সহজে কাদিয়ানী চেনার উপায় :

কাদিয়ানীরা সাধারণত খুবই ধূর্ত ও জঘন্য প্রতারক হয়ে থাকে। তাদের বেশিরভাগই মাথায় কালো টুপি পরে আর মুখে ফ্রেঞ্চ কাটিং দাড়ি রাখে। তাদের ৯০% ফেইসবুক ইউজারের প্রোফাইল লক থাকে, খুব বেশি তর্কপ্রিয় ও ঝগড়াটে হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য একদম সাধারণ বিষয়কেও দুর্বোধ্যভাবে পেশ করে থাকে। তাদের খুব কমন একটা ডায়লগ ঈসা আ. আবার আসলে তখন শেষনবী কে থাকছেন? এর উত্তর আলাদা আর্টিকেলে দেয়া হয়েছে। এখানে সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলব যে, ঈসা (আ.)-এর পুনঃ আগমনের প্রেক্ষিতে এই জন্য প্রশ্ন নেই যে, ঈসা (আ.) মুহাম্মদ (সা.)-এর আগেই নবুওয়ত প্রাপ্ত একজন নবী। আর ঈসা (আ.) শেষ যুগে নবুওয়তের দায়িত্ব নিয়ে অর্থাৎ নবী হিসেবে আসবেন না, বরং একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক এবং সুপথপ্রাপ্ত ইমাম (حكما عدلا و اماما مهديا) ও উম্মতে মুহাম্মদীর পদ মর্যাদা নিয়ে (و على ملته) আসবেন। এখানে আরেকটা কথা বলে রাখা জরুরি যে, উম্মতে মুহাম্মদীর পদ মর্যাদা নিয়ে আসার অর্থ এ নয় যে, তাঁর পূর্বের নবুওয়ত বাতিল হয়ে যাবে, বরং এখানে ঐ কথার অর্থ হল, নবুওয়তে মুহাম্মদীর সময়টিতে তাঁর আনীত শরীয়ত রহিত ও তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শেষনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শরীয়তের অনুগামী হয়ে যেতে বাধ্য। কারণ হাদীসে সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, لو كان موسى حيا ما وسعه إلا اتباعي অর্থাৎ যদি মূসাও (ইহজগতে) জীবিত থাকত তাহলে তাঁর জন্যও আমার আনুগত্য করা ছাড়া কোনো উপায় ছিলনা। (মুসনাদে আহমদ ৩/৩৮৭, হাদীসের মান – হাসান)। তাদের আরও একটি ডায়লগ হচ্ছে, ঈসা (আ.) এর পক্ষে আবার এসে সারা দুনিয়া ঘুরে ঘুরে খ্রিস্টানদের ক্রুশগুলো ভাঙ্গা এবং জঙ্গল থেকে সমস্ত শুয়োর খোঁজে খোঁজে হত্যা করা কীভাবে সম্ভব? উত্তরের জন্য পড়ুন এখান থেকে। কাদিয়ানীদের আরেকটা ডায়লগ হল, যদি ‘শেষনবী‘ বলতে এই অর্থ উদ্দেশ্য হয় যে, ‘তাঁর (সা.) পর আর কাউকে নবী বানানো হবেনা’ তখন প্রশ্ন আসবে যে, ‘আমি তখনও খাতামান নাবিয়্যীন ছিলাম যখন আদম পানি এবং কাদার মাঝে সৃষ্টির সূচনায় ছিলেন‘—হাদীসটির কী অর্থ উদ্দেশ্য? আসলে তারা এ সমস্ত প্রশ্ন ও তর্কের আড়ালে মির্যা কাদিয়ানীর মসীহ ও নবী দাবীর বৈধতা খুঁজতে চায়। কিন্তু হাস্যকর ব্যাপার হল, এদের কাউকেই আমি আজ পর্যন্ত স্বীকার করাতে পারিনি যে, তারা কি তাহলে নিজেদের মির্যা কাদিয়ানীর ‘উম্মত’ বলে স্বীকার করবে? কেননা যে কাউকে ‘নবী’ মানবে সে নিজেকে নির্বিঘ্নে তার ‘উম্মত’ বলেও স্বীকারোক্তি দিবে—এটাই স্বাভাবিক! আর এমনটা তো নয় যে, আমরা আগত ঈসা (আ.)-এর পুনরায় আগমনকে স্রেফ ‘উম্মতি‘ হিসেবেই বিশ্বাস করে কোনো ভুল করছি! আমরা কুরআন এবং হাদীস হতে আমাদের মুসলিম উম্মাহার বিশ্বাসের সমর্থনে মজবুত দলিলও দিয়ে থাকি, এমনকি মির্যা কাদিয়ানীর রচনাবলি হতেও। জেনে আশ্চর্য হবেন, আগত ঈসা নবুওয়তের দায়িত্বে থাকবেন না, তিনি স্রেফ ‘উম্মত’ হিসেবে থাকবেন; এ কথা খোদ মির্যা কাদিয়ানীর-ও। যেমন সে তার রচনার এক স্থানে লিখেছে, “কুরআন শরীফ দ্বারা তো সাব্যস্তই আছে যে, প্রত্যেক নবীই হযরত (সা.)