মির্যাকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দিলেন, আমার নিকট ইলহাম আসছে যেখানে একদম পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, “মির্যা কাদিয়ানী ফেরাউন আর মিয়া নূরউদ্দিন হামান”। আর একথাগুলো মুসলিম উম্মাহার কল্যাণকামীতার উদ্দেশ্যে জানিয়ে দেয়া আমার জন্য জরুরী ছিল। একথার পর মির্যা কাদিয়ানী চুপ হয়ে যান। তারপরের ইতিহাস আরও দারুন।

১৩১৪ হিজরী। মওলানা আব্দুর রহমান লখভী সাহেবের ইন্তেকাল হয়ে গেল। মির্যা কাদিয়ানী খুশিতে বগলদাবা করতে লাগলেন। তিনি সাথে সাথে আব্দুর রহমান লখভী সাহেবের উপর একটা টাটকা মিথ্যাচার শুরু করে দিলেন। তিনি বললেন, লখভী সাহেব আমাকে ফেরাউন আখ্যা দিয়েছেন আর নিজেকে মূসা সাব্যস্ত করেছেন।

মির্যা সাহেব এবার উপরের মিথ্যাচারের উপর যুক্তি পেশ করে বলতে লাগলেন, আশ্চর্যের ব্যাপার হল, ফেরাউন এখনো বেঁচে আছে অথচ মূসা মরে কবরে চলে গেছে, দুনিয়ায় তার নাম নিশানাও বাকি নেই! মির্যা কাদিয়ানী কত ধূর্ত প্রকৃতির মিথ্যাবাদী হলে এধরণের মিথ্যাও প্রচার করতে পারে, তা চিন্তা করতেও মাথা নিচু হয়ে যায়! আহা! একজন ইমাম মাহদী দাবীদার কিভাবে এত জঘন্য মিথ্যাবাদী হয়!! অথচ মওলানা আব্দুর রহমান লখভী সাহেবের পত্রের কোথাও নিজেকে “মূসা” শব্দ ইংগিতেও উল্লেখ নেই।

যাইহোক মির্যা সাহেব বোধহয় ধরেই নিয়েছিলেন যে, কেউ কাউকে ফেরাউন আখ্যা দিলে বা ইলহামের মাধ্যমে কারো পক্ষ হতে কেউ ফেরাউন আখ্যা ফেলে তখন প্রতিপক্ষ আপনাপনি মূসা সাব্যস্ত হয়ে যাবেন, যদিও তিনি মূসা দাবী করেন বা না করেন ! কিন্তু বিপত্তি বাধে অন্যখানে। মির্যা কাদিয়ানী সাহেব থেকেও অন্যকে ফেরাউন আখ্যা দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

দুঃসংবাদ হল, মির্যা সাহেবের মৃত্যুটা আগে হয়ে যায় আর তার ফেরাউন আখ্যা পাওয়া ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর আরও প্রায় ১০ বছরেরও অধিক সময় বেঁচে ছিলেন। মির্যা কাদিয়ানী সাহেব অতি পাণ্ডিত্ব দেখাতে গিয়ে এভাবেই নিজের কথায় নিজে পাকড়াও হন। তিনি অতি চালাকি দেখাতে গিয়ে বহু স্থানে আরও বহু ধরা খেয়েছেন। ইউজে আসেফ সম্পর্কে তিনি সারা দুনিয়ার চোখে ধূলো দিয়ে পরে এমনভাবে ধরা খেয়েছেন যা বর্ণনাতীত। এ সম্পর্কে বিস্তারিত এখান থেকে পড়ুন (ক্লিক)।

তিনি ভুলেও চিন্তা করেননি যে, স্যোসাল মিডিয়ার যুগ আসন্ন। তখন তথ্য-উপাত্তের সয়লাব হবে। মিথ্যাবাদীরা সহজেই ধরা পড়তে থাকবে।

আগের কথায় আবার ফিরে আসলাম, মওলানা আব্দুর রহমান লখভী সাহেবের ইলহামকে ভুল সাব্যস্ত করতে মির্যা সাহেব মিথ্যার আশ্রয় তো নিলেন, মনগড়া যুক্তিও পেশ করে নিজেকে রক্ষায় চেষ্টা করলেন। কিন্তু আল্লার মাইর দুনিয়ার বাহির—বাংলায় এই প্রবাদটি তার সাথে এভাবে একাকার হয়ে যাবে তা স্বপ্নেও ভাবেনি কেউ! মির্যা সাহেব তার লিখনীর এক জায়গায় মওলানা হোসাইন বাটালভি (রহ.)-কে “ফেরাউন” আখ্যা দিয়েছেন এবং সেই যুগের অন্য আরেক বিজ্ঞ আলেম মওলানা নজির হোসাইন (রহ.)-কে “হামান” আখ্যা দিয়েছিলেন। (রূহানী খাযায়েন ১২/১৩০, মালফুযাত ৪/২৪৪)।

মজার ব্যাপার হল, মির্যা সাহেব তার লিখনীর এক স্থানে নিজেকে সুস্পষ্টভাবে মূসা বলেও দাবী করে লিখে গেছেন। (রূহানী খাযায়েন ১৮/৫৩০)।

এখন প্রশ্ন হল, এমতাবস্থায় মির্যা কাদিয়ানী সাহেব নিজেই নিজের মিথ্যাচার আর মনগড়া যুক্তির কারণে নিজেই ধরা খেলেন কিনা? মওলানা আব্দুর রহমান লখভী সাহেব নিজে মূসা দাবী না করেও তিনি যদি মির্যার মৃত্যুর আগে ইন্তেকাল করাটা আপত্তিকর হয় তাহলে মির্যা কাদিয়ানী সাহেব নিজেকে “মূসা” দাবী করা সত্ত্বেও তারই ফেরাউন আখ্যা পাওয়া মওলানা হোসাইন বাটালবী (রহ.)-এর অনেক আগেই তিনি মারা গেলেন কেন? মিথ্যাবাদীর উপর আল্লাহর অভিশাপ। আল্লাহ আমাদের ঈমান ও দ্বীনকে এইরকম জঘন্য মিথ্যাবাদী থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

কুরআনের মাপকাঠিতে হাদীস গ্রহণের নীতি কেন পরিত্যাজ্য

এই বিষয়ে লিখতে হবে আগে কখনো ভাবিনি। সম্প্রতি কথিত আহলে কুরআন তথা হাদীস অস্বীকারকারী এক নব্য ফেতনার উদ্ভব হয়েছে, যদিও এই ফেতনা আগেও ছিল; তবে তারা আগে একদমই বিস্তার লাভ করেনি, বড়জোর ইতিহাসের পাতায় কালো অক্ষরের ফ্রেমে বন্দী ছিল। স্যোসাল মিডিয়ার এই সময়টিতে এই ফেতনা যেন কোমরে গামছা বেঁধে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে হাদীসকে বাতিল সাব্যস্ত করতে।

এবার দেখুন, হাদীস বিরোধী অপপ্রচারকারীদের সম্পর্কে যুগশ্রেষ্ঠ আয়েম্মায়ে কেরাম কী বলে গেছেন। ইমাম খাত্তাবী (রহ.) তার শরহে সুন্নাহ কিতাবে বিখ্যাত হাদীস বিশারদ ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন যে, যারা বলে কুরআনের মাপকাঠিতে হাদীস গ্রহণ করতে হবে, নিশ্চয়ই তাদের এইধরণের কথা যিনদীক তথা ধর্মদ্রোহীরাই গড়েছে (দেখুন, শরহে সুন্নাহ ৪/২৯৯, ইমাম খাত্তাবী)।

অর্থাৎ তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, এধরণের অপপ্রচার আজ নতুন নয়, প্রত্যেক যুগেই হাদীসের উপর আক্রমণ হয়েছিল, সামনেও হতে থাকবে, শুধু আক্রমণের ধরন পাল্টিবে। কাজেই কোনো মুসলমানের জন্য উচিত হবেনা তাদের অপপ্রচারে কান দেয়া। এ বিষয়ে অনেক পূর্ব থেকে আয়েম্মায়ে কেরাম দুনিয়াকে সাবধান করে গেছেন।

ইমাম খাত্তাবী (রহ.)-এর কিতাব থেকে স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য।

وفي الحديث دلالة على أنه لا حاجة بالحديث إلى أن يعرض على الكتاب؛ فإنه مهما ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان حجة بنفسه، و اما ما رواه بعضهم انه قال اذا جاءكم الحديث فأعرضوه على كتاب الله فإن وافقه فخذوه و إن خالفه فدعوه فإنه حديث باطل لا اصل له. و قد حكى زكريا ابن يحيى الساجى عن يحيى ابن معين انه قال هذا حديث وضعته الزنادقة.