-এর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহতালা বলেন, لتؤمن به و لتنصرنه (তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে)। সুতরাং এইভাবেই সমস্ত আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম) হযরত (সা.) এর উম্মত হয়ে যান।” (বারাহীনে আহমদীয়া খ-৫, রূহানী খাযায়েন ২১/৩০০)। বলাবাহুল্য, ‘সমস্ত আম্বিয়া’ বলতে কিন্তু ঈসা (আ.)-ও তার মধ্যে শামিল। জানি না এখন তার ঝগড়াটে উম্মতেরা এর প্রতিউত্তরে কী বলবে! এদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা সাধারণত নেকাব পরে নাকের নিচ দিয়ে। এদের ধর্মীয় পড়াশোনার হাতেগড়ি নির্দিষ্ট দুটি সাবজেক্ট—ঈসা (আ.) জীবিত না মৃত আর মুহাম্মদ (সা.)-এর পরেও নবুওয়তের সিলসিলা (ধারাক্রম) চালু না বন্ধ, এই দুটো নিয়ে। তারা মূলত মির্যা গোলাম আহমদকে একজন রূপক মসীহ সাব্যস্ত করতেই হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহ সশরীরে জীবিত আকাশে উঠিয়ে নেয়ার কুরআন সুন্নাহভিত্তিক আকিদার অস্বীকারকারী। অথচ সহীহ মুসলিম, তারীখে দামেস্ক, কাঞ্জুল উম্মাল ইত্যাদি গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনায় এসেছে যে, ঈসা (আ.) শেষযুগে দামেস্কে নাযিল হবেন। আল্লাহ তাঁকে ফেরেশতার মাধ্যমে আকাশ থেকে পাঠাবেন। তেমনিভাবে ইসলামের গত চৌদ্দশত বছরের ইতিহাসে গত হয়ে যাওয়া সমস্ত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের ইমামগণেরও বিশ্বাস হচ্ছে, ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু এখনো হয়নি। কিন্তু কাদিয়ানীধর্মের বিশ্বাসমতে, ঈসা (আ.)-এর ১২০ বছর বয়সে কাশ্মীরে মৃত্যু হয়ে গেছে, কাশ্মীরের খান ইয়ার মহল্লায় সমাহিত ইউজ আসেফ (1,2) নামীয় ব্যক্তির কবরটিই ঈসা (আ.)-এর কবর (নাউযুবিল্লাহ)। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীই মূলত ‘কাদিয়ানী জামাত’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাকে তার সাধারণ অনুসারীরা ইমাম মাহদী বিশ্বাস করার দাবী করলেও ‘নবী’ বিশ্বাস করেনা বলেই সাফ বলে দেয়ার চেষ্টা করে। আসলে এরা নিজেদের অজ্ঞতার জন্যই তাকে যেমন ইমাম মাহদী বিশ্বাস করে নিয়েছে, ঠিক একই রকম অজ্ঞতার জন্যই তারা তার নবী দাবী করা সম্পর্কেও বেখবর। এরা খুব সাধারণ ও জেনারেল মানুষদের ধোকা দিয়ে থাকে। সম্প্রতি জেনারেল শিক্ষিতরাও এদের ব্যাপারে খুবই সাবধান হচ্ছেন। চট্টগ্রামের জনৈক চিকিৎসক একদা আমার কাছ থেকে জানতে চাইলেন যে, সাধারণদের জন্য কাদিয়ানীদের সাথে ডিবেট করার পন্থা কী? অর্থাৎ কোন নিয়মনীতি মান্য করলে তাদের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে সফল হওয়া যাবে।? যাইহোক, কাদিয়ানীরা ছলেবলে কৌশলে তাদেরকে কাছে টেনে নেয়ার চেষ্টা করে। তাদের কাছ থেকে বাইয়েত নিয়ে অত:পর ব্রেইন ওয়াশ করে ফেলে, যাতে তাদের বলয়ের বাহিরে ছুটে না যায়। তবে এরপরেও অনেকে বাস্তবতা বুঝতে পেরে কেটে পড়েন। এমনি একজন যুবকের ফোনালাপ থেকে আমি একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছি। দেখুন এখানে। আগের আলোচনায় আবার ফিরে এলাম। সাধারণ কাদিয়ানী যুবক-যুবতীরা মির্যা কাদিয়ানীর দাবীগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে। বিশেষ করে তার ‘শেষনবী’ হবার দাবীটি সম্পর্কে। এই বিষয়ে স্ক্রিনশট সহ কয়েকটি সিরিজ ভিডিও দেখুন। মির্যা কাদিয়ানীর নবী-রাসূল দাবী, সিরিজ (১), (২), (৩), (৪)। (এলাকায় প্রচারের উপযোগী দুই পৃষ্ঠার একটি লিফলেট) অপ্রিয় হলেও সত্য হল, তাদের শীর্ষনেতাদের তৈরিকৃত সিলেবাসের বাহিরে তাদের অধীনস্থদের মন-মগজে ইসলামের ফান্ডামেন্টাল শিক্ষার ছিটেফোঁটাও থাকেনা। এদের প্রাধানতম বৈশিষ্ট্য, কুরআন শরীফ অশুদ্ধ পড়া আর নিজের মত করে ব্যাখ্যা দেয়া। এরা মুসলমানদের মসজিদে যায় না, মুসলমানদের জানাজাতেও অংশগ্রহণ করেনা। এদের পিতা মাতার জানাজাতেও অংশগ্রহণ করতে জোরালো ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকে, বড়জোর জানাজায় কাঠের পুতুলের ন্যায় সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে তবেই সে পর্যন্ত অনুমতি রয়েছে। কত পাষণ্ড আর হতভাগা এরা!ছোটবেলা থেকেই এদেরকে চরম আলেম উলামা বিদ্বেষী করে তোলা হয় বলে এরা আলেম উলামার কাছ থেকেও দূরে থাকে। আলেম উলামার প্রতি এদের মজ্জাগত বিদ্বেষ আর দুশমনির ফলে এদের বেশিরভাগ Ex ahmadi দুর্ভাগ্যবশত মুলহেদ হয়ে যায়, তবু ইসলাম গ্রহণ করতে চায় না। কারণ এদের মন মগজে সেই ছোট বেলা থেকেই ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে, বর্তমান ইসলাম মোল্লা মৌলভীদের বানানো ইসলাম। নাউযুবিল্লাহ। অথচ ইসলামের বুনিয়াদ হচ্ছে, পবিত্র কুরআন এবং কুরআনের মর্মার্থ সুস্পষ্টকারী সহায়ক সংকলন রাসূল (সা.)-এর সীরাত তথা সুন্নাহ।

এরা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ এবং খেলাফত রাষ্ট্রের চরম বিরোধী। স্বভাবতই ব্রিটিশপ্রিয় হয়। কুরআন হাদীসকে সরাসরি অস্বীকার করার পরিবর্তে রূপক কিবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে অস্বীকারকারী হয়। আর নিজ মতবাদের পক্ষে এমন সব বর্ণনা বা উদ্ধৃতিও উপস্থাপন করে থাকে যেগুলোর বেশিরভাগই জাল, জঈফ বা মুনকার পর্যায়ের অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা; কোনো অথেনটিক সোর্স থেকেও সংগৃহীত নয়। এদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল, এদের বইপুস্তক অগণিত স্ববিরোধ কথাবার্তায় ভর্তি, যা এদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও এরা মেনে নিতে চায় না। এগুলো আমার দীর্ঘ অবিজ্ঞতা থেকেই লিখলাম। আরও জানার বিষয় হল, সারা দুনিয়ায় এদের দাবী হচ্ছে, সংখ্যায় এরা ২০ কোটি। অথচ নিরপেক্ষ গণনামতে এরা কোনো ভাবেই ১৫-২০ লাখের বেশি হবেনা। বাংলাদেশে এদের সংখ্যা এদেরই দাবী অনুসারে ১ লক্ষ। তবে আমাদের জরিপ বলছে, এরা কোনো ভাবেই ২৫ হাজারের বেশি হবেনা। বিবাড়িয়া, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সাতক্ষীরার সুন্দরবন, জামালপুরের সরিষাবাড়ি আর বান্দরবন, যশোর এবং খুলনায় এদের সংখ্যাটা তুলনামূলক বেশি। প্রাণ, আর.এফ.এল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মেজর (অব.) আমজাদখান চৌধুরী আর বাংলাদেশের বর্তমান কাদিয়ানীদের ন্যাশনাল আমীর জনাব আব্দুল আউয়াল সাহেব দুইজনই মামাতো আর ফুফাতো ভাই। জনাব আমজাদখানের পিতা আলী কাশেমখান চৌধুরী আর কাদিয়ানী আমীরের মাতা মাসুদা সামাদ আপন ভাই বোন। কাদিয়ানীদের একটি বই ‘সীরাতে মাহদী’-তে ইসলাম বিরোধী ১৬টি চরম বিভ্রান্তিকর ধর্মবিশ্বাস এর উল্লেখ রয়েছে, যা তারা সাধারণ মানুষ থেকে বরাবরই গোপন রাখে। আমি তাদের ডজনখানেক বই থেকে স্ক্রিনশট সহ মির্যা কাদিয়ানীর নবী ও রাসূল দাবীর প্রমাণও অত্র রচনায় দিয়ে রেখেছি। পাঠকদের জন্য আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলও অত্র রচনায় সন্নিবেশিত করে দিয়েছি। তন্মধ্যে কাদিয়ানীদের কলেমার গোপন রহস্যপ্রতিশ্রুত মসীহ্‌ এর পরিচয় এবং প্রতীক্ষিত মাহ্‌দী এর পরিচয় অন্যতম। অধিকন্তু তাদের কেউই এখনো দুনিয়ায় আবির্ভূত হননি। ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মধ্যে পরিষ্কার লিখা আছে যে, তিনি নবীজী (সা.)-এর কন্যা ফাতেমার পুত্র হযরত হাসান (রা.)-এর বংশে জন্মগ্রহণ করবেন। সে হিসেবে তিনি সাইয়েদ এবং কুরাইশীও হবেন তার নাম হবে মুহাম্মদ, পিতার নাম আব্দুল্লাহ, জন্মস্থান হবে আরব (মদীনা), মাহদীয়তের উপর বাইয়েত শুরু করবেন মক্কায়। তিনি আরবে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবেন। আবুদাউদ শরীফে (কিতাবুল, মাহদী অধ্যায়) এসেছে, ‘ইমাম মাহদী সাত বছর রাষ্ট্রকার্য পরিচালনা শেষে ইন্তেকাল করবেন।’ শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী (রহ.) তার ‘আল জামেউস সহীহ’ কিতাবে হাদীসটিকে “হাসান” (حسن) বলেছেন। উল্লিখিত পরিচিতির আলোকে দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, রাসূল (সা.) শেষ যামানায় আগমনকারী যে ইমাম মাহদীর সুসংবাদ দিয়ে গেছেন আজকের এই দিন (২০২২ ইং, এই আর্টিকেল লিখার সময়) পর্যন্ত সেই ইমাম মাহদী এবং প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.) দুইজনের কেউই আবির্ভূত হননি। আল্লাহ চাহিলে দুইজনই যথাসময়ে আসবেন। মির্যা গোলাম আহমদ এর দাবী একই সাথে ইমাম মাহদী এবং ঈসা, দুটোই। কিন্তু রাসূল (সা.) উক্ত দুই মহা পুরুষ সম্পর্কে সহীহ হাদীসগুলোতে যেই পরিচিতি রেখে গেছেন তার ছিটেফোঁটাও মির্যা গোলাম আহমদের সাথে মিল পাওয়া যায় না। এটি পড়ুন, এক নজরে মির্যা কাদিয়ানী। উল্লেখ্য, প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী এবং হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাদা দুই ব্যক্তিই। বহু সহীহ হাদীসে দুইজনের ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় একদম সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। কাদিয়ানীদের বইতে দুই ঈসা’র বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাব এখানে। তাদের ‘ওয়া লাল মাহদী ইল্লা ঈসা ইবনু মরিয়ম’ এর বর্ণনা দিয়ে বিভ্রান্তিকর কনসেপ্ট এর জবাবও এখান থেকে দেখে নিন। ইমাম মাহদী একই সাথে ফাতেমি, আব্বাসী, হাসানী, হোসাইনী সব কিভাবে হতে পারেন? মাহদীয়তের নিদর্শনের নামে কাদিয়ানীদের উপস্থাপিত চন্দ্রসূর্য গ্রহণের বর্ণনাটি কেন