অর্থাৎ হাদীসের প্রামাণিকতার জন্য তাকে কুরআনের মুকাবিলায় উপস্থাপন করার কোনোই প্রয়োজন নেই। নিশ্চয়ই এটি রাসূল (সা.) হতে যখনি সাব্যস্ত হয়ে যাবে তখনি তা নিজেই প্রমাণযোগ্য হয়ে যাবে। তবে কেউ কেউ বলেছে যে, যখন তোমাদের নিকট হাদীস পেশ হবে তখন তোমরা তা কিতাবুল্লাহ’র মুকাবিলায় উপস্থাপন করবে। তারপর সেটি কিতাবুল্লাহ’র মুতাবেক হলে তোমরা গ্রহণ করবে আর যদি বিরোধী হয় তখন তোমরা তা পরিত্যাগ করবে, কেননা এমতাবস্থায় এই হাদীস বাতিল ও ভিত্তিহীন। অথচ ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.) হতে যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস সাজি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই এইধরণের কথা যিনদীক তথা ধর্মদ্রোহীরাই গড়েছে

ইমাম ইবনে হাজম (রহ.)ও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে কোনো সহীহ হাদীসই কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

ليس في الحديث الذي صح شيء يخالف القرآن الكريم ولا سبيل إلى وجود خبر صحيح مخالف لما في القرآن أصلاً، وكل خبر شريعة فهو إما مضاف إلى ما في القرآن ومعطوف عليه ومفسر لجملته، وإما مستثنى منه لجملته، ولا سبيل إلى وجه ثالث

অর্থাৎ সহীহ হাদীসের কোনো কিছুই কুরআনুল কারীমের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কুরআনের বিপরীতে এমন কোনো সহীহ হাদীসের কখনো অস্তিত্বই থাকার সুযোগ নেই। শরীয়ত সংক্রান্ত যত বর্ণনা রয়েছে তা হয়ত কুরআনের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কযুক্ত ও সংযোজিত এবং বিশ্লেষণকারী, অথবা কুরআনের বিষয়বস্তুর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। এর বাহিরে তৃতীয় আর কোনো পথ নেই। (দেখুন, আল আহকাম ফী উসূলিল আহকাম ২/২১৫-২১৬)।

সর্বসাধারণ মুসলিম উম্মাহার খেদমতে কিছু কথা বলে রাখা জরুরি। তা হচ্ছে, ইসলাম মানে শুধু কুরআন হলে আল্লাহ বলতেন না ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো।’ (সূরা মায়িদাহ, আয়াত ৯২)। ‘যে রাসূলের আনুগত্য করলো সে আল্লাহর আনুগত্য করলো।’ (সূরা নিসা, আয়াত ৮০)।

আমাদের অবশ্যই চিন্তা করা উচিত যে, মহান আল্লাহ শুধু কিতাব পাঠাননি, তিনি কিতাবের সাথে ব্যাখ্যাতাও (রাসূল সা.) পাঠিয়েছেন।

সুতরাং একটি মেনে অপরটি অস্বীকার করা মানে ইসলামকে আংশিক মানা আর আংশিক অস্বীকার করা। বরং হাদীস অস্বীকার করলে কুরআন অস্বীকারের রাস্তাই খুলে যায়। হাদীস অস্বীকারকারীরা কুরআনের সাথে যেভাবে হাদীসের সাংঘর্ষিকতা প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা করেন, ঠিক একইভাবে কুরআনের এক আয়াতের সাথে অন্য আয়াতের সাংঘর্ষিকতা দেখানো যায়। একজন কোনো বই থেকে শিখেছে, দুই যোগ দুই চার হয়। হঠাৎ সে একই বইয়ে তিন যোগ এক চার হওয়ার কথা জেনে আশ্চর্য হওয়া মানুষের মতো অনেকটা হাদীস অস্বীকারকারীদের দশা। হাদীস অস্বীকারকারীদের একটা ধূর্ততা হলো, তারা সরাসরি হাদীস অস্বীকারের কথা বলে না। কুরআনের সাথে হুবহু মিলে এমন হাদীসগুলো মানার কথা বলেন তারা। মূলত শুধু এই শ্রেণীর হাদীস গ্রহণ করা আর না করার মধ্যে পার্থক্য থাকে না। শুধু কুরআন থেকে সালাতের কোনো বিবরণ তো পরের কথা সালাতের আগের কাজ—আযান ও পবিত্রতার পদ্ধতিও প্রমাণ করা যাবে না। প্রয়োজন হবে হাদীসের। যাকাত ও অন্য সব বিষয়েও একই কথা প্রযোজ্য।

মূলত, কুরআনকে যদি থিওরি বলা হয় তাহলে হাদীসকে তার প্র্যাক্টিক্যাল বলা যায়। সারা বিশ্বের সব যুগের সব আলিম ও ইমাম হাদীস অস্বীকারকারীদের ভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার ব্যাপারে একমত। হাদীস সংকলন, রিজালশাস্ত্র ও জরাহ-তা’দীল প্রভৃতি সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা রাখা কোনো মানুষ হাদীসের প্রামাণ্যতা অস্বীকার করতে পারে না। ইসলামের প্রথম দুই শতকে কেউ হাদীসকে শরীয়তের দলিল হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানায়নি। হিজরী দ্বিতীয় শতকের শেষের দিকে এসে সর্বপ্রথম মুতাযিলা সম্প্রদায় হাদিসকে অস্বীকার করার দুঃসাহস দেখায়।

পরবর্তী যুগের অস্বীকারকারীরা এক্ষেত্রে মূলত মুতাযিলাদেরকেই অনুসরণ করছে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে হাদীস অস্বীকারকারী নামধারী আহলে কুরআনের ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী।

মুহাম্মদ (সা.) দ্বিতীয়বার জীবিত হয়ে দুনিয়ায় আসা

মির্যা কাদিয়ানীর পুত্র ও তার তথাকথিত মুসলেহ মওউদ মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ এ কি লিখলেন দেখুন,

بلکہ قرآنی اصطلاح میں ہم کہہ سکتے ہیں کہ محمد صلی الله علیہ وسلم دوبارہ زندہ ہو کر تشریف لے آئے اور یہ ایک بہت بڑے عزت کی بات ہے

অর্থাৎ বরং কুরআনের পরিভাষায় আমরা বলে থাকি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয়বার জীবিত হয়ে (দুনিয়ায়) আগমন করবেন এবং এটি (তাঁর জন্য) অনেক বড় সম্মানের ব্যাপার। (খুতুবাতে মাহমুদ পৃ-২৭৫, সন ১৯৪০ ইং, মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি এই,

পরিশেষে আমি শপথ করে বলতে পারি, কাদিয়ানী মতবাদের সাধারণ অনুসারীরা কাদিয়ানীবাদের এ সমস্ত কুফুরী সম্পর্কে জানেই না। ফলে তারা ইমাম মাহদীর কনসেপ্ট-এর উপর সম্পূর্ণ চোখবন্ধ করেই মির্যায়ীদের দলে যোগ দিয়েছে। অথচ আল্লাহর রাসূল (সা.) ইমাম মাহদী সংক্রান্ত যতগুলো হাদীসে ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন তন্মধ্যে একটি হাদীসও মির্যা কাদিয়ানীর সাথে যায়না। মোটকথা, কাদিয়ানী মতবাদ এক দিকে জঘন্য কুফুরী মতবাদ, অপরদিকে ইসলামের মূলধারার শিক্ষা থেকে পুরোপুরি খারিজ। আমার অনুরোধ রইল, দয়া করে ব্যাপারটিতে সবাই সিরিয়াস হবেন এবং সত্যটা যাচাই-বাছাই করে তাবৎ ধোকা এবং প্রতারণার পথ থেকে ফিরে আসবেন। ওয়ামা আ’লাইনা ইল্লাল বালাগ।

  • মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী থেকে পবিত্র কুরআনের সূরা জুম’আ এর ২ এবং ৩ নং আয়াতের অপব্যাখ্যা দ্বারাও মুহাম্মদ (সা.) দ্বিতীয়বার দুনিয়ায় ফিরে আসার দলিল ও আমাদের পক্ষ হতে তার খণ্ডনমূলক উত্তর এখানে দেখুন!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

শিক্ষাবিদ ও গবেষক

ঈসা (আ.) এই টেকনোলজির যুগে আসলে এগুলো শিখবেন কার কাছ থেকে?

প্রশ্ন : আগের সেই ঈসা (আ.) পৃথিবীতে আবার যদি আসেন তাহলে তো তাঁকে আধুনিক যুগের সব নিয়ম-কানুন নতুন করে শিখতে হবে, তিনি হিব্রু ভাষায় কথা বলতেন, আর এখন সেই ভাষা প্রায় বিলুপ্ত; তাহলে তিনি আবার এলে নতুন কোনো ভাষা শিখবেন কার কাছ থেকে? ইত্যাদি ইত্যাদি!

উত্তর : প্রথমত, প্রশ্নকারীর প্রশ্নটাই সঠিক নয়। কেননা কোনো ধার্মিক বা বিশ্বাসীর পক্ষে এমন ধরণের চিন্তা করাই অসম্ভব, বরং এধরণের প্রশ্ন শুধুই নাস্তিক কিবা ধর্মদ্রোহী অবিশ্বাসীদের পক্ষেই মানায়। জনৈক প্রশ্নকর্তা কাদিয়ানী মতবাদের অনুসারী হয়ে এধরণের প্রশ্ন যখন করেন তখন তিনি কিজন্য নিজেদের ঐ বিশ্বাসটিও ভুলে যান যে, ঈসা (আ.) জেরুজালেম ছেড়ে ভারতের কাশ্মীরের শ্রীনগরেও গিয়েছিলেন এবং আমৃত্যু সেখানেই ছিলেন। এমতাবস্থায় তাদের উদ্দেশ্যে একই প্রশ্ন তো আমাদেরও যে, হিব্রুভাষী হযরত ঈসা (আ.) কাশ্মীরে গিয়ে কোন ভাষায় কথা বলেছিলেন? অবশ্যই হিব্রু ভাষায় নয় বরং কাশ্মীরীদের ভাষায় কথা বলেছিলেন! তো কাশ্মীরী ভাষা তিনি কার কাছ থেকে শিখলেন?

  • প্রসঙ্গত, ১৯২২ সালে হিব্রু ব্রিটিশ প্যালেস্টাইনের সরকারি ভাষার মর্যাদা পায়। ইসরায়েলে প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি লোক হিব্রু ভাষায় কথা বলেন। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রায় কয়েক লক্ষ লোক হিব্রুতে কথা বলেন। বর্তমানে আরবির পাশাপাশি হিব্রু ইসরায়েলের সরকারি ভাষা। সুতরাং হিব্রু ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে এমন দাবী কাদিয়ানীদের হয়ত অজ্ঞতা আর নয় কাঁচা মিথ্যাচার! (ফেইসবুক থেকে)।

আসুন, প্রশ্নকারীর যুক্তির প্রতিউত্তরে এবার দুই-এক্কান কথা বলি! আল্লাহতালা এক রাত্রিতেই প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদীকে নেতৃত্বের যোগ্য করে পাঠানোর কথা সহীহ হাদীসে (ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৩১৬) (يُصْلِحُهُ اللَّهُ فِي لَيْلَةٍ) বর্ণিত থাকাই কি ইংগিত করেনা যে, তিনি হযরত ঈসা (আ.)-কেও যুগের দাবী মোতাবেক যোগ্য করে যথাসময়ে আকাশ থেকে ফেরেশতাদ্বয়ের মাধ্যমে দুনিয়ায় পাঠাবেন! জ্ঞানীদের জন্য নবীকরীম (সা.)-এর ইংগিতপূর্ণ বাণীসমূহের আলোকে শিক্ষা লাভ করা যথেষ্ট নয় কি? আহা! নির্বোধরা আল্লাহর কুদরতেরও পরীক্ষা নিতে চায়! নাউযুবিল্লাহ।

তর্কের খাতিরে মানলাম যে, ঈসা (আ.) আধুনিক এই যান্ত্রিক যুগে আগমন করলে তিনি এগুলা শিখবেন কার কাছ থেকে? প্রশ্নকারীর উদ্দেশ্য হল, এইধরণের যুক্তি দিয়ে বনী ইসরাইলের প্রতি প্রেরিত ঈসা (আ.)-কে মৃত বলে সাব্যস্ত করা ও তদস্থলে মির্যা কাদিয়ানীকে রূপক ঈসা বলে প্রতিষ্ঠিত করা। মনে হচ্ছে যুক্তিতে তিনি অক্করে শিরোপা জিত্তা ফেলাইছেন!

এবার আপনাকে আমার প্রশ্ন, হযরত ঈসা (আ.)-এর আগমন যে আধুনিক এই যান্ত্রিক যুগেই হবে, আপনি এই সংবাদটা আমদানি করলেন কোত্থেকে? আধুনিক এই যান্ত্রিক সভ্যতার যে কখনো বিলুপ্তি হবেনা এবং এই যুগটা যে তীর ধনুক আর বর্শার যুগে উপনীত হবেনা; আপনারে এমন গ্যারান্টি কে দিল?

ঈসা (আ.) তীর ধনুক আর বর্শার সভ্যতার যুগেই দুনিয়ায় ফিরে আসবেন বলে হাদীস শরীফে পরিষ্কার ইংগিত দেয়া হয়েছে। যেমন, হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সূত্রে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন,

فعند ذلك ينزل أخي عيسى ابن مريم من السماء على جبل أفيق، إماماً هادياً، وحكماً عادلاً، عليه برنس له بيده حربة يقتل الدجال فإذا قتل الدجال تضع الحرب أوزارها

অর্থাৎ এমন সময় হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) আকাশ থেকে একজন সুপথপ্রাপ্ত ইমাম আর ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে (দামেস্কের পূর্বপ্রান্তে শ্বেত মিনারার নিকটে) সমতল একটি পাহাড়ের উপর অবতরণ করবেন। যার পরণে থাকবে লৌহবর্ম এবং হাতে থাকবে (বর্শা বা বল্লম ধরনের) যুদ্ধাস্ত্র। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন। তিনি যখন দাজ্জালকে হত্যা করবেন তখন যুদ্ধ তার সমস্ত সরঞ্জাম গুটিয়ে নেবে। (তারীখে দামেস্ক ৪৭/৫০৫ ইবনে আসাকীর, কাঞ্জুল উম্মাল ১৪/৪১৯)।

এখন আমরা কি আপনার যুক্তি মেনে রাসূল (সা.)-এর উক্ত তীর ধনুক আর বর্শার সভ্যতার যুগেই (عليه برنس له) ঈসার আগমনী কনসেপ্ট বা ভবিষ্যৎবাণীকে মিথ্যা আখ্যা দেব? নাউযুবিল্লাহ। স্ক্রিনশট :-

জাবালে আফিক বা সমতল পাহাড় প্রসঙ্গ :

উল্লিখিত হাদীসে ‘জাবালে আফিক’ একখানা উপবাক্য রয়েছে। আসুন জেনে নিই এটির ভৌগোলিক অবস্থান কোথায়? উম্মুল মুমিনীন হযরত সাফিয়্যাহ (রা.) এর বর্ণনা হতে এর পরিষ্কার একটা ধারণা পাওয়া যায়। সেখানে বর্ণিত আছে যে, এটি এমন একটি সমতল পাহাড় যেখান থেকে আল্লাহতালা ঈসা (আ.)-কে আকাশে উঠিয়ে নিয়েছিলেন। অনুবাদসহ হাদীসটি এই যে,

عن صفية أم المؤمنين رضي الله عنها أنها كانت إذا زارت بيت المقدس، وفرغت من الصلاة في المسجد الأقصى: صعدت على جبل زيتا فصلت عليه وقالت: هذا الجبل هو الذي رفع منه عيسى عليه السلام إلى السماء، وكانت النصارى يعظمون ذلك الجبل، وكذلك اليوم يعظمونه. {التصريح بما تواتر في نزول المسيح (ص: 258) للهندي}

অর্থাৎ একদা উম্মুল মুমিনীন হযরত সাফিয়্যাহ (রা.) বায়তুল মোকাদ্দাস পরিদর্শনে যান। মসজিদে আকসায় সালাত শেষে তিনি সুদূর দিগন্তে অবস্থিত একটি সমতল পাহাড়ে আরোহন করে সেখানেও সালাত আদায় করেন। তিনি (সাক্ষ্য দিয়ে) বলেন, এটি সেই পাহাড় যেখান থেকে ঈসা (আ.)-কে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল। খ্রিস্টান জাতি এই পাহাড়টির খুবই সম্মান করেন এবং বর্তমানেও তারা পাহাড়টিকে সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন। {আত তাসরীহ বিমা তাওয়াতারা ফী নুযূলিল মাসীহ, পৃষ্ঠা নং ২৫৮ (সাইয়েদ আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ. আল-হিন্দী)}।

উম্মুল মুমিনীন (রা.)-এর উল্লিখিত সাক্ষ্য হতেও সুস্পষ্ট হয় যে, ঈসা (আ.)-এর অবতরণ স্থল দামেস্কের ভূখণ্ডেই ও বায়তুল মোকাদ্দাস এলাকার সুদূর দিগন্তে অবস্থিত একখানা সমতল পর্বতমালা। সত্যান্বেষণকারীদের জন্য সত্য উপলব্ধি করতে এটুকুই যথেষ্ট নয় কি?

সহীহ বুখারীর কিতাবুল আম্বিয়া পর্বে এসেছে, আল্লাহর রাসূল (সা.) শপথ বাক্য সহ (والذى نفسي بيده) ঈসা (আ.) এর আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী দিয়েছেন। এখন আপনি কি বলতে চান যে, তিনি (সা.) ঐ ভবিষ্যৎবাণী দ্বারা দুনিয়াকে মিথ্যা বার্তা দিয়ে গেছেন? নাউযুবিল্লাহ। গত দুই হাজার বছরধরে পৃথিবীর প্রায় সবাই নবীগণের কবর সম্পর্কে তথ্য দিয়ে গেলেও সবাই ঈসা (আ.)-এর কবর না থাকা সম্পর্কে একমত।

এতে কী বুঝা যায়? এখন দুনিয়ার এই শেষ সময় এসে এমন কোনো মতবাদ দাঁড় করতে চাওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত যা পূর্বেকার প্রতিটি যুগের মানুষের সর্বসম্মত বিশ্বাসের বিরোধী! আছে কি কেউ এই কথাগুলোর যৌক্তিক জবাব দেবেন?

কিন্তু এরপরেও যারা বুঝতে চায় না, বুঝার ইচ্ছেও নেই যাদের; আমি তাদেরকে আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

ইমামগণের রচনায় খতমে নবুওয়ত প্রসঙ্গ ও ভ্রান্তি নিরসন

ইমামগণের কিতাব থেকে কাদিয়ানীদের কিছু প্রসঙ্গবহির্ভূত উদ্ধৃতি ও আমাদের পর্যবেক্ষণ

কাদিয়ানীদের রচনা হতে,

[১] হযরত ইমাম আব্দুল ওয়াহাব শি’রানি (রহ.) বলেন, قَوْلُہٗ صَلَّی اللّٰہُ عَلَیْہِ وَ سَلَّمَ فَلَا نَبِیَّ بَعْدِیْ وَلَا رَسُوْلَ الْمُرَادُ بِہٖ مُشْرِعَ بَعْدِیْ অর্থ নবীকরীম (সা.)-এর “আমার পর আর কোনো নবী নেই, রাসূলও নেই” (فَلَا نَبِیَّ بَعْدِیْ وَلَا رَسُوْلَ) একথার অর্থ হল, আমার পর শরীয়তধারী আর কোনো নবী নেই। (আল-ইয়াওয়াকিত ওয়াল জাওয়াহির, খণ্ড ২ পৃষ্ঠা ২৪)।

[২] সাইয়েদ আব্দুল করিম জিলানী (রহ.) বলেন, فَانْقَطَعَ حُکْمُ نُبُوَّۃِ التَّشْرِیْعِ بَعْدَہٗ وَکَانَ مُحَمَّدٌ ﷺ خَاتَمَ النَّبِیّیْنَ لِاَنَّہٗ جَآءَ بِالْکَمَالِ وَلَمْ یَجِیئْ اَحَدٌ بِذٰلِکَ অর্থ নবুওয়তে তাশরিয়ীর বিধান তাঁর (সা.) পরে শেষ হয়ে গেছে। অধিকন্তু মুহাম্মদ (সা.) নবীগণের খাতাম (সমাপ্তি) ছিলেন। কারণ তিনি শরীয়তের পূর্ণতা দিতে এসেছেন। এভাবে আর কেউই (ইতিপূর্বে) আসেনি। (আল ইনসানুল কামেল ১/৭৫, অধ্যায় নং ৩৬)।