গ্রহণযোগ্য নয়?। এই কাদিয়ানী গোষ্ঠীটি তাদের মতের বাহিরে সমস্ত মুসলমানকে অমুসলিম, কাফের, জাহান্নামী মনে করে থাকে। এরা অন্যান্য মুসলমানের মত হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত দাবী করা সত্ত্বেও বিশ্বের সমস্ত মুসলিম স্কলারদের সর্বসম্মতিক্রমে কাফের ও ইসলাম থেকে খারিজ। তার কারণ এরা খতমে নবুওয়ত এবং হায়াতে মসীহ সহ ইসলামের বহু মৌলিক বিশ্বাসকে কুরআন এবং সুন্নাহর অপব্যাখ্যার আড়ালে অস্বীকার করে থাকে। এরা আজ থেকে শতাধিক বছর আগে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে তথা ১২৫৬ হিজরী সনে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাদিয়ান নামক গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এক ব্যক্তিকে নবী বলে বিশ্বাস করে। তার নাম ছিল মির্যা গোলাম আহ্‌মদ (১৮৩৯-১৯০৮)। সে নিজেকে প্রতিশ্রুত ঈসা (আ.)-এর রূপক সত্তা এবং শেষ যুগে আগমনকারী ইমাম মাহদী হবার দাবীও করে। অথচ কুরআনের আয়াত ও সহীহ্ হাদীসের মানদণ্ডে এই লোকের দাবীগুলোর একটিও টিকেনা। তাই কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ব্যক্তি নিজ দাবীতে একজন জঘন্য মিথ্যাবাদী ও প্রতারক। এখানে তার কয়েকটি উক্তি তুলে ধরছি, যা পড়ার পর যে কেউই তার আসল পরিচয় পর্যন্ত সহজে পৌঁছতে পারবে! যথা- ১. মির্যা কাদিয়ানী ১৮৯৮ সালের দিকে ব্রিটিশ-ভারত রাণী আলেকজান্ড্রিনা ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে লিখেছিল, ‘নিজেদের হাতে রোপিত এই চারাগাছটির ব্যাপারে খুব সতর্কতা ও অনুসন্ধানের সাথে অগ্রসর হবেন এবং আপনার অধীনস্তদের বলবেন তারা যেন এই পরিবারের ত্যাগ ও নিষ্ঠার কথা মনে করে আমার দলের প্রতি সদয় দৃষ্টি জ্ঞাপন করেন। আমাদের পরিবার ইংরেজ সরকারের কল্যাণে নিজেদের খুন বইয়ে দিতে ও জীবন দিতেও দ্বিধা করেনি আর না এখনো দ্বিধা করছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/২১-২২; নতুন এডিশন)। তার এই কথা পরিষ্কার প্রমাণ যে, সে ব্রিটিশদেরই সৃষ্টি ছিল। ২. ‘আমার বিশ্বাস, যে হারে প্রতিদিন আমার অনুসারির সংখ্যা বাড়ছে সেই হারে জিহাদের পক্ষাবলম্বীর সংখ্যাও কমছে।’ (মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ৩/১৯)। এখানে তার এই বক্তব্য ব্রিটিশ ভারতের ১৮৫৭ সালের আযাদী আন্দোলন ও সিপাহী বিদ্রোহকেই স্মরণ করে দিচ্ছে। মূলত ঐ সমস্ত আন্দোলন সংগ্রাম দমিয়ে রাখতেই পরবর্তীতে এই মির্যায়ী তথা কাদিয়ানী জামাতের সৃষ্টি। ৩. ‘ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্য ইসলামেরই একটি অংশ’ (রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮০)। মির্যা কাদিয়ানীর এই বক্তব্য আমার উপরোক্ত সবগুলো দাবীকে দ্বিপ্রহরের সূর্যের মত একদম পরিষ্কার করে দেয়। যাইহোক ২৫ শে মে ১৮৯৩ সালে অমৃতসর নামক স্থানে মির্যা কাদিয়ানীর সাথে তৎকালীন মুসলিম নেতা শায়খ আব্দুলহক গজনভী (রহ.)