[৩] হযরত মোল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন, فَلاَ یُنَاقِضُ قَوْلُہٗ خَاتَمَ النَّبِیِّیْنَ اِذِ الْمَعْنَی اَنَّہٗ لاَ یَاتِیْ نَبِیٌّ یَنْسَخُ مِلَّتَہٗ وَ لَمْ یَکُنْ مِنْ اُمَّتِہٖ অর্থ… তাঁর (সা.) ঐ ভবিষ্যৎবাণী খাতামান্নাবীঈনের অর্থে কোনো বিরোধ সৃষ্টি করেনা। কেননা এর অর্থ হল, নবীকরীম (সা.) এর পর এমন কোনো নবী আসবেন না যিনি মহানবী (সা.)-এর দ্বীনকে রহিত করবেন, যেহেতু তিনি (অর্থাৎ ঈসা) তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে নন। (মওযুআতে কবীর [তথা জাল হাদীসের বিশাল সংকলন ভাণ্ডার], পৃষ্ঠা: ৫৮-৫৯)।

[৪] হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ্ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ.) বলেন, خُتِمَ بِہِ النَّبِیُّوْنَ اَیْ لَا یُوْجَدُ بَعْدَہٗ مَنْ یَأمُرُہُ اللّٰہُ سُبْحَانَہٗ بِالتَّشْرِیْعِ عَلَی النَّاسِ অর্থ নবীকরীম (সা.) এর মাধ্যমে সকল নবীর (আগমনী ক্রমধারা) শেষ হয়ে গেছে অর্থাৎ, তাঁর পর কোনো এমন ব্যক্তি আর হবেনা যাকে আল্লাহতালা শরীয়তসহ মানুষের কাছে প্রেরণ করবেন। (তাফহীমাতে ইলাহিয়াহ, তাফহীম নং ৫৪, পৃষ্ঠা ৮৫)।

[৫] হযরত মুহিউদ্দিন ইবনে আরবী (রহ.) বলেন, وَ ھٰذَا مَعْنٰی قَوْلِہٖ ﷺ اِنَّ الرَّسَالَۃَ وَالنُّبُوَّۃَ قَدِ انْقَطَعَتْ فَلَا رَسُوْلَ بَعْدِیْ وَ لَا نَبِیَّ اَیْ لَا نَبِیَّ بَعْدِیْ یَکُوْنُ عَلٰی شَرْعٍ یُخَالِفُ شَرْعِیْ بَلْ اِذْ کَانَ یَکُوْنُ تَحْتَ حُکْمِ شَرِیْعَتِیْ۔ অর্থ নবুওয়ত এবং রিসালাতের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। সুতরাং আমার পর কোনো রসূল নেই, নবীও নেই। এর মর্মার্থ হল, আমার পর এমন কোনো নবী নেই, যে আমার শরীয়তের বিপরীতে (নতুন শরীয়তের অনুসারী) হবেন। বরং যখন হতে যাবে (ঈসার আগমনের দিকে ইংগিত) তাহলে তিনি আমার শরীয়তের অধীনে হবেন। (ফতুহাতে মক্কীয়াহ্, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩)।

[৬] ইমাম তাহের পাটনী (রহ.) বলেছেন, وَھٰذَا اَیْضًا لَا یُنَافِیْ حَدِیْثَ لَانَبِیَّ بَعْدِیْ لِاَ نَّہٗ اَرَادَ لَا نَبِیَّ یَنْسَخُ شَرْعَہٗ অর্থ এই হাদীসও ‘আমার পর আর কোনো নবী নেই’ কথাটির বিরোধী নহে। কেননা একথার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাঁর শরীয়ত রহিত করতে পারে এমন নবী নেই। (মাজমাউল বিহারিল আনওয়ার পৃষ্ঠা ৮৫)।

ইমামগণের খণ্ডিত উক্তি সমূহ হতে কাদিয়ানীদের প্রমাণ করা উদ্দেশ্য হল, মির্যা কাদিয়ানীও একজন নবী, তবে তিনি শরীয়তবাহক নবী নন। যেহেতু হাদীসে শুধুমাত্র শরীয়তবাহক নবী আগমনকেই নিষেধ করে! নাউযুবিল্লাহ।

আমাদের পর্যবেক্ষণ :

এবার আমরা তাদের উল্লিখিত উদ্ধৃতিগুলোর উপর পাঠকদের সাথে পর্যবেক্ষণমূলক প্রাসঙ্গিক আলোচনায় ফিরে যেতে চাই! তার আগে নবুওয়তের ধারাক্রম অব্যাহত থাকার দাবীদার কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি সহীহ হাদীস পেশ করব এবং তারই ভিত্তিতে কয়েকটি প্রশ্ন রাখব!

[১] হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, وَأُرْسِلْتُ اِلی الْخَلْقِ کَافَّةً، وَخُتِمَ بِیَ النَّبیُّوْنَ অর্থ আমি সমগ্র সৃষ্টির জন্য প্রেরিত হয়েছি এবং আমার মাধ্যমে নবীগণের সমাপ্তি ঘটেছে। (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ, হাদীস নং ১০৫৪)।

[২] হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, كَانَتْ بَنُوْ إِسْرَائِيْلَ تَسُوْسُهُمْ الأَنْبِيَاءُ كُلَّمَا هَلَكَ نَبِيٌّ خَلَفَهُ نَبِيٌّ وَإِنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِيْ وَسَيَكُوْنُ خُلَفَاءُ فَيَكْثُرُوْنَ অর্থ বনী ইসরাঈলের নবীগণ তাঁদের উম্মাতকে শাসন করতেন। যখন কোনো একজন নবী মারা যেতেন, তখন অন্য একজন নবী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন। আর আমার পরে কোনো নবী নেই। তবে অনেক খলীফাহ্ হবে। (সহীহ বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া হাদীস নং ৩৪৫৫, তাওহিদ প্রকাশনী)।

[৩] হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَمْ يَبْقَ مِنْ النُّبُوَّةِ إِلاَّ الْمُبَشِّرَاتُ অর্থ আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মুবাশশ্বিরাত ব্যতীত নবুওয়তের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৯০)। এই ‘মুবাশ্বশিরাত’ (مُبَشِّرَاتِ) এর মর্মার্থ সুস্পষ্ট করে আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, لَمْ يَبْقَ مِنَ النُّبُوَّةِ إلَّا المُبَشِّراتُ. قالوا: وما المُبَشِّراتُ؟ قالَ: الرُّؤْيا الصَّالِحَةُ অর্থাৎ মুবাশ্বশিরাত ব্যতীত নবুওয়তের আর কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুবাশ্বশিরাত কী? তিনি (সা.) বললেন, সত্য স্বপ্ন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯৯০)।

[৪] হযরত আবু যর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, یٰا أَبَا ذَرٍ أَوَّلُ الْاَنْبِیَاء آدَمُ وَآخِرُہ مُحَمَّدٌ অর্থ ‘হে আবু যর! সর্বপ্রথম নবী ছিলেন আদম আর সর্বশেষ নবী হচ্ছে মুহাম্মদ।’ ইমাম দায়লামী (রহ.) সংকলিত আল-ফেরদাউস বি-মাছূরিল খিতাব (الفردوس بمأثور الخطاب للدیلمی), ১/৩৯, হাদীস নং ৮৫।

[৫] হযরত উকবাহ ইবনে আমের (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, لَوْ كَانَ بَعْدِي نَبِيٌّ لَكَانَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ অর্থ আমার পরবর্তীতে কেউ নবী হলে অবশ্যই উমর ইবনুল খাত্তাবই নবী হতেন। (তিরমিযি হাদীস নং ৩৬৮৬, সহীহ)।

আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত সম্পর্কিত ২০টি সহীহ হাদীস পড়তে এখানে ক্লিক করুন!

প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলো :

প্রশ্নগুলো এই যে, উপরে উল্লিখিত হাদীসগুলোর উপর আপনাদের যদি বিশ্বাস থাকে তাহলে বলুন তো, রাসূল (সা.) খোদ নিজেই যেখানে মুক্ত অর্থে নিজেকে শেষনবী বলে আমাদের সংবাদ দিয়ে গেলেন, সেখানে নবুওয়তের ক্রমধারা অব্যাহত বলার স্পর্ধা দেখাতে পারে এমন সাধ্য কার? আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শিক্ষার বিরুদ্ধে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ কোমর বেঁধে দাঁড়িয়ে গেলেও তাতে কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শিক্ষা বাতিল হয়ে যাবে? নিশ্চয়ই না। তাহলে আপনারা রাসূল (সা.)-এর শিক্ষার বিপরীতে এমন সব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের উপর কিভাবে আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারলেন যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শিক্ষাকে বাতিল করে দেয়? বলাবাহুল্য, রাসূল (সা.) এর যুগেও কয়েকজন নবুওয়তের দাবী করেছিল। মুসায়লামা তন্মধ্যে একজন। তার সম্পর্কে বর্ণনায় এসেছে যে, তার অনুসারীদের আযান এবং সালাতেও ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ‘ উচ্চারিত হত (প্রমাণ এখানে)। এর মানে এটা পরিষ্কার কথা যে, মুসায়লামা নিজেও শরীয়তবিহীন নবী দাবীদার ছিল। তা সত্ত্বেও সাহাবায়ে কেরাম তাকে ক্ষমা করেননি, তার নবুওয়ত দাবীর ব্যাখ্যা চাননি; তলোয়ারের ভাষায় তাকে সমুচিত জবাব দেয়া হয়। কাজেই, এবার শরীয়তবিহীন নবী আসার এই কাদিয়ানী-কনসেপ্ট উক্ত ঘটনা হতেও বাতিল হয়ে গেল কিনা? (সহজে কাদিয়ানী চেনার উপায় জানুন)।