-এর একটি মুবাহালা অনুষ্ঠিত হয়। (দেখুন, রূহানী খাযায়েন ৬/৩৭২)। উক্ত মুবাহালায় উভয়পক্ষ নিজের উপর নিজে বদ দোয়া করেন এবং মুবাহালাকারী দুইপক্ষের সত্যবাদীর জীবদ্দশায় যিনি প্রকৃতপক্ষে একজন মিথ্যাবাদী তিনি যেন ধ্বংস হন, এইরূপ কামনাও করেন (দেখুন, মালফূজাত ৫/৩২৭; চতুর্থ এডিশন)। ইতিহাস সাক্ষী, পরবর্তীতে শায়খ গজনভী (রহ.) মারা যান ১৬ই মে ১৯১৭ সালে। আর মির্যা কাদিয়ানী শায়খের জীবদ্দশায় প্রায় ৯ বছর পূর্বেই ১৯০৮ সালে লাহোরে ২৬ শে মে বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় কলেরায় আক্রান্ত হয়ে টাট্টিতে নিপতিত হয়ে মারা যায়। তার লেখিত প্রায় ৮৩টি বইয়ের সমষ্টির নাম ‘রূহানী খাযায়েন‘ (আধ্যাত্মিক ভাণ্ডার), যা আনুমানিক ১৯৬০ সালের দিকে ২৩ খণ্ডে প্রকাশ করা হয়। বইগুলো দ্বারা সেসব মানুষ খুব বিভ্রান্ত হয় যাদের পূর্ব থেকে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে আলোচ্য বিষয়ে গভীর কোনো জ্ঞান নেই। একটি হাদীসে এসেছে, মহানবী (সা.) তাঁর পরবর্তী সময়ে ত্রিশ জন নবুওয়তের মিথ্যা দাবীদারের আবির্ভাব হবার ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেছেন (সুনান তিরমিজী (ইফা) অধ্যায়ঃ ৩৬/ কিতাবুল ফিতনা)। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকারক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) (মৃত. ৮৫২ হিজরী) হাদীসটির ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এই ত্রিশজন মিথ্যাবাদী বলতে বিশেষভাবে ওরাই উদ্দেশ্য যাদের দাপট প্রতিষ্ঠা পাবে এবং (সাধারণ মানুষের ভেতর) তাদের তৎপরতার কারণে মারাত্মক সন্দেহ সৃষ্টি হবে। (ফাতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী : খণ্ড ১২ পৃষ্ঠা ৩৪৩)। সমস্ত ইসলামি বিশেষজ্ঞ একমত যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তাদেরই মধ্য হতে একজন। পাঠকদের উদ্দেশ্যে এখানে কয়েকটি লিখার লিংক দিচ্ছি। গুরুত্ব সহ পড়ার অনুরোধ থাকল, কাদিয়ানীরা কাফের কেন? মির্যা কাদিয়ানীর ৫টি মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী। তথাকথিত উম্মতিনবী কাদিয়ানী জামা’তের প্রতিষ্ঠাতার কিছু দাবী দাওয়া। মির্যা কাদিয়ানীর কিছু মিথ্যাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতি। পবিত্র কুরআনের ত্রিশ আয়াতে ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু হয়ে যাওয়ার দাবী কেন ডাহা মিথ্যা? আমাদের ওয়েবসাইট ও আমাদের ভিডিও সমূহ ইউটিউব থেকে (markajTV by PNN) (হেদায়েতের পথিক) দেখার আহবান রইল। আমার (লিখক) ফেইসবুক পেইজ (ধারাবাহিক লাইভ পর্ব) থেকে ভিডিওগুলো দেখার আমন্ত্রণ রইল। আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হতে পারেন। আমার সবগুলো বই (১২টি) এক সাথে অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন। এবার মির্যা কাদিয়ানীর নবী, রাসূল দাবীর প্রামাণ্য কিছু স্ক্যানকপি দেখানো হল,

বই : এক গলতি কা ইযালা বা একটি ভুল সংশোধন পৃ-৩ ও ৪
বই : দাফেউল বালা পৃ-১২

কথিত উম্মতিনবী দাবীতেও মির্যা ফেঁসে গেলেন কিভাবে দেখুন

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক- প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম.এ, যোগাযোগ- 01629941773 (What’sapp, Telegram & Imo), ইমেইল- nabifeni44@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here