এবার হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন যে, তাহলে কি ইমামগণ ঐ সমস্ত ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন? উত্তরে বলব, আপনি কি ঐ সকল ইমামের সম্পূর্ণ বক্তব্য পড়ে দেখেছেন? দেখেননি! এমনকি আপনি ঐ সমস্ত ইমামের কিতাবগুলো থেকে আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত সংক্রান্ত আলোচনাও পড়ে দেখেননি যে, তারা খতমে নবুওয়তের উপর উম্মতে মুহাম্মদীয়ার ইজমা কীরূপ শব্দচয়নে লিখে গেছেন! তাহলে জেনে নিন, মুহাম্মদ (সা.)-এর পর নবুওয়ত দাবীদারগণ উম্মতে মুসলিমার ইজমা মতে ‘কাফের’ হওয়া সম্পর্কে,

ইমাম ইবনে হাজার আল হাইছামী (الإمام ابن حجر الهيتمي) (রহ.) উম্মতে মুসলিমার ইজমা উল্লেখপূর্বক লিখেছেন, من اعتقد وحيًا من بعد محمد صلى الله عليه وآله وسلم كان كافرًا بإجماع المسلمين অর্থাৎ মুহাম্মদ (সা.)-এর পর যে ব্যক্তি নবুওয়তে ওহী লাভ করার বিশ্বাস পোষণ করবে সে মুসলিম উম্মাহার সর্বসম্মতভাবে কাফের। (আল ফাতাওয়াল ফিকহিয়্যাতুল কোবরা [الفتاوى الفقهية الكبرى] ৪/১৯৪, আল মাকতাবাতুল ইসলামিয়া হতে প্রকাশিত)।

সব চেয়ে মজার ব্যাপার হল, যাদের খণ্ডিত বক্তব্যে আপনি/আপনারা বিভ্রান্তি ছড়ান তাদের প্রত্যেকের বিশ্বাস ছিল যে, ঈসা (আ.) জীবিত, আল্লাহ তাঁকে আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন। শেষযুগে তিনিই যথাসময়ে ফিরে আসবেন। মূলত সে কথারই খোলাসা করতে তারা উপরিউক্ত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের অবতারণা করেছেন! আফসোস যে, আপনারা প্রসঙ্গ এড়িয়ে তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছেন! আপনারা শায়খ ইবনে আরাবী (রহ.)-এর ‘ফতুহাতে মাক্কিয়াহ’ গ্রন্থের যে পৃষ্ঠার খণ্ডিত বক্তব্যে নবুওয়তের ক্রমধারা অব্যাহত থাকার দলিল দেন সেই একই পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ বক্তব্যটি পড়ে দেখলে যে কেউই বুঝতে পারবে যে, আপনারা (অর্থাৎ কাদিয়ানীরা) কিভাবে দরাকে সরা বানিয়ে দুনিয়ার সহজ সরল মানুষদের ঈমান নষ্ট করছে!

শায়খ ইবনে আরাবী (রহ.) লিখেছেন, وهذا معنى قوله صلى الله عليه وسلم إن الرسالة والنبوة قد انقطعت فلا رسول بعدي ولا نبي أي لا نبي بعدي يكون على شرع يخالف شرعي بل إذا كان يكون تحت حكم شريعتي ولا رسول أي لا رسول بعدي إلى أحد من خلق الله بشرع يدعوهم إليه فهذا هو الذي انقطع وسد بابه لا مقام النبوة فإنه لا خلاف إن عيسى عليه السلام نبي ورسول وأنه لا خلاف أنه ينزل في آخر الزمان حكما مقسطا عدلا بشرعنا لا بشرع آخر ولا بشرعه الذي تعبد الله به بني إسرائيل من حيث ما نزل هو به بل ما ظهر من ذلك هو ما قرره شرع محمد صلى الله عليه وسلم ونبوة عيسى عليه السلام ثابتة له محققة فهذا نبي ورسول قد ظهر بعده صلى الله عليه وسلم وهو الصادق في قوله إنه لا نبي بعده

অর্থাৎ রাসূল (সা.)-এর বাণী إن الرسالة والنبوة قد انقطعت فلا رسول بعدي ولا نبي (অর্থাৎ নিশ্চয়ই নবুওয়ত এবং রেসালতেরধারা বন্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং আমার পর আর কোনো রাসূল নেই, নবীও নেই)—একথার অর্থ হচ্ছে, আমার পর কোনো প্রকারের শরীয়তবাহক নবী নেই যে আমার শরীয়তের বর-খেলাফ করবেন বরং যখনই হতে যাবে তখন সে আমার শরীয়তের বিধিবিধানের অধীনে হবে এবং ‘ওয়া লা রাসূলা বা’দী’—একথার অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ’র সৃষ্টির প্রতি এমন কোনো রাসূলও আর নেই যিনি স্বতন্ত্র শরীয়ত দ্বারা তাদেরকে তাঁর দিকে দাওয়াত দেবেন। যেহেতু এটি (নবুওয়ত এবং রেসালতেরধারা) বন্ধ এবং তার দ্বারও চিরতরে রূদ্ধ, (এখন) নবুওয়তের আর কোনো প্রকারের মাক্বাম (স্তর)-ই অবশিষ্ট নেই। ফলে ঈসা (আ.) একজন নবী ও রাসূল থাকাটা (লা নাবিয়্যা বা’দী’ শীর্ষক হাদীস অংশের) বিরুদ্ধে যায় না। নিশ্চয়ই ঈসা (আ.) একজন ন্যায়পরায়ন শাসক হিসেবে শেষ যামানায় আমাদের শরীয়তের উপরই নাযিল হবেন। তিনি ভিন্ন কোনো শরীয়ত কিবা ওই শরীয়ত নিয়েও আসবেন না, যা তার প্রতি নাযিল হয়েছিল এবং ইসরাইল জাতি যেই শরীয়তের উপর আল্লাহ’র ইবাদত বন্দেগী করেছিল। বরং তাঁর পক্ষ থেকে শরীয়তে মুহাম্মদী-ই প্রকাশ পাবে যেটি তাঁর জন্য (পূর্ব থেকে) স্থির রয়েছে। পক্ষান্তরে নবুওয়তে ঈসা (তাঁর দ্বিতীয়বার আগমনের পর) স্থির ও বহাল থাকবে। কেননা তিনি-ও একজন নবী ও রাসূল ছিলেন। তাঁর পরেই হযরত সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আবির্ভাব ঘটেছিল। যিনি স্বীয় বাণী : إنه لا نبي بعده (অর্থাৎ নিশ্চয়ই তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই) বাণীতে একজন সত্যবাদী।” (অনুবাদ শেষ হল)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি :-

শায়খ মহী উদ্দিন ইবনে আরাবী (রহ.) এর সম্পূর্ণ বক্তব্যের খোলাসা দাঁড়ায় :

(ক) فهذا هو الذي انقطع وسد بابه لا مقام النبوة অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাবের পর নবুওয়তের আর কোনো প্রকারের মাক্বাম (স্তর)-ই অবিশিষ্ট নেই। কেননা তাঁর নবুওয়তপ্রাপ্তির মাধ্যমে বর্তমানে সকল প্রকারের নবুওয়ত ও রেসালতের দ্বার চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।

(খ) فإنه لا خلاف إن عيسى عليه السلام نبي ورسول وأنه لا خلاف أنه ينزل في آخر الزمان حكما مقسطا عدلا بشرعنا لا بشرع آخر ولا بشرعه الذي تعبد الله به بني إسرائيل من حيث ما نزل هو به অর্থাৎ ফলে ঈসা (আ.) একজন নবী ও রাসূল থাকাটা (লা নাবিয়্যা বা’দী’ শীর্ষক হাদীস অংশের) বিরুদ্ধে যায় না। নিশ্চয়ই ঈসা (আ.) একজন ন্যায়পরায়ন শাসক হিসেবে শেষ যামানায় আমাদের শরীয়তের উপরই নাযিল হবেন। তিনি ভিন্ন কোনো শরীয়ত কিবা ওই শরীয়ত নিয়েও আসবেন না, যা তার প্রতি নাযিল হয়েছিল এবং ইসরাইল জাতি যেই শরীয়তের উপর আল্লাহ’র ইবাদত বন্দেগী করেছিল।

পাঠকবৃন্দ! ইবনে আরাবীর সম্পূর্ণ বক্তব্য কাদিয়ানীরা কিজন্য আপনাদের সামনে পেশ করতে চায় না তা এবার নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন!

পরিশেষে আমি বলতে পারি যে, ইবনে আরাবীর বক্তব্যটিকে প্রসঙ্গ ছাড়াই কাদিয়ানীরা পেশ করে থাকে। যাতে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে দলে টানতে পারে ও মির্যা কাদিয়ানীর নবুওয়ত দাবীকে হালাল করতে পারে! আমি এখানে শুধুমাত্র ইবনে আরাবী (রহ.)-এর নামে তারা যে ভ্রান্তি ছড়ায় সেটিরই জবাব দিয়েছি। সত্য কথা হল, কাদিয়ানীরা এভাবেই অন্য প্রায় সকল উলামায়ে কেরামের বক্তব্যের আগপাছ বাদ দিয়ে কিংবা প্রসঙ্গ এড়িয়ে উদ্ধৃতি পেশ করে থাকে। যাতে অল্প শিক্ষিত ও জেনারেল শ্রেণীর মানুষদের বিশ্বাসে সন্দেহ তৈরি করে কাছে টানতে পারে! আল্লাহ আমাদের সবাইকে এদের যাবতীয় অপপ্রচার থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
শিক্ষাবিদ ও গবেষক
তাং ১৩/১১/২০২২ইং

শাহজাদা ইউয আসেফ

আজকের এই লিখাটি পড়ে বুঝার আগে পাঠকের জন্য আরেকটি বিষয়ে জ্ঞান রাখা অপরিহার্য। সেটি হল, মির্যা কাদিয়ানীর দাবী হচ্ছে হযরত ঈসা মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাঁর কবর হল কাশ্মীরের শ্রীনগরে! প্রশ্ন করা হল, তাহলে সেখানকার কোন কবরটি ঈসা (আ.)-এর কবর? মির্যা কাদিয়ানীর ভাষ্যমতে, সেখানকার খানইয়ার মহল্লায় সমাহিত ‘ইউজে আসেফ’ নামীয় ব্যক্তিটাই মূলত ঈসা (আ.); তার কবরটাই হযরত ঈসা (আ.)-এর কবর! কিন্তু মির্যা কাদিয়ানী সাহেব পরবর্তীতে নিজেই নিজের ঐ সমস্ত কথাবার্তার কারণে কিভাবে পাকড়াও হলেন তা জানতে সংক্ষিপ্ত লিখাটি পড়ুন! (মুসলমানদের আকীদা ঈসা মসীহকে আল্লাহ সশরীরে জীবিত উঠিয়ে নিয়েছেন, তিনি এখনও মৃত্যুবরণ করেননি)।

কে এই ইউজে আসেফ?

প্রাচীন যুগের কিছু বইপুস্তক হতে এই ইউজে আসেফ (Yuz Asef) নামীয় ব্যক্তির ধারণা পাওয়া যায়! সে একজন মুসলিম ধর্মপ্রাণ ও বুযূর্গ খোদাভীরু হিন্দুস্তানী রাজপুত্র (কামালুদ্দিন পৃ-৫২৭, আরবী নোসখা)। হিন্দুস্তানের প্রাচীন ইতিহাস বলে, তার পিতা ছিল ভারতবর্ষের প্রভাবশালী একজন মূর্তিপূজক। সে ছিল পিতার একমাত্র পুত্র যে কিনা পিতার পৌত্তলিক ধর্ম ত্যাগ করে একত্ববাদী খোদারধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেন। তার একত্ববাদী ধর্মের প্রতি ঝোঁকটা ছিল প্রাকৃতিকভাবে। যদিও কাকতালীয়ভাবে তৎকালীন হাকিম বলোহর নামীয় জনৈক ধর্ম-পণ্ডিত দ্বারা তিনি পরে খুব বেশি প্রভাবিত হন। আনুমানিক হিজরী প্রথম বা দ্বিতীয় শতাব্দীর এই ঘটনা।

বলাবাহুল্য, মির্যা কাদিয়ানী সাহেব ইউজে আসেফ বা ইউযে আসেফ নামীয় ব্যক্তিটির বিস্তারিত পরিচয় জানতে যে কিতাব দুটির রেফারেন্স দিয়ে গেলেন তন্মধ্যে ফার্সি ভাষার ‘আ’ইনুল হায়াত‘ কিতাবটি অন্যতম। সেটির এক স্থানে উল্লেখ আছে যে,

اسی زمانہ میں بادشاہ کے فرزند نرینہ تولد ہوا اور اتنی مسرت ہوئی کہ قریب مرگ ہوگیا۔ اور یقین ہوگیا کہ بت پرستی کا عطا کردہ یہ انعام ہے – ملک کا تمام خزانہ زینت و آرائش میں ختم کردیا – لوگوں کو ایک سال تک خوشی٫ شادی عیش و نشاط کا حکم عام ہو گیا – فرزند ارجمند کا نام یوز آسف رکھا۔

অর্থাৎ এমন সময় রাজার একটি হৃষ্টপুষ্ট পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এতে তিনি এতই খুশি হন যে, যেন মারা যাবেন! তার বিশ্বাস এই যে, এটি তার মূর্তিপূজার জন্য প্রদত্ত পুরস্কার। তিনি রাজ্যের সমস্ত ধন-সম্পদ ভোগ বিলাসে উজাড় করে দেন। জনগণের জন্য পূর্ণ এক বছর আমোদ ফুর্তি আর খুশি উদযাপনের ফরমান জারি করেন। সেই সুদর্শন সন্তানটির নাম রাখা হয় ইউজে আসেফ। (রূহুল হায়াত উর্দু তরজুমা আ’ইনুল হায়াত, পৃষ্ঠা ৩৬৪, মূল-মোল্লা মুহাম্মদ বাকের মজলিসি)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি :-

  • প্রশ্ন, মির্যা কাদিয়ানী সাহেবের কোন বইতে তিনি লিখেছেন যে, ইউযে আসেফ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ‘কামালুদ্দিন’ (كمال الدين و تمام النعمة) কিতাবটি পড়ে দেখ!?

উত্তর, ইউযে আসেফ সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা লাভ করতে হিজরী তৃতীয় শতাব্দীতে রচিত প্রাচীনকালের একখানা কিতাব ‘কামালুদ্দীন ওয়া তামামুন নি’মাহ‘ পড়তে পরামর্শ দেন মির্যা কাদিয়ানী সাহেব। যেমন তার বইতে লিখা আছে,

و ان كنت تطلب التفضيل فاقرأ كتابا سمى بإكمال الدين تجد فيه كل ما تسكن الغليل

অর্থাৎ “আর তুমি যদি বিস্তারিত জানতে চাও তাহলে ‘কামালুদ্দীন‘ নামীয় কিতাবটি পড়তে পার! তুমি সেখানে এমন সব (তথ্য) পাবে যা প্রবল তৃষ্ণাকেও শান্ত করে দেবে।” (‘আল-হুদা’ এবং রূহানী খাযায়েন ১৮/৩৬২ দ্রষ্টব্য)। প্রামাণ্য স্ক্যানকপি :-

আসলে মির্যা কাদিয়ানী সাহেব স্বপ্নেও ভাবেননি যে, একটা সময় তিনি তার যাবতীয় গোজামিল আর মিথ্যার জন্য পাকড়াও হবেন! তিনি হয়ত ভেবেছিলেন, আজ থেকে এগার/বারো শত বছর আগেকার রচিত বইগুলো সংগ্রহ করে তার উদ্ধৃতির সত্য-মিথ্যা যাচাই করে দেখবে এমন সাধ্য কার! কারই বা এত সময় আছে! মুরিদদের ব্রেইন ওয়াশ করে দেয়ার পর সে কি কখনো চিন্তাও করতে পরে যে, আমার এসমস্ত দাবী দাওয়ায় কোনো রূপ ভেজাল আছে কিনা?

৩০শে এপ্রিল ২০১০ ইং তারিখে প্রকাশিত বিবিসি (আরবী)-এর একটি অনুসন্ধানী নিউজ দেখলাম। সেখানে ইউজে আসেফ এর কবরের ছবি উল্লেখ করে নিচে লিখা হয়েছে,

اما السكان المحليون فيتعبرون ان المزار هو قبر لاثنين من العلماء المسلمين توفيا منذ قرون: يوزا آصف والسيد نصير الدين.

অর্থাৎ, এখানকার স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন যে, নিশ্চয়ই এই দুটো কবর দুইজন মুসলিম দরবেশের, এঁরা কতেক শতাব্দীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। একজন ইউজে আসেফ আর অন্যজন সাইয়েদ নাসির উদ্দীন। বিবিসি (আরবী) নিউজ পোর্টালের লিংক দেখুন (নিচে স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য)।

বর্তমান ভারতের কাশ্মীরের খানইয়ার মহল্লায় সাইয়েদ নাসির উদ্দীন শাহ (রহ.)-এর কবরের পাশেই তার সমাধি। এ সম্পর্কে পড়া যেতে পারে ‘কামালুদ্দীন ওয়া তামামুন নি’মাহ’ (আরবী) এবং ‘আ’ইনুল হায়াত’ (রূহুল হায়াত নামীয় ফার্সি বইয়ের উর্দূ অনুবাদ) দুইখানা কিতাব। আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এই লিংকটিতে

এ সম্পর্কিত ২১টি পর্ব ফেসবুক ফেজ থেকে সুস্পষ্ট স্ক্রিনশট সহ পড়তে ক্লিক করুন

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

হাদীস অস্বীকারকারীদের ব্যাপারে স্বয়ং নবীজীর সতর্কবাণী

হাদীস অস্বীকারকারী | কথিত আহলে কুরআন দাবীদার

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।

ইন্নাল হামদা লিল্লাহ ওয়াসসালাতু ওয়াস-সালামু আ’লা রাসূলিল্লাহ! আম্মাবা’দূ…..! প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা! আমরা এখন পুরোপুরি একটি ফেতনার যুগে অবস্থান করছি! আজকে আপনাদের খেদমতে আমার একটি সতর্কবার্তা! তা হল, হাদীস অস্বীকারকারী (আহলে কুরআনদের) থেকে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। নইলে ওরা যে কোনো মুহূর্তে হাদীসে নববীর প্রতি আপনার মনে সংশয় তৈরি করে আপনাকে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে পারে। আর কখনো যদি এমন পরিস্থিতিতে পড়ে যান তাহলে আপনাকে অবশ্যই কোনো বিজ্ঞ ও গবেষক আলেমের সান্নিধ্যে গিয়ে সঠিকটা বুঝে নিতে হবে। আসলে যারা হাদীসে নববীর অস্বীকারকারী তারা মূলত ওহীর এক বিরাট অংশ ‘অপঠিত ওহী’ (وحى غير متلو) এবং একি সাথে রাসূল (সা.)-এর সীরাতেরও অস্বীকারকারী। অথচ কুরআন আমাদের ডেকে ডেকে বলছে, তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মাঝে রয়েছে উত্তম আদর্শ (لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة)। সুবহানাল্লাহ!

বলাবাহুল্য, ইদানীং মুসলমান ছদ্মবেশী খ্রিস্টান (কথিত ঈসায়ী মুসলিম দাবীদার), শীয়া-রাফেজী, বাহায়ী ও কাদিয়ানীরাও হাদীস অস্বীকারকারীদের পেছন থেকে মদদ জোগাচ্ছে। অনলাইনে হাদীস অস্বীকারকারী লিখক ও প্রচারকদের ৯০% শীয়া এবং খ্রিস্টান মিশনারী! কিন্তু কিছুই বুঝে উঠার সুযোগ নেই। সে যাইহোক, এদের সম্পর্কে রাসূল (সা.) নিজেই চৌদ্দশত বছর আগেই সতর্ক করে গেছেন। এখানে শুধুমাত্র একখানা সহীহ হাদীস উল্লেখ করছি। হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَبِي رَافِعٍ، وَغَيْرُهُ، رَفَعَهُ قَالَ ‏ “‏ لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَأْتِيهِ أَمْرٌ مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُولُ لاَ أَدْرِي مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَاهُ “

অর্থ, আবূ রাফে‘ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আমি যেন তোমাদের মধ্যে কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং তার নিকট যখন আমার আদিষ্ট কোনো বিষয় অথবা আমার নিষেধ সম্বলিত কোনো হাদীস উত্থাপিত হবে তখন সে (তাচ্ছিল্যভরে) বলবে, আমি তা জানি না, আল্লাহতালার কিতাবে আমরা যা পাই, তারই অনুসরণ করবো।’ (জামে’ আত তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৬৩; আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬০৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৩২৪৯)।

আল্লাহতালা আমাদেরকে হাদীস অস্বীকারকারী এই নিকৃষ্ট ফেতনাবাজদের তাবৎ বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুক। কুরআন এবং সহীহ হাদীসের আলোকে জীবনকে পরিচালনা করার তাওফিক দান করুক। আমীন।

  • এই বইগুলো ডাউনলোড করুন,

আমরা হাদীস মানতে বাধ্য (আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক)

হাদীস সংকলনের ইতিহাস (মওলানা আব্দুর রহীম)

হাদীস কেন মানতে হবে? (কামাল আহমাদ)

হাদীস কি আল্লাহর ওহী? (মুহাম্মদ ইকবাল ফাখরুল)

হাদীসের প্রামাণিকতা (সানাউল্লাহ নজির আহমদ)

হাদীসের প্রামাণিকতা (ডক্টর মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব)

লিখক,
শিক্ষাবিদ ও গবেষক
প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী

নবীপুত্র ইবরাহীম যদি জীবিত থাকত

0

সিজোফ্রেনিয়া পাড়ার আরেকটা প্রতারণা, ইবরাহীম বেঁচে থাকলে তিনিই নবী হতেন….

এই প্রতারকদের সাহস হয়না মির্যা কাদিয়ানীকে মুক্ত অর্থে “নবী” বলতে। ইনিয়েবিনিয়ে আর শব্দের বক্রব্যাখ্যার মারপ্যাঁচ দিয়ে মির্যার নবী দাবীর বদনাম ঘোচাতে চেষ্টা করে। উম্মতি, বুরুজি আর জিল্লি সহ নানা শ্রেণীতে নবী-এর কনসেপশন তারা ভাগ করে ফেলে। উম্মতে মুসলিমার প্রতিষ্ঠিত ও সর্বসম্মত বিশ্বাসের হাত পা ভেঙে বিকলাঙ্গ করে ছাড়ে। এই একই মানুষগুলো মির্যার নবী দাবীকে বৈধতা দেয়ার জন্য خاتم النبيين (খাতামান নাবিয়্যিন) এর “খাতাম” শব্দকে আক্রমণের নিশানা বানিয়ে থাকে। শব্দটি থেকে আংটি, মোহর ইত্যাদি অভিনব অর্থ গ্রহণ করার মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করার-ও আপ্রাণ চেষ্টা করে। অথচ উম্মাহার সর্বান্তকরণে বিশ্বাস হচ্ছে, মুহাম্মদ (সা.)-এর পর নবুওয়তের দরজায় সীল লেগে গেছে। কেয়ামত পর্যন্ত এই সীল আর কারো জন্য খোলা হবেনা। কাজেই “খাতাম” শব্দের সাধারণ আরও যত অর্থই থাকুক না, এটি মুহাম্মদ (সা.)-এর ক্ষেত্রে ‘শেষ’ বা ‘সমাপ্তি’ অর্থেই ধর্তব্য হবে। আহা! এই নির্বোধদের বুঝানোর সাধ্য কার!

এদেরকে ঠান্ডা মাথায় জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয় যে, মুহাম্মদ (সা.) শেষনবী—তা তো আমরাও বিশ্বাস করি। কিন্তু এই নির্বোধরা তাদের মূলধারার রচনাবলি সম্পর্কে এতই বেখবর যে, তারা কখনো খোঁজ করেও দেখেনা সেসব রচনায় মুহাম্মদ (সা.)-এর খতমে নবুওয়তের সিংহাসনকে কত জঘন্যভাবে আক্রমণের নিশানা বানানো হয়েছে! নতুবা তারা কীজন্য নবুওয়তে মুহাম্মদীর ‘সীল’ ভাঙ্গতে অনবরত যুদ্ধ করে যাবে! কেন অগণিত সহীহ হাদীসের বিপরীতে শাজ, মুনকার রেওয়ায়েতের পেছু নিতে চাইবে!

উম্মতে মুহাম্মদীয়ার সিলসিলায় শেষনবী মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী, নাউযুবিল্লাহ।

ইউটিউবে তাদের একটা ভিডিও চোখে পড়লো। সেখানে তারা খতমে নবুওয়তের সীল ভাঙ্গার জবরদস্ত আক্রমণ চালিয়েছে। যদিও প্রতিটি আক্রমণই ব্যর্থ সাব্যস্ত হয়েছে। সূরা নিসা আয়াত নং ৬৯ দ্বারাও মির্যা কাদিয়ানীর নবী দাবীকে হালাল করতে যারপরনাই চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ আয়াতটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যিনি সামান্যতমও জ্ঞাত তিনি সহজেই ধরতে পারবেন যে, কাদিয়ানী নেতা ফিরোজ আলম আয়াতটির কত জঘন্যতম অপব্যাখ্যার পেছনে দৌঁড়াচ্ছেন! তিনি উক্ত ভিডিওতে আরও একখানা রেওয়ায়েত দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছেন যে, মুহাম্মদ (সা.)-এর পরেও নবুওয়তের দরজা খোলা। নাউযুবিল্লাহ। রেওয়ায়েতটি হল, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, لو عاش ابراهيم لكان صديقا نبيا অর্থাৎ যদি ইবরাহীম [তথা হুজুর (সা:) এর সন্তান] জীবিত থাকত তবে সে সত্যবাদী ও নবী হতো।” (সুনানু ইবনে মাজাহ ১/১০৮; ‘তারীখু ইবনে আসাকীর ৩/২৯৫)।

রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করার পর যুক্তি দিয়ে তিনি যেন বলতে চাচ্ছেন যে, যদি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পরেও নবুওয়তের দরজায় সীল লেগে যেত তাহলে নবীজী কিজন্য আপনা সন্তান সম্পর্কে এইরূপ সংবাদ দিলেন? সুতরাং বিষয়টি ক্লিয়ার যে, নবুওয়তের দরজায় সীল লেগে যাওয়া সত্য নয়, বরং নবী আরও আসবে! (নাউযুবিল্লাহ)।

অথচ রেওয়ায়েতটির সনদ খুবই দুর্বল। কেননা এর সূত্রে ইবরাহীম ইবনে উসমান নামীয় রাবীকে মুহাদ্দিসগণ মুনকার (منكر الحديث) এবং মাতরূক (متروك الحديث) বলে আখ্যা দিয়েছেন। (দেখুন, তাহযীযুত তাহযীব ১/১৪৫)। আরও একটি সমস্যা হল, সনদে ইনকিতা (সূত্র-বিচ্ছিন্নতার ক্রুটি) বিদ্যমান। কেননা এর আরেকজন রাবী হিকাম ইবনে উতাইবাহ (الحكم بن عتيبة) সম্পর্কে লিখা আছে যে, ইবরাহীম ইবনে উসমান বর্ণনাটি তার কাছ থেকে শ্রবণ করা প্রমাণিত নয় (দেখুন, তাহযীযুত তাহযীব ২/৪৩৪)। যার ফলে সনদে তাদলীস-এর ক্রুটিও বিদ্যমান। তাই রেওয়ায়েতটি দলিল প্রমাণে গ্রহণযোগ্য নয়, বরং প্রত্যাখ্যাত। সে যাইহোক, এই মুহূর্তে ‘বর্ণনার তাহকিক’ আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি নির্বোধদের বলতে চাই, তোমাদের কি নিচের হাদীস গুলো চোখে পড়ে না?

১। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত আছে (হাদীসে কুদসীতে আল্লাহতালা বলেন) : لو لم أختم به النبيين لجعلت له ولدا يكون بعده نبيا অর্থাৎ যদি তাঁর (মুহাম্মদ) মাধ্যমে নবীগণের আগমনীধারা সমাপ্ত করে না দিতাম তাহলে আমি তাঁর পুত্রকে (নবী হিসেবে) অবশ্যই মনোনীত করতাম। যাতে সে তাঁর পর নবী হতে পারে। (ইমাম ইবনে জাওযি রহ. রচিত, যাদুল মাছীর ফী ইলমিত তাফসীর, সূরা আল আহযাব ৫/১৩৯ দ্রষ্টব্য)। স্ক্যানকপি

২। অন্য আরেকটি হাদীসে হযরত ওক্ববাহ ইবনে আমের (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لَوْ كَانَ بَعْدِي نَبِيٌّ لَكَانَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، فصححه الحاكم ووافقه الذهبي وحسنه الترمذيالترمذي، وكذا حسنه الألباني في صحيح الترمذي অর্থাৎ আমার পর যদি আর কোনো নবী থাকত তাহলে অবশ্যই উমর-ই নবী হত! (জামে তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ৩৬৮৬; হাদীসের মান, সহীহ ও হাসান)।

এখন প্রশ্ন হল, এমতাবস্থায় আলোচ্য হাদীসটি দ্বারা কিভাবে নবুওয়তের দরজা খোলা রয়েছে, এমন কোনো মর্মার্থ দাঁড় করানো সঠিক হয়?

তর্কের খাতিরে মানলাম যে, আলোচ্য হাদীসটি (আপনাদের মতে) নবুওয়তের দরজা খোলা থাকার পক্ষেই ইংগিত। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, হাদীসটির কোন শব্দে বলা আছে যে, শুধুমাত্র কথিত জিল্লি বুরুজি শ্রেণীর নবুওয়তের দরজাই খোলা, অন্য শ্রেণীর (মুস্তাকিল, হাকিকি/শরীয়তবিহীন, শরীয়তবাহক) নবুওয়তের দরজা বন্ধ!?

কোনো উত্তর নেই!

শেষ আরেকটা প্রশ্ন করব! আলোচ্য মুনকার রেওয়ায়েতের “যদি ইবরাহীম [তথা হুজুর (সা:) এর সন্তান] জীবিত থাকত…” বলা দ্বারা যদি নবুওয়তের দরজা খোলা—একথা বুঝায় তাহলে আল্লাহতালার বাণী (সূরা আম্বিয়া-২২) “যদি আসমান-জমিনে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ থাকত…” (لَوْ كَانَ فِيهِمَآ ءَالِهَةٌ إِلَّا ٱللَّهُ لَفَسَدَتَا ۚ فَسُبْحَٰنَ ٱللَّهِ رَبِّ ٱلْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ) একথা থেকে কী ব্যাখ্যা নেবেন? আল্লাহ ছাড়া আরও অনেক বৈধ ইলাহ থাকার ইংগিত রয়েছে… এমন ব্যাখ্যাও কি নেবেন? নাউযুবিল্লাহ। জ্ঞানীদের নিশ্চয়ই বিষয়টি ভাবিয়ে তুলবে!

মহান আল্লাহর নিকট আপনাদের সবাইকে সোপর্দ করছি। তিনিই আপনাদের ভালো মত দেখে নেবেন! ওয়া মা আ’লাইনা ইল্লাল বালাগ!

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
শিক্ষাবিদ ও গবেষক

শীয়া-ইমামীয়াদের একটি কুফুরী আকীদা

শীয়াদের কুরআন বিকৃতির কুফুরী আকীদা

যে সব আকীদা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ইমামিয়া বা ইসনা আশারিয়া (১২ ইমামপন্থী) তথা ইরান-তেহরানের শিয়ারা একমত, তন্মধ্যে একটি হচ্ছে, কুরআনে তাহরীফ হওয়া! নাউযুবিল্লাহ। পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ের প্রখ্যাত আলেম মকবুল হোসাইন দেহলবী পবিত্র কুরআনের তরজমা করেছেন উর্দু ভাষায়, যার সত্যায়ন করেছেন সেই সময়ের ১২ জন প্রখ্যাত শিয়া গবেষকবৃন্দ! এই তরজমার ১২ পারা ১৬ রুকুতে ও পৃষ্ঠা নং ৪৭৯ -তে হাশিয়া (টিকা) যুক্ত করে তিনি লিখেছেন,

أن الخلفاء شاربي الخمر حرفوا القرآن لمقاصدهم

অর্থ, মদখোর খোলাফারা নিজ নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই কুরআনকে তাহরীফ তথা বিকৃত করেছে! (Click)

সেখানে আরও লিখা আছে, যতক্ষণ আমাদের ইমাম মাহদী গুহা থেকে আত্মপ্রকাশ করবেননা ততক্ষণ আমরা এই গলদ কুরআনই তিলাওয়াত করব! (নাউযুবিল্লাহ)।

শীয়াদের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ ‘উসূলুল কাফী’-তে লিখা আছে,

أن الذي يشك في كفر عمر فهو كافر. في أصول الكافي: (1 / 145) أن الخلفاء الثلاثة وبقية الصحابة كفروا بإنكارهم ولاية علي بن أبي طالب. ـ

অর্থাৎ “যে বা যারাই উমরের কুফুরীর ব্যাপারে সন্দেহ করবে সেও কাফের (উসূলুল কাফী ১/১৪৫), আলী বিন আবী তালেব এর বেলায়তের অস্বীকার করার দরুন অন্যান্য তিনজন খলীফাসহ অবশিষ্ট সকল সাহাবী কাফের।” নাউযুবিল্লাহ। শীয়াদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে সরাসরি পড়তে ক্লিক করুন।

প্রখ্যাত শীয়া স্কলার বাকের মাজলিসিও তার ‘বিহারুল আনওয়ার’ (بحار الأنوار – العلامة المجلسي – ج ٥٢ – الصفحة ٣٦٤) গ্রন্থে লিখেছেন,

141 – الغيبة للنعماني: أحمد بن هوذة، عن النهاوندي، عن عبد الله بن حماد، عن صباح المزني، عن الحارث بن حصيرة، عن ابن نباتة، قال: سمعت عليا عليه السلام يقول: كأني بالعجم فساطيطهم في مسجد الكوفة يعلمون الناس القرآن كما انزل، قلت: يا أمير المؤمنين أوليس هو كما انزل؟ فقال: لا، محي منه سبعون من قريش بأسمائهم وأسماء آبائهم، وما ترك أبو لهب إلا للازراء على رسول الله صلى الله عليه وآله لأنه عمه

ইবনু নুবাতাহ……..সূত্রে তিনি বলেন, “আমি আলী (আ.) কে বলতে শুনেছি “এটা এমন যেন আমি অনারবদের কূফার মসজিদে তাদের তাবু স্থাপন করতে দেখছি এবং মানুষকে কুরআন যেমন অবতীর্ণ হয়েছে তেমন শিক্ষা দিচ্ছি!” আমি বললাম: “হে আমিরুল মো’মিনীন, কুরআন কি তেমন নয় যেমন অবতীর্ণ হয়েছে?” তিনি বললেন: “না, তা নয়। কুরাইশদের সত্তর জনের নাম এর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবু লাহাবের নাম (কুরআনে) কেবল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিছু মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। কারণ, তিনি তার চাচা।” (বিহারুল আনওয়ার ৫২/৩৬৪ শীয়া ইমাম বাকের মজলিসি)। কিতাবটির অনলাইন কপি পড়ুন

শীয়াদের প্রসিদ্ধ আরেকটি গ্রন্থ ‘আল ইরশাদ‘ (الإرشاد – الشيخ المفيد – ج ٢ – الصفحة ٣٨٦) এর মধ্যে লিখা আছে,

وروى جابر، عن أبي جعفر عليه السلام أنه قال: ” إذا قام قائم آل محمد عليه السلام ضرب فساطيط لمن يعلم الناس القرآن على ما أنزل الله جل جلاله فأصعب ما يكون على من حفظه اليوم، لأنه يخالف فيه التأليف “.

অর্থাৎ আবু জা’ফর……. থেকে তিনি বলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের সাহায্যে যখন যিনিই দন্ডায়মান হন তিনি ফাসাতিতকে প্রহার করেন যিনি মানুষকে কুরআন শিক্ষা দেন আল্লাহ তা যেভাবে অবতীর্ণ করেছেন সেটির বিপরীতে। ফলে তা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায় তাদের পক্ষে যারা আজ সেটিকে মুখস্থ করছেন। কারণ এটি কুরআন সংকলনের সাথে বিরোধপূর্ণ। (আল ইরশাদ ২/৩৮৬, শীয়া স্কলার শায়খ আল মুফীদ)। কিতাবটির অনলাইন কপি পড়ুন

অপ্রিয় হলেও সত্য, এই সম্প্রদায়ের যারা এধরণের মতবাদ পোষণ করেন তারা নিঃসন্দেহে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত ও কাফের জাতির অন্তর্ভুক্ত। শিয়াদের প্রখ্যাত গবেষক ও মুহাদ্দিস মির্যা হোসাইন নূরী আত তবারসী আমাদের এই কুরআন বিকৃতির দলিলে স্বতন্ত্র কিতাবও রচনা করেছেন! সেখানে তিনি দাবী করেছেন,

أن الشيخين لم يقبلا القرآن الذي كتبه علي

অর্থাৎ আলী রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহু যেই কুরআন লিখেছেন সেটি শায়খাইন (হযরত আবু বকর ও উমর রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহুমা) গ্রহণ করেননি!

(নাউযুবিল্লাহ)

তথ্যসূত্র :- ফাসলুল খিতাব ফী তাহরীফি কিতাবি রব্বিল আরবাব, তবারসী পৃ-৬৪।

এই কথাগুলো তাদের মৌলিক গ্রন্থগুলোতেও রয়েছে, ইনশাআল্লাহ সুযোগ হলে এই সম্পর্কে আরও তথ্যসহ লেখা হবে।

শেষকথা– শীয়া রাফেজি সম্প্রদায় ইসলামের মূলধারা থেকে ছিটকে পড়া এক পথভ্রষ্ট জাতি, তাদের বিপরীতে মুসলিম উম্মাহ “আহলুস সুন্নাহ” বা “সুন্নী” নামেই পরিচয় বহন করে থাকেন। যাতে সাধারণদের নিকট প্রকৃত মুসলমানদের “শীয়া” থেকে আলাদা করতে সহায়ক হয়। আল্লাহ আমাদেরকে শীয়া রাফেজি থেকে ঈমানের মত মহান এ দৌলত রক্ষা করুন। আমীন।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক।